১২ মার্চ ২০২১

প্রেমাংশু শ্রাবণ




ব স ন্ত  ভ্র ম ন


পড়ন্ত শস্যক্ষেতের মধ্যে দুরন্ত পা ফেলে -ফেলে
এগিয়ে যায় আমার ছায়ারা
এক নির্বোধ ভবিষ্যৎ একদিন মায়ার আঁচল তুলে তাকায়
তখন স্নিগ্ধতায় জমে থাকা খড়কুটো---
শিশির ঝরে হেমন্তের অবেলায় 
ফেলে আসা পথ আবার ভরে ওঠে লতাগুল্মে,
পায়ে জড়িয়ে যায় পুরনো শব্দেরা!

মস্তিষ্কের পাতাল খুঁড়ে ফের উঠে আসে এক বিষন্ন অরণ্যদিন
প্রশান্ত পাখালি বাজায় করুণ সুর 
বিগত বসন্ত সঙ্গিহীন। 
আগাছায় বাঁধে সম্পর্কের জট
জেনে নেয় পারস্পরিক সমাচার 
এ যেনো নির্জন-একাকীত্বের কাছে
যে কোনো শব্দই মেনেছে হার। 

দেয়ালের ওপাশেই অপেক্ষার শেকড় ছড়িয়ে অনাবৃত বৃক্ষ 
বহুকাল ধরে পত্র-পল্লবে তার পড়েছে অবিমিশ্র বাদামী ছায়া। 
অগোছালো যেনো নির্জীব লোকালয়,
শীর্ণ  প্রশাখা বিষণ রুক্ষ
এবার চৈতন্য নামো ধীর লয়ে, 
ছড়িয়ে বসন্তের প্রাণবস্ত মায়া।

নতুন আলোর দিকে এগোনো আর কোনো প্রস্থান নয়
ম্লান নীলাভ আলপনায় এক নতুন সৃষ্টির উৎসধারায়
যা কিছু অবশিষ্ট আছে তার সব তোমার উৎসর্গ নামায়
বাগান বিলাসী ফুল আর নয়নতারা জড়ো হোক উঠোনময়।

১১ মার্চ ২০২১

স্বপন কুমার ধর




 মোদের ভাষা, বাংলা ভাষা



ব্রিটিশ তাড়াতে বাঙালি ঝরিয়েছে,বহু প্রাণ অকাতরে,

শহীদদের রক্ত ব্যর্থ হয়নি, স্বদেশ স্বাধীনতার তরে।

যেখানে যখন অন্যায় হয়েছে, করেছে বাঙালি প্রতিরোধ,

তাই তো ব্রিটিশদের চক্ষুশূল আর ছিল যত আক্রোশ।

বঙ্গভঙ্গের পরিকল্পনা করেও, পারেনি ব্রিটিশ তা করতে,

আপামর বাঙালি গর্জে ওঠায়, বাধ্য হয়েছিল পিছু হটতে।

বাঙালির ঐক্য ভাঙ্গতে না পেরে, স্বাধীনতার প্রাক্কালে,

দ্বি-জাতি তত্ত্ব প্রয়োগ করে, আমাদের স্বাধীনতা দিলে।


বিশ্বকবি, বিদ্রোহী কবি, কবিগণ বহুমুখী,

প্রতিভার বিষ্ফোরন ঘটিয়ে চলেছেন, সারা বিশ্বব্যপী।

বঙ্গবন্ধু গড়েছেন যে দেশ, গেয়েছেন ঐক্যের গান,

সারা বিশ্বে আজ ও তার অবদান যে অম্লান।

মোরা যেখানেই থাকি, যে অবস্থাতেই থাকি,বাংলা মোদের ভাষা,

এই ভাষাতেই ঐক্যবদ্ধ মোরা, বাড়ায় মনের আশা।

গর্বের ভাষা, আমাদের ভাষা, রয়েছে নিজস্বতা,

আমরা বাঙালি, বিশ্ববাসী ও তা মানে,

এটাই তো বাঁচার সার্থকতা।

এরশাদ


 


শূন্য হারানোর খোঁজ

(কোন এক মানবীকে ) 


আমার একটা "তুমি" ছিলো।

ডায়রীর শূন্য পাতায় রুপোলী জ্যোৎস্না মাখতে মাখতে 

তোমার অধর হয়ে উঠতো কাব্যতিথী।

সেই তোমাতেই হয়ে উঠতো আমার কবিতার শরীরের অবয়ব

তোমার মনে আছে?

