মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১
সুচিতা সরকার
সাইফুল আলিম
শরৎ এর স্নিগ্ধতায়
এই তো সবে বর্ষার মুষলধারে বৃষ্টির নেষার ঘোড় কেটেছে মাত্র।
আকাশে ভেসে বেড়ায় এক টুকরো সাদা মেঘ।
পড়ন্ত বিকেলে গোমতী নদীর তীরে মনের বাতায়ন খুলে ঘাসের উপরে বসে আছি আমি।
দমধমে মৃদু বাতাসে শন শন করে মন ও শরিলকে হালকা ছোয়ায় সিক্ত করে দিলো নিমিষেই।
আমি আনমনে নদীর কলতানের সহিত প্রান খুলে আত্ম কথনে মগ্ন কিছু মুহুর্ত।
কাশফুল হেলিয়া দুলিয়া শড়ৎকে নিমন্ত্রণ করে স্নিগ্ধতায় ছন্দের তালে তালে।
আর,
আমি প্রিয়াসির জন্য শড়ৎ ফুলের মালা বুনি মনের হরসে।
মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন" ২
টানাপোড়েন / ২
ভুল
আজ যেন খুব বেশি রকমই তুমি রিঅ্যাক্ট করছ। আমি কি এমন করেছি বলে সুমিত। কি এমন করেছি? মানেটা কি? তোমার ফোনে এতগুলো মিস কল তারপর ফোন করেই যাচ্ছে ,তুমি ফোনটা কেটে দিচ্ছ। কে এমন বিশেষ ব্যক্তি এতবার ফোন করছে অথচ তুমি ফোন টা পর্যন্ত রিসিভ করছো না। দেখি ফোনটা দাও '-বলেই অনুমিতা ফোনটা কেড়ে নিতে যায়। কেন তুমি আমার ফোন নেবে কেন? কেন মানে? আমি ফোনটা দেখতে চাইছি? তোমার ভেতরটা যদি এতটাই সাদা হয়ে থাকে তাহলে দেখাতে আপত্তি কিসের? সুমিত হেসে -আপত্তি??? বাহ,খুব ভালো ছেলে তো ।অনুমিতা বলে। দাও দাও দাও দেখি। এবার জোর করেই কেড়ে নিতে যায় অনুমিতা। সুমিত সরিয়ে দেয়। কেন আমার কথা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না। ভালোবাসায় তোমার বিশ্বাস নেই। ছিল ইদানিং একটু কেমন কেমন মনে হয়। শোনো নি ভালোবাসার যদি বিশ্বাস টুকুই না থাকে সারাটা জীবন আমরা একসঙ্গে থাকবো কি করে? এগজ্যাক্টলি আমিও তো এই কথাই বলি ।আমাকে তোমার বিশ্বাস নেই কেন? দেখতে চাইছি তাহলে তোমার দেখতে দেয়া উচিত ।কারণ তোমার সমস্ত কিছুতে আমার অধিকার আর আমার সমস্ত কিছুতে তোমার অধিকার। এই নিয়ে দু'জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে।অথচ সুমিত আর অনুমিতার সম্পর্ক আজ চার বছরের। এর মধ্যে কত কিছু ঝড় ঝাপটা এসেছে তবুও বিশ্বাসের ভীত যেন আলগা হয়নি কখনো। আজ যেন টলোমলো কান্ডারী বিহীন তরী। পাঁচ-ছয় মাস হল সুমিতের ভেতরে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। আগে যখন বেকার ছিল তখনই যেন ভাল ছিল ।পরস্পরের ভেতরে একটা আত্মিক টান সব সময় অনুভব করতো। দিনে একবার হলেও দেখা করা বা ফোন করা এটা বাধ্যতামূলক ছিল। আর এখন সুমিতকে ফোন করলে ফোন বিজি আর দেখা তো দূরের কথা সপ্তাহে একদিন সেটাও যেন অনেক কষ্ট করে তাকে আসতে হয় । হাবেভাবে সেটাই বোঝাতে চায়। অথচ অনু সুমিতকে ভালবেসে তার জীবনের সেরা সময়টুকু দিয়েছে ।