২২ মার্চ ২০২২

কবি বিধানেন্দু পুরকাইত এর কবিতা




ভাষার জন্য
বিধানেন্দু পুরকাইত

একটা ভাষা মানানসই
জন্মক্ষণে পাওয়া
বুকের ভেতর হাপর চলে
জাপটে ধরে মায়া। 

জীবন গেল যাদের - তাদের
যেখানে হোক বাড়ি
বাংলা ভাষা বিশ্বজনীন
একুশে ফেব্রুয়ারি। 

রক্ত গেল বুকের থেকে
হিন্দু বা মুসলিম
বাঙালীরা শহীদ হলো
সেটাই বড় ঋণ। 

কাঁটাতারের নকল বেড়া
মানছে না আবেগ
ভাষা দিবস তোমার আমার
পবিত্র সন্দশ।

কবি নাসিমা মিশু'র কবিতা




বিরহ কুহক 
নাসিমা মিশু

আবাস হীন দ্বার আমার  
মাটির বিছানা উন্মুক্ত প্রান্তর 
তোমায় সাধিব সাধ্য কী  আমার
হিম হিম শীতল সমীর আমায় ছুঁয়ে যায় 
খুব সাধ মাটিতে মিশে যাওয়া আমার দেহ
নয়ন জ্যোতি হারাবার ক্ষণ তোমায় দেখে দেখে হারায় 
বড্ড ভালোবাসি তোমায় হে প্রিয় বিরহ বড্ড ভালোবাসি ! 
কে কারে মোরা কতটা করেছি জ্বালাতন 
কত নিশিযাপন ঘুম হীন অপাত্রে করেছি দান
তোমাতে আমাতে নিঃশব্দ অব্যক্ত রোদন আর নয়
নয় দূর অচলের সমতা খোঁজা 
একই বৃন্ত একই সুর তুমি আমি আপনজনা 
নহি দূর  নহি একা !

কবি সুব্রত চক্রবর্ত্তী'র কবিতা




এক মুঠো শান্ত রোদ
সুব্রত চক্রবর্ত্তী

সাত সমুদ্র যদি ডুবে যায় 
অনন্ত শূন্যের গর্ভে --
নিঃসীমে যদি মিলায়ে যায় 
নগর, প্রান্তর, গিরি ;
নিঃশ্বাসের সকল বায়ু
যদি শুষে নেয় ক্রুদ্ধ সূর্যতাপ।
সীমাহীন মহাকাশে সীমাহীন সকল রাত্রি শেষে  একবার দাঁড়াও এসে পৃথিবীর প্রান্তদেশে।

একবার আকাশটাকে দেখো ,
একবার আরশিতে দেখো নিজের হৃদয়
 ভেসে ওঠে কারো মুখ ?
যুদ্ধ চাও ? ধ্বংস চাও যে ধ্বংস তোমার আমার ?

রণোন্মাদ  যুদ্ধবাজের দল ---
তোমাদের আকাশেও তো চাঁদ ওঠে ,
মাটির সবুজে খায় চুমো।
তোমাদের বাগানেও তো ফুল ফোটে। 
শুনেছ কি ঝরা ফুলের পাঁপড়িদের আর্তনাদ ?

চেয়ে দেখো একবার.... 
তোমার সন্তানদের মুখের দিকে !
চেয়ে দেখো --- ওরাও তো 
বাঁচার ঠিকানা খুঁজতে চায় ।
বারুদের ধোঁয়া মেঘ ফুঁড়ে  উড়তে চায়।
ধরতে চায়... 
একমুঠো আলোর আকাশ।
একমুঠো শান্ত রোদ।

