২৮ নভেম্বর ২০২০

রেহানা বীথি



কমলা পাহাড়ের আগুন ও নক্ষত্র দৌড়

তারপর খুলে রাখলাম জলের বোতল 

আর চেয়ে দেখলাম 

কোনও কোনও হারিয়ে যাওয়া কিংবা আবির্ভাব 

যখন নক্ষত্রদের একান্ত দৌড়ের ভেতর 

আমরা তো কিংবদন্তি ভ্রমণ পিপাসু 

আমরা তখন তারাদের সাথে হাত মেলাচ্ছি... 

ক্যানভাসে এঁকে নিতে চাইছি  অর্ধসমাপ্ত সেই মুখচ্ছবি 

জলের বোতল থেকে বেরিয়ে আসছে বুদবুদ 

একটি শলাকা এবং বারুদের গন্ধে 

পুড়ে ছাই হতে হতে একটি কমলা পাহাড় 

নিজস্ব আগুন জ্বেলে দিচ্ছে সপ্তাহের জমানো স্তূপে

শ্যামল রায়



কবিতার জন্য প্রহর গুনছি 

কবিতার নাম আর কতক্ষণ

কবিতা তুমি কি করছো ---

খেয়েছো?

সব কাজ সেরে ফেলেছো?

আর কতক্ষণ!

আমাকে অপেক্ষা করতে হবে?

কবিতা তোমার সাজগোজ হয়েছে

আকাশী রঙের শাড়িটা

ঠোটে লিপিস্টিক

কপালে টিপ

এসবের কাজ

শেষ হয়েছে কবিতা!

আর কতক্ষণ

আমি তো অপেক্ষা করছি

অনুভবে অনুভূতিতে  প্রহর গুনছি

দু ঠোঁট এগোচ্ছে বারবার

ভালোবাসার কাছাকাছি

সম্মতি চাইতে----

কবিতা তুমি কোথায়?

