১০ মার্চ ২০২২

কবি রেহানা বীথি'র কবিতা




বিরহের বেহাগ 
রেহানা বীথি 


দাঁড়িয়ে থেকো না 
মৃত শীতের অশ্লীল শব্দোচ্চারণে
ভেঙে যাচ্ছে, ভেসে যাচ্ছে 
কলসির গল্প 
পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ছে 
রোদ আর কুয়াশা 


একটু বোসো 
না-হয় আধশোয়া হয়ে 
চিবুকে তর্জনি রেখে একটু ভাবো 
দুপুর, ভোর, সন্ধেবেলার গণিত 

অতঃপর শবাসন 
শিথিল... 


পীড়িত মানুষের কাছে 
জ্যোৎস্না চেয়ে বিরক্ত কোরো না 
শবাসন থেকে উঠে বসে
বিরহ চাও তার কাছে 

দু'হাত খুলে দেবে 
 

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১২৮




উপন্যাস 


টানাপোড়েন  ১২৮

মনের মানুষ থাকুক মনের মন্দিরে

মমতা রায় চৌধুরী



রেখা  হঠাৎ ই অন্যমনস্ক হয়ে গেল। পার্থ যে টানাপোড়েনের মধ্যে আছে। রেখা মর্মে মর্মে উপলব্ধি করতে পেরেছে। কতটা কষ্ট হয় প্রিয় মানুষের সঙ্গে মিল না হলে। শৈশবকালে রেখা নীলকে হারিয়েছে। সেই ক্ষত এখনো টাটকা আছে। জ্বালা, যন্ত্রণা কিছুটা উপশম কাজের মধ্যে ভোলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু অতীত স্মৃতি ইতিহাসের পাতার মতো জ্বলজ্বল করে।
পাতা উল্টাতে উল্টাতে ভিড় করে আসে মনের আরশিতে।
এর মধ্যেই জীবনে ঘটে গেছে কত কিছু। স্বপ্নীল এসেছে জীবনে সেও অতীত। এটা হবারই কথা ছিল। বিবাহিত জীবনে পরকীয়া এটা কেউ মেনে নেবে না। কিন্তু মন তো অনেক কিছু চায়। মনের ক্রাইসিস কে দূর করবে? প্রকৃত বন্ধুর দরকার। প্রকৃত বন্ধুকে সবকিছু বলা যায় নিজের স্বামীকে বলা যায়না। তাহলে সে প্রকৃত বন্ধুটা কে? প্রকৃত বন্ধু সেই যে কখনো বন্ধুকে ছেড়ে কোথাও যায় না হ্যা হয়তো সবসময় তাকে কাছে পাওয়া যায় না কিন্তু তার মানে এই নয় তার দুঃখে তার অবসাদে তার কষ্টে সে শামিল হবে না ।দুঃখ বিমোচনে পরামর্শদাতা হবে না?
সবাই ছেড়ে গেলে ও বন্ধু ছেড়ে যাবে না।
সেরকমই বন্ধু পেয়েছিল স্বপ্নীলকে। স্বপ্নীল বন্ধু হয়ে উঠেছিল হয়তো বন্ধুর থেকে আরো একধাপ উঁচুতে। তবে স্বপ্নিলের  সব দাবিতে সাড়া দিতে পারে নি রেখা।
একদিন তো বলেই ফেলল স্বপ্নীল
চলো দূরে কোথাও পালিয়ে যাই।
কোথায় যাব?
যেখানে তোমাকে আমাকে কেউ চিনতে পারবে না?
শ্রাবণী পূর্ণিমায় তোমাকে নিয়ে পালাবো রসিকতা করে বলেছিল।
রেখা একটু রেগে গেছিল এসব কথা তুমি কি বলছো আমি বিবাহিতা আমি সমাজ-সংসার সকলকে ভয় পাই?
আর আমাকে?
আমি তো তোমাকে ভালোবাসি?
রেখা কিন্তু  বলেছিল' আমি কি তোমাকে বলেছি ভালবাসি?'
অবাক হয়ে স্বপ্নীল বলেছিল "তুমি আমাকে ভালোবাসো না?
তুমি আমার দিকে তাকিয়ে বলো?'
রেখা বলেছিল 'না।'
ছোট্ট একটা শব্দ '। অথচ এর ভেতর দিয়ে প্রকাশ পায় যা তাতে কারো মন ভেঙে খান খান হয়ে যায় ।অবসাদ চলে আসতে পারে ,দুঃখ-যন্ত্রণা ভরিয়ে দিতে পারে। 
রেখা জানত কিন্তু রেখার কোনো উপায় ছিল না ।এটা রেখাকে বলতেই হত ।নইলে স্বপ্নীল সারাটা জীবন ধরে রেখার পেছনে পড়ে থাকত জীবনটাকে বাজি রেখে । 


