২৩ এপ্রিল ২০২২

কবি শরিফুর রহমান এর কবিতা "জীবন - তরী"





জীবন-তরী 
শরিফুর রহমান


এ জীবন-তরী কত করেছে আপন
ভালোবাসা কত প্রেম উছল-যৌবন, 
একে একে শুষে নিলো উতল-মৌবন
বেলা শেষে ধোঁয়াশায় বিরহ যাপন।

নিয়তির ছেঁড়া পালে নাবিক আশায়
জীবনের তরীখানি সাগরে ভাসায়,
বিষাদের বায়ু তেড়ে অকুলে শাসায় 
তবু দূরে আশা-দ্বীপ তরীকে হাসায়।

বড় বড় ঢেউগুলো ভেঙে পরে বুকে
শত ঘায়ে তরী তবু ঢেউ দেয় রুখে,
ধীরে ধীরে পঁচে কাঠ; ফুটো গলে ঢুকে
জলে ভরে তরী; তবু চলে হাসি মুখে।

গোধূলির পানে সাঁঝ দু-হাত বাড়ায়,
তরীখানি ভেসে ভেসে অকূলে হারায়।

কবি নাছিমা মিশু এর কবিতা "কদমে কদমে"





কদমে কদম 
নাছিমা মিশু


কদমে কদম মিলিয়ে চল না
এই আমার সাথে 
থমকে কেন দাঁড়িয়ে গেলে 
পাতা ঝরা খোলা প্রান্তরে
কন্ঠ মিলাও না
এই আমার সাথে 
বলতে পারি দুরন্ত কোনো হাওয়া ভাসিয়ে নিবে না
তোমার কন্ঠ রোধে
হাতে রেখে হাত চল না বরফ জড়ানো পথে 
এই আমার সাথে 
জমে পাথর হবে না 
শৈল চূড়া রশ্মি ছোঁয়ায় তুমি সরব রবে
কথাদের দিয়ে দাও ছুটি 
আবেশ অনুভবে খানিকটা হৃদয় ছুঁয়ে দাও না
গহীন অতলান্ত গহীন বাঁকে 
তোমায় খুঁজে পাবে 
যতটা এগুনো ততটা পিছন ফিরো না
অসম বেসুরো এক রেখা অস্পষ্ট মুছা মুছা 
নয়ন গোচর হবে 
আমার অস্পৃশ্য সুধা, তোমার অস্পষ্টতা 
তোমায়  আনন্দ কুঞ্জ সুধা আহরিত ঝিরিঝিরি আবেশী করে তুলবে 
তোমাতে দুঃসাহসী মুগ্ধ হওয়া 
এ যেন চলতি পথের দমকা হাওয়া
এই আমারি তিয়াসী বাসনায় ঠোকাঠুকি করত
ভেসে ভেসে যাওয়া 
আরশি ধর না
এই আমার আড়াল হয়ে 
গহীন গভীর হৃদ ছায়ায় দেখতে পাবে 
যেথায় ছিলে সেথায় আছো
মধ্য কিছু সময় গেলো 
এমনি কিছু অজয়া সময় কখনো কখনো থমকে দাঁড়ায়
ধরিত্রী তারে আপন করে তুলে নেয় আপন গহ্বরে
অভিযোগ অভিমান বিহীন বিশুদ্ধতায় তোমায় নির্দোষ রাজা সাজিয়ে।

২২ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৫৯





উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৫৯
দিবসও রজনী আমি যেন কার..
মমতা রায় চৌধুরী
৪.৩.২২. সন্ধ্যে ৭.৩৯


আচ্ছা জ্বালাতনে পড়ল রেখা।' ভদ্রলোক এতো প্রশ্ন করছেন কেন? '
"ম্যাডাম বলুন না?"
"একটু-আধটু লেখালিখি করি।"
"Wow ,অসাধারণ ,কনগ্রাচুলেশন্স।"
ভদ্রলোক হাতটা বাড়িয়ে দিল হ্যান্ডসেক করবেন বলে।
রেখা দুই হাত জোড় করে নমস্কার জানালো।
"কোন পত্রিকায় বেরিয়েছে ম্যাডাম একটু বলুন না?"
"বেশ কয়েকটি জনপ্রিয় পত্রিকায় ।কোনটা বলব বলুন?'
"ভদ্রলোক বললেন আপনার কন্টাক্ট নাম্বারটা দিতে বললাম দেবেন না?"
"কি করবেন আপনি কন্টাক্ট নম্বর নিয়ে ।
যদি লেখা পড়তে চান তাহলে তো পত্রিকাগুলো ঘাটলেই পেয়ে যাবেন।"
"না ফোন নম্বরটা থাকলে অন্তত বলতে পারব সবাইকে যে এরকম একজন বিখ্যাত লেখিকার কন্টাক্ট নম্বর আমার কাছে আছে। নিজেকে খুব প্রাউড ফিল করব।'
রেখা আর কি করবে  "বাধ্য হয়ে কন্টাক্ট নম্বর টা দিলো।
ভদ্রলোক বললেন অসংখ্য ধন্যবাদ।"
দেখতে দেখতেই ট্রেন পালপাড়া ক্রস করলো।
এরমধ্যে  রেখার ফোন বেজে উঠলো।
রেখা একটু জানলা দিয়ে অন্যমনস্ক ভাবে তাকিয়ে ছিল। তখন ভদ্রলোক রেখাকে বললেন  "আপনার ফোন বাজছে।'
রেখার যে ফোন বাজার আওয়াজ কানে আসে নি তা নয় ,কেন যেন ফোনটা বার করলো না। এখনও যেহেতু বেজেই যাচ্ছে ,তাই বাধ্য হয়ে  ফোনটা বার করলো।
ভদ্রলোক তখনও বলে যাচ্ছেন 'বোধহয় আপনার বাড়ি থেকে ফোন এসেছে না?'
রেখা মনে মনে ভাবলো যে এরকম অকারণ কৌতুহল মোটেই পছন্দ নয় কিন্তু কিছু করার নেই ফোনটা বের করে দেখছে বড়দি ফোন করেছে।
"হ্যালো দিদি।"
"তুমি এখনো বাড়ি পৌঁছাও নি?"
"না দিদি।"
"বেশ অনেকটা রাত হয়ে গেল না।"
"তা তো হবেই।"
"তাহলে ওয়ার্কশপ কদিনের?"
"আজকেই শেষ দিদি।"
"কি বলছ? "বড়দি অবাক হয়ে বললেন।
"হ্যাঁ আজকের ওয়ার্কশপ আজকেই শেষ হলো আর এরপরেও আরো অন্য কিছু হলে, সেটা ওনারা জানিয়ে দেবেন।'
বড়দি বললেন "তাই বল?'
রেখা বলল"আমি আপনাকে ফোন করতাম বেরিয়ে কিন্তু দিদি এমনিতেই মানে ট্রেন পেতে খুব অসুবিধা হচ্ছিল এমন টাইমে ছেড়েছেন যার জন্য এসে ট্রেনে বসেছি তার পরে ভাবলাম থাক বাড়িতে পৌঁছে ফোন করবো।"
"ঠিক আছে। সেজন্য নয়। আমিও ফোন করলাম যে দেখি কালকের প্রোগ্রামগুলো কিরকম আছে না আছে জানার জন্য।'
*ঠিক আছে রেখা, কালকে যদি সেরকম হয় তুমি পরের ট্রেনটা তে এসো ।আজকে তো ফিরছ লেট করে।"
রেখা হেসে বলল" থ্যাংক ইউ দিদি।"এ জন্য "আপনাকে এত ভালোবাসি।'
"না ,না তোমাদের সুবিধা-অসুবিধা তো দেখতেই হবে বলো ?এই দেখো অনিন্দিতা যেতে পারল না অথচ ওর কথা ছিল তোমাকে বললাম তুমি রাজি হয়ে গেল তা তোমার এইটুকু সুবিধা করবো না?'
"ঠিক আছে ,তুমি সাবধানে ফিরো। রাখছি তাহলে?"
ফোন রাখতে না রাখতেই ভদ্রলোক বললেন "আপনার স্কুলের বড় দি ফোন করেছিলেন?'
"হ্যাঁ, মাথা নাড়িয়ে রেখা বলল।
"যেটুকু কথাবার্তায় বুঝলাম আপনার বড়দি তো বেশ ভালো।"
"হ্যাঁ তা ভালো।
এই কথা বলতে বলতেই কল্যাণী স্টেশন এসে গেল। রেখা ব্যাগপত্র নিয়ে উঠে দাঁড়ালো।
ভদ্রলোক বললেন' "আপনি কল্যাণীতে থাকেন?'
রেখা মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানালো।
ভদ্রলোক বললেন" নাইস টু মিট ইউ।
"খুব ভালো লাগলো।"
"আশা করি আবার দেখা হবে আপনার সাথে।"
রেখা বলল পৃথিবীটা অভিগত গোলক নিশ্চয়ই কোনোদিন কোথাও না কোথাও দেখা হবে। ভালো থাকবেন।"
ভদ্রলোক হা করে রেখার কথা শুনল আর বলল "হ্যাঁ আপনিও ভালো থাকবেন।'
রেখা আস্তে আস্তে সামনে এগিয়ে যেতে লাগলো ভদ্রলোক  উঠে রেখার চলে যাওয়ার পথের দিকে তাকিয়ে রইল। এক সময় ট্রেন স্টেশনে থামলো।
ভদ্রলোক রেখাকে হাত নেড়ে বিদায় জানালো। রেখা ভদ্রতাবশত নিজেও হাত নেড়ে বিদায় জানালো।
তারপর দ্রুতবেগে হেঁটে অটো স্ট্যান্ডে আসল। 
চেনা  অটোওয়ালা নিজে থেকে ডাকলো" দিদি, ও দিদি আসুন, আসুন।"
রেখার  নিজেকে খুব টায়ার্ড মনে হচ্ছিল।
বলল" হ্যাঁ ,চলো।'
অটো ওয়ালা বলল 'আজকে আপনার লেট হল।
একটু কাজ ছিল?"
"তাই বলি যে টাইমে ফেরেন কিছুক্ষণ আপনার জন্য ওয়েট করছিলাম দেখতে  না পেয়ে চলে গেলাম।'
এরমধ্যে অটোওয়ালা হাঁকতে লাগলো  "বুদ্ধপার্ক কল্যাণী বি ব্লক' বাঘের মোর, আসুন ,আসুন ।কে যাবেন?"
রেখা অটোতে বসেই চোখটা যেন বুজে আসছিল।
কখন যে অটোতে ঘুমিয়ে পড়েছে বুঝতেই 
পারেনি ।যখন অটো রেখার বাড়ির কাছে এসেছে তখন অটোওয়ালা বলল' ও দিদি এসে গেছেন নামুন'।
রেখার বুকটা কেঁপে উঠলো তারপর বলল" হ্যাঁ এইতো নামছি।" ব্যাগ থেকে হাতরে পার্স বের করে ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে , গেটটার কাছে 
আসলো । ঠিক তখনই মিলি আর মিলির বাচ্চারা জোরে চিৎকার করে উঠলো আর বাচ্চাগুলো কাছে এসে আদর করতে লাগল।
রেখা কিছুক্ষণ ওদেরকে আদর করলো আর বলল "অনেকক্ষণ তোদের দেখিনি তোরাও আমাকে দেখিস নি  বল ?খাবার খেয়েছিস তো?
আদর খেয়ে ওরা একটু শান্ত হল।
রেখা কলিং বেল বাজালো কিন্তু কেউ দরজা খুললো না । ভাল করে দেখল বাইরে থেকেই লক করা। রেখার কাছে একটা ডুপ্লিকেট চাবি ছিল সেই চাবিটা দিয়ে লক খুলল। তারপর ঢুকলো।
"কি ব্যাপার মনোজ কি ফেরেনি ব্যাগটা রাখতে রাখতে ড্রইংরুমে রেখা নানা কথা ভাবতে 
লাগলো ।তারপর দেখল না ,না মনোজের জিনিসপত্র রয়েছে ।তো ফিরে গেছে। তাহলে আবার কোথায় গেল?"
রেখা এবার ফোন করলো
"হ্যালো"
হ্যাঁ তুমি কোথায়?
"আমি এইতো পার্থদের বাড়ি।"
"ওখানে কি করছ?"
আরে সবাই তো স্কুলে যেতে ভয় পাচ্ছে । ওকে নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে। তাই পার্থ ডেকেছে।'
"ও আচ্ছা আচ্ছা।"
"ফিরলে?"
" হ্যাঁ এইতো ফিরলাম।
"ঠিক আছে তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও।"
রেখা বলল 'ঠিক আছে।"
রেখা ফ্রেশ হতে গেল। বাথরুমের সাওয়ারটা খুলে দিয়ে  মাথার সামনে ভিজিয়ে সারা গায়ে ভাল করে স্নান করে নিচ্ছে। আর বেশ গান গাইছে "দিবস রজনী আমি যেন কার, আশায় আশায় থাকি।…. চঞ্চল হয়ে ঘুরিয়ে বেড়াই, সদা মনে হয়
যদি দেখা পাই..।'
বাথরুমের শাওয়ারের কলটা এতটাই স্পিডে চলছে ,আর আপন-মনে গান গেয়েই যাচ্ছে ওদিকে মনোজ ডুপলিকেট চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভেতরে এসে বাথরুমের পাশে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রেখার গান শুনে যাচ্ছে মুগ্ধ হয়ে ।একসময় রেখার গান থামলো শাওয়ার কল টা বন্ধ করলো রেখা বলছে "বাপরে বাপ এই ক'দিনের মধ্যে এত গরম পড়ে গেল বলতে বলতে  টাওয়াল গায়ে দিয়ে বের হতে যাচ্ছে, ঠিক তখনই ভুত দেখার মত চমকে উঠলো।
"একি তুমি এখানে দাঁড়িয়ে কি করছো?'
'তোমার গান শুনছিলাম কতদিন পর বাথরুমে তুমি গান করলে।"
"বাববা যেন গান কখনো শোন নি ।বাথরুমের কাছে এসেই তোমাকে কান পেতে  গান শুনতে হচ্ছে ।'
"বলতে পারো সেরকমই।'
 "নাও হয়েছে ,হয়েছে ,চলো।"
রেখা ঘরে ঢুকে নাইটিটা পরে নিল। তারপর বলল "কি হয়েছে গো সোনাইয়ের।'
" আর ব'লো না সেই হারটা চুরি হয়ে যাবার পর থেকে  ওকে তো স্কুলে পাঠানো যাচ্ছে না।"
"  সে কি এখনো কি স্কুলে যায়নি? সেতো প্রথম প্রথম শুনেছিলাম যে স্কুলে যেতে চাইছে না ।'
"না গো ভেতরে একটা ভীতি কাজ করছে। যে ছেলে এত চনমনে এত কথা বলে ।না এখন আস্তে আস্তে একটু কমিয়ে দিয়েছে ।রেখা অবাক হয়ে বলল" কি বলছো তুমি?'
" হ্যাঁ আমি ঠিকই বলছি ।তাহলে তোকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। আর ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।'
" আমিও সেরকমই বলে আসলাম জানো ।"
এ বাবা এ তো ভারি চিন্তার ব্যাপার হলো' হ্যাঁ ওর মা-বাবা ও এখন খুব চিন্তিত আছে।"
তাই আমাকে ডেকেছিল কোন ডাক্তারের কাছে যাবে ?তা আমি বললাম একবার কাউন্সিলিং করানোর দরকার তা কোন ডাক্তারের কথা বললে আমি একবার সুরোকে ফোন করেছিলাম সুরো কে  ।তখন ফোন ধরতে পারেনি ।পরে রিং ব্যাক করেছিল ।'ও বলল খোঁজ নিয়ে ও 
জানাচ্ছে ।তারপর পুরো ডিটেলস এর ঠিকানা নিয়ে পার্থ দেরকে জানিয়ে দিতে হবে। যত তাড়াতাড়ি পারা যায় বাচ্চাটিকে সেখানে নিয়ে যেতে হবে  '
"একদমই তাই।'
" বাচ্চাদের দেখো কত রকম সমস্যা না?'
'আমাদের স্কুলের বড়দি ফোনে বলছিলেন অনিন্দিতার বাচ্চাটার সমস্যা ও কথা বলে না। সে তো এখন ওকে নিয়ে ভীষণ চিন্তিত। স্কুল থেকে ওকে তাড়িয়ে দেবে বলেছে ।'
"এ বাবা কি বলছো তুমি?
" হ্যাঁ গো অনিন্দিতা তো এতদিন শুধু বাচ্চার খাওয়া-দাওয়া এসবের দিকে নজর দিয়েছে বাচ্চার কথা বলার দিকে কোনো নজরই ছিলনা" এখন ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। দেখি ও বোধহয় কালকে স্কুলে গেলেই বুঝতে পারবো। আজকে বড়দি ফোন করেছিলেন কিন্তু আমি  ট্রেনে ছিলাম তো অপরদিকে আর ঘাঁটালাম না।"
"কি অবাক কান্ড দেখো?'
"ওদিকে তোমার নাতি নাতনীদের কান্ড শুনেছো?'
"ওরা আবার কী করল ওরা তো আমাদের ভাল বেবি।"
"সে তো ভালো বেবি বটেই। তাহলে আবার কি করেছ ওরা,?'
আজকে একটা মরা পাখি সেটাকে মুখে করে নিয়ে চলে এসেছে  গ্যারেজ রুমে। সেখানে এনে রেখে দিয়েছে আর কি দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আমি তো গেটে পা দিয়েই সেই গন্ধ শুঁকে শুঁকে সেখানে গেলাম।
' যেন কত ভাল গন্ধ'!
তুমি গন্ধ শুঁকে শুঁকে ওখানে গেলে 
না গো ?তাছাড়া কি করব? 
"বাজে বন্ধ হোক যাই হোক গন্ধ শুঁকেই তোমাকে সেই জায়গা ঠিক করতে হলো।  তারপর সেটা ফেললাম জানো?"
"তা বেশ করেছো।'
রেখা একটু হাই তুলল।
বলল" রাত্রে কি খাবে?'
মনোজ বললো" যা খাওয়াবে ।'
"আমার না রান্না করতে ভালো লাগছে না ।খুব টায়ার্ড লাগছে।"
মনোজ বলল" ঠিক আছে ওট স খেয়ে নেব ।"
"আমি একটু 5 মিনিট গড়িয়ে নিই বুঝলে?"
ভালো হয় রবীন্দ্র সংগীতে।
 চালিয়ে দাও তো? আমার ঘুম গুরুদেবের গানেই ভাল হয় এবং একটু রিলাক্স হয়।"
"ঠিক আছে চালিয়ে দিচ্ছি ।তুমি কি গান 
শুনবে ?
"দাও না। রবি ঠাকুরের গান কোনটা 
 খারাপ লাগে নাকি?"
"দিবসও রজনী আমি যেন কার আশায় আশায় থাকি..
চঞ্চল হয়ে ঘুরিয়ে বেড়াই , সদা মনে হয় যদি দেখা পাই….।"

