২৩ জানুয়ারি ২০২১

হাকিকুর রহমান




থাকুক পড়ে



থাকুক পড়ে চিন্তা চেতনাগুলো

ধরার ধুলোয় মিশে,

থাকুক পড়ে বেহায়া ইচ্ছেগুলো

যেখানে সেখানে ছড়ানো

পাইনে তো তাই, অন্য দিশে।


থাকুক পড়ে অসহ্য যন্ত্রণাগুলো

পথের পাশে দাঁড়িয়ে,

থাকুক পড়ে অসামঞ্জস্যতাগুলো

নেয় নিক, দু’হাত বাড়িয়ে।


থাকুক পড়ে মঙ্গল-কল্যাণের কথাগুলো

রোজনামচার পাতা ভরে,

থাকুক পড়ে পরিত্রাণগুলো

ঘুণে ধরা সমাজটার হাত ধরে।


থাকুক পড়ে পরিশুদ্ধিত প্রকাশগুলো

আধাঁরের মাঝে লুকোনো,

থাকুক পড়ে হিসেবের খাতাটি

অনিয়ন্ত্রিতভাবে, কারণ আসল

হিসেবটাতো হয়নি এখনও চুকোনো।

গোলাম কবির




ইচ্ছে ডানায় মন 


মন, ও আমার মন? 

তুমি কার 

আকাশে বেড়াও ঘুরে 

ইচ্ছে মতো! 

যখন তখন মানো না 

কোনো শাসন বারণ! 

নেবে কি আমায় 

তোমার সাথে? 

মেঘের ভেলায় চড়ে 

যাবো আমি 

তেপান্তরের ঐ সবুজ মাঠ পেরিয়ে 

নীল সাদা আসমান ছাড়িয়ে, 

নীল অতল জলরাশির 

সফেদ ঢেউয়ে ভেসে ভেসে। 

ইচ্ছে মতো ঘুরবো আমি 

ফিরবো নাকো এই ভুবনে, 

প্রেমের টানে রয়ে যাবো 

তাঁর কাছে, 

আমায় যে ভালবাসে।

শ্যামল রায়ের একগুচ্ছ কবিতা




প্রত্যাশা

শুধুই প্রত্যাশা নিয়ে বেঁচে থাকা

 তাই দু চোখে চোখ রেখে বলো

একবুক টাটকা বাতাস পাঠালাম

তুমি শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ো

ভালোবাসার গন্ধ অনুভব করো

শুধুই আমার ভালোবাসার কথা।

স্মৃতি ভুলে যেওনা

তাহলে ফিকে হয়ে যাবে সবকিছু।

প্রত্যাশা রেখো তাহলে বাতাস পাবো।



 এসো বৃষ্টিতে ভিজি


শরীর শুকিয়ে গেছে

কাঠফাটা মাটির মতন

দেখতে হচ্ছে শুধুই ফাটল

এসো বৃষ্টিতে ভিজি।

তুমিতো মেঘ বৃষ্টি দেবে

একটু সজীবতার প্রতিশ্রুতি পাঠাও

রোমান্টিকতায় একাকার হয়ে যাবো

এই ভাবে বেঁচে থাকা স্বপ্ন দেখা

শুধুই বৃষ্টির জন্য----

তুমিতো মেঘ!

