২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

মোনালিসা রেহমান

জলজ 

একটু বৃষ্টি হলেই জল
 জমে  মাটির শরীরে
নরম মাটির দেয়াল ঘেঁষে
বেড়ে ওঠে  চারাগাছ

শ্যাওলা আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে
 দেওয়াল ফেটে চৌচির
দুয়েকটা ইট হাড় জিরজিরে....
ডানা ভাঙা পাখি।

ইমারত ভাঙার শব্দ ক্ষীণ
কারুকার্য খচিত রাজপ্রাসাদে
আজ নান্দনিকতা বেমানান
উত্তরআধুনিক প্রেক্ষাপটে
স্রষ্টা  নিজেই দিকবিশূন্য
প্রদোষকালে পাখিদের
ডানা ঝাপটানো কিসের ইঙ্গিত!


রাত্রিকালে এক পক্ষকাল
নির্ঘুম স্বপ্নদোষ........

উদার আকাশ

একরামূল হক শেখ

রবিবার ২৪ সেপ্টেম্বর এক ঘরোয়া অনুষ্ঠানে কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় 'উদার আকাশ' পত্রিকার 'ঈদ-শারদ উৎসব সংখ্যা-১৪২৪'  উদ্বোধন করেন । 'মানবজমিন' নামক কালজয়ী উপন্যাস, জনপ্রিয় 'ফটিক' চরিত্রের স্রষ্টা শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়  উদার আকশ পত্রিকার বিষয় বৈচিত্রের পাশাপাশি সম্প্রীতি ও সৌহার্দের এই প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানান। তিনি আরও বলেন, সমাজের বৌদ্ধিক বিকাশে সাহিত্য-সংস্কৃতির  বেশি বেশি চর্চা খুবই জরুরি।
উদার আকাশ পত্রিকার তরুণ সম্পাদক ফারুক আহমেদ জানান, চারদিকে ভেদাভেদ আর অশান্তির পরিবেশ সৃষ্টির চক্রান্ত চলছে। এই সময় সাহিত্য-সংস্কৃতিই  মানবিকতার জয়গান গাইতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে আমাদের। তিনি আরও বলেন, এর আগে উদার আকশ পত্রিকার বিভিন্ন সংখ্যা এবং উদার আকাশ প্রকাশনের গ্রন্থ  নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, মহাশ্বেতা দেবী, শঙ্খ ঘোষ, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়, মোস্তাক হোসেন, জয় গোস্বামী, দীপক ঘোষ, আবুল বাশার, সুনন্দ সান্যাল, নজরুল ইসলাম, প্রভৃতি বরেণ্য বাঙালি উদ্বোধন করেছেন। সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন আমার অন্যতম প্রিয় কথাসাহিত্যিক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়। দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে তিনি এপার বাংলা ও ওপার বাংলা এবং আমাদের রাজ্যের ভিন্ন ভিন্ন সম্প্রদায়ের মাঝে মিলন প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন। এই শুভক্ষনে তিনি ঘোষণা করেন, 'উদার আকাশ' পত্রিকা ও প্রকাশনের উদ্যোগে আগামী ১৪ নভেম্বর ২০১৭ কলকাতার আইসিসিআর হলে ভারত বাংলাদেশ মৈত্রী উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। উদার আআকাশ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে 'টাইমস বাংলা'-র তরুণ সম্পাদক মিজানুর রহমান রোহিত, 'অয়োময়' পত্রিকার সম্পাদক গোলাম রাশিদ, 'নতুন গতি' পত্রিকার চিত্র সাংবাদিক অসিত ঘোষ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