কবি বিশ্বজিৎ মণ্ডল এর কবিতা "গোপন তরবারি"





গোপন তরবারি
বিশ্বজিৎ মণ্ডল

অদূরে পড়ে আছে বিষাদ মাখা ছুরি
হত্যা আঁকতে গিয়ে বার বার থেমে গেছে
অপ্রতুল বজ্রপাতে______

পড়ে আসা বিকেলে কনে দেখা আলোয়
মিশে যাওয়ার কথা ছিল যাচিত রক্তপাতে
অথচ ঘূর্ণির মত অনাহুত পোস্টকার্ডটা এসে
বলে গেল____ন হন্যতে..... 

ওখানেই যত বিপত্তি______
ছুরি ছেড়ে উড়ে গেলে হননের পিপাসা
থুবড়ে পড়ে থাকে,গোপন তরবারি...

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৯৬




ধারাবাহিক উপন্যাস 

শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৯৬)
শামীমা আহমেদ 



রাতের বেলা বন্ধ ঘরে ফুলের সুবাস আর মখমলী চাদরের কোমলতায় বিছানার কিনারায় শায়লা  নিজের অজান্তেই গভীর ঘুমে ডুবে আছে। বাইরের হাঁকডাক তার মাঝে কোন প্রভাব ফেলছে না। শিহাবকে পাওয়া না পাওয়ার উৎকন্ঠায় ক্রমশ তার মন একটু একটু করে ক্ষয়ে ক্ষয়ে সে নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। কল্পনায় শিহাবের স্পর্শ পাওয়ার প্রবল এক আকুতিভরা নিবেদনে নিজেকে বিলীন করা, আবেশের ঘোরলাগা এক মাদকতায়, কখন যেন  নিজের অজান্তেই গভীর ঘুমে সে অচেতন হয়ে আছে। ঘুমের অতলান্তে এক স্বপ্নরাজ্যে সে শিহাবের হাত ধরে এক বিশাল গোলাপ বাগানে হেঁটে চলেছে।গোলাপের আবেশিত ঘ্রাণে বারবার শিহাব যেন তার দিকে ঝুঁকে যাচ্ছে।  আলতো করে তার ঠোঁট শায়লার গাল ছুঁয়ে যাচ্ছে। দোল দেয়া বাতাসে শায়লার চুল এলোমেলো হয়ে উড়ছে । শিহাব অবাক দৃষ্টিতে তা দেখছে । শায়লার তাতে চোখ পড়তেই শিহাবের চোখের চাহনীতে  লজ্জায় বারবার সে কুঁকড়ে যাচ্ছে। শায়লা নিজেকে আড়াল করতে চারপাশে তাকালো, সে দেখলো  এক মোহনীয় পরিবেশে সে দাঁড়িয়ে আছে। আকাশে পাখিদের ওড়াওড়ি! কতইনা রঙবাহারের পাখি আর তাদের কিচিরমিচির ডাকে কানে যেন তালা লাগার উপক্রম হলো ! শায়লা দেখলো একটু দূরেই আপন গতিতে কলকল করে বয়ে চলেছে  জলধারা !  যেন তার ভীষণ তাড়া। শায়লা দেখলো খুবই স্বচ্ছ সেই জলের তলদেশে রঙিন মাছেদের জলকেলি ! একটু বামে তাকাতেই দেখতে পেলো এ জলধারার উৎসমুখ। পাহাড়ের গা ঘেষে  ঝর্ণার স্রোতধারা যেন ভূতলের অমোঘ টানে নেমে এসেছে।শায়লার মন ছুটে গেলো সেই পাহাড়ি ঝর্ণার কাছে ! ঝর্ণা জলে শিহাবের মুখটি যেন ভাসছে। মিষ্টি  হাসিতে শায়লাকে কাছে টানছে।সে অপার মুগ্ধতায় আছন্ন হয়ে গেলো! তার চোখেমুখে বিস্ময় খেলে গেলো! কি এক আকর্ষণে সে এক দৃষ্টিতে সেদিকেই তাকিয়ে রইল। পাশে দাঁড়ানো শিহাবের অস্তিত্ব টেরই পেলো না। সে  চারপাশের সব কিছু বেমালুম  ভুলে গেলো। তার ভীষণ  ইচ্ছে হলো শিহাবের কাছে ছুটে  যেতে। শিহাব যেন তার জল তৃষ্ণা নিবারনে কাছে ডাকছে।শায়লা  সেদিকে  এক পা এগুতেই শিহাবের হাতের টান অনুভব করলো।  শিহাব তাকে পিছনে টেনে নিতে চাইছে। শায়লা ভীষণ চমকে গেলো! তবে ঐ ঝর্ণাধারায় সে কাকে দেখলো!  সহসাই শিহাব শায়লাকে তার বুকের কাছে টেনে নিলো! তবে সে কিছুই বুঝতে  পারছে না।  এখানে সে কিভাবে এলো ! তবে শিহাব তার সাথে আছে এটাতে সে নিশ্চিত। সে বেশ শক্ত করেই শিহাবের বাম হাতটি ধরে রেখেছে। শায়লা স্পষ্টই শুনতে পেলো, শিহাবের কন্ঠস্বর। শায়লা তোমাকে আমি অনেক ভালোবাসি।তোমাকে আমি আর হারিউএ যেতে দেবো না। তোমাকে আমার করে পেয়েছি। পৃথিবীতে আমার সব চাওয়ার আজ প্রাপ্তি হলো।  জল ভরা চোখে 
শায়লা  শিহাবের বুকে মুখ লুকালো। শায়লা যেন এক সাগর গোলাপের সৌরভে ডুবে  গেলো। শিহাবের স্পর্শ তাকে কি এক অস্থিরতায় ভরিয়ে দিলো। শায়লা চোখ বন্ধ দীর্ঘ নিঃশ্বাসে তার ভেতরটা ভরিয়ে নিচ্ছিল ! কতটা ক্ষন যে সে এভাবে নিস্প্রাণ হয়ে ছিলো সে তা অনুভবই করেনি। হঠাৎই  কেমন যেন একটা ভারহীন  অনুভবে শায়লা  চোখ মেলতেই দেখতে পেলো তার সামনে শিহাব নেই।চারদিকের এত সুন্দর পরিবেশটা নিমিষেই কালো অন্ধকারে ঢেকে গেছে। বাতাসের দাপাদাপিতে গাছপালার অবাধ্য চলাচল। পাখিদের কলকাকলি থেমে গেছে।ঝর্ণাধারা অলস ধারায় বয়ে চলছে। প্রচন্ড এক ঘূর্ণি বাতাসে গোলাপ বাগানটা তছনছ হয়ে গেলো। গোলাপ পাপড়িগুলো ছড়িয়ে পড়ছে মাটিতে। মূহুর্তেই শায়লার পৃথিবীটা উলোটপালোট হয়ে গেলো! এমন অবস্থায় শায়লা ভীষণ ভীত  হয়ে পড়লো । সে কেবল শিহাবকেই খুজে চলেছে। এইতো একটু  আগেই শিহাব এখানে ছিল! এখন সে কোথায় গেলো! শায়লা  উদ্ভ্রান্তের মত শিহাবকে খুঁজেতে লাগলো। এক্টা কালো আঁধারের চাদর যেন শিহাবকে গ্রাস করে নিলো।  বাতাসের তান্ডবে তার পরনের, শাড়ি এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। চুলগুলো  দিকবিদিকে উড়ছে। সে কিছুতেই  তা সামাল দিতে পারছে না। পায়ের নিচে গোলাপের কাঁটা বিঁধছে। সে কেবল বলেই চলেছে,,  শিহাব  আমাকে একা ফেলে তুমি কোথাও যেও না। আমি তোমাকে ছাড়া  বাঁচবো না। কিন্তু জনমানবহীন এই প্রান্তরে  কোন উত্তর ফিরে এলো না। শিহাব তুমি সাড়া দাও,এমনি আকুতিতে সে বারবার বলেই যাচ্ছে। শায়লা শিহাবকে দেখতে না  এবার কেঁদেই দিলো। ঝড়ো বাতাসের সাথে এবার আকাশের গগনবিদারী শব্দে শায়লা অতীষ্ঠ হয়ে গেলো। সে দিশাহীন হয়ে গেলো। সে থরথর করে কাঁপতে লাগলো। হঠাৎ দবকিছু কেমন যেন অদৃশ্য হয়ে গেলো। 
আচমকা  চোখ মেলতেই সে নিজেকে আলো আঁধারের মিশেলের  অচেনা এক পরিবেশে আবিস্কার করলো। তারপর চারপাশে তাকাতেই সে নিজেকে নিজের ঘরেই  দেখতে পেলো। যদিও টেবিল ল্যাম্পের আলোর স্বল্পতায় নিজের ঘরটা প্রথমে  অচেনাই  লাগছিলো। চারপাশে  তাকিয়ে বুঝতে পারলো সে তার বিছানায় শুয়ে আছে। তার হাত পা শরীর  অবসন্ন হয়ে বিছানায় লুটিয়ে আছে। সে  কিছুতেই নিজের শরীর নিজে টেনে  তুলতে পারছিল না। শায়লা এবার বেশ বুঝতে পারলো সে স্বপ্নে শিহাবের  মাঝে  হারিয়ে গিয়েছিল। পরক্ষণেই  তার গোলাপ বাগানের দৃশ্য  আর শিহাবের স্পর্শের ক্ষণটি তাকে চেতনায় এনে দিলো। সে খেয়াল করলো তার দরজায় মুহুর্মুহু বেশ জোরে  জোরে শব্দ হচ্ছে। ওপাশ থেকে কে যেন,  শায়লা আপু, শায়লা আপু করে ডেকে যাচ্ছে । কান পাততেই শায়লা কন্ঠস্বরটি চিনতে পারলো। বুবলী ! হ্যাঁ,বুবলীই তো! সে এক ঝটকায়  শোয়া থেকে উঠে বসলো। বুবলী বলেই চলেছে, শায়লা আপু শিহাব ভাইয়া এসেছে।তুমি দরজা খোল।দেখো,কে এসেছে ! আমাদের বাসায় শিহাব  ভাইয়া এসেছে।তুমি বেরিয়ে আসো।
