১৪ জানুয়ারি ২০২১

নাজনীন নাহার




একদিন কবে


সে আমার অবয়বই বটে!

মানুষের ভিড় ঠেলে নদীর পাড়ে

নির্জন ঢেউয়ের কানে মানুষেরই মতো

কিছু একটার শব্দ পেয়েছিলে ঠিকই 

কিন্তু অন্ধকার বাতাসে ঢেউয়ের যে আলোড়ন;

তোমার অস্থিরতা স্পর্শ করতে পারেনি 

তার শরীর স্মৃতি।

কি আর করার!

ফাগুন রাতে তোমার স্বপ্নে আসা 

আর এই পৃথিবীর নির্জন পাতার মতো

রুগ্ন স্বপ্নে হারিয়ে যাওয়া!

সেই একদিন কবে; পৃথিবীর সমুদ্র পারে

একসাথে অনেক রাতের নক্ষত্র পানে

রাত্রি আর দিন ভুলে যাওয়া, 

একদিন কবে..!

মাঝরাতে; হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে এখনো শুনতে পাও

তোমার শরীরের হাতছানি?

রক্তের ভালোবাসায় সেই যে মিটিয়েছিলে কার পিপাসা, তোমার পিপাসার্ত শরীরও জুড়িয়েছিলো বটে!

আমার শরীর আজ মৃত্যুর বনে ঘুমিয়ে!

তোমার শরীর না হয় কাঁপুক পৃথিবীর বনে।

পৃথিবীর ভালোবাসা সে যে বড় অস্থিরতা

মৃত্যু গহ্বরে জীবনের বেদনা প্রেমের মতন শান্ত,

তাই জীবনকে চাহিতে নয় মৃত্যুতে মন ব্যাকুল,

অধীর বাতাসে কাঁপুক পৃথিবী, আকাশে তারারা জ্বলুক, তবুও নয়ন মলিন হবে মৃত্যুতে একদিন কবে...!

এন এ আলম ( সীমু )




কুমারী 


নক্ষত্রখঁচিত আমার বাসভবন

অমর উজ্জ্বল দেবতারা

পথ দেখাবে তোমায়...

কুমারী,

আমার এ গৃহে তোমায় স্বাগতম।


বাতেসের গতি শান্ত শীতল...সুর্যতাপ স্নিগ্ধ

কোমল বিস্তৃত এক বাতাসের অঞ্চল। 


হে কুমারী,

এ সবি তোমার জন্যে স্বর্গলোকে আমার

নূতন সংযোজন....।


ঈশ্বর সীমারেখা অতিক্রম করে

দখলে নিয়েছি আরও বিস্তৃত অঞ্চল !


তোমার জন্যে সুর্যের আলো সেথায়

একদম সুশীতল...


রাজকীয় ভাবে পালিত দেবালয়ের নীল পরীরা  যাবে

তোমায় করতে নিমন্ত্রণ...


রাজার রাজারা যেথায় ব্যস্ত নিয়ে রাজসিংহাসন

তা ডিঙিয়ে আমার প্রাসাদোপম বাসভবন..


হে কুমারী,

কেবল তোমাকেই স্বাগতম।

গোলাম কবির



আমার কবিতার রহস্য "


আমি কী আসলে কোনো কবিতা
 লিখি! নিজেকেই যখন প্রশ্ন করি,
 উত্তর আসে - না, এগুলো কোনো
 কবিতাই নয়! এগুলো হচ্ছে আসলে
 আমার পৃথিবী জোড়া বিশাল ক্যানভাসে অক্ষরের এলোমেলো
আঁচড়ে আমার আনন্দ ও বেদনার
 নীল উপাখ্যান, আমার স্বাধীন
 মতামত প্রকাশের সুনীল কক্ষপথে
 ঘুরে ঘুরে তোমাদের কাছে পৌঁছে
 দেয়া, কখনো আমার বুকের ভিতরে
 জমাট বাঁধা কষ্ট ও গভীর প্রেমে পড়ে
 বিরহের কষ্টের মেঘ গুলো পৃথিবীর বুকে বৃষ্টির আশায় ছড়িয়ে দেয়া 
 যেনো একসময় সবুজ ফসলের মাঠে
 পৃথিবী হেসে ওঠে আনন্দে। 
কেউ কেউ হয়তো বলতে পারেন
 আমার কবিতা গুলো কোনো
 কবিতাই নয়!  কোনো কাব্যিকতা
 নেই, চোখ ধাঁধানো অদ্ভুত সুন্দর
 কোনো উপমা, চিত্রকল্প কিংবা
 নিদেনপক্ষে ভাষাটাও তো তেমনই
 কাব্যিক না হয়ে একদম সাদামাটা
 চোখের সামনে দেখা কথা কিংবা
 বিষয়গুলোই উঠে আসে কবিতায়।
 আমিও মানছি তা শতবার! 
আসলে আমার কাছে মনে হয়
 বর্তমান জটিল জীবনের ঘুর্ণিপাকে
 পড়ে জীবন হয়ে গেছে একদমই
 একসময় রামপুরা টু সদরঘাট যাওয়া
 মুড়ির টিনের বাসের মতো, 
তাই এতো জটিল করে আমি দেখি না
 কিছু, যা কিছু দেখি তা সব একদম ফকফকা সকালের মতো স্নিগ্ধ সুন্দর
 এবং সরল, কখনো আবার প্রগাঢ়
 অন্ধকারের বিষয় গুলো দেখি তাও
 পুরানো ঢাকার চেনা  অলিগলির
 মতোই সহজ করে, রহস্যটা এটাই!