তোমার আঙুলের খাঁজে শব্দ তুলে রেখেছিলাম পরম যত্নে

বলেছিলাম,সামলে রেখো প্রিয়তমা আমার

আমি যদি হারাই কোনদিন,তবে শব্দগুলোকে বাজিয়ে দেখো

কোথাও না কোথাও আমার শুন্যতা তোমাকে তাড়িয়ে বেড়াবে অবলীলায়!

তোমার চোখের তারায় আমি রেখেছিলাম আমার আকাশ

বলেছিলে,আমার আর অন্ধকার নেই

প্রজ্জ্বলিত আলোর স্বপ্নে বিভোর হয়ে 

আমিই জ্বেলেছিলাম সান্ধ্য প্রজ্জ্বলিকা প্রিয় আমার।

তুমি আজ দূরবর্তী মণুমেন্ট যেনো

আমি শুধু কুয়াশার আস্তরনে ধূসর চোখে দেখি তোমার প্রজ্জ্বলিত আভা

আমার একটা "তুমি" ছিলো

আমার একটা "তুমি" ছিলে

সূদুর অতীত থেকে অদৃশ্য ডাক আসে আমার বারবার

আমার এখন "তুমি"নেই

আমার এখন " তুমি"টা

শূন্যতেই।

মাসুদ করিম চৌধুরী




 একটি গোলাপ


আমার হাতে হাতটি রেখে দিয়েছিলে

একটি গোলাপ ফুল

সেই হোলাপে সান্তি আমার কেড়ে নিল

হৃদয় আজ হয়েছে ব্যাকুল,

গোলাপ পাপড়ি আজো আছে সেই

স্মৃতির পরশ মাখা

হৃদয় মাঝে আছে কেবল ব্যাথার

পরশ গাঁথা।

ডায়রির পাতায় পাতায় আজো সে গোলাপ পাপড়ি সুভাস যে ছড়ায়

নয়ন জুগল জলে ভরে অন্তর কাঁদে

ভালোবাসার ঘায়,

গোলাপ পাপড়ি হাতে নিয়ে নয়ন মেলে দেখি

মনে হলো কেবলি দিলে হাতটি আমার ধরি

কাঁটা বিধলো হাতের মাঝে রক্ত ঝরে তাই

চার পাশটি নিরব অতি পাশে তুমি নাই।

কবিতা হালদার

 



ভালোবাসা



এমনও দিনে যারে বলা যায় সে কথাটি 

না-বলা ভাষায়,

"ভালোবাসি"

দেখি আঁখিকোণে আছে লেখা;

সযত্নে ফুল হয়ে ফুটে ওঠে 

গোলাপের বাগিচায়;

অনন্ত কাল ধরে বয়ে যাবে 

শ্রোতশ্রিণি নদী হয়ে 

মায়ের মমতা অঞ্জলি

 "ভালোবাসা"-  আছে, মাখা।

আজ নয়নের কোণে থাক  লেখা,অন্তর হতে সে ডাক  ফুলের মালায় কবরীতে থাকুক গাঁথা।।

হাবিবুর রহমান হাবিব




 মানু‌ষের এক এক‌টি জীবন‌ যেন এক এক‌টি রঙ্গমঞ্চ


            একই মানু‌ষের কত রূপ! দু‌নিয়াটা যেন একটা রঙ্গমঞ্চ বা নাট্যশালা। একই মানু‌ষ কত রূ‌পে কত চ‌রি‌ত্রে চ‌রিত্রা‌য়িত হ‌'চ্ছে। কোন পুরুষ কখনও বা সে বাবা, কা‌রো সন্তান, আবার কখনও বা চাচা, খালু, ফুফা, মামা, নানা, দাদা, শ্যালক, কর্মকর্তা বা কর্মচারী, চাকু‌রে বা ব্যবসায়ী কিংবা অন্য কিছু। 