তোমার চিঠিটা এখনো খামে আছে

মন বলছে ,চিঠির মধ্যে

 তোমার অনেক আদর সযত্নে রাখা

এখন শুধু অপেক্ষা রিংটোন এর

খুঁজি বৃষ্টির জন্য

উষ্ণতায় তোমার হাত দুটি ।

আঙ্গুলগুলোয় ছুয়ে দেখতাম

আর কতক্ষণ।

তোমার জন্য বালিশের কাছে

 রেখে দিয়েছি, গোলাপ

একটি রিংটোন পেলে

শরীরের ভেতর অনুরণন হতো

তাই প্রহর গুনছি

 অপেক্ষার পর অপেক্ষায়।

অলোক দাস এর আতিত জড়ানো মুক্তগদ্য



জেনারেশন 

অপূর্ব বিশ্লেষণ, এতো আমার জীবনের কথা, হ্যাঁ, কলেজ পাশ কোরে হটাৎ প্রফেসর দেখা দিলে রাস্তায়, সিগারেট অমনি মুখ থেকে পড়ে যেতো, ছেলে মেয়ে একসঙ্গে গুলি খেলেছি, ভাইবোন হারিকেনের আলোয় চিৎকার কোরে পড়াশুনা করেছি, পাঠশালাতে মাস্টারমশাই বেত দিয়ে মারতো যদি অঙ্ক ভুল হতো, বাড়ি এসে কিছুই বলতাম না, পাড়ার দাদারা কিছু অন্যায় করলে মারতো, বাড়িতে বলতাম না, বেশি সময় মাঠে খেলতাম, আজ আর মাঠটা নেই, দশতলা বাড়ি হোয়ে গেছে, পুকুরে ছিপ ফেলতাম, অনেক মাছ ধরতাম, পুকুরের মালিক এলে, জামা প্যান্ট সমেত পুকুরে জাপ মারতাম, ভোর চারটে উঠে দুই বন্ধু মিলে আম চুরি করতাম, মালিক বলতো কে? আমরা বলতাম তোর বাবারে, মালিক ভয়ে আলো নিভিয়ে দিতো, সেই গাছ ও মালিক ও নেই, বাড়ি হয়ে গেছে, পুকুরে বিনয় ও আমি দু ঘন্টা চান করতাম (বিনয় পাঁজা, মোহনবাগান ক্লাবের স্ট্রাইকার ছিলো ), বাড়ির পাশে জঙ্গল ছিলো, শিয়াল ডাকতো, স্কুল ছুটি দেবে না, এ কখনো হয়, সামান্য বৃষ্টি, সবাই মিলে সব বেঞ্চি জলে ভিজিয়ে দিতাম, হেডমাস্টার আসতো, মালি ঘন্টা বাজিয়ে দিতো, ছুটি ছুটি, আমাকে ভাড়া কোরে ক্রিকেট খেলতে নিয়ে যেতো অনেক ক্লাব, বন্ধুরা বাড়ি আসতো, চ আজ খেলা আছে, আমি হয়তো মাদুর পেতে পড়ছি, মাকে বল, মাসিমা আজ খেলা আছে, মাকে ভীষণ ভয় পেতাম, চার /পাঁচটা উইকেট বাঁধা ছিলো, কতো প্রাইজ, আজও আছে, হ্যাঁ, আমরাই শেষ জেনারেশন, বয়স্ক বৃদ্ধ, বৃদ্ধাদের সম্মান করেছি, আমরাই রেডিওতে BBC খবর ও গান শুনেছি, এখন আর ভেসে আসে না, আকাশবাণী, খবর বলছি দেবদুলাল বন্দ্যোপাধ্যায়, নমস্কার,

মাহমুদা রহমান ( যুক্তরাষ্ট্র )



ফেরিওয়ালা 

আমি ভালোবাসার ফেরিওয়াল

 নই ,

আপন মনে মনের কথা কই !

মন যে এক উদাসীন গায়ক পাখী ,

হৃদয়ের ধূলা মাখামাখি কাদা  

মুখ লুকিয়ে কাঁদি ! 

গাছের মত ছায়া আমার নাই ,

রৌদ্রজলে কাতর আমি তাই ,

সবার দুঃখে ভারাক্রান্ত হই 

জন্ম কেনো বিষন্নতা নিজের 

মনে সই।

আব্দুল কাইয়ুম (প্রিয়ম)


  ছ্যাঁচড়া যাযাবর

যার জন্যে বাঁধি ঘর

সেই আমারে করে পর।


হাতের তালুর উল্টো পিঠে মুঁছি চোঁখের জল

জলের মূল্য দিবে দেখি কেউ নাই এ ধরাতল!


কেঁটে ফেলা বৃৃক্ষের যে ঘোড়া 

অনেক কষ্টের পর

 ফের সেও দেয় জন্ম  ডাল দুই জোড়া।


ছোট গল্পের মতো শেষে রয় সে রেশ

সেখান থেকেই শুরু বেশ

ভাঙনে ভাঙনে ফের মনটা ভাঙাচোরা।


তার বহু বছরের ও পর

আসলো যে মেঘ বালিকা

প্রযত্নে দিলো মনোবল আমি তো আছি

নিজে যে করে নিলো ঘর

ভাবা যায় অতঃপর

খেলারত সেও করিলে শেষে পর।


মুখোশ পরিহিত  

নকল মানুষ দেখেছি জীবনভর


আমাকে রাত জানে ভালো আপন

জানে পথের ধুলাবালি অলিগলি তেপান্তর -


জানে আকাশের তারা

 মিটিমিটি জ্বলা নেভা জোনাকিরা

জানে শুল্কপক্ষের চাঁদের আলো ছু-মন্তর 

 আমি সব হারিয়ে  নিঃস্ব;  এক ছ্যাঁচড়া যাযা

প্রবীর বেপারী




 গোধূলী বিকাল

গোধূলী বিকালে বসেছি নির্জনে 

মিষ্টি রোধ বিদায় জানালো

আঁধার আসলো নেমে।


হঠাৎ দৃষ্টিতে সম্মুখে তাকাতে 

দেখতে পাই এক প্রতিচ্ছবি,

ধূসর কালো কেশে 

দাড়িয়েছে সকাশে

অধরে মৃদু হাসি।


হস্তে প্রদীপ পড়নে শাড়ী

মনে হয় যেন সে প্রেমের রাই কিশোরী।

কি অপরুপ দেখিতে সেই রুপ!

