২৫ অক্টোবর ২০২১

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"৪




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত
(পর্ব ৪)
শামীমা আহমেদ 

---মা আর রাহাতের সাথে রাতের খাবার খেয়ে ডাইনিং রান্নাঘর গুছিয়ে শায়লা নিজের শোবার ঘরে চলে এলো।শায়লা আগে মায়ের ঘরেই ঘুমাতো। মায়ের শরীরটা কখন কেমন হয়! তিন বেডরুমের ফ্ল্যাটে  অন্য ঘর দুটো রাহাত আর নায়লার দখলে। ওরা রাত জেগে পড়াশুনা করতো। আর  ক্লান্ত হয়ে অফিস ফেরা শায়লার একটা পরিপূর্ণ ঘুম দেয়া খুবই অত্যাবশ্যক ছিল। যখন থেকে নীচতলার রুহি খালাম্মা বিয়ের প্রস্তাবটি নিয়ে এলেন তখন থেকে শায়লা আলাদা ঘরে চলে এলো।কানাডা থেকে কল আসতো, কথা বলতে হতো। শায়লা কখনো ভাবেনি সাত সমুদ্র তের নদীর পাড়ের এমন অচেনা কাউকে জীবনসঙ্গী করতে হবে।তবুও টুকটাক কথা চলতো। কেমন আছো, ভালো আছি,পছন্দ, অপছন্দ, এইতো! 
নীচতলার খালাম্মা নিশ্চয়ই সবিস্তারে শায়লাদের সব কথাই জানিয়েছে আর শায়লার ছবিও দেখিয়েছে। কোন রকম ওজর আপত্তি না দেখিয়ে চট করেই নোমান সাহেব, পুরো নাম নোমান চিশতী,রাজী হয়ে যায়।শায়লা বেশ বুঝতে পারে দুজনার বয়সের ব্যবধান।আর এত বয়সে আজো বিয়ে করেনি! বিষয়টি শায়লার মনে উঁকি দিলেও ঘুণাক্ষরেও তার প্রকাশ আনেনি চোখে মুখে। প্রায় প্রতি রাতেই কথা হতো।
এগার ঘন্টার সময়ের ব্যবধানেও দুজনার কথা হতো। রাত একটায় ফোন এলে জানাতো এখন দুপুর তিনটে বাজছে, এইতো আমি লাঞ্চে যাচ্ছি।
তখন শায়লার মনে পাভেলের সাথের স্মৃতিগুলো ভেসে উঠতো। একসাথে লাইব্রেরি,  ক্যাফেটেরিয়া, বাসস্টপেজ,,কতইনা ভালো লাগা আর চোখে স্বপ্ন নিয়ে এগুচ্ছিল দিনগুলি! এখনো অনেকটা তাই, তবে এখন ইচ্ছের বাইরে স্বপ্ন সাজাতে হচ্ছে। শুধু আগের সেই উচ্ছ্বাসটাই নেই।
একদিন নীচতলার রুহি খালাম্মা জানালেন নোমান বলতে চাইছে বিয়ের সব যখন ঠিক হয়েছে তবে আর শায়লার চাকরিটা করার কী প্রয়োজন?  তো সেটাতেও ইস্তফা দিতে হলো। এখন শায়লার অপেক্ষা নোমান সাহেব দেশে আসবেন এবং বিয়ে পর্ব সমাপ্ত করে 
স্ত্রীকে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিবেন।শায়লার সাথে কথা হয়, ভিডিও কলে দেখা হয়,  দীর্ঘদিন ঠান্ডার দেশে থেকে গায়ের রঙ আর চোখে মুখে সতেজতা থাকলেও বয়সটাকে লুকানো যায়নি। শায়লার চেয়ে কমপক্ষে পনের বছরের বড় এমন কেউ কি সংসার জীবনে বন্ধুর মত হবে নাকি অভিভাবক হয়ে কেবল দায়িত্ব পালন করবে। আসলে শায়লার মাঝে কোন অনুভুতিই কাজ করে না। তার একটাই ভাবনা নায়লার জন্য হলেও এই বিয়ে তার মেনে নিতে হবে।
আর মায়েরা, মেয়েদের যতই আপন ভাবুক  তবুও  সব মায়েরাই চায় ছেলে ছেলের বউ নাতি নাত্নী নিয়ে শেষ জীবনটা সুখেশান্তিতে  কাটাতে।এই বাবামাকেই তখন খুব অচেনা লাগে। শায়লা তাই সকল মনযোগ নোমান সাহেবের দিকেই নিয়ে গেলো। এভাবে শায়লাকে নানান সময়ে নানান চরিত্রে নিজেকে সাজাতে হয়েছে। বাবামায়ের প্রথম সন্তান আর বাবাদের কাছে কন্যা সন্তানতো আরো বাড়তি আদরের জায়গা।সুখের দিনগুলি খুব দ্রুতই ফুরিয়ে গেছে! 
যথাসময়ে নোমান চিশতি সাহেব দেশে এলেন।  এসে পাঁচতারকা হোটেলে উঠলেন। হতেই পারে, এত ধনী ব্যক্তি! 
খালাম্মার মহা উদ্যোগে এক বিকেল সন্ধ্যায়  শায়লাদের  কিছু আত্মীয় স্বজনের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হলো। আত্মীয়স্বজনেরা বহু আগেই সরে গিয়েছিল, তাদের দূর্দিনে পাশে কেউই ছিল না।
যে শায়লা এইটুকু বয়েসে সংসারের হাল ধরেছিল, পড়াশুনাটা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল অথচ আজ তারই বিয়েতে  এত বছর পর তাদের ছাড়া বিয়ের আয়োজন সম্পূর্ণ হয়না।যদিও আত্মীয়স্বজনদের জানার এতটুকু আগ্রহ নেই মেয়েটির কোথায় বিয়ে হচ্ছে, বিদেশ বিঁভুয়ের ছেলে  একটু খোঁজ খবর করি।
আজ একবছর হতে চললো সেই কাগজের বিয়ে কাগজেই সাক্ষ্য হয়ে আছে।বিয়ের পর মাত্র পাঁচদিনের সময় কাটানো,পাঁচতারকা হোটেলের বিলাসবহুল কক্ষে।এরপর থেকে শুধুই অপেক্ষা! ওপার থেকে  নোমান চিশতী শুধু এটাই বলে চলেছে এইতো শীঘ্রই তোমাকে নিয়ে আসার কাগজপত্র পাঠাবো। এইতো এম্বেসীতে আজই দাঁড়াবো। এমন এড়িয়ে যাওয়ার কারণ অবশ্য শায়লার নীরবতা।নোমান সাহেবের ফেসবুকে এক বিদেশিনীর সাথে ছোট্ট দুটো ফুটফুটে ছেলে মেয়ের ছবি।বেশ হাস্যজ্জ্বোল ছবি। এদের পরিচয় জানতে চেয়ে নোমান সাহেবকে বারবার প্রশ্ন করলেও তিনি নিরুত্তর থেকেছেন। শায়লার বুঝে নিতে কষ্ট হলোনা এরা তার প্রথম ফ্যামিলি। অনেকদিন পর তিনি জানালেন,তার আগের স্ত্রী সুজানা এই দুটো  সন্তানকে রেখে আরেকজনকে বিয়ে করেছে। শায়লা কি এই সন্তানদুটোর মা হতে পারবে না? শায়লার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ে!বারবার তার জীবনে শুধু দায়িত্ব এসে দাঁড়ায়।শায়লার নীরবতায় নোমান সাহেব কিছু একটা বুঝে নেয়।
শায়লা নিরুত্তর থাকে। 
রাতের অন্ধকারে দুচোখের জল শুধু অনুভব করা যায়,কখনো তা দেখা যায় না। নোনা স্বাদের সে অশ্রুজলে থাকে ভেতরের তীব্র ঘৃণা আর কষ্টের প্রকাশ। আনমনা হয়ে শায়লা  ভাবে সেতো একা একা ভালোই ছিল।কেন বারবার
তার জীবনে অন্য মানুষের এমন আচমকা আগমনে, শান্ত সাজানো মনটাকে, তছনছ করে দেয়া! 



