০৪ মার্চ ২০২২

এম এ শোয়েব দুলাল এর কবিতা




নদীও ভালোবাসা
এম এ শোয়েব দুলাল

নদীকে ভালোবেসে
নদীর কাছে এসো
নদীর মতো আপন করে
আমাকে ভালোবাসো।

নদীর জলে দেখবো শুধু
উতাল পাতাল ঢেউ
তুমি থাকবে আমি থাকবো
থাকবে না আর কেউ।

হেসে হেসে কথা বলে
হবো দিশেহারা
আমাদের দেখে হাসবে শুধু
আকাশের তারা।

কথা গুলো গুছিয়ে রাখো
সময়ের জালে
তোমার আমার ভালোবাসা
হবে মহাকালে।

মনি জামান এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৫




ধারাবাহিক উপন্যাস
সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল
( ১৫ তম পর্ব ) 
মনি জামান

রাত্রি শেষে ভোরের আলো ফুটলো ফজরের আযান ধ্বনিতে মুখর চারিদিক,মোমেনা বেগম ভোরে পাড়ার লোকজন ডাকলো তার আর যেন তর সইছে না,চারি দিক যত ফর্সা হচ্ছে ততো দলে দলে পাড়ার সবাই হাজির হচ্ছে মোমেনা বেগমের বাড়ি মনে হয় আজ কোন মহাযজ্ঞ অনুষ্ঠিত হবে।
আজ দুশ্চরিত্রা আসমার বিচার হবে মানুষের ভিতর উৎসাহের কমতি নেই,সবাই এসে হাজির হয়েছে,ঘর থেকে আসমাকে বের করে আনা হলো,পাড়ার গণ্যমান্য ব্যাক্তিরা এসে সবাই উপস্তিত হলো,আসমা এক পাশে মুখ নীচু করে দাঁড়িয়ে আছে।
মোমেনা বেগম বললেন,আপনরা সবাই উপস্তিত আছেন এই মেয়ে আমার বংশে চুনকালি মাখিয়েছে,আজ বিচার আপনাদের উপর ছেড়ে দিলাম আপনাদের মতামত বলুন কি শাস্তি দেওয়া যায়।
আসমা যে অপরাধ করেছে সে নিয়ে এক জন মন্তব্য করলো যেহেতু আসমা চরিত্রহীন খারাপ একটা বাজে মেয়ে,সে হাতে নাতে ধরা পড়েছে তাই তার শাস্তি হওয়া উচিত তার শাস্তি হোক মুখে চুন কালি মাখিয়ে এ গ্রাম থেকে বের করে দেওয়া।
কেউ বলছে এমন বিচার হোক যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর এমন অপরাধ এই গ্রামে আর না করে,কেউ বলছে মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরানো হোক।আসমা জানে আজ তার কথা কেউ বিশ্বাস করবে না তাই নির্বাক দাঁড়িয়ে আছে,সারা রাত ঘুম হয়নি শরীর ভিষণ ক্লান্ত লাগছে বাকরুদ্ধ সে।
একজন বলল,আসামির কাছে কিছু জিজ্ঞেস করা হোক সে দোষী না নির্দোষী,
তারও তো কিছু বলার থাকতে পারে
সবাই সমস্বরে বলে উঠলো হ্যাঁ আসামি কিছু বলুক,প্রশ্ন করা হলো আসমাকে যে ঘটনা ঘটেছে তা নিয়ে তোমার কিছু বলার থাকলে বলতে পারো,আসমা কিছুই বললো না,আসমা নিরবে সমস্ত অপরাধ আজ নিজের কাধে তুলে নিয়েছে,কারণ সে জানে আজ তার কথা কেউ শুনবেনা ,জীবনে কি চেয়েছিল আর কি পেতে যাচ্ছে সে।
আজ তার রাজকুমার জিকুর উপর খুব অভিমান আসমার,কেন সে তাকে ছেড়ে চলে গেল,বিচারে সিদ্ধান্ত হল আসমার মাথার চুল কেটে গলায় জুতার মালা পরিয়ে সমস্ত গ্রাম ঘুরানো হবে,ঘুরানো শেষে এ গ্রাম ছাড়া করে দেওয়া হবে তাকে।
মোমেনা বেগম হুকুম করলো আসমার মাথার চুল কাটার জন্য,একজন এগিয়ে এসে আসমার মাথার চুল কাটতে শুরু করলো,কোন প্রতিবাদ করলো না আজ আসমা। এ নির্মম ভাগ্য পরিহাস মেনে নেওয়া ছাড়া তার কিছুই করার নেই তার আজ সে জঘন্য যড়যন্ত্রের স্বীকার তাই নিরবে বসে রইলো চুপচাপ চোখে জল ঝরছে অঝোরে,আজ এ নিষ্ঠুর পৃথিবীর প্রতি আসমার আর কোন অভিযোগ নেই,জিবনের সব চাওয়া পাওয়া আর কষ্ট গুলো সব নিজের কাছে জমা রেখেছে কারো কাছে প্রকাশ করলো না।
আজ ছেলে নয়নকে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে আসমার,কিন্তু আসমা জানে তাকে দেখতে দেওয়া হবেনা তাই ইচ্ছেটা গোপনই রেখে দিল।আসমাকে সব চুল কেটে নেড়া করা হলো তারপর গলায় জুতার মালা পরানো হলো মুখে চুন কালিও মাখাতে মোমেনা বেগম ভুল করলো না।
আসমাকে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরানো হলো
পাড়ার মানুষেরা ছিঃ ছিঃ বলে মুখ ঘুরিয়ে নিচ্ছে, দলে দলে ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা আনন্দ উল্লাস করে ইট পাটকেল ছুড়ে মারছে আসমাকে,আর বলছে পাগলি পাগলি করে পিছু পিছু চিৎকার করছে,পাড়ার এক ছেলে ফিরোজকে সংবাদ দিল আসমার এই বিচারের নির্মম ঘটনার কথা।
ফিরোজ শুনে ছুটলো মোমেনা বেগমের বাড়ি,এসে যা দেখলো তা কোন মানুষ করতে পারে ফিরোজের জানা ছিলো না,ফিরোজ দেখতে পেলো অনেক লোকজন আসমাকে টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে ফিরোজ লোকজনকে বলল,আপনারা আইন হাতে এভাবে তুলে নিতে পারেন না,সবাই বাড়ি চলে যান প্রশাসন আছে আসমা অপরাধী হলে তারা বিচার করবে।
ফিরোজের কথা শুনে সবাই মনে মনে একটু ভয় পেয়ে যার যার বাড়ির দিকে চলে গেলো,ফিরোজের দু'চোখে পানি আবেগ তাড়িত কন্ঠে বলল,ভাবি আমাকে কেন একটি বার খবর দিলেননা।আসমা নির্বাক কিছু বললো না,আজ আসমার কিছুই নেই সে সর্বহারা সে বোবা হয়ে গেছে।
ফিরোজ আসমাকে বলল,ভাবি চলেন আমার বাড়ি বলে আসমাকে সাথে নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হলো,সবাই বলতে শুরু করলো দেখ দেখ ফিরোজ ঐ মাগীর সাথে,কেউ বলল জানি জানি বলে সবাই হাসা হাসি করলো।
ফিরোজ শুনেও না শুনার ভান করে আসমাকে সাথে নিয়ে বাড়ি পথে হাঁটা শুরু করলো।বিকালে ফিরোজ বলল,ভাবি আজ থেকে আপনি আমার বাড়িতে থাকবেন,আমি বাজারে যাচ্ছি গিয়ে ডাক্তার পাঠাচ্ছি বলেই ফিরোজ তার ছোট বোন জান্নাতকে ডেকে বলল,ভাবির কাছে থাকিস কোথাও যাসনা যেন, বলে ফিরোজ চলে গেলো ভবদা বাজারে,হাট থেকে আসমার জন্য শাড়ি ব্লাউজ ঔষধ আর কিছু ফল কিনে নিয়ে ফিরোজ বাসায় এলো।
রাত নামলো আসমা জান্নাতকে বলল,বোন একটা কলম আর একটা কাগজ দেবে আমাকে,জান্নাত বলল,কেন দেবনা ভাবি আমি এনে দিচ্ছি,একটু পর জান্নাত কাগজ আর কলম এনে দিলো আসমাকে।গভীর রাত মনের কষ্টে আসমা লিখলো
-------
কষ্ট তুই একটু অপেক্ষা কর,
আজ রাত ভর সমুদ্র উত্তাল 
হয়নি।
স্রোতম্বী নদী হয়তো মোহনা 
খুঁজে পায়নি,সমুদ্রের ঠিকানা।
গাঙচিল উড়ে উড়ুক কষ্টেরা 
খুরে খায় খাক।
তবুও একটু অপেক্ষা কর,পূর্ণ 
একটি পূর্ণিমা উদিত হোক আজ।
ভোরের আলো ফুঁটলে না হয় 
সলিল সমাধির একটি গল্প 
লিখিস।
উত্তাল সমুদ্রে ভেসে যাওয়া 
একটি মৃত লাশের। 

লিখা শেষ হলে আসমার দু'চোখ ভেঙ্গে অঝোর ধারায় যেন বৃষ্টি পড়তে শুরু করলো,আসমা ভাবছে এ পৃথিবীতে তার আর কেউ আপন রইলো না।সন্তান থেকেও নেই,মা বাবার বাড়ি এ কলঙ্কিত মুখ নিয়ে আসমা আর কখনো ফিরে যাবে না।তার রাজকুমার জিকুর কাছেই ফিরে যাবে সে,আসমা সারা রাত ঘুমালোনা মনে হয় ঘুম ও তার শত্রু হয়ে গেছে।
ভোরের আলো ফুটলো আসমা চোখ বুজে শুয়ে আছে,আস্তে আস্তে বেলা বাড়ছে। সকাল আটটায় ফিরোজ আজ ঢাকায় যাবে,আসমাকে ডাকলো ভাবি নাস্তা খেয়ে নেন।আসমা উঠে ফ্রেস হয়ে নাস্তার টেবিলে এসে বসলো,জান্নাত ফিরোজ আর আসমাকে নাস্তা দিল,নাস্তা খাওয়া শেষে আসমা ফিরোজকে বলল,একটা কথা রাখবে ভাই,ফিরোজ বলল, কি কথা বলেন ভাবি।
আসমা বলল,আমার একটা ডায়রি আছে অনেক লেখা একসময় তোমার দৈনিকে ছাপাবে ভাই বলে ফিরোজের হাতে রাতের লেখাটাও দিয়ে বলল তোমার কাগজে দিও।ফিরোজ বলল,ঠিক আছে ভাবি কাল আপনার এই লেখাটা দৈনিক ভবদা সাহিত্য পাতায় প্রকাশ হবে,আমি আজ ঢাকায় যাচ্ছি একটু কাজে কাল সকালে ফিরবো, কোন কিছুর দরকার হলে জান্নাতকে বলবেন,বলেই ফিরোজ ব্যাগ পত্র নিয়ে বেরিয়ে গেলো।
আসমা সারারাত ঘুমালো না জীবনে কি চেয়েছিলো আর কি পেলো,ভাবছে আজ কলঙ্কিনী সে এ মুখ এই সমাজে কি করে দেখাবে।সমাজের এই ঘৃণ্য যড় যন্ত্রের কাছে আজ পরাজিত সে।


চলবে....

০৩ মার্চ ২০২২

কবি জাবেদ আহমেদ এর কবিতা




মন
জাবেদ আহমেদ 


কবিতার পিছু দৌড়তে
দৌড়তে একদিন হারিয়ে
যাবো আমি হারিয়ে যাবে কবিতা,

মন তুমি হবে স্বপ্নহীন
শব্দহীন হবো আমি,

চাওয়া পাওয়ার ইতি শূন্য 
আত্মার জগতে 
পাই যদি তোমায়
হারাবো না আর কখনো
ওপারে পারবো কি লিখতে তোমায়
প্রাণেশ্বরি আসবে ডাকি যাদি
পংক্তি হয়ে কবিতার।

মন ডাকে মন তোমাকে।

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১১৯





উপন্যাস 

টানাপোড়েন১১৯

সব লাল পাথর চুনি হয় না

মমতা রায় চৌধুরী


স্কুলে সরস্বতী পুজো তাই ঘটা করে একটা মিটিং হয়ে গেল। ঘটা করে বলতে প্যানডেমিক সিচুয়েশনে যে রকমই হওয়া দরকার মেয়েদের ছাড়া মিটিং। এবার তো পুজো শিক্ষিকাদের। তাই সমস্ত দায়িত্ব শিক্ষিকাদের দেখে নিতে হবে আর কার কি দায় দায়িত্ব আছে সেই ব্যাপারটার জন্য বড়দি মিটিং সারলেন।
 বিদ্যালয়ের দেয়াল পত্রিকা' স্বপ্ন উড়ান'বের হবে। প্রতিবছরই হয়ে থাকে এ বছরই বা বাদ যায় কেন? না বাদ দেবোই বা কেন? মানুষের ভেতরে অদম্য শক্তিকে তো আর প্রতিরোধ করা যায় 
না ?তা যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন ।বিশেষত এই প্যানডেমিক সিচুয়েশনে গৃহবন্দি জীবনের শিক্ষার্থীদের ভেতরের যে কষ্ট ,যন্ত্রণা তাদের মনের ক্যানভাসে উড়ান দিতে চায় ।নানা স্বপ্ন আঁকি-বুকি কাটে। তাই যখন তাদের কাছে তাদের 'স্বপ্ন উড়ান 'কে পৌঁছে দেয়া যায় ,তাদের অদম্য লেখনি শক্তি প্রকাশের জন্য ।তাহলে তো আর কিছু বলার অপেক্ষাই রাখে না। রেখার কাঁধে পড়েছে এই গুরুদায়িত্ব। তাছাড়া ঘর সাজানো এসবেও রয়েছে ওর নাম ।অন্যান্য টিচারদের সঙ্গে নিয়ে কাজটা করতে হবে। মূল দায়িত্ব তাকে সামলাতে হবে। হাসিমুখে মেনে নিয়েছে কারণ পত্রিকার কাজ করতে ভালই লাগে। অন্যান্য কাজগুলো অন্যান্য শিক্ষিকাদের মধ্যে বন্টন করা হয়েছে। পূজার তো আর বেশি দেরি নেই।
গ্রুপে আগেই মেয়েদের জানিয়ে দেয়া হয়েছিল অভিভাবককে দিয়ে তাদের লেখা স্কুলে পাঠিয়ে দেবার জন্য। সে সমস্ত কিছু সংগ্রহ করে নিজের দায়িত্বে রেখেছে। সারাদিন নানা পরিশ্রম গেছে স্কুলে।
বাড়িতে ফিরে ভীষণ ক্লান্ত লাগছিল কিন্তু মনের ভিতর একটা আনন্দের উচ্ছ্বাস ঢেউ খেলে যাচ্ছিল সারাক্ষণ। আগামীকাল তো পিকনিক। তাই সব অবসাদ, ক্লান্তি ,ধুয়ে মুছে গেল। অনেকদিন পর রিম্পাদির সঙ্গে  দেখা হবে।
ফ্রেশ হওয়ার আগে মিলি, তুলি, পাইলটদের চিৎকারে আগে ওদেরকে গিয়ে আচ্ছা করে আদর করে নিল। তারপর ফ্রেশ হতে গেল।

