১৩ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায় চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৫২





উপন্যাস 


টানাপোড়েন১৫২
সাধ জাগে বারবার দেখি
মমতা রায় চৌধুরী

যতবার রেখা দেশের বাড়িতে আসে, আসার সময় থাকে একরাশ উল্লাস ,আনন্দএর অভিব্যক্তি। ঠিক যেমন করে বেলা শেষে পক্ষীরা বাসায় ফিরে তাদের এক বিশেষ তাগিদে একরাশ আনন্দ অভিব্যক্তি নিয়ে রেখারও ঠিক সেরকম। কিন্তু যাবার সময় হলেই বিষন্নতায় মনটা ভরে ওঠে। মনের কোনে  যেন অন্ধকার ঘনিয়ে আসে আর ঠিক অন্ধকার ঘনিয়ে আসার আগের মুহূর্ত বিকেলের ম্লান আলো । যেমন গঙ্গাসাগরে ডুবে যাওয়া  মৃত মনিয়া পাখির মতো। গ্রামের মানুষের জন্য তো বটেই গাছপালা ,ধুলো ,মাটি , পশুপাখি কিছুই বাদ যায় না। সবকিছুকেই যেন মনে হয় আর একবার স্পর্শ করে দেখতে। প্রতিবার ফিরে আসার সময় শৈশব, কৈশোরের স্মৃতিগুলো মোচড় দিয়ে ওঠে।ঘোষেদের সেই বাঁধানো পুকুর ধারে কত শৈশবের স্মৃতি ,কৈশোরের স্মৃতি জড়িয়ে। দু'চোখ মেলে শুধু তাকিয়ে দেখতে থাকে। আর তাকে স্পর্শ করে দেখে ।হয়তো আগের মতো সেই মানুষজনগুলো আর কাছে নেই। তবুও বিস্তৃতির অন্তরালে সেই স্মৃতিটাকে যেন মনে হয় কতটা আপন।
কাকিমা ,কাকু, ভোলা কাকা , সতী দি সকলকে প্রণাম করে আসার সময় রেখা বলে' তোমরা সবাই ভালো থেকো।'
সবার চোখ ছলছল করে ওঠে।
এই বিদায় কালে রেখার মন যেমন ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে রেখাও যেন অনুভব করে গ্রামের প্রতিটি জিনিসই যেন এক বিষন্নতায় ভারাক্রান্ত।
মনোজ বাইক স্টার্ট দেয় সেই সময় কাকিমা বলে 'বুলুদির কাজের সময় আসতে পারিস নি। একবার দেখে গেলে পারতিস?"
'না কাকিমা, যে মানুষটাই নেই সেই মানুষটাকে দেখতে গিয়ে আরও বেশি খারাপ লাগবে শুধু তার ছবি দেখে। তার থেকে ভালো স্মৃতিটুকু থাক না মনে।'
'আর বিপাশা এসেছিল? ওর বর ছাড়া পেয়েছে?' 'হ্যাঁ এসেছিল একবার। ছাড়া পেয়েছে মনে
 হয়। সঠিক জানিনা রে।'
"আর ওর দিদি রুপসা?'
'রুপসা আসে নি।'
'মনোজ তাড়া দিলো রেখাকে।.'
দেরি হয়ে যাচ্ছে অন্য আরেক দিন এসে গ্রামের খবর নিও।'
রেখা তবুও কথা বলে যায় 'কাকিমা, বুলু কাকিমার শ্রাদ্ধেতে নীলুদা এসেছিল?'
'হ্যাঁ এসেছিল।'
'নীলুদা এসেছিল শুনেই বুকের ভেতরটা কেমন আনচান করে উঠলো ।কেমন দেখতে হয়েছে এখন কে জানে? আগের মত কি এখনো সেই গ্রামেতে এসে দু'চোখ হারিয়ে যায় কারুর কথা ভেবে। কে জানে?'ভাবতে ভাবতে কিছুটা অন্যমনস্ক হয়ে যায় রেখা।
'ছেলেটি একটু অন্যরকম হয়ে গেছে জানিস।'
মনোজ বিরক্ত হয়ে আবার তাড়া দিল।
রেখার এখনো দু'চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে। এবার রেখা সত্যি সত্যি আর একবার কাকিমা কাকু, ভোলা কাকা, যারা যারা ছিল সকলকে প্রণাম করে বাইকে উঠে পড়ল।
কাকিমা 'দুগ্গা দুগ্গা দুগ্গা 'বলে দু হাত জড়ো করে প্রণাম করল।
মনোজ বাইক স্টার্ট দিল।
রেখা মনোজকে ভালো করে ধরে বসলো। যতক্ষণ না প্রিয়জনেরা চোখের আড়াল হয় ততক্ষণ পর্যন্ত তাকিয়ে দেখতে লাগলো।
মনোজকে রেখা বলল 'সামনে উঁচু চাতালটা আর তার পাশে পুকুরটা দেখতে পেলে?'
মনোজ বললো 'খেয়াল করিনি।'
'কেন?'
'ওটাই তো ঘোষেদের পুকুর  কত বড় 
পুকুর ।তোমার নজরে আসলো না?'
মনোজ তখন জোরে বাইক ছুটিয়েছে তাড়াতাড়ি বাড়ি পৌঁছাতে হবে।
মনোজ  বলল 'তুমি আমাকে ধরে বসো, নইলে কখনো বাম্বা টাম্পার পেলে টপকাতে গিয়ে ধাক্কা লেগে তুমি পড়েও যেতে পার।'
রেখা মনোজকে ধরে বসলো আর বারবার ফিরে ফিরে গ্রামের কথাই ভাবতে লাগলো।
"মুছে যাওয়া দিনগুলি আজও মনে পড়ে…..।
মাঝে মাঝে রেখা গুন গুন করে গান গেয়ে ওঠে।
আসলে মনের ভেতরে উপচে পড়েছে গ্রামের স্মৃতি জড়ানো  ভিড়। রেখার মনে হয় সকলকে চেঁচিয়ে তার গ্রামের কথা বলে কিন্তু মনোজকে বলার পরেও মনোজের কোন ইন্টারেস্ট না দেখে ভেতরে ভেতরে একটু মুষড়ে পড়ে।
ইতিমধ্যে রেখার ভাবনার ছেদ পড়ে। রেখার ফোন বেজে ওঠে।
কয়েকবার রিং হয়ে বেজে যাবার পরেও রেখা ফোন তোলে না।
মনোজ রেখাকে বলে'নিশ্চয় কোন জরুরী ফোন।
ফোনটা তোলো রেখা।
কোন সাড়া শব্দ না পেয়ে মনোজ আবার বলে 'রেখা ,। অ্যাই রেখা ঘুমিয়ে পড়লে নাকি?,'
রেখার মন তখন এতটাই ভারাক্রান্ত বুক কান্নায় ভরে উঠেছে কথা বলার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে।
মনোজ বাইকটা স্টার্ট বন্ধ করে এক জায়গায় দাঁড়ালো 'কি হল তুমি কথা বলছো না?"
"কেন কি বলছ?"
'তোমার ফোন বেজে যাচ্ছে ,।দেখো, কে ফোনটা করলো?'
'কে আবার করবে , নিশ্চয়ই মাসি করেছে।'
'তা হলেও দেখে নাও কেন ফোনটা করছে বারবার করে যাচ্ছে না,,?'
'দাঁড়াও দেখছি।"
'একটা আননোন নম্বর থেকে ফোন এসেছে আর একটা মাসি করেছে।'
প্রথমে মাসিকে ফোনটা করল। একবার রিং হতে না হতেই মাসে ফোনটা ধরে বলল '।
'হ্যাঁ, মাসি ফোন করেছিলে? '
হ্যাঁ বলছি এদিকে তো একটা বিপদ হয়ে গেছে বলতে চাইছিলাম না কিন্তু না বলেও পারলাম না।
কি হয়েছে?
পাইলটের পায়ে লেগেছে।
কি করে?
বাইক ধাক্কা দিয়েছে।
খুব লেগেছে?
খারাপ লাগেনি।
তুমি এক কাজ কর সামনে সঞ্জীবনী মেডিকেল হলে যাও ওখানে গিয়ে তোমার ছেলের নাম করে বলো কাজে এরকম পায়ে লেগেছে, দিয়ে ওরা ওষুধ দেবে। সেটা এ নে ওকে খাইয়ে দাও আর যদি কোন স্প্রে দেয় তাহলে সেটাও নিয়ে নিও।
 ছেলে গিয়ে পয়সা মিটিয়ে দেবে।'
"আর বলছি তোমরা এসে খাবে তো?'
রুটি করে রেখে যাবো?'
মনোজ রেখাকে বলল' ও কিছুই খেতে পারবে না আজকে, এত খেয়েছে যে ,পেটটা ঢাক হয়ে আছে।'
'না মাসি তোমাকে কিছু করতে হবে না।'
'কেন তোমরা কিছু খাবে না?'
এখনো অব্দি না খাওয়ার দলেই নাম লিখলাম।
আর দ্বিতীয় ফোনটা তে রিং করাতে ফোনটা রিসিভ করেন এক ভদ্র মহিলা। বলেন "হ্যালো',।
কে বলছেন?
'আমি রিম্পা দি বলছি।'
'কেমন আছো?'
'এই চলছে ।নানান রকম আছি।"
'তোকে একটা খবর দেবার ছিল।
কি?"
আমাদের এখানে একটা পত্রিকা' আশাতে'তোর লেখা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কবিতা হিট হয়েছে।'
'ওরা একটা সংবর্ধনা দিতে চায় তোকে?'
রেখা, খবরটা শোনার পর কি করবে কিছুই ভেবে উঠতে পারছে না ।'
কবে.?
'আগামীকাল দুপুর ১.৩০'
'এই কবিতাটা তো আমি পাঠাইনি।
কিন্তু আমি পাঠিয়ে দিয়েছি, রাগ করিস নি তো?'
আগামীকাল?
রিম্পাদি বলল কেন অসুবিধা আছে?
ঠিক আছে।
তোকে হয়তো ওরা ফোন করবে।
তুই এখন কোথায়?
আমি একটু দেশের বাড়িতে ছিলাম ফিরছি।
'ও আচ্ছা আচ্ছা সাবধানে।'
রেখা বলল 'সামনে ওই জঙ্গলটার কাছে দেখো ফুল ফুটে আছে।'

'এখন তুমি ফুলের কাছে যাবে নাকি?'
'একটু যাই না। কটা ফটো তুলব?'
মনোজ বিরক্ত হয়ে বলে 'তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরতে হবে সেদিকে তোমার হুশ নেই।'
'কত ঘেটু ফুল।'
রেখা বলল "কয়েকটা ফটো তোলো।"
মনোজ দেখলো না রেখার এই খামখেয়ালিপনা
অসহ্য মনে হলেও মেনে নিতে হবে।
'না হলে আরো দেরী হয়ে যাবে।'
মনোজ বেশ কয়েকটা ফটো তুলল আর বলল তোমার যে কি রুচি ,দুনিয়ায় এত ফুল থাকতে। তুমি জঙ্গলের কাছে ছবি তুললে?'
রেখা খুবই বেদনাহত হল মনোজের কথাগুলো শুনে।
আর বলল'পৃথিবীর সকলের থেকে আলাদা আমি ।নিজেই বুনো তাই বুনো জিনিসের মধ্যে থেকেই তার ঘ্রান নিতে শিখেছি। তোমাদের মত শহুরে সভ্যতার কৃত্রিমমতায় নিজেকে আগাগোড়া জড়িয়ে নিতে পারি নি।'
'আমি তোমাকে ওভাবে বলতে চাইনি।'
রেখা বলে' আমি কিছু মনে করিনি তবে আমার মনের কথাগুলো তোমাকে বলতে চাইলাম। বোঝাতে চাইলাম ।তুমি চেষ্টা করো প্রকৃতির থেকে কিছু নিতে।'
মনোজ বলে' ঠিক আছে এবার হয়েছে তো? না ও ওঠো।'
রেখা বলল "হ্যাঁ চলো।"
রেখা মনে মনে গানের মধ্যে দিয়ে বিদায় জানালো তার গ্রামকে 'একবার সাধ জাগে তোমায় দেখি ,স্মৃতির জানলা খুলে….।'