                                                                                         চলবে......

রুবিনা




শান্তির পায়রা 


বৃষ্টি বর্ষণশীল, জন্মাল অরন্য, সাগর, পাহাড়,
পৃথিবীর সোপান হলো মাটির কৃতজ্ঞতা। 
শুরু হল কালের যাত্রা.... 
অতঃপর মহাকালের গহ্বরে প্রবেশ করে ক্রোধ, প্রতিশোধ,  
চক্রাকারে মানুষের শোভা যাত্রায় আমিত্ববোধ। 
অবলীলায় চলছে সক্রিয় অপেরার পালা, 
লেগে থাকে ঠোঁটে কুড়ানো হাসির মহড়া।
উদাহরণ স্বরূপ, তুখোড় সব মানবতার ইতিহাস, 
আদি থেকে  জ্বলছে তো জ্বলছে রতি হ্রাস। অনুভূতিহীন বাক্যগুলো অসমাপ্ত প্রতিক্রিয়া, 
অবশেষে রাতকে দিনের আলোয় দেখার অপচেষ্টা। 
বোবাকালা মানুষ গুলো অনেকটা রোবটের মত যান্ত্রিকতাবাদ,
বিকল মস্তিষ্কের স্নায়ুকোষে মুদ্রিত মুদ্রার
আবাদ। 
যাপিত আনন্দ, উচ্ছ্বাস, বিশ্বায়ন নিয়ন্ত্রিত হয় রিমোট কন্ট্রলে,
মহা কালের অত্যাধুনিক যাত্রা শুরু, আকাশ প্রযুক্তির উৎকর্ষে।
তথাপি.. 
এক ঝাক শান্তির পায়রা উড়ে আকাশে, 
মহাকাব্যের সৃষ্টি হল লাল কালি

