১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১

উম্মে হাবীবা আফরোজা


অন্তিমযাত্রা


মহাকালের যাত্রা ফেরিয়ে

ঘড়ির কাঁটাটা যেনো আজ বয়ে চলেছে

অন্তিমযাত্রার অভিমুখে।


মোহজালে বন্দী এই জীবন,

যেনো শত আলোকরশ্মির পিদিম জ্বেলে

মায়া অশ্রু-নয়নে আপাদমস্তক সমর্পিত হয়েছে

কোলাহল বিমুখতাময় জীবনের তরে।


হারিয়ে গেছে বর্ণিল সেই শৈশব,

ঘাস ফড়িং এর সেই প্রজাপতি মন,

স্বপ্নিল আবেশে ঘেরা কৃষ্ণচূড়ার পাপড়ি ছড়ানো প্রেমবিলাসী মন।


ক্রমশ হারিয়ে যাচ্ছি আমরা মানচিত্রের কাঁটাতারে বিচ্ছেদময় যাতনার রোষানলে।

হারিয়ে গেছে লাল টিপ, রেশমি চুঁড়ির ঝংকার,

আলোকচ্ছটাময় প্রাণচঞ্চল কিশোরীর মন।


হারিয়ে গেছে চিরতরে আমার প্রথম প্রেম, বাস্তবতার ব্যস্ততায়, নিদারুণ শূন্যতায়,

এমনি করে কালের স্বাক্ষী হয়ে হারিয়ে যাবেো আমি,তুমি, সেই বা তাহারাও।


সময়ের কাছে হারিয়ে যাবো আমরা সবাই,

এক কঠিন বাস্তবতায় অন্তিমযাত্রার সাথী হতে

তোমার অভিশপ্ত নাগরিক শহর থেকে

দূরে আরে দূরে।


রেবেকা সুলতানা (রেবা )


কান্দে ক্যারে মানুষ 


আচ্চা কইতে পারো মইরা গেলে

মানুষ  কান্দে ক্যারে?

আমি মরলে কি তোমার বুকের ভিতর 

সুমুদ্রের ঢেউয়ের মতো ভেঙ্গেচুরে  কান্না আসবে?

তোমার কি মন খারাপ হবে?

পাগলের মতো কি ছুটে আসবে?

এক নজর দেখার আসায়।

আমার জন্য কি তোমার মাঝে

শুন্যতা অনুভব হবে?

মইরা গেলে কি মানুষের কাছে

আপন হওয়া যায়? ভালো হওয়া যায়?

ভালোবাসা পাওয়া যায়?

 তাহলে মিছা মায়ায় ক্যান্দে ক্যারে ?

মরার আগে মানুষ টা কি এমন চায়?

অবহেলার বিষে বিষে বুকের ভিতরকার

জমিন খানি ফাঁইটা চৌচির হয়, 

কষ্ট পুইষা রাখতে রাখতে ভিতর ঘর

পুইড়া ছাঁই হইয়া যায়,

চাতক পাখির মতো চেয়ে থাকলেও

ক্যান প্রিয় মানুষের দেখা মেলেনা?

তবে ক্যান কান্দে মইরা গেলে?

সারা জীবনের জন্য মুক্তি দিয়ে গেলো

বলেই কি মাতম কইরা কান্দে?

নাকি মইরা গেল মানুষ ভালোবাসা বাড়ে?

বেঁচে থাকতে ক্যান ভালোবাসে না?

ক্যান অবহেলার চাদরে ঢাইকা রাখে ?


তাহমিনা শিল্পী


আবহাওয়া সংবাদ অথবা ছন্দপতন 


তুমি বলতে-

আমি হাসলে আকশে তারা জ্বলে মিটমিট।

অভিমান করলে জমে মেঘ। আমি বলতাম-

তুমি রেগে গেলে বিজলী চমকায়।

কাছে এলেই এলোমেলো  ঘূর্ণিপাক খায় লজ্জার ঢেউ!

আর ভালোবসলে?  ভালোবাসলেই প্রবল বর্ষণ।


তোমার মনের মত হাবার কী ভীষণ তৃষ্ণা ছিল আমার।

চুলের সিঁথিটা একপাশে করবো নাকি মাঝখানে, 

এই নিয়েই সারাবেলা চলত এক্সপেরিমেন্ট।

কি রঙের পোশাক পরলে তোমার চোখে আমায় দেখতে ভালোলাগবে!

হাতে-পায়ের নখের নেইলপলিশ, চোখের কাজল, টিপ, ম্যাচিং চুড়ি-দুল

সব ঠিকঠাক আছে কিনা দেখে নিতাম বারবার।

ভুল করে কখনও লিপিষ্টিক পরলেই বাচ্চাদের মত তোমার সে কি রাগ!