কবি শিবনাথ মণ্ডল এর নারীর নেই বাড়ি





নারীর নেই বাড়ি
শিবনাথ মণ্ডল



এই জগতে নারী পুরুষ
এখন সমান সমান
খাতা কলমে তাইতো আজ
দিয়েছে তার প্রমান।
বিয়ের আগে মেয়েরা সব
থাকে বাপের বাড়ি
বিয়ের পরে নারীদের ঠাঁই
হয় শ্বশুর বাড়ি।
নারী ছাড়া এই দুনিয়া 
হয় যে অন্ধকার
নারীর কোথায় নিজের বাড়ি 
তাই খুঁজি বার বার।
মেয়েরাতো মা  বোন  স্ত্রী হয়
গৃহের লক্ষীরুপা নারী
এত গুন থাকতেও নারীর
নেউকো নিজের বাড়ি।।

কবি মোঃসেলিম মিয়া এর কবিতা "মায়ের শাসন"




মায়ের শাসন 
মোঃসেলিম মিয়া 


মা জননী নয়নের মণি 
মুখ টি কেণ ভার?
তোমার ছেলে বাঁদর বলে
গাল দিয়োনা আর।
কানে ধরে করছি শপথ 
ছুটবোনা আর মাঠে---
মগডালে ঐ শালিক পাখি বাসা বাধুঁক তাতে। 
খোঁজবোনা আর ছানা  পাখি  বিবেক হিনের মতো।
খালে বিলে শাপলা শালুক 
ফুটুক যতো শত--
ময়লা কাঁদা মাখবোনা গায়ে 
করছি মাথা নতো!
পুকুর ধারে ছাতেন গাছে মগডালটি বসে,
পানির উপর পড়বো না লাফিয়ে 
খিলখিলিয়ে হেসে। 
রাখাল ছেলে বারেক পানে
যতই ডাকুক ক্ষণে,
তার সনে আর খেলবোনা মাগো
নিজের ইচ্ছা ভুলে।
বাড়ির পাশের মাঁচান ক্ষেতে
শসা ভুরি ভুরি---
 ডাব পেঁয়ারা জাম্বুরা
ডালিম করবোনা আর চুরি! 
ভর দুপুরে মাঠের পানে
ডাংগুলি ঐ খেলা! 
নাওয়া খাওয়া গেছি ভুলে
ফিরছি সন্ধ্যা বেলা।
মায়ের চোখ ফাঁকি দিয়ে
ফিরছি যখন ঘরে, 
মা জননী আসছে তেড়ে 
বাঁচবো কেমন করে? 
মায়ের হাতের চপেটাঘাত 
খেলাম ইচ্ছে মতো,
মনে মনে করছি শপথ সুবোধ বালকের মতো।
ছোট্ট বেলার মধুর স্মৃতি ভুলি কেমন করে? 
চপেটাঘাত মায়ের শাসন 
স্মৃতি জাগায়  মোরে।

