০৩ এপ্রিল ২০২২

কবি অলোক দাস এর কবিতা "প্রাচীন একটা বটগাছ "





প্রাচীন একটা বটগাছ 
অলোক দাস 

একটা বহু প্রাচীন বটগাছ, 
দিয়েছে মানুষকে অক্সিজেন, 
পখিকূলকে দিয়েছে আশ্রয় ।
গ্রীষ্মের গরমে দিয়েছে একটু আরাম ।
পথিককে দিয়েছে বিশ্রাম ।
আজ বটগাছের সব পাতা গেছে ঝরে । 
সে আজ শক্তিহীন । 
ভালোবাসাহিন পাথর ।
কেউই আসে না ওর কাছে ।
ওর পাশে বকুল, শিউলি ও পলাশ ।
নিচে সবুজ গাছের অরণ্য ।
মানুষের ভালোবাসা সীমাবদ্ধ ।

কবি মোঃসেলিম মিয়া এর কবিতা "আজরাইলের হাঁক"





আজরাইলের হাঁক
মোঃসেলিম মিয়া 
(রমজানুল মোবারক) 

মেধা শ্রম অর্থ জস অট্টালিকা বাড়ি 
কালের স্বাক্ষী রইবে দন্ডায়মান 
আবসুসের আহাজারি! 
নিথর দেহ শব্দহীণ প্রাণ 
বেড়িয়ে গেছে চলে---
নাম ধরে আর ডাকছেনা কেউ 
লাস বলছে তারে!
কত যতনে রাখা নাম খানি
টাইটেল গেছে ছুটে --
নামের পোদ্দারি ক্ষমতার বাহাদুরি 
বেঁচে থাকাটাই যে মিছে!
ক্ষনিকের বাস কত পণ্ডশ্রম 
হায়রে ব্যাকুলতা!
মৃত্যু অমোঘ ভুলে গেছি সবে
স্বজ্ঞানে নির্বোধিতা।
ক্ষণকালের দুনিয়া দারি
কিসের ছোটাছুটি? 
দিনের শেষে  হিসেবের গড়মিল 
অন্কটাই নাহি খাঁটি !
দাফন কাফনে ব্যস্ত সবাই 
লাস রবেনা ঘরে,
সাড়ে তিনহাত ভিটে জায়গা 
কাঁদা মাটি সব ঘিরে। 
অহংকার সব চূর্ণ হবে
 দেহ খাবে মাটি!
কিসের এতো বাহাদুরি
মৃত্যুর সওদা কি কারো জুটে?
কবর হবে বসত ভিটা 
শাপ বিচ্ছুর বাস,
সময় থাকতে হই সচেতন 
আজরাইলের পেতেই হাঁক !

০২ এপ্রিল ২০২২

রুকসানা রহমানের একগুচ্ছ অনুকাব্য 





রুকসানা রহমানের একগুচ্ছ অনুকাব্য 

তেমার জন্য


আমি প্রতিদিনই মরে ও কেন যে বাঁচি
শুধু তোমারই জন্য।



পোড়ারঙ


আমি নৈশব্দের ভিতর রেখে গেলাম
ভালোবাসার পোড়ারঙ। 



রক্তাক্ত হাহাকার


কে ডাকে তার প্রিয়াকে হাজার বছর ধরে
সেই উৎসব খাঁচায়
ফেলে আসছে যুগের পর যুগ জ্বালাময় প্রাস্তরে
সেই আঁচলে বোনা আজও ছিঁড়ে নেওয়া
অজস্র পালক
এই যাতনা কি কোনদিন খুঁজে পেয়েছে ? 
কোমল শরীরে লেগে থাকা উষ্ণ- রক্তাক্ত হাহাকার।




অন্ধকারে


আমরা আমার আমার করে কখন যে
বিবেক কে হত্যা করেছি
হত্যা করেছি প্রেম,শিক্ষা সংস্কৃতি ক্ষমতার লোভে
যা ছিলো একদিন আমাাদের আলো
অন্ধকারে আজ কেবলই হাহাকার মানবতা।




খুঁজি


আমি পথ চলতে চলতে মানুষের ভীড়ে 
মানুষ খুঁজি...! 

রুকসানা রহমান
শোষক

এই পৃথিবীতে অমায়িক, মিষ্ট কথার মুখোশধারীদের ভালোবাসার মানুষের অভাব হয়না। 

একমাত্র তার জীবন সঙ্গী বা প্রেয়সী জানে
ঐ মুখোশের আড়ালে লুকিয়ে থাকা শাসক
ও শোষক কে...!

