২১ ডিসেম্বর ২০২১

কবি নূরজাহান শিল্পী ( ইংল্যান্ড ) র কবিতা





স্বপ্নের পৃথিবী জাগাই
নূরজাহান শিল্পী
( ইংল্যান্ড ) 



নিজদেশে পরবাসী অস্থির ,
মুক্তির স্বাদ পেতে উম্মুখ সতের কোটি আজ ।
নিপাত যাক  পশুত্বের আবাদ ,
দেশ নিয়ে যারা করে রক্তের চাষাবাদ ।
বায়ান্নোতে রক্ত দিয়ে জাতি কিনলো মুখের ভাষা ।
সেই ভাষাতে সত্য বলায় প্রাণ হারালো  আবরার ।
পরাধীনতার শিকল ভেঙে ,
ভোরের পাখিটা যাক উড়ে।
আকাশ খাঁচায় সোনালী রোদ্দুরে।
অসাম্যের বিরুদ্ধে জাগুক প্রতিবাদী সুর ।
চাইনা আজ প্রভাত ফেরির গান।
শহীদ মিনারে ফুলের সমাহার ।
তার পাশে দেখো উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে থাকা কিছু প্রাণ ,
চাই যে তাদের বাঁচার মৌলিক অধিকার।

আহবান করি জেগে উঠো বীর ।
কালের সাক্ষী হয়ে বলিষ্ট কণ্ঠের।
আবার হোক ধ্বনী উচ্চারন ।
এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম ,
এবারের সংগ্রাম আমাদের বাঁচার সংগ্রাম ।
অগ্নিকান্ড ,ছেলেধরা ,নুসরাত হত্যা ।
নেই আজ কোথাও নিরাপত্তা ।
পেঁয়াজ ,লবন ,সড়ক পরিবহন আইন ।
বুলবুল ,ক্যাসিনো ,ধর্ষন ।
তাজা খবরে ভরপুর আকর্ষন ।
জাতিকে বানিয়ে বোকা ,
লাল সবুজের ভূখণ্ডে চলছে ধোঁকা ।
নতুন সূর্যের হোক দেদীপ্যমান সোনালী  উদয়।
 সাম্যের পরমানন্দে জাগুক হৃদয়।
স্বপ্নের পৃথিবীকে জাগাই প্রিয় পংক্তিমালায়..

মাহমুদা রহমান /যুক্তরাষ্ট্র নিউ ইউর্ক




স্বপ্ন বিলাস
মাহমুদা রহমান 




বেচে আছি নিজেস্ব জগতে যতদিন বাচা যায় !
জীবনের দিনরাত্রি কখনো মনে হয় অনুপম খাচায় !
বড়ো সাধে ঘর সাজাই পূর্নিমার চাদ দিয়ে 
তোমার এ পৃথিবী সাজাবো আমাকে ঘিরে !
অতি যত্নে পরিপাটি এই কক্ষ গৃহদ্বার 
গড়েছি কত শ্রম ঘামে এখন করছি চাষাবাদ !
কিন্তু শূন্য বিবর্ণ ধূসর মাঠ সমস্ত নিষ্ফল ,
বিনা দোষে এ জীবন ধূ ধূ কাটাবন !
নিজেই নিজের হাতে গড়েছি স্বপ্ন নিবাস 
সাজানো ফুলের টবে না ঠোকে কালসাপ !

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৩৬





শায়লা শিহাব কথন

অলিখিত শর্ত( পর্ব ৩৬)

শামীমা আহমেদ 



সারাদিন শায়লার আর কোন খবর পাওয়া হলো না। সন্ধ্যায় কল দিয়েও ফোন রিসিভ না করাতে শায়লার শারীরিক অবস্থাটা জানা হলো না। একরাশ দুশ্চিন্তা নিয়ে শিহাব বিছানায় গেলো। সারাদিন ভীষণ অস্বস্তিতে কেটেছে। আজ যতকিছু পূর্ব নির্ধারিত এপয়েন্টমেন্ট ছিল শিহাব সব ক্যান্সেল করে দিয়েছিল। শায়লার এমন অবস্থায় শিহাব কোন দিকেই যাবে না।
আরো কয়েকবার কল করেও শায়লার ফোনটা বন্ধ পাওয়া গেলো আর সেটাই স্বাভাবিক। অসুস্থ রোগীর ফোন বন্ধ রাখাই উচিত।শিহাবের বেশ অস্থির লাগছিল। কবে সবকিছু স্বাভাবিক হবে।একটু শায়লার সাথে কথা বলা যাবে।বুঝিয়ে বলা যাবে, তুমি যা ভেবে এতটা আকুল হয়েছো তা তোমার বুঝবার ভুল। এমনি  নানান ভাবনায় শিহাবের দু'চোখ বুজে এলো। কখন যেন মনের অজান্তে ঘুমিয়ে গেলো। 
সকালের রাউন্ডে এসে ডক্টররা জানালেন রোগী এখন বেশ স্টেবল।প্রেসার পালস হার্টবিট নরমালে আছে। শারীরিক সবকিছু স্বাভাবিক
চলছে।  ঘুম খাওয়া স্বাভাবিক হয়েছে।ডক্টর  জানালেন  স্যালাইনটা শেষ হলেই চাইলে আজ দুপুরে বাসায় নিয়ে যেতে পারেন।
রাহাত বাধভাঙা আনন্দে ভেঙে পড়লো। আপুকে বাসায় নিয়ে ফিরবে এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে! মা ও ভীষণ খুশি! সকালে রাহাত কেবিনে এসে শায়লার ফোনটা চার্জে দিয়ে রেখেছিল। এখন ফোনটা হাতে তুলে নিলো আর ইচ্ছে করেই শায়লার সামনে শিহাবকে কল দিলো। বেশ উচ্চস্বরেই কথা বললো, শিহাব ভাইয়া আপু আজ মাশাল্লাহ  বেশ সুস্থ। আমরা আজ দুপুরেই হাস্পাতাল ছাড়ছি।
শিহাব অফিসে যাওয়ার  জন্য তৈরি হচ্ছিল।খবরটা পেয়ে যেন অনেকটাই মনটা শান্ত হলো। তবুও শায়লার সাথে দেখা করার অপেক্ষায় রইল। শিহাবের সাথে কথা বলার সময় রাহাত শায়লার মুখের অভিব্যক্তিটা বুঝে নিলো।ডাক্তারের পরামর্শ মত রাহাত এখন থেকেই আপুর সাইকোলজিক্যাল বিষয়গুলো খেয়াল করছে।রাহাত  ওর এক বন্ধুকে কল দিয়ে হাসপাতাল রিলিজের কথা জানালো। বন্ধু জানালো গাড়ি পাঠিয়ে দিবে  ওরা যেন এম্বুল্যান্স না নেয়। মাকে সবকিছু গুছিয়ে নিতে বলে রাহাত বিল সেকশনে গেলো। হাসপাতালের সব  রকম প্রসেস মত বিল চুকিয়ে কেবিনে আসতে রাহাতের প্রায় সাড়ে বারোটা বেজে গেলো। রাহাত রুহি খালাকে জানিয়ে দিল আজ আর হাসপাতালে খাবার না পাঠাতে। আমরা সবাই বাসায় ফিরছি আর বাসায় ফিরেই  দুপুরের খাবার খাবো।
মা আর শায়লাকে নিয়ে রাহাত ব্যাগপত্র গাড়ির ব্যাকডালায় দিয়ে রাহাত গাড়িতে উঠল। ড্রাইভারকে জানালো আগেই বাসায় নয় গাড়িটা একটু এয়ারপোর্টের দিক থেকে ঘুরিয়ে আনুন। এখুনি বাসায় যেতে মন চাইছে না। মা আর শায়লা বেশ খুশি হলো! 
আসলে রাহাত চাইছে আপুর ভেতরের দুশ্চিন্তাগুলো নিয়ে যেন আবার বাসায় না ঢুকে।যতটা মাথা থেকে তা ঝেড়ে ফেলা যায়। 

আর কাউকে দিয়ে নয়, রাহাত ভাবলো সে নিজেই আপুর সাথে ফ্রিলি সব কথা বলবে, শিহাবের ব্যাপারে জানতে চাইবে। আপু নিশ্চয়ই সব খুলে বলবে। তারপর দ্রুতই কানাডার প্রসেসটা শুরু করতে হবে।
বাসায় ফিরে শায়লা বেশ ভালো অনুভব করছে। রাহাত আপুর দিকে খুব তীক্ষ্ণ  দৃষ্টি রাখছে। আপাততঃ আপুর হাতে ফোনটা দেয়া যাবে না। ফোনের কথায় আবার আবেগাপ্লুত হয়ে যেতে পারে বা অন্যরকম কোন মানসিক আঘাত আসতে পারে। রাহাতের মনে একটা বিষয়  ঘুরপাক খাচ্ছে। কে এই শিহাব? তার সম্পর্কে  জানতে হবে। রাহাত শায়লার ফোন থেকে শিহাবের নম্বরটা
টুকে নিলো।
দুপুরে মা ও রুহি খালা বেশ যত্ন করে শায়লাকে খাবার খাওয়ালো। রাহাত মাকে আগেই জানিয়ে রেখেছে  আপাতত আপুকে নিজের ঘরে একা যেতে দিবে না। মায়ের ঘরে আজ রাতটা থাকবে। তাছাড়া শায়লার ঘরের দরজার লকটা সেদিন ভাঙা হয়েছিল।সেটাও ঠিক করাতে হবে। সাথে একটা ছোট্ট এসি লাগয়ে দিতে হবে।সেদিন আপু কেমন করে ঘেমেছিল!কতটা অস্থিরতায় না যেন কষ্ট পেয়েছে। 
শায়লা মায়ের ঘরে ঢুকলো। 
বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো। ঘুমের ঔষধের প্রভাব এখনো আছে। শায়লা মায়ের বিছানার কাছে গেলো।অনেকদিন পর আজ এই ঘরে ঘুমাচ্ছে।বিয়ের পর থেকে একা একা একটি রুমে থেকেছে।শায়লা ভাবলো,আমরাতো জানি মানুষ  বিয়ের পর দুজন হয়,একা থাকার দিন শেষ হয়।তার জীবনে উল্টো  হলো। বিয়ের পরই মায়ের ঘর ছেড়ে  নিজের ঘরে একা হয়ে গেলো। এমনটি ভাবতেই তার শিহাবের কথা মনে পড়ে গেলো।না, সেতো একা ছিল না।তার সাথে শিহাব ছিল। নাহ! আর শিহাবকে নিয়ে ভাবা যাবে না। সেতো আমার একটা খোঁজও নিলো না।আমিতো প্রায় মরেই যাচ্ছিলাম।আমাকে একটু দেখতেও এলোনা। শিহাবের কথা মনে হতেই ভেতর থেকে একটা চাপা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এলো। শায়লা মায়ের বিছানায় ঘুমিয়ে পড়লো।
রাহাত আর মা একসাথে দুপুরের খাবার খেতে বসলো। সাথে রাহাত শায়লাকে নিয়ে মাকে প্রাসঙ্গিক কিছু কথা জানিয়ে রাখল। 
মা যেন শায়লার দিকে সার্বক্ষণিক খেয়াল রাখে। যদিও শিহাবের কথাটা মাকে জানালো না। রাহাত বিষয়টি নিয়ে ভীষণ চিন্তামগ্ন হলো। বুঝাই যাচ্ছে শায়লা আপু কোন দ্বন্দের ভিতর দিয়ে যাচ্ছে। 
খাবার খেয়ে রাহাত নিজের রুমে চলে এলো। সারাক্ষনই ভাবছে  আপুর সাথে কিভাবে কথা বলা শুরু করবে। তবে আজ থেকেই নয়। আগে শিহাব সাহেবের সাথে পরিচিত হতে হবে।লোকটি কেমন সেটা জাজ করে আপুর কথা শুনতে হবে।মেয়েদের পক্ষে একটা ছেলের সবদিক বুঝে ওঠা সম্ভব নয়। মেয়েদের কাছে তারা শুধু ভালোটাই দেখায়।আর খারাপ দিকটি আড়াল করে রাখে।কোমলমতি মেয়েরা সেটা ধরতেই পারে না।এইজন্য মেয়েরা প্রতারিত হয় বেশী। নিশ্চয়ই আপু শিহাব সাহেব থেকে এমন কোন ভাবে প্রতারিত হয়েছে। রাহাত আর কৌতুহল  দমিয়ে রাখতে পারছে না।তাছাড়া আপুর খবরটাও তো দিতে হবে। রাহাত নিজের ফোন থেকে শিহাবকে কল করলো। একবার দুবার পূর্ন রিং হয়ে থেমে গেলো। কি ব্যাপার ফোনটা রিসিভ করলো না কেন? অবশ্য হতে পারে আননোন নাম্বার তাই রিসিভ করলো না।কিন্তু ছেলে মানুষরা কি আর আননোন 
নাম্বারকে ভয় পায়? শিহাবকে নিয়ে নানান জল্পনা কল্পনায় ডুবে রইল রাহাত। আবার উল্টো করেও ভাবছে শিহাবকে নিয়ে, আচ্ছা এমনও তো হতে পারে শিহাবসাহেব লোকটি খুবই ভাল। নয়তো কি আর আপু তার সাথে পরিচিত হতো? আসলে খুব তড়িঘড়ি করে আপুর বিয়েটা হয়ে যায়।আগপিছ না ভেবে। অবশ্য তখন কি আপুর শিহাব সাহেবকে চেনা ছিল? তাহলে কেন বলেনি। তাহলে এত দূরদেশে আপুকে বিয়ে দিতে হতোনা। আজ আর এত জটিলতাও  হতো না।কি জানি সব কেমন ঘোলাটে লাগছে। শায়লা আপুর মত মেয়েরা আজো মুখ ফুটে নিজের পছন্দের কথা বলতে পারে না। আপুর সাথে যে একবার মিশবে আপুকে পছন্দ না করে থাকতেই পারবে না।হঠাৎই শিহাবের নাম্বার থেকে কল ব্যাক হলো।
রাহাত ধরতেই শিহাব জানতে চাইল কে বলছেন? দুঃখিত আমি বাইক চালাচ্ছিলাম।তাই কলটি ধরতে পারিনি।কে বলছেন? 
রাহাত জানালো, আমি রাহাত। শায়লা আপুর ছোট ভাই।আপনার সাথে দুবার কথা হয়েছে।এটা আমার নাম্বার।আপুর ফোনটা আপাতত বন্ধ রয়েছে।
শিহাব জানতে চাইল, শায়লা এখন কেমন আছে?
ভালো। দুপুরের খাবার খেয়ে ঘুমিয়েছে। 
বেশ ভালো। ওর রেস্ট প্রয়োজন। 
রাহাত জানতে চাইল, আচ্ছা আমি যদি আপনাকে মাঝে মাঝে কল করি কিছু মনে করবেন নাতো?
আরে নাহ! কেন মনে করবো? যখন ইচ্ছে কল করবেন। আচ্ছা ভাইয়া, আমি রোড সাইডে বাইক থামিয়ে কথা বলছি।আমাকে একটু গাজীপুরের দিকে যেতে হবে।  যদি,,
ওহ! শিওর।  
শিহাব বাইকে স্টার্ট দিল। রাহাত নিজেও একটু  বিশ্রাম নেয়ার জন্য চোখটা বন্ধ করলো। 