ইনিয়ে বিনিয়ে কত কি বলে ভাঙাতে হত-

মনে পড়লে আজও ভীষণ হাসি পায়।


রাগ পড়ে গেলে,তোমার ছাইচাপা আহ্লাদেরা আকণ্ঠ পাঠ করতো প্রণয়ের মহাকাব্য।


তারপর তোমার ব্যস্ততা বাড়ে, তোমার চোখ বদলায় নিজস্ব রঙ ও ভাষা!


এখনও রোজ ভোর হয়।

এখনও রোজ সন্ধ্যা নামে।

ঘুরেফিরে আমরা পাশাপাশি কাটাই সকাল,দুপুর,রাত।

শুধু কোথাও আর আমাদের খুঁজে পাই না।

অথচ, আমরা দিব্যি বেঁচে আছি আমাদের সংসারের মানচিত্রে।

এখন আলগোছে দুঃখ পেলে মেঘের পাহাড়গুলো ভেঙে পড়ে নিঃশব্দে।

তোমার রাগ হলেও থাকে না বজ্রপাতের উঁকিঝুঁকি।

আমাদের যৌথ আকাশটা ভেসে যায় বিষাদের স্রোতে...

শুধু কেউ তার খবর জানে না,

কেউ তার খবর জানে না,

কেউ না।


শুভ্রা দাস


টান


তোমার সঙ্গে আমার শিকড় মাটির টান

তোমার সঙ্গে আমার বৃক্ষ ফলের টান

তোমার সঙ্গে আমার ভূমি জন্মের টান

তোমার সঙ্গে আমার মেয়ে বেলা খুনসুটির টান

তোমার সঙ্গে আমার চুম্বকের বিপরীত মুখী টান

তোমার সঙ্গে আমার গ্রহ উপগ্রহের টান

তোমার সঙ্গে আমার মান অভিমান আড়ি   ভাবের টান

এ টান যুগ কাল সময়ের ধারায় বয়ে যাবে রয়ে যাবে

তুমি আমি থাকি বা না থাকি এ টান সব সব ব্যথা সব কথা সয়ে যাবে

দেখো  এ টান  কেবল ভালোবাসি ভালোবাসি কয়ে যাবে।


তৌফিকুল ইসলাম তপু


পথিক


হাঁটছি একা এক বিকেলে 

পায়েচলা পথে কোথাও স্থির হয়ে দাঁড়ানোর সুযোগ নেই

ঠিক করলাম আজ হাঁটব একা একা


চক্ষুদ্বয় হঠাৎ স্থির হলো একটা ফুলবিক্রেতার দিকে 

হাসিমুখে সে আমায় ডাক দিলে

লালবর্ণের একটা গোলাপ নিয়ে ফের হাঁটা শুরু করলাম


হাতে গোলাপ নিয়ে হাঁটছিলাম

বলে কতজন কতরকম চোখ দিয়ে আমায় দেখছে

আমি হাসিমুখে হাঁটছি

হাঁটতে হাঁটতে সূর্যাস্তকালে তোমার কাছে এসে পৌঁছলাম

লালবর্ণের গোলাপটি তোমার হাতে তুলে দিলাম


তোমার কাছে ঠিকানা চাইলাম

তুমি ঘরহীন ঠিকানা দিলে

ফের হাঁটা শুরু করলাম পায়েচলা পথধরে।

সুচিতা সরকার

 



জানিনা কেন


কিছু পিছু টান, কিছু ফেলে আসা গান,
নিত্য গভীর করে ক্ষত।
তবুও না জানি কেনো, ওদিকেই মন ছোটে এতো। 

কিছু ভুল, কিছু কাগজের হলুদ ফুল,
ডায়েরি লেখে প্রতিনিয়ত।
তবুও না জানি কেনো, 
জীবন হাতড়ায় পোড়া ছাই এতো। 

চুপ থাকতে থাকতে, 
ঠোঁট জোড়া আজ হয়েছে বোবা, 
হারিয়েছে কথা ছিল যতো।
কানে পড়ে শব্দগুলি হয় দিশাহীন,
মনের দরজায় ধাক্কা লাগে না আর আগের মতো।


সাইফুল আলিম


 শরৎ এর স্নিগ্ধতায়

 


এই তো সবে বর্ষার মুষলধারে বৃষ্টির নেষার ঘোড় কেটেছে মাত্র। 

আকাশে ভেসে বেড়ায় এক টুকরো সাদা মেঘ।

পড়ন্ত বিকেলে গোমতী নদীর তীরে মনের বাতায়ন খুলে ঘাসের উপরে বসে আছি আমি।

দমধমে মৃদু বাতাসে শন শন করে  মন ও শরিলকে হালকা ছোয়ায় সিক্ত করে দিলো নিমিষেই।

আমি আনমনে নদীর কলতানের সহিত প্রান খুলে আত্ম কথনে মগ্ন কিছু মুহুর্ত। 

কাশফুল হেলিয়া দুলিয়া শড়ৎকে নিমন্ত্রণ করে  স্নিগ্ধতায় ছন্দের তালে তালে।

আর, 

আমি প্রিয়াসির জন্য শড়ৎ ফুলের মালা বুনি মনের হরসে।

মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন" ২

অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার মতো আকর্ষণীয়  মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" পড়ুন ও অপরকে পড়তে সহযোগিতা করুন  