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৪৫




উপন্যাস 

টানাপড়েন ১৪৫
বাতাসে বহিছে বসন্ত
মমতা রায়চৌধুরী

১৯.৩.২২ সন্ধ্যে ৭. ৫৬

বিয়ে বাড়িতে বেশ দুদিন আনন্দ করে বাড়িতে ফিরে এসে রেখার কাজ আরো বেড়ে গেছে। এত জামা কাপড় সমস্ত কাঁচা ধোয়া ,কিছু লন্ড্রিতে পাঠানো। অন্যদিকে স্কুল আবার একদিকে লেখা পাঠানো আর সঙ্গে রয়েছে ক্লান্তি। সবমিলিয়ে রেখার অবস্থা খুব টাইট হয়ে গেছে। এতগুলো দিক  সামলাতে হচ্ছে। এর মধ্যে সামনে আছে বসন্ত উৎসব। রেখাই বড়দিকে প্রস্তাব দিয়েছে। বিদ্যালয়ে প্রাক বসন্ত উৎসব করার জন্য । ফলে আর দুদিন মাত্র বাকি আছে ,এর মধ্যেই প্রস্তুতি সারতে হবে, তাই আগে খাতাটা খুলে বসলো কোন কোন মেয়ে গানে আছে, কোন কোন মেয়ে নাচে আছে সেই সমস্ত মেয়েদের ফোন নম্বর বের করে ফোন করতে শুরু করলো। মেয়েরা তো বসন্ত উৎসবের নাম শুনে আনন্দ উল্লাসে ফেটে প পড়ল ।প্রথমে ফোন করলো নন্দিনীকে 'হ্যালো ,হ্যালো"।
ওদিক থেকেও বলল" হ্যালো:।
এটা কি নন্দিনীর ফোন নাম্বার?
হ্যাঁ ,কে বলছেন?
"আমি স্কুল থেকে ওর মিস বলছি।"
"ম্যাম বলুন ।আমি নন্দিনীর মা বলছি।।"
"বলছি নন্দিনী আছে ?ওকে একটু দেয়া যাবে?"
"দেয়া যাবে ।আপনি ধরুন আমি ওকে ডেকে দিচ্ছি।'
"নন্দিনী, নন্দিনী, তোমার ম্যাম ফোন করেছেন তাড়াতাড়ি এসো।"
"যাচ্ছি  ফোনটা রিসিভ করে বলল" হ্যাঁ ম্যাম বলুন।"
"বলছি সবই তো তোমাদের মোটামুটি রেডি থাকে অনুষ্ঠানের জন্য।তবে এবার ভাবছি একটা অন্যরকম আমরা উৎসব করবো বিদ্যালয়ে। এবার বসন্ত উৎসব করব ।"
"কি মজা ,কি মজা।"
হ্যাঁ রে, তাইতো বলি '
"বসন্তের বাতাস ডাক দিয়ে যায় 
ফাগুন এসেছে হায় ।
আর ঘরে বসে নয়, 
এসো দোলের  রঙে রাঙিয়ে যাই।"
"ম্যাম কি সুন্দর বললেন কবিতার লাইন এটা কার কবিতা।"
রেখা একগাল হেসে বলল
"আরে পাগলি এটা আমি এক্ষুনি কবিতাটা ছড়ার আকারে  আমিই বললাম।"
"ম্যাম আপনি?
কি সুন্দর বললেন কি ভালো লাগছে।"
ঠিক আছে শোন
"তোমাদেরই তো সব রেডি করতে হবে ।তা তোমাদের যে সমস্ত গানের মেয়ে আছে তুমি একটু কন্টাক্ট করো ,নাচের মেয়েদের সঙ্গেও, ঠিক আছে।"
"আমাদের অনেক দিনের সুপ্ত ইচ্ছা ছিল আমাদের বিদ্যালয়ে বসন্ত উৎসব হোক  আপনি আমাদের সেই ইচ্ছে গুলো পূরণ করছেন। থ্যাঙ্ক ইউ ম্যাম।"
"ঠিক আছে, আগে ভালোভাবে অনুষ্ঠানটা 
নামাও।"
" হ্যাঁ ,ম্যাম আপনি কোনো চিন্তা করবেন না। আমি এক্ষুনি আমার কাছে যে সমস্ত আমাদের ক্লাসের মেয়েদের নাম আছে বা অন্য ক্লাসে যাদের যাদের সঙ্গে আমরা একসঙ্গে প্রোগ্রাম 
করি মোটামুটি স্কুলে ।তাদের সঙ্গে কন্টাক্ট করে নিচ্ছি ।"
"কালকে তাহলে স্কুলে গিয়ে কিন্তু এর রিহার্সাল হবে কেমন ?সব বসন্তের উপর গানগুলো করবে। ভালো থেকো সবাই।"
আমাদের অনেকদিনের সুপ্ত ইচ্ছা আপনি পূরণ করছেন ম্যাম আপনাকে এজন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
ঠিক আছে তোমাদের মনের ইচ্ছে গুলো পূরণ যাতে হয় সেই দিকে নজর দেওয়াইতো আমাদের লক্ষ্য ।তাই না?"
হ্যাঁ ম্যাম। আমরা প্রত্যেকে আপনাকে খুব ভালোবাসি ম্যাম।"
"তোমরাও আমার কাছে ভালোবাসার স্নেহের পাত্রী।"
"হ্যাঁ রে, আর কোন সময় নষ্ট নয়। বেশি সময়ও তো নেই আমাদের কাছে ।তাই না ?তুমি যোগাযোগ করো মেয়েদের সঙ্গে। আর আমিও কিছু করি ।তুমি আমাকে জানিও কেমন?"
" ঠিক আছে ম্যাম।"
"ফোনটা কেটে দিতেই ফোন আসলো।রেখা শুকনো জামা কাপড় গুলো ভাঁজ করছিল ।এই সময় আবার কে ফোন করল? 
"হ্যালো।"
"ম্যাডাম।"
" ও আপনি? "
'আমার লেখা রেডি আছে। আমি পাঠিয়ে দেব। "
কথা শুনে হো হো হেসে  সম্পাদক বললেন
" আমি জানি আপনার লেখা রেডি থাকবে। আমি একটা অন্য ব্যাপারে ফোন করেছি।"
"রেখা একটু আশ্চর্য ও কৌতুহলী হয়ে বলল' অন্য ব্যাপার !কি বলুন তো? '
সম্পাদক হেসে বললেন' সেরকম ভয়ানক কিছু নয়।সামনে বসন্ত উৎসব। বসন্ত উৎসবের ওপর কিছু লিখুন"
রেখা একটু জোরে শ্বাস টেনে  নিয়ে বলল'। ও আচ্ছা আচ্ছা।'
"সবাই ভালো আছেন তো আপনারা ?"
"হ্যাঁ ভালো আছি।"
" আপনি?"
"আপনারা ভালো ভালো লেখা পাঠাচ্ছেন ।ভালো না থেকে পারি। ভালো লেখা না পেলেই তো মনটা খারাপ হয়ে যায়।"
রেখা এক গাল হেসে দিল।
"এরকম হাসি খুশি থাকুন, "
"রাখছি তাহলে ম্যাডাম'।
Ok
রেখা দৌড়ে ছাদে চলে আসলো। আরো কিছু জামা কাপড় রয়েছে সেগুলোকে তোলার
 জন্য ।ছাদে একটা মিষ্টি হাওয়া বইতে শুরু করেছে । বসন্ত আসলে এরকমই মন প্রাণ জুড়ে যেন বসন্তের বাতাস বইতে থাকে। লেখার ছাদে গুনগুন করে গাইতে লাগলো। বাতাসে বহিছে প্রেম, নয়নে লাগিল নেশা, কারা যে ডাকিল পিছে।বসন্ত এসে গেছে।সবার বাড়ির ছাদের জামাকাপড় কেউ না কেউ তুলছে। রেখা ছাদ থেকে দেখছে পাশেই গঙ্গা নদী বয়ে চলেছে ।সেই জলের ধারাটার দিকে তাকিয়ে রেখা  এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলো আর ভাবল জীবনের চলার নামই গতি। ঠিক যেমন নদী বয়ে চলে। সহস্র শৈবাল দাম আর পঙ্কিলতা যেদিন তাকে গ্রাস করে তখন তার গতি হারিয়ে ফেলে ।তখনই যেন সে সমস্ত কিছুতে রুদ্ধ হয়ে যায়। মানুষের জীবনটাও ঠিক একই রকম জীবনের গতি যদি রুদ্ধ হয়ে যায়, তখনই জবুথবু হয়ে যায়। রেখা ভেতরে দিক থেকে খুবই উইক ফিল করে। বেশ কয়েকদিন ধরেই শুধুমাত্র মনের জোরে এগিয়ে চলেছে। ও জানে এর গতি থামিয়ে দিলে সে একেবারে পড়ে যাবে ।ছোটন্ত ঘোড়া যেদিন বসে যায় সেদিন যেমন তার চলার কোন আর গতি ফিরে পায় না ।তাই সে মনের জোরে চলছে ডাক্তার দেখাতে যাবে যাবে করছে কিন্তু পেরেই উঠছে না ।কিছু না কিছু কাজ পড়ে যাচ্ছে। নদীর দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে জামা কাপড় গুলো তুলে নিচে নেমে আসলো ততক্ষণে অনেকটা সময় কেটে গেছে নিজেকে নিয়ে বেশ খানিকটা সময় আজকে রেখা দিয়েছে ভাবার কিন্তু না ,গোধূলির ম্লান আলো ক্রমশ সরে যাচ্ছে অন্ধকার হয়ে আসতে চারিদিকে। সন্ধ্যে দিতে হবে।
ছাদ থেকে নেমে আসলো। নেমে আসতেই মনোজ বলল "এতক্ষণ কি করছিলে ছাদে?"
রেখা খুব মিষ্টি করে হেসে বলল নিজেকে আবিষ্কার করছিলাম বসন্ত বাতাসে গো।'
মনোজ বলে "মাঝে মাঝে যে তুমি কি বলো না? চা দেবে এখন?"
"কি ব্যাপার মহাশয়, আজকে এত তাড়াতাড়ি চা চাইছো?"
"চায়ের নেশা চেপেছে।।
সুরোদের ওখানে গিয়ে না হাবিটটা কেমন বদলে গেল দেখো ।"
"সত্যি ঠিকই বলেছ? কি করে যে দিনগুলো কেটে গেল।"
"বেশ ভালো সময় কাটালে বলো?"
"তা অবশ্য ঠিক বলেছ। এত ব্যস্ততা, কর্ম ক্লান্তি সব মিলিয়ে মিশিয়ে এইটুকু যেন রিফ্রেশমেন্ট এর দরকার ছিল।"
"একদমই তাই।"
"এই জন্যই তোমাকে মাঝে মাঝে বলি হাজবেন্ড ওয়াইফ এর মাঝে মাঝে কোয়ালিটি টাইম স্পেন্ড করা উচিত। এদিক-ওদিক বেরিয়ে পড়া..।"
রেখা কথা বলতে বলতেই খেয়াল করল দরজার কাছে রেখার ননদ আর শাশুড়ি মা দাঁড়িয়ে।
চুপ করে যাওয়াতে মনোজ রেখার মুখের দিকে তাকালো, রেখা ইশারায় দরজার দিকে দেখালো।
"তোমরা ওখানে কি করছ মা ,দিদি? ঘরে এসো,?"
বলতে বলতেই মনোজের মা আর দিদি ঘরে আসলো।
মনোজ বেশ ভালো মত বুঝতে পারছে কিছু একটা বলবে।
"কিছু বলবে মা?"
"হ্যাঁ, মানে, কি রে বল মনামি?"
"এত আমতা আমতা করছ কেন? বল কি বলতে এসেছ?"
"বলছি ভাই, আমি তো বেশ কয়েকদিন হল এসেছি ।এবার আমি যাব তা মা কয়েকদিন আমার কাছে থাকুক না ?কি বলছিস?"
"আমি কি বলবো ।বরাবর তো তোমরাই বলে এসেছ ।তোমরাই বল কি করবে?"
"বললেই কি  থাকবে ?না যাবে না ,কোনটা?
তাও তো এখন বলতে এসেছ। যাবে কি, যাবে 
না ?মাঝে তো তাও বলতে না।"
"ঠিক আছে মা ,তুমি কি চাইছো?"
"না বলছি কি শোন, ও একা যাবে? আমিও যাই ওর সঙ্গে ।কদিন  আবার থেকে আসি।₹
"এক জায়গায় থেকে ভালো না লাগলে ,ঘুরে 
এসো ।অসুবিধা কোথায়?"
" কবে যেতে চা ই ছো?"
"আগামীকাল?"
"ঠিক আছে তাই হোক।"
"কিন্তু বলছিলাম কি ভাই.. মনামী মাকে ধাক্কা দিয়ে বলল 'তুমি বলো না?'
মনোজ মনে মনে ভাবতে লাগলো কিছু একটা প্ল্যান করেছে এরা।"
"মানে গাড়ী বলে দিস .. "
কথা শেষ না হতেই মনোজ  বলল'তাহলে খুব ভালো হয় তাইতো?'
তখন মনামী আর মনোজের মা দুজনেই উচ্ছ্বসিত হয়ে বলল' হ্যাঁ।'।
ওকে তাহলে" পার্থকে বলে দিচ্ছি।"
ফোন করতে হবে ।ওদের গাড়িটা কি আবার বুক আছে কিনা ,কে জানে?"
রেখা চা করতে চলে গেল। রান্নাঘরে চা করতে করতে রেখা মনে মনে ভাবতে লাগলো কদিনের জন্য একটু হাফ ছেড়ে বাঁচবে।
চা এনে সবাইকে সার্ভ করল। মনোজকে কাপটা ধরিয়ে দিল। তখনও মনোজ  ফোন বুক থেকে ফোন নম্বর ঘেঁটে বের করছে ।কারণ যে নম্বরটা সেভ করা আছে ,সে নম্বরটা সুইচড অফ আছে ।অন্য আরেকটা নম্বর দেয়া আছে। সেটা দেখবে এখন। মনোজ ফোন করল ।ফোনে রিং হতে লাগলো।
'হ্যালো'
"পার্থ,আমি মনোজ দা বলছি।"
"হ্যাঁ দাদা বলো।
কদিন তোমরা বাড়ি ছিলে না, না?"
"বিয়ে বাড়িতে গেছিলাম।"
"সব ঠিকঠাক আছো তো?
বৌদির শরীর ভালো আছে?"
"হ্যাঁ,সবাই ভালো আছে।"
শাশুড়ি আর  ননদ মুখ ভেংচি কেটে বলল" দেখো এই মেয়ে মানুষটার কথা কেমন নির্লজ্জের মত জিজ্ঞেস করছে।"
ঠাকুর ঘরে যেতে যেতে রেখা কথাটা শুনতে পেল।
"হ্যাঁ যে জন্য ফোন করেছি। কালকে গাড়ি দিতে পারবে?"
"আগামীকাল?"
"হ্যাঁ আসলে মা আর দিদি যাবে ।"
"কোথায়? হালিশহর?"
"হ্যাঁ।"
"আসলে দাদা বিয়ে বাড়ি আছে তো। একটু আমাকে দেখে বলতে হবে। আচ্ছা আমি ড্রাইভারকে ফোন করি? দশ মিনিট সময় দাও দাদা, জানিয়ে দিচ্ছি।"
Ok
ফোনটা রেখে দিল ।মনোজের মা মনোজের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল। মনোজের  দিদি বলল "তাহলে কি গাড়ি পাওয়া যাবে না ভাই?"
"পাওয়া যাবে না কেন সবারই তো এখন সিজন চলছে ।এবার তোমরা হুট করে বললে কালকে যাবে। দেখি কি বলে?"
মনোজের মা বলল "পার্থর গাড়ি নিতে হবে এমন কি কথা আছে ?অন্য কোন গাড়ি নেই?"
মনোজ বলল "দেখো মা, পার্থ আমাদের বিশ্বস্ত পাশের বাড়ি। ওর গাড়িতেই আমরা সব জায়গায় যাতায়াত করি। নিশ্চিন্ত এবার অন্য অচেনা অজানা একটা গাড়িতে যাবে সেটা ভালো হবে কি?"
মনামী বললো "ভাই তো ঠিক কথাই বলছে মা।"
মনোজের মা চুপ করে গেল।
মনোজ বলল" হ্যাঁ রে , জাইবু তো একবারও ফোন করলো না। এতদিন থাকলি?"
মনামির মুখটা কেমন ফ্ পানসে হয়ে গেল ।
মনোজ সেটা খেয়াল করল  মনোজ মনে মনে ভাবতে লাগলো। তাহলে কি দিদি জামাইবাবুর সঙ্গে কোন সমস্যা হচ্ছে ওদের?'
"মুখ ফুটে কিছু বলল না। ও যদি কিছু না বলে ,ওর ও বলাটা ঠিক হবে না। ওরা নিজেরা নিজেদের সমস্যা মিটিয়ে নিতে পারবে ।ভালো।"

