০৫ অক্টোবর ২০২১

শহিদ মিয়া বাহার




প্রেমের পরাগায়ন


কে যায় উড়ে উড়ে উত্তরের বাউল
চাদর দুলে দুলে তার সাদা সাদা মেলেছে পেখম
আকাশের পয়ার গীতিকায় এঁকেছে নরমে 
গীতিকাব‍্যের মাধবী চুম্বন।

আহা এ যে শরতের মেঘ-ভেলা ভাসা 
বাউল আদলে তরঙ্গ রাহাত যমুনার মতন!

মেঘের শারদ লিপিকা নিয়ে ছুঁয়েছে আমায় 
আশ্বিন বিকেলের মোহলগ্ন রোদ
ছুঁয়েছে নদীর কিনারে 
সাদা দোপাটি আঁচলে কাশেদের ইতিকথা
বাতাসের মিলিত যাপন 
ঐ নদী জলে ফেনাদের লাবন‍্য ছুঁয়েছে 
হলুদ মিনজিরি ফুলের শিল্পীত কথন!

নদী-জল সংলাপে উঠেছে মেতে সন্ধ‍্যামতি গাংচিল
সমাগত সন্ধ‍্যার রূপোলী মায়ায়!

উচ্ছাস মাতাল সুরে বেঁধেছে লহরী ধ্রুপদ 
চাঁদের সানকিতে ধরে শরত-রাতের সুরমন্দ্র জোছনা  পরাগ
 আরো কিছু রাত্রি নিশীথে যখন সরে যাবে সব কোলাহল আঁধারের রূপ ছুঁয়ে ছুঁয়ে হবে 
ঐ দূর নীহারিকার মিটি-মিটি বাসর!

তারাদের তখন থোকা থোকা প্রেমের 
তুমুল পরাগায়ন!

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২০

কান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 





                                                   টানাপোড়েন (২০)
                                                            দুর্ভোগ



