১৪ ডিসেম্বর ২০২০

রীণা কংসবণিক



নাসের দা কবিতাময় পুরুষ 

                দেবব্রত সরকারের মেসেজটা দেখেই ছ্যাঁক  করে উঠেছিল বুকটা । নাসেরদা আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন। বিশ্বাস করতে পারছিলাম না । এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না নাসেরদার সাথে আর কোনোদিন কথা হবে না । মাস খানেক আগে helicone এর জন্য একটি কবিতা চাইলাম , উনি বললেন "কবে লাগবে ? কয়েক দিনের মধ্যে দিয়ে দেব"।


আপাদ-মস্তক আশ্চর্য কবিতাময় পুরুষ ছিলেন তিনি । উনার মুখ থেকে কোনোদিন কোনো খারাপ কথা শুনিনি ।শুনিনি কার সম্পর্কে কোনো বিরূপ মন্তব্য । অজাতশত্রু এমন প্রাণবন্ত মানুষ আমি দুটো দেখিনি।


কবিতার পাশাপাশি তিনি খুব সুন্দর ছবি আঁকতেন। জগতের নিয়ম কানুন,  সর্বোপরি আত্মরহস্য রহস্যময়তার ইঙ্গিত কবিতার মত ছবিতে ও পাই। 

"ঝড়ের মতো এলোমেলো করে দেওয়া চুল ও মনের মানচিত্র /

মানচিত্রের মান শব্দটি এ ক্ষেত্রে খুব কার্যকরী অপীক্ষার"। (অপেক্ষা/নাসের হোসেন )


তবে নাসেরদার কবিতাগুলি বড় বেশি প্রশ্নময়। অথার্ত পড়ার পর মনের মধ্যে রহস্যময় অনুভূতির সৃষ্টি হয়।

"গ্রন্থের আড়ালে যে লেখক অবস্হান করে থাকেন তার সঙ্গে দেখা/

হয় মাঝে মাঝেই,  এতো যে দেখা তবু মেলাতে পারি না গ্রন্থের থেকেও ।

আর কি লিখব ঠোঁটের কোনে সেই মৃদু চাপা হাসি নিয়ে সত্যিই কি তিনি আর দাঁড়াবেন না!!!

কবি হিসেবে যেমন উচ্চস্তরের ছিলেন আবার মানুষ হিসেবে তেমন উন্নত মনের ছিলেন।

তরুন কবিরা হারালো তাদের অভিভাবক আর কবিতা জগত সামগ্রিকভাবে হারালো মুক্তমনা এক সংস্কৃতি প্রেমিককে।


মোফাক হোসেন



নাসের হোসেন স্মরণে


অঙ্কুরের  ইচ্ছে করে

নাসের হোসেন-এর মত, 

কলমের ডগা দিয়ে 

যন্ত্রণার রক্ত ঝরাতে।


আপোষ হীন সংগ্রামের

নিরলস সৈনিক হয়ে ধারালো 

কালিতে খণ্ড-বিখণ্ড করতে।


নিজস্ব ঘর বানিয়ে 

অন্যকে উদ্বুদ্ধ করে,

বসন্তের পাতা বিছিয়ে।

জল-ছল-ছল চোখের আলো হয়ে,

নীরবে নির্ব্বিঘ্নে শুয়ে থাকতে।

জাফর রেজা ( বাংলাদেশ )





প্রয়াত কবি নাসির হোসেনের স্বরণে 

মৃত্যুহীন প্রাণ



অবশেষে চলে গেলেন তিনি 

স্বনামধন্য মানুষটি জীবনের 

সব অর্জন পাঠকের কাছে

সঞ্চিত রেখে ঘুমায় এখন। 

মৃত্যু তাকে করেনি ক্ষমা

জানতে চায়নি তার সাফল্যের কথা,

শুনতে চায়নি তার অসমাপ্ত  কাজের কথা,

মৃত্যু তুমি নিষ্ঠুর হলেও

কবি রবে আমাদের হৃদয়ে।

স্বপন দত্ত




বিলীন 



শোনা কথা 

নাসের মারা গেছে , 

আমি এখনও বুঝতে পারিনি 

এবার বুঝবার জন্যে নাসেরের কাছে যাচ্ছি 

পৌঁছব পৌঁছব হয়েছি 

              তোমরা কেও দেখতে পাচ্ছো আমায় ?

আমি নেই নাসের ...