চলবে....

মোঃ হা‌বিবুর রহমান /১০তম পর্ব





ইউএন মিশ‌নে হাইতি‌তে গমন
১০তম পর্ব

আবাসস্হ‌লে যে‌য়ে প্রথ‌মে একটু হোছটই খেলাম, শারী‌রিকভা‌বে না হ‌'লেও মান‌সিকভা‌বে কিছুটা বিপর্যস্হ‌তো হ'লামই ব‌টে। তাই এমূহু‌র্তে কিছু না ব‌'লে ‌ঠিক থাক‌তে পার‌ছিনা। আশা যেখা‌নে গগনচুম্বী- পাওয়াটা য‌‌দি হয় তার খা‌নিকটাও কম‌, সেখা‌নেই‌ জ‌ন্মে নিরাশা আর না পাওয়ার যন্ত্রনা, আর তখনই অতৃ‌প্তি‌তে ভো‌গে মানুষ না পাওয়ার বেদনায় আর এই ফাকে টুক ক‌'রে শয়তান‌টি এসে বার বার দেয় ম‌নে তখ‌নি কুমন্ত্রনা। ঠিক যেন এমন‌টি ঘ‌'টে‌ছি‌লো আমার সে‌দিন ম‌নের গভী‌রে, আশাহত হ‌'য়ে নিজ পাওনাটা না পে‌য়ে যথামূহুর্তে-যথাস্হা‌নে।

সাতাশটি বছর আগে ভাবুন‌তো, আমরা গেছি কত শত পাহাড়-

পর্বত, সাগর-নদী, বন-জঙ্গল, শহর-বন্দর আর রাজ্য-মহারাজ্য পেরিয়ে তাও আবার কল্পনার রা‌জ্যে, বলা য‌ায় রূপকথার সেই দে‌শে আর যে দে‌শে স্বশরী‌রে হা‌জির হ‌'য়ে একজন বাঙালী হি‌সে‌বে থাকা খাওয়ার ব্যাপা‌রে তার বাড়‌তি কি ধর‌নের উচ্চাকাঙ্খা থাক‌তে পা‌রে তা সহ‌জেই অনু‌মেয়। থাকার জায়গাটা প্রথম দর্শ‌নে‌ই মনটা যেন পাথ‌রের মত ভারী ক‌'রে দি‌লো। ডবল ডেকার সাই‌জের দোতলা খাট, যেন ম‌নে হ‌'লো দ্বিতীয় মহাযু‌‌দ্ধের কোন একটা ‌সি‌নেমার দৃ‌শ্যের হুবহু চিত্র বু‌ঝি পূনরাবৃ‌ত্তি হ‌'য়ে চো‌খের সাম‌নে এ‌সে জীবন্তভা‌বে ধরা দি‌চ্ছে। 

এখন বিষয়‌টি হ‌লো কে দোতলায় থাক‌বে আর কেবা নীচ তলায়? দীর্ঘ পনের দি‌নের বসবা‌সের মামলা ব‌'লে কথা, এ‌কেবা‌রে নেহা‌য়েতই এটা কিন্তু কম সময় নয়। আস‌লে কোনো সমস্যাই কিন্তু সমস্যা নয়, সমস্যা ম‌নে ক'র‌লেই সমস্যা। যাক, এ সমস্যা মূহু‌র্তের ম‌ধ্যেই সমাধান হ‌'য়ে গেলো। সেনাবা‌হিনীর চাকরীর বু‌ঝি এই একটাই মজা! এ মূহু‌র্তে আমার ঐ ক্যা‌প্টেন পদবীর প্রিয় জ‌ুনিয়ার অ‌ফিসা‌রটি প্রকৃতপ‌ক্ষে কে ছিল সে কথাটি ঠিক আজ আর ম‌নে নেই। সে‌দিন সেই সহৃদয় ‌প্রিয় ক্যা‌প্টেন পদবীর অ‌ফিসার‌টি এ‌সে ব'ল‌লো স্যার,"আ‌মি দোতলায় থাক‌বো"। যাক মুশকিল আসান হ‌লো কিন্তু মনটা বেশ খারাপ লাগ‌তে লাগ‌লো এ‌ই ভে‌বে যে, আ‌মি না হয় নী‌চে থাকলাম কিন্তু আমার জু‌নিয়ার অ‌ফিসার‌টি ‌তো ঠিকই কষ্ট পা‌বে।

‌লো‌কে আমা‌দের দেশ‌কে গরীব দেশ ব‌লে কিন্তু আমা‌দের মনটা অ‌নেক বড়, বিশাল যেন সমু‌দ্রের মত। আমি যখন ১৯৮৫ সা‌লে স‌বেমাত্র নতুন ক‌মিশন পে‌য়ে কু‌মিল্লা ‌সেনা‌নিবাসে ২ লেঃ হি‌সে‌বে যোগদান ক‌'রে‌ছিলাম তখন এধর‌নের ফৌ‌জি খাট-পালঙ্ক মাস দু-তি‌নেকের জন্য মাত্র দে‌খে‌ছিলাম কিন্তু তারপর আর এগু‌লো চো‌খে প‌ড়েনি। এরা এত বড় উন্নত দে‌শের সেনাব‌াহিনীর লোকজন তারপরও বু‌ঝি এর মায়া এখনও ছাড়‌তে পা‌রে‌নি, এর কি রহস্য আর এ‌তে কিইবা মহত্ব আ‌ছে আল্লাহ মাবুদই ভাল জা‌নেন আর বু‌ঝি ওরাই শুধুই জা‌নে? যাক, যে‌ কোন জি‌নি‌সের ভাল মন্দতো ‌নিঃশ্চয়ই থাক‌বে বৈ‌কি ?

লা‌গেজ ভ্যা‌নে আমা‌দের লা‌গেজ ও অন্যান্য ব্যবহা‌রিক সরঞ্জামাদী আস‌তে বেশ  বিলম্ব হ‌ওয়ায় আমরা কিছুটা দেরী‌তে বিছানায় গি‌য়ে‌ছিলাম ঘু‌মো‌তে সে‌দিন রা‌তে। আস‌লে সে‌দিন রা‌তে বাংলায় যেটা‌কে ব‌লে বা‌রোটা বাজা, সত্যিই আমা‌দের সবার ঘু‌মের বা‌রোটাই বে‌জে গিয়ে‌ছি‌লো। অ‌নেকগু‌লো বাস্তব ও অনীবার্য কার‌ণেই সে‌দিন এ হাল-অবস্হার সৃ‌ষ্টি হ‌'য়ে‌ছি‌লো আর‌কি! 