                          ভোর পাঁচটার সময় হঠাৎই কলিংবেলের আওয়াজ। বেলটা বেজে চলেছে। রেখা মনোজকে বলল  'দেখ না কে এসেছে?"
মনোজ ঘুম জড়ানো চোখে বলল  ' তুমি যাও'। রেখা জানে ঘুম কাতুরে মনোজকে ভোর বেলায় ঘুম থেকে তোলা খুবই কষ্টসাধ্য ব্যাপার।
আবার কলিংবেল ক্রিং ক্রিং ক্রিং। কি ঝামেলা হলো বাবা ,সাতসকালে কে?হঠাৎই রেখা হুড়মুড় করে উঠে পড়ে।,তখনও চোখ দুটো ঘুমে আরষ্ট হয়ে আছে। তবুও রেখা বলে 'আ্যই মনোজ,একটু  ধাক্কা দিয়ে ।'
মনোজ বলে উঠলো 'কি হল রেখা?'
রেখা বলল ' নতুন কাজের মেয়েটা আসে নি তো?'
মনোজ বলে ' যাও দেখো গিয়ে। বলেই আবার ওপাশ ঘুরে শুয়ে পড়ল।'
রেখা বলল ' তা আমি কি মেয়েটাকে চিনবো নাকি?' 'মনোজ নাক ডাকতে শুরু করেছে। 
রেখাকে  বাধ্য হয়ে উঠতে হলো। ঘুমের রেশ কাটেনি তখন। দরজাটা খুলে বললো কে?'
আগন্তুক হেসে বলল 'ও বৌদি, আমি নতুন কাজের মেয়ে সুমিতা। ওই যে পুটুদি পাঠিয়েছে ।হাত দিয়ে ইশারা করে দেখাল।
রেখা বলল  'ও আচ্ছা। এসো ভেতরে এসো। তা তুমি এত সাত সকালে এসেছ কেন?পুটু টাইম বলে দেয় নি।'
সুমিতা বলল  'হ্যাঁ ।বলে দিয়েছে। কিন্তু আমি একটু তাড়াতাড়ি এলাম ।প্রথম দিন তো বুঝে নিতে হবে ।তারপর শুনেছি আপনি স্কুলে যাবেন। যদি লেট হয়ে যায়?(হেসে  বলল)।
তা কি কি কাজ করতে হবে বৌদি?'
রেখা বলে 'কেন পুটু তোমাকে বলে দেয় নি?পুটুর কাজগুলোই তো করতে হবে'।'
সুমিতা বলে ''হ্যাঁ ,সব ঠিক আছে বৌদি ।কিন্তু আমি তো কাপড় কাচতে পারবো না'। আমার সিজার হয়েছে তো ,তাই আমার একটু অসুবিধা আছে।'
রেখা বললো  'তাহলে কাপড় কে কাচবে?'
সুমিতা বলে ' না, আমি তো পুটুদিকে বলেছি যে আমি কাপড় কাচতে পারবো না।পুটুদি বলল ঠিক আছে। তুই যা বৌদি ম্যানেজ করে নেবে।'
রেখা বলল  'মানে ম্যানেজ করে নেব মানে?'
সুমিতা আমতা আমতা করে বলে  'না, মানে আপনার তো ওয়াশিং মেশিন আছে, ওতে যদি...?
রেখা তো অবাক হয়ে গেল আর কি বলবে? তাহলে মাইনে তো তুমি বেশি পাবে না ।
সুমিতা গালে হাত দিয়ে বসে পড়ে বলে ' এ বাবা ।তা বললে কি  করে হবে বৌদি?'
রেখা বলে ' কি আর হবে? তুমি কাপড় কাচতে পারবে না ।তোমাকে কাপড় কাচার মাইনে দেব ?এ আবার কি কথা?
এই কথা কাটাকাটির মধ্যেই মনোজ উঠে পড়ে চোখ রগড়ে এসে বলে  'কি হয়েছে ?এত কথা কাটাকাটি কিসের হচ্ছে?'
রেখার আগে সুমিতাই বলে উঠলো ' দাদা ,দেখুন না বৌদি বলছে মাইনে কমিয়ে দেবে?'
রেখা তো অবাক হয়ে যাচ্ছে, আর ভাবছে  'কি ধরনের মেয়ে রে বাবা।'একটু  মনোজের দিকে তাকায়। মনোজ বলে  উঠলো ' মানে পুটুর যা মাইনে, তুমি সেই মাইনেই পাবে ।রেখা কমাবে কেন ?আসল কথাটা খুলে বল কি হয়েছে?'