সানি সরকার



নাসেরদাকে নিয়ে কয়েক পংক্তি  


তোমার চোখের ওপর সেই নীল রঙের পাখিটি এসে বসল 


আমরা পাখিটিকে চিনি , আমরা পাখিটির স্পর্শ গ্রহন করি l 

একটি পৃথিবী নিয়ে পাখিটি এবছরও শীতকাল ভ্রমণ করছে ...

তোমার চোখ পাখিটির চোখ পরস্পর 

এক হয়ে গেলে আমরা থমকে গেলাম মুহূর্তের জন্যে l

দেবব্রত সরকার



কবি নাসের হোসেন


জীবনে ছড়ানো আলো  সবটুকু  বিশ্বাস 

তুমি তো আমারো কবি কবিতাতে নিরবাস 

তোমার হাসিতে পলি গঙ্গাজলের ভাষায়

রেখে যাও এক কলি খুঁটে খুঁটে খাই চাষায় 


তোমার বাঁধানো সিঁড়ি সাজানো শহর ঘুরে 

এলোমেলো পথ ছেড়ে নিজেকে বেঁধেছ সুরে 

কবিতার খাতা ছবিতার খাতা কাঁধে কাঁধে তরিঘরি 

ছুটে চলে যাও এপথ ওপথ ক্লান্ত হওনা পরি


হাসিতে ভরাট লাল টুকটুকে তোমার সে-মৃদুস্বর

মৃদু হেসে ওঠা ঈশ্বর তুমি হবে না কখনও পর 

তোমার ছায়াতে হেঁটে চলে যারা তারা হয়ে তপবন 

ব্যারাক স্কোয়্যার চায়ের দোকান কাঁদছে চতুষ্কোণ ।


আমি তো কাঁদি না জানো কবিতা চেয়েছ কতেক

দিইনি কবিতা অভিমান ছিলো কেন বুকে দিয়ে গেলে শেক

টুলটা বাড়িয়ে দিয়েছি কবিকে বলেছি বসেন বসেন

চুপি হেসে যায় হৃদয়ে প্রাণেতে কবি নাসের হোসেন

১৩ ডিসেম্বর ২০২০

চৈতালী দে


উড়ছে বুলবুল 

   


It's raining cats and dogs 

             " মুষলধারে বৃষ্টি "

আক্ষরিক অর্থ করলে দাঁড়ায় .....

   বিড়াল কুকুরের বৃষ্টি হচ্ছে !!

কিন্তু ঝুম বৃষ্টির সাথে 

বিড়াল কুকুরের সম্পর্ক কোথায় ?


অতি শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত ‘বুলবুল’!

 স্থলভাগে আছড়ে পড়া

 এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা##

বুলবুলি নীরব নার্গিস বনে

 ঝরা বন গোলাপের বিলাপ শোনে !

বৃষ্টি ঝরে রূপালী ফুল হয়ে ।


আকাশে কালো মেঘ

বাতাসে বৃষ্টির ঘ্রাণ

মুক্তোদানার ঝিরঝিরে বর্ষনে

ভিজে যাচ্ছে চারিপাশ

বৃষ্টির সুবাসে মন মাতাল আজ

এমন দিনে তারে কি বলা যায় ............ ।।


বৃষ্টি ভেজা প্রকৃতি

স্নিগ্ধতা ছড়ায় চারিপাশে

তবু এক টুকরো শুষ্কতা

টের পাই শুধু আমি

আচ্ছা বলতে পারো !

বৃষ্টিতে সব শুষ্কতা ভেজে না কেন ?


বৃষ্টিতে ভিজতে কার না ভালোলাগে

প্রিয় মানুষটির হাত ধরে ..........

বৃষ্টিতে যে সুর থাকে

                কথা থাকে

                থাকে বাসনা !!


আর

থাকে #স্বপ্ন !!


স্বপ্নটুকু জাগিয়ে দেবার চেষ্টা 

                কিন্তু

স্বপ্ন পূরণ করে দেবার

কোনো দায় নেই 

এই বৃষ্টির ......