এ‌কে‌তো লা‌গেজ দেরী‌তে আসা, খাওয়া-দাওয়ার একটা ভাল রক‌মের অ‌নিয়ম, আবার অন্যদি‌কে প‌রিবা‌রের অ‌তি আপনজন‌দের থে‌কে হঠাৎ ক‌'রেই এক ধর‌নের সাম‌য়িক বি‌চ্ছেদের কার‌ণেই মনটা বড্ডই খারাপ ছি‌লো যার দরূন ঘ‌টিত সবগু‌লো সমস্যা একসা‌থে ও এক‌যো‌গে যৌথ প্র‌চেষ্টায় দে‌হের স্নায়ু‌কেন্দ্র‌কে সর্বদা সচল ও সবল রাখায় একবা‌রে মোরগবাগ পর্যন্ত আমা‌দের‌কে আর মো‌টের উপ‌রেই চোখ বন্ধ ক'র‌তে দেয়‌নি।

ওহ, ঘুমের বা‌রোটা বাজার অন্যতম মজার কারণ‌টি এখন পর্যন্ত‌ তো বলাই হয়‌নি। আপনারা কি একটু মালুম ক'র‌তে পার‌ছেন ব্যাপারটা আস‌লে কি ঘ'ট‌তে পা‌রে? আসলে ঐ যে দোতালা খাটই এর জন্য দায়ী। খা‌টের উপ‌রে কেউ য‌দি মুড়ামু‌ড়ি ক‌'রে তাহ‌লে নীচ তলার লোক‌‌টি কি শান্তি‌তে ঘুমা‌তে পা‌রে? সবাই‌তো আমরা মানুষ তাই আমার যা হাল হ‌'য়ে‌ছি‌লো উপর তলার ব্য‌ক্তিরও বু‌ঝি একই হাল হ‌য়ে‌ছি‌লো কারণ আ‌মি তাকে সারারাত ধ‌রে বিছানায় এ‌দিক-ও‌দিক অসম‌য়ে নড়ান‌ড়ি-গড়াগ‌ড়ি ও মড়-মড় শ‌ব্দ করা শু‌নে অ‌তি সহজেই বু‌ঝে গিয়ে‌ছিলাম যে, সে বেচারাও আমার মত একই প‌থের প‌থিক এবং একইরূ‌পে সমভা‌বে ভূক্ত‌ভোগী। সকা‌লে উ‌ঠে আমার উপর তলার বা‌সিন্দা‌কে আমি জিজ্ঞাসা করার আ‌গেই সে আগ বা‌ড়ি‌য়ে বল‌লো, "স্যার, গতকাল রা‌তে আমার এক মূহু‌র্তের জ‌ন্যে এক ছটাক প‌রিমাণও ঘুম হয়‌নি"।

যা‌হোক, সু‌বেহ্ সা‌দে‌কের সময় বিছানা থে‌কে উ‌ঠে প্রাতঃক্রিয়া সারার‌ জন্য টয়‌লে‌টে গেলাম। এ আরেক জঞ্জাল স্হান ব‌'লে আমার মনের ভিতর প্রতীয়মান হওয়ায় পো‌র্টো‌রি‌কো তথা ক্যাম্প সা‌ন্টিয়া‌গো সম্ব‌ন্ধে আ‌স্তে আ‌স্তে বা‌জে ধারণার সৃ‌ষ্টি হ‌'তে লাগলো। প্রথমতঃ অ‌ফিসার‌দের জন্য আলাদা কে‌ান বাথরুম বা টয়‌লেট কোন‌টির‌ ব্যবস্হাতো নেই-ই তার সা‌থে বাথরুম আর টয়‌লে‌টেরে চরম বেহাল দে‌খে যেন দ‌ুঃখে-ক‌ষ্টে মনটা একবা‌রে বিষন্নতায় ভ‌রে গে‌লো। নি‌জের চোখে এর করুণ হাল দে‌খে মন‌কেও যেন মানা‌তে পার‌ছিলাম না। 

আজব জায়গায় আল্লার আজব চিজরা যেন এখা‌নে বাস ক‌রে। হয়তবা এটাই তা‌দের কৃ‌স্টি, এটাই সভ্যতা ও এটাই বু‌ঝি তা‌দের রী‌তি। আস‌লে তা‌দের কোন দোষ নেই। টয়‌লে‌টের দরজার নী‌চে দশ ই‌ঞ্চি প‌রিমান ফাক। "প্রাত‌ঃক্রিয়া সম্পন্ন করার সময় পা‌শের টয়‌লে‌টের/বাথরূ‌মের দুই প্র‌তি‌বেশীর ম‌ধ্যে পরস্প‌রের ক‌থোপকথন বা গল্প কর‌ার জন্যই বু‌ঝি এই ব্যবস্হা"। 

মজার ব্যাপার হ‌লো টয়‌লে‌টের উপ‌রিভাগও ম্যানহাইট পর্যন্ত উঁচু করা হ‌'য়ে‌ছে বা এটার উদ্ভব হ‌'য়ে‌ছে বোধ ক‌'রি সব ধর‌নের সা‌পো‌গেশন এড়া‌নোর জন্যই।  আবার একই কায়দায় বাথরুম বা গোসলখানাগু‌লোও তৈরী করা হ‌'য়ে‌ছে যেন একজন পাতলা মানুষ বা তাল পাতার সেপাই শুধুমাত্র কোনভা‌বে ভিত‌রে দাঁ‌ড়ি‌য়ে স্নানকার্য সমাপন ক'র‌তে পা‌রে। কিন্তু ভাবুন‌তো তাহ‌লে ডবল ডেকার সাই‌জ বা ভীম‌াকৃতির একজন মানু‌ষের বেলায় তার হাল কি হ‌'তে পা‌রে?

ম‌নে ম‌নে ধারণা ক'রলাম-বু‌ঝি ইচ্ছা ক‌'রেই তারা ফ‌ন্দি-‌ফি‌কির এঁটে বাথরুম আর টয়‌লেট এরকম ছোট ক‌'রে রে‌খে‌ছে। কিন্তু বিপ‌ত্তি তখনই ঘট‌লো যখন অধীনস্তরা ব'ল‌তে শুরু ক'র‌লো যে, বাথরুমে পা‌নি নেই, ওজু-গোসল ক'র‌বো কি ক‌'রে ইত্যা‌দি। যা‌হোক, স‌রেজ‌মি‌নে নিজ চো‌খে দে‌খে এ‌সে মনটা বেশ স‌ত্যিই খারাপ হ‌'য়ে গে‌লো। স্হানীয় কর্তৃপক্ষ‌কে জিজ্ঞাসা ক‌'রে জান‌তে পারলাম যে, সমস্ত বাথরুম ও টয়‌লেটগু‌লো ইতোম‌ধ্যেই ওভারলো‌ডেড হ‌'য়ে‌ গেছে। 

প্রথম দি‌কে তারা সুর তু‌লে ব'ল‌তে ‌চে‌য়ে‌ছি‌লো যে, বাঙ্গালীরা বাথরুম-টয়‌লে‌টের ব্যবহারই জা‌নেনা এবং না জানার ফ‌লেই নাকি যতসব বিপ‌ত্তি আর কি! যা‌হোক, পুরা পৃ‌থিবীটাই হ‌লো, কথায় ব‌লেনা "শ‌ক্তের ভক্ত আর নর‌মের জোম"। প‌রে তা‌দের‌কে অবশ্য শক্তভা‌বেই বু‌ঝি‌য়ে দি‌য়ে‌ছিলাম যে, তারা এখনও বাঙালী‌কে পুরাপু‌রি চিন্তে পা‌রে‌নি।

এভাবে তিন দিন গুজরান হলো আমা‌দের অ‌তি ক‌ষ্টে। অবশ্য ওয়াটার ট্রেইল‌রে ক‌'রে তারা ২৪ ঘণ্টাকাল পা‌নি মওজুত ক‌'রে‌ছি‌লো। কিন্তু তোলা পা‌নি‌তে কি সব প্র‌য়োজন মেটা‌নো সম্ভব? গোসল, কাপড়কাচা, দৈ‌নিন্দন প্রাতঃক্রিয়ার মত প্রত্যহ নিত্য‌নৈ‌মি‌ত্তিক কার্যক্রম সম্পাদ‌নে যেন সভ্য জগ‌তের মানু‌ষেরা পা‌নির ট্যাপ ও বে‌সি‌নের পা‌নি ছাড়া এক মূহু‌র্তের জন্য ভাব‌তেও পা‌রেনা।  

যাই হোক, আমরা বাঙ্গালী‌তো, তারপর আবার বাংলা‌দে‌শের মি‌লিটারী, আমা‌দের এ ধর‌নের প্রশিক্ষণ তো আ‌গেই দেওয়া আ‌ছে এবং এর চাই‌তেও ক‌ঠিন জীব‌নের সা‌থে আমরা নিত্য প‌রি‌চি‌ত কিন্তু বিষয়‌টি আস‌লে সেটা নয়, বিষয়‌টি হ‌লো আ‌মে‌রিকার মত একটা সভ্য ও ধন্যাঢ্য দে‌শে এ‌সে আমা‌দের এ হাল হ‌বে তা যেন সা‌তে-স্বপ্প‌নেও ভা‌বি‌নি। সবই যেন বাঙালীর নিয়‌তির দোষ। আস‌লে "অভাগা যে‌দি‌কে যায় সাগর শু‌কি‌য়ে যায়"।

যা‌হোক, প্রথম‌দিন আমা‌দের ৫২ জন অ‌ফিসার‌দের‌কে নি‌য়ে যাওয়া হ‌লো বিশাল এক হলরুমে। এটাই হ‌লো আমা‌দের প্র‌শিক্ষণ তা‌লিকায় প্রথম অধ্যায়। আজ‌কের ক্লা‌সের বিষয়বস্তু হ‌লো মি‌ডিয়া হ্যান্ড‌লিং। ইং‌রেজী ভাষায় না‌তিদীর্ঘ দু‌'টি প‌র্বে সকাল ১০টা থে‌কে শুরু ক‌'রে সন্ধ্যা অব‌ধি ক্লাস চ'ললো ব্রি‌টিশ রয়াল আ‌র্মি ও ইউ এস আ‌র্মির গন্ডা দে‌ড়েক মেজর আর লেঃ ক‌র্ণেল পদবীর অ‌ফিসারদের তত্ত্বাবধা‌নে। 

ফিরলাম সন্ধ্যা নাগাদ নিজ আবাসস্হ‌লে। হঠাৎ ক‌'রেই খবর আস‌লো যে, আমরা যারা আপনজন‌দের সা‌থে আইএস‌ডি ফো‌নে কথা ব'ল‌তে আগ্রহী তারা যেন বানব্যাট অ‌ফি‌সে এ‌সে নি‌জে‌দের নাম রে‌জিষ্টা‌রে এ‌ন্ট্রি ক'র‌ে যাই। ছুটলাম অন‌তিদূ‌রে ব্যানব্যাট অ‌ফি‌সে। 

তিন‌দিন ই‌তোম‌ধ্যেই গত হ‌'য়ে‌ছে আপনজন‌দের সা‌থে মনখু‌লে কোন কথা ব'লতে পা‌রি‌নি আবার বাঙালীর প্রধান মেনু ভা‌তের মুখও দে‌খি‌নি। ভা‌লো দিকটা হ‌লো রাস্তার ধা‌রে ধা‌রে  অত্যাধু‌নিক কায়দায় স্হা‌পিত ভ্যা‌ন্ডিং মে‌শি‌নে ০১ ডলারের ০১ টা ক‌য়েন ঢুকা‌নো মাত্রই ০১ টা কো‌ক অথবা ০১ টা পেপ‌সির ক্যান বে‌রি‌য়ে আ‌সে-এটা এখা‌নে এ‌সেই প্রথম দেখলাম আর জানলাম। 

একদিন টে‌লি‌ফোন বু‌থে ক‌য়েন ঢু‌কি‌য়ে কথা ব'ল‌তে যে‌য়ে হঠাৎ ক‌'রে‌ই বেলাইন হ‌'য়ে যাওয়ায় মনটা খুবই খারাপ হ‌'য়ে গি‌য়ে‌ছিল। অব‌শে‌ষে, ব্যানব্যাট অ‌ফি‌সে এ‌সে দা‌য়িত্বপ্রাপ্ত অ‌ফিসার মেজর সাখাওয়া‌তের দেখা পেলাম এবং সে বল‌লো "স্যার, রে‌জিষ্টা‌রে আপনার নামটা তো‌লেন। প্র‌ত্যেক অ‌ফিসার ০৩ মি‌নিট ক‌'রে সময় পা‌বে আপনজন‌দের সা‌থে ক‌থোপকথ‌ন বাবদ"। যা‌হোক, কি কার‌ণে মেজর সাখাওয়াৎ অতি অল্প সম‌য়ের ম‌ধ্যেই আমা‌দের সবার মধ্যম‌ণি হ‌'য়ে গি‌য়ে‌ছি‌লো সেটা না হয় প‌রেই ব‌লি।

চল‌বে....

