১২ সেপ্টেম্বর ২০২১

আইরিন মনীষা


অসময়ে এলে তুমি


দুই যুগ পরে কেন এলে তুমি
জবাব কি দিবে তুমি আমার জানা নেই,
অসময়ের এক সারথী হয়ে ঝরাপাতার কাছে তুমি
কেনই বা আসলে বৃষ্টি ভেজা এই সন্ধ্যা গগনে? 

আমার সমস্ত আশা আকাঙখা দুমড়ে মুচড়ে দিয়ে
গিয়েছিলে ফিরে তুমি একদিন এমনই এক সন্ধ্যায়,
আমার স্বপ্ন গুলো ভেঙে খান খান হয়েছিলো
প্রচণ্ড বেগে ঢেউয়ের তাণ্ডব বয়ে গিয়েছিলো সুকুমার মনে। 

অনেকদিন পক্ষাঘাত গ্রস্থ হয়ে পড়েছিলাম বিছানায়
অশ্রু গড়িয়ে পড়তে পড়তে এক সময় দৃষ্টি শক্তি হারিয়ে ফেলি,
খাওয়া দাওয়া ভুলে গিয়েছিলাম বলে শরীরটাও জীর্ণ শীর্ণ 
এক বিষাক্ত অতীতের সাক্ষী হয়ে এখনো বেঁচে আছি।

তুমি তো ঘর সংসার সবই করলে মনের খেয়ালে
আর সুখেই ত ছিলে আমি যতটুকু জেনেছি, 
কিন্তু আজ হঠাৎ কি মনে হলো তোমার 
আমার কাছে চলে এলে উদভ্রান্তের মত হয়ে?

তবে কি তুমি অনুশোচনার অনলে পুড়ে ছারখার হয়ে 
আমার কাছে শুধু ক্ষমা প্রার্থনা করতে এসেছো??
তা বেশ তাও দিলান তোমাকে কারণ এর,চেয়ে বেশি কিছু নেই
যা আমি তোমাকে দিয়ে একটু প্রশান্তির ছোঁয়া দিতে পারব।

কোথায় ছিলো তোমার প্রতিশ্রুতি সেদিন 
যেদিন আমার স্বপ্ন সাধ ধূলিস্যাৎ করে চলে গিয়েছিলে? 
তাইতো হয়নি আমার আর সংসার দুটা আত্মার মিলনে
তবে হ্যাঁ এখন এতিমদের নিয়ে ভালোই আছি আমি আমার মতই।


 

মমতা রায়চৌধুরী'র গল্প "আলো"




আলো


                    ষ্টম শ্রেণীর ছাত্রী নিযুক্তা বরাবরই চুপচাপ স্বভাবের। কারো সাথে কোন কথা বলে না। শ্রেণী শিক্ষিকা রেজিনা বেশ কিছুদিন ধরেই নজর রাখছেন। অনেক কথা বলানোর চেষ্টা করেছেন। কিন্তু একদম চুপ। একদিন ক্লাস শেষে মেয়েটিকে ডেকে অনেকক্ষণ মাথায় হাত দিয়ে আদর করলেন। আর বললেন -'আজকে কি দিয়ে ভাত খেয়ে এসে ছিলে ?মা ভালো রান্না করেছিল? মেয়েটি এই কথা শুনে চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ে আর হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে।  রেজিনা আরো কাছে টেনে নেন। তখন সে বলে 'আমার মা নেই। বাড়িতে সৎ মা। ঠিকমতো খেয়ে আসতে পারি না।' তখন দিদিমণি বললেন-' মিড ডে মিল খাচ্ছ তো'? ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানায়।ওই টুকুই আমার পেটে থাকে।। বাড়িতে গিয়ে কি করো? সমস্ত কাজ আমাকে দিয়ে করানো হয়। আমার একটা ছোট ভাই আছে ,।তাই যেটুকু মা খাবার দেন ওটুকু আমার ভাইকেই আমি দিয়ে দি। এজন্য আমি পড়া করে আসতে পারি না দিদিমণি। কিন্তু আমার ইচ্ছে হয় আমি সবকিছুতে অংশগ্রহণ করি। আমি আঁকতে খুব পছন্দ করি। রেজিনা জিজ্ঞেস করেন-
                      
