২১ মার্চ ২০২২

Poet Suparna Chatterjee 's poem




Journey of Life 
Suparna Chatterjee


From birth to death 
Which are the valuable wealth?
What should be the aim of life
That is not decided before the time.
But everyone has some secret dream
Which cannot be seen.
The most important is positive thinking.
Which can only inspire the human being.
To fulfill his or her dream.
Without expectation of earning lots of money,
They are successful forever by
Leading life with honesty.
Facing life with smile,
Helping needy with Kind heart.
To reach own goal
By doing hard work
Sharing joy with others.
Love their life with full of energy.
At the end of our life  
We should get ready 
To say “Good Bye”.


কবি সানোয়ার হোসেন এর কবিতা 




বন্ধ ঘরেও ক'দম হাঁটি
সানোয়ার হোসেন

কেনো চাও ধরতে আমায়,
 হিংসা বিদ্বেষে বন্ধ করে মনের দ্বার।
আমি তো শূন্যে ভাসমান,
আমিতে আমি যে শুধুই রূপকার।

বন্ধু,, ধরি ধরি করি, 
ধরবে কবে এই শূন্য হাওয়া।
ধরায় মলিন স্বপ্নের মাঝে 
আমি উড়ি ফেলিয়া ছায়া।

 ক্ষণে থাকি তোমারই মাঝে,
ক্ষণে তরু  ক্ষণে হাওয়ায়।
আমি ক্ষণে নরকে ছুটে যায়,
স্বর্গেও যে  চলি ধির পায়।

বন্ধু, এই ক্ষণিকের চাষারে 
কি করে ধরবে শুনি ?
 
ছয় ঋতুর রঙিন আকাশে আমি,
ফুল ভ্রোমরে মত গানে বিভোর।
বন্ধ ঘরেও যে ক'দম  হাঁটি,
নিঃশ্বাসের হাওয়ায় বসতি মোর।

ঐ যে উঠেছে চাঁদ, সে তো আমি
আমিই জোনাকির ছায়া।
গ্রীষ্মের শিমুল তুলার মাঝেও আমি
আমিই চৈত্রের  হাওয়া।

আমায় কি ধরতে পারবে বন্ধু ?
যদি ধরো, তবে খুলো মনের দ্বার।
তুমি যদি উদাসী হও বন্ধু 
তবেই পাবে, এই আমিতে সকল আমার।

শামীমা আহমেদ ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৭৩




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৭৩)
শামীমা আহমেদ 



শায়লার কলটি রিশতিনা রিসিভ না করেই মোবাইলটা নামিয়ে রাখলো।রিশতিনা বুঝে নিলো মায়া নামক এই মেয়েটি তাহলে এখন শিহাবের হৃদয় জুড়ে।সারাক্ষণ তাই তার ভাবনায়ই শিহাব ডুবে থাকছে।এই মেয়েটির জন্যই এতদিন পর তাকে কাছে পেয়েও কোন উচ্ছ্বাস প্রকাশ নেই, তার জন্যই এত টান!মনকে ঘুরিয়ে নিয়ে  পরক্ষণেই রিশতিনা ভাবলো,থাকতেই পারে, অমন মায়াভরা মুখটায় যে কোন পুরুষই আটকে যাবে।রিশতিনা ভেতরে কষ্ট অনুভব করলেও নিজেই যেন নিজের মাঝে সান্ত্বনা খুঁজে নিলো। রিশতিনা বুঝে নিলো,চাকরি পাওয়া যেমন একটা সোনার হরিণ পাওয়া,আজকাল মন পাওয়াও তেমন আর একবার যদি স্বেচ্ছায় তুমি অবস্থান ছেড়ে যাও  এক পলকেই তা অন্য কারো জন্য বরাদ্দ হয়ে যায়।আজকাল মনের নাগাল পাওয়া খুবই দুরূহ ব্যাপার হয়ে গেছে। সব কিছু  বুঝে  নিলো সে।  ধীর পায়ে ডাইনিংয়ের দিকে এগিয়ে গেলো। 
শিহাব ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসেই তার মোবাইলটা চেক করে নিলো।সম্ভবত সে ওয়াশরুম থেকে রিং শুনেছে। শিহাব দেখলো শায়লার কল। সে ঘড়িতে সময় দেখে নিলো।রাত সাড়ে এগারোটা বাজছে।আজ সারাদিন শায়লার সাথে কোন কথা হয়নি। শায়লা নিশ্চয়ই খুব চিন্তিত হয়ে আছে।খাবার খেয়ে কল ব্যাক করতে হবে। 
খেতে এসো,রিশতিনার ডাকে শিহাব নিজের মাঝে ফিরে এলো।রিশতিনার কথা সে একেবারেই ভুলে গিয়েছিল। শিহাব মুখ তুলে তাকাতেই রিশতিনার চোখে চোখ পড়লো। শিহাব নিজেকে একেবারেই আড়াল না করে চোখে মুখের দৃঢ় অভিব্যক্তিতে শায়লার অবস্থানটা বুঝিয়ে দিলো। ডাইনিং টেবিলে শিহাব বসে রিশতিনাকেও প্লেট এগিয়ে দিলো। খুব নীরবেই দুজনের খাওয়া পর্ব চলছিল। শিহাব এর পরের পর্বটির ব্যাপারে ভেবে নিচ্ছিল এবং নিজেই একটা সিদ্ধান্তে এলো। দুজনে খাওয়া শেষ করে রিশতিনা শিহাবের নির্দেশনা বা শিহাবের আহবানের অপেক্ষায় ডাইনিংয়ের চেয়ারেই বসে রইল।
শিহাব বেশ অনেকটা সময় চুপচাপ থেকে 
সে নিজেই নীরবতা ভাঙল। শিহাব রিশতিনার দিকে না তাকিয়েই বললো, রিশতিনা তুমি আমাকে না জানিয়ে এখানে চলে এসেছো। জানিনা আমার বাসার ঠিকানা কিভাবে পেয়েছো।তোমার এভাবে চলে আসাতে আমার পারিপাশ্বিকে যারা থাকছে তারা আমার সম্পর্কে ভুল ধারণা পেলো। যদিও তুমি নিজের পূর্ণ  পরিচয় দিয়ে আমাদের জীবনের ঘটে যাওয়া সবকিছু জানিয়ে আমাকে দোষমুক্ত রেখে নিজের ভুলটা স্বীকার করেই  আমার ফ্ল্যাটে প্রবেশ নিয়েছো, তবে রিশতিনা তুমি হয়তো বুঝতে পারোনি সব পরিচয়ের মূল্য সবসময়
একই মূল্যমানে নাও থাকতে পারে।অনেক পরিচয়ের রঙ সময়ে ফিকে হয়ে আসতে পারে,চাইকি একসময় তা বিবর্ণও হয়ে যায়।
তোমাকে আমি  আমাদের বাসায় সেদিন তা বুঝিয়েছি, বুঝাতে চেষ্টা করেছি। 
রিশতিনা শিহাবের কথাগুলো শুনছিলো। রিশতিনার একটা বিশ্বাস ছিল এতটা কাছে এলে শিহাব তাকে ফেরাবে না।কিন্তু সে বুঝে নিলো শিহাবের মনে তার জন্য আর এতটুকু ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই। রিশতিনার এখানে আর এক মূহুর্তো থাকতে ইচ্ছা করছে না।মন চাইছে বেরিয়ে যেতে।কিন্তু রোমেল ভাইয়ার কথা মনে হতেই সে নিজেকে সংযত করল্য।কিছুতেই মাথা গরম করা যাবে না। দুজনার মাঝে এতদিনের দূরত্ব তা এক রাতেই ঘুচে যাবে না।
শিহাব রিশতিনাকে বললো, তুমি আমার বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ো।আমি ভীষণ ক্লান্ত আমি ড্রইং রুমের সোফায় ঘুমিয়ে পড়ছি।
অবশ্য শায়লাকে কল দিতে হবে।আমার কথা বলতে হবে।সারাদিন কথা হয়নি। ও আমার জন্য চিন্তায় আছে। আশা করি এ নিয়ে কোন ধরনের সিন ক্রিয়েট করবে না,এ কথা বলেই শিহাব তার সিগারেটের প্যাকেট,  লাইটার আর একটা বালিশ নিয়ে ড্রইংরুমের দিকে এগিয়ে গেলো।যাবার সময় বললো শুধু,
বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। 
রিশতিনা অসহায়ের মত বিছানার কোনায় বসে রইল।এতটা অপমানই কি তার জন্য পাওনা ছিল? রিশতিনা নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো। এখন মনে হচ্ছে শিহাবের কথাই ঠিক, তার এখানে এভাবে আসা উচিত হয়নি। আগে রোমেল ভাইয়াকে দিয়ে কথা বলিয়ে নেয়া উচিত ছিল। শিহাবের মনে আজ অন্য নারীর বাস।বলতে গেলে সে রিশতিনাকে একেবারেই ভুলে গেছে।ভুলে গেছে? নাকি অভিমানে এমনটি করছে।রিশতিনার মনে এখনো যেন একটা ক্ষীণ আশা উঁকি দিচ্ছে। হঠাৎ করেই তার মনে হলো,আর একটিবার অন্য কোন উপায়ে সে শিহাবের মান ভাঙতে চেষ্টা করবে। আর য়া কিভাবে করা যায়,আজ রাতের মাঝেই তা খুঁজে বের করতে হবে। রিশতিনা ঘরের বাতি নিভিয়ে শিহাবের বিছানার খুব অল্প জায়গা নিয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলো।

