০৬ নভেম্বর ২০২০

সুপ্রীতি বিশ্বাস

শুধু কবিতাকে 



জীবন্ত অক্ষরের মতো 
সবুজ দুর্বার মখমলে 
অক্ষরে অক্ষরে গড়ে ওঠে ইমারত 
গড়ে ওঠে বর্ণে বর্ণে  সাজিয়ে শব্দের উদ্যান 
প্রশ্ন জাগে মনে এ সব কি আমার জন্য ,
আমি যখন জানালার ধারে বসে 
ওই নীল আকাশটাকে দেখি 
ছুটন্ত বাস কিংবা ট্রেনে 
চলেছি একাকী কোথাও কোন খানে 
তখন কন্ঠস্বর ভেসে আসে কানে 
আবেগে হারিয়ে যাই সুদূর দিগন্তের ...
মোহময় কোন এক অস্পষ্ট আলোয় !
সেই আলো বুকে নিয়ে পরে আছি  
শুধু কবিতাকে ভালোবেসে

কবি মিশ্র

 প্রতিবেশী 

আমরা ছিলাম অতি কাছাকাছি-পাশাপাশি

কেউ কারো খোঁজ রাখি না...

এক ওড়া পতঙ্গ খবর দিলো এপাড়ায়...

কিছু আগন্তুক এসেছে ,করছে আলোচনা..


দেখাটাই সব হোলো, অন্তর ফাঁকা


থামো থামো কেন করো , ধ্বংসের গান...

অসহ্য কুঠারাঘাতে শেষ হল আরো কিছু প্রান...

হা হা কারে ভরে গেল প্রকৃতির কান...


প্রানপনে চিৎকারি, ফিরে আয় ওপাড়ার তুই...

সুখে দুখে মোরা থাকি ভাই ভাই...


দিন যায়, রাত যায়, বছরের শেষে

সব ঋতু বুঝি বরণ করল এসে...

ছুটে এল ওপাড়ার নীড় ভাঙা পাখি...

আবার এসেছে ফিরে , কলতানে ভরে উঠে আঁখি...


নতুন পাতা , ফুলে,  ফলে উঠল ভরে ও পাড়ার ঘর...

সুখে দুঃখে দুজনেই ..আমরা দোসর...