রেখা চেয়েছিল ভালো থাকুক। ওর ও একটা ছোট্ট সংসার হোক। মনের ভিতর রেখার প্রতি ভুলটাকে নিয়েই স্বপ্নীল থাকুক।
স্বপ্নীল অনেকক্ষণ মাথা নীচু করে ছিল।
তারপর বলেছিল ভালোবাসাটা একতরফাই থেকে গেল। তাই থাকুক। কিন্তু আমি তোমাকে ভালবেসে যাব নিরন্তর। ভালোবাসার মৃত্যু নেই। ভালোবাসা চিরজীবী।
স্বপ্নীলের দুচোখ কখনো জলে ভরা আবেগমথিত কন্ঠে বলেছিল
' ঠিক আছে আমি আসছি ।আমি আমার কষ্টটাকে ভাগ করার জন্য চলে যাচ্ছি কদিনের জন্য।
রেখা অবাক হয়ে বলেছিল কোথায় যাচ্ছ?
তোমাকে বলতেই হবে?'
সেটা তোমার ইচ্ছে।'
আমার ইচ্ছেগুলো কি সেটা তুমি সব জানো ।সেই ইচ্ছেগুলো ডানা মেলে উঠতে পারল না। তবে তোমাকে বলে যাচ্ছি আমি সমুদ্রে যাচ্ছি ঢেউ গুনতে।
ঢেউ এর সাথে সাথে কতবার শুধু ভালোবাসার নামটাই উচ্চারিত হয় ।সেটা দেখতে যাব।
স্বপ্নীল এই কথা বলেই দ্রুত বাইকটা স্টার্ট করে চলে 
যায় ।
তার পরে বেশ কয়েকদিন স্বপ্নীলের কোন ফোন নেই ,দেখা নেই।
রেখা জানতো এই নির্দয়তার পরিচয় না দিলে স্বপ্নীল রেখাকে ভুলতে পারবে না। তারপর রেখা
হাড়ে হাড়ে উপলব্ধি করতে পেরেছিল সত্যিই সে স্বপ্নীলকে কতটা ভালোবেসেছে ,এতটা কষ্ট এতটা যন্ত্রণা ,কেন পাচ্ছে ?মনে হচ্ছে স্বপ্নীলের সঙ্গে কথা না বললে রেখার যেন পাগল পাগল লাগছে। একটা শুন্যতা ,রিক্ততা সারাটা মন জুড়ে থেকে 
গেছে ।কতবার ফোন টার দিকে তাকিয়েছিল ।একটা ফোন আসেনি ।রেখা ও যখন ফোন করতে গেছে ফোনটা নট রিচেবল থেকেছে। ওই কদিনে রেখার ভেতরে যে কষ্টের পাহাড় গড়ে উঠেছিল তিল তিল করে সেই হিসেব শুধুমাত্র রেখেছে।
রেখা মনে মনে বলেছে স্বপ্নীল 'তুমি জানো না তোমাকে যদি আমি এই কথাগুলো না বলতাম তুমি সারাটা জীবন আমার জন্যই নিজের জীবনটাকে অতিবাহিত করতে কিন্তু আমি তো সেটা চাই না ।আমি চেয়েছি তুমি সুখী হও  তোমার একটা ঘর সংসার হোক। সারাটা দিন ক্লান্তি শেষে তুমি নিরাপদ আশ্রয়ে এসে দুটো একটা মনের কথা খুলে বলো ।ক্লান্তি, অবসাদে তোমার কাছে বসে যে তোমার কপালটা একটু টিপে দেবে ,কখনো বা আদরে আদরে ভরিয়ে দেবে তোমাকে । এমনি করেই একদিন তুমি আমাকে ভুলে যাবে , এটাই নিয়ম।
কতটা যে যন্ত্রণা কতটা যে কষ্ট রেখা মনের ভেতরে চেপে রেখেছিল সেই কটা দিনে। মনে হয়েছিল যেন স্বপ্নীল কোথায় চিরদিনের জন্য রেখাকে ছেড়ে চলে গেল। মিনিটে মিনিটে ঘন্টায় ঘন্টায় সারাক্ষণ শুধু স্বপ্নীলের কথা ভেবেছে।
মনে হচ্ছিল যেন ক্রমশ তাদের এই গল্পে যে পাতা জুড়ে গিয়েছিল।দু মুঠো বিকেল ক্রমশই হৃদয় ছুঁয়ে ছুঁয়ে অনুভবের চাদরে মুড়ে গেছিল। আঙুলে আঙুল ছুঁয়ে ছুঁয়ে শুধুই তোমাকে উপলব্ধি । আর ছেলেমানুষি গুলোকে মনের ক্যানভাসে রং তুলির আঁচড় দিয়ে কোন এক শিল্পীর আঁকায় অবয়ব দেবার চেষ্টায় মন ব্যাকুল হয়েছিল। অথচ চলে যাবার পর সবকিছুই যেন ফাঁকা মাঠের মতো হুহু করা এক রিক্ততা।
তারপর যখন ও ফিরে এসেছে সে কি এক অনাবিল আনন্দে ভরে উঠেছিল রেখার মন ও প্রাণ।
হারানো জিনিস ফেরত পেলে যে অভূতপূর্ব, অনির্বচনীয় আনন্দ এর সৃষ্টি হয়।  রেখার ও  ঠিক সেরকমই হয়েছিল।
আজ সেই স্মৃতিচারণ করতে বসে রেখার দু'চোখ জলে ভরে ওঠে।  সত্যি সত্যি রেখা  চেয়েছিল, স্বপ্নীল নিজের মতো করে বাঁচুক।
আর যখন স্বপ্নীল নিজের মতো করেই বাঁচার জন্য রেখার থেকে দূরে চলে গেল তখন রেখা মানার চেষ্টা করলেও ভেতরে কষ্টে যন্ত্রণায় দুমড়ে-মুচড়ে হৃদয়টা যেন ভেঙে খান খান করে দিয়ে গেল। এখন স্বপ্নীল কে দুটো কথাও বলতে পারে না কোথায় আছে কে জানে ?কোথায় হারিয়ে গেল ওর জীবন থেকে ।গল্পের পাতা গুলো এভাবেই ছিঁড়ে গেল।
সত্যিই তাই সবকিছু সুন্দর হয়  যদি কাছে থাকে এমন কেউ।
মনে মনে চাইছে স্বপ্নীল আবার ফিরে আসুক জীবনে । ফিকে হয়ে যাওয়া ধূসর জীবনে হাতছানি দিক কৃষ্ণচূড়ার পলাশের রং। ফিরে আসুক আবার বসন্ত কোকিলের কুহুতান আবার ডেকে উঠুক তাদের সুমিষ্ট ধ্বনি।
এমন সময় এক ঝাঁক পায়রা উড়ে চলেছে নীল আকাশে হয়তো বা ওরা গোধুলিবেলায় নিজের নিজের ঠিকানায়। রেখা মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখল ওদের। কি মুক্ত স্বাধীন যখন খুশি যেখানে খুশি চলে যেতে পারে ,নেই কোনো বাঁধন। এরকম মুক্ত পাখির মতো যদি ডানা মেলে উড়ে যেতে পারত দূর-দূরান্তে। হয়তো বা ঠিকানা খুঁজে বের করতে পারত স্বপ্নিলের।
এমন সময় শাশুড়ির চিৎকারে রেখার ধান ভাঙ্গে।
'হ্যাঁ রে মনু, বলি তোর বউটা কি বেআক্কেলে রে।
এতটা সময় হয়ে গেল চা পেলাম না। শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে, না কিরে?'
মনোজ বললো 'সে কি ?
এখনো চা পাওনি?'
তাহলে কি তোকে আমি  মিথ্যা কথা বলছি? জিজ্ঞেস কর তোর বউকে।'
মনোজ তারস্বরে চেঁচাতে লাগলো' রেখা রেখা রেখা আ. আ. আ।'
রেখার চমক ভাঙ্গে অবাক হয়ে কাছে এসে বলে কি হয়েছে এভাবে চিৎকার করছো কেন?
এখনো চা দাওনি মায়েদের?
গ্যাস নেই তো।
সেকি?? আগে বলনি তো?
মনে করে দেখো ৫-৬ দিন আগেই বলেছি গ্যাস শেষের মুখে গ্যাস দিতে বলো।
এই যা আমিতো ইসলামকে বলতে ভুলে গেছি। এখন উপায়?
মনে সংশয় নিয়ে রেখার মুখের দিকে তাকায়।
রেখা বলল পার্থদের বাড়ি খোঁজ নাও ওদের থেকে এনে দাও।
একদম ঠিক বলেছ।
রেখা কোন কথা না বলে চুপ করে থাকে।
রেখা মনে মনে ভাবে শাশুড়ি মা যখন কথাগুলো বলেন মাঝে মাঝে মনে হয় তার জবাব দিই কিন্তু ইচ্ছে হয়না। বোঝানো যাবেনা শুধু শুধু মুখ নষ্ট করে লাভ নেই। অনেকে বলে এডুকেটেড মেয়ে চুপ চাপ থাকিস কেন প্রতিবাদ তো করতে পারিস। তখনই প্রতিবাদ হয় যখন তার থেকে রিটার্ন কিছু পাওয়া যায় । উজবুক দের বুঝিয়ে কোন লাভ নেই। সেজন্য বোবা হওয়াই সব থেকে বেশি বেটার।
আজকাল এই পলিসি নিয়ে চলছে রেখা। চালাতেই  হবে। না  রোজগারের অশান্তি।
কিন্তু কতদিনই বা এ ভাবে মেনে নেবে জানে না।
ঈশ্বর ধৈর্যশক্তি দিন। ছুটির দিন কোথায় গল্প লিখবে সে ফুসরত নেই। এরমধ্যে কলিংবেলের আওয়াজ" জয় গনেশ, জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা।"
রেখা গিয়ে দরজাটা খুলে দেখে পার্থ একগাল হাসি নিয়ে বললো 'বৌদি ,এই নাও তোমার রান্নার গ্যাস। এতক্ষণ তোমরা চা না করে বসে
 আছো ।আমাকে একটা ফোন করলেই তো হতো।
"হ্যাঁ ,তা হতো আসলে  আমিও একটু  অন্যমনস্ক হয়ে গেছিলাম।
ও বৌদি কবে যাবে মায়ের কাছে?
রেখা বলে ঠিক আছে দেখছি আজকে যদি পারিস সন্ধ্যের পরে যাব।
একটু ভালো করে বুঝাও না বৌদি মাকে।
হাত তুলে আশ্বস্ত করে বলল নিশ্চয় চেষ্টা করব ভাই আমি তোমার মনের কষ্টটা বুঝতে পারছি।
এই জন্যই তো তোমাকে আমি বললাম মা ও তো তোমার কথা শোনে।
ঠিক আছে বৌদি আসছি।
রেখা বলল ঠিক আছে এসো।
পার্থ চলে যাবার পথের দিকে তাকিয়ে থাকে চলে যাবার সময় পার্থর মুখটা কি অনাবিল আনন্দ আর প্রশান্তিতে ভরে উঠেছে । পার্থ গান করতে করতে যাচ্ছে 'ভালোবেসে সখী নিভৃতে যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনেরও মন্দিরে। 'রেখা পার্থর চলে যাবার পথের দিকে তাকিয়ে, মনে মনে ভাবতে থাকে 'সত্যিই তো একটা ভালোবাসা যদি পরিপূর্ণতা পায় একটু চেষ্টা করে দেখতে দোষ 
কি ।ভালো থাকুক সবাই।'মনের মানুষটি থাকুক ভালোবেসে মনেরও মন্দিরে।

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১২৭




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১২৭
ঢেঁকি  গেলেও ধান ভানে
মমতা রায়চৌধুরী