শিহাব ড্রইং রুমের  সোফায় বসে একটা সিগারেট ধরিয়ে নিলো। এখন এক কাপ চা খাওয়ার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল।কিন্তু রিশতিনার সাথে সে আর কথা আগাতে চাইলো না। শায়লা অপেক্ষায় আছে, কল দিতে হবে। 
শায়লা যেন শিহাবের কলের অপেক্ষায় ছিলো।একটা রিং হতেই সে রিসিভ করলো।
ও-প্রান্তে খুবই উৎকন্ঠা নিয়ে শায়লা শিহাব সুস্থ আছে কিনা জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে গেলো। সারাদিন শিহাব শায়লার সাথে একেবারের যোগাযোগে ছিল না। শিহাব শায়লাকে আস্বস্ত করলো,সে ভালো আছে।আজ গাজীপুরে গিয়েছিল তাই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শায়লার মাঝেও নোমান সাহেবের চলে আসার দিন এগিয়ে আসায় উৎকন্ঠা বাড়ছে।সে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।শিহাব তাকে খুব সহজ সমাধান করে দিলো,তুমি আমার কাছে চলে আসবে। ব্যস! এটাই আমার সমাধান। তুমি যাকে ভালোবাস তার সাথেই থাকবে। আর যাকে ভালোবাসোনা,তাকে ফিরিয়ে দিবে। যতই আকুতি অনুরোধ বা অধিকার নিয়েই এসে দাঁড়াক না কেন। শিহাবের কথায় শায়লা ভরসা পেলেও তার নিজের পরিবারের জন্য বিষয়টি কেমন হবে। মা কি এত বড় একটা ধাক্কা সইতে পারবে ? যদি কিছু একটা হয়ে যায় ? রাহাত কি মানুষের কাছে ছোট হয়ে যাবে না ? নায়লার শ্বশুরবাড়ি নিশ্চয়ই নায়লাকে কথা শোনাবে। শিহাব পুরুষ মানুষ। তাদের কোনদিন বদনামের ভয় নেই।যত কলংক শুধু নারীর জন্যই।শায়লা শিহাবকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারে না, কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর নিজের মা ভাই বোনকে নিয়ে যে পরিবারটি তিল তিল করে গড়ে তুলেছে আজ তারই কারণে লজ্জিত হবে।
শায়লা দুইদিকের নানান ভাবনায় অস্থির হয়ে উঠলো। নোমান সাহেবের আসতে আর মাত্র তিনদিন বাকী।যা হউক,সুস্থির ভাবে ভেবে শায়লাকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।আজ আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। সে বললো,
শিহাব তুমি ক্লান্ত ঘুমিয়ে পড়ো।আমিও ঘুমাবো।যদিও সে আজ কদিন হলো ঘুমাতে পারছে না।
শিহাবের ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছিল। সেও শায়লার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সোফায়  ঘুমিয়ে পড়লো।
পাশের রুম থেকে রিশতিনা, শিহাব আর শায়লার কথোপকথন সবটাই বুঝতে পারলো। ওদের মাঝে বাধা হয়ে সে থাকতে চায় না।তবুও ভেবে নিলো, সে কাল শেষবারের মত শিহাবকে তার দিকে ফেরাতে চেষ্টা করবে।নয়তো ইংল্যান্ডের টিকেট  করাই আছে। যদিও তার মা চলে গেছে,যদিও শিহাবের জন্য মায়ের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে এসেছিল, কিন্তু শিহাব ফিরিয়ে দিলে মা ছাড়া  আর কোন নিরাপদ আশ্রয় কি আর আছে এই পৃথিবীতে? 


চলবে...

কবি বকুল  আশরাফ এর কবিতা




টোকা-টংকার
বকুল  আশরাফ

কোথায় দাঁড়িয়ে আছ, কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলে,
কি ভাবছো এতো পথ হেঁটে; এই শেষ বিকেলে!
হার্টের দুটো বাল্ভ নিয়ে যাবে কোন ডাক্তার-বাড়ি
নাকি আধুনিক যৌনতায় ভালোবাসায় দেবে আড়ি !

কেনো ভুলে থাকো রাজসভার কবিতা
কেনো ভুলে গেছ মঙ্গল-চর্যা-গীতিকা
দ্যাখো ঐ ভেসে আছে ইথারে ধ্বনি
এতো ছোঁয়াছুঁয়ি শেষে যাবে এক্ষুণি ?

সল্তা জ্বালিয়ে পুঁথিপাঠ কেন গেছ ভুলে
খাদ্যগাছ মরে যায় জঞ্জাল জন্মালে।
প্রযুক্তি দিয়েছে হাসি তথ্য চারপাশি
ইন্টারনেট ভাবিয়েছে কি ! বলেছে, ‘আসি’ !

