১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোহাম্মদ সোহেল রানা



ক্ষমা করে দিও দাদীমা



দাদীমা তোমার কোলে হয়েছি

আমি শিশুকাল থেকে মানুষ,

কত যাতনা দিতাম দাদীমা গো

যখন আমি ছিলাম ছোট্ট অবুঝ।


শীতের রাতে দাদীমা গো রাখতে 

আমায় তোমার ঐ বুকে জড়িয়ে,

দাদাভাই আমার শীতে কষ্ট পাবে

সর্বদা তুমি থাকতে সেই ভয়ে।


রাতের খাবার খাইয়েছো দাদীমা 

মোরে কত আদর সোহাগ করে,

দাদীমা তোমার সোহাগে শতকষ্ট 

মান-অভিমান যেতো আমার ঝরে।


দাদা কেমন দেখিনি আমরা কেহ

ছোট থেকে ডেকেছি দাদা তোমায়,

দূর প্রবাসে এলাম যখন আঁচল দিয়ে

মুখটি মুছে বলে ছিলে ভুলোনা আমায়।


ওগো দাদীমা তোমার দেওয়া শিক্ষা

আমি সর্বক্ষণ যাচ্ছি পালন করে।

কারো সঙ্গে করবে না ঝগড়া ঝাটি

শক্রকে ক্ষমা করে রাখবে বুকে ধরে।


নয়টি বছর প্রবাস জীবন আমার

দাদীমা সবার স্বপ্ন পূরণ করতে গিয়ে,

আজ কোরবানি ঈদের দিনে বিধাতা

পৃথিবী থেকে তোমায় গেলেন নিয়ে।


ক্ষমা করে দিও দাদীমা!শেষ বিদায়ে

পারলাম না তোমায় স্পর্শ করে দিতে,

পারলাম না রাখতে তোমার মনের আশা

নিথর দেহ কাঁধে করে গোরস্থানে নিতে।


দাদীমা তুমি ছিলে অতি পরহেজগার 

তার প্রমাণ দিয়ে গেছে এ মৃত্যু তোমার

কোরবানীর পবিত্র দিনে তুমি চলে গেলে

দোয়া করি পরকালে জান্নাত যেনো মিলে।

শরিফুর রহমান



প্রেম আরতি 



হেরিয়া তব সুধাময়ী রূপ 

তপস্বীর ধ্যান হয়েছে ভঙ্গ, 

তপোবন ছেড়ে সাধনা ভুলিয়া 

প্রেম যমুনায় মজেছে অঙ্গ। 


মম মন্দিরে তব প্রতিমা বসেছে

উলুধ্বনিতে বাজিছে শঙ্খ, 

ধূপের গন্ধে মাতাল মদিরা 

অারতিতে ভাসে হৃদ মৃদঙ্গ। 


ষষ্ঠী বুঝিনা; বুঝিনা দশমী 

যেতে নাহি দেবো কস্মিনকালে, 

পান করায়ে অাজি প্রেমেরো সুধা

পোড়াবো তোমায় হৃদ চিতানলে।


সজিব আল হাসান এর ছোট প্রবন্ধ


ছোট প্রবন্ধ 



বাস্তব জীবনে আমরা এমন কিছু কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়ে যাই যেটার জন্য আমরা কখনই প্রস্তুত থাকিনা। আমাদের জীবনে যদি খারাপ সময়টা না আসতো আমরা হয়তো জীবনের আসল মানেটা বুঝতে পারতাম না।


খারাপ সময়টা এসে বুঝিয়ে দেয়, আমি আসলে যেভাবে চলতেছি, এভাবে জীবন চলেনা। খারাপ সময়টা না আসলে হয়তো জানা হতোনা বাস্তবতা এত বেশি কঠিন। খারাপ সময়টা না আসলে হয়তো আমি আমার ভুলগুলো কখনোই বুঝতে পারতাম না, আমার এক জীবন কেটে যেত ভুলে ভুলে।