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৩৯





টানাপোড়েন ১৩৯
ভয়েস বিভ্রাট (৪)
মমতা রায় চৌধুরী



দিদির ফোনটা আসার পর কল্যান একটু স্বস্তি পেল ক্লান্ত অবসন্ন দেহে যেন একটা টাটকা বাতাস। কি শান্তি, কি শান্তি। এবার ভাবছে  একটু ঘুমাবে গতরাত্রে একদমই ঘুম হয়নি। কি করে টাকা পয়সার অ্যারেঞ্জ করা হবে,? কি করেই বা বিয়েটার সঠিকভাবে সমাধান হবে কিছুই বুঝতে পারছিল না। যে কল্যান বুদ্ধিদীপ্ত বলে পরিচিত সেখানেই তাঁর বুদ্ধিনাশ হতে চলেছে। আবার যেন আস্তে আস্তে মাথার জটগুলো খুলতে শুরু করেছে। এসব ভাবতে ভাবতে কখন যে চোখটা লেগে এসেছে ।বেশ কিছুক্ষণ পর হঠাৎ কলিংবেলের আওয়াজে ঘুম ভেঙে যায়। ধড়ফড় করে ওঠে বুক। আবার ভাবতে না ভাবতেই,কলিংবেলের আওয়াজ ।ঘড়ির দিকে তাকালো কল্যাণ 'ও বাবা , মাসির আসার সময় হয়ে গেছে তো । ক্লান্ত শরীরকে তুলতে পারছে 
না । তবুও আপন মনে বলল 'যাই দরজাটা খুলি। 'আস্তে আস্তে উঠে দরজাটা খুলে দেখল "সত্যিই যেটা ভেবেছিল তাই মাসি এসে দরজায় কড়া নাড়ছে।
ঘুমন্ত চোখের দিকে তাকিয়ে মাসি বলল'তুমি কি ঘুমিয়ে পড়েছিলে?'
হ্যাঁ,একটু চোখটা লেগেছিলো।'
একটা মস্ত বড় হাই তুলল আবার তারপর"ইশারায় চা দেবার কথা বলল।'
'হ্যাঁ , তুমি বসো আমি দিচ্ছি এক্ষুনি।'
মাসি তাড়াতাড়ি রান্না ঘরে গিয়ে চা করে নিয়ে আসল।
'চায়ের সাথে কিছু খাবে? সন্ধ্যেবেলায় নাস্তা?'
কল্যান জিজ্ঞেস করল' কী খাওয়াবে?'
'একটু পকোড়া ভেজে দেবো? খাবে?'
কল্যান ঘাড় নাড়লো।
কল্যান একটা ম্যাগাজিন উল্টে দেখতে লাগলো।
মাসি কিছুক্ষণের মধ্যেই বাঁধাকপির পকোড়া নিয়ে চলে আসলো। আবার একটু ধনেপাতার চাটনিও করেছে।
কল্যান বললো wow।
কল্যান ইশারায় মাসিকে এক কাপ কফি দিতে বলল।
মাসিও একগাল হেসে কি সুন্দর কফি বানিয়ে নিয়ে চলে আসলো ।সত্যি মাসি আজকাল কল্যাণের ইশারার কথা অনেক  বুঝে গেছে। মাসি বেশ বুদ্ধিমতী।
হঠাৎ একটা ম্যাগাজিনে রসালো গল্প দেখে কল্যাণের মনটা চলে গেল তার বন্ধু বিবেকের প্রেমের পরিণতিতে। সত্যি বিবেকটা বটে নিজের থিসিসের কাজটা দিব্যি বিদেশে গিয়ে হেনরীর সাথে জমিয়ে প্রেম করে তার কাছ থেকে নিজের কাজগুলো হাসিল করে নিল। আবার তাকে কাঁদিয়ে চলে ও এসেছে। আসলে বিবেক যখন পূর্ণবয়স্ক যুবক ।তার শরীরে যৌবনের ঢেউ লেগেছে আর হেনরি র তখন যৌবন মধ্যগগণে এসে 
ঠেকেছে ।
তাই হেনরি নিয়ে জীবনসঙ্গিনী করার কথা ভাবতে পারেনি । শুধু তাই নয় রক্ষণশীল বাঙালি পরিবারে বিদেশি মেনেও নেবে না। তা জেনেও সেই গিয়েছিল। কিছু বুঝতে পারিনি হেনরি এতটা বিবেককে পছন্দ করবে।এটা সে মনে মনে জানত কিন্তু তার থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায়ও নেই। এতটাই তাকে সাহায্য করেছে একটা কৃতজ্ঞতা বলেও তো কিছু 
থাকে ।  কিন্তু এটা ওর মধ্যে বিন্দুমাত্র ছিল না।
তাই কি করে তার হাত থেকে মুক্ত হওয়া যায় সেই উপায় খুঁজছিল। সে হেনরীর কাছে হাঁপিয়ে উঠেছিল।
হেনরি টুকটাক সব কাজ থেকে শুরু করে থিসিসের টাইপিং থেকে শুরু করে সবই করে দিত ।তাইএকদিন একটা ইচ্ছাকৃতভুল করে বিবাহিতা মাসতুতো দিদির ছবিটা  তার পেপার এর মধ্যে রেখে দিয়েছিল যাতে  হেনরীর
খুব সহজেই নজরে চলে আসে। এবং যেদিন সে কাজটি করেছিল সেই দিনই  হেনরির ওখানে
 লাস্ট দিন হয়েছিল । হিন্দি যথেষ্ট আঘাত পেয়েছিল।হ্যাঁ তাকে যথেষ্ট অপমান করেছিল ।বলেছিলি ' সব ইন্ডিয়ানরাই  চিটিং করে। যাই হোক সে কিন্তু কখনো নিজের থেকে আর তার রাগ ভাঙাতে যায়নি তার ভেতরের ক্ষোভগুলোকে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেনি কারণ এটাই চেয়েছিল বিবেক। এই গল্প আবার কল্যানদের কাছে বলেছিল।
তখন কল্যান বলেছিল ' সে কাজটি মোটেই ঠিক করেনি ।এতে বিবেক উত্তর দিয়েছিল এতে হয়ত হেনরি তার সঙ্গে তার জীবন সঙ্গিনী হলে হেন রী  ভেসে উঠত কিন্তু তার জীবনটা ডুবে যেত এটা কখনো তাদের পরিবারে মেনে নিত না।
" শুধু পরিবারের দোহাই দিয়ে কি লাভ বল ভাই। তুই কি নিজে মেনে নিতে পারতিস ?
যার জন্যই তো তুই এই সমস্ত কান্ড করেছিস। তবে একটা কৃতজ্ঞতাবোধ বলেও তো কথা 
