০৯ জুলাই ২০২২

কবি কানন রায় এর কবিতা "জীবন"





জীবন

কানন রায়


জীবনকে জীবন দিয়ে জয় করতে হয়,
মরণকে প্রাণের বিনিময়ে
টুকরো টুকরো কথা,
ছোট্ট ছোট্ট ব্যথা
বলে দেয় কত না বলা কথা।
একটু ভালোবাসা,
ছোট্ট ছোট্ট আকাঙ্খা 
কিছু পাওয়া কিছু না পাওয়া
চিনিয়ে দেয় জীবন কতো সহনশীল।
জীবনের চাওয়া এক রকম
জীবনের পায় আরেক রকম।
জীবনের দেয়া এক জীবনের নেয়া আরেক
এতো কিছুর মধ্যে ও জীবন বহতা।
              

০৮ জুলাই ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন পর্ব ১৭৮"





উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৭৮
জীবনের নতুন স্বাদ
মমতা রায় চৌধুরী


আজ রেখা আর একটু হলেই ট্রেন মিস করতো,কপালগুনে পেয়েছে । রেখা ভাবার চেষ্টা করলআজ কি বার?কি বার ,কি বার। ট্রেনে বসে বসে ভাবছে কিন্তু কিছুতেই মনে করতে পারছে না। অনেকক্ষণ ভাবার পর মনে পড়লে , রেখা চিৎকার করে উঠল "ইউরেকা ,ইউরেকা ,আজ মঙ্গলবার। কি করে ভুলে গেল,,বজরংবলীর পুজো দিয়ে আসল'। বজরংবলীই  রক্ষা করেছে।।
কিন্তু  লেডিস কম্পার্টমেন্ট উঠতে পারে নি। উঠেছে জেনারেল কম্পার্টমেন্টে। এই কম্পার্টমেন্টে ওঠা মানেই এক অস্বস্তিকর পরিবেশ। পুরুষের সমাবেশ । শুধু তাই নয়,বিভিন্ন বয়সের পুরুষের সমাবেশ ,কিছু বলার উপায়ও নেই। বেশিরভাগ পুরুষরাই  মহিলাদের দিকে কামুক দৃষ্টিতে তাকায় ।তাই ব'লে ভালো কেউ 
নেই ?ভালো ও আছে। আর আছে  বলেই পৃথিবীটা চলছে। আর এই কম্পার্টমেন্টে সিটে বসা মানে যদি দুই দিকে পুরুষ থাকে তাহলে তো মহিলাদের স্যান্ডউইচ হবার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কেউ কেউ তো এমন ভান করেন যেন এত ঘুম পেয়েছে ঘুমিয়ে পড়েন ঘাড়ের ওপর। আবার কেউ এমন ভাবে কনুইটাকে রাখেন তা দিয়ে যে আরো কি মারাত্মক কাজ করা যায় তা সেই ধরনের পুরুষ  বলতে পারবেন আর পারবেন যার সাথে ঘটনাটি ঘটেছে সেই মহিলা। তবে সেই মহিলা হয়তো বলতে গেলেও বলতে  পারবে  না,যে কাজটি করছে তার কিন্তু কোনো রুচি বোধ বলে কিছু নেই। রেখা এই অস্বস্তিকর পরিবেশ এর হাত থেকে বাঁচার জন্যই লেডিস কম্পার্টমেন্টে উঠে কিন্তু দুর্ভাগ্য আজকে যদি লেডিস কম্পার্টমেন্ট উঠতে হতো তাহলে হয়তো ট্রেনটাই পেত না।
তবে আজকে রেখার কপালটা মনে হচ্ছে ভালো আজকে সিট পেয়েছে এমন জায়গায় একপাশে ভদ্রমহিলা মাঝখানে রেখা তার পাসে আর একজন ভদ্র লোক। সিটে বসে আছে কয়েকজন
যুবা ,মধ্যবয়স্ক ভদ্রলোক। এরমধ্যে গল্প জুড়ে দিয়েছে। ছেলে ছোকরা আড্ডা দিচ্ছে তারা তাদের মত ।আড্ডা দিচ্ছে মাঝবয়সীরা। সেই বয়সীদের মধ্যে একজন বছর চল্লিশের নিচে ভদ্রলোক আর এক ভদ্রলোককে বলছে (এদের দেখে মনে হল যে এরা পরস্পর পরস্পরকে ভালোমতো চেনে,)
"কিরে আজকে কি অফিসে ডুব দিবি নাকি?
"না ভাই , সেটি হবার জো নেই।"
"কেন কেন?"
বাড়িতে হেড অফিসে র বড়বাবু নয়  বড় কর্ত্রী তারা আবার টাইম এর ব্যাপারে ভীষন পাংচুয়াল।"
"তা যা বলেছ ভাই।"
"তারপর বাড়তি পাওনা তো রয়েছে ই।"
*একদম হাঁপিয়ে উঠছি দিনকে দিন ভাই।"
"হ্যাঁ ,প্রথম অনুরাগের সেই মুহুর্তগুলো যেন ক্রমশই চাপা পড়ে যাচ্ছে  এখন যেন সম্পর্ক গুলো শুধুমাত্র প্রয়োজনের জন্য প্রয়োজন মিটে গেলেই…..?'
"হা হা হা" করে প্রত্যেকে হেসে উঠলো।"
একজন বয়স্ক ভদ্রলোক এদের কথাবার্তাগুলো শুনছিলেন ,  তখন বললেন এগুলো এনজয় করো। 