ভালোবাসার ¯স্রোতে ডুবে যায় ঘরবাড়ি 
সে ও হেরে যায় যে ছিলো প্রবল-সংসারি।
অপেক্ষার মোবাইল ফোনে প্রতিরোধের বাঙ্কার
ভেঙ্গে ফেলতে জানি তুলে টোকা-টংকার।

২০ মার্চ ২০২২

Ljuvv

LOVE

Ookj

LOVE

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১৩৮ পর্ব




উপন্যাস


টানাপোড়েন ১৩৮
ভয়েস বিভ্রাট (৩)

মমতা রায়চৌধুরী

সরজু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখছে সারা উঠোনময় নানা ধরনের পাতায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মনটা একটু নাড়া দিয়ে উঠলো। আপন খেয়ালে কিছু পাতা তুলে নিয়ে তার গন্ধ নিতে চাইলো আর পাতার ভেতরে যেন কেমন একটা পুরনোকে ধরে থাকার আকুতি ,একটা বেদনা কাজ করতে লাগলো। গ্রামের বাড়ি প্রচুর গাছপালা আছে ।তাই উঠোনটা পাতায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পুরনো পাতা ঝরে যায় মনের ভেতর একটা বিষন্নতা কাজ করতে থাকে কিন্তু পরক্ষণেই মনটা উৎফুল্ল হয়ে ওঠে ,ঝরে যাওয়ার মধ্যে দিয়েই নতুনের আগমন ।বসন্ত এসে গেছে আবার নতুন করে নিজেকে সাজিয়ে 
তুলবে ।প্রকৃতি দিয়ে যায় সেই বার্তা। এ সব ভাবছে বসে বসে ,কতটা সময় পেরিয়ে গেছে হুশ নেই ।এমন সময় ফোন বেজে ওঠে। প্রথম ফোন রিং হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরক্ষণে আবার ফোন বেজে ওঠে। ফোনের কলতানে মনটাকে নিয়ে আসে বাস্তবে ।তাড়াতাড়ি উঠে ফোনটা ধরতে
 যায় । বাপ রে সাত সকালে কে ফোন করলো?
ফোনটা তুলে বলে' হ্যালো'।
' বৌদি ,মাধু বলছি।'
'হ্যাঁ বলো  কেমন আছো সবাই?'
'এমনি ঠিকঠাকই আছি। তোমরা কেমন আছো?'
'আমরা সবাই ভালই আছি ।এখন তো শুধু একটাই টেনশন বিয়ে নিয়ে।'
মাধু মনে মনে ভাবল' তাহলে কি কল্যাণের ব্যাপারটা সব জানে বৌদি?'
'কেন টেনশন করছো কেন?'
কত দায়িত্ব বলো  ভাইয়ের বিয়ে বলে কথা।
একটা মাত্র দিদি। কত দায়িত্ব বলো তো?'
তা অবশ্য ঠিকই বলেছ। আমারও ননদের বিয়ে বলে কথা। একটাই ননদ কত দায়িত্ব বলো তো?'
'ঠিকঠাক পার করতে না পারলে কতজনা কত কথা বলবে ।আর রায়বাঘিনী ননদিনী আমার সে কি আর ছেড়ে কথা বলবে? দুইজনাই হো করে হেসে উঠলো।
"তা যা বলেছ মাধু।"
'তবেএকটা সমস্যা হয়ে গেল বৌদি?'
'কোন সমস্যা আমি শুনতে চাই না। ননদের বিয়ে ঠিকঠাক করে দাও। আমারই তো ভাই এর বউ হয়ে আসছে নইলে কিন্তু কথা শুনতে 
হবে তোমাকে ।আবার হো করে হেসে উঠলো।'
না গো বৌদি সিরিয়াসলি বলছি একটা সমস্যা হয়েছে।
'যা আমার ননদের কোন সমস্যা হতে 
পারে ?আমার ননদ হচ্ছে মুশকিল আসান সবকিছুই সহজ-সরলভাবে করে দেয় সমাধান।'
'তুমি কিছু শোনোনি?'
'এবার যেন সরজু একটু করে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে।'
'এতক্ষণ যা বলছে তাহলে এটা মশকরা নয় সত্যি সত্যিই কিছু হয়েছে।'
আরেকটু উদগ্রীব আর আশ্চর্য হয়ে বলল 'কি হয়েছে ঠাকুরঝি ব'লোনা?'
'মাধু দেখল বৌদির ব্যাপারে কিছু জানে না 'তারমানে কল্যান কিছুই জানায়নি।
তোমার সাথে কল্যাণের কথা হয়নি।'
'হয়েছে !তাও ৩ দিন আগে।
কাল করলাম ফোনটা রিসিভ করল না।
ওর ই কিছু কেনাকাটার ব্যাপারে কথা বলতাম।'
ও বৌদি গলার ব্যাপারে কিছু শোনো নি?
গলাটা থেকে ভালো কথা বেরোচ্ছিল না। কেমন ঘর ঘর আওয়াজ হচ্ছিল ।
তা আমি বললাম ভাই ডাক্তারটা দেখিয়ে 
নিস 'তুমি চিন্তা করো না আমি ঠিক ডাক্তার দেখিয়ে নেব?'
'কেন কি বলছ গো?'
গলাটাতেইতো সমস্যা হয়েছে। এবার তো গলার অপারেশন করতে হবে।'
সেকি?'
"আরে একথা আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে কর নি।"
'না বৌদি ওকে ভুল বুঝ না ।আমাদের কেউ জানায় নি শিখার সাথে কথা প্রসঙ্গে উঠে 
এসেছে ।তাই আমি ভাবলাম তোমাকে একবার জানাই।'
' তা বেশ করেছো ।অপারেশন করতে হবে ।এ চিন্তার ' হলো বলো? তোমাদের সামনে বিয়ে।'
"ওই জন্য তো আমার টেনশন হচ্ছে।'
'অপারেশনের ডেট ঠিক হয়ে গেছে? জানো এ ব্যাপারে কিছু?'
'না শিখা বলছিল, যে ডাক্তার বলেছে ইমিডিয়েট অপারেশন করাতে। সামনের মাসেই প্রথমদিকে করিয়ে নিতে বলেছে।'
'তাহলে তো গলার অবস্থা যাচ্ছেতাই। নাকি গো মাধু ।কী চিন্তা হচ্ছে গো ?আমার ভাইটা একা একা থাকে ওখানে।'
'বলেই কাঁদতে শুরু করল।'
' এখন কি কাঁদার সময় বলো ,ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো যেন অপারেশন সাকসেসফুল হয় আর তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।"'
'তোমরাও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো।
'সে করছি । কিন্তু বিয়েটা কি হবে বলো?
মানে?
সেটাইতো কথা বিয়ের ডেট তৈরি, মাসের লাস্ট উইকে অপারেশনের যদি শুরু হয় তাহলে বিয়েটা কিভাবে কি হবে?
লোকজন এসব নেমন্তন্ন হয়ে গেছে এখন এই মুহূর্তে ডেট চেঞ্জ করলে হয় এবার অপারেশনের ডেটটা কবে দেয় দেখা যাক বিয়ের করেই না হয় অপারেশন হবে আর কি করবে?'
মাধু একটু নিশ্চিন্ত হল।
'দাঁড়াও না ওকে আমি কেমন বকা দিই  
দেখো ।আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি।'
'না বৌদি ,ওকে ভুল বুঝনা কার কাছে শোনাও সেমিনার ছিল তারপর গলাটা খুব ভোগাচ্ছে হয়তো টেনশনে আছে।'
'হ্যাঁ সে তো ঠিকই বলেছ।'
তুমি বলো মাধু আমি কি জানতে পারি না?
To know অধিকার রয়েছে কিন্তু এখনতো মান অভিমান করার সময় নয়।'
'আর একটা সমস্যা হয়েছে জানো বৌদি?'
'আরো সমস্যা?'
'শিখার কাছে শুনছিলাম টাকা পয়সা নিয়ে।
কেন? অপারেশনের জন্য  প্রচুর টাকা লাগবে  শুনছিলাম ।এই মুহূর্তে নাকি ওর টাকা-পয়সার সব ইনভেস্টে আছে ওই কলকাতায় ফ্ল্যাটে সেজন্য একটু চিন্তায় আছে।'
'তা আমরা রয়েছি কি করতে বলো মাধু?'
জিজ্ঞাসু কন্ঠে বলল সরজু।
'সে তো ঠিকই।'
'ঠিক আছে । ,আমরা সবাই মিলেই সাহায্য করবো।'
'ঠিক আছে।'
'ফোন রাখছি। তাহলে বৌদি পরে কথা হবে।'
'আচ্ছা রাখো।'
 ভালো থেকো সবাই।'

