০৭ অক্টোবর ২০২১

মামুন তালুকদার




শব্দহীন যুদ্ধ


বন্দুক-বোমার শব্দ নেই,
মর্টার-মেশিনগানের শব্দ নেই
ট্যাঙ্ক-কামানের শব্দ নেই,
কোন যুদ্ধ বিমানের শব্দ নেই, 
কিন্তু যুদ্ধ চলছে।
যুদ্ধের বিভীষণে -
ছোট্ট শিশুটিও মায়ের কোল ছেড়ে
হয়েছে করুণ শরণার্থী।
ফোনের ওপাশ থেকে বলে-
বাবা, আমাকে তোমাদের কাছে নিয়ে যাও,
তোমাদের কাছে যাব,
আমাকে তোমাদের কাছে নিয়ে যাও।
কিন্তু বাবাকে অদৃশ্য শত্রুদল ঘিরে ফেলেছে,
কণ্ঠনালী, ফুসফুস বেশি বিপর্যস্ত,
নিঃশ্বাসে নীরব ঘাতক,
শিশুটিকে বুকে ধরার সাধ্য নেই।

যুদ্ধ আছে, লাশের মিছিল আছে,
যুদ্ধের দামামা নেই।
সকল অহংকার পায়ে ঠেলে
সাদা পতাকা ওড়ানোর ইচ্ছে আছে,
কিন্তু কোন সন্ধিপত্র নেই।
কান্না আছে, রক্তক্ষরণ আছে,
শব্দ নেই, প্রবাহ নেই।
যুদ্ধ চলছে, শব্দহীন যুদ্ধ।

মাহমুদা মৌ





সময়ের ইতিকথা 


তুমি আদর পাঠিয়েছিলে 
নিঃশর্ত দাবীতে , শব্দের সাজে
রঙিন খামে মুড়ে ।
ভালোবেসেছিলে দূরন্ত গতিতে,
শেফালিকার শুভেচ্ছা জানিয়ে ! 
যুগল স্বপ্ন দেখিয়েছিলে 
দোলনচাঁপা ক্যামেলিয়ার 
পাপড়িতে বাসর সাজিয়ে ! 
ভাবনায় ডুবে যেতে 
একান্ত সময়কে বিসর্জন দিয়ে । 
অথচ সময়ের ব্যবধানে 
ঘন কালো মেঘ করে প্রবলে বেগে 
ঘুর্নিঝড়ের মতো উড়ে চলে গেলে 
উপকূলে আছড়ে পরার হুঁশিয়ারী
সংকেত জানিয়ে ,
ডুব দিলে নিজস্ব জগতে ।

vccxv

LOVE

zxv

LOVE

sdfcdv

LOVE

উম্মে হাবীবা আফরোজা




ভালোবাসার আত্মকথা

ভালোবাসা তুমি,
শ্বেত পদ্ম ফোঁটা শুভ্রতার
মায়াজল,
অনুভবের নদীতে ডুবন্ত এক জোড়া হংস মিথুন।

কিংবা শিশিরের স্নানে ভেঁজা
স্নিগ্ধতার অনুভবে প্রজাপতি মন।।

ভালোবাসা তুমি,
অভিমানি কিশোরীর নিকষ কালো চোখের কাজল,
চিরকুটের ভাঁজে ভাঁজে ফিসফিসিয়ে তোমার
আলতো স্পর্শের আঁছড়।।

ভালোবাসা তুমি,
গোধূলীর রক্তিম আভায়
সমুদ্র তটের গহীন স্রোতে বিলীন হওয়া, নিমগ্ন পিয়াসীর বিমুগ্ধ মন।

ভালোবাসা তুমি,
বিষাদ অনুরাগে পাশে থাকার প্রত্যয়ে
অভিমানি মেঘের সাথে
চুক্তিবদ্ধ সন্ধির যুগল প্রেমের বন্ধন।

ভালোবাসা তুমি,
রবি ঠাকুরের-'' সেই দিন চৈত্র মাস,
তোমার চোখে দেখেছিলাম আমার সর্বনাশ।"

কিংবা কবি নির্মলেন্দুর " আমি বলছি না আমাকে ভালোবাসতে হবেই, কেউ একজন অন্তত আমার জন্য অপেক্ষায় থাকুক।"