দুটো দিন টানা কিছু খেতে পারেনি রেখা যাও বা খেয়েছে সবই বেরিয়ে গেছে ।প্রচন্ড উইক লাগছে কিন্তু বাচ্চাগুলোর কাছে তো যেতেই হবে। না দেখলে যেন প্রাণ আনচান করতে থাকে। ওদের আদর-ভালোবাসা সবথেকে বেশি মূল্যবান বলে মনে হয় ।মিলি যেন রেখার মাতৃত্বটাকে তার বাচ্চা দিয়ে ভরিয়ে দিলো। ঈশ্বরের অশেষ
 আশীর্বাদ ।থ্যাংকস গড বারবার জানায় রেখা।
হঠাৎ  মনোজ এসে বলল'জানো রেখা।'
রেখা মনেজের দিকে উৎসুক দৃষ্টি নিয়ে তাকায়।
"তোমার পাইলট কি করছে দেখেছো?'
রেখা বললো কি?
মনোজ হাত দুটোকে গেট ধরার মতো করে দেখিয়ে বলল
'গেটটাকে ধরে দাঁড়িয়ে আছে আর ডাকছে?'
আমি কাছে গেলাম ।লেজ নাড়ল।
তারপরও ডেকে যাচ্ছে।'
কেন?
'তুমি যাওনি আজকে ওদের কাছে।''
'অনেক আগে কিন্তু আদর করিনি।'
"ও বাবা ওই জন্যই বোধহয় ... যাও যাও একবার দেখা করে আসো, আদর করে আসো।
রেখা বলল 'ঠিক আছে, যাই।"
'সত্যিই তো ওরাও তো প্রত্যাশা নিয়ে থাকে, হয়তো "মনটা খারাপ হচ্ছে।'
"হ্যাঁ যাও ,ওদের কাছে যাও।'
রেখার ননদ রেখার শাশুড়ির কাছে গিয়ে বলল 'দেখ ,এদিকে বলছে শরীর খারাপ, ও দিকে  কুকুরের বাচ্চা গুলোর কাছে গিয়ে কেমন আদর করছে তোমার বৌমা?
সব নাটক বুঝলে মা।'
রেখার শাশুড়ি বললো'আরে বাজা মেয়ে মানুষ, কুকুরের বাচ্চাকে আদর করে একটু না হয় দুধের স্বাদ ঘোলে মেটাল।'
রেখার কানে কথাগুলো আসলো ,যেন মনে হলো কোন হ্যাঁচকা টানে বুকের ভিতর একটা ভাষাহীন বোবা  যন্ত্রনা দুমড়ে-মুচড়ে হৃদয়টাকে শূন্য করে দিতে চাইল।
তবুও রেখা তার শরীরটাকে টেনে টেনে নিয়ে গেল বাচ্চাদের কাছে।
রেখা কাছে যেতেই  চেঁচিয়ে উঠল। তারপর  রেখা গেটটা খুলে ভেতরে যেতেই সবাই  যেন হামলে পড়েছে । মনে হচ্ছিলকোনো একটা প্রিয় জিনিস হারিয়ে গেলে হঠাৎ খুঁজে পেলেযেমন মনে খুশির বন্যা বয়ে যায়,আনন্দ হয় ,যে রকম  ঠিক সে রকম।
শাশুড়ি আর ননদের কথাগুলো মনে হতে থাকলো রেখার দুচোখ বেয়ে জল পড়তে থাকল কিন্তু বাচ্চাগুলোর আদর-ভালোবাসা তাদের ভেতরে যে অনুভূতি সেগুলো যখন রেখার কাছে ধরা পড়ে ,রেখাকে আদরে আদরে ভরিয়ে দেয়। রেখা ভুলে যায় সেই যন্ত্রণা।
হঠাৎই মনোজ চিৎকার করে ডাকতে থাকে রেখা ,রেখা,রেখা।
'তোমার ফোন বাজছে?'
রেখা বেশ জোরে বলে কে করেছে?
মনোজ  ঘরে টিভি চালিয়েছে। টিভির শব্দে রেখার আওয়াজ প্রথমে শুনতে পায় নি।
তারপর মনোজের মনে হল যেন মনোজকে কেউ কিছু বলছে টিভির সাউন্ড টা কমিয়ে দিয়ে কানটা খাড়া করল শুনতে পেল। রেখাই যেন কিছু বলছে।
মনোজ বলল-কি বলছ. ছ,,. ছ. ছ
বলছি কে ফোন করেছিল?
আমি দেখিনি।
ও আচ্ছা।
তুমি এসে দেখে নাও জরুরী ফোন এলে ফোন করে নাও।
হ্যাঁ, এই যাচ্ছি গো। বাচ্চাগুলোকে মায়ের কাছে রেখে গেটটা তালা দিয়াআসি
রেখা ভেতরে গিয়ে কল লিস্ট চেক করে দেখলো
এই যা t বড়দি ফোন করেছিল তো।
ঠিক আছে তুমি আর একবার ফোন করে
নাও।
হ্যাঁ ঠিকই বলেছ আবার কি করলে দেখো?
এ বাবা দরকার থাকলে তুমি ছুটি নেবে না? এই নকইয়ে আবার গসিপ ?'
রেখা বড়দিদি নম্বরে রিং করল।
রিং হয়ে গেল কেউ ধরলেন না।
আবার ফোন করল । এবার রিং হতে হতেই ফোনটা রিসিভ করে গুরু গম্ভীর স্বরে বলল হ্যালো '।
রেখা বলল ,“আমি রেখা ।আমি বলছি।.'
হ্যাঁ বলো।
না আপনি ফোন করেছিলেন তাই।
আমি ঠিকই আন্দাজ করতে পেরেছিলাম।
কালকে স্কুলে ভ্যাকসিন আছে সেকেন্ড ডোজ।
তুমি কিন্তু কাল কামাই করো না অবশ্যই স্কুলে এস।
কিন্তু দিদি এতটা পথ যাব , কি হবে কে জানে?
কিন্তু তুমি না আসলে খুব অসুবিধা হবে রেখা। চেষ্টা করো আর দেখো তুমি নিশ্চয়ই সুস্থ হয়ে যাবে।
ঠিক আছে দিদি আমি চেষ্টা করব।
এরমধ্যে কলিং বেলের আওয়াজ জয় গনেশ, জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা।
রেখা বললো এই সময় আবার কি আসলো কে জানে?
আবার কলিংবেল বাজল 
'গনেশ জয় ,গনেশ জয় 'গনেশ দেবা।
মনোজ উঠে সবেমাত্র দরজার কাছে গেছে গেল।
এবং বলল: কে ,কে জানে?'
দরজা খুলতেই একগাল হাসি নিয়ে পার্থ দাঁড়িয়ে।
মনোজ রেখা কে বলল দেখো কে এসেছে?
রেখা খুশিতে ডগোমগো হয়ে রান্নাঘর থেকে বেরিয়ে আসলো।
কি ব্যাপার পার্থ ভাই?
এইতো দিদি।?
ভাবলাম অনেকদিন আপনাদের সঙ্গে দেখা সাক্ষাৎ হয়নি কাজে ব্যস্ত থাকি।
তা বেশ বেশ ভাল করেছো।
মাসিমা কেমন আছেন।
বসার কুশান টা একটু কুঁচকে গেছে ওটাকে টানটান করে রাখল।
রেখা আবার গেল সবজি কাটতে। পার্থ বলল বৌদি একটু বসুন না।
কিছু বলবে?
বলছি মায়ের সাথে দেখা করেছিলে।
দেখা করতে পারিনি ফোনে কথা বলেছি।
মা কিছু বলেছে?
হ্যাঁ বলেছে?
পার্থ খুব শখ ভরে রেখার দিকে তাকিয়ে কিছু জানতে চাইল আশাব্যঞ্জক কথা।
রেখা বললো মাসীমা যেটা বললেন মাসিমার দিক থেকে ঠিকই বলেছে ন।
কি বলেছে মা?
কাস্ট নিয়ে।
পার্থ একটু চিন্তিত মুখে বলল মাকে কিছুতেই বোঝাতে পারছি না কাস্ট নিয়ে ধুয়ে কি জল খাব?
পার্থ চিন্তা করো না মাসিমা কে আমি বোঝাবো।
পার্থ বলল আজ এত বছরের সম্পর্ক বৌদি আমি কি করে…?
আমি বুঝতে পারছি।
তাছাড়া এখন তো ওর বাড়ি তো চাপ দিচ্ছে আমি কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।
আমি এর মধ্যেই যেতাম আমার শরীরটা বাবার বিগড়ে গেল তো।
আশ্চর্য হয়ে পার্থ বলল কি হয়েছে বৌদি?
মনোজ বাইরে থেকে কথাটা শুনতে পেয়ে এসে বলল রেখার তো শরীর খারাপ বমি পায়খানা হলো।
তারপর মায়েরা এসেছে।
পার্থ এদিক ওদিক তাকিয়ে কে মায়েরা বলতে কাকিমা আর মনিদি।
মনোজ বলল হ্যাঁ।
তা আমাদের বাড়িতে গেল না তো।
যাবে এইতো রেখা অসুস্থ ওরা রান্না বান্না করছে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।
ও আচ্ছা আচ্ছা।
তারপরই আবার পার্থ রেখা কে বলল বৌদি একটু দেখো ব্যাপারটা বুঝতে পারছো আমার মনের অবস্থা।
রেখা না বুঝে আর পারে উল্টো ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায় পার্থর অবস্থাটা বুঝতে পারছে।
রেখা পার্থকে আশ্বাস দিয়ে বলল 'কোন চিন্তা ক'রো না ।আমি দেখছি ব্যাপারটা।
পার্থ বলল তাহলে আমি আসছি বউদি তবে কিন্তু যেও না কিন্তু তোমার কথা শোনে।
রেখা ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানালো।
পার্থ উঠে দাঁড়ালো।
রেখা বলল পার্থ ভাই উঠে দাঁড়ালে চা খাবে তো একটু একটু ওয়েট করো আমি চা করে দিচ্ছি।
না বৌদি আজকে আর চা খাব না। তোমারও শরীরটা ভালো নেই।
অন্যদিন তোলা থাকলো।
মনোজ বললো ভাইয়া তুমি খেলে আমি একটু পেতাম।
পার্থ হেসে বাইরে বেরিয়ে আসলো।
বাইরে বেরিয়ে আসতেই দেখতে পেল মনোজের মা আর দিদি দাঁড়িয়ে।
পার্থ সঙ্গে সঙ্গে মনোজের মাকে গিয়ে প্রণাম করলো।
মনোজের মা বললো' থাক বাবা, বেঁচে থাকো।'
আমাদের বাড়িতে যে ও কাকিমা।
আর বাতের ব্যথা বাবা দেখি এখন তো এখানেই থাকব দেখা হবে মাঝে মাঝে।
পার্থ অবাক হয়ে বললো এখানে থাকবে 
কাকিমা। বাহ বেশ ভালো কথা।
মনোজের মা একটু বাঁকা সুরে বলল আর ভালো কথা তোমার কাছে বাবা সবার কি আর ভাল লাগবে?
মনোজ কি বলবে বুঝে না পেয়ে বলল মা ঘরে এসে বসো।
মানুষের মা বলল ঘরে ঢুকতে ঢুকতে আজকে বৌমাকে রান্না করতে বলিস বাবা মনির শরীরটাও ভাল নেই আর আমি তো দাঁড়াতে পারি না হাটুর ব্যাথা তে।
লেখা বুঝতে পারলেই ইচ্ছে করে পার্থ সামনে কথাগুলো বলছে যেন মনে হয় রেখা কিছুই করতে পারেনা উনারাই করছেন কিন্তু কিছু বললো না রেখা।
আসলে যার যার ধর্ম ঢেঁকি স্বর্গে গেলেও ধান ভানে।
মনোজ  রেখার দিকে তাকিয়ে রইল।মনোজ পড়েছে যাঁতাকলে। না পারছে রেখাকে এই অবস্থায় কিছু বলতে আর না পারছে মায়ের কথা ফেলতে।
রেখাই যেন এই অসহায় অবস্থা থেকে মনোজকে মুক্তি দিলো ।রেখা মনোজের দিকে তাকিয়ে বলল 'না ,না আমি আজকে রান্না করবো।'
পার্থ শুধু বলল 'বৌদি তুমি পারবে ?তুমি তো উইক আছো?
মনোজের মা বিড় বিড় করে বললো বাবা এত দরদ মরে যাই ,মরে যাই।
পার্থ বলল বৌদি আসছি, কাকিমা আসছি।
মনোজের মা বিরক্তিভরে বলল-'এসো বাবা।'

কবি শিবনাথ মণ্ডল এর ছড়া






মাকে পেলেই শিশু খুশি
শিবনাথ মণ্ডল



জন্মেই পেয়ে গেলাম
মায়ের শীতল কোল
আদর স্নেহ দিয় মা
সর্বদা দেয় দোল।
মা,যে আমার দেবীর সোমান
বড়ো করে তোলে
বুকের সুধা দিয়ে বাঁচায়
সব ব‍্যাথা ভুলে।
সব কষ্ট ভুলে যায় মা
দেখলে শিশুর হাসি
মাকে পেলেই ভুলেযায় শিশু
আদরের মাসি।
শিশুর কাছে মায়ের মত
নেইকো কিছু আর
হতোভাগি হয় শিশু
নেই মা যার।
বড়ো হয়ে মাকে যেন
কেউ যেওনা ভুলে
মায়ের স্নেহ মাথায় করে
রেখো সবাই  তুলে।।

০৯ মার্চ ২০২২

কবি প্রিয়াঙ্কা দাস এর কবিতা




আমরা নারী 
প্রিয়াঙ্কা দাস

যুগ-যুগান্ত ধরে বিদ্রোহ   
ব্যথা-যন্ত্রণা কষ্ট সহ্য করে
অধিকারটি পেয়েছি ফিরে।
পেয়েছি? 