ফোনটা কাটার পর সরজু ভাবলো একবার ভাইকে ফোনটা করি ।কেন এত টেনশন করছে আমরা তো রয়েছি।'
সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা করল।'
ফোন বেজে গেল।

'কিরে বাবা ফোন তুলছে না কেন ?এখনো কি ঘুমোচ্ছে পড়ে পড়ে। ভাবল একটু পরেই 
করি ।যদি ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে থাকে।'
এদিকে কল্যাণের মাথার উপর যেন করতাল বাজছে ।চোখে পর্দা নেমে এসেছে। অনেকগুলো ফোন করার বাকি আছে। দিদিকে একটা ফোন করতেই হবে। তবে এখনই করবে না আরেকটু বেলা বাড়ুক। দিদি এখন সাংসারিক নানা কাজে ব্যস্ত আছে।
বিছানার দিকে ক্লান্ত পা টেনে নিয়ে এলো কল্যাণ একটা ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিলে ভালো হতো এখন ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক হবে না। বরং ঘুমিয়ে পড়লে অনেক কিছু গন্ডগোল হয়ে যাবে।
বিছানা থেকে উঠে কল্যান সরাসরি বাথরুমে গেল। সম্পুর্ন নিরাভরন হয়ে ঝর্নাটার নিচে দাঁড়িয়ে আবার নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করলো।
সাবান কেস থেকে সাবানটা নিয়ে গায়ে লাগলো একবার হাত থেকে সাবান টা পড়ে গেল।
সে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পড়েছে যদি ভালো করে প্রবাহিত জলে স্নান করা যায় তাহলে অনেক ক্লান্তির অবসান হয়।
তাই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুযায়ী শরীরটাকে অবগাহন করাতে চায়।
কিন্তু এত অবগাহন না এত শাওয়ারের নিচে স্নান ধারাপাত বলা যেতে পারে।
সাওয়ারের জলে যখন চলছে ধারাপাত তখন মনে হচ্ছে যেন তপ্ত তাপিত দেহে রয়ে গেল স্বস্তির বার্তা।
একসময় এই জলের শব্দ ভেদ করে যেন কোথাও একটা ফোনের রিং হওয়ার আওয়াজ শুনতে পেল।
প্রথমে কল্যাণ ভাবলো 'না ,না পাশের ফ্লাটের কারোর বাজতে পারে?'
এক সকালে ফোন করবে কে?"
আবার ফোন বাজলো।
সাওয়ারের জলের আওয়াজ কমিয়ে দিয়ে কান পেতে শুনলো।
"হ্যাঁ ,ফোনের আওয়াজই বটে।'
এবার কল্যান ভিজা টাওয়াল কোমরে জড়িয়ে বেরিয়ে আসলো। এসে ফোনটা রিসিভ করল।
বলল 'হ্যালো।
'আমি দিদি বলছি।'
হ্যাঁ, দিদি .। প্রণাম নিও।
'তোর এত কিছু হয়েছে গলা নিয়ে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না ভাই? '
'আরে দিদি আমি ভেবেছিলাম তোমাকে ফোন করবো কিন্তু পরক্ষনেই ভেবে দেখলাম যে এটা ঠিক হবে না। সকালবেলায় তোমাকে ডিস্টার্ব করব সাহসে কুলালো না।'গলা দিয়ে ঘর, ঘর, ঘর আওয়াজ।
'এবার বল ভাই তোর কিসের টেনশন?'
'আমার টেনশন !এ কথা কে বলেছে?'
'হ্যাঁ, ভাই শোন, তোর গলাটা যে এতটা খারাপ অবস্থায় আছে একবারও জানাস নি?'
'না দিদি ,রাগ ক'রো না ।আমি তোমাকে জানাবো ভেবেছি কিন্তু রাত্রে আর পেরে উঠলাম না। রাত হয়ে গেছিল শরীর মন দুটোই ক্লান্ত ছিল ।'
'ঠিক আছে এখন একটা কথা বলত ভাই আমি কি তোর পর?'
'এভাবে কেন বলছো দিদি।'
তাহলে তোর কিছু সমস্যা হচ্ছে সেটা আমাকে জানাতি স।'
'মিথ্যা কথা বলব না দিদি, একটা সমস্যা হচ্ছে ওই জন্যই তোমাকে আমি আজকে ফোন
 করতাম ।তুমি যখন করেই ফেললে…।'
"বল সমস্যা কি?'
ডাক্তারবাবু ইমিডিয়েট গলার অপারেশন করতে বলেছে একটা কড গেছে অলরেডি।
'সমস্যা কী ডাক্তার বাবু বলেছেন যখন অপারেশন করাতে করিয়ে নে।'
কল্যান চুপ আছে।
'টাকা-পয়সার সমস্যা হচ্ছে?
তো চিন্তা করছিস কেন? আমরা তো আছি, নাকি?'
'সমস্যা হতো না দিদি ।নেয়া হলো এবার তাহলে হয় ফ্ল্যাটে বিক্রি করতে হবে এদিকে বারাসাতের ফ্ল্যাটটাও ছাড়তে পারছি না যতক্ষণ না ওখানে শিফট করছি। এবার কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।'
কোনো  ফ্ল্যাট  এখন বিক্রি করতে হবে না।
সে টাকার ব্যবস্থা আমি করে দেব ।ডাক্তার কত বলছে সেটা আমাকে জানা।
আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করিয়ে নে।'
'কিন্তু দিদি তুমি এতগুলো টাকা?'
'এটা ঠিক হবে না আমি তোমার কাছ থেকে এভাবে টাকা নিতে পারব না।'
'আরে বাবা ঠিক আছে যদি আমার কাছ থেকে না নিতে পারিস না তো কিছু গয়না  মা রেখে গেছে ন তোর বউকে দেবার জন্য এই গয়নাগুলো রেখেও তো দেয়া যেতে পারে?
কিন্তু আমি চাইছি না এই গয়নাগুলো বাধা দিতে।'
'কিন্তু দিদি আরও একটা সমস্যা?'
'আবার সমস্যা কি বিয়ের ডেট নিয়ে?'
কল্যাণ ভাবছে এতসব  নিশ্চয়ই শিখা ফোন করেছে।'
চুপ করে আছে কল্যাণ।
'বিয়ে কিন্তু ওই ডেটেই হবে বিয়ে পেছানো যাবে না' ডাক্তারের সঙ্গে সেই ভাবে কথা বল।'
"ঠিক আছে দিদি ,তুমি যখন বলছো তাই হবে।
বল তো সবারই তো লোকজন নেমন্তন্ন হয়ে গেছে আর বিয়েটা ফেলে রাখাটা ঠিক হবে না ভাই ।সে তুই বিয়ে করে যা না । অপারেশন করিয়ে আয় তাতে তো কোন অসুবিধা হবার কথা নয়।'
কল্যান চিন্তামুক্ত হলো এখন শুধু ডাক্তার সরকার মুখার্জির সঙ্গে কথা বলে চেন্নাইতে ডেট টা ঠিক করতে হবে।
'ঠিক আছে, এখন রাখছি। নিজের যত্ন নিবি ।'
'তুমিও ভালো থেকো দিদি।'
ফোনটা কেটে জানালায় কাছে দাঁড়িয়ে কল্যান ভাবতে চেষ্টা করছে  কেমন অবাক চাঁদের আলোয় যেন তার ঘরটা ভরে উঠবে , ভরে উঠবে ছোট্ট পৃথিবী।

