১০ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৪৯





উপন্যাস 


টানা পড়েন ১৪৯
খুশির হাওয়ায় লাগল নাচন
মমতা রায় চৌধুরী
২৫.৩.২২ রাত্রি ৮ ২৩.


গতকাল এত রাত হয়ে গেছিল শুতে, যে ভোরবেলা আর উঠতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু উঠতে তো হবেই আজকে তো দেশের বাড়িতে যেতে হবে। ঘুমের চোখে হাতরে হাতরে মোবাইলটা বের করল টাইম টা দেখলো। ভোর ৪:৩০ বাজে। একবার রেখা মনে মনে ভাবল মনোজকে ডেকে তুলবে? পরক্ষণে ভাবল না ,না ওকে ডাকলেও কুম্ভকর্ণের ঘুম ভাঙবে না। বরং অকালে ঘুম থেকে তুলে সমস্ত কিছুই বন্ধ হয়ে যাবে। থাক ও ঘুমাক। কিন্তু এটা তো শিওর হতে হবে আদপে  যাবে কিনা? দোমনা করে মনোজকে গায়ে হাত দিয়ে একটু ধাক্কা দিয়ে ডাকলো'কি গো, অ্যা ই 
আজ যাবে তো কাকু কাকিমার ওখানে।"
"হু'।
কিন্তু ঘুমের ঘোরে কথা তো বিশ্বাস করাও যায় না। সকালে উঠেই হয়তো মত পাল্টে দেবে।
রেখা আবার মনোজকে ধাক্কা দিল আবার ডাকলো" কি গো শুনতে পাচ্ছ?
আজ যাবে তো কাকু কাকিমার ওখানে? ঠিক করে বলো, তাহলে তো আমাকে উঠে সেভাবে কাজ গোছাতে হবে।
হু।
এ বাবা আবার ঘুমিয়ে পড়ল ।তারপর ভোস ভোস করে নাক ডাকতে শুরু করল।
একে জাগানো সম্ভব নয়। ঘুম থেকে উঠলে তবেই একে বলতে হবে।
রেখাও আর একটু ঘুমানোর চেষ্টা করল।
এ বাবা সেই ঘুম যে একেবারে মাসির কলিংবেলের আওয়াজে ভাঙবে সেটা কল্পনাও করতে পারেনি রেখা।
বাইরে কলিং বেজে যাচ্ছে। "জয় গনেশ ,জয় "গনেশ জয় ,গনেশ দেবা'। কানে যাচ্ছে কিন্তু উঠতে ইচ্ছে করছে না। আবার কলিং বেলের আর্তনাদ। রেখা কান খাড়া করে ভাবলোএটা তো স্বপ্ন নয় এতো বাস্তব ।রেখাদের বাড়িতেই বাজছে। রেখা ধড়ফরিয়ে উঠে পড়লো। এ বাবা কত বেলা হয়ে গেছে। মনোজকে ধাক্কা দিয়ে দুচার ঘা  কিল মেরে দিল। এ বাবা কি করছো তুমি? দু চোখ বড় বড় করে তাকিয়ে অবাক হয়ে বলল মনোজ।
তাকিয়ে দেখছো কি? তোমার জন্য আজকে আমার কত বেলা হয়ে গেল।.
মনোজ  কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলল'এখানে আমার কি দোষ বলো?'
'বাহ রে, আমি তখন তোমাকে ধাক্কা দিলাম। ওঠার জন্য। উঠলে না। আর আমি ও ঘুমিয়ে পড়লাম।'
ওদিকে আবার কলিং বেল বাজছে।
'না ,এবার আমি গিয়ে দরজাটা খুলি। নাহলে মাসিও চলে যাবে খাটুনির শেষ থাকবে না।'
মাসি জিজ্ঞেস করল' কি গো বৌমা আজকে এত দেরি করলে?'
'আর বোলো না ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।
'"মাসি তাড়াতাড়ি কাজগুলো করে নাও।'
কোথাও যাবার আছে?'
'হ্যাঁ ঠিক তো করেছি। জানি না যেয়ে উঠতে পারব কিনা?'
"কোথায় যাবে বৌমা?"
'ভেবেছিলাম একটু কাকু কাকিমার কাছে যাবো দেশের বাড়ি।'
"কিন্তু কিন্তু করছ কেন যাও না?'
'তোমার বাচ্চাগুলোকে নিয়ে তো অসুবিধে নেই আমি আছি।'
হ্যাঁ সে তো জানি। তিনি যাবেন কিনা দেখো।'(মনোজকে ইঙ্গিত করে কথা।)
"ছেলেকে গিয়ে তোলো।'
"ঠিক বলেছ?'
রেখা আনন্দ উচ্ছ্বসিত হয়ে মনোজের ঘরে গিয়ে ডাকে"কিগো যাবে তো?"
'সকাল সকাল কানের কাছে এরকম বাজখাই  গলায় কথা বললে না ,ভীষণ বিরক্ত লাগে।'
"এ বাবা এ আবার কি কথা?
রাতে একরকম কথা সকাল হলেই চেঞ্জ?
ফ্রিজে,মাছটা পড়ে আছে, তাহলে কি হবে?
তুমি যদি না যাও বল আমি পার্থকে গাড়ির কথা বলব?'
মনোজ আড়মোরা কেটে বলে
"হ্যাঁ,রে বাবা যাব।"
রেখার হৃদয় আনন্দে ময়ূরের মত নেচে উঠলো। সঙ্গে সঙ্গে লাফাতে লাফাতে রেখা ছুটে এসে 
বলল "ঠিক আছে ,তাহলে আমি মাসিকে বলে দিচ্ছি কিন্তু।'
মনোজের উত্তরের প্রত্যাশা না করে রেখা মাসিকে এসে বলল 'মাসি তুমি তাড়াতাড়ি কাজ করে তোমার যা বাড়িতে গুছিয়ে আসার দরকার গুছিয়ে চলে এসো।'
'ঠিক আছে বৌমা।'
'সত্যি, কি আনন্দই না লাগছে। '
মাসি বললো এটাই বাবার বাড়ির টান বুঝেছ বৌমা?
রেখার এক ঝটকায় মনটা চলে গেল সেই নিজের দেশের বাড়ি, গ্রামের বাড়ি সেখানে যে জেঠিমা কাজ করতে এসেছিল বাংলাদেশ থেকে উদ্বাস্তু হয়ে। সে মাঝে মাঝেই বলতো'মাইয়াদের বাবার বাড়ি যে কি তা বিয়ার পরেই বুঝা যায়?'
সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুমা বলতেন, একেবারে হক কথা কইছো।'
 সত্যি সেই জেঠিমার কথাটি রেখার মনেপ্রাণে গেঁথে রয়েছে। আজ বুঝতে পারে "মেয়েরা কেন বাবার বাড়ি যেতে চায়? এ যে নারীর টান।'
রেখা তাড়াতাড়ি রান্নাঘরে গিয়ে চা বসিয়ে দিল মাসির জন্য ।তারপর ফ্রিজ থেকে ময়দা বের করে ঝটপট পরোটা বানিয়ে ফেলল ।মাসিও তো আজকে খাবে। অন্যদিকে ক্যাপসিকাম আলু ভাজা করবে বলে তরকারি কেটে ফেললো।
চা নামিয়ে মাসিকে চা আর বিস্কিট দিল।
আর বলল "মাসি তুমি পরোটাটা এসে খাবে, না নিয়ে যাবে?'
মাসি চুপ করে আছে।
রেখা বুঝতে পারল কেন চুপ করে আছে? মাসির সংসারে অভাব পরোটা নিয়ে গেলে নাতি-নাতনিদের ভাগ করে দিতে পারবে।
শুনেছে ।মাসির ছেলেটা নাকি দু-দুবার স্টোক হয়েছে তার ফলে কাজ করার ক্ষমতা হারিয়েছে, একটা দিক তো পুরো  প্যারালাইজড হয়ে গেছে।
এই বয়সে মাসিকে খাটতে হচ্ছে অভাবের সংসার বলে। মাসির বৌমাকেও কাজ করতে হয় তবে বেশি বাড়ীতে কাজে দেয়নি বৌমাকে কারণ ছেলেমেয়েগুলোকে লেখাপড়া জন্য ঠিক টাইমে ভাত রান্না করে দেওয়া এগুলো বৌমাকে করতে।
কথায় কথায় কত কথা বলছিল মাসির দিকে তাকিয়ে রেখার মনের ভেতরটা কেমন হু হু করে উঠলো আর ভাবল আহা এই বয়সে কি কাজ করার বয়স তবুও কাজ করছে কত নিষ্ঠার সাথে।  দীর্ঘশ্বাস ফেলে রেখা বলে" ঠিক আছে, তুমি দুটো পরোটা এখানে খাও আর দুটো নিয়ে যাও কেমন?'
মাসি বলল আচ্ছা।
রেখা খেয়াল করল মাসির চোখমুখে যেন বিদ্যুৎ খেলে গেল ।কতটা খুশি হয়েছে তা বুঝা গেল চোখ মুখ দেখে।
মাসি ঝটপট কাজ গুছিয়ে দিয়ে বলল' বৌ মা আমি আসি তাহলে।'
রেখা বলো হ্যাঁ মাসি, এসো।।
যেতে গিয়ে মাসে আবার থমকে দাঁড়ালো। প্রথম দিকটা খেয়াল করেনি পেছন ফিরে গ্যাসে মিলিদের রান্না চাপাচ্ছিল 
হঠাৎ রাক থেকে খুন্তি টা নেবে বলে পেছনের দিকে তাকালো। রেখা চমকে উঠে বলল'একি তুমি যাও নি!"
"আরেযেতে গিয়ে মনে পড়ল শীতলা পূজা আছে কিন্তু। পুজো পাঠাবে? সেই জন্য তোমাকে মনে করালাম।।
'কবে আছে?
"আগামীকাল।'
"ও বাবা তাহলে তো আজকেই তোমাকে টাকা দিয়ে রাখতে হবে।'
'হ্যাঁ বৌমা।'
'তো তুমি কি এখনই নিয়ে যাবে? নাকি এসে নেবে?'
'যা বলবে।'
দাঁড়াও নিয়ে যাও কারণ তুমি তো বললে তোমাদের পাড়ার থেকে যারা যাবে তাদের কাছে তোমাদের পুজো পাঠাবে তাহলে আমারটাও ওদের কাছেই দিতে পারবে।"
"ঠিক আছে।'
'রেখা ৫০ টাকা কিছু কিনে নিতে বলল আর ১১টাকা দক্ষিণা হিসেবে. দিতে বলল।'
মাসি বেরিয়ে গেল।
"ও মাসি দাঁড়াও দাঁড়াও নাম গোত্র এগুলো সব লিখে দিই।'
"হ্যাঁ, হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। নাহলে তো মনে করতে পারব ন।'
রেখা দ্রুত বসার ঘরে গিয়ে রাইটিং প্যাড থেকে একটা পাতা ছিঁড়েনিয়ে খসখস করে লিখলো।
তারপর হাত বাড়িয়ে কাগজটা মাসিকে দিল।
মাসি চলে গেল।
দরজাটা লাগিয়ে দিয়ে এসে রান্না ঘরে ঝটপট মিলিদের খাবারটা নামিয়ে ফেলল।
অন্যদিকে ফ্রিজ থেকে মাছটা বের করে ফুলকপি আলু দিয়ে মাছের ঝোল করবে বলে মাছগুলোকে ভেজে নিল। ঝোল চাপিয়ে দিয়ে রেখা কয়েকটা কাজ এদিক ওদিক করতে লাগলো।
রেখা খুব তাড়াহুড়ো করছে বুকের ভিতর একটা উত্তেজনা কাজ করছে। বলতে বলতেই  কলিংবেল আবার বেজে ওঠে।
মনোজ কলিংবেলের আওয়াজে উঠে পড়ে।
রেখাকে উদ্দেশ্য করে বলে 'কি গো চা জল দেবে?'
'হ্যাঁ দেবো।'
'কে আসলো গো?'
পেপার দিয়ে গেল।
'পেপার টা দাওনা একটু চোখ বুলাই।'
রেখা পেপারটা দিয়ে রান্নাঘরে এসে চায়ের কাপে চা ঢেলে মনোজকে দিয়ে আসলো। মনোজ বললো কটায় বেরোবে?
'তুমি বলো?'
'তোমার এদিকে সব রেডি?খাবারদাবার বানানো হয়ে গেছে?'
রেখা বলল ' হ্যাঁ।'
তাহলে চলো, ১১:৩০টার মধ্যে বেরিয়ে পড়ি।
Ok
রেখা দ্রুত পদে রান্নাঘরে গেল। তারপর স্নান করতে ঢুকলো। বাথরুমে থেকে চেঁচিয়ে বললো' পামপটা চালিয়ে দাও।'
দিচ্ছি।
রেখা স্নান করতে করতে আপন মনে গেয়ে উঠল" আমার ভিতর ও বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছো তুমি.…।'