রেখা বলল  ' কাপড় কাচবে না । তাহলে পুটুর মাইনে কি করে পাবে?'
 'মনোজ বলে ওঠে 'সে কী কথা?
এরকম তো কথা ছিল না।'
রেখা বলল মনোজের  দিকে তাকিয়ে-' দেখো ,সাতসকালে আমার কিন্তু ভালো লাগছে না এসব। তুমি বরং পুটুর সঙ্গে কথা বলে ,ঠিকঠাক করে ওর মাইনে ঠিক করো।
সুমিতা বলে  'পুরো মাইনে না দিলে আমি কিন্তু কাজ করবো না বৌদি।'
মনোজ  মাঝখানে এসে  সামাল দেয় ইশারায় রেখাকে হাত দিয়ে কিছু বুঝিয়ে। 
তারপর মনোজ বলে  'ঠিক আছে সুমিতা। তুমি আজকে কাজ করো। তারপর আমি কথা বলে নিচ্ছি পুটুর সাথে ।ঠিক আছে।'
সুমিতা বলে  'ঠিক আছে।
 সুমিতা কাজ করে চলে যাবার পর  মনোজকে রেখা বলে  'একে আমার পোষাবে না। অন্য কাজের মেয়ের ব্যবস্থা করো।'
মনোজ রেখাকে বলে  'রেখা পুজোর সময় এখন লোক পাবে না কিন্তু ।পুজোর পরে আবার লোপ পাবে। কাজেই যা চাইছে দিয়ে দাও ।পরে  ভালো লোক দেখে নেয়া যাবে আর তার মধ্যে যদি পুটুর সব সমস্যা মিটে যায় ।তাহলে তো পুটুই কাজ করবে ।'
রেখা বলে তাই বলে এইভাবে বল কাপড় কাচবে না তার টাকা নেবে কি দিনকাল পরলো গো? লোক রাখতে হবে না পুজোর এ কটা দিন আমি চালিয়ে নেব।'
মনোজ রেখার ক্রোধ বুঝতে পেরে বলে 'হ্যাঁ সোনা আমি তো জানি তুমি পারবে? তোমার যে ভীষণ কষ্ট হবে। সারাদিন স্কুল করে আসার পর তারপর আবার তুমি ঘরের সব কাজ করবে আবার স্কুলে যাবার আগে তারপর দুজনে মিলে যে আমরা সন্ধ্যেবেলায় ফিরে বা রাত্রের দিকে একটু আড্ডা দিই সে সব কিছুই হবে না রোজ ই  ঝামেলা লেগে থাকবে ।সেটা কি ঠিক বল ,নিজেদের মধ্যে অশান্তি ডেকে আনা? রেখাকে বুকের কাছে নিয়ে নেয় তোমাকে এত পরিশ্রম করতে হবে না ।যাক না কটা টাকা যাবে ,তো কি হয়েছে?'
রেখা বলে 'দেখো, মেয়েটি বলতে পারতো বিনয়ের সঙ্গে,তা নয় ,উল্টে হুমকি দিল কাজ করবে না।এটি কিছুতেই মানতে পারছি না।'
মনোজ বলল ' সব কিছু এত ধরতে যেয়ো না।কষ্ট বাড়বে।দেখ ‌কথায় কথায় অনেক বেজে গেল। তুমি কিন্তু ট্রেন মিস করবে? আর তোমার রিম্পা দি সঙ্গেও কথা হবে না পাশাপাশি বসে। রিম্পা দি তো আর বেশিদিন নেই স্কুলে?'
রেখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে মনোজের বাহুবন্ধন থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বলে  'এ বাবা কত দেরি হয়ে গেছে। আজ মনে হচ্ছে ট্রেন পাব না।'
মনোজ রেখাকে আশ্বাস দিয়ে বলে 'যাও ঠিক ট্রেন পাবে ।টেনশন নিও না।'
রেখা বলল 'তুমি কদিন ছুটি নিয়েছ অফিসে?'
মনোজ বলল 'আর দুদিন আছে?'
রেখা বলল 'ব্রেকফাস্ট রেডি করি নি। দুপুরের তরকারিটা করা হয়েছে।'
মনোজ বলল 'ঠিক আছে বাবা। আমি বাটার ব্রেড আর ডিম সেদ্ধ খেয়ে নেব। তুমি টিফিনে কি নিয়ে যাবে আমি রেডি করছি।'
