২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সঞ্চিতা দাস

অনিয়ম

কয়েক মুঠো নম্র বায়ুমণ্ডল টলতে টলতে চামচে এসে গেছে বলেই
কোমল নদী ডানা মেলে না,
কাছে এসে
অনিয়ম করে ফের দূরে যাওয়ার খেলায় মেতে ওঠে
চিরপরিচিত হয়েও ছদ্মবেশে আর কতদিন জলপটি দিতে পারে কেউ ..
তবে থাকল না
সেই বারান্দার ছায়াচোখ।

ইশারার লালচে কাচে লবণহ্রদের বাঁকে
মাতোয়ারা সুর সভ্যতার গোল মুখে
আলতো আদর দেখে নাম রাখে-
 স্বপ্নের চশমা ।
এছাড়া আর কিছু অবশিষ্ট নেই।

স্ক্রিনে ভেসে ওঠে
কত অনুতপ্ত ভোর
না বলা অনেক কালের কথায়
 শুভেচ্ছার গন্ধ বসতেই একঝাঁক বৃষ্টি এলো! বৃষ্টি আসে!

শুভ্র ব্যানার্জী

প্রবাসী 

যে ঘর ছেড়েছে সেকি চেনে আসমান?
প্রবাসী নদীতে অবগাহনের স্মৃতি
নিকানো উঠোন, পুরনো মশারি, বাগান
ভুলে যায় গান,একান্ন সম্প্রীতি?

চেনা পথ লেখে  অচেনা গ্রহের সন্ধান
 স্বপ্ন-উড়ালে বিরহ ক্ষণস্থায়ী
ডেকে নেয় পথ  বাতাসে মিশলে  সন্ধা
সফল পাখীরা শততই পরিযায়ী!

১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৭

সৌরভ তালুকদার

যদি বৃষ্টি হতাম

যদি বৃষ্টি হতাম!
কি করতি বৃষ্টি হলে?
আমার দুঃখে জল হয়ে ঝড়তি?
আমার দু নয়ন বেয়ে?
না রে পাগলি...
যদি বৃষ্টি হতাম,
সাদা আকাশের ধবধবে মেঘ হতাম;
তবে তোকে হাত না লাগিয়েই ছুয়ে নিতাম,
তোর ওই গাল গুলোকে বসন্তের রঙে রাঙ্গিয়ে দিতাম,
তোর দুঃখ আমার গায়ে মেখে নিতাম।
পলাশের বনে যখন তুই প্রজাপতি কুড়োতে যেতি;
সেখানে আমি ঘাসের শিশির হতাম।
তোর পায়ের নুপুর হতাম।
ইস আর বলিস না,
ঘাসেরা রাগ করতো না বুঝি?
তারা রাগ করবে কেন?
তারাও যে প্রেমে কাতর,
তোর পাশে আমাকে দেখার জন্য কাতর,
তারা রাগ করবে না।
তাই বুঝি, তবে সেই প্রজাপতিরা
তারা যে তোর স্পশে হারিয়ে যেত
না রে পাগলি, সে ও যে ভালোবাসার প্রতিক,
আমি ভালোবাসা পাবার জন্যই তো বৃষ্টি হতাম।
তোর পায়ের নুপুর হতাম।
সাদা আকাশের মেঘ হতাম।



সৌরভ ব্যাটবল

যখন দূর্বা লাল

আলটপকা স্বভাব সাথে সৌজন্যের অভাব
তার বাড়ির যত দূর্বা সবই লাল,
রাতের তারা গোনে, স্বাধীন রংচটা রিংটোনে,
বুকসেল্ফে জমায় রঙিন সাতসকাল।

মন ভরায় অক্সিজেনে, যখন দুঃখগুলো কেনে,
রোজ রাস্তা থেকে কুড়োয় ভালোবাসা,
ভেজা বাতাস নিয়ে খেলে, সে যে রঙ চেনেনা জলের,
তার পকেট ভর্তি ঘুর্ণি সর্বনাশা।

রোজ দেওয়ালে পেরেকে, নতুন ফুল ফোটাতে শেখে,
তার হাতের রেখায় লাট্টু অমিতাভ,
এই জংধরা পৃথিবীর যখন জল ঝরানোর জিগির
তার বৃষ্টি ভিজে মরচে হবার খোয়াব।

তাই বৃষ্টিদিনের শেষে যখন প্রত্যেকে অভ্যেসে
ভেজা বর্ষাতিতে গুছিয়ে নিচ্ছে কাল,
সব পাগলাটে ইচ্ছেরা, খোঁজে রাস্তা বাড়ি ফেরার,
শুধু দূর্বাগুলো একইরকম লাল।