এরমধ্যে বাথরুম থেকে আওয়াজ পাচ্ছে রেখার ফোনটা বেজে যাচ্ছে। ফোনের আর্তিতে তাড়াতাড়ি বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসলো।
হাতে টাওয়াল ধরাই আছে। তখনো তখনো চুল থেকে জল ঝরছে ফোটা ফোটা। রেখার এটা বদভ্যাস সে যেখানেই যাক বাড়িতে ফিরে এসে সামনের দিকে কিছুটা চুল ফ্রেশ হতে গিয়ে ভেজা তেই হবে। তাই এক হাতে ফোনটা ধরে রিসিভ করে বলল '।
"হ্যালো'।
'কি রে কি করছিস?'
'এইতো বাথরুম থেকে বের হলাম বলো।'
"শোন না .কালকে পিকনিক হচ্ছে না।'
রেখা অত্যন্ত অবাক হয়ে গেল  বললো '
'মানে ,মানেটা কি?'
'হ্যাঁ রে।'
তুমি আমার সাথে মজা করছো?
রেখা হাসতে হাসতে বলল নারে মজা নয় সত্যি বলছি বিশ্বাস কর। এই তিন সত্যি বলছি।
' সত্যি ,সত্যি ,সত্যি।'
রেখার অবসাদের মনে যেন হঠাৎ করেই মন খারাপ করা টোকা মেরে দিল।
ভেবেছিলো একটা গেটটুগেদার হবে ভেতরের যে ক্লান্তিগুলো আছে ঝেড়ে ফেলে দিয়ে একটু অক্সিজেন নেবে, হাসি মজা হবে।'
সেখানে রিম্পা দি তোকি বলছে এসব কেমন যেন একটা বেপথু হয়ে গেল।
কিরে কোন জগতে আছিস?
রেখা , এই রেখা।রেখা ,কথা বলছিস কেন?
'কি কথা বলব ?তুমি তো সবকিছুতে জল ঢেলে দিলে।'/
'রাগ করিস না দেখ কি করবো ।হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে গেল যে।'
কে গো?
ওই তো আমাদের পাশের বাড়ির যে দিদি বলছিলাম না স্কুল শিক্ষিকা।
ওমা,আচ্ছা ,আচ্ছা। কি হয়েছে?
ভালোই সিরিয়াস জানিস তো?
হার্টের প্রবলেম য় ধরা পড়েছে।'
'এ বাবা।'
'ঠিক আছে। কি আর করা যাবে ।এটা তো মেনে নিতেই হবে না ?ঠিকই করেছ।'
এবার রাগ কমলো তো?
না গো কথাটা শুনে খারাপ লাগছে। জানো তো রিম্পা দি।
'খুব চনমনে আর সব ব্যাপারেই এগিয়ে আসার একটা প্রচেষ্টা আছে যখন আমাদের এই প্ল্যানিংয়ের কথা শুনল বলল
' আমাকে সঙ্গে নিও।'
'ঠিক আছে ভালো করে ডাক্তার দেখাচ্ছেন তো উনার সুস্থতা কামনা করছি।'
আর আজকে কি স্কুলে? কি হলো তোদের?
কি আবার হবে জানো তো সরস্বতী পুজোর আগে কি হয় তবে তোমাকে খুব মিস করছি। স্কুলে সবাই আমাদেরকে বলতো না সোলমেট।
আজকে একবার খোঁচা দিয়ে অনিন্দিতা বলল।
এটা আমার ভালই লেগেছে।
'কি হলো এবার পত্রিকার দায়িত্ব কার পরল?'
'তুমি কি ভাবছো বড়দি অন্য কাউকে দেবেন?
ও তাহলে তোর দায়িত্বে।'
খুব ভালো যে লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত আছে আর কাঁধে দায়িত্ব খুব ভালো।
এই রিম্পা দি শোনো না ,এবারে এসো সরস্বতী পুজোতে।
ঠিক আছে দেখছি মেয়েকে নিয়ে যেতে পারি।
তবে মেয়ে যাবে কিনা কে জানে বন্ধুবান্ধব নিয়ে মত্ত থাকবে।
ওর কি দোষ বলো আমাদের সময়ে সরস্বতী পুজো মানেই আমাদের বসন্ত ছিল তাই না?
ভ্যালেন্টাইন্সডেতে মনে হতো ।ওই সময়েই সবাই ভ্যালেন্টাইন্স ডে পালন করে নিত '।
'ঠিক বলেছিস। এই পুজোর সময় গুলিতে দেখা যেত প্রেমিক-প্রেমিকারা দেখা করতো। কি   সাগরিকা কি ছটফটানি ছিল ওর মনের ভেতরে তমালের জন্য বাপরে বাপ একপলক 
দেখবে ।পুজোতে মিস নেই ।পুজোর সময় বেরোবে, একটু বসে গল্প করা আর পাশাপাশি থাকা ।এখন তো তা নয়।'
'একদমই তাই ।'
আসলে এখন দিনকাল পাল্টেছে ডিজিটাল যুগ এখানে তো সবকিছুই অন্যরকম।
আমাদের সময় টা বেশি ভালো ছিল। সময় গুলো অনেক বেশি উপভোগ করা যেতো।
মনে আছে রিম্পা দি বলেছিলাম না আমার কলেজে তনিমা ও পাগল ছিল কুণালের জন্য। একবার তো কলেজের একটা রুমে প্রায় ওদের দুজনকে দেখা যেত ।ওই যেন ওই ঘরটা নাম দেয়া হয়েছিল সোলমেট রুম।'
', হ্যাঁ, হ্যাঁ বলেছিলি।'
'আর ওর সাথে ওর বিয়ে হয়নি।'
'প্যাথেটিক জানো তো।
মেয়েটার বিয়ে হয়ে গেল একটা বড়লোক ছেলের সঙ্গে।'
কুনাল ওর জন্য পাগল ছিল। প্রথম দিকে তো কুণালকে পাগল-পাগল লাগতো। পরে শুনেছিলাম ওকে সাইক্রিয়াটিস্ট দেখাতে হয়েছিল।
তনিমার জন্য তো কুণালের ক্যারিয়ারটা নষ্ট হয়ে গেল।'
"হ্যাঁ রে বাড়ির লোক মেনে নেয়নি বলেছিলি।'
যাইহোক ছাড়ো তো এসব কথা।
'ছাড়বো কিরে আজীবনের বিষাদ, বেদনা যে ওদের ভেতরে দাগ কেটে গেল ।এটা ভেবে ভেবে আমার খুব খারাপ লাগে।'
কেন খারাপ লাগবে না বল ?যাকে নিয়ে এত স্বপ্ন দেখা ,এত ভালোবাসা সুখচরের মনভূমিতে যে বীজ বপন করে গেছে অথচ অঙ্কুর বের হয়ে  পল্লব পুষ্পরাজিতে ভরে উঠলো না। কেমন খারাপ লাগে ।অথচ তনিমাকে তো সেই অন্য একটি ছেলের পাশে নিজেকে সঁপে দিতে হয়েছিল বলো?ভাবো সেই রাতের কথা ।সেদিন ওর কেমন লেগেছিল ।একবারও কি ওর মনের ভেতরে কুনাল দাগ কেটে যায় নি ,যখন ওর স্বামী ওকে স্পর্শ করেছিল ,সেই স্পর্শের ভেতরে কি সুখানুভূতি ছিল, নাকি শুধুই একটা শারীরিক উত্তেজনা কাজ করে গেছে? ভাবতে খুব খারাপ লাগে।'
'কি হয়েছে বল তো তোর ?এই সব কথাগুলো বলছিস।'
'আমার মনের ভেতরে ভীষণ ভাবে দাগ কেটে যায়।'
ওই জন্য তো প্রেমটাও ঠিক করে করতে পারলি না ।প্রেম আসলেও তাকে ধরে রাখতে পারিস না।'
'কি করবো বলো?'
তবে তনিমার বর শুনে ছিলাম বড়লোক বাড়ির ছেলে হলে যে রকম হয় ।আজকালকার ছেলেদের ভেতরে যেমন স্বাস্থ্যসচেতনতাএসেছে। তনিমার  বরের কিন্তু সে রকম ছিল না। শুনেছি তো মেদবহুল ,গোবর গণেশ একটা।'
তনিমার মত একটা স্মার্ট মেয়ে কি করে ওর সঙ্গে খাপ খাওয়াচ্ছে বলো?'
'এসব ভাবলে খারাপই লাগে।'
'একবার তনিমার সঙ্গে আমার দেখা 
হয়েছিল ।ওকে দেখছি চারচাকা থেকে 
নামছে ।সারা গায়ে গয়নায় ভর্তি কিন্তু ওর মুখের দিকে তাকিয়ে বড় বাড়িতে বিয়ে হয়ে  যে উচ্ছ্বাস থাকার দরকার, তা ওর চোখে মুখে ফুটে উঠতে দেখি নি।
'ও আমাকে দেখে একটু নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিল। যেমন করে খোলসে শামুক নিজেকে ঢুকিয়ে রাখে।আমার ওকে দেখে কি মনে হয়েছিল জানো? মনে হয়েছিল নদী পরিত্যক্ত খাদ বর্ষার জলে পুষ্ট হয়ে গেলে ফের নদীতে মিশতে চাইলে তাকে কি করতে হয় সে ভেবেই পায় নি।
অথচ যখন ওরা দেরাদুনে গেছিল এক্সকারশনে সেখান থেকে ফিরে এসে তনিমাকে দেখতে  মনে হয়েছিলো যেন একটা সুগন্ধ তার ফুসফুস থেকে  হৃদয় হয়ে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়েছে।
একটা আলাদা লাবণ্য যেন 'ওর চোখে মুখে ফুটে উঠেছিল। কি সুন্দর ই না লাগছিল।
বিয়ের পর এত গয়নাগাটিতেও  ওর লাবণ্য ঝরে পড়তে দেখা যায়নি।'
'আমার দিকে তাকিয়ে বলেছিল কেমন আছিস?
আমি বলেছিলাম ভালো আছি।'
তুই কেমন আছিস?'
'ও বলছিল 'যেমন দেখছিস'।
তারপর মাথা নিচু করে চলে গেল।
দীর্ঘশ্বাস ফেলেছিল শুধু।
রিম্পা দি বলল' সব ভালোবাসা তো আর পরিণতি পায় না।'
"ঠিকই বলেছ।'
'সব লাল পাথরই তো আর  চুনি হয় না।
ছেলেটার কি পরিণতি হয়েছিল?'
কেমন ক্ষ্যাপা মত হয়ে গেছিল ।
বললাম তো তোমাকে আগে সাইকো প্রবলেম দেখা দিয়েছিল অথচ পড়াশোনায়  কি তুখোর ছিল। ও যেন কক্ষচ্যুত হয়ে গেছিল পুরো।
মাঝে মাঝে নাকি শুধু একটা কথাই বলতো
'সেই দেরাদুন।'
একটা মোলায়েম দুঃখ আর হতাশা যেন তাকে ঢেকে ফেলে দিয়েছিল ।তাই বলতোসেই ঠিকানায় পৌঁছাতে আর পারা গেল না।'
'ঠিক আছে। কি আর করবি বল,? ওর জন্য নিশ্চয়ই অন্য কোন তনিমা টইটম্বুর মেঘ নিয়ে অপেক্ষা করে আছে ওর ই  মতো কোন মেঘদূতের জন্য।'
' আদপে সেই মেঘদুত ,মেঘের কাছে  গেছিল কিনা কে  জানে?'
এসব কথাবার্তার  মধ্যেই বেশ কয়েকটা মিসকল হয়ে গেল।
রেখা বললো' ঠিক আছে রাখ ।আমাকে কেউ ফোন করছে।'
'ঠিক আছে রাখ। ভালো থাকিস। আচ্ছা শোন শোন ডাক্তার দেখিয়েছিস?'
'না গো সময় পাইনি।'
'আমি এদিকে তাহলে যোগাযোগ করব ডাক্তারের সঙ্গে?'
'ধেত তেরি, মরার সময় নেই ।ডাক্তার দেখাতে যাবে? সে দেখা যাবে বাড়াবাড়ি হলে ,তখন বলব।'
'শরীর নিয়ে অবহেলা করিস না।'
'না গো ,তুমি এত চিন্তা ক"রো না। ভালো থেকো।'

কবি সানি সরকার এর কবিতা




রিপু 
সানি সরকার 


এখন পেঁচিয়ে ধরার জন্যে 
কালো রঙের জাল তাড়া করবে, 
উত্তেজিত করবে, ভয় দেখাবে, কিন্তু 
আপনি আলোর সন্তান দাঁত চেনেন, পথ চেনেন… 