আফসানা সিকদার



অণুকাব্য


প্রেমের প্রথম আবেশে সারা তনু মন,

মুখে নাহি বাণী, 

হৃদয় পলুকিত অনুক্ষণ, 

প্রেম 

যেনো উদাস মনের উপচে পরা

প্লাবন।

 অ

১৩ জানুয়ারি ২০২১

ছবি ধর

 



ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন

 

ঘুম ঘুম বন 

মাঝে পাহাড় নামছে 

সাথে তির তির সুগা ঝর্না। 

বনফুলে ভরা চারপাশ ।

তিতলির গুঞ্জন মনে করিয়ে দেয় ফাগুন কথা ।

প্রকৃতি বজায় রেখেছে  নিজ অব্যয়।

নইলে স্বার্থান্বেষী মানুষ তো 

ভুলতে বসেছে  সংস্কৃতি।

সারণ্ডার জঙ্গলের  কিছু পরেই কোয়েল নদী 

  সে যেনো --- 

 নীল আঁচল বিছিয়ে কোন এক মোহময়ী নারীর এগিয়ে চলা ।

 ঘন ঘন শ্বাস 

 কাঠুরে কাঠ কেটে চলে 

 মজুরী দেয় চোরা শিকারি।

ওরা আদিবাসী জনজাতি 

ভাতের অভাব  -- 

ওরা  জানেনা 

 ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ।

ভবেশ বসু


তুপড়ি খোল 



লোকে ফুলের গন্ধ নেয়,আমি নিচ্ছি বারুদের
তোমরা জানই না,আমার উঠান জুড়ে বাগান নানা রকম বারুদ
এখান হতেই বারুদ রপ্তানি হয়,বিয়ে বাড়ি থেকে শশ্মান
কেউ সিংহাসন সাজাতে চাইলে কনট্রাস্ট নিই,বাসর জুড়ে আমি
পুরানো যুগ শেষ,ফুল বসন্ত এসব রীতিনীতি অস্ত সূর্যের মতো
এখন থেকে ফুল রাতে ফুটবে,টগর রজনী গাঁদা  গোলাপও
এবং সব ফুলের রঙ এক,আগুনে দিলে রামধনুর ছটা
এই সভ্যতার মস্ত আবিষ্কার শরীরের প্রিয়তর রঙ বেরঙ ফাঁস। 

তোমরা হাঁ করে দেখছ কি,এই বারুদই যায় ফুল দানীতে
ঘর সাজবে পূজা মণ্ডব, পাড়ার ক্লাবগুলি কোনদিন যা পাইনি
আজ স্বগে'র চাঁদ হাতের মুঠোয়
এই তো সেদিন জোয়ান লোকটার গলায় পরানো হল
মেঘ খণ্ড করাও যাবে এই ভালোবাসার অতিথি দিয়ে
এটি আধুনিক চরিত্রের নতুন চাষ,ঘর বাড়ি কৃষক শ্রমিক
এমন কি তরুণ প্রজন্মও মাথায় গুঁজে এই সাধাসিধে প্রেম
প্রথম প্রেমিকের নাম মনে নেই,নেপা ভোলারাই এখন বিশ্বকর্মা
আমদানি রপ্তানি ব্যবসায় পটু
অর্থের লোভে আমার সামান্য জমিতেও এমন অন্তহীন ফুল।