ভালোবাসা তুমি,
দীর্ঘনিঃশ্বাসের অসীম যন্ত্রনা,
দূরত্বময় আবেগীয় সম্পর্কের পিছুটান।
 প্রেমিকের বুকে ঝড় তোলা প্লাবন,
প্রেমিকার অন্তরের বোবা কান্না,
চাওয়া পাওয়ার গভীর এক আকুতি।

ভালোবাসা ও মৌহের মানবিক দ্বন্ধে,
ভালোবাসা তুমি যে চির মহান, তুমি যে হৃদ স্পন্দের
অপর এক নাম।

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২১

একান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "। 




                                                       টানাপোড়েন (২১)

                                                                         বোধোদয়


দিনকে দিন বুম্বা কেমন বেয়ারা হয়ে যাচ্ছে দেখো।রাতে খাবার টেবিলে কথাটা পারলো সুরূপা।কিন্তু সুধাময় কোনো উত্তর দিলো না।
সুরূপা আবার বলল ' কি বলছি, শুনতে পাচ্ছ না?'(একটু ঝাঁঝের সুরে )।
এবার সুধাময় খাবার টেবিল ছেড়ে উঠে পড়ল।
এবার আরো জোরে সূরূপা চেঁচিয়ে  বলল  'সন্তান কি শুধু আমার?'
সুধাময় জানলার কাছে দাঁড়িয়ে সিগারেটের পর সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। কোন কথার জবাব দিচ্ছে না।
এতে সুরূপা আরো রেগে যায়। আর বলে 'এই সংসার থেকে আমাকেই চলে যেতে হবে। তাহলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।'
এবার সুধাময় বলল 'তুমি বুঝতে পেরেছ বলো ,সুরুপা ?'আজ তোমার জন্যই এসব হয়েছে।'
এবার সুরূপা ক্রোধান্বিত হয়ে বলল' 'আমার জন্য হয়েছে?'বলেই কেঁদে ফেলল।'
সুধাময় বলল 'ভেবে দেখো পাঁচ বছর আগের কথা। তখন কি বুম্বা এরকম ছিল? প্রতিটা দিন কেটেছে তাদের কত আনন্দে। তোমার তো সেগুলো পছন্দ হয় নি।'
সুরূপা কেঁদে কেঁদে বলল 'কেন আমি ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে ভেবে কি ভুল করেছি?'
সুধাময় বলল 'এখন তো সেটা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছো। তুমি সঠিক ছিলে ,না বেঠিক?'
সুরূপা বলল 'হ্যাঁ তুমি তো এখন আমাকে এসব বলবেই। তাহলে তুমিই বা কেন এসেছিলে কলকাতায়?'
সুধাময় বলল 'অফিস থেকে ফেরার পর রোজ তুমি আমার কানের কাছে এক গান গাইতে। গ্রামে থেকে নাকি তুমি তোমার ছেলেকে মানুষ করতে পারবে না ।শুধু কি তাই ,আমার বাবা -মার জন্য নাকি তোমার ছেলে বিগড়ে যাচ্ছে? রোজ অশান্তি, রোজ । রোজ অশান্তির থেকে বনবাস ভালো..?'
সুরূপা বলল 'আমি কলকাতায় ছেলেকে ভালো স্কুলে ভর্তি করতে চেয়েছি ,ছেলের ভবিষ্যতের কথা ভেবেছি। প্রতিটি মা চায় তার সন্তানের ভালো হোক। আমিও চেয়েছি।
সুধাময় বলল 'কেন গ্রামে থেকে কি ছেলেকে মানুষ করা যেত না? শুধুই
 বলতে আমার বাবা-মা তোমার কাছে বাড়তি? আর আমিও সন্তান হিসেবে মা-বাবাকে সঠিক মর্যাদা না দিয়ে চলে এসেছি।'
সুরূপা বলল 'তাহলে তুমি কেন তোমার বাবা-মার সঙ্গে থাকলে না?'
সুধাময় বলল 'হ্যাঁ আমি থাকি আর আমার হাতে হাত করাটা পড়ুক তাই না? তুমি যে কত নাটক করতে পারো? ভগবান ছাড়া আর কারো জানার উপায় নেই। শুধু কি তাই? ছুটির দিনগুলোতে বুম্বাকে নিয়ে একটু গ্রামে যেতাম ঠাকুমা দাদুর কাছে, এটাও তোমার অপছন্দের।'