হাননান আহসান

 স্বপ্ন উড়ান

আকাশটা নীল, ফুরোয় না যে

পাহাড় একা সবুজ মাখে

চোখ জুড়োনো দৃশ্যপটে 

অজান্তে দূর তুষার ঢাকে।


ছুটছে ফেনিল নদীর খাতে

আমোদিত জলের ধারা

শেষ বিকেলের রামধনু রোদ

ইচ্ছেডানায় মেলছে পাড়া।


আলতো বাতাস বুলোয় পরশ

ক্রমান্বয়ে মেঘরা খেলে

পলক পড়ার আগেই খুশি

আনন্দ কেউ দিচ্ছে ঢেলে।


দুধ সাধা রং চতুর্দিকে

ঘুম ছুটে যায় পক্ষী-তানে

বৃক্ষ সুবাস গুলঞ্চ ভোর

কী অপরূপ বাজছে কানে।


কোথায় এমন স্বপ্ন উড়ান

ভিতর বাহির অহমিকা 

একটা টিকিট কাটুন দাদা

পৌঁছে যাবেন ঝিকিরঝিকা।

শান্তিব্রত চট্টোপাধ্যায়

 ঝাঁকড়া ভালু আলুথালু

একটা ভালু আলুথালু

একলা একা কাঁপছে জ্বরে

ধুলোয় শুয়ে দিচ্ছে গড়াগড়ি

হঠাৎ উঠে তড়বড়িয়ে

দাঁত খিঁচিয়ে কড়মড়িয়ে

মৌজ করে চেবায় রাঙা আলু।


বন ছেড়েছে কবেই ভালু 

এখন শুধু হেলেদুলে

ঘুঙুর বাজায় ঢেঁকুর তুলে

এই গলি আর সেই গলিতে

বোল ওঠে যেই ডুগডুগিতে 

থপথপিয়ে কোমর দোলায় কালু।  


নাছোড় মালিক বড্ড চালু 

সকাল বিকাল সন্ধ্যাবেলা

নাচার কালুর চলছে খেলা 

সবাই খুশি, খুশির ঝড়ে

ঝনঝনিয়ে পয়সা ওড়ে 

ঝরনা চোখে দেখতে থাকে ভালু। 


আর পারে না ক্লান্ত কালু

দাওনা ওকে বিদায় ছুটি

করুক না হয় লুটোপুটি

সেই সে গহন নিজের বনে

মুক্ত সুখে আপন মনে

ঝাঁকড়া ঝামর ভালুক আলুথালু।

পরাণ মাঝি

 দূরত্ব


যেখানে  তুমি সেখানে আমি , আমরা সবাই 

এক পৃথিবী । দূর কেন বলো ?


দূরকে নিকট করতে জানলে ভয় কিসের ? পুরোটাই তো তোমার --

সৌগত রাণা কবিয়াল

 যদি জানতেম....



তুমি অধরে দিলে যন্ত্রণা..

আমি সেই নেশা নিয়ে অনন্ত অঙ্গন পরিপূর্ণ করে ঘরে ফিরলাম...


তখন আমার পায়ে শ্রান্ত যৌবনের ক্ষত..

কিন্তু দৃষ্টির কৃষ্ণগহ্বরে অনবদ্য প্রাপ্তির আলো...


তুমি নির্বাক-ধূসর শূন্যতা রেখা ধরে উমাবতী মুখ তুলে চাইলে আমার শরীরের বিবর্ণ প্রজাপতি ডানায়....


আমি আমার হৃদয় সহবাসের সুখময় স্মৃতি পাঁজরের আড়ালে লুকিয়ে কাঁপা দু-হাত উমা অঞ্জলির জন্য মৃত্তিকা নত করে এগিয়ে দিলাম...


তুমি অস্ফুটস্বরে অবজ্ঞার ক্যাকটাস গায়ের হলুদাভ পাপড়ির মতো আমার দিকে তাকিয়ে করুণার তরঙ্গ ছুড়ে দিলে দেহে নিয়ে শতপারিজাত রুপ...


তারপর সুদীর্ঘ একটা মিথের চাদর...

আমি আমার অদূরে নিজের উপহার হিসেবে নিজেকেই দেখতে পেলাম...


অমর মহাকাব্য শুধু একটি পরিহাস মাত্র..

এরপর আর কোনদিন পৃথিবীর কোন মানুষের মুখে আমি স্বমর্পনের সুখ দেখিনি.....!!


এখন আমি,

জানালার কাছে তোমার স্থীর চিত্রের বদলে প্রতিদিন ভোরে একটি করে মৃত প্রজাপতি স্কচটেপে আটকে উৎযাপন করি সময়ের উপযুক্ত বিসর্জ্জন...!

০৫ নভেম্বর ২০২০

দুর্গাদাস মিদ্যা

 অসহায় বলিদান




বেশ কিছুদিন হল 

চোখের সামনে থেমে আছে পথ 

হাত পা শিথিল

অচেনা শত্রুর ভয়ে দরজায় খিল আঁটা।

মুখোমুখি কথা নয় 

যাবতীয় চারণভূমি শশ্মান

এখন শুধু বাঁচার তাগিদে

পথের অনুসন্ধান। 

এত দুর্ভোগ  এত দুর্যোগ

দেখে অন্ধ হয়ে যায় চোখ

নেই সমাধান এ যেন অসহায়

বলিদান সময়ের কাছে।

शोहली बिस्वास

 हर माँ के लीये




शोएली बिस्वास द्वारा इक कविता हर माँ की ली।  गुटनो सें रेंगता-रेंगता, काब पिरो परा खडा हुआ, तेरी ममता का चव माई जाने का बडा हुआ, काला टीका दुधै मलाई, आजि सब खूच वइसा है, माई ही म्है हग जग, प्यार यार तेरा क्या होगा।  सीढा-साधा, भोला-भाला, माई हाय सबेसा हुआ, किटना भी हो जाउ बाड़ा मा!  मां अजभी तेरा बच्चा होउ।

অংশুমান কর

 প্রস্তাব



সেই একই বিচ্ছু হাওয়া

সেই একই বুড়ো বুড়ো রোদ

সেই একই কচি ডাব

সেই একই লাল সালু, খাতা

সেই একই এসএমএস

সেই একই চেনা চেনা ফোন

সেই একই মিছিলে পা

সেই একই 'ছাড়ব না হাল'

এসেছে নূতন তবু

সবই যেন ভীষণ পুরনো...