শামীমা আহমেদ র ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮৮




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮৮)
শামীমা আহমেদ 


হাসপাতালের কেবিনে রুবিনা টেবিলে খাবার সাজিয়ে শিহাবের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল। শিহাব ফ্রেশ হয়ে এসে ঘড়িতে সময় দেখলো।দুপুর সাড়ে তিনটা। নিশ্চয়ই এতক্ষনে কানাডার ফ্লাইট নেমে গেছে। শিহাবের ভেতরে উত্তাল ঝড় বয়ে যাচ্ছে। হঠাৎ রুবিনার দিকে চোখ  পড়তেই শিহাব দেখতে পেলো,রুবিনা শিহাবের সাথে একটু কথা বলার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে।কিন্তু শিহাব তার দৃষ্টি অন্য দিকে ফিরিয়ে নিলো।যদিও মেয়েটির দৃষ্টিতে কোন অন্যায্য কিছু চাওয়া ছিল না। রুবিনার জন্য শিহাবের বেশ কষ্ট লাগলো। নিরীহ মেয়েটি স্বামীর কাছে প্রতারিত হয়ে জীবন যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। মেহেদীর রঙ না মুছতেই সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে।শিহাব বুঝতে পারে না পৃথিবীতে কেন প্রতিটি মানুষের চাওয়া পাওয়ার মাঝে এতটা শূন্যতা বিরাজ করে। মানুষকে না পাওয়ার বেদনায় ডুবিয়ে রাখে। 
খাবারের টেবিলে চোখ যেতেই
শিহাব বেশ ক্ষুধা অনুভব করলো। সে টেবিলের দিকে এগিয়ে গেলো।রুবিনা এগিয়ে আসতে চাইলে শিহাব তাকে বাধা দিয়ে এড়িয়ে যেতে চাইল। সে খুব বিনয়ের সুরে বললো, আপনি আরাফের পাশে বসুন।আমি নিজে নিয়েই খেয়ে নিচ্ছি । রুবিনা যেন একটা বাধা পেলো।তবে পরক্ষণেই আরাফের দিকে তাকিয়ে নিজেকে সংযত করে নিলো। আরাফের নিস্পাপ মুখটির দিকে তাকিয়ে রুবিনা সেদিকে এগিয়ে গেলো। 
শিহাব প্লেটে সামান্য খাবার নিয়ে খেতে শুরু করেই তার খেয়াল হলো, রুবিনকে তার সাথে খাওয়ার জন্য বলা উচিত ছিল। কিন্তু শিহাবের সবকিছু যেন উলোটপালোট  হয়ে যাচ্ছে। 
শিহাব জানতে চাইলো, শিহাব ভদ্রতা রক্ষার্থে  রুবিনার কাছে জানতে চাইল। আপনি খেয়েছেন ? রুবিনা শিহাবের মনোভাব বুঝতে পেরে নিজেকে তার থেকে দুরেই রাখলো। উত্তরে জানালো,
জ্বী আমি আপুর বাসা থেকে খেয়ে এসেছি।
অনেক বেলা হয়েছে আপনি খেয়ে নেন।
শিহাব খাওয়ায় মনযোগ দিলো। সে খুব দ্রুতই খাওয়া পর্ব শেষ  করলো। খাওয়ার পর 
সব গুছিয়ে কেবিনের ছোট্ট  ফ্রিজে তা রেখে দিলো।
অনেক ধন্যবাদ রুবিনা।আপনি কষ্ট করে আমার জন্য খাবার নিয়ে এসেছেন।
না, না, ধন্যবাদের কিছু নেই।আমি আরাফকে দেখতে চাইছিলাম।আপু আপনার কথা বললেন।
শিহাব বুঝে নিলো রুবিনা আরো কথা বলতে চাইছে।কিন্তু তার পক্ষে এখন কথা এগিয়ে নেয়া সম্ভব নয়।শায়লা ভাবনায়, শায়লাকে পাওয়ার আকুলতায়, শায়লাকে হারানোর উৎকন্ঠায় সে ভীষণ ভাবে বিচলিত। রুবিনাকে এড়িয়ে যেতে শিহাব কেবিন থেকে  বাইরে যাওয়ার অনুমতি চাইলো।
আপনি আরাফের পাশে থাকুন আমি বারান্দায় সোফায় বসছি। শিহাবের কথায় রুবিনা যেন একটু আহত হলো। যতই সে শিহাবের সাথে একটু একান্তে কথা বলতে চাইছে শিহাব ততই তাকে এড়িয়ে যেতে চাইছে। রুবিনা চাপা একটি দীর্ঘশ্বাস ফেলে মনের ভেতর একরাশ কষ্ট  নিয়ে আরাফের দিকে ঝুঁকে রইল। শিহাব কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলো। রুবিনার চোখ থেকে দুফোঁটা জল গড়িয়ে আরাফের বালিশে পড়তেই তা ভেতরে শুষে নিলো। রুবিনা ভাবলো,মনের ভেতরের দুঃখ বেদনাগুলো যদি এভাবে কোথাও ফেলে দেয়া যেত তবে ভেতরের চিতার আগুনের দহন কিছুটা কমতো। রুবিনার ভাবনায় নানান হিসেব নিকেষ চলছে। একজন মানুষের উপর আস্থা আর বিশ্বাস রাখা যেন তার জীবনে আজ অধরা হয়ে গেছে।বাবার বিত্ত বৈভব তার জন্য সুখ এনে দিতে পারেনি। রুবিনা শিহাবের প্রতি তার ভালোলাগাকে মন থেকে সরিয়ে দিতে চাইছে। সে বুঝে নিলো,বৃথাই এই চেষ্টা। 
শিহাব কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো। স্মোকের তৃষ্ণা অনুভব করলো। যদিও বাইরে প্রকাশ্যে সে খুব একটা ধুমপান করে না। কেবল বাসায় অথবা অফিসে অথবা বন্ধু মহলের আড্ডায়। শিহাব সিঁড়ি দিয়ে দোতালায় ক্যান্টিনের দিকে গেলো।  ক্যান্টিনে ধুমপান নিষেধ নোটিশ লাগানো আছে। শিহাব ক্যান্টিনের লোকদের কাছে একটু ধুমপানের অনুমতি চাইতেই ওরা ক্যান্টিনের বাইরে একটা ছোট্ট বারান্দা আছে সেখানে যেতে বললো। শিহাবের প্রস্তাবটি খুব একটা  পছন্দ হলো না। সে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে বাইরে ছোট টং ঘর গুলোর কাছে গিয়ে একটা বেনসন স্টিক কিনে লাইটারে ধরিয়ে নিলো। চারপাশে হাজারো লোকজন কিন্তু শিহাবের মন একটা মুখের মধ্যেই আটকে আছে।কি জানি আজ কি ঘটতে যাচ্ছে তার জীবনে ? শায়লা কি তার জীবনে স্মৃতি হয়ে থাকবে নাকি  বাকী জীবনে সুখ স্বপ্ন ভালোবাসার প্লাবনে ভাসিয়ে নিবে ? শিহাবের মন দোনমন্যতায় দুলছে।  
দুপুর দুইটায় প্লেন ল্যান্ড করার কথা। কিন্তু চারটা বাজতে চললো। এখনো কেউ বাসায় ফিরছে না। এয়ারপোর্ট থেকে রাহাত বা বুবলীর কোন কল আসছে না। শায়লার ভেতরে অস্থিরতাটা বেড়েই চলেছে। বাড়িতে বিয়ে বাড়ির সব আয়োজন চলছে। কাজিন ভাইবোনেরা ছাদে হলুদের স্টেজ সাজাচ্ছে। সন্ধ্যার পরে ঘর সাজানো হবে।শায়লার নিজের ঘরটি আজ খুব অচেনা লাগছে।  শায়লার সাথে যেন ঘরটি কথা বলছে।এই ঘরে,এই বিছানায় কত কত দিন, কত কত রাত, শিহাবের সাথে কথা হয়েছে।কত স্বপ্নের জাল বুনেছে দুজনে। শায়লা জানেনা সেই স্বপ্নগুলো  কোনদিন আলোর মুখ দেখবে কিনা। এর মাঝে রুহি খালা দুইবার এসে শায়লাদের বাসায় ঘুরে গেলো। শায়লার মায়ের ঘরে মায়ের পাশে কিছুটাক্ষন বসে থাকছে। আবার অস্থিরতায় পায়চারী করে নিজের বাসায় ফিরে যাচ্ছে। শায়লা খেয়াল করলো, রুহি খালার মুখ বেশ থমথমে। কিছু যেন আড়াল করতে চাইছে। আজ সকালেও যেন তার আনন্দ উপচে পড়ছিল। তিনি বিজয়ের আনন্দে ভাসছিল। শায়লার দিকে চোখ পড়তেই কেমন যেন কাচুমাচু মুখে শায়লাকে পাশ কাটিয়ে গেলো। বাড়ির ছেলে মেয়ে মুরব্বী মামী চাচীরা রুহি খালার কাছে খবর জানতে চাইছে। বারবার জিজ্ঞাসা করছে,
জামাইয়ের প্লেন নামছে কিনা ? কখন আসবে ? বাড়ির ছেলেমেয়েরা সিঁড়ির দুই পাশে দাঁড়িয়ে ফুলের পাপড়ি  ছিটিয়ে নতুন জামাইকে বরণ করবে। কেউ কেউ গেট ধরার প্রস্তুতিতে আছে। শায়লা বারান্দায় গিয়ে দাঁড়ালো। তার মনে পড়তে লাগলো,কত কত দিন শিহাবকে সে বারান্দা থেকে দেখেছে। শিহাব সামনের বাড়িটার সামনে এসে বাইক নিয়ে দাঁড়িয়েছে। এতটুকু দূরত্বেও দুজনের মেসেজে কথা চলেছে। শায়লার চোখ কান্নায় ভরে উঠলো। তবে কি আর কোনদিন শিহাব তার জন্য এখানে এসে দাঁড়াবে না ? আর কোনদিন বলবে না,শায়লা আমি পাঁচ মিনিটের মধ্যে আসছি। তুমি একটু বারান্দায় এসে দাঁড়াও। শায়লা জানেনা কেন এভাবে হারিয়ে যাওয়ার জন্য মূল্যবান জিনিসগুলো খুব কাছে ধরা দিয়ে আবার ফাঁকি দিয়ে যায়? কেন শিহাবকে বারবার কাছে পেয়েও পূর্ণ ভাবে পাওয়া হলোনা ?  শায়লা আবেগের সাগরে ডুবে গিয়ে আবার যেন ভেসে উঠলো! তার নিজের দিকে খেয়াল হলো।না,কেন সে এভাবে ভাবছে ? তার মন বলে শিহাব তারই হবে। সে শিহাবের কাছেই যাবে। কিন্তু সে জানেনা কিভাবে এই অসম্ভব সম্ভব হবে যেখানে সব রকম প্রস্তুতি নেয়া হয়ে গেছে ।  শায়লা তবুও সৃষ্টি কর্তার কাছে খুব গভীর  নিবেদনে শিহাবকে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে রাখলো। রুহি খালা শায়লার  চাচীর সাথে কথা বলছে।সবারই জিজ্ঞাসা, বিমান কি নেমেছে ?  রাহাত কি কিছু জানিয়েছে ? চারটা বেজে গেছে। কোন খবর আসছে না।রুহি খালা বেশ জোরে জোরে শায়লাকে শুনিয়ে শুনিয়ে বলছে,এইতো নোমান বাবাজি আর একটু পরেই আইসা পড়বো। তোমরা পোলাপানরা তৈরি হইয়া যাও। যদিও এই কথার মাঝে রুহি খালার নিজের কোন শক্ত মনোভাব ছিল না। শিশুদের সান্ত্বনা দিতেই যেন বলে যাচ্ছিলেন।
শায়লা রুহি খালার আচরণে একটু অবাকই হচ্ছে।
শায়লা ধীর পায়ে মায়ের  ঘরে এলো। মা ঘুমাচ্ছে। শায়লার ফোন মায়ের পাশেই রাখা ছিল। ফোন বেজে চলেছে। বুবলীর  দুইটা মিসড কল।দরজায় রুহি খালা  দাঁড়িয়ে।শায়লা খুবই অনিচ্ছায় কলটি ধরলো। ওপ্রান্তে বুবলীর থমথমে কন্ঠ।
শায়লা আপু, নোমান ভাইয়া আজ আসেনি।ফ্লাইটের পেসেঞ্জার এরাইভাল লিস্টে তার নাম নেই।রাহাত ভাইয়া এয়ারলাইনস অফিসে কথা বলেছে। নোমান ভাইয়া এই ফ্লাইটে আসেন নি। শায়লা সব শুনে যেন পাথরের মত হয়ে রইল। রুহি খালা সবাইকে তাহলে মিথ্যে আশ্বাস দিয়ে যাচ্ছিল। শায়লার চোখে চোখ পড়তেই সে দ্রুত নীচে নেমে গেলো। 
বুবলী বলেই চলেছে।আপু,নোমান ভাইয়া কি তোমাকে কল দিয়েছিল।কিছু কি জানিয়েছে ? 
শায়লা  যেন এ জগতে  নেই।সে অবাক হচ্ছে সৃষ্টিকর্তা চাইলে কিই না করতে পারেন ! দিনকে রাত আর রাতকে দিন ! শায়লা সৃষ্টি কর্তার প্রতি কৃতজ্ঞতায় অবনত হলো। 
শায়লা ভাবলো, আমি তো শুধু শুদ্ধ মনে শিহাবকে চেয়েছি। আর আমি কিছু ভাবিনি। তবে শায়লা জানে,মনের গভীরের চাওয়া একদিন পাওয়া হবেই ! 
ওপ্রান্তে বুবলী জানালো, রুহি খালার সাথে রাহাত ভাইয়ার কথা হয়েছে।রুহি খালা জানালো, তার সাথে নোমান ভাইয়ার কথা হয়েছে।সে পরশুদিনের ফ্লাইটে নাকি আসবে। তোমাকে কি এমন কিছু বলেছে ? বুবলী শায়লার নীরবতায় বারবার বলেই যাচ্ছে,
শায়লা আপু কথা বলো। তোমার সাথে কি নোমান ভাইয়ার কথা হয়েছে ? তাহলে আমরা এয়ারপোর্ট থেকে চলে আসবো।
শায়লা এবার কথা বলে উঠলো। না, আমার সাথে কানাডায় কোন কথা হয়নি।তোমরা রুহি খালার কাছ থেকে জেনে নাও।বলেই শায়লা  মোবাইল নামিয়ে রাখলো। বিয়ে বাড়ির লোকজন উৎসুক হয়ে শায়লার মায়ের ঘরে ভীড় জমালো। সব শুনে তাদের নানান মন্তব্য ছুড়ে দিতে লাগল।
জামাই-ই যখন আসবো না তাইলে আর কিসের বিয়া বাড়ি ! হায় হায় এখন শায়লার কি হইবো? যদি বিদেশ  থাইকা জামাই আর না-ই আসে ? 
যারা এতদিন বিদেশি জামাই নিয়ে গর্বে বুক ফুলাতো,নিজের মেয়েদের জন্য বিদেশি জামাই খুজতো আজ তাদের মুখেই নানান খিস্তিখেউড় ! এইসব লোকদের বিশ্বাস নাই।এরা বিদেশে বিয়া কইরা রাইখা আবার দেশে আইসা আরেকটা বিয়া করে।
যদিও নোমান সাহেবের কল শায়লার কাছে কোনদিনই কাঙ্ক্ষিত নয় কিন্তু শায়লা আজ খুব করে তার কল চাইছেন। শুধু এটাই জানতে কেন তিনি তাদের পরিবারকে এমন করে অপমান করলেন ? কেন আগে থেকে জানালেন না। শায়লার মনে আরেকটি ভাবনা ঘুরপাক খাচ্ছে, রুহি খালা এই বলছেন এখুনি জামাই আসবে আবার পরক্ষণেই বলছেন এক সপ্তাহ পরে আসবে।
ঘরের হৈচৈ  এর শব্দে
শায়লার মায়ের ঘুম ভাঙলো। শায়লা ভীষণ  সতর্ক হয়ে গেলো। মাকে কিছুতেই খবরটা
হঠাৎ করে দেয়া যাবে না।তাহলে মা ভেঙে পড়তে পারেন। 
মা জানতে চাইলেন,তার ঘরে সবাই কেন ভীড় করে আছে ? সবার আলাপ আলোচনায় নানান ফিসফাস শুনে মায়ের চোখ মুখ ভীত হয়ে গেলো ! শায়লার দিকে তাকিয়ে মায়ের জানতে চাওয়া, কি হয়েছে শায়লা ? ওরা কি বলছে ? জামাই বাবাজি কি আসছে ? রাহাত কই ? রাহাতকে তো দেখছিনা।
মা, রাহাত এয়ারপোর্টে গেছে। 
ওরা এখনো ফিরেনি ? কয়টা বেজে গেলো !
শায়লা দেখলো,  মা কেমন যেন অস্থির হয়ে যাচ্ছে।শায়লা সবাইকে অনুরোধ করলো মায়ের ঘর ছেড়ে যেতে। শায়লার প্রতি সবার সেকি করুন দৃষ্টি !  হায় হায় এই মেয়েটার এখন কি হইবো।বিদেশের ছেলের ভরসা নাই।কি ভুলটাই না করছে ! আহা,এমন সুন্দর মাইয়াটা তার কপালে স্বামী সংসার হইলো না। বিয়া পড়াইয়া রাইখা গেলে এমনি হয়। উচিত ছিল তখনই নিয়া যাওয়ার।এক বছর মাইয়াটারে অপেক্ষায় রাইখা আজ সইরা গেলো। সবাই নানারকম মন্তব্য ছুড়ে দিতে দিতে ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো। সবাই যার যার বাসায় চলে যাওয়ার জন্য উদ্যত হলো। শুধু রাহাতের জন্য অপেক্ষা। তারা রাহাতের দাওয়াতী। রাহাতের কাছ থিকা বিদায় নিয়া তবেই তারা যাবে। সবাই রাহাতের ফেরার অপেক্ষায় রইল।


চলবে....

১২ এপ্রিল ২০২২

কবি মালা মুখোপাধ্যায় "বসন্তের কোকিল"





বসন্তের কোকিল 
মালা মুখোপাধ্যায়

তোমার ডাকে বুঝি বসন্ত এসে গেছে ?
তুমি একদম ভুল করেও ভোলো না ? 

তোমার ডাককে নকল করে কত ডেকেছি ছোটতে
আমি ডাকলেই তুমি ডাকতে
কি জানি কি ভাবতে ? 

বড় বড় গাছের কোন ডালে বসে ডাকছো খুঁজে চলতাম ঘাড় বেঁকিয়ে মাথা তুলে
দেখতে পেলে কী মজা হতো! 

সেই পাখিটা আবার এসেছে
বসন্ত এসেছে
শীত বর্ষায় কোথায় ছিলে ?
জানবার জো নেই
দু'বার নড়ে চড়ে বুঝিয়ে দেয় এসেছি
ডাকছি এই ঢের,অত খোঁজ নিও না বাপু
তোমরা শুধু আমার মিঠে গলার ডাক শুনে যাও। 

জানি তো তোমাকে
চিনিও তোমাকে
মাঝে মাঝে একটু আধটু কাছে
থেকে দেখেছি তো
বেশ চমকদার
তুমি যখন কাকের বাসায়
ডিম পাড়তে 
কৌশলটি ভারি মজার
পুরুষ কোকিল
কাককে রাগিয়ে বাসা থেকে
বার করে নিয়ে যায়
আর তুমি এসে ডিম পেড়ে যাও। 

প্রকৃতির কী নির্মম পরিহাস !
তোমার নামেই পড়ে বদনাম। 

হবে নাইবা কেন ?
অতি চালাকির গলায় দড়ি
পারো না একটা নিজের বাসা বানাতে ? 