সায়ন্তনী ধর

একটা অন্য মেয়ের গল্প

সত্যবাদী হতে চেয়েছিলাম আমি,নারীবাদী নয়,
সত্যিকথা বলতে চেয়েছিলাম, সব সময়ের জন্য
আমি যে স্বাদ পেয়েছিলাম সত্যের,
তোমরা যারা মিথ্যে কথা বল,
সাজিয়ে ফেল নিজের দুনিয়াটা মিথ্যে দিয়ে
তারা জানো, মিথ্যে বলাটা ঠিক কতটা কষ্টের,কতটা রং মাখিয়ে বললে মিথ্যেটা সত্যির মত লাগে,
আর তাইই আমি হয়ে চেয়েছিলাম সত্যবাদী।
এই সত্যি কথা বলার অভ্যেসটা মায়ের সাথেই থাকতে তৈরি হয়েছিল আমার,
মা বলত আমি শুনতাম,আর তৈরি করছিলাম নিজের সেই ক্ষমতা,
ঘরে-বাইরে আমাকে নিয়ে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হয়েছে মা –কে,
হয়ত আমার একটা দিদি আছে বলেই আমাকে নিয়ে এত সংশয় ।।
খুব ঘটা করে লক্ষ্মী পুজো হত,আমাদের বাড়ীতে
কিন্তু মা ছাড়া আর সকলের উপরেই বোধ হয় এই লক্ষ্মী-ই ভারী হয়ে গেল,
তাই আমি মেয়ে জেনে বাবা মা-কে সত্যিটা সাহস করে বলতে পারল না,
আমি মরে যাওয়ার আগে মায়ের পেটেই মেরে দিল আমায়
বলল- আমি নাকি আগেই মরে গেছি, সত্যি বললে যে আরো একটা লক্ষ্মী এসে যেত
কিন্তু আমি বেঁচেছিলাম বিশ্বাস কর,আমি নিঃশ্বাস নিচ্ছিলাম মায়ের সাথেই
ওই ডাক্তারটা কুচি কুচি করে ফেলল আমায়,
কিন্তু সেদিন মা জানত সত্যিটা,আমি মরিনি ,
আমি মেয়েছিলাম তাই-ই আমাকে মরার আগেই মরতে হল
আজও আমি ওদের দেখি, সবাই ভালই আছে নিজের খুশীতে মিথ্যের চাদরে নিজেদের ঢেকে
শুধু মা ভাল নেই,
কিন্তু মা, আমি ভুলিনি তোমার শিক্ষা -
“যে সত্যির নিজেই নিজের রঙে রঙিন, ওর আলাদা করে কোন রঙ লাগে না
সত্যির স্বাদ শুধু তারাই জানে যারা এটাকে উপলব্ধি করে”
কিন্তু মা এই সত্যির জন্যই যে শেষ অবধি আমার আর শেষ রক্ষা হল না।

১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭

পবন বর্মন

প্রদীপ

            প্রদীপ তোমার বিয়ে দেবে
   সিঁড়ি পেতে দেবে ভালোবাসা অবধি


                ছুড়ে ফেলা আলো
           কুড়িয়েছে কালো মিয়েটি

          মিয়েটি আঙুল হয়ে উঠছে
            সেই আঙুলে ধরতে চায়
                     তোমার স্বপ্ন
                   তোমার আলো

                         মেয়েটি
                    ভিতরের শব্দে
        গেঁথে ফেলা বন্দুক তুলে রাখে
         বালিশচাপা রাখে তার বয়স

                           তুমি
   গলে যাওয়া রাস্তায় একটু হেল্প করো



জৈদুল সেখ

ভাষাহীন ভালবাসা

শিশিরের সৌন্দর্যে সকলে স্নান করতে পারে না,
দুহাত ভরে মাখতে পারেনা তার স্নিগ্ধতা
সকলের মধ্যেই ভালবাসা থাকে
কিন্তু তার ভাষা হৃদয় থেকে অনূভব করতে কেটে যায় দীর্ঘ সময়!

তাই তো চাতকের মতো এখনো ভাবি
ঝর্ণার স্নিগ্ধতা পেতে যে গোলাপ পাঠিয়েছি
তার অপেক্ষা এখনো  নিমফলের মতো শ্লেষপূর্ণ
হয়তো নিবেদন ছিল ঠিক কিন্তু ভাষা ছিল সুবাসহীন।

আসলে ভালোবাসার চেয়ে ভালো ভাষার বড়ই অভাব।

দীপক আঢ্য

ক্ষত 

গভীর ক্ষতকে এড়িয়ে চলি সযত্নে
বেঁধে রাখি, আরও আঘাতের ভয়ে
পাশ কাটাই। ধীরে সন্তর্পণে

ব্যস্ততার সময় কেমন বৃদ্ধ হয়ে ওঠে
মানসিক পঙ্গুত্ব গ্রাস করে স্থিরতা
কেবল বিস্বাদের সময় চলে অনবরত

বিকেল আসে,
ক্ষতরা টনটন করে - ব্যথা মাপি মনের গভীরে
ক্রমশ আমিই 'আঘাত' হয়ে উঠি...