মনামী শুধু বলল" হয়তো ব্যস্ত আছে।
তারপর মায়ের দিকে তাকিয়ে বলল মা চলো গোজগাছ করে নিই। গাড়ি পেলে ভালো ,না হলে ট্রেনে বেরিয়ে যাব।"
মনোজ বলল "কেন কালকেই যেতে হবে আর একটা দিন ওয়েট করলে তোদের কি অসুবিধা হবে।"
"না রে ভাই কালকেই যেতে হবে।"।
মনোজ দেখল "ওর দিদি জোর দিয়ে যখন কথা বলছে, নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে ।ঘাটাতে চাইল না।।
"দেখ যেটা ভালো বুঝিস করবি।"
মনামী আর মনোজের মা বেরিয়ে গেল রুম থেকে মনামীর বুকের ভেতরটা কেমন যেন ধুকপুক করতে লাগলো। কি জানি এখনো কেউ অতী ন রেগে আছে মনামির উপর। কতদিন হয়ে গেল এসেছে  একবারও ফোন পর্যন্ত করলো না। পরশু একটা রেকারিং ম্যাচুরিটি আছে।'
"বাড়িতে গিয়ে কি মূর্তি দেখবে কে জানে?"যাই হোক দুগ্গা দুগ্গা দুগ্গা  করে যেতে হবে।

