২৮ ডিসেম্বর ২০২১

শান্তা কামালী/৫১ পর্ব





বনফুল
শান্তা কামালী
(৫১ পর্ব ) 


এভাবেই সময় এগিয়ে যেতে লাগলো... সৈকত ঢাকা আসার কিছু দিন পরের কথা, অলিউর রহমান বদলি হয়ে ঢাকায় নিজের বাসায়  ওঠেন। মাস দু'য়েক পরে ঘুমের মধ্যে স্ট্রোক করে এক সাইড প্যারালাইস্ট হয়ে যায় সৈকতের মায়ের। অলিউর রহমান সাহেব ভেঙে পড়লেন!  একদিকে অফিস অন্য দিকে স্ত্রী। রাহেলা খাতুনের সেবা যত্ন করেন বাপ ছেলে দু'জনেই। 
মাঝে মধ্যে অহনাও এসে সেবা যত্ন করে।  রান্না ঘরে খালাম্মাকে লোকমা তুলে খাইয়ে,ঔষধ খাইয়ে তবেই অহনা বাসায় যায়। 
মধ্যে মধ্যে রাহেলা খাতুন অহনার মাথায় হাত বুলিয়ে দেন পরম মমতায়.... 
একদিন অলিউর রহমান অফিস থেকে এসে স্ত্রীর কাছে বসতেই, রাহেলা খাতুন স্বামীকে বললেন অহনা সৈকতের বিয়েটা খুব তাড়াতাড়ি দিয়ে দেন,পুরুষ মানুষ বলে কথা।
এতো কিছু মাথায় আসে না কাজের মধ্যে, তাই অলিউর রহমান সপ্তাহ খানেকের ছুটি নিলেন।পরদিন বিকালে অহনাদের বাসায় গেলেন। অলিউর রহমান যাবেন আগেই  বলে রেখেছিলেন।  সেই কারণে মনিরুজ্জামান সাহেব, মানে  অহনার বাবা বাসাতে ই ছিলেন। অলিউর রহমান পরিচয় পর্ব শেষ করে, কোনো রকম ভনিতা না করে বললেন .... আপনি যদি রাজি থাকেন  তাহলে অহনা সৈকতের বিয়েটা অপেক্ষা করে আর ঝুলিয়ে রাখতে চাই না। 
অহনার বাবা বললেন ছেলে মেয়ে যেহেতু একে অপরকে ভালোবাসে সেইখানে না করে কি করব বলেন। 
সৈকতের বাবা বললেন, আপনাদের কোনো দাবিদাওয়া আছে? 
 অহনার বাবা মনিরুজ্জামান সাহেব  বললেন, জ্বি... না ভাই সাহেব আমাদের কোনো রকম দাবিদাওয়া নেই। সৈকতের বাবা বললেন আলহামদুলিল্লাহ......তাহলে কথা পাক্কা।

শহিদ মিয়া বাহার





পরখ কর এ আমাকে 


এখানে একটুখানি বস, চোখের শার্শিতে
রাতের পল্লবী হৃদয় ছুঁয়েছে আমার শরীর 
ওখানে  হাত রাখ, ছুঁয়ে দেখ 
তোমাকে পাবে
কত যতনে  তোমাকে রেখেছি 
শো-কেসে যেমন রাখে প্রিয় প্রসাধনগুলো
একটুখানি বসলেই পেয়ে যাবে বাসন্তিক চোখের শালুক, 
তোমার চুলের তরঙ্গ নহর
আমার অতনু শরীর,  
থরে থরে সাজানো 
সুগন্ধি ভালবাসার পূর্ণ-পেয়ালা শিশির
শিশিরের ভাঁজে ভাঁজে 
 মুক্তা  দানাদের আলোকিত জলমহল ।

একটুখানি হাত ধরো 
অথবা যতটুকু তুমি চাও 
ছুঁয়ে দেখ এ আমাকে 
দেখ তুমি আছো এ হাতে, 
হাতের তালু, তর্জনিতে...
হৃদয়ে-হৃদয়ে
ছুঁয়ে দেখ
পরখ কর এ আমাকে
যতখানি তুমি চাও আমি তাই আছি কিনা। 

এখানে একটুখানি বস 
বৈষ্ণবী হাতে ছুঁয়ে দেখ বুকের চৌকাঠ 
তোমার প্রতীক্ষায়
মন্জিলে মন্থিত চন্দ্রিমা নিলয় আমার।

রাবেয়া পারভীন/২য়পর্ব




দুরের বাঁশি 
রাবেয়া পারভীন
( ২য়পর্ব)



প্রথম  দেখাতেই  শুভকে ভালো লেগে গিয়েছিলো লাবন্যর।  শুভর সাথে যখন প্রথম কুশল বিনিময়  হচ্ছিলো  কি যেন এক অজানা ভালোলাগায় বুক কাঁপছিলো  লাবন্যর। তারপর  কখন সেটা ভালোবাসা হয়ে গেছে  লাবন্য বুঝতেই পারেনি। অথচ  শুভর খুব নিঃস্পৃহ  ভাব। যখনি শুভর দেখা পেত কথা হতো  লাবন্যর চোখের পাতায় কাঁপন  ঠোঁটে কাঁপন  যা বলতে চাইত তা না বলতে পারার কষ্ট  লাবন্যকে উদাসীন  করে তুলতে লাগলো। মনে মনে বলত
-আচ্ছা শুভ  তুমি কি আমার কিছুই বোঝ না ?  নাকি অন্য  কোথাও  ডুবে আছো তুমি ?   
ইচ্ছে করেই কিছুদিন  খবর নেয়না  শুভর । নিজেকে ভুলিয়ে রাখতে চেষ্টা করে । সে আর খবর নিবেনা। দেখবে ওর মনে পড়ে কিনা লাবন্যকে। একসপ্তাহ কেটে গেল  শুভর দেখা নেই।  অভিমানী চোখে জল গড়ায়। নিজেকে বোঝায় লাবন্য 
- দুর কোথাকার কে ?  না নিল খোঁজ তো বয়েই গেল। সে আমার কে ? মন বলে কিছু নেই লোকটার।
মনটা  যখন ভেংগে পড়ছিলো তখন হঠাৎ শুভর  সাথে দেখা। সেই  সদা  হাস্যময়  মুখ। 
- কেমন  আছেন  লাবন্য ? 
মুহূর্তেই  সব অভিমান  উধাও হয়ে গেল।
- ভালো আছি  আপনি ভালো আছেন তো ? 
স্মিত  হেসে উত্তর দেয় শুভ
- ভালো আছি । তবে অনেকদিন  আপনার দেখা নেই খুব মিস করেছি আপনাকে।  
 -সত্যি ???
- হ্যাঁ সত্যি,  কেন নয়।?   
বিস্ময়ের  ঘোর কাটেনা  লাবন্যর।



চলবে...

