০৯ জানুয়ারি ২০২১

সোহেল রানা




ভালোবাসি তোমায়


জীবনের প্রথম প্রেমটা তোমার সাথে হয়েছিল। 

গোলাবারুদের মতো ছুড়ে দিলে জাপানের টোকিও শহরের ডাস্টবিনে। 

হৃদয়ের গভীরে ক্ষত গুলো জমাট বেঁধে আছে। 

 ভালোবাসার স্মৃতি গুলো নিয়ে মনকে শান্তনা দিলেও, 

একটিবারের দেখার জন্য অনেক খুঁজেছি এই ধরণীর তলে। 


হৃদয় স্পর্শ করে তুমি চলে গেছ বহুদূরে,

 বহুমাত্রিক বহু ব্যঞ্জনায় তোমাকেই খুঁজে পাই হৃদয় খুঁড়ে। 

কভারেজে মতো নিকোটিনের গন্ধে তুমি মগ্ন থাকি।

ভগ্ন হৃদয়ের সুপ্ত আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের মতো এখনো তোমায় বড্ড ভালোবাসি। 

সেই ভালবাসাটা না বলাই থাক, 

তবুও ক্ষমতাশীল পাখির নীড়ের মতো শান্তি খুঁজে পায় ,

পিয়া তোমার ঐ ছোট্ট কোলে মাথা রেখে। 

আজও তোমায় ভালোবাসি, ভুলতে পারিনি স্মৃতি মুখর দিন গুলো। 

আজও ভালোবাসি তোমায়।

মনি জামান




আজ আমি স্বাধীনতা দেবো


এই যবুক দাঁড়াও!আমার হাতটি ধরো,

আজ আমি তোমাকে স্বাধীনতা দেবো।

তুমি ইচ্ছে মত শৃঙ্খলিত কর আমাকে,

তোমার ভালোবাসায় আমার নারীত্ব ক্ষতবিক্ষত কর।

আমার হাতটি ধরে তোমার আকাশে উড়াও যতক্ষণ পারো,ছিন্ন ভিন্ন কর প্রজন্মের জননীকে।

এই যবুক দাঁড়াও! যত বাধা ভয় আজ অতিক্রম কর,তোমার নীন্মাঙ্গ উদ্ধত কর সতিত্ব খুনের তাজা রক্তে তুমি আজ জ্যোস্না ছিনিয়ে নাও।

তোমার পৃথিবী আলোকিত কর,পূর্ণ করো তোমার পুরুষত্ব।

এই যবুক দাঁড়াও!এবার চলো অন্ধকারের বুক চিরে সজ্জিত ঐ অন্ধকার বাসরে,ভয় নেই তোমার।

আজ মনের যত আস্ফালন জ্বালা মিটিয়ে নাও,যেন আর কোন জননী ধর্ষিত না হয়,কারণ আজ আমি তোমাকে স্বাধীনতা দেব।

যত পারো স্বাধীনতা উপভোগ কর আমার কোমল শরীর ছুঁয়ে,তারপর রাখালের পদপিষ্ট পরিত্যাক্ত ঘাসফুলের মত রক্তের নদী বেয়ে পৌছে যাবো,ঠিক সূর্য উঠার আগেই পুরুষ তোমার আলোর পৃথিবীতে।একজন ধর্ষিতা জননী হয়ে চিরায়ত এই বাংলার বুকে ।

বিশ্বজিৎ দেবনাথ হৃদয়



পবিত্র প্রেমে পাওয়া


আলতা রাঙা পায়ে রিনিঝিনি নূপুর বাজে, 

আমি কান পেতে রই,প্রেমময়ী কখন সে গৃহ হতে হবে বাহির।আলাভোলা উড়নচণ্ডী যায় সে কোন পথ ধরে,

সে কি ফিরবে এই বসন্তের শিউলি ফোটা ভোরে?