যারা এতক্ষণ গল্প করছিল বিষয়টা নিয়ে তারা তা তো হ্যাঁ করে চেয়ে রইল ।
'মানে আপনি বলতে চাইছেন বিরক্তিকর মুহূর্ত গুলো এনজয় করব।"
"আমার তো মাঝে মাঝে সংসার ছেড়ে চলে যেতে ইচ্ছে করে।"
ভাগ্যিস অফিস টুকু আছে, বাড়ির বাইরে বেরোতে পারি তাই যেন অক্সিজেন নিতে পারি।"
বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন এই জায়গাটাই তো  তোমাদেরকে ধরাতে চাইছি।
বাড়িতে যারা থাকে তারা তো সবসময় বাড়ীতেই ব্যস্ত ।বাইরে তারা বেরোতে পারে না ।তাদের অক্সিজেনের জায়গা কোথায়?
মধ্য বয়স্ক একজন বলল "তার মানে আপনি বলতে চাচ্ছেন জায়গাটা এই ঝগড়ার মধ্যে দিয়ে।"
বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন 'ঝগড়া করছেন কেন?
কি বলছেন আপনি বাড়িতে যতক্ষণ থাকবো ততক্ষণ হয় মা বাবাকে নিয়ে কান ভারি করা,না হয় বাচ্চাদের বায়নাক্কা নিয়ে কথা ,না হয় টিভি দেখা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা ,না হয় সিগারেট কেন এত খাচ্ছি ।তারপর তো রয়েছেই নানা আচার বিচার ।"
বয়স্ক ভদ্রলোক বললেন "এইগুলো আছে বলেই জীবন এতটা মধুর সুন্দর।
আজ আমার দিকে তাকিয়ে দেখুন বাড়িতে একা সন্তানেরা যে যার মত প্রতিষ্ঠিত তারা নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত। যে সব থেকে কাছের সে তো কত আগেই টা টা করে চলে গেছে।"
প্রত্যেকে খেয়াল করল ভদ্রলোকের চোখের কোনে জল।
রেখা ব্যাপারটাকে এনজয় করছিলো।
তারপর বয়স্ক ভদ্রলোক আবার বললেন 'আজকে আমাকে কেউ বলার নেই এটা করো না ,ওটা করো না। আজ যেন সব কিছুই উঁকি দেয় নিজের মত করেই  সবকিছু করা যায় কিন্তু তার পরেও মনে কোন শান্তি নেই। জীবনের সুন্দর মুহূর্ত গুলো এখন নস্টালজিক হয়ে হৃদয় তটে ঢেউ তুলে 
যায় ।আর সারাক্ষণ সেই ঢেউ গুনতে গুনতে কখন যে চোখ দুটো জড়িয়ে আসে তা একমাত্র ঈশ্বর জানেন।"
রেখা বয়স্ক ভদ্রলোকএর কথাগুলো খুব ভালো লাগলো।
রেখা অনুভব করলো সত্যিই তো এরকম করে তো ভাবা হয়নি। আমাদের দাম্পত্য জীবনে আমরা তো কত বিষয় নিয়ে ঝগড়া করি।তার স্বামী যদি তার মনের মত এরকম হতো তার স্বামী যদি ধূমপান না করত ,তার স্বামী যদি সবসময় স্ত্রী যা বলে সেই ভাবেই চলত। শুধু প্রত্যাশা আর প্রত্যাশা।
অপর পক্ষেরও যে কিছু প্রত্যাশা থাকতে পারে সেসব তো একবারও আমরা ভাবি না।'
ভদ্রলোক বললেন 'আর জীবনে নিজেকে সুন্দরভাবে বাঁচিয়ে রাখার জন্য রয়েছে শুধু কিছু নিখাদ ভালোবাসা ,বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ।তারাই এখন তার জীবন সায়াহ্নে এসে কখনো কখনো 'আলোর নিশানা দেখিয়ে যায় ।তারাই সবুজের হাতছানি দিয়ে ডাকতে থাকে'তুমি আছো তুমি আছো তোমার অস্তিত্বের শাখা-প্রশাখা গুলি শুধু প্রসারিত করে দাও।'
রেখা মুগ্ধ হয়ে কথাগুলো শুনছে ।সত্যিই জীবনটাকে এভাবে ভাবলে তো কোন দুঃখ কষ্ট আর মনের ভেতরে দাগ ফেলতে পারে না।
ভদ্রলোকের শেষ কথাগুলো এখনও রেখার কানে বাজছে'জীবনের শেষ প্রান্তে এসে তখন মনে হবে চারিদিকটা শুধু ধূসর মরুভূমি, কিন্তু এর মধ্যেই বেঁচে থাকা ।বেঁচে থাকতে হবে ছোট ছোট সুখের অনুভূতিগুলো,মুহূর্তগুলোকে অবলম্বন 
করে ।শীতের জীর্ণতাকে  সরিয়ে দিয়ে ভালবাসার বন্ধুত্বের সম্পর্কগুলোকে আঁকড়ে ধরে সবুজ প্রাণে বেঁচে ওঠা ।
ভদ্রলোক নেমে গেলেন শিমুরালি স্টেশনে। যাবার সময় প্রত্যেকের উদ্দেশ্যে হাত নেড়ে আর একগাল হেসে দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনায় যেন সকলকে আপ্লুত করে মনে দাগ দিলেন।