মনোজ মনে মনে ভাবল রেখার বাপের বাড়ি যাওয়ার কথা শুনলেই কেমন মনটা আনন্দে নেচে ওঠে ।তাই কি সুন্দর গান গাইছে। আসলে সব মেয়েদেরই বোধহয় বাপের বাড়ির প্রতি একটু উইক আছে।
আবার কখনো কখনো কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতা আওরাছে
"আবার আসিব ফিরে এই ধানসিঁড়িটির তীরে এই বাংলায়' ..।"আজ রেখার মন খুশিতে পাল তুলেছে। চোখে মুখে ফুটে উঠেছে তার অভিব্যক্তি।

কবি দীনবন্ধু ঘোষ এর কবিতা "চিড়িয়াখানা"




চিড়িয়াখানা
দীনবন্ধু ঘোষ
                    ‌
চিড়িয়াখানা  চিড়িয়াখানা‌ 
কলকাতার ই   চিড়িয়াখানা ,
সকাল থেকেই চলতে থাকে 
কত লোকের আনাগোনা ।

শিশু থেকে  বড়ো সবাই
ছুটে আসে চিড়িয়াখানায় 
খা‌ঁচাবন্দি  বন‍্য দেখে 
জুড়াই  যদি জীবনখানাই।

হঁংস থেকে হস্তি দেখি
বাঘ ভল্লুক নানান পাখি
জেব্রা জিরাফ হরিণ কুমির
দেখছে সবাই ভরিয়ে আঁখি।

ওদের দেখে খিলখিলিয়ে কেবল হাসে সবে,
কি মজাই না আজ পেয়েছি আনন্দ এই ভবে!
দূর হতে আকাশ হয়ে অতি হতাশ 
বর্ষায় অশ্রু নিশীথে নিরবে।


কেউ জানেনা কষ্ট ওদের ,
বোঝে শুধু আমোদ নিজের
বিনা দোষেই বদ্ধ ওরা জেলখানার  ঐ   নামান্তরে
স্বপ্নে ওরা আমায় বলে,"আমরা সুখী বনের দ্বারে"।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮৫




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮৫)
শামীমা আহমেদ 

শিহাব মোবাইলে কথা বলা শেষ  করে উৎকণ্ঠিত রাহাতের দিকে তাকালো। শিহাবের চোখে মুখে বেদনার ছাপ স্পষ্ট হয়ে আছে । তার সামনে রাহাতের জিজ্ঞাসু দৃষ্টি!  শিহাব যেন কিছু বলবার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। এমনিতেই শিহাবের ভেতরে শায়লাকে পাওয়া না পাওয়ার দ্বিধান্বিত ভাবনা আবার এর সাথে যোগ হলো শিহাবের হৃদয়ের রক্ত ক্ষরণ। ফোন কলটি যেন শিহাবের জন্য বিনা মেঘে বজ্রপাত হয়ে এলো।
রাহাত শিহাবকে ভাবনার জগৎ থেকে বের করে আনতে প্রশ্ন করলো,
কী হয়েছে শিহাব ভাইয়া ? কোন খারাপ খবর ? আপনার বাসার  সবাই ভালোতো ?
শিহাব এবার একটু স্বাভাবিকে এলো, বিড়বিড় করে বললো, ভাবীর কল এসেছিলো।আমার ছোট্ট আরাফ সিঁড়িতে পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পেয়েছে। কপালে কেটে গেছে। খুব রক্ত ঝরছে। সবাই হাসপাতালে নিয়ে গেছে।সে বাবা বাবা বলে কাঁদছে। কথাগুলো বলতে গিয়ে শিহাবের ভেতরে  কান্নার ঢেউ এলেও এমন খোলা যায়গায় সে নিজেকে খুব কষ্ট করে সংযত রাখলো।
তাহলে তো আপনার এখুনি যাওয়া উচিত শিহাব ভাইয়া। দেরি করবেন না।
শিহাব কথাটি ঠিক শুনলো কিনা! সে মোবাইলে কিছু টাইপ করছে যেন।
শিহাব শায়লাকে মেসেজ পাঠিয়ে দিতে চাইলো কিন্তু পরক্ষনেই ভাবলো পার্লারে এখন ও নানান প্রস্তুতিতে আছে।এখন কিছু জানলে ও বেরিয়ে আসতে চাইবে।  আবার  শিহাবের এতটা সময় অপেক্ষা করাও সম্ভব না?  তার আরাফের জন্য মন মানছে না। এমনিতেই শিশুটি মা বাবার আদর ছাড়াই বড় হচ্ছে।  ওর কোন বিপদ শিহাবের মনে অনেকখানি ব্যথায় ভরিয়ে দেয়। ধি্বে অন্তরে  ভাবনা ঢেউ,নিশ্চয়ই আরাফ ব্যথায় খুব কাঁদছে। নিশ্চয়ই তাকে দেখতে চাইছে !
শিহাব ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না সে কি করবে ? 
তবুও তাকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে। শিহাবের এই একটা চমৎকার গুন। সে সব অবস্থাতেই নিজেকে স্থির রেখে করণীয় দ্বায়িত্ব কর্তব্যের ছক কেটে নিতে পারে। তাকে এখন দুই দিকই সামাল দিতে হবে।
যদিও শায়লা সবই সহজভাবে নিবে চাইকি জানতে পারলে সে এখনই আরাফের জন্য ছুটে যাবে ! 
আবার শিহাব এটাও জানে,  ভালবাসায় ভুল বুঝাবুঝি দুজনার মাঝে  আনতে পারে বিস্তর ফারাক।এতে দুজনার প্রতি দুজনার বিশ্বাস হারায়।  তাই শিহাব আর দেরী না করে,মেসেজে সে তার প্রকৃত অবস্থা  শায়লাকে  জানিয়ে দিলো। শায়লার প্রতি তার শুধু এটুকু  মিনতি রইল, শায়লা তুমি আমার অপেক্ষায় থেকো। আমি আরাফকে সুস্থ করে তোমার কাছে ফিরবো। শায়লার প্রতি শিহাবের অনেক আস্থা। সে তার যে কোন কিছুকে খুব সহজভাব নিবে। রিশতিনা বা আরাফের বিষয়টিতে সে কোন প্রশ্ন আনেনি কোনদিন।কারণ শিহাবের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাস  আর অপরিসীম ভালবাসা। শিহাব মেসেজ সেন্ড করে  সময় দেখে নিলো।এগারোটা বাজছে।শায়লার আরো একঘন্টা  লাগবে।এদিকে জিগাতলা থেকে আবার মায়ের ফোন এলো। মা কাঁদছে। শিহাব আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলো না। সামনে যে রাহাত দাঁড়িয়ে আছে শিহাব তা একেবারেই ভুলে গিয়েছিল।শিহাব বাইক স্টার্ট  দিয়ে আবার থামল। সে হঠাৎই   রাহাতের  হাত ধরে অনুরোধের সুরে বললো, রাহাত আমি যাচ্ছি।সন্তানের ডাক সে এক অন্যরকম অনুভুতি। যেন এক সাগর সাঁতরে যেতেও কোন কষ্ট বোধ নেই। শুধু অনুরোধ রইল, তোমার আপুকে কানাডা যেতে দিও না। ওখানে গেলে ও বাঁচবে না। আমার  শূন্যতা ওর কাছে এক অপূরণীয় অনুভুতি। আমার অনুপস্থিতি যেন জলবিহীন মরুদ্যান।
আমি ওকে খুব করে চিনেছি রাহাত।আমাকে ছাড়া ওর জীবনীশক্তি হারিয়ে যাবে। আর আমিও এদিকে একাকীত্বের বেদনায় ডুবে যাবো। তোমরা ভুল করোনা। শায়লাকে আমার কাছ থেকে দূরে সরিয়ে দিও না।শিহাব আর কিছু বলতে পারছে না। তার মনের ভেতর প্রচন্ড এক ঝড় বয়ে যাচ্ছে। রাহাতের কাছে সকল আর্জি  জমা রেখে গেলো। শিহাব হেলমেট পরে বাইক স্টার্ট দিয়ে উচ্চরবে হর্ণ তুলে ঢাকা এয়ারপোর্ট রোডের জনারণ্যে মিশে গেলো। রাহাত কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে রইল। বারবার তার একই পরীক্ষায় পড়তে হচ্ছে।একদিকে পরিবারের মান সম্মান আরেকদিকে দুটি সুন্দর মনের কাছে আসার আকুতি। সে এখন বেশ বুঝতে পারছে রুহি খালার কথা শুনে তার মত বদলে ফেলা উচিত হয়নি। শায়লা আপু শিহাব ভাইয়া তো তার কাছেই সমাধানের জন্য এসেছিলো। তার নিজেকে বদলে ফেলা উচিত হয়নি।  এতদিনে ডিভোর্সের  কাগজপত্র এগিয়ে নিলে নোমান ভাইয়াকেও ঠেকানো যেতো। রাহাত আর কিছু ভাবতে পারছে না। বিষয়টি ভীষণ জটিল হয়ে গেলো। শায়লা আপুকে সুখী দেখাইতো তার চাওয়া ছিল। আপুর চোখের ছায়ার সর্বদাই শিহাব ভাইয়া। আর শিহাব ভাইয়াও আপার জন্য যেভাবে বারবার ছুটে আসছে এমন একটা  বন্ধন এক হতে না দিলে রাহাত সারাজীবন  নিজেকে ক্ষমা  করতে পারবে না। কিন্তু  এখন অনেক দেরী হয়ে গেছে।আর কিছুক্ষণ পরে আপুর হাজবেন্ড নোমান ভাইয়ার বিমান ল্যান্ড করবে। আপুকে নিয়ে তাকে রিসিভ কর‍তে যেতে হবে।কিন্তু শিহাব ভাইয়ার এই খবর জানলে আপুকেতো কিছুতেই শান্ত রাখা যাবে না। উফ ! আমি আর ভাবতে পারছি না। রাহাত সবকিছু নিয়তির উপর ছেড়ে দিল। চারপাশের মানুষের এত কোলাহলেও সে নীরব হয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