তবে প্রত্যেকটা মানুষের জীবনে এমন কিছু ভয়ঙ্কর যন্ত্রনাদায়ক মূহুর্ত আসে যা সে কখনোই চিন্তা করেনি। খারাপ সময় আসা দরকার, তবে কিছু কিছু পরিস্থিতি আমাদের জীবনে ঘটে যায়। যেগুলো আমরা কখনো কল্পনাও করিনি তবুও এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়।


সেই পরিস্থিতি থেকে মাথা নিচু করে চলে আসা ছাড়া আর কিছুই থাকে না। সে কঠিন সময়ে আমরা কথা বলার মত সুযোগ পাইনা, আমাদের কথা বলার শক্তি হারিয়ে যায়।



শিবনাথ মণ্ডল




মাটির খুকুই খাঁটি



খুকুর এখন প্রাপ্ত বয়স হয়েছে

দেবো তার বিয়ে

মাসি পিসি এলো সবাই

ফুলের মালা নিয়ে।

আমার খুকুর বিয়ে হবে

রাজার ছেলের সাথে

তাইতো আজ খুশির দিন

বিয়ে হবে রাতে। 

সন্ধ‍্যাবেলা খবর এলো

রাজা পাঠাবেন না বর

পণ নাদিলে বিয়ে হবেনা

পাঠালেন এই খবর।

খবর শুনে মেয়ের বাড়ি

কান্নার উঠলো স্বর

খুকুবলে নাইবা এলো

রাজ পুত্তর বর।

বিয়ে আমি করব না

দিয়ে টাকার পণ

রাজভোগ চাইনা আমি

চাইনা রাজ‍্যধন।

চাষির ঘরের বউহয়ে

সুখে করবো ঘর

সবাই  আমার আপন হবে

থাকবেনা কেউ পর।

খুকুমণির কথা শুনে

সবাই হলেন অবাক

রাজার ছেলের বিয়ে হলোনা

কী দেবেন তার জবাব?।। 

০৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর লেখা ''সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (২য় পর্ব)


সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা  য় পর্ব )


এত‌দিন পর 'রবীন্দ্র বল‌য়ের ভী‌তি' থে‌কে ‌কিছুটা বে‌রি‌য়ে এ‌সে সাহস ক‌রে টুকটাক দু'এক চরণ লেখার দুঃসাহ‌সিক প্রচেষ্টা জারী রে‌খে‌ছি মাত্র! ত‌বে ম‌নে‌র গভী‌রতম স্হান থে‌কে একেবা‌রে যে সেই বলয় মুক্ত হ‌'তে পে‌রে‌ছি বা 'বলয়ভী‌তি' এখনও কাজ ক‌র‌ছে না সেটা বু‌কে হাত দি‌য়ে সাহস ক‌'রে বল‌ার সাহস কিংবা হলফ ক‌রে আস্হার সা‌থে জোর গলায় এখনও বলার সময় বু‌ঝি আ‌সে‌নি এ কার‌ণে যে, আবার কখন না 'রবীন্দ্র বল‌য়ের জা‌লে' অকস্মাৎ ‌নি‌জের অজা‌ন্তেই ‌নি‌জেই জালবন্দী হ‌'য়ে প‌ড়ি।


              যা‌হোক, যে কথা বল‌তে বল‌তে প্রসঙ্গ থে‌কে ক্ষণি‌কের জন্য একটু স‌'রে গি‌য়ে‌ছিলাম সেখা‌নেই ফেরত আ‌সি। অতঃপর আমার সহধ‌র্মিণী একটু হে‌সে ‌হে‌সে ব‌ল‌লেন, "শোন! এগু‌লোর ম‌ধ্যে অ‌নেক গুজা‌মিল আ‌ছে, এ নাটক, গান কিংবা অ‌নেক লেখাই আজকাল ক‌পি বা ডু‌প্লি‌কেট হ‌চ্ছে"। তখন তাঁর এ যু‌ক্তি খন্ড‌নের অ‌ভিপ্রা‌য়ে আ‌মি তা‌কে বললাম যে, দে‌খো পৃ‌থিবী‌তে বর্তমা‌নে প্রায় সাতশ' কো‌টি মানুষ আছে এবং তা‌দের প্র‌ত্যে‌কের জীব‌নে কমপ‌ক্ষে এক‌টি ক‌'রে হ‌লেও গল্প আ‌ছে। 