 শান্তা কামালী ৪ তম পর্ব





বনফুল
শান্তা কামালী
( ৪ তম পর্ব )




পলাশের আব্বু আম্মুদের নিয়ে  গাড়ি চলে গেল। তাদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে গাড়ী জুঁই এর আব্বুর কাছে গিয়ে তার প্রাপ্য নিয়ে বিদায় হলো। 

  ততক্ষণে জুঁইরা বাসায় পৌঁছে গেছে। জুঁই রুমে ঢুকেই সোফায় বসতে যাওয়ার আগেই মাথা ঘুরে পরে গেল। জুঁইয়ের আব্বু আম্মু দুজনেই ধরাধরি করে জুঁইকে সোফায় তুলে বসালেন,ময়না দৌড়ে গিয়ে এক গ্লাস পানি নিয়ে এলো। মনোয়ারা বেগম বললেন জুঁই পানিটুকু খাও অনেকটা ভালো লাগবে , জুঁই আস্তে আস্তে পানিটা খেলো। জুঁইয়ের এই অবস্থা দেখে ওয়াজেদ সাহেব ও মনোয়ারা বেগম খুব চিন্তিত হয়ে পড়লেন! জুঁই বাবা-মার এই দুঃশ্চিন্তা দেখে বললো অনেক দিন বাসাবন্দী হয়ে আছিতো, অনেক জার্নি হয়ে গেছে তাই হয়তো মাথাটা ঘুরে গেল। বাবা-মাকে স্বাভাবিক করার জন্য ছোট বেলার গল্প জুড়ে দিলেন, জুঁই বললো আব্বু তোমার মনে আছে আমি যখন ক্লাস সিক্সে পড়ি তখন আমার জ্বর হয়েছিল। পরদিন দুপুর বেলা আমার জ্বর বেড়ে গেলে আম্মু তোমাকে ফোন  করলে তুমি পাগলের মতো এসে আমাকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কান্না শুরু করেছিলে। বিকালে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গিয়েছিলে, ডাক্তার ভালো করে চেকআপ করে বলেছিলেন, কিচ্ছু হয়নি সামান্য জ্বর দুই দিন ঔষধ খেলে ঠিক হয়ে যাবে।
 বাবা-মা মেয়ে হাহাহা হাহাহা হাহাহা হেসে উঠলো। ততক্ষণে ময়না চা নাস্তা এনে টি-টেবিলে রাখলো, তিনজনে মিলে চা খাচ্ছে। জুঁই কোনো নাস্তা নেয়নি দেখে জুঁইএর আম্মু বললো, জুঁই তুমি কিছু নিচ্ছো না যে!
জুঁই বললো আমি কিছুক্ষণ পরে ডিনার করে ঘুমানোর চেষ্টা করবো....। এই বলে টিভি অন করে ষ্টারপ্লাসে নাটক দেখতে লাগলো। ঐদিকে পলাশের বাসায় ও মনখারাপের মেলা বসেছে, তিথি তা বুঝতে পেরে সবার জন্য চা নাস্তা নিয়ে এলো। চায়ের পর্ব শেষ হতেই অহনা পলাশের আম্মুকে বললো খালাম্মা এতো চিন্তা করছেন কেন?  মাত্র তো দুই আড়াই বছর, দেখতে দেখতে চলে যাবে।আমরাও তো আছি।  সৈকতও অহননার সাথে গলা মিলিয়ে বললো খালাম্মা আমি সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ঢাকায় শিফট্ করছি। সৈকত বললো খালাম্মা আমি অহনা কে বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসি? শাহারা খাতুন বললেন যাও বাবা রাত অনেক হয়েছে... ওকে একা ছাড়া ঠিক হবে না,তুমি ওকে বাসায় ছেড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি চলে এসো,সাবধানে যাও।

রাত দশটা বাজতেই ময়না টেবিলে খাবার পরিবেশন করছে, জুঁই তাড়াহুড়ো করে অল্প কিছু খেয়ে মাকে বললো 
আম্মু আমার খুব ক্লান্তি লাগছে, আমি রুমে গিয়ে ফ্রেস হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করি, মনোয়ারা বেগম বললেন যাও মা।



চলবে....

১৮ ডিসেম্বর ২০২১

শামরুজ জবা




মনভ্রমর


আমার ঘরের দরজাতে কেন?
ইচ্ছে হলে দেখে যেতে পারো 
কত যত্নে আছো এই বুকে;
আমার হয়ে এসো - প্রিয়তম 
জীবন কাটে কাটুক, 
শূন্য রিক্ত হাতে, খালিপেটে ধুঁকে ধুঁকে। 

তুমি শুধুই আমার হবে শুধুই আমার 
ধরো; 
পেতেছি তো আমি এই বুক 
খুলে দিলাম মনের যতো দ্বার 
রেখে দিও ভালোবাসা 
যত খুশি দিতে পারো ধার। 

তোমায় আমি ভালোবাসি ঢের
বুঝবো যখনোই ভুল 
তোমার জন্য বুকের ভেতর 
ফোটাবো অজস্র ফুল। 

ভালোবাসো আর নাই বাসো 
শুধু এইটুকু মনে রেখো, তোমাকে কতটা ভালোবাসি, নিজেকে প্রশ্ন করে দেখো।

তোমার নামে লিখবো দিন
তোমার নামেই রাত, 
মনের ডাইরি মাথায় রেখে
যাক না চলে জাত।

মোঃ হা‌বিবুর রহমান/৯ম পর্ব





ইউএন মিশ‌নে হাই‌তি‌তে গমন
( ৯ম পর্ব ) 
মোঃ হা‌বিবুর রহমান

অতঃপর প্লেইন থে‌কে নামার হুকুম হ‌লো। নামলাম পু‌রোটাই মি‌লিটারী কায়দায়। অধীনস্ত‌দের সু‌যোগ ক‌'রে দিয়ে আমরা প‌রেই নে‌মে‌ছিলাম। যতদূর ম‌নে প‌ড়ে বিমান বন্দ‌রে ক্যাম্প সা‌ন্টিয়া‌গো প্র‌শিক্ষণ কেন্দ্র থে‌কে আমা‌দের জন্য গন্ডা চা‌রেক স‌ুন্দর স‌ুন্দর শীতাতাপ নিয়ন্ত্রিত বাস পাঠা‌নো হ‌'য়ে‌ছি‌লো ক‌য়েকজন সা‌র্জে‌ন্টের নের্তৃ‌ত্বে। আমার আজও ম‌নে প‌ড়ে সেই অত্যাধু‌নিক এ‌সি বাসগু‌লোর অভ্যন্ত‌রে আধু‌নিক সু‌যোগ-সু‌বিধার পর্যাপ্ততার কথা। স‌তিই চমৎকার! দীর্ঘ ২৭ বছর পর আমা‌দের বাংলাদে‌শেও অবশ্য বেশ সুন্দর সুন্দর বাস আজকাল রাস্তায় নে‌মে‌ছে।

সেনাবা‌হিনীর পদ্ধ‌তি অনুযায়ী জনব‌ল ও অস্ত্রপা‌তির হিসাব-‌নিকাশ পুরামাত্রায় নেবার পর পরম করূণাময় আল্লার না‌মে আমা‌দের এবারের স্হলযাত্রা শুরু ক'রলাম। আমা‌দের এখনকার গন্তব্যস্হল মি‌লিটারী প্র‌শিক্ষণ‌ কেন্দ্র, ক্যাম্প সা‌ন্টিয়া‌গো। বাই‌রো‌ডে ঘণ্টা চা‌রে‌কের রাস্তা হ‌বে। আমা‌দের বাসগু‌লো যেন পিঁপড়ার মত সা‌রিবদ্ধ হ‌'য়ে সমগ‌তি‌তে গন্তব্যস্হ‌লের দি‌কে ছু‌টে চ‌'লে‌ছে একবা‌রে সমান-সমান দূরত্ব বজায় রেখে। 

সূ‌র্যি মামাও বোধ ক‌রি নিজ বা‌ড়ি‌তে যাবার উ‌দ্দে‌শ্যে আ‌স্তে আ‌স্তে অ‌তি ধীর পদক্ষে‌পে তার তাপমাত্রা ক'মিয়ে দি‌য়ে‌ছে। রাজপ‌থে চ‌'লে‌ছি আর হা ক‌রে অপলক দৃ‌ষ্টি‌তে রাস্তা এবং রাস্তার  দু'পা‌শের প্রাকৃ‌তিক সৌন্দয্য দর্শ‌নে আমরা সর্বদাই ব্যস্ত ছিলাম। সে এক অপূর্ব দৃশ্য! চোখের পলক যেন আর প‌ড়েনা। ম‌নে ম‌নে বল‌ছিলাম যে, হে আল্লাহ্, এ কোন দে‌শে, কোথায় আসলাম? 

যে‌দি‌কেই চোখ যায় সে‌দি‌কেই দে‌খি সবু‌জের সমা‌রোহ যেন রাস্তার এপাশে-ওপাশে সবু‌জের মেলা ব‌সে‌ছে। আমা‌দের দেশ সবু‌জের দেশ হওয়া স‌ত্বেও ম‌নে হ‌'চ্ছিল এ‌দের সবু‌জের কা‌ছে আমা‌দের সবুজ যেন কো‌নো কোনো সময় ফি‌কে হ‌'য়ে যাচ্ছিল। রাজপথটা ওয়ানও‌য়ে মেটাল রোড এবং ৫/৬ লেন বি‌শিষ্ট, যেন শিল্পীর তু‌লি দি‌য়ে এই রাজপথ‌কে অতি সুচারুরূ‌পে মা‌র্কিং ক‌'রে অত্যন্ত সয‌ত্নে রোড-সাইনগু‌লো আঁকা হ‌'য়ে‌ছে সেগু‌লোর কথা ম‌নে পড়লে ম‌নে হয় যেন জে‌গেই স্বপ্ন দেখ‌ছি। 

এতক্ষণ যত জীপ বা কার দেখে‌ছি আ‌মি এর কোন চাল‌ককে ম‌হিলা ছাড়া পুরুষ দেখি‌নি। ভাবলাম, এ আবার কোন দেশে এ‌সে হা‌জির হলাম? বড্ড তাজ্জ্বব এদেশ বাবা! এমন দেশও যে পৃ‌থিবী‌তে থাক‌তে পা‌রে তা কস্মিনকা‌লেও ভা‌বি‌নি বা ই‌তিপূ‌র্বে দে‌খি‌ও‌নি। রাস্তার দু'পাশ দিয়ে চ‌'লে‌ছি আর তাই একবার ডা‌নে আর আ‌রেকবার‌ বামে তাকা‌তে তাকা‌তে ‌যেন দু‌'চোখ হয়রা‌ন হ‌'য়ে গে‌লো। 

ভাবলাম, এজন্যই বু‌ঝি আল্লাহপাক সৃ‌ষ্টির সব প্রাণী‌কে বাদ দি‌য়ে মানুষ‌কেই সৃ‌ষ্টির সেরা জীব হি‌সে‌বে ম‌নোনীত ক‌'রে তা‌দের‌কে সেই প‌রিমাণ হিকমাহ বা জ্ঞান দান ক‌'রে‌ছেন। আস‌লে দ্বিপদী মনুষ্যজা‌তির প‌ক্ষে সবই সম্ভব। পড়ন্ত বেলায় বি‌ভিন্ন বয়সী ছে‌লেমে‌য়ে, যুবক-যুবতী, প্রৌঢ়-‌প্রৌঢ়া ও বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অসম বয়‌সের মানু‌ষেরা রঙবেরং‌য়ের বাহারী কাপড়-‌চোপড় প‌রে হাটাহা‌টি, খেলাপাগল মানু‌ষেরা নানান ধর‌নের খেলায় কিংবা জ‌গিংএ মহাব্যস্ত। হায়, আপ‌শোস্! আমরা বাঙালীরা কেন এদের ধা‌রের কা‌ছেই নেই? এ‌দের মত এত স্বাস্হ্য স‌চেতন মানুষ আ‌মি আর কোনদিন দে‌খি‌নি।