২৭ ডিসেম্বর ২০২১

মমতা রায় চৌধুরী/৭৮




উপন্যাস 


টানাপোড়েন ৭৮
যন্ত্রণার আঁচড়
মমতা রায় চৌধুরী


স্কুলে ঢুকতে ই এক অভিভাবক এসে জিজ্ঞেস করলেন'আপনি কি রেখা ম্যাম?'
রেখা বলল' হ্যাঁ ।কেন বলুন তো?'
অভিভাবক বললেন 'নমস্কার,আপনি ফোন করেছিলেন?'
রেখা বলল ' আমি?
অভিভাবক বললেন ' প্রজেক্ট এর ব্যাপারে।'
রেখা বলল'হ্যাঁ ,ফোন করেছিলাম আপনার মেয়ের নাম কি?'
অভিভাবক বললেন' রিয়া মল্লিক।'
রেখা হাত বাড়িয়ে বললেন ', হ্যাঁ হ্যাঁ, দিন।'
বড়দি লক্ষ্য করে একবার মুচকি হেসে ঘরে ঢুকে পড়লেন।
গার্জেনের কাছ থেকে খাতাটা নিয়ে বড়দিকে গিয়ে রেখা বলল'দেখলেন দিদি তাও একজন গার্জেন এসে দিলেন ।বাকিদের মধ্যে কেউ তো সুইচড অফ করে দিচ্ছেন, আবার কেউ ফোন ই  তুলছেন না।'
বড়দি বললেন 'খুবই সমস্যার কথা।'
রেখা বলল' তাহলে কি করবো এখন?'
বড়দি বললেন'আর দুটো দিন দেখো, যদি না দেয়, তখন নয় বিষ্ণুকে পাঠাবো'।
রেখা বলল ' ঠিক আছে বড়দি, যেমন বলছেন তেমনই হবে। আসছি তাহলে  বড়দি।'
বড়দি মাথা নেড়ে সম্মতি জানালেন।
রেখা চলে আসছে ঠিক তখনই পেছন থেকে বড়দি ডাকলেন। 'রেখা শোন।'
রেখা গিয়ে বলল'কিছু বলবেন বড়দি?'
বড়দি বললেন'সামনের সপ্তাহে রিম্পার ফেয়ারওয়েল দেয়া হবে। তোমাকে আগে থেকেই জানিয়ে রাখছি, কারণ তুমি তো মাঝে মাঝেই ছুটি নিচ্ছো এজন্য।'
বড়দির কথাটা শুনে রেখার বুকের ভেতরে যেন একটা কেমন যন্ত্রনার আঁচড় কেটে গেল। রেখার চোখে মুখের অভিব্যক্তিতে তা স্পষ্ট ধরা পরলে ,বড়দি বললেন 'দেখ রেখা ,পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সদ প্রচেষ্টায় বহু শিক্ষক-শিক্ষিকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত  বাড়ির কাছে যাবার স্বপ্ন 'উৎশ্রী'সোনায় সোহাগা করে দিয়েছে। সেজন্য মন খারাপ না করে এটাকে মেনে নাও।'
রেখা বলল' হ্যাঁ দিদি, সে তো মানতেই হবে।'
এরইমধ্যে রিম্পাদির গলা শোনা গেল 'রেখা কোথায় গেল বলতে বলতেই বড়দির ঘরের দিকে উঁকি দিয়ে দেখে ঢুকে বলল 'তুই এখানে ।আমি কত জায়গায় তোকে খুঁজে বেড়াচ্ছি ।একবার ক্লাসের দিকে গেলাম ভাবলাম বোধহয় টুয়েলভের ক্লাসে আছিস ,গিয়ে দেখলাম নেই।'
রিম্পাদি রেখার কাছে এসে হাত দুটো ধরে ঝাঁকুনি দিয়ে বলল' কিরে কথা বলছিস না?'
রেখার চোখের জল দেখে রিম্পা  একটু অবাক হয়ে গেল। রিম্পা বলল 'কি হয়েছে?'
বড়দি হেসে বললেন 'রিম্পা তোমার সামনের সপ্তাহে ফেয়ারওয়েল টা আছে ওকে জানালাম তার থেকে মুখটা কেমন ভার হয়ে আছে দেখো।'
রিম্পা  বলল' আমি জেনেও ওকে সাহস করে বলতে পারছিলাম না ।বড়দি ,যাইহোক আপনি বলে দিয়েছেন, ভালোই হলো। না হলে হঠাৎ করে আগের দিন জানতে পারলে আরো বেশি কষ্ট পেত।'
রেখা বলল 'না ,না কষ্ট পাবার কি আছে ?ধরে তো আর কাউকে রাখা যাবে না।'
রিম্পা বললেন 'দেখলেন বড়দি?'
বড়দি বললেন 'অভিমানবশত কথাগুলো বলছে। ওর ভেতরটা তো যন্ত্রণায় দগ্ধ হচ্ছে।'
রিম্পা পরিস্থিতি হালকা করার জন্য রেখার গাল দুটো ধরে  বলল' 'বড়দি, দেখুন  ফর্সা গাল দুটো কেমন অভিমান এ লাল হয়ে গেছে।'
বড়দি  বললেন'হ্যাঁ তাই তো?'
রেখা বলল ' বড়দি আসছি।''
রিম্পা  বলল 'বড়দি  আসছি।'
বড়দি বললেন "হ্যাঁ এসো।'
আরো বললেন আচ্ছা আজকে টিচার্স নন টিচিং স্টাফ সকলের সঙ্গে দুটো থেকে একটা মিটিং আছে ।ওটা পঞ্চমী নোটিশ টা সার্ভ করল কিনা দেখ তো?'
রিম্পা বলল 'ঠিক আছে বড়দি।'
রিম্পা আর রেখা যখন স্টাফ রুমে ঢুকলো অনিন্দিতার বিয়ে নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল।
কে কি শাড়ি পরবে? কে কি অর্নামেন্টস পড়বে বেশ জমিয়ে আলোচনা চলছে। টিফিন আওয়ার্স ক্লাসের চাপ নেই।
অনুরাধা বলল 'হ্যাঁ রে রেখা। তুই কি শাড়ি পরবি?'
রেখা কোন উত্তর দিল না।
অনুরাধা সকলের মুখের দিকে তাকিয়ে একটা বিশেষ ভঙ্গি করলো।
শিবানী বলল'রিম্পাদি যাচ্ছ তো?'
রিম্পা বলল'( যাবার ইচ্ছে তো আছ?'
অনুরাধা বলল 'রে'খার কিছু হয়েছে রিম্পা? '
 রিম্পা বলল'⁹ না তো?'<
শিবানী বলল "ওর মুখটা ভারী, তাই বলছিলাম।
রিম্পা শিবানীর কথায় কান না দিয়ে বলল' সবাই শোনো একটু মিটিং আছে । বড়দি আমাকে বলতে বললেন ,তাই বললাম।'
এরইমধ্যে ঘন্টা পড়ল।
এরমধ্যে বড়দি ঝড়ের গতিতে স্টাফ রুমে ঢুকে বললেন 'আজকে মিটিং ডাকা হয়েছে মূলত পরীক্ষা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য।
আগামী সপ্তাহে স্কুলের টেস্ট পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।
আপনারা সবাই চেষ্টা করবেন এই সময় গুলোতে ছুটি না নেবার ‌। পরীক্ষার দিনগুলোতে কোন সি এল গ্রান্ট হবে না।'
শিবানী বলল 'কিন্তু দিদি, কারুর তো কোনো আর্জেন্ট প্রয়োজন হতে পারে?'
অনুরাধা বলল' হ্যাঁ দিদি ঠিকই তো।'
বড়দি সে কথার কোন গুরুত্ব না দিয়ে বললেন' নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো কার্পণ্য করবেন না আর নম্বরগুলো এবং খাতাগুলো খুব যত্ন করে রেখে দেবেন সংসদ চেয়ে পাঠালে পাঠানো হতে পারে।'
অনুরাধা বলল 'দিদি পরীক্ষাসংক্রান্ত বাইরে একটা কথা বলতে চাই?'
বড়দি বললেন 'হ্যাঁ বলুন।'
অনুরাধা বলল 'অনিন্দিতা জানতে চাইছে কতজন মোটামুটি ওর বিয়েতে অ্যাটেন্ড করছে। '
বড়দি বললেন 'সেটা আলোচনা করে তোমরা ঠিক করো।'ঠিক আছে মিটিং এখানেই শেষ হলো।'
শিবানী বলল "রেখা কিছু বল বিয়েতে যাবার ব্যাপারে?"
অনুরাধা বলল'সব ব্যাপারে ওর  উৎসাহ বেশি থাকে। মনমরা হয়ে থাকলে ভালো লাগে না।স্কুল থেকে গাড়ি করা হচ্ছে ।কে কে যাবে আমাকে জানিও।'
শিবানী বলল' হ্যাঁ কজন যাচ্ছে সেই বুঝে সেরকম গাড়ি করতে হবে।'
রিম্পা বলল 'আমি আর রেখা যাচ্ছি।"
শিবানী বললো 'তাহলে আমরা মোট 10 জন হচ্ছি'। 'অনুরাধা বললো তাহলে দুটো গাড়ি করতে হবে।
ইতিমধ্যে টিফিন শেষ হওয়ার  ঘন্টা পড়ে গেছে পাঁচ মিনিট হয়ে গেল। 
বড়দি এসে বললেন" আপনাদের আলোচনা এখনো হচ্ছে? দেখুন দেখুন কার কি ক্লাস আছে?'
আলোচনায় যেন একটা ছন্দ পতন ঘটল। প্রত্যেকে তড়িঘড়ি করে ক্লাসে যাবার জন্য তৈরি হয়ে গেল।'
রেখার কানে আজকে এই সমস্ত কথা কোনো রেখাপাত করল না।ক্লাস ছিল না বলে স্টাফ রুমে ই ছিল রেখা।তখন ফোন বেজে উঠলো। রিংটোন বাজতে শুরু করলো-
'সবাই তো সুখী হতে চায়..?
রেখা ফোনটা রিসিভ করে বলল' হ্যালো'।
মনোজ বলল' কখন ফিরছো?'
রেখা বলল 'স্কুল ছুটি হলে?'
মনোজ বলল আজকে বড়দিকে বলে একটু তাড়াতাড়ি আসতে পারলে না পার্থদের বাড়ি কাজ ছিল।'
রেখা বলল' বলার স্কোপ পাই  নি।'
মনোজ  বললো' তোমার কি কিছু হয়েছে?'
রেখা বলে কই না তো?
মনোজ  বলল' মনে হচ্ছে যেন ভেতরে কত কষ্ট, কিছু লুকিয়ে যাচ্ছ?'
রেখা বলল' না সেরকম কিছু নয়।'
মনোজ  বলল' আজকে একবারও ফোনও করলে না?'
রেখা বললো' সময় পাই নি।'
মনোজ বলল 'ঠিক আছে ফোন রাখছি।'
ফোনটা কেটে দিয়ে শুধু ভাবতে লাগলো যাকে ভালোবাসা যায় তাকে চিরদিন আটকে রাখা যায় না ।ভালোবাসা তো ক্ষনিকের সুখ দিয়ে চিরস্থায়ী করে যায় ।শীতে শিশির স্নাত দূর্বা ঘাসে সূর্যের কিরণে উজ্জ্বল আলোর সৃষ্টি করে তাও তো ক্ষণস্থায়ী অথচ তা মনমুগ্ধকর ।সেই সুখস্মৃতি নিয়েই পরের দিনের অপেক্ষা। রিম্পাদি রেখার জীবনে সেই সুখস্মৃতি ।কল্পনার সমুদ্রে সুখটাকে নেড়েচেড়ে আগামী দিনগুলোতে পথ চলা।  গোধূলি বেলায় সেই ম্লান সূর্যের আলোর দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ফেলে রেখা শুধু বলে ওঠে এই তো জীবন।এই তো জীবন।এই তো জীবন।