বালিশ ছেঁড়া স্বপ্ন ধোঁয়া

উড়ছে উড়ুক

উড়ছে উড়ুক ।।


          ***************************************

সোহেল রানা'র গল্প

বিষাদ 

(উৎসর্গ—আজাদ সেখ কে)

            

            

মামুদ পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। “পরনে ছিল নোংরা ও ছেঁড়া জামা -প্যান্ট, চুলগুলো বড়ো বড়ো উসকোখুসকো, দাড়ি ও গোঁফ গুলো বড়ো হয়ে কিছুটা মুখে ঢুকে পড়ে।“ কখনো কখনো মদের বোতলে জল খায়,পরে থাকা সিগারেট গুলো নিয়ে খেলা করে। মামুদের মা  মামুদকে অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাস্তার পাশে মোড়ের দিকে বসে আনমনে খেলা করছে। এমনকি মনে মনে গান করে-  

  “        পিয়া তোমাকে এখনও ভালোবাসি , 

     তুমি আসবে ফিরে আমার এই বুকে। 

              ভালোবাসি শুধু তোমাকেই। “

মামুদ বাবা তুই এখানে আছিস চল বাড়ি চল। 

হঠাৎ পিয়ার সাথে মামুদের দেখা হয়,মামুদের কাছাকাছি গিয়ে পুরোনো প্রেমিককে চিনতে পেরে তার চোখ দিয়ে অশ্রু সজল নয়নে ঝরতে থাকে।

আপনি মামুদের কে, এই অসহায় পাগল ছেলেটার “মা”। 


             (৩ বছর আগের ঘটনা) 

কীভাবে এই অবস্থা হল, “ওই জঙ্গিপুর কলেজে বেটাকে কত স্বপ্ন নিয়ে ভর্তি করলাম ফিজিক্সে অনার্স কোর্সে। তাঁর সাথে পিয়া নামে একটি মেয়েকে সে খুব ভালোবাসতো। কিন্তু সেই মেয়েটার বিয়ে হয়ে যায় সরকারি চাকুরী করে এক ছেলের সাথে।“

 তারপর থেকে সে মানসিক চাপের, নেশা করতে করতে মদ, গাঁজা, বিড়ি, সিগারেট খেতে শুরু করে আস্তে আস্তে পাগল হয়ে যায়।

পিয়া কাঁদতে কাঁদতে গাড়িতে চড়ে ঘরে চলে যায়। নিজের প্রতি অনুশোচনা করতে থাকে। 

 মামুদ ক্লাস একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয় বিড়লা হাইস্কুলে। সে মেধাবী ছাত্র, এমনকি স্কুলে ক্লাসের টপার। পিতা-রশিদ সেখ ,মাতা- ফিরদৌসী বিবি।  তাদের একমাত্র সন্তান ছিলো মামুদ। তারা গ্ৰাম থেকে শহরে এসেছে। রশিদ সেখ  একজন চাকুরীজীবি। সে  কোম্পানিতে চাকরি করেন। 


ক্লাস করতে করতে পরিচয় হয় পিয়ার সাথে। পিয়া একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে পরে। কেননা সে পরে চান্স পেয়েছে। পিয়া পড়াশোনা ভালো, সে মেধাবী ছাত্রী ছিলেন। মধুমিতা ম্যাম বৈষ্ণব পদাবলী ক্লাস নিচ্ছে। ক্লাসে পিয়া আর মামুদ পাশাপাশি বসে মন দিয়ে ক্লাস করছে। ম্যামের বৈষ্ণব পদাবলীর ক্লাস করার কিছু দিনের পর দুজনের মধ্যে পূর্বরাগ থেকে অনুরাগে পরিনত হয়। 

মামুদ তোমাকে কতদিন বলবো সময়ে এসো, আমি কতক্ষণ তোমার জন্য অপেক্ষা করবো, প্রায় তিন ঘণ্টা থেকে অপেক্ষা করছি। রাস্তার ধারে কিছু বকেটা ছেলের টিটকারি শুনতে হয়। 

আচ্ছা বাবা রাগ করে না, “আমার বাবু-সোনা রাগ করে না, এইতো আমি চলে এসেছি “। 

দাও আমার জন্য কি নিয়ে এসছো,অবশ্যই এনেছি তোমার স্পেশাল খাবার “বাদাম”। তাইতো বাবু তোমাকে আরও বেশি বেশি করে ভালোবাসাটা বেড়ে যায়। 

পিয়া কালকে  রেজাল্ট দিবে, তুমি জানো? 

হ্যাঁ। “আমার খুব ভয় করছে মামুদ, কেন”? 