রেখা জানলা দিয়ে তাকিয়ে দেখলো কিছু বয়স্ক ব্যক্তি আর ছোট ছোট বাচ্চারা হাতে ফুল নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন ।ছোট বাচ্চারা ভদ্রলোককে দেখে হামলে পড়ল। যেন খুশির বন্যা বয়ে যাচ্ছে।
সেই ট্রেনের যে যাত্রীদের উদ্দেশ্যে ভদ্রলোক এতগুলো কথা বললেন তারাও এই দৃশ্য দেখে অবাক হয়ে গেছে।
একজনকে জিজ্ঞেস করতেই বললেন ওই বাচ্চারা অনাথ আশ্রম এর বাচ্চা। প্রতিমাসে এই ভদ্রলোক এখানে আসেন আশ্রমটি তিনিই প্রতিষ্ঠিত করেছেন '।
উনাকে কে না চেনেন?
ট্রেনের হুইসেল বেজে গেল ট্রেন ছেড়ে দিল কিন্তু ভদ্রলোক যেভাবে মানুষকে বাঁচার মন্ত্র শিখিয়ে দিয়ে গেলেন ।সেটা যেন হৃদয় তটে তীরের মত বিদ্ধ হল।
রেখা মনে মনে ভাবল জীবনটা ক্ষণিকের জন্য তাহলে কেনই বা এই জীবনে সবসময় দুঃখ কষ্ট গুলো কে প্রাধান্য দিয়ে ,না পাওয়া মুহূর্তগুলোকে গুরুত্ব দিতে গিয়ে ,সামনের দিনগুলো কে অবহেলায় দূরে ঠেলে দেওয়া।
সংসারের প্রতি মুহূর্তগুলোকে এখন বাঁচিয়ে রাখতে হবে আর মনের ভেতরে থাকবে দৃঢ় সংকল্প এ পৃথিবীতে যখন এসেছি তখন কিছু ভাল কর্ম করে তার কীর্তি রেখে যেতে হবে।
রেখার ও ভাবল ভদ্রলোকের ওই কথাগুলো। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের দৃষ্টিশক্তি ক্ষীণ হয়ে আসে, শরীরের পেশী গুলো আস্তে আস্তে শিথিল হতে থাকে, আগের মত সেই প্রথম আর থাকেনা। নানা অসুখ তখন বাসা বাঁধে। ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন আর ঔষধেরদের সমারোহে জীবন পরিপূর্ণ হয়ে ওঠে। কিন্তু তা হলেও প্রত্যেকের মনে রাখা উচিত বয়স একটা সংখ্যা মাত্র ।বয়স এর দিকে না তাকিয়ে মনটাকে সজীব রেখে নতুন উদ্যমে কাজ করে যাওয়া।
এই সময়ে মানুষের অফুরান সময় ছেলেমেয়েরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায় তারা নিজেদের সংসার , ক্যারিয়ার গড়া নিয়ে ব্যস্ত ,মা-বাবার প্রতি দায়দায়িত্ব তখন শুধুমাত্র কয়েকটি ফোন কল কিছু টাকা পাঠানো হয়তো বা ফোনের সংখ্যাও কমতে থাকে ।তখন যে মানসিক অবসাদ ,বিষন্নতা মানুষের জীবনকে গ্রাস করে সে গুলোকে ভুলে গিয়ে এই জগত সংসারে নিজের অস্তিত্বকে  টিকিয়ে রাখতে নতুন করে আইডিন্টিটি তৈরি করা। সেটাই হবে সার্থক বাঁচা। সন্তানদের দোষ দিয়ে লাভ নেই সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সবকিছুই বদলাতে থাকে মন-মানসিকতা চরিত্র। তাই নিজেকে বদলে ফেলতে হয়।'
পাশের দুই ভদ্রলোক পরস্পর পরস্পরের দিকে তাকিয়ে বলতে লাগল জীবনে এটাও একটা দরকার ছিল শিক্ষার। বাঁচতে হলে বাঁচার মত বাঁচ। জীবন্মৃত অবস্থায় বেঁচে কোনো লাভ নেই।'
ভদ্রলোক দুজন জানলা দিয়ে যেন সেই জীবনের আস্বাদ পেতে নূতন সূর্য রশ্মিকে স্বাগত জানাতে বদ্ধপরিকর। 
রেখা মনে মনে ভাবছে জেনারেল কম্পার্টমেন্টে উঠে জীবনের যে নতুন অভিজ্ঞতা হলো তাতে সত্যিই স্মরণীয় হয়ে থাকবে। এমন সময় ট্রেন কৃষ্ণনগর জংশন থামল প্লাটফর্মে প্রচুর ভিড় এই ভিড়কে উপেক্ষা করে ট্রেন থেকে নামলো ।বিশাল জনসমুদ্রে দিকে তাকিয়ে রেখা আরো ভাবল প্রতিদিনের এই ব্যস্ততা এক সময় থেমে 
যাবে ।তখন শুধু সময় আর সময় এই সময়টাকে কাজে লাগাতে হবে। রেখা ভিড় ঠেলে প্লাটফর্মে দিকে এগিয়ে যেতে লাগলো ,ঠিক তখনই রেখার ফোন বেজে উঠল রেখা বলল হ্যালো' 
তারপর বলল আমি আপনাকে পরে কল ব্যাক করছি।