শায়লা  খুব করে কান পেতে কথাগুলো  শুনলো। সে কি সঠিক  শুনছে না ঘুমের ঘোরে আবার স্বপ্ন দেখছে ! কিন্তু বুবলী ক্রমাগত  একই কথা বলে চলেছে। এবার শায়লা  তার মায়ের কন্ঠস্বর শুনতে পেলো।মা শায়লা, দরজা খোল মা। মায়ের কান্না গলায় ভীতির প্রকাশ! সাথে রাহাতের ডাকাডাকি  চলছেই,শায়লা আপু আমাকে ক্ষমা করে দাও। আমার ভুল হয়ে ছিল।এই যে দেখো,শিহাব ভাইয়াকে  নিয়ে এসেছি। তুমি মোবাইল ধরে দেখো,আমি কল দিচ্ছি। শায়লা এবার নিজের মোবাইল খুঁজতে লাগলো।মোবাইল  বালিশের নিচে আড়াল হয়ে ছিলো। সে মোবাইলের আলো দেখে স্ক্রীনে চোখ রাখতেই দেখতে পেলো  রাহাতের বিশটা মিসড কল! এবার শায়লা  বুঝতে পারলো, সে কতটা গভীর ঘুমে চলে গিয়েছিল।  দরজার বাইরে ডাকাডাকির কন্ঠস্বর বেড়েই চলেছে। রাহাত বলেই চলেছে আপু, শিহাব ভাইয়া এসেছে। দরজা খোল।শায়লা এবার তড়িঘড়ি করে বিছানা  ছাড়লো। দরজা খুলতেই সে দেখতে পেলো, বাসার সবাই তার দরজায় দাঁড়ানো।শায়লা ভীষণ লজ্জা পেলো। বুবুলী শায়লাকে  জড়িয়ে ধরলো।সে কান্নায় ভেঙে পড়লো।শায়লা আপু,তুমি কেন দরজা খুলছিলে না।
শায়লা তার মাথায় হাত বুলিয়ে  শান্ত করলো। এবার বুবলী মুখতুলে বললো, শিহাব ভাইয়া এসেছে। বাসার মেইন গেটে দাঁড়িয়ে আছে।শায়লা অস্টম আশ্চর্য চোখে রাহাতের দিকে তাকালো ! রাহাত চোখ বন্ধ করে বুবলীর কথায় সম্মতি জানিয়ে খবরটির সত্যতা জানান দিলো। বুবলী শায়লার থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে চোখেমুখে একরাশ হাসির ঝিলিক নিয়ে চারদিকের বাচ্চাদের বললো, এই সব বাচ্চারা তোমরা বাসার গেটে  যাও। নতুন বর এসেছে। সবাই গেট আটকাও। আমরা এত সহজে আপুকে নিতে দিবো না। সব বাচ্চারা হুরমুর করে নিচে নেমে গেলো। রাহাতও খুব দ্রুত নিচে  নেমে গেলো। বাসার ভেতরের চেঁচামেচিতে সে শিহাবকে গেটে দাঁড় করিয়ে রেখে উপরে ছুটে এসেছিলো। 
শিহাব বেশ অনেকক্ষন হলো বাসার মেইন গেটের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে। উপরে চিৎকার চেঁচামেচি শুনে রাহাত ছুটে গেছে। শায়লার মায়ের কিছু হলো  কিনা  না শায়লা  তার প্রতি অভিমানে কোন অঘটন  করলো কিনা ? শিহাবের ভীষণ টেনশন হচ্ছিল। তার ভুলের জন্যই আজ ওদের সাথে যোগাযোগটা ঠিকমত হয়নি। তাহলে কত আগেই সে চলে আসতে পারতো।  শিহাবেরও  উপরে ছুটে যেতে ইচ্ছে করচ্ছিল। কিন্তু কেমন করে সে এত রাতে অচেনা একটা বাসায় ঢুকবে। সে রাহাতের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। সে একমনে বিয়ে বাড়ির লাইটিং দেখতে লাগলো। সাজানো বিয়ের গেটটিতে তার দৃষ্টি থামল। গেটটি দেখে  শিহাব মনে মনে একটু হাসল। তারই জন্য এমন সাজানো গেট অপেক্ষা করছে সেতো ঘুণাক্ষরেও তা জানতো না। বিধাতার বেঁধে রাখা চমকে আমরা কতটাই না অবাক হই! এই সময়টায়  শায়লাকে এক নজর দেখার জন্য তার মনটা  ভীষণ উদগ্রীব হয়ে আছে। শায়লাকে কাছে পেলে তার সব ভুলের জন্য আগেই ক্ষমা চেয়ে নিবে। শিহাব  কায়মনোবাক্যে সৃষ্টিকর্তার কাছে নিবেদিত মনে বলেই যাচ্ছে,শায়লা যেন তাকে ভুল বুঝে কোন  ভূল সিদ্ধান্ত  না নেয়। শায়লার ভালোবাসার কাছে শিহাব বারবারই হার মেনেছে। কিন্তু সে শায়লাকে কখনোই ভালোমত বুঝাতে পারেনি শায়লার জন্য তার মনটা কতটা আবেগে ডুবে থাকে। ভাগ্য শায়লাকে  দূরে নিতে চেয়েও আজ আবার কাছে এনেছে। আজ যেন কোন অঘটনে শায়লাকে আবার হারাতে না হয়। চারপাশে মধ্যরাঙেতের শুনশান নীরবতা। শিহাব বাইকে পাশ ফিরে বসে নানান ভাবনার ডালপালা ছড়িয়ে শায়লাকে পাওয়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে। রাহাত কখন নিচে ফিরবে। তাদের পরিবারের একটা মতামত জানাবে।শিহাব নিজেকে আবার সামলে নিয়ে ধৈর্য্য ধরলো।এতটা কাছে যখন এসেছে নিশ্চয়ই বিধাতা তাকে ফেরাবেন না। আবার অপর পৃষ্ঠে এটাও ভাবছে,মানুষের তো তীরে এসেও তরী ডুবে।অনেকে সময়ের অবহেলায়ায় গন্তব্যের ট্রেন মিস করে।শিহাব  জানে না তার ভাগ্যে কোনটা লেখা ! হঠাৎই এত রাতের নীরবতা ভেঙে একঝাঁক শিশুর হৈচৈ শুনে শিহাব পিছন ফিরে তাকাতেই দেখতে পেলো, নানান বয়সী শিশু, কিশোর ছেলেমেয়েরা বাড়ির মেইন গেটে যেন মানব বন্ধন করে দাঁড়িয়ে আছে। শিহাব কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না। এরই মাঝ দিয়ে রাহাত বাসার বাইরে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। সবচেয়ে বড় কিশোরী মেয়েটি বলে উঠলো না না রাহাত ভাইয়া তুমি বাইরে যেতে পারবে না। তুমিতো আমাদের দলে। তুমি কেন বাইরে যাবে ? আমরা শায়লা আপুর বরকে এমনিতে বাসায় ঢুকতে দেবো না।আমরা গেট ধরেছি।
আমাদের টাকা দিয়ে তবেই দুলাভাইকে ঢুকতে দেবো।এমনিতেই অনেক দেরি করে এসেছে। তার জন্যও ফাইন হবে।এবার একজন কিশোর ছেলে বলে উঠলো,  হ্যা হ্যা, সব মিলিয়ে অনেক টাকা দিতে হবে। তার কথায় সবাই হ্যা হ্যা করে উঠলো!  বুঝা গেলো, এই দুইজন হচভহে এই বাহিনীর লিডার।তারা যা বলছে এরা তাতে শায় দিচ্ছে। শিহাব মনে মনে হাসলেও বাইরে সে ভাবলেশহীন ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। রাহাত বাইরে গিয়ে শিহাবকে এর থেকে উদ্ধারের চেষ্টা করতে চাইছে। কিছুতেই শিশুদের লিডারের সম্মতি মিলছে না। তখন রাহাত বুঝাতে চাইলো,দেখো শিশুরা, ওপাধে শিহাব ভসিয়া একা, তার দলে কেউ নেই,কিন্তু উনিই আমাদের আজকের সবচেয়ে বড় মেহমান। তাকে তো এভাবে বাইরে দাঁড় করিয়ে রাখা যায় না। আমি তারদিকে গিয়ে বুঝিয়ে তোমাদের ডিমান্ড আদায় করে দিচ্ছি। 
রাহাত ভাইয়া তুমি কিন্তু আমাদের ঠকাবে না, তাহলে তোমাকেও আটকে দিবো। আমাদের শায়লা আপুকে  নিয়ে যেতে দিবো না। রাহাত তাদের আশ্বস্ত করে বাইরে শিহাবের কাছে চলে এলো। শিহাব বুঝতে পারলো এদের থেকে সহনেই নিস্তার  মিলবে না। রাহাতের সাথে দৃষ্টি বিনিময় করে পকেটে হাত দিলো। শিশুদের চাহিদা মত কিশোরী লিডারের কাছে নোট গুলো  গুঁজে দিলো। তারা বেশ সূক্ষভাবে নোট পরখ করে নিলো। তাদের চাহিদা মত আদায়ে সবাই তাদের বন্ধন ভেঙে শিহাবের ভেতরে যাওয়ার অনুমতি মিললো। রাহাত শিহাবেত বাইক বাসার ভেতরে পার্ক করে রাখলো। শিশুরা  টাকা পেয়ে হৈ হৈ করে উপরে উঠে  গেলো। রাহাত শিহাবকে নিয়ে সিড়ির দিকে আগাতেই সিঁডিতে বুবলী এক গোছা রজনীগন্ধা নিয়ে শিহাবকে উপরে যেতে আমন্ত্রণ  জানালো। শিহাব সলজ্জ চাহনিতে  ফুল গ্রহণ  করে সিঁড়িতে  প্রথম ধাপটি ফেললো।