নাসিমা মিশু এর কবিতা "জীবন কথা"




জীবন কথা 
নাসিমা মিশু

আনা যার জীবন 
একলা একা 
আপনার সাথে আপনার কথা বলা
কিবা যায় আসে তাতে 
গভীর নিশুতি কিংবা গনগনে মধ্য দুপুর 
সাঁঝ আঁধারি অস্তের দিগন্তে মিলিয়ে যাওয়ায় 
সকল মৃত সময় নিয়ে একান্তে আপনার মাঝে 
আপনি হারা.....
সকল প্রশংসিত শুভ সময় আপনার চেয়েও আপন
হোক আমিহীন পৃথিবীব্যাপি 
সকল জাগ্রত ক্ষণ হোক প্রিয় সান্নিধ্যে ধরণীতল 
একলা একা নয়,দোহেতে দোঁহে 
হোক শিহরণ পুলকিত আবেশে 
হোক প্রকটিত আলোকিত দিবালোকে
মাতাল বাদলের স্বপ্ন ঘোর মাদকতায়
মধ্য রাতের চাঁদনী প্রহরে অরণ্য কুঞ্জ সুধা আহরিত ঝিরিঝিরি মৃদু তরঙ্গ উতঙ্গে-

তারপর ! তার-ও পর 
পরের ও পর 
সকল মৃত জাগ্রত একক একা সময় গুলো 
এক অদ্ভুত দর্শনে এক মেরুতে সম এবং সমান।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮২




ধারাবাহিক উপন্যাস 

শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮২)
শামীমা আহমেদ 


সারারাত মায়ের খেয়াল রেখে শায়লা ভোরের দিকে মায়ের পাশে ঘুমিয়ে পড়েছিল। ঘুম ভাঙতেই মোবাইলে সময় দেখে নিলো। সকাল ছয়টা।শায়লা তার মেসেজ চেক করলো।নাহ ! শিহাবের কোন মেসেজ নেই। মা অসুস্থ তাই হয়তো শিহাব তাকে কোন বিরক্ত করেনি। শায়লা বিছানা ছাড়ল। রাতে মা একেবারেই কোনরকম সমস্যা করেনি।বেশ ঘুমিয়েছেন।শায়লা বুঝতে পারলো  গতকাল সারাদিন তাকে দেখতে না পেয়েই মা অসুস্থ হয়ে গিয়েছিল। শায়লা ঝটপট বিছানা ছাড়লো। সে  ফ্রেশ হয়ে নিলো। বারান্দায় গিয়ে শিহাবকে বেশ কয়েকটা কল দিলো।নাহ ! শিহাব কল ধরলো না।হয়তো সারারাত তার জন্য জেগে এখন ঘুমিয়ে পড়েছে। শায়লা শিহাবকে মেসেজ পাঠালো। শিহাব আমার বাসার কাছে চলে আসো। সবাই ঘুমিয়ে আছে। মা ভাল আছে। আমি এখুনি তোমার সাথে বেরুবো।তুমি বাইক নিয়ে দ্রুতই আমার বাসার কাছে চলে আসো। শায়লা মেসেজ দিয়ে নিজের ঘরে চলে গেলো। গতকাল সারাদিন একই কাপড়ে ছিল।সে শাড়ি বদলে নিলো।একটা নীল শাড়ি পরে নিলো। আয়নায় নিজেকে দেখে চুল ঠিক করে নিলো। মোবাইলে মেসেজের রিপ্লাইয়ের জন্য অপেক্ষা করতে লাগল নাহ ! শিহাব মেসেজ সিন করেনি। কিন্তু দেরি হয়ে যাচ্ছে।যে কোন সময় মা বা রাহাত জেগে যেতে পারে। সে আর শিহাবের মেসেজের অপেক্ষা করবে না। শিহাবের বাসা তার চেনাই আছে। খুব কাছেই সেক্টর তের তে। শায়লা হাতে হ্যান্ড ব্যাগটা নিয়ে এক গ্লাস পানি খেয়ে নিলো। কাল রাতে কিছুই খাওয়া হয়নি। কেউ তাকে সেধে খাবার খাওয়ায় নি।মনে হলো, রাহাত তার উপর কিছুটা বিরক্ত। তবে শায়লা সেটা আমলে নেয়নি। তার নিজের জীবনের সিদ্ধান্ত তার।এখানে রাহাকে খুশি করতে সে বাধ্য নয়।  সেই যে গতকাল দুপুরে শিহাবের সাথে  দিয়াবাড়িতে বার্গার খাওয়া হয়েছিল আর কিছুই খাওয়া হয়নি।শায়লা দরজার কাছে এগিয়ে গেলো। দরজা খোলার চেষ্টা  করতেই দেখা গেলো ভিতর থেকে দরজা লক করা ! শায়লা ভীষণ অবাক হলো ! যদিও দরজায় আগে থেকেই লক সিস্টেম ছিল কিন্তু কোনদিন তা  ব্যবহারের প্রয়োজন পড়েনি। তবে আজ কেন ? আর চাবিটাই বা কার কাছে ? নিশ্চয়ই রাহাতের কাছে। শায়লা রাগে দুঃখে বেশ কয়েকবার দরজা ঝাঁকুনি দিলো। শায়লার ভীষণ কান্না পেলো।শিহাবের জন্য তার মন অস্থির হয়ে উঠলো। সে দরজার সামনে ফ্লোরে বসে কাঁদতে লাগলো। সে বুঝলো গতরাতে তার ফিরে আসা উচিত হয়নি। নিশ্চয়ই শিহাব তার প্রতি অভিমানে কল রিসিভ করছে না। কিন্তু শিহাবতো সবই জানে।সেতো তাকে বলেছে,আমি সকালে চলে আসবো। কিন্তু এখন শিহাব এলেও তারতো বেরুবার কোন উপায় নেই।কেমন করে ছোট ভাইকে বলবে দরজা খুলে যাও আমি শিহাবের কাছে যাবো।উফ! শায়লা কিছুই ভাবতে পারছে না। সে উঠে দাঁড়ালো। নিজের ঘরে গিয়ে  দিশাহীন হয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিলো। অতিরিক্ত টেনশনে কখন যেন চোখ বন্ধ হয়ে এলো।