‌গোধুলীর ঠিক পূর্ব মূহু‌র্তের রোদ‌কে আমরা অ‌নে‌কে শেষ রোদ ব‌লে আখ্যা‌য়িত ক‌রে থা‌কি, এই রোদ মানু‌ষের অবয়‌বে বা শরী‌রের কোন জায়গায় প'ড়‌লে যে কোন মানুষ‌কেই বু‌ঝি বেশী-বেশী আকর্ষনীয় ব‌'লে প্র‌তিভাত হয়। পো‌র্টো‌রি‌কোর সকল মানু‌ষ তথা ছে‌লেমে‌য়ে নি‌র্বি‌শে‌ষে বেশ সুশ্রী ও সুন্দর দেখ‌তে এবং সেইসা‌থে তা‌দের বেশভূষাও বেশ আকর্ষনীয় ব‌টে। 

রাস্তার দু'পা‌র্শ্বে সুন্দর সুন্দর দোকান এবং সেগু‌লোর অ‌ধিকাংশই কাঁ‌চের তৈরী ও আধু‌নিকতার য‌থেষ্ট ছাপ আ‌ছে। বি‌ভিন্ন বয়সী লোকজ‌নের দোকা‌নে ভিড় জমা‌নো দে‌খে বার বারই ম‌নে হ‌'চ্ছিল যেন বছ‌রের বা‌রো মাসই এ‌দের বৈশাখী মেলা চ‌'লে। অ‌তি চমৎকার সে দৃশ্য কেউ নি‌জের চো‌খে না দেখ‌লে বু‌ঝি কল্পনা করাও অসম্ভব। 

সাই সাই ক‌'রে আমা‌দের এ‌সি বাসগু‌লো ক্যাম্প সা‌ন্টিয়া‌গোকে লক্ষ্য ক‌'রে যেন ছু‌টে চ‌'লে‌ছে, এরই ম‌ধ্যে চালক বরাবর বা‌সের সাম‌নে তাকালাম। কিছু কিছু কার বা ছোট ছোট যানবাহন অ‌ধিক দ্রুতগামী হওয়ায় লেন প‌রিবর্তন ক‌'রে আমা‌দের বাস ওভার‌টে‌ক ক‌'রে আমা‌দেরকে দ্রুত পিছু ফে‌লে যেন জানা‌তে চা‌চ্ছিল "তোমরা বঙ্গ‌দেশ থে‌কে এ‌সে‌ছো, ধী‌রেসু‌স্থেই আ‌সো, আ‌স্তে আ‌স্তে এ‌দে‌শের সা‌থে প্রথ‌মে নি‌জে‌দের‌কে মানাও, খাপ খাওয়াও তারপর আমা‌দের মত ক‌'রে চ‌লো"। হঠাৎ ক‌রেই অতীব নয়না‌ভিরাম দৃ‌শ্যের অবতারনা হ‌লো। কি মজা! প্রকৃ‌তির সব সৌন্দ‌র্যের সমা‌রোহ বু‌ঝি এখা‌নেই ঘ‌টে‌ছে।
 
আমা‌দের বা‌মে তাকালাম, দেখ‌ছি সমু‌দ্রের সমান্তরা‌লে আমর‌া চলা শুরু ক‌'রে‌ছি। সমু‌দ্রের পাশ ঘে‌ষে রাস্তা সমান্তরালভা‌বে চ‌'লে‌ছে, আল্লাহ্ না করুক, য‌দি চালক একটু অসাবধানতাবসতঃ গাড়ী চালায় ত‌বে আমা‌দের যে‌কোন সময় সমুদ্র স্না‌নের একটা সম্ভাবনা‌কে বু‌ঝি আমরা উ‌ঁড়ি‌য়ে দি‌তে পা‌রবো না। পাকা রাস্তার সমান্তরা‌লে সমু‌দ্রের কিনারা দি‌য়ে স্পীডবো‌টের সমা‌রোহটা বেশ চো‌খে পড়ার মত এবং ম‌নোমুগ্ধকর ছি‌লো। দেখ‌তে দেখ‌‌তে কখন যে চারটি ঘণ্টা খরচ ক‌'রে ফে‌লে‌ছি তা ‌যেন একদমই ঠাহর ক'র‌তে পারি‌নি। সন্ধ্যা সমাগত প্রায়, সূ‌র্যিমামা টাটা দি‌য়ে নিঃশ‌ব্দে এইমাত্র বিদায় নি‌লো। আমা‌দের বা‌সের গাইড সা‌র্জেন্ট সা‌হেব হঠ‌াৎ ক‌'রেই দাঁ‌ড়িয়ে বল‌লো, 

"Sir, we have reached to Camp Santiago, I welcome you here at Camp Santiago. Sir, you may kindly get down from the bus and Sergeant Bright is here to guide you further, he will show your accommodation, dinning hall and other allied facilities you are going to enjoy during your 15 days stay here". 

অতঃপর, আমরা বাস থে‌কে নে‌মে  অন‌তিদূ‌রে আমা‌দের জন্য নির্ধা‌রিত আবাসস্হ‌ল, অ‌ফিসার মে‌সের দি‌কে পদব্র‌জে যাত্রা শুরু ক'রলাম। 

চল‌বে.....

শান্তা কামালী/৪৪ তম পর্ব





বনফুল 
( ৪৪ তম পর্ব ) 
শান্তা কামালী

পলাশের বোনের চোখেও পানি জুঁই যেন পাথর হয়ে গেছে। একটুও পানি নেই ওর চোখে।কিন্তু জুঁই য়ের আম্মুর চোখ ছলছল করছে। সবার কাছে বিদায় নিতে নিতে সবার শেষে পলাশ এলো জুঁই য়ের কাছে। জুঁই পলাশের বাঁহাতের কড়ে আঙুল টা ধরে মুখের কাছে এনে কচ্ করে একটা কামড় বসিয়ে দিয়ে বললো, আর কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে নজর দিতে পারবে না। আমি তোমাকে দেগে দিলাম, তুমি শুধুই আমার, আমার, আমা.... আর বলতে পারে না।দুচোখে রুমাল চাপা দিয়ে তার আম্মুর কাঁধে মাথা রেখে চুপ করে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কেঁদে ওঠে। 

পলাশ এগিয়ে যায় তার বডি চেকিং করে ফ্লাইটে ওটার জন্য নির্দিষ্ট চ্যানেলের দিকে। 
এরপর সবাই চলে আসেন রানওয়ের থেকে অনেক টা দূরে একটা ঘেরাটোপে, সেখান থেকে তারা মাল্টা যাত্রার এয়ারক্রাফট কে হাত নেড়ে যাত্রা পথ সুগম হওয়ার বার্তা জানায়।ফ্লাইট ধীরে ধীরে রানওয়েতে তার দৌড় শুরু করে হঠাৎ মাটি ছেড়ে ডানা মেলে আকাশে। মুহুর্তে ফ্লাইট উঠে যায় সাঁইত্রিশ হাজার ফুট উচ্চতায়। একটা ছোট্ট চড়াই পাখির মতো দেখাচ্ছে সেটা কে।
যাত্রা পথে সে মাটি ছোঁবে কলকাতা, দিল্লি।তারপর তুষারশৃঙ্গ হিমালয় কে ডিঙিয়ে ভূমধ্যসাগরের নীল জলের বুকে মাল্টা'র মাটিতে করবে যাত্রা সমাপন।

ভারাক্রান্ত মনে সবাই আবার গাড়ীতে গিয়ে বসলো, বাসায় ফিরতে হবে তো।

চলবে.....