০৭ জুলাই ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস টানাপোড়েন ১৭৯




উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৭৯
ঈশ্বরের ইচ্ছে
মমতা রায়চৌধুরী

"উফ"! কি গরম আর পারা যাচ্ছে 
না ।তারমধ্যে আজ শেষ লটের খাতা জমা দেওয়া। হেড এক্সামিনারের বাড়ি ও তো কম দূরে নয় ।আজকে একা যাবার সাহসই নেই । রেখা মনে মনে ভাবল মনোজকে একবার বলে দেখবে। অবশ্য কদিন আগে বলা হয়েছিল ,নিজের থেকেই বলেছিল যাবে । যদি ভুলে গিয়ে থাকে এখন তো ওর মনটা নানা অবস্থায় আছে।তাই আজকে আর একবার স্মরণ করাবে? মুড কেমন আছে কে জানে? যাই হোক না কেন বলবেই। খুব সকাল সকাল উঠে পড়েছে সব কাজ গুলো গুছিয়ে রেখে দিয়ে যেতে হবে। চা করতে করতেই এসব কথাই ভাবছিল। চা হয়ে গেলে ফ্লাস্কে চা ঢেলে, বাকি চা কাপে ঢেলে নিয়ে মনোজের ঘরের দিকে পা বাড়ালো।
রেখা মনোজকে ডাকলো জানলাটা খুলতে খুলতে'কিগো ওঠো। এত গরমের মধ্যে আবার জানলাটা কখন উঠে বন্ধ করেছ, মাথাটা কি কাজ করছে না নাকি?
সাড়া না পেয়ে আবার ডাকল" কি গো সাড়া দিচ্ছ না যে? এবার মনোজের গায়ে ধাক্কা দিয়ে বলল'ওঠো,।
মনোজ এবার চোখটা খুলে অবাক হয়ে তাকিয়ে বলল" কেন এত তাড়াতাড়ি ডাকছ?'
রেখা জানে সকাল সকাল ঘুম ভাঙানো মানে রেখার পক্ষে সেটা খুবই ট্রাপ ব্যাপার। একটা কুম্ভকর্ণ যে অসময়ে ঘুম ভাঙানো যাবে না, ভাঙ্গলেই বিপদ।
রেখা বলল' আজকে খাতা জমা দেবার দিন। তুমি যাবে তো আমার সাথে?'
মনোজ রেখার দিকে তাকিয়ে বলল 'না গেলে হবে ,এতটা রাস্তা তুমি একা 
যাবে? '
রেখা একটু খুশি হল তারপর বলল 'সেই জন্যই তো তোমাকে ডাকছি।'
মনোজ বলল' একটু ঘুমাতে 
দাও ।তারপর দেখো সত্যি সত্যি উঠে যাব।'
রেখা বলল' ঠিক আছে ।'রেখা দেখল এরপর আর বিরক্ত করা চলে না তাই বেরিয়ে এল। আবার আর একটা কথা বলার জন্য ভেতরে ঢুকলো ' হ্যাঁগো একবার বিরক্ত করছি .দুপুরে বাড়িতে খাবে তো নাকি?"
মনোজ বলল' আজকে দুপুরে রান্নাটা ক'রো
 না ।
রেখা খুশি হয়ে  বলল' মানে?
মানে আজকে রান্না করব না বাইরে খাবার খাবে?'
মনের শুধু বললো 'হুম।
রেখা তো মনে মনে এটাই চাইছিল। ঈশ্বর রেখার মনের ইচ্ছেটা পূরণ করেছেন। তাই
রেখার মনের ভেতরে খুশির ঢেউ ফুলে  ফেঁপে  উঠলো 
এমনিতেই গরমে রেখার রান্না করতে ইচ্ছে করছে না ,আর যদি মনের আশাটা পূর্ণ হয়ে যায় তাহলে তো সোনায় সোহাগা।
কিন্তু রেখার তো ছোট বাচ্চারা আছে ওর মায়ের আছে ওদের জন্য তো আমরা করতেই হবে। রেখা চটপট গিয়ে ওদের খাবারটা রেডি করতে গেল।
এরইমধ্যে তুতু এসে কিউকিউ করতে লাগলো। রেখা বলল "ওমা তুমি আবার কখন আসলে"?
