২২ জুলাই ২০২২

কবি মাসুদ করিম এর কবিতা "প্রতিক্ষায়"





প্রতিক্ষায়

মাসুদ করিম


পথ পানে চেয়ে রই তোমারি 
প্রতিক্ষায় ঠাই দাঁড়িয়ে আসবে 
কখন তুমি মোর দারে,
হৃদয় উতাল চঞ্চল আঁখি মেলে 
দেখবো বলে তোমার ধুলায় 
মাখা দুটি চরন।
দিন যায় মাস যায় হয়নি শেষ 
প্রতিক্ষার প্রহর আজো তোমারি 
পথ পানে চেয়ে,
হৃদয় ভরে উঠে চাপা কান্নায় 
অশ্রু ঝরে দু নয়নে অবিরত 
তোমার স্বরনে।
আসো প্রিয় তুমি মোর দারে 
দেখিবো তোমায় নয়ন ভরে 
জুড়াবো হৃদয় খানি,
কত রাত গেলো নিদ্রাহীন ভাবনার 
ভেলায় ভাসিয়ে অন্তর সে তো 
শুধু আমি জানি।
এসো মোর প্রিয় দেখিতে তোমায় 
এক পলক হয়েছি আজ তোমারি 
দর্শন পিয়াসী,
কি যাতনা অন্তরে তোমারে 
দেখিবার তরে ওগো মোর 
হৃদয়ে আসীন প্রিয়তম।

কবি জাবেদ আহমেদ এর কবিতা মন খারাপ 




মন খারাপ 

জাবেদ আহমেদ 


আসে যদি
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি। 

উদাসদিন
মেঘে মেঘে
কালো আকাশ।
বাঁচার নাই উচ্ছ্বাস 
জীবনজুড়ে দুষিত বাতাস।

পথে পথে রাজপথে
পাড়ায় মহল্লাতে
এক ভয়ংকর দুঃচিন্তা

মন ভালো নেই
মন খারাপ।

২১ জুলাই ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস উপন্যাস টানাপোড়েন ১৯০





উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১৯০

দুর্যোগ

মমতা রায়চৌধুরী



আবহাওয়া দপ্তর জানিয়ে দিয়েছিল যে কদিন টানা ঝড় বৃষ্টি হবে। এটা মাথায় ছিলো না রেখার। বাড়িতে ফিরতে পেরেছে এটাই যথেষ্ট। ভিজে একসার হয়ে গেছিল রেখা। ফিরে এসে মনোজের হাতে চা-টা খেয়ে অনেক ফ্রেশ লাগছে। সত্যি জাদু আছে মনোজের হতে। আগে তো প্রায়শই মনোজ সুন্দর চা টা বানাত। আজকাল সেটা হয় না। তবে আজকে সন্ধ্যের চা নয়, রাত হয়েছে। তো ফিরে এসে যেন মনটা বলে" চা চাই এখন আর কিছু না চাই ।"
চা খেতে খেতে  মনোজ বলল "কেমন হলো আজকে তোমাদের জাজমেন্টের কর্মশালা।"
"জাজমেন্টের কর্মশালা কি বলছো তুমি?"
"ওই হলো ।গেছিলে তো বিচারকের ভূমিকা নিয়ে তাই বললাম আর কি।"
রেখা হেসে বললো "আর বোলো না ,হলো একরকম।"
"তোমার অফিস কেমন চললো,?'
"একেবারে ঝাক্কাস।"
"সে তোমার মুড দেখেই বোঝা যাচ্ছে।"
"বাবা ,তুমি আবার কবে থেকে অ্যাস্ট্রোলাইজার হলে বলো তো?"
এটা ভেরি সিম্পল এর জন্য অ্যাস্ট্রোলাইজার  হওয়ার দরকার নেই।'
মনোজ হাসতে হাসতে বলল " ও তাই'।
", হ্যাঁ তাই। সেজন্য একটা ফোন করে জানাতে পারো নি "
"কাজের চাপ ছিল প্রচুর সেজন্য পারিনি বললাম তো তোমাকে।"
"সে যাক ছাড়ো ওসব।
হ্যাঁগো চৈতির বাবার কোন খবর পেলে?"
"কাল অবধি  পার্থ যা  জানিয়েছিল।"
"তুমি একবার খবর নিতে পারতে?"
"সে  হয় তো পারতাম ,সময় পেলাম কই বলো আজকে তো সারাদিন অফিসেই কেটে গেল।"
তুমি একদিন ও ফোন করেছিলে?"
"না।"
সে কি ভেরি ব্যাড। তোমার একদিন ফোন করা উচিত ছিল। দুর্যোগ দুর্দিনে মানুষের পাশে থাকা উচিত।
"তাহলে এখনি ট্রাই করি।কি বলো?"
মনোজ ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো।
রেখা ফোন করল রিং হচ্ছে। কিন্তু ধরছে না।
ধরছে না গো ফোনটা। কে জানে কি 
করছে ?খাবার-দাবার খেতে গেছে কিনা আবার ফোন করো।'
রেখা আবার ফোন করল। এবার ফোন ধরল বলল 'হ্যালো।'
"হ্যাঁ আমি রেখা বলছি দিদি।'
"হ্যাঁ দিদি বলুন।'
'দাদা এখন কেমন আছেন?'
"ওই আছেন ফিজিওথেরাপিস্ট এসে দেখে গেছেন ।একটা সাইট তো পড়ে গেছে।'
"না মানে ,কিছু ইমপ্রুভ বুঝতে পারছ না?"
"সেটা বলবো না  তা তো একটু কিছু উন্নতি
 হয়েছেই।কতদিনে ঠিকঠাক করতে পারব দিদি জানি না। সংসারের পুরো চাপটা এখন আমার উপর ।কি করে, কি করবো,? বুঝতে পারছিনা।"
"অত ঘাবরাবে না সব ঠিক হয়ে যাবে।"
চৈতির মা একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল" হ্যাঁ ঠিক হবে ।আগের মত তো আর হবে না। 
 আর কাজ করতে পারবে?'
"আগে মানুষ টা একটু স্টেবল হোক তারপরও এসব নিয়ে ভাবা যাবে দিদি।"
'আজকে বাড়িতে গেছিলাম ।আপনাকে দেখতে পেলাম না।'
"আজকে বাড়িতে এসেছিলে ।আজকেই ভাবছিলাম তোমার ওই ছাদটার দিকে তাকিয়ে।"
"হ্যাঁ ঝড়ে আমার গাছগুলোকে ভেঙে দিয়েছে।
বাড়ি গিয়ে একটু ,গুছিয়ে  নিলাম। যা ঘরবাড়ির অবস্থা হয়ে আছে।"
"হ্যাঁ ,আমি বাড়ি ছিলাম না  আমাকে স্কুলের কাজে যেতে হয়েছিল এই তো ফিরেছি বেশ খানিকটা রাত হয়েছে।ভাবলাম ফোন করা হয় না একটু ফোন করে নিই।"
"ভালো লাগলো দিদি কাছের মানুষ জন খোঁজখবর নিলে ভালো লাগে।"
"না সে তো দিদি ঠিকই ,।আমার অনেক আগেই কথা বলা উচিত ছিল কিন্তু আমি ও না নানা কাজে পেরে উঠি নি আর সবথেকে বড় ব্যাপার যেহেতু খবরা খবর গুলো পার্থ আর আপনাদের দাদার কাছ থেকে পেয়েছি। সেই জন্য অতটা গুরুত্ব দিইনি।"
"ঠিক আছে সবারই তো সংসারের কাজকর্ম থাকে তবে দাদা আর পার্থ যেভাবে আমাকে সাহায্য করেছে জীবনেও ভুলব না।"
"না, না ওরকম কেন বলছ। পাশাপাশি থাকি মানুষ হিসেবে তো মানুষের পাশে দাঁড়ানো উচিত এটাই আমরা জানি।"
আসলে সবার ভেতরে তো সি মানবিক বোধ থাকে না তাই বলা। দেখছি তো নিজের আত্মীয়-স্বজন অতোটা খোঁজ খবর নিচ্ছে বিপদে পড়লে লোক চেনা যায় দিদি আমি হাড়েহাড়ে বুঝতে পারছি।"
" ঠিক আছে দিদি মন খারাপ করো না সব মানুষ তো একরকম হয় না।"
"তবুও আমরা প্রত্যাশায় থাকি,।"
"ঠিক আছে দিদি রাখছি ।পরে আবার জেনে নেবো ফোন করে।"
"ঠিক আছে দিদি রাখুন।"
ফোনটা রাখার পর চৈতির মার মনে হলো এই
আজকের মেঘাচ্ছন্ন বৃষ্টি হয়ে বৃষ্টিহত থেমে যাবেন আবার আলো চারিদিক আলোকিত হবে অন্ধকার কেটে যাবে কিন্তু চৈতির মার জীবনাকাশে যে মেঘ ঘনিয়ে এসেছে ,আঁধার নেমে এসেছে এ যেন দুর্যোগের ঘনঘটা। এ কবে কাটবে কে জানে? ""একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে চৈতির বাবার কাছে গিয়ে মাথায় হাত বুলাতে লাগল ।
এদিকে রেখা জিজ্ঞেস করলো "রাত্রে কি খাবে গো?"
"কি খাব বলো তো ?অফিসে আজকের লাঞ্চ হেভি হয়েছে। রাত্রে বেশি ভারী জিনিস খাবো না ওটস দিও।"
"বেশ ভালোই হলো ।রান্নার ঝামেলাটাও থাকলো না।"
"এর মধ্যে তুতু এসে কিউ কিউ করছে।"
মনোজ বললো "দেখো তু তু রানি আবার কি বলছে তোমায়?"
"কি আর বলবে খিদে পেয়েছে খাবে কটা বাজে গো? 'ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল।
১০টার বেশি বাজে।"
"ও বাবা ওইজন্যেই খিদে পেয়েছে গো। "রেখা ওকে একটু আদর করে নিয়ে বলল" দাঁড়াও আমি খাবার নিয়ে আসছি সোনা।'
রেখা রান্নাঘরের দিকে গেল তরকারিটাএকটু গরম করে নিল। তারপর ভাতগুলো ভালো করে মেখে নিল
এবার ডিস গুলো নিয়ে ওদের কাছে গেল ।
"কি গো দরজাটা খোলো তো আমার দুটো হাতই জোড়া।''
"হ্যাঁ এই দিচ্ছি একটু দাঁড়াও।
"আমি দাঁড়িয়ে আছি তুমি ওঠো।'
তুতু তো হাত দিয়ে দরজাটাকে খেলার চেষ্টা করছে। রেখা হেসে বলল ও রে খেপি দরজা খুলবে, তবে তো খুলতে  পারবি।"
মনোজ দরজাটা খুলে দিতেই তুতু তাড়াতাড়ি চলে গেল বাইরে ।এমন খোশমেজাজে গেল যেন মনে হচ্ছে মহারানী বেরোচ্ছে ।বাকি যারা ছিল ওদের সঙ্গে সেরকমই বিহেফ করছিল।
"নে আর অন্যের সঙ্গে এখন ধস্তাধস্তি করতে হবে না ,খেয়ে নাও এসো।"
প্রত্যেককে ডিস দেয়া হল সামনে। ওরা যে যার জায়গায় বসে রইল। প্রত্যেককে মাখা  ভাত 
দিল।
রেখা মনোজকে বলল 'ওরা খাক আমি ভেতরে যাচ্ছি। কালকের তরকারির সবজিগুলো কেটে নিই।
"মাসি তো আসে নি ,না হলে মাসিই কেটে রেখে দিত।"
তারপর আবার মেয়েদের কে ফোন করার বাকি আছে?'
"কাদের ফোন করবে?"
"আর বলো কেন স্কুলে রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তীর জন্য মেয়ে লাগবে, গান ,নাচ ,কবিতা আবৃত্তির।তাদের সাথে যোগাযোগ করতে হবে তো?"
"এত রাত্রে আবার ওদের এখন ফোন খোলা থাকবে?"
"দেখবো চেষ্টা করে সময়ও বেশি 
নেই ।পরশুদিন।"
"ঠিক আছে আমি ভেতরে যাচ্ছি ।খাওয়া হলে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে এসো।"
মনোজ বললো "হুম।"
রেখা চটপট ওদের থালাটা মেজে ধুয়ে নিল।
তারপর ফ্রিজটা খুলে দেখলো কি কি সবজি আছে।
"হ্যাঁ রুই মাছ আছে, চিংড়ি মাছ আছে।
রুই মাছটা সজনে ডাটা ,আলু ,বেগুন বড়ি দিয়ে ঝোল করে দেবে আর লাউ আছে ,লাউ চিংড়ি করে দেবে। অবশ্য পটল ও আছে  তাহলে কি পটল চিংড়ি করবে ?না এ ব্যাপারে মনোজ কে জিজ্ঞেস করতে হবে  কোনটা খাবে? নোটে শাক আছে নোটে শাক ভাজা করে দেবে পেঁয়াজ দিয়ে। আর সকালের জলখাবার এর জন্য কি করা যায় কি করা যায়? এইতোভেন্ডি আছে। তাহলে কালকে সকালে জল খাবার পরোটা আর  ভেন্ডি ভাজা করে দেবে।
সবজি গুলো নিয়ে রেখা চলে আসলো বারান্দাতে।
এরমধ্যে মনোজ কলাপসিবল গেট লাগাচ্ছে তখন রেখা বলল" হ্যাঁ গো লাউ চিংড়ি খাবে,না পটল চিংড়ি খাবে?"
"যা হোক একটা করো না আমার দুটোই প্রিয়।'
Ok"
হ্যাঁ গো তুতু কোথায়?"
"কেন ভেতরে আসেনি?"
"খেয়াল করি নি ।দেখ তো ঘরে ঢুকেছে কিনা?'
"না তো  ঘরে নেই ।'
"এ বাবা তাহলে পটি করতে গেছে। তুমি তার মধ্যেই গেট লাগিয়ে দিলে।"
'খেয়াল করিনি গো ।ঠিক আছে দাঁড়াও । খুলে দিচ্ছি।"
"বাবা ও কি বৃষ্টি পড়ার আওয়াজ হচ্ছে নাকি গো?'
"তাইতো মনে হচ্ছে দেখি তো?"
"জোরে বৃষ্টি নামবে মনে হচ্ছে।'
"ধরে গেছিল দেখো কী কান্ড।"
"আজকে শাটারটা খুলে রেখো নইলে ওরা থাকবে কোথায় বলো? ভিজে যাবে।"
"ঠিক আছে খুলে রাখবো।"
এমন সময় ফোন মনোজের ফোন বেজে উঠলো।
রেখা লাউ এর চোকলা ছাড়াতে ছাড়াতে বলল"হ্যাঁগো তোমার ফোন বাজছে?"
মনোজ বাইরে থেকে আওয়াজ দিল বাজুক গে
রেখা আর  কিছু না বলে আপন-মনে লাউ কাটতে লাগল তারপর ভাবতে  লাগলোলাউ এর চোকলাগুলো ভাজা করে নিলেও হয়।
আবার ফোন বাজছে।
রেখা বললো 'দেখো তোমার কিন্তু আবারও ফোন বাজছে ,.কোন আর্জেন্ট কল কিনা,?'
মনোজ কলাপসিবল গেট দিয়ে ঢুকে পরল তুতু তো খানিকটা রেখার কাছে এসে লেজ নাড়াতে লাগল 
রেখা বলল "কী চলে এসেছ? যাও যাও যাও ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ো।'
তারপর  তুতু নিজের ঘরে চলে গেল।'
মনোজ বললো "কে  ফোন করছে দেখি তো"।
*ও বাবা ,চৈতির মা ফোন করেছে গো। আবার কী হলো কে জানে?""
মনোজ ঘুরিয়ে ফোন করলো রিং হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ধরল হ্যালো.