আছে ।ঠিক ওভাবে না কাঁদিয়ে আসলেই ভালো হতো  কাপুরুষের মতো চলে আসাটা ঠিক হয়নি। 
অনিন্দ্য বলেছিল' সত্যি কথাটা সত্যি ভাবে বলতে পারতে'। 
"কি সত্যি কথা বলতে পারতাম আমি ।
বলতাম" তোমাকে ভালোবাসি না।'
 বিবেকের স্পষ্ট উত্তর কল্যাণ ,অনিন্দ্যরা   ক্ষুব্দ হয়েছিল এবং বলেছিল এই কথাটা স্পষ্ট করে  বরং হেনরিকে বললে ভাল হত।
কল্যাণ বসে বসে 
 কফি খেতে খেতে ভাবছে 'সত্যিই তো । পৃথিবীতে তো একজনই জিতবে ।একজন না হারলে  অন্যজন জিততে পারে না  ।তাইবিবেক জিতেছিল  ।তাই হেনরি হেরেছে। আজ তার জীবনে প্রভা যে কাণ্ডটি করেছে, প্রভা তাকে চিট করেছে। তাই আজকে শিখার মত একটি সহজ সরল মেয়েকে পেয়েছে।,
কল্যান ভাবছে তার অতীত জীবনের কথা শিখাকে বলা দরকার মনের ভেতরে কোন কিন্তু রাখতে নেই।
ভাবতে ভাবতে জানালার কাছে দাঁড়িয়ে সিগারেট ধরালো কি করে বলবে শিখাকে তাহলে কি তাদের প্রথম ভালোবাসার রাতে বলবে এইbকথা? না, না, না তাহলে বরং রাতটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।
এমন সময় ফোন বেজে উঠলো। তখনো কল্যান সিগারেটের ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকিয়ে যাচ্ছে জানলার কাছে দাঁড়িয়ে রাতের নিস্তব্ধতা নিজেকে হারিয়ে ফেলার চেষ্টা করতে চাইছ
আবার ফোন বেজে উঠলো
এবার মাসী রান্না বান্না শেষ করে যাবার পথে বলল" বাবা তোমার ফোন বেজে যাচ্ছে।
তাহলে আমি আসি?
হ্যাঁ ,মাসি এসো।'
এ বাবা ডাক্তার সরকার ফোন করে যাচ্ছেন।
হ্যাঁ নমস্কার ডাক্তার বাবু।
আপনাকে বেশি কথা বলতে হবে না আপনার তো ভয়েস রেস্টে থাকার কথা আমি বলছি আপনি শুনুন।
আপনার সব ঠিক হয়ে গেছে নিশ্চয়ই ।তাহলে শুনুন  সামনের মাসের কিন্তু দু তারিখে আপনার ডেট ফেলা হলো ।
আপনার বিয়ের ডেটটা কবে?
28 তারিখ। খুব চাপ হয়ে যাবে মনে হচ্ছে?
"ঠিক আছে কি আর করা যাবে এটাও তো আপনার জীবনে ভাইটাল।'
'ওকে 'ডাক্তারবাবু।
ফোন রাখতে না রাখতেই আবার ফোন বেজে উঠলো।
'হ্যালো'
হ্যাঁ বলো।
শিখা বলছে কি ব্যাপার বলতো একবারও খোঁজ নিলে না কিছু বললে না। আমি তো কতটা টেন্সড আছি।"
'হ্যাঁগো সব ব্যবস্থাই হয়ে গেছে টেনশনের কোন কারণ নেই।'
"সব ব্যবস্থা মানে।'
'বিয়ে আর আমার অপারেশন।'
শিখা বলল 'ও ও ও ও'
কল্যাণীও খুব বড় করে উচ্চারণ করল ওওও।
'ঠিক আছে তোমায় অত বেশি কথা বলতে হবে না  চুপ করে থাকো ।'
'বাহ্ রে চুপ করে থাকলে তোমার কথা শুনবো কি 
করে ? আমরা কাছাকাছি বসে আছি যে শুধু তোমাকে দেখে যাব।
তবে মনের আয়নাতে দেখতে পাচ্ছি।
আমার কিছু কথা বলার আছে ,শিখা তোমাকে।'
এখন কোন কথা তোমাকে বলতে হবে না ।'
"এই কথাগুলো তোমার জানার দরকার। কারণ তুমি আমার জীবনে আসতে চলেছ। আমি কোন কিছু গোপন রাখতে চাইনা।'
"আমার ও অতীত নিয়ে তোমাকে বলতে চাই 'বলল শিখা।
'কল্যান কেমন চমকে 
উঠল ।অতীত ! শিখারও অতীত আছে ।সে তো কখনো কল্যাণকে বলেনি সে কথা।'
কল্যান বলল 'আগে আমারটা শোনো।'
শিখা বলল 'অতীত  থাক না তাকে ইতিহাসের পাতাতেই  থাকতে দাও ।বর্তমানে টানা হেঁচড়া ক'রো না ।ইতিহাস তোমার স্মৃতি চারণ করাবে বটে নতুন করে কোন বন্ধনে জড়িও না।'
কল্যান ভাবছে ' শিখা কত ভালো ভালো কথা বলছে।'
শিখা মনে মনে ভাবছে 'সে কি তার নিজের অতীত ঢাকার জন্যই কল্যাণকে বারবার নিষেধ করছে।
ঠিক আছে তুমি যখন জানতে চাইছো না আমি আর তোমাকে জোর করব না ।তবে তোমার জানা উচিত ছিল আমি কিন্তু তোমাকে বলতে চেয়েছি।'
শিখা অনেক কষ্টে বলল-আমারও তোমাকে কিছু কথা বলার আছে।'
কল্যান বলল 'কিসের 
কথা ?'
'তোমার যেমন একটা অতীতের কথা বলছ আমারও এইরকম একটা অতীত আছে।'
শিখার বৌদি এসে শিখাকে ইশারায় বলতে নিষেধ করে।
শিখা ফ্যালফ্যাল করে তার বৌদির মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে।'
কল্যান ভাবতে থাকে শিখারও অতীত আছে,?কি থাকতে পারে শিখার। শিখা ও কি আমার মত পোর খাওয়া।
ভেরি ইন্টারেস্টিং।'
এমন সময় শিখার বৌদি মাধু  বলল 'হ্যাঁরে কল্যাণকে জিজ্ঞেস কর অপারেশন টা কবে?
এখন ঠিক আছে তো আগের থেকে একটু।'
কল্যান সব শুনতে পাচ্ছে।
শিখা বললো' ও তো বলছে সবই অ্যারেঞ্জ হয়ে গেছে।'
"ঠিক আছে তোরা কথা বল।'
ইশারায় শিখার অতীত সম্পর্কে বলতে নিষেধ করে গেল