নারীর শরীর নরম তলতলে,তার ঠোঁটও হেমন্তের মতো স্বতন্ত্র
সেই প্রথম মানুষ,স্নিগ্ধ আঁধারেও যে বারুদের গন্ধ পায় এবং আলো নেই বলে চেঁচিয়ে উঠে
তুপড়ি খোল হতে এখন সশব্দে আসছে মানুষের হাড় খুলি
বোঝা যায় ভবিষ্যত সন্তানদের আর একটি কুরুক্ষেত্র তৈরী।




১২ জানুয়ারি ২০২১

এম রুহুল আমীন


 আর করব আশ্বাস বাণীতে কেটে গেছে ১৪ বছর

অযত্ন-অবহেলায় পড়ে আছে চুকনগর গণহত্যা-৭১ স্মৃতি বধ্যভূমি 

খুলনা


”হবে আর করব” এই আশ্বাস বাণীতে কেটে গেছে ১৪ বছর। ২০০৬ সালে নির্মিত চুকনগর গণহত্যা-৭১ স্মৃতিরক্ষা বধ্যভূমিটি আজও পূর্ণতা পায়নি অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে অযত্ন অবহেলায়। গত ১৪ বছরেও এর কোন সংস্কার হয়নি। অথচ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে এখানে সংঘঠিত হয়েছিল বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণহত্যা।

১৯৭১ সালের ২০ মে এখানে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি বাহিনী হানা দেয়। ব্রাশ ফায়ার করে প্রায় ১০ হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুকে হত্যা করা হয় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার চুকনগরে। রচিত হয় চুকনগর গণহত্যার ইতিহাস। বাংলাদেশ শুধু নয়, ইতোপূর্বে সংঘটিত বিশ্বের সকল গণহত্যার ইতিহাস পর্যালোচনা করে দেখা গেছে চুকনগর গণহত্যাই বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণহত্যা। এত অল্প সময়ে এক জায়গায় এতগুলো মানুষকে হত্যার নজির কেথাও খুজেঁ পাওয়া যাবেনা।

যেভাবে সংঘটিত হল ইতিহাসের বর্বরচিত এই গণহত্যাঃ

১৯৭১ সাল সারাদেশ জুড়ে শুরু হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ।এরমধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের অনেক মানুষ প্রাণভয়ে পালাচ্ছে দেশ ছেড়ে। তেমনি একটি দিন ২০ মে। আগের দিন ১৯ মে বিকেল থেকেই খুলনার বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া, বাগেরহাটের রামপাল, মংলা, শরনখোলা সহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ গরুর গাড়ি ও নৌকায় করে জড়ো হয় চুকনগরে। উদ্দেশ্য, পরদিন সকালে সাতক্ষীরার ভোমরা দিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে আশ্রয় নেয়া। তারা আশ্রয় নেয় চুকনগর বাজারের কালীবাড়ি, চাদঁনী, ফুটবল মাঠ, হাইস্কুল মাঠ, পাতিখোলা বিলের পাড়সহ বিভিন্ন স্থানে। পরদিন সকালে সাড়ে আটটার দিকে পাতিখোলা বিলের পশ্চিম প্রাণ্তে চুকনগর-সাতক্ষীরা সড়কের ঝাউঁতলায় এসে থামে পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর দুটো জীপ।জীপ থেকে নেমে বিলে দিকে অগ্রসর হতেই পিাট ক্ষেতে কাজ করতে থাকা মালতিয়া গ্রামের কৃষক চিকন আলী মোড়ল হাতের নিড়ানী উচিঁয়ে প্রতিবাদ করে। সাথে সাথে গর্জে ওঠে পাক হানাদার বাহিনীর রাইফেল। তারা প্রথমে গুলি করে হত্যা করে চিকন আলী মোড়লকে। এরপর তার একটু দুরে থাকা একই গ্রামের সরেন কুন্ডুকেও হত্যা করা হয়। এরপর নিরিহ নিরস্ত্র মানুষের উপর চলতে থাকে হায়েনাদের ব্রাশফায়ার। হায়েনারা নসেদিন কাউকে রেহাই দেয়নি, নারী, পুরুষ, যুবক, বৃদ্ধ, শিশু, কিশোর সবাইকে তারা নির্মমভাবে হত্যা করে। তাদের এই হত্যাযজ্ঞ স্থায়ী ছিল দুই ঘন্টার মত, এই দুই ঘন্টায় কত মানুষ যে আত্মাহুতি দিয়েছে তার সঠিক হিসাব কেউ দিতে পারবেনা। তবে কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ননা মতে প্রায় ১০ হাজার মানব সন্তানকে সেদিন হত্যা করেছিল হানাদার বাহীনি।      