              সুতরাং, কেউ আজীবন লিখ‌তে থাক‌লেও ‌নিশ্চয়ই সাতশ' কো‌টি লেখা তার সারাজীবন ধ‌রে লি‌খ‌লেও তা শেষ ক'র‌তে পার‌বেনা। আর তু‌মিই ব‌লো কোন‌দিন কি কেউ এই পাহাড় সমান লেখার প‌রিসমাপ্তি ঘটা‌তে পার‌বে, আর বাস্ত‌বে কি সেটা সম্ভব? অতঃপর তিনি নি‌জেনি‌জেই অত্যন্ত সুচতুরতার সা‌থে তাঁর আ‌দি বিষয়বস্তু থে‌কে যেন অ‌তি বু‌দ্ধিমত্তার প্রম‌াণ রে‌খে অত্যন্ত সং‌গোপ‌নে একেবা‌রে চু‌পিসা‌রে ধী‌রে ধী‌রে ‌নি‌জে‌কে স‌রি‌য়ে নি‌লেন। হয়তবা জ্ঞানী ও য‌থেষ্ট বু‌দ্ধিমতী ভদ্র ম‌হিলারা বু‌ঝি এরূপ একই কৌশল অনুসরণ ক‌'রে থা‌কেন।


              ইদা‌নিং যু‌ক্তিত‌র্কে হে‌রে যে‌য়ে আমার সহধ‌র্মিণী আমা‌কে আর কিছু বলার সাহস ক‌রেন না ঠিকই কিন্তু তি‌নি যা‌তে আগামী‌তে এধর‌ণের  কিংবা নত‌ুন একই মা‌নের আর কোন প্রসঙ্গ টে‌নে তাঁর জীবন সঙ্গীর সম্মু‌খে না তুলে আন‌তে পা‌রেন সে বিষ‌য়ে আ‌মি য‌থেষ্ট সজাগ আ‌ছি ও তার ‌রে‌ডি‌মেট উত্তরও মজুদ ক‌'রে রে‌খে‌ছি যে‌নো ঝ‌টিকা গ‌তি‌তে তা ছুঁড়ে দি‌য়ে এই ধর‌ণের যু‌ক্তি‌কে সা‌থে সা‌থে খন্ডন ক‌'রে তাৎক্ষ‌ণিকভা‌বে তা‌কে নিষ্ক্রিয় কর‌তে পা‌রি। 


              এমন কিছু‌ কিছ‌ু ঘটনা মানু‌ষের জীব‌নে ঘ‌টে থা‌কে যা কা‌রো সা‌থে এমন‌কি নি‌জের জীবনসঙ্গীর সা‌থেও আজীবন মানুষ শেয়ার করেনা এবং এধর‌ণের অতীব ব্য‌ক্তিগত বিষয়গু‌লি বু‌ঝি মানুষ আজীবন নি‌জেই নি‌জের অন্ত‌রে ব‌য়ে বেড়ায় এবং অব‌শে‌ষে তা বু‌ঝি তার চিরসাথী হ‌য়ে মুত‌্যুর প‌রে এক‌ত্রে পরলো‌কে গমন ক‌রে।