চলবে...

কবি মালা মুখোপাধ্যায় এর কবিতা "শুধু একবার বলো, এবার এসো"





শুধু একবার বলো, এবার এসো
মালা মুখোপাধ্যায় 



খুব কম কিছু নয় আমার বয়স দেখতে দেখতে আশি পার , তোমরা এখনও মায়ায় বেঁধে রেখেছো, এবার আমাকে যেতে দাও, তোমরা সকলে একসঙ্গে বলো, শুধু একবার বলো, এবার এসো। 

আমার এখন আর সূর্যের আলো দেখার তাড়া নেই
সকাল হলে মাঠে মাঠে ঘুরে ঘুরে সবুজ মাঠ দেখারও তাড়া নেই।

অসাড় হয়ে বিছানায় , দুই দুনিয়ার মাঝে বসে আছি মাঝির অপেক্ষায়।

চোখ বুঁজেও দেখতে পাই বড় থালার মতো লাল টুকটুকে পুবের আকাশে রবি
আবার জোৎস্না রাতে তোমার রূপের ছটা শশীর গায়ে।

আজ আমার অফিস যাওয়ার কোনো তাড়া নেই।
দুটো ভাত মুখে দিয়ে বাসের অপেক্ষারও তাড়া নেই।

তাড়াহীন জীবন
অচল জীবন
তেজহীন জীবন
এই পৃথিবীতে "কে কার"
বুঝতে শেখা জীবন
এসেছি একা যাবো একা
অনুভবে জীবন
বেঁচে মরে থাকা জীবন
হোক অবসান।

নেমে আসুক শান্তি
শুধু সকলে বলো, 
একবার বলো, এবার এসো।

কবি সালমা খান  এর কবিতা "ত্রিমাত্রিক নদী"





ত্রিমাত্রিক নদী
সালমা খান 

আমাকে পাহাড় সমান ভালোবাসবে বলে 
তুমি সাগর ছেড়ে ময়ূরাক্ষী নদী হয়ে কেনই বা এলে এই লিমুইছড়ির গভীর অরণ্যে। 
প্রকৃতির আঁধারে নিজেকে বিলিন করে সুখ খুঁজে নিতে চাও ? 
পাখির ভেজা পালকে আমার গায়ে তোমার জলের ছাপ ,
কিচিরমিচির শব্দে কি যেনো বলতে চায় ,
আমি পাখির ভাষা বুঝিনা হয়ত হবে, তোমার আমার ভালোবাসার গোপন কথা। 
পাহাড়ের পাদদেশে পাথর নূড়ির ঘর্ষণ জেনেও কেনো আমার অঙ্গ ধুয়ে দাও ?
আমার বুকের মাটি নিয়ে তোমার বুক ভরাট করো পলিমাটিতে। 
শুষ্ক হাওয়ায় বালুচরে ঢেকে রাখো তোমার অর্ধেক নদীর শরীর।
ঘোর বর্ষায় হারিয়ে ফেলো সঠিক পথের স্মৃতি চিহ্ন। 
তুমি অবিরাম ছুটে চলো দিকবিদিক সুখের অন্বেষণে। 
আমাকে ভালোবেসে নয় , তোমার হীম শীতল জলের পরশে আমাকেই করো ক্ষয়,
আমিও অবিচল খাঁটি বিশ্বাস নিয়ে এক পায়ে ঠাঁই দাঁড়িয়ে থাকি ,
নির্বিকার হয়ে অরণ্যের বোঝা মাথায় চেপে পথের পথিক হয়ে আসবে ফিরে আমার দিকে ছুটে। 
তোমার জলে পা ডুবিয়ে আকাশ ছুয়ে দেখি,
তোমার ছায়া পড়ে নীল জলের আয়নার মায়ামোহে ,
তোমার ত্রিমাত্রিক প্রেম সমস্ত নীল চুরি করে নেয় মেঘনীলে। 
আর আমার চখের গভীরে ভাসে তোমার ছোট ছোট ডিঙি নৌকা অথৈ জলে ।

২১ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১৫৮




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১৫৮
ওয়ার্কশপ ও ভদ্রলোক
মমতা রায়চৌধুরী



