২০ জুলাই ২০২২

কবি জাবেদ আহমেদ এর কবিতা "পাগল না"





পাগল না

জাবেদ আহমেদ 



জানি দুশমন
জামানা, 
তবুও তোমাকে
যাবেনা ভুলা,
তুমিহীন জীবন কি
বুঝিনা গো,

 ভাগ্য গুণে মিলেছিলে
হারিয়ে ও ভুলিনি গো,

যখনতখন সাথে গো
অনুভূতি তোমার,

মন পাগল আমার
মান্নত তুমি আমার
আমার খোদার কাছে,

শ্বাস আমার জীবন গো
আমার জিহাদ কসম
তুমি গো পাগল মন,

নিঃস্ব হবো লুন্ঠিত হবো
সর্বহারা খুঁজে তোমায়।

১৯ জুলাই ২০২২

কবি হুমায়ূন কবীর মিঠু এর কবিতা  "প্রেমের কথোপকথন"




প্রেমের কথোপকথন

হুমায়ূন কবীর মিঠু 


তোমাকে ছুঁয়ে থাকার সাধ
আমার আজন্ম লালিত, 
লতা গুল্মের মতো বেয়ে বেয়ে
এক পূর্ণাঙ্গ রূপ নিয়েছে
হৃদয় গহীনে।
কী এক অপার্থিব চাওয়া
পূর্ণগ্রাস করেছে অন্তর! 
নিরন্তর যাপিত জীবনের 
এক অলৌকিক মহাকাব্য।
তোমাতে হারিয়েছি সেই কবে  কখন!!
এখন শুধুই মনের আলপনাতে জলচ্ছবি মুখর 
ভালবাসার ক্যানভাসে
প্রেমরঙের কথোপকথন।
বৈষ্ণবী এঁকেছিল কন্ঠনালিতে তিলক!!
আর তুমি আমার স্ব-তৃষিত ওষ্ঠে পঞ্চমীর চাঁদ,
আমি না হয় একটি জনম
বৈষ্ণব হয়ে রই...
তবু ভরবে না মন ভালবাসা যে এমনই--
ঐ যে তিলক তোমার সেথা শত সহস্র আমার ভালবাসা বিনির্মাণ!
আমি অবলীলায় বলি তুমি আমার তিলক প্রিয় তিলোত্তমা, 
আমার সারাবেলা।।
প্রিয়তমা আমার মনহারা, ভালবাসি তোমায় 
তোমায় মনহারা মন না মানা বাঁধনছাড়া প্রেমে!!
আনমনা ছন্নছাড়াতে তুমি বেশ!
আদুরে তোমার কপল গলের  তিলক ছন্দের বহমান প্রেমেই আর এক জনম আমি না হয় রই বৈষ্ণবধরা!!
তুমি প্রেমিকা আমার মৌন তারা!
তুমি প্রেমময় প্রেমের ধারা।।
আবহমান আমি তোমার সেই সঙ্গধারা!!
প্রেম তোমার! 
তুমি আমার! 
প্রেমিক তোমার!
আমি তোমার!
মনময়না পাখি আমার!
মনপাখি ময়না আমার!
ভালবাসি তোমায়!
ভালবাসি তোমায়!

১৮ জুলাই ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস উপন্যাস টানাপোড়েন 188






উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১৮৮

নতুন অভিজ্ঞতা

মমতা রায় চৌধুরী


বারোটার লোকাল ধরবে বলে রেখা তড়িঘড়ি দরজা লাগাতে শুরু করলো অলরেডি এগারোটা বেজে গেছে না এরপর আর লেট করা যাবে 
না ।টোটো আবার ঠিক সময় না পাওয়া গেলে এই ট্রেনটা না পেলে মুশকিল হয়ে যাবে। এক এক করে ঘরের দরজা লাগাচ্ছে আর ভাবছে ।এর ই মধ্যে তুতুটা কিউ কিউ করছে।
রেখা বলল" কি হয়েছে বলো তো 
তোমার ?দেখছো তো এখন আমি ব্যস্ত 
আছি ।চলো তোমাকে বেরোতে হবে ,ঘরের দরজা লাগাবো তো ?চলো ,চলো, চলো ।"
কি বুঝলো কে জানে ?তারপর নিজের থেকেই দরজার দিকে এগোতে থাকলো।। তুতু  একবার করে রেখার দিকে' দেখতে লাগলো এবার জুতো পায়ে গলিয়ে নিল ডাইনিং টেবিল থেকে জলের বোতলটা নিল আর একবার দেখে নিল রান্নাঘরের জানলাটা ঠিক দেয়া হয়েছে কিনা ,ড্রইং রুমের জানালা ঠিক দেয়া হয়েছে কিনা ।এই সময় যখন তখন ঝড় জল হতে পারে। না সব ঠিকঠাক আছে। ফ্রিজটা অফ করে দিল।
কলাপসিবল গেট টেনে তালা লাগিয়ে দিল। তালা লাগাতে লাগাতে ভাবছে আবার পার্থকে ফোন করতে হবে ?
আজ সেন্টুদা থাকলে এই অসুবিধা হতো না অলরেডি ১১.১০ বেজে গেছে বেজে গেছে।না ধারে কাছে পার্থকে দেখতে পাচ্ছে না।
এরমধ্যে রেখার পায়ে-পায়ে ঘুরতে লাগল মিলি ,পাইলট ,তুলি। রেখা এবার বিরক্ত হচ্ছে বলল "আমাকে আর বিরক্ত ক"রো না  তোমরা ।দেখছো তো এক জায়গায় যাচ্ছি। রেখা আবার ভাবলো না এদের প্রতি অযথা বিরক্ত কেন হচ্ছে আবার সবার মাথায় একটু হাত বুলিয়ে দিল এবার ভাবল যে ফোনটা করতে হবে পার্থকে ।ফোন করতে যাবে ঠিক সেইসময় পার্থ এসে হাজির বলল" কাকে ফোন করছ?"
"কাকে আবার তোমাকে?"
"কেন?'
"দেরি হচ্ছে তো যদি ট্রেন মিস করি ওই জন্য টেনশন হচ্ছিল।"
"এই নাও চাবিগুলো। পার্থ হাত বাড়িয়ে চাবির গোছা বুঝে নিল।"
"আর শোনো রান্নাঘরে ওদের খাবার রাখা আছে।"
"আমি আসছি পার্থ।"
তোমাকে কি ড্রপ করতে হবে বৌদি?
রেখা বললো" না ,না সময় আছে তো। টোটো ঠিক পেয়ে যাবো।"
"না ,কোন হেজিটেট করো না আমার কিন্তু কোনো অসুবিধে নেই।"
"না গো দরকার হলে নিশ্চয়ই বলতাম শুধু শুধু কেন তোমাকে আমি কতদুর টেনে নেব বল?'
"ঠিক আছে বৌদি। বেস্ট অফ লাক।"
কথা বলতে বলতেই একটা টোটো সামনে দিয়ে যাচ্ছে রেখা পার্থ দুজনে একসঙ্গে বলে উঠলো "অ্যাই টোটো, দাঁড়াও।'
টোটোওয়ালা  কাছে আসলো। রেখা দেখল চেনা নয়।"
বলল "স্টেশন যাব।"
রেখা টোটো তে উঠে বসলো। টোটোয়ালা।তখনও দাঁড়িয়ে।
রেখা বলল 'চলুন?.
"উনি যাবেন না? 
রেখা বলল-কে ?এখানে আর কেউ যাবে না।
টোটোওয়ালা বলল "শুধু আপনি একা যাবেন?'
টোটোওলার একটা কোথাও ভুল হয়েছে ।আসলে পার্থ আর রেখা দুজনে একসঙ্গে টোটো কে ডেকেছিল তো এইজন্য।
রেখা স্টেশনে পৌঁছানোর পর ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে প্ল্যাটফর্মের দিকে এগোচ্ছে তখন খবর হচ্ছে ট্রেন নৈহাটিতে ঢুকছে।
রেখা দেখলো অনেক সময় আছে।
ভাবল একবার মনোজকে ফোন করে দেখবে।।ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করে নিয়ে প্ল্যাটফর্মের একটা জায়গা দিতে বসল। মনোজকে ফোন করতে যাবে নম্বরটা খুঁজছে। একটা নম্বর ভেসে উঠলো। ভালো করে খেয়াল করল এটা বড়দির নম্বর।
আবার কেন বড়দি ফোন করলেন কনফার্ম হওয়ার জন্য যে আমি যাচ্ছি কিনা কিন্তু বড়দি সেটা ভালো জানেন যে আমি যখন কথা দিয়েছি তাহলে যাব। বোধহয় অন্য কোন কারণে রেখা মনে মনে এটাই ভাবলো ।তারপর যখন আবার ফোনটা রিং হল তখন ধরে বলল" হ্যালো'
হ্যাঁ রেখা বেরিয়েছো?
"হ্যাঁ ,ট্রেন ধরবো বলে বসে আছি প্লাটফর্মে।"
"না তুমি যাবে আমি জানি, সে কারণে আমি ফোন করিনি। তবু একবার জিজ্ঞেস করলাম। যে কারণে ফোন করেছি ,সামনে কিন্তু রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী আছে, মনে আছে তো তোমার?"
"হ্যাঁ সে ,কি আর ভোলা যায়?
রবীন্দ্রনাথেই আমাদের বাঁচা , কথা বলা । আমাদের দিকভ্রষ্ট বাঙালির পথ প্রদর্শক।"
"যা বলেছ একদম হক কথা।"
"আমিই  ফোন করতাম বড়দি।"
"কেন?"
"এই তো এই ব্যাপারে। এই স্কুল ছুটি প্রোগ্রাম কি স্কুলে হবে? সেই কারণেই করতাম।"
"সে স্কুল ছুটি হোক অনুষ্ঠান তো করতেই হবে।'
"তুমি অ্যারেঞ্জ করে উঠতে পারবে তো সেটাই এখন ভাবনা।'
"হ্যাঁ ,আমি হয়তো বেশি মেয়ে পাব না কিন্তু যারা মোটামুটি পার্টিসিপেট করে ওদের সঙ্গে আমি ফোনে কন্টাক্ট করে নেব।'
"বা হ ,বাহ  দারুন ব্যাপার ।আমি তো এই জন্যই তোমার উপর এতটা ভরসা করি রেখা।"
"এরমধ্যে  হুইসেল দিল ট্রেন ঢুকছে। বড়দি, আমি এখন ফোনটা রাখি আমার ট্রেন ডুকছে।"
"হ্যাঁ , হ্যাঁ রাখো রাখো সাবধানে।"
রেখা ফোনটা রেখে দ্রুত ছুটল কারণ ট্রেন দিয়ে দিয়েছে ওভারব্রিজ পার করে যেতে হবে।
রেখা হাঁপাতে হাঁপাতে গিয়ে দুই নম্বর প্লাটফর্মে উপস্থিত হল তারপর ট্রেনে উঠল।'
"ট্রেনে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন ছেড়ে 
দিল ।"রেখা মনে মনে ভাবল আরেকটু হলে ট্রেন মিস করত ।এতক্ষণ ধরে প্লাটফর্মে বসে থেকে যদি ট্রেন মিস হতো এর থেকে দুর্ভাগ্যের বিষয় আর কি হতে পারত।'
যাক এই সময় ট্রেন টা একটু ফাঁকা আছে। উঠে জায়গা পেয়ে গেল। রেখা ভাবল একটা লম্বা ঘুম দেবে। যেমন ভাবা তেমন কাজ। একটা লম্বা ঘুমের শেষে ট্রেন যথারীতি নির্দিষ্ট সময়ে কৃষ্ণনগর স্টেশনে থামলো। রেখা তাড়াতাড়ি জায়গা ছেড়ে উঠে প্লাটফর্মে নামলো ।তারপর ভাবল আজকে মূল গেট দিয়ে না বেরিয়ে অন্য আরেকটি গেট  দিয়ে বেরোবে। ঠিক তাই।
বেরিয়েই ই একটি  টোটোওলাকে জিজ্ঞেস করল "যাবেন?"
টোটোওয়ালা বলল' হ্যাঁ যাবো। কোথায় যাবেন?"
"কৃষ্ণনগর সরকারি কলেজ।"
'হ্যাঁ চলুন।"
লোকটা হ্যাঁ চলুন বলে বসেই রইল তখন রেখা বলল' কি হল যাবেন না?'