'আর বেশি কি কথা বলব না । বেশি কথা বললেই তোমার কষ্ট দরকার নেই ।রাখো এখন।'
'"ok'
ফোন কাটার পর সিগারেট ধরালো সিগারেট খাওয়া নিষেধ আছে। তারপর ভাবল এটা শেষ করে আর খাব না।'
আবার ফোন বেজে উঠল সিগারেট হাতে নিয়ে ফোনটা রিসিভ করল' ও বাবা দিদি ফোন করেছে।'
সিগারেট ফেলে দিল।
ফোনটা রিসিভ করল বলল' হ্যাঁ, দিদি বলো।'
'হ্যাঁ রে, ডেটটা ঠিক হলো।'
'হ্যাঁ দিদি ঠিক হয়েছে মাসের দু তারিখে।'
'ঠিক আছে বাবা দুগগা দুগগা করে এখন সবকিছু ঠিক হয়ে যাক। মধুসূদন ঠিক করে দিক। বলেই দুহাত জোর করে কপালে  ঠেকালো।
ঠিক আছে বেশিক্ষণ কথা বলবো না তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়।'
'ওকে দিদি।'
একটু খেয়ে নিল তারপর ভাবলো  সত্যি, রাত জাগা যাবে না।
ক্লান্ত শরীর বিছানায় এলিয়ে দিতেই মায়ের কথা মনে হলো।
এরকম যখন ছোটবেলায় ক্লান্ত লাগত মা তখন কেমন চুলের মধ্যে বিলি কেটে কেটে দিত এভাবেই রোজ রাত্রে ঘুম পাড়িয়ে দিত মা। আজকের মা কোথায় ?মা তো না ফেরার দেশে চলে গেছেন ।শত চেষ্টাতেও তাকে আর ফিরে পাবোনা। একবার দেখে যাও তোমার কল্যাণকে ।দেখো  ,গলার অবস্থা কি?'

সত্যি মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে ।মা কেমন সুন্দর চুলের মধ্যে আঙ্গুল ঢুকিয়ে দিয়ে বিলি কেটে কেটে ঘুম  পাড়িয়ে দিতেন।। আজকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে সব সময় খারাপ অবস্থায় মাতার আশীর্বাদ মাথায় রাখতেন। দু'চোখ জলে ভিজে গেল। কষ্টের অশ্রুতে কল্যাণের বালিশ ভিজে যেতে লাগলো।














২১ মার্চ ২০২২

Poet Suparna Chatterjee 's poem




Journey of Life 
Suparna Chatterjee


From birth to death 
Which are the valuable wealth?
What should be the aim of life
That is not decided before the time.
But everyone has some secret dream
Which cannot be seen.
The most important is positive thinking.
Which can only inspire the human being.
To fulfill his or her dream.
Without expectation of earning lots of money,
They are successful forever by
Leading life with honesty.
Facing life with smile,
Helping needy with Kind heart.
To reach own goal
By doing hard work
Sharing joy with others.
Love their life with full of energy.
At the end of our life  
We should get ready 
To say “Good Bye”.