"এখন বিরক্ত করো না আমাদের খাবার রেডি করছি।"
তারপরেও সমানে কিউকিউ করে যেতে লাগলো।
রেখা গাল দুটোকে ধরে আদর করে বলল কি হয়েছে? বলবি তো কি হয়েছে?
রেখা আবার কাজে মনোযোগ দেয়। কিন্তু ওর আওয়াজ বন্ধ হয় না। অহ তুতু বিরক্ত করো 
না আমাকে ।বেশ তো
 ঘুমাচ্ছিলে ।আবার উঠে আসলে কেন?
হঠাৎ রেখার সিক্স সেন্স কাজ করলো ওর পটি বা হিসু পায় নি তো?
তাড়াতাড়ি গ্যাসের আঁচটা সিম করে দিয়ে দরজা খুলে দিল। হ্যাঁ যা ভেবেছে তাই। রেখা লক্ষ্য করলো তুতু (তুলি) একটা পা যেন ফেলতে কষ্ট হচ্ছে। রেখা ভাবল ওর পায়ে কী করে লাগল?
তাহলে তো ওষুধ খাওয়াতে হবে। 
 মন্টু ডাক্তার কে ফোন করে ওষুধ জানতে হবে।
এরমধ্যে পটি করে ঘরে ঢুকে পরল এখন যেন রেখাকে চিনতেই পারল না।
এখান থেকে বলছি কি রে আমি দাঁড়িয়ে আছি তোর হুঁশ নেই।
রেখার কথায় একবার পিছন ফিরে তাকাল তারপর ডোন্ট কেয়ার মনোভাব নিয়ে একেবারে ঘরের ভেতরে গিয়ে শুয়ে পড়ল।
আপন মনে হাসতে লাগলো। রান্নাঘরে যে ঢুকেছে আবার কলিং বেলের আওয়াজ'জয় রাধে ,রাধে , কৃষ্ণ, কৃষ্ণ গোবিন্দ গোবিন্দ বল রে…।'
রেখা ভাবল এ সময় আবার কে আসলো?"
মাসি? কমটুনমাসির তো এখনো সময় হয়নি।
আবার কলিং বেলের আওয়াজ'জয় রাধে, রাধে, কৃষ্ণ ,কৃষ্ণ ।গোবিন্দ ,গোবিন্দ ,বল রে…।"
দরজাটা খুলতেই রেখা যেন ভূত দেখার মত দেখল চৈতির মাকে?
কি ব্যাপার দিদি এত সকালে?
আর বলবেন না একটা বিপদ হয়েছে একটু দাদা কে ডেকে দিন না?
হ্যাঁ , সে  দিচ্ছি । কিন্তু হয়েছে?
আপনাদের দাদা হঠাৎ করে মুখের একটা অংশ বেঁকে যাচ্ছে কথাগুলো সব এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে।
কথাগুলো বলছে আর চৈতির মায়ের চোখ গুলো জলে ভর্তি হয়ে গেছে।
রেখা বলে এখন দাদা কোথায়?
শুয়ে থাকা অবস্থাতেই হয়েছে।
আপনি দাদাকে রেখে চলে আসলেন?
কিছু বুঝতে পারছিনা আমার দিশেহারা লাগছে।
মেয়েকে ফোন করেছেন?
হ্যাঁ করেছি।
আর এই জন্য আপনাদের কাছে ছুটে এসেছি।
ঠিক আছে চিন্তা করবেন না'
 দাদা কে ডেকে দিচ্ছি।
কিগো উঠ তো? অ্যা ই ওঠো।
কি হলো?
আর একবার যদি দের বাড়িতে যাও ওর বাবার কি যেন হয়েছে?
হসপিটালে ভর্তি ব্যাপারে ব্যবস্থা করতে হবে একা মেয়ে মানুষ ?"তো?
হ্যাঁ সে ঠিক আছে একবার পার্থকে ফোন করে দিই। আমিও এই কথাটাই ভাবছিলাম হ্যাঁ যত তাড়াতাড়ি পারো পার্থ কে ফোন করো। সঙ্গে গাড়িটাও যেন নিয়ে আসে।
রেখা চৈতির মাকে বলল" দিদি আপনি বাড়ি যান এখানে দায়ী থাকবেন না ।ওরা যাচ্ছে একটু পরে। আপনি বলুন মেয়ে জামাই কখন আসতে একবার জেনে নিন।
হ্যাঁ ঠিকই  বলেছেন  আমি বাড়ি যাচ্ছি।
মনোজ পার্থকে ফোন করলো