ফরমান সেখ





বন্ধু আমার প্রিয়ার সাথে

       

পূর্বাকাশে  রবি ওঠে
চারিদিকে  আলোকিত,
বন্ধু আমার, প্রিয়ার সাথে
হয়েছে আজ  অবির্ভুত।

মিলেমিশে  খায় যে খানা-
পাশাপাশি  গোলটেবিলে,
হেঁসে ভাসায়  আনন্দতে
গল্প জমায়  দুজন মিলে।

কি হয়েছে  ফোনে কথা-
উদাত্ত মনে  নিশিরাতে,
সে কথা আজ  সামনা- সামনি
উঠেছে আজ  জম জমাটে।

কথা তাদের  ভাসছে যেন-
ভালোবাসার  বাঁশির সুরে,
চোখের কোণে  ফুটছে যেন-
সর্ষের ফুল  দিন-দুপুরে।

প্রিয়া বলে, তুমি আমার-
ভালোবাসার  প্রিয় হরি,
বন্ধু বলে, তুমি প্রিয়া-
আমার ডানা  কাটা পরী।

জি,এম,লিটন




বন্ধু


দুধের স্বর যেমন করে--
দুধকে ঢেকে রাখে,
প্রকৃত বন্ধু হলে কেউ--
তেমনি পাশে থাকে।

বন্ধুত্বের সম্পর্কে থাকলে-
বিশ্বাস,ভালোবাসা আর যতন,
ফাটবে না,ভাঙ্গবে না,সেই সম্পর্ক,
থাকবে ইস্পাতেরই মতন। 

ছলনাময়ী এই দুনিয়ায়--
বন্ধু চেনা দায়।
বন্ধুত্বেরই হাত বাড়িয়ে--
সকল কিছু,লুটে নিয়ে যায়।

প্রকৃত বন্ধু পাওয়া গেলে--
অনেক কপালে ফুল ফোঁটে।
বন্ধুর কারণে বন্ধুর আবার--
জীবনহানিও ঘটে। 

ছেলের সাথে মেয়ের বন্ধুত্ব নাকি--
এই জমানায় হয়,
আমি বলি,আগুনের পাশে মোম--
কভু নিরাপদ নয়।

মিষ্টি হাসি লেগেই থাকে,
স্বার্থপর বন্ধুর ঠোঁটে। 
গাছের ফলটি খেয়ে বন্ধু,
গাছের গোড়া কাটে। 

পিতামাতার মত বন্ধু,
এই দুনিয়ায় নাই।
শত বিপদের মাঝেও তারা--
দিবে তোমায় ঠাঁই।
 
সহধর্মিণী,সন্তানদের সাথে,
কেউ যদি বন্ধুত্ব করে।
জেনে রেখ, স্বর্গীয় সুখ--
বিরাজ করবে সেই ঘরে। 

সৃষ্টিকর্তার সাথে কেউ--
যদি বন্ধুত্ব করে,
সুখে যাবে সেই জীবন, 
যাবে পূন্যেয় ভরে।

অলোক দাস




 মেঘে ঢাকলো আকাশ 



 আবার আকাশ ঢাকছে মেঘে, আবারও হবেই বৃষ্টির রিম ঝিম শব্দ বাড়ির আনাচে কানাচে I নীলাকাশ ঢেকে দিলো কালো মেঘে I সবদিক হোলো অন্ধকার I না দেখে কিছুই বলা যায় না I না দেখলে ভাব ও আসে না বর্তমান ও ভবিষতের I এতো চিরসত্য I সন্ধ্যার চা এসে গেলো এখুনি I রাস্তায় আলো জ্বলে উঠলো, জললো আলো মন্দিরে I মোনে হয় এখুনি বৃষ্টি নামবে I একি অনাসিস্ট্রি!