ভুলিতে নাহি কোনো কালে,

সে প্রেমের পূজারী দীন ভিখারী

আমি বন্দী তার মায়াজালে।

২৭ নভেম্বর ২০২০

পরাণ মাঝি



বাকি 


আজ আবার নতুন করে বর্ণমালা শেখালে 

সত্যি তো ডিগবাজি খায় লি - কার


বোঝা গুলো নেমে গেল ফাঁকা মাঠের দিকে


সঞ্চয় বড় সম্পদ 

আর তাকে রক্ষা করা আরো বিপদ 


আরো আরো অনেক পথ বাকি

আরো অনেক অনেক হাঁটা বাকি 


ভাবনা গুলো খুঁটে খায় জীবনের পাখি 

পথ তো তার মতো - সে কখনো সোজা হয় নাকি ?

রাহুল ঘোষ এর মুক্তগদ্য পড়লেই মন কেমনের গল্পঃ (পড়তেই হবে)



পুরোনো খসড়া থেকে

*১*.

রোগশয্যায় উবু হয়ে মেঘ ও মনকেমন লিখতে গিয়ে মনে পড়লো, এই লেখা দেওয়ালে লাগালেই আবার ঠাট্টার ঝড় উঠবে! তোমার সঙ্গে সেই গজব তামাশায় যোগ দেবে কাকেশ্বর কুচকুচে। অট্টহাসে মাতবে পুরোনো এবং নতুন হরিদাস পাল। অতএব আমি একটা রাগী লেখা লিখবো! কিন্তু রাগী লেখাটার জন্য একটা নিশ্ছিদ্র রাত চাই। আমি এখন সেই রাতের সন্ধানী।


বিনিদ্র রাতেরও নিজস্ব উদযাপন থাকে। রাতের বুক চিরে ধাত্রীশহর যাওয়ার ট্রেন থেকে শুধু সেই উদযাপন দেখবো বলে আমি জায়গা পাল্টে একটা সাইড-লোয়ার বার্থে চলে যাই। রাতের প্রকৃতি খুব মন দিয়ে দেখলে বোঝা যাবে, কী এক আশ্চর্য খেলা! বুঝে গেলে আফশোস হতে পারে, কতটা সময় আমরা ঘুমিয়ে নষ্ট করি! হু-হু হাওয়া আর একের পর এক জনহীন স্টেশন পেরোতে-পেরোতে মনে পড়লো, কয়েকদিন আগেই একটা কবিতা-বই রিভিউ করলাম। নিরালা জংশন। বইটাও যদি নামটার মতো সুন্দর হতো! কিন্তু নাম তো বইয়ের মলাট। নাঃ, ঠিক বললাম না! নাম আসলে বইয়ের মুখের মলাট।


মুখের প্রসঙ্গে মনে পড়ে, নিজের 'মায়া-মায়া' মুখটাকে খুব অপছন্দ হচ্ছে ইদানীং! নার্সিসাস নই, কিন্তু মুখটাকে বেশ পছন্দই করতাম। কিন্তু এখন থেকে আমি নিজের একটা চালাক-চতুর মুখ রাখতে চাই। চশমার আড়ালে চাই মানানসই দুটো ধূর্ত চোখ। ওদের যেরকম আছে। ওটাই এখন দস্তুর। অর্ডার অফ দ্য ডে!


আজকাল অনেকেই বলে, দেওয়ালে লেখা লাগাতে নেই। এরকম ভুলভাল লিখলেও, না! লেখা চুরি হয়ে যায়। এমনকি বাক্যও! এমনকি শব্দও! এমনকি ভাবনাও! আমারও তাই মনে হয়। কিন্তু এটা আর লেখা হলো কই! বড়োজোর খসড়া। লেখা আর কাটা। কাটা আর লেখা। শেষমেশ শুধুই কাটা আর কাটা! কুচিকুচি করে। এইসব কাটাকুটি চুরি গেলে, যাক। যানে ভি দো ইয়ারোঁ! রাগী লেখাটা না-হয় পরে একদিন লিখবো। ওই কথাই রইলো তাহলে। চলো, ডান!