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৩৫




কশায়লা শিহাব কথন
অলিখিত শর্ত 
(পর্ব ৩৫)
শামীমা আহমেদ 

-----মা'কে কেবিনে শায়লার সাথে  রেখে রাহাত সারারাত কেবিনের বাইরের লবিতে বড় সোফাটায় বসে রইল। মাঝে মাঝে ঝিমুনিতে ঘুমে ভেঙে পড়ছিল। সারাদিনতো কম খাটুনি যায়নি! যদিও একজন পুরুষের জন্য এই খাটুনিটা খুব একটা বেশি কিছু না। কিন্তু শায়লাকে নিয়ে রাহাত যে ভীষণ  ভয়টা পেয়েছে তা ভেবে বারবার তার গা শিউরে উঠছে! রাহাতের জীবনে সে তার আপুকে কোনদিন একটুও  জ্বরে পড়তেও  দেখেনি।আপু সারাজীবন অফিস  আর বাসা, বাসা আর অফিস করেছে।এই ছিল আপার জীবনের গন্ডী। নাহ! খুব বেশিই  চাপ নিয়েছে  আপা।  রাহাত বারবার একই কথা ভাবছে। আপার প্রতি তার এই উদাসীনতা দেখানো একদম উচিত হয়নি।আপার প্রতি  তার অনেক অবহেলা ছিল। সব কাজ আপু উপর চাপিয়েছে। বাড়ির ছেলে হিসেবে তার কিছু দায়িত্ব নেয়া উচিত ছিল। রাহাত ঠিক করলো ইনশাআল্লাহ আপু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে আপুকে এত কাজের চাপ থেকে রেহাই দেয়া হবে।  রাহাত নিজের ভেতরে কাজের একটা ছক তৈরি করে নিল।বাড়ির বাজার, ইউটিলিটি বিলস আর যাবতীয় কিছু এখন থেকে নিজেই দেখবে। 
মায়েরও বয়স হয়েছে।তার দিকটিও দেখতে হবে। রাহাত আজ বুঝলো আসলেই সে দায়িত্ব  নেয়ার মত বড় হয়েছে।মা আর আপু চিরকালই তাকে আদরে আহ্লাদে ছোট বানিয়ে রেখেছে।
 রাতে শায়লা একটু সুস্থ বোধ করেছিল।মা আর রাহাতের সাথে একটু কথাও হয়েছে। আপুর মুখের হাসিতে 
রাহাতের কাছে মনে হয়েছে  যেন ফুল বাগানের ফুলগুলো  হাসছে! ডাক্তারের এডভাইস মত শায়লাকে সহজপাচ্য খাবার চিকেন সুপ এনে খাওয়ানো হয়েছে। রাহাত লজ্জায় অনুশোচনায় আপুর চোখের দিকে তাকাতে পারছিল না ।সবকিছুর জন্য  মনে করছে সেই দায়ী। আমাদের বাঙালি  সমাজে ছেলেরাই সংসারের দায়িত্ব নিবে আর বোনরা নিশ্চিন্ত  মনে স্বামীর সংসার করবে। এটাই যুগ যুগ ধরে চলে এসেছে।আপুর জন্য এ বিষয়টি অনেক দেরি হয়ে গেছে।জীবনের একটা সময়ে  পরিবারের আপনজনের চেয়েও অচেনা অন্য একটা মানুষ বেশি আপন হয়ে উঠে।এটাই প্রকৃতির  নিয়ম।তার ভালবাসা মায়ার টানে পিতৃকুল তখন অনেক দুরের হয়ে যায়।আর তা এমনটি না হলে  পিছুটানের মায়ায় কেউ সামনে এগুতে পারতো না। আপুকে যখন রাহাত স্যুপ খাইয়ে দিচ্ছিল তখন আপুকে মনে হচ্ছিল ঝড়ের দাপটে ক্ষতবিক্ষত হয়ে  পড়া ভীত সন্ত্রস্ত একটা ছোট্ট পাখির ছানা। সে যেন কারো নিবিড়  সান্নিধ্যের আশ্রয় খুঁজছে। আপুর চোখ দুটোতে কি যেন না বলা কথা ভীড় করে আছে। আপু কাকে যেন খুঁজে  ফিরছে।রাহাত বুঝতে পারছে আপুর ভেতরে এমন কিছু ঢাকা দেয়া আছে যা সে খুব সন্তর্পনে লুকিয়ে রেখেছে। কোন ভাললাগা অনুভুতিকে আড়াল করে রেখেছে। কোন স্পর্শের অপেক্ষায় নিজেকে গুটিয়ে রেখেছে।এমন কোন অজানা কথা যা আপু মুখ ফুটে  না বললেও চোখ মুখ তা প্রকাশ করতে চাইছে! 
আপুকে স্যুপ খাইয়ে  টিসু দিয়ে খুব যত্ন করে আপুর মুখটা মুছে দিলো। আপুকে একটু পানি খাওয়ালো।ভাইয়ের এমন যত্ন পেয়ে শায়লা যেন আনন্দে আত্মহারা হয়ে যাচ্ছিল! রাহাত  আপুর চুলগুলো ঠিক করে দিলো।মা হাত পা বুলিয়ে দিলো।মা কেঁদে কেঁদে  আকুল হলো। যেন আরেকটু হলেই শায়লাকে সে  চিরতরে হারিয়ে ফেলছিল! রাহাত নার্সকে ডেকে রাতের ঔষুধগুলো খাইয়ে দিতে বললো। ঔষুধ খেয়ে শায়লা টুপ করে ঘুমিয়ে পড়লো।সম্ভবত ঘুমের ওষুধ দেয়া হয়েছে। বাসা থেকে রুহি খালা রাহাত ও  মায়ের জন্য খাবার পাঠিয়েছে। মাকে অনেক অনুরোধ করে রাহাত খাওয়ার জন্য রাজী করালো।নিজেও কিছুটা খেয়ে নিলো। মাকে আরেকটি বেডে রেখে কেবিনের লাইট অফ করে রাহাত বাইরের সোফায় এসে বসলো।
রাহাতের হাতে দুটো মোবাইল ফোন ধরা। একেবারেই খেয়াল করা হয়নি। একটা ফোন শায়লার। হঠাৎ মনে পড়লো সন্ধ্যায় তো আপুর ফোনে একটি মিসড কল হয়েছিল।কলটা আর ব্যাক করা হয়নি! এখন কি ব্যাক করবে? রাত হয়ে গেছে।রাত এগারোটা বেজে গেছে।এত রাতে কাউকে কল করা কি ঠিক হবে? কিন্তু কি আর করা একা মানুষ  সবদিক দেখতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছিল। যদিও একজন পুরুষের জন্য এটা এমন কোন খাটুনিই না কিন্তু আপুর সেই অবস্থায় মনে হতেই রাহাতের  বারবার গা শিউরে উঠছে। যদি আরেকটু দেরি হতো তবে আজ অনেক বড় একটা অঘটন ঘটে যেতো! 
যদিও কিছুক্ষণের মধ্যেই নায়লার হাজবেন্ড মূর্শেদ চলে এসেছিল।কিন্তু সেতো আর এতদিক দেখবে না। টাকা পয়সার সব রকম আশ্বাস দিয়ে ডক্টরদের সাথে কথা বলে চলে গেলো।দেরি হলে নায়লা আবার জানতে চাইবে।তাইতো বাসা থেকে কোন খাবার আনা গেলো না। মোর্শেদ বেশ লজ্জিত হচ্ছিল বারবার। মোর্শেদ ছেলেটি খুবই ভালো।অবশ্য একটি ছেলে তখনই ভালো হবে যখন তার পারিবারিক শিক্ষাটা মজবুত হবে। 
রাহাত কল দিতে উদ্যত হতেই দেখা গেলো আপুর মোবাইলটা চার্জশূন্য হয়ে আছে। এখন আর কেবিনে গিয়ে চার্জে দেয়া সম্ভব না।মা বা শায়লার ঘুম ভেঙে  যেতে পারে।দুজনেরই  বিশ্রাম প্রয়োজন। কিন্তু শিহাব সাহেব নিশ্চয়ই খুব চিন্তিত  হয়ে থাকবেন। উনি বলেছিলেন 
 নিয়মিতভাবে তাকে যেন শায়লার শারীরিক  অবস্থার কথা জানানো হয়।কিন্তু কি আর করা! হয়তো উনি সারারাত খবরের অপেক্ষায় থাকবে। আসলে মানুষের  হাতেতো সবটার নিয়ন্ত্রণ থাকে না। মোবাইল নাম্বারটা জানা থাকলে রাহাতের মোবাইল  থেকে কল দেয়া যেতো।কিন্তু সেটাও তো নেয়া হয়নি। আচ্ছা কাল সকালেই কথা হবে।এখন আপুর সুস্থতাই সবচেয়ে বড় কথা।রাহাত মনে মনে দৃঢ় সংকল্প করে নিলো, যে করেই হউক আপুর মুখে হাসি ফোটাতে  হবে।খুব দ্রুতই আপুরকে  তার সংসারে পৌঁছে দিতে হবে।বিষয়টি আপুর হাতে ছেড়ে দেয়া উচিত হয়নি। রাহাত নিজের লাইফ ক্যারিয়ার  নিয়ে বেশি ডুবে গিয়েছিল।যাক কোন ঘটনা না ঘটলে মানুষের সচেতনতা আসে না।তবে আপুর যদি আজ একটা কিছু হয়ে যেতো? আপুর হাজবেন্ড নোমান ভাইকে তারা কী জবাব দিতো? নোমানের কথা মনে হতেই রাহাতের মনে প্রশ্ন এলো, আচ্ছা তবে এই যে কল করছে শিহাব নামে একজন ভদ্রলোক, তবে উনি কে? কখনোতো আপুর মুখে বা কলেজ ইউনিভার্সিটি লাইফে এই নামটি শোনেনি? তবে উনি কে? কেনইবা  এমন উৎকন্ঠিত হয়ে বারবার আপুর খোঁজ  নিচ্ছিল। নাহ! সবকিছু কেমন এলোমেলো  লাগছে। ফোনটাতেও চার্জ নেই।নয়তো কল করে কথা বলে জেনে নেয়া যেতো যে উনি কে?  রাহাতের মনে খটকা বেঁধে গেলো ডাক্তারদের কথাটা। রাহাতের মনে পড়লো,,, হয়তো উনি মেন্টালি কারো সাথে ইনভলভড হয়েছেন! রাহাত দুইয়ে দুইয়ে চার মিলাতে লাগলো।আপুর অসুস্থতার সাথে তবে কি এর কোন যোগসূত্র আছে? উফ, রাহাতের আর ত্বর সইছে না।কখন সকাল হবে আপুর ফোনে চার্জ দিয়ে শিহাব সাহেবের সাথে কথা বলবে। যতটুকু কথা হয়েছে লোকটিকে বেশ ভদ্রই লেগেছে আর উনি যদি অসুস্থতার  কারনই হবেন তবে নিশ্চয়ই এতবার কল করতেন না? রাহাত এই রহস্যের জালে ঘুরপাক খেতে লাগল।মনে ভেতর অনেক ভাবনা দূর্ভাবনা আর অজানা আশংকা ভর করলো।নিরুপায় হয়ে রাহাত ভোরের আলো ফোটার অপেক্ষায় রইল৷


চলবে....

তাহসান কামরুজ্জামান





মা 



মা" এই শহরে এসে উপলব্ধি ক্ষমতা অনেক বেড়ে গিয়েছে। 
প্রতিমুহূর্তে তোমার থেকে দূর থাকার যন্ত্রণা তিলতিল করে আত্মার গভীরে রোগের উৎস সৃষ্টি হচ্ছে! 

মা"কখনো সামনা-সামনি তোমায় প্রচন্ড রকমের ভালোবাসি শব্দের ব্যবহার করতে পারিনি। 

মা"তোমায় জড়িয়ে ডুকরে কেঁদে উঠতে কখনো পারিনি। 
প্রচন্ড রকমের দুঃখ কষ্টগুলো অবলীলায় প্রকাশ করতে পারিনি! 
কিন্ত বিশ্বাস করো মা"
অনেক বার গিয়েছি,
তোমায় জড়িয়ে সবকিছু বলতে! 

প্রতি মুহুর্তে ব্যর্থতার গ্লানিবোধটুকু কাঁধে চাপিয়ে ফিরে এসেছি। 

সময়ের ব্যবধানে সেই না বলা গল্পগুলো বলতে ইচ্ছে করছে! 
মনে হচ্ছে আকাশ পথে উড়ে গিয়ে তোমায় জড়িয়ে ধরি। 

খুব কষ্টে দিনকাল যাচ্ছে মা"
তুমি একটু মোনাজাতে আমায় স্মরণ করে, 
স্রষ্টার নিকট দোয়া করো।