asff

LOVE

safaf

LOVE

২৪ অক্টোবর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৩১

একান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "।





                                                                 টানাপোড়েন পর্ব ৩১
                                                                   বৃষ্টি ভেজা স্বপ্ন




                                            আজ বিজয়া দশমী মনটা এমনি ভারাক্রান্ত। মা চলে যাবে। তবুও মায়ের আগমনী বার্তা নিয়ে সবাইকে হাসিমুখে বিদায় জানাতেই হয়। ড্রইং রুমে এসে শিখা বসে। আজ আনমনে ম্যাগাজিনের পাতা ওল্টাচ্ছে আর মনে মনে একটা এলোমেলো ভাবনা কাজ করে যাচ্ছে ।আজ সেই  বিজয়া দশমী মায়ের সামনে দিব্যেন্দু কথা দিয়েছিল। কেন যে বারবার দিব্যেন্দুর ভাবনাটা আসে শিখা ভাবতে চায় না। এমন সময় গুন গুন করে গান' ধরিয়া রাখিয়ো সোহাগে আদরে আমার মুখর পাখি তোমার প্রাসাদপ্রাঙ্গণে .. ভালো বেসে সখী নিভৃতে যতনে ,আমার নামটি লিখো তোমার মনেরও মন্দিরে 'গাইতে গাইতে কল্যাণের প্রবেশ। 
কল্যাণ বলল  'সখি কার ভাবনায় ব্যস্ত? মন্দিরে কেউ জায়গা নিয়েছে নাকি?'
শিখা চমকে উঠলো হেসে বলল ' কি যে বলেন না আপনি। গানটা কিন্তু অপূর্ব গাইলেন। মুগ্ধ হয়ে গেলাম।'
কল্যান বলল  'বলছো?  ভালো গাইতে পারি?'
এরকম বেস্ট কম্প্লিমেন্ট পেলে খুব ভালো লাগে।
তোমার মনটা কি খারাপ? যদিও এ কথা জিজ্ঞেস করার আমার কোন অধিকার নেই ,।তবুও করলাম এ কদিনের মধ্যে এ‌কটা তো সম্পর্ক হয়েছে ,এই বন্ধুত্ব বল যা বল..।'
শিখা বলল  'না ,না  আসলে বিজয়াদশমী তো মনটা খুবই খারাপ লাগে ।মা চলে যাবেন আবার কৈলাসে ।আবার ঠিক একটি বছর ধরে মায়ের জন্য অপেক্ষা এর মধ্যে কত কিছুই ঘটে যাবে সেই ভাবনায় একটু..।
কল্যান বলে এটা তো ঠিকই যাওয়া আসাই নিয়ম। তবে মায়ের বিসর্জন,আর আগমনীর পূর্বাভাস আমরা আবার আনন্দে উচ্ছাসে মেতে উঠবো, মায়ের আগমনের আশাতে।'
কল্যান বলল 'তারপর কালকে চলে যাচ্ছি।'
শিখা বলল' আমরাও চলে যাচ্ছি।'
কল্যান বলল  'এই কটা দিন সত্যিই একটু অন্যরকমভাবে কাটল আর তোমার কথা আমার খুব মনে থাকবে শিখা ।ভালো থেকো।'
শিখা বলল  'আমারও স্মরণীয় হয়ে থাকবে দিনগুলি ।আপনিও খুব ভাল থাকবেন।'
কল্যান বলল  'তুমি কিন্তু 'নেট সেট 'পরীক্ষায় ব'সো।
আর কোনো অসুবিধা হলে আমার সঙ্গে যোগাযোগ ক'রো। নম্বরটা নাও ৯৯৮৮৭৭৬৬৫৫
আর তোমার নম্বরটা আমাকে দাও ,যদি কোন আপত্তি না থাকে।
শিখা বলল-না না আপত্তি কিসের? আমি তো আপনার থেকে অনেক কিছু সাজেশন পাবো। নিন নম্বরটা৯৮৬৭৪৩২৫৫১ কিন্তু আপনার ফোন নম্বরটা তো অভিনব সব ডবল ডবল। এরকম কি করে পেলেন?
 কল্যান বলল 'পেতে হয় বুঝলে?'