   

কিন্তু বাস্তব সত্য হল স্বাধীনতার ৩৪ বছর পার হলেও ২০০৫ সাল পর্যন্ত কোন সরকারের সময় চুকনগরে একটি বধ্যভূমি নির্মিত হয়নি। অবশেষে ২০০৫ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪দলীয় জোট সরকারের সময় পাতিখোলা বিলের দক্ষিণ-পূর্বকোনে মালবতয়া মৌজায় বধ্যভূমির জন্য .৭৮ শতক জমি অধিগ্রহণ করে এবং ২০০৬ সালে ১৯৭১ সালের ২০মে গণহত্যায় নিহতদের স্মৃতি রক্ষার্থে ৩২ শতক জমির উপরে নির্মিত হয়  গণহত্যা-৭১ স্মৃতি বধ্যভূমি।এর কিছুদিন পরেই শেষ হয় সরকারের মেয়াদ, তারপর থেকে অদ্যাবধি একটানা তৃতীয় বারের মত ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ সরকার। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে এই ১৪ বছরে বধ্যভূমিটির কোন উন্নয়ন বা সংস্কার চোখে পড়েনি। এর মধ্যে সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, এমপি, উপদেষ্টা, সচিব সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির আগমন ঘটেছে এখানে।সকলের কাছে দাবিও তোলা হয়েছে বধ্যভূমির কলেবর বৃদ্ধি এবং একটি কমপ্লেক্স নির্মানের কিন্তু সবাই শুধু হবে আর করব এই আশ্বাস বাণীই শুনিয়েছেন, বাস্তবে আজও ১৪ বছর আগের অবস্থাতেই রয়ে গেছে বধ্যভূমিটি। গণহত্যা-৭১ স্মৃতিরক্ষা পরিষদ ও এলাকবাসীর পক্ষ থেকে তাদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে বধ্যভূমিরি বিভিন্ন ধরনের উন্নয়নের দাবি। সকলের কথা একটাই সংশ্লিষ্ট বিভাগকে জানাব আর খুব শিঘ্রি পদক্ষেপ গ্রহণ করব কিন্তু অদ্যাবধি বধ্যভূমিটির কোন উন্নয়ন চোখে পড়েনি। 

অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি, পেয়েছি একটি পতাকা ও মানচিত্র। অথচ গণহত্যার সাক্ষী এ স্থান বলতে গেলে সারা বছরই পড়ে থাকে অবহেলায়। বধ্যভূমির সামনের ফটক খোলা থাকার কারনে এখানে মাদকসেবী ও কপোত-কপোতির আড্ডা জমে বলেও এলাকাবাসীর অভিডযাগ রয়েছে।  খুলনা শহর থেকে প্রায় ৩২ কিলোমিটার পশ্চিমে ডুমুরিয়া উপজেলার আটলিয়া ইউনিয়নের চুকনগরে গিয়ে সেখানে বধ্যভূমির স্মৃতিস্তম্ভ দেখা যায়। কিন্তু নামফলক বা সাইনবোর্ড চোখে পড়ে না। স্মৃতিস্তম্ভের বেদির পেছনের অংশে বড় একটি ফাটল রয়েছে। এক পাশের এক সারি ইট উঠে গেছে। সীমানাপ্রাচীরের দক্ষিণ-পশ্চিম কোনার একটি বড় অংশ সম্পূর্ণ ভাঙা ছিল তবে গত ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবি দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে বিষয়টি নজরে পড়ে ডুমুরিয়া উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহম্মেদ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আব্দুল ওয়াদুদের। এসময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষনিক বরাদ্দ দিয়ে সেটি সংস্কার করা হয়। 

উপজেলা প্রশাসন ও চুকনগর গণহত্যা-১৯৭১ স্মৃতিরক্ষা পরিষদের উদ্যোগে এখানে গণহত্যার দিন ২০ মে, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস, বিজয় দিবস ও স্বাধীনতা দিবসে ফুল দেওয়ার মতো ছোটখাটো অনুষ্ঠান হয়।                