                                    'তুমি আঁকতে পারো।' আপনি। দেখবেন? দেখি দেখি। রেজিনা অবাক হয়ে যায় ।এ তো রেজিনার ছবি। তুমি এতো ভালো আঁক। তুমি কি কারোর কাছে আঁকা শিখতে?ছোটবেলায় মা শিখিয়েছিলেন কিন্তু এখন আর আঁকার কোন জিনিস হাতের কাছে নেই আর সময়ও পাইনা। ঠিক আছে শোনো এবার স্কুলে কোন আঁকার প্রতিযোগিতা হলে তাতে তুমি দেবে। কিন্তু দিদিমণি ওদের সাথে তো আমি অত ভালো করে আঁকতে পারবো না, তুমি যা পারো তাই আঁকবে। মেয়েটি খুব উৎসাহিত হয় ।এরপর আস্তে আস্তে মেয়েটির লেখাপড়ায়  মনোযোগী হয় আর ছুটি শেষে দিদিমণির সঙ্গে তার সমস্ত কথা শেয়ার করে। দেখতে দেখতে সমস্ত দেশ এক অতিমারি সংকটের মধ্যে পড়ে। ফলে স্কুল-কলেজ সমস্ত কিছু বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে রেজিনা নিযুক্তাকে নিয়ে ভাবতে বসে। কি খাচ্ছে মেয়েটি ,কে জানে ।এই মোচড় রোজিনাকে তিলে তিলে খায। সে আর ভাবতে পারে না। আজ যদি রেজিনার মেয়েটা বেঁচে থাকত তাহলে নিযুক্তার বয়সী হত। রেজিনার মরা গাঙে নতুন করে জোয়ার আসে।এ কদিনেই মেয়ে টি রেজিনার মনে অনেক গভীরে জায়গা করে নিয়েছে। তাই তার কাছে যে ক্লাস রেজিস্টার এর খাতার কপি ছিল তা খুলে বসে। কিন্তু রেজিনা দেখে তাতে রোল নম্বর আছে কিন্তু কোন ফোন নম্বর নেই। আরেকটু নেড়েচেড়ে দেখেন ঠিকানা আছে।
                             