ওদিক থেকে মাধুবৌদি ডাকছে ' শিখা নাস্তা করবি আয়।'
শিখা বলল ' যাই বৌদি ভাই।'(গলাটা বাড়িয়ে)।
মাধু আবার বলল  'কল্যাণকে ডেকে দিস তো।'
শিখা বলল কল্যাণের দিকে তাকিয়ে.' ঠিক আছে।'
কল্যান হেসে উঠলো।
শিখা বলল ' একটা কথা জিজ্ঞেস করবো যদি কিছু মনে না করেন?'
কল্যান বলল  'না না মনে করবো কি? বলো না।
শিখা বলল 'আচ্ছা ,সেদিন আমরা ঘুরে আসার পর মুখ কেন অফ ছিল? আমি কি কোনো খারাপ ব্যবহার করেছি আপনার সঙ্গে?'
কল্যান নিরুত্তর রইল। জানালার কাছে গিয়ে তাকিয়ে রইল দূর পুকুরের দিকে।
শিখা এবার উঠে কল্যাণের কাছে গেল ' আপনি চুপ করে গেলেন ,কিছু বললেন না?'
কল্যান বললো 'কিছু নয়, মাথাটা ধরে ছিল বলে তাই?'
শিখা বললো  'আমার মন বলছে শুধু মাথা ধরা নয় ।আপনার মনটাও কোন কারনে খারাপ ছিল? বলতে না চাইলে জোর করবো না ।কারণ প্রত্যেকের একটা নিজস্বতা থাকে ।সেখানে কারোর ঢোকার অধিকার থাকে না।'
বউদি আবার চিৎকার করে বলছে ' শিখা  আয়।'
শিখা বলল  'চলুন কল্যানদা।'
কল্যান বললো ' হ্যাঁ চলো।'
কল্যান আর শিখাকে  একসঙ্গে দেখে মাধু বলল'
' কি কল্যান আমার ননদিনীটি কেমন?'
শিখা মনে মনে ভাবল মাঝেমাঝে যে বৌদি, কি বলে না ,লজ্জায় ফেলে দেয়।
কল্যান বলল  'হ্যাঁ মন্দ কি ( শিখার দিকে তাকিয়ে হেসে)।
সরজুও হেসে উঠলো।
শিখা সরজু আর মাধু বৌদিকে দেখে ভাবে এরা সত্যিই ভালো মনের।
 সরজু বলল  'শিখা মাকে বরণ করতে যাবো তুমিও কিন্তু যাবে আমাদের সঙ্গে ।তারপর দেখবে আমরা কেমন সিঁদুর খেলি ।একটু সিঁদুর তোমার গালে লাগাবো।'
শিখার গাল তো লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠল।বলল 'সিঁদুরখেলা তো বিবাহিতাদের জন্য।'
মাধু বলল  'এবার একটু ছোঁয়া দিয়ে তোকে আমরা আমাদের দলে টানতে চাইছি তো।'
শিখা বলল  'হ্যাঁ সেই আর কি ।আমি লেখাপড়া বিসর্জন দিই আর তোমাদের গ্রুপে নাম লেখাই।'
মাধু বললো  'তোকে লেখাপড়া কে বিসর্জন দিতে বলেছে ?বিয়ের পর কেউ পড়াশোনা করে না?
ঠিক আছে নে মেলা বকতে হবে না ।খেয়ে নিয়ে যা রেডি হ।'
এর মধ্যেই কেমন বিদ্যুৎ চমকাতে শুরু করলো। মাধু বলল-'বৌদি এ কিগো বৃষ্টি হবে নাকি? ভাসান করতে যাব না?'
সরজু বলল ' মেঘ দেখে তুই করিস নে ভয় ।আড়ালে তার সূর্য হাসে। 'আরে ধুত বৃষ্টি আসলে আসবে। আমরা বৃষ্টির মধ্যে ভিজে ভিজেই ভাসান করতে যাব।'
আশীষ বলল  ,'এবার কিন্তু মাইক নিয়ে যাওয়া যাবে না সরকারি নির্দেশ আছে। '
সরজু বলল   'তাহলে কি হবে?'
আশীষ বলল 'যখন যেরকম ,তখন সে রকম'। ঠাকুর বোধহয় এরকমই একটা কথা বলেছিলেন না?'
সত্যিই বলতে বলতে ঝমঝম করে বৃষ্টি চলে আসল।
খাওয়া-দাওয়া শেষ করে কল্যান চলে গেল নিজের ঘরে।
শিখা উঠে চলে গেল নিজের রুমে।
