০৫ মার্চ ২০২১

মো.শফিকুল ইসলাম শফিক




জাগো বঙ্গবাসী



কৃশানু হস্তে দাঁড়াও ঘুরে ঠেকাতে ব্যাবিচার,

মুখ-বুজিয়া সইবে কতো নির্মম অত্যাচার?

বিত্তশালীরা ঈশ্বর নয়ে পূজায় দেবে স্থান!

জাগো হে জাগো, হে বঙ্গবাসী ধরো অশুর কান।


আর ক'' দিন মুক্তশালায় বন্দির মত রবে!

আর ক'' দিন ইচ্ছাঅধীন অন্যের কথা কবে?

আর ক'' দিন দেখবে চুপ মিথ্যাচারীর জয়,

আর ক'' দিন দেখবে মিছে ন্যায়ের পরাজয়? 


আমার দেশে সাধুর বেশে শাসক কালো হাত

সোনালী দিন বিলীন করে হানছে ধ্বংস ঘাত!

সত্যেকে আজ মারছে ফাঁসে মিথ্যাচারী কাড়ায়,

নাই কি তবে বীরের সেনা বুক পেতে দাঁড়ায়?


নিগ্রহভয় করিনা আমি সত্যেকে ভাই বুঝি

আঁধারে মিশে আঁধারগ্রহে আলোরশিখা খুঁজি।

ডরিনা কারা অনলপাড়া চরণে যাই পিষে

আমিতো মরি প্রতি নিঃশ্বাসে ন্যায় হারানো বিষে।


মিথ্যার কাছে হবে না নত সত্যের উচ্চ শির

উদিবে ফেরে সত্যেসুরুজ

সর্বপ্রকার ঘির।

জানিনে কবে হতেও পারে এ'লেখা ইতিহাস,

আমিতো লিখে যাবো-ই যাবো 

ভ্রান্তের সর্বনাশ।

মোহাম্মদ সোহেল রানা




 বিষাক্ত প্রেম


আমি চাই না আর এই 

ছলনার বিষাক্ত প্রেম, 

যে প্রেমে চিত্তে জ্বেলে দেয় 

দহন!পুড়িয়ে পুড়িয়ে মারে 

আমার একাকিত্বের শহর।


প্রণয়ে যদি হবেই ক্লেশ তাহলে 

তো দিনে দিনে বাড়বেই র্লেশ!

প্রেম বিষাদ চিত্তে শহরের 

দাউ দাউ করে জ্বলে পুড়ে,

প্রেমে কেন লক্ষ্য মানব 

হয়ে যাচ্ছে তব ভবঘুরে।


ভালোবাসার বেদনায় যদি

 হয় চিত্ত ঘরে বিষাক্ত নীল,

তাহলে যে মেরে দিতে হবে 

হৃদয় ঘরে একটি শক্ত  খিল।


চিত্ত ঘরে ঢুকে যদি

 হয় বিষাদের ছড়াছড়ি 

হৃদয়টা অঙ্গার না করে 

একা একা থেকে সুখেই মরি।


মানুষ রূপে জন্ম নিলে এই পৃথিবীতে 

মৃত্যু তার নির্ধারিত এই ভবের দুনিয়াতে,

সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে আজ বা কাল

সবাইকে ছেড়ে যেতে যে হবে।


ভালোবেসে যদি কারো সাথে

 না হয় আত্মার সনে মিল,

দিন যাবে সন্দেহ হবে প্রবল চিত্তে

 উঠবে হাহাকার ছুড়ে দিবে বেদনার ঢিল;

কেন অযথা প্রেমের চিত্তে ঝরে 

পড়িস অসুখের অজস্র শিল।

ফিরোজ আহমেদ জুয়েল


 


মুক্তি


পরাধীনতার শিকলে বাঁধা,

বন্দি এ জীবন,

মুক্তি পেলেও রুদ্ধ হৃদয়,

আজি সময়ের ক্ষেপন।


স্বাধীন চেতনায় বাঁচার লড়ায়ে,

বদ্ধ এ স্পন্দন।

অটুট ব্যক্ততায় জলান্জলি আজি,

হৃদয়ে রক্তক্ষরণ।


ওরা চেয়েছিল নিতে এ প্রান,

রেখেছিল করে রুদ্ধ;