                                রোজিনা একটু হতাশ হয় এই পরিস্থিতিতে ফোন নম্বরটা পেলে খুব ভালো হতো ।কিন্তু বাড়ি যাওয়া কি ঠিক হবে? মনের ভেতরে যে খচখচানি শুরু হয়েছে তাই সাতপাঁচ না ভেবে নিজেই স্কুটি করে তার বাড়ি পৌঁছে যান। সেখানে গিয়ে দেখেন মেয়েটি বাসন মাজছে আর মা দাওয়ায় বসে ভাত খাচ্ছে। ছোট ভাই নিযুক্তার পাশে বসে আছে। নিযুক্তার জন্য কিছু বিস্কিট ,ফল ,লজেন্স নিয়ে গেছিলেন। বাড়িতে দিদিমণি আসাতে ওর সৎ মা একটু অবাক হয়ে যায় এবং নিজের সাফাই গাইতে থাকে। তার নিজের প্রচন্ড জ্বর তাই মেয়েটি নিজের থেকেই বাসন মাজছে। রেজিনার বুঝতে কিছু বাকি থাকে না। কিন্তু রেজিনা  দিদিমণিকে দেখে নিযুক্তার মুখে এক অমলিন হাসি। সমস্ত অন্ধকার তার মুখ থেকে সরে যায়। সে দিদিমণিকে এসে জড়িয়ে ধরে। দিদিমণি বলেন " এ তোমার ভাই -বলেই তাকে কোলে তুলে নেন। তুমি লেখাপড়া ঠিকঠাক করছো তো? হ্যাঁ দিদিমনি। কিন্তু তোমার তো ফোন নেই ।তাই তুমি জানতেও পারছ না স্কুলের সমস্ত বিষয়।জান তো এবছর আমাদের একটা ভার্চুয়াল রবীন্দ্র জয়ন্তী উৎসব পালিত হচ্ছে। মানে ফোনেতেই তোমাদের সমস্ত অনুষ্ঠান হবে ।তাই যে যা পারে নিজের সাধ্যমত কবিগুরুকে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করবে। আর তুমি তো আঁকো  ভালো । তাই তুমিও এতে অংশগ্রহণ করবে। দিদিমণি ,আমি কি করে ছবি পাঠাবো? ঠিক আছে তোমাদের বাড়িতে কি একটাও ফোন ..বলেই তার মায়ের দিকে তাকাল। হ্যাঁ ,আছে তো? আসলে স্কুলে দেয়া হয় নি। আমাকে দিয়ে দিন , আমি গ্রুপে এড করে দেবো। ওকে একটু একটু অনলাইনের ক্লাসগুলোতে ফোনটা দেবেন তারপরে নিয়ে নেবেন। ঠিক আছে দিদিমণি। রেজিনা এইটুকু আশ্বস্ত পেয়ে চলে যান। তারপর যথারীতি আসলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ তাতে তার আঁকা পাঠানো হয়। স্কুলের তরফ থেকে যে গুলোকে বাছাই করা হয় এবংএফ বি তে পোস্ট করা হয়। কিন্তু তাতে নিযুক্তার  কোন ছবি সিলেক্ট হয় না। রেজিনা দিদিমণি আশাহত না হয়ে নিজের ফেসবুক একাউন্টে নিযুক্তার ছবি দিয়ে কবিগুরুর প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করলেন। আর ক্যাপশন করলেন রবির আলোয় সকলেই আলোকিত হোক । আলোকের এই ঝর্ণাধারায় ধুইয়ে দাও, মনের কোণের সব দীনতা মলিনতা ,ধুইয়ে দাও।'প্রথম দিন স্কুলের প্রোগ্রামের ছবি যখন এফ বি তে পোস্ট হয়। তাতে নিজের ছবি দেখতে না পেয়ে সে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে । নিযুক্তার  সৎ মা রেজিনা দিদিমণিকে ফোন করে এবং বলে তার মেয়ে আজ পাঁচদিন ধরে জ্বর, শ্বাসকষ্ট শুরু হয়েছে। রেজিনা সঙ্গে সঙ্গে ছুটে যান নিযুক্তার বাড়িতে।  বাড়িতে নিযুক্তা দিদিমণিকে দেখে খুব খুশি হয় আর বলে সে আঁকতে পারে না , সে কিছুই করতে পারবে না কিন্তু রেজিনা ফেসবুকে যখন তার আঁকার ছবি দেখালেন। জ্বরের ঘোরে যেভাবে সে বক ছিল। নিজের হাতে আঁকা ছবি দেখে সে অত্যন্ত আনন্দে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠে। সে বলে আমি পারবো দিদিমণি আমিও কিছু করতে পারব তার দুচোখ বেয়ে জল ঝরতে থাকে। রেজিনা বলেন, ' তুমি খুব পারবে, তুমি অনেক বড় হবে"। আমি সেরে উঠব তো দিদিমণি, বলেই দিদিমণিকে জড়িয়ে ধরে কাঁদতে থাকে। সে আসলে করোনা আক্রান্ত কিন্তু দিদিমণি নিজের দায়িত্বে নিযুক্তাকে হসপিটালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন ,তার পাশে থাকেন এবং সে আস্তে আস্তে সুস্থ হয়ে ওঠে। তারপর সে বলে আপনি আমার কাছে গুরুমা আপনার আলো আমার জীবনে পড়েছে ,আমি আর অন্ধকারে থাকবো না। আমি খুব ভাল করে লেখাপড়া করব। তখন দিদিমণি বললেন ' আসলে আমাদের মনের অন্ধকার যিনি দূর করেন, আমাদের অন্তরে সর্বদা প্রজ্জ্বলিত রয়েছেন। তিনি হলেন ঈশ্বর আর আমাদের গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। উনি পথ দেখিয়েছেন। মনে রেখো শুধু লেখাপড়া করলেই হবে না ।একজন ভালো মানুষ তৈরি হতে গেলে ন্যায়পরাযণতা, সততা, সৎ চরিত্র গঠন,গুরুজনদের প্রতি শ্রদ্ধা, আর্তজনের সেবা এই সমস্ত নৈতিক গুণগুলো থাকতে হবে। তাহলেই তুমি প্রকৃত মানুষ হয়ে উঠবে। তবেই তোমার ভেতরে প্রকৃত আলোর প্রকাশ ঘটবে। সেই স্বচ্ছ আলোতেই ঘুচে যাবে সমস্ত মনের কালিমা। নিযুক্তা এত ভারী ভারী কথা বুঝতে পারলো না বটে ,তবে সে বলল আমি পারবো দিদিমণি সেই আলোকে আলোকিত হতে। রেজিনা নিযুক্তাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে উঠলেন -এ কান্না সুখের কান্না। রেজিনা জানেন বাস্তব কঠিন তাই নিজেকেও সংখ্যালঘু শিক্ষিকা বলে তাকে কম অপমানিত হতে হয়নি। কিন্তু সর্বদা আলোর দিশা দেখিয়েছেন ওই একজনই।

কংকা চৌধুরী ( ইংল্যান্ড )


 ইচ্ছেডানার ইচ্ছে


আমার ও খুব ইচ্ছে করে 

ইচ্ছে মতো কিছু লিখতে

লিখার ছলে পাঠকের কাছে

মনের না বলা কথা লিখতে।


আমার ও খুব ইচ্ছে করে

ইট - পাথরের দেয়াল ছেড়ে

সেই- স্নিগ্ধ গ্রামে চলে যেতে

ক্ষেতের আলপথে এলোপাথারি হাঁটতে।


আমার ও খুব ইচ্ছে করে 

কাল বোশেখির ঝড়ো হাওয়ায়

কাঁচা - পাকা আম কুড়াতে

মনের সুখে শৈশবের সাথীদের সাথে।


আমার ও খুব ইচ্ছে করে

বৃষ্টি ভেজা বিকেল বেলায় 

খোলা চুলে দখিনা বারান্দায়

গরম কফির আমেজে বসতে।


আমার ও খুব ইচ্ছে করে

গোধূলীর শেষে নীড়ে ফেরা 

রঙ বে রঙের পাখি হতে

দূর থেকে দূরে- উড়ে যেতে।


আমার ও খুব ইচ্ছে করে

জ্যোৎস্না ভরা চাঁদনী রাতে

নদীর জলে নাওে বসতে

চুপটি করে নদীর কথা শুনতে।


আমার ও খুব ইচ্ছে করে 

অদ্ভুত সব বায়না ধরতে

মনের যত কথা -যতন করে

ডাইরির পাতায় লিখে রাখতে।

এন,এন,মুন

 



