২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন"১০

অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার মতো আকর্ষণীয়  মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" পড়ুন ও অপরকে পড়তে সহযোগিতা করুন  




                        টানাপোড়েন (পর্ব ১০)
                                         
                                        দুশ্চিন্তা



                                                   রেখা ভেবেই  রেখেছিল আজ অলস ছুটির দুপুর, মনোজ ব্যারাকপুরে ছোট পিসি শাশুড়ির বাড়ি যাবে।সারা দুপর শুধু ঘুম আর ঘুম। সকাল সকাল কাজ গুছিয়ে নিয়েছে। পুটু রবিবার আসবে না ।সারা নির্জন দুপুরে রেখার শুধু ঘুম আর ঘুম।একটা ম্যাগাজিন ওল্টাতে ওল্টাতে কখন যে ঘুমিয়ে  পড়েছে। হঠাৎ কাকিমা কাকিমা বলে চিৎকার,ঘুম জড়ানো চোখে কান খাড়া করে শোনার চেষ্টা করলো। হ্যাঁ, রেখাকেই তো ডাকছে। বৃষ্টি পড়ছে ছাদে জামাকাপড় ভিজে যাচ্ছে। তাকিয়ে দেখে পাশের বাড়ির চৈতালি। ওর সাথে চোখাচোখি হতেই বলল  'কখন থেকে ডাকছি কাকিমা।'
আরে তুই কবে এসেছিস?
জানতেই পারি‌ নি তুই এসেছিস।
চৈতালি বলল  'পাঁচ ছয় দিন হবে। আসলে তুমি স্কুল নিয়ে এ‌ত ব্যস্ত। বেরিয়ে যাও সেই সকাল সকাল। এ দিকে ঢোকো অনেক দেরীতে। ভেবেছিলাম আজ দুপুর বেলায় আসব। তারপর তোমার কোন সাড়া শব্দ পেলাম না। ভাবলাম ছুটির দিন হয়তো তোমার কাজ আ‌ছে ‌।পরে সন্ধ্যের দিকে আসবো।
 রেখা বলল  'দাঁড়া চৈতি ।-বলেইছুটে গিয়ে জামাকাপড় নামিয়ে নিয়ে আসল। কিন্তু একটু ভিজে গেল। চৈতালি তখনো দেখে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। 
রেখা জিজ্ঞেস করল  'তুই কি একবারে চলে আসলি। শ্বশুরবাড়িতে শাশুড়ি মা সাধ খাইয়ে দিয়েছে?
চৈতালি  চুপ করে আছে ।তোর ক মাস হল। ১0 এ পা দিলি না? আসলে জানলার ধারে দাঁড়িয়ে আছে ।ওকে বোঝাই যাচ্ছিল না। শেষে কাঁদতে শুরু করল।
 কান্নার আওয়াজে ওর মা ছুটে আসলো। ওর মা বলল  'আর ব'ল না দিদি বাচ্চাটা তো নষ্ট হয়ে গেছে।'
রেখা অবাক ব্যাগ্রভাবে  বলল "কি করে?
চৈতির মা বলল  "আমাদের পোড়া কপাল। মাসে মাসে যে ডাক্তার দেখানোর কথা ,ইনজেকশন নেওয়ার কথা সেগুলো শ্বশুরবাড়িতে কোন ব্যবস্থাই করে নি।'
রেখা অবাক হয়ে বলল,'সে কি? ওর শাশুড়ি মা তো ভালো। তাহলে এরকম কাজ করলেন কেন?
চৈতির মা বলল  'আমরাও তো ভালোই জানতাম । এখন দেখুন তার মুখোশটা বেরিয়ে এসেছে। ওরা চায় না ওর সন্তান হোক।'
রেখা বলল  'এ আবার কি কথা?'
চৈতির মা বলল ' কি আর বলব দুঃখের কথা দিদি। ওর ননদের বাচ্চা আছে ,তাই বলছে আর বাচ্চা নিয়ে কি হবে?বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেছে ,ওর শাশুড়িমার কোনো হেলদোল নেই। বরং ওকে বলেছে তুমি বাবার বাড়িতে যেতে চাইলে চলে যাও ।এরপরে আর যেতে পারবে না। যেতে হলে আজই যেতে হবে। তখনো ওর ঐ রকম ব্লিডিং হচ্ছে ।মনের অবস্থাটা ভাবো দিদি।মেয়ে ফোন করাতে আমরা গিয়ে নিয়ে আসলাম।'
রেখা চিন্তিতভাবে বলল  ' আর ওর বর। সেও চায় না?'
চৈতির মা বলল  'একটা ছেলে ,মায়ের কথায় ওঠে বসে...বলেই চুপ করে গেল।'
রেখা বলল 'তাই বলে নিজের সন্তানের সঙ্গে কম্প্রোমাইজ?
চৈতির মা বলল "মেয়েকে তখনই বলেছিলাম নিয়ে আসি। ও রাজি হয়নি। ভেবেছিলো বাবা-মায়ের সংসারে টানাটানি। নুন আনতে পান্তা ফুরায়।আবার গিয়ে খরচ বাড়াবো? এই ভাবনাটা ওর কাল হলো।'
চৈতি তো কেঁদেই চলেছে।
রেখা মনের কষ্টটা অনুভব করে বলল ' কাঁদিস না ?গাছ থাকলে ফল ধরবে। তুই আগে সুস্থ হ।
চৈতির মা বলল  'আমরা শোনামাত্রই দিদি নিয়ে চলে এসেছি। ভালো করে ডাক্তার দেখিয়ে ,তারপরে ছাড়বো।
এতক্ষণ পর চৈতালি বলল 'মা বাবা ।মা বাবাই হয় ,কাকিমা।
রেখা ব‌লল  তুই তো বলেছিলি তোর শাশুড়ি মা খুব ভালো।