যদি রেজাল্ট খারাপ হয়ে যায়, তুমি ভালো রেজাল্ট করবে, আল্লাহর উপর ভরসা রাখো। 

( পরের দিন) 

ভালো রেজাল্ট করে দুজনেই ফিজিক্সে অনার্স নিয়ে কলেজে ভর্তি হলো, একসাথে কলেজ-টিউশন যাতায়াত করে। 

মামুদ কালকে  কোনো জায়গা ঘুরতে চলো, কালকে যাবে,

“ হ্যাঁ চলো”, কয়েকদিন পর গেলে ভালো হতো, না আমি কালকেই ঘুরতে যাবো, এমনকি তোমাকে সাথে যেতে হবে। 

“সেখানে গিয়ে কিছু শপিং করবো” ।   “আমার যাওয়া হবে না পিয়া”। 

“আমি বুঝতে পারছি কেন যাবে না”। তোমার কাছে টাকা নাই তারতার জন্যজন্য। 

“আমি থাকতে তোমার কোনো সমস্যা হবে না মামুদ, চলো কালকে তাহলে “। 

অনেক ঘুরাঘুরি করার পর সপিং করে, আসার মূহুর্তে, পিয়ার বাবা দুজনকেই দেখে ফেলে। 

পিয়া তোমাকে বাড়িতে ছেড়ে আসি, চলো। যেতে যেতে মামুদ পিয়া কে বলে, “পিয়া তোমাকে যদি হারিয়ে ফেলি, আমি কিন্তু পাগল হয়ে যাবো”। 

“পিয়া তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না “। 

“ I love you পিয়া,” মামুদ বাড়িতে বিয়ের কথা বলছে, আমি এখন বিয়ে করতে পারবো না,

অনেক ম্যানেজ করছি, এটা মনে হয় পারবো না। পরিবারের চাপে বিয়ে করতে হবে, আমি যতটা পারি ম্যানেজ করবো মামুদ। 

তুমি কাঁদছো মামুদ, এটা মনে হচ্ছে শেষ বাড়ি করে ছেড়ে গেলাম, আর দেখা হবে না পিয়া, আমার মনে হচ্ছে। 

“পাগল কোথাকার কাঁদতে নেই “, মামুদ আমি কিন্তু থামতে পারছি না, আমার কান্না বেরিয়ে আসছে “, প্লিজ মামুদ এখন কান্না করো না, আমার বাড়ির কেউ দেখে নিবে। 

পিয়া আমি কিন্তু কালকে আমার বাবা – মাকে দুজনের সম্পর্কের কথা বলবো। 

“দেখো মামুদ তোমার পরিবার মেনে নিলেও”, “আমার বাবা কিন্তু মানবে না “। 

ঠিক আছে কাল তাহলে দেখা হচ্ছে পিয়া। 

মামুদ বাড়ি গিয়ে একটা ফোন দিবে, তুমি সাবধানে বাড়ি যাও।


(একমাস পর পিয়া সাথে দেখা) 

পিয়া তোমাকে আমি পাগলের মত খুঁজেছি, তোমার বাড়ির সামনে এসে কতদিন ঘুরে গেছি, তোমাকে একটি বারের দেখার জন্য, তোমার ফোনের অপেক্ষায় সবসময় বসে আছি। কবে তুমি একবার ফোন করবে। 

“তোমার কি একবারও দেখার ইচ্ছে করনি”! 

“আর তুমি শাড়ি পড়ে আছো, হাতে নতুন চুড়ি, বা হাতে তোমার কি এটা, আংটি মনে হচ্ছে”। 

“তুমি কি বিয়ে করে নিয়েছো “। 

একটি বারের জন্য আমার কথা শোনো মামুদ, তুমি পাগলের মত করো না,  প্লিজ শোনো মামুদ। 

“সেদিন রাতে আমাকে মা বেধড়ক মার মেরেছে, এমনকি ফোনটাও ভেঙে দিয়েছে, তোমার সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তার পরের দিন কলকাতায় চলে জোর করে আমাকে নিয়ে চলে যায় এবং মামার বন্ধুর ছেলের সাথে বিয়ে দিয়ে দেয়”। 

আমি আর কি করবো ভেবে পাচ্ছি না, আর তোমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ, না হলে আমি পালিয়ে আসতাম শুধু তোমার জন্য, তোমাকে একটিবার দেখার জন্য, আমার মামুদ কি অবস্থায় আছে, শুধু পরিবারের জন্য তোমাকে হারাতে হলো। 

এমনকি বাবা বলছে “ তুই যদি ওই ছেলেটার সাথে মেলামেশা ও যোগাযোগ করার চেষ্টা করিস , তাহলে আমার মরা মুখ দেখবি “ । 