"দাঁড়ান আর কয়জন প্যাসেঞ্জার নি ই ।"
রেখা কথা বাড়ালো না। কারণ জানে কথা বাড়িয়ে কোন লাভ নেই এজন্য চুপচাপ বসে রইলো আর ভাবতে লাগলো রবীন্দ্র জন্মজয়ন্তী প্রোগ্রামের কথা। আজ নাচের জন্য সোহিনী প্রিয়াঙ্কা দেবাংশী ওদেরকে  ফোন করতে হবে।। আর কবিতার জন্য রাজশ্রী, কেয়া, মিত্রা, সমিয়া, আর গানের জন্য স্নিগ্ধা,সহেলি অদ্রিজা ওদেরকে বলতে হবে। রেখা টোটোতে বসে বসেই একটা ছক করে ফেলল । আজই বাড়িতে এসে এদেরকে ফোন করতে হবে। এবার রেখা বিরক্ত হয়ে টোটোওলা কে তাড়া দিল ও আপনি যদি না যান বলুন। আমি নেমে যাব।"
টোটা ওয়ালা এবার বুঝতে পারল যে ভীষণভাবে রেগে গেছে ,সেইজন্য টোটোওয়ালা আর কথা না বাড়িয়ে টোটো ছেড়ে দিল  রেখা বুঝল এরা  শক্তের ভক্ত।
রেখা যখন কলেজে পৌঁছাল ।সেখানে গিয়ে দেখল কর্তৃপক্ষ তখনও হাজির হয়নি। রেখা এএসআই ম্যাডামকে ফোন করল।
হ্যালো'
"আমি এস এন জি  থেকে বলছি।"
"হ্যাঁ বলছি এখনো তো কেউ এসে পৌঁছায়নি বুঝতে পারছিনা কোন জায়গাটা ঠিক হবে?
আপনি দেখুন কলেজের দোতলায় উঠে যান ওখানে একটা ছোট প্যান্ডেল মত করা আছে ওখানেই সব ব্যবস্থা করতে হবে।"
"ব্যবস্থা মানে?"
'যে সমস্ত প্রতিযোগী আসবে তাদেরকে আপনারাই ঠিকঠাক করে বসিয়ে ওদের টপিক দিয়ে দেবেন ।তারপর নির্দিষ্ট সময় পর সেটা তুলে আপনারাই মূল্যায়ন করবেন।"
'ও আচ্ছা। আর কোনো স্কুল থেকে আসবে?'
'হ্যাঁ ,
ডি এ ন  বয়েস স্কুল থেকে আসবেন দুজন
 টিচার ।"
"আচ্ছা ,আচ্ছা ঠিক আছে।"
"চিন্তা করবেন না ,আমাদেরও প্রতিনিধি থাকবে আর কোন অসুবিধা হলে আমাদেরকে ফোন করবেন।"
Ok'
ফোনটা রাখতে রাখতে ই প্রতিযোগী রা  চলে আসলো ।ইতিমধ্যে দুজন ভদ্রলোক আসলেন তাদের সঙ্গে পরিচয় হতে জানা গেল উনারাও জাজমেন্টে আছেন।
তাদের মধ্যে একজন অখিল বাবু বললেন"আপনি রেখা চৌধুরী না?"
রেখা একটু অবাক হয়ে বলল 'কেন বলুন তো?'
আপনার মত লেখিকার সঙ্গে আজকে আমরা একসঙ্গে কাজ করে সময় কাটাবো, এত সৌভাগ্যের ব্যাপার।'
রেখা বলল"এভাবে বলবেন না আমি তো আপনাদের মতই।"
 আমার লেখা পড়েছেন?
"যথেষ্ট বলতে পারি কোনদিন তো সামনাসামনি দেখা হয়নি।
নাইস টু মিট ইউ।'
'আমিও ভীষণ খুশি।'
এসআই অফিস থেকে দুজন প্রতিনিধি এসে ড্রইং শিট দিয়ে গেলেন। তারপর প্রতিযোগীদের স্কুল তাদের নাম কন্টাক্ট নম্বর ,ক্লাস, সব লিখে নেয়া হলো। নির্দিষ্ট টাইম দিয়ে শুরু হয়ে গেল প্রতিযোগিতা।
নির্দিষ্ট সময় অতিক্রান্ত হলে তাদের ড্রইং শিট তুলে নেয়া হলো ।তারপর সমস্ত প্রতিযোগীদের জন্য ছিল টিফিন এর ব্যবস্থা  তাদেরকে একটু বসতে বলা হলো এবং পাশের রুমে পশ্চিমবঙ্গ সরকার বাংলার উন্নয়নের জন্য যে সমস্ত প্রকল্পগুলো চালু করেছেন সে সম্পর্কে তাদেরকে ভালো করে দেখানো হলো।
প্রতিযোগীরা ভীষণ খুশি তারপর তারা বাড়ি চলে গেল। জাজমেন্ট এর দায়িত্বে যাঁরা ছিলেন তাঁরা সকলে একমত হয়ে মূল্যায়ন করলেন ।পঞ্চম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত একটা গ্রুপের মধ্যে ফেলা হয়েছে নবম থেকে দ্বাদশ পর্যন্ত একটি গ্রুপের মধ্যে ফেলা হয়েছে। তাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে। মূল্যায়ন কপি এসডিও  সাহেবের কাছে পাঠানো হয়েছে ।এবার তাদের জন্য যে পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে সেটা পরে সেই কন্ট্রাক নম্বরে প্রতিযোগীদেরকে জানিয়ে দেয়া হবে।
ইতিমধ্যেই বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এসে ক্যামেরাবন্দি করে নিয়ে গেলেন।
সব কাজ শেষে সকলের জন্য ছিল টিফিন এর ব্যবস্থা  ।প্রত্যেকের হাতে প্যাকেট ধরিয়ে দেয়া হলো। রেখা তখন ট্রেন ধরবে বলে ছুটছে। একজন ভদ্রলোক বললেন "ম্যাডাম আপনার টিফিন বাক্স টা নিয়ে যান। রেখার তখন তাড়া তখন সেই ভদ্রলোক ছুটে গিয়ে রেখার হাতে দিয়ে আসলেন।"
রেখা জানে এই ট্রেনটা মিস করলে তার অনেক রাত হয়ে যাবে তাই মরি-বাঁচি করে এসে ছুটতে শুরু করল টোটো ধরবে বলে। রেখা টোটো পেয়েও গেল তারপর বসে বসে ভাবতে লাগলো জীবনে কত কিছু শেখার বাকি আছে। "যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি। একটা নূতন অভিজ্ঞতা হল রেখা র । আর ওই অখিল বাবু কি অমায়িক।
কে দেখে কতটা খুশি হয়েছিলেন সত্যি তো তাই ছোটবেলায় আমরাও তো ভাবতাম লেখক মানেই কোনো ভিনগ্রহের বাসিন্দা লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর মধ্যে দিয়ে আমাদের সেই ছোটবেলার কিশোরের ছবিগুলো স্পষ্ট হয়ে ওঠে।এটাই  রেখার জীবনের প্রাপ্তি। টোটোওয়ালা বলল এসে গেছে এসে গেছে নামুন।
রেখা একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে বলল ও আচ্ছা আচ্ছা বলে তাড়াতাড়ি নেমে পড়ল। ওবাবা মোদীকে মেয়েগো করেছে বৃষ্টি হবে নাকি কোথাও কোথায় বৃষ্টি হয়ে গেছে একটা ঝড়ো ঠান্ডা হাওয়া বইছে এমন সময় একটা ছোট্ট শিশু এসেরে খাড়া চুল টেনে ধরলো রেখা একটু থমকে গেল কি সারল্য মাখা মুখ ভিক্ষা চাইছে রেখার তখন ট্রেন ধরার তারা কিন্তু তবুও দাঁড়িয়ে আশেপাশে খোঁজার চেষ্টা করলে সঙ্গে আর কে আছে দেখল দূরে ওর মা মায়ের জীর্ণশীর্ণ বস্ত্র পরিয়ে তার ভাবনা চিন্তার কোনো অবকাশ ছিল না বাচ্চাটার হাতে 100 টাকা ধরিয়ে দিয়ে চলে আসলো। কি আজব আমাদের দেশ ছোট্ট শিশুর যেখানে তার শৈশবের দিনগুলো হেসে-খেলে বেড়ানোর কথা সেখানে তার জীবন জিজ্ঞাসা এসে 
দাঁড়িয়েছে ।খাব কি? প্রশ্ন তাকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে । অথচ অন্নর অধিকার আমাদের মৌলিক অধিকার । এই অধিকারের দাবিতেইএ শিশু যেন কতটা পরিণত হয়ে গেছে। এক বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হতে হল রেখাকে। দীর্ঘশ্বাস ছেড়েরেখা এ কথাই ভাবতে ভাবতে প্ল্যাটফর্মের দিকে পা বাড়ালো।