 চৈতির মা বলল 'বিয়ের পর কটা মাস ভালই ছিল। কিন্তু এখন পুরো অন্য রকম। ওকে এই অবস্থাতেও সব কাজ করিয়েছে ।ছেলের সামনে কিন্তু করায় নি ।ছেলে অফিসে চলে গেলেই সব কাজ ওকে দিয়ে করানো হতো। অথচ ডাক্তার ওকে বেড রেস্টে থাকতে বলেছিলেন।একথাগুলো মেয়ে আমাদেরকে জানায় নি। জানলে তো তখনই নিয়ে আসতাম।  এত বড় ক্ষতি তো আর হতে পারত না।'বলেই কাঁদতে লাগল।
রেখা বলল  'যা হবার তো হয়েই গেছে। এবার থেকে সাবধানে। ডাক্তারের কথামত চলবি।'
চৈতির মা বলল  'আমিও বলেছি ডাক্তার ক'মাস পর বাচ্চা নেওয়ার কথা বলেছেন। তখন  বাচ্চা পেটে আসলে আমাদেরকে জানাতে, আমরা তোকে গিয়ে নিয়ে আসবো। আমাদের সাংসারিক অনটনের কথা তোকে ভাবতে হবে না।'
রেখা বলল  'একদমই ঠিক কথা দিদি। এই চৈতি মন খারাপ করিস না আসিস হ্যাঁ বাড়িতে।'
চৈতির মা বলল  'সব সময় মন খারাপ করে বসে থাকে। ওই দেখো বকবক করেই যাচ্ছি।এদিকে তোমার সব জামাকাপড় ভিজে গেছে না গো। অনেকক্ষণ থেকেই ডাকছি আসলে ঘুমিয়ে পড়েছিলে তো।
রেখা বলল 'হ্যাঁ কি করে যে এত ঘুমিয়ে পড়লাম।'
চৈতির মা বলল  'পুটু কাজে আসে নি তো আজকে?'
রেখা বলল   'সে‌  তো আজ কদিন থেকেই আসছে না।'
চৈতির মা বলল ্'আজকে দেখলাম অটো করে যেতে'
একটু অন্যমনস্ক ভাবে যাচ্ছিল ।চোখে-মুখে চিন্তার ছাপ ছিল। আর কিছু জিজ্ঞেস করলাম না ।তখন আমি চৈতিকে নিয়ে আসছি ডাক্তারের কাছ থেকে।'
এ বাবা তাহলে কি হবে ?রেখা বলল ।ও কি কালকেও কাজে আসবে না? কালকে তো আমাকে স্কুলে যেতেই হবে ।আমার স্কুলের এক দিদিমনির ফেয়ারওয়েল আছে। না গেলে কি হবে বলো তো দিদি ।এতদিনের কলিগ ওরা আমার বাড়ির সমস্যার কথা বুঝবে না। ভারী চিন্তায় পড়ে গেলাম।
'ক'দিন হলো আসছে না 'চৈতির মা বলল।
রেখা বলল 'এই তো আজ ৫ দিন হল।কি জানি ভাইরাল ফিভার হলো কিনা? যাইহোক একটা তো খবর পাঠাবে দিদি। জানে তো আমাকে বেরোতে হয়।
চৈতির মা বলল ' কাজের লোকগুলোই এ রকম জানো তো।'
রেখা বলল  'আমরা ওদের ছাড়া চলতে পারব না। সে দুর্বল জায়গাটুকু ওরা বুঝে গেছে। কিন্তু ও যদি খবর না পাঠায় আমাকে তো অন্য লোক দেখতেই হবে।'
চৈতির মা বলল   'হ্যাঁ তা তো ঠিকই। এখন ওদের আবার ইউনিয়ন হয়েছে। ওদের এত বাড়বাড়ন্ত।একটা ফোন করে দেখতে পারো।
রেখার চোখে মুখে একটা দুশ্চিন্তার ছাপ, কাহা তক সম্ভব। রাত ৮ টায় বাড়ি ফিরে...? বাবা ,এদিকে বৃষ্টির ধোঁয়া ছুটছে। ক দিনের নিম্নচাপ..?
কাকিমা কাকু কোথায়? চৈতি বলল।
হ্যাঁ ,তাই তো একটা খবর তো নেওয়া হয় নি ।কি মরণ ঘুম আমার এসেছিল। আর বলিস না ছোট পিসি শাশুড়ির বাড়িতে গেছে। ওখানে কি হয়েছে কে জানে? দেখি একটা ফোন করি। তুই কোন দুশ্চিন্তা করবি না চৈতি। দেখবি সব ঠিক হয়ে যাবে। '
চৈতি বলে  'সেই আশাতেই তো আছি  কাকিমা।
রেখা আশ্বাস দিয়ে বলে 'ঠিক আছে রে ।ঐদিকের জানলাগুলো দিই নি। জানলাগুলো লাগিয়ে দিই  বুঝেছিস? পরে সময় করে আমার ছুটির দিন দেখে আসবি -বলেই হাতের জামা কাপড়গুলো নিয়ে টেবিলে রাখল ।আর হন্তদন্ত হয়ে জানলা লাগাতে লাগলো। ওদিকে ঝড়ো হাওয়ায় দরাম দরাম করে জানলাগুলো আওয়াজ হচ্ছে। পাশের বাড়ি ছেলেটার রোমান্টিক  গান লাগিয়েছে দেখো ।'এই মেঘলা দিনে একলা ।ঘরে থাকে না তো মন'। বাপরে বাপ ঘরে থাকার কি দরকার, বেরিয়ে গেলেই হয়। নির্ঘাত প্রেমে পড়েছে। যাক গে‌ বাবা ,যে পড়েছে পড়ুক ।আমি বরং
 মনোজকে একটা ফোন করি। রিং করলো কিন্তু ফোনের লাইনের কি অবস্থা?পুক  পুক্ করে আওয়াজ নেটের এত সমস্যা..? ধুত্তেরি ফোন ছেড়ে দিয়ে সন্ধ্যাবাতি দেবার জোগাড় করতে লাগলো। যা বৃষ্টির হাল ট্রেন বন্ধ না হয়ে যায়। দুশ্চিন্তায় পড়ল রেখা।
এবার কি করবে রেখা? টিভিটা খুল্লো অন্যমনস্ক ভাবে। খবরে দেখাচ্ছ আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ আছে ।স্বাভাবিক পরিস্থিতি হলে ট্রেন আবার চালু হবে। যা বৃষ্টির অবস্থা, মনে হচ্ছে সমুদ্র এসে গ্রাস করবে। এখন রেখা কী করবে ,ভেবে ভেবে গা দিয়ে দরদর করে ঘাম ঝরছে।




ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"১০ ক্রমশ

তালুকদার ইমরোজ




আয়না 
  

কত কিছুই তো আবিষ্কার হলো
সভ্যতা এগুলো কত দিকেই,
তবুও অনেকটা ঘোর অন্ধকারে আজও রয়ে গেল মানুষ!
বিবেক এগুলো কত ইঞ্চি,
কত ইঞ্চি এগুলো মানুষের মন;
তা জানা যায় না খুব সহজেই…
আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন খুব যত্ন করে নিজেকে দেখি,
পরিপাটি করে সাজিয়ে নেই ঝলমলে মেকি অবয়ব।
মাঝেমধ্যে ভাবী,আহারে!
এমন একটি আয়না যদি আবিষ্কার হতো,যেখানে-
মানুষের মনের পশুগুলো
দেখা যেত অনায়াসে,
প্রত্যেকেই নিজেকে দেখে-
ঘৃণায় ঘৃণায় হয়ে উঠত পরিশ্রুত।

শহিদ মিয়া বাহর




চল সখি যমুনায় যাই


চল সখি যমুনায় যাই
ঢেউয়ের পিরিতের কাঁখে বাঁধি বুকের ভাদর
আশ্বিনের উজানের ছলকে পরাই পায়ের ঘুঙুর, যমুনা মেয়ের মত জোছনার পায়েল। 

চল সখি যমুনায় যাই
তোর দু:খগুলো বেঁধে রাখি জলের যৌবনে
দূরাগত জাহাজের মাস্তুলে খোঁপা খুলে পরাই তোর রাধিকা ফাগুন 
কাঁঠালিচাপার পিরানে হিম হিম সুবাস, পাল তোলা কইতরি বাতাস। 

চল সখি যমুনায় যাই
তুই আর আমি লাজুক ছায়া মেখে
স্নানের অবসরে লুকিয়ে রাখি বসন্তের মেঘ; যাবতীয় রাত্রির বিলাসী আঁধার। 

চল সখি যমুনায় যাই
জলে জলে ধুয়ে ফেলি আমাদের ধূলোমাখা সনাতন মুসাফির মন।

সানি সরকার





জন্মদিনের কবিতা, ঝুমঝুমকে 

পাখিটি ঠোঁটে একটি ধান শিস   নিয়ে এল 
আর কোথাও নয়, তোর বারান্দায়... 
তারপর ড্রয়িং রুমের  সেন্টার টেবলে 

পাখিদের মনে ছিল আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, 
আজ তোর শুভ জন্মদিন 

পাখিরা বাস্তব চেনে, অতীত চেনে, দিনক্ষণও 
ওঁরা গোলাপি ঠোঁটে ভালবাসার চাদর বয়ে নিয়ে এসে 
সমস্ত বাড়িতে রামধনু এঁকে দ্যায় 

ভালবাসা এতটাই দামী ও মোলায়েম... 

পাখিদের জন্মদিন মনে থাকে 
আমার কিছুই মনে থাকে না  








রাহাত জামিল




অনিয়ম


নিয়ম গুলো বড্ড অনিয়ম!
বেলা ফুরালে বোধ হয় জীবন সঁপে যায়
অনিয়মের ঘরাপেটায়।
অসহ্য যন্ত্রনা কাতর রাত,
এ যেন শেষ হওয়ার নয়
এ রাত বড়ো কঠিন সুন্দর!
অপরূপ জোৎস্নাও কুৎসিত লাগে
অনিয়মের যন্ত্রণায়।
নির্জীব কাদার মত অসুখ 
যেন সেঁটে আছে পিঠে-বুকে;
আহ!সে কি অসহ্য পীড়া
মনে হয় রাত যেন অসীম হয়ে গেছে
নির্লিপ্ত স্বপ্নবাজ রজনী আজ কদর্য বীভৎস।
যাতনায় ক্লিষ্ট নয়ন যুগল একটু 
প্রশান্তি খোঁজে মধ্যরাতের জানালায়,
জীবনের বাসি ঋণ চুকিয়ে ফেলার
পোষণ হয় নিস্তরঙ্গ মননের অন্দরমহলে।

এ অদৃষ্ট থেকে মৃত্যুর সকরুণ আহ্বান নয়তো!

সুবহে সাদিকে তন্দ্রা ভঙ্গ হয়
আম্মার সুমধুর ইয়াসীন তেলোয়াতে!
সীমাহীন রাত তট পায় ভোরের আলোয়।

saaff

LOVE

asfdaef

LOVE

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১

হা‌বিবুর রহমান এ‌র লেখা "সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা"৫

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা





সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা 
(ম পর্ব)



                     সাধনা কি বা কা‌কে ব‌লে? সাধনা বা প্রচেষ্টা হ‌লো কোন এক‌টি কাজ সুষ্ঠুভা‌বে সমাধা‌নের ল‌ক্ষ্যে একা‌ন্তে লে‌গে থাকা কিংবা প্রচেষ্টা জারী রাখার নামই হ‌লো সাধনা। তাই সম‌য়ের ঘাট‌তি থাকা স‌ত্বেও একা‌ন্তে লে‌গে থাকার দরুনই হয়তবা দুএক কলম লেখা সম্ভব হয়। 

ইদা‌নিং নানান ঝা‌মেলায় দিন কাট‌ছে। সহধ‌র্মিণীর কিছুটা স্বাস্থ‌্যগত জ‌টিলতার সা‌থে নি‌জের অ‌ফি‌সিয়াল ব‌্যস্ততায় যেন একদম হা‌ফি‌য়ে উ‌ঠে‌ছি। ত‌বে যে মহৎ মান‌ুষ‌টির নাম আ‌মি গত প‌র্বে না বলার জন‌্য ঘোষনা দি‌য়ে‌ছিলাম সেই সুহৃদ ব‌্যক্তির একপ্রকার জ্বালাত‌নে এত ব‌্যস্ততার ম‌ধ্যেও বস‌তেই হ‌লো আজ খাতা কলম নিয়ে। 