কবি সানোয়ার হোসেন এর কবিতা 




বন্ধ ঘরেও ক'দম হাঁটি
সানোয়ার হোসেন

কেনো চাও ধরতে আমায়,
 হিংসা বিদ্বেষে বন্ধ করে মনের দ্বার।
আমি তো শূন্যে ভাসমান,
আমিতে আমি যে শুধুই রূপকার।

বন্ধু,, ধরি ধরি করি, 
ধরবে কবে এই শূন্য হাওয়া।
ধরায় মলিন স্বপ্নের মাঝে 
আমি উড়ি ফেলিয়া ছায়া।

 ক্ষণে থাকি তোমারই মাঝে,
ক্ষণে তরু  ক্ষণে হাওয়ায়।
আমি ক্ষণে নরকে ছুটে যায়,
স্বর্গেও যে  চলি ধির পায়।

বন্ধু, এই ক্ষণিকের চাষারে 
কি করে ধরবে শুনি ?
 
ছয় ঋতুর রঙিন আকাশে আমি,
ফুল ভ্রোমরে মত গানে বিভোর।
বন্ধ ঘরেও যে ক'দম  হাঁটি,
নিঃশ্বাসের হাওয়ায় বসতি মোর।

ঐ যে উঠেছে চাঁদ, সে তো আমি
আমিই জোনাকির ছায়া।
গ্রীষ্মের শিমুল তুলার মাঝেও আমি
আমিই চৈত্রের  হাওয়া।

আমায় কি ধরতে পারবে বন্ধু ?
যদি ধরো, তবে খুলো মনের দ্বার।
তুমি যদি উদাসী হও বন্ধু 
তবেই পাবে, এই আমিতে সকল আমার।

শামীমা আহমেদ ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৭৩




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৭৩)
শামীমা আহমেদ 



শায়লার কলটি রিশতিনা রিসিভ না করেই মোবাইলটা নামিয়ে রাখলো।রিশতিনা বুঝে নিলো মায়া নামক এই মেয়েটি তাহলে এখন শিহাবের হৃদয় জুড়ে।সারাক্ষণ তাই তার ভাবনায়ই শিহাব ডুবে থাকছে।এই মেয়েটির জন্যই এতদিন পর তাকে কাছে পেয়েও কোন উচ্ছ্বাস প্রকাশ নেই, তার জন্যই এত টান!মনকে ঘুরিয়ে নিয়ে  পরক্ষণেই রিশতিনা ভাবলো,থাকতেই পারে, অমন মায়াভরা মুখটায় যে কোন পুরুষই আটকে যাবে।রিশতিনা ভেতরে কষ্ট অনুভব করলেও নিজেই যেন নিজের মাঝে সান্ত্বনা খুঁজে নিলো। রিশতিনা বুঝে নিলো,চাকরি পাওয়া যেমন একটা সোনার হরিণ পাওয়া,আজকাল মন পাওয়াও তেমন আর একবার যদি স্বেচ্ছায় তুমি অবস্থান ছেড়ে যাও  এক পলকেই তা অন্য কারো জন্য বরাদ্দ হয়ে যায়।আজকাল মনের নাগাল পাওয়া খুবই দুরূহ ব্যাপার হয়ে গেছে। সব কিছু  বুঝে  নিলো সে।  ধীর পায়ে ডাইনিংয়ের দিকে এগিয়ে গেলো। 
শিহাব ওয়াশরুম থেকে বেরিয়ে এসেই তার মোবাইলটা চেক করে নিলো।সম্ভবত সে ওয়াশরুম থেকে রিং শুনেছে। শিহাব দেখলো শায়লার কল। সে ঘড়িতে সময় দেখে নিলো।রাত সাড়ে এগারোটা বাজছে।আজ সারাদিন শায়লার সাথে কোন কথা হয়নি। শায়লা নিশ্চয়ই খুব চিন্তিত হয়ে আছে।খাবার খেয়ে কল ব্যাক করতে হবে। 
খেতে এসো,রিশতিনার ডাকে শিহাব নিজের মাঝে ফিরে এলো।রিশতিনার কথা সে একেবারেই ভুলে গিয়েছিল। শিহাব মুখ তুলে তাকাতেই রিশতিনার চোখে চোখ পড়লো। শিহাব নিজেকে একেবারেই আড়াল না করে চোখে মুখের দৃঢ় অভিব্যক্তিতে শায়লার অবস্থানটা বুঝিয়ে দিলো। ডাইনিং টেবিলে শিহাব বসে রিশতিনাকেও প্লেট এগিয়ে দিলো। খুব নীরবেই দুজনের খাওয়া পর্ব চলছিল। শিহাব এর পরের পর্বটির ব্যাপারে ভেবে নিচ্ছিল এবং নিজেই একটা সিদ্ধান্তে এলো। দুজনে খাওয়া শেষ করে রিশতিনা শিহাবের নির্দেশনা বা শিহাবের আহবানের অপেক্ষায় ডাইনিংয়ের চেয়ারেই বসে রইল।
শিহাব বেশ অনেকটা সময় চুপচাপ থেকে 
সে নিজেই নীরবতা ভাঙল। শিহাব রিশতিনার দিকে না তাকিয়েই বললো, রিশতিনা তুমি আমাকে না জানিয়ে এখানে চলে এসেছো। জানিনা আমার বাসার ঠিকানা কিভাবে পেয়েছো।তোমার এভাবে চলে আসাতে আমার পারিপাশ্বিকে যারা থাকছে তারা আমার সম্পর্কে ভুল ধারণা পেলো। যদিও তুমি নিজের পূর্ণ  পরিচয় দিয়ে আমাদের জীবনের ঘটে যাওয়া সবকিছু জানিয়ে আমাকে দোষমুক্ত রেখে নিজের ভুলটা স্বীকার করেই  আমার ফ্ল্যাটে প্রবেশ নিয়েছো, তবে রিশতিনা তুমি হয়তো বুঝতে পারোনি সব পরিচয়ের মূল্য সবসময়
একই মূল্যমানে নাও থাকতে পারে।অনেক পরিচয়ের রঙ সময়ে ফিকে হয়ে আসতে পারে,চাইকি একসময় তা বিবর্ণও হয়ে যায়।
তোমাকে আমি  আমাদের বাসায় সেদিন তা বুঝিয়েছি, বুঝাতে চেষ্টা করেছি। 
রিশতিনা শিহাবের কথাগুলো শুনছিলো। রিশতিনার একটা বিশ্বাস ছিল এতটা কাছে এলে শিহাব তাকে ফেরাবে না।কিন্তু সে বুঝে নিলো শিহাবের মনে তার জন্য আর এতটুকু ভালোবাসা অবশিষ্ট নেই। রিশতিনার এখানে আর এক মূহুর্তো থাকতে ইচ্ছা করছে না।মন চাইছে বেরিয়ে যেতে।কিন্তু রোমেল ভাইয়ার কথা মনে হতেই সে নিজেকে সংযত করল্য।কিছুতেই মাথা গরম করা যাবে না। দুজনার মাঝে এতদিনের দূরত্ব তা এক রাতেই ঘুচে যাবে না।
শিহাব রিশতিনাকে বললো, তুমি আমার বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ো।আমি ভীষণ ক্লান্ত আমি ড্রইং রুমের সোফায় ঘুমিয়ে পড়ছি।
অবশ্য শায়লাকে কল দিতে হবে।আমার কথা বলতে হবে।সারাদিন কথা হয়নি। ও আমার জন্য চিন্তায় আছে। আশা করি এ নিয়ে কোন ধরনের সিন ক্রিয়েট করবে না,এ কথা বলেই শিহাব তার সিগারেটের প্যাকেট,  লাইটার আর একটা বালিশ নিয়ে ড্রইংরুমের দিকে এগিয়ে গেলো।যাবার সময় বললো শুধু,
বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে পড়ো। 
রিশতিনা অসহায়ের মত বিছানার কোনায় বসে রইল।এতটা অপমানই কি তার জন্য পাওনা ছিল? রিশতিনা নিজেকে ধিক্কার দিতে লাগলো। এখন মনে হচ্ছে শিহাবের কথাই ঠিক, তার এখানে এভাবে আসা উচিত হয়নি। আগে রোমেল ভাইয়াকে দিয়ে কথা বলিয়ে নেয়া উচিত ছিল। শিহাবের মনে আজ অন্য নারীর বাস।বলতে গেলে সে রিশতিনাকে একেবারেই ভুলে গেছে।ভুলে গেছে? নাকি অভিমানে এমনটি করছে।রিশতিনার মনে এখনো যেন একটা ক্ষীণ আশা উঁকি দিচ্ছে। হঠাৎ করেই তার মনে হলো,আর একটিবার অন্য কোন উপায়ে সে শিহাবের মান ভাঙতে চেষ্টা করবে। আর য়া কিভাবে করা যায়,আজ রাতের মাঝেই তা খুঁজে বের করতে হবে। রিশতিনা ঘরের বাতি নিভিয়ে শিহাবের বিছানার খুব অল্প জায়গা নিয়ে চোখ বন্ধ করে ঘুমানোর চেষ্টা করলো।