*২*.

ঘড়িতে তিনটে-চল্লিশ মানে 'বিফোর টাইম'। রাতের অন্ধকার চিরে ঝলমলে প্ল্যাটফর্মে রেখে দিয়ে গেল ট্রেন। আরও যারা নেমেছিল, তারা সব গেল কোথায়! একটু আগেভাগেই এসে পড়েছি, ধাত্রীশহর। এখনই ঘরের দিকে যাওয়ার কোনো মানে হয়! আমি বরং আরও কিছুক্ষণ রাতের অকপট রূপ দেখি। 


আমি স্টেশনের ভিতরে দাঁড়িয়ে কফি খাই, স্টেশনের বাইরে গিয়ে সিগারেট। খবর-কাগজ ছেপে নিয়ে আসতে শুরু করা গাড়িগুলো দেখি। তাদের কাছে নিজেদের ভাগ বুঝে নিতে হকারদের কী ব্যস্ততা! কালকেই কিন্তু এই কাগজগুলো ঠোঙার সমান হয়ে যাবে! আমি একমনে ওদের একদিনের আয়ু দেখি। এত রাশিরাশি অক্ষরের অপচয় দেখি। 


অপচয় অবশ্য চরাচরের সর্বত্র আছে। গমরঙের চড়াই-উতরাই থেকে আকণ্ঠ শুষে নেওয়া আলোর সব স্বাদ আমার লেখায় অজস্রবার আসে। আসতেই থাকে। সেও তো একরকমের অপচয়! অক্ষরের নয়; অনুভূতির। কারণ, তারপরেও যেমন চেহারায় দাঁড়িয়ে থাকে এই আদিগন্ত, তাকে অন্ধকার ছাড়া আর কোনো নামে ডাকা যায় না। তবুও আমার তো চিরকালই 'বেচারা দিল ক্যায়া করে, সাওন জলে, ভাদো জলে'! 


ঋতুর কথা এল যখন বলি, নকল হেমন্তজাতকে ভরে গেছে পৃথিবী। মুখোশেরা সহজেই মানুষের রূপ ধরে থাকে তাই। মিথ্যার ব্যক্তিগত কুহক নিয়ে বেঁচে আছো ভ্রান্ত মানুষ! তবুও আমাদের যাবতীয় ছয়-নয় এবং নয়-ছয়ের দিব্যি, মুখোশদের ধারেকাছে তুমি যেয়ো না কোনোদিন। 


সকালের আলগা পায়ের শব্দে ঘুম আসে, কিন্তু ঘোর ভেঙে যায়। এখানে শহর জেগে উঠছে। ভোরের প্রথম ডাউন ট্রেন ঢুকবে এখনই। মর্নিং-ওয়াকারদের সঙ্গে পা মেলাবো আজ? নোটবুকের এই পাতাটিকে মুড়ে রাখবো। দূর থেকে আশা ভোসলে আবার ভেসে আসবেন, 'আসবো আরেকদিন, আজ যাই'!

প্রেমাংশু শ্রাবণ কবির



পদ্যবীজ

যে-দিন প্রেমের সঙ্গে থাকি 

পাল্টে নিই ঘুম সংজ্ঞা , 

ঘুণে ধরা রতিব্যাকরণ।


আমার অনন্তে তুমি 

তোমার অনন্তে আমি 

দেহ জলে ডুবে আছে---

ঝরে পড়া মন। 


ভুলে গেছো, যাও...

তবু আছে একটা ছোট্ট দায়, 

মনে রাখা শেখালে যখন 

এবার শিখিয়ে দাও 

ভোলার উপায়।

মধুমিতা রায়



সে


সেই ছেলেটা ভীষনরকম আবেগপ্রবণ

কঠিন খোলে ঢেকে রাখে নরম শরীর

সেই ছেলেটা একগুঁয়ে আর বড্ড সরল

বুকের মধ্যে লুকিয়ে রাখে কষ্টপ্রহর।


সেই ছেলেটা ইচ্ছে করে শুধুই ক্ষেপায়

ইচ্ছে করে বানিয়ে বলে গল্পকথা,

চোখের তারায় ঝিলিক ভরা দুষ্টুমি

সেই ছেলেটা ভীষন পচা, এক্কেবারে যা তা।


সেই ছেলেটা সত্যি ভালবাসতে পারে,

সত্যি পারে জিতে নিতে সব বাজি,

নিঃশব্দেও বলতে পারে সবকিছু

হয়ত সবই গভীর চোখের কারসাজি!