 

 টানাপোড়েন / 

                                                                                ভুল

আজ যেন খুব বেশি রকমই তুমি রিঅ্যাক্ট করছ। আমি কি এমন করেছি বলে সুমিত। কি এমন করেছি? মানেটা কি? তোমার ফোনে এতগুলো মিস কল তারপর ফোন করেই যাচ্ছে ,তুমি ফোনটা কেটে দিচ্ছ। কে এমন বিশেষ ব্যক্তি এতবার ফোন করছে অথচ তুমি ফোন টা পর্যন্ত রিসিভ করছো না। দেখি ফোনটা দাও '-বলেই অনুমিতা ফোনটা কেড়ে নিতে যায়। কেন তুমি আমার ফোন নেবে কেন? কেন মানে? আমি ফোনটা দেখতে চাইছি? তোমার ভেতরটা যদি এতটাই সাদা হয়ে থাকে তাহলে দেখাতে আপত্তি কিসের? সুমিত হেসে -আপত্তি??? বাহ,খুব ভালো ছেলে তো ।অনুমিতা বলে। দাও দাও দাও দেখি। এবার জোর করেই কেড়ে নিতে যায় অনুমিতা। সুমিত সরিয়ে দেয়। কেন আমার কথা তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না। ভালোবাসায় তোমার বিশ্বাস নেই। ছিল ইদানিং একটু কেমন কেমন মনে হয়। শোনো নি ভালোবাসার যদি বিশ্বাস টুকুই না থাকে সারাটা জীবন আমরা একসঙ্গে থাকবো কি করে? এগজ্যাক্টলি আমিও তো এই কথাই বলি ।আমাকে তোমার বিশ্বাস নেই কেন? দেখতে চাইছি তাহলে তোমার দেখতে দেয়া উচিত ।কারণ তোমার সমস্ত কিছুতে আমার অধিকার আর আমার সমস্ত কিছুতে তোমার অধিকার। এই নিয়ে দু'জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা চলতে থাকে।অথচ সুমিত আর অনুমিতার সম্পর্ক আজ চার বছরের। এর মধ্যে কত কিছু ঝড় ঝাপটা এসেছে তবুও বিশ্বাসের ভীত যেন আলগা হয়নি কখনো। আজ যেন টলোমলো কান্ডারী বিহীন তরী। পাঁচ-ছয় মাস হল সুমিতের ভেতরে একটা পরিবর্তন লক্ষ্য করছে। আগে যখন বেকার ছিল তখনই যেন ভাল ছিল ।পরস্পরের ভেতরে একটা আত্মিক টান সব সময় অনুভব করতো। দিনে একবার হলেও দেখা করা বা ফোন করা এটা বাধ্যতামূলক ছিল। আর এখন সুমিতকে ফোন করলে ফোন বিজি আর দেখা তো দূরের কথা সপ্তাহে একদিন সেটাও যেন অনেক কষ্ট করে তাকে আসতে হয় । হাবেভাবে সেটাই বোঝাতে চায়। অথচ অনু সুমিতকে ভালবেসে তার জীবনের সেরা সময়টুকু দিয়েছে ।সেখানেই তো ভয়। আজ সমস্ত দি‌ক থেকে ভয় যেন অনুকে কুকুরতাড়া করে বেড়ায় ।আসলে পেটের ভেতরে যে বাড়ছে দিনকে দিন এ কথাটা সুমিতকে বলার জন্যই আজকে ডেকেছিল কিন্তু অকারণে কি একটা ঝামেলা হয়ে গেল। মনে মনে নিজেকে একটু শান্ত রেখে ,ধৈর্য ধরে অনু বলল-' সুমিত ঠিক আছে তোমাকে দেখাতে হবে না ।তোমার প্রতি আমার  বিশ্বাস আছে। তোমার কাছে আজকে একটা আমি কথা বলতে চাই। বলো কি বলবে? সুমিত বলে। আমার ভিতরে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করছো সুমিত? পরিবর্তন ক ই সেরকম তো কিছু দেখতে পাচ্ছি না। অনু অবাক হয়ে যায় আগে মুখটা শুকনো থাকলেই সুমিতের যেন চোখ ফেটে জল বেরিয়ে আসত। চোখের কোনে আমার কালি একটা দুশ্চিন্তা সবসময় আমাকে গ্রাস করে আছে ।এটা‌ শুনে বুঝতে পারছে না। মনে মনে ভাবল। একটু ম্লান হাসল। সুমিত তাড়া দেয়,' কি বলবে যেন তুমি আমাকে ?বলো ।আমার তাড়া আছে। অনু একটু কিন্তু কিন্তু করতে লাগলো আর ভাবলো আজকে এই কথাটা মুখ ফুটে সুমিতকে বলতে পারছে না কেন? সুমিতকে বড্ড অচেনা লাগছে। কিছু না বললেও তো নয় ।বড্ড দেরী হয়ে যাবে। তখন কি করবে অনু। জানো তো আমি প্রেগন্যান্ট। মানে ,মানেটা কি? সুমিত বলে।আমি কি করবো? কথাটা শুনে অনুর  ভীষণ রাগ হয় ।কিন্তু রাগটাকে সামলে নিয়ে হেসে বলে -' কি কথা বলছ সুমিত। আমাদের ভালবাসার সময় উজার করে দিয়েছিলাম ।আজকে তুমি বলছো...? সুমিত বলে ওটা একটা এক্সিডেন্ট ।তুমি ভুলে যাও আর যত তাড়াতাড়ি পারো এবরশন করিয়ে নাও। কথাটা শুনে অনু কি বলবে ভেবে উঠতে পারল না ।ভেবেছিল আজকেই বলবে বাড়িতে বিয়ের কথাটা তুলতে কিন্তু সুমিতের যা হাবভাব দেখছে তাতে তো রাজি হবে না। তারপরেও দাঁতে দাঁত চেপে ভেতরে চাপা কষ্টটাকে রেখে অনু রিকুয়েষ্ট করে  'কি দরকার এবরশন করার বলো ।আমরা তো এখন বিয়ে করে নিতে পারি। এখন তুমি সেটেল হয়ে গেছ।' 'সুমিত বলে-বিয়ে করতে বললেই করা হয়ে যায়। এখন আমি বিয়ে নিয়ে কিছু ভাবছি না। এখন আমি কেরিয়ার নিয়ে ভাবছি। তাহলে আমার কি হবে অনুমিতা বলে। তোমাকে তো সমাধানের রাস্তা দেখিয়ে দিলাম ।তুমি তাই করো। শোনো আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে ,আমি আসছি। টাকা লাগলে ব'লো। আমি দিয়ে দেব। কথাটা বলেই বাইক স্টার্ট করে চলে যায়। অনুর পায়ের তলায় যেন মাটি সরে যাচ্ছে কি করবে ?কি করে এই লজ্জার কথা বাড়িতে বলবে ?আজকে লজ্জাই বটে অথচ ভালোবাসাটা কোন লজ্জার ছিল না ।দুজনই খুব কাছাকাছি এসেছিল ।সেদিন বৃষ্টি পড়ছিল ঝিরঝির করে ।অনু সুমিতের বাড়িতে দেখা করতে এসেছিল বাড়িতে কেউ ছিল না হঠাৎ এই দুজনের ভিতরে কি একটা চরম উত্তেজনা নিজেদেরকে হাড়িয়ে ফেলেছে সেদিনের সেই ভালোলাগা ভালোবাসার মুহূর্ত টুকু চির স্থায়িত্ব দিতে গেলে  নিজেই সমাজের কাছে কলঙ্কিত বলে প্রমাণিত হবে। কী করবে এখন অনু? কোথায় যাবে এখন অনু ।এই দ্বিধা সংশয় তাদের ভালোবাসাকে গ্রাস করল। যে ভালোবাসার বিশ্বাসের জন্য পরস্পর পরস্পরে হাজার হাজার মাইল দুঃখ কষ্টের পথ অতিক্রম করতে পারে ।আজ তাএক নিমিষে ভেঙে চৌচির হয়ে গেল। অনুর মাথা বনবন করে ঘুরতে লাগলো, দিশাহারা হয়ে গেল ।ভালোবাসাটা য় আজ আর কোনো বিশ্বাসের জায়গা থাকল না। অনুর এই ভুলটাকে  সারাটা জীবন ধরে মাশুল গুনতে হবে।