রাত বাড়‌ছে, ঘুমের সময়ও ধী‌রে ধী‌রে হ্রাস পা‌চ্ছে আর এমন এক মান‌সিক দুঃ‌শ্চিন্তা সঙ্গে নি‌য়ে লিখ‌তে ব‌সে‌ছি। কারণ, দুএক কলম লিখ‌তেই হ‌বে আর এ পর্বটি প‌ত্রিকায় ছাপা‌তেই হ‌বে। সহধ‌র্মিণী কিছুটা শারী‌রিকভা‌বে অসুস্থ থাকা স‌ত্বেও আজ রাত থে‌কেই অগ্রীম রান্না করার কা‌জে ‌তি‌নি ব‌্যস্ত আ‌ছেন। তাঁর অন‌্যতম ভাল গুণ‌টি হ‌লো-তি‌নি নিজ হা‌তে সদা রান্নাবান্নার কাজ ক‌রেন এবং কা‌জের মে‌য়ের হা‌তের রান্না কোন‌দিনই খান না। বরং তা‌দের দি‌য়ে রান্না করা‌নোটাও মো‌টেই পছন্দ ক‌রেন না। বোধ ক‌রি তাঁর হা‌তের সুস্বাদু খাবার খে‌য়েই শরীরটা আজও অটুট রাখ‌তে পে‌রে‌ছি।  

অাগামীকাল ঢাকায় বসবাসকারী সহধ‌র্মিণীর দুই বোন ও দুই ভাই তা‌দের প‌রিবার পরিজন নিয়ে আমার বাসায় বেড়া‌তে আস‌বেন। সেনাবা‌হিনীতে ছে‌লের মেজর প‌দে পদোন্ন‌তির সুখবরটি জান‌তে পারার পর তারা আস‌বেন সবাই মিলে ভা‌গ্নের সা‌থে দেখ‌তে কর‌তে। স্বশরী‌রে অ‌ভিনন্দন জানা‌তে। সবাই মি‌লে একসা‌থে কিছু সময় কাটা‌নো আর প‌দোন্ন‌তি উপল‌ক্ষ্যে ভা‌গ্নে‌কে শু‌ভেচ্ছা জা‌নি‌য়ে এ সুসসময়‌টি উদযাপন করাটাই হ‌বে এ মহা‌মিল‌নের মুল লক্ষ‌্য। বাজার করা, রান্না করা ও ঘর গোছা‌নো থে‌কে শুরু ক‌রে আনুসা‌ঙ্গিক সব‌কিছুর আ‌য়োজন সহধ‌র্মিণীর একক প্রচেষ্টায় তাঁর একহা‌তেই ই‌তোমধ্যে সুসম্পন্ন হ‌য়ে‌ছে। 

সংসারটা বোধ ক‌রি এক‌টি সমু‌দ্রের মতন। এ জ‌টিল সমু‌দ্র পা‌ড়ি দেবার জন‌্য স্বামী য‌দি নৌকা হ‌য়ে থা‌কে ত‌বে স্ত্রী অবশ‌্যই ‌সেই নে‌ৗকার‌ যে বৈঠা হ‌বেন সে ব‌্যাপা‌রে আ‌মি নি‌শ্চিত। বৈঠা বিহীন নৌকা‌টি সম্পূর্ণ অচল-এটাই রূঢ় বাস্তবতা।





ক্রমশ

মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন"৯

অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার মতো আকর্ষণীয়  মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" পড়ুন ও অপরকে পড়তে সহযোগিতা করুন  


টানাপোড়েন (পর্ব-)

