২৮ জানুয়ারি ২০২১

রেবেকা সুলতানা রেবা




পানসে জীবন


কখন ও মেঘ কখন ও রোদ্দুর

হাঁসি কান্নার গোলক ধাঁধা 

জন্ম নিয়েই আলো আধাঁরির খেলা।


মানুষের জীনবটাই একটা রহস্যকাব্য

লুকিয়ে আছে কত জানা অজানা খেলা

কেউ কি যানে কখন ফুরায়ে যাবে

এই জীবনের লেনাদেনা?


হারিয়ে ফেলছি অনেক প্রিয়োজন

রেখেছিলো যারা স্বপ্ন আর সাহসে

আমার আমিতে গভীর মমতায়

স্নেহে আদরে ভালোবাসায় উদারতায়

কাছে ডেকে আশ্রয় প্রশ্রয় দিতো

 আমার অস্তিত্বে যারা লেপ্টে ছিলো

তারা হারিয়ে গেলো আবলিলায়।


আমি বেঁচে আছি এখনো মরিনি

একটু একটু করে মরে যাচ্ছি 

ছুঁয়ে দিতে পারিনি কখনো

ভালোবাসার বিশাল আকাশ

বিষাদ আর ক্লান্তি এসে ভর করে

দেহ আর  মনে আমার আমিতে

ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাই স্বাদ, রস, গন্ধ

কিছুই নেই পানসে এ জীবনে।

এরশাদ


 


উন্মাতাল

                                              


ভুল ছিলাম

ভুল আছি

ভুল থাকবো।

আমি যদি শুদ্ধ হই

কেউ একজন আমাকে বলবে না

একটু ভদ্র হওতো ;

আমার কনুই বেয়ে ঝুলে পড়া আস্তিন 

গুটিয়ে দেওয়ার প্রয়োজন বোধ করবে না কেউ একজন।

কেউ একজন মেকি রাগে বলবে না

উফফফ,একটু গোছালো হতে পারো না!

আমি চাই,কেউ একজন রাগ করুক

খুব বিরক্ত হোক।

চারমিনারে আগুন জ্বালিয়ে যখন কুন্ডলী বাতাসে ছেড়ে

একটু উদাস হবো

আমি চাই কেউ একজন এসে বুকে মাথা রেখে

প্রান চঞ্চল চপলতায় বলে উঠুক

যাযাবর,অনেক ভালোবাসি তোমায়।

আমি তোমাকে চাই 

আমার ভুলের মাঝে।

আমার এলোমেলো চুলের মাঝে

পঞ্চাঙ্গুলী বুলিয়ে কেউ একজন বলবে না

ইসসস,দিন দিন খুব বাউন্ডুলে হয়ে যাচ্ছো।

সর্বোপরি, আমি বাউন্ডুলেই হতে চাই

তোমার চৌকাঠে চরন ফেলে

একমুঠো নিজেকে গুছিয়ে নিতে চাই।

অলোক দাস




একটি মেয়ের জীবন


গীতাদি, তুমি এতো ভুল করলে কেন? ভালোই তো ছিলে মেয়ের বিয়ে দিয়ে I স্বামীহারা হয়ে কর্মস্তলে I ওরা তোমায় স্বপ্ন দেখালো, কেড়ে নিলো তোমার ভরা যৌবন I তুমি স্বীকৃতি চেয়েছিলে, দেয় নি তা তোমাকে I আজ তুমি কতো অসহায়, জীবনের হিসাব নিকাশ মেলাতে পারছো না I সবই এখন ধার, মেয়ের ভালোবাসা, তাও আজ নেই I নিঃস্ব, রিক্ত তুমি ! মেয়ে পরের বাড়ির জন্য - শুধু সম্মন্ধ সম্মান I এখন একটাই পথ I স্বামীর ছবি রেখে ফেলো রোজ দু ফোঁটা চোখের জল I যা হোয়ে গেছে ভুলে যাও, আসুক নতুন ভোর I

তাহসান কামরুজ্জামান




অপরিচিতা



অপরিচিতা তোমার কণ্ঠস্বরে অসম্ভব রকমের মায়ার মোহনজালে মুগ্ধ করে তুলে;

ভীষণ ভাবে জমাটবদ্ধ অনুভূতিগুলো কে ভেঙ্গে চূর্ণবিচূর্ণ করে সতেজ প্রাণ ফিরিয়ে দেয় হৃদয়ের মনিকোঠায়। 

বেঁচে থাকার স্বপ্নের চারাগাছ রোপণ করতে শিখাই তোমার মুখের হাসি! 