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"  ক্রমশ

গোলাম কবির

 সে তুমি আমার প্রেম 


 না, লিখে দিইনি কাউকেই কোনো দাসখৎ!

 ভালবেসে চিরকাল বশ্যতা মেনেছি তোমার। 

 তবুও এই অবারিত সবুজের দিগন্ত সাক্ষী,

 ভালবাসার যৌবনের মধুর স্মৃতিময়

 দিনগুলোর দিব্যি করে বলছি , 

 তোমাকেই ভালবাসি চিরকাল! 

 বুকের ভিতর দিয়ে তিরতির করে 

 বয়ে যাওয়া প্রবহমান নদীটাও জানে তা!

 হৃদয়ের একদমই ভিতর থেকে গাঢ়তম

 উচ্চারিত প্রতিটি মুক্ত শব্দের মধ্যে 

 আমি খুঁজে পাই তোমারই পবিত্র নাম - 

 সে তুমি আমার প্রেম!



 

 


১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১

দেবব্রত সরকারের লেখা "আসলে ফেরার কোন ডেট ছিলোনা"



আসলে ফেরার কোন ডেট ছিলোনা


আমাদের সঙ্গে একটা মানুষ এসেছিল তুমি জানো বাবা ? 

বাবা উত্তর করে, কই না তো ! 

সেকি ! তুমি দেখোনি ? 