কবি গোলাম কবিরের কবিতা




পড়ে থাকা একখণ্ড মাংসপিণ্ড
গোলাম কবির    

  মানুষকে তো ইচ্ছে করলেই 
  ছুৃঁয়ে দেয়া যায় , ইচ্ছে হলে প্রিয়ার খোঁপায় 
  গুঁজে দেয়া যায় একটি লাল গোলাপ
  কিংবা নিদেনপক্ষে একটি রক্তিম জবা।  
  ইচ্ছে করলে কখনো কখনো
  পাহাড়ের বুকে শুভ্র মেঘকে ও 
  ছুঁয়ে দেয়া যায় কিন্তু 
  হৃদয় কি ছুঁইয়ে দেয়া যায় হৃদয় না দিলে?
  অথচ কতো লোকই দেখি 
  হৃদয় না দিয়েই হৃদয় ছুৃঁয়ে দেয় 
  ভুল ভালবাসার খেলা খেলে! 
  ওরা মানুষের হৃদয় নিয়ে সাপলুডু 
  খেলা করে, কখনো আবার হৃদয় 
  ঝলসে দেয় অথচ ভালবাসলে 
  মানুষের হৃদয় হয়ে যায় 
  নিঃসীম আকাশের মতো উদার!  
  ভালবাসা পাবার জন্য মানুষ 
  অবিরাম বয়ে চলা নদীর মতো
  ভালবাসা নামের মরিচীকার পিছনে  
  ঘুরতে থাকে অবিরত! 
  অথচ মানুষের কাছে এখন
  হৃদয় নামের বস্তুটাই হারিয়ে গেছে, 
  ওটা এখন শুধুই পড়ে থাকা 
  একখণ্ড মাংসপিণ্ড যেনো!

কবি




Bgvgvggh

  
  

কবি শিবনাথ মণ্ডল এর কবিতা




মুখোস পরা মানুষ
শিবনাথ মণ্ডল

স্বার্থ ছাড়া  এই দুনিয়ায়
কেউতো চলেনা
স্বার্থ ছাড়া কোনো মানুষ
ভালো বাসেনা।
মিথ‍্যা কথা বলতে যাদের
মুখে বাধা আসেনা
নিজে ভাবে আমি ছাড়া
কেউতো বোঝেনা।
বন্ধু সেজে যে জন তোমায়
ভাবাই  আপনজন
সুযোগ বুঝে কেড়ে নেয়
আসল মূলধন।
কাছে এসে ভালো  বেসে
বলে মিষ্টিকথা
স্বার্থ খানা ফুড়িয়ে গেলে
নেয় কেটে মাথা।
মুখোস পরাএই দুনিয়ায়
যায়না কাউকে চেনা
আসল নকল যাবে বোঝা
পুড়ালে খাঁটি শোনা।।