শিহাব ড্রইং রুমের  সোফায় বসে একটা সিগারেট ধরিয়ে নিলো। এখন এক কাপ চা খাওয়ার খুব ইচ্ছা হচ্ছিল।কিন্তু রিশতিনার সাথে সে আর কথা আগাতে চাইলো না। শায়লা অপেক্ষায় আছে, কল দিতে হবে। 
শায়লা যেন শিহাবের কলের অপেক্ষায় ছিলো।একটা রিং হতেই সে রিসিভ করলো।
ও-প্রান্তে খুবই উৎকন্ঠা নিয়ে শায়লা শিহাব সুস্থ আছে কিনা জানার জন্য ব্যাকুল হয়ে গেলো। সারাদিন শিহাব শায়লার সাথে একেবারের যোগাযোগে ছিল না। শিহাব শায়লাকে আস্বস্ত করলো,সে ভালো আছে।আজ গাজীপুরে গিয়েছিল তাই যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।শায়লার মাঝেও নোমান সাহেবের চলে আসার দিন এগিয়ে আসায় উৎকন্ঠা বাড়ছে।সে কি করবে বুঝে উঠতে পারছে না।শিহাব তাকে খুব সহজ সমাধান করে দিলো,তুমি আমার কাছে চলে আসবে। ব্যস! এটাই আমার সমাধান। তুমি যাকে ভালোবাস তার সাথেই থাকবে। আর যাকে ভালোবাসোনা,তাকে ফিরিয়ে দিবে। যতই আকুতি অনুরোধ বা অধিকার নিয়েই এসে দাঁড়াক না কেন। শিহাবের কথায় শায়লা ভরসা পেলেও তার নিজের পরিবারের জন্য বিষয়টি কেমন হবে। মা কি এত বড় একটা ধাক্কা সইতে পারবে ? যদি কিছু একটা হয়ে যায় ? রাহাত কি মানুষের কাছে ছোট হয়ে যাবে না ? নায়লার শ্বশুরবাড়ি নিশ্চয়ই নায়লাকে কথা শোনাবে। শিহাব পুরুষ মানুষ। তাদের কোনদিন বদনামের ভয় নেই।যত কলংক শুধু নারীর জন্যই।শায়লা শিহাবকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারে না, কিন্তু বাবার মৃত্যুর পর নিজের মা ভাই বোনকে নিয়ে যে পরিবারটি তিল তিল করে গড়ে তুলেছে আজ তারই কারণে লজ্জিত হবে।
শায়লা দুইদিকের নানান ভাবনায় অস্থির হয়ে উঠলো। নোমান সাহেবের আসতে আর মাত্র তিনদিন বাকী।যা হউক,সুস্থির ভাবে ভেবে শায়লাকে একটা সিদ্ধান্তে আসতে হবে।আজ আর কথা বলতে ইচ্ছে করছে না। সে বললো,
শিহাব তুমি ক্লান্ত ঘুমিয়ে পড়ো।আমিও ঘুমাবো।যদিও সে আজ কদিন হলো ঘুমাতে পারছে না।
শিহাবের ক্লান্তিতে চোখ বুজে আসছিল। সেও শায়লার কাছ থেকে বিদায় নিয়ে সোফায়  ঘুমিয়ে পড়লো।
পাশের রুম থেকে রিশতিনা, শিহাব আর শায়লার কথোপকথন সবটাই বুঝতে পারলো। ওদের মাঝে বাধা হয়ে সে থাকতে চায় না।তবুও ভেবে নিলো, সে কাল শেষবারের মত শিহাবকে তার দিকে ফেরাতে চেষ্টা করবে।নয়তো ইংল্যান্ডের টিকেট  করাই আছে। যদিও তার মা চলে গেছে,যদিও শিহাবের জন্য মায়ের সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করে এসেছিল, কিন্তু শিহাব ফিরিয়ে দিলে মা ছাড়া  আর কোন নিরাপদ আশ্রয় কি আর আছে এই পৃথিবীতে? 