পারেনি তারা পারবেনা কভু,

চিত্তকে করে আবদ্ধ। 


বাঁচার জন্য ছিলো মিনতি,

শুনেছিল কঠোর উক্তি;

লান্হিত উপহার পেয়ে সমাহার,

অবশেষে মিলেছে মুক্তি।


ব্যস্ত শহরের চেনা মুখগুলি,

আজ বড় অচেনা;

নিস্প্রান দেহে হয়নি ফেরা আজোও,

আপন ঠিকানা।


সহসায় হবেনা মুক্তি যেখানে,

নিবেদিত সমর পণ;

তবুও পথ চলতে হবে,

প্রাণহীন এ জীবন।


ফেলা আসা স্মৃতির নিস্তেজ বাঁধন,

চিত্ত আহত করে;

দিতে হবে পথ বহুদুর পাড়ি,

দুঃস্মৃতিকে সঙ্গী করে।


জীবন চলার সঙ্গী যদি হয়,

নিত্যদিনের কদুক্তি;

অজানায় পথ পাড়ি দিয়ে হোক,

শেষ জীবনের মুক্তি।

০৪ মার্চ ২০২১

হুমায়ুন কবির সিকদার




 ইতিহাসের বাঁকে



চার বছর চলেগেলো কত দ্রুত 

কারণে অকারণে ছিল কত ছুতো।


কেউ অন‍্যকেও নিজের মত ভাবে

কূট চাল চালে, যা বলুক সবে।


শত অপমানেও নাই কোন লজ্জা 

অপমানই যেন নিত‍্য সাজ-সজ্জা।


শত অপমানেও যায় নাকো মান

তাদের মান আবার পাহাড় সমান।


ইতিহাসের পিছনেও থাকে ইতিহাস 

ভালো কাজ গিলেখায় কিছু পাতিহাস।


সময় চলে যায় স্মৃতি তব থাকে

রমনার স্মৃতি রবে ইতিহাসের বাঁকে।

সুলতানা চৌধুরী পারু ( ইংল্যান্ড )




আকাশকে বলি


সাদা রঙের পড়তে পড়তে খুজি 

সাতটি রংএর মাঝে লিখি তোমার নাম

করিডোরে বাধে বাসা , শত ছিদ্রে যার পদায়ণ

ভালোবাসি তোমাকে এভাবেই করি নয়নের অধ্যায়ন। 


আকাশকে ডেকে বলি শুনাতে চাই

তোমার মনের না বলা সারা কথা বুঝে নিতে চাই 

সমস্ত যন্ত্রণা গুলো বিধাতার সুখ দিয়ে মুছে ফেলতে চাই ..

গগনে গগনে তারায় তারে , আমার মনের মাধুরীতে ছড়িয়ে দিতে চাই। 


কুসুমের বুকে অনুভব রেখে , সাত রঙের উষ্ণতায় তুষারে আঁচল উড়াইয়া দিতে চাই 

ভালোবাসার রঙে ভালোবাসার চোরাবালিতে তোমাকে নিয়ে গল্পের সাধ নিতে চাই। 

আত্মার কোটায় হৃদয়ের হিস্যা নিয়ে মনের মনিকোঠায় শ্বাসে শ্বাস রেখে দিতে চাই। 


স্বপনের নিঃশ্বাসে বিশ্বাস রেখে 

বিশ্বাসে তোমার মিলে মিশে থাকা ফুলের প্ররাগ মাখিতে চাই ! 

আজ ভরসার ছবিগুলো দু’আখিতে আমি আমারই মত বুজে নিতে চাই।

আমির হোসেন বাবু




নিষিদ্ধ স্লোগান



ভালো থাকার মিছিলে, তুমি এক নিষিদ্ধ স্লোগান,

পৃথিবীর সমুখে তোমাকে উচ্চারণ করবার অধিকার নেই।

তোমাকে আমি আবৃত্তি করি অন্ধকারে, 

রাত্রি নামলেই-

পৃথিবীর সাথে গড়ে দিয়ে অবিচ্ছেদ্য দেয়াল,

আমি মেলে ধরি নিজেকে।

রাত্রি নামলেই, তুমি দাউদাউ জ্বলে ওঠো বুকের ভেতর,

ভালোবাসা!