১৯ মার্চ ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১৩৬



উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৩৬
ভয়েস বিভ্রাট

মমতা রায়চৌধুরী


কল্যান সেমিনার শেষ করে কৃষ্ণনগর স্টেশনে যখন আসলো তখন মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়েছে চারিদিকে কিচ্ছু দেখা যাচ্ছেনা। এমন অবস্থায় অটো থেকে নামতে নামতে কিছুটা ভিজেও গেল। ভাবছে  তাই তো গলার এই অবস্থা ।এর মধ্যে যদি আবার ঠান্ডাতে কিছু একটা হয় তাহলে তো দারুণ মুশকিল হয়ে যাবে।
যথারীতি ট্রেন ঢুকে গেল। কল্যান ট্রেনে গিয়ে বসলো।
নির্দিষ্ট টাইম এ ট্রেন ছেড়ে দিল।
ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল আজকে গিয়ে ডাক্তার দেখাতে পারবে না মনে হচ্ছে কৃষ্ঞনগরেই  ৬. ৪০
অথচ ডাক্তার না দেখালেও নয়। দেখা যাক 'ডাক্তারবাবু তো ৯টা পর্যন্ত থাকবেন বলেছেন?'
মাথাটা ভেজেনি এই রক্ষে। প্যান্টের নিচের অংশ ভিজেছে ।হাতের অংশটুকুও ভিজেছে। ট্রেনে
বসে কেমন একটা অস্বস্তি হচ্ছে। ট্রেনে বসে হাজারো কথা মনে পড়তে লাগলো। মনে পড়ল অনিন্দ্যর কথা। কল্যাণদের চারজনের একটা ভালো বন্ধুত্ব ছিল। তাদের মধ্যে শুধুমাত্র অনিন্দ্য তখন প্রেম করতো। অনিন্দ্য হচ্ছে ওদের প্রেমের দীক্ষাগুরু। অনিন্দ্য আর মনীষা যখন চুটিয়ে প্রেম করছে ।তখন কল্যাণরা দূতের কাজ করতো। সম্ভবত ওদের লায়লা মজনুর প্রেম দেখেই কল্যাণের ভেতরেও একটা প্রেম প্রেম ভাব এসেছিলো। তারই ফলশ্রুতি বোধহয় প্রভা।
আজ আবার কেন ঘুরে ফিরে আসছে প্রভার কথা। এ যেন বৃষ্টি হলেই কল্যাণের ষষ্ঠ ইন্দ্রিয় কাজ করে এন্টেনার মত। কোথায় অনিন্দ্য মনীষার গল্প করছিল সেখানে এসে পাতা জুড়ে নিল কল্যান প্রভার গল্প।
' হ্যাঁ, একদিন এসে হঠাৎ  অনিন্দ্য বলল
'যাই বলিস ভাই ফাইনাল পরীক্ষার হয়ে গেলেই আমরা দুজন পালাচ্ছি।'
কল্যান তো অবাক হয়ে গেল 'বলে কি?
পালাচ্ছি মানে?
তুই তো এখনো নিজের পায়ে দাঁড়ালি না মনীষাকে কি খাওয়াবি?
পরে কিন্তু প্রেম জানলা দিয়ে পালাবে।'
ভুরু কুঁচকে অনিন্দ্য বলেছিল শত্তুর না হলে তো কেউ এরকম কথা বলে ।না তুই আমার নাকি আসল বন্ধু। প্রিয় বন্ধু ।কোথায় আমাকে উৎসাহ দিবি ।সেসব নয়।'
'দেখ ভাই আমি কিন্তু বাস্তবটাই বললাম। আমি প্রকৃত বন্ধু বলে তোর বাস্তব অবস্থাটাকে বুঝিয়ে দেবার চেষ্টা করেছি ।এবার তুই যেটা ভালো বুঝিস?'
তারপর অনিন্দ্য কি একটা ভাবল কিছুক্ষন তারপর বললো' না কথাটা তুই ঠিকই বলেছিস কিন্তু আমার তো একটা সমস্যা হয়ে যাচ্ছে?'
'কিসের সমস্যা?'
'আরে মনীষাকে নিয়ে। ও তো এখনই বলছে বিয়ে করতে হবে,।'
'মানেটা কি? খেপেছে নাকি?'
তখন কল্যাণ বলল ' বুঝতে পারছি ।প্রেমের বাঁধভাঙ্গা উচ্ছ্বাস…
বলেই হাসতে শুরু করলো।
'তুই হাসছিস আমি মরমে মরমে মরছি।'
আচ্ছা, ঠিক আছে  তাহলে বল কি বলবো তোকে?'
'শোন,আমার আর পড়াশোনা হবে না।'
'ঠিক আছে তাহলে কি করতে চাইছিস?'
'আমি আমেদাবাদ চলে যাব।'
'কার ভরসায়?'
'আরে হারুদের একটা গদি আছে। ও বলেছিল ওখানে ব্যবস্থা করে দেবে একটা চাকরি।'
বেশ বোদ্বার মত মাথা নেড়ে কল্যান বলল' তাহলে তো সমস্যা মিটেই গেল।'
কিন্তু কি ট্রাজিক চরিত্র হয়ে গেল অনিন্দ্য।
এসব ভাবনা চিন্তার মাঝেই মনীষার বাবা ট্রানস্ফার নিয়ে চলে গেল দূরে সপরিবারে।
মনের দুঃখে অনিন্দ্য কিছুদিন দাড়ি রাখল, সাই গোলের রেকর্ড শুনল। তারপর এ ম, পরীক্ষা এসে গেল ।পড়ার চাপে সবই ঠিকঠাক হয়ে 
গেল। মজা করে বলেছিল কল্যান হারুকে
অনিন্দ্য আর মনীষার প্রেমের কাহিনী লাস্ট চ্যাপ্টার অনিন্দ্যের দাড়ি রাখা ।আমার মনে হয় আমাদের এই বাকি তিনজনেরো দাড়ি রাখা উচিত ছিল কারণ ওর প্রেমটা তাদের বাকি তিন জনেরও প্রেম।'
হারু তখন মজা করে বলেছিল 'তুইতো বাবা প্রভার সঙ্গে জড়িয়ে গেছিস ।তোর তো জীবনে বসন্ত এসেগেছে কিন্তু আমরা দেখ কি অভাগা আমাদের না জুটলো কোন সুন্দরী গোলাপ।
না নিতে পারলাম তার কোন ঘ্রাণ।'
ট্রেনে যেতে যেতে এইসব কথাই মনে পড়ছিল কিন্তু অনিন্দর মত কল্যাণের প্রেমের পরিসমাপ্তি ঘটল একটা প্রহেলিকার মধ্যে দিয়ে। প্রভার থেকে আর কোনো উত্তর কক্ষনো আশা করেনি ।প্রভা কিভাবে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিল অথচ কল্যাণ তো প্রভাকে মনেপ্রাণে ভালবেসেছিল ।দুরন্ত উচ্ছল নদী যেন ছিল ।কখনো মনে হয়েছে
 ঝরনা ।ঝরনার সঙ্গে হারিয়ে যেতে কল্যাণের কোন আপত্তি ছিল না।
অথচ…. শুধুই অন্তহীন জিজ্ঞাসা রয়ে গেল।'
এরই মধ্যে ট্রেন নির্দিষ্ট স্টেশনে এসে পড়ল।
ফোনটা বার করতে দেখলএরমধ্যেতে কটা মিসকল হয়ে পড়ে রয়েছে। এতটাই ভাবনায় মশগুল ছিল যে সেটা খেয়াল করে উঠতে পারেনি।
ফোনটা খুলে দেখল শিখার বেশ কয়েকটা মিসকল হয়ে যাচ্ছে।
কল্যাণের উচিত ছিল শিখাকে ফোনটা করে দেয়া যে সে ট্রেনে উঠে পড়েছে।
কি করে ইরেস্পন্সাইবেল হলো?
নিজেকে নিজের প্রতি খুব বিরক্ত লাগলো।
তারপর একটা ফোন করলো।
ফোনের রিং হতেই শিখা ফোনটা রিসিভ করে বলল'কি ব্যাপার বলতো?'
কল্যান মনে মনে ভাবল এই শুরু হল অধিকারবোধ এটা তো হতেই হবে তারপর নিজেকে ঠিক রেখে বলল 'সরি এক্সট্রিমলি সরি ডিয়ার।'
'না না সরি কেন বলছো?'
'একবার ও মনে হয়নি চিন্তা হতে পারে?'
'আরে হ্যাঁ ,ভেবেছিলাম তোমাকে ফোন করবো শোনো না এত বৃষ্টি তারপর??'
'তারপর ,তারপর কি হয়েছে?'
'আরে সেরকম কিছু নয়।'
'ভিজে গেছ?'
"একটু ভিজেছি।'
গলাটা যেই দেখলে একটু আওয়াজ বেরোচ্ছে অমনি বৃষ্টিতে ভিজলে?'
'কিছু করার ছিল না গো অটো থেকে নামতে নামতে যেটুকু ভিজেছি।'
সকালে যখন বেরিয়েছি তখন ওয়েদারটা তো ভালই ছিল ।বোঝা গেছে কি বৃষ্টি হবে বল?'
'ঠিক আছে আর তোমাকে কোন কিছু বলতে হবে না।'
'এখন বল কতদুর আছো?'
'আর একটা স্টেশন।তার পরেই নেমে যাব।'
'ঠিক আছে ডাক্তারের এপারমেন্ট নিয়েছো তো?'
'নিয়েছি কিন্তু ডাক্তার থাকবেন কিনা কে জানে?'
'যদিও নটাএখনো বাজে নি।'
'ঠিক আছে ।দেখো কি হয়।
সাবধানে এসো।'
'ওকে'
বাড়িতে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে তোমাকে ফোন করবো।'
শিখা  প্রসন্নতায় একগাল হেসে উঠলো।
কথা বলতে বলতেই স্টেশন এসে গেল। তাড়াতাড়ি নেমে পড়ল  কল্যান। কাঁকিনাড়া থেকে খুব বেশি সময় লাগে না ডাক্তার বাবুর চেম্বারে যেতে। এখনো দশ মিনিট বাকি আছে 9:00 বাজতে। হন্তদন্ত হয়ে ছুটল। হাঁপাতে হাঁপাতে ডাক্তার বাবুর চেম্বারে এসে দেখল ডাক্তার মুখার্জির চেম্বারে ভীষণ ভিড়। যদিও কল্যান সাক্ষাৎ লগ্ন আগেই স্থির করে এসেছে ।তবুও প্রায় ১৫মিনিট হলো স্লিপ জমা দিয়ে বসে আছে কল্যাণএর এখনো ডাকআসেনি। এদিকে সেই বৃষ্টিতে ভেজা চ্যাট চ্যাটে ভাব ভালো লাগছে না বসে থাকতে ডাক্তার বাবুর চেম্বারে অনেকগুলো উইলি ম্যাগাজিন রয়েছে ।সেগুলো উল্টেপাল্টে দেখতে লাগলো। হঠাৎ ম্যাগাজিনে যখন নিজেকে ডুবিয়ে ফেলেছে ঠিক তখনই 'কল্যাণ চৌধুরী কে আছেন ?এখানে ডক্টর কল্যাণ চৌধুরী?'
কল্যান বলল' আমি ।আমি ডক্টর কল্যাণ চৌধুরী।"
'আপনার ডাক এসেছে আপনি চেম্বার এ যান।'
পত্রিকাটি নামিয়ে রেখে নিজের ব্রিফকেস টি সঙ্গে নিয়ে উঠে দাঁড়াল কল্যাণ চৌধুরী।
বাবা প্রায় ঘড়ি দেখে আধ ঘন্টার মতো দেরী করিয়ে দিয়েছেন ডাক্তার বাবু।
চেম্বারে ঢুকে হেসে নমস্কার করল চৌধুরী।
ডাক্তারবাবু নিজের ডান হাতটা কপালে ছুইয়ে বললেন 'বসুন 'চেয়ারটা দেখিয়ে।
"আচ্ছা বলুন আপনার কি সমস্যা?
কি কি অসুবিধা বোধ করছেন? কোথায় কষ্ট হচ্ছে আপনার,?. একটু জোর করে হাসি এনে ডাক্তারবাবু আরো বললেন 'নট টু ওয়ারি'! ডোন্ট বি সো ডিপ্রেসড।'
কল্যাণ আমতা আমতা করে বলল আমার কি ডিফিকাল্ট কিছু হয়েছে?
'ফেটাল তো কিছু হয়নি আপনার?'
তবে আপনার প্রফেশনটা একটু অসুবিধে হতে পারে?
তবে ভয় পাওয়ার কিছু নেই এখন তো অনেক ভালো ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। মানে অপারেশনের ব্যবস্থা আছে। বিদেশ থেকে যদি করাতে চান করাতে পারেন আপনাদের তো দেশ বিদেশের যাতায়াত আছে বিভিন্ন সেমিনার উপলক্ষে।
এবার একটু ভয় পেয়ে কল্যান বলল' ডাক্তারবাবু আপনি কি বলছেন আমি কি চিরকালের মতো তাহলে আমার কন্ঠস্বর হারাবো?'
আজকাল ভয়েস বক্সটা রিপ্লেস করা কিছুই না। এতে আপনার অনেক কাজ চলে যাবে। সব কথাই বলতে পারবেন ।এটা হচ্ছে উইথ এ সিম্পল এন্ড সাইন্টিফিক ফলস ভয়েস।'
আপনি  স্মকিং করেন?'
কল্যান বলল' হ্যাঁ করি।'
মনে রাখবেন' স্মোকিং ইজ ডেডলি ফর ইউ'।
একটা কড আপনার একেবারেই গেছে এবং অন্যটাও প্রায় অলমোস্ট গন।'
ধোয়ায় ধোয়ায় গলাটার বারোটা বাজিয়ে দিবেন না আর।'
'ডাক্তারবাবু আমি কতদিন পর্যন্ত কথা বলতে পারব না?'
কেবল সপ্তাহে সপ্তাহে সাত দিন গান্ধীজী সপ্তাহে একদিন মৌনব্রত পালন করতেন জানেন তো আপনি ওরকমই করুন তিন সপ্তাহ ঘরে থাকুন চুপচাপ । কমপ্লিটলি গলাটার রেস্ট দিন।'
'তাহলে কি বলছেন আমি কি আর কথা বলতেই পারবোনা। ওটা একেবারেই চলে গেল । আ পার্মানেন্ট লস?'
'কি মুশকিল আমি কি তাই বললাম নাকি ।তিন সপ্তাহ আপনাকে কথা বলতে বারণ করা হলো এরপর অপারেশন টা করিয়ে নেবেন ।কেন অত  অরিড হচ্ছেন।'
এই মুহূর্তে  কিছু ওষুধ দেবেন না?
হ্যাঁ মাক্রাবিন আর ভিটামিন ইনজেকশন দুটো তিন সপ্তাহ এবং স্টেরয়েড অ্যান্টিবায়োটিক টা 10 দিন ঠিক যে ভাবে লিখে দেয়া হয়েছে সেই ভাবে চালিয়ে যান আর ওই যে বললাম ভয়েসকে কমপ্লিটলি রেস্ট দিন।
তিন সপ্তাহ পর আবার আপনার সঙ্গে আমার দেখা হবে।'
কল্যান বলল' থ্যাংক ইউ ডাক্তার'।
এরপর ডাক্তারবাবু আচ্ছা বলে টেবিলের উপরে রাখা ঘণ্টা বাজিয়ে দিয়ে বলেন
' ওয়েলকাম ।নেক্সট।'
ডাক্তারবাবুর ওখান থেকে বেরিয়ে এবার কল্যাণ ভাবল সামনে রেস্টুরেন্ট থেকে কিছু খাবার নিয়ে চলে যেতে হবে বাড়িতে। স্টুডেন্টের দিকে যেতে যেতে ডাক্তারবাবু কতটা অর্থ পিচাশ সেটাই মনে মনে ভাবার চেষ্টা করছিল ভিজিট দেবার সঙ্গে সঙ্গে ঘন্টি বাজিয়ে দিলন আর একটা কথাও শুনতে রাজি হলেন না ডাক্তার বাবু। 
বাপরে কি প্রফেশনাল।
তারপর নিজের ভয়েসটা নিয়ে ভাবনা চিন্তা করতে লাগল এর মধ্যে যদি ঠিক না হয় পরের মাসেই আছে আবার আর একটা সেমিনার। এছাড়া কলেজে ক্লাস রয়েছে।কি হবে কে জানে জীবনে টানাপোড়েন তো রয়েছেই এখন চলে ভয়েজের টানাপোড়েন দেখা যাক ঈশ্বর কি করেন। কতদিন ভয়েস বিভ্রাটে থাকতে হয় কি যেন?