এসো বৃষ্টিতে ভিজি।


একটু তাপের জন্য


একটু তাপ পেতে

চঞ্চল হয়ে উঠি

তোমার হৃদয়ের গভীরতায়

সাঁতার কাটবো ডুব দেবো

আবার জেগে উঠে বলবো

তোমার দু হাতের ছোঁয়া দাও।

ইচ্ছে করে রোজ এসব কথা

ভালবাসার নীল বিছানা

যত্ন করে দেখি আর ভাবি

আমার নীল বিছানাটা ঠিকঠাক আছে

একটু তাপ দিয়ো

ইচ্ছেতে ঘুমিয়ে পড়বো সারারাত

শুধুই দুজনা তাপ ভাগ করে নিতে।


আদরের উঠোন


তোমার কাছাকাছি

রোদ্দুরের উঠোন পাঠালাম

অপলক দৃষ্টিতে দেখো

অব্যক্ত কথাগুলো আঁকা আছে

আদরের উঠোন জুড়ে।

আদরের ভালোবাসায়

একটু উষ্ণতার মাঝে

খুনসুটিতে এক চাদরে জেগে থাকবো

সমুদ্রের ঢেউয়ের মতন

তোমার বুকে ঝড় তুলব

শুধুই উষ্ণতায় শান্তি পেতে

তাই আদরের উঠোনটা

আষ্টেপৃষ্ঠে রেখে দিয়ো কাছাকাছি।


 জীবনের রঙ ছটা


জীবনের রং ছটা যেন

প্রথম কথা বলার মতো

এক- একটা নতুন অক্ষর

বর্ণপরিচয়ে চোখ রাখা 

ছিলো দু -ঠোঁটে একে দেওয়া প্রথম চুম্বন।

এই সবটাই জীবনের এক একটা রং ছটা।

আর ভালোবাসার দিন লিপিতে

ষোলআনা খাটি ছিলো 

তোমার প্রথম ভালোবাসা 

  আমার কাছে শুধুই ভালবাসাছিলো।

অলোক দাস




পৃথিবী


  পৃথিবী আমারে চায় অবিরাম I ভোরের আকাশে উঁকি দেয় সূর্য I কিছু আলো নিয়ে নেয় পৃথিবী I কে যেন বলে এবার জাগো I পুবের জানলাটা খুলে দাও, দাও দরজাটাও খুলে I দেখো নয়ন মেলে নতুন দিন I পাখিদের কোলাহল, ঘাসের ওপর শিশির বিন্দু, সবুজের ছড়াছড়ি I বসন্তের আহ্বানে ফুলের মেলা I প্রেম সেতো চিরদিন I এমনি কোরে শুরু হোক পথ চলা I উদাস হয় মোন I এ যেন এক নদী I পাহাড় হতে ভেসে আসে জলকণা I কতো গ্রাম, শহর ভেদ কোরে মিশে যায় সাগরে I এ এক অনবদ্য !

ফিরোজ আহমেদ জুয়েল




 হৃদয়ে মেঘ


ফিরে আসি তবু বারেবার-

মনের জানালায় নেমেছে আঁধার,

আধো আলো ছায়াতে-ঢেকেছে হৃদয়;

পিছু ফিরার কোন-নেই যে উপায়।


আঁধারে ছেয়ে গেছে-কোমল হৃদয়,

নতুন দিগন্তের-কোন মানে নেই;

সবিতে ব্যর্থ প্রয়াস,মিছে হাহাকার,

ফাঁদ পাতা বড়শির-চেনা বেড়াজাল

মিলবেনা সহসায়,অথৈয় অশাঢ়।


দমকা হাওয়াই সব-হবে এলোমেলো,

শেষ হবে রঞ্জিত গোধূলি আলো;

পরাধীনতার এক শিকলে বাঁধা,

বারবার ফিরে চাওয়া,সুযোগের হাতছাড়া।


চলতে হবে পথ-দিতে হবে পাড়ি,

থামাতে পারবেনা,কোন দংশনকারি;

গোলামির শৃঙ্খলে আটকে বিবেক,

আহত হৃদয়ে,দিয়ে যায় পেরেক;

মর্মে মর্মে পাথর,রয়ে যাবে শোকাতর,

হিংসুটে ললাটের,রঙ্গীন ধূসর।


আজি হৃদয়ো মাঝে-বেদনারা বাস করে,

ক্ষনিকের পারাপারে,কত স্মৃতি ঝরে পড়ে;

ফিরে দেখবার কোন নেইতো সময়।


কুন্ঠিত বিবেকের রোশানলে,

সব হারিয়ে আজি কেটেছে আঁধার;

নির্ভিক হৃদয়ে সঙ্গীবিহীন,

পারবেনা কেও চির ধরাতে;

ফিরে আসি তবু বারেবারে-

২২ জানুয়ারি ২০২১

ড,সৈয়দ আজিজ




মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করো


মেয়েটিকে জিজ্ঞেস করো 

কবে খেয়েছিল পেট ভরে ভাত?

তার সন্তানদের সাথে নিয়ে, 

যাকে ভ্যানে তুলে নিয়ে গেছে 

দায়িত্বশীল পুলিশ কাল রাত, 

ট্রেন থেকে বিনাটিকিটে যাত্রার দায়ে 

যে ছাই বিক্রির জন্য রোজ

ভোরের ট্রেনে চড়ে আসে 

ময়মনসিংহ থেকে ঢাকায় 

বিকেলের ফিরতি ট্রেনে আবার 

ফিরে যায় তার কুঁড়েঘরে, 

জিগ্যেস করো যখন তাঁর স্বামী 

তিনটি শিশু বাচ্চা রেখে 

যৌতুকের দায়ে তাড়িয়ে দিয়ে ছিল 

ভেঙে পাঁজরের শুকনো হাড় 

তখন কি ব্যবস্থা নিয়ে ছিল 

মহা দায়িত্বশীল পুলিশ?