ভালোবাসার আখ্যানলিপি


ওগো আমার গোপন প্রিয়ে
কোন লগ্নে হারালো হিয়ে।
স্বপ্নে আস, স্বপ্নে যাও
ধরা ছোঁয়ার বাইরে রও।
তুমি আমি অহর্নিশি 
অসীমতটে আছি মিশি।
লক্ষ চোখের অন্তরালে
আবীরছোঁয়া তেপান্তরে, 
এই যে তুমি, এই যে আমি
মুগ্ধনয়ন, নিস্বান যামী,
তোমার আমার রুদ্ধ বাণী
তুমিও জানো, আমিও জানি।
শুক্লাম্বরী তিথি জুড়ে
তুমি আমি সংগোপনে, 
নিতুই ভিড়াই সাঁঝ পেরুলে
অপেক্ষারই তরী খানি।
কৃষ্ণপক্ষের দিন গুলিতে
তোমার আমার হৃদয় ভাঙ্গে।
সেই তো আবার আশায় থাকি
আসবে কবে শুক্লাপক্ষী
 ফেলবে ছায়া হৃদয় পটে,
কইবো কথা মৌনব্রতে।
আমরা কি আর সত্যি জানি,
তোমার আমার ভাগ্যলিপি!
আমার বুকের নীলাম্বরে
তোমার শুভ্র ছায়া পড়ে,
মুখোমুখি তুমি আমি
মহাকালে মিশে আছি।


হা‌বিবুর রহমান হা‌বিব


আ‌লিঙ্গন


নদী ও নারীর অবাধ যৌনতা,

ঝি‌রি ঝি‌রি বৃ‌ষ্টি‌তে মিল‌নের আ‌লিঙ্গন।

মাছ ধরা নৌকা গু‌লো তখন বহু দূর ,

জ‌লের নী‌চে প্রবাল,

সে এক বি‌চিত্র রঙ্গীন মিলন মেলা।

নিশাচর পা‌খিরা উ‌ড়ে বেড়ায়,

জোৎস্না  অথবা অন্ধকার আকা‌শে।

চৈ‌ত্রের খরদ্বা‌হে পিপাসার্থ চাতক পা‌খি।

ব‌্যার্থ মিল‌নের কু‌মি‌ড়ের কান্না,

অবাস্তব স্বপ্ন গু‌লো ব‌য়ে চ‌লে,

খর‌স্রোতা বহতা নদীর মা‌ঝে।

শি‌শির পরা ঘা‌সে প্রজাপ‌তি,

নবরা‌গে উদ্ভা‌সিত পরাগ রেনু‌তে,

বাতা‌সে পরাগ শি‌শির ভেজা,

প্রজাপ‌তি মিল‌নের কথা ব‌লে ।


১১ সেপ্টেম্বর ২০২১

মোঃ হা‌বিবুর রহমান এর লেখা ''সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা'' (৩য় পর্ব)

ঘরের ভিতর থেকে কবি ধরেছেন দৃশ্যকথা গদ্যের ভাষায় ধারাবাহিক ভাবেই প্রকাশিত হয়ে চলেছে তাঁর অসাধারন সৃষ্টি। লিখতে সহোযোগিতা করুন লাইক ও কমেন্ট করে । পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক পাঠিকা লেখক লেখিকা সকলের জন্য রইলো অনন্ত শুভেচ্ছা



সহধ‌র্মিণীর হুঁ‌শিয়ারী বার্তা 
(য় পর্ব)


রবীন্দ্রবলয়ের জা‌লে আট‌কে পড়ার ভয় এখন অ‌নেকটাই কা‌টি‌য়ে উ‌ঠে‌ছি। তাই প্রতি‌দিনই দুএক কলম কিছু না কিছু লেখার চেষ্টা ক‌রে যা‌চ্ছি। কোন কোন দিন কোন বিষয় বস্তু নির্বাচন না ক‌রেই লিখ‌তে শুরু ক‌রে দেই। আবার কোন কোন দিন ই‌চ্ছেমত যে‌কোন এক‌টি বিষয়‌ বা নি‌র্দিষ্ট একটা শব্দ‌কে পুঁ‌জি ক‌রেই লেখা শুরু ক‌রি। 