"হ্যালো'

এই আমি মনোজ দা বলছি পার্থ।
হ্যাঁ ,সুপ্রভাত দাদা ।।এ তো দাদা সকাল সকাল মনে করলেন।'
বলেই  হাসতে লাগল।
পার্থ একবার এক্ষুনি গাড়িটা নিয়ে এসে চৈতি দের বাড়ির কাছে দাঁড়াও।

এরমধ্যে রেখা ও দেকগেল আবার কলিং বেলের আওয়াজ
"জয় রাধে ,রাধে কৃষ্ণ কৃষ্ণ গোবিন্দ ,গোবিন্দ বল রে।'
রেখা মনে মনেl ভাবল আজকে খাতা জমা দেওয়ার লাস্ট ডেট এর মধ্যে যদি মনোজও চলে
যায় তাহলে তো।  ..?

মনোজ্ঞ বলল' আমি জানি কি ভাবছো?
এর মধ্যে পার্থ এসে হর্ন বাজালো।
মনোজ বলল' আসছি।'
এদিকে তাড়াতাড়ি চৈতির বাবাকে কোল পাজা করে তুলে  গাড়িতে শোয়ালো।
তারপর দ্রুত গাড়ি চালিয়ে হসপিটালে এসে ভর্তি করে দিল।
এদিকে রেখা ঘড়ির দিকে তাকাতে লাগলো কি জানি শেষ পর্যন্ত মনোজ যেতে পারবে কিনা?
তবুও রেখা মনের ভেতরে ক্ষীণ আশা টুকু জাগিয়ে মনোজ এর জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। কারণ মনোজ যদি না আসতে পারতো, তাহলে ফোন করে দিত।
এসব ভাবতে ভাবতেই রেখা মিলি আর বাচ্চাদের খেতে দিয়ে দিল। নিজেও ব্রেকফাস্ট করে নিল। রেখা সবকিছু গুছিয়ে গাছিয়ে এবার মনোজকে একটা ফোন করলো।
রিং হতে  না হতেই'বলল হ্যালো'
তুমি কখন আসবে?
এইতো ডাক্তার দেখাচ্ছি দাদাকে এডমিট করে নিয়েছে ।
আসলে বেলা হয়ে যাচ্ছে তো। রোদের তাপ টাও বাড়ছে।
সে হোক কি আর করা যাবে বিপদের দিনে মানুষের পাশে তো থাকতেই হবে।
হ্যাঁ সে কথা তো ঠিকই।
রেখা মনোজ যেতে পারবে ভেবে মনে মনে খুশি হল কিন্তু চৈতির বাবার জন্য আবার মন খারাপ হলো ঈশ্বর করুন সবকিছু ঠিক করে দিন।
ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করল রেখা।
চৈতির মা পার্থ আর মানুষকে বারবার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করল।
মনোজ বলল বৌদি এভাবে বলবেন না মানুষ হয়ে জন্মেছি মানুষের জন্য যদি কিছু করতে না পারে তাহলে মনুষ্য জীবনের সার্থকতা কি।
পার্থ বলল হ্যাঁ কিছু চিন্তা করবেন না সব ঠিক হয়ে যাবে।
চৈতির মা বলল তবুও আমি বলার সাথে সাথে যেভাবে আপনারা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন এইটুকু কৃতজ্ঞতা যদি প্রকাশ না করে তাহলে ভেতরে ভেতরে খুব ছোট লাগবে নিজেকে।
মনোজ বলল বৌদি এসব কথা না ভেবে বরং ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন দাদা যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।
পার্থ বলল চৈতি আসছে?
চৈতির মা বলল হ্যাঁ আসবে তত সমস্যা রয়েছে ও প্রেগন্যান্ট এই অবস্থায় হুটোপাটি করে আসাটা জার্নি করাটাও তো রিক্স।
তাছাড়া ওর তো প্রথম বাচ্চাটা নষ্ট হয়ে গেছে।
পার্থ, মনোজ দু'জনায় বলল"তাহলে তো রিক্স ই  বটে।'
চৈতির মা বলল তবুও বাবার এই অবস্থা শুনে ও তো আর নিজেকে গুটিয়ে রাখতে পারবে না আসবেই। এখন পুরোটাই ঈশ্বরের উপর ভরসা করা ছাড়া কিছুই নয় ঈশ্বর যেটা ভালো বুঝবেন সেটাই করবেন।
মনোজ বলল কিছু চিন্তা করবেন না ঈশ্বর সব সময় মানুষের ভালোর জন্যই করে থাকেন।
মনোজ ঘড়ির দিকে তাকিয়ে বলল পার্থ আমি বরণ বাঁশি বেরিয়ে যাচ্ছি কারণ রেখার আজকে খাতা জমা দেবার আছে তুমি বরংআরেকটু ওয়েট করে ডাক্তার কি বলেন সব শুনে বৌদিকে নিয়ে তার পরে ফিরো।

কবি বকুল  আশরাফ কবিতা "দিনলিপি"




দিনলিপি
বকুল  আশরাফ

কোথাও কোন দুঃসংবাদ নেই
অপহরণ হয়নি কেউ আর, না
কোন ধর্ষন হয়নি, হত্যা, গুম
আজ কেউ হয়নি কোথাও খুন।

জমি নিয়ে জঞ্জাল, হানাহানি
নেই, এপাড়া ওপাড়ায়, মানুষের
কোন ত্রোধ নেই, ছিল না
স্বামী স্ত্রীর মধ্যে কোন বিচ্ছেদ নেইÑ

কেউ গ্রেপ্তার হয়নি পুলিশের হাতে
বিনা বিচারে কারো মৃত্যু হয়নি রাতে
বিনা চিকিৎসায় যায়নি কেউ মারা
ছাড়া পেয়ে গেছে জেলে ছিল যারা।

ভারবাহী ট্রাকগুলো নিরাপদে ছুটছে
মোটর আরোহী ঠিক গন্তব্যে পৌঁছছে
ভোট চুরি হয়নি কোথাও কোন কেন্দ্রে
ঘুষ কেলেঙ্কারি নেই সমাজের রন্ধ্রে,

এ বড় আজগুবি দিন আজ
বোশেখের আকাশে নেই মৃত্যুবাজ!

টেলিফোনে হুমকি নেই
সন্ত্রাসের সন্ন্যাস নেই,

এ কেমন দিন!
কোন ব্যংকেই কৃষকের নেই ঋণ!

কিশোরী বুক ফুলিয়ে হাঁটছে নির্ভারে
গুপ্তঘরগুলো ভালোবাসায় গেছে ভরে!

এমনটা কি হবার ছিল!
এমনাটা কেন হয়?
নাকি এসব না হারাবার ভয়!
সংবাদ ডেস্কের হয়েছে কি ক্ষয়?

নাকি ইথার পাঠায়নি সিগন্যাল
ক্ষমতা হারালো কি আকাশজাল!
নাকি সেন্সরের কাঁচিতে নেই ধার
তাই শহরে এ আজগুবি কারবার।

চলো, হেঁটে যাই নিরাপদ শশ্মানে
আজ এই ভালোলাগার দিনে!

কবি তারিক শিপন  এর কবিতা "কবি ও বিরহী নদী"





কবি ও বিরহী নদী
তারিক শিপন 

কেটে যায় রাত্রির ঘোর। তরুণ নদীর প্রেমের মতো
ছলছল ঘোলা ঢেউ বাসনার বাতাস ছড়ায় বুকে
প্রতিটা রাত হৃদয় নিংড়ানো পত্র লিখে যায় তার কাছে।
কবিও নদীর ভাষা বোঝেননা; অচেনা শব্দ ভেবে চলে যান!
কখনো ঝড়ো বাতাস কবিকে ছুঁতে চায়, কবি বোঝেন-
নদী কিছু বলতে চায়। কবি'র চোখ দূরে কিছু দেখে...
তিনি হেটে যান নির্লিপ্ত, দীর্ঘ রাত পরে থাকে দু'পাড় জুড়ে।
অথচ নদীর ভাষা কবির বোঝার কথা ছিলো!