বাপরে বাপ আজ কালীনারায়নপুরের আগে এসে ট্রেনটা এতটাই লেট খাইয়ে দিল। যার ফলে কৃষ্ণনগর স্টেশনে পৌঁছে রেখা ছুটতে শুরু করল অটো ধরার জন্য ।ওয়ার্কশপের টাইম ছিল সাড়ে দশটা । স্টেশনেই10:30 রেখা অটোতে গিয়ে বসলো ।অটোওয়ালাকে তাড়া দিতে লাগল' দাদা একটু তাড়াতাড়ি চলুন না ।'
অটোওয়ালা বিরক্ত হয়ে বলল" এই আপনাদের দোষ দিদি। সারা দুনিয়ায় লেট হলে কিছু বলবেন না ।ট্রেন তো লেট ছিল ট্রেনের ড্রাইভারকে কিছু বলেছেন? বা ব্যাংকে গিয়ে লেট হয় ,ব্যাংকে গিয়ে তাড়া দেন ?হসপিটালে গিয়ে লেট হলে তাড়া
 দেন ?যত তাড়া আপনাদের আমাদের গাড়িতে উঠলে।
রেখা দেখল কথাগুলো বেঠিক কিছু বলছে না। তবুও বললো 'এমনি ,এমনি কি আর তাড়া দিচ্ছি বলুন ?ট্রেন লেট ছিল বলেই তো ,আমার ওয়ার্কশপে পৌঁছাতে লেট হয়ে যাবে,
 দাদা ।সেজন্যই।'
অটওয়ালা বলল 'তাহলে অন্য অটোতে যান।'
লেখা মনে মনে ভাবল কি চ্যাটাং চ্যাটাং কথা রে বাবা।
রেখা বললো ' দেখুন আপনার সঙ্গে আমি তর্কে যেতে চাইনা ।আপনি যেতে পারবেন না ব্যস ,এত কথা বলেন কেন ?তাছাড়া আপনি তাহলে লিখিত দিন যে আপনি অটো চালাবেন না ।আমি অন্য অটোতে গিয়ে বসি।'
অটোওইয়ালা এবার চুপ করে গেল । এবার একটু নরম সুরে বলল' আসলে দিদি আমি তো কয়েকজন প্যাসেঞ্জার নেব?'
'ঠিক আছে ,এই কথাটা তো আপনি ভাল ভাবে বলতে পারতেন ।এতগুলো অকারণ  বাজে কথা।'
মেজাজটা বিগড়ে গেল রেখার । কিন্তু কিছু করার নেই ,বসেই থাকতে হবে।
অন্য অটোতে গেলেও একই হাল  হবে আর তাছাড়া এদের তো আবার লাইন আছে।
কি করবে আর রেখা চুপ করে বসে রইল। লেট এমনিতে হয়েই গেছে ,যা হবে ,হবে।
অটোওয়ালা হাঁক তে লাগলো' ডন বক্স স্কুল,কলেজস্ট্রিট , নেদেরপাড়া , বেজি খালি…।'
আস্তে আস্তে প্যাসেঞ্জার হতে লাগলো এবার অটোওয়ালা গাড়ি স্টার্ট করল।
রেখা দুর্গানাম জপতে লাগলো ।
ডন বক্স স্কুল এর কাছে না এসে অটো বেশ খানিকটা দুরে দাঁড় করিয়ে দিল। বলল 'দিদি নেমে যান।'
রেখা বললl' আর যাবেন না?'
"না আর যাবে না?"
অটওয়ালা যেভাবে কথাটা বলল রেখার আর কথা বাড়াতে ইচ্ছে করলো না।
রেখা ভাড়া মিটিয়ে দিয়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলো। বুকটা কেমন ঢিপ ঢিপ ঢিপ  করতে লাগলো।
"তার কি একাই লেট হল?' রুমে ঢুকতে 
 লজ্জা করছে।
রেখা মনে মনে সাহস আনলো। লজ্জার কি আছে ট্রেন লেট থাকলে রেখার তাতে দোষ কী।
আবার পরক্ষণেই ভাবছে লাস্ট একটা সেমিনারে একজন লেট করে ঢুকছিলেন বলে অনেক কথা শুনিয়েছিলেন আর  পি।
সে কথাটা মনে হতেই ভেতরে ভেতরে আবারো প্যালপিটিশন শুরু হয়ে গেল।
রিসেপশনরুমে ঢুকেই স্কুলের নাম নিজের নাম এন্ট্রি  করল।
তারপর জিজ্ঞেস করল কত নম্বর রুমে ওয়ার্কশপ শুরু হয়েছে?
একজন বললেন দোতালায় 10 নম্বর রুম।
তারমধ্যে দেখা গেল আরও কয়েকজন তারাও ভুলে 10 নম্বর রুমে?
রেখা এবার মনে মনে একটু সাহস পেল তার একার লেট হয়নি।
এবার যেন তেজোদীপ্ত ভঙ্গিতে সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগলো।
10 নম্বর রুমে কাছে গিয়ে বলল'আসবো?'
একজন তাকিয়ে হেসে বললেন 'আসুন।'
রেখা নিজের জায়গা বেছে নিয়ে বসলো।
এখনো শুরু হয়নি ভেবে রেখা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রুমাল বের করে ঘাম মুছতে লাগলো ।
অন্য কয়েকজন জিজ্ঞেস করলেন আসবো ?
ভদ্রলোক আবার হেসে বললেন 'আসুন ,আসুন।'
এবার ভদ্রলোকের দিকে তাকালেন এভাবে বলছেন । রেখাতাকিয়ে দেখছে তার চেনা পরিচিত পাশের স্কুলের মাস্টার মশাই ওই জন্য এরকম হাসছেন।
রেখানএবার খুশি হল।
ওয়ার্কশপটা ছিল কোভিদ সিচুয়েশনে স্কুল ছুটের সংখ্যা বেড়েছে তাদেরকে আবার কিভাবে স্কুলমুখী করা যায়। সে প্রসঙ্গে আলোচনা।
প্রথমে  গ্রুপ ঠিক করে দেয়া হল ।প্রতি গ্রুপে 5 জন 6 জন করে টিচার থাকবে।সেই গ্রুপ থেকে উক্ত বিষয়ের উপর একটা কাল্পনিক সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করতে বলা হলো।তারপর সেই বিষয়গুলো নিয়ে পর্যালোচনা। সমস্যা ,সমাধান সিদ্ধান্ত এই তিনটি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দেয়া হলো।
প্রতি গ্রুপে নিজের নিজের গ্রুপ লিডার ঠিক করে নিল। সার্ভে রিপোর্ট করার পর একটা প্রতিবেদন তৈরি করতে বলা হলো।
আর সার্ভে রিপোর্ট করার পর টিফিন আওয়ার্স একটু বিরতি দেয়া হলো।
প্রত্যেকে মধ্যাহ্নভোজন পর্ব শেষ করে প্রতিবেদন সাবমিট করার কথা বলা হলো ।প্রতিবেদন সাবমিট করা হলে , সর্বপর্যায়ে একটা সিদ্ধান্তে আসা হলো ।এই সিদ্ধান্তের ওপর বেস করে নিজে নিজে স্কুলের ক্ষেত্রে সার্ভে রিপোর্ট তৈরি করা ,কতগুলো ছাত্র বা ছাত্রী স্কুলছুট হয়েছে ,তাদের একটা লিস্ট তৈরি করা ।দরকার হলে তাদের বাড়ীতে যাওয়া ,বাড়িতে গিয়ে গার্জেন কে বোঝানো ,স্টুডেন্টকে বোঝানো যে করেই হোক তাদের মোল্ড করে স্কুলে আনা।
এবং কতজন স্টুডেন্ট স্কুলে আনা যাচ্ছে, কতজন যাচ্ছে না ,সে বিষয়ে এস আই অফিসে সার্ভে রিপোর্ট পাঠানো।'
বিষয়টি বেশ গুরুত্বপূর্ণ।
সব কিছু মিটতে মিটতে সাড়ে পাঁচটা বেজে গেল এদিকে ছটাতে ট্রেন আছে।
রেখা জিজ্ঞেস করল "ওয়ার্ক শপ কদিনের জন্য?'
" আজকের যে বিষয়টা ওপর ওয়ার্কশপ ছিল, তা আজকেই শেষ হয়ে গেল ।নেক্সট আবার ওয়ার্কশপ আছে ।সেটা প্রতি স্কুলকে জানিয়ে দেয়া হবে ।সেটা অন্য বিষয়ের উপর হবে।'
রেখা বলল ok
রেখার একটু সাহস করে বলল' এবার কী আমরা যেতে পারি ?আসলে আমাদের ট্রেন আছে তো (ঘড়ির দিকে তাকিয়ে।)
'হ্যাঁ ,হ্যাঁ আসুন আসুন ।ট্রেন মিস করলে অনেকটা সময় পর ট্রেন আছে ।আপনাদের সকলকে অসংখ্য ধন্যবাদ ।আজকের ওয়ার্কশপে অ্যাটেন্ড করার জন্য।"
প্রত্যেকে এবার বেরিয়ে যাবার উপক্রম করলে উনি (আর পি)আর একবার বললেন 'শুনুন ,শুনুন আপনাদের জন্য একটা সার্টিফিকেট থাকবে, সেটা জানিয়ে দেয়া হবে কবে দেয়া হবে। আমরা স্কুলেও পাঠিয়ে দিতে পারি ।না হলে এই স্কুলে থাকবে ।আপনারা এসে কালেক্ট করে নেবেন।"
রেখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল ওরে বাপরে অলরেডি 5:35 বেজে গেছে তাড়াতাড়ি সিঁড়ি দিয়ে নামতে লাগলো।
তার মধ্যে একজন ভদ্রলোক জিজ্ঞেস করলেন "আপনি ট্রেন ধরবেন?"
রেখা বলল ' হ্যাঁ'
ভদ্রলোক বললেন"ট্রেন ধরবো তো ,দেখুন ,এখন  সঙ্গে সঙ্গে সব জিনিস খেলে তবে তো ট্রেনটা পাবো ,না হলে মিস করলেই বুঝতে পারছেন?'
রেখা মনে মনে ভাবল বুঝতে পারছেনা তারপর বলল" হ্যাঁ ঠিকই বলেছেন।'
ভদ্রলোক বললেন "ভালোই হলো দুজনে একসঙ্গে তাহলে অটো ধরতে সুবিধা হবে  ওরা তো আবার প্যাসেঞ্জার ছাড়া যেতে চায়না।"
রেখা বললো" ঠিকই। চলুন ,চলুন।"
গেটের কাছে আসতে দেখল একটা অটো দাঁড়িয়ে আছে অটো ওয়ালা কে বলল" স্টেশনে যাবেন?'
"হ্যাঁ যাবো ।"
রেখা ভালো করে অটোতে উঠতে উঠতে তাকিয়ে দেখল আয়নায় অটো ওয়ালার মুখ দেখা 
যাচ্ছে ।' এ তো যে অটোতে এসেছিল,সেই অটোওয়ালা। আর মনে মনে ভাবল এ কি আবার ভোগাবে নাকি?'
এরই মধ্যে ওই ভদ্রলোক বললেন' আপনি চলুন দাঁড়িয়ে রইলেন কেন?'
'কয়েকজন দেখি?''
'মানে আমরা ট্রেন পাব না বুঝতে পারছেন?
'আপনারা ট্রেনের একদম মুখোমুখি টাইমে আসবে আর বলবেন ট্রেন পাবেন না ।সে দায়িত্ব আমার নয়।"
রেখা এবার মুখ খুলে বলল 'আজকে জানেন দাদা আসার সময় উনার অটোতে এসেছি ,এই একই রকম কথাবার্তা।'
ভদ্রলোক বললেন 'আপনি মানুষের সুবিধার জন্য রয়েছেন তো , অসুবিধা হলে আপনার অটোতে লোকে যাবে কেন বলুন তো?'
"তাহলে নেমে যান।'
রেখা বললো 'দেখলেন কি মেজাজ !এদের 
দাদা ।চলুন ট্রেন পাব ,না,পাব, তবু এর অটোতে যাব না ।চলুন তো নেমে যাই।'
ঠিক বলেছেন' চলুন দেখি টোটো তে যাব।'
এরই মধ্যে এক টোটোওয়ালা হাঁকছে' স্টেশন স্টেশন ,ট্রেন ধরাবে দ্রুত।"
রেখা নামতে যাচ্ছে তখন অটোআলা বলল নরম সুরে 'আমি তো এক্ষুনি ছাড়বো।'
"তখন থেকে আমরা বলছি ছাড়ুন আপনি তো ছাড়ছেন না।"
এবার অটোওয়ালা স্টার্ট দিল তখন রেখা ঈশারায় ভদ্রলোককে বললেন "চলুন।'
এবার অটোআলা খুব দ্রুত ছোটালো এবং দেখা গেল যে ঠিক ট্রেন ঢোকার 5 মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছে গেল।
রেখা আর ভদ্রলোক ভাড়া মিটিয়ে দ্রুত হাঁটতে শুরু করল ।ঠিক তখনই অটোওয়ালা বলল "ট্রেনটা তাহলে ধরালাম তো দাদা ,দিদি?'
রেখা আর ভদ্রলোক পিছন ফিরে তাকালো না।
রেখা ভদ্রলোককে বলল 'দেখলেন এদের মেজাজ কত?'
ভদ্রলোক বললেন' যা বলেছেন। এদের মেজাজ লাটসাহেবকেও হার মানায়  ।দুজন হো ,হো ,হো ,করে হাসতে লাগলেন।'
ভদ্রলোক বললেন' ওই দেখুন দু'নম্বরে খবর হয়েছে। দ্রুত পা চালান।'
রেখা বললো' ও বাবা'।
ভদ্রলোক বললেন আপনি কি লেডিসে  উঠবেন?'
রেখা বলে "আমি তো লেডিসেই …
রেখার কথা সম্পূর্ণ না হতেই ভদ্রলোক বলেন "প্রতিদিন লেডিসে  ওঠেন ঠিক আছে,আজকে না হয় জেনারেল কম্পার্টমেন্টে উঠলেন গল্প করতে করতে যাব।
রেখা মনে মনে ভাবল তা অবশ্য ঠিক কারণ ডেলি প্যাসেঞ্জার যারা আছে প্রত্যেকে তো সাড়ে 4 টার ট্রেনে চলে গেছে একাই যেতে হবে।
রেখা একটু নিজের ওয়েট বাড়ালো তারপর বলল "আসলে আমি বরাবর লেডিসের উঠে অভ্যস্ত তো তাই কেমন একটু অস্বস্তি হয়। অন্য কম্পার্টমেন্টে  উঠতে।'
ভদ্রলোক আবার জিজ্ঞেস করলেন' চলুন না'।
রেখা আর কথা না বাড়িয়ে বগির কাছে আসতেই ভদ্রলোক বললেন ', আসুন, আসুন বলতে গেলে হাত ধরে টেনে তুললেন।'
কেমন একটু ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো
 রেখা ।তারপর নিজেকে সামলে নিয়ে উঠে পড়ল না উঠে উপায়ও ছিল না ।এমন জোরে হাত টেনে তুললেন ।এদিকে ট্রেন ছেড়ে দেবার হুইসেল বাজিয়ে দিলো।
ভদ্রলোক জায়গা পেয়ে রেখাকে জায়গা দিলেন এবং নিজেও জায়গাটা নিলেন।
"আপনি জানলার ধারে টা পছন্দ করেন 
তো "ভদ্রলোক বললেন।
রেখা অবাক হয়ে বলল" আপনি কি করে জানলেন?"
ভদ্র লোক হেসে বললেন' এগুলো তো জানা কথাই মেয়েরা স্বাভাবিকভাবে জানলার কাছে বসতে চায় ।পুরুষরা যে জানালার কাছে বসে না সেটা কিন্তু বলছি না। আসলে এখানে জানলার ধারে সিট পাওয়া গেছে ,অফার করা হচ্ছে ন্যাচারেলি আপনি জানলার ধার বেছে 
নেবেন ।কি রাইট ?আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে বললেন।"
রেখা বেশ ভদ্র লোকের কথায় মুগ্ধ হল।
"একদম ঠিক বলেছেন আমি জানালার ধার টাই নেবো।'
ভদ্রলোক বললেন "বসুন ,বসুন ,বসুন।"
এরমধ্যে ট্রেন ছেড়ে দিল ভদ্রলোক মুখিয়ে রয়েছে রেখার সঙ্গে কথা বলার জন্য ।ঠিক সেইসময় রেখার ফোন বেজে উঠল ।রেখা ফোনটা রিসিভ করে বললেন "হ্যালো"
"কে বলছেন,?"
"আমাকে চিনতে পারছেন না ম্যাডাম?"
"ও আপনি ?আসলে এখানে একটু কথা হচ্ছে তো আমি ভালো বুঝতে পারছিনা।"
"বলুন ।"
"শুভ সন্ধ্যা ম্যাডাম।'
"হ্যাঁ শুভ সন্ধ্যা।"
"আপনার লেখা রেডি তো?"
"হ্যাঁ পুরোটা হয়নি।'
"কেন ম্যাডাম এনার্জি পাচ্ছেন না।"
ঠিক তা নয়। আসলে গতকাল একটা সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, ফলে ফিরতে দেরি হয়েছে। আর আজকে আবার একটা ওয়ার্কশপ থেকে ফিরছি। সেই জন্য ।ঠিক আছে ,আমি বাড়ি গিয়ে দেখছি।"
"ঠিক আছে, তাহলে আর কথা বাড়াবো 
না ।আপনি সাবধানে আসুন।"
পাশের ভদ্রলোক রেখার দিকে' মুগ্ধ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন "আপনি লেখালেখি করেন?
আমি একজন লেখিকার সঙ্গে যাচ্ছি।'
রেখাএকটু মুচকি হাসল।
ভদ্রলোক বিশ্বাসের সঙ্গে বললেন"আপনার কন্টাক্ট নাম্বারটা দেয়া যাবে?"