এখন সমস্ত দেশের মেয়ে 
একাধিক বিদ্রোহ করে 
বছরের একটি দিন 
নারী দিবস পালন করে। 

সারা বিশ্বের মেয়েরা যখন 
নেমেছিল প্রতিবাদের আন্দোলন
ক্ষত বিক্ষত হয়েছে সব 
তবুও তো আসেনি ফিরে… 

বহু নারীর কোল শূন্য করে,
তাদের সাহসিকতার জবাব দিয়ে
মেয়েদেরকে পৌঁছেছিল সর্বাঙ্গের চূড়ায়… 

নারী বলে থামবো না
ঘরে ঘরে শুধু বদ্ধ হব না,
এগিয়ে আসব বারবার 
ভারত ও বিশ্বকে জয় করতে
নারী না পুরুষ না 
মানুষের ভিড়ে।

কুড়ি ও কুড়ি, আর ভয় তো নেই তার,
নারী ও নারী সবকিছুতে যে বিশ্ব তোমার।

কবি নীলাচল চট্টরাজ 




বসন্ত
নীলাচল চট্টরাজ 

বসন্ত কাল মিলন মধুর কাল। 
প্রকৃতির সৌন্দর্য উজ্জীবিত করে 
মানুষের প্রেম.. অনুভূতির সৌন্দর্য 
                                        জাগিয়ে তোলে প্রকৃতির প্রেম। 
ধরা দেয় বসন্ত উৎসবে।।





কবি শিবনাথ মণ্ডল এর ছড়া




কলকাতায় পাহার
শিবনাথ মণ্ডল



কোলকাতায় বাড়ির পাহার
রাস্তা ভত্তি গাড়ি
না না রকমের মানুষ গুলো
চলছে সারি সারি।
রাস্তা গুলো অলিগলি
চারিদিকে মোড়
লাল সবুজ আলোদেখে
গাড়ি দেয় দৌড়।
এত বড় শহর খানার
নেইযেন তার শেষ
সুন্দরী কোলকাতাটা আজ
সেজেছে যেন বেশ।
মহাকাশের গ্রহ তারা
আছে কোলকাতায়
তারা মণ্ডলে ঢুকলে পরে
সেথায় দেখা যায়।
ইস্ট ইণ্ডিয়ার কর্মধ‍াক্ষ‍্য
জব চার্ণক‍্য নাম
তিন গ্রাম এক করে
বাড়ালো কোলকাতার দাম।
সুতানুটি গোবিন্দপুর 
নিয়ে কোলকাতা
আঠারো টি জেলার মাথা
শহর কোলকাতা।।

গ্রামীণ ঐতিহ্যে বাসন্তী ব্লকে সদ্য হয়ে গেল "সুন্দরবন কবিতা উৎসব"




সুন্দরবন কবিতা উৎসব


বিশেষ সংবাদদাতা : সুন্দরবন :  সুন্দরবন কবিতা উৎসব অনুষ্ঠিত হল বাসন্তী ব্লকের শিবগঞ্জ ধনঞ্জয়- চম্পাবতী মহিলা সোসাইটি সভাগ্ৰহে।উৎসবের উদ্বোধন করেন সুদূর ইতালি প্রবাসী বাঙালি কবি ও সমাজসেবী বিপুলবিহারী হালদার।অনুষ্ঠানে পৌরহিত্য করেন বহুমাত্রিক লেখক ও শিক্ষক প্রভুদান হালদার।
সাকিল আহমেদ সম্পাদিত  'শীত থই থই ছড়া' গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন করেন বাসন্তী থানার আই সি ড, আব্দুর রব খান।
ডায়মন্ড হারবার প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে এবং কুসুমের ফেরা সাহিত্য পত্রিকার আয়োজনে সভাগ্ৰহে তিল ধারণের জায়গা ছিল না।



সুন্দরবন কবিতা উৎসবে সুন্দরবনের মা মাটি মানুষ বিশেষ করে বাঘে র আক্রমণের মৃত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে যিনি সহায়তা করে আসছেন সেই বিশিষ্ট শিক্ষারত্ন প্রাপ্ত শিক্ষক অমল নায়েকের হাতে মাদার টেরেজা স্মৃতি পুরস্কার তুলে দেন সাংবাদিক সাকিল আহমেদ ও মেদিনীপুর জেলা পরিষদ সদস্য কবি দুরন্ত বিজলী।
জল জঙ্গলে বাঘের গর্জন আর জীবিকার সন্ধানে গিয়ে বাঘের আক্রমণ থেকে বেঁচে ফিরে আসা মৎস্যজীবী এবং ফিরে না আসা পরিবারের বিধবা বাসন্তীর অলকা মন্ডলের হাতে তুলে দেওয়া হল সুন্দরবন সৃজন সম্মানের পাশাপাশি আর্থিক সাহায্য।



একমাস আগে মাছ ধরতে গিয়ে বাঘের আক্রমণে পড়েন গৌরহরি মাইতি ।অসম লড়াই করে বেঁচে ফিরে এসে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।বললেন সারাক্ষণ মাথা ঘুরছে।চোখে কিছু দেখতে পাচ্ছেন না গৌরহরি ।সংসার চলে না।জীবনকে বাজি রেখে তাঁদের এই 'হাম সফর' ভোলার নয়।
কবিতা উৎসবে সুন্দরবন সৃজন সম্মান পেলেন কবি  সুনীল করণ, দুরন্ত বিজলী, নীপা চক্রবর্তী, তন্দ্রা ভট্টাচার্য, শংকর দত্ত,পুষ্পিতা চট্টোপাধ্যায়, পুনে থেকে কবি মিনতি সরকার, শ্যামল জানা, মালদা থেকে ভাস্কর পাল মুর্শিদাবাদ থেকে প্রধান শিক্ষিকা সুদেষ্ণা সিনহা, বাচিক শিল্পী অনিন্দিতা মোদক,হুগলি থেকে মানিক পন্ডিত ,দিলীপ কুমার প্রামাণিকপ্রমুখ।




উদ্বোধক বিপুল বিহারী হালদার বলেন, দুই মৎস্যজীবী পরিবারের হাতে ইতালি ফিরে গিয়ে আর্থিক সাহায্য পাঠাব যাতে তাঁরা জীবন নির্বাহ করতে পারেন স্বাচ্ছন্দ্য পরিবেশে।
মাদার টেরেজা পুরস্কারে সম্মানিত অমল নায়েক বলেন, আমার এই পুরস্কার সুন্দরবনের মানুষের উদ্দেশে উৎসর্গ করলাম।

০৮ মার্চ ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১২৫




উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১২৫
ময়ূরকণ্ঠী নীল আকাশ ডাকে
মমতা রায় চৌধুরী