সকাল আটটার দিকে শিহাবের ঘুম ভাঙল। চোখ মেলেই সে মোবাইলের খোঁজ করলো। আশেপাশে তাকাতেই দেখলো,রিশতিনা  তার পাশে ঘুমিয়ে আছে। শিহাব ধরফর করে বিছানায় উঠে  বসলো। রিশতিনা কেন তার পাশে ? শায়লা কোথায় ? কালতো সে শায়লাকে দেখেছিল। শায়লা তার জন্য কফি বানিয়ে আনলো।তবে কি সে ঘোরের মধ্যে ছিল ? শায়লার কথা মনে হতেই সে মোবাইল হাতে নিলো। মোবাইল  অন করতে চাইলে দেখলো, একেবারেই চার্জ নেই।মোবাইল বন্ধ হয়ে আছে। শিহাব দ্রুত মোবাইল চার্জে দিলো। শিহাবের মনে পড়লো শায়লা বলেছিল,সকালে সে চলে আসবে। শিহাব ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিলো। রিশতিনা তখনো ঘুমাচ্ছে।শিহাব রাতের কথা কিছুই মনে করতে পারছে না। শুধু মনে পড়ছে, অন্ধকার ঘরে সে শায়লার মুখখানি বারবার দেখছিল। শায়লা তাকে বেশ জোরে আকড়ে ধরেছিল। শিহাব দেখলো খাটের পাশে সাইড টেবিলে ট্রেতে দুইকাপ কফি আর বিস্কিট ওভাবেই আছে। 
শিহাব মোবাইলের কাছে এগিয়ে গেলো। ফোন অন হতেই শিহাব ভীষণ ভাবে চমকে গেলো। শায়লার পাঁচটা মিসড কল ! শায়লার মেসেজ ! মেসেজ পড়ে শিহাব ভীষণ অস্থির হয়ে গেলো। শায়লা তার জন্য অপেক্ষা করছে। সে এক্ষুণি বেরুবে। শায়লাকে নিয়ে আসবে। মোবাইল থেকে চোখ তুলতেই দেখলো, রিশতিনা জেগে গেছে। বিছানায় ভীত চাহনিতে  শিহাবের দিকে তাকিয়ে আছে। শিহাবের কি নিয়ে এত ব্যস্ততা বুঝার চেষ্টা করছে। এবার শিহাব বেশ রাগত কন্ঠে রিশতিনার দেকে তাকিয়ে জানালো, শায়লার মেসেজ এসেছে। আমি শায়লাকে আনতে যাচ্ছি। এখন থেকে শায়লা এখানে থাকবে।আমরা দুজন এখানেই থাকবো।আরাফকে নিয়ে আসবো।শায়লাই হবে আরাফের মা।আমি আশা করি তুমি বুঝতে পেরেছো আমি কি বলতে চাচ্ছি। গতকাল দুপুরে শায়লাকে এখানে নিয়ে এলে আজ এমন পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না। শিহাবের সব রাগ যেন রিশতিনার উপরে গিয়ে পড়লো। শিহাব শায়লার মেসেজের রিপ্লাই দিলো। শায়লা আমি এখুনি আসছি। শিহাবের মেসেজ শায়লার কাছে মূহুর্তেই পৌছে গেলেও শায়লা ভাঙা মন আর অবসন্ন দেহ  নিয়ে নিজের বিছানায় গুটিশুটি হয়ে গভীর ঘুমে রয়েছে। শিহাব হাতে বাইকের চাবি আর হেলমেট নিয়ে রিশতিনাকে আবার স্মরণ করিয়ে দিলো, আমি শায়লাকে আনতে যাচ্ছি।তুমি তোমার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিবে আশা করি। বলেই শিহাব দরজা খোলা রেখেই দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলো। 
রিশতিনা হতভম্ব হয়ে বিছানায় বসে রইল।কাল রাতের শিহাবকে এখন খুব অচেনা লাগলো। যদিও অন্ধকার ঘরে সে তাকে বারবার শায়লা শায়লা নামে ডাকছিল। বারবার করুন সুরে শায়লাকে ডাকছিল।ঘুমের মাঝেও সে শায়লাকে ডেকেছে।
তার মোবাইলে শায়লা আর আরাফের ছবি। রিশতিনা বুঝে নিলো শিহাবের পুরো মন প্রাণ জুড়ে শুধুই শায়লা।তার জন্য মনের এক বিন্দুও জায়গা রাখেনি। রিশতিনার চোখ জলে ভরে উঠলো। সে মোবাইল হাতে নিলো, রোমেল ভাইয়াকে ফোন দিলো। দুটো  রিং হতেই  রোমেল  কল রিসিভ করলো।রিশতিনা জানালো, ভাইয়া আমি আজ ইংল্যান্ডে ফিরে যেতে চাই।আমার টিকেট করাই আছে।আজ সকাল দশটায় একটা ফ্লাইট আছে।তুমি আমাকে এয়ারপোর্টে পৌঁছে দিবে। তোমার গাড়ি নিয়ে চলে আসো আর  যদি তুমি না আসো, আমি একাই চলে যেতে পারবো। রিশতিনার  সবকথা শুনে রোমেল একেবারেই নিশ্চুপ হয়ে রইল।তার সব চেষ্টাই ব্যর্থ হলো।বোনটাকে তার স্বামী সংসার ফিরিয়ে দিতে পারলাম না। রোমেল বুঝে নিলো, কেউ যদি একবার মন থেকে সরে যায় আর তাকে ফিরিয়ে আনা যায় না।রিশতিনার জন্য রোমেলের খুব কষ্ট হতে লাগল।
রিশতিনা নিজের ব্যাগপত্র গুছিয়ে রোমেলের জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো। সে কোন্ মুখ নিয়ে মায়ের কাছে ফিরে যাবে। মায়ের কথাই সত্য হলো। শিহাব তাকে আপন করে গ্রহন করলো না। রিশতিনা এবার শুধু শিহাব নয়,সাথে নিজের সন্তান,দেশ মাটি সংসার সবই কিছুই চিরতরে ছেড়ে যাচ্ছে। রিশতিনা কান্নায় ভেঙে পড়লো।
শিহাব  শায়লাদের বাসার মুখোমুখি এপার্টমেন্টের সামনে এসে বাইক থামালো।মোবাইল ওপেন করে শায়লার মেসেজ খুজতে লাগলো। নো রিপ্লাই। শিহাব শায়লাকে কল দিলো। 
 কল শুনে শায়লার ঘুম ভাঙল। সে কল রিসিভ করতেই শিহাব তার কাছে ভীষণভাবে ক্ষমা চাইল। সে ঘুমিয়ে পড়েছিল। তাইতো সকালের মেসেজ দেখা হয়নি।শায়লা তাকে শান্ত করলো।কোন অসুবিধা নেই শিহাব।তুমি মেসেজ দেখে আসলেও আমি বেরুতে পারতাম না। বাসার দরজায় ভেতর থেকে লক করা আর চাবি রাহাতের কাছে। আজ রাহাত ছুটি নিয়েছে।আজ দুপুরে নোমান সাহেব আসবেন।
তাকে সবাই এয়ারপোর্টে আনতে যাবে। তিনি কয়েকদিন পর আমাকে নিয়ে কানাডায় ফিরবেন। শিহাব আমি কানাডা যেতে চাইনা।আমি তোমার কাছে যেতে চাই। তোমার কাছে সারাজীবন থাকতে চাই। তুমি দুপুরে এসে আমাকে নিয়ে যাবে।
শিহাব সব শুনে গতকাল তার বোকামির জন্য নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগল। যে করেই হউক আজ শায়লাকে তার কাছে নিয়ে যেতেই হবে। শিহাব সারাদিনএখানেই বাইক নিয়ে বসে থাকবে।তবে ভাবনা এলো, এখনতো একটু শায়লাকে দেখতে পারি।
সে মেসেজ করলো,
শায়লা একটু বারান্দায় আসবে ?
শায়লা খুবই অবাক হলো !  তুমি এখন কোথায় শিহাব ? 
আমি তোমার বারান্দার মুখোমুখি বসে আছি। তুমি বারান্দায় এলে তোমাকে একটু দেখতাম। শিহাবকে দেখার জন্য শায়লারও মন ছুটে গেছে। সে এক দৌড়ে বারান্দায় চলে এলো, দেখা গেলো শিহাব বাইক নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে আর পরনে গতকালের একই পোশাক। চুল এলোমেলো। মুখচোখ বিধ্বস্ত লাগছে। তাহলে কি শিহাব ওভাবেই ঘুমিয়ে ছিল ? শিহাবের জন্য শায়লার খুব মায়া হতে লাগলো। ইচ্ছে করছে এক ছুটে তার কাছে চলে যেতে কিন্তু লক দরজা এখনো খোলা হয়নি। রাহাত ঘুম থেকে এখনো জাগেনি।
শায়লা মেসেজে শিহাবকে জানালো,তুমি নাস্তা করে এসো। এভাবে বসে থেকোনা।আমি যোগাযোগ করবো। তুমি এখন বাসায় ফিরে যাও। কিন্তু শিহাব এখন বাসায় ফিরবে না। রিশতিনাকে আল্টিমেটাম দিয়ে এসেছে।
সে না বেরুলে শিহাব বাসায় ঢুকবে না। সে বিল্লালের কাছে কল করে খোঁজ নিলো।বিদেশি ম্যাডাম বেরিয়েছে কিনা ? বিল্লাল জানালো হ্যাঁ, একজন ছার গাড়ি নিয়া আসছিলো। ম্যাডাম তার গাড়িতে উইঠা চইলা গেলো।ম্যাডাম খুব কানতে ছিল ছার।যাওয়ার আগে আমারে একশ টাকা বখশিশ দিয়া গেছে। শিহাব সব শুনে নীরব হয়ে রইল। শায়লাকে দেখতে না পেয়ে বাইকে স্টার্ট দিলো।নাস্তা সেরে কাপড় পালটে সে আবার এখানে চলে আসবে। শায়লার মেসেজের অপেক্ষায় থাকবে। শিহাবকে বিদায় জানিয়ে শায়লা মায়ের ঘরে গেলো।ঘুমন্ত মায়ের মুখটা দেখে শায়লা অঝোরে কেঁদে দিলো।