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস




শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৭২)
শামীমা আহমেদ 

সারাদিন ফ্যাক্টরির কাজ তদারকির দ্বায়িত্ব  শেষ  করে,দিনশেষে গাজীপুর থেকে রওনা দিয়ে, শিহাবের উত্তরায় ফিরতে রাত প্রায় দশটা হয়ে গেলো। পথিমধ্যে,চন্দ্রা, জিরাবো,আশুলিয়া, আবদুল্লাপুরের ভয়ানক যানজটে প্রায় একঘন্টা বসে থাকা। যদিও চাইলে আশপাশ দিয়ে বাইক চালিয়ে  বেরিয়ে আসা যেতো।কিন্তু শিহাবেরতো ঘরে ফেরার অত তাড়া নেই।কেউতো আর ঘরে তার জন্য অপেক্ষায় নেই।বরং বাইকে বসে উদাস হয়ে আকাশের চাঁদ দেখে কয়েক  স্টিক টেনে নেয়া যায়। আর এর সাথে কয়েককাপ চা, কফি চালান দেয়া হয় ভিতরে ভ্রাম্যমাণ চা, কফি বিক্রেতাদের কাছ থেকে।
যানজট ছাড়তেই শিহাব বাইকের স্পীড বাড়িয়ে সময়টা পুষিয়ে নিলো।
শিহাব বাসার গেটে এসে হর্ণ দিতেই কেয়ারটেকার বিল্লাল গেট খুলে৷ দিলো। বিল্লালের ভয়ার্ত দৃষ্টি! শিহাবের অনুমতি ছাড়া তার বাসায় অতিথি ঢুকেছে। কিভাবে তা ছারকে জানাবে। শিহাব বাইক পার্ক করে হেলমেট খুলতেই বিল্লাল তার কাছে এসে বললো, ছার মাফ কইরা দিয়েন। আপনার অনুমতি ছাড়া একটা কাজ কইরা ফেলছি ছার।
কি করেছো বিল্লাল? শিহাব বেশ নরম সুরেই জানতে চাইলো।
তাই কি এত কল দিচ্ছিলে সকালে?
জ্বী ছার।
তা কি করেছো?
ছার আপনি ঘরে গেলেই দেখতে পারবেন।
ক্লান্ত শিহাব আর কথা বাড়ালো না। বাইকের চাবি হাতে নিয়ে ঘিরের চাবি চাইতেই বিল্লাল বললো, ঘরে অতিথি আছে, তার কাছেই চাবি দিয়া গেছে বুয়া।
এবার শিহাবের মাঝে একটু ভাবনা এলো,,কে হতে পারে যে আমার অনুমতি ছাড়াই আমার ফ্ল্যাটে ঢুকে যায়। শায়লা নয় তো? তবে কি সেদিন এখানে আসাতে  বাসায় কোন ঝামেলা হয়েছে?  সেকি তবে বাসা থেজে রাগ করে চলে এলো হাবের কৌতুহল বেড়ে গেলো।সে  দ্রুত লিফটের দিকে পা বাড়ালো।  শস্যলা কোন বিপদ হলো! লিফট উপরে উঠতেই শিহাব এক ঝটকায় বেরিয়ে দরজার কলিং বেলে আঙুল  দিয়ে বেশ কয়েকবার বিরতি ছাড়াই পুশ করলো। 
রিশতিনাতো এতটাক্ষণ ধরে, সেই সকাল দুপুর রাত কাটিয়ে শিহাবের ফেরার অপেক্ষাতেই উন্মুখ হয়ে ছিল। অলস ভঙ্গিতে টিভির সাউন্ড অফ করে চালিয়ে রেখে সময় পার করছিল।কলিং বেল শুনেই চমকে উঠে ঘর থেকে রক দৌড়ে দরজার কাছে এলো।
দরজা খিলতেই দেখলো শিহাব দাঁড়িয়ে! 
অপরপ্রান্তে শিহাবের জন্য রিশতিনা  বড় একটা বিস্ময়  হয়ে এলো। দুজনেই থমকে দাঁড়িয়ে!  দরজার এপাশ আর ওপাশে।শিহাবের পা যেন আর ঘরের দিকে চলছিলই না।  শিহাবকে কাছে পেয়ে রিশতিনার চোখ জলে ভরে উঠলো। মন চাইছে এখুনি শিহাবের বুকে ঝাঁপিয়ে পড়তে।যেন খুব ইচ্ছা করছে শিহাব এখুনি যেন হাত বাড়িয়ে তাকে বুকে টেনে নিক।কত জনমের চাওয়া।কত যুগের তৃষ্ণা। 
শিহাব যেন এর কিছুই অনুভব করছে না।তার দুচোখ শুধু শায়লাকে খুঁজছে। সামনের মানুষটা অদৃশ্য হয়ে রইল। রিশতিনা বুঝতে পারছে শিহাবের কাছে সে একেবারেই অপ্রত্যাশিত হয়েছে।তাইতো সে এমন বরফ
কঠিন হয়ে আছে। এই বরফকে গলাতে হবে। শিহাবের ভেতরে তার জন্য ভালবাসার জলধারা বহাতে হবে আর এর জন্য শিহাবের শত অপমান সে সহ্য করবে। শিহাবের মন জয় করে আবার আগের সেই আবেগ অনুভূতি অনুভব ফিরিয়ে আনতে হবে।