হ্যাঁ বৌদি বলুন আসলে সঠিক সময়ে ধরতে পারিনি ফোনটা আমার বাচ্চাগুলো কে খেতে দিচ্ছিলাম।
চৈতির মা বলল ,l,আসলে পার্থর ফোনটা পাচ্ছি না তো তাই ?
" হ্যাঁ কি হয়েছে বলুন?"
আসলে পার্থর কাছে একটা চাবি আছে আমাদের বাড়ির কালকে গিয়ে একটু শুধু দেখা যে আমি জানলাগুলো লাগিয়ে দিয়েছি কিনা? নয়তো জল এসে ঘর  ভেসে যাবে।"
"ও আচ্ছা ,আচ্ছা ।এখন তো অনেক রাত হয়ে গেছে।"
"ঠিক আছে তাই বলব ।"
ফোনটা কেটে দিল।
রেখা সবজিগুলো কেটে আবার ফ্রিজে ঢুকিয়ে দিল।তারপর দুধ গরম করে ওটসে  মিশিয়ে উপর থেকে কিছু ফ্রুটস মিলিয়ে দিল।।।
তারপর রেখা মনোজকে জিজ্ঞেস করল 'তোমাকে কি খাবার দেবো?"
"হ্যাঁ দিও একটু পরে।'
"আবার এর ও পরে সাড়ে 10 টা তো বাজলো।'
হ্যাঁ হ্যাঁ দাও।"
রোজ খাওয়া নিয়ে বিরক্ত লেগে যায় রেখার একটু বিরক্তির স্বরে বলল সারাদিন তো আমিও বসে থাকি না বলো?'