Vghh

LOVE

কবি আইরিন মনীষা  এর কবিতা "বেদনার বালুচরে"





বেদনার বালুচরে
আইরিন মনীষা 

বেদনার বালুচরে আছি একাকী 
বেঁচে থাকা দায়
ভালো থাকার আয়োজনে নেই
আর  কোনো সায়।

ভাঙা মনে নেই আজ
আর কোনো শান্তি
ফেলে আসা দিন যেনো
শুধুই এক ভ্রান্তি।

সুখ পাখি রয়ে গেলো
এখনো সেই অধরা
ক্লান্ত শ্রান্ত মনে  তাই
নেই শান্তির  পসরা

দিন যায় রাত আসে
চোখে নেই ঘুম
ফেলে আসা দিনে যেনো 
স্মৃতি কথার ধুম।

আশা নেই তবু দেখি
স্বপ্নের এক ভোর
খুলে যদি কভু আবার
খুশি মাখা দোর।

কবি অনিক রায় এর কবিতা "বাক্সবন্দি  চিঠিগুলো"




বাক্সবন্দি  চিঠিগুলো
অনিক রায় 

১.
আমি দেয়ালে কার কপাল ভেবে চুমু খাই 
ঠোঁট ভ'রে যায় চুনে 
আমার একাকিত্ব, তুমুল হেঁসে হেঁসে শেষে ম'রে যায়
আমার কার্যকলাপ শুনে।

২.
আমার রক্তের ফেনায় না-পাওয়ার ক্লেদ 
শহরের শেষ রাত্রির অলিগলির মতো ব্যর্থ শূন্যতা।

৩.
কালো চোখের জল যাবি আর কোথা বল
আমার নরম দুই গাল ছেড়ে !  
যেদিকেই দৌড়ে যাই লুকাতে পারি নাই 
দুঃখরা ধেয়েছে আমাকে তেড়ে ।

৪.
জীবনানন্দ আমাদের চোখের সামনে 
বাদামের ঠোঙা হয়ে যাচ্ছেন।

৫.
আমার গোটা জীবন তার খসড়া খাতা ছিল তাই
হিসেব নিকেশ শেষে আমি কাগজের দরে 
কারওয়ান বাজারের ফুটপাতে বিক্রি হয়ে যাই।

৬.
মৃত্যু এসে বুকের কপাটে যদি কোনোদিন কড়া নাড়ে, 
পাঁজরের ভেতরে ইরারে ছাড়া সে পাবে আর খুঁজে কারে !

৭.
স্বর্গের সব অপ্সরীদের অবহেলায় রাখতে পারি 
এমনকি ত্রিলোকশ্রেষ্ট-সুন্দরী উর্বশীকেও দ্বিধাহীন, 
কিন্তু একটিবার তোমাকে না দেখিলে নারী 
নতুন নতুন মৃত্যুতে আমি ম'রে যাই প্রতিদিন।

৮.
আমার মতো ক'রে বুক কাঁপানো নিভৃতে অন্ধকার;
মোম জ্বেলে দেখেছি কি কেউ ইরার—
রক্তকরবীর মতো তাজা টকটকে লাল চোখ আর ?