সেখানেই তো ভয়। আজ সমস্ত দিক থেকে ভয় যেন অনুকে কুকুরতাড়া করে বেড়ায় ।আসলে পেটের ভেতরে যে বাড়ছে দিনকে দিন এ কথাটা সুমিতকে বলার জন্যই আজকে ডেকেছিল কিন্তু অকারণে কি একটা ঝামেলা হয়ে গেল। মনে মনে নিজেকে একটু শান্ত রেখে ,ধৈর্য ধরে অনু বলল-' সুমিত ঠিক আছে তোমাকে দেখাতে হবে না ।তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস আছে। তোমার কাছে আজকে একটা আমি কথা বলতে চাই। বলো কি বলবে? সুমিত বলে। আমার ভিতরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছো সুমিত? পরিবর্তন ক ই সেরকম তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। অনু অবাক হয়ে যায় আগে মুখটা শুকনো থাকলেই সুমিতের যেন চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসত। চোখের কোনে আমার কালি একটা দুশ্চিন্তা সবসময় আমাকে গ্রাস করে আছে ।এটা শুনে বুঝতে পারছে না। মনে মনে ভাবল। একটু ম্লান হাসল। সুমিত তাড়া দেয়,' কি বলবে যেন তুমি আমাকে ?বলো ।আমার তাড়া আছে। অনু একটু কিন্তু কিন্তু করতে লাগলো আর ভাবলো আজকে এই কথাটা মুখ ফুটে সুমিতকে বলতে পারছে না কেন? সুমিতকে বড্ড অচেনা লাগছে। কিছু না বললেও তো নয় ।বড্ড দেরী হয়ে যাবে। তখন কি করবে অনু। জানো তো আমি প্রেগন্যান্ট। মানে ,মানেটা কি? সুমিত বলে।আমি কি করবো? কথাটা শুনে অনুর ভীষণ রাগ হয় ।কিন্তু রাগটাকে সামলে নিয়ে হেসে বলে -' কি কথা বলছ সুমিত। আমাদের ভালবাসার সময় উজার করে দিয়েছিলাম ।আজকে তুমি বলছো...? সুমিত বলে ওটা একটা এক্সিডেন্ট ।তুমি ভুলে যাও আর যত তাড়াতাড়ি পারো এবরশন করিয়ে নাও। কথাটা শুনে অনু কি বলবে ভেবে উঠতে পারল না ।ভেবেছিল আজকেই বলবে বাড়িতে বিয়ের কথাটা তুলতে কিন্তু সুমিতের যা হাবভাব দেখছে তাতে তো রাজি হবে না। তারপরেও দাঁতে দাঁত চেপে ভেতরে চাপা কষ্টটাকে রেখে অনু রিকুয়েষ্ট করে 'কি দরকার এবরশন করার বলো ।আমরা তো এখন বিয়ে করে নিতে পারি। এখন তুমি সেটেল হয়ে গেছ।' 'সুমিত বলে-বিয়ে করতে বললেই করা হয়ে যায়। এখন আমি বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবছি না। এখন আমি কেরিয়ার নিয়ে ভাবছি। তাহলে আমার কি হবে অনুমিতা বলে। তোমাকে তো সমাধানের রাস্তা দেখিয়ে দিলাম ।তুমি তাই করো। শোনো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে ,আমি আসছি। টাকা লাগলে ব'লো। আমি দিয়ে দেব। কথাটা বলেই বাইক স্টার্ট করে চলে যায়। অনুর পায়ের তলায় যেন মাটি সরে যাচ্ছে কি করবে ?