ভেতরে শায়লা  নানান প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে।তক্ষুনি তার  শিহাবের মেসেজ দেখাটা তার সম্ভব হলো না। সবকিছু শেষ হতে প্রায় বারোটা বেজে গেলো। শায়লার নিজেজে বেশ ফুরফুরে লাগছে। সে বুঝতে পারছে বাইরের সৌন্দর্যও  মনের প্রফুল্লতা অনেকখানি বাড়িয়ে দেয়। অবশ্য সে এতদিন এসবকিছুর দিকে একেবারে খেয়াল দেয়নি।পুরোটা সময় সে শিহাবের ভাবনায় ডুবে থাকতো। আয়নায় নিজেকে খুব ভাল করে দেখতে লাগলো।নিজের কাছে নিজেকে অচেনা লাগছে। আগের চেয়েও আরো আকর্ষণীয় লাগছে।কিন্তু শিহাবের চোখে কি তা ধরা পড়বে ? শিহাবের কথা মনে হতেই সে ভেবে নিলো নীচে শিহাব অপেক্ষায় আছে দ্রুত বেরুতে হবে। সে বুবলীকে খুঁজতে লাগলো। হঠাৎই বুবলী সামনে এসে দাঁড়ালো। দারুণ এক হেয়ার স্টাইলে তাকে চেনাই যাচ্ছে না। 
চটপটে বুবলী নিজেকে আড়াল করে শায়লার প্রশংসায় একের পর এক বাক্য ব্যয় করে যাচ্ছে। ওয়াও আপু তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে।দুলাভাই আজ এসে তোমাকে চিনতেই পারবে না। 
শায়লার ভেতরে শিহাবের জন্য মনটা খচখচ করছে। কতক্ষণে সে নীচে নামবে। আর যেভাবেই হউক রাহাতকে এড়িয়ে তাকে শিহাবের কাছেই যেতে হবে।আর সে যদি তা না পারে তাহলে আজীবনের মত সে শিহাবকে হারাবে।মনে মনে সে নিনেকে তৈরি করে নিলো। বুবলীকে দ্রুত বিল মিটিয়ে নীচে নামতে বললো। বুবলী ধরেই নিলো, দুলাভাইয়ের জন্য আপুর আর ত্বর সইছে না।
বিল হিসেব পত্র করে বুবলী টাকার লেনদেন সেরে নিলো।  পার্লারের একটি মেয়ে শায়লাকে একটা ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে তার সুন্দর দাম্পত্য জীবনের জন্য অভিনন্দন আর শুভকামনা জানালো। শায়লা এক ঝলক শিহাবকে ভেবে লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলো!   
দুজনে লিফটে নীচে নেমে এলো। শায়লার উৎসুক চোখ  শিহাবকে খুঁজছে।  নিশ্চয়ই শিহাব তাকে দেখে এগিয়ে আসবে।শায়লা শিহাবের লাল বাইকটি খুঁজছে। শায়লা আশেপাশে তাকাচ্ছে।বুবলী বুঝতে পারছে না আপু কাকে খুঁজছে ! ঐতো রাহাত ভাইয়া দাঁড়ানো। শায়লাকে রেখেই বুবলী রাহাতের দিকে এগিয়ে গেলো। 
ভাইয়া এইতো আমরা। গাড়ি কোথায় ? 
রাহাত শুধু শায়লার চোখের দিকে তাকিয়ে।
তবে কি শিহাব ভসিয়া আপুকে জানিয়ে যায়নি ? আপু কেন তবে শিহাব ভাইয়াকে খুঁজছে । সামনে বুবলী দাঁড়ানো, রাহাত স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না। কিন্তু শায়লার ব্যথাক্লিষ্ট মনের ছাপ শায়লার মুখে যেন ভেসে উঠেছে !  রাহাত আপুর মনে অবস্থা খুবই বুঝতে পারছে।শিহাবের অনুরোধের প্রতিটি কথাই তার কানে বাজছে।
রাহাত এগিয়ে এসে বললো, আপু বাসায় চলো। আমাদের এয়ারপোর্টে যেতে হবে।
কিন্তু শায়লার চোখে  রাহাতের প্রতি  তীক্ষ্ণ প্রশ্নবান যেন আক্রমণ ক্রতে চাইছে।
নিশ্চয়ই রাহাত শিহাবকে এমন কিছু বলেছে তাই শিহাব চলে গেছে। কিন্তু পরক্ষণেই সে ভাবলো,শিহাব তো কারো কথায় চলে যাওয়ার মত ছেলে নয়! তবে সে কোথায় গেলো ? 
রাহাত আর শায়লার মাঝে দাঁড়িয়ে বুবলী কিছুই বুঝতে পারছে না। কেন আপু গাড়িতে উঠছে না আর কেনইবা রাহাত ভাইয়া আপুকে গাড়িতে তুলছে না। 
শায়লা শিহাবকে কল করতে চাইলো। কেন সে এখানে নেই ? সে তাকে রেখে কেন চলে গেছে ? এসব জানতেই শায়লা ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করতেই শিহাবের মেসেজ দেখতে পেলো। সবটা জেনে শায়লার যেন দেহে প্রাণ ফিরে এলো। সে মনে মনে বলে উঠলো, শিহাব আমি তোমার জন্য আজীবন অপেক্ষায় থাকবো।তবে আরাফের শায়লার জন্য মনটা কেঁদে উঠলো। 
রাহাত এগিয়ে এসে শায়লার হাত ধরলো। আপু চলো,বাসায় যাই।
শায়লা তার অনাগত পরিস্থিতিতে নিজেকে সঁপে দিলো। নিয়তির কাছে সমর্পণ করলো তার ভবিষ্যৎ । সে ধীর পায়ে গাড়ির দিকে এগিয়ে গেলো। শায়লার চোখে তখনো আজ সকালে দেখা মেরুণ রঙা শার্টের শিহাবের মুখটা মুখটা যেন মিশে আছে। 
শায়লা মনে মনে বলে চললো,  শিহাব তুমি যেখানে যেভাবে বা যতদূরেই থাকো তুমি আমার মনের সবটা জুড়ে। আমি তোমারই অপেক্ষায় আছি। 
ভাইয়া, ফুলের অর্ডার দেয়া ছিল। ওরা কি কিছু জানিয়েছে ? আপুর হলুদের জন্য ফুলের গয়না দেয়ার কথা  আর ফুল দিয়ে ঘর সাজিয়ে দিয়ে যাওয়ার কথা। 
রাহার ভাইয়া ওরা কি যোগাযোগ করেছে ? 
 দায়িত্বশীল বুবলীকে সবদিক দেখতে হচ্ছে।কিন্তু বুবলীর প্রশ্নে রাহাত নিরুত্তর হয়ে রইল।
শায়লা আর রাহাতের মনের ভেতর যেন এক ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে। যেখানে রাহাত স্বেচ্ছায় পরাজয় বরন করে নিতে চাইছে।
গাড়ি যানজট কাটিয়ে সেক্টর সাতের দিকে এগিয়ে চললো।
চলবে....

কবি রজেশ কবিরাজ এর কবিতা "প্রতিজ্ঞা"




প্রতিজ্ঞা
রজেশ কবিরাজ

আমাকে দুর্বল করে না প্রবল ঝড়
যবে ছেড়ে এসেছি ঘর।
নিয়েছি কতজনকে আপন করে 
সবাই ভেবেছে আমাকে পর।
নেইকো আমার ক্ষুধার জ্বালা 
নিভৃতে কাটিয়েছি কত বেলা,
খেলেছি কতজনের সাথে কত খেলা !
তবুও আমাকে কেউ পরায়নি প্রেমের মালা।
আমার অন্ধকার প্রতিটা রাত 
কাটে স্বজনহারা বিষাদে ;
মনে হয় আমি ফিরে যাই -
আবার আমার আপন স্বদেশে।
আমি হেঁটে যাই নিঃশব্দে 
কাঠফাটা রোদ্দুর দুপুরে কিংবা রাত্রে,
কত জনকে ভিক্ষা দিয়েছি সযত্নে ;
তবুও মনে হয় আমি কি -
ভুল করছি প্রতিটা ক্ষেত্রে ?!
এই আলোয় ভরা ধরার মাঝে
সেজেছি কতভাবে কত সাজে !
তবুও ভুলিনা কত শত আঘাতের ক্ষত
ভেসে ওঠে সেই ক্ষত মাঝে মাঝে।
দেখেছি চোখের সামনে কত মানুষ
বলেছে এসে মধুর কথা,
তাদের ভালোবেসে দেখেছি আমি 
তারাই দিয়েছে আগে শত শত ব্যথা।
চোখ মেলে দেখেছি এই নিষ্ঠুর পৃথিবীতে
পড়েছে লাশের পরে লাশ,
তবুও একজন কেউ দেখিনি 
কাউকে ভালবেসে নিতে মনুষত্বের শ্বাস।
যতদিন আছি পৃথিবীতে বেঁচে 
পারব কি দেখে যেতে মানবতার বিকাশ !
প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবো আজ, যতই পাই যত ব্যথা
করে যাব মানুষের জন্য কাজ।
আমি চাই আপন হতে সবার,
চাইনা হতে ইতিহাসের পাতায় অমর।

কবি ইসলাম'রবি এর কবিতা "অদৃশ্য গোপন চিঠি"




অদৃশ্য গোপন চিঠি
ইসলাম'রবি

সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে 
ক্লান্ত দেহ নিয়ে বাসায় ফিরে ,
খাবার আর তারা দেখে বিছানার চাদরে 
শরীল যখন এলিয়ে দেই ,
একটি শূন্যতা তোমায় মনে পড়ে
বহুদূরে আম্মা তবুও আছো মনের ঘরে ,
অবশেষে রাতের আকাশকে প্রশ্ন করি 
আম্মা তুমি কেমন আছো বিধাতার কাছে ?
জাগতিক সব স্মৃতি জেগে ওঠে তখনই 
এক বুক হাহাকার সাধ্য কার সান্তনা দেওয়ার ,
সবার কাছে অনেক বড় মানুষ আমি
তুমি একমাত্র এখনো ছোট মনে করেছ 
তোমার ছোট্ট রাগের জাহাজকে ,
যেখানে আছি যেভাবে আছি 
আম্মা তুমি আছো মস্তিষ্কের অলিগলিতে 
এই জগত সংসারে ছায়া তরু হয়ে ,
আম্মা তোমার মত আর কেউ হয় না
তোমার তরে চিঠি লিখি আমার সময়ে
সুখের সব মূহূর্ত এসে হাজির হয় বসলে ,
চিঠিকে বলি উড়ে যা অদৃশ্য হয়ে আম্মার কাছে 
আর আমার সালাম দিস আম্মার তরে,
আম্মা তোমার সাথে আমার প্রেমের রচনা নাই 
কিন্তু তোমার সাথে আমার আত্মার আত্মার সম্পর্ক !