কবি জাহানারা বুলা এর কবিতা "সময় একটি নক্ষত্র"





সময় একটি নক্ষত্র

জাহানারা বুলা



সময় শুধু ভালো না লাগার কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায়
নক্ষত্রটি গুলতি মেরে উড়িয়ে দেওয়া যেত যদি

যদি এই খারাপ লাগাগুলো ঝরে পড়তো 
অতল কোনো পাত্রে, সমুদ্র বা মাঠে 
আমার ঘরের ছাদও যদি হতো ঝরে পড়ার 
উপযোগী জায়গা 
বলতাম- ঝরে পড়

আমি নাহয় ঘর ছেড়ে বিবাগী হয়ে যেতাম
দ্বারে দ্বারে মুঠো চালের পরিবর্তে 
ভালোলাগা ভিক্ষা করে ফিরতাম। 

ভালোলাগা ভোরের শিশিরের মত
বেলা উকি দিলেই কাতর প্রাণে
কোন মেঘের আড়ালে যে পালিয়ে যায় কে জানে।

মাথার উপরে অশুভ কালো মেঘও যে ভর করে থাকে
হাত বাড়ানো মানা
ভালো লাগা তাই হাতড়ে পাওয়া যায় না।

কবি পরাণ মাঝি এর কবিতা "সোয়েটার"





সোয়েটার 

পরাণ মাঝি 



এই পয়লা ফাল্গুন দিনে  জড়িয়ে ধরো না আমাকে
পুড়ে যাবে , ঘেমে যাবে শরীর ---
টুপটাপ করে গড়িয়ে পড়বে অযাচিত প্রেম, ভিজে ভিজে পুড়বো আমিও!

তারপর --
হয়ত বিরক্ত হবে, ছুঁড়ে ফেলবে। ভাববে আপদ গেল।

না গো --
যত দূরেই ছুড়ে দাও না কেন আমাকে 
ঘুরে ফিরে ঠিক আবার আসবো কাছে ।

জেনে রেখো ---দিন বদলায় , তারিখ বদলায় না; ঋতুও ---

আগামী হেমন্তের শেষে পড়বে মনে আবারও
আমি শীতার্ত প্রেম তোমার; কেবল উষ্ণতা দান করি 
                     ভীষণ ভালোবাসি তোমার সকল কাজ কারবার 
                    আমি আর কেউ নই, সামান্য সোয়েটার তোমার!!

কবি সুশান্ত হালদার এর যুগল কবিতা





কবি সুশান্ত হালদার এর যুগল কবিতা



(১)
প্রেম নাই বলে চাই প্রতিবাদ 
সুশান্ত হালদার 

সূর্য ডুবে গেলে সবাই ঘরে ফিরে 
আমি ফিরি না 
কারণ 
কেউ নেই,যে বলবে 
দুর্যোগের দেশে সব রাতই সুকান্ত'র ঝলসানো চাঁদ! 

(২)
অবিক্রীত হাড় 
সুশান্ত হালদার 

সামনে যে বসে আছে 
মানুষ মনে হয়নি উৎসবের রাতে 
গুপ্তঘাতকের মত বিস্ফারিত চোখ বাইনোকুলারে 
তর্জনী ট্রিগারে যেন ভাড়াটে খুনি এসেছে মদ্যপানে

মরা জোছনার এই বিলাপ মুখরিত রাতে
কেউ কেউ বিক্রি করে দিলেন মাথা সমেত শিরদাঁড়া পাঁজর 
অথচ আমি 
অবিক্রীত হাড়ে লিখে ফেলেছি 'স্বাধীনতার ডাক উনসত্তরের'!

