১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আজ

সুশান্ত মন্ডল

বিমুর্ত আজ বিগলিত
              অশ্রুর বিদ্রুপে।
হীনতায় হীন উদ্দ্যম
           পরাজিত তুরুপে।।
কর্ন পর্দা ছিন্ন আজিকে
          ধ্বনীত অট্ট হাঁসিতে।
প্রতিবাদী কন্ঠ রুদ্ধ  তাই
            ভীরুতার ফাঁসিতে।।
কান্নার ক্ষীন রব
             প্রবাহীত বায়ুতে।
অন্তহীনে ভাসিছে কেবল
          হ্রিংসার ধরনীতে।।
নিয়ত বৃদ্ধিমান
           এই প্রগতীর সমরে।
মনুস্বত্য শর্তহীনে
         সমায়ীত  স্বার্থের কবরে।।
মানুষের হাতে মনুষ্য-প্রাণ
            আজ লুন্ঠীত অবাদে।
হালহীন সমাজ তরী
          ভাসিছে ধর্মীয় প্রবাদে।।

জাফর রেজা

ইতিকথা

একদিন তোমাকে বলে দেব
আমার ধূসর জীবনের কথা;
বলে দেব, কত পথ পাড়ি দিয়ে
এসেও ক্লান্ত আমি
পাইনি তোমার দেখা,
কতবার তোমার পিঠে ছড়িয়ে থাকা
মেঘ কালো চুল গুলো ছুঁতে চেয়েও
পারিনি ছুঁতে,
কতবার তোমার চোখে চোখ মিলাতে গিয়েও
পারিনি মিলাতে,
কতবার তোমার হাতে হাত রাখতে চেয়েও
পারিনি রাখতে,
কতবার তোমাকে নিয়ে লেখা
অজস্র কবিতা
শোনাতে চেয়েও পারিনি শোনাতে,
কতবার শুধু একটি শব্দ
বলতে গিয়েও পারিনি তোমাকে বলতে।

একদিন তোমাকে বলে দেব
আমার ধূসর জীবনের ইতিকথা।

বৃষ্টির বাগানে ফুটে চোখ

হুমায়ুন গালিব

বৃষ্টির বাগানে ফুটে আছে চোখ
অনন্তকালের  ঝরনায় শুধু ঝরে
কোনো সরোবরে  মিলনের আকাঙ্খায়

জোছনা নামে মগ্নতায়, গোপন হাহাকারে
সোনালি নদীর ধারে স্বপ্নের ঘরে
রুপালি জল ভেসে যায় তৃষার্ত হৃদয় পাড়ে।

দহন

স্বরূপ মণ্ডল

ঠাণ্ডা দখিনা বাতাসো পোড়ায় কখনো 
সে দগ্ধতা জেনেছি আখ্যানে

সূর্য যেভাবে ঘোরে পৃথিবীর আঁচলে
সেভাবেই খেয়েছি পাক তোমার মোহান্ধে
বিশ বছর এতটা বিষ হয়ে গ্যালো
হেরো ভূত হয়ে—
ছুটে বেড়ায় ছোটে প্রেতাত্মা

পিতার অন্ধতায় শরীরী পরাভব
লাট্টু হয়ে লুটায় ধুলায়

১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ঝিনুক বৃত্তান্ত

শারমিন সুলতানা রীনা

কবি, চুম্বনে জেগে ওঠে ঠোঁটের বিনিদ্রতা

তবু ক্লান্তিতে বুজে আসে পাপড়ি....

অহংকারী পতঙ্গ হয়েও  এক পশলা শিশিরে  ওপাশ  থেকে
ভিজিয়ে দিলে বালুচর।

ঝিনুক বুকে বালুকনায় জন্ম দিয়ে যাবো যে মুক্তো।

যদি ফিরে যাই মৃত্যুর ওপাড়ে

ধুসর বাসনায় এ মুক্তো তোমারই প্রাপ্য...

১০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ছাই

       
 সুধাংশুরঞ্জন সাহা 

করিডোরে দাঁড়িয়ে তুমি শাসন কর প্রহর !

তোমার নিক্ষিপ্ত তীর আমাকে  আহত করে।

আমার শরীরে শুয়ে আছে একটি বিষাক্ত সাপ ।

সে চলে যেতে চায়  সমুদ্র  অথবা  অরণ্যে । 

দৃশ্যপট বদলে বদলে যায়  .......