জাস্টিফিকেশনের মাত্রা পার হয় দিগন্তের সীমা
ক্ষতর বাঁধন  খুলি
গলাগলি করে আছে যন্ত্রণা আর ভালোবাসা!

লাকী খান

আহত 

তোমার ভালবাসা না থাকলে
অস্তিত্ব-ই বা কী ?
যেন মরীচিকার দিকে এগিয়ে চলা l
চোরাবালি রাস্তাজুড়ে -
দ্যাখো তৃষ্ণা ভরা ভেজা শরীর
বালির সাথে লেপ্টে আছি আমি l
তোমার প্রেম বাতাসে মিশে গেছে
আবেগের দহনে বরফ হয়ে জমে গেছি l
বর্ষায় তুমি কদম ফুলের মত লাল
আবেগের দরজা ভেঙে দাও l
আমার ভীষণ মাথা যন্ত্রণা
কেন আমি বারবার প্রেমে পড়ি !
তারা যে আমাকে ঠকায়,
তোমার চোখের নাচন আমার মণ চুরি করেছে
একটা চোরের মতন l
খোলা আকাশের নিচে দাঁড়াও
বৃষ্টি হয়ে ঝরবো তোমার উপর l

সোহেল রানা (ফকির)

সংবাদ 

সবুজ গিলে নীল পৃথিবী
সান্ত্বনা দেয় রাতের তারা ।
আকাশ ঘিরে মেঘ সারথি
অন্ধরাতে জীবন মরা ।

বৃষ্টি হলেই জাগে সত্ত্বা
সূর্য ডাকে সবুজ ভোর ।
গিলতে থাকে ইচ্ছে হত্যা
তোমার আমার গায়ের জোর ।

জ্যোস্না হাসির চেতন উল্লাস
মায়াবী রাত নিদ প্রহরী ।
প্রবাহমান মৃদু বাতাস
প্রেমের শোকের কোজাগরী ।

উপড়ে নিবে ধরণীর কোল
ছুঁড়ে দিবে ক্রুর আর্তনাদ ।
সৃষ্টিকর্তার শ্বাশত বোল
খেয়াল খুশির হলুদ সংবাদ ।

মুন চক্রবর্তী

বারবার ফিরাও যদি

নাভি গর্ভ হতে ফিরাও যদি অস্থিত্বের সংকটে
একটু একটু করে প্রতিজ্ঞার লেলিহান তুলি ।
সিঁদুরের আঁড়ালে বৈদিক মন্ত্রের ছাই উড়িয়ে শ্মশানে মাতৃ আরাধনা ।
নাভি গর্ভ হতে ফিরে তাকাই  সূর্য সম তেজে
অস্থিত্ব রহিত মাতৃ রূপেন সংস্থিতা ।
বড় বেশি প্রলোভনের প্রয়োলব্ধতা খুঁজে
নিজেদের চরম বিপর্যয়কে ধর্মের নামাবলতী জড়িয়ে

উচ্চারিত মন্ত্রের একাংশে আত্ম প্রবঞ্চনা বহুরূপী সমাজ ব্যবস্থায়
বীরঙ্গনা নাভি গর্ভ হতে প্রখর দীপ্তি গন্ডুষে পান করে ।
প্রকৃতির অপূর্ব বেলাভূমিতে আলিঙ্গনে ফিরে জননী রূপে
ভূমিষ্ট জননী থেকে ।

জয়ন্ত দত্ত

চোর পুলিশখেলা

কাতারে কাতারে লোক চলেছে।চোর দেখতে।
চোর ধরা পড়েছে পাড়ায়।আমিও দৌড় লাগাই।কৌতুহল নিয়ে পৌঁছে যাই ভিড়ের কাছাকাছি...

সমবেত চড়, ঘুসি,সিগারেট ছ্যাকা--থ্যতলানো নাক মুখ ,রক্ত গড়িয়ে রাস্তায়।চারিদিকে বিচরণশীল উৎসুক ভারিক্কী মুখ!
ভাবতে থাকি ---ঐ থ্যতলানো মুখের চোয়ানো
রক্তের অবিকল ---ফাইল চুরি কথা,আমানত চুরি ব্যথা ---আরও আরও চুরি---পুকুর চুরি তক!!

কাকলী দাস ঘোষ

আকুতি 

ধর কোনদিন যদি
ভোর সীমানায় পাখীর গানে গানে ,
হারিয়ে খুঁজি তোমার চোখে পদ্মপুকুর শিশির ,
তুমি কী আমায় ফিরিয়ে দেবে বন্ধু ?
মিনতি শোন দিও না ফিরিয়ে
সাগর কুমারী আমি ,
আমার চোখেই ফিরবে তোমার
ভালবাসার নীর l