কই না তো ! 

তাহলে আর কিছু বলবার নেই।  আমি মা দিদা দাদা সকলেই তার সঙ্গে কথা বলতে বলতে এসে  গিয়েছি বাড়ি । কখন যে এসে পড়েছি বুঝতেই পারিনি। কি আশ্চর্য বলো! 

হ্যাঁ তা ঠিক ! কিন্তু আমি দেখতে পেলাম না কেন ? আমি কি তোদের সঙ্গে ছিলাম না ?

না ছিলে না! তুমি তো সারাক্ষন ফোন নিয়ে ব্যস্তই ছিলে ! ভদ্রজন কতবার তোমায় বল এই যে শুনছেন স্যার ! শুনছেন স্যার! তুমি তো শুধু তাকে হাত দেখালে মাত্র। 

সে কি ! কখন?

ওই তো, যখন তিনি তোমাকে ডাকছিলেন। উনি না থাকলে আমরা যে কোথায় থাকতাম কে জানে ! 

মানে ? 

মানে আর কি তোমার মাথায় তো কিছুই ঢোকে না।  শুধু ফোন ফোন ফোন ! উফ পারিনা   বাপু  !

                            ৬  বছরের ছেলেটার  কথা শুনে বাবা হু হু করে  হাসতে হাসতে চলে গেলো ঘরের বেডরুমে।  কিন্তু মাথা থেকে কিছুতেই তার খেয়ালটি পালিয়ে গেলো না।  ঘরে ঢুকেই ল্যাপটপ খুলে দেখতে শুরু করল যে তাদের ফেরার ডেট কবে ছিল।  আসলে তার মাথা থেকে সব হারিয়ে গিয়ে ছিল।  বাচ্চা ছেলে হলে কি হবে !  সে এমন ভাবে বলে গেল কেন ? নিশ্চয় এর কোন কারণ আছেই আছে। ভাবতে  ভাবতে  অনলাইনে খুঁজতে থাকে তাদের টিকিটের ডেট।  কিছুতেই তার ল্যাপটপে খুঁজে পাইনা। টকিটটি  মেইল এ চেক করতে গিয়ে দেখছে সেখানেও কেমন যেন আবছা। বুঁদ হয়ে কি যেন ভাবতে থাকে সে....  

  

                                                                                   ২

                            ত্রিপা স্নান সেরে বাথরুম থেকে ঘরে ঢুকেই দেখে  দুৰ্লক চিন্তিত অবস্থায়ই বসে আছে। পাশে এক কাপ গরম চা কখন কে দিয়ে গেছ তাও জানে না।  চা ঠান্ডা হয়ে জল হয়ে গেছে। ত্রিপা মাথায় তোয়ালে দিয়ে চুল ঘষতে ঘষতে  জানতে চাইলো - আচ্ছা বলতো তোমার কি হয়েছে ?  কয়েকদিন ধরে তোমায় একটু অন্য্ রকম দেখছি। পূজার ছুটি শেষ এবার পরশু থেকে আবার অফিস টু বাড়ি বাড়ি টু অফিস। মানে অফিসের কাজ শুরু।  আর এখন তুমি কেমন যেন কবিদের মত্ উদাস হয়ে বসে। 

                            দুৰ্লক ত্রিপার কথায় বুঝতে  পারল সে আসলে সত্যিই উদাস হয়ে   গেছে।  অথচ সে কোনদিনও কবিতা কি একটি ছড়াও লেখেনি। তবুও তাকে কবিদের মতো লাগছে।  কি আশ্চর্য এই ভুবন !  

 



































ধারাবাহিক প্রথম কিস্তি "আসলে ফেরার কোন ডেট ছিলোনা" 

মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন" ১

আজ থেকে শুরু হলো অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার মতো আকর্ষণীয়  মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" পড়ুন ও অপরকে পড়তে সহযোগিতা করুন  





টানাপোড়েন  ()