বধ্যভূমি রক্ষনাবেক্ষণ করার জন্যে জন্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একজন কেয়ারটেকার নিয়োগ করা হয়েছে। তিনি হলেন, মালতিয়া গ্রামের ফজলুর রহমান মোড়ল। তিনি এ প্রতিবেককে জানান, বধ্যভূমি পরিদর্শন করে শিগগিরই পূর্ণতা দেয়ার জন্য প্রকল্প প্রণয়ন করার কথা বলে গেছেন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব। 

চুকনগর গণহত্যা-১৯৭১ স্মৃতিরক্ষা পরিষদ’র সভাপতি চুকনগর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম বলেন, স্বাধীনতার ৪৯ বছর পরও বধ্যভূমিতে স্মৃতিসৌধ ও পূর্ণাঙ্গ কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়নি। তাঁর দুঃখ, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের দলিলপত্র’র ১৫ খণ্ডের কোথাও চুকনগরের গণহত্যার কথা উল্লেখ নেই। অথচ ইতিহাস স্বাক্ষী এখনও চুকনগর গণহত্যাই হল বিশ্বের সর্ববৃহৎ গণহত্যা। তিনি বলেন, প্রতি বছর ২০ মে নিজেরা যতটুকু পারি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাই। সরকারি প্রতিশ্রুতি কখনোই পূরণ হয় না। কেবল স্মৃতিসৌধের মূল স্তম্ভটি হয়েছে।


ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ আবদুল ওয়াদুদ দৈনিক জবাবদিহিকে বলেন, যতদ্রুত চুকনগর বধ্যভূমির পূর্ণতা দেওয়া যায়, সেজন্য জেলা প্রশাসক মহোদয়ের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি লেখা হবে। খুব শিগগিরি এজন্য আবেদন করা হবে।


ক্যাপশনঃ-চুকনগর গণহত্যা-৭১ স্মৃতি বধ্যভূমি।

মুন চক্রবর্তী




আদিম থেকে সভ্যতায়


কখন যে সূর্যালোক পার অন্ধকারে ঢুকেছে

অবিশ্বাস্য আদিমতা কে নির্বাসন দিয়ে সভ্যতা কিনেছে পৃথিবী।

পাথরে আগুন খোঁজা কাঁচা খাওয়ার দুর্বিষহ যন্ত্রনা

সভ্যতার পাথরে খোদিত পাষান হৃদয় যান্ত্রিক,চেতনার বিলুপ্ততে।

প্রতিদিন কাকভোরের টিফিন বাক্সে আধুনিক প্রলোভন

একটি মানুষ করার খরচের অঙ্গিকারে পরে আছে

সস্তা খাবার

জীবনের সাজসরঞ্জাম গুলো চ্যাম্পিয়ন ট্রফির মত সাজানো

না ছিল না, বাহারি কায়দার সোফা সেট,ভাত ভাগ করা ক্ষমতা ছিল।

আলোক সজ্জার চৌমাথায়,হ্যারিকেন নিয়ে চলত মানুষ হওয়ার বিশ্বাস

আদিম থেকে সভ্যতায় দাঁড়িয়ে কাঁচা মাংসর লোলুপ নৃশংসতা।

দাড় টানা মাঝির ভাটিয়ালি নদী শোনে না

উচ্চতার চারিদিকে ভয়ানক সভ্যতার নাগপাশ

প্রতি মূহুর্তে বিশ্বায়ন ক্ষয়ে যাওয়ার ভয় তাড়া করছে।

শব শকট গুলো বির্বতনের লাশ তুলতে এগিয়ে আসছে

গন্ধ পাচ্ছি ট্যাংরা মাছের ঝোলের সম্ভবত অশিক্ষিত মায়ের রান্না 

ছাগ শিশুর মূখে কাঁঠাল গাছের পাতা তুলে দিচ্ছে

আদিমতা

এই তো বুলেট ট্রেনে চড়ে আসল সভ্য মানুষ 

দুদিন বড় জোর তিনদিন,বৃদ্ধ বয়সের শান্তনা।

হোম ডেলিভারির যুগে ঘরের চারপাশে শ্যাওলার আস্তরণ 

মূল্য আর মূল্যায়নে সঞ্চিত আদিম যুগের ভালোবাসা,সভ্যতায় হার্ট ব্লকের বিধিনিষেধ! 

প্রযুক্তির ব্যবহার আছে প্রতিশ্রুতি নেই,

মাঠে বাঁধা গরু নিয়ে ফিরেছে সন্ধ্যারতি,আদিমতা!না সভ্যতা!