চলবে.....

Ytgg

LOVE

Hhg

LOVE

Ggtg

LOVE

০১ এপ্রিল ২০২২

কবি শামরুজ জবা এর কবিতা "তোমার জন্য"




তোমার জন্য 
শামরুজ জবা 

তুমি আসবে - এসে - একটু
বসবে ? 
বক্ষ কিনারে ?
তোমাকে ভালোবাসার রঙে আলপনা এঁকে দিব তোমার শরীরে। 

তুমি বসবে - পাশে এসে ?
আমার সাদাকালো জীবনের গল্প শোনাবো। 

তুমি তাকাবে একটু ?  এখন 
আমার দিকে 
আমার কাব্যের মাঝে, 
তোমাকে খুঁজে পাবে। 

তুমি একটু হাসবে ? 
আমার পাশ ফিরে -
আমার স্নায়ুকলায় দেখবে 
তোমার প্রতিচ্ছবি। 

তুমি আসবে দু'কদম এগিয়ে ? 
আধো আধো কথা শোনাতে-
আমার মাঝে দেখবো, 
তোমার অস্তিত্বের আবুরণ।

তুমি আসবে কখনও ? 
এলো চুলে- খেয়ালের ভুলে- 
আমি পবন রূপে স্পর্শ করবো 
উষ্ণতা। 

তুমি যদি আসতে কখনও 
তাহলে সাদাকালো বেশ ছেড়ে 
রাঙা - নাঙা - পায়ে - বেনারসি পড়ে 
শ্বাস - প্রশ্বাসের মাঝে নিজেকে সাজিয়ে রাখতাম। 

তুমি হয়তো-বা আসবে 
শত ধিক্কার দিতে,
তখন দেখবে, আমার কপোলের জলে 
তোমাকেই তুমি। 

আমাতেই তুমি মিশে রবে- শতরুপে তুমি।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮১