১৪.০২.২২ সন্ধ্যে ৭.৪০
রেখার বরাবরই নিজের রুম ছাড়া ঘুম আসে না।
আলাদা রুমে গিয়ে শুতে হচ্ছে যদিও ,এখন তো এই ঘরটাকেই নিজের করে নিতে হবে ।কিন্তু প্রথম প্রথম তো ঘুম আসাটা খুবই মুশকিলের 
ব্যাপার ।তারপর যদি মানসিক শান্তি থাকে তবে
তো । যদি অশান্তি রয়েই যায়, সেখানে ঘুম কোত্থেকে আসবে?
এখন মনোজ রেখাকে একই রুমে শুতে 
হয় ।মনোজের উপায় নেই ।শুতেই হবে। না হলে বসার ঘরে গিয়ে শুতে হবে ,সেটা দৃষ্টিকটু ।
সেটা মনোজ করবে না।
এসব ভাবতে ভাবতেই কিরকম পেটের ভিতর অশান্তি শুরু হয়েছে। একদম ভালো লাগছে
 না। কেমন আনচান করছে ,ভেতরে  অস্থিরতা কাজ করছে। মনোজ মায়েদের ঘরে গিয়ে কথা বলছে। 
এই যা বমি বমি পাচ্ছে।
শীতে লেপ গায়ে থেকে ফেলে দিয়েছে।
আর রেখা থাকতে পারছে না ।
রেখাকে এবার বাথরুমে ছুটতেই  হচ্ছে।
তাড়াতাড়ি রেখা বাথরুমে গেল ', ওয়াক ওয়াক করে বমি করছে।  যা খাবার খেয়েছে সব বেরিয়ে গেল শুধু টক টক লাগছে।চোখেমুখে ঠান্ডা জল দিল।
বমি করে যেন একটু আরাম লাগলো কিন্তু তবুও ভেতরের অস্বস্তি কাটছে না। আবার শুয়ে পড়ল আবার বমি পাচ্ছে এবার  রেখা আবার উঠলো আবার বাথরুমে গেল।
আবার বাথরুমে গিয়ে ওয়াক ওয়াক ওয়াক করে বমি করল। এবার অনেকটা বমি করেছে।
এ বাবা এ কি এবার তো পায়খানা পাচ্ছে।
তাড়াতাড়ি জামা কাপড় ছেড়ে ল্যাট্রিনে গেল।
মনোজ কোন কারনেই একটা আওয়াজ পেয়ে ঘরে এসে দেখল রেখা নেই। মনোজ ভাবলো নিশ্চয়ই বাথরুমে গেছে রেখা।
বাথরুম থেকে এবার আবারো ওয়াক ওয়াক এর আওয়াজ পেল। 
সন্ধিগ্ধ চিত্তে মনোজ ভাবল
'ঠিকই শুনেছে। তাহলে কি রেখা বমি করছে?'
মনোজ বাথরুমের দরজার কাছে গিয়ে দরজা নক করে বলে 
"রেখা, রেখা, রেখা।'
'কি হলো আওয়াজ দিচ্ছ না কেন ?
কি হয়েছে ?
তুমি কি বমি করছ?'
বাথরুম থেকে উত্তর দিল ' শরীরটা কেমন করছে।'
"সেকি কখন থেকে?'
"অনেকক্ষণ থেকে।'
'বললে না ?ডাকতে তো পারতে,,?'
"হ্যাঁ, পারতাম ।তুমি তো গল্প করছিলে তাই ভাবলাম….।"
Ok
'কিন্তু শরীর খারাপ হলে তো ডাকতে হবে না?'
'এখন কেমন বোধ করছ?'
'পটিও করলাম।'
'এ বাবা ,ক' বার করলে?
"চারবার হয়ে গেছে।'
 "সে কি জ্বর আছে?'
"না।'
"থ্যাংকস গড।'
" বাথরুম থেকে বেরোতে পারবে তো?'
এরমধ্যে আবার রেখা ওয়াক ওয়াক করে বমি করল।
"হ্যাঁ।
ঠিক আছে। আস্তে আস্তে বেরোও।
এতক্ষণ কষ্টের মধ্য ও  মনোজের এই কথার জন্য রেখার মনটা ভাল হয়ে গেল। এ যেন তৃষ্ণার্ত হৃদয় এক পশলা বৃষ্টির শ্রাবন'এর ঘনঘটা ।
রেখা শুধু কি চেয়েছে একটু ভালোবাসা, একটু ভালোবেসে কথা বলা ব্যস। আর কি চাই?'
মনোজ  আবার দরজায় নক করল' রেখা, রেখা ,রেখা. আ. আ. আ
বেরোচ্ছে না কেন? খুব খারাপ লাগছে।
শরীরটাও উইক লাগছে।
 দরজা খোলো।'
রেখা দরজা খুলে দিল।
মনোজ এসে রেখার হাতটা ধরল।
উফফফ এক ঝটকায় যেন রেখার শরীর ভালো হয়ে গেল। পরম বিশ্বাস ভালবাসার হাতটাই
  সারা জীবন খুঁজে গেছে রেখা।
ওদিক থেকে ওর শাশুড়ি মা আর ননদ  বলছে 'দেখো তোমার ছেলের কান্ড দেখো গে।'
" কেন রে কি হয়েছে ?'
"দেখলাম তো রেখাকে বাথরুম থেকে ধরে ধরে নিয়ে যাচ্ছে ঘরে। যতসব আদিখ্যেতা।'
রেখার কানে সব কথাগুলো এসে পৌঁছাচ্ছে কিন্তু রেখা এসব কোন কিছুই ধরতে চাইছে না ।
মনোজের দিকে তাকিয়ে আছে।
 মনোজ বলল 'কি হল? তুমি এভাবে তাকিয়ে আছ কেন ?'
"তোমাকে দেখছি কত দিন পর…।'
"তুমি আমাকে কতদিন পর দেখলে?'
"হ্যাঁ ,সেরকমই  ।মনে হয় প্রায় এক যুগ পর।' মাঝে মাঝে তুমি যে কি বল না ?আমি কিছু বুঝতেই পারিনা তোমার কথা।'
ছাড়ো ওসব। চলো ওষুধ খাবে। ডাক্তারকাকাকে ফোন করছি । তারপর ওষুধ খাইয়ে দিই।
শোনো আজকে রান্না বান্নার দিকে যেতে পারবে না।
 মিলিদের রান্নাটা দেখছি আমি চাপিয়ে দিচ্ছি।
রেখা ভাবছে কোন মনোজকে দেখছে । পানকৌড়ির মত টুক করে ডুব দিয়ে  যে ভালোবাসা নিমিষেই মিলিয়ে গেছিল বলে মনে হয়েছিল ।তার হিসেব নিকেশ কষতে কষতে মনে হয়েছিল জীবনে নিট ফল জিরো এসে 
দাঁড়িয়েছে ।কই না তো সেরম কিছু না। তাহলে কি সে মনোজের মনটাকে বুঝে উঠতে পারছে
না ।তার ভেতরে কি শুধুই চলছে
 টানাপোড়েন ?কি জানি? জানি না।
কি হলো কিছু বলছো না ।
"আজকে স্কুলে যাবার কথা ছিল । '
"স্কুল এ যেতে হবে না।"
ওদিকে কলিং কে বেল বাজাচ্ছে' জয় গনেশ, জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা'গান হয়ে যাচ্ছে।
আবার কলিংবেল বাজছে ।
মনোজ এবার চিৎকার করে বলল কেউ কি দরজাটা খুলতে পার না? দিদি, একটু দরজাটা খোলো না ,দেখো না কে আসলো?'
মনামী গিয়ে দরজাটা খুলল অনেক বিরক্তি নিয়ে 'কাজের মাসী কাজে এসেছে,। মনোজর ঘরে এসে দিদি বললো" তোদের কাজের মাসি 
এসেছে ।'
"ও আচ্ছা, দরজাটা ভেজিয়ে দে।'
কাজের মাসি একটু অবাক হয়ে গেল  রোজ বৌমা  দরজা খোলে । আজ কি হল ?জিজ্ঞেস করলো বৌমার কি কিছু হয়েছে?
রেখার ননদ মুখটা বাঁকিয়ে বলল 'কি হয়েছে জানি না।যাও তুমি গিয়ে দেখো।'
মাসি গজগজ  করতে করতে আসলো। একটা কথা সহজ ভাবে জিজ্ঞেস করলে, এরা উল্টো উল্টো জবাব দেয়। কিরে বাবা।
'বৌমা ,ও বৌমা।'
রেখা ঘর থেকে আওয়াজ দিল
" হ্যাঁ, মাসি এসো।'
রেখার ননদ আবার বলল' যে রকম ক্লাস সেরকম ক্লাসের সঙ্গেই তো পড়বে, তাই না গো মা?
কি জানি দেখি তো গিয়ে সত্যি সত্যি কিছু হয়েছে কিনা?
চল দেখে আসি?'
'তুমি থামো তো মা। আমরা এসেছি করে খাওয়াতে হচ্ছে না, কাজের অজুহাত আর কিছু না।'
'কি হয়েছে বৌমা?'
'মাসি হঠাৎ করে শরীরটা এত কষ্ট হচ্ছিল, অস্বস্তি হচ্ছিল ,কয়েকবার বমি হলো ।প্রচুর বমি হয়েছে আর পটিও হলো।'
মনোজ এসে ওষুধ খাইয়ে দিল।
'ঠিক আছে তোমায় উঠতে হবে না তুমি বসো।'
'চা করতে হবে তো মাসি?'
'না চা করতে হবে না ।আমি খাব না চা ।আগে সুস্থ হও।'
তুমি না খেলে কি হবে, বাড়ির লোকজনের জন্য তো করতে হবে।'
'আরে নিজে বাঁচলে বাপের নাম। তুমি আগে সুস্থ হও ।উনারা করে নেবেন।'
রেখার ননদ কান পেতে শুনছিল।
মনামী গিয়ে মায়ের কাছে গিয়ে লাগলো 'মা কাজের মাসি অব্দি দেখো কিরকম বলছে গো?'