এই যে হাজার বছর থেকে অন্ধ করে 
কারা শেকল পরিয়ে রেখেছে চুপচাপ, আর 
আপনাকে অন্ধের মতো ক্রোধ ও ভয়ার্ত 
ক্ষুধার সামনে ভিক্ষুক বানাতে বানাচ্ছে বারবার 
মার্চ মাসের এই রাতে নিজের আত্মার সামনে দাঁড়ায়ে  
জিজ্ঞেস করুন কুসুম, আসল ও সত্যি কোনটা 

একটি ক্ষিপ্র ষাঁড় খাদের কিনারে শিং দোলাচ্ছে 
এখন আপনাকে শীত, গ্রীষ্ম, বর্ষা এমনি করে 
ঋতু পরিক্রমণ করানোর জন্যে মাঠে নামবেন 
রেফারি ও চার কোণে চারটি সহ রেফারি 
এমনকী অনবরত আপনার চোখে মাথায়
ও সমগ্র দেহে কাঁদানেগ্যাস ছুঁড়ে 
কাঁদানোর চেষ্টা চলবে, হাসানোর চেষ্টা চলবে
একটি ওটি রুমের ভেতর, এবং 

আপনার জানা দরকার রিপুর তাড়া পেলে লক্ষ মাইল ফলক 
পেরিয়ে ঝড়ের মতন ক্ষিপ্র ষাঁড় দোঁড়ে আসে 
কিন্তু এক্ষুনি আপনাকে অবলোকন করতে হবে 
আত্মার ভেতর আপনারই আঁকা গণ্ডিটিকে, আর 
সূর্যালোকের কাছ থেকে হাত পেতে 
চেয়ে নিতে হবে, রিপু থেকে আত্মরক্ষার রক্ষা কবচ

ভয় নেই কুসুম, আপনার ভয় পেতে নেই

কবি মনি জামান এর ধারাবাহিক উপন্যাস ১৪ তম পর্ব






ধারাবাহিক উপন্যাস



সেদিন গোধূলি সন্ধ্যা ছিল
১৪ তম পর্ব 
মনি জামান


জিকুর মৃত্যুর পরে আসমা খুব ভেঙ্গে পড়েলো ঠিক মত ঘুমায় না ঠিক মত খাওয়া দাওয়া করে না,ছেলেটাকে ও কাছে পেতনা সব সময় শাশুড়ি মোমেনা বেগম নয়নকে কাছে রেখে দিতো,আসমা নয়নকে কাছে ডাকলে মোমেনা বেগম আসমার কাছে আসতে দিতোনা ছেলেকে।ছেলে নয়ন ও দাদী মোমেনা বেগমের কাছে থাকতে থাকতে মা ছাড়া দাদীর কোলে অভ্যস্ত হয়ে উঠলো,মা আর ছেলের দুরত্বটা বাড়ানোর জন্য মোমেনা বেগম মনে মনে সেই প্রথম দিন থেকে সুদুর প্রসারি এই কৌশল অবলম্বন করে সে সফল,যাতে মা আর ছেলের দুরাত্ব বেড়ে যায় কারণ মোমেনা বেগম মনে মনে চায় ছোট লোকের বাচ্চা আসমাকে এ বাড়ি থেকে বের করে দিতে।
আজ হোক কাল হোক মোমেনা বেগম সেই সুদর প্রসারি যড়যন্ত্রের ফসল মা ছেলের এই দুরত্ব সৃষ্টি।জিকুর মৃত্যু আজ দেড় বছর হয়ে গেলো এই দেড় বছরে আসমার জীবনে নেমে এল চরম নির্যাতনের এক ভয়ংকর অধ্যায়,জিকুর মৃত্যুর পর মোমেনা বেগম আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠলো আসমা উপর এখন এই ছোটলোকের মেয়ে আসমা তার বাড়ির বোঝা হয়ে গেছে, তাই নিষ্ঠুর সব কৌশল একের পর এক প্রয়োগ করতে শুরু করছে।
আসমার কোন কাজে ত্রুটি না পেলে ও অহেতুক আসমাকে গালাগালি মার ধোর শুরু করলো,প্রতিবেশিরা কেউ কোন কথা বলতো না মোমেনা বেগমের ভয়ে।
সাংবাদিক ফিরোজ মাঝে মাঝে আসতো মোমেনা বেগমের বাড়ি আসমাকে দেখতে, কিন্তু মোমেনা বেগম ফিরোজের আশা একদম পছন্দ করতো না কারণ ফিরোজকে ভয় পেতো যদি ফিরোজ কিছু জেনে যায়,তাই কৌশল অবলম্বন করে একদিন মোমেনা বেগম ফিরোজকে ডেকে বলল,ফিরোজ আসমা এখন বিধবা তুমি এই যে আসা যাওয়া কর আমাদের বাড়ি পাড়ার লোকেরা কিন্তু কানাঘুষা করে। 
তুমি নিশ্চয় বুঝতে পারছো আর কি বলবো,মোমেনা বেগমের কথা শুনে ফিরোজ যা বুঝার বুঝে নিয়েছে,তারপর থেকে ফিরোজ জিকুদের বাড়ি আর কখনো যায়নি দুর থেকে দেখতো,আসমার কষ্ট আর নির্যাতন গুলো সাংবাদিক হিসেবে সকল খবর প্রতিবেশীদের কাছে নিয়ে নিতো,সব যখন শুনতো ফিরোজ নিজেই যেন কষ্ট অনুভব করতো।
ফিরোজ মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলো আসমাকে বাঁচানোর একটাই পথ আসমাকে বিয়ে করা কারণ ফিরোজ আসমাকে পছন্দ করে,তাই একদিন আসমাকে ডেকে ফিরোজ নিজেই বিয়ের প্রস্তাব দিলো,প্রস্তাব শুনে আসমা ফিরোজকে বলল,এটা সম্ভব নয় ভাই। আমার মৃত্যু বেতীত জিকুকে এই মাটিতে শুয়ে রেখে আমি বিয়ে তো দুরের কথা আমি কোথাও যাব না মৃত্যু হলে এখানেই হবে কারণ জিকু আমার হৃদয়ে ভালবাসার রাজকুমার,আমার হৃদয়ে অন্য কাউকে আমি কখনো স্থান দিতে পারবনা ভাই।
ফিরোজ অবাক হয়ে শুনলো সেদিন আসমার কথা গুলো,ফিরোজ ভাবছে এই সমাজে কজন নারী ভালোবাসাকে এমন শ্রদ্ধার সাথে হৃদয়ে ধারণ করে এমন ভালোবাসা আঁকড়ে রাখে,আসমার কথা গুলো শুনার পরে আসমার প্রতি ফিরোজের আরো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা বেড়ে গেলো।
ফিরোজ ভাবলো আসমা কি সত্যিই মানুষ না কোন স্বর্গের দেবী যে এত নির্যাতন ভোগ করার পরেও স্বামী জিকুর ভালবাসা আঁকড়ে ধরে পড়ে আছে স্বামীর ভিটে!ফিরোজ সেদিন বলল,ভাবি স্যালুট আপনাকে যদি কোন সমস্যা হয় আমাকে শুধু একবার সংবাদ দেবেন আমি আপনার পাশেই আছি।আসমা মাথা নাড়িয়ে সেদিন সাই দিয়ে বলল,প্রয়োজন হলে অবশ্যই বলব ভাই।
ফিরোজ চলে গেলো কিন্তু ফিরোজ একবারও বুঝতে পারলো না আসমা আজ দুইদিন কিছুই খায়নি তাকে খেতে দেয়নি নিষ্ঠুর শাশুড়ি মোমেনা বেগম।এদিকে মোমেনা বেগম একের পর এক কৌশল অবলম্বন করে ও যখন আসমাকে বাড়ি থেকে তাড়াতে পারলো না,তখন একটা ভয়ঙ্কর যড়যন্ত্র মনে মনে ঠিক করে মোমেনা বেগম তার ভাইয়ের ছেলে বকাটে নিশাখোর যবুক আরমানকে ফোন করলো তারপর বললো,আরমান বাবা তুমি আমার বাড়ি একবার এসো কালকে জরুরী দরকার তোমার কাছে,আরমান বলল,কি এমন দরকার আমার কাছে,ফুফু বলেন কি হয়েছে।মোমেনা বেগম আরমানকে বলল, একটা কাজ করতে পারবি বাপ,আরমান বলল কি কাজ ফুফু?মোমেনা বেগম বললো,আমার বাড়ি আয় তারপর বলবো। আরমান পরের দিন ফুফু মোমেনা বেগমের বাড়ি এসে হাজির হলো,আরমানকে ফুফু মোমেনা বেগম বলল,বাবা তুমি ঐ ছোট লোকের বাচ্চা আসমার ঘরে রাত্রি ঢুকে  আসমার সাথে ধস্তাধস্তি করবে আমি ঠিক সেই সময় লোকজন নিয়ে ধরে ঐ ছোট লোকের বাচ্চাটাকে বাড়ি থেকে বের করে দেব।পারবিনা বাপ?তোকে অনেক অনেক টাকা দেব,আরমান বলল,পারবনা মানে কখন করতে হবে কাজটা?মোমেনা বেগম বলল,কাল রাতে।
পরের দিন রাত নামলো আসমা ঘরে থাকা কিছু মুড়ি খেলো,তাও মোমেনার বাড়ির বৃদ্ধ কর্মচারী মোবারাক চুরি করে কিনে দিয়ে গেছে আসমার কষ্ট না দেখতে পেরে।পরের দিন রাতে আসমা শুয়ে আছে তার ঘরে,দরজা এখনো দেইনি ভাবছে পরে দরজা দিয়ে ঘুমাবে।হঠাৎ আসমা দেখলো আরমান ঘরে ঢুকেই আসমাকে জড়িয়ে ধরলো,আসমা ধস্তাধস্তি করছে নিজেকে ছাড়িয়ে নেবার জন্য কিন্তু দুর্বল শরীর আসমার,না খেয়ে খেয়ে এতটাই দুর্বল যে আরমানের হাত থেকে নিজেকে ছাড়াতে পারলো না।
আরমান আসমাকে এত জোরে ধরেছে যে আসমার আর কিছুই করার নেই,আরমান একে পর এক আসমার শরীর থেকে শাড়ি ব্লাউজ সব খুলে ফেলেছে তারপর
আসমাকে ধর্ষণ করে ঘরে অপেক্ষা করছে আরমান মোমেনা বেগমের জন্য।
একটু পর মোমেনা বেগম পাড়ার লোক জন নিয়ে হাজির হয়ে ঘরে ঢুকে আসমাকে ধরে বাইরে নিয়ে এলো,আরমান মোমেনা বেগমের কথা মত পালিয়ে গেলো। মোমেনা বেগম লোকজনকে বলল,এই মেয়ে চরিত্রহীন আমার কথা তো কেউ এতদিন বিশ্বাস করনি আজ সবাই প্রমাণ পেলে তো?
কাল সকালে এই চরিত্রহীন ছোট লোকের বাচ্চার বিচার করে বাড়ি ছাড়া করা হবে আপনরা কি বলেন,সবাই বলল হ্যাঁ সকালে বিচার করতে হবে।আজ সবাই একসুরে কথা বলছে,আসমা নির্বাক,আসমার আজ কেন জানি মনে হলো পাষান পৃথিবীর জীর্ণ কুঠিরে আজ সংরক্ষিত তার ভালোবাসা বিসর্জন হলো,চূর্ণ হলো তার সব অহঙ্কার।জিকুকে হারানোর পর থেকে কত রাত কেটে গেছে একা,নির্ঘুম অশ্রু সজল দুটি চোখ,কষ্টের আলিঙ্গনে ছিলো এই ক্ষণিক জীবনে না পাওয়ার সব কষ্ট গুলো,আজ কারো প্রতি আসমার কোন অভিযোগ নেই,নেই পৃথিবীর প্রতি কোন অভিমান
আজ যা আছে সেটা তার ভাগ্যের প্রতি ঘৃণা,নিজেকে বড় একা লাগছে কেউ নেই তার আজ।


চলবে....

কবি মোঃ ইসমাঈল এর কবিতা




রীতি
মোঃ ইসমাঈল 

আহা কতই না সুন্দর দেখতে ফুল
চোখ আসে জুড়িয়ে হয়ে যায় ব্যাকুল। 
যখনই নাকে আসে ফুলের ঘ্রাণ
পরম শান্তিতে জুড়ায় এ মন ও প্রাণ। 

মৌমাছিরা ফুল থেকে করে মধু আহরণ
তোমারই মনের গহিনে আমি করিবো বিচরণ।
ফুল ফুটে বসন্তের ঋতুতে
আমি হারিয়ে যাবো কেবল শুধু তোমাতে।

ফুল ফুটে ফল ধরিয়ে যায় সে ঝড়ে
মানুষ অভিনয়ের মাঝে যায় যে মরে।
অবশেষে হয়ে যায় ফুলের ইতি
অপরদিকে মানুষের বেঁচে থাকে শুধুই স্মৃতি।

কবি রফিকুল ইসলাম এর কবিতা




আশাদীর্ণ অনুতাপে
রফিকুল ইসলাম

নন্দন ভুবনলোকে  আনমনে জাগে 
কত স্বপ্ন  এলোমেলো 
তৃষ্ণিত পলাতকা মন পরম আত্মীয় প্রিয়জন
কত বন্ধু এল-গেলো।। 
অনুভূতির সীমানায় কত কল্পনা
কত প্রত্যাশার পায়চারী 
কখনো অভিমানে পিয়াসী মনে আড়ি ।
স্বপ্ন বিন্যাসে নিশিদিন নীলকণ্ঠ ফোটে
ধূলা মাটির মায়া মালিকায়
বেগুনি প্রজাপতি নাচে বাতাসে গায়।
ভালোবাসার অরণ্যে মুখ লুকায় 
আবেগী বাসর সাজায় পাতার আড়ালে।
 শত চুম্বনে অনুরাগে মায়ায় জড়ালে ।
ঘুম ভাঙা ভোরে ঝরে পড়ে সুখের শিশির 
রোদেলা ক্লান্ত দুপুর 
অদূরে হাঁসের ছানা জলে ভাসে 
ব্যথার দেউলে বসে কত কথা মনে আসে।
বিকেলের  সোনা রোদে 
হলুদ ঝিঁঙে ফুল মাচায় দোলে
প্রণয়ী পায়রা বাকবাকুম মাতে টিনের চালে।
অলখ্যে হলুদ রঙে ঝরে পড়ে পাতার আয়ু 
আশাদীর্ণ অনুতাপে
বিমর্ষ-ম্লান জীবন সন্ধ্যা বিদায় আরতি জ্বালে 
আঁধারের  নির্জন পথে।