মেহেদি পাতা




 ইচ্ছের ডানা থাকা জরুরি


বুকের হাপরে আগুন উস্কে রাখি

গনগনে আঁচে লোহা পোড়ে,

তাকে দেখি সৎভাবে ল্যাংটো হতে


আজকাল আর 

কাক চিল পড়ে না নিশিকান্তর বাড়িতে 

তলোয়ার খসে গেছে কোমর থেকে,

জং পড়েছে

বার সিঙ্গারের চাকরি ছেড়ে 

মেখলা এখন নিপাট ধনেখালি 

ধক নেই 

ঝগড়া দিয়ে আঠা লাগায় আগুনে।


           

তালুকদার ইমরোজ


 


মেগা শপিংমল


নিঃসঙ্গ মেঘের মতো চুপিসারে

আমি প্রতিদিন দেখে আসি-

তোমার পরিপাটি সাজানো সংসার;

কী মায়ায় তুমি আগলে রাখো

তোমার কংক্রিট বাগানের প্রতিটি বৃক্ষ,

রাত গভীর হলেই

তোমার বুকে খেলা করে-

পুঁজিবাদের ভয়ংকর-ঝলমলে জৌলুস। 

তুমি এখন নন্দনতত্ত্ব ভুলে গেছো,

ভুলে গেছো মানবিক উপাখ্যান;

তুমি এখন ফরাসি পারফিউমে অভ্যস্ত-

বেলি-হাসনাহেনা-চামেলী তোমাকে কাছে টানে না-

তুমি নিজেই এখন শহরের মেগা শপিংমল।

মহুয়া চক্রবর্তী




কালো মেয়ে 


ওগো প্রিয় তুমি যেমন তেমনি থেকো

আমার সেই মনের কোণে স্বপ্নে আঁকা

স্বপ্ন নীল পরী হয়ে থেকো।

রঙিন ওই মেকাপের সাজ

প্রয়োজন নেই তোমার  আজ

 আমি যে বুঝেছি তোমার মন

 সে যে খাঁটি সোনা তা বোঝে কজন।

 ছোট্ট টিপ হলুদ শাড়ি তুমি অনন্যা

 রূপ দেখে মানুষকে বিচার করোনা।

 রূপ যে তোমার মমতাময়ী

 মন যে তোমার ফুলের মত

 প্রতিদিনই তোমার হোক চিরন্তন অবিরত।

 চাঁদের গায়ে ও তো কালি আছে

 তাই বলে কি চাঁদ হারিয়ে গেছে -

 পূর্ণিমার ওই চাঁদের  আলোয় 

 মন ভেসে যায় তারই মাঝে।

 কৃষ্ণ কালো ,কোকিল কালো

 কৃষ্ণপ্রেমে জগত আলো।

 বসন্তের ওই কোকিল সুরে

 মন করে দেয় সবার ভালো।

 মনের ময়লা সরিয়ে ফেলে 

 চেয়ে দেখো কালো রূপেই যে জগত আলো।

হাকিকুর রহমান




অপেক্ষমাণ


দাঁড়িয়েছিলাম কাননের ধাঁরে-

ফুটেছিলো জুঁই, চামেলী, হাসনুহেনা, বহ্মকমল

দু’হাত ভরে ওগুলোকে কুড়োনোর খুব ইচ্ছে ছিলো

কিন্তু কেন জানি

ফুলগুলোকে কুড়োনোর তরে সময় হয়ে উঠলোনা-


দাঁড়িয়েছিলাম পথের পাশে-

শত সহস্র পথিকের আনাগোনা

চেনা মুখ দেখিনি একটাও

সবাইকে কেমন জানি অচেনাই মনে হলো

তাই কথপকথন তো দূরে থাক

দৃষ্টির আদান-প্রদানও হলোনা একবারের জন্যে হলেও-


দাঁড়িয়েছিলাম নিয়ন বাতিটার নিচে-

আর কাউকে তো দাঁড়াতে দেখিনি এমন করে

দু’একটা ভ্রাম্যমান ছাড়া

ওদেরই বা দোষ কি

জীবনের তাগিদে এই পথে আসা

তা আমার তাতে নাক গলানোর কিইবা আছে

আমিও অন্য মুখী হলাম-


দাঁড়িয়েছিলাম মরা নদীটার ধাঁরে-

অতি দূষণে ও নিজেই নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেনা

আর আমি কিনা ভাবছি

মনের দু’টো কথা কইবো তার সনে

কি আর করা

গন্তব্যহীনতায় ভুগে বেলা পার করে

স্বঘরেই ফিরে গেলাম।