সুধাময়ের ভেতরের তীব্র জ্বালা থেকে আরো বলতে লাগলো'বুম্বার শৈশব থেকে শুরু করে কৈশোর পর্যন্ত তার সার্বিক বিকাশ হবার জন্য যা যা দরকার তার ঘাটতি ছিল। এইজন্য আজ বয়সন্ধির সময় ছেলেকে নিয়ে এত ভোগান্তি।কলকাতায় এসে ও কি সেরকম বন্ধুবান্ধবকে পেয়েছে? দুদিন স্কুল থেকে ফিরে ও মন মরা হয়েছিল বলো। অথচ ছুটির দিনে যখন ওকে গ্রামের বাড়িতে নিয়ে যেতাম সেখানে গিয়ে ওর আনন্দ-উচ্ছ্বাস যেন আকাশ ভেঙে পড়তো। তুমি সেগুলো বন্ধ করে দিলে।
সব সময় বাঁধা নিষেধ। আজ তোমার ছেলে কোন বাঁধাই মানে না। কারো কথাই শোনে না। তুমি মা এখন তুমি শাসন করো। তখন পেরে উঠছ না, অমনি আমাকে দোষারোপ করতে শুরু করলে না?'
সুরূপা বলল 'আমার কথা ও শোনে না। তাই বলছিলাম তুমি যদি একটু ওকে বলতে?'
সুধাময় বলল  'আমি কি বলবো, বলো তো ?আমি তো জানি ওর চাহিদা পূরণ হওয়ার জন্য কত কিছুর অভাব ছিল। আমরা বাবা -মা হিসেবে ব্যর্থ হয়েছি। শুধু তাই নয় আমার বাবা -মাকে অবহেলা করে আমি চলে এসেছি ,এর যন্ত্রণা তো আমাকে ভোগ করতেই হবে সুরূপা ।
সুরূপা নিরুত্তর তার কথা বলার ভাষা নেই।
সুধাময় বলল আমারও ভুল আছে শুধু তোমার একার নয় ,আমি যদি সেদিন তোমার কথা শুনে কলকাতায় না আসতাম। তাহলে বোধহয়  এ‌ দিনটা দেখতে হতো না।'
দীর্ঘশ্বাস ফেলে সুধাময় বলে  'দেখি ওর সাথে কথা বলে ও কেন এরকম করছে।'
সুরূপা যেন আশার আলো দেখতে পায়। সঙ্গে সঙ্গে ব্যাঘ্র ভাবে বলে ওঠে 'হ্যাঁ ,আমি তো সেই কথাই বলছি। তুমি একটু দেখো নিশ্চয়ই আমার ছেলে তোমার কথা শুনবে। জানো তো আজকে ভাত খায় নি।'
সুধাময় ব্যাকুল ভাবে বলল 'তুমি এতক্ষণে আমাকে বলছো? কোথায় ও?'
বেরিয়ে গেছে সেই সন্ধ্যেবেলায় এখনো ফেরে নি। সামনে মাধ্যমিক পরীক্ষা। কি হবে আমি ভেবেই পাচ্ছি না। ওকে যখনই বলতে যাই বাবু ,একটু ভালো করে পড় ।বোর্ডের পরীক্ষা আছে। ভালো রেজাল্ট না করতে পারলে ,তুই তো তোর কোন আশাই পূর্ণ করতে পারবি না।
 তাতে ছেলে বলল ' করোণা পরিস্থিতিতে বোর্ডের পরীক্ষা হবে নাকি? স্কুল কি খুলছে ।'
সুরূপা বলল 'পরীক্ষা হবে না তোকে কে বলেছে যদি পরীক্ষা হয় ।তখন কি করবি?'জানো, তখন চুপ করে থাকে। আর বলে বেশি বকো না তো।'
সুধাময় বলল 'কোথায় গেছে জানো?'
সুরূপা বলল 'রাজদীপদের বাড়ি।
সুধাময় বলল 'বড় চিন্তায় ফেললে সুরূপা। রাজদীপ ছেলেটা মোটেই ভালো নয়। ওর অনেক বদ গুন আছে।বুম্বাকে গ্রাস না করে?'ফোন নম্বর আছে?
সুরূপা বলল 'না '।
সুধাময় চিন্তিত ভাবে বলল 'রাত নটা বাজে।'কোবিদ পরিস্থিতিতে এতক্ষণ বাইরে থাকা উচিত নয়। তাহলে আমাকে ওর বাড়ি যেতে হবে।'
সুরূপা বলল 'না ,আজকে রাজদীপদের বাড়িতে থাকবে।'
সুধাময় বলল 'তুমি কি করে জানলে?"
সুরূপা বলল 'একটা আননোন নম্বর থেকে কল এসেছিল ।আমি রিসিভ করেছি ।তখনই একথা বলল।'
সুধাময় বলল সুরূপা ছেলেকে রাজদীপের সংস্পর্শ থেকে ফেরাতে হবে।
সুরূপা বলল 'কিন্তু কিভাবে?"
সুধাময় বলল 'কালকে রাজদীপ এর বাড়ি থেকে ফিরলে ,বুম্বার সাথে কথা বলবো। পরশুদিন মহালয়া আছে। দেখি বাবা-মায়ের কাছে যাবো একবার। বুম্বাকেও নিয়ে যাবো।'
সুরূপা এই প্রথম শ্বশুর-শাশুড়ির ওখানে যাওয়ার কথা শুনেও চুপ করে রইলো।( মাথা নিচু করে)।