সিগমা আউয়াল এর গল্প " মেঘের কোলে পাহাড়" পর্ব ১





মেঘের কোলে পাহাড়  পর্ব (১


সিগমা আউয়াল 


        পাহাড়ের মুখে মেঘ জমে থাকে ।বেশ খানিকটা উপরে দিকে । যত উপরের দিকে ওঠা যায় ততো তুলোতুলো মেঘগুলো জমাট বেঁধে  ভাসতে থাকে ।অবাক বিস্ময়ে চেয়ে থাকে মীলা ।মনে হচ্ছে মেঘের মধ্যে ডুবে যাচ্ছে । আঁকাবাঁকা পাহাড়ী রাস্তা ধরে উপরে দিকে গাড়ি উঠছে । নীচের দিকে তাকালে সবুজের সমারোহ  । মেঘ গুলো মাঝে মধ্যে ভাসতে ভাসতে আটকে যাচ্ছে  গাছের সাথে । 
   এক পশলা বৃষ্টি হয় সেখানে, অথচ নীচে  কোন বৃষ্টি নেই । মেঘ - বৃষ্টির এই অদ্ভূত খেলা দেখে মীলা রোমাঞ্জিত হয়। পাশে  পাহাড়ের গায় বেয়ে কোথাও কোথাও ঝর্ণা নামছে । খাঁশিয়া বউ - মেয়েরা পানি নিচ্ছে দৈনন্দিন কাজে ।  পাথর ভাঙা সিড়ির মতো  জায়গায় কাপড় ধুচ্ছে । শোঁশো  শব্দ বেশ কিছুক্ষণ আগে থেকেই  পাচ্ছিলো মীলারা । কাছে আসতে দেখে বেশ বড় ঝর্ণা । ভালোলাগার অনুভূতিটা  দ্বিগুন হলো ।  দু/ তিন মাইল পার হবার পর সামনে একটা বাজার পড়ে ।  ডাঁওকি  বাজার । 

     পুরুষ বিক্রেতা থেকে মহিলা  বিক্রেতা সংখ্যা  বেশির ।  নানা রকম পাথরের  গহনা ,মশলা , চাল ডাল সবই পাওয়া যাচ্ছে ,অনেকটা হাটের মতো । পাহাড়ি মোরগ  - মুরগী । সব চেয়ে যেটা মজার সেটা হচ্ছে কোন সমান্তরাল জায়গায় না । পাহাড়ের খাঁজে বা পাথরের  স্তরেস্তরে  হাট  । মীলা  বাচ্চাদের হাত ধরে ওঠে । বাজারে ওরা সবাই একটা  চায়ের দোকানে বসে । শিলংএর  খাস চায়ের পাতার চা খায় ।ভারি সুন্দর তার সুবাস । অল্প স্বল্প কিছু  সৌখিন জিনিস পত্র কিনে নিয়ে আবার ওরা গাড়িতে ওঠে । সন্ধ্যার নামার  আগেই  পৌঁছতে হবে । এরকম চড়াই- উতড়াই পথে রাত হওয়া ঠিক না । সেপ্টেম্বরের শেষ এখনো কি বর্ষাকাল ?  
      নানা ধরনে জীব জন্তুর গল্প শুরু করে দিলেন কবীর সাহেব (মীলার স্বামী )। বেশ খানিকটা মন:ক্ষুন হয়ে বললেন -- যাতায়াতের  আরো বেটার সুযোগ সুবিধা থাকতে তোমার হঠাৎ বাই রোড়ের আসার ইচ্ছে হলে কেন বুঝলাম না ।এরকম বিপদজনক রাস্তায় কেউ শখ করে আসে ? তাও বর্ষা এখনো শেষ হয়নি । 
--- বারে বর্ষা কিছুটা আছে বলেই না এখন এলাম । পাহাড়ি  ঝর্ণা , প্রকৃতির আসল সৌন্দর্য তো এই সময় দেখতে হয় ।কি সুন্দর সবুজ চারিদিকে দেখো মন দিয়ে দেখো, তোমারও ভালো লাগবে । বাচ্চারা হৈচৈ করে যাচ্ছে । কবীর জার্নালে মুখ গুঁজে আছে ।মাঝে মধ্যে ড্রাইভারের  সঙ্গে  কথা বলছে । চোখ দিয়ে রাস্তা নিরিখ করছে । গম্ভীর থমেথমে মুখ । প্লেনে আসলে ভালো হতো বার বার একই কথা বলে এখন ক্লান্ত ।

কবি রাজ রিডার এর কবিতা "এত লাশ কোথায় গেল?"





এত লাশ কোথায় গেল?

রাজ রিডার


এত লাশ কোথায় গেল?
আমাদের ত্রিশ লক্ষের বেশি লাশ কোথায় গেল?
মায়ের পেটেই যে শিশুটি থেকে গেল সে কোথায়?
যাদের পরিচয়পত্র ছিল না তাদের লাশ কোথায়?

পানিতে ভাসছিল যে লাশ...মিশে গেল পানিতে পানিতে
মাটিতে পুঁতে দিল যে লাশ...মিশে গেল মাটিতে মাটিতে
আগুনে পুড়ে গেল যে লাশ...ছাই হয়ে উড়ে গেল বাতাসে বাতাসে 
যে লাশের কিছুই হলো না...পড়ে রইলো
চলে গেল শুকুনের পেটে পেটে
এমন লাশের হিসাব কে দিতে পারে?

আমার কাছে লাশেদের হিসাব নাই...আছে মানুষের খোঁজ
আমার কাছে মাথার খুলির হিসাব নাই...আছে মায়া-মমতার
আর এসব গণনা করবে কোন মায়ের লাল?




কান পেতে দেখো
সময়ের দেয়ালে
বোমার ঝলকানিতে
তরবারির রক্তে
ভেসে যাওয়া নদীতে
মিশে যাওয়া মাটিতে
জোয়ার আর ভাটিতে
শুনতে পাবে লাশেদের কথা
কান পেতে দেখো বাতাসে
পেয়ে যাবে খোঁজ মানুষের
পেয়ে যাবে খোঁজ লাশেদের।

লাশেরা কথা বলে না।
তুমি যে দেখেও দেখো না—তাই তুমি লাশ
তুমি যে লাশেদের কথা বলো না—তাই তুমি লাশ
লাশেদের রুহু যে তোমার শরীরে প্রবেশ করে না—তাই তুমি লাশ
আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা তুমিই জিন্দা লাশ।

কবি তাহেরা আফরোজ এর কবিতা প্রেমের গান"