০২ মার্চ ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১১৮পর্ব





উপন্যাস
 টানাপোড়েন১১৮
স্মৃতি-বিস্মৃতির দোলাচল

মমতা রায়চৌধুরী



স্কুল থেকে ফিরে হঠাৎ একটা বাজে খবর মনটাকে ভারাক্রান্ত করে দিল। তার সাথে পরিচয় বেশিদিনের নয় ,লেখালিখি নিয়ে মনামীর মাধ্যমেই পরিচয়। মনামীদের  অফিসে আসেন বিভিন্ন টেন্ডার নেবার জন্য এবং বিভিন্ন তথ্য সংবাদপত্রে পরিবেশনের জন্য। আসলে উনি একজন সাংবাদিক এবং লেখালেখিও করেন। বেশ কিছু কাব্যও নাকি প্রকাশিত হয়েছে। 
মনামী ভদ্রলোককে বলেছিলেন 'আমাদের এক বন্ধু ভালো লেখালেখি করেন ।'
 দেখতে পারেন' ওর লেখা নিয়ে ।'
ছেলে বন্ধু না মেয়ে বন্ধু?
মনামী  অবাক হয়ে নাকি বলেছিল' কি যে বলেন না আপনি মাঝে মাঝে ।মেয়ে বন্ধু। কোন বন্ধু হলে বেশি আপনার সুবিধা ? ছেলে না মেয়ে বন্ধু?'
একটু ব্যাকা চোখে তাকিয়ে মেয়ে বন্ধুর দিকে ইঙ্গিত করেছিলেন।
মনামীদের অফিসে উনি একজন রসিক মানুষ বলেই খ্যাতি অর্জন করেছেন।  তাই কেউ উনার কথায় কিছু মনে করেন না।
" ভদ্রমহিলা দেখতে কেমন?'
মনামীর কাছে ছবি ছিল সঙ্গে সঙ্গে দেখিয়ে বলল এই দেখুন।'
"বাহ ,দারুন তো। জমে যাবে।'
আপনি পারেনও বটে।
মনামী নাকি হো হো করে হেসে ওঠে ছিল।
সেই সূত্রে কন্টাক্ট নাম্বারটা দেয়া 
হয়েছিল ।রেখাকেও পরে মনামী  কন্টাক্ট নম্বর দিয়েছিল ।
" এই নে কন্টাক্ট নম্বর।'
রেখা তো পুরো অবাক।
'বিস্ময়ে মনামীর মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।'
আরে, হাঁ করে তাকিয়ে দেখবি ।না ,এখন নম্বরটা নিবি?'
'না দেখছি তোর দ্বারা কোনো কাজ হবে 
না । রিম্পাদির ফোন নম্বরটা দে ,রিম্পাদিকে পাঠিয়ে দিই।'
 এরপর নিজেই ব্যাগ হাতড়ে রেখার ফোনটা বের করে  সেভ করা নম্বরটি নিয়ে নিল।
রিম্পা দিকেও পাঠিয়েছিলো।
'তুই তো এসব নিয়ে বেশি কিছু ভাবিস
 না ।কতদিন বলেছি পত্রিকায় লেখাগুলো দে ।
না, নিজের কাছে চেপে রেখে দিয়েছে।'
আপন-মনে বকবক করে গেল কিছুক্ষণ ।তারপর রেখার ফোনেও নম্বরটি সেভ করে দিল।
'যাক বাবা, আমার শান্তি।
দেখিস বাবা, পরে আবার আমাকেই ভুলে যাস না।'
রেখা তো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বলল 'কি যা তা বলিস না।'
মনামী আরো বললো 'শোন
'একটা টাইম দিয়েছেন। এই টাইমের মধ্যে দেখবি তোর কাছে ফোন যাবে ।'
কথাগুলো বলে মনামী স্কুটিতে স্টার্ট দিল আর কোন দিকে তাকালো না। যেন মনে হলো একরাশ ঝড়ো বাতাস কিছুক্ষণের জন্য ঝটকা মেরে এসে সব কিছু ওলট পালট করে যেমন  দিয়ে যায়,ঠিক সেই গতিতে ও স্কুটি চালিয়ে চলে গেল।
রেখাও স্কুলে যাবে। স্টেশনে দাঁড়িয়ে।
রেখা বরাবর এসবে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। লেখাটা তার নেশা ।ভালোবেসে সে লেখে।তবে মাঝে মাঝে লেখার গতি থেমে যায় ।সেরকম তো চাপ থাকে না যে অমুক পত্রিকায় লেখা দিতেই হবে ,নির্দিষ্টভাবে কয়েকটা দিনের জন্য বা ধারাবাহিকভাবে। তাই  চাপ নিয়ে লেখে না, মনের খুশিতে, কখনো আনন্দ ,কখনো বা একাকিত্বের সঙ্গী হিসেবে সে বেছে নেয় লেখাকে।'
তাই আজও কোনো গুরুত্ব দিলো না কথাটার।
ট্রেনের খবর হয়ে গেল ট্রেন ঢুকছে ।রেখা দুই নম্বর প্লাটফর্মে যাবার জন্য ওভার ব্রিজ অতিক্রম করার জন্য দ্রুত উঠলো সিঁড়ি দিয়ে।
সেদিনের কথাটা তাই আজও তার মনে আছে। এই দিনেই তার প্রথম বোধহয় লেখালেখির জগতের বিচিত্র অভিজ্ঞতার ভিত স্থাপিত হয়েছিল।
 ট্রেনে উঠে রিম্পাদিকে খোঁজ করতে থাকে। সাধারণত রিম্পা দি প্রথম দিকের লেডিসেই থাকে কিন্তু কোথাও তাকে খুঁজে পাওয়া গেল না। তারপর কোন রকম ভাবে জায়গা নিয়ে রিম্পাদিকে  ফোন করলো।
রিম্পাদির ফোন রিং হতে হতেই রিম্পাদি ফোনটা রিসিভ করল বললো'আমাকে খুঁজছিস তো?'
'সত্যি ,তুমি কি করে বোঝা গো মনের কথাগুলো হ্যাঁ ।   তুমি কোথায় আছো বলো
 তো ?
রিম্পদি তখন ও হো হো করে হাসছে।
 ' তুমি কোথায় উঠেছে বলো
 আগে। জেনারেল কম্পার্টমেন্টে উঠেছ? কি ব্যাপার ?কিছু রহস্যের গন্ধ আসছে মনে হয়।
কিছু কেমিস্ট্রি তৈরি করছে নাকি?'
'হ্যাঁ ,হ্যাঁ গেস কর সেজন্যই তো অন্য কম্পার্টমেন্ট উঠেছি।  কি কি আমার কপালে তোরা কম্প্লিমেন্টস লিখে রেখেছিস।'
'তা বলো আর হেঁয়ালি কোরো না, কোন দিকে আছো?'
" আজকে পেছনে লেডিসে উঠেছি।'
'ওমা কেন কি কারনে উঠলে?'
'ওমা জানিস না স্মৃতিদি।স্মৃতিদির জন্য উঠলাম'।
_এর ভিতর স্মৃতিদিকে নিয়ে টানাটানি করছ কেন?'
আরে স্মৃতিদির নাগাল কোথায় পাচ্ছি। টাকা পাবে না ?কোন হুশ নেই। যতবারই ফোনে বলা হয় ,ওটা ঠিক পেয়ে যাবো। তাহলে বোঝো এভাবেও ব্যবসা চালায় সে।  টাকা  পড়ে রয়েছে  সেদিকে হুশ নেই।'
'হ্যাঁ ,বুঝলাম।'
এই জানিস তো একটা কি ভালো স্কিভি  
এনেছিল ।ভাবলাম আমাকে মানাবে  'কি মানাবে না ?'
'ওমা মানাবে না কেন?
 অত সুন্দর তুমি দেখতে। তোমার ফিগার টা কত সুন্দর বলতো?'
' আর ঢপের চপ ভাজিস না তো ।যত উল্টোপাল্টা কথা তোর।  হ্যাঁ তোর নজরে তো সবসময় আমি সুন্দর। আমার নজরে তুই।,'
'হ্যাঁ সুন্দরীর পাশে শাকচুন্নি ,বলেই হো হো করে হাসতে লাগলো রেখা।
 ঠিক আছে ।রাখ রাখ ।'
'কিছু নিলে কি ,সেটা বল?'
'হ্যাঁ ,নিলাম তো?
বেশ কিছুটা কৌতুহলী নিয়ে 
'কি কি নিলে বল তো?
'আরে একটা হ্যান্ড বাটিক সিল্ক শাড়ি।'
'কত সিল্কের শাড়ি কিনবে ?না ,এবার তোমার ওয়ারড্রব খালি করো তো ,কিছু আমাদের দাও।
'বাবা কে কাকে বলে রেখা?
' তবে হ্যাঁ ,হিংসে হচ্ছে ,যদি কালারটা সুন্দর হয় আমি কিন্তু নিয়ে নেব।'
'নে ,না কে বারণ করেছে। তোকেই মানাবে ।
'তাই বুঝি ?ঠিক আছে ।বাকি কথাগুলো আর এখন বললাম না ,পরেই বলবো।'
ফোনটা রাখতে যাচ্ছি ঠিক তখন রিম্পাদি বলে শোন শোন আমাকে একটা না কন্টাক্ট নম্বর পাঠিয়েছে জানিস?'
'আরে সেই ব্যাপারেই তো তোমার সঙ্গে কথা বলবো। '
' ঠিক আছে। স্কুলে গিয়ে কথা হবে।'
Ok

