মনের কাবা
সূর্যের আলো নক্ষত্রের আলোর নেই ক্ষয়
জেগে থাকে গহীনে প্রেমিক হৃদয়
সুর উঠে তানসেনের প্রেমের জিকির
আমি তোমার নামেই করি বন্দনা ফিকির
ফুটে সোনালি রোদের আভা
চুমু খাই ভেবে আমার মনের কাবা।
মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
মনের কাবা
সূর্যের আলো নক্ষত্রের আলোর নেই ক্ষয়
জেগে থাকে গহীনে প্রেমিক হৃদয়
সুর উঠে তানসেনের প্রেমের জিকির
আমি তোমার নামেই করি বন্দনা ফিকির
ফুটে সোনালি রোদের আভা
চুমু খাই ভেবে আমার মনের কাবা।
অশেষ
মেঘের হাত ধরে মেঘ হতে চাওয়া
কিছু নতুন কথা নয়
এ যেন ঠিক স্বপ্ন নিয়ে খেলা করে স্বপ্নময় মন।
চলো এক ফাঁকে গিয়ে বসি নদীটির তীরে
কান পেতে শুনি নদী কি কথা বলে শীতল সমীরে।
চোখের সামনে দেখি বয়ে যায় নদী
একদিন দুদিন নয় বয়ে চলে শতাব্দী।
তবু তীর যেন কোনোদিন তৃপ্ত নয় বর্ষার আগমনে আরও বেশি উচ্ছল হয় |
উদ্দামে ভাসিয়ে দেয় দুই পাড়
তবুও শেষ হয়না চাওয়া পাওয়ার।
এটা ঠিক ভালোবাসা যদি অশেষ হয়
তবে চিরস্থায়ী হয় সেই পরিণয়।
আমার আমিত্ব
আমি একা হাঁটছি আল পথ বেয়ে
আমার আমিত্ব ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে
আস্তে আস্তে--
ব্যাকুল হয়ে বললাম, কেন আমায় ছেড়ে যাচ্ছো?
সে বলল,এটাই যে নিয়ম-
আমি বললাম, আমি বড় একা
আমায় ছেড়ে যেয়ো না!
আমার আমিত্ব সরতে সরতে আর ও দীর্ঘায়িত হল
আমি দু চোখ বন্ধ করে অঝোরে কাঁদতে লাগলাম
ভেতরের সমস্ত আমিত্ব ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে..
এক সময় চোখ মেলে দেখলাম
দীর্ঘায়িত আমিত্ব আর নাই
সব আমিত্ব আমার ভেতরে
আনন্দে চিৎকার করে বললাম
আর যেয়ো না,আমার যে অনেক লেখা বাকি
সে বলল,কেন?এবার আমায় নিয়ে লেখ
আমি এখন তোমার মধ্যে আছি-
অনেক ভাষা, অনেক শব্দ, অনেক ছবি
সব মনের মধ্যে ভেসে উঠল।
কিছুক্ষনের জন্য আমিত্ব আমার সঙ্গ দিয়ে ছিল
আমার সব দুঃখ,কষ্ট, যন্ত্রণা, অভিমান ভুলিয়ে
হাজার শব্দ মালায় গেঁথে দিয়ে গেল।
আবার সে সরতে সরতে দীর্ঘায়িত হতে লাগল
ও যে আমার প্রতিচ্ছায়া , প্রতিবিম্ব
এ ভাবে ই ঘটে চলে অবিরাম, চিরন্তন--
সুপ্ত নিশি
ভিড় ভেঙে ফিরে আসি যবে রাতে,
নিশাচর যত ছিল পথে, ডেকেছিল শিহরনে।
একরাশ নক্ষত্রের নীচে চলি আমি,
আর চলে পুরাতন চিরসাথী এ দেহ।
হরীতকী গাছের ছায়ায় দেখি
'সহজ পাঠ' পুড়িয়ে উষ্ণ করে ফ্যান,এক শিশু,
পিতাভ রঙের নুইয়ে পড়া পেটে
খিল ধরে আটকে আছে ,প্রাগৈতিহাসিক খিদে!
মুখের আমঠা স্বাদ পায় নাতো আর, কেবল
সন্ধিকালে সারা উঠোন ময় ঘুর ঘুর করে ,
সলতে পোড়া প্রদীপের ঘ্রাণ।
অথচ শঙ্খ শুভ্র ,আতপের মত ছিল তার হাত।
এককালে, কড়ির মতো চোখে চেয়ে ছিল
প্রান্তরের উড়ন্ত শকুনের ডানা ঝাপটানোর শব্দে।
হিজলের গাছে ,শেষ পেঁচার ডাকে ,চেয়ে দেখি
ক্ষয়িষ্ণু,মৃতপ্রায় ছায়া ক্রমশ প্রসারিত পদতলে।
মিষ্টি মা
মা ভালো খুব গল্প বলেন
সূর্য নদী চাঁদের
রবিঠাকুর মাদামকুরি
এবং কাহ্নপাদের।
গল্প বলেন হাজার রকম
মমি পিরামিডের
দই জিলিপি ফুলকো লুচি
এবং তাজা ক্ষিদের।
টাইটানিকের করুণ কথা
কিংবা সোঁদরবনের
ব্যাটে কেমন ফুল ফোটাতেন
গল্প বলেন ডনের।
বলতে বলতে অনেক কথা
মা হয়ে যান মিষ্টি যে
বাইরে তখন বাদল মেঘের
ঝিকিরমিকির বৃষ্টি যে!