একসঙ্গে পথচলাতে অনুপ্রেরণা যুগান দেয় নীরব চোখের ভাষা। 


অপরিচিতা,

নিস্তব্ধ হৃদয়ের আঙিনায় ভালোবাসি শব্দের স্বাধীনতার ঘোষণা করতে চাই! 

চোখের চাহনিতে শতাব্দীকাল বেঁচে থাকার অধিকার স্থায়ীভাবে বসবাসের উপযোগী করে নিতে চাই। 


অপরিচিতা,

পূর্ণিমার চাঁদের আলোয় কবিতার পঙক্তি রচনা করতে চাই! 

এলোকেশী চুলের গন্ধে নিজেকে  নতুনভাবে প্রেমিক বলে স্বীকারোক্তি দিতে অদম্য ইচ্ছে করে। 

অদৃশ্যের বন্ধনে মায়াভরা কথার ফুলঝুরিতে বিলিয়ে দিতে ইচ্ছে জাগে। 


অপরিচিতা,

একটুকরো জায়গায় দিবে;মনের মনিকোঠায়?

ভালোবাসার সমারোহে জড়িয়ে রাখবো! 

রাতের আধারে রাতজাগা পাখির মতো স্মৃতিচারণ করে ডায়েরির পাতায় লিপিবদ্ধ করে রাখা উপহার দিবো।

জামান আহম্মেদ রাসেল




আমি হতাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক


শুরু থেকেই যদি তুমি শুধু আমার হতে

শুরু থেকেই যদি শুধু আমায় চাইতে ,

তবে আজ আর আমি এতটা বেয়ারা হতাম না

প্রহর শেষে ক্লান্ত হয়ে স্বপ্ন হারাতাম না।।


যদি তোমার প্রথম শেখা গানটা আমায় শোনাতে

তোমার প্রথম দেখা স্বপ্নপুরুষ যদি আমিই হতাম ,

প্রথম দেখা তোমার আকাশটা যদি আমায় দিতে

তবে আমি আজ এতটা নিঃস্ব হতাম না।


ধুলোমাখা পথে যদি আমার হাত ধরেই প্রথম হাঁটতে

যদি আমায় ঢেলে দিতে একটু একটু করে জমিয়ে তোলা তোমার প্রথম আবেগ ,

তোমার ছোঁয়া যদি শুধু আমিই পেতাম সেই প্রথম অনুভূতির

তবে আমি আজ আর দুঃস্বপ্নে এতটা বিভোর হতাম না।


তোমার লেখা প্রথম চিঠি যদি আমাকেই লিখতে

তোমার প্রথম কবিতার ছন্দে যদি আমায় মেশাতে ,

দুরু দুরু বুকে ভীরু ঠোঁটে যদি ভালবাসি কথাটা প্রথম আমাকেই বলতে 

তবে আজ আর আমি এতটা বিষাদের কাব্য লিখতাম না।


তোমার প্রথম অপলক চেয়ে থাকা যদি হতো শুধুই আমার পানে,

তোমার প্রথম অভিমানের দাগটা যদি আমার উপরই স্থির হতো।

তোমার প্রথম জোসনা মাখা যদি আমার সাথেই হতো কোন এক রাতে,

তবে আজ আমার বেঁচে থাকাটা হতোনা সমস্ত শূন্যতার সাথে।।


যদি তোমার আঁচলটা আমিই ছুঁতাম তোমার প্রথম শাড়ী পরার

দৃষ্টি জালে যদি আমিই প্রথম বেঁধে নিতাম তোমার লাজেভরা চোখ দুটো ,

যদি বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তোমার প্রথম কেশ মেলানো আমিই দেখতাম

তবে সত্যিই আজ আর এতটা বিনাশ হতোনা আমার হৃদয়ের।


যদি সত্যিই আমি হতাম কারো প্রথম প্রেমিক

কারো প্রথম আশার যাদুকর; প্রথম বিরহের জল ,

যদি কেউ প্রথম আমাকেই কাছে টেনে নিতো পরম আবেশে

তবে আমিই হতাম পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ প্রেমিক সব ইতিহাস ভেঙ্গে অবশেষে।।

আমির হাসান মিলন




ভণ্ডের আজকাল


আমি অতি মূর্খ না জ্ঞাণী ?   

তা কি আর জানি-মানি ! 

শুধু মনের জোরে , এই ভুবন ঘরে  

স্বার্থের ঘানী টানি । 


সম্মান আবার কাকে দেবো 

কেঁড়ে-কুঁড়ে সবটা নেবো 

আমি সব জান্তা , জানি এই ভানটা 

যুক্তির কাছে কেন যাবো ! 