০৯ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৪৮






উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৪৮
আমরা সবাই রাজা
মমতা রায়চৌধুরী

মনোজ আর রেখা, একান্তে বসে দুজনে কথা বলছে ঠিক তখনই  কলিংবেল বাজানোর আওয়াজ "জয় গনেশ ,জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা"। 
রেখা বলে 'এই সময় কে আসলো দেখো?'
মনোজ বলল 'তাই তো ।দেখি তো ।আবার কলিং বেল বাজানোর আওয়াজ "জয় গনেশ, জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা।"মনোজ সোফা ছেড়ে উঠতে উঠতে বলল "বাপরে বাপ ,যাচ্ছি ,যাচ্ছি।'
দরজা খুলেই মনোজ অবাক হয়ে যায় 'পার্থ তুমি এত রাত্রে কি ব্যাপার?'
'আরে বাবা ,দরজার বাইরে দঁড়িয়েই সব 
বলবো? না ভেতরে ঢুকবো?'
মনোজ বলে "ছি :ছি :ছি :ছি :তাই তো 
এসো ।ভেতরে এসো।'
পার্থর হাতে প্যাকেট দেখতে পেল। মনোজ  বলল "কি ব্যাপার, আবার কিছু হলো নাকি?"
"অনেক কিছুই ।এক ,সোনাই খুব খুশি সোনার হারটা পেয়ে ।তাই দাদা বৌদির কাছে আমরা একটা ট্রিট চেয়েছি।'
মনোজ বলল' বাহ এতো দারুন ব্যাপার।'
'সে তো দারুণ ব্যাপার তবে আপনারাও বাদ যাচ্ছেন না ।ওটা আপনাদের কেও থাকতে হবে।'
আর এই প্যাকেটে রেখা বৌদি অনেকদিন আগে ইলিশ মাছের কথা বলেছিল ,যে গঙ্গার ইলিশ মাছ খাবে, তা আজকে হঠাৎ করে বাজারে গঙ্গার ইলিশ মাছ দেখতে পেয়ে নিয়ে আসলাম।"
রেখা খুব উৎসাহের সঙ্গে বলে উঠলো 'কই দেখি,
দেখি "
মনোজ বলল" তাই তো দেখি। রেখা আর মনোজ দুজনেই গভীর উৎসাহে ব্যাগটা খুলে দেখে তারপর রেখা বলে ওঠে" আরিব্বাস।"
'থ্যাংক ইউ পার্থ।'
"মাছটা বেশ বড়ো মনে হচ্ছে।"
মনোজ বললো, দেড় কিলো হবে নাকি পার্থ?"
পার্থ বলল , না নাএক কিলো৩৭৫ গ্রাম।'
রেখা বলল "এই মাছটা নিয়ে আমার দেশের বাড়ি কাকু কাকিমার কাছে যাব।"
'ঠিক আছে বৌদি ,রাত হয়ে গেছে তো আসছি আমি।'
'হ্যাঁ এসো পার্থ ভাই।
কাকিমার শরীর ঠিক আছে পার্থ?'
"হ্যাঁ আছে ।tওই বাতের ব্যথা কষ্ট পাচ্ছে।
ও ভালো কথা বৌদি ,মা তোমাকে কিন্তু যেতে বলেছে ।ভুলেই গেছিলাম বলতে ,দেখেছ, কথায় কথায় এবার বাড়ি গেলেই মা জিজ্ঞেস করত বলেছিস রেখাকে।'
সবাই মিলে হো হো করে হেসে ওঠে।
ঠিক আছে আসছি মনোজ দা, বৌদি।
মনোজ রেখা দুজনেই বললে" হ্যাঁ ,এসো, এসো।'
পার্থ চলে গেলে দরজাটা বন্ধ করে দিল।
এবার রেখা বলল মিলিদের খাবারটা দিয়ে দিয়েছো 
"হ্যাঁ গো"
রেখা  বলল 'অনেকক্ষণ তো গল্প করলাম এবার বল খাবে কি,?
'আজকে আর কষ্ট করে কি রান্না করবে? 'তারচেয়ে ওটস খাও একটু। কোন কষ্ট করতে হবে না।'
"ঠিক আছে ।তাই হবে।"
"তবে জানো তো মিলিরা আর ছোট ঘরে থাকতে চাইছে না সারাদিন সামনের স্যাটারটা খোলা থাকবে। প্রয়োজনে ওরা ওখানে শুতে পারবে।
রেখা বলল" তাহলে আজকেই ওদেরকে ছেড়ে দিই।"
"তাই হোক ।
আজ থেকে ওরা মুক্ত।"
তবে জানো তো ভয় ভয় ও কাজ করছে। ছুটে রাস্তায় যদি চলে যায়।'
মনোজ বলল  প্রকৃতির নিয়মে ওদেরকে থাকতে দাও।
চলো যাই আজ ওদেরকে ছেড়ে দিয়ে  প্রকৃতির মুক্ত অঙ্গনে।"
রেখা কাছে গিয়ে বলল' মিলি আজ তুই আর তোর বাচ্চাদেরকে ছেড়ে দিলাম। এমনিতেও বাইরে থাকতিস শুধু বাচ্চাদের জন্য ভেতরে এখন আছিস। এখন তোদের সবাইকে ছেড়ে দিচ্ছি।
এতদিন শুধু আটকে রেখেছিলাম তোর বাচ্চাগুলো যাতে সেভ থাকে। তোরা বড় হয়েছিস তোরা কি আর বাঁধা থাকতে পারিস? কেমন যেন মনে হয় তোদেরকে শৃঙ্খলে অর্থাৎ বেডই তে বেঁধে রেখেছি। কেন তোদেরকে বেঁধে রাখব বল?
'আজ তোরা সবাই রাজা…..।"
"স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে ,কে বাঁচিতে চায়।"
বলেই গেটটা খুলে দিতেই ওরা যে যার মত বেরিয়ে পড়ল রাস্তায়। কতক্ষণ যে ওরা ছুটল 9 ঠিক ঠিকানা নেই। মনোজ আর রেখা দু 'চোখ মেলে দেখতে লাগলো।
অনেকক্ষণ ছোটার পর বাচ্চাগুলো হাঁপাতে লাগলো। তারপর ওদের নাম ধরে ডাকতেই ভেজ নেড়ে এসে চলে এলো তার বসে পড়লো।
নিজের মতো করে ঘুরতে ফিরতে দেখে সত্যি ভালো লাগলো।
মনোজ বলল চলো অনেক রাত হল ভেতরে যাই।
রেখা বলল "এই যা।'
মনোজ  বলল' কি হল আবার?'
রেখা জিভ কেটে বললো, পার্থ কে তোর টাকা দেওয়া হলো নাম আছে যা মাছের দামটাও তো জিজ্ঞেস করা হলো না।
ঠিক আছে অতো টেনশন নিচ্ছ কেন ফোন করে জেনে নেব। এখন না না না ফোন করে জানাটা ঠিক হবে না ঠিক আছে কালকে জেনে নেব। দাম দিয়ে দিলেই হবে।
তাছাড়া আমাদের পার্থ এরকম ছেলেও না।
তা যা বলেছ একদমই তাই। এ যুগের ছেলে ওর কোন রকম নেশা নেই দেখেছো?
একদমই তাই।
তুমি ভেতরে ঢুকেছে আমি দরজাটা লাগিয়ে দিচ্ছি।
ও বাবা এই দেখো গেট বন্ধ করতে দিচ্ছে না।।
রেখা ও এগিয়ে আসলো। কি হলো তোদের কি হল তোরা যে বাইরে বেরোবি বলে ছটফট করছিলি? এখন আবার কি ভেতরে কি বাইরে থাকো সোনা আমাদের লাগাতে হবে তোমরা পাহারা দাও কেমন?
তুলি মিলি পাইলট সকলে ঘেউ ঘেউ করে ওরা ওদের ভাষায় কিছু বলল।
"খারাপও লাগছে গো গেটটা দিতে।"
তাছাড়া দিতে তো হবেই।"
অভ্যাস হয়ে গেলে আবার দেখবে ওরা এসব বায়না করবে না।'
'ঠিক আছে রেখা একটু কটা বিস্কিট দাও না।
দাঁড়াও নিয়ে আসছি।'
'গেট খুলে ড্রয়িং রুমে কৌটোতে রাখা ব্রিটানিয়া বিস্কিট। আট দশটা বিস্কুট নিয়ে আসলো।
বিস্কিট গুলো ভেঙে ছড়িয়ে দিল ওরা দিব্যি কি সুন্দর খেতে লাগলো।
এবার মনোজ ইশারায় রেখাকে বলে ভেতরে যেতে বলে। আর মনোজ গেটটা লাগায়।
সব কটা মিলে একটু তাকিয়ে দেখল আবার নিজেরা খাওয়াতে মনোনিবেশ করল।
কলাপসিবল গেট লাগাতে লাগাতে মনোজ রেখাকে বলল 'তোমার একটু কাজ কমলো।
রেখা রান্না ঘরের দিকে যেতে যেতে বলল কি "কাজ কমলো গো?"
"কেন এখন তো আর ওরা ভেতরে পটি করবে না"
হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক।
"এ বাবা আমারও মাথা খারাপ হয়েছে দেখো।"
"কেন?"
"রান্নাঘরে খাবার তৈরি করতে যাচ্ছি তারা কিন্তু ফ্রেশ হতে হবে ভালো করে হাত মুখ ধুতে হবে,হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে।"
"হ্যাঁ আমিও তাই অবাক হয়ে যাচ্ছিলাম।"
বলতে বলতেই রেখা ওয়াশরুমে গেল ভালো করে হাত মুখ ধুয়ে বেরতে যাবে তখন বলল আমাকে একটু টাওয়াল টা দাও না?
এই দি ই।
টাওয়ালটা রেখাকে দেবার পর রেখা মুখ মুছতে মুছতে বলল'তুমি ওটস এ কলা খাবে তো?'
মনোজ ওয়াশরুমের দিকে যেতে যেতে বললো, "হ্যাঁ খাবো কিন্তু আপেল খাব না।"
কেন একটু ফ্রুটস খেলে কি হয় গো?
মাংস আর মাংস।
মনোজ ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে আসতে আসতে বলল "এই মাংস খাওয়া নিয়ে একটা মজার ঘটনা আছে জানো?'"
রেখা, উদগ্রীব হয়ে বললো' কি?'
'জানো মাংস খেতে এত ভালবাসতাম আমি আমার বাবা, জ্যাঠারা ।তো বাবা  বলেছিল জানিস আমরা গত জন্মে বাঘ ছিলাম?'
রেখা হো , হো, হো করে হেসে উঠলো বললো' 'কি?
'হ্যাঁ গো'।
'পারো বটে তোমরা।'
মনোজ এবার সোফাতে খুব আরাম করে বসে
রসিয়ে রসিয়ে বলতে লাগলো।
'জানো তো আমাদের এখানে মিলনদার' সুইট কেবিন 'আছে রেস্টুরেন্ট।
হ্যাঁ।
আমাদের এখানে প্রথম মিলন দায়ে এই রেস্টুরেন্ট বানান। মিলন দার তখন রমরমে অবস্থা। আমাদের সব বন্ধুরা আড্ডা দিতাম মিলন দার সুইট কেবিনে।
চলতো জমিয়ে আড্ডা আর খাওয়া-দাওয়া।
একদিন মিলন দা আমার সঙ্গে বাজি ধরলেন।
এই মনোজ তুই যদি কাঁচা মাংস খেতে পারিস তাহলে তোরে এক মাসের খাবার ফ্রি।
আমি তো আলহাদে আটখানা। সঙ্গে সঙ্গে রাজি হয়ে গেলাম।
তখন সুরো বলছে"এ মনোজ এই নিয়ে বাজি ধরার কোন দরকার নেই তোর?'
আমি বললাম' আমি বাজি লড়বো হারকিপটে মিলন দা, এক মাসের খাবার দেবে ফ্রিতে ভাবা যায়?'
মিলনদাও তখন বারবার বলে যাচ্ছেন' কিরে এত চিন্তা করছিস কেন বাজি ধর।'
আমি বললাম 'আমি রাজি।'
তখন আমাকে না  পেরে মিলনদা কে বললো তুমি একজন বয়জ্যেষ্ঠ ।তুমি কেন ওর সাথে এভাবে বাজি ধরছো বলতো?'
মিলন দা বলছে" আমাকে সবাই হারকিপটে বলে আমি এই নাম ঘুচাবো।'
'ঠিক আছে, তার জন্য তোমাকে বাজি ধরে কিপটে নাম গোছাতে হবে কেন তুমি এমনি আমাদেরকে খাইয়ে দাও না এক মাস ধরে।'
কি বলছিস সুরো?
ইতিমধ্যেই ভোলা দা মাংস নিয়ে ঢুকেছে। মনোজের তখন থেকেই জিভ ে জল এসে গেছে।
একবার জিভটা দিয়ে বেশ করে আপন মনে চেটে নিল।
ভোলা দা ভালো করে মাংসগুলো ধুজছে, ধোঁয়ার শেষে নুন হলুদ মাখিয়েছে কোরমা বানাবে বলে। ঠিক তখনই মনোজগ গিয়ে ভোলা দা কে বলল দাও আমাকে মাংস দাও।
ভোলা দা তো অবাক তুমি কাঁচা মাংস খাবে?
মনোজের তখন শরীরের রক্ত গরম তখন সে হুংকার ছেড়ে বলে 'তোমাকে যা বলছি তুমি সেটাই কর।'
অগত্যা ভোলা দা মাংস দিলো প্রথমে এক পিস।
মনের সেটাও খেয়ে ফেলল।
ভোলা দা আবার এক পিস দিল। সেটাও সাবার।
পরে ভোলাদা আবার এক পিস দিল।
এবার মিলন দা বেগতিক বুঝে ভোলাকে বললেন "আর মাংস দিবি না ওকে"।
"আমি বললাম কেন দেবে না কেন?'
"আমি হার স্বীকার করে নিচ্ছি তুই পারবি খেতে।'
"তাহলে আমারে এক মাসের খাবার ফ্রি। পাক্কা তো?"
মিলন দা কাঁদো কাঁদো ভাবে বললেন"চেয়ে নিচ্ছি আমাকে ক্ষমা কর। বাজিতে হেরে গেছি তুই জিতে গেছিস এক মাসের খাবার আমি ফ্রিতে খাওয়াতে পারব না।'
এবার আমার বন্ধুরা সবাই মিলে বলল এটা কি ব্যাপার হল কথার খেলাপ করলে মিলন দা।
মিলন দা তখনো কেঁদে যাচ্ছেন। অ্যাক্টিংটা ভালো করতে পারেন মিলন  দা।
আমাকে পথে বসিয়ে দিস না তোরা, তোদের আমি কাছে জোর হাত করে ক্ষমা চাইছি আমাকে ক্ষমা কর।।
"ছি: ছি: ছি:!! তুমি একজন রেপুটেড বিজনেসম্যান তার কথার কোন দাম থাকবে না অমিত বলল।'
"আমি সব মানছি কিন্তু আমি এক মাস ফ্রিতে খাওয়াতে পারব না রে।'
রেখা বলল" কি সাংঘাতিক কান্ড গো? ভদ্রলোক কথার খেলাপ করলেন?'
আজ বলো তাহলে আর বলছি কি? কি হবে? আমাদের মনটা গলাতেই হল।
সুরো বললো 'ছাড়তে পারি, আজকে তোমার কেবিনে যা যা ভালো খাবার হবে আমাদের এই বন্ধুদের খাওয়াতে হবে।"
মিলনদা দেখলেন বেকায়দায় পড়ে গেছেন এটুকু না করলে তো ছাড়বে না এরা ।তখন তাতেই রাজি হয়ে গেলেন অতি কষ্টে।
রেখা তখন হো হো হো করে হাসছে।
"আরে তখন তো বিয়ের আগে আমরা মাঝে মাঝেই এরকম গিয়ে আড্ডা মারতাম মিলন দার সুইট কেবিনে।"
সেই সোনালী দিনগুলোতে আমরা ছিলাম যেন সবাই রাজা। আমরা প্রত্যেকে গান গেয়ে উঠেছি "আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে….।"ওই একদিনের ট্রিট পাওয়াতে। নেই মামার থেকে তো কানা মামা ভালো।
আর এখন আমরা বন্ধুরা জীবন জীবিকার উদ্দেশ্যে কে কোথায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে গেলাম।
রেখা বলল সত্যিই তাই বিয়ের আগে তখন সাংসারিক দায়-দায়িত্ব থাকে না প্রত্যেকের একটা আলাদা ইমেজ তৈরি হয়। প্রত্যেকেই যেন সবসময় চার্জ থাকে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তো বয়স বেড়ে যায় বলো, সাংসারিক দায়-দায়িত্ব বেড়ে যায় সাংসারিক বন্ধনে বাঁধা পড়ে যাওয়াতে।
একদমই তাই।
যাক কথা প্রসঙ্গে তবু অনেক কথা বেরিয়ে আসলো একটু হা হা হি করে নিলাম। তখনো গুনগুনিয়ে গান গাইছে "আমরা সবাই রাজা আমাদের এই রাজার রাজত্বে। নইলে মোদের রাজার সনে মিলব….।"