মমতা রায়চৌধুরী/৭২




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৭২ 

মায়ের ভাঙ্গা হৃদয়

মমতা রায়চৌধুরী





কালকের কি দিনটা গেল সকলের মনের ওপর দিয়ে বলার অপেক্ষা রাখে না। মাসিমার দিকে তাকানো যাচ্ছে না ।মাসিমার  দুই ছেলে অন্তপ্রাণ। সন্তানরা তার কাছে হৃদপিণ্ড স্বরূপ। মেসোমশাই মারা যাবার পর থেকে মনের দিক থেকে এমনি ভেঙ্গে পড়েছিলেন ।তবুও দুই সন্তান মাকে যেভাবে আগলে রেখেছে তাতে আস্তে আস্তে মেসোমশাইয়ের শোকটা কাটিয়ে উঠতে পেরেছেন ।ঠিক সেইসময় একটা বড় ধাক্কা ।কিভাবে মেনে নেবেন ভাবতেই পারা যাচ্ছে না ।সারাটা রাত আমার কাছেই ছিলেন। পাশে থেকে উপলব্ধি করতে পেরেছি মায়ের যন্ত্রণা। শুভায়নের অ্যাডভেঞ্চার এর প্রতি এতটাই ঝোঁক ছিল যে, সে ,যে কোন ঝুঁকি নিতে পিছপা হতো না ।তার বন্ধু অনীকের কথাটা
একদম সত্যি। 
ভোর চারটের সময় ফিরে এসে চোখের পাতা এক করতে পারে নি রেখা।চোখ দুটো  জ্বলছে।সারাক্ষণ শুভায়ন এর সুখ স্মৃতি চোখের কাছে ঘুরে বেরিয়েছে। আজকেও সূর্য উঠেছে ।তার আলো ছড়িয়ে পড়েছে চারিদিকে ।তবুও বিষন্ন মন আলোর প্রথম কিরণ  তার মেখে  নিতে ইচ্ছে করছে না। মানুষের মনের ভিতরে কত দ্বন্দ্ব , কত টানাপোড়েন, কে কার খবর রাখে ?চেনা মানুষগুলোকে এরকম কষ্ট পেতে দেখতে কারই বা ভালো লাগে ।এসব ভাবতে ভাবতে এক কাপ গরম কফি করে নিয়ে এসে খাবার টেবিলে বসল।
মনোজ  জিজ্ঞেস করল 'কফি কি শুধু তুমি একাই খাবে?'
রেখা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল 'কখন তুমি এসেছ বুঝতেই পারি নি তো।
 মনোজ বলল 'তুমি কার কথা অত মন দিয়ে ভাবছিলে ?তুমি আমার আসাটাও টের পাওনি?'
রেখা বলল 'কার কথা ভাববো? কাল থেকে যা হচ্ছে শুধু খারাপ খবর। মাসিমা পুরো ভেঙে পড়েছেন।'
মনোজ বলল' সে তো স্বাভাবিক।'
রেখা বলল 'পার্থর জ্বরটা কমেছে ।এত কাজ কম্ম, ওই তো দেখাশোনা করতো। মাকে সামলানো, সব দায়-দায়িত্ব  নিজের কাঁধে তুলে নিয়েছে।
মনোজ বললো' বড় ছেলে, দায়িত্বটা একটু বেশি।'
রেখা বলল 'মাসিমাকে সামলানোটাই সব থেকে এখন বড় ব্যাপার।"
মনোজ বলল" শোক দিয়েছেন যিনি ।লাঘব ও করবেন তিনি।"
হঠাৎ রেখা বলল ''ওই দেখো কে উঁকি মারছে?'
মনোজ বলল "কে গো?'
রেখা বলল'  পেছনের দিকে তাকিয়ে দেখো।'
মনোজ বললো 'তুলি, লিলি, পাইলট।'
রেখা বলল 'ও মা গেট  কে খুলে দিল গো?'
ওরা সবাই ভোঊ..উ করে উঠলো।
রেখা সঙ্গে সঙ্গে দৌড়ে গিয়ে দুটোকে কোলে তুলে নিল।আর  মনোজকে বললো' দেখো গেটটা খুলে দিয়ে কেউ ঝগড়া করার ফন্দি আঁটছে কিনা?"
মনোজ বল 'যা করে করুকগে  ছাড়ো তো?'
মনোজ নিমিষের মধ্যে রেখার চোখমুখে দেখতে পেল একরাশ ক্লান্তির ভেতরে একমুঠো সোনালী ভালোবাসা ,আদর ,স্নেহ সবকিছু জড়িয়ে যেন মাতৃত্ব টাকে স্পষ্ট করে তুলেছে। কে বলবে সারারাতে ক্লান্তি দুশ্চিন্তা আর টেনশান গেছে ওর উপর দিয়ে।
রেখা কোলে তুলে নিয়ে রান্নাঘরে গিয়ে ওদের দুধ গরম করে আনল তারপর বেশ কয়েকটা বিস্কিট ওর ভেতরে দিয়ে ভালো করে চটকে ওদেরকে খেতে দিল।'
মনোজ বলল  'আজকে রুটি দিলে না ওদের?'
রেখা বলল 'রুটি করার সময় পাই নি গো?'
মনোজ বলল 'হ্যাঁ ,তাই তো আমারই প্রশ্নটা করা ভুল হয়েছে। ঠিক আছে। খাক ওরা।'
রেখা বলল' কি খিদে পেয়েছে দেখো?'
মনোজ  বললো 'তাই তো দেখছি।'
রেখা বললো তোমার জন্য কি খাবার করব বল তো ?কি খাবে তুমি?'
 মনোজ বলল 'কি বলি বলো তো ?
'ক্লান্তি একরাশ  
তোমায় করেছে গ্রাস'
এরমধ্যে কি বলি তোমায়?'
রেখা তো মনোজ এর কন্ঠে কাব্য শুনে
 রীতিমতো মুখ দিয়ে কোন কথা বের হচ্ছে না।
মনোজ হাত দিয়ে ইশারা করে বোঝাতে চাইলো'কি হলো একদৃষ্টে আমার দিকে তাকিয়ে রয়েছ?'
রেখা রান্নাঘর থেকে ছুটে এসে বলল 'আ্যাই জানো তুমি না ভালো কবিতা লিখতে পারবে?'
মনোজ বললো 'ও তুমি নিজে লেখিকা তাই  কেবল আমাকে নিয়ে ঠাট্টা করছো?'
রেখা বলল ' না গো । ঠাট্টা করছি না ।বি সিরিয়াস।'
এবার মনোজের মুখ থেকে কোন কথা বের হল না।
রেখা বলল' কি হল তুমি এখন হাঁ করে তাকিয়ে আছো কেন আমার দিকে।।?'
মনোজ বলল' দেখছি আমি এই পৃথিবীর মানুষ না অন্য গ্রহের?'
রেখা গায়ে চিমটি কেটে বললো 'দেখো তো?'
মনোজ বলল উঃ  লাগছে?
রেখা বলল 'চোখের ইশারায় এবার কি মনে হচ্ছে তুমি এই পৃথিবীতে আছো, না অন্য গ্রহে?'
মনোজ বলল 'হ্যাঁ এখন মনে হচ্ছে এই পৃথিবীতে আমার মিষ্টি বউ ,লেখিকা বউ, রেখার কাছে।'
রেখা মনোজকে ধাক্কা দিয়ে বলল' যাও সব সময় মশকরা না? আমার অনেক কাজ আছে।''
রেখা রান্না ঘর থেকেই বলল ডিম সেদ্ধ করছি কিন্তু তোমাকে হেলদি  খাবার খেতে হবে?
মনোজ আমতা আমতা করে বলল 'অ্যাই রেখা, মেথি মালাই  হবে গো?
রেখা বললো 'আজকে মেথি মালাই আবার কখন বানালাম? কাল থেকে যা দেখছ এই অবস্থা?'
মনোজ বলল 'না ,তাই জিজ্ঞেস করছিলাম।'
রেখা বলল  'ঠিক আছে ,আমি তোমাকে পরে মেথি মালাই  করে খাওয়াবো ।তাহলে এখন তুমি ওটস খেয়ে নাও। ঠিক আছে। ফ্রুটস ওটস দিয়ে দিই।
মনোজ "মাথা নাড়লো।'
একটা প্যানে দুধ ফুটতে দিলো ।অন্যদিকে আপেল কলা, কিসমিস ,কাজু  খেজুর কুচি কুচি করে কাটল। কেটে একটা বোলে ওটস দিয়ে গরম দুধ দিয়ে করে মিশিয়ে, চামচ দিয়ে খেতে দিল।'
সবেমাত্র মনোজ এক চামচ মুখে তুলেছে ,এমন সময় ফোন'বেজে উঠলো'আকাশ ভরা সূর্য তারা..।'
রেখা রান্না ঘরে থেকে  গ্যাস মুছতে মুছতে ন্যাতার জলটা নিংড়ালো ,বেসিনে ন্যাতার জল টপটপ করে পড়তে লাগল। 
ওই অবস্থাতেই রেখা বলল 'বাবা তোমার ফোনে আবার এই রিংটোন ?বাহ খুব সুন্দর।‌'
মনোজ 'তখনও কথা বলছে ফোনে।'
রেখা কানটা খাড়া করে শুনছে? কখন হয়েছে?
রেখা ন্যাতাটা  বেসিনে  রেখে এসে বলল ‌ 'কি হয়েছে গো?'
কি হয়েছে ?এসব কথা শুনলেই যেন আজকাল রেখার বুকের ভেতরটা কেমন চিনচিন করে ওঠে।
মনোজ হাতের ইশারায় কথা বলতে বারণ করল।'
মনোজ বলল' ডাক্তার ডেকেছ?'
রেখা  কথাগুলোর কিন্তু কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।
মনোজ যখন বল ' পার্থ আমার মনে হয় মাসিমার এখন রেস্ট এর প্রয়োজন, তাছাড়া ডাক্তারের মতামত নিয়ে কাজ করা উচিত।'
রেখা বুঝলো যে মাসিমার শরীর খারাপ।
রেখা মনে মনে ভাবল সত্যিই ভদ্রমহিলা অমায়িক স্বভাবের।কিন্তু তার জীবনে একের পর এক ঘটে যাচ্ছে দুর্ঘটনা।'
মনোজ বলল 'হ্যাঁ নিশ্চয়ই যাবে?'
দিয়ে ফোনটা কেটে দিলো।
ফোন কেটে মনোজ বললো 'রেখা একবার তুমি পার্থদের বাড়ি যাও তো?'
রেখা বলল 'মাসিমার কিছু হয়েছে?'
মনোজ বলল-হ্যাঁ বারবার সেন্সলেস হয়ে যাচ্ছেন।'
রেখা বললো 'কালকে রাত্রেও ওরকম হয়েছে।
ডাক্তার ঘোষ দেখছেন তো?'
মনোজ বলল-'হ্যাঁ ,ডাক্তার তো এসেছেন।এবার ওদের তো একটা মেন্টাল সাপোর্টের প্রয়োজন। তুমি একটু ওদের কাছে যাও।'
রেখা বলল 'সে তো আমি যেতাম ই । আমি ঘরের কাজগুলোও গুছিয়ে নিয়ে ভেবেছিলাম যাব।'
রেখা বলল' আর পারা যাচ্ছে না সুমিতাকে নিয়ে ।এবার তুমি ছাড়িয়ে দাও ।আমি আর পারছি না ওকে নিয়ে।'
মনোজ বলল 'কালকে এসেছিল তো?'
রেখা বলল 'কালকে এসেছিল, তাহলে ও  কি কাজটা করে গেল বলো?আজকে আবার আসলো না। এভাবে পারা যায়?'
মনোজ বললো 'ঠিকআছে এ কটা দিন তুমি সহ্য করো ।এখন আমিও তো বেরোতে পারছি না বলো? লোক দেখাবো কি করে?'
রেখা বলল ' ওরা ঠিক  সুযোগ বুঝে দাও মারে।'
মনোজ বলল' ঠিক আছে এখন ঐসব নিয়ে ভাবলে চলবে না ।তোমার হাতের কাজগুলো করে যত তাড়াতাড়ি পারো ,তুমি পার্থদের বাড়ি যাও।'
রেখা বলল 'হ্যাঁ ,এই তো এখন স্নান করবো, পুজো করবো,  কিছু খেয়ে যাচ্ছি।'
মনোজ বলল' ঠিক আছে।'
লেখা তাড়াতাড়ি বাথরুমে ঢুকে গেল গিয়েই শাওয়ারটা ছেড়ে দিল শো শো করে জলের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে ।অন্যদিকে আরেকটি বাথরুমের কল ও খুলে দিয়েছে।'
রেখা বাথরুমে  স্নান করতে করতে ভাবতে লাগলো সব যেন ঠিক হয়ে যায় ঈশ্বর।

১৭ ডিসেম্বর ২০২১

ফেরদৌসী খানম রীনা 





বিজয় মানে


বিজয় মানে সবুজের মধ্যে
লাল একটি পতাকা,
বিজয় মানে বিশ্ব মাঝে 
বাংলাদেশ মানচিত্র আঁকা। 

বিজয় মানে স্বাধীন দেশ
আনন্দ মনের মাঝে,
বিজয় মানে দোয়েল,কোকিল
ডাকে সন্ধ্যা  সাজে।

বিজয় মানে মায়ের চোখে 
ছেলে হারানো জল,
বিজয় মানে ছেলে হারিয়েও
আছে যেন মায়ের বল।

বিজয় মানে বাবার কাঁধে
আদরের ছেলের লাশ,
বিজয় মানে অশ্রু মোছে বোন
হয়েছে তার সর্বনাশ।

বিজয় মানে পরাধীনতা থেকে
মুক্তির গান,
বিজয় মানে মুক্তিযোদ্ধার
রাখলো দেশের মান।

বিজয় মানে মুক্ত -স্বাধীন দেশ
সুন্দর পরিবেশ,
বিজয় মানে স্বাধীন চেতা
বাঙালি অনিমেষ।