আমি যে রাজার রাজা 

বাকি সব আমার প্রজা 

যে পড়বে পায়ে , চলবো তাঁকে নিয়ে 

বাকিদের দিই সাজা । 


আমিই আমার সনদ লিখি 

রাত জেগে তা নিজেই দেখি 

আমি অনেক বড় , এবার পায়ে পড়ো 

শেখাবো কেমন করে দিচ্ছি ফাঁকি ।

২৭ জানুয়ারি ২০২১

সাবা সাবরিন




পাকদণ্ডী


তোমার হৃদয়ের পাকদণ্ডী বেয়ে সেই কবে 

থেকে, উঠছি তো উঠছিই। এই ওঠার কি 

কোনও শেষ নেই? না কি বারবার পড়ে 

গিয়ে আবারও উঠি? শুধু উঠছি এটুকুই 

মনে থাকে। ওঠার আগে পিছের সব স্মৃতি 

যে বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যায় বারবার। 

প্রতিবার উঠতে থাকা যেন এক একটি 

নতুন পৃথিবীর সূচনা। মহা বিস্ফোরণের 

পর যেভাবে নতুন পৃথিবীর সূচনা হয় ঠিক

সেভাবেই তোমার দিকে যাওয়ার পথটাও 

একটু একটু করে প্রশস্ত হয়। হয়তোবা-

কোনদিন ঠিক পোঁছে যাব তোমার কাছে, 

তখন আর পথের কোন কষ্টই আমার মনে 

থাকবে না। তখন তুমি আর আমি মিলে 

নতুন পৃথিবীর সূচনা করব। যে পৃথিবীতে 

শুধু প্রেম ছাড়া আর কিছুই থাকবে না।

সালমা খান




মায়া ঘোর 



স্মৃতি গুলো খন্ড খন্ড করে জোড়া

দেই রোজ আমি 

অংক কষে গণনা করি সমগ্র  জায়গায়  তুমি ।

আয়ত্ত করবো বলে, আর্তস্বরে ডাকি বহুবার

দূর থেকে সাড়া দেয়  অতীন্দ্রিয়  কে এক আঁধার ,

তোমাকে যতই  বাঁধি বাহুডোরে

হাত ফসকে  চলে যাও অনেক  দূরে।

যতই  তোমাকে মেলাতে  যাই অমৃতে গন্ধ গরলে ,

হয় না সব, ভেসে যায়  অন্ধ জলে।

যখনি তোমার চোখে চোখ  রাখি

আদ্যপ্রান্ত  আমুল ট্র্যাজেডি 

হাসে  নির্মম  নিয়তি।

যতই আমি মায়ার ঘোরে হাঁটি

অবচেতনের গহীনে দেখি 

আকাশ জুড়ে  অজস্র তারবাতি,

ছুঁয়ে  দিতেই হোঁচট  খেয়ে পড়ি।

মোঃ হা‌বিবুর রহমান




মুখচ্ছ‌বি ভা‌সে তবুও হৃদয়প‌টে



তার মু‌খের‌ দি‌কে ‌কেন যেন আর তাকা‌তেই পারিনা,

অ‌নেকবার তাকা‌নোর চেষ্টা ক‌রেও তাকা‌তে পা‌রি‌নি।

হে‌রে যে‌তে যে‌তেও হারিনি আবার ভুল‌তেও পা‌রি‌নি।

বার বার তাকা‌নোর চেষ্টা ক‌রেও অব‌শে‌ষে মন চায়‌নি।

অথচ, তার প্রতি তেমন ঘৃণা বা অ‌ভিমানও জন্মায়‌নি।

কিন্তু কেন যেন তার দি‌কে আমার তাকা‌তে মন চায়‌নি।

অ‌নেক ভে‌বে‌ছি, বেশ গ‌বেষণা ক‌রেও উত্তর মে‌লে‌নি।

মন থে‌কে তাহ‌লে কি তার নাম চিরত‌রে মু‌ছে ফেল‌বো?

জা‌নি এটা কখনই সম্ভব নয় বা মো‌টেই সহজসাধ‌্য নয়,

আর তা‌কে যতই ভুলার চেষ্টা ক‌রিনা কেন পা‌রি না তা

কেন যেন সে ছায়ার মত ক‌রেই অনুসরণ ক‌রে আমাকে,

তার মুখচ্ছ‌বিটা ভে‌সে উ‌ঠে  আমার নরম হৃদয়পুরে‌টে।

রীনা দাস


 


কালীপূজো


কৌটি টাকার কালী পূজো !

কি এসে যায় তাতে ?

কেউ তো আর এক পয়সা

দেয়না আমার হাতে ?