তুমি আমার ব্যক্তিগত আগ্নেয়গিরি।

বাহাউদ্দিন সেখ




দান



হে মোর সকল সৃষ্টির বিধাতা করি সকল ক্ষুদ্ধা বাঁচিবার দান

কাঁদে দারিদ্র্যের দেখি যুদ্ধাস্ত্র মায়া অবিচ্ছিন্ন অবিরাম মোর আত্মা প্রাণ।

দানের দিক বিদিক ছোটে দারিদ্র্যের বিশৃঙ্খলার অজস্র

সকলের আত্মায় মহিমা গড়ে তুলো প্রভু দান ঈমানের অস্ত্র।

সকল দীন-দরিদ্র কষ্ট বেদনা দেখি হয় যে মোর আত্মা অচল অনুক্ত

হে মোর সকল সৃষ্টির বিধাতা করো সকলের আত্মায় দান অপর্ণ আত্মা মুক্ত।

অশিষ্ট দীন দরিদ্রের দুর্ভাগ্য উৎসবের নাহি রহে শান্তি অবসাদ

সকল দরিদ্র ক্ষুদ্ধা রেষারেষির অনাচারে লাগে মোর প্রহার প্রতিঘাত।

০৩ মার্চ ২০২১

মধুমিতা রায়


 


মন পথের গল্প...


যে সমস্ত কিছু আমার বলে জমিয়েছিলাম

আজ শমন এল সেসব কিছু আমার নয়।


অথচ কী গভীর বিশ্বাস ছিল!

বিশ্বাস ছিল সেই প্রিয় নামের বর্ণগুলো 

অন্তত আমার আছে।


অন্ধকার ভোরে উঠোনে নেমে দেখি

সমস্ত বর্ণগুলো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে

চারিদিক।


প্রয়োজন ফুরালে ব্যস্ততার শহর জাগে

আলো গুলো ছিঁড়ে খুঁড়ে ঝমঝম শব্দে

ব্রীজ কাঁপিয়ে পিষে দেয় পথের গল্প।


পথের ধুলো মেখে গাছ ভাবে

কেউ তো ফিরুক

কেউ তো কাছে বসুক দুদন্ড

বলুক... ছিলাম তো। তুমিই বুঝতে পার নি।



গোলাম কবির




পরিতাপের বিষয় 


এই পৃথিবীতে মানুষ ছাড়া অন্য সবাই উদার! নদীতে যখন বান ডাকে মুসলিম না হিন্দু এলাকা কোনো বাছবিচার করে না, 
অবলীলায় ভাসিয়ে নিয়ে যায় সব এলাকাই। 
বৃক্ষ যখন ছায়া দেয়,  
তখন সেও কোনো হিসাব রাখে না - 
তার ছায়াতলে হিন্দু না মুসলিম প্রাণ জুড়ালো কিংবা তার ফল কোন ধর্মের লোকে খাবে 
তা বোঝে না সে, সব এলাকার ফলের স্বাদ 
একই থাকে। 
বন্য হিংস্র পশু যখন কাউকে আক্রমণ করে, 
তখন কোন ধর্মের লোককে আক্রমণ করবে সেজন্য কোন পক্ষপাত করে না। 
ফুল যখন ফোটে, তখন তার সৌন্দর্যে ও সৌরভে ধর্ম নির্বিশেষে সবাই আকুল হয়। 
এমন তো শুনিনি কোথাও কখনো যে - 
হিন্দু এলাকার বেলি ফুলের ঘ্রাণ মুসলিম এলাকার বেলি ফুলের ঘ্রাণ হতে ভিন্ন কিছু! 
শুধু মানুষই বিভাজন করে মানুষকে ধর্মভেদে, কুলীনতা ভেদে, অথচ একজন মানুষ যখন 
জন্ম নেয়, তখন সে মানবশিশু হিসেবেই 
জন্ম নেয়! পরে সে হয় হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বা অন্য ধর্মের। 
পরিতাপের বিষয় এটাই, যে -
ভুলে যায় সে যে মানব ছিলো সে কথা, 
তার রক্ত বা অন্য কোথাও মানব ছাড়া 
অন্য কোনো ধর্মের অস্তিত্ব লিখা নেই, 
যার ধর্ম সে পালন করে বলে মনে করে - 
তাঁর অবস্থান এই হৃদয়ের মাঝেই, 
তাঁকে ভালবেসে তাঁর সৃষ্টির সবকিছুই 
ভালবাসতে হয়, নয়তো 
এই ভালবাসার মানে নেই কোনো !