একদিন কবিও বাকশক্তিহীন প্রৌঢ় হবেন 
তিনি ফিরে আসবেন বিরহী নদীটার বাঁকে।
সেদিন কী আর নদী বুঝবে বোবা কবির ভাষা?

কবি বিধানেন্দু পুরকাইত এর কবিতা "সেই চোখদুটো"





সেই চোখদুটো
বিধানেন্দু পুরকাইত


চোখ দুটো জানে
মেঘ নিসৃত কান্নার কলরব
যেখানে আঁধার পথ চলে একা একা। 
সময়কে ধ'রে সময়ের কাছে নিঃস্ব
রোদ্দুর খোঁজে 
চোখের কাজলরেখা।

কবির কাব্যে চোখের আকুল বিন্যাস
মায়াবী ঝর্ণা প্রেমজ কিশোরী কন্যে
কুলুকুলু বয় বুকের অন্বেষণে
হা-হুতাশ মেয়ে
বুক ভাঙ্গে কার জন্যে!!! 

মন জুড়ে বুঝি শ্যাওলা ঘোলাটে জল
রন্ধ্রে রন্ধ্রে পচন ধরাতে চায়
চোখ দেখে ভাবি মিষ্টি সোহাগী নারী
আসলে সে বুক ভাঙ্গে বুঝি বন্যায়। 

কতোটা নিঃস্ব কিংবা সুতোয় দোলে
অযাচিত তার নিশির আর্তনাদ
চোখেই শুধু কাব্য দেখলে পুরুষ
দেখলে না তার 
             বুক ভাঙ্গা চিৎকার। 

কবি শহিদ মিয়া বাহার এর কবিতা "মেরু রেখার ওপ্রান্তে হারাই"






মেরু রেখার ওপ্রান্তে হারাই
শহিদ মিয়া বাহার

আমি হাত রাখি শিল্পচারী অনামিকায় 
কি এক মায়ার ছায়া লাগে
ভেজা ভেজা বিকেলের ধূসর করতলে
যেন ছুঁয়েছে এ হাত, বহুদিনকার চেনা-চেনা  মোহ-মোহ  নীল কাবেরীর সুবর্ণ জল--!

তোমার মেরুরেখার ওপ্রান্তে
নেশা নেশা জোৎস্না নামে অবিকল দেবতার মত---
আমি জানু পেতে বিছিয়ে দেই 
               সান্ধ‍্য প্রদীপের আলোয় 
           নিমগ্ন প্রণতির জলপদ্ম বিহার--!

তুমি চুম্বকমতি মোহিত ময়ূরাক্ষী সই,
আকর্ষণ মগ্নতায়---
জারুল পাতার মুরলী সুরের তানে 
বিবশ কর উত্তর আর দক্ষিণ মেরু আমার!
আমি নির্জীব লৌহ দন্ডের মত বায়বিক আকর্ষণে ছুটে যাই 
তোমার মেরুকণার গহীন সাকী পেয়ালায়
আবেশ ধারকের বিদ‍্যুৎ প্রবাহের মতোন, 
প্রদোষ প্রহর, নিদ্রাহীন নিশুতি যাপনে--!

তুমি আশ্চর্য আলোর মত রাসায়নিক চোখ মেলে বেঁধে রাখ আমায়
গভীর মোহনেশা বিক্রিয়ার অনুসঙ্গ প্লাবনে--
আমি জারিত হতে হতে বিজিত সত্তা হারাই 
তোমার দৃষ্টির উপত‍্যকা, অরণ‍্যে
যেখানে জোনাকিরা কূল হারায় অনিরুদ্ধ যন্ত্রনায়--- ঘোর তমসায়!

আর কতদূর নিয়ে যাবে হে চুম্বকদেবী  
সীমান্ত কেটে কেটে
            গভীর তমিস্রায় আমায়--!?

কবি তাহেরা আফরোজা এর কবিতা "চৈত্রের দুপুর "




চৈত্রের দুপুর 
তাহেরা আফরোজ 

তপ্ত দুপুর 
প্রখর তাপে পুড়ছে মানুষ, প্রকৃতি, 
পুড়ছে মনের জমিন তোমার অপেক্ষায়। 
ব্যালকনিতে কামিনী, গোলাপ, বেলি, 
সমস্ত ঘরজুড়ে মিষ্টি সুবাস। 
নীল অপরাজিতা দেয়াল বেয়ে ফুটে আছে 
যেন নীল বিজলি বাতি সাজিয়েছে কেউ, 
কোথাও কোনো সাড়া নেই 
হাঁড়িকুঁড়ির খুটখাট আওয়াজ 
বড্ড বেশি কানে বাজছে 
আমার ধ্যান ভাঙিয়ে দিচ্ছে, 
ব্যালকনিতে কামিনী, গোলাপ, বেলি, 
সুবাসে মউ মউ করছে মন
সমস্ত ধ্যান তোমার অপেক্ষায়। 