কবি গোলাম কবির এর কবিতা"একান্ত কষ্ট ও আত্মবিলাপ"




একান্ত কষ্ট ও আত্মবিলাপ

গোলাম কবির

  স্বাধীনতার ৫১ বছর শেষেও আমরা
  এখনো মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টানই 
  রয়ে গেলাম শুধু! একটুও মানুষ হতে
  পারিনি এখনো এই দুঃখ কোথায় রাখি!
  তা না হলে যে কোনো ছুতোয় সংখ্যালঘু
 জনগণের বাড়িঘর, মন্দির ইত্যাদি ভাঙচুর, 
  আগুন লাগানো, লুটপাট এসব কি করে হয়!
 আবার এর জন্য কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা 
 হয় না এবং হয় নি বলেই এখনো 
 ওরা নিজদেশেই যেনো পরবাসী এবং
 কখনো কখনো ওদেরকে দেশান্তরী হবার মতো 
 সুকঠিন এবং অনন্যোপায় সিদ্ধান্ত নিতে হয়! 
 না - এটা কোনো কবিতা নয়, এ আমার একান্তই কষ্ট এবং আত্মবিলাপের কথা!

১৭ জুলাই ২০২২

কবি রুহানিয়াত জামান কাজরী এর কবিতা "সাতদুয়ারী সংসার"





সাতদুয়ারী সংসার



হয়তে কোনো  বৃষ্টিবেলায়,
আকাশ কালো আঁধার ছুঁয়ে,
আসবো ফিরে।

আসবো আবার উঠোন জুড়ে 
পুঁইমাচা বা রঙ্গনফুলে,শিউলি ডালে,
আসবো ফিরে। 

কোনো এক তপ্ত দুপুর ভীষণ তৃষায়
বুকের বাগান খুড়তে গিয়ে,
চাতক চোখের আকুল চাওয়ায়
দিক হারাবে,
ঠিক তখনই আমায় 'তাহার'পড়বে মনে,
এই ই শুধু গোপন কথা কেউ জানেনা!

চাতক চোখের তৃষ্ণা যেন আয়নামহল!
তোমার আগে কেউ জানেনি,কেউ জানেনা। 

তাইতো আমার ফিরে আসার ইচ্ছে জাগে,
বৃষ্টি হয়ে ডাক পাঠানোর ইচ্ছে জাগে,
ফুলের সভায় সোহাগ স্নান ইচ্ছে মাগে।

হয়তো কোন সন্ধ্যা বেলায়, 
ঘরের মায়ায় আসবো আবার,

তখন কি  আর মানুষ হবো?
আলু,পটল,পেঁয়াজ কিংবা পোস্তদানায়?

সংসার যার সাতদুয়ারী,তাকেই বুঝি পায়
 বাহানায়
সেই বাহানার আঁচল গিঁটে আসবো ফিরে 
আসবো আবার,ফিরবো জেনো জুঁই  ছলনায় সজনে শাখে
কিংবা ধরো ছায়ারমতো থাকবো সাথে
আসবো ফিরে......

কবি জামিল জাহাঙ্গীর এর কবিতা "কথাবিস্ফোরণ"




কথাবিস্ফোরণ

জামিল জাহাঙ্গীর 




অনেকদিন দাঁতে চেপে চেপে রেখে
কথারা এখন ভীষণ শক্ত পাথর হয়ে গেছে
ইচ্ছে করলেই বলতে পারছি না
জমি খুঁড়ে খুঁড়ে পুঁতে রাখছি বীজ
শস্যসবুজ হয়ে উঠুক মাটি ভেদ করে

কিছু কিছু কথা নিশ্চিত গ্রেনেড
কোন কোন কথা ক্ষেপণাস্ত্র
গেরিলার আক্রমণ হার মানে কথার কাছে
এমন অনেক কথা চাপা পড়ে আছে

অনেক দিন বুকে পুষে কিছু কথা
এখন পাখির সাজে উড়ছে আকাশে
হাওয়ায় হাওয়ায় ভাসে উদ্ভবে উদ্ভাসে
অযুত নিযুত কথা সঙ্গোপন চাষে...

কথা আছে নগ্ন সাধুর মুখে
কাকের কণ্ঠ চেরা কোকিলের স্বরনালী
কথা আছে ফিরোজিয়া ঝিলিমিলি
প্রিয়নদী সোনাধান হাসিমুখো রূপশালী

পারমাণবিক বোমার চাইতে বিধ্বংসী
লক্ষ নাগাসাকি ধ্বংস করার মতো তেজস্ক্রিয়
প্রমত্ত সিডরের চেয়ে কোটিগুন প্রলয়ঙ্করী
শাদা শিমুল কথাগুলো এখন বলতে পারছি না
ঠোঁটে আশ্চর্য ফেভিকল আঙুলে আঙ্গুলে শেকল
নিঃশ্বাসে নিঃশ্বাসে করারোপ বর্ণে বর্ণে বর্ণিল শোষণ
পুঁতে রাখছি কথার করলিপি অক্ষরের মাইন
তোমার পদাঘাত থেকেই শুরু হবে বিস্ফোরণ...

কবি শহিদ মিয়া বাহার এর কাবিতা "শ্রম ঘাম স্লোগান"





শ্রম ঘাম স্লোগান

শহিদ মিয়া বাহার



একটি সাইরেন বাজলেই লুটেরা বাজিকর গিলে খায় ঘাম,
ঘামের ভেতর লুকানো মেঘাতুর ভালবাসা-কাব‍্য,
কমলামতি শ্রমের ক‍্যামেলিয়া, গোলাপ!

হাতুড়ীকে চাঁদ ভেবে কিছু মানুষ- 
জোৎস্নার কুঁড়ি ফোটায়
চাঁদ-জোৎস্নার কুঁড়ি থেকে জন্ম নেয় বেগেনভিলার মত সুগন্ধি পূর্ণিমা---
                     লোবান, বাসমতি প্রহর--!
এভাবেই ঘাম থেকে ফুল,
ফুল থেকে বিস্ত‍ৃত হয় গজমতি আলোর শিল্প-মূর্ছনা---
এভাবেই তারা ঘামের ফুল দিয়ে সরাদিন আলোর মালা গাঁথে 
শ্রমভুক মেশিনের  বৈঠকখানায়--!