                            রেখার সারাদিন এলোমেলো ভাবনার মধ্যে দিয়ে কেটেছে ।বৃষ্টি টাও আজ  যেন জাঁকিয়ে বসেছে। অন্যদিকে সুমিতা কাজে আসেনি। মনোজ বেরিয়েছে নিজের কাজে। কি আর করবে শরীরটা ঠিক আজ ভালো নেই ,না মন ভালো নেই। নিজেই বুঝে উঠতে পারছে না। কদিন ধরেই দীপ্তিদির কথা মনে পড়ছে। কোনোদিন ভাবতে পারিনি দীপ্তিদির এরকম অবস্থা হবে। বর যে ভালো নয়, কানাঘুষো শোনা যাচ্ছিল। যদিও দীপ্তিদি সেভাবে কিছু স্পষ্ট করে বলে নি । দীপ্তি দির মারা যাবার পর এখন জানতে পারি। এত তরতাজা মেয়ের জীবনীশক্তি যে  এত দ্রুত ফুরিয়ে যাবে কে ভাবতে পারত? হঠাৎ করে পেটে ব্যথা পরীক্ষা নিরীক্ষার মধ্যে দিয়ে বোঝা গেল সে ক্যান্সারে আক্রান্ত ।তাকে টাটাতে  রেফার করা হয়। কিন্তু সেখান থেকে তাকে ফেরত পাঠানো হয় ।যে কটা দিন সে বাঁচবে বাড়ির পরিবেশেই রাখার কথা বলা হয়। কিন্তু জানতে পারি ওই সময়ে হোটেলে থাকাকালিন দীপ্তিদির সঙ্গে ওর হাজবেন্ড যে কাজটি করেছিল সেটি মোটেই মানবোচিত কাজ নয়। এবং ওখানেই তার স্ট্রোক হয়ে গেছিল। মানুষ যে এতটা পশুসুলভ আচরণ করতে পারে, এবং তার বর যখন বলে এরকমটা হবে ভাবতে পারি নি ।আমরা তো ওই সময় গোল্ডেন টাইম স্পেন্ড করছিলাম। ভাবা যায় দীপ্তিদির শারীরিক কন্ডিশন তখন কোন পর্যায়ে আর সেই সময় নাকি ওর হাজবেন্ড গোল্ডেন টাইম স্পেন্ড করছিল?  কি করে যে কুড়িটা বছর পার করলো দীপ্তি দি ওই পশুর সঙ্গে একমাত্র ঈশ্বর জানেন। আবার দুটি সন্তানের জন্ম দিল।ভাবতেই পারি না। দীপ্তিদি ভাল গান  করতে পারত, দেখতে ও সুন্দরী ছিল। শোনা যায় স্কুলে যখন দীপ্তিদি তরুণী অবস্থায় জয়েন করে, তখন আশেপাশের অনেক পুরুষেরই হার্টথ্রব ।অথচ কি করে যে ওরকম একটি ছেলের সঙ্গে ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিল। ভালোবাসা যে অন্ধ এটা বারবার প্রমাণিত। স্কুল শিক্ষিকা দীপ্তিদির হাত খরচের টাকাটা ও চেয়ে নিতে হতো স্বামীর কাছ থেকে। শোনা যায় মাইনের মেসেজটা মোবাইলে ঢুকলেই ওর হাজবেন্ড গিয়ে সব টাকা তুলে নিত। বর ছিল বাউন্ডুলে ,স্ত্রীর পয়সায় বসে বসে খেতে আর স্ত্রীর উপর পুরুষোচিত আচরণ ফলাত। শোনা যায় ওর স্বামীর ভেতরে নাকি সব সময় চিরযৌবন কাজ করে আর সেজন্য দীপ্তিদির শারীরিক কন্ডিশন খারাপ হওয়া সত্বেও, তাকে হানিমুনের পর্যায়ে  নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘেন্না লাগছে ভাবতে। তবুও দীপ্তি দিকে শেষবার দেখতে গেছিলাম।এতদিনকার কলিগ একবার অন্তত দেখতে যাওয়া উচিত ।কত সুখ দুঃখের কথা শেয়ার করেছি ।কখনো পছন্দের জিনিসটা নিজেদের মধ্যে রদবদল করেছি। এখন ভাবি একবার আমাকে একটা  চুরি গিফট করেছিল। এতটাই বড় ছিল যা আজ পর্যন্ত সেটা পড়ে উঠতে পারিনি। একটা চুড়ি দেবার জন্য মনে মনে একটু ক্ষুন্ন হয়েছিলাম। ভেবেছিলাম  একটা দিল কেন? চুড়িটা খুব পছন্দ হয়েছিল কিন্তু পড়তে পারিনি এজন্য একটু অভিমান হয়েছিল ।এখন বুঝি অভিমানটা করাটা ঠিক হয়নি ।আসলে কিছু কিছু সময় বা পরিস্থিতি এমন হয় যে চাকরি করা সত্ত্বেও যে পরাধীনতা সেটা সব সময় থেকেই যায় ।হয়তো আমরা ভাবি যে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা বোধহয় চাকরি করলে ফিরে আসে ।আসে কিছুটা হয়তো ,কিন্তু যদি তার মনের মানুষটি সে রকম হয়। এখন তো শুনি অকারনে মিথ্যে কথা বলত নিজের স্যাটিসফেকশন এর জন্য। ফ্যামিলিতে স্কুলের কলিগদের কাছে স্বামীকে অনেক উঁচুতে তুলে ধরার জন্য সে বলতো। সে আরো বলতো আমার বাড়িতে আমাকে কিছু করতে হয় না ।বাড়িতে কাজের মেয়ে না আসলে বাসন মাজবো, এটা ভাবতেই পারি না। মনে মনে অবাক হতাম কখনো বা বলেই ফেলতাম-' কি জানি আমার কাজের মেয়ে না আসলে তো ,বাসন আমাকেই মাজতে হয় ।এতে অপরাধ বা দোষের কি আছে? দীপ্তিদির হাবভাব দেখে পরে অবশ্য ভাবতাম প্রকাশ করাটা ও যেন অত্যন্ত লজ্জার ব্যাপার। ও যখন শয্যাশায়ী হয় ওর বাড়িতে যারা দেখতে গেছে এবং পরবর্তী ক্ষেত্রে যখন আমরাও দেখতে গেছি কোন আয়া বা কাজের লোক কিছুই ছিল না। অথচ দীপ্তিদি এতটাই সৌখিন আর নিজেকে গুছিয়ে রাখত হাজারো কাজের মাঝে ।