রেখা বলল 'থাক আজকে নেব না।
মনোজ বলল 'তুমি রেডি হও ।যা করার আমি করে দিচ্ছি।'
রেখা তাড়াতাড়ি পূজা পাঠ করে নিয়ে রেডি হয়ে বলল  'আমাকে আজকে একটু ছেড়ে দেবে চলো।'
মনোজ বলল 'হ্যাঁ অবশ্যই। যতটুকু তোমার সঙ্গে থাকা যায়। দাঁড়াও দাড়াও, এই নাও ব্রেকফাস্ট করো বলেই হা করতে বলল।
রেখা বললো ' কি  সুন্দর টেস্টি হয়েছে খেতে। তোমার হাতে জাদু আছে। আর খাব না চলো চলো তাড়াতাড়ি।
মনোজ বলল 'না ,বেবি।জুসটা খেতে হবে। গ্লাসটা মুখের সামনে ধরল।'
তারপর মনোজ গাড়ি স্টার্ট করে রেখাকে স্টেশনের দিকে পৌঁছে দিতে গেল। স্টেশন যাওয়ার পথে মনোজ রেখাকে বলল  'আমাকে জড়িয়ে ধরো না।'
রেখা মনোজকে জড়িয়ে ধরে যাবার সময় হঠাৎই গান ধরে ,এই পথ যদি শেষ না হয় তবে কি হত?'মনোজের গাড়ি স্টেশনে পৌঁছানোর আগেই ট্রেন স্টেশনে ঢুকে যায়। এনাউন্স শুরু হয়ে যায়। মনোজ কোনক্রমে রেখাকে স্টেশনে পৌঁছে দিল। কিন্তু ওভার ব্রিজ পেরিয়ে দুই নম্বর প্লাটফর্মে যেতে যেতেই ট্রেনটা ছেড়ে দিয়েছে। "
রেখার মন টা ‌খারাপ হয়ে গেল। তারপর আবার ফিরে এলো এক নম্বর প্লাটফর্মে ।মনোজ তখনও দাঁড়িয়ে ।
মনোজ মিটিমিটি হাসছে ।
কিন্তু রেখার এটা দেখে ভীষণই রাগ হয়ে গেল। আর বলল  তুমি 'হাসছো?"
মনোজ বললো ' চলো বাইকে চাপো।'
রেখা মুখ গোমরা করে বাইকে চাপল।
মনোজ বলল 'যা কি হবে আজকে তো নিম পাতার সঙ্গে তোমার...?'তবে আমার ক্ষেত্রে কিন্তু ভালো হয়েছে।'
রেখা বলল ' কেন?'
মনোজ হেসে বলল 'বাহ রে। কতদিন পরে একসঙ্গে আমরা সারাটা দিন কাটাবো বল তো? আজ শুধু তুমি আর আমি। আ্যই রেখা আজ বৃষ্টি হলে কেমন ভালো হতো বলো। বৃষ্টিভেজা দুপুরে তুমি আমি...?'
রেখা বলল 'তোমার বয়স বাড়ছে, না কমছে?'
মনোজ বলল 'আমার তো মনে হয় কমছে কিন্তু তুমি যেন বুড়িয়ে গেছো। কত আশা ভরসা নিয়ে তোমাকে কথাগুলো বলছি আর তুমি গুরুত্ব দিচ্ছ না।'
রেখা বলল 'আজ যা কিছু ঘটলো সব  সুমিতার জন্য
সকাল বেলাটা এসে মেজাজ বিগড়ে দিয়েছে । তাই দুর্ভোগ পোহাতে হলো। কালকে কাজে এসে যদি ওরকম কথা বলে না?
 আমি এই দুর্ভোগকে ছাড়িয়েই ছাড়বো।'
মনোজ বলল " ছাড়ো না। আমাদের কথার মাঝে আর ওকে টেনে এনো না।'
তার চেয়ে দেখো আজকের দিনটা কত ভালোভাবে কাটানো যায় সেটুকুই আমাদের জীবনের বড় প্রাপ্তি। দুজনাই তো কাজের মধ্যে থাকি। সারাদিন কতটুকু কে কার খবর রাখতে পারি ?আজ ব্যস্ততার যুগে সমস্ত সুখানুভুতিগুলো যেন মূল্যহীন হয়ে পড়ছে। তার চেয়ে যতটুকু পাওয়া যায় সুদে-আসলে মিটিয়ে নেয়াই ভাল নয় কি?
রেখা শুধু ঘার নাড়িয়ে সম্মতি জানায়।











ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২০ ক্রমশ

০৪ অক্টোবর ২০২১

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল" ৪

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 




                                                               বনফুল 
                                                                                    র্থ পর্ব
                                                                                  

এইভাবেই চলে গেলো অনেক গুলো দিন,পড়ার টেবিলে বসে নিজের অজান্তেই পলাশ জুঁইয়ের কথা ভাবছিল, এতো বড়লোকের মেয়ে হওয়া সত্বেও কতো স্বাভাবিক অহংকার বলে কিচ্ছু নেই,কি অমায়িক,শান্ত ভদ্র! 

এরই মাঝে পলাশের ফোন বেজে ওঠল,ফোন হাতে নিতেই চমকে উঠল, এ যে জুঁইয়ের ফোন, রিসিভ করতে ওপাশ থেকে জুঁই বললো কেমন আছেন ভাইয়া?
-ভালো,  তুমি?
-হুম, আমিও ভালো আছি। কাল বিকেল একটু সময় দিতে পারবেন? 

-বিশেষ কোন কাজ? 

- জ্বি,

-কোথাও যেতে হবে? 

- আপনি এজিবি পয়েন্টে দাঁড়ালেই হবে ঠিক চারটায়, আমি ঠিক সময় তুলে নেব।এই বলেই জুঁই ফোন কেটে দিলো। ফোন রেখেই জুঁই জল্পনা কল্পনা করতে শুরু করলো কাল কি পড়ে যাবে, কি কি বলবে ইত্যাদি... 
ভাবতে ভাবতে কখন যে ঘুমিয়ে পরলো।
 জুঁইয়ের ঘুম ভাঙ্গলো দশটার পরে, দাঁত ব্রাশ করে নিচে নেমে দুই পিস টোস্ট একটা ডিম খেলো, জুঁইয়ের মা এক গ্লাস জুস এগিয়ে দিলো। নাস্তা খেতে খেতে মা বাবার সাথে বেশ কিছুক্ষণ গল্প হলো, আজ জুঁইয়ের বাবা বেরোবে না শুক্রবারে অফিস বন্ধ। জুঁই উপরে উঠে গিয়ে ভাবতে লাগলো আজ সে কি পড়ে যাবে! অনেক ভেবে চিন্তে ঠিক করলো শাড়ী পড়বে, এর আগেও কলেজে দুএকবার পড়েছে। 
আলমারি খুলে ঘাটাঘাটি করে মেরুন কালার শাড়ী কারো পার, চুরি, দুল সবকিছু ম্যাচিং করে রেখে, শাওয়ার ঢুকে গেল। 
শাওয়ার শেষ করে হেয়ার ড্রায়ারে চুল শুকিয়ে,স্ট্রেটনার দিয়ে চুলটা টেনে নিয়ে, নিচে নেমে লাঞ্চ সেরে উপরে এসে নিজের মতো করে একটু সাজগোজ করে নিলো।
আস্তে আস্তে নিচে নেমে এসে মাকে বললো আমি একটু বেরোচ্ছি, 
ময়না ড্রাইভারকে গাড়ি বের করতে বল। 



                                                                                                                             চলবে....

শকুন্তলা সান্যাল





অর্ধসত্য

এই অর্ধসত্য পৃথিবী উচ্চারণ আমাদের ,
দ্বন্দ্ব ছুঁড়ে মারে,
আমাদের উড়ায়  পুড়ায় নাচায়।
ধরণী বীরভোগ্যা, জেনেও কৃষকেরা দিশাহীন।
আর দৃষ্টি পথ জুড়ে ছুটে আসছে
শক হূণ ইংরেজ,স্পর্শকাতর প্রতিবেশী।
সহ্য সহায়!

আমাদের চেলো ভেলো মুন্ডেরা 
আমাদের অ আ ক খ বাক্য বিভক্তেরা 
খলবল করে জলে।
যত্তসব কাঁকড়ার অভিপ্রায় আমার!

মেঘ কি অস্তিত্বে সত্য?

রাবেয়া পারভীন এর ধারাবাহিক ছোট গল্প "কালো ক্যনভাস"৭

নতুন  ধারাবাহিক "কালো ক্যনভাস "
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম এই লেখার আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে।  




                                           কালো ক্যনভাস 
                                                                          ( ম পর্ব ) 


বিগত পনেরো ষোল বছরে নীলার জীবনে বয়ে গেছে  অনোক ঝড় ঝন্জা। কখনো কখনো খুব দিশেহারা হয়ে পড়ত আর তখনি  বাবা মা তাকে অনুপ্রেরণা দিতেন।  সামনে এগুবার সিড়িটা দেখিয়ে দিতেন । ভেংগে পড়া নী্লা  আবার উঠে দাঁড়াবার সাহস পেত। ইউনিভারসিটি তে পড়ার সময়  অনেক ছেলেই তাকে প্রেম নিবেদন  করেছে কিন্তু  সাড়া দেয়নি  নীলা,  দিতে পারেনি । নীলার  ক্লাসমেট  শিহাব  নীলার সামনে একদিন  কাঁদতে শুরু করেছিল। অনেকদিন  বলে বলে ব্যার্থ  হয়ে অবশেষে  কান্না। নীলার সামনে হাত জোড় করে বলেছিল,
- প্লিজ। নীলা একবার আমার কথা ভাব । অনেক ভালোবাসি তোমাকে। বিশ্বাস  করো।  মরে যাব আমি।
পাশে  বসে থাকা  বান্ধবী জেনির হাত শক্ত করে চেপে ধরেছিলো নীলা। ভয়ে গলা শুকিয়ে আসছিল তার। অস্ফুটে জেনিকে বল্ল
- জেনি ওকে এখান থেকে যেতে বল , আমার ভাল লাগছেনা । গা গুলাচ্ছে।
অবাক হয়ে জেনি কতক্ষন  নীলার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল তারপর  আস্তে বলল
- কি  ব্যাপার নীলা  এমন করছিস কেন। শিহাব তো খুব ভাল ছেলে তোকে ভালবাসে । তোর জন্যে  কাঁদছে বেচারা  দেখতে পাচ্ছিস  না ? 
চিৎকার করে উঠল নীলা
- না না  আমি দেখতে পাচ্ছিনা , সব ভাওতাবাজি  আমি জানি  এসব  ভালবাসা টাসা  আমি বিশ্বাস  করিনা।
কান্না থামিয়ে শিহাব  বলল
- আচ্ছা ঠিক আছে  তোমার এত চিৎকার করতে হবেনা আমি চলে যাচ্ছি।
বলেই হন্ হন্ করে হেঁটে চলে গেল সে। ক্লাসের সবাই  জানত নীলা ছেলেদের সাথে মিশেনা  প্রয়োজন  পড়লে দু একটা কথা বলে ব্যাস!  এই পর্যন্তই। পড়াশোনা শেষ হবার পর বাবা  বিয়ের কথা পাড়লেন কিন্তু  খুব শক্ত গলায় নীলা বাবাকে জানিয়ে দিল সে কখনো বিয়ে করবেনা। সে নিজের পায়ে দাঁড়াতে চায়। বাবা মেনে নিয়েছিলো নীলার কথা। বাবার  নির্বিঘ্ন  হাতটি ধরে পরম নিশ্চিন্তে  এতদুর হেঁটে চলে এসেছে  নীলা। এখন সে শুধু একজন মেয়ে নয় সে একজন  সফল মানুষ।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায় ৫