খুব দুষ্টু
আমার কথায় কান না দিয়ে
একরকম পাত্তা না দিয়ে
ডেকেই চলেছো যে,
আর হয়েছে কি জানো ?
আমার নিজের লাগানো
ছোট আম গাছের ডালে
তোমাকে সেদিন ডাকতে
দেখেছি
খুব কাছ থেকে
দু'চোখ ভরে আমি
তোমাকে শুধু দেখেছি।

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৫১



উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১৫১
আনন্দ দোলা
মমতা রায় চৌধুরী

"ছোট বৌদি, ছোট বৌদি', ও ছোট বৌদি'
রান্নাঘর থেকে কাকিমা সাড়া দিল কি হয়েছে রে ভোলা?
"একবার বাইরে এসো না।"
"এখন আমার হাত জোড়া আছে বাইরে গেলে হবে? কড়াইতে খুন্তি দিয়ে কিছু ভাজার আওয়াজ আসলো তুই ওখান থেকেই বল ,আমি কানে শুনতে পাচ্ছি।"
"কানে শুনতে পাচ্ছে বললে তো হবে না। এটা দেখতে হবে এসোই না।"খুশিতে ডগ মগ হয়ে ভোলা বলল।
একটু বিরক্তি নিয়ে রেখার কাকিমা বলল'" মাঝে মাঝে যে এত জ্বালাস না ভোলা, কি হয়েছে বল? একি করেছিস? মাগো কি সুন্দর !আজকাল তো এই মাছ দেখাই যায় না ।'
কাকিমা এতক্ষন চন্ডী মূর্তিতে ছিল এখন ভোলাকে কত নরম হয়ে কথা বলছে । কাকিমা ও মাছগুলো দেখে খুব খুশি হয়েছে।
কাকিমা আর ভোলা কাকার এই আওয়াজে রেখাও ঘর থেকে বেরিয়ে আসলো এসে জিজ্ঞেস করল' কি হয়েছে কাকিমা?'.
" দেখ ,দেখ ,ননী, সত্যিই আজকে ননিরা আসাতেই মাছগুলো পড়েছে ।ভোলার তো জানিস ও মাছ  ধরার জন্য পাগল। গেছিল নদীতে কিছু পেয়েছে বোধহয় ।মাছ দেখ ,কি ,কি মাছ। 
"কি মাছ কাকিমা?"
"হ্যাঁ রে ভোলা,  মাছগুলোর নাম বল ।
নানা পদের মাছ এসেছে টেংরা, পুঁটি ,চান্দা গুড়া সোনা। খলিসা ,কয়েকটা খয়রা মাছ, চিংড়ি মাছ।'
"আরে ভোলা আজকে ওই ঘোষদের পুকুরে যাসনি?"
"হ্যাঁ গেছিলাম ওখানে অনেক ভিড় বলে চলে এসেছি।"
'জানিস ননী ওই ঘোষদের পুকুরে মাঝে মাঝেই শিঙি মাছ ,কই মাছ পায়  ওদেরকে দিয়ে আসে আবার কিছু বাড়িতে নিয়ে আসে।'
এসব মাছ তো হারিয়ে যেতে বসেছে রে।
একদম ঠিক বলেছো কাকিমা।
এই প্রজাতির মাছ এখন নিশ্চিহ্ন হতে চলেছে, যেভাবে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। দের বাঙ্গালীদের সেরা মাছগুলো আর পাতে উঠবে না। পাতে উঠবে কৃত্রিম ভাবে তৈরি করা মাছ।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর 'বেনের মেয়ে 'উপন্যাসে পড়িস নি আগে গ্রামে পুকুরে মাছ ধরার বিশাল বর্ণনা ।
শুধু উপন্যাসে কেন এটা তো সত্যিকারেরই ঘটনা কিন্তু আজ এসব হারিয়ে যেতে বসেছে।।
" তোদের এই ভোলা কাকাকে দেখে তাই সেই উপন্যাসের কথা আমার মনে আসলো।'
, ও ব্যাটা ওই মাছের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ে।
এই নিয়ে কম বকা খায় ও আমার কাছে।
তবে যখন আবার মাছগুলো নিয়ে আসে দেখে প্রাণটা জুড়িয়ে যায়।
তোরাএসেছিস মাছগুলো পেয়েছে, তোদেরকে রান্না করে খাওয়াতে পারলে আমার ভালো লাগবে।'
কাকিমা রান্না ঘরে কি বসিয়ে এসেছ ,,?পোড়া পোড়া গন্ধ বেরোচ্ছে।"
"দেখেছিস বেগুন ভাজা ।উফ ভোলা সাধে কি তোর সাথে আমার রাগ হয়  ।বলেই কাকিমা ছুটতে শুরু করল। সব রাগ গিয়ে পড়লো ভোলা কাকার  উপর।
"ভোলা কাকা মাথা চুলকে বলে আমি আবার এখানে কি করলাম বলো তো ছোট বৌদি।"
"কি সর্বনাশ টা হল দেখে যা ।বেগুন ভাজার হাল কি হয়েছে ?জামাই মেয়ে এসেছে প্রথমেই পোড়া।
আবার বেগুন কেটে এবার বসাতে হবে।'
রেখা বললো 'ভোলা কাকা ঘোষেদের বাড়ি কি সেই  আগের মত জমজমাটি আছে? সেই লক্ষ্মীপূজো সরস্বতী পুজো একসাথে হয় , তা এখনো হয়?'
'আছে মামনি কিন্তু আগের মত সেই আনন্দ আর হয় না ।সবাই যে যার মত  বিদেশ বিভুইতে থাকে।ওই পুজোর সময় গুলোতে আসে , এই যা।
এখন তো পালা করে করে পূজো হয় বড় বাবুর পালা থাকলে বড়বাবু করে ,ছোট বাবুর পালা থাকলে ছোট বাবু করে এইরকম।
আর আগে তো সব একসঙ্গে পুজো হতো। কত লোকজন। গ্রাম শুদ্ধ লোকে সেখানে খাওয়া-দাওয়া করত।
এখন সব অতীত ইতিহাস।'
ভোলা কাকার কথায় রেখা চলে যায় সেই তার শৈশব কৈশোরের দিনগুলোতে সত্যি কি মজাটাই না করেছে পুজোর দিনগুলোতে । পুজোআসলেই ঘোষেদের বাড়িতে সাজো সাজো রব আর  শুধু ঘোষেদের বাড়ি নয় ,গ্রামের প্রত্যেকের মুখে তখন হাসি ফুটে উঠত।
ঘোষেদের বাড়িতে পুজো দেখতে গিয়েই তো নীলুদার সঙ্গে প্রথম বৃষ্টিতে ভিজেছিল প্রথম বোধহয় ভালোবাসার গন্ধটা অনুভব করতে পেরেছিল। 
কেমন একটা উদাসী হাওয়া এসে যেন রেখার মনটাকে টেনে নিয়ে যায় সেই কত বছর আগের দিনে বিস্মৃতির অন্তরালে হঠাৎ করেই যেন আনন্দের স্মৃতি উঁকি দিতে থাকে।
এমন সময় মনোজ  বলে রেখা," একটু তাড়াতাড়ি করতে হবে কিন্তু। বেরোতে হবে তো আমাদের।'
কাকিমা রান্না করতে করতে  শুনতে পেয়ে বলে, "আজকে তোমরা চলে যাবে?'
'না গেলে তো হবে না। বাড়ি ফাঁকা তো?'
"এ বাবা আমার এখনো রান্না বান্না কিছু হলো না কত কিছু রান্না করবো ভাবলাম।"
মনোজ বললো "অন্য একদিন এসে খাবো। 'সেগুলো তোলা থাক না কাকিমা আর তাছাড়া আমরা আসলে তো আপনি কম আয়োজন করেন না আবার কি করবেন?'
'তা কি হয় বাবা ।জামাই বলে কথা  বাড়িতে এসেছ।'
"ননীর মা বেঁচে থাকলে কি এরকম করে ছেড়ে দিতে পারতো?'
রেখা বলল' মা বেঁচে থাকলে কি হতো সেটা নয় থাক কিন্তু মা বেঁচে নেই বলে আমরা তার অভাবটা এক বিন্দু অনুভব করি নাই এই বাড়িতে এসে। হ্যাঁ, মা থাকার জন্য তো একটা অভাব বোধ কাজ করে কিন্তু কাকিমা, তুমি তো মায়ের জায়গাটা কখনো অপূর্ন রাখনি। আমরা কখনো সেই অভাবটা এখানে এসে বোধ করি না।"
"দাঁড়া কোথায় গেল দেখি সতী ।ভোলা ,ভোলা রে?'
ভোলার কাঁধে গামছা আর একটা ছোট্ট পিরিন পরেছে ।পিরিন বলতে এখানে হচ্ছে ওই ছোট ধুতি গুলো খুব ছোট্ট করে কেটে পরা।
তারপর ভোলা এসে জিজ্ঞেস করল 'ডাকছো ছোট বৌদি,?'
"আরে দেখ না সতী কোথায় আছে? ওকে ওই মাছগুলো তাড়াতাড়ি কেটে দিতে বল ,না,?"
"ও তো সারাক্ষণ সেই গান গেয়েই চলেছে অবসর সময়ে আর চোখের জল ফেলছে ।'
"দেখ ,দেখ, কোথায় গেল । কোনো পুকুর ধারে গিয়ে বসে আছে কিনা?'
"সতী দিদি ও সতী দিদি.. ই. ই কোথায় গেলা ।এইখানে আইসো । ভোলা আপন মনে বলল বাঙাল ভাষা সতী দিদির কাছ থেকে শিখছি। গলা খাকারি দিয়ে বলল 'তোমাকে ছোট বৌদি ডাকতাছে ।'
'ও যাইতাছি।'
'এটু তাড়াতাড়ি আইসো।'
"আমার হাত বান্ধিবি পা বান্ধিবি, মন বান্ধিবি কেমনে"গান গাইতে গাইতে সতী এসে জিজ্ঞাসা করল'
'কি কও ছোট বৌদি।'
'ওই মাছগুলো তাড়াতাড়ি কেটে দে।মেয়ে জামাই বাড়ি চলে যাবে।'
'ও দিতাছি তাড়াতাড়ি কাইটা।'
"ইতিমধ্যে মাংস বসিয়ে দিয়েছে।
সরষে ইলিশ টা ও  একদিকের উনুনে কড়াইতে চাপিয়ে দিল।
"ও ছোট বৌদি ,কইতাছি এই মাছ ভোলা দাদা কুন জায়ইগায় পাইলো।"
এই মাছগুলা দেইখ্যা আমার বাংলাদ্যাশের কথা মুনে পড়তাছে।
কতদিন পর এই মাছ দেখতাছি। বাংলাদ্যাশে কি কম মাছ খাইছি ।'
সতী তুই ওই বাইরের মাটির উনুনটাতে হাঁড়ি করে চাল ধুয়ে বসিয়ে দে ভাতের জন্য তাড়াতাড়ি। 
"হ দিতাছি।'
"ক্যা  মাইয়া জামাই এত তাড়াতাড়ি চইলা যাইব ক্যান।"
"বাড়ি ফাঁকা আছে রে।'
'ও তাইলে তো যাইতেই  অইব।'
মনোজ রেখাকে বলল 'মাসিকে একটা ফোন করো দেখো কি করছে?'
"হ্যাঁ ঠিক বলেছ ভুলে গেছি একদম।'
মনোজ মজা করে বলে' সে তো আমি জানি বাপের বাড়ি আসলে আর শ্বশুর বাড়ির কথা কিছু মনে থাকে না তোমার।
'সেবার আমি হারে হারে টের পেয়েছি।'
'হ্যাঁ ,তাইতো।"
"তাইতো মানে ?ভুলটা কি বলেছি বলো?'
কাকিমা বলল "আসলে বাবা ,মাটির গন্ধ। এ গন্ধ যাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ।তারা কখনো ভুলতে পারবে না গো।" 
সতী বলল "এক্কেবারে হক কথা কইছো ছোট বৌদি।
মাটির গন্ধে পাগলা অইয়া যাই।
নাইলে কতজুনা শহরে কাজের লাইগা কইতাছিল যাইতে পারতাইম ।যাই নাই।'
রেখা রিং করলো বাড়িতে ফোন বেজে যাচ্ছে।
"কি ব্যাপার মাসি ফোন ধরছে না কেন?'
মনোজ বলল'তোমার  বড্ড অধৈর্য  জানো তো? হয়তো কোথাও কোনো কাজ করছে ,এসে ফোনটা ধরতে পারে নি। আর একবার কর আগেই এত দুশ্চিন্তা কেন করো তুমি?'
রেখা আবার ফোন করলো ।রিং হল। এবার ফোন ধরে কথা বললো মাসি' হ্যালো'।
"হ্যাঁ মাসি, কি করছিলে প্রথমে রিং হয়ে গেল ধরলে না।"
"আর বোলো না ঐ কতগুলো অন্য পাড়ার কুকুর এসে মিলির বাচ্চাগুলোকে জ্বালাতন করছিল তাই তাড়াতে গেছিলাম।'
"ও আমি ভাবলাম ঘুমিয়ে পড়েছিলে বোধ হয়।"
"না গো বৌমা ঘুম আসে না।'
"তুমি খেয়েছ?'
"হ্যাঁ খেয়েছি আর তোমার বাচ্চাদেরকে ও খাইয়ে দিয়েছি।'
রেখা হেসে বললো, "আমি জানি তো তবু জিজ্ঞেস করলাম।"
বাচ্চাগুলো কিছু করছিল?
"হ্যাঁ ওরা তো মাঝে মাঝে উঁকিঝুঁকি দিচ্ছিল বোধহয় তোমাদেরকে খুঁজছিল।'
রেখা হেসে বললো পাগল বাচ্চা সব।
"আচ্ছা মাসি পার্থ ওষুধ দিয়ে গেছে তোমার?"
" হ্যাঁ ,দিয়ে গেছে খেয়ে নিয়েছি।'
ঠিক আছে প্রেসারের ওষুধ না খেয়ে থেকো না কখনো।
"তোমরা কখন আসবে বৌমা?"
"এইতো খেয়ে দেয়ে বেরোবো।'
কাকিমা তো আজকে থেকে যেতেই বলছিল।
'তবে থেকে এসো না।'
'না  গো মাসি পরের দিন স্কুল আছে আর বাড়ি ফাঁকা রেখে থাকা যায়?"
"ঠিক আছে মাসি, রাখছি।"
ঘর থেকে রেখার কাকা ডাকছে 'ননী, ননীমা আমার কাছে এসে একটু বস মা ।এরপরেই তো চলে যাবি ।ঘরটা ফাঁকা হয়ে যাবে। আবার সেই একা একা থাকা আমাদের।'
"হ্যাঁ যাই কাকা।আচ্ছা কাকিমা, সোমুরা আসেনি আর?"
"হ্যাঁ, এসেছিল। তোর কথা জিজ্ঞেস করছিল।'
"সমুকে তোমরা আর ভুল বুঝনা কাকিমা।'
"আর কি বলবো মা , সন্তান তো।'
"ও এখনও ওই কাজটা করছে তো?'
"হ্যাঁ করছে"।
"পাবলো কেমন আছে?"
"যা পাবলোর কথা হয়েছে। শুনলে তুই পাগল হয়ে যাবি।"
সতী দিদি বলল "এটটা কুটটিপাড়া পোলা,. হাইসা হাইসা মইরা যাইবা।'
রেখা ঘরে কাকার কাছে গিয়ে বসলো তারপর কাকার মাথায় দিলি কেটে দিতে লাগলো।
কাকা বলল 'ননী মা ,তুই আসলে যেন এই বাড়িটা একটা অনাবিল আনন্দে ভরে ওঠে ।এই বয়সে আমরা আর কি চাই বল মা ?একটু শান্তি ,একটু আনন্দ।'
'কিন্তু কাকা আমার খুব খারাপ লাগে আমরা আসলে কাকিমা, তোমরা যা ব্যস্ত হয়ে পড়ো কাকিমার কত খাটুনি বাড়তে থাকে বলো  তো? 'এখন তো বয়স হচ্ছে না?'
কাকিমা শুনতে পেয়ে বলল 'বয়স হলে কি হবে রে মা, এই আনন্দ বিশেষত সন্তান আসলে যে কি মায়েদের মনের অবস্থা হয়, তা বলে বোঝাতে পারবো না তোকে ।আমার কোন কষ্ট নেই মা।'
তোরা মাঝে মাঝে আসিস আমাদের শূন্য বুকে একটু আনন্দের দোলা দিয়ে যাস।'