যাদুর কিছু ব্যাপার স্যাপার তার জানা

আঙুল ছোঁয়ায় ঝরায় কিছু শিউলিফুল

ঝুঁকে পরা চুলের ভাঁজে ভাঁজে

জমিয়ে রাখে মেঘগন্ধী মন ব্যাকুল।

অর্কদীপ সরকার



ব্যর্থ এ শৈশব


ঘাসের বুকে পা রেখে আকাশ পানে চেয়ে থাকা

বৃষ্টিভেজা শীল কুড়ানোর অনুভূতিরা বড্ড ফাঁকা।।


পুকুরঘাটে জলের বুকে দস্যি শিশুর উঠতো ঢেউ

অনলাইনে ক্লাস আছে যে, পুকুর ঘাটে যায় না কেউ!!


বিকেল বেলায় একটু খেলা কংক্রিটের ওই দালান টায়।

ছটার সময় ড্রয়িং আছে, তাড়াতাড়ি আসা চাই।।


মোবাইলের কীপ্যাডে ক্রিকেট আর ফুটবল

একলা ঘরে আটকে আজ নজরুলের তরুণ দল।।


পশ্চিমের অস্তাচল, বাসায় ফেরা পাখির ডাকে।

বঞ্চিত অনুভূতি! রবি, রুশোরা বইয়ের পাঁকে!!

নীলাঞ্জন কুমার



না হয় হলো সাদামাঠা কবিতা 

মেগা সিরিয়ালের মতো সাদামাঠা  কবিতার 

ভেতরে ছুটে আসে হাজারো কৌতুক , 


তা পড়ে নারীদের চাবুক অনুপ্রেরণা , 

পুরুষের ভেতরে উপেক্ষার শেড।


খাওয়া শোওয়া কামনার ভেতরের 

সহজ দিক জাপটে ধরলে 

কেন যে দমবন্ধ লাগে !


না হয় এলো সাদামাঠা কবিতা 

অন্তত একটি, কোন উদাসীন চাহিদায় ; 


হরেক দৃশ্যের থেকে প্রকৃত দর্শন 

নাই বা হল উচ্চারণ !


মাখো মাখো হাততালির ভেতরে 

অন্ততঃ একটু দুঃখ ছোঁয়া থাক।

ওয়াহিদা খাতুন


চাই সাম্যের অধিকার

ক্ষমতার সমতা হোক ন্যায্যের দাবি,

আর্য-অনার্য মিলে সবাই করি পণ,

মনুষ্যত্বের হাতে আসুক যক্ষ-চাবি;

ফসলের ভাণ্ডার হোক সম বন্টন,

কৃষ্ণাঙ্গ-শ্বেতাঙ্গ নয়--মন করো সাদা--

বিত্ত-ভৃত্যের পার্থক্য অনেক তো হলো;

বন্ধু,অন্তর দহনে আর নয় কাঁদা--

সবাই হেসে বাঁচবো উচ্চ শিরে বলো;


পুত্র-কন্যা,অজ্ঞ-বিজ্ঞ,সব তাঁর দান--

 জাতি-ঈর্ষা,উচ্চ-নীচ মুছে দাও ভাই-- 

নিছক ক্ষোয়াচ্ছ কেনো মানব কল্যাণ?

মনুষ্যত্বের উপরে আর কিছু নাই;


ভুলে যাও বৈষম্য সাম্যের করো জয়--!

মুক্তচিন্তায় বিশ্ব,হোক আলোকময়--!!



রচনাকাল:--২২/১০/২০২০ দুপুর ১টা ৩ মিনিট! (সনেট নং ৩০)