ইনিয়ে বিনিয়ে অনেক কথা মন আমি তার মায়ের কাছে গিয়ে বলল। রেখার শাশুড়ি তো একেবারে ভস্মে ঘি ঢেলে দিয়েছে।
রেখার শাশুড়ি ননদ চলে আসলো রেখার ঘরের সামনে। তারপর কাজের মাসি কে উদ্দেশ্য করে বলল' 
' বাড়িটা কার বুঝতে পারছি না তো?
তোমার এত বড় আস্পর্ধা মাসি,?'
মাসি তো একেবারে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে হতভম্ব হয়ে বলল
'কি করলাম আমি আবার।'
রেখার শাশুড়ি তো একেবারে রণচন্ডী মূর্তি ধারণ করে বলল
'তুমি একটু আগে কি বলছিলে চা করা নিয়ে।'
কাজের মাসি খুব শান্ত গলায় বলল' ও এই কথা। আমি বললাম বৌমা অসুস্থ আমার জন্য চা করতে যাবে সেজন্য  বারণ করেছি। কি এমন বলেছি?'
'আর কিছু বলনি আমাদের চা করা নিয়ে।'
কাজের মাসী বললো ও হ্যাঁ আর আর একটা কথা বলেছি যে 'তুমি অসুস্থ থাক ,বাড়ির লোক করে নেবে ।কি খারাপ কথা বলেছি ?দেখতে পাচ্ছেন না বৌটা অসুস্থ। আমরা পরের লোক হয়ে বুঝতে পারছি আর আপনারা বুঝতে পারছেন না?'
রেখার শাশুড়ি তো একেবারে বলে উঠলো
'হায় হায় হায় ঝিকে মেরে বউকে শেখানো। ((গালে হাত দিয়ে রেখার শ্বাশুড়ি বললো।) তারপর ছেলেকে উদ্দেশ্য করে বলল
'মনু এ বাড়িতে থাকতে পারবো না রে, হায়, হায়, হায় । বাড়ির বউ কাজের বউ সব এক হয়ে যদি আমাদের সঙ্গে এভাবে লড়তে থাকে,আমরা কি করে পারব বল?'
 মনোজ বাথরুম থেকে বেরিয়ে বলল'
' কি হয়েছে ?
তোমরা এরকম হা-হুতাশ কেন করছো?
একটু চুপ করতে পারোনা মা ।সবসময় তোমাদের মুখে যা আসে তাই বলে যাচ্ছ ।'
তুই আমাদেরকে বলছিস আর এতক্ষণ যে কাজের বৌ আমাদেরকে কত কথা বলল।'
রেখা কাজের মাসিকে বলল মাসি তুমি গিয়ে কাজ করো যাও।'
এখান ননদ বললো সকাল থেকে এক কাপ চা ও পেলাম না।
'আজকে আর চা খাওয়া হলো না বোধহয়।'
মনোজ দিদিকে বলল 'তুই একটু কর না 
দিদি ।দেখছিস তো ওর শরীরটা খারাপ।'
'আমি চা করব?
"কেন বাড়িতে চা করিস না।'
"হ্যাঁ, বাড়িতে করি কিন্তু এখানে এসে করব। 'তাহলে চা না খেয়ে বসে থাক।
রেখা বলল 'ঝগড়া করো না তো ,ভালো লাগছে না  আমি যাচ্ছি চা বানাতে।'
রেখা উঠে রান্না ঘরের দিকে যাবার চেষ্টা করল।
মনোজ বললো' তুমি উইক আছো। তুমি কি করে এখন চা করবে ?একটু রেস্ট নাও।'
রেখা আস্তে আস্তে রান্নাঘরে গিয়ে গ্যাস জ্বালিয়ে জল বসিয়ে দিল । অন্যদিকে মিলি আর তার বাচ্চাদের জন্য ভাত বসিয়ে দিল।'
মাঝেমাঝেই পেটের মধ্যে মোচড় দিচ্ছে আর বমি পাচ্ছে।
কাজের মাসি একফাঁকে রান্না ঘরে জানলা দিয়ে উঁকি মেরে বলল,_ বৌমা তুমি উঠে আবার এই রান্না ঘরে ঢুকেছ?'
এক গাল হেসে বললো 'কী করবো মাসি বলো?'
তুমি কিন্তু চা খেয়ে যাবে মাসি।'
'তোমার বাচ্চাগুলো তো চেঁচাচ্ছে গো।'
কটা বিস্কিট দিয়ে দাও না ওদেরকে।
'আমি দেব? কেন তুমি ভয় পাচ্ছ তোমাকে তো চিনে গেছে। এর আগের দিন খেতে দিলে না?'
'ঠিক আছে, দাও দিয়ে দিচ্ছি।'
রেখা ৮-১০ ব্রিটানিয়া বিস্কিট মাসির হাতে দিল।
মাসিকে দেখে বাচ্চাগুলো আরো চেঁচাতে লাগলো। মাসি আদর করে করে ডাকছে' তুলি, পাইলট, এই নাও বিস্কিট খাও।
রেখার ননদ বলল' মাগো মা  কান্ড দেখে মরে
 যাই। কুকুরের জন্যএত আদিখ্যেতা।'
রেখা চা করে নিয়ে মনোজ, শাশুড়ি মা আর ননদকে দিল।
এমন সময় মনোজের ফোনে ফোন আসলো। মনোজ ফোনটা রিসিভ করে বলো হ্যালো'
'হ্যাঁ রে কেমন আছিস?"
"কে রে সুরো?'
'ছিলাম একঅধম কোন এক সময়।
তোরা তো একেবারে অমাবস্যার চাঁদ হয়ে উঠেছিস?'
'কেন কেন?'
কেন আবার দেখা তো হয়ই না। ফোন করতেও ভুলে গেছিস আজকাল।'
'ও তাই ?আর তুই বুঝি খুব ফোন করিস?'
'ফোনটা কে করলো শুনি?'
'ঠিক আছে। শোন আজকে রেখাকে পাব?'
"কেন কি হয়েছে বল না?'
শিখার বিয়ে ঠিক হয়েছে। তোদেরকে কিন্তু এক সপ্তাহ আগে আসতে হবে toআগেই বলে 
দিলাম ।কোন অজুহাত আমি শুনবো না।'
মনোজ  যেন আকাশ থেকে পড়ল ।অতি আশ্চর্য হয়ে বলল
"এক সপ্তাহ আগে?'
হ্যাঁ আমার যেমন বোন তোরও তো তেমনই বোন।'
'সে তো ঠিকই।'
" তাহলে কোন কথা নয় ফেব্রুয়ারি মাসের 28 তারিখে বিয়ে।'
'কার সাথে বিয়ে হচ্ছে?
'কার সাথে আবার। আমার শালার, শালার সঙ্গে।'
'ও কল্যাণের সঙ্গে।'
' হ্যাঁ রে ,খুবই ভালো ছেলে।'
'কল্যান বরাবরই ভালো ছেলে। তারপর কলেজের প্রফেসর বলে কথা। খুব ভালো হয়েছে।'
'এই সমন্ধ টা তো অনেক আগেই দিয়েছিল।  শিখা কিছুতেই রাজী হচ্ছিল না। যাই হোক এবার পুজোতে গ্রামে গিয়ে কল্যাণের সঙ্গে শিখার আলাপ হওয়াতে, দুজনারই ভালো লেগেছে।'
'ভালো খবর।'
'রেখাকে একটু ডেকে দে।'
'রেখার শরীরটা একটু খারাপ আছে রে সুরো।'
"কি হয়েছে রে?'
"কাল রাত থেকে বেশ কয়েক বার বমি
 করেছে ।পায়খানা হয়েছে।'
"সে কিরে! ওষুধ খাইয়েছিস?'
"তাহলে একটু রেস্টে থাকতে বল।'
'আর রেস্ট রান্নাঘরে ঢুকে বসে আছে।'
'বড্ড বাড়াবাড়ি তোর । ওর হাতের রান্না না খেলে তো পেট ভরে না।'
"বাড়িতে দিদি,মা এসেছে না?'
'ও শোন, বিয়েতে কিন্তু তাহলে দিদি আর মাসিমা কেও নিয়ে আসবি কেমন?'
আর শোন, থাক আজকে রেখাকে ডাকতে হবে
 না ।আমি অন্য সময় আবার ফোন করে 
নেব ।ভালো থাকিস সবাই।'
'তোরাও ভালো থাকিস।'
'ফোন কেটে দিল।'
এরপর মনোজ রান্নাঘরের দিকে গেল।
  রেখাকে দুটো গোলাপ ফুল হাতে দিয়ে বলল 'হ্যাপি ভ্যালেন্টাইনস ডে।'
রেখা তো একেবারে অবাক। কাকে দেখছে? চিনতে পারছে না মনোজকে? মাঝে মাঝে কেন তাহলে রেখার সাথে এরকম করে?'
মনোজ বেশিক্ষণ ওয়েট করল না শুধু বললো' 'অবাক হয়ে গেছ, আমি ভুলে গেছি ভাবলে?'
রেখা হতভম্ব হয়ে গেল
 আর ভাবলো কেন তাহলে এরকম হয়। মনোজকে যেন চিনতে পারে না মাঝে মাঝে।
ভ্যালেন্টাইন্সডের কথা আসতেই রেখার মনে আবার পানকৌড়ির এর মত উঁকি দেয় স্বপ্নীলের কথা। সে এক অন্যরকম ভ্যালেন্টাইন্স কাটিয়েছে।
সে যেন ময়ূরকণ্ঠী রাতের নীল আকাশে তারাদের ঐ মিছিলে ভেসে গেছিল ।
মনোজ কি পারবে  রেখাকে নিয়ে ময়ূর কণ্ঠী নীল আকাশে তারাদের মাঝে হারিয়ে যেতে?
এর মধ্যেই ভাবনার ছন্দপতন ঘটায় মাসির ডাকে 'ও বৌমা, বৌমা আমি আসছি।'
রেখা হেসে বলে' হ্যাঁ ,মাসি এসো।'