হারিয়ে কি যাবে কোন সে শিশিরের জলকন্যা হয়ে।


নিয়ম করে আসতো সে পুকুর পাড়ে জলকেলি দেখতে-- দ্যাখে বেঁচে-থাকার মানে খুঁজতো।

বিশাল আকাশটার নীলকে সে প্রচন্ড ভালো বাসতো...

চঞ্চলা মন কখনো ডুবে যেত কবিতার মাঝে 

আর রঙিন প্রচ্ছদে ছোট্ট একটা শহর বুনতো ভালোবাসার নীল খামে...

কতো চিঠির প্রদর্শন হতো টেবিলের বুক জুড়ে। 

কতো না বলা ভালোবাসা নিরবচ্ছিন্ন ভাবে নিরুৎসাহিত হতো মনে,বেদনা বিধুর বুক ফেটে  চৌচির।


আজও প্রেম কাঁদে বসে কোন চৌরাস্তার বাঁকে 

শীতঋতুর সকালের শিশিরের ভেজা ঘাসে 

বিকেলের ফিরে আসার অপেক্ষার প্রহর গুনে

সাঁকো-অধীর আগ্রহে পথ পানে চেয়ে।


বারংবার কারণে অকারণে জল ভরার ছলে এক পলক দেখার উচাটন দেহ মনে বায়না ধরে।

অপলক দৃষ্টিতে নয়নের পানে চেয়ে থেকে আবেগে আপ্লুত ক্ষণ কখনও ভুলার নয়!

ফিরে ফিরে তাকিয়ে উতালপাতাল ঢেউ যায় জাগিয়ে,হৃদয় পুড়ে আজ সেই স্মৃতি চারনে।


তবো রুপ যৌবনে মনোমুগ্ধকর সদা ব্যাকুল ছিল যতো পড়শী।

মায়াবী মুখে হরিণী চোখে এক পলক চেয়ে মন ছোঁয়া মিষ্টি হাসি একটু দিও না হয়!

এ আমার পরম সাধনার স্বর্গের সুখ পবিত্র প্রেমে পাওয়া ।

ফিরোজ আহমেদ জুয়েল


প্রেয়সী


ব্যস্ত সারাটি বেলার মাঝে,

 তোমার ঐ চোখ দুটি হৃদয়ে ভাসে, 

আনমনে চেয়ে থাকি, তোমারি পানে; 