সহধ‌র্মিণী আমার প্রতি‌টি লেখার বি‌শ্লেষণ ও মূল‌্যায়ন ক‌রতঃ খাবার টে‌বি‌লে তাঁর মূল‌্যবান মন্তব‌্য আওড়াতে কোন‌দিনই ভু‌লেন না। এভা‌বেই লেখনীর কাজ‌টি এ‌গি‌য়ে চ‌লে‌ছে। অন‌্যদি‌কে শুভাকাঙ্খীগণ ও আপনজন ছাড়াও ‌প্রিয় ফেইসবুক বন্ধুরা আমা‌কে সদা উৎসা‌হ যু‌গি‌য়ে যা‌চ্ছেন ও অনুপ্রা‌ণিত ক‌রে চ‌লে‌ছেন তা‌দের অসাধারণ আর চমৎকার মন্তব‌্য আর মতামত জা‌নি‌য়ে।

ক‌্যা‌ডেট ক‌লে‌জে পড়াকালীন সম‌য়ে বন্ধু সাইদুলকে দে‌খে‌ছি এসএস‌সি বোর্ড পরীক্ষার সময়ও ক‌বিতা লিখ‌তে। অা‌মি দে‌খে অবাক হতাম তার এ দুঃসাহ‌সিকতা দে‌খে। মা‌ঝে মা‌ঝে ক্লাশ চলাকালীন সম‌য়ে তা‌কে দেখতাম অন‌্যমনস্ক হ‌য়ে শিক্ষ‌কের কথায় ম‌নো‌যোগ হা‌রি‌য়ে আ‌র্টিকেল লিখ‌তে। বন্ধু সাইদুল অত‌্যন্ত ভ‌াল মা‌পের একজন লেখক। বর্তমা‌নে সে কানাডায় থা‌কে এবং সেখান থে‌কেও নিয়‌মিত সা‌হিত‌্য চর্চা জারী রে‌খে‌ছে।

নিত‌্য সংঘ‌টিত জীবনধর্মী ও সামা‌জিক বিষয়া‌দির উপর লিখ‌তে আ‌মি স্বাচ্ছন্দ‌বোধ ক‌রি। সামা‌জিক রী‌তিনী‌তিতে ‌বি‌ভেদ, সদা দ্বন্দ্ব ও বৈষ‌্যমতাকে নি‌য়ে মানব দর্শনের দৃ‌ষ্টি‌তে সেগু‌লি‌কে লেখনীর মাধ‌্যমে তু‌লে ধর‌তে আনন্দবোধ ক‌রি।

ধর্মীয় আ‌ঙ্গি‌কেও কিছু বক্তব‌্য লেখনীর মাধ‌্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা অব‌্যাহত আ‌ছে। যে লেখনী‌তে আ‌ছে দিক নি‌র্দেশনা, সমাজ গড়ার উপ‌দেশ, মানু‌ষের ম‌ধ্যে সামা‌জিক দূরত্ব ঘোচনার উপায় এমন শিক্ষামূলক ও উপ‌দেশধর্মী লেখনীর মাধ‌্যমে মানুষ‌কে উজ্জী‌বিত করার ল‌ক্ষ্যে এমন মহৎ কাজ‌টি কর‌তে নিঃস‌ন্দে‌হে খুবই ভাল লা‌গে আর দারুন আনন্দ‌বোধ ক‌রি। 

সহধ‌র্মিণী মা‌ঝে মা‌ঝেই আজও বেশ খোঁচা দি‌য়েই কথা ব‌লেন আমার লেখাকে কেন্দ্র ক‌রে। তি‌নি একজন অত‌্যন্ত ধর্মপরায়ণ নারী আর তাই ধর্মীয় আ‌ঙ্গি‌কে লেখা‌কে তি‌নি সদা অ‌ধিক প্রাধান‌্য দি‌য়ে থা‌কেন। মা‌ঝে মা‌ঝে তি‌নি মন্তব‌্য ক‌রে ব‌লে বসেন "তোমার এ লেখা প‌ড়ে কয়জন মানুষইবা সৎপ‌থে আস‌বে আর কয়জনইবা তোমার লেখার বক্তব‌্য অনুযায়ী উপ‌দেশ মে‌নে চ‌লে তদানুযায়ী জীবনিপাত কর‌বেন? সমা‌জের সিংহভাগ মানুষের যখন পদস্খলন ঘ‌টে‌ছে তখন তোমার এ লেখা দি‌য়ে কি পু‌রো সমাজ‌ তথা জা‌তি‌কে একাই ঠিক ক‌রে ফেলতে পার‌বে ? এমন অ‌নেক প্রশ্নবা‌নে তিনি প্রায়শই আমা‌কে কু‌পোকাত ক‌রে ফেল‌তে উদ‌্যত হন। আ‌মি তাঁ‌কে এই ব‌লে বুঝি‌য়ে তাৎক্ষ‌ণিকভা‌বে শান্ত ক‌রি যে, দে‌খো বিন্দু বিন্দু জলকণা মি‌লেই তো সাগর অত‌লের সৃ‌ষ্টি হয়।











ধারাবাহিক ৩য়  কিস্তি


 

নাজমা আক্তার


অন্ধকারের হাসি


 