হাজার খুশীর নিত্য লহর

চলছে আনাগোনা

আমার মনে খুশীর ছোঁয়া

পাইনা এককনা ৷


যেদিকে দেখি আলোর মালা

জ্বলছে পথ, ঘাট

সে আলোতে আমার মনে 

বসেনা চাঁদের হাট ৷


পূজোর আলোয় সবার মন

আনন্দে যায় ভরে

খিদের জ্বালায় ঘুম আসেনা

ছটফট করি ঘরে ৷


মায়ের পূজোয় খুশী হোতাম

পেতাম যদি ভাত

রুক্ষ মেজাজ ঠান্ডা হতো

খুশীতে হোতাম মাত ৷


ঝাঁ চকচকে হোকনা শহর

বহুতল শত বাড়ি

গরীব,দুঃখী কষ্ট পেলে 

হয় কি মনোহারি ?

এন এ আলম ( সীমু )




কবি


ওহে কবি তুমি রবি তুমি কখনো চাঁদের জোছনা 

তুমি প্রেম তুমি বিদ্রোহ

তুমি নদী আটকে দেওয়া বালুচরের অটল মোহনা 


ওহে কবি তুমি জ্বলন্ত অগ্নির জ্বলন্তঅক্ষর,

মনের জ্বলন্তভাষা। 


ওহে কবি তুমি শীতল প্রেমের রাজপুরুষ 

তুমি মিঠা, ঝাল কিছু তামাশা। 


ওহে কবি তুমি পাতালপুরীর রূপকথা

আবার,  

তুমিই বিধবার সাদা বসনা। 


ওহে কবি তুমি অনাহারক্লিষ্ট মায়ের করুণ চোখের যাতনা 

ওহে কবি তুমি ক্ষুধার্ত দেব-শিশুর 

ভাবলেশহীন ভাষা বোঝা এক সাধনা 


ওহে কবি  তোমার কবিত্বশক্তি যেন কখনওই

কলম চালাতে থামেনা। 


ওহে কবি তুমি রবি

তোমার আলো যেন কভু নিভে না।

মহুয়া চক্রবর্তী




 ভালোবাসা 



ভালোবাসা -  তাকে কি দেখেছো কখনো !  সে কেমন হয় গো , তার স্পর্শ পেয়েছো কি? জীবন জুড়ে শুধু অবহেলার চোরাবালি, যেখানে শুধু তলিয়ে গেছি আমি। 

 ভালবাসাকে শুধু দূর থেকে দেখেছি,

দূর থেকেই সে দিয়ে গেছে হাতছানি

যখন কৃষ্ণচূড়ার বুকে, লাল আবিরের দল খেলে,

 আমি তখন বিষাদ মনে শূন্য পথ পানে চেয়ে থাকি, সে আসবে ভেবে। 

মনের ঘরে জীবন প্রদীপ খানি জ্বালিয়ে রাখি।

তুমি আসবে বলে, কামিনীর সাজে সেজে, 

আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে হাত

নিজের প্রাণের মাঝে।

কবে আসবে তুমি,

সম্মুখের পথে

দীপ্ত শিখাটি নিয়ে আছি

তোমার পথপানে চেয়ে   পুড়বে বলে রয়েছে আশায় 

আমার নিরব হিয়া।

কবে পাবো তোমার ভালোবাসার

ছোঁয়া।

মিলন ভৌমিক




কল্পনার দেশ


পৃথিবী যদি কল্পনার দেশ হতো

মানবজাতি থাকত সুখে।

সীমাহীন দারিদ্রতা পৃথিবীতে

যদি না থাকতো, থাকতো মহাআনন্দে।

দুঃনীতি,কম'হীন,দূবলশ্রেনী

যদি না থাকতো, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ,ধম'ঘটে,

 হতোনা গণআন্দোলন।

সাইকোথ্যাব যদিনা থাকতো

ওরা অনেক বছর বাঁচত।

শক্তিধর রাষ্ট্রযন্ত্রের দাদাগিরি

শোষনও শাষনে যদিনা থাকতো

ছোট্ট রাষ্ট্র গুলো শান্তি পেত।

বুদ্ধিজীবীরা পৃথিবীময় যদি একহতো

স্বর্গের দেশ হতো।

মহাভারতে রথের কল্পনা থেকে

রকেটের যদি হয় সৃষ্টি,

যুগের শেষে কল্পজগৎ

হতে পারে বাস্তব মুখী।

কল্পদেশে থাকবো বেঁচে

অনন্তকাল ধরে,

বিদায় চাইনা পৃথিবীর কাছে।