চলবে...

কবি বকুল  আশরাফ এর কবিতা




টোকা-টংকার
বকুল  আশরাফ

কোথায় দাঁড়িয়ে আছ, কোথায় দাঁড়িয়ে ছিলে,
কি ভাবছো এতো পথ হেঁটে; এই শেষ বিকেলে!
হার্টের দুটো বাল্ভ নিয়ে যাবে কোন ডাক্তার-বাড়ি
নাকি আধুনিক যৌনতায় ভালোবাসায় দেবে আড়ি !

কেনো ভুলে থাকো রাজসভার কবিতা
কেনো ভুলে গেছ মঙ্গল-চর্যা-গীতিকা
দ্যাখো ঐ ভেসে আছে ইথারে ধ্বনি
এতো ছোঁয়াছুঁয়ি শেষে যাবে এক্ষুণি ?

সল্তা জ্বালিয়ে পুঁথিপাঠ কেন গেছ ভুলে
খাদ্যগাছ মরে যায় জঞ্জাল জন্মালে।
প্রযুক্তি দিয়েছে হাসি তথ্য চারপাশি
ইন্টারনেট ভাবিয়েছে কি ! বলেছে, ‘আসি’ !

ভালোবাসার ¯স্রোতে ডুবে যায় ঘরবাড়ি 
সে ও হেরে যায় যে ছিলো প্রবল-সংসারি।
অপেক্ষার মোবাইল ফোনে প্রতিরোধের বাঙ্কার
ভেঙ্গে ফেলতে জানি তুলে টোকা-টংকার।

২০ মার্চ ২০২২

Ljuvv

LOVE

Ookj

LOVE

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১৩৮ পর্ব




উপন্যাস


টানাপোড়েন ১৩৮
ভয়েস বিভ্রাট (৩)

মমতা রায়চৌধুরী

সরজু সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখছে সারা উঠোনময় নানা ধরনের পাতায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মনটা একটু নাড়া দিয়ে উঠলো। আপন খেয়ালে কিছু পাতা তুলে নিয়ে তার গন্ধ নিতে চাইলো আর পাতার ভেতরে যেন কেমন একটা পুরনোকে ধরে থাকার আকুতি ,একটা বেদনা কাজ করতে লাগলো। গ্রামের বাড়ি প্রচুর গাছপালা আছে ।তাই উঠোনটা পাতায় পরিপূর্ণ হয়ে যায়। পুরনো পাতা ঝরে যায় মনের ভেতর একটা বিষন্নতা কাজ করতে থাকে কিন্তু পরক্ষণেই মনটা উৎফুল্ল হয়ে ওঠে ,ঝরে যাওয়ার মধ্যে দিয়েই নতুনের আগমন ।বসন্ত এসে গেছে আবার নতুন করে নিজেকে সাজিয়ে 
তুলবে ।প্রকৃতি দিয়ে যায় সেই বার্তা। এ সব ভাবছে বসে বসে ,কতটা সময় পেরিয়ে গেছে হুশ নেই ।এমন সময় ফোন বেজে ওঠে। প্রথম ফোন রিং হয়ে বন্ধ হয়ে যায়। পরক্ষণে আবার ফোন বেজে ওঠে। ফোনের কলতানে মনটাকে নিয়ে আসে বাস্তবে ।তাড়াতাড়ি উঠে ফোনটা ধরতে
 যায় । বাপ রে সাত সকালে কে ফোন করলো?
ফোনটা তুলে বলে' হ্যালো'।
' বৌদি ,মাধু বলছি।'
'হ্যাঁ বলো  কেমন আছো সবাই?'
'এমনি ঠিকঠাকই আছি। তোমরা কেমন আছো?'
'আমরা সবাই ভালই আছি ।এখন তো শুধু একটাই টেনশন বিয়ে নিয়ে।'
মাধু মনে মনে ভাবল' তাহলে কি কল্যাণের ব্যাপারটা সব জানে বৌদি?'
'কেন টেনশন করছো কেন?'
কত দায়িত্ব বলো  ভাইয়ের বিয়ে বলে কথা।
একটা মাত্র দিদি। কত দায়িত্ব বলো তো?'
তা অবশ্য ঠিকই বলেছ। আমারও ননদের বিয়ে বলে কথা। একটাই ননদ কত দায়িত্ব বলো তো?'
'ঠিকঠাক পার করতে না পারলে কতজনা কত কথা বলবে ।আর রায়বাঘিনী ননদিনী আমার সে কি আর ছেড়ে কথা বলবে? দুইজনাই হো করে হেসে উঠলো।
"তা যা বলেছ মাধু।"
'তবেএকটা সমস্যা হয়ে গেল বৌদি?'
'কোন সমস্যা আমি শুনতে চাই না। ননদের বিয়ে ঠিকঠাক করে দাও। আমারই তো ভাই এর বউ হয়ে আসছে নইলে কিন্তু কথা শুনতে 
হবে তোমাকে ।আবার হো করে হেসে উঠলো।'
না গো বৌদি সিরিয়াসলি বলছি একটা সমস্যা হয়েছে।
'যা আমার ননদের কোন সমস্যা হতে 
পারে ?আমার ননদ হচ্ছে মুশকিল আসান সবকিছুই সহজ-সরলভাবে করে দেয় সমাধান।'
'তুমি কিছু শোনোনি?'
'এবার যেন সরজু একটু করে রহস্যের গন্ধ পাচ্ছে।'
'এতক্ষণ যা বলছে তাহলে এটা মশকরা নয় সত্যি সত্যিই কিছু হয়েছে।'
আরেকটু উদগ্রীব আর আশ্চর্য হয়ে বলল 'কি হয়েছে ঠাকুরঝি ব'লোনা?'
'মাধু দেখল বৌদির ব্যাপারে কিছু জানে না 'তারমানে কল্যান কিছুই জানায়নি।
তোমার সাথে কল্যাণের কথা হয়নি।'
'হয়েছে !তাও ৩ দিন আগে।
কাল করলাম ফোনটা রিসিভ করল না।
ওর ই কিছু কেনাকাটার ব্যাপারে কথা বলতাম।'
ও বৌদি গলার ব্যাপারে কিছু শোনো নি?
গলাটা থেকে ভালো কথা বেরোচ্ছিল না। কেমন ঘর ঘর আওয়াজ হচ্ছিল ।
তা আমি বললাম ভাই ডাক্তারটা দেখিয়ে 
নিস 'তুমি চিন্তা করো না আমি ঠিক ডাক্তার দেখিয়ে নেব?'
'কেন কি বলছ গো?'
গলাটাতেইতো সমস্যা হয়েছে। এবার তো গলার অপারেশন করতে হবে।'
সেকি?'
"আরে একথা আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে কর নি।"
'না বৌদি ওকে ভুল বুঝ না ।আমাদের কেউ জানায় নি শিখার সাথে কথা প্রসঙ্গে উঠে 
এসেছে ।তাই আমি ভাবলাম তোমাকে একবার জানাই।'
' তা বেশ করেছো ।অপারেশন করতে হবে ।এ চিন্তার ' হলো বলো? তোমাদের সামনে বিয়ে।'
"ওই জন্য তো আমার টেনশন হচ্ছে।'
'অপারেশনের ডেট ঠিক হয়ে গেছে? জানো এ ব্যাপারে কিছু?'
'না শিখা বলছিল, যে ডাক্তার বলেছে ইমিডিয়েট অপারেশন করাতে। সামনের মাসেই প্রথমদিকে করিয়ে নিতে বলেছে।'
'তাহলে তো গলার অবস্থা যাচ্ছেতাই। নাকি গো মাধু ।কী চিন্তা হচ্ছে গো ?আমার ভাইটা একা একা থাকে ওখানে।'
'বলেই কাঁদতে শুরু করল।'
' এখন কি কাঁদার সময় বলো ,ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো যেন অপারেশন সাকসেসফুল হয় আর তাড়াতাড়ি হয়ে যায়।"'
'তোমরাও ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করো।
'সে করছি । কিন্তু বিয়েটা কি হবে বলো?
মানে?
সেটাইতো কথা বিয়ের ডেট তৈরি, মাসের লাস্ট উইকে অপারেশনের যদি শুরু হয় তাহলে বিয়েটা কিভাবে কি হবে?
লোকজন এসব নেমন্তন্ন হয়ে গেছে এখন এই মুহূর্তে ডেট চেঞ্জ করলে হয় এবার অপারেশনের ডেটটা কবে দেয় দেখা যাক বিয়ের করেই না হয় অপারেশন হবে আর কি করবে?'
মাধু একটু নিশ্চিন্ত হল।
'দাঁড়াও না ওকে আমি কেমন বকা দিই  
দেখো ।আমাকে জানানোর প্রয়োজন মনে করেনি।'
'না বৌদি ,ওকে ভুল বুঝনা কার কাছে শোনাও সেমিনার ছিল তারপর গলাটা খুব ভোগাচ্ছে হয়তো টেনশনে আছে।'
'হ্যাঁ সে তো ঠিকই বলেছ।'
তুমি বলো মাধু আমি কি জানতে পারি না?
To know অধিকার রয়েছে কিন্তু এখনতো মান অভিমান করার সময় নয়।'
'আর একটা সমস্যা হয়েছে জানো বৌদি?'
'আরো সমস্যা?'
'শিখার কাছে শুনছিলাম টাকা পয়সা নিয়ে।
কেন? অপারেশনের জন্য  প্রচুর টাকা লাগবে  শুনছিলাম ।এই মুহূর্তে নাকি ওর টাকা-পয়সার সব ইনভেস্টে আছে ওই কলকাতায় ফ্ল্যাটে সেজন্য একটু চিন্তায় আছে।'
'তা আমরা রয়েছি কি করতে বলো মাধু?'
জিজ্ঞাসু কন্ঠে বলল সরজু।
'সে তো ঠিকই।'
'ঠিক আছে । ,আমরা সবাই মিলেই সাহায্য করবো।'
'ঠিক আছে।'
'ফোন রাখছি। তাহলে বৌদি পরে কথা হবে।'
'আচ্ছা রাখো।'
 ভালো থেকো সবাই।'