তখন আমার কিছুই করার ছিল না মামুদ।

 “পরিবারের পছন্দ মতো ছেলেকে বিয়ে করে আমি সুখী আছি, সুখী নাই মামুদ বয়সের চাইতে দ্বিগুণ বয়সের ছেলেকে বিয়ে করে মানসিক প্রশান্তি নেই মামুদ” । 

বাবা- মা শুধু “ সরকারী চাকরিরত “ ছেলের সাথে বিয়ে দিয়েছে, আমার মেয়ে সুখে শান্তিতে থাকবে  এই ভেবে। 

“মামুদ তুমি আমাকে ভুলে যাও, আমার থেকে ভালো মেয়ে পাবে, সে তোমাকে আমার থেকে বেশি কেয়ার করবে”। 

“ভুলে যাও তুমি আমাকে, ভু- লে  যাও”। 

পিয়া তুমি জানো,” তোমাকে ভুলে যাওয়া তো দূরের কথা “। 

“তোমাকে ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না”।“আমি বেকার তাই, তোমার পরিবার আমার ভালোবাসার মূল্য দিলো না, এমনকি তুমিও “

  এরপর থেকে মামুদ সমস্ত নেশা করতে থাকে, মানসিক চাপে পাগল হয়ে যেতে শুরু করে। 

 প্রতিটা বাবা – মায়ের এই সমস্ত ভ্রান্ত ধারণা ভাঙতে হবে, সন্তান কোথায় ভালো থাকবে, কার সাথে ভালো থাকবে এটা কোনো মেয়ের বাবা ভাবে না। ভাবে শুধু সরকারি চাকরি করে, মানে ছেলে ভালো।  বেশিরভাগ মেয়ে  বলে সুখে আছি, কিন্তু তার অন্তরে শুধু কোথায় যেন অশান্তি, অসুখী থেকেও তার সাথে সংসার করে সারাজীবন কাটিয়ে দেয়। 

এই ভাবে পিয়ার কথা ভাবতে ভাবতে দিন যায়, মাস যায়, বছরের পর বছর যায় পিয়ার স্মৃতি নিয়ে পাগল হয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে থাকে মামুদ। 

শত শত মামুদ তাঁর ভালোবাসার মানুষটিকে না পেয়ে পাগল হয়ে যায়, কেউ এই পরিস্থিতিতে কোনো মেয়েকে কাছে পেয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, আর কেউ কাউকে না পেয়ে একাকিত্বের মধ্য দিয়ে নদী ভাঙনের মতো, এক মূহুর্তে সমস্ত কিছু যেন ভেঙে চুরমার করে দেয়, সেরকমই মামুদের জীবনে হয়েছিল। 


০৪/১০/২০২০

মহুয়া চক্রবর্তী


জীবনের প্রাপ্তি


এই জীবনে যেটুকু পেয়েছি

ভালো কি মন্দ দেখার সময় আজ আর নেই,

হাসিমুখে সবটুকু কুড়িয়ে নিয়েছি

কত আশা ভালোবাসা গভীর হৃদয় তলে

ঢেকে রেখেছি বুকে কত হাসি অশ্রু জলে।

দুচোখে আজ খরা নেমেছে কান্নার অবসর নাই।

সবার মুখের হাসি টাই

আজ আমার সকল দুঃখকে করে ছাই।

দিনের শেষে তব সম্মুখে দাঁড়াইনু

ওহে পরমেশ্বর

নিজ কর্ম করিয়া স্মরণে

সাঝের বেলায় সঁপিলাম তব চরণে।

তুমি যে জীবন দিয়েছো আমারে

নিজেই বিনাশ করি আজ নিজেরে ,

যা পেয়েছি এতেই খুশি আমি

আমার কাছে এটাই যে পরম দামি।

আমার যা আছে দোষত্রুটি যত

সবার কাছে নত হয়ে ক্ষমা চাই শত।

হয়তো সেদিনের  কোনো সন্ধ্যায়

অসমাপ্ত হয়ে রয়ে যাবে

আমার জীবনের শেষের কবিতাটায়।

এ.বি.এস ফাহিম



দূর্বোধ্য শহর



এই শহরটা খুবই দূর্বোধ্য লাগে।

কি? মেঘমেদুর বারিষা বয়ে চলে- 

হৃদয়ের মণিকোঠায়। 

এখানে মানুষ আয়োজন করে জন্মালেও,

বেওয়ারিশে লুটে পড়ে ব্যস্ত শহরের বদ্ধ ডাস্টবিনে।

ব্যাংকের নিকাশঘরটা কফির আড্ডায় মেতে উঠলেও,

ক্ষুধার্ত থাকায় বালকরা খুব বেশি কাঁদতে পারেনা-

তাদের মায়ের জন্য।

এই শহরে মানুষের চেয়ে পশুর রাজত্ব বেশি।অথচ-

কি নিদারুণ মানুষের মুখোশের আড়ালে তারা কাব্য রটে!


