প্রেমে পড়া বারণ
মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
২৪ মার্চ ২০২১
গোলাম কবির
প্রেমাংশু শ্রাবণ
চৈত্রের শেষ বেলা
দেবব্রত সরকার
বসন্তপলাশ
দেখ দেখি চোখ উঠিয়ে লজ্জা ভেঙে অমি প্রিয়া
রঙের খেলায় হৃদয় পুড়ায় এ কেমন তর হিয়া
জানো তুমি কি যে কখন আমার উলটো পালটা দাবি
প্রেমে পড়ে দিয়ে ছিলাম তোমায় হৃদয় পাড়ের চাবি
এই পরে আর ওই পরে সব বসন্তকাল এলেই
পাতার মতন তোমার প্রেমের আগুন জ্বালায় সেই
তোমার প্রেমের প্রশ্ন উত্তর হারিয়ে যাবার আগে
চোখ নদী কে জানতে চাইলেই তোমারই অনুরাগে
হারিয়ে যাওয়া ঝরাপাতা আবার উঠুক বেঁচে
বুকের ভেতর ভাঙছে পাথর একা ভালোবেসে
সাজিয়ে দিলাম মানিয়ে নিলাম পলাশ তিয়াস জুঁই
তোমার বুকে মাথা রেখে হাজার বাছর শুই
এই তো ছোট্ট স্বপ্ন আমার আর কি চেয়ে ছিলাম
মাথার মধ্যে যা কিছু সব হৃদয় দিয়ে দিলাম
তবুও আমায় ভাসিয়ে একলা কোথায় যে যাও রানি
দেখ চেয়ে সেই তোমার জন্য একা দাঁড়িয়ে আছি আমি
অথচ আজও গভীর ভাবের তুমিই অমর নারী
তোমার ভেতর দেখেতে পেতাম আমার বেঁচে থাকার বাড়ি
এখন তুমি অবাক প্রিয়া হারিয়ে গেলে কই
তাই তো লিখি তোমার কথা বেঁচে থাকার সই
এই গল্পের শেষ হবে না শেষ হবে না প্রেম
এ কবিতা পড়ছো যারাই জেনে যাও তার শেষ
আমি যাকে ডেকে ছিলেম আমার সর্বনাশে
বেশ কিছু দিন কাটিয়ে পালায় এই বসন্ত পলাশে
তহিদুল ইসলাম
দারিদ্র
ঘরে সন্ধ্যা দেয়ার তেল নেই
দিনে প্রদীপ জ্বেলে আগুন পোহায়
একটা অভাব মিটলে,আরেকটা এসে পড়ে
বিয়ের পরে সুখ নাই
ঈশান কোণে মেঘ নিকষ কালো
চোখাঁধারি অন্ধকার,আসন্ন ঝড়ো হাওয়ায়
কটা মুদ্রা পর্ণের সাথে উড়ে এলো
কুঁড়ে ঘরের দেউড়িতে
আমি বেমুখ হয়ে দাঁড়িয়ে রইনু
স্নেহের একমাত্র মেয়ে , চোখের জলে
মহাজনের গাড়িতে গিয়ে উঠলো।
তারপর,মেঘ ডেকে বৃষ্টি নামলো।
ঘরদোর খাঁ,খাঁ করছে
ক'টা টাকা দিয়ে ক'টা দিনই বা চললো
ক'দিন হলো উনুনে হাঁড়ি চড়েনি
টাকা! বেচে দেবো ,সব বেচে দেবো
বৌ'য়ের হাটে বৌয়ের নিলাম
তোমরা,কে কত দিবে তার দাম?