হঠাৎই শিখা গান গেয়ে ওঠে ' তোমার কাছে ফাগুন চেয়ে চেয়ে কৃষ্ণচূড়া। তুমি  তাই দুহাত ভরে দিলে আগুন উজাড় করে ।সে কি তোমার অ‌হংকার?.. যদি ধরো জেতার বাজি ।আমি হেরে ই যেতে রাজি।'
কল্যাণ ওপরের ঘর থেকে খুব মনোযোগের সঙ্গে গানটি শুনে ভাবলো সত্যিই এবার শিখার প্রেমে পড়ে যাচ্ছে কল্যান। কল্যাণ ও  গুনগুন করে উঠলো 'যা পাখি উড়ে যা না ।আজ হারাতে নেই মানা।তুই যা উড়ে...।
মাধু আর সরজু দু'জনে কল্যানের ঘরে ঢুকে বলল ' কী ব্যাপার? আর মুখ টিপে টিপে হাসতে লাগল।'
কল্যান তো চমকে গেল ,।
লজ্জা পেয়ে বলল  'দিদি আর বৌদি তোমরা কি গো একটু কি গান ও গাইতে পারবো না।'
মাধু বলল ' না না গান গাওয়া ভালো।'...পড়লে যেন গানটা বেশি আসে ,তাই না বৌদি?(বৌদির দিকে তাকিয়ে)।
কল্যান বলল  'রং গুলো ফ্যাকাসে হয়ে গেছে।স্বপ্ন ঝরা বকুল।'
সরজু বলল আবার?
মাধু কিছু একটা গেস করল। বৌদিকে ধাক্কা দিল।সরজু ইশারায় বলল 'পরে বলবে।'শোন সবাই নিচে নেমে আয় এখন সিঁদুর খেলা হবে।
কল্যান বলল  'সিঁদুরখেলা তোদের। আমরা গিয়ে কি করবো?'
সরজু বলল  'তোরা দেখবি আর ছবি তুলবি। এরপরই তো ভাসান।'
কল্যান বলল  'বৃষ্টি পরছে তো। '
মাধু বলল 'বৃষ্টিকে মারো গোলি।
সবাই পূজামণ্ডপে গিয়ে হাজির হলো মাকে বরণ শেষে সিঁদুর খেলার পর্ব শুরু হয়ে গেল
মাধু এসে শিখার গালে একটু, কল্যাণের গালে একটু সিঁ দুর লাগিয়ে দিল।
এ‌র প‌র ভাসানের দিকে চলল সবাই ধ্বনি দিতে দিতে আসছে বছর আবার হবে। জয় মা দুর্গা কি জয়। 'কল্যাণ ও শিখা পাশাপাশি হাঁটতে লাগলো। 
কল্যাণ শিখাকে বলল ' বৃষ্টি ভেজা বিকেলে মনে হচ্ছে ফেরারি মন ছেড়ে যাবে কোনো স্মৃতির কোন।হয়তো সময় হয়েছে এখন। এখনো ওড়ার সময় হয়েছে।'
শিখা কল্যাণের মুখের দিকে তাকালো।
কল্যান আর ও বললো  'আজকের বৃষ্টি ভেজা বিকালের স্বপ্ন গোধূলি লগ্নে অনেক কিছু সাক্ষী হয়ে থাকবে।
সেই ডাকে কি তুমি সাড়া দেবে?'
শিখা ভেবে পাচ্ছে না ' কি উত্তর দেবে?'
দিব্যেন্দু কিভাবে ধোঁকা দিল আর নতুন করে কিছু ভাবতে চায় না ।এখন সে শুধু তার নিজের ক্যারিয়ার গড়ার দিকে নজর দিতে চায়। তবু কোথাও যেন কল্যানদার জন্য একটা মনে জায়গা তৈরি হয়েছে। সে জায়গাটা যে কি ?সেটা এখনো বুঝে উঠতে পারছে না। হয়তো তার হাত ধরে এ জীবন নদী চায় পারাপার হতে।
কিন্তু সন্দেহের বীজ মন থেকে পারছে না তাড়াতে ।
ইচ্ছে করে আবার মন ভেসে নতুন কুলে যেতে। আজ যে শূন্যতা সেই শূন্যতা কি সত্যিই পূরণ হবে ?নিঃসঙ্গতা কি সত্যিই কাটবে? নাকি নতুন করে নতুন জোয়ারে ভাসবে ?একটা যেন  দোলাচল। অন্ধকারের ভুলে কি পারবে কল্যাণের হাতটা ধরে জীবন নদী পারাপার করতে? একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে কল্যাণের দিকে তাকিয়ে একটু ম্লান হাসলো,।