            একইভা‌বে মে‌য়ে‌দের ক্ষে‌ত্রেও ঘর সামলা‌নো ছাড়াও উ‌পরোক্ত মোটা‌মো‌টি একই ধর‌নের দা‌য়িত্ব বা কর্ত‌ব্যের পাশাপা‌শি হয়তবা আরও কিছু অ‌তি‌রিক্ত দা‌য়িত্ব পালন ক'র‌তে হয়। 


            তাই পুরুষ-ম‌হিলা নি‌র্বি‌শে‌ষে প্র‌ত্যেক‌টি মানুষ‌কে সাংসা‌রিক কাজকর্ম, সামা‌জিকতা রক্ষা, চতুরতার সা‌থে চাকুরী কিংবা ব্যবসাহিক কর্মকান্ড প‌রিচালনা এবং তত্তাবধানসহ নানা‌বিধ দা‌য়িত্ব/কর্তব্য পালন ক'র‌তে যে‌য়ে সব সময় সমা‌জের বি‌ভিন্ন চ‌রি‌ত্রের মানুষের সা‌থে মিশ‌তে হয় বা সংস্প‌র্শে আস‌তে যে‌য়ে প্র‌তি‌নিয়ত জীবন-নাট‌কের রঙ্গম‌ঞ্চ বা নাট্যশালায় অ‌ভিনয় ক'র‌তে হয়। 


            জীব‌নের প্র‌তি‌দি‌নের কর্মকান্ডই যেন নাট‌কের এক এক‌টি 'উপাদান বা গল্প' আর আমরা প্র‌তি‌টি মানুষই যেন সে নাটক‌টির এক একজন মহানায়ক।


            তাই গল্প, নাটক, যাত্রা কিংবা সি‌নেমা‌র মত অন্য যে কোন মাধ্য‌মে সমা‌জের যে কোন একজন সাধারণ মানুষ‌কে অ‌ভিনয় করা‌র সু‌যোগের পাশাপা‌শি প্র‌শিক্ষ‌ণ দি‌লে তার মান হ‌বে; 

            -হয় কু‌ঁড়ি-উনিশ কিংবা কু‌ঁড়ি-আঠা‌রো বা তার সামান্য কিছু কম হ‌'লেও ‌‌সে বেশ মোটা‌মো‌টি গড় মা‌নের একটা অ‌ভিনয় উপহার দি‌তে সক্ষম হ‌বে ব‌'লে দৃঢ়ভা‌বে বিশ্বাস ক‌'রি।

০৭ মার্চ ২০২১

লীনা দাস



মম তাজমহল


আমার বাঁচতে ইচ্ছা করেনা!মরে যেতে পারলে...

আমার উপর রাগ করলে?

কি করব বল! ভালবাসাটা উথলে উঠল নতুন করে।তোমার রাগ হয় জানি আমার ছেলে মানুষীতে।

তবে সবটাই আমার আন্তরিক তোমার প্রতি।

লজ্জা পাচ্ছ?নির্লজ্জতা দেখে আমার?তোমার সাথেই তো বলছি।

তোমার বুকে একটু মাথা রাখব?

যদি হ্যাঁ বল আমার মত খুশি না সুখী কেউ হবেনা।

একবার হ্যাঁ বলে দাও।

ভাবব কেউ একজন নিঃস্বার্থ ভাবে আমাকে ভালবাসে।

আমি ভরপুর হয়ে যাব।আমার ভালবাসাকে ছুঁয়ে ফেলব!

আমার ভালবাসা তোমায় ধন্যবাদ! তোমার বুকে মাথা রাখতে দেওয়ার জন্য!

আর তোমাকে দিলাম তোমার কাছে মূল্যহীন আমার অভিমানে ভরা চোখের জল!

আইরিন মনীষা




অশান্ত পৃথিবী


হিংসা হানাহানি হাহাকার

সব দেখে আমি আজ নির্বিকার 

অশান্ত অস্থির অসহায় অপরিষ্কার

এই ধরণীর ধরিত্রীর সত্যের প্রবেশিধিকার


স্বার্থের দ্বন্দে আপন আজ পর

নাঁড়ির বন্ধন কেটে গিয়ে ছেড়ে দেয় ঘর,

অবেলায় এসে ভাবি কেন এলো এতো ঝড়

তবু ও মানুষ বাঁচতে চায় ধরে নিয়ে সামান্য খড়


বুভুক্ষু মানুষের কত যে ব্যথা

সময় নেই কারো শুনে সে কথা,

বলা যদি শুরু করি হবে বড় এক লতা

এই কি তবে আজ এই পৃথিবীর নিত্য প্রথা? 