কবি সুবর্ণ রায় এর কবিতা "বসন্তমাস"




বসন্তমাস



গাছগাছালিতে আগুন লাগা। 
ভালোবাসায় রক্তাক্ত মন।
চুড়ান্ত শিল্পটির নাম বসন্তমাস।

কবি সেলিম সেখ এর কবিতা "হাসি"




হাসি
সেলিম সেখ

তোমার ওই হাসি মুখটি
দেখতাম আমি যখন,
কোথায় যেন হারিয়ে যেতাম
থাকতো না হুঁস তখন।

মুক্তমনের মুক্ত হাসি
জুড়াতো মোর প্রাণ,
তোমার হাসিতে চাঁদের হাসি
হত যে তখন ম্লান।

যখন দেখি তোমার মুখে
থাকতো না কোনো হাসি,
মন চাইতো তোমার কাছে
যেনো ছুটে ছুটে আসি।

মিষ্টি-মধুর কথার ছলে
কেড়েছিলে মোর মন,
সময়ের ক্রমে নিয়েছো জায়গা
আমার হৃদয় কোণ।

মোর হৃদয়ে তোমার নাম
রয়েছে খোদাই করা, 
থাকবে সেথা চিরকাল
আসুক যতই খরা।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮৪




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮৪)
শামীমা আহমেদ 



গাড়ি থেকে নেমে শায়লার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। কেমন যেন পায়ে বাধা নিয়ে চলছে। বুবলী ঠিক বুঝতে পারছে না শায়লা আপু কেন এতটা ম্রিয়মান হয়ে আছে।আজ এতদিন পর তার হাজবেন্ড আসছে তারতো অনেক হাসিখুশি থাকবার কথা। গাড়িতে না হয় রাহাত ভাইয়া আর  ড্রাইভার ছিল কিন্তু এখনতো আপুর মধ্যে একটু আগ্রহ আসা উচিত।বুবলী যেন শায়লার অনিচ্ছাতে পার্লারে এনেছে। ও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কেন আপু এতটা নীরব ! বুবলী শায়লার হাত ধরে লিফটের দিকে এগিয়ে নিলো।কিন্তু শায়লা বারবার যেন পিছনে ফিরে কাউকে দেখবার চেষ্টা করছিল। লিফটে উঠে ওরা আটতলায় পার্লারে নামলো।  পার্লারে ঢুকতেই হেল্পিং মেয়েগুলো এগিয়ে এলো। তারা কি করতে চাইছে জানতে চাইল। বিয়ের সাজ না কোন পার্টি প্রোগ্রাম,না ম্যারিজ এনিভারসারি ? নাকি হলুদ না  পরিবারের কারো বিয়ে ? নাকি আজ বৌভাত, এটা কি নতুন বউ নাকি বাড়িতে  কোন আকদের আয়োজন ? তাদের মধ্যে কে বিয়ের কনে ইত্যাদি ইত্যাদি নানান প্রশ্নবাণে ওরা ওদের ক্লায়েন্টকে কাজে উৎসাহী করে তুলতে চাইছে। তারা দুজন কে কি করতে চায়।পার্লারে নানান রকম প্যাকেজ অফার শোনাতে লাগলো। বুবলী একা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। সে চাইছিল শায়লার ইচ্ছে মতই সব কিছু হউক। কিন্তু  বুবলী লক্ষ্য করছে আপুকে কেমন যেন অন্যমনস্ক লাগছে । বুবলী জানে মেয়েরা বিয়ের দিন একটু আপসেট থাকে।জন্ম থেকে চেনা বাবার বাড়ির পরিবেশ থেকে অচেনা একটা মানুষকে তার পরিবারকে আপন করতে হয় এতে মেয়েরা একটু আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে। কিন্তু শায়লা আপুর মুখটায় ঠিক সে রকমের কোন উৎকন্ঠা না তবে অন্য কেমন যেন মনটা ভার হয়ে আছে। 
তবুও যার বিয়ে তার ইচ্ছের তো মূল্য দিতে হবে। বুবলী শায়লাকে এক ঝাকুনি দিয়ে বললো, আপু তোমার কি হয়েছে ? ওরা এত রকম অফার দিচ্ছে তুমি কিছুই বলছো না ?  
কোনটা কি করাবো বুঝতে পারছিনা তো। 
পরক্ষনেই শায়লা কথা বলে উঠলো। বুবলী তুমি যেটা ভালো মনে করো সেটাই করো। এবার বুবলীর পক্ষে সিদ্ধান্ত  নিতে সহজ হলো। সে তার অনেক বান্ধবীর সাথে এভাবে বিয়ের আগে পার্লারে গেছে। তার অভিজ্ঞতা থেকে তাই বুবলী জানিয়ে দিলো,আজ আপুর হাজবেন্ড এক বছর পর কানাডা থেকে দেশে ফিরছেন। আপু একটু ফ্রেশ হতে চাইছেন। পার্লারের মেয়েরা এবার বুঝে নিলো কি করতে হবে। ওরা জানিয়ে দিল মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত যা যা করনীয় ওরা তা করে দিবে। বুবলী এবার একটু সুস্থির হলো । ওদের ওপর সব কিছু ছেড়ে দিলো। শুধু জানতে চাইলো  টোটাল কত খরচ পড়বে ? উত্তর শুনে  বুবলী কাজ শুরু করে দিতে বললেন। রাহাত আগেই বুবলীকে বেশ মোটা অংকের টাকা দিয়ে রেখেছিল গাড়িতে আসার সময়। বুবলী মোবাইলে রাহাতকে জানিয়ে দিলো যে কতটাকা লাগছে আর কতটা সময় লাগবে।রাহাত দুটোতেই সম্মতি জানিয়ে কাজে এগিয়ে যেতে বললো। যদিও নোমান সাহেব প্রতি মাসে নিয়মিতই শায়লার একাউন্টে বেশ মোটা অংকের টাকা পাঠাতো
স্ত্রীর  প্রতি খুবই মহান একটা দায়িত্ব  সে পালন করেছে । তবে শায়লা কখনো সেই একাউন্টের টাকা ধরেও দেখেনি। এই দেড় বছরে বেশ অনেক পরিমাণ টাকাই জমেছে। শায়লার কখনো সে টাকা ছুঁয়েও দেখেনি।আসলে শায়লা কখনোই মন থেকে নোমান সাহেবকে আপন করে নিতে পারেনি। আর তা সম্ভবও নয়। যেখানে শিহাব তার পুরোটা  মন জুড়ে দখল করে আছে।  কাজের শুরুতে প্যাকেজের আওতায় যা যা করতে হবে ওরা কয়েকজন মিলে তা শুরু করে দিলো।বুবলী দেখছে শায়লা আপু খুবই চিন্তামগ্ন। ওর সাথেও খুব একটা কথা বলছে না। বুবলী নিজের জন্য টুকটাক কিছু কাজ সিলেক্ট করে সেও বসে গেলো।  হঠাৎই দেখলো শায়লার একটা মেসেজ এলো। মোবাইলে তাকিয়েই শায়লার সারা মুখে হাসির দীপ্তি ছড়িয়ে গেলো ! বুবলী ভাবলো নিশ্চয়ই দুলাভাইয়ের মেসেজ। তাইতো আপু এত খুশি হলো। হয়তো এজন্যই আপু মন খারাপ করে ছিল এতক্ষন। কিন্তু বুবলী বুঝতে পারছে না কিভাবে মেসেজ এলো ?  দুলাভাইতো এখন ফ্লাইটে । সে কিভাবে মেসেজ পাঠাবে ? বুবলী মনের ভেতর প্রশ্নটা নিয়ে আয়নায় তাকালো।
কেমন যেন ঘটকা লাগছে তার কাছে। মনে হলো আপুকে একটু জোর করেই যেন পার্লারে আনা হলো। বুবলীর সব কেমন যেন এলোমেলো লাগছে। সে নিজের দিকে মনযোগ আনলো। হ্যাঁ চুলটা একটু স্ট্যাইল করে কাটতে হবে। নয়তো ভাল লাগবে না।
যদিও এখন সবকিছুই শায়লার ইচ্ছার বাইরে করতে হচ্ছে কিন্তু এইমাত্র শিহাবের মেসেজ পেয়েই শায়লা যেন উজ্জীবিত হয়ে উঠলো !
শিহাবের চমৎকার মেসেজ ! 
তোমার যতক্ষন ইচ্ছে সময় নাও।আমি নিচে তোমার জন্য অপেক্ষায় আছি । তুমি নেমে আমার বাইকে চলে আসবে।আমরা আজ ঢাকার বাইরে চলে যাবো। 
শায়লার চোখ আনন্দে হেসে উঠলো ! সে শুধু লাভ রিয়াক্ট দিয়ে  সম্মতি জানিয়ে মোবাইল  ব্যাগে তুলে রাখলো। মেয়েগুলো  একেকজন শায়লার  হাত পা চুল নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিলো। তারা শায়লার ম্যানিকিওর পেডিকিওর হেয়ার অয়েল ট্রিটমেন্ট করছে। হেয়ার মাসাজ হবে এরপর। তাছাড়া এখনোতো ফেসিয়াল ভ্রু প্লাক আরোমা স্পা বডি মাসাজ  আর হেয়ার সেটিং বাকী। সব মিলিয়ে দু'ঘন্টা লেগে যাবে। নিশ্চয়ই  শিহাব তার জন্য অপেক্ষা করবে। শিহাব মেরুন রঙা শার্ট পরা ছিল আজ।শায়লা একঝলক দেখেছে।আর সেটাই যেন চোখে লেগে আছে। শায়লা সামনের বড় আয়নায় তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো। ভেবে নিল, আজকের এই সাজটা যদি শিহাবের জন্য হতো তবে যেন শায়লা হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানবী। কিন্তু সেকি পারবে রাহাতকে এড়িয়ে শিহাবের কাছে যেতে ? এ কথা ভাবতেই তার চোখ জলে ভরে গেলো।