চাপ


পরের দিন যখন স্কুলে গেলো রেখা, সেদিন এত চাপ মুখ ই তুলতে পারে নি। 10 ক্লাসের ক্লাস টিচার। মেয়েদের চেকলিস্ট এর সই, তথ্যগুলো সঠিক কিনা সেগুলো ভালো করে যাচাই করে অনলাইনে পুট করতে হবে। এর মধ্যে রিম্পাদি কয়েকবার এসে তাড়া দিয়ে গেছে। কি রে টিফিন করবি তো ,চল? 
হ্যাঁ ,এই যাচ্ছি রিম্পাদি। কিছু মেয়ে এত ভুল করছে, ডকুমেন্টস রয়েছে ।তা সত্বেও দেখে দেখে ভুল। এখনো দশটা মেয়ের মত বাকি। 
ম্যাম আমি কি কাস্ট লিখব?
 হ্যাঁ রে, বন্দনা ।তোর মাথা কি গেছে? তুই কি .st. sc. obc ,না জেনারেল? 
ম্যাম ,আমি জেনারেল। তাহলে বোকা বোকা কথা বলিস কেন? সেটাই লেখ। 
ওকে ম্যাম। 
আর কথায় কথায় ok বলতে হবে না। ঠিক আছে। এতক্ষণে কম্পিউটার থেকে ওঠার সময় হল। রিম্পা দি এসে আবার হাজির। আসলে কালকের ওই রোমিও জুলিয়েটের কথাটা ,এখনো রিম্পাদির মনে আছে । আর যদি প্রেমের গন্ধ পায় তাহলে আর রক্ষে নেই। একদিন শুনতে হবে রিম্পাদি কারো প্রেমে পড়েছিল কি না?গল্পটা যখন জানতে চাইছে, বলতেই হবে। আজকে কি সময় হবে? এরইমধ্যে
 রিম্পা দি চায়ের কাপ হাতে নিয়ে এসে বলল ' এই নে চা ।চা খা রেখা। মাথাটা ছেড়ে যাবে দেখ।'
রেখা ঘাড়টা একটু মটকাল তারপর বলল
'সত্যি মাথাটা ধরে আছে রিম্পা দি। কিন্তু তুমি চা নিয়ে কেন ?সন্ধ্যা দি কোথায়?'
'আছে কোথাও ।আমি নিয়ে আসলাম রিম্পাদি বলল।
'মাথা ধরবে না?  কখন এসে বসেছিস বল তো? তারপর বকবক, বকবক।
হ্যাঁ রে ,কালকের ঘটনাটা বলবি?'
রেখা ‌ জানে তো গতরাত্রে রিম্পাদির ঘুম হয় নি , কথাটি না শুনতে পেয়ে।এমনিতেই রোমান্টিক গল্প পেলে রিম্পাদি সেখান থেকে উঠতে চায় না। 
আমার ক্লান্ত অবসন্ন মুখ দেখে রিম্পা দি বলল_
'দাঁড়া তোর কপালটা একটু টিপে দেবো -বলেই মেসেজ করতে শুরু করলো রিম্পাদি'।
আমার এত আরাম লাগলো চোখটা বুজে আসলো তখনই ভাবতে লাগলাম এবার তো বলতেই হবে।
আর বোলো না রিম্পাদি ।আমার হাসবেন্ডের বন্ধু সুরঞ্জন ।ওর বোনের সাথে কালকের সেই রোমিওকে দেখালাম ,ওর সম্পর্ক ছিল।
 রিম্পাদি বলল-ওমা ,ওই মেয়েটি শিখা নাকি?
ধুত্তুরি খেপেছো নাকি? আরে সেদিনই ফোনে কথা বলছিল সুরঞ্জনদা।একটা ভালো ছেলে দেখতে। আমার বর বলল  'কার জন্য?
সুরঞ্জনদা বলল ' কার জন্য আবার। ভুলে গেলি আমার বোন শিখা।ওর তো এবার ফাইনাল ইয়ার হয়ে যাচ্ছে। এবার তো ভালো ছেলে দেখতে হবে,,।
 মনোজ অবাক হয়ে  'কিন্তু.. তোর বোনের..? বলেই থেমে যায়।"
হ্যাঁ ওর সম্পর্কটা ভেঙে গেছে। আমরাই ভেঙে দিয়েছি। তোর বৌদি কিছুতেই ওই ছেলেটির সঙ্গে শিখার বিয়ে দেবে না। যদিও ওর যথেষ্ট যুক্তি আছে। আর আমার বোন ও রাজি না। যতসব থার্ড ক্লাস ছেলে। আমার বোনের ওর থেকে অনেক ভালো জায়গায় বিয়ে হবে।'
মনোজ বলল  'যদি 
ও জিজ্ঞেস করা ঠিক নয় ,তবুও বলছি। এতদিনের সম্পর্ক।
সুরঞ্জনদা বলল 'কুকুরের পেটে ঘি হজম হয় না জানিস তো? একটা লাইন করা মেয়ের সাথে এখন নাকি লটকে গেছে। এজন্য আমরা ব্যাপারটা জানতে পেরে ওর থেকে সরে এসেছি। শিখা খুব কষ্ট পেয়েছে।
আজকাল কাকে বিশ্বাস করব বল তো ?পারিবারিক সূত্রে চেনাজানা ছিল। ছেলেটা ও ভালো ছিল কিন্তু কি করে যে এতটা চেঞ্জ হয়ে গেল। সেটা তো আমরা ভাবতেই পারছি না। বোনটার মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছে না। যতই হোক এতদিনের একটা সম্পর্ক। আমরা যতই বলি না কেন? ভেতর থেকে তো সেটা মেনে নেওয়া সম্ভব হয় না। তবু ওকে বোঝানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। ও নিজেও সেটা বুঝতে পারছে। এইজন্য একটু তাড়াতাড়ি ভালো ছেলের সম্বন্ধ খুঁজছি।
দেখ না মনোজ তোদেরও কোন জানাশোনা ভালো ছেলে থাকলে..?
মনোজ বললো ' নিশ্চয়ই'। শিখা তো আমার বোনের মতোই।
এই পর্যন্ত শুনেছি রিম্পা দি।
 রিম্পা দি সব শুনে বলল-হ্যাঁ রে ,রেখা মেয়েটি কেমন?
রেখা বলল-মেয়েটি দেখতে শুনতে খুব সুন্দর।
কেন ?
তোমার কাছে কোন ছেলের সন্ধান আছে?
রিম্পা দি বলল-আছে তো?
কে গো?
তোমার ভাই আছে নাকি?
ধুত্তরি, আমার আবার ভাই কোথা থেকে থাকবে।
আরে সেদিন শুভ্রাদি বলছিল ওর ভাইয়ের কথা।
ভাই নাকি বিদেশে থাকে। এই তো কদিন হলো দেশে এসেছে।
একেবারে বিদেশে থাকা ছেলে? চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় রেখা বলল।
এসব ছেলে কি আর বিদেশে কাউকে না পছন্দ করে রেখেছে বলো।
রিম্পা দি বলল 'আরে না শুনলাম ওর জন্য নাকি মেয়ে দেখা হচ্ছে।'
এরইমধ্যে মিলি  এসে কথাগুলো শুনছে। শুনে বলল তুমি সৌরভ এর কথা বলছো?
রিম্পা দি বলল  হ্যাঁ।
মিলি মুখটা । বেঁকিয়ে বলল 'শুনছি ওই ওই ছেলের নাকি মেয়ে ঠিক করা আছে।'
রিম্পা দি বলল : তাহলে শুভ্রাদি এত মেয়ের কথা বলছে কেন এত ঘটা করে?
আরে আমরা তো পাশে থাকি আমরা জানি।
একটু যেন রহস্যের গন্ধ পাওয়া গেল কথায়।
রেখা বলল 'এই কি ব্যাপার রে মিলি?
মিলি বললো 'আরে সে ছেলে তো বিবাহিতা সম্পর্কে আবদ্ধ?
অবাক হয়ে রিম্পাদি ও রেখা বলল-কি যা তা বলছিস মিলি?
মিলি   'ঠিক ই বলছি। বিয়ের আগে থেকে একটি মেয়েকে ভালবাসত। সেই মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেছে। এখনো নাকি সেই মেয়েটিকে ভালোবাসে।'
রেখা বলল 'ওই বিবাহিতা মেয়েটি কি রাজি হবে?
মিলি বললো  'ঘটনা অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
মেয়েটি যদি রাজি থাকে তাহলে ওদের বিয়ে হয়ে যাবে।'
রিম্পা দি বলল 'আমরা এত কাছে থেকে জানতে পারলাম না ।তুই কি করে জানলি?
গুপ্তচর হয়ে ।বুঝলে? মিলি বললো।
রেখা বলল 'না গো রিম্পাদি ।শিখা এমনিতেই কষ্টতে আছে। এই ধরনের ছেলের সঙ্গে সম্বন্ধ ঠিক করা অনুচিত। জেনেশুনে ওরকম একটা ছেলের সঙ্গে শিখার সম্বন্ধ ঠিক করা ,ঠিক হবে না।
'কি দিনকাল পরলো 'রিম্পা দি বলল। 
এদিকে বড়দি এসে তাড়া দিলেন ' কি হলো ,আপনাদের গল্প হল?
ওদিকে পরবর্তী রোল নম্বরের মেয়েরা লাইনে দাঁড়িয়ে আছে। একটু দেখুন।বলে চলে গেলেন।
রেখা বলল  'দেখলে রিম্পাদি ,বড়দি কেমন খোঁচা  দিয়ে কথাটা বলে গেলেন। শুধুমাত্র টিফিনটা খেলাম।
না বাবা, উঠি। কে যে কখন বড়দির কানে গিয়ে লাগাবে,..? এমনি কপালটা ভালো নয়। তার উপর মিথ্যে কথার কারসাজিতে কি কষ্ট বা দুর্ভোগ আছে কপালে কে জানে? মানে মানে সরে পরি। রিম্পা দি চাপ নিও না,পরে কথা হবে।

ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৯ ক্রমশ

তাহিয়া মাহবুব



চোখ
 

পাওয়া না পাওয়ার যে খেলা
এই খেলায় খেয়া পাঠাব বলে
বৈঠা খুঁজে খুঁজে কাঙাল হয়ে যাচ্ছি।
যেই রোদ্দুরে নীল মিলেমিশে একাকার হত
সেখানে উড়ন্ত দূড়ন্ত চিল 
কেন এমন ডানা ঝাপটায়?
এই পথে যখন কৃষানী হাঁটে,
কৃৃষক ধান ভানতে দৌঁড়ে বেড়ায়,
সে ঘাম মুক্তার মত 
জেগে উঠে না কৃষানীর চোখে?
আমি যদি বলি পাখি হব,
রোদ্দুর ছোঁব,
তুমি দেবে আমায় এক জোড়া ডানা? 
দেবে পাখির মত ভরহীন শরীর?
যদি বলি নীলে মিলেমিশে আকাশের সাথে 
সন্ধি পাতব,
যদি বলে ফেলি পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে 
চিৎকারে মাতব,
তবে হবে সেই প্রতিধবনি?
যদি বলি কোনদিন আকাশ দেখিনি আমি,
তবে তোমার চোখ জোড়া কি 
আকাশের চেয়েও কম কিছু?
বল? কম কিছু ?

সাফিয়া খন্দকার রেখা





নিম্নমধ্যবিত্ত জীবন এবং সঞ্চয়পত্র


গতকাল খবরে একটি সংবাদ এসেছে সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমে যাচ্ছে। সংবাদটি এ দেশের নিম্নমধ্যবিত্ত এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের যাপিত জীবনে অত্যন্ত প্রভাব ফেলেছে।  একজন সামাদ মিয়া পেনসনের কুড়ি লক্ষ টাকা সঞ্চয়পত্র কিনে মাসে আঠারো হাজার টাকা  লভ্যাংশ পান এবং এই ১৮ হাজার টাকায় তার পুরো মাসের প্রেসারের ঔষধ এবং চারজনার সংসারের বাজার খরচ চলতে মুদি দোকানে দেনা হয়ে যায়। সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমিয়ে দেয়ায় সামাদ মিয়া ১৮ হাজারের পরিবর্তে ১৩ হাজার টাকা পাবেন। চালের দাম আলু এবং ডালের দাম বেড়েছে কয়েক শতাংশ। এমন সামাদ মিয়াদের সংখ্যা এ দেশে অগণিত, সরকারের উচিত তাদের কথা মাথায় রেখে সঞ্চয়পত্রের লভ্যাংশ না কমিয়ে যেমন আছে তেমন রাখা অথবা বাজারদর বিবেচনায় কিছুটা বাড়িয়ে দেয়া।

উম্মে হাবীবা আফরোজা





অনুভূতির পাঁজর


দুঃসাহসী ভ্রমণের পথে,
সর্বোচ্চ শিখরচূড়ায় আরোহন করে, 
কালের যাত্রার পদধ্বনি শুনতে পাও;
অথচ, বিস্মৃতিপ্রদোষে তৃষার্ত আবেগে 
সমুদ্রের ঢেউবিলাসী পাখির মত, 
ডানাঝাপটানো ঝরা বকুলের কান্না তোমায় ছুঁ'তে পারে না!

এই দেখো;
কতোটা সংগোপনে তন্দ্রা জাগরণে তোমার অনুভবের পাঁজরের ছোঁয়ায় 
জাগাইছে আজ আমার অন্তরীক্ষে 
আলোকের শতখানি ঝলকানিময় যে হৃদয়স্পন্দন;
 নিরবে, নিভৃতে, নির্জনতার ছাদরে তা আষ্টেপৃষ্টে আগলে রেখেছি আজো যতনে;
যেখানে আজ অন্যথা নেই,
অন্য কিছু নেই,

আছো 'তুমি' নামক অস্তিত্ব 
সঞ্চিত ধনরত্ন ন্যায় আমারো 
হৃদয় মন্দিরে।

তোমাকে ঘিরে রচিত হয়েছিলো যে স্বপ্নগুলো, আজ তা দুষ্টু বেড়িবাঁধের আয়ত্তে বন্দী।

সাত সমুদ্র চিৎকারের আর্তনাদে 
স্বপ্নরা বয়ে চলেছে দিগন্ত জোড়া 
শালিকের পিট চড়ে।

জ্বলাঞ্জলী দ্বীপের মাঝে
ইচ্ছে ডানা আজ নির্বাসিত,
ভাসমান নদীর স্রোতে বিলীন
স্বপ্নরা আজ মৃতপ্রায়, 
বড্ড অবেলায়, অসহায়, নিরুপায়।