পাড়ায় পাড়ায় কানাকানি
বাতাস এসে বলে গেল
শ্রাবণের জলেও মাটি শুকনো
ভিজার কোনো লক্ষন নাই
চোতের আগুনে পুড়ে অঙ্গার কালো
ভালোবাসা বেচে দেবো
বেচে দেবো জ্বলন্ত পৃথিবীটাকে
সুখের সন্ধানে,
হাজার বছর পথ হাঁটবো
আরেকটা পৃথিবীর সন্ধানে
________________________
স্বপন কুমার ধর
সরে যাক ভয়
অজানা,অচেনা,অলীক
এই তিনেতেই যে রয়,
না-জানা, না-চেনা, কল্পিত,
সব ধরনের ভয়।
বিশেষ বিষয়ে অধিক চিন্তা,
দেহে আনে মানসিক অবসন্নতা,
ঘিরে ধরে হানির আশঙ্কা,
হয়ে পড়ি ভীত, সন্ত্রস্তা।
প্রাণী ভীত হয়ে পড়লে,
বাঁচার আশা যে, তার যায় চলে,
অন্ধকারের অক্টোপাস ঘিরে ধরে,
নীরব আর্তনাদে গুমরে মরে।
ভয়কে অবশ্যই করতে পরাজয়,
মানসিকভাবে সবল হতে হয়,
অশিক্ষা, কুসংস্কার,বহু প্রচৃলিত ধারণা নয়,
চাই যুক্তি,তর্ক বিশ্লেষণে;পর্যবেক্ষন ও সিদ্ধান্তগ্ৰহণ।
অজানাকে জানো, অচেনাকে চেনো,
অলীকের খোঁজো যথার্থতা,
বিজ্ঞানভিত্তিক প্রমানিত তথ্যেই,
ভয় সরবে,বাঁচবে বাস্তবতা।
ফরমান সেখ
শিশু
শিশু মোদের ফুলের মতো
কিংবা দূর্বাঘাস,
যেমন তুমি গড়বে তাকে
ছড়াবে সে সুবাস|
প্রকৃতি যার চলন দাতা
মাতা-পিতা আশ্রয়|
অসৎ পথে ডেকোনা তার
দিয়োনা সে প্রশ্রয়!
ভালোবাসায় কাছে টানো
দিয়ে দুটি চুম্বন,
দেখবে তারাই জীবন দেবে
রাখতে তোমার সন্মান।
তাকে নিয়ে করো যদি
বড়ো কোনো আশা,
দিয়ো তারে মনের থেকে
স্নেহ-ভালোবাসা।
অলোক দাস
নন্দন
সকালটা অন্য দিনের মতো নয় আজ I বাতাসে শুধু শব্দ চয়ন I কি কোরে বাতাস বয়, কে জানে I আমরা শুধু ছন্দের পূজারী I মেঘ আজ নীলাকাশ ডেকেছে I বাঁ চোখ যেদিকে চায়, সেথা কোকিল ডাক সোনা যায় I বিস্মৃতির অন্তরালে চলে যায় মোন I যেখানে শুধুই আনন্দ I ডানদিকে যেই তাকাই সব ধোঁয়া I সূর্য আলো দিচ্ছে অনন্তকাল I যা দেখি ভবিষৎ তা অজানা I বর্তমান যেন বালির স্রোত I আমি ও আমার মোন অস্থির I তবুও দেখি পলাশ I ইচ্ছে ডানা মেলে উড়ে যায় মোন I যেখানে পলাশ অনাবিল আনন্দে মাতোয়ারা, সে আমার শান্তিনিকেতন I তাই ভাবি ভালোবাসা ভালো নেই I হাসতে ভুলে গেছে মোন I তাই বসাই কবিতার আসর মাঝে মাঝে I
২১ মার্চ ২০২১
সৌমিত বসু
মায়া বৌ - ৭১
বন জঙ্গলের ভেতর পড়ে রইলো আমাদের বাড়ি
গৃহপ্রবেশ হয়ে উঠলোনা আর
অনেক যত্নে পাতা দিয়ে তৈরি করা ঘর
ওপরে গোলপাতার ছাউনি
যার ফাঁক দিয়ে চাঁদ এসে
দুটো শরীরে ঘটিয়ে দিতো দেহপ্রবেশ
মাঝরাতে অলৌকিক জ্যোৎস্নায়