ধারাবাহিক ২য়  কিস্তি


মোঃ সামশের আলী



এভাবেই বেশ আছি


সময় কাটাতে হয়না, কেটে যায়

ধীরে ধীরে পাথরের মূর্তিসম আমি

নিঃসঙ্গতায় হেটে চলি, ঘুরে বেড়াই

গোধূলির রাঙা আলো সামনে রেখে

নিঃশব্দে জানলায় ভর করি

স্মৃতির গুড়ো গুড়ো গল্প আর

যৌবনের স্মৃতি এই সময় বড়ো 

কাছাকাছি আসে

এখন সময় কাটে অলস 

শীত দুপুরের মতো, 

চোখ বুঝে চোখের পাতায় অতীত টেনে, 

আলস্যের ঘুম ঘুম ঘোর-এ

এভাবেই সময় কাটটে কাটতে

পরতে-পরতে জমে বার্ধক্যের ধূলো

আকাঙ্খারা উঁকি -ঝুঁকি মারে

জানালার ওপার থেকে 

ঝরা পাতার লুটোপুটি খায়

এই ক্ষয়ে যাওয়া জীবন

এটাও এক রকম সুখ, 

একরকম আস্বাদন বয়ে আনে

এভাবেই বেশ আছি 

সময় কাটাতে হয় না, কেটে যায়।


মহুয়া চক্রবর্তী

চেনা বৃষ্টি

আমাদের কথা ছিল এই বৃষ্টিতে ভিজে
নিজেদের ছোটবেলায় ফিরে যাবার
তোমার কি মনে পড়ে--
এমন দিনেই আমরা কথা দিয়েছিলাম একে অপরকে শহর ঘুরে দেখার।
বাইরে বইছে আজি ঝড়ো হাওয়া
তোমার কি মনে পড়ে
আমরা কথা দিয়েছিলাম
আমরা নিজেদের জীবনের সব ছোট-বড়
ভুল বোঝাবুঝি ভুলে বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটয়
আবার নিজেদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবো সেই পুরোনো দিনে। 
আর বন্ধ করে দেবো জানলাগুলো
যাতে ঝোড়ো হাওয়া আর তছনছ করতে না পারে।
তারপর বৃষ্টির দুপুরে
তুমি আমি পাশাপাশি বসে তোমার আঙুলে আঙুল পেঁচিয়ে নানা রঙের স্বপ্ন বুনবো।
যদি আবার কোনদিন ও এমন কোন দিনে দেখা হয়
থমকে যেও না সেদিন 

আকাশ তাহলে আর বৃষ্টি ধরে রাখতে পারবে না।

০৭ সেপ্টেম্বর ২০২১

দীপক কুমার মণ্ডল





কৃষক বিদ্রোহ



আমার দেশের রুক্ষ মাটি
যাদের শ্রমে বশ মানে,
তাদের কি কেউ রুখতে পারে
লাঠি, গুলি, জলকামানে!

পিষ্ট যে রোজ শ্রমিক কৃষক
শোষণ রথের চাকার তলায়,
মরণ জয়ের কঠিন পণে
প্রতিরোধের আগুন জ্বালায়।

এ বিদ্রোহ নতুন জাতের
জাতশত্তুর মালিক, দেশি;
কৃষক জানে হাঁড়ির খবর
ফকির সাজা ছদ্মবেশী!

আমরা সবাই চাষির সাথে
তাদের কাছেই সবার ঋণ,
পুঁজিপতির চৌকিদারের
ঘনিয়ে এল শেষের দিন।

যাদের শ্রমে ফসল ফলে
খাবার ওঠে সবার পাতে,
তারাই দেশের আসল মালিক
রাজধানী থাক তাদের হাতে।

যারা কৃষক, ফসল ফলায়,
পড়েই থাকে গাঁয়ের কোণে,
আজকে তারাই রাজধানীতে
নতুন দেশের স্বপ্ন বোনে।


 

মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর লেখা ''সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (১ম পর্ব)



সহধ‌র্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা     (  ম পর্ব  )


              এখনঅ‌ব্দি ‌ঠিক কোন বিষ‌য়ে দু‌টো চরণ লিখ‌বো তা ম‌স্তি‌কের খ‌ু‌লি‌তে ঢু‌কে‌নি। ইদা‌নিং আমার বিরামহীন লেখা দে‌খে স্বয়ং আমার সহধ‌র্মিণী সতর্কতা সং‌কেত দি‌য়ে প্রায় প্র‌তি‌দিনই ব‌লেন "যখন সব লেখা ‌শেষ হ‌য়ে যা‌বে তখন কি লিখ‌বে"? অর্থাৎ, তি‌নি বোধ হয় এটাই বু‌ঝা‌তে চান যে, যখন আমার ঘ‌টের কপ্পুর বা স্ট‌কের সব সম্পদ শেষ হ‌য়ে যাবে তখন আ‌মি কি লিখ‌বো এই আর‌কি! 