কত দিন কত রাত গেছে কেটে

সুখ দুঃখ আর হাসি কান্নার পাঠ ঘেটে,

চারিদিকে কতো লোক  লম্বা আর বেঁটে

নিত্য যুদ্ধে লিপ্ত অশান্ত পৃথিবীতে শুধু খেটে ।

মমতা রায় চৌধুরী একগুচ্ছ কবিতা-




বিশ্ব নারী দিবসে শ্রদ্ধাঞ্জলি হিসেবে আমার 

নারী


আমি  নারী

যুগে যুগে হয়ে চলেছি

লাঞ্ছিত ,বঞ্চিত, অনাদৃত।

আমি সেই নারী,

 সৃষ্টি বাঁচিয়ে রাখতে

সন্তান জন্মদাত্রী।

আবার,

পুরুষশাসিত সমাজে

লালসা চরিতার্থে বারবার

শিকার হই ,আমি নারী।

আমি নারী তবু ভুলে যাই,

যন্ত্রণার কথা।

 তাই,

বারবার পুরুষেরই প্রেমে পড়ি।

আমি নারী

আমার জীবনীশক্তি এতটাই

যে বারবার বেঁচে উঠি।


(২)

আমি নারী

তাই চিৎকার করে বলতে পারি না,

আমি মায়ের নাড়ি ছেড়া ধন।

আমি নারী-

তাই,

আমার থাকতে নেই কোন

কামনা -বাসনা ,আশা-আকাঙ্ক্ষা।

আমি যে নারী-

তাই আমি বলতে পারি না,

এ পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ

সব পুরুষের মত আমার

সমঅধিকার।

আমি বলতে পারি না

আমার জন্মদাত্রীকেও,

যৌথ পরিবারে দাদা ভাইদের মতো

 এক গ্লাস দুধ বা হরলিক্স আমারও চাই।

আমি যে নারী-

তাই পুরুষের যাতে অধিকার আছে,

আমার থাকতে নেই।

অথচ সন্তানের জন্ম দিতে গিয়ে

সমান যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে।

প্রশ্ন করলে মা নিরুত্তর?

আসলে মায়েরাও

পুরুষ শাসিত সমাজের  শিকার।

তার প্রাপ্য অধিকার বুঝতে অপারগ।

তাই মায়ের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়-

পুরুষের যাতে অধিকার,

তোমার তাতে নেই।

শুধু নেই নেই নেই...?

অথচ আমরা নারীরা না থাকলে

এই পৃথিবীর অস্তিত্বই নেই।

মা তুমিও যে নারী

এই পৃথিবীর মূল্যবান শক্তি।


(৩)

আমি নারী

বর্ণপরিচয়ে আত্মশুদ্ধি ঘটিয়ে

আজ আমি বুঝতে শিখেছি,

যা পুরুষ পারে তা আমিও পারি।

আজ আমি সব পারি।

সন্তান জন্ম দিতে যেমন পারি।

শিক্ষিকা হয়ে মানুষ গড়তে পারি,

নার্স ডাক্তার হয়ে জীবন ও বাঁচাতে পারি।

আমি নারী , সব পারি।

আজ বিমান চালাতে পারি,

বিজ্ঞানী হয়ে নানা আবিষ্কারে

পৃথিবীকে সুসজ্জিত করতে পারি।

আমি নারী শুধু পরিবার নয়,

গোটা দেশ চালাতে পারি।

আমি আরো অনেক কিছু পারি

তাই আজ পুরুষের নেই রাজ্যের  

বাসিন্দা না হয়ে ,দেখিয়ে দিতে চাই-

আর অবহেলা নয় ,অত্যাচার নয়,

শুধুই প্রতিবাদ , আর প্রতিবাদ।

এই পৃথিবীর সবকিছুতেই

নারীর ও সমঅধিকার।

নতুন শতাব্দীতে দৃঢ়

প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে উঠুক নারী।

প্রকৃত শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে

জেগে উঠুক, প্রতিবাদী হয়ে

 উঠুক আগামীর নারী।


(৪)

নারী তুমি সর্বজয়ী,

নারী তুমি অনন্য।

তবে তুমি কেন হও

এখনো এত হেয়?