কি করে এই লজ্জার কথা বাড়িতে বলবে ?আজকে লজ্জাই বটে অথচ ভালোবাসাটা কোন লজ্জার ছিল না ।দুজনই খুব কাছাকাছি এসেছিল ।সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল ঝিরঝির করে ।অনু সুমিতের বাড়িতে দেখা করতে এসেছিল বাড়িতে কেউ ছিল না হঠাৎ এই দুজনের ভিতরে কি একটা চরম উত্তেজনা নিজেদেরকে হাড়িয়ে ফেলেছে সেদিনের সেই ভালোলাগা ভালোবাসার মুহূর্ত টুকু চির স্থায়িত্ব দিতে গেলে নিজেই সমাজের কাছে কলঙ্কিত বলে প্রমাণিত হবে। কী করবে এখন অনু? কোথায় যাবে এখন অনু ।এই দ্বিধা সংশয় তাদের ভালোবাসাকে গ্রাস করল। যে ভালোবাসার বিশ্বাসের জন্য পরস্পর পরস্পরে হাজার হাজার মাইল দুঃখ কষ্টের পথ অতিক্রম করতে পারে ।আজ তাএক নিমিষে ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। অনুর মাথা বনবন করে ঘুরতে লাগলো, দিশাহারা হয়ে গেল ।ভালোবাসাটা য় আজ আর কোনো বিশ্বাসের জায়গা থাকল না। অনুর এই ভুলটাকে সারাটা জীবন ধরে মাশুল গুনতে হবে।
ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ২ ক্রমশ
গোলাম কবির
সে তুমি আমার প্রেম
না, লিখে দিইনি কাউকেই কোনো দাসখৎ!
ভালবেসে চিরকাল বশ্যতা মেনেছি তোমার।
তবুও এই অবারিত সবুজের দিগন্ত সাক্ষী,
ভালবাসার যৌবনের মধুর স্মৃতিময়
দিনগুলোর দিব্যি করে বলছি ,
তোমাকেই ভালবাসি চিরকাল!
বুকের ভিতর দিয়ে তিরতির করে
বয়ে যাওয়া প্রবহমান নদীটাও জানে তা!
হৃদয়ের একদমই ভিতর থেকে গাঢ়তম
উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দের মধ্যে
আমি খুঁজে পাই তোমারই পবিত্র নাম -
সে তুমি আমার প্রেম!
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১
দেবব্রত সরকারের লেখা "আসলে ফেরার কোন ডেট ছিলোনা"
আসলে ফেরার কোন ডেট ছিলোনা
আমাদের সঙ্গে একটা মানুষ এসেছিল তুমি জানো বাবা ?
বাবা উত্তর করে, কই না তো !
সেকি ! তুমি দেখোনি ?
কই না তো !
তাহলে আর কিছু বলবার নেই। আমি মা দিদা দাদা সকলেই তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে এসে গিয়েছি বাড়ি । কখন যে এসে পড়েছি বুঝতেই পারিনি। কি আশ্চর্য বলো!
হ্যাঁ তা ঠিক ! কিন্তু আমি দেখতে পেলাম না কেন ? আমি কি তোদের সঙ্গে ছিলাম না ?
না ছিলে না! তুমি তো সারাক্ষন ফোন নিয়ে ব্যস্তই ছিলে ! ভদ্রজন কতবার তোমায় বল এই যে শুনছেন স্যার ! শুনছেন স্যার! তুমি তো শুধু তাকে হাত দেখালে মাত্র।
সে কি ! কখন?
ওই তো, যখন তিনি তোমাকে ডাকছিলেন। উনি না থাকলে আমরা যে কোথায় থাকতাম কে জানে !
মানে ?
মানে আর কি তোমার মাথায় তো কিছুই ঢোকে না। শুধু ফোন ফোন ফোন ! উফ পারিনা বাপু !