কবি নর্মদা চৌধুরী (তুলিকা) এর কবিতা "কাল্পনিক রাজকন্যা"




কাল্পনিক রাজকন্যা
নর্মদা চৌধুরী (তুলিকা)

অবিশ্রান্ত বর্ষা শহর জুড়ে,
আমার চোখে তখন আবীর রাঙা বসন্তের আগমন ,
এলোমেলো চারধার।
চিরপরিচিত রাস্তায় চলছে ভালোবাসার প্রতিদ্বন্দ্বিতা,
দ্রুতবেগে ধাবমান কোন গাড়ির চালকের ভূমিকায় ....
তুমিও আমাকে টেনে নিয়ে চলেছো-
চিরবসন্তের কোন অচেনা গ্রামে !
নিঃশব্দে শিশিরের বিন্দু ভিজিয়ে দিয়েছে আমাদের আপাদমস্তক,
শতঝর্ণা খেলা করছে তোমার এলোচুলে।
এখন তুমিও রক্ত- মাংসে গড়া লিওনার্দোর মোনালিসা,
আর আমি নিখুঁত কোন গ্রীক যুবক।

বাস্তবিক সংসারের সাথে এভাবেই সহাবস্থানে দিব্যি বেঁচে আছে,
 আমার স্বপ্নের রাজকন্যা।
প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবন‌ও মাঝে মাঝে খুব প্রিয় হয়ে ওঠে,
একটানা বৃষ্টি রচনা করে প্রেমের কবিতা ;
যে জীবন শুধু গদ্যময়,
যে জীবনে নিত্যদিনের সঙ্গী অভাব !
সে জীবনও  কাব্যিক হয়ে ওঠে!
যদি তুমি হাতে হাত রেখে দিয়ে যাও
প্রতিশ্রুতি.......
 আজীবন সাথে থাকার!!

কয়েকবার মৃত্যু কড়া নেড়ে ফিরে গেছে
প্রিয়তমা,
আমার বেদনার্ত চোখে সে পারেনি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করতে !
যে চোখে তুমি করেছো স্থাপন প্রেমের রাজত্ব,
সে চোখ তাই চির অপরাজিত অহংকারী মৃত্যুর কাছে।
বাস্তবিক সংসারে ভালো থাকতে চেয়েছিল
যে পথিক !
সেও আজ আনমনে খুঁজে চলেছে আশ্রয় তোমার আবেগী দৃষ্টিতে !
তুমিও তাই হয়ে উঠেছো আরো মোহময়ী;
আমার তোমার পাতানো সম্পর্কের লৌহজালে।
মনের বিনিময়ে মন নাকি শুধুই নিঃস্বার্থ প্রেম!
অস্বীকৃত সম্পর্কে।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮৭




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮৭)
শামীমা আহমেদ 

শিহাব,তোমাকে আমি কথাগুলো ওভাবে বলতে চাইনি। আরাফের জন্য তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না।আমার কথায় তুমি কিছু মনে করোনা।
শিহাব হাসপাতালের বারান্দায় দাঁড়িয়ে ছিল।কথাগুলো তার পেছন থেকে ভেসে আসলে শিহাব পিছন ফিরে তাকালো। পিছনে সুমাইয়া দাঁড়িয়ে। 
সুমাইয়া কখন এসেছে শিহাব তা টের পায়নি। শিহাব একটু বিরতি নিয়ে বললো,
না ভাবী, আমি কিছু মনে করিনি। তুমিতো ঠিকই বলেছো। আরাফের জন্য এখন মায়ের সান্নিধ্য ভীষণ প্রয়োজন। 
আচ্ছা শিহাব একটা কথা জানতে চাইতে পারি ? আবার অন্য কিছু ভেবোনা।
না না,, অবশ্যই জানতে চাইবে ভাবী।
সেদিন যে শায়লা মেয়েটিকে নিয়ে এলে,তা প্রায় দুইমাস হতে চললো। তার ব্যাপারে তুমি কি  সিদ্ধান্ত নিলে ?মেয়েটিকে তো ভালোই লাগলো। আরাফের সাথে খুব অল্প সময়ে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। আমরা তো ভাবছিলাম তুমি সহসাই কিছু বলবে। 
শিহাব ভাবলো সব না হলেও কিছুটাতো ভাবীকে বলা যায়।
ভাবী শায়লার বিষয়টি নিয়ে আমি খুব জটিলতার মধ্যে আছি। যদিও শায়লার দিক থেকে আমার প্রতি পূর্ণ ভালোবাসা আছে।
কেন কি হয়েছে ? সে কি আর তোমার সাথে সম্পর্কে নেই ? নাকি তুমি বিবাহিত বলে  ওর পরিবার রাজী হচ্ছেনা? আমি কি কোন কথা বলবো ওদের সাথে ?
না না ভাবী, তার দরকার হবে না।
তাহলে কি দরকার আর জটিলতায় গিয়ে।এমনিতেই নানান ঝামেলা বয়ে গেছে তোমার জীবনে। এবার আমরা দেখে শুনে একজনকে আরাফের মা করে আনি।
শিহাব এর কোন উত্তর দিতে পারলো না।শায়লাও যে বিবাহিতা,আর  তা দেড় বছর  হয় বিয়ে হয়েছে। শায়লার বিয়ের পর তার সাথে পরিচয় সম্পর্ক, ঘনিষ্ঠতা  তা ভাবীকে  কিভাবে বলবে। সেতো  আজই চেয়েছিল শায়লাকে নিয়ে আসতে।শায়লাও রাজী ছিল কিন্তু আরাফের দূর্ঘটনা সব পালটে দিল। তাছাড়া আজই তার স্বামী কানাডা  থেকে দেশে  আসছে। দশদিন থাকবে, ফেরার সময় শায়লাকে তার সাথে করে নিয়ে যাবে। এমনও হতে পারে আজই আজীবনের জন্য শায়লার সাথে তার সম্পর্কের ইতি ঘটতে যাচ্ছে।যদিও শায়লা কে পাওয়ার জন্য সে সব রকম চেষ্টা করেও কোন কূল করতে পারছে না।তবে এইসব  কথা কিভাবে ভাবীকে বলবে। যদিও ভাবী খুবই আপনজন কিন্তু শায়্যলাকে নিয়ে তাদের মনে আশা জাগিয়ে কেমন করে সে স্বপ্ন ভঙ্গ করবে।
শিহাবের নীরবতায় সুমাইয়া বুঝে নিলো শিহাব আর শায়লা আরাফের বাবা মা হতে পারছে না। তবেতো রিশতিনাকে ফিরিয়ে দেয়া শিহাবের উচিত হয়নি।
তবে কেন রিশতিনাকে ফেরালে ? সুমাইয়ার কঠোর জিজ্ঞাসা।আরাফের সত্যিকারের মা তো রিশতিনাই। সেতো এসেছিল সন্তানের কাছে। তাকে তার সংসার ফিরিয়ে দিতে পারতে।
শিহাব  এবার বেশ স্পষ্টভাষী হলো। ভাবী,দয়া করে  রিশতিনার অংশটি ভুলে যাওয়ার চেষ্টা করো। আরাফের জন্য মা দরকার আমি মা এনে দিলেইতো হয়।
এবার সুমাইয়া, একটু সাহস সঞ্চয় করে কথাটা বলেই ফেললো, তাহলে শিহাব আমার মামাতো বোন রুবিনা তোমাকে খুব পছন্দ করে।খবর দিলে সে এখুনি চলে আসবে। যদি তুমি তাকে গ্রহন করো। রুবিনা খুবই ভালো একটা মেয়ে।মাঝে মাঝেই আমাদের বাসায় আসে।সারাদিন আরাফের সাথে থাকে।ওর যত্ন নেয়। 
আরাফের জন্মের পর থেকে আজ অবধি ভাবীই আরাফকে আদর যত্নে বড় করছে। ভাবীর এমন চাওয়াকেতো তার সম্মান জানানো উচিত আর যেখানে আরাফের 
আজ এই অবস্থায় জ্ঞান ফিরলে সে মাকেই খুঁজবে।
ভাবী, শায়লার সাথে আমার একটা আন্ডারস্ট্যান্ডিং হয়েছে।এখন হুট করে অন্য কাউকে বিয়ে করা সম্ভব না। সবদিক মেলাতে আমার আরেকটু সময় লাগবে।
শিহাবের কথায় সুমাইয়া বেশ হতাশ হয়ে কেবিনে ফিরে গেলো। 
শিহাব শায়লার কোন মেসেজ পাচ্ছে না। কি জানি কি হচ্ছে ওদিকে।শিহাব আর কিছু ভাবতে পারছে না। তার ভীষণ অসহায় লাগছে।প্রতিটি দিন সকাল হলেই সে ভাবে আজই শায়লা আমার কাছে চলে আসবে।আশায় আশায় বুক বেঁধে বারবার তা নিরাশায় ডুব দিচ্ছে।
কেবিন থেকে মা বেরিয়ে এলেন।শিহাব মায়ের দিকে এগিয়ে গেলো।  
বাবা, দুপুর হয়েছে। বাসা থাকে কিছু খেয়ে আয়। সুমাইয়া তো সকাল থেকে এখানেই।
বাসায় বুয়া সব রান্নাবান্না করেছে।যা, চারটা মুখে দিয়ে আয়।আরাফ এখনো ঘুমাচ্ছে। কখন যে জাগবে ?  জেগেইতো তোকে খুজবে।
তুমি কি খেয়েছো মা ? 
না, তা কেমন করে। আমি আর বৌমা তো এখানেই।বাসায় বাচ্চাগুলো মায়ের জন্য না খেয়ে আছে।
তাহলে বরং তোমরা বাসায় গিয়ে খেয়ে আবার আসো। আমি এখানে ক্যান্টিনে কিছু খেয়ে নিবো।
না তা কেন? বাসায় কত খাবার।আমি আর বৌমা গিয়ে তোর জন্য খাবার পাঠিয়ে দিচ্ছি।
না মা  শুধু ঝামেলা করোনা।
সুমাইয়া তৈরি  হয়ে কেবিন থেকে বেরিয়ে এলো। শিহাবকে উদ্দেশ্য করে বললো, আরাফ বেশ ঘুমাচ্ছে। ওর স্যালাইন চলছে।
আমি আর মা বাসায় যাচ্ছি। তোমার খাবার নিয়ে আবার আসছি। তুমি আরাফের কাছে ওর পাশেই থেকো।
মা আর সুমাইয়া বেরিয়ে  গেলো। শিহাব কেবিনে ঢুকে গেলো। আরাফের দিকে তাকাতেই অজান্তেই চোখ জলে ভরে গেলো। 
আহা,বাচ্চাটাকে রেখে আমি কিভাবে এতটা দুরে থাকি। 
ডাক্তার ভিজিটে এলেন। সব রকম রিপোর্ট দেখে জানালেন।নাহ, মাথের ভেতরে কোন ইনজুরি নেই। আজ রাতটা হস্পিটালে থাকুন।  ঘুম ভাঙলে বাচ্চার মা বাবা আপনারা কাছে থাকুন। বাচ্চা যেন উত্তেজিত না হয়।কাল দুপুর নাগাদ চলে যেতে পারবেন। নিয়মিত অষুধগুলো খাওয়াবেন। সেলাইটা আস্তে আস্তে শুকিয়ে যাবে। এক সপ্তাহ পর  আবার দেখিয়ে নিতে যাবেন।
ডাক্তারের কথায় শিহাব একটু নিশ্চিন্ত হলো।
সে চেয়ার নিয়ে আরাফের খুব কাছে বসে রইল। তার খেয়াল হলো, অনেকক্ষন শায়লার সাথে কথা হচ্ছে না।
সে শায়লাকে মেসেজ পাঠালো, কি করছো ?
তৎক্ষনাৎ শায়লার রিপ্লাই চলে এলো, এইতো সবাই এয়ারপোর্টে যাওয়ার জন্য তৈরি হয়ে আছে,এক্ষুনি যাবে তাই দেখছি।
তুমি যাবে না অতিথিকে রিসিভ করতে ? 
তোমার কি মনে হচ্ছে? আমি যাবো ?
কি জানি শায়লা, আমি কিছু বুঝতে পারছিনা।তোমার ফেলে আমি কত দূরে চলে
এলাম।জানিনা তোমাকে ফিরে পাবো কিনা।
এভাবে বলো না শিহাব।আরাফ অসুস্থ। এখন ওর দিকে খেয়াল দাও। 
শায়লা আমি বোধহয় তোমায় হারিয়ে ফেলছি।
কখনোই না।কোনদিনই  না। আমি তোমার জন্য অপেক্ষায় থাকবো।
আচ্ছা রাখছি।কেউ এসেছে দরজায়।
আচ্ছা।ভালো থেকো।

শিহাব উঠে গিয়ে দরজা খুলতেই  ভীষণ  অবাক হলো! একজন  খুবই সুন্দরী মহিলা জানতে চাচ্ছেন,এটাই তো তিনশ চার ননবর কেবিন তাইনা ?
শিহাব বেশ  অবাক হলো? কে উনি? এই কেবিনে এলেন! 
আচ্ছা এখানে পেশেন্ট কি আরাফ, ছোট্ট শিশুটি ? 
শিহাবের আশ্চর্য  হওয়ার মাত্রা আরো বেড়ে গেলো!বললো,হ্যাঁ, আরাফ, আমার ছেলে।কিন্তু আপনি কে ?
আমি রুবিনা। আরাফের চাচী সুমাইয়ার মামাতো বোন। আমি প্রায়ই আরাফকে দেখতে আসি। ওর সাথে খেলা করি।কিন্তু আজ এসে শুনলাম আরাফ হসপিটালে। শুনেই তাই ছুটে এলাম ওকে দেখতে।
শিহাব এবার উনাকে চিনতে পারলেন।হ্যাঁ,তাইতো,অনেক আগে একবার ভাবীর বাসায় দেখা হয়ে ছিলো। ভাবীর অনেক ধনী বড় মামার একমাত্র মেয়ে। যার  জাকজমকপূর্ণ বিয়ের তিনদিন পর ডিভোর্স  হয়ে যায়। মেয়েটি খুব কোমল স্বভাবের।স্বামীর পরকীয়া সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি।আজ দুপুরে ভাবী যার কথা বলছিলেন।
রুবিনা হাতে খাবেরের ব্যাগ দেখিয়ে বললো,
আমি আরাফকে দেখতে আসবো  শুনে সুমাইয়া আপু আমার সাথে আপনার জন্য খাবার পাঠিয়ে দিলেন।
আপনি ফ্রেশ হয়ে খেয়ে নিন।আমি আরাফের খেয়াল রাখছি।
শিহাবের বুঝতে কষ্ট  হলো না যে, ভাবী এটা ইচ্ছে করেই করেছে। যেন রুবিনার প্রতি শিহাব আগ্রহী হয়ে উঠে তারই চেষ্টা। 
এক কেবিনের ভেতর একজন অপরিচিত মহিলার সাথে সময় কাটাতে শিহাব ইতস্ততবোধ করছিল। শিহাব আড় চোখে  দেখেলো, রুবিনা তার দিকে মুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছে।শিহাব বেশ অস্বস্তিবোধ করতে লাগলো।
আপনি ফ্রেশ হয়ে আসুন, আমি টেবিলে খাবার সাজিয়ে দিচ্ছি।
শিহাবের শায়লার কথা খু মনে হতে লাগলো।তবে কি শায়লাও এভাবে নোমান সাহেবকে খাবার সাজিয়ে দিচ্ছে ? 
আজ সকালে শায়লাকে  রেখে এসে সে বিরাট একটি ভুল করেছে। আর এজন্য সে নিজেকেই নিজে বারবার  ধিক্কার দিতে লাগলো।


চলবে....

কবি মোঃ শাহিনূর রহমান শাহীন এর কবিতা "আমি সৃষ্টির স্রষ্টা"




আমি সৃষ্টির স্রষ্টা
মোঃ শাহিনূর রহমান শাহীন 

আমি মৃত্যু -আমি জীবন দাতা,
আমি মূল -আমি সবার পিতা ? 
তোমরা সবাই আমার সন্তান, 
তোমাদের জন্যে আমার প্রেমের অনুভব -
তোমরা করেছ কী সত্যের সন্ধান ? 
আদম কে আমি করেছি সৃষ্টি, 
দিয়েছি জ্ঞান বিজ্ঞান সভ্যতা কৃষ্টি ! 
কত শিল্প - বিকল্প কত কী, 
এত পেয়ে আদম অবাধ্য - বন্য 
আমাকে দিতে চায় ধোঁকা ফাঁকি ? 
আমি সবার মাঝে - জীবন হয়ে, 
ক্কলবে বন্ধু কে সাথে নিয়ে ! 
প্রেমে বিভোর হয়ে - খেলি খেলা, 
আমি সত্য জাত আমি ছিফাত
বলো " লা ইলাহা ইল্লাল্লা! 
আমি সৃষ্টি করি আমি স্রষ্টা, 
আমি নতুন জীবনের স্বপ্ন ভ্রষ্টা! 
স্বীকার করো বা অস্বীকার, 
আমি জীবন মৃত্যু হয়ে -
দেহে জীবন্ত আছি সবার ?

কবি শরিফুর রহমান এর কবিতা "শরিফুর রহমান"




প্রয়োজন 
শরিফুর রহমান 

সত্যি বলছি; আমার চেয়ে
আমার প্রয়োজন গুলো তোমাকে
বড্ড ভালোবাসে।
তাঁরা তোমাকে আদর করে; বুকে টানে,
দু-হাত দিয়ে হৃদয় ছানে,
একটুখানি আড়াল হলে তুমি
অস্থির-চোখে জল আসে, 
ওঁরা... ওঁরা তোমাকে বড্ড ভালোবাসে।

আর; বাসবেই না কেন... বলো ?
আমার বুকের পাঁজরভাঙা
কষ্ট-পাথরগুলো-
ছড়ানো ছিটানো দুঃখগুলো-
না পাওয়ার শত-বেদনাগুলো-
কেমন করে বুকে তুলে আলতো ঝেড়ে 
গুছিয়ে রাখো নিপুণ ভাবে-
মিষ্টি হেসে যতন করে তোমার পাশে,
তাই তো ওঁরা তোমাকে; বড্ড ভালোবাসে।

প্রয়োজন গুলো আমার-
বৃত্তের মতো সাজিয়ে রেখেছে আমাকে, 
আমাকে ঘিরেই তো ওঁরা-
ওঁদের মাঝেই আমি।
তাহলে কি এই আমি টাই সবচেয়ে বেশি  
তোমাকে ভালোবাসি ?