ফারজানা আফরোজ 




স্বপ্ন বাড়ি


 
মেঘের ওপার আমার বাড়ি
বাড়ি ঘিরে স্বপ্ন বুনি
আলোয় সাজুক স্বপ্ন বাড়ি
মনের মাঝে পিদিম খানি
জ্বলে নিভে দিবা-নিশি।

মেঘের ওপর ভাসছে বাড়ি
মেঘ থেকে রং করি চুরি
তাই তো বাড়ি রং বাহারি
বাড়ির মাঝে নকশা আঁকি।

চাঁদের বুড়ি নকশা কাটে
হরেক রকম গল্প বলে
সোনালি সব স্বপ্ন বুনি
ছন্দে ছন্দে চলে তরী।

দূর্বা ঘাসে শিশির ঝরে
রবির আলোর ঝিলিক পেয়ে,
মুক্তো যেন হেসে ওঠে।
আকুল‌ হল নয়ন খানি
ঝরা পাতার শব্দ শুনি।

সাঁঝের আকাশ রঙিন হলে
নদীর জলে গিয়ে মেশে।
ধীরে আঁধার নেমে আসে
সন্ধ্যাতারা পূব আকাশে।
হৃদ মাঝারে ইমন বাজে রাগে
বাজুক তবে বাজুক প্রাণে।

কাঁঠাল চাঁপা গন্ধ ছড়ায়
বনবীথির নিবিড় ছায়ায়-
সবুজ যেথা রং ছড়ায়,
কাটে না তার মোহ,মায়া।

ফয়জুর রহমান  ( ইংল্যান্ড ) 





দিন চলে যায় 


জীবন যখন খুব ছোট্ট হয়ে আসবে, 
সেদিন ও গোলাপ ফুটবে, 
শাপলা জলে ভাসবে, পাখিরা গাইবে, 
চারিপাশে প্রিয়জন থাকবে ! 

এই সুন্দর রাতদিন,
কালের গর্ভে একদিন, 
ঠিকই হারিয়ে যাবে। 

কেউ না কেউ হয়ত মনে রাখবে !
যতদিন বেঁচে থাকবে।
ভালোবাসা কখনো কি ফুরাবে ! 

প্রতিটি জীবন বেঁচে থাকবে,
তারই প্রিয়জনের অন্তরে,
সেদিন কেন তুমি কাঁদবে !  
সবাই ই একদিন চলে যাবে।

শামীমা আহমেদ /পর্ব ৪১





শায়লা শিহাব কথন
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৪১)
শামীমা আহমেদ 