চারিদিকে নেমে আসছে অন্ধকার,

 চলছে জীবনের বেঁচে থাকার লড়াই। 

করুন আর্তনাদ আর ক্ষুধার্ত মানুষের কষ্টের ছাপ যেন স্পষ্ট ভাবে ফুটে উঠেছে প্রতিটি কোনায় কোনায়। 

প্রতিদিন মৃত্যুর সাথে লড়তে লড়তে মুখ থুবরে পড়ে থাকে মাটিতে, 

রাস্তার পাশে পড়ে থাকা মানুষগুলো 

রোদে তাপে ঝলসে যায় তাদের শরীর 

তবুও তাদের মুখে তৃপ্তির হাসি,

এভাবেই তারা অনেক কিছুই বুঝিয়ে দিচ্ছে  আমাদেরকে ।


সোহেল চৌধূরী


প্রেমাস্পদা, প্রেম চাইছি মধুমিলনে


হে অতলান্তিক বিকেলের রোদ, 
তুমি ক্ষয়ে ক্ষয়ে নিঃশেষ হওয়ার আগে,
আজ আরো সুদীর্ঘ হতে চাইবে।
আমার অনুভূতির রেখা প্রসারিত হচ্ছে, 
প্রসারিত হচ্ছে রমণীয় সৌরভে।
আমার কোমল প্রেম, 
আমি জানি ঠিক এই মুহুর্তে তুমি আমার কথা ভাবছো।
তোমার চোখ জোড়ায় বিরাজিত আমি। 
আমার গোপন প্রেমাস্পদা, আমার বুকের থরথর কাঁপন।
আমি তোমাকে দেখতে পাচ্ছি। 
আমি, চিন্তনের রৈখিক সম্পাত এঁকেছি।
একশো কোটি মাইল দূরের, 
সহস্র যুগ আলোক দূরত্বের তোমাতে,
আমি দেখছি, তাকিয়ে আছি ঐ নিলাজ কপোলে কিয়দ ভাবনা রেখা।
গভীর কোঠরে জমা তপস্যার ঘুমহীন রাত্রির মায়া। 
তোমার অধর ছুঁয়ে গেছে আমার চিবুক।
চোখ বুজে আমি অনুভব করছি, 
আমি ভীষণভাবে অনুভব করছি। 

গোধূলি রঙ, ধুসরিত পশ্চিমের আকাশকে প্রগাঢ় রঙিন করে নাও।
মাতম রাত্রির বিনির্মান ঘটবে। 
শূভ্র-জোৎস্না ভেজাবে ঐ ঘন চাঁদোয়া।
আমি ভালোবাসতে চাইছি,
তোমার বুকের তীব্র আবেগ,
সলাজ ঠোঁটের কোণে স্মিত হাসি।
শ্রাবস্তীর নিখাদ ওষ্ঠাদেশের আদ্রতায় ভিজতে চাইছি দীঘল যামিনী।
বিভাবরী স্বপ্নচারিনী, স্নিগ্ধা কামিনী, আজ হও রুক্মিণী।
কুন্তলীন মেখে নিও কেশের  ডগায়, 
আজ রাতভর অক্ষরেরা লহরী সাজাবে। 
ও সাঁকি, শব্দের প্রেমার্ঘ্য ঢেলে দাও।
নেশাতুর হই,
সুধা সরোবর হতে তুলে আনা প্রেমকাথা তব পুরষ্কার হোক সুদীর্ঘ অপেক্ষার মধুমিলনের ক্ষণে।


রুকসানা রহমান




খেয়ালি কবিতার অপ্সরী


আমার মতো বেশ ছিলাম কবিতার স্বপ্নভূমিতে
স্বপ্ন বুনে ভাবনার অতল নিরবতায় তন্ময় মনে
সেদিন রাতে সাজানো কুঁড়ে ঘরের আঙ্গিনায় কে ?
 গুপ্ত আলোক আঁধার থেকে ভেসে আসছে এক 
 মহাসমুদ্রের ডাক! 

আমারই কবিতায় আমি একদ্বীপ তার চোখের সৈকতে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো নক্ষত্রপুন্জের দিকে।
আমি হারিয়ে গিয়েছিলাম তার দুহাতের ভিতর
কি মায়াময় সেই স্পর্শ।
 
আমি যেনো তাকে দেখার মুহূর্তের প্রতীক্ষায় ছিলাম
দীর্ঘ আলোর সূর্য পাঠ করছে আমার কবিতা
আর আমি যাত্রা করছি রাতের ভিতর অন্য এক পৃথিবীর তরঙ্গায়িত জলমালায় জড়িয়ে
আমার ওষ্ঠে এঁকে দিলো দুর্লভ কালের রেখা।

তারপর সে রেখে গেলো আমার জন্য আড়াল
অচিন কাব্যের এক পৃথিবীর আলিঙ্গনে উত্তাল ঢেউ
বাতাস বয়ে নিয়ে যায় তার চোখের চারুপ্রান্তে
সেকি ভালোবাসার শূন্যতার কারিগর 
নয়তো কেন শূন্যে বয়ে যায়,নাকি ভালোবাসার মহাপ্লাবন ! 