রিশতিনা হাত বাড়িয়ে শিহাবের হাত ধরলো।শিহাবের ভেতর তখনো কোন চেতনা ফিরে আসেনি। তার চোখ রিশতিনার দিকে তাকিয়ে পাথর হয়ে আছে। রিশতিনা এক টানে শিহাবকে ঘরে নিয়ে এলো। দরজা লাগিয়ে  শিহাবকে বেড রুমে নিয়ে গেলো।বিছানায় বসিয়ে দুই হাত ধরে জানতে চাইলো,কেমন আছো চাঁদ? ভালোবাসার দিনগুলিতে রিশতিনা শিহাবকে চাঁদ নাম ডাকতো। শিহাব কি সব হচ্ছে  কিছুই বুঝতে পারছে না। সে শুধু শায়লার মুখটিই ভাবছে।
শিহাবের নীরবতায় রিশতিনা বললো,শিহাব তুমি কি ভুলে গেছো, তুমি আমায় কি নামে ডাকতে? আবার সেই নামে ডাকো চাঁদ।আবার সেই নামটিতে ডাকো।বলেই রিশতিনা ঝরঝর করে কেঁদে ফেললো। শিহাবের বুকে মাথা রাখলো।এবার যেন একটু স্বাভাবিকে এলো। একটা মেয়ে তার সামনে তার জন্য কাঁদছে, তার বুকে আছড়ে পড়ছে আর সে এমন স্থির হয়ে বসে আছে? শিহাব কথা বলে উঠলো,  রিশতিনা তুমি কেঁদোনা। বলেই রিশতিনার মুখটা দুই হাতে তুলে ধরলো।
রিশতিনা তখনো চোখ বন্ধ করে অঝোরে কেঁদেই যাচ্ছে।আর বিড়বিড় করে বলছে 
শিহাব তুমি আমাকে ক্ষমা করো। সব ভুলে আমায় গ্রহণ করো। আমি একেবারে তোমার কাছে চলে এসেছি।আমার পরিবারের
সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে এসেছি।
 শিহাব বুঝতে পারছে না এখন সে কি করবে বা তার কি করা উচিত? শায়লাকে সে কি বলবে? শায়লা  যে কোন ভাবেই তার কাছে আসবে।রিশতিনা স্থির হলো।কান্না থামালো।
রিশতিনা বললো, তুমি হাতমুখ  ধুয়ে ফ্রেশ হয়ে আসো আমি  খাবার দিচ্ছি। আজ জিগাতলা থেকে মা ভাবী অনেক খাবের পাঠিয়েছে। আমি আভেনে গরম করছি।শিহাবের তখন যেন আজ সকালের  সব মনে পড়লো।কেন বিল্লাল এত ফোন দিচ্ছিল তাকে।সে বুঝতে পারছে আজ আর রিশতিনাকে ফেরানোর কোন পথ কি সে পাবে?সে তার স্ত্রীর অধিকার নিয়ে তার কাছে এসেছে।কোন আইন বা ধর্মের দোহাই আজ আর কাজ করবে না। কিন্তু শায়লা যে তার মন প্রাণের অনেকখানি জুড়ে আছে।

রিশতিনা শিহাবের হাত ধরে ওয়াশরুমের দরজার কাছে নিয়ে গেলো।এওতটা পথ বাইক চালিয়ে সারাদিনের শত ঝামেলায় ক্লান শ্রান্ত শিহাব টাওয়েল নিয়ে ওয়াশরুমে ঢুকে গেলো।
রিশতিনা কিচেনের দিকে এগিয়ে গেলো।ফ্রিজ খুলে খাবার বক্স খুলে দেখে নিচ্ছিল কি কি আছে। দুটো প্লেট  হাতে নিয়ে ডাইনিং এ এলো। রিশতিনা বুঝিতে এভাবেই শিহাব ক্লান্ত ঘরে ফেরে আর একাই সব কিছু করে।শিহাবের জন্য তার মনটা হু হু করে  উঠলো। 
হঠাৎই শিহাবের মোবাইল বেজে উঠলো। রিশতিনা ঘড়িতে তাকিয়ে দেখলো,রাত এগারোটা। এত রাতে কে কল করলো।রিশতিনা এগিয়ে এলো।মোবাইল হাতে নিয়ে দেখলো,মায়া নাম ভেসে উঠেছে আর স্ক্রীনে ভেসে উঠেছে, টানা টানা চোখে মায়াবতী মুখের একটি মেয়ের ছবি যার কপালে ছোট্ট একটা কালো টিপ।রিশতিনার কেন যেন ঐ টিপটাকে একেবারেই সহ্য হলো না।


চলবে.....

কবি আশ্রাফ বাবু




যেখানে দিন রাত চলে
আশ্রাফ বাবু

যে পৃথিবীতে আমাদের বাস তুমি ছিলে চুপচাপ, 
শেষ হয়ে যাইনি আমি আগন্তুক
যেখানে দিনরাত চলে বেচাকেনা।
চেয়ে চেয়ে রত হই প্রার্থনায় - প্রেরণা আর ভালোবাসা, জ্বলছে ভেতর থেকে - রত হই প্রার্থনায়
এই জীবনের আগে মৃত্যু হয়েছে।
 
আরেকটা জীবনে আগুনের তাপে তরুণ হৃদয় 
শুধু আন্দোলিত তপ্ত শোণিত ফুটছে আমার ধমনিতে
আমার অনুভূতিগুলো ভেতরে ভেতরে বেঁধে ফেলেছে,
জন্তুতে পরিণত হয়েছি বিশ্বস্ত প্রাণীর মতো,
যেখানে দিন রাত চলি আর ভুলি
ভেতরে ভেতরে আমি গজরাই।

আমার ভয় ও টান প্রশমিত হবার নয়-আমি প্রাণবন্ত, 
শেষ হয়ে যাইনি এইভাবে আর ভাবতে পারি নি
আর আমি চাই তুমি, ঠাণ্ডা বাতাস খেয়ে বলি।
সুখের চোখে জলে ভেজা দেখেছি স্বপ্নে
কোথায় এলাম সত্যিই এই মোকাম আমার
এই অনন্তদৃষ্টি রেখে,এই জায়গার উপর।