শায়লা আর বুবলী  গাড়ি থেকে নেমে যেতেই রাহাত ড্রাইভার মুনীরকে  আন্ডারগ্রাউন্ডে গাড়ি রাখতে বলে সে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। রাহাতের ইচ্ছা শিহাবের সাথে কথা বলার। আর তা ড্রাইভার মুনীর যেন দেখতে না পায়। রাহাত সবসময়ই ড্রাইভার দারোয়ান কাজের লোকদের থেকে সাবধান থাকে। ওরা নানানজনে কথা ছড়ায়। 
রাহাত শিহাবের দিকে এগিয়ে গেলো।রাহাত দেখলো  মেরুন রঙা শার্টে শিহাবকে দারুণ হ্যান্ডসাম লাগছে। রাহাত সালাম দিয়ে দুজনেই হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে নিলো।
শায়লার কারনে দুজনে একসময় খুব কাছাকাছি এসেছিল। শিহাবের চাওয়াকে বাস্তব রূপ  দেয়ার জন্য রাহাত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে রাহাত নিযেকে পালটে  ফেলেছে।বলা যায় শায়লা আর শিহাবের সাথে সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।অবশ্য এতে শিহাবের কিছু আসে যায় না। শায়লাকে আপন করে পেতে সে একাই যথেষ্ট।  
কেমন আছেন শিহাব ভাইয়া ? রাহাত খুবই নমনীয় ভাষায় কথা বললো।
শিহাব রাহাতকে তার মনের দৃঢ়তা প্রকাশ করতে জানালো, আমি এই মূহুর্তে খুব ভালো আছি। আমি শায়লার জন্য অপেক্ষায় আছি।এটাই আমার সবচেয়ে মধুর সময় রাহাত। আর তুমি এটা খুব ভালো করেই জানো তোমার আপু আমার কাছে কতখানি ভালোবাসার। রাহাত নিজেকে যেন সবকিছুর জন্য অপরাধী ভাবছে।তবুও পরিবারের সম্মানের দিক বিবেচনায় তাকে এতটা  কঠোর হতে হয়েছে,জানালো রাহাত।
শিহাব তাতে এতটুকুও বিচলিত না হয়ে বললো, তুমি চিন্তা করোনা রাহাত, তোমার আপু আমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে পারবে না কোনদিন। সংসার করাতো দূরের কথা।
রাহাত এবার যেন ভেঙে পড়লো।  যদিও শিহাবকে রাহাতের নিজেরও খুবই ভালো লাগে কিন্তু তার কিছুই করার নেই। রাহাত বললো, ভাইয়া,  আপনার আর আপুর সম্পর্কটা যদি আপুর বিয়ের আগের হতো তাহলে আমি নিজেই আপুকে আপনার হাতে তুলে দিতাম। কিন্তু একজন বিবাহিতা নারী অন্যের দাবীদার। সেটাতো আমি ছিনিয়ে নিতে পারি না।
শিহাব যেন শায়লার হয়ে আজ তার বক্তব্য রাখছে। শিহাব আবার বলতে শুরু করলো, 
রাহাত শায়লার বিয়েতে তোমরা নিজেদের স্বার্থটাই দেখেছো। তাইতো শায়লার মত না নিয়ে ওকে তোমরা বিয়ে দিয়েছো। বিয়ের আগে না পরে জানিনা, আমি শায়লাকে ভালোবাসি।আর শায়লাও আমাকে ভালবাসে।সে কানাডা যেতে চায়না। সে দেশে থাকতে চায়, সে  আমাকেই চায়। আমরা এক হবোই। 
এবার রাহাত ভীষণভাবে ভীত হয়ে গেলো।সে হাত জোড় করে শিহাবের কাছে নানান আকুতি রাখছে। আমাদের পরিবারের মান সম্মান নষ্ট হবে শিহাব ভাইয়া, ছোট বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন বোনকে কথা শুনাবে। আত্মীয় স্বজনের কাছে আমরা ছোট  হয়ে যাবো। সেই দূরদেশ থেকে নোমান  ভাইয়া আসছে তার স্ত্রীর প্রতি তার পূর্ণ অধিকার আছে। সে এবার আপুকে নিয়ে যাবে।
শিহাব রাহাতের কথা খন্ডন করে বললো, সে কি শায়লাকে স্ত্রী হিসেবে নিবে না তার দুই সন্তানকে লালন পালনের জন্য নিবে ? হ্যাঁ, আমারো সন্তান আছে। তবে শায়লাকে আমি আগে ভালোবেসেছি তারপর আরাফের মা করে নিতে চেয়েছি। এখানে আমরা দুজন দুজনকে আগে চেয়েছি শুধু ভালোবেসে।
রাহাত বলেই চলেছে, শিহাব ভাইয়া একটু বুঝতে চেষ্টা করুন। বাসা ভর্তি মেহমান এসেছে, নোমান ভাইয়া আজ আসছেন তাকে অপমান করা কোন ভদ্রজনোচিত কাজ হবে না 
শিহাব ভাইয়া। 
সে আমি জানতে চাইনা।তোমাদের উচিত ছিল তাকে দেশে আসতে নিষেধ করা।  শিহাব রাহাতের প্রতিটি কথা খুব ঠান্ডা মাথায় খন্ডন করে দিচ্ছে। সে রাহাতকে জানালো, দেখো রাহাত,  তোমার আপু আমার সাথে অনেকবার দেখা করেছে। আমিও তাকে দেখতে চেয়ে আসতে বলেছি। আমি চাইলে কিন্তু তখন তাকে আটকে ফেলতে পারতাম।আমি জোর করলে তোমার আপু থেকে  যেতো।আর সেটাই হতো  তোমাদের পরিবারের জন্য  অসম্মানের। আর তুমি যখন বুঝতে পেরেছো  আমি আর শায়লা পরস্পরকে ভালবেসেছি, ভাই হিসেবে তোমার উচিত ছিল নোমান সাহেবকে বুঝিয়ে বিয়ের সম্পর্কটা ওখানেই শেষ করা। কিন্তু তুমি তোমরা বেচারী শায়লাকে সেই দূরদেশে ওর চেয়েও অনেক বয়সের ব্যবধানের এমন একজনের সাথে বিয়ে দিয়েছো। তুমি নিজে ভাল থাকবার জন্য  শায়লার মন মত কোন কিছুর দিকে তাকাচ্ছো না। এটা খুব অন্যায় হচ্ছে।
কিন্তু শিহাব ভাইয়া এগুলো এখন বলে আর কি হবে ? 
কেন ? শায়লা তোমাকে বলেনি নোমান সাহেবকে আসতে নিষেধ করে দাও। তোমরা সেটা শুনোনি। তবে জেনে রাখো, শায়লা আমার এবং সে আমার সাথেই তার বাকী জীবন কাটাবে। সে নামলেই আমি তাকে বাইকে তুলে নিবো। আমার  বাসাতেই নিয়ে যাবো।তোমাকে ঠিকানা জানাবো বোনকে দেখে আসবে।
আমি সবকিছুতেই খুব স্বচ্ছতা পছন্দ করি রাহাত। শিহাবের কথাগুলোতে রাহাত ভীষণ অবাক হয়ে যাচ্ছিল। 
রাহাত বুঝতে পারছে না কিভাবে শিহাব ভাইয়্য এতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলছে। তবে কি ভালবাসার শক্তি সবকিছু জয় করার সাহস যোগায়। শায়লা আপুও যেন পরিবার স্বামী সব কিছুকে উপেক্ষা করছে।রাহাত বুঝতে পারছে না সে এখন কি করবে ?  আর কয়েক ঘন্টা পরেই নোমান সাহেব চলে আসছেন। এখন শিহাব ভাইয়াকে কি দিয়ে থামাবে? তবে রাহাত ভাবছে, সে চাইলে এখুনি শায়লাকে শিহাবের হাতে তুলে দিতে পারে।কিন্তু বৃদ্ধ মা, আত্মীয়স্বজন, পারিপার্শ্বিকতা মান সম্মান কিভাবে এগুলোর মোকাবেলা করবে ? অপরাধবোধে রাহাতের মনের ভেতর কুরে করে খাচ্ছে। সে গভীর চিন্তায় ডুবে গেলো !
হঠাৎই  শিহাবের মোবাইল বেজে উঠলো ! ওপারের খবর শুনে ধবধবে উজালা শিহারের মুখখানি নিমেষেই কালো অন্ধকারে ডুবে গেলো।
রাহাত ওপ্রান্তের খবরটা জানতে উদগ্রীব হয়ে রইল।


চলবে....

