মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
১২ সেপ্টেম্বর ২০২১
আইরিন মনীষা
মমতা রায়চৌধুরী'র গল্প "আলো"
কংকা চৌধুরী ( ইংল্যান্ড )
ইচ্ছেডানার ইচ্ছে
আমার ও খুব ইচ্ছে করে
ইচ্ছে মতো কিছু লিখতে
লিখার ছলে পাঠকের কাছে
মনের না বলা কথা লিখতে।
আমার ও খুব ইচ্ছে করে
ইট - পাথরের দেয়াল ছেড়ে
সেই- স্নিগ্ধ গ্রামে চলে যেতে
ক্ষেতের আলপথে এলোপাথারি হাঁটতে।
আমার ও খুব ইচ্ছে করে
কাল বোশেখির ঝড়ো হাওয়ায়
কাঁচা - পাকা আম কুড়াতে
মনের সুখে শৈশবের সাথীদের সাথে।
আমার ও খুব ইচ্ছে করে
বৃষ্টি ভেজা বিকেল বেলায়
খোলা চুলে দখিনা বারান্দায়
গরম কফির আমেজে বসতে।
আমার ও খুব ইচ্ছে করে
গোধূলীর শেষে নীড়ে ফেরা
রঙ বে রঙের পাখি হতে
দূর থেকে দূরে- উড়ে যেতে।
আমার ও খুব ইচ্ছে করে
জ্যোৎস্না ভরা চাঁদনী রাতে
নদীর জলে নাওে বসতে
চুপটি করে নদীর কথা শুনতে।
আমার ও খুব ইচ্ছে করে
অদ্ভুত সব বায়না ধরতে
মনের যত কথা -যতন করে
ডাইরির পাতায় লিখে রাখতে।
এন,এন,মুন
হাবিবুর রহমান হাবিব
আলিঙ্গন
নদী ও নারীর অবাধ যৌনতা,
ঝিরি ঝিরি বৃষ্টিতে মিলনের আলিঙ্গন।
মাছ ধরা নৌকা গুলো তখন বহু দূর ,
জলের নীচে প্রবাল,
সে এক বিচিত্র রঙ্গীন মিলন মেলা।
নিশাচর পাখিরা উড়ে বেড়ায়,
জোৎস্না অথবা অন্ধকার আকাশে।
চৈত্রের খরদ্বাহে পিপাসার্থ চাতক পাখি।
ব্যার্থ মিলনের কুমিড়ের কান্না,
অবাস্তব স্বপ্ন গুলো বয়ে চলে,
খরস্রোতা বহতা নদীর মাঝে।
শিশির পরা ঘাসে প্রজাপতি,
নবরাগে উদ্ভাসিত পরাগ রেনুতে,
বাতাসে পরাগ শিশির ভেজা,
প্রজাপতি মিলনের কথা বলে ।
১১ সেপ্টেম্বর ২০২১
মোঃ হাবিবুর রহমান এর লেখা ''সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা'' (৩য় পর্ব)
নাজমা আক্তার
অন্ধকারের হাসি
চারিদিকে নেমে আসছে অন্ধকার,
চলছে জীবনের বেঁচে থাকার লড়াই।
করুন আর্তনাদ আর ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্টের ছাপ যেন স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে প্রতিটি কোনায় কোনায়।
প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে লড়তে লড়তে মুখ থুবরে পড়ে থাকে মাটিতে,
রাস্তার পাশে পড়ে থাকা মানুষগুলো
রোদে তাপে ঝলসে যায় তাদের শরীর
তবুও তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি,
এভাবেই তারা অনেক কিছুই বুঝিয়ে দিচ্ছে আমাদেরকে ।
সোহেল চৌধূরী
রুকসানা রহমান
শহিদ মিয়া বাহার
মানুষের কোন সূত্র নেই
আকাশের কাছে যেয়ে বলেছি
হে আকাশ
দু:খ থাকে যদি পরিবর্তনের তবে তুমি মানুষে রূপান্তরিত হও
মানুষের মত পরিমন্ডিত অভিনেতার রাজপোষাকের শিল্পীত শ্লোক হও
পরিচ্ছদ পাল্টানো বিপ্লবী না হয় প্রেমিকের অভিনিত অভিজ্ঞানের আকর,
মনোরঞ্জিত কন্ঠের উথাল পাথাল হও!
অত:পর তোমাকে নিয়ে চন্দ্র-উৎসব হবে গীতশ্রী উদ্যানে, প্রলুব্ধ পৃথিবীর!
হায়---আকাশ সরে গেল আমার কাছ থেকে একটু একটু কোরে
আকাশের সূত্র আছে জানাল; পরিবর্তনের!