৬ বছরের ছেলেটার কথা শুনে বাবা হু হু করে হাসতে হাসতে চলে গেলো ঘরের বেডরুমে। কিন্তু মাথা থেকে কিছুতেই তার খেয়ালটি পালিয়ে গেলো না। ঘরে ঢুকেই ল্যাপটপ খুলে দেখতে শুরু করল যে তাদের ফেরার ডেট কবে ছিল। আসলে তার মাথা থেকে সব হারিয়ে গিয়ে ছিল। বাচ্চা ছেলে হলে কি হবে ! সে এমন ভাবে বলে গেল কেন ? নিশ্চয় এর কোন কারণ আছেই আছে। ভাবতে ভাবতে অনলাইনে খুঁজতে থাকে তাদের টিকিটের ডেট। কিছুতেই তার ল্যাপটপে খুঁজে পাইনা। টকিটটি মেইল এ চেক করতে গিয়ে দেখছে সেখানেও কেমন যেন আবছা। বুঁদ হয়ে কি যেন ভাবতে থাকে সে....
২
ত্রিপা স্নান সেরে বাথরুম থেকে ঘরে ঢুকেই দেখে দুৰ্লক চিন্তিত অবস্থায়ই বসে আছে। পাশে এক কাপ গরম চা কখন কে দিয়ে গেছ তাও জানে না। চা ঠান্ডা হয়ে জল হয়ে গেছে। ত্রিপা মাথায় তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষতে ঘষতে জানতে চাইলো - আচ্ছা বলতো তোমার কি হয়েছে ? কয়েকদিন ধরে তোমায় একটু অন্য্ রকম দেখছি। পূজার ছুটি শেষ এবার পরশু থেকে আবার অফিস টু বাড়ি বাড়ি টু অফিস। মানে অফিসের কাজ শুরু। আর এখন তুমি কেমন যেন কবিদের মত্ উদাস হয়ে বসে।
দুৰ্লক ত্রিপার কথায় বুঝতে পারল সে আসলে সত্যিই উদাস হয়ে গেছে। অথচ সে কোনদিনও কবিতা কি একটি ছড়াও লেখেনি। তবুও তাকে কবিদের মতো লাগছে। কি আশ্চর্য এই ভুবন !
মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন" ১
ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ১ ক্রমশ
পরাণ মাঝি
কর্পোরেট কান্না
কর্পোরেট তোমাকে দেখেছিলাম রাতের নিয়ন আলোয়
তুমি কাঁদছিলে একান্ত আঁধারে
কিন্তু কেউ দেখতে পায়নি
এরকম অনেকেরই কান্না দেখেছি , আওয়াজ শুনতে পাইনি
না না এসব আন্দাজের কথা বলছি না
এই তো সেদিন একা একা পার্কে বসে সিগারেট টানা মেয়েটিকে দেখে বলেছিলাম
তুমি ও আমার সমানুপাতিক
কবি দেবাশিস সাহার এক গুচ্ছ এক লাইনের কবিতা
এক লাইনের কবিতা
১.গাছ আমার পূর্ব জন্মের মা।
২.এতো ঈশ্বর আমাদের কোন কাজে লাগে?