আচ্ছা এই শহরটা এমন কেন...?


এইখানে রোজ পঁচা লাশের গন্ধ শোকে- বৃদ্ধাশ্রম। 

ধর্ষকদের নিপীড়নে মা-মেয়ে উভয় খুঁজে আশ্রয়।

এই শহর ধর্ষকদের আগলে রাখে,মেরে ফেলে কবিদের।

পরাধীনতায় ডুবে আছি, নেই স্বাধীনতা মোদের।


এই শহরে নীল অপরাজিতারা ফুটে উঠতে ভয় পায়।

ভয় পায় ভাবলেশহীন উড়তে থাকা চিলগুলো। 

এইখানে ছুঁয়ে দেবার আগেই ঘুমিয়ে যায় লজ্জাবতীরা।

কেন এত অনাদারে পড়ে রই শহরটা।

আমরাও বাঁচতে চাই, বাঁচাতে চাই এই মলিন শহরকে?

মিটু রানী শর্মা




মায়া ঘেরা জগৎ


এই জগৎটা বড়ই বিচিত্র 

মায়ায় ঘেরা অপরূপ নাট্যমঞ্চ,

জীবনের তাগিদে চলছে অবিরত 

জীবনটা হচ্ছে একটা রঙ্গমঞ্চ। 


সারাদিনের ব্যস্ততা শেষে শান্তির ছায়ায়

খুঁজে মন একটু আরাম আয়েশ,

তাইতো মায়ার টানে ছুটছে বেগে

পাওয়ার আশায় করছে জীবন শেষ। 


কতো অবহেলা কতো যন্ত্রণা সহে

পার করে যায় জীবন বেলা,

মনে হচ্ছে মায়া ঘেরা জগৎ মাঝে 

জীবনটা এক পুতুল খেলা। 


যখন হাজারো কষ্ট বুকে দানা বাঁধে 

একাকীত্বে আনমনে লুকিয়ে কাঁদে,

মনে ভাবে ভবো মায়া ত্যাগে সুখ

কি হবে সাজিয়ে সংসার?মনের সাধে।


একদিন তো যেতেই হবে অন্দরমহলে 

সুন্দর এই পৃথিবী ছেড়ে, 

তাহলে কেন মৃত্যুর কথা মনে হলে

চোখের কোণে জল ঝরে।


কেন এত মায়া?কেন এত প্রেম?

নিঃস্ব হতে চাইলেও পারে না মন,

বেঁধে রাখে প্রকৃতির মায়ায়

আবদ্ধ করে রেখেছে,মায়া ঘেরা জগৎ জীবন।

নূরুজ্জামান হালিম




কবি


কবি খুব লোভী হয় 

গোপনে গোপনে, 

ভীতু তাই থিতু রয়

শয়নে স্বপনে।

সুরা আর সাকি তার

মননে মননে,

বাহিরে সে সৎ সাধু

সর্বভুক মনে।

তুহিন কান্তি ভট্টাচার্য এর ছড়া



দাদু-নাতি


দাদুর কাঁধে বসে নাতি

খিলখিলিয়ে হাসে

দাদু ভাবে, বাঁদর কেন

আমার আশেপাশে!


‘দাদু তুমি ছোট্ট বাবু

নেই মোটে দাঁত মুখে

খাওনা বুঝি আখ-পেয়ারা

দাঁত হারানোর দুখে!  


 মাথার ওপর মরুভূমি

চর জাগে কি টাকে?

চুল বুঝি সব নিয়ে গেছে

কুচকুচে দাঁড়কাকে!


চোখ দুটিতে চশমা কেন

কম বুঝি তার জ্যোতি

না হয় কিছু ঘাস খেলে রোজ

খুব কি তাতে ক্ষতি!


নাতির কথা শুনে দাদু

মিটমিটিয়ে হাসে

এবং বলে, ‘জবাব পাবি

তোরও সময় আসে।’