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১২৪




উপন্যাস 

টানাপোড়েন১২৪
রোদ্দুর হোক অবেলায়
মমতা রায় চৌধুরী




সময় বয়ে যাচ্ছে। কুয়াশায় ঢেকে গেছে 
বেলা ।তাই স্বপ্ন দেখতে ভয় লাগে। কি হবে স্বপ্ন দেখে এই অবেলায়? তবুও পোড়ামন স্বপ্ন দেখে 
রোদ্দুর ডাকটিকিট নিয়ে বেঁধে রাখবে তাদের এক আঁচলে। তাই রেখা ভালোবাসার 
কাঙাল ।ভালোবাসাকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকতে চায়।
  সকালে উঠে রেখা কাজ করতে করতে এসবই  ভাবছে। তার শাশুড়ি মা  তাকে এখন মেনে নেবে তো? গতকাল এসেছেন ওনারা ।কালকে সেইরকম খারাপ ব্যবহার কিছু করেন নি। যদিও ননদের কথার মধ্যে লঙ্কার ঝাল মেশানো ছিল। কিন্তু রেখা সেগুলোতে মনে রাখেনি।
সকাল থেকে নতুন উদ্যমে শাশুড়ি মাকে সন্তুষ্ট করার জন্য নানা প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। শীতকাল শাশুড়ি মার কষ্ট হবে তাই আগেই গিজার চালিয়ে জল গরম করে রেখেছে ,বাথরুমে গিয়ে যাতে ঠান্ডা জল স্পর্শ করতে না হয়।
সারারাত একটা উত্তেজনা কাজ করেছে এবার বোধহয় মায়ের ভালবাসাটুকু ফিরে পাবে। রেখার মা তো কবেই স্বর্গে চলে গেছেন। মায়ের প্রতিচ্ছবি শাশুড়ি মার মধ্যে দিয়েই খোঁজার চেষ্টা করছে । 
সকাল সকাল আজ কলিংবেল বাজছে' জয় গনেশ, জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা।'
লেখার আজকে নতুন রুমে ঘুম হয়নি তারপর একটা ভাব নাতো ভেতরে ছিল একটা আশার ভাবনা তাই তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজাটা খুলেছে।
মাসিকে দেখে এক গাল হেসে বলেছে 
"মাসি সকাল-সকাল এসেছ ,বেশ ভালো হয়েছে।'
'আর বোলো না আজকে এক জায়গায় যাব। তাই তাড়াতাড়ি আসলাম।'
'বেশ করেছো। এসো এসো ভেতরে এসো।'
সকালে কাজের মাসি এসেছে ।কাজের মাসিকে বুঝিয়েছে।
'মাসি এখন থেকে তোমাকে একটু এক্সট্রা কাজ করতে হবে ।তার জন্য তোমাকে তার পারিশ্রমিক দেয়া হবে।'
'কেন গো তোমাদের আবার বাড়তি কাজ কি হলো এইতো দুটি প্রাণী।'
'হ্যাঁ গো, এখন থেকে আমার শাশুড়ি মা থাকবেন তো, তাই উনার কাপড় জামাগুলো কেঁচে দেবে ঠিক আছে। আর যদি কিছু বলেন সেগুলো একটু করে দিও।
"হ্যাঁ গো ,বৌমা তুমি বলছো, আর করে দেবো না?
উনি আবার আমার সাথে খ্যাচ খ্যাচ করবেন না তো বৌমা?'
"ও মাসি যদি দুটো কথা বলেও থাকেন, তুমি কিছু মনে ক'রো না ।বয়স হয়ে গেছে তো। আমার শাশুড়ি মা খুব ভালো মানুষ।'
'ঠিক আছে, বৌমা। তুমি এত সুন্দর করে বুঝিয়ে বললে ,তাই হবে।'
ইতিমধ্যেই শাশুড়ি মা ঘর থেকে বেরিয়ে রেখাকে এমন শাড়ি পড়িয়ে দিলেন তাতে উনার ভালো মানসিকতা স্পষ্ট হয়ে গেল আর রেখা জীবনেও ভুলতে পারবে না।
'সকালে উঠে কাজের বউ এর কাছে আমার নামে নিন্দা করছো বৌমা?
'এক দিনও হলো না এসেছি বাড়ীতে, এর মধ্যে নিজের স্বরূপটা দেখিয়ে দিলে?'
'মা আমি..।'
রেখা কি একটা কথা বলতে যাচ্ছিল সেটা সম্পূর্ণ করতে দিল না।
তবুও রেখা ব্যাপারটা বোঝার জন্য আরেকবার বলতে যাচ্ছিল
 'মা আমি…।'
শাশুড়ি মা হাত তুলে রেখার দিকে দেখিয়ে বললেন-
'আর তোমাকে শাক দিয়ে মাছ ঢাকতে হবে না বাছা।আমি সব শুনেছি।'
'না মাসিমা বৌমা সেরকম….।'
কাজের মাসিও বুঝিয়ে বলতে যাচ্ছিল,.
'এই তুমি কাজের বউ।। কাজের লোকের মতো থাকো ।আমাদের মধ্যে কথা বলতে এসো না তো?
যতসব আদিখ্যেতা।'
কাজের মাসি ও রেখা দুজন দুজনের মুখ চাওয়াচাওয়ি করতে লাগলো। আর চোখের ইশারায় বুঝাতে চাইলো এসব কি হচ্ছে?
'একেতে রামে রক্ষা নেই সুগ্রীব দোসর 'এবার
ননদ এসে ফোড়ন দিল।
'শুনলে মা, কেমন কাজের লোকের কাছে তোমার নিন্দে করছে । তোমার এ বৌ ঠিক হবার নয় গো মা?'
"তাইতো দেখছি মনু এমন মেয়েকে বিয়ে করে আনলো সংসারে। আমার হার মাস জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিল।'
মনোজ ঐএসব কথা কাটাকাটির মাঝে এসে উপস্থিত হলো
'কি হলো তোমরা সাতসকালে চিৎকার করছো কেন ?এটা বাড়ি না অন্য কিছু?'
'তোর বৌকে জিজ্ঞেস কর না?'
মায়ের দিকে তাকিয়ে মনোজ' বললো ' কি বলছো, তুমি এসব?'
কাঁদতে কাঁদতে বলল'' আমি ঠিকই বলেছি রে ,তুই আমার কথা বিশ্বাস করবি না, তাই 
তো ? মেয়েকে কাছে টেনে নেয় বললেন 'মনামির কাছে শোন।'
'হ্যাঁরে ভাই তোর বউ আর কাজের মাসি দুজনে মিলে কুটকাচালি করছিল।'
মনোজ বলল' রেখা ওরকম মানসিকতার মেয়ে নয় ।
মনামী বলল 'দেখলে মা, কেমন গায়ে ফোসকা পড়ে গেল।
'হ্যাঁ ,তা একটু পড়লে বটে।
অকারনে তোমরা অনেক কথা বলছো।
মনোজের কথাগুলো  রেখার কানে আসলো।
যত সব মেয়েলী কুটকাচালি।মনোজ কথাগুলো বলে চলে গেল।
রেখা তো ওখানে ধপ করে বসে পড়েছে, মাথায় হাত দিয়ে।
কাজের মাসি কাজ করে এসে বলল 
'বৌমা এখানে বসে আছো ?যাও চা খেয়ে নাও।'
' মাসি তোমাকেও চা দেয়া হয়নি ।তুমি বসো, আমি চা বানিয়ে আনছি'। রেখা কথাগুলো যখন বলছে তখন ওর  কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে গেছে, চোখের কোনে জল।
মাসি বলল " ও বৌমা , রোজই তো  চা খাই, আজ না হয় নাই খেলাম।'
"চলো বৌমা দরজাটা লাগিয়ে দেবে আমি 
যাই ।দেরী হয়ে গেল।"
"চলো মাসি '
মাসি যাবার সময় গজগজ করতে করতে বলল "এত ভালো বৌমা, কারণে-অকারণেই কথা শোনানো। বৌমা শাশুড়ির নামে প্রশংসা করল। কত ভালো মানুষ বলে আমার সামনে পরিচয় দিল।
আর শাশুড়ি মা দেখো… '।
দরজার কাছে এসে মাসী বললো
' বৌমা যাও ,ভেতরে যাও। চা করে খেয়ে নাও গা।'
রেখা দরজা বন্ধ করতে করতে ও দিক থেকে মনোজের চেঁচানোর আওয়াজ পেল। কিন্তু কোন আওয়াজ দিল না ।
মনোজ আবার তার  আর্তি প্রকাশ করল
'রেখা ,রেখা, রেখা .আ. আ. আ।
রেখা মনোজের ঘরের দরজার কাছে গিয়ে বলল "কি বলছ?'
আজকের চা টা কিছু হবে,না হবে না?
'কেন চা হবে না কেন?'
সেটাই তো জিজ্ঞেস করছি এতটা বেলা হলো এখনো চা পেলাম না।
"একটু ওয়েট করো এখনি পাবে' বলেই রেখা রান্নাঘরের দিকে পা বাড়ালো।
ঘরের মধ্যে শাশুড়ি মা আর ননদ বসেছিল।
দুজনাই ঝোপ বুঝে কোপ মেরে দিল।
"সে কিরে তোকে কি এত বেলা করেই চা খেতে হয় নাকি?'
মনোজ কোন কথার উত্তর দিলে না।
মনামী বলল' 'চাকরি করা বউ এনেছো ,অত কিছু চাইলে হবে?'
খোঁচা মারা কথা হৃদয়ে তীর বিদ্ধ হয়।
সব কথাগুলোই রেখার কানে গেল।
রেখা গতরাত্রে যে আশা নিয়ে বুক বেঁধেছিলো তা যেন ভষ্মে ঘি ঢালার মতো হলো।
তবুও চেষ্টা করছে সোনা মিললেও মিলতে 
পারে।
ওদিকে রেখার গলার আওয়াজ পেয়ে মিলি আর ওর বাচ্চারা চিৎকার শুরু করেছে।
মনোজের মা বলল
' তোকে বলেছিলাম না ,যে ওই অসভ্য , অপয়া জীবগুলোকে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিবি।'
মনোজ বলল '-কি বলছ মা তুমি ,।ওরা অবলা জীব। আর ওরা অপয়া হতে যাবে কেন? ওরা প্রভুভক্ত জীব।'
মনামী বললো' এসব কথা বলো না মা ।তোমার বৌমার কাছে এরা চোখের মনি। এইজন্যই তো ভাই কিছু বলতে পারেনা ।চাকরি করা মেয়ে না?'
সব কথাগুলোই রেখা শুনতে পাচ্ছে। আসলে রেখা শুনিয়েই বলা হচ্ছে।
রেখা চা করতে করতে ভাবছে আজ স্কুলে যাবে কিনা? আজ স্কুলে গেলে তো আর রক্ষে নেই। এমনি অশান্তি শুরু হয়ে গেছে।
তবুও মনে মনে ভাবছে এখানে সব মেনে চলার দরকারটাই বা কি সে তো ইচ্ছে করলেই চলে যেতে পারে কিন্তু না রেখার বিবেক বলে একটা কথা বলে যদি মিলেমিশে শান্তিতে থাকা যায় সেটাই ভালো। যদি নিজেকে কিছুটা সেক্রিফাইস করতে হয়, সেটাই ভালো।
চা করে কাপগুলো সাজিয়ে নিয়ে গেল ঘরে। মনোজকে দিল ,শাশুড়ি মাকে দিল, ননদ কে দিল।
তারপর রেখা  মিলিদের কাছে গেলো ওদের কিছু খাবার নিয়ে।
এরমধ্যে মনোজ গিয়ে বলল' তুমি আজকে স্কুলে যাবে না?'
'কি করব বলো স্কুলে যাব, কি যাব না?'
' তুমিই জানো স্কুলে যাবে, কি যাবে না?
তবে এটা বলতে পারি মা, দিদিরা এসেছে আজকে না গেলে ভালো হয়  এবার তুমি বিবেচনা কর, কি করবে,?"
রেখা কোন কথা বললা না।
 মনোজ বলল 'তোমাকে তো জিজ্ঞেস করছি তুমি কিছু বলছো না?"
রেখে শুধু মনোজের দিকে তাকিয়ে রইল।