কবি ফারজানা  আফরোজ এর কবিতা " সেলফি"




সেলফি
ফারজানা  আফরোজ 

সেলফি তুলছি নদী,সাগর,পাহাড়ে
সেলফি তুলছি ঘরে কভু বাহিরে
সেলফি তুলছি হাটে-ঘাটে,বাজারে
সেলফি তুলছি পার্কে,উদ্যানে
সেলফি তুলছি গাড়িতে ঘুরতে।
সেলফি তুলছি গ্রামে আর শহরে
সেলফি তুলছি খেতে খেতে টেবিলে
সেলফি তুলছি একা বা দল বেধে
সেলফি তুলছি আলোচনা,পোগ্রামে
সেলফি তুলছি কবরে বা শশ্বানে।
সেলফির সাথে দিই কত রকম ক্যাপশন
সেলফি তুলতে কভু ঘটে  অঘটন।
সেলফি তুলতে সবাই যে অস্থির,
সেলফির মত যেন নিজ নিয়েই ব্যস্ত।
সেলফির এই যুগে রাখে কে কার খবর,
সেলফির মত একা কভু লাগে এখন।
সেলফিতে ভেসে ওঠে কত শত প্রিয় মুখ,
সেলফিতে রয়ে যায় চলে যাওয়া বহু ক্ষণ।

Nj jsu

LOVE

০৮ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৪৭




উপন্যাস 

টানাপড়েন ১৪৭
সোনাইয়ের হার
মমতা রায় চৌধুরী



ক্লান্ত অবসন্ন দেহে রেখা বাড়ি ফিরে একটা কথাও বলতে পারে নি মনোজের সাথে। আজ যেভাবে বস্তির হাহাকার দেখেছে সেটা ভুলবার নয়।
দু 'চোখ তখন চলে ভেজা। কলিং বেল বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মনোজ দরজাটা খুলে দিয়ে বলে"কি ব্যাপার এত রাত হল কেন?"
রেখা কোন কথা না বলে ব্যাগটা নামিয়ে রেখে সোজা চলে যায় ওয়াশরুমে।মনোজ ও 
কেমন ঘাবড়ে যায়।রেখার চোখ মুখ দেখে চমকে ওঠে। বড় রকমের কিছু একটা ঘটনা ঘটে গেছে। কালবৈশাখী ঝড় আসার আগের মুহূর্তে যেমন নিস্তব্ধ একটা রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত থাকে, চলে যাবার পর বিধ্বস্ত করে দিয়ে যায়। রেখাকে দেখে ঠিক সে রকম মনে হলো মনোজের।
ওয়াশরুম থেকে বেরোনোর আগে মনোজ  বেশ সুন্দর করে  ব্ল্যাক কফি বানিয়ে ফেলে। রেখা বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে কফির কাপটা এগিয়ে দেয় 
রেখা ম্লান হেসে বলে 'এটাতে একটু এনার্জি পাব।'থ্যাঙ্ক ইউ।
মনোজ বলে  'মোস্ট ওয়েলকামi
রেখা ড্রয়িং রুমের সোফাটায় গা টা এলিয়ে দিয়ে বসে কফিতে চুমুক লাগায়।
মনোজ বলে,' স্কুলের এতো দায়িত্ব তুমি নিতে যাও কেন ?শরীর যখন পারমিট করে না।'
রেখা এখনো জোর করে হাসে। সবাই যদি বলি দায়িত্ব নেব না ,তাহলে কি করে  চলবে বলো?'
"হ্যাঁ হ্যাঁ পৃথিবীর সব দায়িত্ব যেন তোমাকেই নিতে হবে।"
"আমি কি পৃথিবীর সব দায়িত্ব নিতে 
পারি ?আমার কি সেই ক্ষমতা ঈশ্বর দিয়েছেন বলো? যেটুকু দিয়েছেন সেটুকুই করার চেষ্টা করি।'
"আরে তোমার শরীর তো পারমিট করছে না সেজন্যই বলা।'
"Ok
তোমার যেটা ভালো লাগে তুমি সেটাই কর। আমি কিছু বলতে যাব না।"
"তোমাকে একবার ফোন করেছিলাম ফোনটা ধরলে না?"
"আরে ধরবো কি এদিকে তো একটা বিশাল কান্ড হয়ে গেছে। আমরা তো সব ওই নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম।"
রেখা তো অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে" কি হয়েছিল?"
"আর বোলো না ।সোনাই,সোনাইএর গলার হার চুরি হয়ে গেছিল।"
"সোনাই বলতে আমাদের পার্থর দাদার
 ছেলে? মানে পার্থর ভাইপো?"
"হ্যাঁ গো হ্যাঁ।"
" কি করে,?"
'কি করে আবার। ও তো ছোট কিন্তু কি পাকা পাকা  কথা বলে শুনেছো তো?
স্কুলে যেরকম রোজ দিয়ে আসা হয় ঠিক সেভাবেই দিয়ে আসা হয়েছে।
সোনাই যথারীতি স্কুলে গেছে , খেলেছে, স্বাভাবিক নিয়মে যা যা করা উচিত সবকিছু করেছে। বাড়িতে ফিরে আসার পর সোনাইয়ের মা মানে মধুজা। সোনার হারটা গলায় দেখতে পাচ্ছে না স্কুল ড্রেসটা ছাড়াতে গেছে তখনই। একেবারে হূলস্থূল  কান্ড বাঁধিয়ে  ফেলেছে।এবার মধুজা যতবার জিজ্ঞেস করছে সোনাইকে "বাবা তোমার গলার হার টা কি হলো?"
ততবার উল্টোপাল্টা জবাব দিচ্ছে। কখনো বলছে রান্নার পিসি দিদা নিয়েছে।'
মধুজা যখন বলছে ঠিক করে মনে করার চেষ্টা করো সোনাই। তখন মাথা চুলকে বলেছে
"না ,না ছোট দিদা।'
মধুজা তখন ধমক দিয়ে বলেছে কি বলছ
 সব ।ঠিক করে মনে করো।
ওদিকে মধুজার তখন ভেতরে ভেতরে পাল পিটিশন শুরু হয়ে গেছে।
সোনাই বলছে' আমি জানিনা ।আমি কিছু জানি না।
মধুজা  দেখল এভাবে তো হবেনা ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল কারণ মধুজার মা ওই সোনার হার নাতিকে অন্নপ্রাশনে দিয়েছিল। তার সাথে অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। ভালোবাসা, আশীর্বাদ আছে।
মধু যার মা যখন ব্যাপারটা শুনতে পেরেছে তখন থেকেই ফোনের ফোনের পর ফোন করে যাচ্ছে মধুজাকে আর কান্না করছে ভ্যা ভ্যা করে।
বিরক্ত হয়ে মধুজা এক সময় বলেও দিয়েছে
ওর মাকে"তুমি কি কান্না করার জন্য ফোনটা করেছ মা?"
"আমি কত শখ করে নাতি টাকে দিলাম বল?"
ওদিক থেকে মধুজার বাবা বলেছে তুমি ফোনটা আমাকে দাও তো সারাক্ষণ ফোনে কেটে যাচ্ছে মেয়েটার মনের অবস্থাটা বুঝতে পারছ?
আরে মা যা গেছে তা গেছে ওই নিয়ে মন খারাপ করিস না ধরে নে ওটা তোদের ভাগ্যে নেই।?
মধুজা বলেছে" হ্যাঁ বাবা তাছাড়া আবার কি কিন্তু ভেতরে ভেতরে তো কষ্ট পাচ্ছি সেটা প্রকাশ
না।'
তুমি একটু মাকে সামলাও।"
এদিক থেকে মধুজার ঠাকুরমা শাশুড়ি কান্না করে ভাসাচ্ছে। তোমরাই তো আমাকে দোষ দেবে বলো, নাত বৌ'।
"কেন আপনাকে দোষ দেবো কেন আপনি আবার কান্নার পড়তে বসে গেলেন কেন?'
"না আজকে তো সোনাইকে আমি নিয়ে গিয়েছিলাম।"
"আরে বাবা, ওটা তো আমি নিয়ে গেলেও হতে পারতো?"
মধুজা এভাবে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে।
ওদিকে পার্থর ঠাকুমা যা সাত-সেপান্ত শুরু করে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা নেই।।
"আমাদের  নাতির ছেলেটার সোনার হার চুরি করেছিস? তোদের তেরাত্রি পোহাবে না বলে দিলাম।"
জানো রেখা, বাড়িতে আমরা গিয়ে তো মানে বিচিত্র সব পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।
তারপর মধুজা একটা বুদ্ধি খাটিয়েছে
 সোনাইকে ভালবেসে কাছে টেনে কোলে বসিয়ে আদর করতে করতে জিজ্ঞেস করেছে তোমার স্কুলে কেউ তোমার এই হারটা দেখছিল?
তখন সোনাই বলছে" হ্যাঁ মাম মাম'। ওই যে টিকুর মা , জেম মা আমার গলা থেকে টান দিয়ে নিয়ে গেল। কথাটা শুনে তো মধুজার মাথা ভো ,ভো করে ঘুরতে লাগলো। তখনো সোনাই দুই হাত তুলে জামার ভেতর থেকে কিভাবে টান মেরে নিয়েছে সেসব দেখাতে লাগল মাকে।
কিন্তু টিকুর মা ও রকম কাজ করবে এটা কল্পনাতে ও আসে নি।
মধুজা সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির সবাইকে কথাটা জানায়। আর জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই মধুজার স্বামী দেওর অর্থাৎ পার্থ এবং আমরা সকলেই টিকুদের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে টিকুর মাকে জিজ্ঞাসা করে স্কুলে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা?
টিকুর মা তাতে যে উত্তর দিয়েছিল তাতে অনেক অসংলগ্নতা ধরা পড়েছিল।
টিকুর মা বলেছিল সোনাইয়ের গলায় তো কোন হার ছিল না।'
কথায় বলে না চুরি করলে চোর কিছু না কিছু  ক্লু রেখে যায় ।এ যেন সেরকমই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।
কিন্তু টিপুদের বাড়িতে লোকজন আসতে দেখে টি কোন মায়ের ভেতরেও একটা পালপিটেশন শুরু হয়ে গেছিল বুকের ভেতরটা ধরাস করে উঠেছিল।
তবুও সে মনের জোরে বলে গেছে "সে এসবের কিছুই জানে না।"
তার অবস্থাটা হয়েছিল এরকমই ভাঙবে তবু মচকাবে না।
তারপর পার্থরা যখন সকলে থানা পুলিশের ভয় দেখায় তাতেও কোন কার্যকরী হয় না।
তারপর আমরা সকলে বাড়ি ফিরে আসি ইতিমধ্যে খবর হয় যে টিকুর মাকে নাকি ঐদিন
স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে কাঁচরাপারা গেছে।'
স্পাই তো লাগানোই ছিল। তারাও তোকে ছিল কোথায় যায় দেখবে বলে।
স্কুটি করে এদিক ওদিক ঘুরতে দেখা গেছে।
এমনকি ওই দিন স্টেট ব্যাঙ্কেও গেছে ।
 প্রসঙ্গক্রমে ব্যাংকে উপস্থিত ছিল মধুজাদের রাধুনী পিসি।
রাধুনী পিসির বক্তব্য অনুযায়ী ব্যাংকে গিয়ে খুব তাড়াহুড়ো করছিল এবং লাইনে দাঁড়ানো দুই একজনকে অনুরোধ করেছে ,তাকে ছেড়ে দেবার জন্য। যথারীতি ছেড়েও দেয়া হয়েছে ।ছেড়ে দেওয়ার পর সে তখন ব্যাংকের আধিকারিকদের বলেছে "তার একটু কাজ আছে তো, এই জন্য একটু তাড়াতাড়ি করছে ,সেখানে যেতেই হবে।"
ব্যাংকের আধিকারিক দের মধ্যে একজন বলছেন "আপনার তো কমাস একাউন্টে টাকাই ফেলা হয়নি ।৪০ টাকা ব্যালেন্স পড়ে রয়েছে।"
তখন টিকুর মা হেসে বলেছে "এইতো এখন একসঙ্গে অনেকগুলো টাকা জমা করব।
কুড়ি থেকে বাইশ হাজার টাকা সে জমা করেছে।
এবার সকলের সন্দেহ আরো দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
রেখা অবাক হয়ে বলে' টিকুর মা ওদের কিসের অভাব?"
রেখা যেন গাছ থেকে পড়ল ,হাত পা ভেঙ্গেচুরে গেল। "জাস্ট আমি নিতে পারছি না।"
মানুষগুলোকে যেন তাদের চরিত্রের সঙ্গেমেলাতে পারছি না ।সব কেমন অচেনা মনে হচ্ছে।কুয়াশার চাদর জড়িয়ে রেখেছে যেন একটা মুখোশ পরে আছে।"
মনোজ বলে "সেটাই তো?
শোনো তারপরে কি হয়েছে?"
অবাক চোখে বলে" এর পরেও আরও কিছু ঘটেছে?"
মনোজ বলে 'কাহিনী আভি বাকি হ্যায়?'
রেখা উৎসব দৃষ্টি নিয়ে বলে "বলো, বলো।"
এদিকে তো মোটামুটি আমরা সবাই ঘটনাটা জেনে গেছি ।তখন পার্থর দাদা সঞ্জীব ওতো পঞ্চায়েত অফিসে কাজ করেছে । এই সূত্রে মোটামুটি পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে আশেপাশের দোকানগুলোর সকলের সঙ্গে পরিচিত আছে।
আমরা তো সবাই তককে তককে ছিলাম যে "সোনার দোকানগুলোতে খোঁজ নিতে হবে।
আর চোর কিছু ভুল স্টেপ নেবেই "এবং দেখা গেছে স্টেট ব্যাঙ্কে আসার আগে ও সোনার দোকানে গেছে। যখন সোনার দোকানে গিয়ে ভেরিফাই করেছে সঞ্জীব। তাতে দেখা গেছে হুবহু মিলে গেছে।
প্রথমদিকে তো সোনার দোকানদার স্বীকার করতে চায়নি ।পরে যখন পুলিশের ভয় দেখিয়েছে যে একটা ইনভেস্টিগেশনে আসবে তখন দোকানদার বলেছে হ্যাঁ একজন ভদ্রমহিলা দোকানে একটা হার  দিয়ে গেছে।
সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জীব উৎসব দৃষ্টি নিয়ে বলেছে" আচ্ছা দেখান তাহলে হারটা কিরকম দেখি।"
দোকানদার ভেতরের কর্মচারীকে যখন হারটা নিয়ে আসতে বলেছে, সেই হার দেখে তো সঞ্জীবের। চরক গাছ ।সঞ্জীব সঙ্গে সঙ্গে পার্থ আর আমাকে ফোন করেছে। আমরা ও সেখানে চলে যাই।
তখন দোকানদার বলেছে "তার কোন দোষ 
নেই। "তাদের তো কাজই কেনা বেচা। পেয়েছে কিনে নিয়েছে। কি করে জানব বলুন এটা চোরাই মাল।"আপনার তাকে!কোন অসুবিধা 
নেই ।আপনি চিনতে পারবেন সেই মহিলাকে ,যিনি বিক্রি করেছেন ?
বলছে "হ্যাঁ কেন পারব না।"
ইতিমধ্যেই পার্থ আর আমি চলে যাই দোকানে এবং আমরা গিয়ে সেই মহিলার বর্ণনা শুনি
বর্ণনা অনুযায়ী যা বলেছে তাতে হুবহু টিকুর মা।
বেশ ছিপ  ছিপে লম্বা শ্যামলা বরণ এক ফিট চুল নাকটা তো টিকালো, চোখগুলো ছোট।
সঞ্জীব তো আনন্দ উল্লাসে চিৎকার করে বলেছে একদম ঠিক ঠিক বলেছেন আপনি।"
তখন পার্থ বলেছে, আপনি এই হার কাউকে বিক্রি করবেন না আমরা টাকা দিয়ে আপনার কাছ থেকেই হার নিয়ে নেব।
সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জীব পার্থ আর আমাকে বলল'টিকুদের বাড়ি যেতে এবং সেখানে গিয়ে পুলিশ নিয়ে গিয়ে ভয় দেখানোর কথা বলতে।
সঞ্জীব টাকা মিটিয়ে হারটা নেবে বলে আশ্বাস দিয়ে আসে দোকানদারকে।।
রেখা বলছে বলছো কি? এত কিছু কান্ড?"
মনোজ বলছে তাহলে আর বলছি কি?
রেখা বললো 'তারপর ।তারপর',।
তারপর পার্থ আর আমি যখন টিপুদের বাড়ি যাই টিপুর মাকে গিয়ে ভালোভাবে বলাতেও সে কিন্তু স্বীকার করতে চাইলো না। তখন যখন পার্থ বলল ঠিক আছে আমরা পুলিশে গিয়ে রিপোর্ট করি। পুলিশ এসে তদন্ত করুক আর আমরাও সোনার দোকানগুলোতে খোঁজ লাগাচ্ছি।
পুলিশের কথা শুনতেই যে কোন মা বলে হ্যাঁ সে নিয়েছে আসলে তার একটু টাকার দরকার হয়ে পড়েছিল।
গ**** বাড়ির লোকজন কথাটা শুনে তো একেবারে থ।
চিকুর বাবা তো পারলে এই মারে তো সেই মারে।
শাশুড়িরা বলতে শুরু করে এই বউ সংসারের মান সম্মান সব ডুবিয়ে দিল, চোখে কালি লাগিয়ে দিল।।"
তখন পার্থ বলল 'ঠিক আছে আমরা পুলিশে রিপোর্ট করব না আমাদের টাকা দিন।
মা বলে ঠিক আছে একটু ওয়েট করুন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আপনাদের দিয়ে দিচ্ছি।
পার্থ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করল।
বললাম ঠিক আছে।
পার্থ তখন বলল ঠিক আছে আপনি টাকার ব্যবস্থা করুন।।
কি করে মা বলল আমাকে আধঘন্টা সময় দিন।
আমি তখন ঘাড় নাম পার্থর দিকে পার্থ ইশারায় বুঝতে পেরে বলে ঠিক আছে আপনি যান টাকা তুলে নিয়ে আসুন।।
যথারীতি ব্যাংকে গিয়ে আবার টাকা তুলে পার্থর হাতে দিলো।
পার্থ আর আমি সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিয়ে সেই সোনার দোকানে পৌঁছে যাই,।
সঞ্জীবের হাতে টাকাগুলো দেয়া হলো ।সঞ্জীব সোনার দোকানে টাকাটা পেইড করল।
তারপর হার নিয়ে সোজা বাড়ি।
এসব করতে করতেই তো পাঁচটা বেজে গেল।
সোনার দোকানদার বলল "আমাদের যেন পুলিশে ধরিয়ে দেবেন না প্লিজ।"
সঞ্জীব বলল "ক্ষেপেছেন নাকি?'
দোকানদার বলল জানেন আরও কি ঘটেছ?"
 এই আপনারা আসার আধঘন্টা আগে।
পার্থ বলল কি.।
দোকানদার বলল ওই মহিলা এসে বলল তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আসতে পারে তাদেরকে না জানিয়েআংটিটি বিক্রি করেছে।"
মনোজ বলল "বাড়ির লোকে এসবের বিন্দু বিসর্গ জানে না।"
 তারপরে এসব কাজ-টাজ মিটে  যাওয়ার পর? বাড়িতে এসে হারটা 
মধুজার হাতে দেয়।
মধুজা হার পেয়ে ভীষণ খুশি এবং আনন্দে তার কানের লোমগুলো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গেছে।।
সোনাই হারটা দেখতে পেয়ে ছুটে এসে বলেছে' এইতো এটা আমার হার।"
রেখা বলে "বলো কি? টিকুদের কি অভাব আছে বল? 
স্বভাব দোষে এইসব কাজ করা। ওই পরিবারের মান সম্মান বলে আর কিছু থাকলো না।
মানুষ গুলো কেমন বিচিত্র হয়ে যাচ্ছে কারো নিত্য অভাব ,জ্বলছে পেটে আগুন কারোর স্বভাবে জ্বলছে আগুন।
রেখা বলল "তবে এরপর কিন্তু স্কুলটার বদনাম হবে, স্কুল এর  হেড মিস্ট্রেস যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেন ,তাহলে ছাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করবে। কেননা চোরাই স্কুলে জিনিসের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাদের প্রাণের রিক্সটা নিতে পারবে না। "
"হ্যাঁ, স্কুল থেকেও বলে দিয়েছে।এক রকম ওয়ার্নিং দিয়েছে ভবিষ্যতে এরকম যেন না হয়।
এবং গার্জেন মিটিংও করবে এরকমও জানিয়ে দিয়েছে। সেখানেই হয়তো ডিসিশান নেবে।"
তবে হারটা পেয়ে সোনাই খুব খুশি হয়েছে।