১১ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৫০




লেখকের এই ধারাবাহিকতাকে কুর্নিশ জানাই । স্বপ্নসিঁড় সাহিত্য পত্রিকা'র পক্ষ হতে আপনাকে হার্দিক অভিনন্দন । ১৫০ তম দিন ।


উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৫০
টান
মমতা রায় চৌধুরী

রেখার হঠাৎ করেই ঘুম ভেঙে যায় কোনরকমে হাত ঘড়িটা হাতরে হাতরে নিয়ে টাইম টা দেখে সাড়ে চারটে বাজে । মনে মনে ভাবছে, মনোজকে কি ডাকবে? না ,ডেকেও কোন লাভ নেই। ওর ঘুম হচ্ছে কুম্ভ কর্ণের ঘুম। অসময়ের ডাকে আরো কাজের ব্যাঘাত ঘটবে। বরং ও একটু ঘুমোক তারপরে নয় ডাকব। এই বলে রেখাও পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে। হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজ" জয় গনেশ, জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা।
রেখার কানে আওয়াজটা গেল কিন্তু গুরুত্ব দিলো না তারপর আবার কলিং বেল বেজে ওঠে, জয় গনেশ জয় গনেশ জয় গনেশ দেবা ।প্রথমে রেখা ভাবছিল স্বপ্ন দেখছে। পরে চোখ মেলে তাকিয়ে দেখে , কান খাড়া করে শুনছে, না এ তো বাস্তব স্বপ্ন নয়   ।এ বাবা মাসি এসে গেছে। কত বেলা হয়ে গেছে ।মনোজকে ধাক্কা দিয়ে দু চারটে কিল মেরে দিল। মনোজ তো বড় বড় চোখ করে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল' কি করছো তুমি?'
"কি করছি মানে ?তোমার জন্য আজকে আমার দেরি হয়ে গেছে?'
'মানে?'
"মানে মাসি এসে গেছে, এখনো রেডি হতে পারলাম না। কখন যাবো বলো?'
"যাবে তো?'
" কোথায়?'
"মানে? তুমি সব ভুলে গেছো?'
"আমাকে ঘুমোতে দাও রেখা, কানের কাছে বাজ খাই গলায় এত চিৎকার করো না তো, ভালো লাগছে না বিরক্ত করো না। বলেই ভোস ভোস  করে নাক ডাকতে শুরু করল।
"আমি পাগল হয়ে যাবো তো লোকটাকে নিয়ে। এ বাবা নিজেই সব ভুলে গেছে। কি ,কোথায়, কখন কিভাবে যাবে?"
বকবক করতে করতে রেখা গিয়ে দরজাটা খুললো।
মাসি বলল" কিগো বৌমা? আজ দেরি করলে এতো?"
"আর বোলো না মাসি ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।"
"তা বেশ করেছিলে।"
দরজাটা বন্ধ করতে করতে রেখা বললো" মাসি তুমি একটু তাড়াতাড়ি কাজগুলো সেরে নাও আজকে এক জায়গায় বেরোবো?"
'কোথায় যাবে?'
"আমার দেশের বাড়িতে কাকু কাকিমার কাছে।"
"ও তাই বুঝি যাও ঘুরে এসো।"
"কিন্তু..
"আর কিন্তু কিন্তু করো না তো তোমার বাচ্চাদের নিয়ে তো আর চিন্তা নেই, আমি আছি তো।'
"সে তো আমি জানি  মাসি ।'
" তাহলে আবার কিন্তু কিন্তু করছ কেন?'
"যার সাথে যাব তারই তো এখনো ঘুম ভাঙ্গলো না।"
"যাও গিয়ে তাড়াতাড়ি ছেলেকে তোলো।
"একটু সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ো।'
রেখাও খুব খুশি হল। মাসি নিজের থেকেই বলাতে রেখা চলে গেল নাচতে নাচতে মনোজের কাছে মনোজকে ডাকল "কিগো ওঠো, যাবে তো !না যাবে না?"
হুঁ
*মানে যাবে না?"
"কখন বললাম আমি?"
"তাহলে।"
"যাব তো।"
রেখা কথা না বাড়িয়ে তাড়াতাড়ি রান্না ঘরের দিকে ছোটে মাসির জন্য এবং নিজেদের জন্য চায়ের জল বসিয়ে দেয় অন্যদিকে ফ্রিজ থেকে ময়দা বের করে পরোটার লেচি কাটতে শুরু করে পরোটা বাজবে বলে  অন্যদিকে ক্যাপসিকাম আলু ভাজার সবজি কেটে নেয়। চা হয়ে গেলে মাসিকে ডেকে চা-বিস্কিট দেয়।
তারপর রেখা বলে 'মাসি তুমি পরোটা এখানে খাবে তো ?"
মাসির চা খেতে খেতে চুপ করে থাকে কোন জবাবই দেয় না।
রেখা সমস্তটা বুঝতে পারে মাসির সংসারে অভাব নিজের খাবারের ভাগটা যদি নাতি নাতনিদের দিতে পারে তাহলে অনেকটা সাশ্রয় হয় ।সেজন্যই কোন কথার উত্তর দেয়নি। রেখা বলল,' ঠিক আছে ।তুমি এখানে দুটো খাও আর দুটো নিয়ে যাবে।'
মাসিnখুব খুশি হলো ।তারপর বলল "আমি তাড়াতাড়ি কাজগুলো গুছিয়ে নিচ্ছি তারপর বাড়ি যাই ।'
রেখা বলল" হ্যাঁ বাড়িতে কি কি জিনিস আনার আছে সেটা নিয়ে চলে এসো।"
"মাসি বাচ্চাগুলোর খাবারটা একটু দিয়ে যাও না।"
মাসি বলল' হ্যাঁ  দাও আমি খাবারটা দিয়ে যাচ্ছি। 'তাহলে তুমি এদিকে তাড়াতাড়ি রেডি হতে পারবে।'
রেখা খুব খুশি হল এবং আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে তাড়াতাড়ি ফ্রেশ হয়ে শাড়ি পরে নিল।।
মনোজ ঘর থেকে বলল' তুমি রেডি হয়ে গেছো?'
রেখা বললো হ্যাঁ।
বলেই মনোজের কাছে  এসে দাঁড়ালো। 
মনোজ আপাদমস্তক পর্যবেক্ষণ করে বলল' তুমি শাড়ি পড়ে যাবে?'
রেখা বলল' মানে? শাড়ি পড়েই তো যাব।:
"তুমি শাড়িটা খুলে সালোয়ার কামিজ করে নাও।"
"কেন?"
"আরে বাবা সালোয়ার কামিজ করে বাইকে গেলে সুবিধে বেশি।"
রেখা অভিযোগের সুরে বলে' তাহলে তুমি আগে বলনি কেন?"
"তুমি তো দেখতে পাচ্ছ কতটা ব্যস্ত থাকি।'
মনোজ রেখাকে কাছে ডেকে বলল" তোমাকে শাড়ি পড়ে খুব সুন্দর লাগে, এত সৌন্দর্য তুমি কাকে দেখাবে,।"
রেখা গাল ফুলিয়ে বলল" তার মানে আমাকে সালোয়ার কামিজের ভালো লাগেনা?*
"আমি আবার সেটা কখন বললাম।'
'ঠিক আছে ,ঠিক আছে ।আমি যাচ্ছি চেঞ্জ করে নিচ্ছি।"
* বৌমা আমি যাচ্ছি।'
রেখা বললো" হ্যাঁ, মাসি, যাচ্ছি বলতে নেই। এসো তাড়াতাড়ি এসো।'
মনোজ বলল'আমার চা টা দিয়ে যাও।,'
রেখা বললো "ফ্লাক্সে আছে একটু ঢেলে নাও না।"
চা খেয়ে মনোজ ওয়াশরুমে গেল।
এরমধ্যে আবার কলিং বেল বেজে উঠলো ।রেখা ,বললো "এখন আবার কে আসলো উফ কি জ্বালা।"
রেখা দরজা খুলতে গিয়ে দেখে মাসি
"ও মাসি তুমি এসে গেছ।"
মাসি যাও আমি রান্না ঘরে কিছু খাবার রাখা আছে আগে খেয়ে নাও। আর শোনো তরকারি করা আছে তুমি তোমার মত করে ভাত করে নিও কেমন।'
আর্ ঠিক সময়ে তুমি আমার ওই বাচ্চাদেরকে খেতে দিও ।ওদেরকেখেতে দেওয়ার পর দেখবে আরো কিছু বাচ্চা আসে ওপার ও পাড়া থেকে ওদেরকেও দিও।
ঠিক আছে
ওদেরকে কি বাইরে ছেড়ে দিয়েছো?
হ্যাঁ মাসি, ওরা আর ভিতরে থাকতে চাইছিল না।
শুধু শুধু আরও ভেতরে রেখে কি করব বাইরেটা থাকবে আর গ্যারেজের দরজাটা খোলা থাকবে সারাদিন ওখানে এসে শুতে পারবে।
ভালোই করেছো।
আসলে এতদিন রেখেছিলাম তো বাচ্চাগুলো নিরাপত্তার কথা ভেবে আর রাখা যাবে না।
তোমরা কখন বেরোবে তাড়াতাড়ি বেরোও।
হ্যাঁ মাসি।
মনোজ ঘর থেকে বলল আমার প্যান্ট জামাটা কোথায় রেখেছো?
দেখনা, বের করে নিতে পারো না একটু।
মনোজ ঘর থেকে বলল 'তুমি তো জানো…।!
"দেখো সোফার উপরে রেখেছি।'
রেখা মাসি কে বলল" মাসি ফ্রিজ থেকে ইলিশ মাছটা আছে ওটা প্যাকেট কর আমরা যাবার সময় আমাকে দেবে ওটা হাতে।।
মনোজ রেডি হয়ে বলল "আমি কিন্তু রেডি ।নাও চলো চলো তাড়াতাড়ি বেরোও।'
"হ্যাঁ, তুমি এগোও, আমি আসছি।"
মনোজ বাইরে থেকে হাঁক দিল 'তোমার হেলমেটটা নিয়ে আসবে।'
"ঠিক আছে।"
রেখা গিয়ে বাইকে বসলো।
 মাসি এসে বলল "এই নাও ব্যাগটা ,মাছের ব্যাগটা নাও।"
বাইক স্টার্ট করলো
রেখা হঠাৎ হাসির দিকে তাকালো, তখন বলল মনোজকে ওয়েট ওয়েট ওয়েট।
"কি হলো?"
রেখা বাইক থেকে নেমে মাসির কাছে এসে বললো " মাসি তুমি ঘামছো কেন?'
"বোধহয় তাড়াহুড়ো করেছি তো এইজন্য।"
'না ,না তোমার তো প্রেসার আছে তুমি  ওষুধ খেয়েছো তো?'
"মাসি চুপ করে আছে।'
বুঝতে পেরেছি তুমি ওষুধ খাও নি।
মাসি বললো 'আসলে ওষুধটা শেষ হয়ে গেছে "কিনতে পারিনি গো বৌমা।'
"ঠিক আছে  আমি পার্থকে বলে দিচ্ছি ও ওষুধ এনে দেবে ।তুমি কি ওষুধ খাও মনে করতে পারবে?
"আরে আমি তো তোমাদের এই যে সামনের দোকান সঞ্জীবনী ওখান থেকে ওষুধ কেনেও না ওখানে গিয়ে বললেই উনারা জানেন আমি কি ওষুধ খাই।"
'ঠিক আছে, আমি পার্থকে বলে দেব কোন চিন্তা করো না আর এই যে ছোট ফোনটা রেখে গেলাম আমরা প্রয়োজনে ফোন করে নেব আর তোমার যদি এমনি কোন অসুবিধা হয় তাহলে পার্থ আছে সামনে সেন্টুদা আছে পাশের বাড়ির চৈতীর মা আছে ঠিক আছে কোন টেনশন করো না।
না গো বৌমা তোমরা সাবধানে এসো।
ঠিক আছে তাহলে আসছি।
মনোজ গাড়ি স্টার্ট করলে রেখা পেছনে বসে।
 মাসি বলতে থাকে "দুগ্গা দুগ্গা দুগ্গা।"
রেখা ভাবতে থাকে সত্যিই ঈশ্বরের অশেষ করুনা মাসির মত একজন বিশ্বস্ত লোককে রেখার কাছে পাঠিয়েছে। আর কত আন্তরিকতার সঙ্গে সবকিছু করে, যেন আপনার জন।
মনোজ কিছুদূর যাবার পরে এমন জোরে ব্রেক কষে রেখা আরেকটু হলে পড়েই যেত ।মনোজকে জড়িয়ে ধরে।।
"মনোজ হো হো হো করে হাসতে থাকে এই জন্যই তো ব্রেকটা কষে।'
"যেন মনে হচ্ছিল পরের বউকে নিয়ে বাইকে যাচ্ছি।'
রেখা বলল" মানে?'
"হ্যাঁ সেরকমই তো তুমি এত দূরে বসে আছো বাইকে বসেছি কোথায় আমাকে জড়িয়ে ধরবে চালানোর সময় একটা গতি আসে আমার।"
রেখা বলে "কি করে জড়িয়ে ধরবো সামনে ব্যাগ আছে ব্যাগটাইতো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।"
মনোজ বলে "দেখো, যদি মনের ইচ্ছে থাকে কোন বাধাই কিন্তু বাগ মানে না।'
রেখা মনোজকে জড়িয়ে ধরে বসলো আর মনোজ গান গাইতে থাকলো "এই পথ যদি শেষ না হয় তবে কেমন হতো তুমি বলতো….?"
এভাবে বাইক শহর ছাড়িয়ে ক্রমশ গ্রামের দিকে রেখাদের নির্মল  গ্রাম গাছ-গাছালি পুকুর দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ পেরিয়ে ,পঞ্চা কাকাদের বাড়ি, বুলু কাকিমা দের বাড়ি ছাড়িয়ে নিজের ভিটে বাড়ির গেটের কাছে এসে দাঁড় করালো।
গেটটা ভেজানোই ছিল।
এ কাজটি করে খুলতে গিয়ে আওয়াজ পেল কাকিমা রান্নাঘরে কিছু একটা করছে আর এদিকে ভোলা কাকার সাথে বকবক বকবক করছে।
হ্যাঁ রে ভোলা, দিনকে দিন তোর বয়স কমছে না 
বাড়ছে তোর এখনো খাবার টাইম হলো না?'
'এইতো ছোট বৌদি হয়ে গেছে যাচ্ছি।"
হ্যাঁ রে ভোলা গেটে আওয়াজ হলো না?
, রাশুর মা আসলো।
আরে ,মামনি!
কাকিমা বলল তুই কি জীবনেও শোধরাবি না এখন কত বয়স।'
"কেন আমি আবার কি করলাম?'
রাখাল আর বাঘের গল্প শুনেছিস?
রাখাল রোজ গরু চরাতে যেত আর বাঁচাও বাঁচাও বলে চিৎকার করতো। আর প্রত্যেকে আওয়াজ শুনে ছুটে আসলে হো হো  করে হাসত।
দিন সত্যি কারে যখন বাঘে ধরল তখন চেঁচানো সত্বেও কেউ আসেনি। তাকে বাঁচানোর জন্য।
রেখা চুপি চুপি রান্নাঘরের কাছে গিয়ে বলল  কাকিমা।
রেখা কিছুক্ষণ পর আবার ডাকতে থাকে কাকিমা।
পিছন ফিরে তাকাতেই কাকিমা আনন্দ উল্লাসে বলে ওঠে তুই?
"কিগো ব্যাগটা নিয়ে এসো।"
রেখা বলল "যাচ্ছি।"
"আর হাতে ওটা কি?"
 ইলিশ মাছ আছে।
"কাকু খেতে চেয়েছিল না।"
ভোলা নিয়ে যা তোর দাদার কাছে ওদেরকে।।
দেখো কারা এসেছে।
কাকু বলল "কে ননী?'
আয় আয় আয় আমার বুকে আয় মা।
ভোলা দেখ কি টান।'
কাকিমা বলল' ইলিশ মাছ এনেছে।'
তাই মা আমার কবে থেকে গঙ্গার ইলিশ খেতে ইচ্ছে করেছিল রে মা।"
"তুই একাই এসেছিস? মা গাড়ি এসেছে?"
"না না তোমাদের জামাই এসেছে বাইকে এসেছি।
কিগো এদিকে এসো।"
মনোজ এসে কাকাকে প্রণাম করলো।।
কাকিমা বলল "আমি ওদিকে যাই।রান্নাবান্না গুলো করি।'
হ্যাঁরে, রাশুর মা আসলো?
ভোলা বলল "খেয়াল করিনি আসলে তো দেখা করতো।"'
রেখা বলল 'রাশুর মা টা কে? কাকিমা । নতুন কাজের লোক।"
"তোর মনে আছে কিনা জানিনা আমাদের বাড়িতে বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে সাবিত্রী কাজ করতে এসেছিল তোর মনে আছে?'
রেখা বললো মানে সাবিত্রী জেঠিমা যে বাঙ্গাল ভাষায় কথা বলতো আর ঠাকুমাও বাঙ্গাল ভাষায় কথা বলতো।'
একদম ঠিক ।তোরা তখন খুব ছোট ছিলিস।
তোর তো স্মৃতিশক্তি বেশ ভালো।
হ্যাঁ, ওই সাবিত্রির সঙ্গে ওর মেয়ে আসত। নাম সতী।'
"এই সতী হলো রাশুর মা।'
"ও তাই বুঝি?'
এসে হাতে পায়ে জড়িয়ে ধরেছে একটু আশ্রয়ের জন্য আমাদেরও তো এই হাল তারপরেও দেখলাম যে থাক কাজকর্ম করবে একটু খাবে?'
রেখা বলল ঠিকই করেছ।'
'
তবে জানিস তো ননী, আমি সতীকে বলেছি আমাদের গ্রামে আশেপাশে বাড়িগুলোতেও কাজ করে দেবে। তাতে ওর হাত খরচাটা আসবে।
ইতিমধ্যেই গেট দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে বকবক করতে করতে আসছে কি  দ্যাশ আসইলাম। দয়া মায়া নাই।"
ভোলা বলল" ছোট বৌদি এসে গেছে।
রেখার কাকিমা বলল সতী এসে গেছো ?
কি কমু এই দ্যাশ মানুষ বাস করে।
কি হয়েছে সত্যি?
আরে পাশের বাড়ির কাম করি বউডারে কইলাম একটু জল খাবার দাও
কথা হুইনা আকাশ থেইকে পইড়লাম।
কয় কি জল খাবার দিবার কথা তো হয় নাই।
কাকিমা বলল'ঠিক তুমি আজকে খাবারই খাওনি।"
"ননী দেখ তো কি কি আছে ঘরে দে তো ওকে খেতে। "
রেখা ঘরে গিয়ে মুড়ি আর রেখা রাজি মিষ্টি নিয়ে ছিল দুই সেটা দিল।
সতী বলল "এইডা কে?'
কাকিমা বলল "আমার মেজো  ভাসুরের মেয়ে ।'
"কি মিষ্টি মাইয়া ,যেন চান্দ নাইমা আইছে।'
তারপরেই আবার বাংলাদেশের কথা আপন মনে বলছে।
"কি দ্যাশ ছাইরা কি দ্যাশে আইলাম।'
রেখা মনে মনে ভাবে নাড়ির টান এমনই। ও দেশ থেকে ছিন্নমূল অবস্থায় এসেও এ দেশটাকেও নিজের দেশ ভাবতে পারল না।। ও দেশের কথা মনের ক্যানভাসে স্বর্ণাক্ষরে আটকে আছে।
তারপর আপন মনে গান গাইতে থাকলো'আমার হাত বান্ধিবী, পা বান্ধিবী মন বান্ধিবী কেমনে ….. পরান বান্ধিবী কেমনে।'
কাকিমা বলল ছেলেটাকেও হারিয়ে স তী যেন আরো একা হয়ে গেছে।
সতীর দিকে তাকিয়ে রেখা ভাবতে লাগলো সত্যিই তাই শিকড়ের অস্তিত্ব মাটির অনেক গভীরে চলে গেছে তার থেকে উপ ড়ে ফেলা অতো সহজে নয়।।
রেখার ও অস্তিত্ব এই গ্রামের সাথে এই মাটির সাথে এমন ভাবে মিশে গেছে, যার টানে বারবার ফিরে আসে।
কাকিমা বলল ননী, আয় মা ফ্রেশ হয়ে নে।