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮১)
শামীমা আহমেদ 

রিশতিনা  সারাটা সকাল দুপুর বিকেল সন্ধ্যা কাটিয়ে এখন রাত প্রায় আটটা বাজতে চললো। সে সারাদিন ঘরে একা একাই সময় কাটালো।মাঝে কাজের বুয়া এলেও খুব একটা কথা বলা হয়নি।তবে বুয়ার মনের ভেতর  অনেক কথা, যা  সে বলতে চায় কিন্তু রিশতিনা সেদিকে একেবারেই কোন আগ্রহ দেখায়নি। একরকম দম ফাপড় করা অবস্থায় সে কাজ সারলো।বুয়াকে বিদায় দিয়ে রিশতিনা আবার একা হয়ে গেলো। 
 দুপুরের দিকে ইংল্যান্ড থেকে রিশতিনার  মা কল দিয়েছিল।তিনি খুব কান্নাকাটি করলেন। তিনি বলেই চললো,শিহাবের পরিবারের সাথে তোর কোনদিনই মিলবে না মা। তোর এই বিয়ে নিয়ে  আত্মীয়স্বজনেরা নানান কথা বলছে।  রিশতিনা যেন শিহাবের কাছ থেকে চলে আসে বারংবার তিনি সে কথাই বলে যাচ্ছিল।রিশতিনা ভেবে দেখলো আজও মা শিহাবকে আপন করতে পারেনি। আজো মেয়ের মন, মেয়ের সংসার তার কাছে কোন বিবেচনায় আসে না।অথচ তারই মেয়ে শিহাবের এতটুকু মনযোগ পাওয়ার আশায় সবকিছু পিছু ফেলে এসেছে। শিহাবকে আপন করে পেতে দিনরাত কেঁদে যাচ্ছে। রিশতিনা ভাবলো পৃথিবী সৃষ্টির লগ্ন থেকেই মনে হয় এই ধনী গরীব আর ভালবাসার প্রশ্নে পিতামাতা আর সন্তানের মাঝে দ্বন্দ চলে আসছে। 
রিশতিনা সারাদিন এ ঘর ওঘর বারান্দা কিচেন করে সময় কাটিয়েছে। আর এতেই যেন সে শিহাবের স্পর্শ খুঁজে নিয়েছে। শিহাবের রেখে যাওয়া ভেজা টাওয়েল,শিহাবের ছেড়ে যাওয়া পোষাক, কফি মগ,চায়ের কাপ,বিছানা, বালিশ, শিহাবের ছুঁয়ে যাওয়া বেসিনের কল,শেভিং ব্রাশ,রেজর, শিহাবের ঘুমিয়ে থাকা এলোমেলো সোফার গদি,শিহাবের এস্ট্রে,লাইটার, কয়েকটি শলাকার বেন্সনের প্যাকেট, টিভি রিমোট, দরজার হাতল, রিশতিনা সবই ছুঁয়ে ছুঁয়ে শিহাবের স্পর্শ অনুভব করেছে। শিহাবের ব্যবহৃত সুগন্ধির আবেশ সারাটিদিন ঘরময় সুবাস ছড়িয়েছে। রিশতিনা যেন স্বেচ্ছায়  শিহাবের ফ্ল্যাটে  বন্দীত্ব বরণ করেছে। যদিও সকালের পরপর কাজিন রোমেল ভাইয়ার সাথে তার কথা হয়েছে।গতরাত থেকে ঘটে যাওয়া সব কিছু সে রোমেলকে জানিয়েছে। শিহাবের সাথে দেখা হওয়ার পর কি কথা  হয়েছে বা শিহাব তাকে কিভাবে গ্রহন করেছে তার সবই জানিয়েছে। রাতে এক ডাইনিংএ খাবার খাওয়া,আলাদা রুমে ঘুমানো,অফিসে যাওয়ার আগে কি বলে গেছে রিশতিনা রোমেলকে সবই জানিয়েছে। শিহাবের খুবই কাছের বন্ধু রোমেল। রিশতিনাকে রোমেল ভাইয়ার শুধু একটাই নির্দেশনা, রিশতিনা, আমার বন্ধুটা খুবই ভালো মনের একজন মানুষ। তাকে ফিরে পেতে হলে  তোমাকে আরো অনেক কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে। অবশ্য রিশতিনার তাতে এক বিন্দুও আপত্তি নেই। সে যে করেই হউক শিহাবের মনে আবার তার জন্য ভালবাসা জাগিয়ে তুলবে। যদিও শিহাব  সারাদিন একটা ফোন কল করেও তার কোন খোঁজ নেয়নি। রিশতিনার ফোন নাম্বার আছেই কিনা সেটাও রিশতিনা নিশ্চিত নয়। সে নিজেও শিহাবকে কল করে বিরক্ত করেনি।সারাদিন গান শুনে টিভি দেখে আর নিজের সাথে আনা কিছু ফ্যাশন ম্যাগাজিন দেখে সময় কাটিয়েছে। ফ্রিজে যথেষ্ট খাবার জমা আছে।কিন্তু রিশতিনা ঐসব বাঙালি খাবারে একেবারেই অভ্যস্ত নয়। সেসব রান্না করাতো দূরের কথা। সে কফি আর সাথে কুকিজ খেয়েই দুপুর পার করেছে।রাতের জন্য অনলাইনের অর্ডার করে একটা পিজা আনিয়ে রেখেছে। রাতে শিহাব ফিরলে দুজনে একসাথে খাবে।
কিন্তু শিহাব কখন ফিরবে বা সাধারণত কখন ফেরে তা কেয়ারটেকার বিল্লালের কাছে রিশতিনা জানতে চেয়েছিল।বিল্লাল ঠিক গুছিয়ে সময়টা বলতে পারেনি। তাই শুধু অপেক্ষা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই।
শায়লা মায়ের স্ট্রোকের খবর জেনে কান্নায় ভেঙে পড়লো। শিহাব মেসেজ পড়ে সবটা বুঝে নিলো। দুজনার আজ রাতের সকল পরিকল্পনা ভুলে গিয়ে শিহাব শায়লাকে বাসায় নামিয়ে দিয়ে আসতে চাইলো।ওরা দ্রুতই লিফটের সামনে এসে দাঁড়ালো।
শিহাব বাইকে শায়লাকে নিয়ে দ্রুতই চলে এলো। শায়লাদের বাসার সামনে এম্বুলেন্স দাঁড়ানো। শায়লা অবিরল ধারায় কেঁদেই যাচ্ছে। শিহাব তাকে সান্ত্বনা দিয়ে জানালো, আমি একটু দূরে আড়ালে বাইক নিয়ে অপেক্ষায় আছি।তুমি ভেতরে গিয়ে আমাকে  ফোনে জানাবে তোমার আম্মা কেমন আছেন।কোন হসপিটালে নিতে হলে আমাকে জানাবে।যেহেতু রাহাত এখনো ফিরেনি,অবশ্যই আমাকে জানাতে দ্বিধা করবে না। শায়লা শিহাবের বাইক থেকে নেমে গেলো। সে  পিছনে শিহাবের দিকে আর না তাকিয়ে কেঁদে কেঁদে দৌড়ে  বাসায় ঢুকে গেলো। শিহাব বাসা থেকে একটু দূরে একটা এপার্টমেন্টের পাশে বাইক নিয়ে অপেক্ষায় রইল।
দোতালার দরজা খোলাই ছিল। শায়লা বাসায় ঢুকে সরাসরি মায়ের ঘরে গেলো।বাসায় ডাক্তার ডাকা হয়েছে। তিনি  মায়ের পালস, প্রেসার চেক করছেন। যখন খারাপ লেগেছে তখনকার ডিটেইল জানতে চাচ্ছেন। শায়লা মায়ের বিছানার কাছে দাঁড়ালো। মা শায়লাকে দেখে কেঁদে উঠলেন।ভীষণ আবেগী হয়ে উঠলেন। বিছানার উপরে রুহি খালা মায়ের মাথায় হাত বুলাচ্ছেন।আর বলে যাচ্ছেন, এইতো আপনার শায়লা চলে এসেছে। আপনি আর কান্নাকাটি করবেন না।
শায়লা ডাক্তারের মন্তব্যের জন্য অপেক্ষা  করছে।ডাক্তার সব কিছু শুনে জানালেন, একটা মাইল্ড স্ট্রোক হয়েছে।তবে এখন বিপদমুক্ত। তার সাথে আপনারা স্বাভাবিক আচরণ  করুন। কোন ব্যাপারে যেন উত্তেজিত না হন।বয়স হয়েছে, ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে।রাতে অবশ্যই তার সাথে কেউ থাকবেন।ওয়াশরুমে যেন একা না যায়।
মাকে কি হাসপাতালে এডমিশন করাতে হবে ? শায়লা জানতে চাইল।ডাক্তার জানালেন,না, আজ এডমিশন লাগবে না। 
তবে খুবই খেয়াল রাখতে হবে।
মা বারবার শায়লার হাতটা ধরতে চাইছে। কিন্তু শায়লা নিজেকে ফ্রি রাখতে চাইছে। শিহাবকে কল করে সব জানাতে হবে। শিহাব বাইরে অপেক্ষায় আছে। রুহি খালা মাকে দেখার পাশাপাশি শায়লার গতিবিধিও খেয়াল রাখছে। ডাক্তার ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন।ড্রইং রুমে খালু বসে ছিলেন।শায়লা তা একেবারেই খেয়াল করেন নি।তিনি ডাক্তারের সাথে বেরিয়ে গেলেন।  তবে কি আমরা এম্বুলেন্স ছেড়ে দিতে পারি ? ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে খালু নিচে নামলেন। 
শায়লা বারান্দায় গিয়ে শিহাবকে কল করে সব জানালো। এখনো রাহাত ফিরেনি।মা একা।খুব কাঁদছেন। ডাক্তার রাতে পাশে থাকতে বলেছেন।বলেছেন, ঝুঁকি এখনো আছে। এবার শিহাব জানতে চাইলো,তবে কি তুমি আসবে না শায়লা ? আমি একা চলে যাবো ? তোমাকে রেখে আমি যেতে চাইনা। শায়লা তাকে আশ্বস্ত করলো, রাতের মধ্যে মা সুস্থ হলে,আমি  খুব সকালেই তোমার কাছে চলে আসবো। তুমি জেগে থেকো।
শিহাবের মনটা একেবারে ভেঙে গেলো।তবুও মায়ের শরীরটাই এখন বেশি ইম্পর্টেন্ট।
শিহাব বাইক  নিজের বাসার দিকে তাক করে স্টার্ট দিলো। বারবার তার জীবনে বাধা এসে দাঁড়ায়। তার চাওয়া পাওয়ার কি কোন মিল হবে না। শত অনিচ্ছা সত্বেও এখন রিশতিনার মুখোমুখি হতে হবে। না চাইলেও তার সাথে একই ঘরে রাত কাটাতে হবে। আর শায়লা,মায়ের পাশে বসে শিহাবের জন্য কেবল না পাওয়ার আকুতিতে দীর্ঘশ্বাস ফেলবে।
শায়লা সারারাত দুই চোখের পাতা এক করেনি।সারাক্ষণ মায়ের খেয়াল রেখেছে।রাহাত কয়েকবার মায়ের ঘরে এলেও শায়লার সাথে খুব একটা কথা হয়নি। শায়লার মায়ের অসুস্থতার কথা শুনে কানাডা থেকে নোমান সাহেব শায়লাকে বারবার কল দিচ্ছিলেন। তিনি ফ্লাইটে  উঠে গেছেন। এখন ট্রানজিটে দুবাই এয়ারপোর্টে আছেন।কাল দুপুর নাগাদ বাংলাদেশে পৌঁছে যাবেন। শায়লা যেন তাকে এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে যায়।সে বারবার শায়লাকে অনুরোধ করছে।শায়লা যেন লাল শাড়ি পরা থাকে। সে যেন প্লেন থেকে নেমেই শায়লাকে চিনে নিতে পারে। শায়লা সবকিছু শুনছিল আর তার দুই চোখ থেকে অবিরল ধারায় পানি নেমে আসছিল। 