 সত্যি সত্যিই ভদ্রলোক ফোন করেছিলেন এবং বলেছিলেন"আপনি লেখালেখি করেন,,।
যদি রাজি থাকেন তাহলে আমাদের পত্রিকাতে আমরা ধারাবাহিকভাবে আপনার লেখা প্রকাশ করব।
কথাটা শুনে মনে মনে রেখা খুবই উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠেছিল। একটা কিরকম একটা অদ্ভুত অনুভুতির সৃষ্টি হয়েছিল।  সেও বোধহয় তার লেখাগুলো ডানায় ভর দিয়ে এভাবে পাড়ি দেবে মানুষের মনের জগতে। লেখক হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করবে ।উত্তেজনায় তার  রক্তের ভিতরে একটা আলাদা স্রোত বয়ে গেছিল।কথাটা শোনার পর কল্পনায় যেন ভেসে গিয়েছিল রেখা দূর বহুদূর।
তারপর ভদ্রলোক যে কথাটা বলেছিলেন তাতে খুব আশ্চর্য্য হয়ে গিয়েছিল রেখা এবং কিছুক্ষণ নির্বাক হয়ে গেছিল।
 'এমনি এমনি তো আর প্রকাশ পাবে না ।এর জন্য কিছু খরচ তো করতেই হবে ।ঠিক আছে ।'
ভদ্রলোক এমনভাবে কথাগুলো বলেছিলেন তাতে রেখা বুঝতে পেরেছিল লোকটা পুরো 
প্রফেশনাল ।
তারপর যখন বললেন 'কী ম্যাডাম ,আপনি কিছু বলছেন না।'
'রেখা তখন বলেছিল 'না ,আমি আপনাকে পরে জানাবো।'
তাহলে একটু তাড়াতাড়ি জানাবেন কারণ আমাদের সামনে তো পুজো সংখ্যা বের হবে। একটু আগে বললে ভাল হয়।
 ঠিক আছে আপনি ভাবুন।'
বাড়িতে এসে রেখা মনোজকে কথাটা বলেছিল আর রিম্পদিকে ও ফোনে জানিয়েছে।
মনোজ বলেছিল' লেখালিখি তুমি করো। তুমি দেখো কি চাইছো? এব্যাপারে তো আমার কখনো তো তোমার ওপর কোনো কিছু চাপিয়ে দিই নি তবে তুমি দিতেই পারো  লেখাটা যদি বের হয় অনেকে পড়তে পারবে ।খারাপ কিছু নেই এতে।
তারপর রিম্পাদিকে ফোন করতে যাবে কি?
 রিম্পাদিই ফোন করে রেখাকে বলে ' ভদ্রলোক তো আমাকে ফোন করেছিলেন খুবই উৎসাহী মনে হল ।প্রথমে তো আমি একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম উৎসাহ দেখে যে বাবা এত উৎসাহ দেখাচ্ছেন নিশ্চয়ই লোকটা বেশ ভালো তো। লেখাগুলো প্রকাশ করবেন।  তুই তো কোথাও দিস
 না ।এতবার করে বলার পরও ।
পরক্ষনেই লেখালেখির ব্যাপারটা যখন আমি জিজ্ঞেস করলাম তাহলে ' কি হবে ? জানো লোকটা প্রফেশনাল পুরো।
রেখা বলল' সেই জন্যই তো  ,আমি একটু দ্বন্দ্বে পড়ে গেছি। আদপেও আমার লেখা  ভালো কি মন্দ ,সেটা আমি বুঝব কি করে বল তো
 রিম্পা দি ?আমি যদি টাকা দিয়েই আমার লেখাটা কে প্রকাশ করাই , তাহলে সেখানে লেখার  মান কি আছে ?আমি বুঝবো কী করে? ' 'কথাটা তুই ঠিকই বলেছিস । ছাড় না ,আমরা তো জানি তুই ভালো লিখিস। প্রকাশ হতে চাইছে যখন করে দে না আর তুই না পারিস আমি করে দিচ্ছি।
মনামী এই জন্যেই আমাকে কিন্তু নম্বরটা দিয়েছে। মনামী ও আমাকে ফোন করেছিল। ঠিক আছে। ছাড় ,তোকে এ নিয়ে ভাবতে হবে না।'
একটা রফা হয়ে গেছিল তারপর দেখা গেল সত্যি  কটা লেখা প্রকাশিত হল।
চারিদিকে একেবারে ধন্য ধন্য পড়ে গেল কিন্তু আমার আমি তো জানি, আমার মনের ভেতরে সে খচখচানি টা রয়েই গেল ।কত জনা কতভাবে উইশ করতে লাগলো কিন্তু মন থেকে সেই দ্বিধা, সেই টানাপোড়েন কিন্তু কিছুতেই সরাতে পারলাম না ।ভেতরে ভেতরে কেমন যেন একটা বিশ্রী রকমের অনুভূতির সৃষ্টি হয়েছিল।'
 ওই পত্রিকায় লেখাটা দেখলেই তখন কেমন বিরক্তি লাগতো।   টাকা দিয়ে আমার লেখা প্রকাশ করলাম। সত্যি করে বিশ্বাস করো আমি না কিছুতেই ঘুমাতে পারতাম না রাত্রে।'
মনামীকে যখন ব্যাপারটা খুলে বললাম।
 মনামী বলল' ম্যাক্সিমাম তো এরকম ই হয় ।তুই জানিস না, তাই তুই এই নিয়ে বেশি মুষরে
 আছিস। মন থেকে ওটা সরিয়ে ফ্যাল তো।'
রেখাও নিজেকে একটু বোঝানোর চেষ্টা করল। ঠিক আছে বোধহয়  এরকমই এই  জগতটা।
কিন্তু খটকা লাগতে লাগল লেখা প্রকাশ হওয়ার পর থেকে। লেখা প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল পুরোটা কিন্তু পুরো লেখা প্রকাশ হচ্ছিল না।
অবাক হয়েই রেখা ভদ্রলোককে ফোন করল 
 "কি ব্যাপার পুরো লেখা প্রকাশ করলেন না।
" হ্যাঁ ,করব ম্যাডাম। ধীরে ধীরে। চিন্তার কোন কারণ নেই। আসলে একটু ব্যস্ত আছি।
সে কথাই বিশ্বাস করল ও নিশ্চিন্তে বেশকিছু দিন দিন কাটাতে লাগলো কিন্তু রেখার ভেতরেও একটা কাঁটা যে রয়ে গেছে ,টাকার ব্যাপারটা। টাকা নিলেন প্রফেশনাল লোকের মত।অথচ লেখা প্রকাশ হলো না ।এই ব্যাপারটা আর সঙ্গে মনের ভেতরে ছিল একটা ভীষণ রকমের যন্ত্রণা টাকা দিয়ে লেখা প্রকাশ ভাবা যায়?'
রেখা তো কিছুতেই রাজি ছিল না। সবার কথাতেই সে রাজী হল।
যদিও ভদ্রলোক এরপর রেখার বিভিন্ন
 কবিতা ,গল্প চেয়েছেন ।
ম্যাডাম আরো কিছু গল্প, কবিতা, আপনি আমার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে পাঠান। অন্য কোন পত্রিকাতেও পাঠানোর চেষ্টা করব।
রেখা মনে মনে ভাবল সে কোন মানুষ সম্পর্কে এরকম বাজে ধারণা করাটাই উচিত না ।ভালো করে বোঝাও বুঝে ওঠার আগেই কারো সম্পর্কে রকম মন্তব্য করা উচিত নয়। নিজেই আত্মগ্লানিতে ভাবতে লাগলো।
যেরকম হামাল দিস্তা আদার টুকরো দিলে  তাতে যদি ছ্যাচা হয় ,দেখা যায় প্রথম অসাবধানতাবশত আদা কুচি চলে গেলে চোখে  জ্বালা যন্ত্রণা হয় কিছুক্ষণ চোখ টাকে বন্ধ করে রাখতে হয়।
রেখার ভেতর ঠিক সেরকমই জ্বালাটা ছিল। 
কোন মানুষ সম্পর্কে এরকম ধারনা করাটা উচিত নয় ।যদি প্রফেশনালি হবেন তাহলে আর কোন লেখা চাইতেন অন্য কোন পত্রিকায় পাঠানোর জন্য ?
ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ এটা মোটেই ভাবাটা ঠিক হয়নি।
 রেখার ভাবনার ভীত আর একটু মজবুত হয়েছে যখন দেখা গেল সত্যিই বেশ কিছু কবিতা ,গল্প অন্য পত্রিকাতেও প্রকাশ পেয়েছে।
এরপর কিন্তু রেখা ভুলে যেতে বসলো যে উনার পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে  রেখার লেখাগুলো প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল ,পুরোটা হয়নি। কেমন যেন একটা কৃতজ্ঞতাবোধে বাধো-বাধো
 ঠেকল ।
তার কাছে  আর বলতে পারল না।
এরপর ভদ্রলোক নানাভাবে হোয়াটসঅ্যাপে নানারকম মেসেজ পাঠাতে থাকলেন। প্রথমে সুপ্রভাত দিয়ে শুরু হলো তারপর একান্তে কিছু নিজের কথাগুলো, কষ্টের কথাগুলো ,শেয়ার করতে লাগলেন ।রেখাও ভাবলেন কি জানি হয়তো ভেতরে ভেতরে লোকটা এতটাই ভেঙে গেছেন। এইজন্য  রেখা ও সহানুভূতির সঙ্গে সমস্ত কথাগুলো শুনতে থাকে।
কিন্তু ভুলটা ভাঙ্গে রেখার একদিন ভদ্রলোক হঠাৎই রেখাকে প্রেমপ্রস্তাব এবং কিছু অশ্লীল শব্দ ব্যবহার করে । রেখা ও ব্যাপারটাকে ধামাচাপা দিতে চেয়েছে এবং রেখা বুঝিয়ে দিতে চেয়েছে যে তিনি যে ব্যাপারটা করতে চাইছেন মোটেই ওনার বয়সের সঙ্গে শোভনীয় নয় এবং যাকে ব্যাপারটা তিনি বোঝাতে চাইছেন তিনি ওই ধরনের কাজের মেয়ে নন।
তারপরেও ভদ্রলোক পাগলের মত কিন্তু নানাভাবে নানা রকম মেসেজ পাঠাতে থাকে । ভেতরে রিপু গুলোকে যেন মহুয়া ফলের রস খাইয়ে মাতাল করে দিতে চাইতো । কিন্তু কখনো ভেবে দেখতেন না আদপেও অপর পক্ষে কতটা অভ্যস্ত হবেন।
মনে মনে ভাবতো লোকটা কি কোন সাইকো পেশেন্ট। এরকম কথাও বলা যায় বা লেখা যায়?
সাহিত্যিকরা তো শব্দ গুলোকে খুব সুন্দর ভাবে পরিবেশন করেন। কিন্তু উনি ছি: ছি :ছি : টলারেট করতে পারছিলো না রেখা অথচ নিরুপায়।
রেখাও এর থেকে মুক্তি পেতে চাইছিলো কিন্তু জানে না কিভাবে যে একটা অদৃশ্য সূত্রে বাঁধা পড়ে গেছে ।না পারছে বেরিয়ে আসতে, না পারছে এন্টারটেইন করতে। কেমন যেন অসহ্য হয়ে উঠেছিল।  বোঝা এরকমই হয় অক্টোপাসের মতো বন্ধন ছাড়াতে চাইলে ও ছাড়ানো যায় না। রেখার শাঁখের করাতের অবস্থা হয়েছিল।
যখন রেখাকে কোন কিছুতেই কাবু করতে পারলেন না।
তখন একদিন ফোন করে বললেন যে তাদের একটা কবি সাহিত্যিকদের সম্মাননা অনুষ্ঠান আছে, সেখানে আপনাকে সংবর্ধিত করা হবে একটা কার্ড আপনার বাড়িতে পৌঁছে যাবে অবশ্যই আসবেন।'
রেখা প্রথম ভাবল মনে মনে, যা হয়েছে হয়েছে ঠিক আছে ।কার্ড আসলে নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই l যাবে।
তারই মাঝে একদিন ফোন করলেন, বললেন আপনাকে বলা হয়নি । আপনাদের যে কবি স্বীকৃতির বা সম্মাননা দেয়া হবে আপনাদের মেডেল সার্টিফিকেট  , এর জন্য পে করতে হবে।
কথাটা শোনার পর রেখার মাথাটা ঘুরে গেল। বন বন করে ঘুরছে ।চোখে যেন সর্ষেফুল দেখছে। কি বলবে বুঝে উঠতে পারছে না।
তখনো রেখা চুপ করে শুনে যাচ্ছে পাগলের প্রলাপ।
'কারণ যারাই এই সম্মাননা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন, প্রত্যেকেই কিন্তু তারা এই পে করেই তাদের এই সার্টিফিকেট বা মেডেল নেবেন।
রেখা কিছুক্ষণ কিংকর্তব্যবিমূঢ়।
 তারপর ভেবেচিন্তে  সিদ্ধান্ত নিল ।ভেতরে একটা তো বারুদের ঘর তৈরি হয়েছিল অপেক্ষা ছিল শুধু একটা স্ফুলিঙ্গের। দিনের খুব বিরক্তি অগ্ন্যুৎপাতের অপেক্ষায় ছিল।এত দিনের এই অসভ্যতামি  গুলো সহ্য করে গেছে রেখা। এখন কিছুতেই সেটা টলারেট করতে পারল না। বলল 'শুনুন কবিতা গল্প ,উপন্যাস, লেখাটা আমার নেশা। পেশা নয় ।যদি সার্টিফিকেট আমাকে পে করে নিতে হয় ,ওরকম সার্টিফিকেটের আমার কোন দরকার নেই ,আর ওই ধরনের কোনো অনুষ্ঠানে আমি যেতে চাই না।'
ভদ্রলোক একটু অবাক হয়ে বললেন'সে কি সবাই এই অনুষ্ঠানে আসার জন্য আগে থেকে আমাদের সঙ্গে কন্টাক্ট করেন আর আপনি এইধরনের একটা বিরাট  সুযোগ হাতছাড়া করবেন? আপনি চান না আপনার নাম চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ুক।
রেখা মাথাটা তখন একটু ঠাণ্ডা করে বললেন 'নিশ্চয়ই চাই কিন্তু সেই চাওয়া আমি টাকা দিয়ে নিজের কীর্তির তাজমহল বানাতে চাই না।'
'শুনুন এই আজকের দুনিয়াতে নিজের কীর্তির কথা আর নিজেকেই ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করতে হয় ।এটা জেনে রাখুন। আপনি বোধহয় জানেন না ।আপনি তো এই লাইনে নতুন সেজন্য।'
কথাটায় একেবারে রেখার মাথাটা হঠাত করে কেমন ঝটকা মেরে উঠল। এতটাই তেতে আছে রেখা তবু নিজেকে বলছে মনে মনে রেখা থাম কুল, কুল ডাউন ।
তারপর বলল 'আপনাকে তো আমি বললাম যে আমি ওই ধরনের লেখক ,কবি ,সাহিত্যিকদের দলে নেই। কবি সাহিত্যিক স্বীকৃতি বা সম্মাননা যদি নিতেই হয় নিজের কৃতিত্বেই নেব। আমার লেখা যদি সকলের ভাল লাগে । এমনিই আমার কৃতিত্ব ফুটে বের হবে ।তার জন্য আমার টাকা দিয়ে কেনার কোন মানেই হয় না।'
'শুনুন কোনদিনও আপনার লেখা প্রকাশ পাবে না।'
' আমি চাই না আমার লেখা প্রকাশ পাক। আমি বললাম তো আপনাকে এটা আমার নেশা ।আমি ভালোবেসে লিখে যাব।'
'এ ভালোবাসার কেউ মর্যাদা দেবে না আপনাকে।'
রেখার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছিলো শেষ পর্যন্ত বলতে বাধ্য হয়েছিল। ফোনটা কাটার আগে একবার জোরালো কন্ঠে বলল
'আর শুনুন একটা কথা বলি আপনাকে ,যে টাকাটা পে করা হয়েছিল আপনি তো পুরো লেখাটা আমার প্রকাশ করেন নি, সেটার কি হলো বলুন তো?
' আপনি চাইলে আপনাকে টাকাটা  ফেরত দিয়ে দিতে পারি।'
রেখা চুপ করেছিল।
যদিও সে টাকা আর ফেরত দেননি ভদ্রলোক।
রেখাও যেচে ফোন করতে যায়নি।
উল্টে ভদ্রলোকই অনেকবার মেসেজ পাঠিয়েছেন তার পরেও বলেছেন যে 
'আপনি লেখা পাঠান এর জন্য আর কোনো আপনাকে টাকা পে করতে হবে না কিন্তু রেখার কোনো কর্ণপাত করেনি ।
রেখা কোন রেসপন্স করেনি। হ্যাঁ ,হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটা রেখে দিয়েছিল। তারপর থেকে ভদ্রলোক আর কোন বাজে মেসেজ পাঠানোর সাহস
 পাননি।
 শুধু কোথায় কি কবি ,সাহিত্যিক, সম্মেলনে হচ্ছে সেগুলোকে মেসেজ করে পাঠিয়ে দিতেন এবং উত্তর পাবার চেষ্টা করতেন। শেষে একবার বললে মেসেজ পাঠিয়ে ছিলেন 'ম্যাডামের এখনো রাগ কমেনি।'
' ওই দিন থেকেই ওই ভদ্রলোকের সঙ্গে  যে এতদিনের টানাপোড়েন চলছিল বেরিয়ে আসার জন্য , সুযোগ এসে গেছিল। রেখা বন্ধন ছিন্ন করে ,যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।'
রেখা যেন মুক্ত বিহঙ্গ নীল আকাশে ডানা মেলে উড়ে যেতে চায় আর মুক্ত বায়ু মনেপ্রাণে ভরে নিতে চায়।
  মনামীকে এই ঘটনাটা রেখা বলে নি। রেখা চায় নি মনামী এই ব্যাপারটা জানুক এবং ওদের ভেতরে যে সম্পর্কটা আছে ভালো সম্পর্কটা জিইয়ে  থাকুক । আর খারাপ দিকটা
 নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিল।
শুধু রেখার মনের ভিতর তুষের আগুনের মতো জ্বলছিল।
এই ভদ্রলোক এমন ছিলেন কোন সম্পাদকের নম্বর পর্যন্ত দিতেন না ,চাইলেও বলতেন আমরা বলে না দিলে প্রকাশ পাবে না। তবুও
ভুলবশত একটা লিংক পাঠিয়ে ফেলেছিলেন 
তাতেই ওই পত্রিকার সম্পাদকের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর ছিল। রিম্পা দি সেটা যত্ন করে রেখে দিয়েছিল।
আজ রেখার লেখা প্রকাশ পাচ্ছে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায়।' সিঁড়ি' পত্রিকার ঠিকানা টা রিম্পা দি ওই ভদ্রলোকের দৌলতেই সেটাকে জোগাড় করে রেখেছিলেন, যার জন্য নিজের থেকে সেই 'সিঁড়ি' পত্রিকায় লেখাগুলো আবার দিতে থাকে এবং দেখা যায় যে ওই সম্পাদক তিনি উৎসাহিত করতে থাকেন এবং এখন ধারাবাহিকভাবে তার লেখাটা প্রকাশিত হচ্ছে ।এজন্য সত্যিই যতই লোকটাকে ঘৃনা করুক না কেন একটা যেন কৃতজ্ঞতা বোধ থেকেই গেল অন্তরে।
কিন্তু হঠাৎই ভদ্রলোকের হার্ট অ্যাটাকের খবরটা শোনার পর রেখার মনের ভেতরে একটা রেখাপাত ঘটল ।রেখা কোনদিনও মনেপ্রাণে চায় নি এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটুক। মানুষ তার আপন কর্মের দ্বারাই নিজের নিজের বৃত্তে আবর্তিত হোক এটাই চেয়েছে। কথাটা শোনার পর রেখা কিছুক্ষণ স্তব্ধ হয়ে গেছিল । মনামী যখন ফোন করে বলেছিল 'হ্যালো তুই 
কোথায় ?'
'কেন বলতো ?একটু ব্যস্ত আছি।
' কবি ,সাহিত্যিক, সাংবাদিক সৌমেন রায় মারা গেছেন ।'
কে?'
'আরে ভুলে গেলি এর মধ্যে? তোর লেখালেখি প্রকাশ হয়েছে।
' ও আচ্ছা ,আচ্ছা । কিভাবে?
' আর বলিস না গতরাত্রে হার্ট অ্যাটাক।
' সত্যি ভীষণ খারাপ খবর ।
'আরে সকালে ঘটনাটা ঘটেছে কিন্তু আমি অফিসে যাবার পথে তোকে আর ফোন করে উঠতে পারিনি ।আমি তাই তোকে জানানোর দরকার ছিল বলে তাই জানালাম।
' কি ভাল ছিল জানিস এই ভদ্রলোক।' 
রেখা কিছু বলতে পারলো না প্রথমদিকে ।যে ব্যক্তি বেঁচে নেই ,তাকে নিয়ে সমালোচনা করার কোন মানেই হয় না ।হ্যাঁ নিশ্চয়ই কারো না কারো কাছে নিশ্চয়ই ভালো ব্যক্তি, ভালোই হয়েই 
থাকুন না নয় ,সকলের কাছে উজ্জ্বল হয়েই
 থাকুন । কালো আঁধার  হয়ে থাকুক রেখার অন্তরে। 
রেখা শুধু বলল' উনার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করি।'
 মনামী বলল' আমার ভীষন খারাপ লাগছে জানিস।'
 রেখা বলল 'কেন কালকে হঠাৎ এরকম হলো? উনার কি কোন হার্ট ডিজিজ ছিল?
 আরে না শুনেছি ছেলে নাকি চলে যাবেন ভীষণরকম নাকি খাবার দাবার খাওয়া হয়েছে।  পরিবার সূত্রে জানা যায়   ।
' ও আচ্ছা ,আচ্ছা,।
 ঠিক আছে রাখছি।'
রেখা ভাবল এরকমও হয়। মানুষ যে পৃথিবীতে নেই অথচ কিছু বিরক্তি, কিছু ক্ষোভ ,কিছু ঘৃণা মানুষের ভেতরে কিছু ভালোবাসা ,সেগুলো থেকেই যায় ।এক মানুষ থেকে আরেক মানুষের ওপর নির্ভর করে ,সেই ব্যক্তি তার কি প্রতিক্রিয়া রেখে গেছেন ।
রেখার কাছে আজ কোন কিছুরই প্রতিক্রিয়া নেই শুধু একটাই কামনা যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন।  কৃতজ্ঞতাবোধ রেখার ভেতরে রয়েই 
গেছে।কারণ আজ উনার দৌলতেই রিম্পা দি অন্য পত্রিকার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পেরেছেন সে জন্য অসংখ্য অসংখ্য ধন্যবাদ জানালো। চোখ থেকে যেন  গড়িয়ে পরল নোনা চোখের
 জল ।সেই জলে কি ছিল বিরক্তি, ক্ষোভ ,ঘৃণা ,না ভালোবাসা? শুধু স্মৃতিতে রয়ে যাবে। নাকি বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যাবে?'