কবি শেখ রাসেল এর কবিতা "বলি শোন"




বলি শোন 
শেখ রাসেল 

বলি ঐ শোনরে জালিম
              দম্ভ মিছে বক্ষ জুড়ে, 
যদি চায় ফেলবে তোকে
             স্রষ্টা তবে গগণ ফুঁড়ে। 

মুখে যাঁর ঈমান তব
           আল্লাহ নাম শক্তি ভরা,
যাবে কি দমন কথায়
            অগ্নি নামের দগ্ধ খরা।

বলি ঐ শোনরে কাফের 
          ঈমান ভিতে রক্ত তাজা,
দলি তোর কপাল জুড়ে 
       নেশায় গিলা তিক্ত গাঁজা। 

কেন তোর হুঁশ থাকিতে 
             এই ধরাতে রুষ্ঠ বীণা,
চেয়ে দেখ বিশ্ব বাসির
               কন্ঠে তব তিক্ত ঘৃণা। 

বলি ঐ শোনরে বেকুব 
            তুচ্ছ কেন বাক্যে নারী,
তবে তোর জন্ম মিছে
        গর্ভে যেজন ধরছে তারি।

চোখে তোর নগ্ন ধূলায়  
             মূর্তি আঁকা প্রতিচ্ছবি, 
দেখে মন আঁতকে উঠাস
            আল্লাহু নাম দীপ্ত রবী।

কবি মিতা নূর এর কবিতা "মা'গো তোমার হাসিতে জান্নাত




মা'গো তোমার হাসিতে জান্নাত 
 মিতা নূর 



স্বার্থপর এই পৃথিবীতে,
সবাই সবাইকে ছেড়ে চলে যায়, 
সবাই সবাই'কে  যায় ভুলে।
শত আঘাত শত ব্যথা পেয়েও 
শুধু একজনই আঁকড়ে ধরে রাখে 
পাঁজরের পাঁজর করে,দেয়না ছুড়ে ফেলে।

মৃত্যু'কে করে জয় যে দিয়েছে জান।  
সে তো আমার মা, আমার জননী, 
এই ভুবনে মাগো  অসীম তোমার  দান।
যতই দুঃখ আসুন, আসুক  তুফান, 
মা'গো বলে জড়িয়ে ধরলে জুড়ায় আমার প্রাণ।

মা'গো গুটি গুটি হাত ধরে শিখিয়েছ পথ চলতে।
শিখিয়েছ হোটচ খেয়েও উঠে দাঁড়াতে, 
শিখিয়েছো দুঃখ পেলেও হাসি মুখে কথা বলতে।
মা'গো তুমিই আমার বড়ো শিক্ষক, 
শিখিয়েছ আমায় কঠিন জীবন গড়তে। 

মা আমার মা- কতো মধুর ডাক, 
তুমিই আমার সব, অল্প থেকে অনেক। 
মা'গো খোদার পরে  তোমার আসন, 
আসমানের সমান।

মা'গো পাপী আমি,করিও আমায় ক্ষমা।
তুমি আমার মা'জননী, তুমি আমার-মা,
অজান্তে,কতই না দিয়েছি তোমায় আঘাত। 
তোমার কান্নায় মা'গো আরশ উঠে কেঁপে, 
মা'গো- তোমার হাসিতে জান্নাত।




১০/০৪/২০২২--ইং-- রাতঃ--১০ঃ৩৪,