নারী তুমি কন্যা, জায়া,

ভগিনী, সর্বংসহা মাতা,

একথা জানে সর্বজনা।

তুমিই সৃষ্টি , প্রকৃতি,

তবু কেন তোমায় নিয়ে

এত কাটাকুটি?

এতদিন তোমায় অবলা করে

রেখেছিল পুরুষতান্ত্রিক সমাজ।

এখন প্রমাণ করেছ তুমি

ঘর-বাহিরে সম পারদর্শী।

তবে কেন আর মুখ বুজে করবে

সহ্য পুরুষের চোখরাঙানি?

কেন নারী পারবে না হতে শক্তিশালী?

একবিংশ শতাব্দীতে নারীর

আজ প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবার দিন। 

লাঞ্ছনা -গঞ্জনার অবসানে,

শিক্ষাকে হাতিয়ার করে,

নারী যোগ্য জবাব দিক।

আর সোনালী সূর্যমুখী ভোর

উঁকি দিক প্রতি ডোর।

মোঃ হাবিবুর রহমান




 জীবন-সংসার



সংসার জীব‌নের এ‌কেবা‌রেই প্রথম দি‌কে দু‌টি মন প্র‌তি‌দিনই একটু টানা‌পোড়‌নের ভিতর দিয়েই যায়। দু‌টি মানু‌ষের দু‌টি ম‌নের বোঝাপড়ায় দোদুল্যমান মান‌সিকতা একই সমত‌লে আস‌তে কিছুটা সময় লে‌গে যায়। 


যখন বুঝাপড়া, সম‌ঝোতা হ‌'য়ে যায় তখন দু‌'টি মন যেন একতার হ‌'য়ে যায়। দু‌'টি ম‌নে যেন একই কথা ব‌লে, একই চিন্তা ক‌রে। 


এটাই বু‌ঝি সংসার জীবন শুরুর প্রথম ধাপ। এরই ভিতর সন্তা‌নের বাবা-মা যখন হওয়া গে‌লো আর সন্তা‌নের মাধ্য‌মে যখন সেতুবন্ধন পোক্ত হ‌লো তখনই বু‌ঝি রা‌জ্যের কাজ আর ব্যস্ততা শুরু হ‌'য়ে গে‌লো। 


ব্যস্ততার সময়টা ‌যে এত দ্রুততার সা‌থে পার হ‌'য়ে গে‌লো সেটা ‌মো‌টেই যেন টের পাওয়া গে‌লো না। এটা অ‌নেকটা এরকম যে এর গ‌তি বু‌ঝি শ‌ব্দের চলার গ‌তির চে‌য়ে অ‌নেক গুণে বেশী। 


জীবন চলমান তাই এরই ভিত‌রে জীব‌নের শেষ ষ্টেশ‌নের আ‌গের ষ্টেশ‌নে দু্'জ‌নেই অকস্মাৎ হা‌জির। দু‌'টি মানুষ আর দু‌'টি মন যেন তখন একাকার হ‌'য়ে গে‌ছে; যেন দু'জ‌নে দুজ'নার। 


এমনই এক মুহু‌র্তে বু‌ঝি একজ‌নের সামান্যতম অনুপ‌স্থি‌তি অন্যজ‌নের জন্য অজস্র যন্ত্রণার কারণ হ‌'য়ে দাঁড়ায়। তখন প্রথম জীব‌নের প্রেম-ভালবাসা যেন নতুন ক‌'রে আবারও উৎসা‌রিত হয় ও নতুন প্রাণ সঞ্চার হয় দু‌'টি ম‌নে, দু‌'টি প্রা‌ণে। 


ই‌তোম‌ধ্যে জীব‌নের ভ্রমণ পথ তখন বু‌ঝি খুবই শে‌ষের দি‌কে চ‌'লে আ‌সে। দু'জনের দু‌'টি মনই বু‌ঝি তখন সংসার-সমু‌দ্র দিকভা‌লের পাশাপা‌শি ওপা‌রের প‌থের দি‌কে বেশী নি‌বিষ্ট হয়। দু‌'টি মানুষ তখন বু‌ঝি জীব‌নের নতুন সংজ্ঞা খুঁ‌জে ফি‌রে। 