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" আজ তৃতীয় দিন। 
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে।




                                         উদাসী মেঘের ডানায়
                                                                             ( পর্ব  পাচঁ ) 


নীলগিরিতে পৌচ্ছাতে বেশ  সন্ধ্যা হয়ে গেলো
দুজনায় খুর্ব ক্লান্ত শাওয়ার সেরে কফি ও সামান্য কিছু
খেয়ে তৃষ্ণা রেষ্ট নিতে ওর রুমে চলে গেলো।
রাত দশটার দিকে ডোরবেলটা বাজতেই তৃষ্ণার ঘুম
ভেঙ্গে গেলো উঠে দরজা খুলতেই
-বিরক্ত করলাম খাবেনা চলো খেয়ে নেই।

-না বেশ ঘুমিয়েছি এখন আর টায়ার্ড লাগছেনা তুমি যাও আমি আসছি।

বেশ রাত পর্যটকদের ভীড়, ওরা আর রেষ্ট হাউজে না খেয়ে বাহিরের হোটেলে খেয়ে কিছুটা সময় হাঁটলো
তারপর ফিরে এলো রেষ্ট হাউজে।
কিছুটা সময় গল্প করলো তৃষ্ণাকে হাই তুলছে দেখে
অপু বললো-কাল কিন্ত পূণিমা দেখবো রাত জেগে
আজ বরং ঘুমিয়ে পড়ো তৃষ্ণা আমিও ঘুমাবো।
সকালে উঠে পাহাড় দেখবো।
ভয় পেলে ডেকো পাহাড়ি এলাকা
-আমি ভয় পাইনা নিশ্চিতে ঘুমাও।

-দেখা যাবে ভয় পাও কিনা, খুব সাহসী মেয়ে।

-দেখো তুমি আবার ভয় পেওনা।
- হা-হা-হা আমি ভয় পাবার ছেলেই না।
-সেটাই ভালো, গুড নাইট
-গুড নাইট
চলবে

রেহানা বীথি





 মাদুলি 



গলায় ঝুলছে মাদুলি   
কোনও হাওয়া নেই আশেপাশে 

শূন্যের মাঝে ফুটে থাকে যেসব ফুল 
তারমধ্যে থেকে একটি তুলে নিলে 
বাকিরা লজ্জায় বিবর্ণ হয়ে যায় 

বিবর্ণ ফুল আমার দেখতে ভালো লাগে 
বিবর্ণ ফুলকে কেন যেন বড় আপন মনে হয় 
আমি ওদের দলে ভীড়ে যাই 

দলে ভীড়ে যাই কমলা পোশাক খুলে 
পোশাকের নকশারা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে
ব্যথায় কাতর হয়
আমি ফিরেও তাকাই না  
আমার সুতোহীন নগ্ন দেহে
আদর করতে চায় যে অক্টোপাস 
তাকে, একটি সূঁচের আঘাতে 
পৃথিবীর শেষপ্রান্তে পাঠিয়ে 
মাদুলিটা খুলে ফেলি 

হাওয়া আসুক 
বদ কিংবা কোনও দখিন জানালার 
আমি ভিজবো... 