২২ সেপ্টেম্বর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন"৮

অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার মতো আকর্ষণীয়  মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" পড়ুন ও অপরকে পড়তে সহযোগিতা করুন  



                                                                 টানাপোড়েন ( পর্ব- )

                                                                   চেনা-অচেনা গল্প
  

                                                                    রেখা আজ ক মাস পর একটু স্বাভাবিক । দীপ্তিদির মারা যাবার পর ক্রমশই মনের ভেতর একটা ভয় কাজ করত ।সব পুরুষই প্রায় একইরকম। রেখাকে  কাউন্সিলিং করানো হয়েছে ।এখন রেখা আগের মতো স্কুলে যাচ্ছে। একি কাণ্ড যতসব ঘটনা কি রেখার সামনেই ঘটতে হয়।দীপ্তিদির মেয়ে ঋদ্ধিমা কি বাবার গুণটাই পেল?লাজ -লজ্জার মাথা খেয়ে কখনো স্টেশন চত্বরে একটা ছেলের কাঁধে মাথা রেখে গল্প করতে পারে। জানে তো যে ,মাসিমনিরা এখান থেকে ট্রেন ধরে ,দেখতে পেলে কি হবে? আজকালকার মেয়ে সে সব ধর্তব্যের মধ্যে নেই।