কি পেলাম আর কি খেলাম এগু‌লো তখন যেন খুবই গৌণ বিষয় হ‌'য়ে যায়। 


দেহ না‌মের মে‌শিন‌টির দি‌কে তখন মন আর মানুষ দু‌'টির বেশী দৃ‌ষ্টি নিবদ্ধ হয়। দু‌নিয়ার অর্থ আর টাকাক‌ড়ি আ‌স্তে আ‌স্তে একসময় সবই অর্থহীন ম‌নে হ‌য়।


ধ্যান ধারণাই বু‌ঝি হ‌'য়ে যায় পর‌লৌ‌কিক জগ‌তের জন্য সওগা ক‌'রে‌ নি‌য়ে অনন্ত জীব‌নে আজীবন সু‌খে-শা‌ন্তি‌তে থাকার একমাত্র লক্ষ্যে।

অলোক দাস



  

কবিতা 


 "দর্শন " সব তারাকে চিনি নে I চিনি শুধু অরুন্ধুতি, স্বাতী বা সপ্তর্ষিমঙ্গল কে I হয়তো এরই নাম "দর্শন "I লালমাটির লোক আর আমাকে ডাকে না I তারা জোর গলায় ডাকে "কবি মশাই I"এখানে মহুযার ছাড়াছুড়ি ! চলে আসুন, কোনো অসুবিধা নেই I দিনে কতো কাঠ বেড়ালি, চড়ুই, সাদা পায়রা ওড়ে নীল আকাশের নীচে I কাঠবেড়ালি দেয় উঁকি, দেয় সেলাম বারবার I রাজনীতি বুঝিনে, কিন্তু শিয়ালের ডাক আজও শুনি I

সমিত মণ্ডল




ক্লাস নাইনের মেয়ে


বিকেলবেলা ভোকাট্ট ঘুড়ি

এক দৌড়

এক দুই তিন চার

মোহন মোড়,ব্যারাক স্কোয়ার 

কতরঙ্গ 

পিংপং টুর্নামেন্ট,ফুচকা-ঝালমুড়ি

বন্ধুরা মিলে এক্কেবারে হুড়োহুড়ি।


একটু পরেই সূর্য পাটে

ডাকছে পড়ার ঘর

বইয়ের ভেতর ময়ূরপুচ্ছ 

এই মন

পড়ার ভানে কাকে খুঁজছো?


বাবার ফিরে আসা 

মায়ের রান্নাঘর

ঠাম্মা বলে

ভালো করে পড়,ভালো করে পড়

মিলবে চাকুরে বর।


ক্লাস নাইনের মেয়ে 

স্বপ্ন দেখে

জলকে চল,জলকে চল

মনমাঝি তুই

খেয়াপারের গল্প বল

পাড়া ঘুমোলো,ঘুমোতে চল।


নীরব পড়ার ঘর

কী হবে চাকুরে বর!

হাকিকুর রহমান




কেন জানি



জ্যোৎস্না উধাও হলো,
সাথে করে নিয়ে গেলো তমসাকে-
বালি ঝুমকোটা কে জানি কানে চড়ালো,
শূন্য হাসি হেসে,
ভীরুপায়ে কে এসে দাঁড়ালো চৌকাঠের কোণে।

রূপালী চাঁদ,
সেতো চিত্রকরের ক্যানভাসেই শোভা পায়।
ন্যাড়া বেলতলায়, কিম্বা দারুচিনি বনের ধাঁরে,
কেউ কি কারো জন্যে অপেক্ষায় থাকে?
ঠুনকো যুক্তি দিয়ে,
কিসের স্মৃতিকে ধরে রাখা!

ওদিকে শানকিতে, জল ঢালা ভাতগুলো
লেজকাটা কুকুরটা লোপাট করে দিলো,
আর আমি তমসার নীচে দাঁড়িয়ে,
সেক্সপিয়ারের গীতিকাব্য আউড়িয়ে ফিরি।

তবুও কেন জানি, শুনতে পাই
উপবাসী পথশিশুটা বলেই চলেছে,
“এক মুঠো অন্ন দেবে!”
আমার কাব্য লেখা হয়নাকো আর।