প্রেমের গান

তাহেরা আফরোজ


তুমি বলেছিলে, গান শোনাবে 
এমন একটি গান, যা কেবলই আমার হবে 
আমার জন্য তোমার কন্ঠ নিঃসৃত সুর 
তোমার কন্ঠে উচ্চারিত গানের প্রতিটি বাণী 
আমার জন্য 
আমার জন্য তোমার সবটুকু গাওয়া। 
তুমি শিল্পী নও
কিন্তু তোমার প্রেমের তানপুরায় যে সুর ওঠে 
তা যেন শ্রেষ্ঠ সুর হয়ে বাজে আমার ধ্যাণে 
আমার শরীরের প্রতিটি শিরা উপশিরায়
তোমার আবেশ জড়ানো কন্ঠ 
আমাকে মোহাবিষ্ট করে রাখে সমস্ত দিন 
আমি অপেক্ষায় থাকি 
তুমি বলেছিলে, গান শোনাবে 
কেবলই আমার জন্য তোমার সেই গান।

২০ জুলাই ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস উপন্যাস টানাপোড়েন ১৮৯




উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৮৯

কখন যে কি হয়

মমতা রায়চৌধুরী



ফিরতে ফিরতে রাত নটা হলো। স্টেশনে এসে রেখা মনে মনে ভাবছে মনোজ একবারও তো আজকে ফোন করল না যদিও ওই সময়টা ফোনটা অফ রেখেছিল। ও কি এসেছে বাড়িতে?
এদিকে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি পড়তে শুরু করেছে। ও বাবা এদিকে বিদ্যুৎও চমকাচ্ছে। ভারী বৃষ্টি হবে মনে হচ্ছে ।তাড়াতাড়ি পা চালালো। "টোটো টোটো অ্যাই টোটো। "কি ব্যাপার আজকে একটা চেনা টোটো দেখতে পাচ্ছি না ।তখনো যাবার সময় অচেনা টোটো। টোটোওয়ালা কাছে এগিয়ে এসে বলল" হ্যাঁ দিদি ,বলুন।"
বলছি "বি ব্লক যাবে?"
"না দিদি।'
এদিকে বৃষ্টি ভালই পড়তে শুরু করেছে । রেখা কি করবে ছাতাও তো আনে নি । এদিকে লোকজনের সমাগমও কম। মনোজকে ফোন করবে? করেই বা কি করব বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে আবার ও আসবে?'
আবার একটা টোটো দেখতে পেল।" এই টোটো যাবে?"
"কোথায়?"
"বি-ব্লক যাব।"
"না দিদি।'
"কেনো যাবেন না কেন?"
"ওদিকে অবরোধ চলছে।"
রেখা আশ্চর্য হয়ে জিজ্ঞেস করল
"অবরোধ !কিসের?"
টোটোওয়ালা কোন কথা না বলেই বেরিয়ে গেল।
ভারী চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ালো তো।
ইতিমধ্যে রেখা দেখতে পেলো  "এক তরুণ তরুণী খুব ক্লোজ দাঁড়িয়ে আছে, ছাতা মাথায় দিয়ে।"রেখা একটু আশার আলো দেখলো জনসমাগম স্টেশন চত্বরে এরকম দু-একজনকে দেখতে পেলে ভালই লাগে।
রেখা ভাবল এরাও বোধহয় টোটো করে যাবে একটু এগিয়ে গেল। কিন্তু অবাক হয়ে গেল মাঝবয়সী লোকের সঙ্গে কুড়ি বাইশ বছরের একটি মেয়ে লেপ্টে আছে।
দেখেই কেমন রেখার গাটা ঘিনঘিন করে উঠলো।আর মনে মনে ভাবলো
"কোন বাবা মায়ের সন্তান এরকম বিপথে চালিত হচ্ছে কে জানে?লাজ লজ্জা বলে ও তো কিছু নেই।'
এখানে তো ভালবাসার চিহ্ন নেই লোকটাকে তো দেখেই মনে হচ্ছে তার জিভ যেন লকলক করছে, এতটাই লালায়িত যে এক নিমিষে এর সমস্ত শরীরটাকে গিলে খেয়ে নেবে।
মেয়েটা মাঝে মাঝে অস্বস্তিতে দূরে সরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে কিন্তু তার চেষ্টা বৃথা।
এক সময় কথা শুনতে পেল লোকটা বলছে "আমার কথা না শুনলে তোমার সমস্যার সমাধান হবে না।"
রেখা ভাবলো "মেয়েটা কি সমস্যার মধ্যে আছে।
যার জন্য মাঝ বয়সী লোকের সঙ্গে আজ নিজেকে হারিয়ে যেতে দিতে হচ্ছে।"
"তুমি আজ আমাকে সময় না দিলে তোমার ওদিকে সব শেষ।"
মেয়েটা কেমন উদাসিন ভাবে বলল আপনি আমাকে সাহায্য করুন আমি পরে আপনার সব কথা শুনব ।এই মুহূর্তে আমার মন মেজাজ কিচ্ছু ভালো নেই।"
"মামদো বাজী নাকি? দিলে তবেই তো কিছু পাওয়া যায়? দুনিয়াটাই গিভ এন্ড টেক পলিসি তে চলে বুঝলে সোনা বলেই আবার মেয়েটিকে কাছে টেনে নিল।'
রেখা ভাবল "মেয়েটা নির্ঘাত বড় সমস্যার মধ্যে আছে।"
আরো কত কিছু বকে যেতে লাগল সব কথাগুলো  স্পষ্ট হয়ে ধরা দিল না। 
রেখা মত ভাবছে না ওদের কথা এখন একটাই চিন্তা সে টোটো ,অটো যদি না পায় তাহলে কি করে বাড়ি যাবে?"
এমন সময় একটা অটো দেখতে পেল।
হ্যাঁ চেনা অটো ই  মনে হচ্ছে।
বীজন মনে হচ্ছে।
অটো তো রেখার দিকেই এগোচ্ছে ।রেখাও একটু এগিয়ে যাবার চেষ্টা করল।
"দিদি, উঠুন ,উঠুন।"
"আরে বিজন বাঁচিয়েছ ভাই ।কখন থেকে অপেক্ষা করছি জানো, একটা টোটো, বা  একটা অটো ও পাচ্ছি না ।যাও বা টোটো পেলাম ।তারা যাবে না কেউ।"
"আরে দিদি, যাবে কি করে আমাদের ওই দিকটা তো আজকে অবরোধ চলছিল এই উঠলো।"
"দাদা ,একটু সরে সরে বসুন দিদিকে জায়গা দিন।"
"দিদি কোথায় গিয়েছিলেন, এত রাত 
হল ।ভিজেও তো গেছেন।'
"আর ব'লো না আমাদের স্কুল থেকে প্রতিনিধিত্ব করতে হচ্ছিল কলেজে ।একটা প্রোগ্রাম ছিল সেখানে তো বড়দি আমাকে সিলেক্ট করে পাঠিয়েছেন ।সেই জন্যই তো দেরি হল।"
"বসতে খুবই অসুবিধা হচ্ছিল রেখার কিন্তু কিছু করার নেই যে।তেই হবে এভাবে।"