              তাৎক্ষ‌ণিক তো একটা উত্তর দি‌তেই হয় তাই তখনই নি‌জের উপ‌স্হিত বু‌দ্ধি‌কে কা‌জে লা‌গি‌য়ে কিছু একটা তা‌ঁকে মনগড়া ব‌লে ফেললাম, তুমি তো তোমার প্র‌শ্নেই অকপ‌টে সমাধানটা নি‌জেই দি‌য়ে দি‌লে এবং আমার হ‌য়ে উত্তরটা ব‌লেই তো দি‌লে যে, যখন আমার সব লেখা শেষ হ‌য়ে যাবে তখন আ‌মি কি লিখ‌বো। সহধ‌র্মিণীকে একটু হালকা ঠাট্টা ক‌রে বললাম, একজন ভদ্র ম‌হিলা নি‌জেই প্রশ্ন ক‌রে আবার নি‌জেই সা‌থে সা‌থে উত্তর‌টিও ব‌লে দেয়, বাহ তু‌মি মজার মান‌ুষ‌তো দেখ‌ছি! 


              সহধ‌র্মিণী বল‌লেন "তার মা‌নে কি? ত‌ু‌মি এই কথার মাধ‌্যমে আবার কি বুঝা‌তে চাচ্ছ? আ‌মি বললাম সব যখন লেখা হ‌য়েই যা‌বে তখন‌তো আর কিছুই যে‌হেতু বাকী থাক‌বেনা সুতরাং, তখন‌তো বাস্ত‌বে আর সত্যি স‌ত্যিই কিছুই লেখারও থাক‌বেনা। তু‌মি‌তো বু‌ঝি হক কথাটাই অকপ‌টে ব‌লে ফে‌লে‌ছো। সহধ‌র্মিণী এবার একটু রে‌গেসেগেই বল‌লেন "যে মানুষ জে‌গে‌ জে‌গে আস‌লে ঘুমা‌নোর চেষ্টা ক‌রে আর যে বু‌ঝেও না ব‌ুঝার ভান ক‌রে তা‌কে আস‌লে কেউ কখনই বুঝা‌তে পার‌বেনা"। 


              অবস্হা বেগ‌তিক দে‌খে আ‌মি তা‌ঁকে বললাম, দে‌খো আমারও এক‌দিন তোমার মত এরকম ধারণা ছিল যে, বিশ্বক‌বি, ক‌বি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কিংবা জাতীয়/বি‌দ্রোহী ক‌বি কাজী নজরুল ইসলাম এই জগৎ বিখ্যাত ক‌বিদ্বয় তো বহু পূ‌র্বেই সব কিছু লিখেই ফে‌লে‌ছেন তাহ‌লে আর বু‌ঝি কিছুই লেখার অব‌শিষ্ট নেই, তারপ‌রেও ‌তো ‌দে‌খি আবার নিত্য-নতুন আধু‌নিক ধারায় ‌বি‌ভিন্ন বিষ‌য়ের উপর ভা‌লো ভা‌লো লেখা, সি‌নেমা, গান ও নাটক প্র‌তি‌নিয়ত র‌চিত হ‌চ্ছে সেগু‌লো কি তোমার চে‌া‌খে পড়‌ছে না? 