০১ মার্চ ২০২২

কবি শরিফুর রহমান এর কবিতা




চলো গাঁয়ে ফিরি
শরিফুর রহমান

ফিরে যেতে ইচ্ছে করে গাঁয়ে
ভাল্লাগেনা স্বার্থপর -এ শহর, 
মেঠো পথে হাঁটবো খোলা পায়ে
মন টেকে না অট্টালিকার 'পর।

সোঁদা মাটির গন্ধ ভালো লাগে
ভাল্লাগেনা কালো বিষের ধোঁয়া,
সবুজবীথি হৃদয় মাঝে জাগে
মন স্বাধে না স্বপ্ন অাকাশ ছোঁয়া।

গাঁয়ের মানুষ বড্ড সরল মনা 
ভাল্লাগেনা মুখোশ পরা আপন,
পল্লী মায়ের বুকে ফলে সোনা
মন চাহে না শহরঘ্যাষা যাপন।

চলো ফিরি নীল-সবুজের কোলে
ভাল্লাগেনা হাজার সিঁড়ির তোপে,
গাঁয়ের স্মৃতি প্রাণে দোদুল দোলে
মন থাকে না ইট-পাথরের খোপে।

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১১৭





উপন্যাস 


টানাপোড়েন১১৭
ভালো থেকো
মমতা রায়চৌধুরী

সবদিক থেকে একটা কালশিটে পড়া চাপা কষ্ট  যেন অক্টোপাসের মতো জড়িয়ে ছিল ।যেমন করে বেগুন পোড়ালে উপরটা কালশিটে পড়ে যায় আর ভেতরটা নরম।
মনোজের ঘরে সকালবেলা উঁকি দিয়ে ফোনের কথাবার্তাগুলো ভাসা-ভাসা রেখার কানে এসেছিল। স্কুলে গিয়ে সারাদিন সেই কথাগুলো তার মনের আকাশে উঁকি দিয়ে গেছে ।একটা অদম্য কৌতুহল যেনো কাজ করেছে ,ঠিক যেমন করে সামুক যখন ঢাকা খোল থেকে বেরোয় ঠিক তেমন। স্কুলে কাজ করেছে ঠিকই মন বসাতে পারেনি। বারবার শুধু মনে হয়েছে দাম্পত্য জীবনের রসদগুলো কি এভাবেই ফুরিয়ে যায়?
টেবিলে গাদাগুচ্ছ প্রোজেক্টের খাতা জমেছে। 
বেশ কয়েকটা খাতা দেখার পর আর মনেই হচ্ছে না খাতাগুলো দেখে। বারবার মনের ভেলায় পাড়ি দিচ্ছে বেখেয়ালি মন।কর্তব্যনিষ্ঠ শিক্ষিকা হিসেবে সুনাম আছে তার স্কুলে। সারাদিন হয় বই, না হয় ক্লাস, কিছু-না-কিছু বিদ্যালয় সংক্রান্ত কাজ রেখা করতেই থাকে। এজন্য  সারাদিন কাজের শেষে বাড়িতে ঘাড়ে ব্যথা নিয়ে ফেরে। ফিরে কিন্তু সে ঘাড়ের ব্যথাকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দেয়। বাড়িতে এসে তার কর্তব্যের কোন অবহেলা হয়না ।রেস্ট বাদ দিয়ে সাংসারিক কাজকর্ম করে যায় নিপুণভাবে ।শীত-গ্রীষ্ম-বর্ষা যেমন সাংসারিক জীবনে তার উজ্জ্বল উপস্থিতি ,তেমনি করে স্কুলের ক্ষেত্রেও সূর্য ওঠার মতো দৈনিক চিত্র লক্ষ্য করা যায়। শুধুমাত্র নজরের বৃত্ত থেকে সরে যায় তার শরীরের ক্ষেত্র।
শরীরটা যেন তাকে সাথ দিচ্ছে না কিন্তু মনের জোরটা তার এতটাই যে সেগুলোকে উপেক্ষা ক'রে চলে। ট্রেনে উঠে শরীরটাকে এলিয়ে দেয় সিটের সঙ্গে।  আজ যদি রিম্পাদি থাকতো তাহলে অন্তত তার সহমর্মিতার ছোঁয়াটুকু পেতো।হাতটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রেখার পিঠে এসে রাখত। বসে বসে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে ।আজ কোথায় রিম্পা দি, কোথায় রেখা। আজও চলছে খাওয়া ,চলছে সবার সঙ্গে হাই-হ্যালো, শুধু পাচ্ছে না মনের খোরাক। তার মাঝেও তৃষ্ণার্ত চাতকের কাছে যেমন এক ফোঁটা বৃষ্টি অত্যন্ত মহার্ঘ্য, ঠিক তেমনি তার তৃষ্ণার্ত মরুভূমিতে তার নেশা লেখা ,লেখনি শক্তি। লেখার মধ্যে দিয়েই ফুটিয়ে তোলে দৈনন্দিন জীবনের চাওয়া পাওয়া দুঃখ কষ্ট ছোট ছোট সুখানুভূতি ,খুনসুটি ।এ সমস্তই তর মনে এসে সঞ্চিত হয়। ট্রেনে আস্তে আস্তে এসবই ভাবছিল রেখা ।
হঠাৎই ফোনের আর্তনাদ শোনা যায়। প্রথমে রেখা ফোনটা রিসিভ করেনি কিন্তু ফোনের আর্তনাদে এবার তাকে ফোনটা ধরতেই হল।
 বলল  'হ্যালো'
ম্যাডাম কালকের পর্ব টা পাঠান নি ।
একটু অবাক হয়ে রেখা বলে' হ্যাঁ পাঠিয়েছি তো'।
হ্যাঁ ,পাঠিয়েছেন। কিন্তু আপনি বলেছিলেন যে দু একটা জায়গায় ভুল আছেএকবার ফ্রেশ করে পাঠাবে ন?'
জিভ কেটে' ও হ্যাঁ ভুলে গেছি ।সত্যি ভীষণ ভাবে দুঃখিত।'
গাব ফল খেতে গিয়ে কাকের গলার ভেতরে যখন আঁটি ঢুকে যায় তখন সে ভাবে, সে খুব ভুল 
করেছে l রেখার ও ঠিক তেমনি অবস্থা হয়েছিল।
ফোনের অপরপ্রান্ত থেকে ভদ্রলোক বললেন' না ঠিক আছে ।আজকে আপনি তাহলে দুটো পাঠিয়ে দিন।'
'ঠিক আছে। তাই হবে।'
ফোনটা কেটে মনে মনে ভাবছে' বললাম তো পাঠিয়ে দেব কিন্তু খুব চাপ আছে।
শরীরটা তো সাথ দিচ্ছে না। কিন্তু মনের জোর হারালে তো হবে না এই লেখাযই তাকে প্রাণশক্তি জুগিয়ে যাচ্ছে । কাছেই লেখা কমপ্লিট করতেই হবে।'
এসব ভাবতে ভাবতেই তার ভাবনা উড়াল থামিয়ে দেয় ফোনের আর্তনাদ।
একে  তো ট্রেনেতে ভিড় ।তাও রক্ষে যে জায়গাটা পাওয়া গেছে । ব্যাগ হাতরে হাতরে আবার ফোনটা বের করল। বের করতে করতেই গেলো ফোনটা কেটে ।
ফোনটা বের করে নম্বরটা চেক করতে  দেখতে যাচ্ছে কে ফোনটা করেছে ?এমন সময় আবার ফোন বেজে উঠল ।
'ও বাবা, এত রিম্পাদির ফোন।'
"হ্যালো'
"কি ব্যাপার রে ।কোথায় আছিস?'
এখান থেকে চলে যাবার পর তুমি যেন সব ভুলে গেছ। এ সময় কোথায় থাকতে পারি বলো?'
রিম্পা দি তো হেসে লুটোপুটি খাচ্ছে' হ্যাঁ, ঠিকই বলেছিস ।আমি তো বাড়িতে ।তাই আমি ভাবলাম তুই ও বাড়িতে।'
' তুমি এ সবই ভাবতে থাকো ।কাছে পিঠে চলে গেছ তো ,ওই জন্য বলো ?'
'হ্যাঁ ,এবার তুই ট্রেনে। বুঝতেই পারছি ট্রেনের আওয়াজ, ভিড় ।তারমানে স্কুলে গেছিস ।একদম ঠিক ।
আচ্ছা পিকনিকে যাবি তো ?যেতে কিন্তু হবে ।না করতে পারবি না, আর মনোজকে বলেছিলি?'
' ওর কথা ছাড়ো তো  যেতে হলে আমি যাব কিন্তু আমার শরীরটা জানো তো কিছুদিন ধরে সাথ দিচ্ছে না।
" আরে ছাড় না  মনটাকে ঠিক রাখ , শরীর ঠিক হয়ে যাবে। বলেই হো হো হো করে হাসতে লাগলো।
তারপর বলল' তোর সঙ্গে  যতই হাসি-ঠাট্টা করি না কেন ।তবে একবার তোর ডাক্তার দেখিয়ে নেয়া উচিত। মনোজকে বল। আমি কি তোকে নিয়ে যাব?'
রেখা বলল 'সে দেখা যাবে  ।
দেখি তোর দেখা যাক সেটা কবে হয় আবার এক যুগ পার করে দিস না যেন। আচ্ছা শোন
'তোদের মিড ডে মিল কবে থেকে ?'
ভালোকথা মনে করেছো এই মিড-ডে-মিল নিয়েএকটা না যা কান্ড হয়েছে না, তোমাকে না বললে আমার পেটের ভাত হজম হচ্ছে না ।যদিও এখন পেটে ভাত নেই । ছুঁচোতে পেটে  ডন 
মারছে। বাড়িতে গিয়ে খাবার খেতে হবে।।
 তবুও বলছি অনুরাধা দি   নাকি অসুস্থ । কাল যখন বেরোচ্ছি  ট্রেন ধরবো  বলে তখন বড়দি পঞ্চমীর হাত দিয়ে একটা কপি পাঠিয়ে
 দিলেন ।
আমি বললাম কি এটা?
 ও বলল 'আমি কি দেখেছি নাকি? বড়দি দিতে বললেন তাই আমি ছুটে এসে দিচ্ছি 
আপনাকে ।"
'ওদিকে বড়দি শুনতে পেয়ে জানলা দিয়ে বলছেন এই লেখাটা পঞ্চম শ্রেণীর পোটাল থেকে একটা মেয়েদের লিস্ট বার করে আর ফোন নম্বর বার করে তোমাকে দেয়া হয়েছে। অনুরাধা দি তো অসুস্থ ।মিড-ডে-মিল সংক্রান্ত মেসেজ পাঠাতে হবে ,সঙ্গে ওদের ফোন করে দিতে হবে একটু একটু করে দিও   ।'
'কি বলি বলো তো ?  না করতে পারি না ।আমার হয়েছে যত জ্বালা।'
' সে তো বুঝলাম ।ব্যাপারটা কি হয়েছে
 বাবা  বল না আমার জানতে ইচ্ছে করছে। আমার আর তর সইছে না। উগলে দে তাড়াতাড়ি।'
কোন মা কুকুর তার সন্তানের জন্য খাবার সঞ্চয় করে এনে যেমন উগলে দেয়, উদগ্রীব হয়ে থাকে তাকে খাবার খাওয়ানোর জন্য। ঠিক সে রকম।
রিম্পা দি এমনভাবে কথাগুলো বলল যেন মনে হচ্ছে মনের ভেতরে একটা আকুলি-বিকুলি চলছে কি মজার কান্ড হয়েছে ,সেটা শোনার জন্য। একজন গার্জেনকে যখন ফোন করা হলো। ফোন ধরে কি বলল ' জানো?'