চেতনায় অনুভবের ঘন্টা বাজে।


ডাকবে কখন তুমি,

আমায় কাছে,

হৃদয়ের আঙ্গিনায়,

সুর যে বাজে,

গোলাপি ঐ ঠোঁটের রাঙা হাসিতে,

দুচোখে যে আমার স্বপ্ন ভাসে।


কথার ঐ ফুলঝুরিতে,

          কতোনা শব্দ আসে,

ভালোলাগার উপমাগুলো,

  তোমার ঐ হৃদয়ে আছে।


হৃদয়ের এ শূন্যতায়,

  তোমার ঐ পৃষ্ঠ ভাসে,

তোমাকে পেয়ে যে আমার,

      প্রণয়ের তুষ্টি মেলে।


তুমি রবে চিরদিন,

আমার এ হৃদয়ো মাঝে,

তোমায় নিয়ে ফুল ফোটাবো,

বাগানের ঐ আস্তরণে।।

A

 Bbb

০৭ জানুয়ারি ২০২১

শ্যামল রায়




নতুন সকালের জন্য


নতুন সকালের জন্য হাত বাড়াও

সরে যাক পাথরগুলো

ফুল ফুটুক শুধুই ভালোবাসার

নতুন একটা সকালের জন্য।

দিগন্ত সরলরেখা বরাবর

সদ্য ফোটা অক্ষর গড়ে উঠুক

আগামী দিনের জন্য।

রামধনু-আঁকা হোক তোমার মুখ জুড়ে

মিছিলে মিছিলে হেঁটে বলবো

আমরা সকলেই এক

বিভেদ ভুলে দেশের জন্য।

ঘন কুয়াশা কেটে যাক

উঠুক রোদ্দুর, সকলেই তাপ নিয়ে বলবো

উষ্ণতার জন্য থাকবো বেঁচে

আমরা সকলেই অন্ধকার মুছে মুছে।

নতুন বছর আগামী দিন

তোমার আমার গল্পের সূচনা হবে

পলাশ বকুল কৃষ্ণচূড়া রঙে রঞ্জিত হবো

আমরা মানুষ ।ভারতবাসী ।জয় আমাদের হবেই।

অলোক দাস



মেঘে বজ্রপাত 



 বিমানে একটি ছোট্ট শিশু, খেলনা নিয়ে ব্যাস্ত । হটাৎ বাজ পড়লো বিমানে - বিমানটা হারালো ভারসাম্য I প্রাণের ভয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ ভয়ে অস্থির I সকলে জুড়ে দিলো চিৎকার I শিশুটি আপন খেলে যাচ্ছিলো I এক ব্যাক্তি খেয়াল করে শিশুটিকে I ব্যাক্তিটি জিজ্ঞাসা করলো "তোমার কেন ভয় নেই?" ছোট্ট মেয়েটি বললো, এই বিমানের পাইলট আমার বাবা I বিমানটি অবতরণ করলো নিরাপদে I তাই ভাবি বাবারা বেঁচে থাকুক, সব শিশুদের হৃদয়ে ভালোবাসায় ও যত্নে I

তাহমিনা সিদ্দিকা




বল সাধু তারে


যে তোরে বেশ্যা বলে তারে তুই বল সাধু,

আমি এক পাগলা কানাই পাগল বেশে সত্য জানাই।

তোর রূপ নয়নে দেখরে শয়নে খেলছে কেরে নিয়ে যাদু,ও তোর ত্রিবেনী তিন দরজায় কালো মেঘে বিদ্যুৎ গর্জায়।

কৃষ্ণ বলে বিষ্ণুলোকে চেয়ে দেখ ঐ যাচ্ছে রাধে,যে তোরে বেশ্যা বলে তারে তুই বলরে সাধু!

অর্কদীপ সরকার



আদর  


শীতের আদর, গরম চাদর 

কাঁচা ঘুম, ভাঙা চোখ । 

বুক ছোঁয়ানো, নরম ঠোঁটে 

আদরের জয় হোক ।।


বোতাম ভাঙা, সাদা জামা 

লিপস্টিকে হল লাল । 

ব্যস্ত অফিস, গরম টিফিনে 

আদুরে  সাতসকাল ।।


রোদে পিঠ পাতা, ছুটির দিন 

অগোছালো শাড়ী, সেফটিপিন। 

ঘুরতে যাওয়া, কফির ভাঁড়

আদুরে হাঁটা, রাস্তা পার ।।


মাথায় বালিশ, হাজার নালিশ 

খুনসুটি মাখা, কান ফিসফিস । 

কপালে চুমু, ঘুমে মাখা চোখ 

 আদরের জয় হোক।।

ফটিক চৌধুরী




মৃত্যুবর্ষ


এখনো বালিশের আরাম আর

ব্ল্যাঙ্কেটের ওম লেগে আছে সারা শরীরে

ধমনীতে এখনো লুকিয়ে রয়েছে উষ্ণতা

তাহলে এটাই কি ঠিক সময় পিকনিকের?

বুনো মুরগি ঝলসিয়ে জেগে উঠবে

                                      ফরেস্ট বাংলো?