সমুদ্রের তীর ধরে ছুটে চলা,
কাঁধের ওপর মেয়ে
তারপর ধীর পায়ে
নেমে যাওয়া সমুদ্রের ভেতর।
প্রতি পূর্ণিমায় সমুদ্র যখন
ফুঁসে ওঠে উন্মাদের মতো
ঝাউজঙ্গলের ভেতরকার বাড়ি
অনবরত ডেকে চলে আমাদের
আর দু-ডানা ছড়িয়ে
পাড়ে পাড়ে কেঁদে চলে গৃহপ্রবেশ।
ছবি ধর
ফাল্গুনী
বসন্ত রাগিণী বাজে মন্দ মন্দ সুরে
রাখালের বাঁশি ওই বেজে ওঠে দূরে।
ফুল হারে সজ্জিত
নানা রঙে রঞ্জিত
আগুন ফাগুন গুলাল বাতাসে ওড়ে।
অর্কদীপ সরকার
আদর
শীতের আদর, গরম চাদর
কাঁচা ঘুম, ভাঙা চোখ ।
বুক ছোঁয়ানো, নরম ঠোঁটে
আদরের জয় হোক ।।
বোতাম ভাঙা, সাদা জামা
লিপস্টিকে হল লাল ।
ব্যস্ত অফিস, গরম টিফিনে
আদুরে সাতসকাল ।।
রোদে পিঠ পাতা, ছুটির দিন
অগোছালো শাড়ী, সেফটিপিন।
ঘুরতে যাওয়া, কফির ভাঁড়
আদুরে হাঁটা, রাস্তা পার ।।
মাথায় বালিশ, হাজার নালিশ
খুনসুটি মাখা, কান ফিসফিস ।
কপালে চুমু, ঘুমে মাখা চোখ
আদরের জয় হোক।।
ওয়াহিদা খাতুন
সনেটসনেট রজনী-সুখ
প্রকৃতির ঘুমচোখে রজনী নিঃঝুম;
শীতের কাঁথা মুড়ে বিশ্ব ঘুমাচ্ছে শুয়ে--
জ্যোতিস্ক-জ্যোৎস্নায় তন্দ্রাপুরী যায় ছুঁয়ে--
মহাকাশ-তলী শহরে নেমেছে ঘুম;
মরণকাঠিতে তন্দ্রাচ্ছন্ন জীবকুল--
নিশিস্বপ্নে ভেসে সুখমগ্নে করে খেলা;
তন্নি নদীর তীরে কাটে কামনার বেলা;
দংশিত কীটের দহনে স্খলিত ফুল--!
নিদ্রাসুখে শ্রান্ত শরীর রজনী কোলে ;
নিশুতি চাদরে প্রণয়ের শয্যা মেখে--
মধুচন্দ্রিমা বিরহ কাব্যকথা লেখে--
নক্ষত্র-আসরে রতিশাস্ত্র পৃষ্ঠা খোলে;
অভিসার-অভিধানে শুধু প্রিয়-মুখ--!
ব্যথিত চিত্তে চলে যায় রজনী সুখ--!।
রচনাকালঃ-১২টা ১৬ মিনিট (সনেট নম্বর ৯৬)
মমতা রায়চৌধুরী
চিরসাথী কবিতা
কবিতা তুমি আমার,
ভালবাসার ভাললাগার,
মনের চাবি কাঠি।
দুঃখ যন্ত্রণা অবসানে
এক পশলা বৃষ্টি।
আবার দগ্ধ মনে
হারিয়ে যাওয়া বসন্তে,
ফিরে আসো মনে
হাজারো রঙে প্রতিচ্ছবি।
কবিতা তাই তুমি আমার,
ভালোবাসার গহন মনের
চোরা কুঠুরির চিরসাথী।
স্বপন কুমার ধর
মনের মানুষ
মনের মানুষ পেয়েও যদি,
হারাতে হয় তাকে,
ইচ্ছে সবই চাপা পড়ে যায়,
নীরবে বুকের মাঝে।
হয়তো কারো দোষ ছিলনা,
তবুও হারাতে হয়েছে,
ছিন্ন হয়েও জীবন দুটিই,
মিশেছে বাস্তবতে।
অতীত এখন স্মৃতির পাতায়,
স্থান করেছে নিয়ে,
ফেরানো তাকে যায়না যে আর,
বহুমূল্য দিয়ে ।
বাধ্য হয়েই মেনে চলেছি,
বিধাতার এই লিখন,
হয়তো এভাবেই শেষ হবে একদিন,
বর্তমানের জীবন।