              দুঃখিত। একটা গোপন কথা এই ফাকে না ব'ল‌লে ‌পি‌ছে আবার ভু‌লে যাবার সমূহ সম্ভাবনা আ‌ছে। স‌ত্যি বল‌তে কি, ক্যা‌ডেট ক‌লে‌জে অধ্যায়নকা‌লে আমা‌র শ্র‌দ্ধেয় বাংলার প্রফেসর জনাব র‌ফিক নওশাদ যি‌নি একজন অত্যন্ত সুনামধন্য ক‌বি ও  খ্যা‌তিমান লেখকও ছি‌লেন, তি‌নি এক‌দিন ক্লাসে বিশ্বক‌বি প্রসং‌গে বল‌তে যে‌য়ে একবার 'রবীন্দ্র বল‌য়ের' কথা ব‌লে এমন একটা ভয় ধ‌রি‌য়েছি‌লেন আর যায় কোথায়? তারপর থে‌কেই সে‌ই যে ডান হা‌তে ‌বে‌ড়ি পরালাম আর খোলা‌খে‌া‌লির যেন নামগন্ধ নেই।






ধারাবাহিক ম  কিস্তি


ফারজানা আফরোজ




প্রিয় নদী 


আমার প্রিয় নদী ঘিরে

জোয়ার ভাটার গল্প ছিল।

ভালোবাসার নদী নিয়ে

ভাঙা গড়ার কাব্য ছিল।

আঁকাবাঁকা নদীর বাঁকে

স্বপ্ন সেথায় বোনা ছিল।

তরী যেথা বাঁধা থাকে

সময় যেন থমকে ছিল।

দুই নদীর মোহনায়

রং তুলির ছোঁয়া ছিল।

সেই নদীর জলের ধারায়

আমার চোখের আয়না ছিল।

নদীর উপর ভাসা মেঘে

না বলা সব কথা ছিল।

রাতের বেলা নদীর ছায়ায়

চাঁদের আলোর হাসি ছিল।

পাল তোলা নৌকা মাঝে

চঞ্চলা এক মন ছিল।

নদী তীরে সাঁঝ বেলায়

কাশফুলের দোলা ছিল।

নদীর সেই মাঝির গানে

বিরহের সুর ছিল।

হঠাৎ ওঠা নদীর ঝড়ে

এগিয়ে যাওয়ার সাহস ছিল।

বয়ে যাওয়া এই নদীতে

রংধনুর রং ছিল।

সিরাজুম মুনিরা ময়ূখ




আগুন-ফাগুন


বুকের ভেতর 

      ফাগুন ফাগুন ঘ্রাণ, 

দেখছি কারোর 

      আগুন আগুন  চোখ।

পুড়ছে পুড়ুক হৃদয়, 

      জ্বলুক এমন রোজ!

আগুন ঝরা ফাগুন বুকে 

      পাবে আমার খোঁজ! 

এই যে আমি আসছি ফিরে

       যেমন পাখি ফেরে নীড়ে!

আসা-যাওয়ার কারণ তুমি

       গাইছি যে গান চরণ চুমি

নিজের কাছে নিজেই আমি

        হচ্ছি যে সহজ!

আমার মাঝেই তুমিও ভীষণ 

         হারাচ্ছো যে রোজ!