গাছ
আমার ভুল ছিল
কারো কোনো দোষ ছিল না
সব আমার ছিল
সারারাত জেগে ক্লান্ত গাছটা ভাবেনি এভাবে হঠাৎ ছিন্নমূল হবে, এভাবে কাটা যাবে তার সযত্নে গড়া সবুজ শাখা প্রশাখা !
ঝড় নেই , অতি বর্ষন নেই , নেই কোনো বন্যার পূর্বাভাস
কেবল মানুষ তার দরকারে গাছ রোপণ করবে আবার নিজের সুবিধার্থে নিধন করবে
ভোরে উঠে বিড়বিড় করে বলছিল গলা কাটা গাছের লাশটা
গাছ কী আর মানুষের মন বোঝে
অবলার কত কথা বলা , ব্যথা-তুরের হাহাকার কে আর বোঝে
বিশ্বাস নামের বহুতলে কবুতরের বাস
মালিকের ইচ্ছে হলে মরে যাবে সবুজ ঘাস
আন্তরিক প্রেমের বিচ্ছেদ মৃত্যুর সমান
কূলে এসে আছড়ে পড়ে কত সমাধান
শান্তির আঁচল ছিঁড়ে যায় মলয় পবনেও
মনের মরণ নেই বড় বেচারা সেও
জীবনের ধাপে ধাপে বিষাদ সিন্ধু
ভালোবেসে ছেড়ে গেলে বন্ধু
ব্যথার ছাঁদে কত চাঁদ ওঠে
গাছ তো ফুল ফল দেয় আর শেষে জ্বালানি হয়ে পোড়ে
বিশ্বাস না হয় একবার গিয়ে দাড়াও যে কোনো রাস্তার মোড়ে ।
স্বজন
ছন্নছাড়া শব্দদের ধর
আপনকরে মটকে দে ঘাড়
মন্ত্রবলে আনিয়ে দে জ্বর
খুব তাতাড়ি হবে সে পার
এটাই এখন কলির নিয়ম
শব্দে যব্দ হবেনা আর
হবেনা আর সত্যেরইদম
এটাই এখন কালের নিয়ম !
মিথ্যে বললে তুমিই রাজা
পারো কিংবা না পারো কাজ
স্বার্থ শেষে ব্যান্ডটা বাজা
পালিয়ে শেষে বুকেতে বাজ
সহ্য হবে রাজাবাবুর
অপর লোকে নিয়েছে তা
নিলেই কাবু নিজের মানুষ
অপর কি আর বাঁচাবে তা !
নিজের মানুষ নিজের থাকে
এ কথাটি বুঝবে যেদিন
সেদিন তুমি শেষ করেছো
নিজের রাজ্যে নিজ বেদুইন !
চোখের জল ভাসিয়ে তাঁরা
বুকের ভেতর সঙ্গবয়ে
ব্ন্ধু সেজন হৃদয়তাঁরা
দাঁড়িয়ে থাকে অসময়ে
ডোনা মাঝি
কেমন আছ , কেমন আছি , দুটির মধ্যে দুই মেরুর দূরত্ব , এক বরফ শীতল নীরবতা ।
কাঁচ ভাঙা টুকরো টুকরো আলোয় ফেলে আসা সলমাচরী স্মৃতিরা কখন যেন শিল্প হয়ে ওঠে ।
স্বঘোষিত গুহায় জরিপী নক্সায় ইঁট গাঁথে নাটকীয় সংলাপ ।
পদ্মপাতার ঢাল গড়িয়ে নামতে নামতে বাষ্পীভূত হয় জানালায় রাখা শতাব্দীরা ।
দীপ্ত মোমবাতির দুর্নিবার আকর্ষণে জ্বলে পশমীয়া ক্লান্তি মাখা চন্দনী সোহাগ ।
তুলোভরা নরম বালিশে কারিগরি মাঝরাত জীবন প্রচ্ছদের ত্রিভুজ আঁকে ।
পারদসম সময় ছিটকে ছড়িয়ে পড়ে হাওয়াই বাজির আঁধার কালোয় শেষ হওয়ায় ।
সে গন্ডী পার করে কেমনে ওড়াই পালক প্রিয় হরিণের বনে ,
বলো কেমনে সাজাই বাগান , সাজানো বাগানে ।
সব সময় বলে যাওয়া যায় না
তাই তো আজ এসেই কথা বলে নিলাম প্রিয় ।
গীতা চক্রবর্তী
যুদ্ধ পলাতক দুরন্ত ঘোড়া,
ভালোবাসার মানুষটিকে হারিয়ে,
অবিরাম খুঁজে চলছে এখন,
কোনো এক শরীরি মানবীকে ।
ভালোবাসলেও ,সন্দিহান।
হয়তো বোঝার ভুলে।
অবিরাম ছুটে যাওয়ার মাঝেই
ক্ষনিকের বিরতি সুখ,
জোরদার আবদার
তুমি শুধু আমার, শুধু আমার।
কে জানে কোথায় ভাসিয়ে দেবে অজ্ঞাত পরিচয় হীন স্রোতে।
কায়াহীন দেয় শুধু মাত্র মায়া ,
এ কোন ছলনা
বিপদের কোনো কন্ঠস্বর ,
আর টাইপে ফুটে ওঠে
সে কি মানুষ , না কি অশরীরী কিছু ?