তোমার সীমানা ছাড়িয়ে দূরে যেতে চেয়েছি

কিছু একাকিত্ব কুড়িয়ে  আনব বলে ।

পারি নি । নিরিবিলি রাতে ফিরে এসেছি একা ।

কয়লা পুড়ে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে নির্ঘাত ।

এখন আর  আগুন জ্বলে না কোনভাবেই ।

একটি প্রতিবাদি কবিতা

দুর্গাদাস মিদ্যা

জীবন যেখানে হুমকির পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিদিন

সেখানে বাঁচার জন্য অস্ত্র খুঁজে নিতে হবে।

মাভৈঃ মাভৈঃ মন্ত্রে জেগে উঠতে হবে পুর্নবার।

এইযে এতো অন্যায় অত্যাচার, মুখ বুজে কতকাল

সহ্য করা যায় আর?

কেন আজ আমরা এতো ম্রিয়মান, কোথায় সেই

বিদ্রোহের গান আমাদের গলা থেকে! কেন

বেঁকে গেল প্রগতির পথ, যে পথ একদিন

উজ্জ্বল করেছিল, উজ্জ্বল করেছিল জীবনের অগ্নিরথ ।

নিবে গেল কেন চিরকাঙ্ক্ষিত দীপ, তাই আজ

দিকে দিকে এত অন্ধকার। অত্যাচার। বিচার

আচার সব জলাঞ্জলি দেখি মলমলি সেই-

সব নরখাদকদের যারা কখনো জানে না

মানবিকতার মূল্যবোধ।

আর কি আসবে না সেই জোয়ার যে

জোয়ারে ভেসে গেছে একদিন শাসকের

অন্যায় অত্যাচার ?

০৮ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সৃজন

জয়ন্ত দত্ত

আজ নয় কাল--

মেঘ কাটবে রোদ উঠবে

ভেবে যাচ্ছি অথচ দিগন্তে

মেঘের তামস-চাদর !

তবু এরই মাঝে --

ভিজে-একসা নরম মাটিতে

শিকড় চলেছে গভীরে...

০৪ আগস্ট ২০১৮

   কাকলী দাস ঘোষ

নিখোঁজ

আমার পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা খুঁজে পাই নি ;  রাস্তা পার হয়ে নদী ছুঁলাম , নদী পার হয়ে সাগর ;  উপত্যকা পার হয়ে পাহাড় ছুঁলাম , পাহাড় পার হয়ে আকাশ ;  পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা তবুও খুঁজে পাই নি তো l গিয়েছিলাম খবরের কাগজের অফিসে , গিয়েছিলাম নামী গোয়েন্দার কাছে ;  না -কেউ খুঁজে দিতে পারে নি আমার পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা ;  আর খুঁজব না -ক্লান্তি আমার বলে দিয়েছে , আমার অক্লান্ত চাওয়াগুলো হারিয়ে ফেলেছে  আমার পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা l     

০২ আগস্ট ২০১৮

পূর্ণিমা ভট্টাচার্য (টুকুন)

তোর সাথে

তোর সাথে আজ ভিজবো আমি
ঘাসে ঢাকা ওই সবুজ মাঠে ,
তোর সাথে আমি ভিজবো শুধু
একলা রাতে নিঝুম পথে ৷
    রাখবে ঢেকে আবডালে তে
    বাদল ধারা জাপটে ধরে ,
    বারি বিন্দু পড়বে মুখে
    ভাসিয়ে নেবে প্লাবন তোরে ৷
ইচ্ছে করে ভিজবো আমি
শেওলা ধরা খোলা ছাদে ,
পিছলে গিয়ে পড়লে পরে
ধরবি যে তুই শক্ত হাতে ৷
   এই শ্রাবণের পাগল ধারায়
   শুধু তোকে ছুঁতে যাই ,
   রিম ঝিম ওই নৃত্য তালে
   ভিজতে ভীষণ চাই ৷৷

৩১ জুলাই ২০১৮

দীপ্তি চক্রবর্তী

ন্তর্লীন

রোদ্দুরের শিরদাঁড়া গড়িয়ে নামছে
ঘন কালো মেঘের দল
নিক্ষেপ যেখানে বহুদূর সেই পলাশ রংয়ের মাদকতা আলগোছে ছিনিয়ে নিয়েছে কামার্ত অসুরেরা
সমতলের চাতুর্য একপাশে রেখে
আমি পিতল ঝরা বিকেলের শোভায় লীন হতে চেয়েছিলাম
অক্টোপাশের পায়ে জড়িয়ে রয়েছি অযুতবর্ষ
গভীর সমুদ্র যেখানে শীতলতা ছড়ায়
আমার এই নশ্বর জীবনের অন্তে
সেখানেই পৌঁছে যাবো
তখন দুই হাতের অঞ্জলি ভরে নেবো
অন্তিমতার ঘ্রাণ