রিম্পা দিয়ে একদম যেন জাঁকিয়ে বসেছে শোনার জন্য কোন দিকে ধ্যান নেই ।তপস্বী যেমন তপস্যা করতে বসলে তার অন্য কোন দিকে ধ্যান থাকে না ।ঠিক সে রকম।'
আরে জানবো কি করে ?কখন থেকে শুধু জানো জানো বলছিস ।বলে ফেল না।'
যেই ফোনটা ধরল ধরে বললো
"হ্যালো"।
জান রিম্পা দি যখন আমি বললাম ভুবন মোহিনী গার্লস হাই স্কুল থেকে বলছি।
 তখন ঐ গার্জেন কি বলল 'জানো ?
 বললো  'কেন ফোন করেছেন বটেক?'
 যখন আমি বললাম' আপনার মেয়ের নাম লক্ষী মুর্মু।'
গার্জেন বলল ' ত আছে বটে।'
আমি বললাম' সামনের মাসে 3 তারিখে মিড ডে মিল দেওয়া হবে।'
গার্জেন একটু অবাক হয়ে বলল''কি আছে বটে?'
আমি যতদূর বুঝলাম এ গার্জেন এর ছেলেমেয়েদের পড়া এবং স্কুল সংক্রান্ত কোন বিষয়ে যোগাযোগ নেই  ।
আমি বললাম চাল আরো আনুষাঙ্গিক বিষয় গুলো  দেয়া হবে।'
সবথেকে অবাক লাগল  কি 'জানো ?'
রিম্পা দি বললো ' কি?'
গার্জেন আমাকে বলছে' তু লিয়ে লে বটেক।,'
আমি তখন বললাম' কি বলছেন আপনি ?নিয়ে নেব মানে?'
তখন বললো 'আমাকে জ্বালাস নি তো বটে।'
আমি বুঝলাম যে আমার কথা বলাটাই বৃথা।
' সে তো রীতিমতো নেশায় বুঁদ হয়ে আছে।'
এমন সময় ফোনে আওয়াজ পেলাম ওর বউ এসে বলছে' তু কার সঙ্গে কথাটো বুলছিস?
দেখি বলছে 'তু কথাটা ক্যানন বুল না'।
তখন সেই মহিলা ফোনটা নিয়ে বলছে 'কে বুলছিস?'
তখন আমি আবার বললাম' আমি স্কুল থেকে বলছি।
তখন দেখলাম একটু সপ্রতিভভাবে বলল 'ম্যাডাম আছিস কেনে?'
আমি বললাম, ' হ্যাঁ, মিড ডে মিল এর জন্য বলছিলাম।'
'কোন দিন টা তো যেতে হবেক দিদিমুনি'
"সামনের মাসের 3 তারিখে।'
"উর কথাটো তো কিছু মুনে করিস নি।
 ও তো লেশা ভান করে আছে লা?
আমি ঠিক পৌঁছেটো  যাবক।'
' ঠিক আছে।'
 ফোনটা নামিয়ে না আমি কি করব হাসবো 
না , না কাঁদবো ,কি করবো? আমি কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলাম না ।'
ওই লোক যখন বলল যে তুই লেলে  বটেক।
আমি ভাবছিলাম যে বড়দি কি দায়িত্ব 
দিলেন ।আজকাল কিনা করতে হচ্ছে আমাদেরকে। '
বললাম বড়দিকেও ।
বড়দি বললেন 'তাহলেই ভাবো। তবে কিছু ভেবো না রেখা ।মানুষের সঙ্গে জনসংযোগটাতো 
হচ্ছে বল। কত ধরনের বিচিত্র মানুষ ,তাদের জীবনযাপন ,তাদের কথা বলার ভঙ্গি স,বকিছুই আমরা জানতে পারছি এটাও দরকার আছে।
সম্পর্কে আরও সমৃদ্ধ হতে পারছি আমরা।'বড়দি আমার চোখ মুখের অবস্থা দেখে নিজেও হাসতে শুরু করলেন আর পিঠে মাথায় হাত বুলিয়ে বললেন' এগিয়ে চলো ,এগিয়ে চলো।'
 রিম্পা দিয়ে বলল' কি কান্ড রে।'
তবে একটা কথা বলি তোর কিন্তু উপন্যাসের চরিত্রগুলো তোর চোখের সামনে ভিড় করছে এবং তাদের ডায়লগগুলো এটাই কাজে লাগিয়ে দে।
ইতিমধ্যেই ট্রেনের হুইসেল বেজে উঠল মদনপুর স্টেশন ছাড়লো কল্যাণী স্টেশন এর দিকে এগোতে শুরু করলো বললো শোন রাখছি তাহলে পিকনিকে আসছিস কনফার্ম মনে থাকে যেন কোন অজুহাত শুনবো না ভালো থাকিস।
রেখা  মনে ভাবল 'ভালো থাকিস, ভালো 
থেকো ,এই ভাবনাগুলো যতক্ষণ মনের মধ্যে রাখবো ।ততক্ষনে ভালো থাকবো। ভালো থাকাটা তো এভাবেই ।এজন্যই মনের ভেতরে বেশিক্ষণ কষ্ট চেপে রাখতে চাইছি না ।দুদিনের এই পৃথিবীতে এসেছি ।যত কষ্ট চেপে রাখবো ,ততই কষ্ট পাবো.। গানের একটা লাইন মনে পড়ে গেল 'পারবো না ছুঁতে শুধু ,স্বপ্নে এসেই বলব তুমি ভালো থেকো।'টানাপোড়েনের এই জীবনে শুধু এটাই বলব ভালো থাকার মানুষগুলো সবাই ভালো থাকুক। ডানায় ডানায় ভর করে, উড়াল দিয়ে চলুক ভালো থাকার বার্তা।

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১১৬




উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১১৬
মনের হদিস কে বা জানে?
মমতা রায় চৌধুরী