সুধাময় ভাবতে থাকে মহালয়ার দিন ভোর বেলায় গ্রামে কত সুন্দর কেটেছে। বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের রেডিওতে কন্ঠ শোনার জন্য, ঘড়িতে এলার্ম দিয়ে রাখা। তারপর সব বন্ধু-বান্ধব মিলে বাজি পটকা ফাটানো,তারপর তর্পণ দেখার  জন্য নদীর নদীতে ভিড় জমানো ,শৈশবের সেই সোনালী দিনগুলোর কথা ভেবে চোখে জল চলে এসেছিল। তাই গানটা বড্ড মনে বাজে ' 'দিনগুলো মোর সোনার খাঁচায় রইল না'। অথচ আজকের প্রজন্ম মহালয়ার গুরুত্বই বুঝতে পারে না। মহালায়া কখন আসে, কখন যায়। কিছুই বোঝে না।ওদের দোষ নয়। আজকের সমাজবাস্তবতার এক  নিষ্ঠুর দলিল।পারস্পরিক সহানুভূতি ,সমানুভূতি,ভালোবাসা এইগুলো এদের মধ্যে এখন দেখা যায় না। যেগুলো আমাদের গ্রামেতে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে থেকে হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করে যে সুখানুভূতি পাওয়া যায় ।শহরেতে তা নয়।
হঠাৎই ফোনে ক্রিংক্রিং আওয়াজ করে উঠল সুধাময় বলল ' দেখো তো কার ফোন?'
সুরূপা বলল  হ্যাঁ দেখছি। হ্যালো''কে বলছেন?
ওপার থেকে সারা আসলো 'আমি রাজদীপ এর বাবা বলছি। আপনারা একবার আমাদের বাড়িতে আসতে পারবেন?
কথাটা শুনে সুরূপা বলল 'কেন কি হয়েছে?'"
রাজদীপের বাবা বলল 'বুম্বার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে ।আমরা ওকে হসপিটালে এডমিট করেছি। আপনারা তাড়াতাড়ি চলে আসুন।"
কথাটা শুনেই সুরূপা সেন্সলেস হয়ে যায়। অপরদিক থেকে ফোনে " হ্যালো হ্যালো 'হয়ে যেতে লাগল।'
ওদিকে ভাসাভাসা কথা সুধাময়ের  কানে এসেছে ।ফোনে কোন কথাবার্তার আওয়াজ না পেয়ে বলে ,সুরূপা কি হয়েছে?' সাড়া না পেয়ে সুধাময় যায় পাশের ঘরেতে।'
সেখানে গিয়ে দেখে সুরূপা সেন্সলেস হয়ে পড়ে আছে।
সুধাময় তাড়াতাড়ি সেন্স ফিরানোর জন্য যা যা করণীয় ।সবকিছু করে । 
সেন্স ফিরলে সুরূপা বলে"আমার বূম্বা কোথায়? আমার বুম্বাকে আমার কাছে এনে দাও ।ওই বাড়িতে গেলে ওর ক্ষতি হবে ।আমি তোমাকে বলছিলাম না?'
সুধাময় বলল  বলো ,কি বলেছেন উনি? '
সুরুপা বলল  'বুম্বার অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছে ।হসপিটালাইজড। সুধাময় বলল  'এক্ষুনি যেতে হবে।'
বলেই গাড়িটা বের করল।
সুরূপা বলল ' আমিও যাব'।
সুধাময় বলল  'তোমাকে যেতে হবে না।'আমি ফোনে তোমাকে সব জানাবো।'
সুধাময় চলে যাবার পর সুরূপা বসে বসে ভাবতে লাগলো সত্যিই গ্রামের বাড়িতে শ্বশুর-শাশুড়ি মাকে নিয়ে তারা ভালই ছিল। কি কুক্ষণে যে তার মতিভ্রম ঘটেছিল ,কে বলতে পারে? আজ  মনে পড়ছে তার শাশুড়ি মা কত যত্ন করে নাতি বুম্বাকে পছন্দের জিনিস খাওয়াতেন। এমনকি সুরুপাকে কত স্নেহ করতেন । অথচ নিজের ইগোর জন্য আত্মীয় পরিজন ছেড়ে আজ বনবাসে।আর তার ছেলেটিও অমানুষ পরিণত হয়ে যাচ্ছে। তাই সুরূপা ভেবে স্থির করে নেয় ।তার ছেলের সুস্থ হয়ে ফিরলে তার দাদু ঠাকুমাকে কলকাতায় নিয়ে আসতে হবে। সে যে ভুলগুলো করেছে, তার যাতে পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেই চেষ্টাই করবে।









ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"২১ ক্রমশ

তাজ ইসলাম




যাদুকর এসে গেছে


যাদুকর এসে গেছে
মানুষের গালে কামড়াবে কুকুর
মানুষের ভুঁড়িতে কামড়াবে কুকুর
মানুষের সম্মানে কামড়াবে কুকুর
আপনারা এই কুকুরটিকে দেখবেন 
এটি একটি মানুষ
কী চমৎকার যাদু না!
যাদুকর এসে গেছে
এখন যাদু দেখাবেন
মানুষের কীর্তি উল্টে দেবে কুকুর
মানুষের সুনাম কামড়াবে কুকুর
নেকাব কামড়াবে কুকুর
লকব কামড়াবে কুকুর
খেতাব কামড়াবে কুকুর
ইজ্জতে কামড় দিবে কুকুর
যাদুকর তার যাদু মন্ত্র বলে
এই কুকুরটিকেই দেখাবে 
এটি একটি মানুষ।
যাদুকরের যাদুর ভেলকিতে
বিজ্ঞতা ছাড়া বুঝার উপায় থাকবে
মানুষের রূপে এটি আসলে
একটি কুকুর
কেননা যাদুকর তার যাদু মন্ত্রে
মজমায় হাজির করলেন
মানুষের মত করেই একেকটি কুকুর
যেমন প্রবল কৌতুহলে একটি শিশু
ভীড় ঠেলে গিয়ে দেখে
চোরটা দেখতে অবিকল মানুষ।

গোলাম কবির






কতিপয় মানুষ ও মুশোশধারী বরাহরা


  ইউক্যালিপটাসের বাকল যেমন খসে পড়ে
  তেমনি আবারও সুন্দর ভাবে যদি 
  গজিয়ে উঠতো সভ্যতার ছাল চামড়া,
  তবে আমার কোনো দুঃখ ছিলো না! 
  কিন্তু হায়! অশোকের বাকল 
  ছাড়িয়ে নেবার পরও যেমন বৃক্ষটি 
  বেঁচে থাকে কায়ক্লেশে তেমনি করেই  
  কায়ক্লেশে বেঁচে থাকে কতিপয় মানুষ! 
  অথচ অন্যদিকে মানুষ নামের মুখোশধারী 
   বরাহরা পৃথিবীকে কাদাজল বানিয়ে 
   আনন্দে কী ভীষণ দাপিয়ে বেড়াচ্ছে!


রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়,৭

 চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" 
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 




                                    উদাসী মেঘের ডানায়  
                                                 (পর্ব সাত)


পরদিন ওরা আবার ফিরে এলো কক্সবাজারে
বেশ রাত হয়ে গেলো।
রাতের ডিনার আজ তৃষ্ণাই অর্ডার দিয়েছে
খেতে বসে অপু বললো
ঃএকি আজ মাংস দিতে বললি?
ঃআমি এসে থেকে দেখছি অপু দিব্য দুবেলা মাংস
খেয়ে,যাচ্ছো, মাছ,সবজি নাম মাত্র খাচ্ছো, আজ
মাছ সবজি ডাল খাবে।
ঃআমার তো তাহলে খাওয়াই হবেনা প্লিজ গরু বা
খাসির মাংস না হলে।
ঃতাই বেশ মুরগী দিতে বলছি তাহলে।
ঃমুরগী আমি খাবোনা।
ঃকেন?
ঃমুরগী শিয়ালে খায়, আমি কি শিয়াল
তৃষ্ণা হাসতে হাসতে বললো
তুমি কি,বাচ্চা নাকি, একি সমস্যা মাংস ছাড়া খাবেনা
বলছি কিন্ত একপিস রাজি।
রাজি।
ঃখাও খেয়ে খেয়ে বিশাল ভুড়ি বানাও তখন বুঝবে ঠেলা
ঃআমি রোজ এক্সসেসাইজ করি হবেনা।
ঃবড্ড পেটুক তুমি।
খাওয়া,শেষে দুজন কিছুটা সময় গল্প করলো
ঃতৃষ্ণা বললো যাই রুমে ঘুম পাচ্ছে।
ঃকাল কিন্তু সমুদ্রস্নানে যাবো তারপর বারোটায় ঢাকায় রওনা হবো।
আমি স্নান করবোনা সাঁতার জানিনা ভয় করে।
ঃকাল দেখা যাবে যাও ঘুমাতে
শুভ রাত্রি
শুভ রাত্রি...


                                                                                                                      চলবে....

আশ্রাফ বাবু


শব্দহীন মনের আস্তানা


অন্যমনস্ক সন্ধের আঁধারে হাওয়া শুনি 
জেগে ওঠে মায়া আর নির্জন ভয়ের আখ্যান
পাখিদের ঘিরে জমে ওঠে হেঁসে ওঠে
আমার কিছুক্ষণ চুপচাপ ইহকাল !

মেঘের ভাঙা মন মেলে দিয়ে বসে আছে
ভেসে আসছে কাঁপানো বীরের বাঘের ডাক 
শুনে তবু শুকিয়ে মুখ- চোখ হাতচাপা !
সূর্য গেছে,আলো গেছে,দৃপ্ত গান রচিত হয়েছে। 

সুরের গোধূলি জাঁগে আকাশ প্রান্তরে 
অকস্মাৎ শব্দহীন মনের আস্তানা জুড়ে
অল্প সূত্র জানা আছে আলোর আড়ালে
জমে উঠছে অন্ধকার,শান্ত তাকিয়ে গোল চাঁদ।

ঘন্টাধ্বনি জেগে থাকে জনপদে
রাত্রি বলে চেনা যায় না আজ লুকানো আলোয়,
অন্যমনস্ক সন্ধের আঁধারে হাওয়া শুনি 
আলো গেছে,মন হারিয়ে যেতে চায় সেখানে।

সফিক ইসলাম




মন ভালো নেই


মন ভালো নেই
আজকে আমার মন ভালো নেই
শ্রাবণ মেঘের  বৃষ্টি ঝরার এই দিনেও মন ভালো নেই।
নিয়ম ভাঙার লৌকিকতা পার করেছি খুব সহজেই 
তবু আমার মন ভালো নেই। 
আজকে শুধু তোমার কথা ভীষণ করে পড়ছে মনে
বিষের নীলাভ দহন ব্যথাই পুড়ছে কেবল হৃদয় কোণে
স্মৃতির বনে জ্বলছে আগুন ; মেঘ চাতালে  বৃষ্টি শুকাই
আটপৌরে  সুখ খুঁজতে যেয়ে শ্রাবণ থেকে মুখটা লুকাই। 