মায়ের ডাকে নিজের ঘর থেকে শায়লা বেরিয়ে এলো। ডাইনিংএ এসে মায়ের সাথে নাস্তা সারলো। সব কিছু মা'ই এগিয়ে দিলো। শায়লা  কেমন যেন একটা জড়তা নিয়ে অতিথির  মত বসে রইল।মা যা এগিয়ে দিচ্ছে শুধু সেটাই নিচ্ছে। শায়লা শুধু নিজের গ্লাসে  পানি ঢেলে নিলো। এক গভীর ভাবনায় সে ডুবে আছে।অন্য সময় নিজেই সকালে টেবিলে নাস্তা সাজিয়ে মাকে ডাকতো।একসাথে নাস্তা করতো।মায়ের সবকিছুর খোঁজ নিতো কিন্তু আজ  অন্য রকমের পরিবর্তন তার মাঝে। মা শুধু বিস্মিত হচ্ছিল! শায়লা যে কল্পনায় শিহাবের ভাবনায় ডুবে আছে মায়ের কাছে তো তা অজানা।আজ সকালের শিহাবের মেসেজটি দেখার পর আরো যেন সুখ স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছে সে। অবশ্য শায়লার মনের এই পরিবর্তন   এ বাড়িতে একমাত্র রাহাতই বুঝতে পারে। শায়লা নাস্তা সেরে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে টেবিল ছেড়ে উঠে এলো।মা অবাক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল।
দরজায় কলিং বেল বেজে উঠলো। শায়লার সেদিকে একেবারেই খেয়াল নেই।মা এগিয়ে এসে দরজা খুললেন।কাজের বুয়া বাসায় ঢুকলো। শায়লা তাকে পাশ কাটিয়ে নিজের রুমে ঢুকে গেলো।অন্য সময় এই কাজের বুয়ার সাথে  আজ  রান্নায় কী আয়োজন , আর সেজন্য কী কী করণীয় তার নির্দেশনা দিয়ে রান্নার খুন্তিটা নিজের হাতে নিয়ে নিতো। কিন্তু অসুস্থ হওয়ার পর থেকে আর রান্নাঘরে যাওয়া হয়নি।আর শায়লার এ ব্যাপারে কোন আগ্রহও যেন নেই।সারাক্ষণ  অচেনা একটি মানুষের জন্য  কোন সুদূরের ভাবনায় একেবারে নির্লিপ্ত হয়ে থাকা।

চায়ের কাপ হাতে নিয়ে শায়লা নিজের ঘরে এলো ।ঘরের  দরজা লাগিয়ে বিছানার দিকে এগিয়ে গেলো। বিছানায় বসতেই মেসেঞ্জারে  শিহাবের কল। শায়লা বেশ কিছুক্ষন মোবাইল স্ক্রিনে তাকিয়ে শিহাবকে দেখে নিলো কেমন যেন একটা অনুভুতি হতে লাগলো। চায়ের চুমুক দেয়া ভুলে গেলো।চোখ মোবাইলে আটকে গেলো। হাত বাড়িয়ে মোবাইলটা ধরতে শায়লার হাত কাঁপছিল। 
সাইড টেবিলে চায়ের কাপ রেখে শায়লা কল রিসিভ করলো।এমনিতেই সকালের কলটা ধরা হয়নি। কল ধরতে দেরী হলে শিহাব ভীষণ অস্থির হয়ে উঠে। শায়লা তাই দ্রুতই কলটা রিসিভ করলো। আজ প্রায় দশদিন পর শিহাবের কন্ঠস্বর শুনছে। শায়লা একদম অনুভুতিহীন নিঃসাড় হয়ে গেলো। 
ওপ্রান্তে শিহাব বলেই চলেছে, শায়লা তুমি কেমন আছো,শায়লা তুমি কেমন আছো? 
অস্ফুট স্বরে শায়লা ছোট্ট করে উত্তর দিলো
ভালো।সে নিজেই তা শুনেছে কিনা  সন্দেহ।
হ্যাঁ শায়লা আমি চাই তুমি দ্রুতই ভালো হয়ে উঠো, তোমাকে নিয়ে আমি ভীষণ চিন্তিত হয়ে গিয়েছিলাম।কেন তুমি আমার কথা ভুল বুঝে এতটা অসুস্থ হয়ে গেলে?
শিহাবের কথায় শায়লার সেদিনের রেস্টুরেন্টের  সব স্মৃতি ভেসে এলো।রিকশায় করে সেই যে তার একা একা বাসায় ফিরে আসা।পথটা সেদিন খুব দীর্ঘ লাগছিল।আশেপাশের মানুষগুলোকে অদৃশ্য  লাগছিল।শায়লা ভেবে নিয়েছিল তার জীবনটা আজ এখানেই যেন শেষ হয়ে যায়। জীবনটাকে আর টেনে নেয়ার ইচ্ছে তার নেই। শিহাবকে মনে হচ্ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে   বিশ্বাসঘাতক  একজন মানুষ। 
ওপ্রান্তে শিহাব অপেক্ষায়। শায়লার বুকের ভেতর অনেক জমাটবাধা উত্তর। কিন্তু অভিমানে অনুযোগে তা আর বেরিয়ে আসতে চাইছে না। শায়লার চোখ জলে ভরে উঠলো। 
শিহাব ঠিকই বুঝতে পেরেছে শায়লার এই নীরবতার মানে।
শিহাব বলেই চলেছে, শায়লা রাহাতের সাথে আমার কথা হয়েছে।তুমি কি সবকিছু জেনেছো? রাহাত কী সবকিছু তোমাকে জানিয়েছে।শায়লা একেবারেই নিরুত্তর। 
শায়লার মনে অবস্থা শিহাব বুঝতে পারলো।
সেদিনের কথাগুলোর জন্য সে নিজেও বেশ অনুতপ্ত।কিন্তু সেদিনের সেই কথাগুলো না হলে আজ এত কাছে আসার, মনস্থির করা যেতো না।সবকিছুতে সৃষ্টিকর্তার একটা কার্যকারণ থাকে,আর তা অবধারিতভাবে  ঘটবেই। শিহাব এই কথাটি ভীষণভাবে বিশ্বাস করে।শায়লার এমন পিনপতন নীরবতায় শিহাব বুঝে নিলো শায়লার ভেতরের ক্ষতটা এখনো শুকায়নি। শিহাব ভেবে নিলো ঠিক আছে ও আরেকটু সময় নিক। শিহাব বলে চললো, শায়লা আমি অফিসে যাচ্ছি। যাবার আগে তোমার কন্ঠস্বরটা শোনার খুব ইচ্ছে হচ্ছিল। ঠিক আছে। তোমার মন ভালো হলে আমাকে কল করো।আজ সকালের মেসেজট দেখেছো কি? শিহাব তাই ইচ্ছে করেই মেসেঞ্জারে কল দিয়েছে।
এবার শায়লা শুধু বললো,দেখেছি। 
আচ্ছা তাহলে পরে কথা হবে।অফিসে দেরী হয়ে যাচ্ছে।শায়লা আমরা দুজনে একদিন ঐ অনেকদূরে  আমার সেই প্রিয় জায়গাটিতে বেড়াতে যাবো।
শায়লার 'আচ্ছা' শব্দটি খুব নিচুস্বরে শোনা গেলো।
শিহাব বাই বলে কলটা এন্ড করে দিলো। অভিমানী মন নিয়ে নীরব থাকলেও এখন যেন শিহাবের শূন্যতাটা ধক করে এসে বুকে লাগলো। শায়লা শিহাবের ছবিটি দেখছিল মন দিয়ে।সানগ্লাস দিয়ে চোখটা ঢেকে আছে কিন্তু শায়লার শিহাবের চোখ দুটো দেখতে খুব ইচ্ছে করছে।এরপর শিহাবকে বলবে সানগ্লাস ছাড়া একটা ছবি পাঠাতে।দেখা যাক আর এভাবে কথা বলা হয় কিনা যে এতটা আবদার করবে। বিষয়টি হয়তো শিহাব সহজভাবে নিবে নয়তো একেবারেই
এড়িয়ে যাবে।শায়লা নিজের মনের সাথে নিজেই কথা বলে চলেছে। 