রেবিন চৌধুরী




উপলব্ধি


দুনিয়ার দস্তারখানায় মানুষের শ্রেষ্ঠত্ব 

প্রযুক্তির জমিনে কেউকেউ পাগলা অশ্বারোহীর মতো,

চারিদিকে আগ্রাসি দৃষ্টির নগ্নতা

শ্রেষ্ঠত্বের বড়ই আকাল পড়েছে সর্বত্র।

সমাজপতির পকেটে আইনের বাক্স

মুহূর্তে বদলায় নিয়মের বোল,মৃত্যুর দলিলে চোখ বুলানোর সময় কই,

বিবেকের হাড়িতে হালুয়া রুটির ঝুল।

আশার বাতিঘরে আপামরের দীর্ঘশ্বাস আর ভালো লাগেনা,

আত্মার নদীতে সাঁতরে উপায় খোঁজেখোঁজে,বারবার ক্লান্ত হই।

ঝিনুকের বুকচিরে মুক্তার প্রাচীর গড়ার প্রতিযোগীতা বেড়ে চলেছে, 

কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা এসব। 

জননীর বিশ্বাস ভঙ্গ করে মীরজাফরেরা উল্লাসে মাতে,

চেতনার কেতন উড়ে দিগন্তে,ভাবতে ভাবতে ফের ডুব দেই

ভেসে উঠি একদম খালি হাতে।

বেদনার সুর সম্রাজ্ঞির পায়ের মল হয়ে কানে বাজে

স্বপ্ন দেখার অধিকার যেন তাদেই পাওনা, 

সীমাহিন সুখের জোয়ারে কানামাছি খেলার ধুম

মনুষ্যত্বের বিকাশ ঘটাতে ঈশ্বরেরও টনক নড়ছেনা। 


ভালোবাসাবাসির ছাইপাশের দগ্ধচুলায় আর ধর্ষণের দাবানলে 

অর্ধনির্মিত ভ্রুণের বিগলিত শরীরের রস পোকামাকড়ের খাবার, 

কোনকালেই পূর্ণবিকাশ ঘটেনি মানুষের মানবতার।

জাগাতে হবেই মানুষের মনুষ্যত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ হয় মগজ।

অতঃপর,উপলব্ধি হলো ভালোবাসাই হবে মোক্ষম 

মানুষ নিজেকে ভালোবাসলেই থেমে যাবে সমস্ত অনিয়ম। 

প্রকৃতপক্ষে মানুষ নিজেকে ভালোবাসেনা বলেই

শোধ,ঘুষকে নিশ্চিন্তে হালাল বানিয়ে নিয়ে

সমাজকে অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়ে

নিজেকে জাহান্নামের দিকে ধাবিত করছে।

আত্মমসম্মান একান্তই ব্যক্তির অমুল্য সম্পদ,

মানুষ ক্ষমতার অপব্যবহারে সম্মান নষ্ট করে নির্দ্বিধায়, 

ক্ষমতাশীনদের ছত্রছায়াকেই নিজের জন্য ভাবে  নিরাপদ।

মানুষ সবাইকে নিয়ে বাঁচার জন্য অপরাধী হয় কিন্তু

নিষ্ঠুর সত্য হলো একসাথে বাঁচতে পারলেও মরতে হয় একাই

কবর ও হাসরের বয়াবহতা জেনেও নিজে পাপ করে পাপী হয়, 

তার কারণ মানুষ নিজেকে ভালোবাসেনা।

পরকালীন সুখ অথবা দুঃখের রূপ নিয়ে

কবরের সঙ্গী হয়ে আত্মার সাথী হয়  একমাত্র আমলই, 

মৃত্যুর স্মরণে বিবেক জাগ্রত হলে মানব জীবনে

গতি ফিরে আসবে শুধু নিজেকে ভালোবাসলেই।

তাহসান কামরুজ্জামান



ছুঁয়া 


আমাদের গল্পের পাতায় কোনো বাস্তবতার ছুঁয়া নেই। 

তবে কয়েকশ শতাব্দীর অফুরান অনুভবে গল্পের পাতা এলোপাতাড়ি ভাবে বৃষ্টির ছুঁয়া লেগে রয়েছে। 

তুমুল বৃষ্টি ঝরে পড়া দেখলেই মনের আকাশে কংক্রিটের শহরগুলোর কথা খুব করে মনে পড়ে। 


বৃষ্টির ছুঁয়াই নির্জীবও নিষ্ক্রিয় পথঘাট গুলো সজীব রূপ ধারণ করে। 

গাছপালা ভারি বৃষ্টি বর্ষণে নতুন প্রাণ পেয়ে যায় "

সেখানেই সীমাবদ্ধ রিক্সার পেছনের হুডের ছাওনি তুলে" প্রথম ইশায় অনুভূতি প্রকাশের ব্যাপারগুলো বড্ড গাঢ় সম্পর্কের প্রকাশ ছিলো। 


আধোআধো বৃষ্টির ছুঁয়াই ভেঁজা ভেঁজা ভাব "

সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকা স্মৃতি " কি অদ্ভুত গল্পেই হারিয়ে গিয়েছে বাস্তবতার জীবনচিত্র। 

একদিন ঠিক সময়ে মুনাফার বৃত্তিগুলো স্বপ্নের বাগিচায় রূপ দিবো।