অথচ কী দারুণ ছিল একটি সময়, পুলক জলে যেতাম ভেসে বৃষ্টি হলে---
অনুভবে জমতো কেবল ব্যাকুল করা ভালোবাসা পলে পলে। 
চোখের পাতায় নাচতো শুধু  তোমার দেহের ধ্রুপদী তাল  
বৃষ্টিজলের শব্দ শুনে কার যে পায়ের নূপুর ভেবে যখন তখন হতাম মাতাল,
ভালো করেই  এসব তোমার ছিল জানা ----
তাই কি তুমি মিষ্টি হাসির ছলনাতে বদলে গেলে এপথ ভুলে!
তাই কি তোমার বিষের এমন ছোবল হানা!

আজকে কেন  শ্রাবণ আকাশ  বিষণ্নতার মেঘে ভরা
আজকে কেন সব কিছুকেই লাগছে এমন দিগম্বরা
 কার অপেক্ষায় দিন কাটে তো রাত কাটে না
একাকীত্বের যাপনবেলায়  কিছুই তো আর  ভাল্লাগে না।
 
মন ভালো নেই ----
আজকে আমার মন ভালো নেই
হাজার কয়েক বইয়ের মাঝেই  আমার এখন বসত ঘর
ভালো করেই জানি আমি বই কখনো করে না পর,
বইয়ের সাথেই সখ্য গড়ি, যেমন ইচ্ছে সে বই পড়ি
তবু আমার মন ভালো নেই। 
এসব বইয়ের পাতায় পাতায় জমে থাকা স্মৃতির ধুলো
খুব যতনে আগলে রাখি অমূল্য সেই ছোঁয়াগুলো
তবু আমার মন ভালো নেই। 

সব কিছু আজ এলোমেলো জীবন থেকে হারিয়ে গেলো  যেটুক সময়
সেই কথাটা মনে রেখে  কী আর হবে,  একটি ভুলেই ভীষণ ক্ষতের সৃষ্টি যে হয়
সে ই জানে ক্ষতটা যার, সারা জীবন ক্ষতের দহন  তার কেমনে সইতে  যে হয়।

মন ভালো নেই--
আজকে আমার একটুকুও মন ভালো নেই
শ্রাবণ ধারার বৃষ্টি জলে সব ধুয়ে আজ সাফ হলেও                                    মনের ব্যথা আজকে আমার রইল মনেই।

অরণ্য আপন




তার মুখ একটি বন্ধুত্বপূর্ণ পাখি



এই আকাশ মরে যাবে; চলে যাবে চোখের ভাষা থেকে
যে হৃদয় আমি রেখেছি হাতে
ছেড়ে গেছে সে সন্ধ্যা ফুরানো রাতে
তারপর অনেকদিন তাকে ঘুঘুর চোখের মতো গেছি ডেকে 
শরৎ যেভাবে রোদ ডেকে নিয়ে আসে চোখে 
আশ্বিনের এই রাতের গায়ে পড়েছে তার অক্ষরের ছায়া
আমার মৃত চোখে অন্ধকার নিবিড় হয়ে আসে, ডাক দেয় কষে তার মায়া 

কতদিন হায় ঘর ছেড়েছি তার কাছে হৃদয় রেখে
তাকে দেখি না, হয়তো কোনোদিন আমি তাকে দেখিনি
অন্ধকারের ঘ্রাণ পেয়ে সে চলে গেছে ভোরের মুখ অন্ধকার করে
তার চোখ আমাকে খোঁজে না, তার মন আমার কথা বলে না 
আমার পৃথিবী একদিন মরে যাবে তার পেঁচা ডাকা ঘরে 
দুপুরের মাঠ ভরে জোহরের আজান একা একা ঘোরে 
জানি না আশ্বিনের কোন রাত তাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে আসবে ভোরে...