রাহাত অফিসের লাঞ্চ ব্রেকে বের হয়ে অফিসের গাড়ির সাহায্য নিয়ে  গুলশান আড়ং এ চলে এলো।শায়লা আর মায়ের জন্য দুটো  শাড়ি কিনবার উদ্দেশ্যে। নায়লার জন্য আগেই  কেনা হয়েছিল।সেগুলো  নিয়ে তো আর যাওয়াই হলোনা। একদিন যেতে হবে মাকে নিয়ে। শিহাব চট করে দুটো  শাড়ি চয়েস করে নিলো। শায়লার জন্য খুব সুন্দর একটা সাগর নীলের সিল্ক শাড়ি আর মায়ের জন্য নরম কটন শাড়ি।মা এতেই বেশ আরামবোধ করে। 
শিহাব অফিসে পৌঁছে লাঞ্চ বিরতিতে শায়লার খোঁজ খবর নিলো।সে শাওয়ার নিয়েছে কিনা,খেয়েছে কিনা,এখন কি করছে? শায়লা এবেলায় যেন একটু ফ্রি হয়েছে। একে একে সবগুলো প্রশ্নের উত্তর দিয়ে গেলো।শিহাবেরও মন সারাদিন   শায়লাকেই ভেবে চলে আর এই ভেবে অবাক
হয়ে যায় সে কতভাবেই না শায়লাকে সতর্ক করেছিল যেন দুজনের মধ্যে কোন ভালবাসার সম্পর্ক না দাঁড়ায়।কিন্তু সব শর্তই আজ আর মনের দাবীর কাছে হার মানলো।শিহাব আবার সেই কথাটিই ভেবে নিলো, সব কিছুই বিধাতার ছকে ফেলা এক অকাট্য নিয়তি। হয়তো তার বাকি জীবনটা শায়লার
সাথেই বাঁধা।নাহ! শায়লাকে নিয়ে আর কোন ছেলেখেলা হয়।কারো মন নিয়ে এভাবে অন্যায় আচরণ মোটেও গ্রহণ যোগ্য নয়।শুধু একটি আবদারই শায়লার কাছে থাকবে, সে যেন মায়ের আদর বঞ্চিত  তার শিশু সন্তান আরাফকে মায়ের ভালবাসা দিয়ে বড় করে তোলে। এ ব্যাপারটা আগেই শায়লাকে জানিয়ে তার সম্মতি নিয়ে রাখতে হবে।
শায়লার কাছ থেকে ফোনে বিদায় নিয়ে শিহাব কাজে মন দিল।


চলবে...

শান্তা কামালী/৫০ তম পর্ব





বনফুল
( ৫০ তম পর্ব ) 
শান্তা কামালী

বিকাল পাঁচটা বাজতেই জুঁই ছাদে উঠে প্রিয় ফুলের গাছ গুলোতে পানি দিচ্ছে আর দেখছে গাছগুলো কেমন ফুলে ফুলে ভরে উঠছে,ভীষণ সুন্দর লাগছেব !  ছাদে উঠে জুঁইয়ের মনটা ঝরঝরে হয়ে গেলো,ঘন্টা খানিক সময় ছাদেই কাটিয়ে সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে নিচে নেমে এলো জুঁই। বেসিনে হাত মুখ ধুয়ে বাবা-মার জন্য অপেক্ষা করছে কখন ওনারা নামাজ শেষ করে আসবে... ময়না টেবিলে নাস্তা পরিবেশন করছে, জুঁইয়ের মা-বাবা নামাজ আদায় করে এলেন। জুঁই বাবা-মার সাথে চা নাস্তা খেয়ে উপরে উঠে এলো। অনেক দিন পড়াশোনার সাথে কোনো যোগাযোগ নেই.... 
পড়ার টেবিলে বসে তিনঘণ্টা সময় পড়তে চেষ্টা করলো জুঁই। দশটা বাজতেই জুঁই নিচে নেমে এসে ডিনার শেষ করে বাবা-মাকে গুডনাইট বলে ওপড়ে উঠে গেলো। রাত প্রায়এগারোটা পলাশ যাওয়ার পরে এই প্রথম ভিডিও কল করলো জুঁইকে, আনন্দে বাকরূদ্ধ হয়ে গেছে জুঁই।কোনো রকম কথা বলছে না দেখে পলাশ বললো এই জুঁই কি হয়েছে তোমার, কথা বলেছো না কেন ?  
পলাশের কথায় জুঁই নিজের মধ্যে ফিরে এলো... 
জুঁই বললো আগে তোমাকে ভালো করে দেখতে দাও,  পলাশ তুমি কিন্তু অনেকটা রোগা হয়ে গেছো। 
পলাশ হাহাহা হাহাহা করে হেসে উঠলো জুঁই তুমি সত্যি সত্যিই একটা বদ্ধ পাগলী ।
অনেক সময় দু'জনে কথাবার্তা বললো। এখন পলাশ ভার্সিটি কাছে স্থানীয় একটি বাড়িতে পেয়িং গেস্ট হিসাবে একটা সিঙ্গেল রুমে থাকছে। এইজন্যই ভিডিও কল করা সম্ভব হয়েছে । পলাশ বললো জুঁই আস্তে আস্তে পড়াশোনায় একটু মন দাও, শরীরের প্রতি যত্ন নিও লক্ষীটি । 
এখন রাখছি, গুডনাইট পলাশ ফোন রাখার আগে একটা ফ্লাইং কিস ছুঁড়ে দিলো জুঁই, বললো সেম টু ইউ, গুডনাইট।


চলবে....

রাবেয়া পারভীন/১ম পর্ব

শুরু হলো রাবেয়া পারভিনের নতুন ধারাবাহিক গল্প " দুরের বাশিঁ "




দুরের বাঁশি
(১ম পর্ব)



দুইদিন ধরে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে থেকে অস্থির হয়ে উঠেছে লাবন্য। অসুস্থ হয়ে ভর্তি হয়েছিলো হাসপাতালে, খুব যত্নআত্তিও পাচ্ছে তবুও যেন হাঁপিয়ে উঠেছে,। মনে হচ্ছে  কারাগার। দুই বেলা ডাক্তার আসছে  দেখছে । এক ডাক্তার তো এসেই দাঁত কেলিয়ে  হাঁসে অযথাই  ব্যাক্তিগত প্রশ্ন করে  করে  ঝালাপালা করে দিচ্ছে লাবন্য কে। একেক সময়  মনে মনে হাঁসিও পায় লাবন্যর। এই দুনিয়ায় কত রকমের মানুষ যে আছে। গতকাল  সারারাত ঘুম হয়নি  লাবন্যর।  ভোর বেলা বিছানা থেকে নেমে কেবিনের বারান্দায়  এলো লাবন্য।  বারান্দাটা  পূব দিকে তাই আজকে  সূর্য উঠা ভোর দেখবে সে। চারপাশে  আবছা অন্ধকার। অন্ধকার ভেদ করে  আলো ফুটছে চারপাশে।  কি মিষ্টি  সকাল, মৃদুমন্দ  হাওয়া বইছে। এমন সুন্দর একটা ভোরে  শুভকে যদি  কাছে  পাওয়া  যেত। শুভর হাতে  হাত রেখে সূর্য  উঠা দেখতে পারতো । লাবন্যর এলো চুলে  হাত বুলিয়ে দিত।   ভাবতে  চেষ্টা করলো লাবন্য  শুভ এখন কি করছে ?  নিশ্চই  ঘুমাচ্ছে। ওকে কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি  খুব ভোর বেলা সে ঘুম থেকে উঠে কিনা ।  আস্তে আস্তে  সূর্য দেখা দিল আকাশে  কি সুন্দর !  একটুও তেজ নেই। লাল টুকটুকে  ঠিক যেন ভোরের আকাশের  কপালে গোল টিপ।   ঐ সূর্যের মত  বড় আর লাল টুকটুকে একটা টিপ কপালে পরবে একদিন  লাবন্য  তারপর শুভকে দেখাবে  বলবে 
-দেখোনা  শুভ আমাকে কেমন লাগছে ?
শুভর মুখটা মনে করে  নিজের মনেই হাসলো লাবন্য।  কি যে সুন্দর  মুখটা শুভর । ঐ মুখে চেয়ে চেয়ে পার করে দেয়া যায় অনন্ত কাল। নির্ঘুম সারারাত শুধু শুভকেই ভেবেছে আচ্ছন্নের  মত  শুয়ে থেকে মনে হয়েছে  শুভ যেন তাঁর বুকের কাছটিতে এসে বসেছিল। খুব খুনশুটি করছিলো  আর উপভোগ করছিলো লাবন্য।  একটা অজানা ভালোলাগায় ভরে ছিলো  মন।


চলবে...