বাড়িতে তাকে এতটা অবহেলা ,অযত্ন,দেখে আমাদের চোখ ফেটে জল আসে এবং সব থেকে অবাক লেগেছে যখন দেখতাম যে আমরা গেলেও ওর বর ওর পাশে নির্লজ্জের মত শুয়ে আছে।এমন ভাবে জড়িয়ে ধরে আছে যে জীবনের সমস্ত অংশটা যেন দীপ্তিদিকেই কেন্দ্র করেই।কিন্তু ভেতরে যে আদতে ওটা একটা ভন্ডামি কাজ করছে তা আমাদের বুঝতে অসুবিধে হয়নি। দীপ্তিদির হাতের নখ গুলো বড় হয়ে গেছে ,চুলগুলো জট পাকিয়ে গেছে এই দুমাসেই । দীপ্তিদির ওই অবস্থা দেখে চোখ ফেটে জল আসছে আমাদের প্রত্যেকের‌ ।ভাবতে পারছি না দীপ্তিদির অসহায় চাহনি ,একটা অমলিন হাসি ।যেটা সব সময় তার মুখে হাসি লেগে থাকত। আজ যেন বড় বেদনা দেয় ।আমরা সত্যিই কতোটা মেয়েরা স্বাধীন হতে পেরেছি ?আর সব থেকে কাছের অত্যন্ত প্রিয় সন্তানেরা  তারাই বা তার কতটা কেয়ার করছে? তাদের চোখে-মুখে ও যেন একটা বিরক্তি মাকে নিয়ে। অথচ দীপ্তিদি সারাটা জীবন এদের সঙ্গে কাটিয়ে দেবে বলে ভেবেছিল । তার ভালোবাসার মানুষটিও তাকে অবহেলায় রেখেছে , পৃথিবীতে   সে যে ক্ষণিকের অতিথি। তবুও এতটা অবহেলা, অসম্মান ।অথচ যার চাকরির টাকায় তার সংসার চলে। পরে শুনতে পারলাম ভেতরে ভেতরে ওর বরের নাকি আর একটি মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে। সারাজীবন তাকে ভালোবেসে গেছে সব কিছু উজাড় করে দিয়েছে। এত কোয়ালিটি থাকা সত্ত্বেও দীপ্তিদি জীবনে কী পেল? এখন না আজকাল আমার ভেতরে ও কেমন একটা টানাপোড়েন চলতে থাকে। আদৌ কি সত্যিই আমরা প্রত্যেকে ভালোবাসি ,না এটা আমার মনের দ্বন্দ্ব -সংশয় ,বুঝতে পারছি না ।আজকাল মনোজকে দেখলেও আমার ভীষণ রাগ হয়। মনে হয় প্রতিটা পুরুষ জাতিই যেন এরকমই ।ভালো লাগছে না কিছু। এই ভাবতে ভাবতে কখন যে চারটে বেজে গেছে। মনোজের ফোনে সম্বিত ফেরে।
ফোনটা কয়েকবার বেজেই গেলো তুলতে ইচ্ছে করলো না। শেষ পর্যন্ত বিরক্ত হয়েই ফোনটা রিসিভ করলাম। কি হয়েছে? কি আবার হবে? দরজাটা তো খোলো,। তুমি এসে গেছ? সেকি কার ভাবনায় তুমি এতটা নিমগ্ন ছিলে ।আমি এসে কতবার কড়া নাড়লাম ।ফোন করছি ,ফোন তুলছো না। এখন কটা বাজে দেখ তো ফিরে আসবো না?একবারও ফোন করলে না। তুমিও তো করো নি। ফোনটা ভালো করে দেখো। ফোন করেছি, কি করি নি। একটু বিরক্তি ভাব নিয়েই দরজাটা খুললাম। সন্ধ্যে হয়ে যাচ্ছে ঘর দুয়ার এলোমেলো ।শরীর ঠিক আছে তো? হ্যাঁ। শরীরের আবার কি হবে? না ,আসলে তুমি তো সন্ধ্যা পর্যন্ত কখনো এরকম শুয়ে থাক নি? -বলেই মনোজ আমার দিকে তাকালো ।চোখটা তখনও ভেজা ভেজা। কি হয়েছে রেখা? মন খারাপ? বলেই আমাকে কাছে টেনে নিল। আর যেন সবকিছুই কেমন অসহ্য লাগছে।সত্যি মনোজ ও কি দীপ্তিদির বরের মত ? অবিশ্বাসের দৃষ্টিতে বললাম -'ছাড়ো ভাল লাগছে না। তারপর ভাবলাম মনোজের ভেতরে তো কখনো এরকম কিছু দেখি নি। তাহলে আজকে আমার ভেতরে কিসের  দ্বন্দ্ব ?কিসের টানাপোড়েন? একটা অবিশ্বাসের কালো ছায়া যেন গ্রাস করছে দীপ্তিদি মারা যাবার পর ।ধীরে ধীরে যেন আমার মনে হচ্ছে আমি সত্যি সত্যি মানসিক রোগী হয়ে যাচ্ছি। হয়তো আমরা প্রত্যেকেই সংসারটাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এভাবেই নিজের স্যাটিসফেকশন এর জন্য অন্যের কাছে ভেতরের কষ্টগুলো কে ধামাচাপা দেবার চেষ্টা করি। তাই যদি না হবে তাহলে মনোজের যে স্পর্শ তাকে সবসময়ই একটা আলাদা গন্ধ এনে দিত ।নতুন করে বাঁচার, ভালোবাসার ,বিশ্বাসের তাগদ জোগাত। আর তা যেন মনের ভেতরে নদীর সহস্রধারা সৃষ্টি করে ভালবাসার ঢেউ তুলত। আজ যেন কালো মেঘের স্তরের ভেতরের সূর্য ডুবে গেছে ।চারিদিক অন্ধকার কোন আলোর দিশা রেখা দেখতে পাচ্ছে না। রেখা তার ভেতরের প্রবলেমটা খুঁজে পায় না কিন্তু খুঁজে ফেরে।  প্রকাণ্ড শার্সিওয়ালা চওড়া জানলার কাছে এসে রেখা পর্দা সরিয়ে নীচটা দেখার চেষ্টা করে। নিচে একটা মস্ত পার্ক। পার্ক এ লোকজন হাঁটছে। দুই কিশোর- কিশোরী পাশাপাশি বসে হাতে হাত রেখে কি যেন সব প্রেম আলাপ করছে। রেখা ভাবছে দেখো কদিন পর সেটার ভেতরে কতটা বিশ্বাস থাকে আর কতটাই বা ভালোবাসা থাকে?