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩১ ক্রমশ

কবি মিশ্র




নবমীর রাত


আমায় নিয়ে তুই একটা গল্প লিখবি
বলেছিলি ,সে বারের পুজোর সময়...
আজও লিখে উঠতে পারলি না!
আজকে ও তুই এলি না
গল্পটা খাতার মাঝে আটকে গেছে...

সে বছর রহিম চাচা, যখন বাঁশ, খড়, দঁড়ি মাটি নিয়ে ঠাকুর গড়বে, প্রস্তুতি নিচ্ছিল
বলে ছিলাম তাকে, আমার ও এই ভাবে প্রতিমা গড়বি তুই
তোর খাতায় কলমে...

আবার ও একটা প্রতিমা গড়ার সময় হয়ে এল
ষষ্টি, সপ্তমী, অষ্টমী,গেল
 নবমীর রাতে ও তুই এলি না..
তোর প্রতিমা কি বেশ্যা বাড়ির মাটি পায় নি ?
রহিম চাচা বলেছে, 'মা দূর্গা তো আমার সামনে'
আমি তো হেসে বাঁচিনে, তুই বুঝলি না কেন ?

বাঁশের কাঠমায়, খড়,মাটি দিয়ে মৃন্ময়ী রূপ পায় মা
আমি তখনও থাকি সেই অন্ধকারে
আমি যে বারবনিতা...

আমায় নিয়ে গল্প লিখবি....
বলেছিলি...
আজও এলি না তুই..!!

সুবর্ণ রায়




মৃত্যুহীন 
 

বেঁচে আছো কিনা তাও জানি না!

কোনও নাম নেই তোমার—
তোমার ভাবনাকে আমি নাম দিই অবেলায়

কোনও ছবি নেই তোমার—
তোমার ঠিকানা আমি নিত্য লিখি কবিতায়

কোনও স্পর্শ নেই তোমার—
তোমার স্পর্শ আমি ছুঁয়ে থাকি কেয়াপাতায়

তুমি বেঁচে আছো কিনা জানি না,
মৃত্যুহীন হয়ে আছো জানি
এই অর্বাচীন প্রগলভ ভণিতায়…

গোলাম কবির




বাঙালির হৃদয় ভাঙার গল্প 


 এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো মন্দির, মসজিদ, 
 কাবা যদি না থাকে কোনো নজরুলের
 লিখার মাধ্যমে যা পাই , তা যদি 
 বিশ্বাস করি বা করো সে কথা,
 তবে বলবো -
 হৃদয় তো ভেঙে গেছে কবেই, 
সেই ১৯৪৭ এর দেশ ভাঙা থেকেই! 
 যখন আমার পূর্ববাংলা ছেড়ে হিন্দু ধর্মের
 লোক হবার অপরাধে সুনীল, শীর্ষেন্দু,
 সত্যজিৎ, অমর্ত্য সেনরা রাতের আঁধারে
 কাউকে কিছু না বলে চলে যায় 
ওপার বাংলায় রিফিউজি অথবা বাঙ্গাল
 নামের তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করার কপাল নিয়ে!
 এমনিভাবেই ওপার বাংলা হতেও 
 যাঁরা এসেছিলো একই করুণ নাটকের 
 পশ্চিম বাংলা ভার্সনের বাস্তবায়নে
 মুসলিম গণ তাঁরাও এখানে এসে
 একইভাবে ঘটি নামে কাটিয়ে দিলো 
 জীবন আজ হবে পঁচাত্তর বছর প্রায়! 
 দেশ ভাঙা সর্বস্ব হারা বাঙালিদের মতো 
 এরকমভাবে হৃদয় পৃথিবীর আর 
 কোনো জাতির ভেঙে ছিলো কিনা 
 আমি জানিনা তা। 
 এখনো সেই হৃদয় ভাঙার পাঁয়তারা 
 চলছে হরদম দুইপারেই 
 শোনা যায় যখন তখন!
যাঁরা এসেছিলো এবং যাঁরা চলে গেলো
তাঁদের যদি না দেখা পাও, 
তো ওদের উত্তরপুরুষের কাউকে 
জিজ্ঞাসা করে দ্যাখো, 
বলো তাকে - তোমার ক্ষত কি শুকিয়েছে 
নাকি তা আরো দগদগে ঘা'র মতো হলো!