রেখার বিরক্তি সূচক অভিব্যক্তি বিজন আয়নাতে দেখতে পেয়ে বলল "দাদা, আপনারা একটু চেপে আসুন না ,মহিলা বসেছেন।"
বিজন এর বলাতে লোকগুলো একটু চেপে বসলো।
তবে কথা শোনাতে  ছাড়েনি বিজন কে।
"টোটো অটোতে তো এভাবেই বসতে হয় দাদা ।না হলে তো যাদের অসুবিধা হয় তারা প্রাইভেট কারে গেলেই পারেন?"
বিজন বলল "এভাবে বলবেন না ।সবাই প্রাইভেটকারে গেলে আমাদের কি হবে?,'
সবাই যদি একটু কম্প্রোমাইজ করে চলি তাহলেই তো হয়। চ"
ভদ্রলোক দুজনের  দুটো গালে চুন কালি লাগিয়ে দিল 
রেখাকে কিছু বলতে হলো না। রেখা শুধু মনে মনে ভাবল চেনা অটো অথবা টোটোতে  তো এটাই সুবিধা।
নামানোর সময় বিজন হাঁক দিলো' দাদা ,নামুন বুদ্ধ পার্ক এসে গেছেন।"
তখন মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
লোক দুটো নেমে যাওয়ার পর বিজন বলল "দিদি পোশাক আশাক দেখে ভদ্রলোক মনে হয় কিন্তু ভেতরটা দেখুন  কত ইতর শ্রেণীর।আমরা কোন ক্লাসে যেন পাঠ্য বইতে পড়েছিলাম  বিদ্যাসাগর মহাশয়ের এরকম একটা গল্প । শুধুমাত্র শিক্ষাদীক্ষা ,পোশাক-আশাক পড়লেই ভদ্রলোক হওয়া যায় না ম।নটাকে অনেক উন্নত করতে হয় শিক্ষা নাকি মানুষের ভেতরে চেতনা আনে।"
রেখা বলে কথাটা তুমি ঠিকই বলেছ প্রকৃত শিক্ষা কজন পায় বলো শুধু ডিগ্রি লাভ করলেই তো হয় না।
"হ্যাঁ দিদি আজকে এই সবকিছু বিচার হয় আমরা অটো চালাই টোটো চালাই। আমাদেরকে কেউ মানুষ বলে ভাবেই না ।আমরা হচ্ছি ছোটলোক।
কি বৃষ্টি শুরু হল দিদি দেখুন ।পর্দাটা চেপে ধরুন যেটুকু সামলানো যায় ।আমি দ্রুত টানার চেষ্টা করছি ঠি।"
ঠিক আছে বিজন ।তোমাকে অত তাড়াহুড়ো করতে হবে না ।তুমি দেখে চলো।"
বিজন তখনওবকবক করে চলেছে কিন্তু রেখার মনটা তখন চলে গেছে সেই স্টেশন চত্বরে মাঝ বয়সী লোকদের কান্ড-কারখানা দেখে মেয়েটাকে কি অসহায় মনে হল ।আসলে আমরা সবসময় যেন সত্যিই অসহায় ।কবে আমরা প্রকৃত মেরুদন্ড সোজা করে দাঁড়াতে পারবো কে 
জানে ?সমাজব্যবস্থার গভীরে তো অসুখ দানা বেঁধেছে  জানিনা মেয়েটা কি শেষ পর্যন্ত নিজেকে বাঁচাতে পারবে কে জানে?"
"দিদি , নামুন  এসে গেছেন।"
"ও আচ্ছা আচ্ছা এই নাও ভাড়া।"
"দিদি বেশি দিয়েছেন  আপনি বোধহয় ভুল করে দিয়েছেন এই নিন ফেরত নিন 
" ভুল করে দিই নি আমি ইচ্ছে করে দিয়েছি ওটা তুমি রাখো।"
"দিদি আমার ভারতেই হয় আমি কেন নেব?"
"আমিতো তোমাকে ইচ্ছে করে দিলাম,,। বললাম তো" তুমি বল তো কতবড় উপকারটা করেছো আমার। এই ঝড়ো হাওয়া আর বৃষ্টির সময় একটা টোটো ,অটো পাচ্ছিলাম না। তুমি আমাকে দেখতে পেয়ে আমার কাছে এলে তাহলে আমার উপকার করলে না বিজন ?
বিজন হেসে বলল "দিদি উপকার যখন করেছি উপকার টা  বিক্রি করতে চাই না.। আপনি রাখুন এটা।"
রেখা কেমন বোকা বনে গেলো। সত্যিই তো তাই আমরা উপকার এর মধ্যে দিয়ে নিজের অহংকার এ জাহির করতে চেয়েছি। ছি: ছি: ছি:নিজেকে খুব লজ্জিত বলে মনে হলো ।
"দিদি আসছি।"
মুখের ভাষা যেন আর বেরোলো না  একজন অটো ওয়ালা "ও রেখাকে শিক্ষা দিয়ে গেল সত্যিই তো আমাদের মতো ভদ্র শিক্ষিত সমাজ যারা আমরা নিজেদেরকে সবথেকে উচ্চ শ্রেণীর সভ্য মানুষ বলে অভিহিত করে থাখি। আদৌ কি আমরা  সত্যিই সেই পদমর্যাদার অধিকারী ? প্রায় ই প্রশ্ন জাগে মনে। রেখা অনেকক্ষণ অটোটা চলে যাবার পর তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতে লাগল ।ভিজে গেছে রেখা এমন সময় পার্থ হাঁক দিল "বৌদি একি এতো ভিজে গেছ।শরীর খারাপ হবে তখন কি দেখছিলে  আর কি ভাবছিলে?
রেখা জিজ্ঞেস করে তোমার দাদা ফিরেছে?"
" একটু আগেই ফিরেছে। তাও কতক্ষণ হবে 40 45 মিনিট হবে।'
"ও আচ্ছা।"
"মিলিরা খুব জ্বালাতন করেছে পার্থ না?"
" না ,না ওরা কিছু করেনি ।তবে কিছুটা একটু এদিক-ওদিক করছিল খুঁজছিল  আমরা এসে আদর করলাম তো তখন চুপ করে আছে। দেখুন দরজাটা খুলে দেখতে পাবেন। তাই।শাটার নামিয়ে দিলাম ভিজে যাচ্ছিল ।কিছুটা খোলা 
আছে ।কথার আওয়াজ পেলেই বেরিয়ে আসবে দেখুন না বলতে না বলতেই দুটো কিউকিউ আওয়াজ করতে লাগল। সঙ্গে তুতু ও বেরিয়ে আসলো ।রেখা বললো কি হয়েছে ?তারপর কলাপসিবলগেটটা খুলল।
"খোলার সঙ্গে সঙ্গেই তুতু ঘরে ঢুকে গেল।'
মনোজ তখন খেলা দেখছে টিভিতে বলল সব মিটলো তোমার।
 রেখা নল" তুমি একটাও ফোন করোনি কেন আমাকে?"
"অফিসের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম তারপর যখন সময় পেলাম তখন ভাবলাম হয়তো সে সময় কাজে ব্যস্ত থাকবে শুধু শুধু তোমাকে ডিস্টার্ব করা আর তাছাড়া আজকে আমার অফিসে প্রচুর কাজও ছিল। "
"তুমি তুতু কে ঘরে ঢোকাও নি কেনো?"
"ওকে ঢুকাতে হয় নিজের থেকেই,।কাছে আসলো না। মনোজ বলল 'ঠিক আছে,,,। তুমি ফ্রেশ হয়ে এসো।"
 "আমি চা করছি। তারপর দুজনে মিলে আড্ডা দেবো।"