শ্যামল রায়




আমি ঘর হতে চেয়েছি


আমি ঘর হতে চেয়েছি

খুঁজে নিতে চাইছি

 একদিকে সূর্য অন্যদিকে জোসনা রাত।

কিন্তু যৌবনে স্বপ্ন দেখাটা, একটু বাড়তি 

 ইছামতি নদীর মতো

কখনো বহতা

কখনো বালির চরা।

কোলাহলের কাছে উড়ে বেড়ায়

এক ঝাঁক প্রজাপতি

প্রিয় সন্ধ্যা নামলে সিঁদুর পরা নারী

নির্ভেজাল ভালোবাসাটা ভুলে যায়

পেরিয়ে যায় সকাল থেকে রাত

পালটায় হাত, ঠোঁট ,গোটা শরীর

আমি তোমার ঘর হতে চেয়েছি

আমি মেঘ হতে চাইনি

আমি প্রজাপতির ডানা হতে চাইনি

যৌবনের স্বপ্ন দেখায়

নির্ভেজাল কবিতা হয়ে ঘর খুঁজছি।

অলোক দাস




 শ্রদ্ধা 


 যে মানুষটা বললো, কাল আসছেন তো? চেষ্টা করবো I পরের দিন বাড়ি গিয়ে দেখলাম, রাজার বাড়ি থমথমে I কারো মুখে  কোনো কথা নেই I শান্তিনিকেতন থেকে সাদা পাঞ্জাবী এনেছিলাম I মহারাজ খুশি হবে বলে I মেয়েকে বললাম, এটা উনাকে পরিয়ে দেবেন I আর বলবেন, আমি এসেছিলাম I খালি বলতেন, তুমি হলে আমার অরিজিৎ I কাজের মধ্যে থাকবেন I বাঁচবেন তো একবার I সবার হৃদয়ে দাগ রেখে যান I ইতিহাস আপনাকে কোনোদিন ভুলবে না I সবায়ের জন্যে আপনার গান ও কবিতা I দুয়ারে দুয়ারে ছড়িয়ে যাবেই I

স্বপন কুমার ধর




কবি ও কবিতা



আমি অক্ষর আর তুমি মাত্রা,

আমাদের নিয়েই হয় শব্দ।

আমরা যদি মিলেমিশে না থাকি,

তবে সব কবিরাই হন জব্দ।


নিজস্ব কল্পনা আর বাস্তবের মিলন ঘটিয়ে,

আমাদের সাজিয়ে অলংকৃত করেন কবি।

আর হয়ে যাই গল্প, উপন্যাস, কবিতা,

যা অলংকারিকের হবি।


কবিতা বিনা হয় না কবির জীবনী,

অনেকে তাই লেখেন, নিজের বিবরণী।

কবিতা বিনা কাটে না তাদের দিন,

তাই তো লিখে চলে তারা, কবিতা প্রতিদিন।


কবিরা করে সমাজের থেকে,

একটু খানি আশা,

কবিতার সাথে তারা যেন পায়,

সমাজের ভালোবাসা।

মমতা রায় চৌধুরী




আবছা হলে তুমি


একটা সময় ছিলে,

অনেক মনের কাছে।

এখন তুমি অনেক দূরে,

গোধূলি  ম্লান আলো।

ক্রমশ তুমি  আবছা হলে,

ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

হঠাৎই স্পষ্ট হলে,

এক মনোজ্ঞ সেমিনারে।

আমি কেমন এলোমেলো, 

 জট পাকাচ্ছে ভাবনাগুলো।

তুমি মনের ভাষা এক পলকে

পড়তে গিয়ে হোঁচট খেলে। 

তাতে ছিল না কোন আবেগ,

ছিল না কোন প্রত্যাশা।

শুধুই ছিল জিজ্ঞাসা?

আবছা তুমি আবছা।

বলতে পারি নি কেউ কাউকে।

তবু চোখের ভাষার ধূসরতা 

খুঁজে পেতে চাইলো সেই সজীবতা।