পাহাড়ের কাছে যেয়ে বলেছি
হে পাহাড়
দু:খ থাকে যদি পরিবর্তনের তবে তুমি মানুষে রূপান্তরিত হও
মানুষের মত যুদ্ধবাজ না হয় প্রতারক চোখের টিউলিপ সৌরভ,
লজ্জাহীন মুদ্রায়িত ঠোটের মোহিত সংলাপ হও!
অত:পর তুমি পূজোয় পূজোয় শাণিত হবে
তোমাকে নিয়ে তোপধ্বনি হবে প্রার্থনায়
বন্দনায় বন্দনায় মিছিলের পর মিছিল।
হায়---পাহাড় সরে গেল আমার কাছ থেকে একটু একটু কোরে
পাহাড়েরও কানুন আছে জানাল
নিয়ম আছে স্থিরতার!
সূর্য, বৃক্ষ, মৃত্তিকা, তরুলতা
সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রের
জনান্তিকে জেনেছি
সূত্রহীন পরিবর্তনে স্থির থাকে স্বার্থহীন গতিরেখা তাদের!
অথচ পরিবর্তনশীল চর্চিত মানুষের হে বিধাতা
রূপ রূপান্তরের কোন সূত্র নেই!
হে পৃথিবী
আজো আমি তোমার চলন্তিকায় আরণ্যক রাহাগির
জীবের মতই একটি আবিষ্ট জীব হয়ে আছি
এখনও ঈশ্বরের মানুষ হয়ে উঠিনি!
ফরিদা আলম
১০ সেপ্টেম্বর ২০২১
সুমনা
অন্ধকার-রোদ্দুর আর টিন চশমা
মেয়েটাকে বরাবর আমি দেখে এসেছি , কাছ থেকে , খুব কাছ থেকে ;
দূরবীনের কাঁচের মসৃণ আঁচে আমি ওকে ছুঁয়ে ও দেখেছি প্রচন্ড উত্তাপে---
ভিজে চুলের জলে যখন সদ্যোস্নাত গ্রীবা রোদ পোহাতে এসেছে সবে,
আমি তখন ও ওকে ছুঁয়েছি।
ও রাগে, কৌতুহলে বিষ্ময়ে বলেছে, আমার চোখের সামনে যে জমাট বাঁধা কালো,তা নিয়ে ঠাট্টা করেন?
ও বিশ্বাসই করে না, আমি প্রতিটা স্পর্শের পঙ্গুত্বে ওকে ছুঁয়েছি।
বিকেলের রোদ এসে পড়ে আমার নিথর জানলার কাঠে;
ঠিক পাশেই ঘুমিয়ে থাকে আমার অবশ শরীর, বুড়ো কলমের নিব, আর সেই দূরবীন!
বোধ হয় তার স্নিগ্ধতায় ভেসে ওঠে একটা হাত;
আমি তাকে ছুঁই,আলগা খোঁপায় জুঁই!
আর থাকে রোদ্দুর ওর ঠোঁটে।
তাও পাগলিটা বলে, ভালোবাসেন বলেই মিথ্যে বলেন?
না, মিথ্যে বলে বাকি সব, এই ঘর, এই লোক, এই পাড়া!
অবুঝ আঙুল হাতড়িয়ে ও বলে, কি মিথ্যে বলে ?
আমি এমন সময়ই বোবা হয়ে যাই,
সঙ্গে সঙ্গে উগ্র সন্ধ্যা নামে,
ওই জানলার কাঁচে মুখ মিলিয়ে যায় ইলেকট্রিক আলোয়,
সব সুবাস কেড়ে নেয় ওদের আধুনিক শব্দ।
চোখের সামনে হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়ে টিনচশমার আবছা ধূসর ছবি।
জানলার দুই পারে পড়ে থাকে দুটো নিস্তব্ধ পঙ্গু ভালোবাসা।
রোকসানা সুইটি
কদাচিৎ দুঃস্বপ্ন
প্রতিশ্রুতি ছিলো সমুদ্রের বিশালতা দেখতে যাওয়ার,
নাকি মিথ্যা স্বপ্নের ব্যসাতী সাজিয়ে প্রলুব্ধ করলে!
জানা হলোনা...
সাহস হয় যদি কোন দিন একাকিত্বের বাঁধন ছেঁড়ার...
তবে কী শূন্যতা ঘেরা জীবন পূর্ণতায় ভরপুর হবে?
কি এক কদাচিৎ দুঃস্বপ্ন গ্রাস করেছিলো ,
সেই চোখের বিস্ময়ে বিশালতা খুঁজে পাইনি পড়ন্ত বিকেলে,
পড়ে যাওয়া কফির মতোই উপচে পড়লো স্বপ্ন গুলো...
পুড়ে যাওয়া স্বপ্নেরা ভাবনার করিডোরে হেঁটে যায় নিঃশব্দে...
তবে কি, কখনো কখনো অপ্রয়োজনেও ভালোবাসা হয়!