                    
গবেষণাধর্মী মননশীল প্রবন্ধ-নিবন্ধ প্রকাশই 'উদার আকাশ' পত্রিকার ট্র্যাডিশন। এ-সংখ্যাতেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: উনিশ শতকের গীতিকবিতায় রোমান্টিকতা (ড. তাপস বসু), নৈতিকতা যেন আজ নিভু নিভু দীপশিখা (ড. মীরাতুন নাহার), প্রদোষে প্রাকৃতজন: ইতিহাস এখানে সাহিত্যের ফুল হয়ে ফোটে (ড. সাইফুল্লা), রবীন্দ্রনাথের নারীভাবনা: প্রসঙ্গ কালান্তর প্রবন্ধের 'নারী' (অনন্যা রায় পাটোয়ারী), মঙ্গল কাব্যে নিম্নবর্গের অবস্থান (নুরুল আমিন বিশ্বাস), নজরুল মানসে রাধাকৃষ্ণ প্রেম প্রসঙ্গ ( রাতুল গোস্বামী), চৈতন্য উত্তর যুগে বাংলার বৈষ্ণব সমাজে ধর্ম ও পাটবাড়ি (অমিত মণ্ডল), আজও খুঁজি হিমুকে ( ড. আমিনা খাতুন), ধর্মমঙ্গল: আর্য ও অনার্য সংস্কৃতির সমীকরণ ( ড. বিপুল মণ্ডল ) প্রভৃতি। দুটো গ্রন্থ সমালোচনা: রোকেয়া মূল্যায়নে প্রাসঙ্গিক ভাবনা (ড. আফরোজা খাতুন) এবং ড. আম্বেদকর এবং রাহুল সাংকৃত্যায়নের দৃষ্টিতে ভারতবর্ষের সামাজিক ন্যায়বিচার ( সুপ্রিয়া বিশ্বাস)। আপনাদের মামুলি পাঠক অর্থাৎ আমার একটি নিবন্ধ ' উপদল বৃত্তান্ত : প্রসঙ্গ মুসলমান সমাজ' এতে স্থান পেয়েছে।
'উদার আকাশ' পত্রিকার এই বিশেষ সংখ্যাটিতে কবিতা, প্রবন্ধ, ছোটগল্প, বিশেষ রচনা, রাজনীতি, কাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে স্মৃতিচারণা, গ্রন্থ-সমালোচনা, স্মরণ, বিশ্বসাহিত্য, নাট্য-পরিচয়, চৈতন্যচর্চা, উর্দু উপন্যাস নিয়ে আলোচনাসহ বিভিন্ন বিষয় স্থান পেয়েছে।
সম্পাদক ফারুক আহমেদ জানিয়েছেন, এপার বাংলা ও ওপার বাংলার মানুষের মিলন প্রয়াসে বিগত ১৬ বছর নিয়মিত 'উদার আকাশ' পত্রিকাটি তিনি প্রকাশ করছেন। পাঠক সমাজকে সমৃদ্ধ করতে তিনি এই প্রয়াস নিয়েছেন।
এই সংখ্যায় দুই বাংলার পাঠক দরবারে দাগ কাটতে উদার আকাশ ঈদ-শারদ উৎসব সংখ্যায় কলম ধরেছেন মণিমালা বাগানী, দেবাশিস বিশ্বাস, পম্পা শীল, অনিকেত মহাপাত্র, হীরক বন্দ্যোপাধ্যায়, সুশান্ত কুমার ঘোষ, প্রমথনাথ সিংহ রায়, বিশ্বজিৎ বিশ্বাস, ওয়ালে মহাম্মদ, শুভাশিষ গায়েন, নূপুর কাজী, রফিকুল হাসান, অশোক কুমার দত্ত, কবিরুল ইসলাম কঙ্ক, রঘুনাথ চট্টোপাধ্যায়, জাকির হোসেন স্মৃতিজিৎ, সুব্রতা ঘোষ রায়, প্রবীর ঘোষ রায়, গোলাম রাশিদ, বাসুদেব দাস, লালমিয়া মোল্লা, শিবনাথ রায়, মোনালিসা রেহমান, নুরুল আমিন বিশ্বাস, ড. ইছামুদ্দিন সরকার, ড. সুমিতা চট্টোপাধ্যায়, রুবিয়া খাতুন, ফারুক আহমেদ ও মৌসুমী বিশ্বাস সহ আরও অনেকের লেখায় সমৃদ্ধ এবারের সংখ্যাটি। সম্প্রীতির বার্তা নিয়ে দারুণ প্রচ্ছদ উপহার দিয়েছেন সারফুদ্দিন আহমেদ।
উদার আকাশ পত্রিকাটি কলেজ স্ট্রিটে পাতিরাম, দে'জ, ধ্যানবিন্দু, মল্লিক ব্রাদার্স ও অভিযান পাবলিশার্সে পাওয়া যাবে।