শিহাব তার ভাঙা মন নিয়ে ফ্ল্যাটের দরজায় এসে দাঁড়ালো। কলিং বেল দিতেই রিশতিনা দরজা খুলে দিলো। সে হাত বাড়িয়ে শিহাবের হাত থেকে হেলমেট আর বাইকের চাবি নিতে চাইলেও শিহাব তাকে এড়িয়ে তা ড্রইং রুমের টেবিলে রাখলো। রিশতিনা শিহাবের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।সে বেশ বুঝতে পারলো, শিহাবের মনটা ভালো নেই। চোখে মুখে কেমন যেন একটা কষ্টের ছাপ। শিহাব তার বেড রুমে গিয়ে ঘরের বাতি নিভিয়ে কাপড় না বদলে বিছানায় সটান হয়ে শুয়ে পড়লো।
রিশতিনা তার মাথার কাছে গিয়ে দাঁড়িয়ে জানতে চাইলো, কোন কারণে তোমার কি মন খারাপ শিহাব ? আমি তোমার জন্য এক কাপ কফি করে আনি ? যদিও রিশতিনার সাথে তার একেবারেই কথা বলতে ইচ্ছে করছে না কিন্তু এখন এক কাপ কফি হলে অন্তত মনের ক্লান্তিটা যেতো। তবে শিহাব নীরবই রইল। শিহাবের কোন বাধা না আসাতে রিশতিনা কফি বানাতে কিচেনে চলে গেলো। 
সে খুব দ্রুতই কফি মেকারে দুই কাপ কফি বানিয়ে  পিরিচে কয়েকটি কুকিজ নিয়ে ট্রে সাজিয়ে আনলো। খাটের পাশের সাইড টেবিলে রেখে সে বিছানায় শিহাবের পাশে বসলো।প্রচন্ড ক্লান্তিতে শিহাব চোখ বন্ধ করে অতল ভাবনায় ডুবে রইল। রিশতিনা শিহাবের হাতে হাত রাখতেই সে চমকে চোখ খুললো! দেখলো, রিশতিনা তার চোখে চোখ রেখে  তাকে ঘেঁষে বসে আছে। শিহাব হাত ছাড়িয়ে নিতে চাইলে সে দেখলো রিশতিনা বেশ শক্ত হাতেই তাকে ধরেছে।শিহাব চট করে উঠে বসতেই রিশতিনা শিহাবকে বেশ শক্ত করে জড়িয়ে ধরে। শিহাব কিছুতেই নিজেকে ছাড়াতে পারছে না। রিশতিনা আরো কাছে এগিয়ে এসে শিহাবের মুখটিকে আদরে আদরে ভরিয়ে দিলো। শিহাব সবকিছুতে একেবারেই অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। রিশতিনা কিছুতেই শিহাবকে আলগা হতে দিচ্ছে না। শিহাব তার শত অনিচ্ছাই রিশতিনার বাহুডোরে আটকে গেলো। রিশতিনার কোন দিকেই খেয়াল নেই।সে চোখ বন্ধ করে তার বহু যুগের তৃষ্ণা মিটিয়ে নিচ্ছিল যেন। রিশতিনা ধীরে ধীরে শিহাবকে আবেশিত করে দিতেই শিহাব নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললো। সে নিজেও বেশ শক্ত হাতে রিশতিনাকে নিজের সাথে আটকে নিয়ে উদ্ভ্রান্তের মত রিশতিনার মাঝে নিজেকে নিয়ন্ত্রণহীন করে দিলো। সে রিশতিনার মাঝে শায়লাকে খুঁজে নিতে চাইছে।শিহাব জীবনের প্রতি ভীষণ এক অভিমান নিয়ে শায়লাকে না পাওয়ার অতৃপ্তি যেন রিশতিনার মাঝে খুঁজে নিতে চাইছে।
সাইড টেবিলে রাখা দুই কাপ কফির ধোঁয়া মিলিয়ে গিয়ে কখন যে ঠান্ডা জল হয়ে গেছে,দুজনের কেউই তা টের পায়নি।


চলবে.....

৩১ মার্চ ২০২২

কবি শর্মিষ্ঠা দাস এর কবিতা "হিসেব"




হিসেব 
শর্মিষ্ঠা দাস

হিসেব মিলছে না
কিছুতেই না
উত্তরের জায়গাগুলো দুর্বোধ্য কিছু কালির আঁচড়ে ভর্তি
ঘুনপোকারা কাটছে সময় ...
পাতার গায়ে লেগে থাকা শেষ জলের বিন্দুর খসে পড়া,
মনে করিয়ে দেয় 
আঁকড়ে ধরার চেষ্টা শুধুই বাহ্যিক 
কবরে শোয়ানো ফুল আজ অনেকদিন হল রঙ হারিয়েছে
জীবিতরাও আজ কফিনবন্দী করেছে সব সূক্ষ্ম অনুভূতি গুলোকে 
জীবন বড় ক্লান্ত 
মৃত্যুর শীতলতা তাই বড়ই কাছের
আশ্লেষে একটা চুম্বন এনে দিক সেই পরমপ্রাপ্তি ।।
  
                                                          
             

কবি আতিয়ার এর কবিতা অগ্রপথিক




অগ্রপথিক
আতিয়ার রহমান 

ছলনার সাথে রাখি বন্ধনে
হারিয়ে স্বর্গকুল
সৃষ্টির সাথী হয়ে এলে নারী 
ফোটাতে মানব ফুল।

অধর ওষ্ঠে মধুর পেয়ালা
বক্ষে দোদুল দিশ
মোহ-ঝর্ণনার প্রেমের জোয়ারে 
ভাসাও অহর্নিশ। 

মমতা শ্রেষ্ঠা স্বপ্নের ভোর 
রোদ্র করোজ্জল
রাতের আঁধারে চন্দ্রকলায়
স্নিগ্ধ নীলোৎপল। 
 
উসর মরুতে ঝরা নির্ঝর,
করুণা নিধির ছায়া
জননী জায়ার বহুরূপী রূপ
শ্যামল মাটির মায়া।

নর-বিদ্বেষী নও নারীবাদী 
নও বিপনন প্রতীক 
তোমার শুভ্র আঁচল তলায়
ঘুমায় অগ্রপথিক।