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৯৫





ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৯৫)
শামীমা আহমেদ 

শায়লাদের বাড়ির মুখোমুখি "স্বপ্নবাড়ি" এপার্টমেন্টের সামনে এসে  শিহাব তার বাইক থামালো। স্টার্ট  বন্ধ করে বাইকে হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে  শিহাব মোবাইলটা  হাতে নিলো। বেশ অনেকটা সময় যাবৎ মোবাইল দেখা হয়নি। অন করতেই, আজ সন্ধ্যা থেকে রাহাত আর শায়লার এতগুলো  মিসড কল দেখে সে ভীষণ অবাক হলো ! বিকেল থেকেই তার মোবাইলে একেবারেই চার্জ ছিল না।আর দোতালার হাসান সাহেবের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত থাকায় চার্জে দিতেও দেরি হয়ে গিয়েছিল। শিহাব এর জন্য ভীষণ আফসোস  করতে লাগলো! কি জানি  কেন ওরা এত কল করেছিল ? তাহলে বাসায় কি অন্যরকম  কিছু ঘটেছে ? শায়লা কি তবে নোমান সাহেবকে মেনে নিতে না পেরে বাসা থেকে বেরিয়ে গেছে ? সে কি তবে আমাকে খুঁজেছে ?শায়লাতো আমার বাসা চেনে সেখানে চলে এলেইতো হতো। বিল্লাল তাকে ঘরে বসাতে পারতো ।  বিল্লালের কাছে তো ফ্ল্যাটের  চাবি দেয়া আছে। তবে কি  রাহাতও শায়লার খোঁজ পেতে তাকে এতবার কল করেছিল ? শিহাবের মনে নানান প্রশ্নের উদ্রেক হচ্ছে আর পাশাপাশি নিজের উপর ভীষণ রাগ লাগছে। তারই জন্য  বারবার শায়লা তার কাছে এসেও ফিরে যাচ্ছে। শিহাব দেখল এতরাতে চারপাশে সুনশান নীরবতা। শিহাব একাই রাস্তায়  দাঁড়িয়ে আছে। যে কোন সময় টহল পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জেরার মুখে পড়তে পারে কিন্তু শিহাব তার জন্য একেবারে ভীত নয়। সে ভাবছে শায়লা বা রাহাতকে কি এত রাতে কল ব্যাক করবে ? কিন্তু  শায়লা এখন যদি তার বাসায় থাকে। হয়তো তার স্বামীর সাথে থাকবে। আর অন্য কোথাও  গেলে সেটাও জানতে হবে।শিহাব ভাবনার কোন কূলকিনারা করতে পারছিল না।  একটু পরে শিহাব মোবাইল থেকে মুখ তুলতেই দেখতে পেলো শায়লাদের দোতালা বাড়িটি  নানান রঙের বাতিতে লাইটিং করা হয়েছে । সে এতক্ষণ  একেবারেই এসব খেয়াল করেনি। শায়লাদের বাড়ির মেইন গেট বিয়ে বাড়ির মত করে সাজানো হয়েছে। শিহাব বুঝে নিলো বর আগমনের জন্য পরিপূর্ণ প্রস্তুতিই নেয়া হয়েছে।আর হবেই বা না কেন ? বাড়ির বড় মেয়ের বিয়ে বলে কথা !  সবার মাঝে তো আনন্দ থাকা স্বাভাবিক । সুদূর কানাডা থেকে বড় জামাই আসছে। অবশ্যই তাকে সর্বোচ্চ সন্মানিত  করা হবে। শিহাব তার সাথে নিজেকে তুলনা করে ভাবলো তার হয়তো এই মূহুর্তে  বিদেশ যাবার কোন প্রস্তুতি  নেই তবে শায়লাকে আর আরাফকে নিয়ে তারা কোনদিন বিদেশে কোথাও তো বেড়াতে যেতেই পারতো। এমন রঙিন ভাবনা মনের ভেতর খেলে গেলেও শায়লাকে না পাওয়ার উৎকন্ঠায় তা যেন ম্রিয়মাণ হয়ে গেলো। শিহাব  এবার মনস্থির  করলো, যা-ই হউক না কেন, সে এক্ষুনি  শায়লাকে কল দিবে। যদি সে তার স্বামীর সাথেও থাকে তবুও। প্রয়োজনে তার স্বামীকে জানাতে হবে, শায়লা আর সে দুজন দুজনকে  ভালবাসে। উনি চাইলেই তাকে কানাডায় নিয়ে যেতে পারেন না। এমনটি ভাবতেই হঠাৎ  শিহাব দেখলো একটা ছায়া তার দিয়ে ধেয়ে আসছে।  ছায়া থেকে উপরে মুখ তুলতেই শিহাব দেখলো একটা ছেলে রাস্তার ওপাশ থেকে ক্রস করে আসছে।মুখটায় আলো না পড়াতে  ঠিক বুঝা যাচ্ছে না কে ওমন করে দৌড়ে  আসছে।কিছু পরেই ছায়াটা তার কাছে আসতেই মুখটি স্পষ্ট হলো। শিহাব ভীষণ চমকে গেলো !  আরে এ যে রাহাত! কিন্তু  সে এমনভাবে দৌড়ে আসছে কেন ? 
কি এমন হয়েছে ? এখনতো তার আপু আর নতুন দুলাভাইকে নিয়ে আনন্দে সময় কাটানোর কথা! রাহাত এখন একেবারেই কাছে চলে এলো। রাহাত শিহাবের সামনে এসে দাঁড়িয়ে  ভীষণ ভাবে হাঁপাতে লাগল। কিছুটা সময় নিয়ে বললো, শিহাব ভাইয়া আপনি মোবাইল কল রিসিভ করছে না কেন ? আমি আর আপু আপনাকে সেই সন্ধ্যা থেকে কল করে যাচ্ছি।ফোন বন্ধ রেখেছেন কেন ? কি হয়েছে আপনার ? আরাফ কেমন আছে ? আপু আপনাকে নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তা করছে । কোথায় ছিলেন সারাদিন ? এখানে কখন এসেছেন ? শিহাব রাহাতের দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইল। রাহাত উত্তর শোনার জন্য অপেক্ষা না করে একের পর এক  প্রশ্ন করেই যাচ্ছে। শিহাবও যেন  উত্তর দেওয়ার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। তার ভাবনায় সে কিছু বলার মত উত্তর আসছে না। কেবল ভাবছে কেন এত হন্যে হয়ে দুই ভাইবোন তাকে খুঁজছে ? শিহাবের ভেতর থেকে অস্ফুট স্বরে কিছু একটা বেরিয়ে এলো, কেন, কেন তোমরা আমাকে এমন করে খুঁজছো ? শায়লার কি কিছু হয়েছে ?  শিহাবের মন অজানা আশংকায় ভীত হয়ে উঠলো !  তবে কি শায়লা আত্মহত্যা !  না,না,ছিঃ  এসব কি ভাবছে ? 
এবার রাহাত বলে উঠলো, আপুর কি হবে?আপু ভালো আছেন। শিহাব যেন একটু আশ্বস্ত হলো।রাহাত শিহাবকে সহজ করতে বললো, আপনার কোন  সাড়া না পেয়ে আপু একেবারে  অস্থির হয়ে আছে। নানান দুশ্চিন্তা করছে। শিহাবের ভেতরে একরাশ অভিমান জমা হলো। অনুযোগের সুরে বললো, এখন
তোমার আপু আমাকে নিয়ে কেন ভাববে ? তোমার আপুরতো এখন আর, আমায় নিয়ে, ভাবনায় ডুবে থাকার কথা নয়।
রাহাত খুব বুঝতে পারলো, শিহাব ভাইয়ার এই অভিযোগের তীর তারই প্রতি ছুড়েছে।রাহাত আজ সবই মেনে নিবে। এমন করে শিহাব ভাইয়াকে পেয়ে যাওয়া! এ যে সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়া। রাহাত প্রতিটা ক্ষন অনুশোচনায় পুড়েছে। আজ তার কারণেই ঘটনাটা এত জটিলতায় এসে দাঁড়িয়েছে।  কিন্তু রাহাত এটা-ই ভীষণ অবাক হয়েছে কেমন করে নোমান সাহেবের কানাডা থেকে না আসা আশ্চর্যজনক ভাবে সবকিছু পালটে দিলো। সে শিহাবকে বললো, শিহাব ভাইয়া, এখানে না, আপনি বাসার ভেতরে চলুন। আপা, আপনার জন্য অপেক্ষায় আছে । শিহাব বুঝতে পারছে না,  এখন কেন সে ভেতরে যাবে ? বাড়িতে নতুন জামাই এসেছে। তার সামনে এভাবে তাকে নিয়ে যেতে চাইছে ! নাকি, শায়লা তার জন্য নোমান সাহেবকে গ্রহণ করায় সম্মতি দিচ্ছে না। নাকি, আমি গিয়ে বুঝালে শায়লা তাকে গ্রহণ করে নিবে।আজ রাহাতের এই ভিন্ন আচরণে শিহাব কিছুই বুঝে উঠতে পারছে না।  যেখানে, এই রাহাত তাকে এড়িয়ে সবকিছু করেছে । আবার আজ কোনো ট্রিকি গেম খেলছে নাতো ? নোমান সাহেবের কাছে নিয়ে তাকে 
অপমানিত করবে নাতো? শিহাব নানান ভাবনায় স্থির হয়ে রইল। কিন্তু  রাহাতের যেন আর ত্বর সইছে না।  পরক্ষনেই সে ভাবলো এখন যদি শিহাব ভাইয়াকে বলা হয় নোমান সাহেব আসেননি এখন আপনার সাথে আপুর বিয়ে হবে। এই কথাটিতে শিহাব ভাইয়া  আমাদের অন্যরকম ভাববে।  তবে যে করেই হউক, এবার আপু আর শিহাব ভাইয়াকে  মিলিয়ে দিতে হবে।মিথ্যে করে কিছু বলে হলেও তাদের চার হাত মিলিয়ে দিতে হবে। রাহাত তাই নোমান সাহেবের বিষয়টি এমনভাবে শিহাবকে জানালো, যেখানে আর কথার মাঝে কোন  ফাঁক রইল না।সে এবার মুখ ফস্কে  বলেই ফেললো,কানাডা থেকে নোমান ভাইয়া আসেননি,মানে আপু  তাকে আসতে নিষেধ করে দিয়েছে। সে জানিয়েছে, আপনাকে সে ভালবাসে, সে আর কাউকে গ্রহন করবে না। কানাডা যাবে না। কথাটিতে শিহাবের কেমন যেন খটকা লাগলো, সে রাহাতকে বললো,কিন্তু আমি তো জানি উনি ফ্লাইটে উঠে গিয়েছিলেন। রাহাত তৎক্ষনাৎ বুদ্ধি বাৎলে বললো,না, বাসার সবাইকে সান্ত্বনা দিতে এটা বলেছিলেন। উনি আসলে ফ্লাইটে উঠেননি। 
এবার রাহাত শিহাবকে আর কোন সন্দেহের প্রশ্ন করার সুযোগ না দিয়ে একেবারে খপ করে শিহাবের হাত ধরে ফেললো,  খুবই বিনীতভাবে বললো, শিহাব ভাইয়া আমার জন্যই আপনাদের এত ঝামেলায় পড়তে হয়েছে।আমি এর জন্য দুঃখিত।আমি আপনার কাছে ক্ষমা চাইছি। আপনি ভেতরে চলুন। আপনার বাইক স্টার্ট দিয়ে বাসার কাছে নিয়ে আসুন। এখন অনেকরাত।এরপর বাইরে থাকলে আপনার আমার  অন্য ঝামেলায় পড়তে হবে। 
রাহাত এবার ওদের বাসার ছাদের দিকে তাকালো। দেখলো,বুবলী তেমনি ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। তার চোখেমুখে বিস্ময়! কি হচ্ছে এসব! দূর থেকে সে কিছুই বুঝতে পারছে না। ঐ লোকটি কে ? যার সাথে রাহাত এত কথা বলছে ? আবার তাকে হাত ধরে অনুরোধ করছে ? এবার রাস্তা থেকে বুবলীর ফোনে রাহাতের কল এলো, বুবলী তা রিসিভ করতেই  রাহাত যেন  খুশির আবেগে কিছুই বলতে পারছিলো  না। বুবলী জানতে চাইল, রাহাত ভাইয়া কী হয়েছে ?  ঐ লোকটি কে ? 
রাহাত এবার নিজেকে সামলে নিয়ে বললো, আরে এটাই শিহাব ভাইয়া! তুমি শায়লা আপুকে জানাও শিহাব ভাইয়া এসেছে। বাসার সবাইকে জাগিয়ে তোল।আমি এখুনি শিহাব ভাইয়াকে নিয়ে বাসায় আসছি। বুবলী ভাবলো এও কি সম্ভব! তবে অসম্ভবও কিছু নয় ! যেভাবে শায়লা আপু শিহাব ভাইয়ার জন্য ভেঙে পড়েছে আর এত রাতে শায়লা আপুর জন্য যে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকতে পারে, তাদের দুজন দুজনকেই তো পাবে। এ এক দারুণ হৃদয়টান! বুবলীর মনের ভেতর পুলকিত হলো! সে দেখলো, বেশ হ্যান্ডসাম একজন লোক, উনিই তাহলে শিহাব সাহেব ! প্রথম দেখায় যে কেউ এমন লোকের প্রেমে পড়বে। তাইতো শায়লা আপু এত প্রেমে ডুবেছে।লাইটপোস্টের ঝকঝকে আলোতে দেখা যাচ্ছে নেভি ব্লু চেক শার্টে বেশ ক্যাজুয়াল পোষাকে কিন্তু বেশ স্মার্ট লুকের একজন মানুষ বাইকে স্টার্ট  দিচ্ছে। রাহাত তার খুব কাছে একেবারে লেপ্টে দাঁড়িয়ে আছে। যেন কিছুতেই হাতছাড়া  হয়ে না যায় ! রাহাতের কান্ড দেখে বুবলীর বেশ হাসি পাচ্ছিল। পরক্ষণেই ভাবলো, হবেই বা না কেন ? রাহাত ভাইয়া তার নিজের ভুলের জন্য যেভাবে বারবার নিজেকে ধিক্কার দিচ্ছিল। সেই ভুলের সংশোধনের জন্য এটুকুতো করতেই হবে। যেন সে  শায়লার কাছে পণ করেছে, শিহাব ভাইয়াকে পাইয়ে দেয়ার।
বুবলী  দোতলায় নামার জন্য  পিছন ঘুরতেই দেখতে পেলো শায়লার হলুদের স্টেজটা  নানার রঙিন ফুলে যেন হাসছে ! বুবলী কল্পনায় সেখানে শায়লা আর শিহাবকে দেখতে পেলো যেন ! বুবলী নিজের মনের এমন ভাবনায় নিজের মনেই হেসে উঠলো ! সে ভাবলো, শায়লা আপুকে এক্ষুনি খবরটা দিতে হবে। সে  মুচকি হেসে , সিঁড়ি দিয়ে গটগট করে দোতলায় নেমে এলো। সে শায়লার ঘরের দরজায় বেশ অনেকবার নক করেও শায়লার কোন সাড়া না পেয়ে চিন্তিত হলো। বাড়ির সব লোকজন গভীর ঘুমের অতলান্তে। বুবলী বেশ অনেকটা সময় দরজায় নক করে হাতের মোবাইলের দিকে খেয়াল হলো। সে কন্ট্যাক্ট লিস্টে শায়লার নাম্বার খুঁজে নিয়ে শায়লাকে কল করলো। কিন্তু একের পর এক কল বেজেই যাচ্ছে। শায়লা কল রিসিভ করছে না। শায়লা কী ঘুমিয়ে না অন্যকিছু ? বুবলী ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলো। 
চলবে....

২০ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৫৭





উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৫৭
ওয়ার্কশপে রেখার নাম
মমতা রায়চৌধুরী