বেলা শেষে একদল বাজিকর বণিক 
সৌহার্দের অছিলায় 
শরাবি ঠোটের ভাঁজে ঘামের গোলাপ ঢেলে দিয়ে
পূর্ণিমার রোশনাই চেটেপুটে খায়!

দারীদ্রতা তখন- 
মুঠো-মুঠো প্রশ্নের জটিল প্রত্ন সাজিয়ে
গোপন ঝর্ণার মত অলখ‍্যে ঝরায় 
প্রিয়তম চোখেের ব‍্যাথামগ্ন বৃষ্টি -ঝুমুর!
দু:খ-নিবিড় কর্নিয়া-রেটিনায়  
                বিলাপ-সিক্ত মৃদঙ্গ হয়ে বাজে
বারুদের মত মেটালিক স্লোগান!!!

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস উপন্যাস টানাপোড়েন 187





উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৮৭

সমাধান

মমতা রায় চৌধুরী



রেখা রান্না ঘরের জানলা দিয়ে চৈতিদের বাড়িটা দেখছিল ,লোক না থাকলে বাড়িঘর এরকমই হয় কেমন খাঁ খাঁ করছে যেন ।হ্যাঁ ঐতো  ছাদে লম্বা করে দড়ি টানানো ,জামাকাপড় মিলানোর। ঝরে বাঁশের খুঁটি দুটো ভেঙে গেছে দড়ি ঝুলে পড়েছে। চৈতির মা বাড়ি থাকলে এরকম হতো? কোথা থেকে বাঁশ জোগাড় করে সঙ্গে সঙ্গে টানটান করে দড়ি টানানো  হয়ে যেত। তারপর সার সার লাইন দিয়ে জামাকাপড়ে মেলানো থাকতো  লোকজন কম থাকলেও কোথা থেকে খুঁজে খুঁজে জামা কাপড় বের করত কে জানে? রোজ জামাকাপড় কেচে পরিস্কার করার একটা বাতিক ছিল । পরিস্কারের বাতিক না শুচিবাই বলতে পারবো 
না । রেখা এসব ভাবছে এমন সময় মনোজ হাঁক দেয় ', রেখা,রেখা, রেখা আ.আ.আ।
রেখার  হঠাৎ চমক ভাঙ্গে, রান্নাঘরের জানালা থেকে সরে এসে দরজার কাছে এসে উঁকি  দিয়ে বলে" কি হয়েছে ?কি বলছ?"
মনোজ তখন বেসিনের কাছে দাঁড়িয়ে  দাড়ি কাটছিল। তারপর সেভিং ব্রাশে আরেকটু সাবান লাগানোর সময় বলল' বলছি আমি তো অফিসে যাব। খাবার রেডি করেছো?"
"খাবার তৈরি কিন্তু অফিস যাবে তুমি তো বলনি আমায় একবারও।"
"অফিসে তো যাবই এ আবার বলার কি আছে।'
রেখা মনে মনে ভাবল অথচ এই অফিস কামাই করে কতদিন বসে আছে কিন্তু এ নিয়ে আর কথা বাড়ালো না । বেশ কয়েকদিন পর আজ অফিস যাচ্ছে ।আজকে মনোজের মুডটাও ভালো 
আছে ।কি দরকার কথা বাড়িয়ে ।
 "ঠিক আছে, তুমি রেডি হও  আমি খাবার দিচ্ছি।'
মনোজ দাড়ি সেভ করতে করতে বললো" তুমিও তো আজকে বেরোবে।"
"হ্যাঁ বেরোবো তো। আজকে তো কলেজে যেতে হবে ,একটা প্রোগ্রাম আছে,?'
"ও আ আ আ '
"কি হলো ?চেঁচাচ্ছ কেন আ আ আ  করে।"
" কেটে গেল?"
রেখা ছুটতে ছুটতে এসে দেখলো" হ্যাঁ গালের কাছে কিছুটা অংশ ছরে গেছে।"
এত অন্যমনস্ক হয়ে কাজ করো কেন?'
রেখা সঙ্গে সঙ্গে একটু বোরোলিন গরম করে এনে দিল।
*দেখি দেখি এদিকে এসো।"
পরম স্নেহ-মমতায় রেখা গালে বোরোলিন লাগিয়ে দিতে লাগল আর বলল "যাচ্ছ একজায়গায় এই সময় আবার কেটেকুটে নিলে।"
 মনোজ দেখলে সত্যিই মনোজ এর জন্য ভাবে অথচ মনোজ ই  যেন রেখার সঙ্গে মাঝে মাঝে কি রকম ব্যবহার করে ফেলে।
সব ঠিক হয়ে যাবে। ও বাবা দেখো দেখো দেখো।
মনোজ বলল "কি?'
রেখা ইশারায় মনোজ এর পেছনে তাকাতে বলল।
"ও বাবা তুতু এসে দাঁড়িয়েছে পেছনে।"
'তোমার কান্ড দেখে আ আ করলে ও  এসে দাঁড়িয়ে দেখছে তোমায়।'
মনোজ গাল দুটো দিন একটু আদর করে দিলো। যাও শুয়ে পড় গিয়ে ঘরে গিয়ে।
দুটো কি সুন্দর লক্ষী মেয়ের মত কথা শুনে ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
ঠিক আছে সেন্টুদাকে চাবিটা দিয়ে যেও আর পার্থকে তুমি বলে দিও। দুজনার কেউ তো বাড়িতে থাকব না ,ওদিকে চৈতির মায়েরাও নেই। ওদিকটা একেবারে ফাঁকা।
দাও দাও তাড়াতাড়ি আমার ব্রেকফাস্ট দাও।"
"আর লাঞ্চ  নিয়ে যাবে?"
এমন সময় মনোজের ফোনে একটা ফোন আসলো । রেখা ভাবলো মনোজকে আবার কে ফোন করল ?
মনোজ প্যান্টের চেইন লাগাতে লাগাতে বললো "হ্যালো।"
"আরে এ তো দারুন ব্যাপার।
"সকাল সকাল গুড নিউজ ঠিক আছে। পরে কথা হবে।"
ফোনটা রেখে মনোজ বলল"  না ,না ,না লাঞ্চ আজকে অফিস ক্যান্টিনে করব।"
অনেকদিন পর মনোজকে খুব হাসিখুশি দেখে রেখার খুব ভালো লাগলো।
"বেশ তাহলে ব্রেকফাস্ট খাও এসো।"
মনোজ বলল 'আমি এসে গেছি ।দাও ,দাও ট্রেন ধরবো।"
অনেকদিন পর মনোজের এমন তাড়া সত্যিই রেখার যেন কাজের আবার গতি ফিরে আসছে।
সেই ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে কি ব্রেকফাস্ট করেছ কি খেতে ভালোবাসে ?সমস্ত কিছু নিয়ে গল্প হত রান্নার তারিফ হতো। আজ সব যেন হারিয়ে যেতে বসেছিল।
মনোজ খেতে খেতে বলল "হাঁ ,করে  কি দেখছো তুমি আমাকে? মনোজ হাতটা রেখার চোখের সামনে নাড়লো আর বলল" হ্যালো ,এই যে ম্যাডাম ।আমি।  চিনতে পারছ না?"
রেখা হেসে ফেলল আর মনে মনে ভাবল সেই মনোজকেই তো চিনতে চাই ছি গো ।
"আর নেবে দুটো কচুরি?'
"হিং এর কচুরি ।দেবে? দাও ।'
"আর আলুর দম ?"
"না ,না ।অনেকটা আছে আর দিতে হবে না।
তুমি কটার ট্রেন ধরবে?"
"সাড়ে তিনটের মধ্যে ঢুকতে বলেছে। আমি এখান থেকে বারোটার লোকাল টা ধরব।"
"ওকে, ওকে ।
তাড়াতাড়ি বেসিনে হাত ধুয়ে মনোজ বলল "দেখেছো  হাতের কাছে রুমালটাও পাচ্ছি 
না ।রুমাল দাও রেখা। রুমালটা কোথায় রে 
বাবা ।"