কী ব্যবস্থা নিয়ে ছিল সরকার?

নিজেকে জিজ্ঞেস করো?

তিনটি বাচ্চার জন্য তাঁর 

বেঁচে থাকার আছে কি

কোনো মানবাধিকার!!!

মনি জামান




ফিরে যাও তুমি 


ফিরে যাও তুমি যেখানে সুখ গন্তব্যে, আপেক্ষিক বৃষ্টি হয়ে নদীর চঞ্চলতায়।

সব ভালোবাসা ছিন্ন করে হয়তো পাবে তোমার কাঙ্খিত সুখ,

আদরে গলেছিল বরফ প্রেমে সেজেছিল রঙধনু।

বিদগ্ধ আকাশে নক্ষত্র কুড়িয়েছি রাশি রাশি,শিশিরের দু'ঠোট স্পর্শে খুঁজেছি  প্রজাপতির পালকে এক টুকরো সুখ।

শ্মশান আদরে ডুবছে চাঁদ ঈগল ঠোঁটে

মরু অবয়ব,ধূসর বেলা শেষে ফিরিয়ে দিয়েছে ভালোবাসা,তাই ফিরে যাও তুমি তোমার সুখ গন্তব্য।

সালমা খান



শিশির বিন্দু 


নিলাক্ষী পাখি খুব যত্ন করে

ঠোঁটে শিশির বিন্দু দিয়ে,

সূর্যকে লিখেছিলো 

সবুজ পাতায় চারটি শব্দ  ,

"ভালোবাসি"

পূর্বের সূর্য আড়মোড়া 

ভেঙে পাতার জলটুকু 

চুষে নিয়ে বলে, কই 

এখানেতো জলের 

চিহ্ন নেই,

বুক ভরা ব্যথায় হলদে

পাতাটি পড়লো খসে।

দমকা হাওয়ায় উড়ে নিয়ে ,

মাটিতে মিলিয়ে গেলো,

নিলাক্ষী পাখি জ্বলজ্বলে

 ভেজা ভেজা চোখে 

তাকিয়ে রইলো।

রেবেকা সুলতানা রেবা




সব সুন্দর যে তুমি


যদি ভুল হয় শোধরে নিও

অযথাই জড়িওনা জটিলতায়।

ক্লান্তিদিনে তুমি হয়ে যেও বৃক্ষলতা

চুপিচুপি এসে বক্ষে ধারণ করো

হয়ে থেকো একাকীত্বের সঙ্গী।


কাঁধে মাথা রেখে শুনিয়ে দিও

যতো আছে তোমার মনের কথা

আমি অধীর আগ্রহে শুনে নেবো

তোমার হৃদয়ের যত ব্যাকুলতা।


আমি হারিয়ে যাবো তোমার মাঝে

তোমার সুবাসে সুভাসিত হবো

তোমার প্রেমাবেগে আপ্লুত হবো

তোমার মাঝে মিশে যাব নিমিষেই। 


তুমি আমার সুগন্ধি ফুলের বাগান? 

নাকি দূরের তারাভরা আকাশ?

নাকি জোৎস্না বিলানো রাত?

নাকি সাফা পাহাড়ের ঝর্ণা?


ধুর..যা এতো ক্যানো প্রশ্ন করি!

মন বলে আমার

চোখে যা কিছু সুন্দর দেখি

সবি যে তুমি।

হাসনা হেনা




 পাথর  মানবী 


সে তো কবি  নয়, 

কবির  কবিতা  ও নয়, 

বাগানে  ফুটা  ফুল  ও নয়, 

কারো  মনের  পটে  আকা  

ছবি  ও নয়, 

নদীর জলের   ঢেউ  নয়, , 

চাঁদের  আলোয় আলোকিত  জ্বোসনা নয়, 

 সাগরের   উর্মি  ও নয়, 

 আকাশের নীল  তারা  নয়, 

 সূর্যের  কিরণ  নয়, 

 সে এক  পাথর  মানবী, 

যেনো  এক মরুভূমি, 

যেখানে  কখনো  বৃষ্টি  হয় না. . 