ভোরের দিকে সবেমাত্র চোখটা লেগেছে অমনি ফোন বেজে উঠলো।ফোনের আওয়াজে রেখার বুক ধড়ফড়ানি শুরু হল। আশ্চর্য হয়ে ভাবলোএত সকালে কে করবে? আর কি কারণেই বা প্রথমেই যতসব অশুভ কথাগুলোই মনে আসতে থাকে। তবুও ভয়ে ভয়ে গিয়ে ফোনটা রিসিভ করে। ভাল খারাপ যাই হোক । তার তো সামনাসামনি দাঁড়াতেই হবে । কাজেই বিলম্ব না কোরে ফোনটা তুলে বলে ''হ্যালো'। 
প্রথম দিকটা একটু চুপ থাকে তারপর যখন আবার বলে 'হ্যালো '।
তখন অন্য পক্ষ উত্তর দেয়' দিদি আমি' সমু' বলছি।'
হঠাৎই সোমদত্তার ফোন আসে রেখার কাছে।
একটু অবাক হয়ে যায়। এতদিন পর
ফোন  করেছে, কি ব্যাপার? ভেতরে একটা কৌতুহল থেকেই যায়। একেবারে বিছানায় উঠে বসে রেখা। ঠিক শুনলো তো গলাটা।
সব ভাবনার অবসান ঘটিয়ে বলল কে সমু?
একটু নীরব থেকে উত্তর দেয় ', হ্যাঁ, দিদি।'
'এত সকাল বেলায় ফোন করছিস? সব ঠিক আছে তো? কি হয়েছে? কাকু ,কাকিমা ঠিক আছে?'
 যদিও কালকে কাকু কাকিমার সঙ্গে কথা হলো রাত্রের মধ্যে আবার কি হলো মনে মনে ভাবল।
' হ্যাঁ ,সবাই ঠিক আছে।
 'তাহলে হঠাৎ ফোন করলি?'
একটু চুপ করে থেকে বলে' আজ পার্থর বিয়ে?'
'কার বিয়ে?'
'দিদি, পার্থর বিয়ে।'
'ও পার্থর বিয়ে। তা ভালো কথা তো?'
তুইতো সংসারটা করলি না ।এবার তোর জন্য আর কত দিন ওয়েট করবে বল পুরুষ মানুষ তো।'
'হ্যাঁ ঠিকই বলেছ। যেন যখন আমি ছিলাম ওর সঙ্গে ও যেন কোন মেয়ের দিকে তাকাতো না সবার কাছে তো তার নিজের চরিত্রটা উদার মহৎ নির্ভেজাল একটা ভালো মানুষ হিসেবে   বাজিয়ে গেছে ।যত দোষ সব আমার ছিল।'
হঠাৎ আজ এসব কথা কেন বলছিস? তোকে তো কত দিন বলেছিলাম, কোন সমস্যা থাকলে আমাদের বল ।তখন তো কোন কথাই বলিস নি।'
'হ্যাঁ ,বলি নি এ কারণে ।সবাই আমাকে দোষারোপ করুক ।ভালো থাকুক ও।কিন্তু আমি এই দিনটার অপেক্ষায় ছিলাম দিদি ।এবার ওর মুখোশটা তোমাদের কাছে খুলবো।'
'তাতে কি লাভ হবে বল বিয়েটা তো আর আটকানো যাবেনা।'
"আমি বিয়ে আটকানোর কথা বলছি না। তাছাড়া আমি ওর সাথে সংসার ও করতাম না।'
'তাহলে?'
'কার সাথে বিয়ে করছে জানো ?আমি যাকে নিয়ে সন্দেহ করেছিলাম ঠিক তাকে ই।'
'কাকে?'
'ওর অফিসের কলিগ মোনালিসা।'
'মানে?'
'মোনালিসা ও ডিভোর্সি। ওর দুটো বেবি আছে।
জানো ইদানিং কি শুরু করেছিল প্রায় দিনই ড্রাংক হয়ে বাড়ি ফিরত। পাবলো তো এখন বুঝতে শিখেছে ওর বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে ভয় পেত। ওকে কোনরকম সামলে নিয়ে বেহুশ অবস্থায় যখন অফিস থেকে গাড়ি করে ওকে দিয়ে যেত তখন ওকে আলাদা ঘরে শুয়ে দিতাম আর জানো আমাদের সঙ্গে যখন শারীরিক মিলন হতো তখন কাকে নাম ধরে ডাকতো মোনালিসা, মোনালিসা , দিদিভাই মোনালিসা। বলেই অঝোরে কাঁদতে থাকে। '
'তুমি ভাবো আমি যখন প্রথম কাউকে ভালোবেসেছিলাম। তাকে তো আমার বাড়ি থেকে কোনো গুরুত্ব দেয়নি। আমাকে বিয়ে দেয়া হলো পার্থর সঙ্গে ।আমি তো মেনে নিয়েছিলাম। ওকেই আমি খুশি রাখার চেষ্টা করতাম। কিন্তু তুমি ভাবো যখন দুজন মিলিত হতাম মানে শারীরিকভাবে তখন আমার স্বামী আমার জায়গায় অন্য মহিলাকে এক্সপেক্ট করছে ।ভাবতে পারো শুধুমাত্র যেন একটা যৌন ঋণ কাজ 
করত আমাদের ভেতরে। কেন যৌন ঋণ বলতো শব্দটা ব্যবহার করলাম। মনে হতো ওকে না পেয়ে চোখ বুঝে আমার জায়গায় মোনালিসাকে ভেবে তার শরীরে একটা বিদ্যুত খেলে যাচ্ছে।  মনে হত যেন সেই ঋণ শোধ দিচ্ছে।'
"এসব কি বলছিস সমু?'
'আমি ঠিক বলছি দিদি।'
'স্বামী-স্ত্রীর ভেতরে যে সম্পর্ক ।সে সম্পর্ক থাকতে হবে বিশ্বাসের দিদিভাই, থাকতে হবে 
ভালোবাসার ।বিশ্বাস যেখানে ভেঙ্গে যায়, সেখানে ভালোবাসা কি করে থাকে দিদিভাই?'
রেখা সমুর কষ্ট গুলো বুঝতে পারে।'
' সত্যিই তো ত বিশ্বাস ,ভালোবাসা এসব না থাকলে বন্ধন কিভাবে অটুট থাকবে?'
সমু তখনও বকে যাচ্ছে । আসলে এতদিনের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস টা যেন উপচে পড়ছে। শিব ভেঙেচুরে সব শেষ করে দিতে চাইছে।
'বলছে মনোজদার মতো তো সবাই নয় দিদিভাই।'
রেখাও চুপ করে থাকে।
আর ভাবে' সবাই মনোজকে কত ভালো মানুষ ভাবে। তাই রেখা বললেও রেখার কথা কি কেউ বিশ্বাস করবে?'
আজ পর্যন্ত সমুকে যেভাবে দোষারোপ 
করেছে  ।পার্থকে সেখানে বড় করে দেখানো হয়েছে কিন্তু সমুর ভেতরে জমানো কষ্ট, যন্ত্রণা 
বিশ্বাসভঙ্গের বেদনা আছে সেটা কখনো উপলব্ধি করতে পারে নি।'
'তুই এখন কি করবি ভাবছিস?তুই তো  ওই ছেলেটার সঙ্গে সংসার করবি নাকি?'
"তুমি খেপেছে দিদিভাই ।আমি জানি ও বিবাহিত ওর সংসার আছে। আমি জেনে বুঝে ওর সংসারটাকে নষ্ট করব?'ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়।'
রেখা সত্যিই অবাক হয় ।সে কিরে, তাহলে এতদিন যে তুই ওর সঙ্গে ….।'
সমুএকটু ম্লান হেসে বলে
'ভালোবাসার অভিনয়গুলো করেছি। কেমন সুন্দর অভিনয় করলাম বলো? পারফেক্ট না দিদিভাই?
ওটা না করলে যে আমি ডিভোর্স পেতাম না দিদিভাই।'
সত্যিই রেখা আশ্চর্য হয়ে যায় যে সমু ম্যাচিওর হয়ে গেছে ।ওর ভেতরে যে একটা মিথ্যা মিথ্যা খেলা গেছে চলে ,সেটা কেউ ধরতেই পারলাম না।
"এবার তুই কি করবি তাহলে?'
"না ভালোবাসার অভিনয় করলেও, ও কিন্তু আমাকে একটা কাজ দেখে দিয়েছে
 দিদিভাই ।সেজন্য আমি ওর কাছে কৃতজ্ঞ।
তবে হ্যাঁ, ও আমাকে ভালোবাসে দিদিভাই ।কিন্তু আমি সেই ডাকে সাড়া দিতে পারব না। ফাইতফুল গু ধারার মতো আমার ভেতরে বয়ে যাবে কিন্তু প্রকাশটা থাকবে না।আমি বলেছি যদি ভালোবাসো তাহলে আমাকে একটা কাজ দাও যাতে আমি আমার সন্তানকে যথাযোগ্য মানুষ করতে পারি।'
"তা তোর কথা রেখেছে?'
"হ্যাঁ দিদিভাই।'
'যাক যেভাবে ভালো থাকিস ,সেভাবেই থাকার চেষ্টা কর ।না বুঝেই তোকে অনেক কথা বলেছি বোন ।কিছু মনে করিস না।
তবে পার্থর মুখোশ খুলে দিয়ে ভালোই করেছিস। কাকিমা কাকু কে জানাব ব্যাপারটা।'
সমু একটু চুপ থাকে, তারপর বলে "তোমরা কেমন আছ দিদিভাই?'
'এইতো চলছে রে বোন।'
"তুই তাহলে এখন কোথায় থাকবি।'
'আমাকে তো একটা ফ্ল্যাট কিনে দিয়েছে তবে আমি বলেছি আমি অফিস থেকে যে স্যালারি টা পাবো তার থেকে আস্তে আস্তে টাকাটা শোধ করে দেব।'
"বাহ, কোথায় নিয়েছিস?'
"ও ই  তো গড়িয়ার কাছে।
একদিন এসো দিদিভাই অনেক কথা হবে।'
"হ্যাঁ ,নিশ্চয়ই যাবো রে ।তুই ভালো 
থাকিস ।পাবলোর খেয়াল রাখিস।"
'হ্যাঁ দিদিভাই ,রাখি তাহলে।'
বাপরে ফোনটা ছেড়ে দিয়ে ধপ করে বসে পড়ে বিছানার উপর রেখা ।মানুষের মনের খবর কে রাখতে পারে ? এত কিছু ঘটে গেছে অথচ উপর থেকে ওকে দেখে কিছু বোঝা যেত না ।ওর ডেসপারেটলি এসব কান্ড কারখানা দেখে কত দোষারোপ করা হয়েছে। ঈশ্বর ওকে একটু মনে শান্তি দিন, আনন্দ দিন এই প্রার্থনাই করি।'
রেখা মনে মনে ভাবতে থাকে 'রেখার  ভেতরের যন্ত্রণার কথা  কাকে বলবে?'
বিষন্ন মন নিয়ে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে প্রকাণ্ড মাঠখানাকে দেখতে থাকে। মনে হচ্ছে এই  মাঠ পেরোতে পারলে সব বাধা-বিপত্তি উধাও হয়ে যাবে ।
হঠাৎ কলিং বেলের আওয়াজ মাঠ পেরোনোর আগেই ছন্দপতন। কলিং বেল বেজে গেল' জয় গনেশ ,জয় গনেশ ,জয় গনেশ দেবা।'
রেখা ভাবলো নির্ঘাত মাসি এসেছে।
আস্তে আস্তে বেরিয়ে এসে দরজাটা খুলল।
' বৌমা"আজকে না কাজ করব না।
রেখা বলল 'কেন মাসি?'
আর ব'লো না আমার নাতিটার রাত থেকে পাতলা পায়খানা হচ্ছে। ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছি তাই তোমাকে যাবার পথে একটু বলে গেলাম চিন্তায় থাকবে তো?'
'তা বেশ করেছ মাসি। না ,না তোমাকে কাজ করতে হবে না। তুমি নাতিটা টিটমেন্ট করাও গিয়ে।'
কিছুক্ষণ চুপ করে মাসি দাঁড়িয়ে থাকে 
"কি মাসি, কিছু টাকা পয়সা লাগবে?'
মাসি তখনও চুপ করে তারপর বলে' আসলে কখনো তো এভাবে চাইনি।'
"না ,না ছি :ছি :ছি: এভাবে বলছ কেন ?তুমি একটু ওয়েট করো।' বলেই রেখা ঘরে গিয়ে হাজার টাকা এনে মাসির হাতে গুঁজে দেয়।' 
" যাও নাতিকে  ডাক্তারের কাছে  নিয়ে যাও।'
মাসি দুই হাত জোড় করে বললো' তুমি যে কি উপকার করলে বৌমা'।
"না ,না ,এভাবে কেন বলছো মাসি? ঠিক আছে তুমি এস । রেখা খেয়াল করল মাসির দুচোখে চিকচিক করছে জল।
"যদি নাতি ঠিক থাকে। তাহলে বিকেলে আসবো।'
'না, তোমাকে আর বিকেলে আসতে হবে না কাজে।'
"মাসি একটু হেসে চলে গেল।"
'রেখা দরজাটা বন্ধ করে ভেতরে 
আসলো ।তাড়াতাড়ি করে কাজে হাত লাগাল কারণ আজকে তো স্কুলে যেতে হবে। সকালবেলায় প্রাতঃক্রিয়া না সারলে আবার হয় না ।বাথরুমে ছুটল গিজার টা চালিয়ে জলটা গরম করতে বসালো ।তারপর প্রাতঃক্রিয়া সেরে ফ্রেশ হয়ে  রাধা গোবিন্দের ভোগ চাপিয়ে রান্না ঘরে ছোটে।  রান্নাঘরে গিয়ে একদিকে বাচ্চাদের জন্য দুধ গরম করতে বসিয়ে দিল ।আজকে ওরা দুধ বিস্কিট খাবে ।রুটি করার সময় থাকবে
 না ।রাত্রে যে বাসন গুলো ছিল সেগুলো কে বেসিনে সাবান দিয়ে ভালো করে বাসনগুলো ধুয়ে নিল। তারপর ভেবে নিল ঘর মোছার মত আজকে পরিস্থিতি নেই। যা হবে হবে ।এবার আস্তে আস্তে এক এক  করে খাবার  বানাতে শুরু। আগের দিন রাত্রে যে সবজি গুলো কেটে রেখেছে , টোটাল তরকারি সে করতে পারবে না । সময় থাকবে না তাই সে ব্রকলি আর আলু ভাজা , রুটির তরকারি করে নিল অন্যদিকে একটু ডাল ,বেগুন ভাজা আর মাছের ঝাল।'আর বাচ্চাগুলোর মেটের তরকারি।
এতক্ষণ পর ফ্লাক্স থেকে চা টা ঢেলে কাপে নিয়ে বসল খেতে। অন্য আর এক কাপে চা ঢেলে মনোজকে দিতে গেল। গিয়ে দেখছে মনোজ কার সঙ্গে ফোনে কথা বলছে ।ও দরজায় নক করে চায়ের কাপটা সামনে টি টেবিলে রেখে দিয়ে চলে আসল।
রেখা মনে মনে ভাবছে 'কার সাথে এত হেসে হেসে কথা বলছিল ?শুধু রেখার সঙ্গে কথা বলতে 
কষ্ট ।  রেখার সাত সকালে একটা গান ভীষণভাবে মনকে নাড়া দিল' 'মনের হদিস কে বা জানে, সে হদিস কে বা জানে,, কি যে থাকে মনের 
ঘরে। কেউ জানে না ,কেউ জানে না.. যে ধারণ করে।'
তাই রেখা মনে মনে ভাবল' যা হচ্ছে হোক, অত গুরুত্ব দিতে চায় না ।বেশি ভাবলেই বেশি
 কষ্ট । হাতের কাজগুলো দ্রুত সেরে নিয়ে স্কুলে বেরোতে হবে। এত ব্যস্ততার মধ্যেও  সমু আর পার্থর দাম্পত্য জীবনের দৃশ্য টা যেন মনের পর্দায় হাওয়ায়  উড়ছে। কখনো মনে হয়নি তাদের নীলাভ আলোয়অন্ধকার আছে। মনের হদিশ পাওয়া সত্যিই দুষ্কর।

কবি মিতা নূরের কবিতা




শুধুই ভুল বুঝে গেলে
মিতা নূর


শুধুই ভুল বুঝে গেলে
তুমি আমার না পাওয়া গল্প হয়ে রয়ে গেলে , 
কেমন যেন নিঃস্ব লাগে, শূন্য লাগে সব, 
বুকের ভেতর, একটা কষ্ট কষ্ট অনুভূতি হয়, 
অনুভূতি টা ঠিক কষ্টেও না,বেদনারওনা, কেমন যেন একটা চিনচিন অনুভূতি! 
সেই অনুভূতিতে সূক্ষ্ম একটা আফসোস জড়িয়ে আছে, 
অবশ্য এইসব অনুভূতিতে কারোর জীবন থেমে থাকেনি, 
আচ্ছা একটু বলবে আমায়,কি অপরাধে ভুল বুঝে চলে গিয়েছিলে? 
ভেঙে চুরমার করে গুছিয়ে রাখা সপ্ন গুলো!
তুমি সেদিন পেরেছিলে চলে যেতে, কিন্তু আমি পারিনি যেতে, 
আমি চাইনি তোমার থেকে দূরে যেতে,চাইনি এভাবে আমাদের  বিচ্ছেদ  ঘটে যাক।
সেদিন তুমি দিব্যি চলে গিয়েছিলে, একবারও চোখে পড়েনি তোমার, 
আমার চোখের বর্ষন, অথচ এই চোখে সামান্য জল টুকুও তুমি সইতে পারতে না। 
তুমি চলে যাওয়ার পর আমি একটু ভেঙে গিয়ে ছিলাম, ঠিক একটু নয়, 
অনেকটাই ভেঙে গিয়ে ছিলাম, তবে বিশ্বাস করো তুমি, কাউকে বুঝতে দেইনি আমি, আমি যে ভেঙে যাওয়া ভাঙাচোরা একজন। 
প্রতি সকালের আকাশে তোমায় খুঁজতাম, শিশির ভেজা চোখে, 
তোমার মুখটা ভেসে উঠতো কুয়াশার ভীড় ঠেলে, 
তখন আকাশের ডানাভাঙা পাখির মতো ছটফট করে মরতাম।
এমন করে কতটা ভোর কাটিয়েছি, তোমার অপেক্ষায়, 
ভেবে ছিলাম এই বুঝি ফিরবে, সব অভিমান ভুলে! 
একা একা কাটিয়ে দিলাম কুড়ি বছর, কুড়ি'টা  বসন্ত, তবু্ও অন্য কোথাও যাইনি, 
এসেছিল জীবনে অনেকজন, কিন্তু তোমার মতো করে কাউকে আপন করে নিতে পারিনি। 
একলা হেঁটেছি, গরম বালিতে পা পুড়িয়েছি, তবু কারোর হাত ধরে বৃষ্টি ভেজা সুখ নেইনি, 
আজ দুঃখ বিলাসীনী...!
অন্ধকারে  একলা একা আমি, লজ্জায় মুখ ঢেকে রাখি, আমি চাই  কেউ না জানুক, 
কষ্ট গুলো চেপে রাখি, মাঝে মাঝে গোলাপ কাঁটার মতো বুকে বিঁধে। 
তখন রক্তাক্ত হই খুব, তবু আমি পারিনি মন থেকে তোমায় সরাতে, 
হয়তো আর পারবোও না, আবার যেতেও পারবোনা তোমার কাছে। 
একটা শক্ত প্রাচীর  দাঁড়িয়ে আছে, তোমার আমার মাঝে, 
আজও তুমি আমায়, শুধুই ভুল বুঝে গেলে  !