৩. প্রেমের পথ সর্বদা মেঘলা।
৪. তোমার বীজতলা জুড়ে নানা রঙের পায়ের ছাপ।
৫. একটাই গ্লাস- কখনো দুধ কখনো মদ
৬. তোমার সমুদ্রে আমি এক অন্ধ নাবিক
৭.অন্ধকারে গাছ মায়ের প্রেমিক
৮.কবিরাজের স্পর্শ পেলে গাছ ঈশ্বর
৯. কয়েনের ওপিঠে তুমি তাই দেখা হলো না
১০.চাকাহীন গাড়ির নাম নদী
১১.জোছনা সরে গেলে শংখ লাগে বিছানায়
১২. সর্ম্পক একটি সাঁকো
১৩.সর্ম্পকের বুকে নানা রঙের ঢেউ
১৪. ডুবুরি অথচ পথহারা তোমার সমুদ্রে
১৫. তুমি- কারো জায়া কারো মায়া
১৬. বহু রঙের আমি নিজেই মিছিল
১৭. সানাই বাজলে পুড়ে যায় মনখারাপ
১৮. কোনো কোনো পুরুষ ঘুম হন্তারক কেউ কেউ ঘুমের ঔষধ
১৯. ঠোঁট লেখে চিঠি তুমি বলো চুম্বন
২০. গন্ধের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকে খিদে।
২১। এতো ঈশ্বর আমাদের কোন কাজে লাগে
২২।পাতাদের গ্রামে জেগে থাকে আমাদের আত্মা
২৩।মা - একটি রক্ষাকবচ
২৪.মৃত্যু র ডাক নাম জীবন
২৫.অন্ধ রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে যাচ্ছে ভালোবাসার রং
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২১
সানি সরকার
কুহক যখন তোমাকে গ্রাস করছে তোমার অজান্তেই
ভোরের গোধূলিকে বলো, ভালো আছ?
ভোরের গোধূলি জানে, প্রতিটি মুহূর্ত…
কেন যে ভুলে যাও
শুধু ভালো থাকার জন্যে ভালো থাকা না!
এই যে দশ দিক তার চারপাশে
তুমি যে সেখান থেকে অসংখ্যবার গন্ধ নিচ্ছ
এবং মনে করছ, বুকের ভেতরের পাখিটি বুঝি মুক্ত হয়ে গেল…
কিন্তু না!
যে বৃক্ষের নিচে শ্বাস নিচ্ছ ইদানীং
যে যে বৃক্ষ তোমাকে পথের দিকে অঙ্গুলি নির্দেশ দিল
তাঁরা হাসলেন খুব, না প্রাণ না,
মনে মনে হাততালি দিতে দিতেই
ক'য়েক পাক চক্কর কেটে নিলেন দ্রুত-ই
কারণ নির্মাণ সফল হয়েছে
আমি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞ, কারণ
ওঁরা একেকজন সফল চলচ্চিত্র নির্মাতা…
একজন মানুষকে প্রতিটি ক্রিয়েটর
কখনও রাক্ষস কিংবা ঝোলার বেড়াল বানাতে পারেন
এখানে মনে রাখা উচিৎ, ওঁর কাজই হল নির্মাণ করা
তা মিথ্যে হোক বা সত্যি
এখানে বলে রাখা ভালো, যদি সিনেমার ভাষায় দ্যাখো, তবে
এই জগৎ-সংসারে পর্দার আড়ালের মানুষটিকে কেউ চেনেন না
ওঁরা ইচ্ছে মতো প্রতিটি চরিত্রের একেকটি নাম
ও ট্যাটু এঁকে দেন
এইখানে তুমি যদি সাধক-শিল্পীটি হও
যে কোনও গন্ধ শোঁকার পরে একশ আটবার না
সত্যি ও মিথ্যের জ্যামিতিটি সমাধান করতে
ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে সচেতনভাবে তুমি মাত্র ষাট পাক ঘুরবে
এখন তোমার সামনে শান্ত-স্থির কেদারা ও বিজ্ঞাপনের হাতছানি
এবার তোমার নাভিকুণ্ডলীর কাছে জিজ্ঞেস করো,
আসলে তুমি কেমন আছ এবং ভবিষ্যতে কেমন থাকতে চাইছ
কারণ ভোরের গোধূলির কাছে কখনও মিথ্যে বলতে নেই
একজন সত্যিকারের মানুষ, নিজেকে কখনও
মিথ্যে করেও মিথ্যে বলতে পারেন না
সালমা খান
নাগেশ্বর বৃক্ষ
পুরোনো দীঘির জলে কবে কার নাগেশ্বর বৃক্ষ ছায়া দেখে তার প্রিয় হারানো,
আমারি মতো সেও ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে প্রতিক্ষার পথ চেয়ে ।
অদূরে হয়ে ফিরছে এই যে পথ,
আরো শতবর্ষ ছিলো হেঁটে যাবার,
ধীরলয়ে যেমন হেঁটে যাবার
ভেবেছি একদিন তোমার হাতপাশে আমারি হাত রেখে ছন্দবদ্ধ হবে সকল বৈরাগ্যপনা ,
সে স্বপ্নাতুর অভিলাষ ফিকে হয়ে গেলে আমার আর ভালো লাগে না।
ডাক দিয়েছি,তুমি পৌঁছে গেছো মৌনি ধাপে
আমিও হালকা ওমের মতো চৌহদ্দি ছাড়লাম,
নেমে গেলাম জলের মতো।
পথে পথে শামুকের খোল,পাথরের তীক্ষ্ণ ঢেলা বুঝতে কি পারো ,
ঢালুর অংশের আধভাঙা ফাটলে প্রত্নজীব শ্যাওলা?