সঞ্জয় আচার্য




মনা রাখাল




ধুলোতে বাজিয়ে নুপূর চলে গেছে দূর

আহা-হা-হা বাঁয়ে বাঁয়ে—মনা রাখালের দুপুর।


চৈতি মাঠ তারই শোকে পড়ে আছে অভিমানে

ঠিকানা বিহীন ফকিরের মতো এক কোণে।


যে পথে মনা  রাখালের ছায়া পেরিয়ে গেছে

সেই পথে

মেঘের কারুকাজ ভাঙে আর গড়ে।


তারই মাঝে এ পৃথিবী চেয়ে থাকে, কান পাতে

কবে কোন নিভৃত অবসরে

গোরুর ক্ষুরের শব্দ ভেসে আসে সাঁঝের প্রহরে।

পিয়াল রায়



 একরোখা 
  

ব্যাপারটা যথেষ্ট পুরনো হওয়ার পর
মনে হল চলে গেছে একটা যুগ

আড়ালে আড়ালে বাড়তে থাকে ভয়
সমস্ত বোঝাপড়া থেকে
ধূসর হতে হতে ক্রমশ ম্লান
একদা ধবল চূড়াগুলি

মুখ ঘুরিয়ে এদিকে তাকালে
জলে জল মেখে খেলা চলে সারাদিন

ধুলোতে গড়িয়ে চলে স্বপ্নের ভিডিও ক্লিপিং

সৈয়দ আহম্মদ আশেকী




আগন্তুক আমি
                                         

কবি ও কবিতার ভীড়ে কবিকুঞ্জে
আমি এক  আগন্তুক।
আমার  শুস্ক ও তৃষ্ণার্ত কন্ঠনালী
কবির কবিতার বাস্পে সিক্ত করতে এসেছি
কবিদের সামনে আমি এক কাব্য ভিখারী।
উনুনে গরম ভাতের গন্ধ যেমন
বরেণ্য কবিদের কবিতার ঘ্রাণ
গরম ভাতের মতোন
আমার অভুক্ত হৃদয়কে লোভাতুর করে।


আমি এসেছি কবিতার ঘ্রাণ শুঁকে শুঁকে
কবিতা আমার কাছে সৌখিন মমতা,
যেখানে থাকে কবির প্রেমাস্পদ স্রোতধারা
আমি এসেছি বৈলক্ষন সন্নাসীর বেশে ,
জগতের মোহে সংসার আগলে 
বন্দীত্ব আত্না ত্রাহি ত্রাহি করে ।
আমার মূমুর্ষ হৃদয় পদ্ম কমল
পরিশোদ্ধ কবিতার জলে স্নান করাবো। 

আমি এসেছি কবিতার সবুজ কাননে,
বিদগ্ধ অবুঝ আমি মানুষে খুঁজি মানব
এ বঙ্গের হৃদয়ে হৃদয়ে বিলায়ে দেবো তা
মানুষে মানুষে মানবতা 
হাছন রাজার সুরমার জলের মতোন।
জাগ্রত হও আকাশে আকাশে সব রবি
আউল-বাউল, সাধক, সুধী, কবি
সুরের জোয়ারে উত্তুঙ্গে মাস্তুল
নীলাম্বরে শুনি বাজে স্বর্গ-রোল ।

ফরমান সেখ




মাতা মানেই

 
মাতা মানেই, মমতাময়ী
     স্নেহ মাখা আঁচল,
মাতা মানেই, মাথার ছায়া
     আদর ভরা অঞ্চল।
মাতা মানেই, মনের সাহস    
      মস্ত একটি ধরা,
 মাতা মানেই,  অন্ধকারের-
    আলোর উজ্বল ধারা।
মাতা মানেই, ছোট্ট বেলার
     শান্ত মৃদুল কোল,
মাতা মানেই, অসীম খুশীর    
     মনোনান্দের দোল।
মাতা মানেই, প্রথম গুরু
      গুরুর গুরু যে,
মাতা মানেই, স্বার্থবিনা-
    ভালোবাসে সে।
মাতা মানেই, পূর্ণ সুখী
    সকল সুখের আয়ু,
মাতা মানেই, আশার আলো
      স্নিগ্ধ শীতল বায়ু।

fdgd

LOVE

tytfds

LOVE