শোনো কন্যা তুমি পারো

মুহূর্তে রঙিন করতে

যা কিছুই লাগে কালো-ধলো

যদি দ্বিধা ঝেড়ে ফেলো

যদি দাঁতে ঠোঁট চেপে

যে কথা বলোনি আগে

এ বছর সেই কথা বলো...

সুরভি জাহাঙ্গীর

 মুক্তির বৃষ্টি---



ধুম বৃষ্টি চাই...  ধুম বৃষ্টি!

বৃষ্টির দাপটে ভেঙ্গে যাক লম্পট ভ্রমরের পাখা! ভেসে যাক লোক ঠকানো.. চোখ ধাঁধানো যাত্রাপালার ঝলমলে পোশাক!

ভেসে যাক ভণ্ড মজিদের..ভণ্ডামির লালশালু ঢাকা মাজার!


মুক্তির বৃষ্টিতে ভিজে যাক জমিলা চরিত্র!

জাগ্রত হোক বৃষ্টিস্নাত জমিলার প্রতিবাদ।


(বাংলাদেশ/ ঢাকা)

আশিস চক্রবর্তী

 লক্ষ্মীর ভাঁড় 

মেঝেতে আছাড় মেরে আবার সুতপা দেবী লক্ষীর ভাঁড় টা ভেঙে ফেললেন। ওনার মেয়ে শব্দ শুনে এগিয়ে এসে বললো -- মা ! এই নিয়ে কতবার তুমি ভাঁড় ভাঙলে বলতো! সেই ছোট্ট থেকে দেখছি। টাকা জমিয়ে ভালো কিছু করবে বলে ,শেষ টাই আমার জন্য টাকা গুলো খরচ করো ! 

সুতপা দেবী মিচকি হেসে বললেন -- কোথায় খরচ করছি ! আমি তো শুধু আমার মা লক্ষ্মীর কাছ থেকে টাকা গুলো কিছু সময়ের জন্য চেয়ে নিয়ে ,আমার ছোট  লক্ষ্মীর কাছে জমা রাখছি । আমি জানি তুই নিশ্চয় মা লক্ষ্মীকে সে টাকা আবার ফেরত দিয়ে দিবি ।

সাইফুল আলিম

 দর্শনেই ধর্ষিত 



দর্শনেতে কতো যে নারী,

ধর্ষিত হয় আজ

বেপরোয়া চলছে সেথায় 

কি মনোরঞ্জন  সাজ ।


শালীনতার বস্ত্র বিতান

নগ্ন ডি জে ফ্যাশনে

কুন্ঠিত আজ জাতির বিবেক

ইউরোপিয়ান সেশনে ।


উত্যক্ত আজ হচ্ছে পুরুষ

নোংরা চলন স্বভাবে

জাতি এখন ধ্বংসের দিকে

সুশাষনের অভাবে। 


নারী যদি স্বচ্ছ থাকে 

শ্রেষ্ঠ মানুষ হবে

ধর্ষণ করে পার পাবে না 

ধর্ষক কোথায় রবে । 


মা বোন যে সবার আছে

হয়ে মধ্যে মনি 

আইনের শাসন মানতে হবে

যতোই হোক না ধনী। 


বন্ধ যদি না করা যায় 

ডেটিং,চেটিং ফেক

শান্তি কুন্জে ঘটবে তবে

ভাঙ্গা গড়ার রেক।

শেখ মোহাম্মাদ জিয়াউল হক

 আকাঙ্ক্ষার চাঁদ



যে চাঁদ আজ উঠেছে গগনে,

সে রূপ লেগেছে মননে,

শয়ণে দেখেছি যারে 

দেখি নিদ্রালোকে-

কল্পলোকে  সে-ই থাকে সারাক্ষন 

চাঁদ মুখ চাঁদ হয়ে উঠে রোজ

চারিদিকে দেখি তাঁর সাজ সাজ রব!

চাঁদও যেন  লাজে মরে এই রূপ দেখে

মেঘ রাখে নীলাকাশ তখন ঢেকে।