২৮ জুলাই ২০১৮

সাইফুল আলিম

মেঘ - বৃষ্টির অভিমান

ঘন কালো মুখটা তাহার
এই অম্বরে ঢাকে
এদিক ওদিক ছুটছে সেথায়
নীল গগনের ফাঁকে ।

পুরো গগনে কোথাও খুঁজে
পাইনি মিষ্টি হাসি
কাশ বনেতে ফুল ফোটে না
দুঃখ রাশি রাশি।

ভোর আকাশের সূর্য হাসি
গোমরে গোমরে কাঁদে
ভর দুপুরের আলোর প্রদীপ
পড়লো মেঘের ফাঁদে ।

মিহি জোৎস্নার আলোর ছোঁয়া
মেঘ রাখিলো বেঁধে
আর করো না অভিমান তুমি
বৃষ্টি  সুধাও কেঁদে।

রাত্র নীশির তারার খেলা
যায় না দেখা আজ
তোমার ভয়ে আর হাসে না
গোলাপ, গন্ধরাজ।

দিনের পর দিন চলে যায়
রাতের পরে রাত
গোমরা হয়ে থাকলে তুমি
আসবে না প্রভাত।

সাক্ষী গগন ভুগছে মানব
নান্দনিক এই কান্নায়
এই পৃথিবীর আবাস ভূমি
ভাসছে জলে বন্যায় ।

শ্রাবণ মাসের জমকালো মেঘ
একটু তুমি হাসো
মান অভিমান ভুলে গিয়ে
আমায় ভালোবাসো।

আর কতো দিন এমনই রবে
গোমরা করে মুখ
বৃষ্টি নামক অশ্রু ঝরুক
পাও যদি আজ সুখ।

মান অভিমান আর কতো কাল
রাখবে বুকে ধরে
মানব জাতির জীবন তরী
ভাঙ্গে কেমন করে।

মেঘ ☁ তুমি রাগ করো না
আমায় ভালবাসো
বৃষ্টির জলে স্নান করাবো
এই না কাছে আসো।

শারমিন সুলতানা রীনা

স্মৃতি

রাত্রির বিষন্ন অন্ধকারের গায়ে ইচ্ছে করে উড়িয়ে দেই কর্পূরের মতো সমস্ত স্মৃতি।

নিদ্রাহীন দীর্ঘতম রাএির রোলিং ধরে চোখের কার্নিস বেয়ে জল হয়ে দাড়ায় যে ছায়া
গাঢ় নিস্তব্ধতা ভাঙে তার মৌখর্যে।

গ্রীস্মের অগ্নিতে পোড়া শরীরে
বিন্দু বিন্দু ঘামের মৌ মৌ গন্ধে
দারুণ মৌতাতে মুহূর্তে শুষে নেই সবটুকু নির্যাস।
রাএি জাগা দুঃস্বপ্নের চাদরে মোড়ানো কোন স্মৃতি তবে ঝেড়ে ফেলতে চাই মাকড়সার জালের মতো?
হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি বিবেকের কাঠগড়ায় দাড়ানো আসামী..
জানি না এর উঃ মৌনতার কাছে হেরে যাই।

অতঃপর স্মিত হাসিতে মুখ খোলে ছায়া..

স্বেচ্ছায় বুকের কপাট খুলে যাকে আটকে রেখেছো তাকে ভুল বলে কেন সরে যেতে চাও
বিরোধী অভিমানে?
আগুন নিয়ে খেলা করার তীব্র বাসনা ছুড়ে দিতে চাও কোন আক্ষেপে?

চেতনার করাঘাতে নতজানু আসামী বেড়িয়ে আসি মৌনতার বৃত্ত থেকে।

একচ্ছত্র সাম্রাজ্যে যখন দৈত টান,সংবিধানের কড়াকড়ি,
কাঁটাতারের বেড়াজাল...
সাধ্যতিত প্রত্যাশা পুড়িয়ে দেয়
স্বাচ্ছন্দের বাড়ি ঘর,
বিবর্ণতায় ঢেকে যায়
সোনালী সকালের সব উপমা?

বেলা অবেলা বলে জানিনা কিছু,

আনার কলি নয়,নয় রাই বিনোদিনি
তোমাকে ভালোবেসে কেবলই হতে চেয়েছি বনলতা সেন।।।