মমতা রায়চৌধুরী/ ৭১





উপন্যাস

 টানাপোড়েন ৭১
তরতাজা প্রাণ ঝরে গেল

মমতা রায়চৌধুরী


বাপরে বাপ আগুন লেগেছে যেন বাজার দরে। বাজার থেকে ফেরার পর রেখার মাথাটা গরম হয়ে গেল। সাধারণত মনোজ ই বাজার ঘাট করে।
আজ ছুটির দিন যদিও মনোজই চেয়েছিল বাজারে যেতে কিন্তু রেখা বেরোতে দেয় নি ।সবেমাত্র এত বড় একটি রোগের কোপ থেকে উঠলো। কি করে ওই বাজারে আবার ওকে যেতে দেয়? এই ভাবনা থেকেই গেছিল বাজারে করতে ।পার্থর  শরীর খারাপ ,নইলে ওই করে দিচ্ছিল। তাহলে সাধারণ মানুষ কি খাবে?
দুই হাতে বাজারের ব্যাগ নামিয়ে বকবক করছিল। মনোজ ঘর থেকে শুনতে পেয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে বলল' কি হলো ?কার সঙ্গে কি জন্য বকবক করছ?
রেখা মাক্স টা খুলে হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে ভালো করে হাত পা হাত ধুয়ে টেবিল থেকে এক গ্লাস জল ঢকঢক করে খেলো তারপর হাত ছেড়ে বলল আর বোলো না বাজার নিয়ে কথা বলছিলাম আপন মনে।
মনোজ বলল-কেন কি হয়েছে বাজারে?
রেখা বলল মূল্যবৃদ্ধি বাজারে আগুন লেগেছে দেখলাম। তবে জানো তো একটা ব্যাপার আমার একটু সন্দেহ লাগলো।
মনোজ বলল 'কি ব্যাপারে,?'
রেখা বলল' বাজারে আজকে দেখলাম  যে কাঁচা আনাজ এর দাম জিজ্ঞেস করছেন বেশ কয়েকজন ব্যক্তি ।ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা ও বলছেন?'
মনোজ বলল 'হঠাৎ এই কথা বলছ কেন?'
রেখা বলল 'আমার না একটা সিক্স সেন্স কাজ করছে জানো ।তার আগে বল তো বাজারে কি প্রতিদিনই এরকম কিছু মানুষ দরদাম জিজ্ঞেস করে?'
মনোজ বলল 'বাবা একদিন বাজার করতে গিয়ে তো তুমি একদম রিপোর্টারের মত কথা বলছ?'
রেখা বলল 'দেখলে তোমাকে আমার একটা বিষয়ে সন্দেহ হওয়াতেই তো আমি তোমাকে এই কথাটা জিজ্ঞেস করছি ,উত্তর দাও?'
মনোজ বলল 'না তুমি যেভাবে বলছে সেভাবে লোক দাম দর করে না ।যারা বাজার করতে যায় তারা।'
রেখা একটু ভাবতে ভাবতে বললো 'দেখো আজকে একটা কিছু বাজারের খবর পাব?'
এরকম কথা হতে হতে হঠাৎ পার্থর বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ ভেসে আসলো।
রেখা বেশ হকচকিয়ে যায় আর মনোজকে বলল 'হঠাৎ পার্থদের বাড়ি থেকে কান্নার আওয়াজ কেন?'
মনোজ ও  কান পেতে শোনার চেষ্টা করলো।
মনোজ বলল-হ্যাঁ পার্থদের বাড়ি থেকেই পাওয়া যাচ্ছে কি ব্যাপার বল তো?'
লেখাগুলো কাকিমার কান্নার আওয়াজ পাচ্ছো ?
মনোজ বলল' পার্থর কিছু হল?'একটু ওয়েট করো ফোন করি।
রেখা বলল ফোন করাটা শোভনীয় নয় এই মুহূর্তে কেউ ফোন রিসিভ করবে না তার থেকে বরং যায় দেখে আসি।
মনে যে বললে ঠিকই বলেছ চলো যাই।
দেখা বলল-তোমার যাওয়াটা ঠিক হবে না তুমি থাকো। আমি যাচ্ছি।
মনোজ বলল' তাই হয় ?পাশাপাশি থাকি আমরা।
রেখা বলল' আরে আমি তো যাচ্ছি বাবা ।আমি আগে  দেখি কি হচ্ছে। তারপরে না হয় ভেবে-চিন্তে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে ।হঠাৎই তোমার অত ছুটোছুটি করে যেতে হবে না।
মনোজ বলল ঠিক আছে যাও তুমি।
রেখা হন্তদন্ত হয়ে বেরিয়ে গেল দরজাটা খুলতে গিয়ে কলাপসিবল গেটে লাগলো চিৎকার করে উঠল উফ উফ বাপরে বাপ একটু তাড়াতাড়ি যেতে চাইছি সেখানে দেখো দরজা ভেঙ্গে ফেলতে ইচ্ছে করছে।
মনোজ বলল-'এসো হাতে একটু জল দাও।'
রেখা বললো 'থাক আর লাগবে না।
রেখা পার্থ দের বাড়ি নিয়ে পৌঁছালো । যাবার সময় রেখার বাজানো উঠছিল এই না কি একটা চাপা উদ্বেগ কাজ করছিল কি জন্য কিসের জন্য কার এই ভাবনা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছিল। রেখা গিয়ে প্রার্থীদের বাড়ির দরজার কাছে গিয়ে কলিং বেল আর বাজাতে হলো না দেখলেও দরজাটা খোলাই আছে রেখা বাড়ির ভেতরে ঢুকলো সরাসরি ওদের ড্রইং রুমে গেল। সেখানে যেতেই শুনতে পায় পাশের ঘরে কাকিমার  কান্নার আওয়াজ আসছে ।রেখা সেখানে গেল ।সেখানে গিয়ে দেখছে পার্থর জেঠতুতো ,খুড়তুতো পরিবারের লোকজন এসে হাজির ।রেখা বুঝতে পারছে না ,কি বলবে ?'
হঠাৎ পার্থ দিকে তাকিয়ে রেখা ঈশারায় জানতে চাইল কি হয়েছে?
দিশা বলল 'পার্থর ভাই শুভায়ন কে দেখিয়ে ইশারায় বোঝালো নেই?
রেখা সবটুকু বুঝতে পেরে একটু ধাতস্থ হবার চেষ্টা করছে কিন্তু ভেবে উঠতে পারছে না কেন একইভাবে এই ঘটনা ঘটলো।
রেখা জানে পার্বত্য প্রেমী এই ছেলে। আবার নিশ্চয়ই কোন দুর্গম স্থানে যাওয়ার প্ল্যান করেছিল।
শুভায়ন এর বন্ধু অনীক বলল'একদম ঠিক বলেছেন।'
রেখা বলল'2019 সালে এক দুর্গম পার্বত্য এলাকায় টেকিং করতে গিয়েছিল।
অনীক বলল তারপর থেকেই তো রীতিমতো কি নেশায় পেয়ে গেছিল।'
রেখা বলল' সত্যি তো পার্বত্য পথ কত দুর্গম হয়।'
অনীক বলল'জানেন আপনারা ।ও দিন রাত গুগলে পার্বত্য পথের এডভ্যাঞ্চার খুঁজতো?'
রেখা তো শুনে অবাক।
পার্থ বলল''করোনা কালে লকডাউন চলায়  ২০২০কোথাও যেতে পারে নি।"
অনীক বলল'পুরনো ট্রেকিং এর ছবি ফেসবুকে দিয়ে স্মৃতিচারণা করেই সে বছর টা কাটিয়ে দিয়েছিল দিব্য ।আর ফোনে ফোন করে বল তো ভাই পাহাড বড্ড মিস করছি।'
অনীক বলল '২০২১ সালে করোনা গ্রাফ নামতেই 
উত্তরাখণ্ডের টিকিট কেটেছিল।'
রেখা বললো ' কোথায় যেতে চেয়েছিল?'
অনীক বলল 'দেশের মধ্যে সবথেকে দুর্গম স্থান।'
এর মধ্যে থেকে থেকে পার্থ শুভায়ন এর মা সেন্স হারিয়ে যেতে থাকলো।
অনীক বললো জানেন 'আন্টি পার্বত্য পথ দুর্গম বলে সেগুলো সঙ্গে নিয়েছিল'.।'
রেখা বললো  'কি কি নিয়েছিল?'
অনীক বলল' জাতীয় পতাকা?'
রেখা বলল'ও জাতীয় পতাকা নিয়ে  শৃঙ্গ  জয়ের স্বপ্ন দেখেছিল তাই তো?'
পার্থ বলল'জানেন বৌদি   থেকে ছিটকুল যাওয়ার পথেই ও নিখোঁজ হয়ে যায়। '
রেখা বলল "ওরা তো সঙ্গে তো আরো পর্বতারোহী ছিল?
পার্থ বলল 17 ও 18 অক্টোবর প্রবল তুষারপাত হয় ওই এলাকায় ।'
রেখা বললো 'ঐ সময়ে কি অঘটনটা ঘটে?'
পার্থ বলল'ওদের হোদিশ না পাওয়াতে
 19 তারিখ থেকে তল্লাশি শুরু করে বাহিনী।'
রেখা বলল" তারপর আর কোন খবর পাও নি তোমরা?'
পার্থ বলল গত বৃহস্পতিবার নামখানা পাশ থেকে 100 সেন্টিমিটার পুরু বরফের আস্তরণ সরিয়ে..
পার্থ আর কথা বলতে পারলো না চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল আর হাউ হাউ করে কেঁদে উঠলো।
শুভায়ন এর বন্ধু অনেক বলল বরফের পুরু আস্তরণ সরিয়ে আমার প্রিয় বন্ধু শুভর উদ্ধার করা হয় নিথর দেহ।'
এরপর শুভায়ন এর বন্ধু অনীক ও কাঁদতে শুরু করে আর বলতে থাকে দুর্গম ট্রেকিং প্রাণ কাল আমার বন্ধুর।'
রেখার চোখ ও  জলে ভরে উঠলো ।শুভায়ন খুব মিশুকে ছেলে ছিল। বাড়িতে গেলেই সব সময় বৌদি বৌদি বলে উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠতো।
রেখা শুভায়ন এর মা দাদা পরিবারের অন্যান্যদের সান্ত্বনা দিতে লাগলো।
ইতিমধ্যেই দেখা গেল তরতাজা এক তরুণের মৃত্যুতে পরিবার-পরিজনদের পাশাপাশি স্কুলের বন্ধুদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে এবং আস্তে আস্তে সুকান্তের বাড়ির লোকজন এ ভর্তি হয়ে যায়। রেখার অন্তরে ধ্বনিত হতে থাকে 'জীবন ও মরণের সীমানা ছাড়িয়ে বন্ধু হে আমার রয়েছো দাঁড়ায়ে..।'
রেখা আর একটু থাকত কিন্তু বাড়িতে আসতে হল মনোজের খাবার-দাবার ,মিলি ও তার বাচ্চাগুলোর খাবার- দেবার জন্য।
রেখা বাড়িতে এসে দেখছে কলাপসিবল গেট টা ভেজানো আছে তার মধ্যেই দেখছে মন কার সাথে কথা বলছে এসে দেখছে সুমিতার সঙ্গে।
রেখাকে দেখে মনোজ বলল জানো তো তোমার আই ডিয়াটাই ঠিক।'
রেখা বলল' কি ব্যাপারে?'
মনোজ বলল 'আজ করুণাময়ী বাজারে ই'বির অভিযান হয়েছিল।'
রেখা বললো 'বললাম না আমার কেমন সন্দেহ হয়েছিল লোকজনগুলোকে দেখে।
তারপরেই মনোজ বলল' ও বাড়িতে কি খবর?
রেখা মধ্যে কাঁদতে বলল 'শুভায়ন...
মনোজ বলল 'তাহলে দুর্গম ট্রেকিং প্রাণ কাড়ল শুভায়ানের ।'
রেখা বলল 'সেটা তো আছেই। সেইসঙ্গে কাকিমার মনে কি ‌ টানাপোড়েনই না   চলছে ভেতরে ভেতরে ।কত ই না ক্ষতবিক্ষত হচ্ছেন।এক বছর কাকু চলে গেলেন। দুটো ধাক্কা সামলানো মুশকিল ব্যাপার।