কবি মিতা নূর এর কবিতা "খুব ভালোবাসি' কালো টিপ "




খুব ভালোবাসি' কালো টিপ 


 মিতা নূর   



চোখের সমুদ্র নোনাজলের ভাসাস্বরে বলি,
শত'শত  ব্যাথার ঢেউ বুকের ভেতর  বয়ে গেলেও, 
আমি-সারাজীবনই তোমার পাশেই আছি"
সমুদ্রের গাঙচিল হয়ে।
ডানা ভাঙা পাখির মতো ছটফট করে মরি! 
তবু চাই দূর থেকেই আকড়ে ধরে রাখতে,  তুমি জানো.?
আমার এই ছোট্ট বুকের চিলেকোঠায়, 
তোমাকে অনুভব করতেই, 
তোমার নিঃশ্বাসে শিউরে ওঠে আমার শরীর।
তোমার ঠোঁটের শব্দ ছোঁয়া পাগল করে দেয় আমাকে। 
তুমি চলে গেছো যতটা  চোখের সীমানার বাহিরে, 
ঠিক ততটা মনের গভীরে  আছো!
দূরে গিয়েও কতটা কাছে মিশে আছো এখনো। 
তুমি শুধু আমার রাগ টাই দেখতে পেলে,
ভালোবাসা নয়!  
তুমি বুঝতে পারো?  
এই রাগের দৃষ্টিতে ছিল তোমাকে হারিয়ে ফেলার ভয়!
তুমি কখনো বুঝোনি,  হয়তো বুঝেও না বুঝার ভান করে ছিলে। 
তুমিই আমার খুব কাছের, খুব'আপন একজন"
তোমার কাছে বেশি কিছু চাইনি তো...! 
যেটুকু পেলে  একটু স্বস্তি ফিরে পাওয়া যায়, 
সেটুকুই আমি চেয়ে ছিলাম, 
যেটুকু পেলে হাতের আঙুলের শূন্যস্থান পুরন করা যায়। 
সেটুকুই আমি চেয়েছি...!
আমার শুকনো মরুর মাঝে, বর্ষার প্রথম জলের মতন তুমি ছিলে। 
আমি তোমাকেই চেয়ে ছিলাম-চাই,
দৃষ্টিহীন এই আমি, তোমার চোখেই  আমার পৃথিবী দেখতে  চেয়ে ছিলাম। 
তুমি জানো না.? 
আজ তোমার এই  দূরত্ব, আমাকে তোমার আরো খুব কাছে টেনে নিয়েছি।
আমি আজন্মকাল আছি অপেক্ষায়, তোমার মনের চৌকাঠে, 
হোকনা বুকের ভেতর পাহাড় কষ্ট...! 
তবু মনের ভিতরে অভিমানের মেঘ,আর- মুখে একগাল হাসি নিয়ে বলবো'
ভালোবাসি তোমায়, খুব ভালোবাসি কালো টিপ।  
হুমম,এটাই সত্যি !! 

কবি দুর্গাদাস মিদ্যা এর কবিতা "তবুও"




তবুও


দুর্গাদাস মিদ্যা



গভীর এক সত্যতায় জীবন ছুটে যায়
দিন থেকে দিনান্তের  প্রান্তসীমায়। 
ছায়াছবির মতো কত মানুষের আনাগোনা। 
কেউ অচেনা থেকে যায় কেউ চেনা হয়ে থাকে বন্ধুর মতন। 
ক্রমন্বয়ে কত ছায়া কত রোদ
ঘুরপাক খায়, কখনো সখনো
বিধ্বংসী ঝড়ে তছনছ হয়ে যায় সব 
তবুও জায়মান থাকে জীবন- উৎসব। 

বাবুল চৌধুরী এর কবিতা "অকস্মাৎ !"





অকস্মাৎ !