২৬ ডিসেম্বর ২০২১

কবি শারমিন সুলতানা'র কবিতা




হয়তো একদিন 

শারমিন সুলতানা 


আমিও মানুষ আমারও মন খারাপ হয় তাই
বেশি ভালোবাসি বলেই হয়তো
বেশি কষ্ট পাই।

তোমাকে পাবো আশ্বাসে বিশ্বাসে
এ টুকুইতো চাওয়া ছিলো রাই
কষ্টে ভরিয়ে দিবে জানি তবুও
ইচ্ছে করেই তোমাতে হারাই।

অবহেলার বিনিময়ে খুব করে ভালোবাসি 
একা আমারই যেনো দায়,
হয়তো একদিন বুঝবে ঠিকই
তখন দেরি না হয়ে যায়

দুর অজানায় হারিয়ে যাবো 
সবকিছু ছিন্ন করে হায়
তেপান্তরে পারি জমাবো চিরতরে 
খুঁজবে শুধু এই আমায়।

সকল সুখ হোক যে তোমার
ভালো থেকো প্রাণের সই
এক বুক দীর্ঘশ্বাস নিয়ে না হয়
আমিই মাটির বহরে পরে রই।

মমতা রায় চৌধুরী /৭৭ পর্ব




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ৭৭
রেখার স্কুল যাবার পথে
মমতা রায় চৌধুরী