পুজো নিয়ে তোমার মোহগ্রস্ত ঘুম এখনো ভাঙেনি
ভাবছো আমজনতা খেয়ে নেবে সংক্রামিত প্রসাদ বাতিল নিরামিষের গরাস!
রোজ সকালে আয়না তুলে ধরি মুখ ,
স্মৃতির কৌটা খুলে কপালে আঁকি লাল বৃত্তের সুখ।
কি নিদারুণ ভাবে আমার সিঁথির সিঁদুরে টকটকে রোদ্দুর গুড়ো
লেপ্টে দিলে যা আমার কপাল বেয়ে
নেমে এলো মৃত্যু ,
আমি মৃত্যুর জন্য নৈশব্দিক একটা কবিতা লিখবো।
এক লক্ষ জোনাকির নিমন্ত্রণ দেবো সেদিন
ঝিঝি পোকারা গুনগুন করে গান ধরবে মৃত্যুর সময়
ঝিরি ঝিরি বাতাস বইতে থাকবে,
ক্রন্দন ভরা বাতাসের তীব্রতায় চুলগুলো এলোমেলো হয়ে মুখে ছড়িয়ে পড়বে
হলুদ শাড়ি পড়ে থাকবো সেদিন
কপালে টিপ আঁকবো,কাজল দেবো গাঢ় করে,যখন চোখ দুটো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে।
জলের কাছে নিমন্ত্রণ পাঠাবো ,
জলের ফোঁটায় সারা মুখে ছড়িয়ে পড়বে।
তখন কান্নার শব্দকে দেব ছুটি
অন্ধকার রাত ব্যাথিত হয়ে দেখবে আমার শেষযাত্রা।
সীমাহীন রুপান্তর তুমি
মালবিকার চোখে চোখ পড়ে না।
তুমি অন্ধ পথে থৈ থৈ,
চোখ আছে তবুও চোখের মনি নেই।
মাসুদ করিম
চঞ্চল হরিনী
সেই মেয়েটি থাকে সদা
হাঁসি খুসি মনে,
সারা পাড়া মাতিয়ে রাখে
সোহাগ ভরা মনে।
পাড়ার সবাই দশ্যি বলে
যেন চঞ্চল হরিনী,
দুষ্টমিতে বেজায় পটু তবুও
সবারি আদরিনী।
মা বলেন ডেকে খুকি সোনা
এবার ঘরে আয়,
মায়ের পানে মুখ বাঁকিয়ে দুষ্ট
মেয়ে দৌড়ে পালায়।
সারা বেলা দৌড়ে বেড়ায় খুকি
চঞ্চল হরিনীর মত,
আমের ঢালে জামের ঢালে
করে দুষ্টমি আছে যত।
বাবা ডেকে বলেন মাগো নেমে
এবার বাড়ি যাও,
খুকী এবার দুষ্টমিতে বায়না ধরে
বাবা আমটি পেড়ে দাও।
বাবা হেসে বলেন মাগো এবার বেলা হলো শেষ,
খুকী এবার মুখ ঘুরিয়ে বসল বেঁকে
রাগ করেছে বেশ।
গোলাম কিবরিয়া ( শরীফ)
দেহ
পড়ন্ত বিকেলে রৌদ্রের বুকে
ঘুমিয়ে পড়িছে দেহ,
অনামিকা নড়ে, স্মৃতি মনে পড়ে-
বাঁচাবে আমারে কেহ?