কান পেতে শুনি, বিস্ময়ে তাকিয়ে থাকি
আমার শব্দ যদি ফের মিলনের পথ খুলে দেয়
কবিতার ভিতর বদলে যাবে পৃথিবীর সমস্ত রজনী
সেই রজনীর ভিতর সবই যেনো খেয়ালি কবিতার মৃদ্রানৃত্য এক অপ্সরী 
তারই ভিতর আড়ালে স্পন্দন খুলে রাখে।

তাই তো আমি ভালোবাসায় ভেঙে টুকরো -টুকরো
হয়ে পড়ি,
অবাধ্যতায়,ক্ষয়, ধ্বংসের ভিতর ভ্রান্তির মায়ার প্রত্যাশায়
 তার ছায়ায় জীবনের রূপ মিলিত হয় আপন আত্মায়
তাকে ছুঁয়ে যায়  সপেঁ দেওয়া এক কাদামাটির নিছক
শরীরী কাল্পনিক ঐশ্বর্য 
তারই ভিতর অদৃশ্য  আমিই কি একটি কবিতা!





 

শহিদ মিয়া বাহার


মানুষের কোন সূত্র নেই



আকাশের কাছে যেয়ে বলেছি 

হে আকাশ 

দু:খ থাকে যদি পরিবর্তনের তবে তুমি মানুষে রূপান্তরিত হও

মানুষের মত পরিমন্ডিত অভিনেতার রাজপোষাকের শিল্পীত শ্লোক হও

পরিচ্ছদ পাল্টানো বিপ্লবী না হয় প্রেমিকের অভিনিত অভিজ্ঞানের আকর,

মনোরঞ্জিত কন্ঠের উথাল পাথাল হও!

অত:পর তোমাকে নিয়ে চন্দ্র-উৎসব হবে গীতশ্রী উদ‍্যানে, প্রলুব্ধ পৃথিবীর!

হায়---আকাশ সরে গেল আমার কাছ থেকে একটু একটু কোরে

আকাশের সূত্র আছে জানাল;  পরিবর্তনের!


পাহাড়ের কাছে যেয়ে বলেছি 

হে পাহাড় 

দু:খ থাকে যদি পরিবর্তনের তবে তুমি মানুষে রূপান্তরিত হও

মানুষের মত যুদ্ধবাজ না হয় প্রতারক চোখের টিউলিপ সৌরভ, 

লজ্জাহীন মুদ্রায়িত ঠোটের মোহিত সংলাপ হও!

অত:পর তুমি পূজোয় পূজোয় শাণিত হবে

তোমাকে নিয়ে তোপধ্বনি হবে প্রার্থনায়

বন্দনায় বন্দনায় মিছিলের পর মিছিল।

হায়---পাহাড় সরে গেল আমার কাছ থেকে একটু একটু কোরে

পাহাড়েরও কানুন আছে জানাল 

নিয়ম আছে স্থিরতার!


সূর্য, বৃক্ষ, মৃত্তিকা, তরুলতা

সমুদ্র থেকে মহাসমুদ্রের 

জনান্তিকে জেনেছি

সূত্রহীন পরিবর্তনে স্থির থাকে স্বার্থহীন গতিরেখা তাদের!


অথচ পরিবর্তনশীল চর্চিত মানুষের হে বিধাতা 

রূপ রূপান্তরের কোন সূত্র নেই!


হে পৃথিবী

আজো আমি তোমার চলন্তিকায় আরণ‍্যক রাহাগির

জীবের মতই একটি আবিষ্ট জীব হয়ে আছি

এখনও ঈশ্বরের মানুষ হয়ে উঠিনি!


ফরিদা আলম


এই তো সেদিন



ভিজতে চাই বলতেই টুকরো টুকরো মেঘগুলো,একত্র হয়ে মুহুর্তে অমৃত ধারায় আমায় ভিজিয়ে দিত।
সুর্য্যিমামার তীব্রদাহে পুড়েও কাটিয়ে দিতাম ঘন্টার পর ঘন্টা খেলার নেশায়, মিনতি করে বলতাম,মাম্মা একটু তো ছায়া দাও,
মনে হতো সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের তীব্রতা লুকিয়ে যেতো মেঘের আড়ালে, 

এখন আর আকাশ কথা শুনেনা,সাঁঝের বেলায় রাঙা গোধূলি পেখম মেলেনা,
সাগর নীলিমায় অচেনা পাখিটা ভরষা হারায়।মেঘেরা সোনালী রৌদ্দুরে সোনাঝরা হাসি হাসেনা।
মামাটাও কেমন যেন বদলে গেছে।
বিদ্যুতের ঝলকানিতে জোছনা আলো ছড়ায় না।