না, তেমন সম্ভাবনা নেই এই শীতে।

বর্ষশেষের গানে মিশে আছে

                                    অতিমারির গ্লানি

মনখারাপের ধূসর ধুলো।

খোসা ছাড়াতে ছাড়াতে কমলালেবুর মতো

পৃথিবীটা মধুর রসে নেই, বশেও নেই, যেন

মরুভূমির আকাশে ভাসে মেষপালকের গান।


বছরের ডানায় গজিয়ে ওঠে বিপর্যয়ের পালক

আমাদের দাবি এটা মৃত্যুবর্ষ বলে চিহ্নিত হোক।

নিলুফার জেসমীন রুমা




এই তো বেশ আছি


চাওয়া পাওয়ার হিসাব অনেকটাই ভুলতে বসেছি, 

এখন সব কিছুই বড্ড অনর্থক মনে হয়, 

কেউ বোধ হয় এক জনমে তার সবটুকু পায় না।


কিছু না পাওয়ার শূন্যতা সারা জীবন মানুষকে হতাশার বালুচরে বেঁধে রাখে,

তেমনি পাওয়াটুকুও মাঝে মাঝে ভারী হয়ে উঠে  ভালোবাসার রকমফেরে।


কান্না হাসির ভিতর দিয়ে বয়ে চলা জীবনের স্রোত আমৃত্যু টেনে নিয়ে যায় সামনে। 


ছোট ছোট সুখ বালুকণার মতো রোদের সোনালী আঁচে চিকচিক করে মনেরই অজান্তে। 


দীর্ঘশ্বাসের সাথে সবটুকু দুঃখ নিংড়ে ফেলে চোখ, বন্ধ করে অনুভব করি এই তো বেশ আছি।

সাবা সাবরিন




সিন্দুক


মনের অন্দরমহলে রাখা সুরক্ষিত 

লোহার সিন্দুকটা, মাঝেমাঝে কেঁপে কেঁপে উঠছে,

সিন্দুকের তালাটাও 

কাঁপছে ঠক্ ঠকা ঠক্ শব্দ করে।


নগন্য একটা সুখের অনুভূতি, 

সারারাত জাগিয়ে রেখেছে। নগন্য 

সুখটাকে বারবার উল্টে-পাল্টে, 

ভেঙে-চুরে, দুমড়ে-মুচড়ে, দেখতে 

দেখতে কখন যে আকাশ থেকে 

চাঁদ বিদায় নিয়েছে সেটাও অনুভব 

করতে পারিনি। পূব আকাশে আলো 

ফোটার আগেই নগন্য সুখটা আমার 

সর্বস্ব গ্রাস করে নিয়েছে। প্রতিটি 

শিরা উপশিরা দখল করে এখন 

প্রবেশ করেছে তালাবদ্ধ সিন্দুকের 

ভেতরে।


যে সিন্দুকে, অনেকদিন সুখের 

প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল। নগন্য সুখটা 

কোনো এক অলৌকিক ক্ষমতা বলে 

ওখানে প্রবেশ করেছে। কী ভীষণ 

সাহস! যে আমার অনুমতি ছাড়াই 

আমার সিন্দুকে চিরস্থায়ী বসতি 

গড়েছে। 


এখন সিন্দুকের ভেতর থেকে 

ঠক্ ঠকা ঠক্ শব্দে আমায় আহ্বান 

জানাচ্ছে। শব্দটা আমার সবকিছু 

এলোমেলো করে দিচ্ছে। আমার 

আমিটা নিজের চতুর্দিকে বিস্তৃত 

ডালপালা সমস্তটা গুটিয়ে ধীরে 

ধীরে প্রবেশ করছে সিন্দুকে।

নার্গিস জামান




তোমার জন্য


মহাজগতিক সৃষ্টি সব তোমার জন্য, জানো তো? তুমি বিস্মিত হবে তাই নভোমণ্ডল। মোহিত হবে বলে ফোটে ফুল, পাকে ফল! তোমার প্রশান্তির জন্যই এই আঁচল। 


তুমি আসবে বলে, জেগে থাকা এই দীর্ঘ রাত! গানের কলি লুকিয়ে বলি, মৃদু পায়ে সতর্ক চলি; কান পেতে শুনি তোমারি ছন্দময় পদধ্বনি! 


জগত সংসার, সকল সমাহার, কপোলের তিল, হাসিমাখা ওষ্ঠদ্বয়। চিবুকের গোলাপি আভা, নেভিলের সরলরেখা, বুকের জমিনে কাঞ্চনজঙ্ঘা সবেতে সুলতানি সিলগালা!


সৃষ্টির সবই তোমার জন্য, তুমি আদম; তাই তো হাওয়া...