কবি কামরুন নাহার এর কবিতা "নীল আকাশ"





নীল আকাশ 
কামরুন নাহার 

কেউ জানে না
কার আকাশের কালো মেঘের 
কাব্যগুলো কতটা নীল!

কার আকাশের স্বপ্নগুলো
ঝলসে আগুন!
কার পৃথিবী বুনো হাওয়ায়
মাতাল প্রায়! 

কার জীবনের অজানা ভুল 
ঝরা পাতা আর ভীষণ ধূসর। 
কার আকাশের তারাগুলো
অস্তগামী সন্ধ্যাপ্রায়।

জীবন নদী কতটা দীর্ঘ 
কেউ জানে না!
জলের তৃষ্ণা কার কতটা
কেউ জানে কি? 
কার সমুদ্র কতটা বিশাল
কেউ জানে কি?
কার আগুনে কতটা তেজ 
কেই বা জানে!

তবু আঙ্গুল তুলি
কথায় ভুলি
ভুলের রাজ্যে জীবন গড়ি।  
ভুলের এই পৃথিবীতে
মন যুদ্ধ করে চলি।

হতেম যদি
নির্ভীক কোন ছন্নছাড়া  
যে ভূবন কাঁপায়
তারার মেলায় 
আর গোধূলি আলোয় 
নিজকে দেখে স্বপ্ন ভেলায়।

আর শহরজুড়ে তানপুরাদের
রাগ শুনে যায়
কাকের ভাষায়।

তবুও কোকিল হয়ে  
কালের স্রোতে মিষ্টি ডাকে
নির্ঘুম কোন নিঃশব্দ 
জোছনা রাতে।

আর ব্যাঙের কথায়
ব্যঙ্গ করে হালকা হাসে
পথিক হয়ে গহীন রাতে 
ঘুড়ে বেড়ায় খুব নীরবে
যেন মহুয়া বনের 
মাতাল কোন একলা পরী।