পার্থ একেবারে হাঁপাতে হাঁপাতে এসে মনোজদের বাড়ির দরজায এসে কলিং বেল বাজালো 'জয় গনেশ ,জয় গনেশ, জয় গনেশ দেবা... ।'বেশ কয়েকবার কলিংবেল বেজে গেল। লিলি ,পাইলটদের ভৌউ ভৌউ গলা শোনা যাচ্ছে।
 পার্থ ভাবছে 'কি ব্যাপার বৌদিরা দরজা  খুলছে না কেন?'
এবার পার্থ জোরে জোরে ডাকতে লাগল 'ও মনোজদা ,মনোজদা .আ.আ ,মনোজদা...।
রেখা বাথরুমে ঢুকেছিল আওয়াজ পেয়ে তাড়াতাড়ি বাথরুম থেকে বেরোতে গিয়ে দরজায় এমন জোরে ধাক্কা লাগল , জান মনে হচ্ছে বেরিয়ে যাবে।শীতকাল তো খুব কষ্ট হচ্ছে । যন্ত্রণাগ্রস্থ অবস্থায়  এসে দরজাটা খুলল।
দরজা খুলেই রেখা বলল 'ও পার্থ তুমি?'
পার্থ বলল' কি বৌদি কখন থেকে আপনাদের ডাকছি।'
রেখা বলল ' আর বোলো না ভাই, আমি একটু বাথরুমে ছিলাম বেরোতে পারছি না। দরজার কলিংবেলের আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি কিন্তু কি করবো বলো?'
পার্থ বলল' মনোজ দা কোথায়?'
রেখা বলল 'আজকে একটু বলল ওর এক বন্ধুর বাড়িতে যাবে।তাই সকাল সকাল একটু বের হল?'
রেখা বলল ' দরজায় দাঁড়িয়ে কথা কেন ?ভেতরে এসো।'
পার্থ ভেতরে ঢুকে আসলো।
রেখা চেয়ারটা এগিয়ে দিয়ে বলল 'এখানে বসো।'
পার্থ চেয়ারটায় বসে বলল'বৌদি, আজকে তো ভাইয়ের  কাজ ।সকাল সকাল বাড়িতে আসবেন কিন্তু?'
রেখা বলল 'কিন্তু আজকে তো আমাকে একটু স্কুলে যেতে হবে ভাই?'
পার্থ বলল' আজকে স্কুলে যেতেই হবে বৌদি?'
রেখা বলল 'হ্যাঁ ভাই।'
পার্থ বলল 'তাহলে দাদাকে অন্তত পাঠিয়ে দেবেন।'
রেখা বলল' হ্যাঁ ভাই ।সে তো যাবেই।'
পার্থ বলল ' মা কিন্তু আপনার জন্য ওয়েট করবে।'
রেখা বলল' মাসিমাকে একটু বুঝিয়ে বলে দিও।'
পার্থ বলল 'তাহলে আর বেশিক্ষণ বসবো না বৌদি ।কথাও বাড়াব  না। আপনাকে যে তুই স্কুলে যেতেই হবে ।আপনার তৈরি হবার ব্যাপার রয়েছে।'
রেখা  শুধু হেসে সম্মতি জানায়।
পার্থ বেরিয়ে গেল রেখা দরজাটা দিল । তারপরই মিলির আর বাচ্চাদের খাবারটা গিয়ে দিয়ে আসলো।
মিলি আর ওর বাচ্চারা কত প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে রেখার দিকে' ।যেন ওদের আশাভরসা সবকিছু রেখা।
আজকে রেখার দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওদেরকে খাওয়ানোর সময় ছিল না। তাই খাবার থালা টা রেখে দিয়ে আসলো তারপর দুপুরের খাবারটা রেডি করল। পার্থ আসার আগেই গ্যাসে চাপানো ছিল তরকারি বেশি কিছু করতে পারে নি ।ডিমের কারি, ইলিশ মাছ ভাজা আর পালং শাকের ঘন্ট।
এবার ব্রেকফাস্ট রেডি করল। একটা ডিমের পোচ তৈরি করার জন্য একটা প্যান বসিয়ে দিল, তারপর কিছুটা পরিমাণ বাটার দিয়ে দিলil একটু নাড়াচাড়া করতেই ডিমটা ফেটিয়ে ওর উপর দিয়ে দিল, তার ওপর গোলমরিচের গুড়ো , একটু নেড়েচেড়ে নিয়ে ডিমের পোচ রেডি করে দিল। এরপর ঝটপট টোস্টার মেশিনে ব্রেডগুলো সেঁকে নিল। 
রেখা ভাবতে লাগলো ' মনোজ এখনো আসলো না পোচটা তো ঠাণ্ডা হয়ে যাবে। এরপর গাজরের জুস কাঁচের গ্লাসে ঢেলে টেবিলে র ওপর রেডি করে রাখল।
তারপর ফেসওয়াশ দিয়ে  ফেস ক্লিন করার সময় হঠাৎ দরজায় কলিংবেল আওয়াজে চটপট মুখটা ধুয়ে নিয়ে দরজাটা খুলল।
 খুলে দেখল মনোজ।
রেখা বললো 'কি ব্যাপার এত দেরি করলে?'
মনোজ বলল' এতদিন পর গেছি ,বন্ধুকে কাছে পেয়ে
ছাড়তে কি চায়?'
মনোজ রেখা বলল' 'তা না হয় বুঝলাম। কিন্তু তোমার তো ব্রেক ফাস্ট টাইম হয়ে গেছে। ওদিকে ডিমের পোচ করেছি ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে ।
মনোজ বলল 'হ্যাঁ যাচ্ছি ,ভেতরে ঢুকে জুতোটা বারান্দায় রেখে একবার ভালো করে হ্যান্ড ওয়াশ দিয়ে হাত মুখ ভালো করে  ধুয়ে নিয়ে গামছা দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে খাবার টেবিলে বসলো।
মনোজ বলল' আজ ব্রেডের সাথে ডিমের পোচ ?
কাঁচের গ্লাসে কি রেখেছো?'
রেখা ঘরে থেকে সাড়া দিলো ।তাই রাখলাম দেখো বাস্কেটে কলা আছে নিয়ে নাও।'
মনোজ বলল' কাঁচের গ্লাসে ওটা কি রেখেছো? জুস?
রেখা বলল হ্যাঁ। গাজরের জুস।
মনোজ বলল' অ্যাই রেখা ,গাজরের জুস খাবো না।
 প্লিজ।'
রেখা বললো "তা কি করে হয় ছোটদের মতো বায়না করলে তো হবে না ।তোমাকে খেতে হবে।'
মনোজ আর কথা বাড়ালো না। চুপচাপ নাস্তা করতে লাগলো। জানে ,রেখা যদি একবার বলে দিয়েছে তার কথার নড়চড় হবে না।
রেখা বললো 'মিলিদের খাবারটা তুমি দিয়ে দিও দুপুর বেলায়। যদি অসুবিধা হয় ,বাচ্চারা তো বড় হয়েছে ।তাহলে তোমার ওই গৌরীসেন দাদাকে ডেকে নিও।'
মনোজ বলল' ঠিক আছে।'
রেখা বলল'আর শোনো পার্থর ভাইয়ের আজকে কাজ আছে। পার্থ এসেছিল ।তুমি একবার ওখানে দেখা করে এসো কেমন?'
মনোজ বলল 'আজকে তোমাকে স্কুলে যেতেই হবে?'
রেখা বলল 'হ্যাঁ। এত মেডিকেলে নিয়ে নিলাম।আজকে যেতে হবে এই কারণেই সবার প্রশ্ন জমা পড়ে গেছে ।12 ক্লাসের যে 50 নম্বরের প্রশ্ন করেছি সেই প্রশ্নটা তো আমার জমা দেয়া হয় নি ।এদিকে সামনে টেস্ট পরীক্ষা।"
রেখা বাইরে বেরিয়ে এসে জুতো পড়ে পরতে পরতে বলল 'আসছি। সাবধানে থেকো।'
মনোজ বলল' তুমি খেয়েছ?'
রেখা বলল 'না খাবার সময় পাই নি ।আমি টিফিন বক্সে নিয়ে নিয়েছি।'
মনোজ বলল ''তা কি করে হয়? এতটা বেলা হয়ে গেছে, না খেয়ে চললে?"
রেখা বললো' 'আমাকে নিয়ে ভাবতে হবে না। আমি ঠিক খেয়ে নেবো।"
মনোজ বলল 'ঠিক আছে সাবধানে।'
রেখাবলল"আমি কলাপসিবল গেট টেনে দিয়ে যাচ্ছি। তুমি খেয়ে উঠে লক করে দিও।'
বাড়ি থেকে বেরিয়েই দেখতে পেল অটো ।রেখা হাত নেড়ে বলল' অটো দাঁড়াও দাঁড়াও দাঁড়াও।'
অটোআলা কাছে আসতেই দেখতে পেল রেখার পরিচিত মুখ বিধান।
অটো ড্রাইভার বিধান বলল' দিদি ,আপনি এতদিন পর?'
রেখা বলল'-কিছুদিন স্কুলে যেতে পারি নি গো।'
বিধান বলল 'ভাল ছিলেন তো?'
রেখা বলল "হ্যাঁ ছিলাম এক রকম।'
স্টেশনে পৌঁছে ট্রেনের খবর হয়ে গেল দু নম্বর প্লাটফর্মে ট্রেন আসছে। রেখা ছুটতে শুরু করলো।
ট্রেন থামতেই রেখা যাত্রী নামার পর  উঠে পড়ল গাড়িতে ।তারপর জিজ্ঞেস করতে লাগল কে কোথায় নামবে ।
এক যাত্রী বলল 'সে মদনপুর নামবে। 
রেখা  তার দিকে মুখ করে দাঁড়াল আর বলল'আমাকে জায়গাটা দেবেন দিদি।'
 রেখা তার জায়গার দিকে দাঁড়িয়ে  একটা ফোন করল রিম্পাদিকে।রিম্পাদির ফোন কল হয়ে গেল সাড়া দিল না।
এরপর রিম্পাদি নিজেই ঘুরিয়ে রেখাকে ফোন করল
। রেখার ফোন বেজে উঠল' 'আমি কার, কে আমার ,কি যে তার আমি হই..?'
রেখা ওই সময় ব্যাগের থেকে ফোন বের করতে করতেই ফোনটা কেটে গেল ।ইতিমধ্যে সেই দিদি মদনপুরে নামার জন্য তৈরি হতে লাগল । লাগেজ গুলো সব নিজের কাছে রাখলো,উপর থেকে  নামাল এবং ধীরে ধীরে গেটের কাছে এগোতে লাগল।ভদ্রমহিলা উঠে যেতেই রেখা সেই জায়গায় বসল ।এরপর নিজে মিসকলটা দেখে ফোন করলো।রিং হতেই রিম্পাদি ফোন তোলৈ।
রেখা জিজ্ঞেস করল' তুমি কি কৃষ্ণনগর লোকালেই  আছো?'
রিম্পাদি বলল 'হ্যাঁ আছি।'
রেখা বলল 'সামনের লেডিসে আছো, না পেছনে লেডিসে আছো?'
রিম্পাদি বলল 'সামনের। তুই?'
রেখা বলল' পেছনের।'
রিম্পাদি বলল 'ঠিক আছে।'
রেখা সে বলল ' স্টেশনে নেমে কথা হবে।'
রিম্পাদি বলল' হ্যাঁ রে ,তোদের কম্পার্টমেন্টে 
স্মৃতিদি আছে?'
রেখা  বলল 'কই নজরে পড়ছে না তো। কেন কিছু দরকার আছে?'
রিম্পাদি বলল 'আরে গত বছর যে সোয়েটারগুলো নিয়েছিলাম ।মনে আছে তোর ব্লু কালারের?'
রেখা বলল' হ্যাঁ ,তুমি আমি সেম কালারের নিয়েছিলাম।"
রিম্পাদি বলল  'আর ও  দুটো কালার নেব আমি ।সেটা এবছর আছে কিনা?'
রেখা বললো' তোমার নিজের জন্য ,না অন্য কারো জন্য?'
রিম্পাদি' আরে না। মাসতুতো ননদ নেবে।'
রেখা হেসে বলল 'আচ্ছা।'
রিম্পাদি বলল 'যদি দেখা হয় তাহলে এই কথাটা বলে দিস ,কেমন?'
রেখা বললো' ঠিক আছে। রাখছি।
রিম্পাদি বলল 'ওকে'।
রেখা জায়গাটাকে পেয়ে ঘুম দেবে বলে চোখটা বুঝলো।
ক্লান্ত শরীরে ঘুম এতটাই পেয়েছিল যে স্টেশনে গাড়ি পৌঁছালে সব যাত্রী খালি হয়ে যাবার পর হঠাৎ বাইরের প্যাসেঞ্জার সব উঠতে শুরু করলে ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি রেখা নেমে পড়ে।
কিছুটা দূর স্টেশনের দিকে এগোতে রিম্পাদি দেখল সেই পুরনো জায়গায় দাঁড়িয়ে যদি একটু এগিয়ে আসলো তারপর দুজনে হেসে কথা বলতে শুরু করল ওভার ব্রিজ পেরিয়ে এবার টোটো ধরার জন্য অপেক্ষা করতে লাগলো।
রিম্পাদি বলল জানিস তো'কাল এ আই অফিস থেকে যে নতুন স্যার এ আই হয়ে এসেছেন। তোর কথা খুব জিজ্ঞেস করছিলেন?'
রেখা বুঝতেই পারল একাধিক যার কথা বলছে সে তার কত পরিচিত।
রেখা কোন উত্তর করলো না।
রিম্পাদি বলল 'কিরে শুনতে পাচ্ছিস কি বললাম?'
রেখা বলল' হ্যাঁ শুনতে পাচ্ছি।'
রিম্পাদি বলল ' বারবার বড়দিকে জিজ্ঞেস করছিলেন আপনাদের রেখা ম্যাম নেই?'
বলতে বলতেই টোটো এসে স্কুল গেটের কাছে দাঁড়াল।