সম্পাদক : ফারুক আহমেদ
মূল্য: ৫০/-
কথা:  7003821298

অর্ণব মণ্ডল

ফানুস উড়ানোর ইতিহাস খুঁজে

তুমি জীবন দেখো নি.....!
দেখেছো-
ফানুস ওড়ানো সমারোহ,
পূর্ণিমার নিষ্ক্রিয় দূষণ
ক্যামেরা বন্দি আতস বাজীর উচ্ছাস
অ্যালকোহলের বিসার্জন!

ছুঁয়েছ-
ব্যাস্ত কি-বোর্ড
কামনার শীৎকার,
গুপ্ত কোনো নিরোধক রক্তের দাগ,
কাটাছেঁড়া মুক্তি!

বুঝেছ কি-
কেন ঈশ্বর?
কেন মহাভিনিষ্ক্রমণ?
কেন ফানুস?

শিখেছ-
অবৈধ আবদার
নীল তিমির আঁচড়,
বিস্তৃত সুখে 'চাহিদা'
মূল্যহীন প্রতিকার!

যদি বুঝে জানতে চাও জীবন...
শেখো তবে সাহিত্যের দর্পণে
'নিমিত্ত আধুনিকতা'

ফানুস উড়ানোর ইতিহাস খুঁজে ।



গোপাল বাইন

সমুদ্রে হাঙর ছাড়া আর কিছু নেই 

হাঙর শুশুকের মত নয় , মানুষের সাথে কিংবা
জলচর অন্য প্রাণীদের তার কোন
নিবিড় হার্দিক সম্পর্ক আজও গড়ে ওঠেনি l
হাঙর ধারাল দাঁতে নৃঃসংশতা আর পেটের
আগুনখিদে নিয়ে জীবন যাপন করে

হাঙরের খিদে আর নৃঃসংশতার বলি যারা হয়
তারা জানে সমুদ্রে হাঙর ছাড়া আর কিছু নেই

সাজিদা ইসলাম

কলকাতার প্রতি 

কলকাতা,তুমি কি এই সেই কলকাতা
হয়তো যাকে আমি মনের গভীর থেকে দেখতে চেয়েছি,
জানতে চেয়েছি,উপলব্ধি করতে চেয়েছি,আসলে তুমি কি?
কেন তোমার এত মহিমা,এত গৌরব?

রাতের আঁধারে তুমি জোনাকির আলো,ঝি ঝি পোকার গান
দিনের আলোয় তুমি সোনালী রোদ্দুর,ব্যস্ত গানের সুর
প্রতিটি মুহূর্তে আলো ছড়াও ফুলকি হয়ে ।

তুমি হয়তো অনেক কিছু দিয়েছো  কিন্তু পারোনি দিতে
সেই মহিমা যেখানে বসন্তের সকালে শোনা যায় কোকিলের গান
শোনা যায় বাতাসের মর্মর শব্দ, গাছেদের অব্যক্ত কথা ...

ফিরোজ আলি (আবির )

রঙ

কার আলোয়
বুক মেলা তোর,
খেলিস, কার চোখে ফাঁকি...
আলোর আলো কত আওয়াজ দিলো
তবু,তোর অন্ধকারেই থাকি...।।

শীলা বিশ্বাস

প্রেরণা 

ঠিক  আঁকড়ে  ধরা নয়
ঠিক  সরিয়ে  ফেলাও নয়              
মধ্যিখানে রয়ে  যাওয়া সম্পর্ককে
তোমরা  কি নামে ডাকো?