বাবুল চৌধুরী


তেমার জন্ম হঠাৎ সুখের দৈবক্রমে 
আমার জন্ম অপ্রয়োজনে অকস্মাৎ।

ঘুনেধরা সময়ের খোলস জীবনে
দৈবাৎ বেঁচে থাকার উপলব্ধ আপোষ।
রোজনামচার হালখাতায় প্রক্ষেপিত সংযোজন,
আমরণ বেঁচে থাকবার
নতুন নুতন ক্ষোভ আক্ষেপ।

দীপ্যমান স্বল্পায়ু সুখের উচ্ছাসে 
পালাক্রমে সুখ আসে দুঃখের বিমূর্ত অবকাশে, ঘুচে যায় আনন্দ আবেশ।
স্মৃতিরা উদ্বেলিত বিস্মৃতির দেয়াল ঘেঁষে,
মূর্ছণার তার ছেড়ে তেল নুনের 
পরবাস্তব প্রয়োজনে। 

অফুরান আকাঙ্ক্ষারা হেরে যায় 
মহাকৃপণ সময়ের সল্পতার দানে।
যা পেয়েছি মহাকালের উচ্ছিষ্ট সময়ের সামান্য নিমেষ,
সহসাই উবে যায় সীমাহীন শূন্যতায়।

দিশাহীন মোহাবৃত লোভাতুর ইচ্ছেরা 
অকারণ অহমিকার প্রগল্ভতায় পুড়ে যায় 
যেন উনুনের ছাই।
নিজকে বিলিয়ে দিয়ে 
না পাবার মিথ্যা ক্ষেদে হুতাসিত প্রাণ 
হতাসাবৃত উঁইপোকার ঢিবি যেমন।

সবই গেল বিফলে অকারণে 
না থাকে তার কোনো অবশেষ,
আচমকাই জ্বলেছিল যে আলো 
তবুও কাটেনি সেই আঁধারের নুন্যতম রেশ....
কালের ঢেউয়ে মিশে পিচাশ সময় গুলো
আলোয়ার পিছে ছুটে চলে,
অকালে কর্পূরমিশ্রিত সময় ফুরিয়ে যায়,
দৈবাৎ কখনো এসে নির্মম সত্যের হেমলক করে পান।
সব কিছু ছেড়ে ছুড়ে
সব কিছু ফেলে দিয়ে 
অকস্মাৎ চলে যাওয়া......।

         ........অধোমক্তি ।
         

কবি ফারজানা পরী  এর কবিতা "নিজেকে পেরিয়ে





নিজেকে পেরিয়ে 

 ফারজানা পরী 


চোখ ভাঙা ঘুমে তোমার মুখ আঁকছি রোজ 
তুমি এসে দরজায় দাঁড়ালে হয় কবিতার ভোর
অথচ স্বপ্ন ভেঙে গেলে বুঝি তুমি কতটা নিখোঁজ। 
তবুও ক্লান্ত মনে প্রেমের প্রদীপ পুড়ি নিঝুম নিশিথে
অবগাহন করি ব্যথার সমুদ্রে... 
আরও মুগ্ধ হই নিজেকে পেরিয়ে
দেখি তোমার নীল চোখের মায়া আমার লজ্জার আবরণ খুলছে জলন্ত ঠোঁটের নোনা চুম্বনে। 

আমি দ্বিধা সংকোচ ভুলে গিয়ে গলতে গলতে বিলীন হই তোমার ভিতরে।

কবি জাবেদ আহমেদ এর কবিতা "পাগল না"





পাগল না

জাবেদ আহমেদ 



জানি দুশমন
জামানা, 
তবুও তোমাকে
যাবেনা ভুলা,
তুমিহীন জীবন কি
বুঝিনা গো,

 ভাগ্য গুণে মিলেছিলে
হারিয়ে ও ভুলিনি গো,

যখনতখন সাথে গো
অনুভূতি তোমার,

মন পাগল আমার
মান্নত তুমি আমার
আমার খোদার কাছে,

শ্বাস আমার জীবন গো
আমার জিহাদ কসম
তুমি গো পাগল মন,

নিঃস্ব হবো লুন্ঠিত হবো
সর্বহারা খুঁজে তোমায়।

১৯ জুলাই ২০২২

কবি হুমায়ূন কবীর মিঠু এর কবিতা  "প্রেমের কথোপকথন"




প্রেমের কথোপকথন

হুমায়ূন কবীর মিঠু 


তোমাকে ছুঁয়ে থাকার সাধ
আমার আজন্ম লালিত, 
লতা গুল্মের মতো বেয়ে বেয়ে
এক পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়েছে
হৃদয় গহীনে।
কী এক অপার্থিব চাওয়া
পূর্ণগ্রাস করেছে অন্তর! 
নিরন্তর যাপিত জীবনের 
এক অলৌকিক মহাকাব্য।
তোমাতে হারিয়েছি সেই কবে  কখন!!
এখন শুধুই মনের আলপনাতে জলচ্ছবি মুখর 
ভালবাসার ক্যানভাসে
প্রেমরঙের কথোপকথন।
বৈষ্ণবী এঁকেছিল কন্ঠনালিতে তিলক!!
আর তুমি আমার স্ব-তৃষিত ওষ্ঠে পঞ্চমীর চাঁদ,
আমি না হয় একটি জনম
বৈষ্ণব হয়ে রই...
তবু ভরবে না মন ভালবাসা যে এমনই--
ঐ যে তিলক তোমার সেথা শত সহস্র আমার ভালবাসা বিনির্মাণ!
আমি অবলীলায় বলি তুমি আমার তিলক প্রিয় তিলোত্তমা, 
আমার সারাবেলা।।
প্রিয়তমা আমার মনহারা, ভালবাসি তোমায় 
তোমায় মনহারা মন না মানা বাঁধনছাড়া প্রেমে!!
আনমনা ছন্নছাড়াতে তুমি বেশ!
আদুরে তোমার কপল গলের  তিলক ছন্দের বহমান প্রেমেই আর এক জনম আমি না হয় রই বৈষ্ণবধরা!!
তুমি প্রেমিকা আমার মৌন তারা!
তুমি প্রেমময় প্রেমের ধারা।।
আবহমান আমি তোমার সেই সঙ্গধারা!!
প্রেম তোমার! 
তুমি আমার! 
প্রেমিক তোমার!
আমি তোমার!
মনময়না পাখি আমার!
মনপাখি ময়না আমার!
ভালবাসি তোমায়!
ভালবাসি তোমায়!