সত্যি করে বলতো কেউ কি দেখেছো ?
কবি মিশ্র
তুমি কি পেরেছ , কৃষ্ণা তৃতীয়ায়
তোমার মনের কথা বলতে-
তুমি কি পেরেছ, গভীর অমাবস্যায়
স্পর্শে জানিয়ে দিতে
তোমার ভালোবাসার কথা-
পেরেছ কি তুমি, নতুন ভালোবাসার কাছে আমার ভালোবাসাকে তুচ্ছ করতে,
তুমি কি পেরেছ, নিশীথ রাতে
প্রেয়সীর অঙ্গের নিপাট ভাঁজের কথা
অবলীলায় ভুলতে,
তুমি কি পেরেছ, শঙ্খচিলের ডানায়
মেঘবালিকার দেশে পৌঁছে যেতে।।
জানি, তুমি পার না-
আর কি পার না তুমি-
তোমার সমস্ত ভালবাসায় আবার ভরিয়ে দিতে আমাকে,
আমার অব্যক্ত ভাষা বুঝে নিতে পার না -
দিতে পার না তোমার দৃঢ় আলিঙ্গনে বেঁধে
আমার সমস্ত যন্ত্রণা গুঁড়িয়ে দিতে-
পার না- হৃদয়ের ব্যাকুলতার কান্না বুঝে নিতে-
জানি, তুমি পার না --
পারবে না কোনদিন
তোমার অহংকার, তোমার উদাসীনতা, তোমার অবহেলা সবই আমার চেনা-
সানি সরকার
যে-কোনো রূপকথাই আদপে কোনো ছেলে ভোলানো গল্প নয়
কোনোভাবেই নয়, আপনিও জানেন
আমাদের মধ্যিখানে একটি বৃত্ত থমকে আছে
তার ভেতর কিছু শিশুর মতো মৌনতা -
কখনো পক্ষীরাজ ঘোড়াটি শব্দ করে, লাফিয়ে লাফিয়ে ওঠে
পাহাড় ডিঙিয়ে যায়...
সহজপাঠ খুলে বসে আমাদের টিনটিন, আপনি তার সহজ মা
আপনি তার বর্ণপরিচয়
কত দ্রুত ভুলে যান কমলালেবুর গল্প
আস্তে আস্তে গুঁটিগুলি ভেঙে ফ্যালে ফুলেদের রাণী প্রজাপতি...
ফুলেদের রাজা প্রজাপতি...
আমরা এভাবেই একদিন রূপকথার ঝিলটির সামনে আসি
কে সেই যাদুকর, আপনি কী চেনেন তাঁকে,
আপনি কি তাঁকে দেখতে পান
আপনি তাঁর নামে আজও পূজো দেন দূর্গা মন্দিরে
দৃঢ় ঘণ ধূসরের ভেতর একটি হরিণ ঘড়ির সঙ্গে দৌড়ে যায়
আপনি তার দৌড়ের দিকে অপলক চেয়ে থাকেন কুসুম
আমি তার কেন্দ্রের দিকে চেয়ে থাকি এক অস্পৃশ্য মেরুন দুপুর
সোমাশ্রী সাহা
এই নির্জন রাতে ভেসে আসে কবিতারা
যেন ভেসে আসায় কত সুখ
আমিও কী ক্রমশ ডুবে যাই নীরবে
তারপর শুরু হয় , সোনালী দিনের ব্যস্ত উৎসব
আমিও ভিড়ে যায় সেই ভিড়ে ---
এই তো দ্যাখো , আমিও নিস্তেজ নই এখন
ছুটছি এদিকে , ওদিকে , আর
ভেঙে ফেলছি একটি একটি দেয়াল ...
এই মুহূর্তেই খুঁজে পেতে হবে তাঁকে
যে হারিয়ে গিয়েছে , সূর্যাস্তের আগে