 বন্ধু  অথবা প্রেমিক
 এই দুই সম্পর্কের মাঝে
 হাইফেন হয়ে  ঝুলে থাকা
বন্ধুর  মত প্রেমিক
অথবা প্রেমিকের  মত বন্ধুকে
আমি প্রেরণা  বলে ডাকি ।

মীর রাকেশ রৌশান

হৃদয়সুরের ডাক 

জীবনের জৈবরস ফেলে এসেছি নিরোর বেহালায়।
ছুঁয়ে দেখো তোমার মধ্যে সুর বেঁচে আছে কি না।
সুর অন্তহীন পথ।

সঞ্চিতা দাস

অনিয়ম

কয়েক মুঠো নম্র বায়ুমণ্ডল টলতে টলতে চামচে এসে গেছে বলেই
কোমল নদী ডানা মেলে না,
কাছে এসে
অনিয়ম করে ফের দূরে যাওয়ার খেলায় মেতে ওঠে
চিরপরিচিত হয়েও ছদ্মবেশে আর কতদিন জলপটি দিতে পারে কেউ ..
তবে থাকল না
সেই বারান্দার ছায়াচোখ।

ইশারার লালচে কাচে লবণহ্রদের বাঁকে
মাতোয়ারা সুর সভ্যতার গোল মুখে
আলতো আদর দেখে নাম রাখে-
 স্বপ্নের চশমা ।
এছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

স্ক্রিনে ভেসে ওঠে
কত অনুতপ্ত ভোর
না বলা অনেক কালের কথায়
 শুভেচ্ছার গন্ধ বসতেই একঝাঁক বৃষ্টি এলো! বৃষ্টি আসে!

শুভ্র ব্যানার্জী

প্রবাসী 

যে ঘর ছেড়েছে সেকি চেনে আসমান?
প্রবাসী নদীতে অবগাহনের স্মৃতি
নিকানো উঠোন, পুরনো মশারি, বাগান
ভুলে যায় গান,একান্ন সম্প্রীতি?

চেনা পথ লেখে  অচেনা গ্রহের সন্ধান
 স্বপ্ন-উড়ালে বিরহ ক্ষণস্থায়ী
ডেকে নেয় পথ  বাতাসে মিশলে  সন্ধা
সফল পাখীরা শততই পরিযায়ী!

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সৌরভ তালুকদার

যদি বৃষ্টি হতাম

যদি বৃষ্টি হতাম!
কি করতি বৃষ্টি হলে?
আমার দুঃখে জল হয়ে ঝড়তি?
আমার দু নয়ন বেয়ে?
না রে পাগলি...
যদি বৃষ্টি হতাম,
সাদা আকাশের ধবধবে মেঘ হতাম;
তবে তোকে হাত না লাগিয়েই ছুয়ে নিতাম,
তোর ওই গাল গুলোকে বসন্তের রঙে রাঙ্গিয়ে দিতাম,
তোর দুঃখ আমার গায়ে মেখে নিতাম।
পলাশের বনে যখন তুই প্রজাপতি কুড়োতে যেতি;
সেখানে আমি ঘাসের শিশির হতাম।
তোর পায়ের নুপুর হতাম।
ইস আর বলিস না,
ঘাসেরা রাগ করতো না বুঝি?
তারা রাগ করবে কেন?
তারাও যে প্রেমে কাতর,
তোর পাশে আমাকে দেখার জন্য কাতর,
তারা রাগ করবে না।
তাই বুঝি, তবে সেই প্রজাপতিরা
তারা যে তোর স্পশে হারিয়ে যেত
না রে পাগলি, সে ও যে ভালোবাসার প্রতিক,
আমি ভালোবাসা পাবার জন্যই তো বৃষ্টি হতাম।
তোর পায়ের নুপুর হতাম।
সাদা আকাশের মেঘ হতাম।



সৌরভ ব্যাটবল

যখন দূর্বা লাল

আলটপকা স্বভাব সাথে সৌজন্যের অভাব
তার বাড়ির যত দূর্বা সবই লাল,
রাতের তারা গোনে, স্বাধীন রংচটা রিংটোনে,
বুকসেল্ফে জমায় রঙিন সাতসকাল।