দৃশ্যপট
বৃদ্ধ আসিলো জমির অফিসে -
সাথে আছে ওয়ারিশ,
ভাগ বাটোয়ারা, হয়ে গেছে সব,
স্বাক্ষরে কুর্নিশ।
সকলের মুখে প্রাপ্তির হাসি -
আশার মশাল জ্বলে,
বৃদ্ধের মুখে বিদায়ের গান -
হৃদয়ে স্মৃতির থলে।
জমি আপনার? নাম কি যে তবে?
দিয়াছেন সজ্ঞানে?
সাব রেজিস্ট্রার - পরখ করিতে,
তাকায় তাহার পানে।
আরে সাহেব -
জমিতো আমার , ভাবিতে ভাবিতে -
জীবন করেছি পার ;
জীবনের কূলে এসে দেখি আজ -
নেই সাথে কিছু আর।
স্বাক্ষর হলো, টিপসই ও দিলো,
লুকায় চোখের জ্বলে,
"আজ থেকে আর, রইলো না তার -
কিছুই নিজের বলে। "
যাক বাঁচা গেলো, মনে মনে ভাবে -
তুষ্টিতে থাক সবে,
এখন তো আর বলবেনা কেউ -
"বাবা" যে মরবে কবে?
বছর দুয়েক পর -
বাবার হইলো ভীষন অসুখ -
সারিবেনা কোনও ভাবে ;
ডাক্তার বলে, বিদেশ গমনে -
বোধ হয় কাজ হবে।
এই বার সবে, চোখাচোখি করে,
এই ক্ষনে কি যে করে !
"তাহার তো ঢের হয়েছে বয়স -
এমনিতে যাবে মরে। "
"বিদেশ যাইতে প্রচুর খরচ -
জমি বেচে দেব পুরো?
কি লাভ আছে! যতদিন বাঁচে -
বাড়িতে থাকুক বুড়ো। "
অবশেষে বাবা বুঝিতে পারিলো -
চোখে ক্লান্তির ছোঁয়া,
তবু দুই হাত, তুলে সারা রাত ;
করিলো সবারে দোয়া।
মুয়াজ্জিনের মধুর ধ্বনিতে
প্রতিদিন বাবা জাগে,
আজ তো জাগেনি বাবার দেহটা,
নিথর হয়েছে আাগে।
গোধুলিতে এসে হিসেব মিলায় -
দুপুরের রোদে কত কষ্ট ;
এখানেই জিতে গেলো বসুধার রং,
শেষমেষ আঁধার প্রকোষ্ঠ।
সাহানারা সেখ(টুম্পা)
সম্পর্ক
এ রমণী কোন রমণী?
নিজেকে জননী বলে,করে দাবি!
অন্য স্বামীতে আসক্ত হয়ে,
অবৈধ সম্পর্কে করে মাতামাতি।
ধিক্কার দি সেই তনয়কে ও
যে অন্নের ভেলাতে ভাসে।
এমন করে এই সংসারে
নাশহীন হয়ে নেমে আসে।
ক্ষমার যোগ্য নয়তো তারা
সমাজ কুলসিত করার কারিগর।
চক্ষুর ওই কালো পর্দা অন্নে খোলার চেয়ে
নিজে খুলে ফ্যাল।
অন্ধকার সংসার থেকে,আলোর জগতে বিরাজ কর।