মনোজ বিরক্ত হয়ে বলল' এখন দেখছি তুমি বোবা হয়ে গেছো।
 নাকি, আমার সাথে কথা বলতে তোমার কষ্ট?'
রেখা বলল আমি স্কুলে গেলে তোমার ভালো লাগবে তো?
আমার ভালো লাগা, না লাগা তোমার কী এসে যাবে?'
আমার তো অনেক কিছু এসে যায় কিন্তু তোমার কি কিসে, কি এসে যায় _সেটা এখনো বুঝতে পারলাম না।'
'দেখো রেখা এরকম  বাঁকা বাঁকা কথা বলো না তো। আমার ভালো লাগছে না।'
'সেজন্যই তো চুপ করে ছিলাম।'
মনোজ ওখান থেকে চলে গেল গজ গজ করতে করতে।
রেখার দুচোখের জল পড়তে লাগলো।
রেখা ভাবছে সময় যত বয়ে যাচ্ছে কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে বেলা ।স্বপ্নগুলো তাই অবেলায় পড়ে থাকে অনাদরে আর এই স্বপ্নের ঘোরে কোন ঝড় উঠবে 
কিনা, বাতাসে কোন ফুলের গন্ধ ছড়াবে কিনা?
তার মন দোলাচলাতায় দুলছে।
তবু ভাবছে শুধু বেঁচে থাক অভিমানগুলো নতুন কপাল ছুঁয়ে ।তবু প্রান ভরে দেখি আকাশে মেঘের আনাগোনা , মেঘ আসুক এলোকেশে। যদি বেঁধে রাখতে যদি পারি। তারপরেই আলসে পিয়ন ডাকটিকিট দিয়ে যাক রোদ্দুরের। মিল আর তার বাচ্চাদের আদরে ক্লান্ত প্রভাতের স্মৃতিগুলো
দূরে সরিয়ে প্রত্যাশায় থাকে রোদ্দুর নিশ্চয়ই তার জীবনে আসবে নতুন প্রভাত হয়ে। ফিরে পাবে মায়ের ভালোবাসা, স্বামীর বিশ্বাস -ভালোবাসা ভরা এক আকাশ।

কবি মহুয়া চক্রবর্তী এর কবিতা




নারী
মহুয়া চক্রবর্তী


  মানুষ হয়ে এলে তুমি
                 এই ভুবনে, 
  তবু তোমার হুঁশ এলো না
                     এই জীবনে।
    
  বনের পশু ও বোঝে যখন
           নিখুঁত ভালোবাসা 
   পুরুষ শুধু মেটায় তার
                     নিছক পিপাসা।
 
      পথে পথে পুড়ছে দেখো
                   নারীর সম্মান, 
      নিজের জীবন পণ্য করে
                       করছে জীবন দান।
  
      নারীকে বিবস্ত্র করে
                  ওদের আসে সুখ,
        অমন সন্তান জন্ম দিয়ে
                           পুড়ছে মায়ের মুখ।
      
           সে যুগ হয়েছে বাঁশি
                    যে যুগে পুরুষ দাস ছিল না
            নারী রাই ছিল দাসী। 
  এল বেদনার যুগ, মানুষের যুগ, সাম্যের যুগ আজি
      কেউ রবে না বন্দী কাহারও-
                       বেজেছে ঢাক আজি।
  
       নারী তোমার জন্মদাত্রী
                     নারী তোমার গৃহিণী
        নারীবিহীন পিতা নামের
                               পরিচিতি যে আসেনি।।

০৭ মার্চ ২০২২

কবি সানি সরকার  এর দুটি কবিতা




সময় 
সানি সরকার 

বাজির ঘোড়া নও, যে কাঁসর বাজিয়ে
পাড়া সুদ্ধ মানুষজনকে বাজি জিতছে 
তা দেখবার জন্যে ভিড় জমাচ্ছে পাশের মাঠে 

এমন হলেও আমি মানতাম না 
আমি তিরস্কার করতাম সেইসব বেহেডগুলিকে 
যাদের মনে স্বচ্ছ সংস্কারের নামে নোংরা-নর্দমা 
যাদের চোখে আলোর নামে হিংস্র লোভ ও নোংরা অন্ধকার 

আমি পাহাড় চিনি 
        জল চিনি 
                সমুদ্র চিনি 

তেমনি 
মাকড়শা কিভাবে জালবোনে, এবং 
ধ্বংসের খেলায় মত্ত হয়ে ওঠে -
এইসব সবই ক্ষণস্থায়ী বালি বাড়ি, 
সুতরাং 
পালকের ওমে তোমার মুখটি এখন গোঁজা 
সেখান থেকে মুখটি বের করো না, দ্যাখো 
সকালের গোধূলির আলো এখন 
            তোমার চোখে মুখে 
আমাদের ঐশ্বরিক চুমুর দাগ পরস্পর ঠোঁটে
চোখের ভেতর দিগন্ত উন্মোচনের উদ্দাম স্বপ্ন 
এ-ই সময় 
কথা বলো, তাদের কথার পিঠে কথা 

তুমি মানে তুমি ও আমি ; 
প্রেমিক-প্রেমিকারা কখনও রেসের ঘোড়া নয়
ধ্বংসের খেলা শেখেনি, কেবল 
সত্যির সামনে, সুন্দরের সামনে করজোড়ে দাঁড়িয়ে 
নত হয়ে হাসতে শিখেছে, এবং 
তিরস্কার ছুঁড়ে দিয়েছে ওই সমস্ত বাজিকরদের 
যারা পবিত্র প্রেমকে আক্ষরিক অর্থেই বানিয়েছে খেলা - 
ভয় পেও না। এখন তো উঠে দাঁড়ানো ও 
তুমি যে বাজির ঘোড়া নও না 
    তা সকলকে বুঝিয়ে দেওয়ার যথার্থ সময় 







রিপু 


এখন পেঁচিয়ে ধরার জন্যে 
কালো রঙের জাল তাড়া করবে, 
উত্তেজিত করবে, ভয় দেখাবে, কিন্তু 
আপনি আলোর সন্তান দাঁত চেনেন, পথ চেনেন… 

এই যে হাজার বছর থেকে অন্ধ করে 
কারা শেকল পরিয়ে রেখেছে চুপচাপ, আর 
আপনাকে অন্ধের মতো ক্রোধ ও ভয়ার্ত 
ক্ষুধার সামনে ভিক্ষুক বানাতে বানাচ্ছে বারবার 
মার্চ মাসের এই রাতে নিজের আত্মার সামনে দাঁড়ায়ে  
জিজ্ঞেস করুন কুসুম, আসল ও সত্যি কোনটা 

একটি ক্ষিপ্র ষাঁড় খাদের কিনারে শিং দোলাচ্ছে 
এখন আপনাকে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এমনি করে 
ঋতু পরিক্রমণ করানোর জন্যে মাঠে নামবেন 
রেফারি ও চার কোণে চারটি সহ রেফারি 
এমনকী অনবরত আপনার চোখে মাথায়
ও সমগ্র দেহে কাঁদানেগ্যাস ছুঁড়ে 
কাঁদানোর চেষ্টা চলবে, হাসানোর চেষ্টা চলবে
একটি ওটি রুমের ভেতর, এবং 

আপনার জানা দরকার রিপুর তাড়া পেলে লক্ষ মাইল ফলক 
পেরিয়ে ঝড়ের মতন ক্ষিপ্র ষাঁড় দোঁড়ে আসে 
কিন্তু এক্ষুনি আপনাকে অবলোকন করতে হবে 
আত্মার ভেতর আপনারই আঁকা গণ্ডিটিকে, আর 
সূর্যালোকের কাছ থেকে হাত পেতে 
চেয়ে নিতে হবে, রিপু থেকে আত্মরক্ষার রক্ষা কবচ

ভয় নেই কুসুম, আপনার ভয় পেতে নেই

কবি অলোক দাস এর কবিতা




স্মৃতি 
অলোক দাস

  
নীলাজ আকাশ, 
একাকী রোদের কাছে দাঁড়িয়ে, 
এলো আকাশে আবার মেঘ I 
স্মৃতি সব ধীরে ধীরে মুছে যাচ্ছে I 
কপালে লেখা অনন্ত, 
মুছে যাচ্ছে বেশ কিছু ধীরে ধীরে I 
কবিতা লেখা দূরত্ব কে নিয়ে, 
কিছু স্মৃতি তবুও থেকে যায় I 
যায়না মোছা রবাটে I 
যে যায়, সে আর ফেরে না I 
কিছু স্মৃতি অমরত্ব পাবে জানি I 
তাই যা হোয়ে গেছে, ভুলে যাওয়াই ভালো I 
আমরা কোনো বড়ো কাজ কোরতে পারিনে I 
যা কোরি ওতি ক্ষুদ্র I