রেখাও  রিম্পাদি একসঙ্গে রিক্সায় আসে যায় । 
রিম্পা দি বলল  'রেখা এসব ধরতে যেও না তো। দীপ্তিদিদি থাকলে কষ্ট পেত ।সঙ্গে আমরাও।'
এমন সময় ফোন বেজে ওঠে।
রিম্পা দি বলল 'রেখা ফোনটা তোলো।'
 বেরোনোর সময় ফোন আসলে ভীষণ বিরক্ত লাগে। বিরক্তি ভরে ফোনটা রিসিভ করে বলল- হ্যালো'।
ওপারের কন্ঠ ভেসে এলো- 'আমি কি রেখার সঙ্গে কথা বলছি?'
রেখা-হ্যাঁ বলছি। আপনি কে?
ওপার থেকে আবার কন্ঠ হল'-আমি বিপাশা।'
 'কোন বিপাশা? 'রেখা বলল।
আরে মনে করতে পারছিস না। আমরা স্কুল লাইফে একসঙ্গে পড়াশোনা করেছি ।ধর্ম ডাঙ্গা বাড়ি।
রেখা-'আরে বিপাশা, কেমন আছিস?
বিপাসা  'শোন না একটা খবর দেওয়ার ছিল।'
রেখা বললো- কি?
আরে এবার গ্রামের বাড়িতে গিয়ে কাকিমা আর কাকুর খবর নিলাম। ওরা খুব কষ্টে আছে রে? পারলে একবার গিয়ে দেখা করিস। তোর দাদা বৌদি কলকাতার ফ্ল্যাটে চলে গেছে। ঠিক আছে রে ওখান থেকেই তো ফোন নম্বরটা যোগাড় করে ছিলাম। অনেকদিন পর তোর সঙ্গে কথা বলে ভালো লাগলো।
ভালো থাকিস।'ফোন কেটে গেল।
'কি উটকো ঝামেলায় পড়লাম বল‌ তো রিম্পা দি।'
রিম্পা দি বলল- ‌'সে তো বুঝলাম। কিন্তু কাকু কাকিমা বলতে কার কথা বোঝাতে চাইল। যতদূর জানি...?
রেখা কথাটি সমাপ্ত করতে না দিয়েই বলে  'আমার বাবা-মা নয় ।আমার কাকা কাকিমা। আমার বৌদি  খুব সুবিধার নয় ।এই জন্য তো আজকাল যাওয়া ছেড়ে দিয়েছি। কিন্তু কাকু -কাকিমা খুব করে যেতে বলেন। আমার কাকাতো বোন সোমদত্তা শুনেছি কিছুদিন আগে কাকিমা কাকু নাকি ওকে সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করেছে ।
সেজন্য ও যাওয়া আসা ছেড়ে দিয়েছে।
রিম্পা দি বললো  'একবার যাও ঘুরে আসো ,শুনলে যখন।'
রেখা বলল-হ্যাঁ দেখি নেক্সট উইকে যাব। তার আগে মনোজকে বলতে হবে। ওকে তো ছুটি নিতে হবে। রিম্পাদি বলল  ,জানো তো রেখা,ওই আমাদের পাশের বাড়ির অনুমিতা। তাকে চেনো তো?
রেখা বলল-আরে হ্যাঁ ,।ওই মুনাইকে পড়াতে আসতো তাই তো?
'একদম ঠিক বলেছ 'রিম্পা দি বলে।
কেন কি হয়েছে গো ?ওর কি বিয়ে ঠিক হয়েছে? মেয়টি কিন্তু বেশ।
রিম্পাদি চুপ করে থেকে বলল- 'জান তো একটা ঘটনা ঘটেছে।'
রেখা উৎসুকভরে বলল - কি?
এই যা ট্রেন ঢুকে গেছে। রেখা তাড়াতাড়ি ছোটোওভারব্রিজ পেরোতে হবে- বলেই রিম্পাদি ছুটতে শুরু করলো। আর একবার পেছন ফিরে দেখার চেষ্টা করল রেখা কত দূর। রেখা সাথে একজনের ধাক্কা লেগে গেল। ছেলেটি বলল আরেকটু আগে বের হতে পারেন না ।ট্রেন ঢুকলেই আপনারা ছুটতে শুরু করেন।
রেখা বলল- সরি সরি।
ছেলেটি আপন মনে গজগজ করতে লাগলো। ইতিমধ্যে রেখা  কম্পারমেন্টে উঠে হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো। দুটো সিট ও পেয়ে গেছে। এবারে রেখা জলের বোতলটা বের করে একটু জল খেয়ে নিল ।তারপর বললো  'এই বলো না কি হয়েছে?'
রিম্পাদি বলল-'আরে যে ছেলেটির সাথে সম্পর্ক ছিল সে‌ই ছেলেটি তো এখন চাকরি টাকরী পেয়েছে। এখন তো ওকে আর পাত্তা দিচ্ছে না। এদিকে হয়েছে কি অনুমিতা প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছে। ও আমার কাছে এসেছিল। কি সিদ্ধান্ত নেবে বুঝে উঠতে পারছে না।'
রেখা মাথায় হাত দিয়ে বলে  'সর্বনাশ। ওই ছেলে কী অন্য মেয়ের প্রেমে পড়েছে নাকি?
রিম্পা দি বলল  'হ্যাঁ ।তাছাড়া আবার কি। শরীরটা পাওয়া হয়ে গেলে কি আর কোনো চাহিদা থাকে। এবার মেয়েটার কী হবে বল তো?
রেখা বলল  'এবরশন করে নিক না।'
রিম্পা দি 'হ্যাঁ সেটা আমিও বলেছি।'
কিন্তু ওর  মনে একটু কিন্তু কিন্তু আছে ।একে তো বাচ্চাটা ম্যাচিওর করে গেছে আর সমানে বলছে ,ওর ভালোবাসার স্মৃতি ।ও এবরশন করবে না ।এখন রিক্স ও আছে। একটা কাজ খুঁজছে।আর বলছে যে এখন তো সিঙ্গেল মাদার হওয়া যায় ।নিজেই বাচ্চাকে মানুষ করবে। ভাবো একবার।
রেখা বলল- 'কেন  ও কি সারাটা জীবন এভাবেই কাটিয়ে দেবে নাকি?
রিম্পা দি বলল-ও বলছে একজন জীবনে তাকে ঠকিয়েছে ।আরেকজন যে ঠকাবে না, তার কি মানে আছে? তাছাড়া সুমিতকে যথেষ্ট ভালোবাসে ।ও যদি কখনো ফিরে আসে ।আবার ওকে গ্রহণ করবে।
রেখা বলল-বাবা এত ফিল্ম কা  কাহিনি গো
রিম্পাদি।
মেয়েটার মা নেই মধ্যবিত্ত ঘরের মেয়ে। প্রাণের চেয়ে অধিক ভালোবাসত সুমিতকে।
রেখা একটু কৌতূহল পরে জিজ্ঞাসা করল 'এটা কোন স্টেশন গেল? এই যা কল্যাণী এসে গেছে। আমি উঠছি তুমি সাবধানে যেও। আরে বাবা একটু সাইড দিন না আমি তো সামনে নামবো।একটু সরে কথা বলুন না -বলেই ,তাকিয়ে দেখে আর বলে ' দিব্যেন্দু না?  বেচারা পুরো ভ্যাবাচেকা খেয়ে আছে। বালিগঞ্জে বাড়ি না? আরে শিখাকে চেনো তো? হ্যাঁ ,করে তাকিয়ে আছে রেখার  দিকে। রেখা হাসতে হাসতে নেমে চলে গেল। জানালার কাছে গিয়ে রিম্পাদিকে ইশারায় দেখিয়ে বলল  'রোমিও জুলিয়েট তোমার সামনে ।তাকিয়ে দেখো ।পরে বলব। বাড়ি ফিরে এসেই রেখা ভেবেছিল একটু রেস্ট নেবে। কিন্তু না পুটু কাজে আসেনি। সারা দিন পর বাড়ি ফিরে এসে একটু ফ্রেশ হবে কি সেখানে রাজ্যের কাজ পড়ে আছে। রেখার তো চক্ষু চড়কগাছ। কি করবে এখন। এজন্যই কাজের লোক একদম পছন্দ হয়না। কিন্তু কিছু করার নেই রাখতেই হবে। কাজের মেয়ে সেটা ভালই বোঝে। তুমি মুখে হম্বিতম্বি করুক পুটু কে ছাড়া চলবে না। রেখা মনে মনে পুটুকে কিছু গালমন্দ করে নিল। কাছে সে মনে মনে ভাবল পুটুকে ছাড়া তো চলতেও‌পারবে না
কামাই একটু বেশি। কিন্তু মেয়েটি বিশ্বস্ত। তাছাড়াও কি কোন দায়িত্ব দিয়ে গেলে সেটা  ভালো ভাবে পালন করে। মোদ্দাকথা পুটু হলো রেখার ভরসার পাত্র।তাই
বলে কাজ কামাই করে, একা মনে মনে গজগজ করলেও পুটু আসলে ‌ হেসে কথা বলে। শুধু ‌তাই নয় ফ্রিজে মিষ্টি তরকারি সমস্ত কিছু রেখা রেখে দেয় পুটুর জন্য। রেখা ভাবতে লাগলো আগের দিনের বৃষ্টিতে ভেজার পর পুটুর শরীর খারাপ হয়নি তো? পটু এই সময় কামাই করলে রেখার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। এসব সাতপাঁচ ভাবতে ভাবতে রেখা কাজ করতে লাগলো আর ভাবতে লাগলো কতদিন বলেছে একটা ফোন নম্বর দিয়ে যেতে। সে কার কথা শোনে।
আর ভাবতে লাগলো কালকে যদি না আসে তাহলে 10 ক্লাসের চেকলিস্ট এর সই করানো আছে মেয়েদের কি যে হবে কে জানে? না আজকে কাজ গুছিয়ে রাখতে হবে পুটুর ভরসায় থাকলে হবে না। এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। রিং হয়ে গেল। রেখা বিরক্তিভরে ফোনটা রিসিভ করল। হ্যালো'।
শোনো ,আজকে আমার ফিরতে দেরী হবে। আমি একটু হসপিটালে আছি। বলেই ফোনটা কেটে দিলো।
রেখি আপন-মনে এক গজ গজ করতে করতে বলল অন্তত কার কি হয়েছে সেটা তো বলবে। মিনিমাম ভদ্রতাবোধটুকু পর্যন্ত নেই যে চিন্তা করবে। 
শুধু একটা ফোন করে দিয়েই খালাস ।কার কী হলো,কে জানে? অজানা অচেনা চিন্তায় রেখার মন ডুবেগেল।


ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৮ ক্রমশ