মন ভরায় অক্সিজেনে, যখন দুঃখগুলো কেনে,
রোজ রাস্তা থেকে কুড়োয় ভালোবাসা,
ভেজা বাতাস নিয়ে খেলে, সে যে রঙ চেনেনা জলের,
তার পকেট ভর্তি ঘুর্ণি সর্বনাশা।

রোজ দেওয়ালে পেরেকে, নতুন ফুল ফোটাতে শেখে,
তার হাতের রেখায় লাট্টু অমিতাভ,
এই জংধরা পৃথিবীর যখন জল ঝরানোর জিগির
তার বৃষ্টি ভিজে মরচে হবার খোয়াব।

তাই বৃষ্টিদিনের শেষে যখন প্রত্যেকে অভ্যেসে
ভেজা বর্ষাতিতে গুছিয়ে নিচ্ছে কাল,
সব পাগলাটে ইচ্ছেরা, খোঁজে রাস্তা বাড়ি ফেরার,
শুধু দূর্বাগুলো একইরকম লাল।

সায়ন্তনী ধর

একটা অন্য মেয়ের গল্প

সত্যবাদী হতে চেয়েছিলাম আমি,নারীবাদী নয়,
সত্যিকথা বলতে চেয়েছিলাম, সব সময়ের জন্য
আমি যে স্বাদ পেয়েছিলাম সত্যের,
তোমরা যারা মিথ্যে কথা বল,
সাজিয়ে ফেল নিজের দুনিয়াটা মিথ্যে দিয়ে
তারা জানো, মিথ্যে বলাটা ঠিক কতটা কষ্টের,কতটা রং মাখিয়ে বললে মিথ্যেটা সত্যির মত লাগে,
আর তাইই আমি হয়ে চেয়েছিলাম সত্যবাদী।
এই সত্যি কথা বলার অভ্যেসটা মায়ের সাথেই থাকতে তৈরি হয়েছিল আমার,
মা বলত আমি শুনতাম,আর তৈরি করছিলাম নিজের সেই ক্ষমতা,
ঘরে-বাইরে আমাকে নিয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে মা –কে,
হয়ত আমার একটা দিদি আছে বলেই আমাকে নিয়ে এত সংশয় ।।
খুব ঘটা করে লক্ষ্মী পুজো হত,আমাদের বাড়ীতে
কিন্তু মা ছাড়া আর সকলের উপরেই বোধ হয় এই লক্ষ্মী-ই ভারী হয়ে গেল,
তাই আমি মেয়ে জেনে বাবা মা-কে সত্যিটা সাহস করে বলতে পারল না,
আমি মরে যাওয়ার আগে মায়ের পেটেই মেরে দিল আমায়
বলল- আমি নাকি আগেই মরে গেছি, সত্যি বললে যে আরো একটা লক্ষ্মী এসে যেত
কিন্তু আমি বেঁচেছিলাম বিশ্বাস কর,আমি নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম মায়ের সাথেই
ওই ডাক্তারটা কুচি কুচি করে ফেলল আমায়,
কিন্তু সেদিন মা জানত সত্যিটা,আমি মরিনি ,
আমি মেয়েছিলাম তাই-ই আমাকে মরার আগেই মরতে হল
আজও আমি ওদের দেখি, সবাই ভালই আছে নিজের খুশীতে মিথ্যের চাদরে নিজেদের ঢেকে
শুধু মা ভাল নেই,
কিন্তু মা, আমি ভুলিনি তোমার শিক্ষা -
“যে সত্যির নিজেই নিজের রঙে রঙিন, ওর আলাদা করে কোন রঙ লাগে না
সত্যির স্বাদ শুধু তারাই জানে যারা এটাকে উপলব্ধি করে”
কিন্তু মা এই সত্যির জন্যই যে শেষ অবধি আমার আর শেষ রক্ষা হল না।