মোঃ হা‌বিবুর রহমান





ইউএন মিশ‌নে হাই‌তি‌তে গমন শেষ পর্ব 
মোঃ হা‌বিবুর রহমান




পো‌র্টো‌রি‌কোর স্হানীয় সময় তখন বি‌কেল পাঁচটা। যতদূর ম‌নে প‌ড়ে সে‌দিন ছি‌লো ২০ সে‌প্টেম্বর ১৯৯৪ সাল। 

টানা দু'ঘণ্টা উড়ার পরও কোন খবর নেই, ব্যাপারটা কি? ছোট প্লেইন তাই এর জানটাও ছোট। আমা‌দের সব লাগেজ ও সাম‌রিক সরঞ্জামা‌দি‌তে সে‌দিন সমস্ত এয়ার ক্র্যাপ্টটাই অ‌নেকটাই জ্যামপ্যাক্ট হ‌'য়ে গি‌য়েছি‌লো।

আ‌গেই ব‌লছি, মা‌র্কিনীদের দে‌খে আমরাও  প্র‌য়োজ‌নে কিংবা অপ্র‌য়োজ‌নে বেশ কিছু‌দিন ধ‌'রে‌ই যেন বোত‌লে প‌া‌নি খাওয়ার একটা বড় অভ্যাস খুব ভালভা‌বেই রপ্ত ক‌'রে ফে‌লে‌ছিলাম। কিন্ত‌ু এই ভাল অভ্যাস‌টিই সে‌দিন আবার আমা‌দের জন্য কিছুটা কাল হ‌'য়ে দাঁড়ি‌য়ে‌ছি‌লো। তিন ঘণ্টা পার করলাম, তাহ‌'লে হাই‌তির রাজধানী ভূ-পৃ‌ষ্ঠের মান‌চিত্র থে‌কে কি কোথাও উধাও হ‌'য়ে গে‌লো? 

আ‌মি অ‌নোন্যপায় হ‌'য়ে সরাস‌রি কক‌পিটে পাইলট‌কে জিজ্ঞাসা ক‌'রে প‌রিস্কার হ'লাম যে, বাহামা দ্বীপপু‌ঞ্জে সামু‌দ্রিক ঝড়ের সৃ‌ষ্টি হওয়ার দরূনই যত এ বিপ‌ত্তির কারণ। তাই পাইলট‌কে এখন বাহামা দীপপুঞ্জ বাইপাস ক‌'রে ফি‌দেল কা‌ষ্ট্রোর দেশ সুদুর কিউবা হ‌'য়ে ডি‌টোর মে‌রে পূণরায় ঘু‌রে হাই‌তি‌তে ঢুক‌তে হ‌'চ্ছিল। 

এ‌দি‌কে, হাইতিগামী যাত্রী‌দের প্রাত‌ঃক্রিয়া দারুনভা‌বে অনুভূত হওয়ায় খ‌ুব একটা মু‌স্কিলে প‌ড়ে‌ছি‌লো প্রায় সবাই। আস‌লে গাদাগা‌দি ক‌'রে সরঞ্জামাদি রাখার দরুনই টয়‌লেট ঢে‌কে যাওয়া হেতুই এই কঠিন সমস্যার উদ্ভব। 

অবশে‌ষে, দীর্ঘ সা‌ড়ে চার ঘণ্টা পর যুদ্ধ বিধস্ত হাই‌তির রাজধানীর আন্তর্জা‌তিক বিমান বন্দ‌রে আমরা সেইফ ল্যান্ড ক'রলাম, আলহামদু‌লিল্লাহ্।

অগ্রগামী দ‌লে পূর্ব হ'তেই আমার বন্ধ‌ু মেজর সিরাজ হাই‌তি‌তে আগমণ করায় সে এবং তার দ‌লের সদস্যরা আমা‌দের জন্য তাঁবুর ব্যবস্হা ক‌'রে রে‌খে‌ছি‌লো। তবে সে‌দিন রা‌তে হাই‌তির পুরা আকা‌শে ছিল মে‌ঘের ঘনঘটা এবং ল্যান্ড করার ‌বেশ পূ‌র্বেই তুমুল বর্ষণ হ‌'য়ে‌ছি‌লো। 

অব‌শে‌ষে, যুদ্ধ বিধস্ত ‌দেশ হাই‌তির আন্তর্জা‌তিক বিমান বন্দ‌র, পোর্ট অব প্রি‌ন্সের ঠিক অন‌তি দূ‌রেই সা‌রিভা‌বে স্হাপিত তাঁবুর দি‌কে আমরা ছুটলাম। তখনও মিশ‌ন শেষ হবার কিন্তু ৩৫০ দিন বাকী।

‌বিঃদ্রঃ আপনা‌দের সবার একান্ত অনু‌প্রেরণায়ই সম্ভব হ‌'য়ে‌ছে শত ব্যস্ততার ম‌ধ্যেও কিছ‌ু সময় যোগাড় ক‌'রে বেশ ক‌য়েক‌টি পর্ব লি‌খে সময় মত আপনা‌দের‌কে পোষ্ট করা। ভুলত্রু‌টি মার্জনা ক‌'রে সবাই ক্ষমাসুন্দর দৃ‌ষ্টি‌তে দেখবেন সে বিশ্বাস আ‌মি রাখ‌তেই পা‌রি, কি বলেন ?

মতিয়ার মিল্টন





ক্যালেন্ডার
 

ক্যালেন্ডারের বোটা থেকে 
প্রতিদিন খসে পড়ছে দিন।

সময়ের আঁচল খুলে 
খুচরা পয়সার মত 
খরচা হচ্ছে বয়স।

ক্যালেন্ডার ভর্তি স্মৃতি রেখে
উড়ো মেঘের মত উড়ে যাচ্ছে মানুষ।

এভাবে উড়তে উড়তে 
উজাড় হলে মানুষ;
ক্যালেন্ডার কাঁদবে দেয়ালে দেয়ালে।