চোখ বুজে তোমার আসাটা কল্পনা করি
যতটা সম্ভব দ্রুত গুছিয়ে নিচ্ছ এলোমেলো ফাইল
বেড়িয়ে পড়ার প্রচন্ড তাড়া
বারবার হাতঘড়িটা দেখছ 
ভাবছ, আমি পায়চারি করছি ঘরজুড়ে 
আমার ফোনের অপেক্ষায় তুমি 
আমিও তাকিয়ে আছি ফোনের মনিটরে
বেজে ওঠার আগেই আলোর সংকেত আসবে  
পাতাগুলো মৃদু দুলছে 
নিশ্বাসের আওয়াজ টের পাচ্ছি 
আয়নায় বারবার দেখছি মুখ 
রুগ্ন মুখাবয়বে চিকচিক রোশনাই, 
তোমার আগমন বার্তায় শিহরিত মন
সেই দ্যূতি ছড়িয়ে পড়েছে আজ চোখেমুখে 
ঢেকে দিয়েছে রুগ্নতার টোন। 
 
মনিটরে হঠাৎ নীল আলোর সংকেত 
রিংটোন বেজে ওঠার আগেই শুনবো 
তোমার প্রেমময় কণ্ঠস্বর, 
অদ্ভুত শিহরণে কাঁপছে শরীর
ঈষৎ নড়ে উঠলো আমার ঠোঁট - 
'হ্যালো'
তোমার আবেশ জড়ানো কণ্ঠস্বর ভেসে এলো , 
' এইতো কাছাকাছি এসে গেছি আমি'। 
কী এক অদ্ভুত আনন্দে নেচে উঠলো মনপ্রাণ 
তপ্ত দুপুরের নির্জনতা ছাপিয়ে 
বারবার কানে বাজছে, 'কাছাকাছি এসে গেছি'।

Jfho

LOVE

কবি অনিক রায় এর কবিতা "ধূলো"




ধূলো
অনিক রায় 


আমি ধূলো হয়ে পড়ে থাকি ধূলোদের সাথে 
আলোহীন গুমোট নক্ষত্রহীন রাতে 
ইরার হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেলে, এখানে হাঁটতে এলে 
স্পর্শ পাবো আমি তার নগ্ন পায়ের নরম করতলে 
আমার সাথে ধূলোরাও কাঁদবে সুখের অশ্রুজলে 
সেই ক্ষণের অপেক্ষায় ধূলোর আয়ু নিয়ে হায়
আমার বেঁচে থাকা চলে, 
যতক্ষণ অব্দি এক রাশ বায়ু আমায় 
ধূলোদের সাথে উড়িয়ে নিলো না ব'লে।।  

১৪ জুন ২০২২

কবি আমির হাসান মিলন  আমি থাকবো"





আমি থাকবো

আমির হাসান মিলন 



হৃদয়ের অসীম যন্ত্রণা 
চোখে দিলো ক্লান্তির অঝোর নেশা,  
বারে বারে বিক্ষুব্ধ ঝড়ে 
অজানায় উড়ে যায় গুছানো মমতা গুলো। 

তবুও গড়ার সাধ ভাঙেনি , কোন কালে ,
কোন ভয়ে , কোন হুঙ্কারে  ।  

এ কোন মহাকাল তবে ! 
স্বপ্ন পোড়ায় , দুর্গন্ধ ছড়ায় , উপহাসের বায়ুতে ,
লক্ষ-কোটি আশার ভ্রূণ নিরবে নষ্ট হয় চারদিকে ! 

শান্ত ঘায়ে চাবুক মেরে এই রক্তাত দেহে 
আর কতো বল চেটে-পুঁটে খাবি ? 
কবে তৃপ্ত হয়ে মরবি বল ? 

আমি তবুও এখানেই বেঁচে আছি  ,থাকবো 
স্বপ্ন বুনবো , আবার বাঁধবো নীড় , 
তোদের বেলা শেষে ।

১০ জুন ২০২২

Bff

LOVEন

কবি গোলাম মোস্তফা এর কবিতা "আমাদের শিশু"





আমাদের শিশু

গোলাম মোস্তফা 



শিশুরা নয়ন সুন্দর 
শিশু মানে পরিবারে সুখের স্পন্দন
বয়োবৃদ্ধদের অবলম্বন
নতুন পিতামাতার সম্পর্কের দৃঢ় বন্ধন।

শিশু মানেই আধো আধো ডাক
আধো আধো উচ্চারণ
শিশু মানেই টলোমলো চলা
কষ্ট কল্পিত মিষ্টি সম্ভাসন।

শিশু মানে অনেক যত্ন অনেক প্রত্যাশা
শিশু মানে মাতার রাত ঘুমহীন
বিরামহীন পরিচর্যা আর ভয়ে ভয়ে দিন যাপন
শিশু মানেই পরিবারে জেগে থাকা স্বপ্ন রঙিন।

যে শিশু শান্তি আনে স্বস্তি আনে 
বড় হলেই সে শিশুই আঘাত হানে
সে শিশুই পিতা মাতার দুঃখের কারণ
সে শিশুই পিতা- মাতার বুকে শেল হানে।

অনন্ত প্রত্যাশার শিশুর শিক্ষা হোক মানবিক
তোতা পাখি না হোক জীবন
বাস্তবতা দেখে ঠেকে ঠেকে শিখুক
সত্যের পথে পরিবর্তিত হোক আজীবন।

শিশুর শিক্ষা হোক কর্মমুখর 
বাবু সংস্কৃতির উর্ধ্বে উঠুক পরিবারের অনুশীলন
শিশু স্বনির্ভর ভাবে গড়ে উঠুক
স্বার্থপরতা নয় পরার্থপরতা হোক তার মিশন।