সুভাসিত চাদর বিছানো অভিমানী বকুল শুকায়,ভোর শেষ হয়,ফুল কুড়ানি ঘুম ভাঙ্গে না,
হাসনা হেনার গন্ধে সর্পরাজ নেশায় মাতোয়ারা হয়না।সব কিছুতেই না, নিষেধ,ভেজাল--এইতো যুগের অবস্থান্তর।

কিছুতেই এখন আর মন টলেনা,কি প্রয়োজন এমন সভ্যতার!
আমি চাই আবার সেই অসভ্যতা---
ইচ্ছে মতো পুড়ে যাবো,ভিজে যাবো,
হাসবো কাদবো,গন্ধ নিয়ে মাতাল হব।নিষেধ অমান্যে,কারো বকুনি খাবার কারন হবো।

দিন পেরিয়ে সন্ধ্যে বেলা উফ্ আহ্ চুলের ঝট ছুটাতে ব্যস্ত হব,পড়ার টেবিল ফাকি দিয়ে চোর পুলিশ খেলায় মত্ত রব।চার দেয়ালের ভিতর মশারীর আরেক দেয়াল টানিয়ে ভুত পেত্নীর গল্প শুনে ভয়ের বাহানায় মায়ের বুকে মুখ লুকাবো।

স্মৃতিগুলোতে একটু ছায়া ও পড়েনি,তবু স্বল্পক্ষনের জন্য ও ফিরে পাইনা সেই দিনগুলো। বড্ড্ ইচ্ছে করে ফিরে যেতে সেই সময়টাতে।


 

১০ সেপ্টেম্বর ২০২১

সুমনা



 অন্ধকার-রোদ্দুর আর টিন চশমা


মেয়েটাকে বরাবর আমি দেখে এসেছি , কাছ থেকে , খুব কাছ থেকে ;

দূরবীনের কাঁচের মসৃণ আঁচে আমি ওকে ছুঁয়ে ও দেখেছি প্রচন্ড উত্তাপে---

ভিজে চুলের জলে যখন সদ্যোস্নাত গ্রীবা রোদ পোহাতে এসেছে সবে,

আমি তখন ও ওকে ছুঁয়েছি।

ও রাগে, কৌতুহলে বিষ্ময়ে বলেছে, আমার চোখের সামনে যে জমাট বাঁধা কালো,তা নিয়ে ঠাট্টা করেন?

ও বিশ্বাসই করে না, আমি প্রতিটা স্পর্শের পঙ্গুত্বে ওকে ছুঁয়েছি।

বিকেলের রোদ এসে পড়ে আমার নিথর জানলার কাঠে;

ঠিক পাশেই ঘুমিয়ে থাকে আমার অবশ শরীর, বুড়ো কলমের নিব, আর সেই দূরবীন!

বোধ হয় তার স্নিগ্ধতায় ভেসে ওঠে একটা হাত;

আমি তাকে ছুঁই,আলগা খোঁপায় জুঁই!

আর থাকে রোদ্দুর ওর ঠোঁটে।

তাও পাগলিটা বলে, ভালোবাসেন বলেই মিথ্যে বলেন?

না, মিথ্যে বলে বাকি সব, এই ঘর, এই লোক, এই পাড়া!

অবুঝ আঙুল হাতড়িয়ে ও বলে, কি মিথ্যে বলে ?

আমি এমন সময়ই বোবা হয়ে যাই, 

সঙ্গে সঙ্গে উগ্র সন্ধ্যা নামে, 

ওই জানলার কাঁচে মুখ মিলিয়ে যায় ইলেকট্রিক আলোয়,

সব সুবাস কেড়ে নেয় ওদের আধুনিক শব্দ।

চোখের সামনে হুড়মুড়িয়ে নেমে পড়ে টিনচশমার আবছা ধূসর ছবি।

জানলার দুই পারে পড়ে থাকে দুটো নিস্তব্ধ পঙ্গু ভালোবাসা।

রোকসানা সুইটি



 কদাচিৎ দুঃস্বপ্ন

 


প্রতিশ্রুতি ছিলো সমুদ্রের বিশালতা দেখতে যাওয়ার,

নাকি মিথ্যা স্বপ্নের ব্যসাতী সাজিয়ে  প্রলুব্ধ করলে!

জানা হলোনা... 


সাহস হয় যদি কোন দিন একাকিত্বের বাঁধন ছেঁড়ার...

তবে কী শূন্যতা ঘেরা জীবন পূর্ণতায় ভরপুর হবে?  

কি এক কদাচিৎ দুঃস্বপ্ন গ্রাস করেছিলো , 

সেই চোখের বিস্ময়ে  বিশালতা খুঁজে পাইনি পড়ন্ত বিকেলে, 


পড়ে যাওয়া কফির মতোই  উপচে পড়লো স্বপ্ন গুলো...

পুড়ে যাওয়া স্বপ্নেরা ভাবনার করিডোরে হেঁটে যায় নিঃশব্দে...

তবে কি, কখনো কখনো অপ্রয়োজনেও ভালোবাসা হয়!