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ১ ক্রমশ

পরাণ মাঝি



কর্পোরেট কান্না


কর্পোরেট তোমাকে দেখেছিলাম রাতের নিয়ন আলোয় 


তুমি কাঁদছিলে একান্ত আঁধারে 

কিন্তু কেউ দেখতে পায়নি 


এরকম অনেকেরই কান্না দেখেছি , আওয়াজ শুনতে পাইনি 


না না এসব আন্দাজের কথা বলছি না 


এই তো সেদিন একা একা পার্কে বসে সিগারেট টানা মেয়েটিকে দেখে বলেছিলাম 


তুমি ও আমার সমানুপাতিক


কবি দেবাশিস সাহার এক গুচ্ছ এক লাইনের কবিতা


 


এক লাইনের কবিতা


১.গাছ আমার পূর্ব জন্মের মা। 


২.এতো ঈশ্বর আমাদের কোন কাজে লাগে? 


৩.  প্রেমের পথ সর্বদা মেঘলা। 


৪.  তোমার বীজতলা জুড়ে নানা রঙের পায়ের ছাপ। 


৫.  একটাই গ্লাস- কখনো দুধ কখনো মদ


৬.  তোমার সমুদ্রে আমি এক অন্ধ নাবিক 


৭.অন্ধকারে গাছ মায়ের প্রেমিক


৮.কবিরাজের স্পর্শ পেলে গাছ ঈশ্বর


৯.       কয়েনের ওপিঠে তুমি তাই দেখা হলো না 


১০.চাকাহীন গাড়ির নাম নদী 


১১.জোছনা সরে গেলে শংখ লাগে বিছানায়


১২.  সর্ম্পক একটি সাঁকো  


১৩.সর্ম্পকের বুকে নানা রঙের ঢেউ


১৪.   ডুবুরি অথচ পথহারা তোমার সমুদ্রে


১৫.  তুমি- কারো জায়া কারো মায়া


১৬. বহু রঙের আমি নিজেই মিছিল


১৭.   সানাই বাজলে পুড়ে যায় মনখারাপ


১৮.   কোনো কোনো পুরুষ ঘুম হন্তারক কেউ কেউ ঘুমের ঔষধ


১৯.  ঠোঁট লেখে চিঠি তুমি বলো চুম্বন


২০.   গন্ধের মধ্যে ঘুমিয়ে থাকে খিদে। 

২১। এতো ঈশ্বর  আমাদের কোন কাজে লাগে

২২।পাতাদের গ্রামে জেগে থাকে আমাদের আত্মা

২৩।মা - একটি রক্ষাকবচ

২৪.মৃত্যু র ডাক নাম জীবন

২৫.অন্ধ রাস্তা দিয়ে গড়িয়ে  যাচ্ছে ভালোবাসার রং