" এই তো রুমাল  সোফার  ওপর পড়ে রয়েছে।"
খুব তাড়া দেখতে পায় নি ।সরি সরি।'
ঠিক আছে  টা টা ।তুমিও সাবধানে যেও।"
"ফোন করে দেবে অফিসে পৌঁছে?"
"ওকে।"
"দরজাটা লাগিয়ে দাও রেখা।"
"হ্যাঁ ,দিচ্ছি।"
"ও বাবা পাই
"পাইলট সোনা তুমি তো দরজার কাছে শুয়ে আছো। সাইড  দাও বাবা।"
"পাইলট কি সুন্দর লক্ষী সোনার মত একটু সরে শুয়ে পড়লো। তারপর রেখার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। আসলে ওদের এখন খাওয়ার টাইম হয়েছে । রেখা  বলল 'দেবো বাবা ,আমি খাবার আনতেই যাচ্ছি ভেতরে।" গাল দুটো ধরে আদর করে দিলো।
*না ,আজ মাসি তো বেপাত্তা।"
"ও বাবা আমার সাথে বেশ কয়েকদিন আগে বলেছিল যে আজকে ছেলেকে নিয়ে হসপিটালে যাবে প্রতিবন্ধী কার্ড করাতে ,আমি ভুলে 
গেলাম ।কত কাজ জমে রয়েছে।'
রেখা তাড়াতাড়ি বাচ্চাগুলোর জন্য খাবার মেখে নিয়ে খেতে দিয়ে এসে  ঘরটাতে  ঝাঁট দিতে লাগলো, তারপর বাসন মেজে ফেলল। সে গুলোকে  আলাদা জায়গায় তুলে দিল ।আজ ঘর মোছার সময় হবে না। মাসি এসে যা করার করবে পরের দিন।'
স্নান করতে গেল রেখা।
স্নানঘরে ঢুকে একটা আলাদা শান্তি রেখা অনুভব করতে লাগলো।
শারীরিক ক্লান্তি যেন অনেকটা দূর হয়েছে আসলে মনের ক্লান্তি  কিছুটা কমেছে ,হয়তো এজন্যই শরীরের প্রভাব টাও কমে গেছে।"
 শাওয়ারটা খুলে দিয়ে বেশ করে শ্যাম্পু করে নিয়ে ভালো করে স্নান করে নিল।
তারপর গোপালের ভোগ চাপিয়ে দিল ।এবার সেন্টু দা কে ফোন করল।
"রিং হয়ে যাচ্ছে সেটা তো ফোন ধরছেন না কেন?"
"দেরি হয়ে গেল দোকান খুললেন না?'
"আবার ফোন করল। রিং হচ্ছে "আমায় একটু জায়গা দাও…।''
এবার ফোনের ওপর দিক থেকে উত্তর দিলো "হ্যালো।"
"হ্যালো সেন্টুদা?"
"কে বলছেন?"
"রেখা ।মনোজ এর বউ।"
"হ্যাঁ,বৌদি বলুন?"
"বলছি আজকে আপনি দোকান খোলেনি কেন?"
"আজ তো কলকাতায় এসেছি বৌদি?"
"কলকাতায় আছেন কেন?"
"কিছু মাল ফুরিয়ে গেছে  সেই মাল নিতে এসেছি।"
"এ বাবা!"
"কেন কি হয়েছে?"
"আরে  আজকে ওই তুতুদের খাবার দেবার জন্য আমি তো থাকবো না।"
*কেন কোথায় যাবেন আপনি? বাপের বাড়ি?"
"না,না স্কুলে যাব?"
"স্কুল তো এখন ছুটি?"
"ছুটি হলে কি হবে আমার ছুটি নেই দাদা।"
"স্কুলেরএকটা কাজে যাব।"
'এদিকে আপনাদের দাদা ও মেয়ে অফিসে গেল। "মহা সমস্যায় পড়ে গেলাম।'
'কেন আপনাদের কাজের মাসি ,ওকে বলে দিন আজকের জন্য।'
"মাসি তো আজকে কাজেই আসেনি।"
কি বলি বলেন  বৌদি ।আমাদের তো যেতে দেরি হবে  ঠিক আছে দাদা আপনি আপনার কাজ করুন দেখি।'
এবার পার্থ কে ফোনটা লাগাল।  
রিং হচ্ছে রেখা ঈশ্বরকে ডাকছে "ভগবান ব্যবস্থা ক'রো।"
ফোনটা রিসিভ করে অপরপ্রান্ত থেকে বলল "হ্যালো।"
"পার্থ ,আমি বৌদি বলছি,.।"
*কে রেখা বৌদি?"
"হ্যাঁ গো।"
"পার্থ আজকে একটা বিপদে পড়েছি উদ্ধার ক'রো।"
" বৌদি আমি নিশ্চয়ই আমার সাধ্যের মধ্যে এগুলো করব।
"বলছি আজকে তো তোমার দাদা অফিসে চলে গেল আর আমিও স্কুলের কাজে যাব । একটু বাচ্চাগুলোকে খেতে দিয়ে দেবে গো?"
"হ্যাঁ দিয়ে দেবো এভাবে কেন বলছো?'
আসলে সেন্টুদাকে  বলতাম। সেন্টুদা তো কলকাতায় গেছে  যাননি ফোন করলাম জানতে পারলাম।"
"এইটুকু সাহায্য করতে পারব না তাহলে আমরা কিসের মানুষ হলাম বলুন।"
'পার্থ এজন্যই তোমাদের কে এত ভালো 
লাগে  সকলের মানবিকতা তো এক থাকেনা আসলে ওরা তো অবলা জীব কথা বলতে পারে না ।কি যে কষ্ট পাবে খুঁজে বেড়াবে" হ্যাঁ বৌদি ঠিক আছে  ওই নিয়ে কোন টেনশন ক"রো 
না ,।
"খালি চাবিটা নিয়ে যেও এসে ।আচ্ছা, ঠিক আছে  তুমি কটায় বেরোবে বলো?
' আমি তো বারোটার ট্রেনটা ধরবো ঠিক 
আছে ।আমি তার মাঝে গিয়ে নিয়ে নেব তুমি টেনশন করো না তারপর বলল 'সকলের তরে সকলে আমরা প্রত্যেকে আমরা পরের তরে',.
রেখা বললো '"
এই চেতনা যদি সবার জাগ্রত হত পৃথিবীটাই অন্যরকম হতো গো।
পার্থ বলল প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে আমাদের এগিয়ে যেতে হবে, থেমে থাকলে হবে না বৌদি পৃথিবীতে ভালো মানুষের সংখ্যা খুব কম দুষ্টু লোকের সংখ্যা বেশি তাদেরকে নিয়ে চলতে হবে সঠিক পথে আনতে হবে  আমি কাকে জ্ঞান দিচ্ছি বৌদি একজন স্কুল শিক্ষিকাকে। যারা সমাজের মানুষ গড়ার কারিগর।"
" এইভাবে ব"লো না।"
"বৌদি তোমার কাছে একবার যাব। দাদাকে ও বলব কথাটা ।আর একটা সমস্যা হয়েছে ওটা একটু আমাদেরকে উতরে দিও।""
"আবার কি সমস্যা হলো ?তোমার যে সমস্যাটা ছিল সেটা  ঠিক আছে।
" হ্যাঁ ,ওটাই কিছুটা অংশ আবার হয়েছে। "
"ঠিক আছে। কোন চিন্তা ক'রো না ।সব ঠিক হয়ে যাবে ।ভালো থেকো।'
"বৌদি ,তোমাকে ড্রপ করতে হবে না তো? যদি হয় তাহলে বোলো।।"
"Ok''
"ফোনটা রেখে রেখা এবার একটু নিশ্চিন্ত হল ।
তুতু রেখার কাছে এসে দাঁড়িয়ে রয়েছে ।দুটোকে একটু আদর করে বলল "তোমাদের খাবারের কোন চিন্তা নেই ।লক্ষ্মী হয়ে থাকবে ।আমি কিন্তু আজকে বাড়ি থাকবো না ।ঠিক আছে? সরো সরো তু তু ,।আমার কাজ আছে।"যাক শেষ পর্যন্ত সমাধান হলো এটাই স্বস্তির।