কখনো  ঝরনা  ঝরে  না, 

কখনো  জ্বোসনা  প্লাবিত হয় না, 

সে যেন  এক  নিরব  নিথর , 

সে নদী  কখনো  পায় না  সাগর।

লুৎফুররহমান চৌধুরী রাকিব ( ইংল্যান্ড )




ভালোবাসার আদালত 


তোমাদের ভালোবাসার আদালতে 

যদি কখনো হই আসামী

ক্ষমা করে দিও আমাকে

তোমাদের ঘৃণা থেকে একটু খানি।


কবিতার গা বেয়ে গড়িয়ে গেছে

হয়তো অনেক ভালো মন্দ কথা

অভিশাপ দিও কখনো বন্ধুগণ

মোর প্রাণে লাগবে যে ব্যাথা ।


কাউকে উদ্দেশ্য করে কখনো লিখিনি

কোন কবিতা বা গল্প 

ঢিল ছুঁড়ে মেরো না পথচলার সাথীরা

যদি কখনো ভালোবেসে থাকি  অল্প ।


সুন্দর বাগান হয়তো সাজানো যাবে না 

অতীতে ফেলে আসা ছন্দের মতো

জীবনের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঝড়ে

মনের উঠোন আজ ক্ষত বিক্ষত ।


তোমাদের মনের কাঠগড়ায় আমি

কখনো হতে চাইনি আসামী

তবুও যদি দোষী হয় থাকি

ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখে নিও একটুখানি ।

আল সারোয়ার হৃদয়



ছায়া 


তোমার চুম্বনে গতিপ্রেম হাঁটে আমার দীর্ঘ নদীটির পাশে 

অপেক্ষার আকাশে বুঝি সব কোলাহলে ঝাঁকে ঝাঁকে গিলে খায় রীতিনীতি 

পৃথিবীর উল্টোপিঠে তখন কোকিলের ডাক

রক্তের বীজে শুধু মরে যায় সেই সময়

সন্ধ্যার বাতাস ফুলে দুলে আমার ব্রহ্মাণ্ডের গায়ে আঁচড় কাটে বয়স্ক এক রাত

ঢের অভিজ্ঞতা নিয়ে সঞ্চয়ে বিবেক ঘুমায় পাহাড়ের কাছে 

শূন্য হাতে ডেকো না ডেকো না 

সোমরস তখন অদৃশ্যে খুলে আঁখি 

তৃষ্ণা মিটিয়ে শিশিরের রসে দেখি তোমারই মুখ

তোমার ছায়া নামছে হাঁটছে শরীরে ভিতরে 

তোমাকে পেয়েছি ভেবে চোখের মিলন ঘিরে রাখে

অনন্ত প্রেম।

মেহেদুল আলম


ফিরে গেলে ফিরে পাবো 


যুগ দুই আগে 

শীতের কুয়াশায় 

মিশে থাকতো যে বাবলা গাছ

আমার ব্যস্ত পথের ধারে সকালে

হয়তো তারা এখনও বেঁচে আছে।

এখন কখনো কখনো মনে পড়ে তাদের কথা

মনে হয়, থেমে থেমে দেখে আসবো একবার।


সকালের ক্লাসে যেতে তড়িঘড়ি পায়ে

পথের ওপর ছড়ানো শিউলি ফুল মাড়িয়ে গেছি কতো

এখন কখনো কখনো

সে ফুলের কাছে যেতে ইচ্ছে করে খুব !


সে শহরের রাস্তাগুলি বেশ নির্জন ছিলো

হেঁটে বেড়াবার মতো

অথচ তখন হাঁটার সময় ছিলো না বেশি

এখন কি হাঁটা যাবে সেখানে নিরাপদে ?

ঘোড়ার খুরের শব্দ কি সেখানে আছে আগের মতন !


পদ্মার বুকে তখন বালি ছিলো

আমার বুক ছিলো খালি

জলের শূন্যতাই শুধু চোখে পড়তো তখন

এখন মনে পড়লে দুঃখ হয়, কারণ

সে বালিতে পা রেখে আমি দেখিনি কী সুখ ছিলো তাতে ! 


দুই যুগ আগে 

এক রাত স্টেশনে কেটেছিল ট্রেন ফেল করে

আজ রাতের সাথে সে রাতের কোনো মিল নেই

অথচ স্মৃতিগুলো এমন হয়ে ভাসে

মনে হয়, ফিরে গেলে ফিরে পাবো সব !