রোজী খান




উত্তপ্ত পারদ
 

তোমার অবহেলার উত্তপ্ত পারদে
অঙ্গার হোক আমার পৃথিবী 
তোমার দেওয়া এক ঝাঁক কষ্টে 
হৃদয় চিরে বৃষ্টি ঝরুক,
আমার প্রতি উদাসীনতায়
সৃষ্টি হোক তোমার
নতুন কবিতার ছন্দ,
পৃথিবী কবিতাময় হোক তোমার 
রচিত মহাকাব্যে।
লিখতে বলবো না আর
কখনো আমাকে নিয়ে কাব্য;
প্রফুল্ল থেকো বন্ধুর আড্ডায় 
আর বইমেলার ফটোসেশনে 
বায়না ধরবো না আর 
কখনো ছবির মহড়ার অংশ হতে,
চাইবো না আর গোলাপের 
পরশে ভালোবাসায় সিক্ত
হয়ে জন্মতিথি স্মরণে ,
রয়ে যাব তবু দুরাশার ধরণীতে
অতৃপ্ত ভালোবাসার টানে,
ইচ্ছে গুলো দিয়ে দিলাম তাই 
আমৃত্যু নির্বাসনে,
তুমিহীন বিনিদ্র রাত্রিগুলো 
তোমার আঘাতেই বিদগ্ধ হোক,
অনুরাগের সুর তুলে 
মেঘবালিকার সকাল হোক,
নিস্তব্ধ নিথর জনমানবহীন
মন কেমন করা বিকেল হোক,
অভিমানে এক আকাশ ভেসে
যাওয়া মেঘের ভেলায়
বৃষ্টিমুখর সন্ধ্যা হোক।
তারপর শ্রাবণের বাদল দিনে 
শত সহস্র অভিমান বুকে জমা নিয়ে 
আলোকহীন বিষন্ন মলিন হৃদয়ে 
জলভরা চোখে এক পৃথিবী
স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষা করব
বৃষ্টি ভেজা সন্ধ্যায় ,
তুমি ফিরবে নকশী কাঁথার 
মাঠে বর্ষণভরা নয়নে 
সেইদিন আবারো বৃষ্টি হবে 
বর্ষণমন্দ্রিত অন্ধকারে  ভাসিয়ে
নিয়ে যাবে শুধুই তোমাকে -আমাকে।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" ১৬

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" 
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 





উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                  (পর্ব ১৬)


                                            শুক্রবার বেশ আয়োজন করেই ময়নার বিয়ে দিলো
ছাদের রুমটি সুন্দর করে সব কিছু দিয়ে তৃষ্ণা ঘুছিয়ে
রেখেছিলো। ময়নার মা চার বছরেরে ময়না কে নিয়ে
ওদের বাড়িতে এসেছিলো, ময়নার বাবা আর একটি
বিয়ে,করে ওদের রেখে পালিয়ে গিয়েছিলে। সেই চার বছরের মেয়ে আজ বড় হয়ে নিজের পছন্দমত বিয়ে
করলো।ময়নার মা খুব খুশি ময়না তার কাছেই থাকবে
বিয়ের সাজে ময়নাকে  বেশ সুন্দর লাগছিলো।
বিয়ের কয়দিন পর মজিদের সাথে হাতির ঝিল ঘুরে এসে বললো - আফা হাতির ঝিলে একখান ও হাতি
দেখলাম না, কত মানুষ কত সুন্দর কইরা  মাইয়ারা
সাইজা কালা চশমা পইরা কি যে গল্প করলো হেগোর বন্ধু না সেয়ামী জানিনা খুব ভালা লাগলো।

তৃষ্ণা,-আরে বোকা জায়গারটার নাম হাতিরঝিল।
তোরা কি করলি খুব আনন্দ করলি বুঝি।

ময়না-মুখখানি ম্লান করে বললো তা,করছি।

তৃষ্ণা- মজিদ তোরে খুব ভালোবাসে তাইনারে ময়না?

ময়ন- ভালাবাসে আফা,কিন্ত 
তৃষ্ণ - কিন্ত কি? 
ময়না-সিনেমার লাগাননা।
তৃষ্ণা হো হো করে হেসে উঠলো  হাসি আরা থামছেনা
তৃষ্ণার মা দৌড়ে মেয়ের ঘরে এসে বললো

-কিরে এতো হাসছিস কেন?

তৃষ্ণা - ময়না তুই যা, মা তোমার শুনে কাজ নেই
ময়না বেশ স্বপ্ন দেখতে শিখেছে মা দোয়া করো ও যেনো সুখি হয়।

ময়না আজকাল মজিদ কে নিয়ে ছাদে সুন্দর বাগান
করেছে ফুল ছাড়াও নানান রকম সবজি বাগান ও করছে এই কয়দিন বেশ গিন্নি গিন্নি ভাব এসেছে
ওর ভিতর, মেয়েদের বিয়ে হলে ওরা কেমন বদলে
যায়, স্বামির পছন্দমত রান্না করে রাখে এগুলো নিরবে দেখে তৃষ্ণা শান্তি পায়।
অপু ফোন করেছে আজ কথা বলতে বলতে তৃষ্ণা
কখন ঘুমিয়ে পড়েছে নিজেও জানেনা।
চলবে....