কবি গুলজার হোসেন গরিব এর কবিতা "অবক্ষয়"





অবক্ষয়

গুলজার হোসেন গরিব 



আমাদের অবক্ষয় রাস্তায় স্লোগানে
জনসভা মজলিশে নেতা নেতৃত্ব বক্তায়
সোশাল মিডিয়া জুড়ে সমাজের আয়নায়। 

আমাদের অবক্ষয় রাষ্ট্রযন্ত্রে রাষ্ট্রিয় বিধানে 
নৈতিক দায়িত্বে চিন্তায় সৃজনশীলতায়
চলনে বলনে বিশ্বাসে উৎসব উদ্দীপনায়। 

আমাদের অবক্ষয় ঘুমে ও জাগরণে
আদেশ উপদেশ বোধে নীতি নৈতিকতায় 
পারিবারিক শিক্ষা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিদ্যায়। 

আমাদের অবক্ষয় কর্মে ধর্মে জ্ঞানে
দিন দিন বেড়ে ওঠা যত্ন প্রেম ভালোবাসায় 
সম্প্রীতির বাঁধনে কর্তাদের পরিকল্পনায়। 


১৬ জুলাই ২০২২

কবি রহমান মিজানুর এর কবিতা "মধুমাস"





মধুমাস 

রহমান মিজানুর


আমরা তো আম খাই
মুড়ি দিয়ে মাখিয়ে,
আঁটি চাটি আয়েশে
মুখটারে বাঁকিয়ে।
দুনিয়ার সেরা স্বাদ
বুঝি এই আমেতে,
থাকাটা কি সম্ভব
সেই স্বাদে না মেতে?

কাঁঠালের আঁঠা মাখি
হাতে গোঁফে দাড়িতে,
বিশাল এ ফলটারে
নিয়ে এসে বাড়িতে।
টপাটপ গিলে খাই
কোষ; কী যে রসালো!
খাওয়া শেষে বিচি গুনি
বেশিটা কে খসালো!

চেহারাটা মাইক্রো
কাঁঠালের মতো,
স্বাদে গুণে অনুপম
বলি আর কতো?
রসে টইটুম্বুর 
টসটসে জেলী,
একবারে মুখে পুরে
জিহ্বায় খেলি!
ফলটারে চিনেছো?
গেজ করো কিছু,
নামে জিবে পানি আসে 
সেটা হলো লিচু।

নুন কাঁচালঙ্কায়
ভালমতো চটকে,
টসটসে কালোজাম
টুথপিকে লটকে
খেতে কিযে স্বাদ ভাই
চেখে যদি দেখতে,
আঙুলে চাটা ছেড়ে
ফেসবুকে লেখতে??