মনের ভেতরে একটা কেমন গোপন যন্ত্রণা কুরে কুরে খাচ্ছিল রেখা ভেবে পাচ্ছিল না আসলে সেই যন্ত্রণাটা কি ?
আসলে কিছু কিছু যন্ত্রণা থাকে যেগুলো বোধের অতীত, শুধু নস্টালজিক হয়ে ফিরে আসে, ভাবায় কষ্ট দেয় ,কখনও বা সেই যন্ত্রণাগুলো সুখের স্বর্ণালী স্মৃতি হয়ে ফিরে আসে।
বড়দি ফোন করেছিল অনিন্দিতা ওর বাচ্চাটাকে নিয়ে খুব মানসিক কষ্টে আছে। কথাটা শুনে রেখার ভেতরে কেমন যেন একটা কষ্টের বোধগুলো দানা বেঁধে উঠেছে অথচ অনেক দিন অকারণে রেখার সাথে কত মনে দাগা দিয়ে কথা বলেছে। আজকে সে সব কষ্ট মনেই হচ্ছে না।  মনে হচ্ছে  এখানে একজন মায়ের কষ্ট অনেক বেশি।শুধু  একজন মা তার সন্তানকে ভালো দেখে তার যে মানসিক শান্তি হয়, সেই শান্তিটুকু ফিরে পাব অনন্দিতা। ঈশ্বর করুন ওর বাচ্চার যেন সব স্বাভাবিক থাকে ,ভালো থাকে, সমাজের উপযোগী হয়ে ওঠে। 
এসব ভাবতে ভাবতেই হঠাৎ মনে হল' স্বপ্নীল কেমন আছে কে জানে? কার থেকেই বা খবর পাবে?'
এত ভাবনা চিন্তা মাথার মধ্যে ঘুরপাক খাচ্ছে, ঘুম কিছুতেই আসতে চাইছে না ।অথচ কখন যে একসময় ঘুমিয়ে পরেছে বুঝতেও পারেনি।  ঘুম ভাঙ্গলো  অ্যালার্ম ঘড়ির আওয়াজে।
উঠতে ইচ্ছে করছে না ।শরীর ক্লান্ত ।ঘড়িটা দেখে নিয়ে এলার্ম টা বন্ধ করে আবার শুয়ে পড়লো।
শুয়ে থাকতে থাকতে মনে হল যে 'সে ঘুমায় নি অথচ ঘুমিয়ে পড়েছে ।এবার ঘুম ভাঙলো কলিং বেলের আওয়াজে। "ওম জয় লক্ষ্মী মাতা,, মাইয়া জয় লক্ষ্মী মাতা...।'এটা আবার কাদের বাড়ির কলিংবেলের আওয়াজ।  ভালো করে কান খাড়া করে শুনল। কাদের বাড়ির কলিংবেলের আওয়াজ এটা তো রেখার বাড়িরই । যা বাবা এটা আবার কবে হলো।
এবার না উঠে পারা যাচ্ছে না। উঠতে তো হবেই। স্কুলে  যেতে হবে। মাসি এসেছে নিশ্চয়ই।
ঘুমের জড়তা কাটিয়ে আস্তে আস্তে দরজাটা খুলল। রেখা অবাক হয়ে দেখে আর ভাবে
"ও মা মাসি কোথায়?'
পার্থ খুব হেসে হেসে বলল
'কি বৌদি অবাক হয়ে গেলেন?'
রেখা চোখ দুটো ভালো করে হাত দিয়ে রগড়ে  নিয়ে বললো  'না মানে ,আমি ভেবেছি মাসি ..।
এত সকালে তুমি আসবে বুঝতে পারি নি।'
"আরে আমি কি জানতাম?
ঠিক আছে ভেতরে এসো পার্থ ।
'ভেতরে যাবো না বাড়িতে গিয়ে এগুলো দিই।'হাতে ধরে থাকা শাক গুলোকে দেখিয়ে।
পার্থর হাতে দুই আঁটি পাটশাক।
আরে সকালবেলায় টাটকা পেলাম নিয়ে যাচ্ছিল এক মাসি। পরতা হল তাই নিয়ে নিলাম।
একদিন বলেছিলে যে পাটশাক খেতে ইচ্ছে করছে।তাই…।'
"বাববা ,পার্থ তোমার মনেও থাকে " একগাল হেসে রেখা বলল।
"'কেন মনে থাকবে না বৌদি?"
'ঠিক আছে ,এসো ভেতরে।  চা খেয়ে যাও।'
'না বৌদি, যাই ।আমাদের বাড়িতে কাজের মেয়েটা আসলো কিনা দেখি।'
"ঠিক আছে, তাহলে এসো।"
"অন্য দিন এসে চা খেয়ে যাব।"
"তাই হবে।"
দরজা বন্ধ করতে যাবে এমন সময় মাসী বললো 'ও বৌমা দরজা বন্ধ ক'রো না, এসে গেছি।'
"হাতে কি ওগুলো বৌ মা।"
"পাটশাক গো পার্থ দিয়ে গেল।"
"মাসি শাকগুলো নিয়ে যাও তো একটু কেটে দিও তো।"
ঘাড় নেড়ে পাট শাকের আঁটি  নিয়ে চলে গেল।
ওই দেখো ভুলে গেলাম?
মাসি বললো' কি ভুলে গেলে বৌমা?'
আরে সেদিন ইলিশ মাছ এনেছিল ।ওকে তো টাকা দেয়া হয়নি ।টাকাটা তো দিতে হবে ।কাজের কথা কিছুই বলতে পারলাম না।
মাসি বললো 'দেবে পরে।'
'আসলে ও আসলে এত হুটোপাটি করে না ,সবকিছুই ভুলে যাই।'
বাথরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে গোপালকে ভোগ চাপিয়ে নিচে নেমে আসলো চা করতে। যা হয়ে গেলে একে একে ফ্রিজ থেকে কাটা সবজি গুলো বের করে রান্না চাপিয়ে দিল। রুটি হলো তারপর মিলিদের খাবার হল ।তারপর নিজেদের খাবার রেডি করল। এরই মাঝে মাসিকে চা জলখাবার দিয়ে দিল। আজকে মাসি খুব তাড়াতাড়ি কাজ করে চলে গেল। কোথায় যাবে তাড়া আছে।
এবাবা  মনোজ এখনো ঘুম থেকে উঠলো না।
কি কুম্ভকর্ণের ঘুম রে বাবা?
আজকে অফিস যাবে না, নাকি?
বলেই রেখা শোবার ঘরের দিকে পা বাড়ালো। বাইরে মিলিদের চিৎকার শোনা গেল। আপন মনেই রেখা বললো সবুর কর। খাবার আনছি রে বাবা। চেঁচাস না।'
রেখা ঘরে গিয়ে দেখে নাক ডেকে বিন্দাস ঘুমোচ্ছে।
রেখার দুই গালে হাত দিয়ে কিছুক্ষণ বসল বিছানার উপর তারপর শেষে জোরে একটা ধাক্কা দিলো নাম ধরে ডেকে 
মানুষতো ঘুমের থেকে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেলো বড় বড় চোখ করে তারপর বলল 'কি হচ্ছে ?কি করছো?'
"তুমি উঠবে না আজকে?'
'হ্যাঁ, উঠব তো বলে আবার ঘুমিয়ে পড়ল।'
"তাহলে তুমি আজকে অফিস যাচ্ছ না?'
মনোজের কানে কথাটা গেল তারপর ধরফর করে বিছানার উপর উঠে বসে বলল মানেটা কি অফিসে যাব না মানে?
মনোজ  দিকে তাকিয়ে রেখা  মাথা নেড়ে বলল' সে তো বটেই ।কখন অফিসে
 যাবে ?ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখো?'
মনোজ তাড়াতাড়ি বিছানা থেকে নেমে বাথরুমের দিকে ছুটল , আর বলতে লাগল বলতে গেল'তুমি আমাকে ডেকে দাও নি।'
'কতদিন বলেছি আমাকে ঠিক টাইমে ডেকে দেবে?'
রেখা বলে এটাই কপাল বুঝলে তুমি ঘুমোবে আর দোষ চাপাবে আমার ওপর?'
অন্যদিকে মিলিদের চিৎকারে আর টিকতে পারছে না দরজা মনে হচ্ছে ভেঙে ফেলবে।
রেখা বললো 'না  আগে ওদের খাবারটা দিয়ে আসি।'
ঈদের খাবার টা দিয়ে এসে বিছানাপত্র ছেড়ে নিয়ে মনোজের ব্রেকফাস্ট রেডি করে ফেলল তারপর ওয়ারড্রব খুলে মনোজের ড্রেস বের করে রাখল সোফার ওপর।
মনোজ বাথরুম থেকে বেরিয়েই বলল 'আমার ড্রেসটা বের করো রেখা তাড়াতাড়ি আর ব্রেকফাস্ট টা দাও।"
রেখা বললো' তুমি যত তাড়াতাড়ি রেডি হয়ে আস্ তে  পারবে ,তত তাড়াতাড়ি তোমার ব্রেকফাস্ট দেবো।'
"আমি রেডি হয়ে গেছি।"
"আমিও তোমার খাবার নিয়ে বসে আছি।"
মনোজ তাড়াতাড়ি এসে খাবার টেবিলেই বসল আর এত তাড়াতাড়ি খেতে লাগল তাই দেখে রেখা বলল" এত তাড়াহুড়া করছো কেন তুমি ?"
মনোজ বলল' আমাকে এই ট্রেন পেতেই হবে।'
রেখা বললো "ঠিক পাবে ।এমন কিছু সময় নষ্ট হয় নি।"
মনোজ বলল 'পেলেই ভালো বুঝলে?"
রেখা নিজে ব্রেকফাস্ট না খেয়ে টিফিন বক্সে নিয়ে নিল আর সঙ্গে সঙ্গে টিফিন ভরতে ভরতে মনোজকে বলল' তুমি লাঞ্চে কি খাবে আজকে ?তোমাকে কি দিয়ে দেবো বাড়ির খাবার?"
মনোজ বেসিনে মুখ ধুতে ধুতে বলল", না না ,না ।আমি আজকে বাইরে খেয়ে নেব।"
মনোজ রেখাকে টাটা করে বেরিয়ে গেল।
রেখাও রেডি হয়ে সেন্টুদাকে মিলিদের খাবার বুঝিয়ে দিয়ে, ঘরগুলোতে তালা লাগিয়ে দিয়ে শুধু গেটের চাবিটা সেন্টু দার হাতে দিয়ে অটো ধরবে বলে ওয়েট করতে লাগলো।
অটো পেয়েও গেল ।যথারীতি নির্দিষ্ট টাইম স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনে উঠে বসলো।
ট্রেনে উঠে যথেষ্ট ভিড় থাকায় বড়দিকে ফোন করতে পারলো না।
রেখা মনে মনে ভাবল' ভিড়টা কমলে জায়গা পেলে, দিদির কাছ থেকে জেনে নিতে হবে কোথায় ওয়র্কসপ টা হচ্ছে?'
কালকে বড়দি এত কথা বললেন অথচ ওয়ার্কশপ কোথায় হচ্ছে সেটা বলতেই ভুলে গেছেন আর আমারও জিজ্ঞেস করা হয়ে উঠলো না।'
এসব ভাবতে ভাবতেই ট্রেনের ভিড় ঠেলে ঠেলে সিটের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করল এর মধ্যে একজন মহিলা এমন ধাক্কা মারলো রেখা প্রায় একটা ছোট বাচ্চার উপর উল্টে পড়ে যাবার উপক্রম হল।
 রেখা বলল' দিদি, একটু ঠিক করে দাঁড়াতে পারেন না। কেউ এইভাবে ঠেলা মারে বলুন তো?'
তবে যাই হোক রেখা এতসব কথা বলার পরেও ভদ্রমহিলা একটা কথাও বলল 
না।
কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে-থাকতে সামনের কয়েকটা স্টেশন আসার পরই ফাঁকা হয়ে গেল।
অন্তত ঠিক করে দাঁড়াতে পারল রেখা তারপর জিজ্ঞেস করতে লাগল কে কোথায় নামবে?
জিজ্ঞেস করতে করতেই সিটে বসে থাকা প্রথম ভদ্রমহিলা উঠে দাঁড়ালেন বললেন "আপনি এখানে বসুন আমি সামনেই নামবো।"
এ যেন রেখার কাছে মেঘ না চাইতে জল।
রেখা এখন মনে মনে ভাবছে বসে একটু জল খেয়ে ব্যাগ থেকে ফোনটা বের করেই বড়দিকে ফোনটা করবে এমন সময় রেখার ফোন বেজে উঠলো। রেখা ফোনটা রিসিভ করতে গিয়ে দেখল 'বড়দির ফোন?'
"হ্যালো দিদি,'
', হ্যাঁ, রেখা আমি বড়দি বলছি।"
"বুঝতে পেরেছি বলুন।'
আজকে ওয়ার্কশপটা কোথায় হচ্ছে সেটা তো তোমাকে বলা হয়নি ,তুমি যাবে কি করে ওখানে? এইজন্য ফোন করলাম।"
"আমিও ঠিক একই কথা ভাবছিলাম যে আপনাকে ফোন করে জানবো।তার
আগে আপনি ফোনটা করে ফেললেন।"
বড়দি হেসে বললেন' তাই কি টেলিপ্যাথি দেখো?'
'শোনো তুমি ডন বক্স স্কুলে চলে আসবে।'
'ঠিক আছে দিদি।
ওখানে গিয়ে অনিন্দিতার নামটা কাটিয়ে তোমার নামটা লিখে নিতে বলবে কেমন? 'Ok দিদি।'
"যে কটা দিন ওয়ার্কশপ হবে তুমিই যাবেi'
Ok
বড়দি হেসে ফোনটা নামিয়ে রেখে বললেন' বেস্ট অফ লাক।'
'থ্যাংক ইউ দিদি'।