ফোনটা কাটার পর সরজু ভাবলো একবার ভাইকে ফোনটা করি ।কেন এত টেনশন করছে আমরা তো রয়েছি।'
সঙ্গে সঙ্গে ফোনটা করল।'
ফোন বেজে গেল।

'কিরে বাবা ফোন তুলছে না কেন ?এখনো কি ঘুমোচ্ছে পড়ে পড়ে। ভাবল একটু পরেই 
করি ।যদি ঘুমের ওষুধ খেয়ে শুয়ে থাকে।'
এদিকে কল্যাণের মাথার উপর যেন করতাল বাজছে ।চোখে পর্দা নেমে এসেছে। অনেকগুলো ফোন করার বাকি আছে। দিদিকে একটা ফোন করতেই হবে। তবে এখনই করবে না আরেকটু বেলা বাড়ুক। দিদি এখন সাংসারিক নানা কাজে ব্যস্ত আছে।
বিছানার দিকে ক্লান্ত পা টেনে নিয়ে এলো কল্যাণ একটা ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিলে ভালো হতো এখন ঘুমের ওষুধ খাওয়া ঠিক হবে না। বরং ঘুমিয়ে পড়লে অনেক কিছু গন্ডগোল হয়ে যাবে।
বিছানা থেকে উঠে কল্যান সরাসরি বাথরুমে গেল। সম্পুর্ন নিরাভরন হয়ে ঝর্নাটার নিচে দাঁড়িয়ে আবার নিজেকে আবিষ্কার করার চেষ্টা করলো।
সাবান কেস থেকে সাবানটা নিয়ে গায়ে লাগলো একবার হাত থেকে সাবান টা পড়ে গেল।
সে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা পড়েছে যদি ভালো করে প্রবাহিত জলে স্নান করা যায় তাহলে অনেক ক্লান্তির অবসান হয়।
তাই আয়ুর্বেদিক চিকিৎসা অনুযায়ী শরীরটাকে অবগাহন করাতে চায়।
কিন্তু এত অবগাহন না এত শাওয়ারের নিচে স্নান ধারাপাত বলা যেতে পারে।
সাওয়ারের জলে যখন চলছে ধারাপাত তখন মনে হচ্ছে যেন তপ্ত তাপিত দেহে রয়ে গেল স্বস্তির বার্তা।
একসময় এই জলের শব্দ ভেদ করে যেন কোথাও একটা ফোনের রিং হওয়ার আওয়াজ শুনতে পেল।
প্রথমে কল্যাণ ভাবলো 'না ,না পাশের ফ্লাটের কারোর বাজতে পারে?'
এক সকালে ফোন করবে কে?"
আবার ফোন বাজলো।
সাওয়ারের জলের আওয়াজ কমিয়ে দিয়ে কান পেতে শুনলো।
"হ্যাঁ ,ফোনের আওয়াজই বটে।'
এবার কল্যান ভিজা টাওয়াল কোমরে জড়িয়ে বেরিয়ে আসলো। এসে ফোনটা রিসিভ করল।
বলল 'হ্যালো।
'আমি দিদি বলছি।'
হ্যাঁ, দিদি .। প্রণাম নিও।
'তোর এত কিছু হয়েছে গলা নিয়ে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলি না ভাই? '
'আরে দিদি আমি ভেবেছিলাম তোমাকে ফোন করবো কিন্তু পরক্ষনেই ভেবে দেখলাম যে এটা ঠিক হবে না। সকালবেলায় তোমাকে ডিস্টার্ব করব সাহসে কুলালো না।'গলা দিয়ে ঘর, ঘর, ঘর আওয়াজ।
'এবার বল ভাই তোর কিসের টেনশন?'
'আমার টেনশন !এ কথা কে বলেছে?'
'হ্যাঁ, ভাই শোন, তোর গলাটা যে এতটা খারাপ অবস্থায় আছে একবারও জানাস নি?'
'না দিদি ,রাগ ক'রো না ।আমি তোমাকে জানাবো ভেবেছি কিন্তু রাত্রে আর পেরে উঠলাম না। রাত হয়ে গেছিল শরীর মন দুটোই ক্লান্ত ছিল ।'
'ঠিক আছে এখন একটা কথা বলত ভাই আমি কি তোর পর?'
'এভাবে কেন বলছো দিদি।'
তাহলে তোর কিছু সমস্যা হচ্ছে সেটা আমাকে জানাতি স।'
'মিথ্যা কথা বলব না দিদি, একটা সমস্যা হচ্ছে ওই জন্যই তোমাকে আমি আজকে ফোন
 করতাম ।তুমি যখন করেই ফেললে…।'
"বল সমস্যা কি?'
ডাক্তারবাবু ইমিডিয়েট গলার অপারেশন করতে বলেছে একটা কড গেছে অলরেডি।
'সমস্যা কী ডাক্তার বাবু বলেছেন যখন অপারেশন করাতে করিয়ে নে।'
কল্যান চুপ আছে।
'টাকা-পয়সার সমস্যা হচ্ছে?
তো চিন্তা করছিস কেন? আমরা তো আছি, নাকি?'
'সমস্যা হতো না দিদি ।নেয়া হলো এবার তাহলে হয় ফ্ল্যাটে বিক্রি করতে হবে এদিকে বারাসাতের ফ্ল্যাটটাও ছাড়তে পারছি না যতক্ষণ না ওখানে শিফট করছি। এবার কি করব বুঝে উঠতে পারছি না।'
কোনো  ফ্ল্যাট  এখন বিক্রি করতে হবে না।
সে টাকার ব্যবস্থা আমি করে দেব ।ডাক্তার কত বলছে সেটা আমাকে জানা।
আর যত তাড়াতাড়ি সম্ভব অপারেশন করিয়ে নে।'
'কিন্তু দিদি তুমি এতগুলো টাকা?'
'এটা ঠিক হবে না আমি তোমার কাছ থেকে এভাবে টাকা নিতে পারব না।'
'আরে বাবা ঠিক আছে যদি আমার কাছ থেকে না নিতে পারিস না তো কিছু গয়না  মা রেখে গেছে ন তোর বউকে দেবার জন্য এই গয়নাগুলো রেখেও তো দেয়া যেতে পারে?
কিন্তু আমি চাইছি না এই গয়নাগুলো বাধা দিতে।'
'কিন্তু দিদি আরও একটা সমস্যা?'
'আবার সমস্যা কি বিয়ের ডেট নিয়ে?'
কল্যাণ ভাবছে এতসব  নিশ্চয়ই শিখা ফোন করেছে।'
চুপ করে আছে কল্যাণ।
'বিয়ে কিন্তু ওই ডেটেই হবে বিয়ে পেছানো যাবে না' ডাক্তারের সঙ্গে সেই ভাবে কথা বল।'
"ঠিক আছে দিদি ,তুমি যখন বলছো তাই হবে।
বল তো সবারই তো লোকজন নেমন্তন্ন হয়ে গেছে আর বিয়েটা ফেলে রাখাটা ঠিক হবে না ভাই ।সে তুই বিয়ে করে যা না । অপারেশন করিয়ে আয় তাতে তো কোন অসুবিধা হবার কথা নয়।'
কল্যান চিন্তামুক্ত হলো এখন শুধু ডাক্তার সরকার মুখার্জির সঙ্গে কথা বলে চেন্নাইতে ডেট টা ঠিক করতে হবে।
'ঠিক আছে, এখন রাখছি। নিজের যত্ন নিবি ।'
'তুমিও ভালো থেকো দিদি।'
ফোনটা কেটে জানালায় কাছে দাঁড়িয়ে কল্যান ভাবতে চেষ্টা করছে  কেমন অবাক চাঁদের আলোয় যেন তার ঘরটা ভরে উঠবে , ভরে উঠবে ছোট্ট পৃথিবী।

কবি গোলাম কবিরের কবিতা




পড়ে থাকা একখণ্ড মাংসপিণ্ড
গোলাম কবির    

  মানুষকে তো ইচ্ছে করলেই 
  ছুৃঁয়ে দেয়া যায় , ইচ্ছে হলে প্রিয়ার খোঁপায় 
  গুঁজে দেয়া যায় একটি লাল গোলাপ
  কিংবা নিদেনপক্ষে একটি রক্তিম জবা।  
  ইচ্ছে করলে কখনো কখনো
  পাহাড়ের বুকে শুভ্র মেঘকে ও 
  ছুঁয়ে দেয়া যায় কিন্তু 
  হৃদয় কি ছুঁইয়ে দেয়া যায় হৃদয় না দিলে?
  অথচ কতো লোকই দেখি 
  হৃদয় না দিয়েই হৃদয় ছুৃঁয়ে দেয় 
  ভুল ভালবাসার খেলা খেলে! 
  ওরা মানুষের হৃদয় নিয়ে সাপলুডু 
  খেলা করে, কখনো আবার হৃদয় 
  ঝলসে দেয় অথচ ভালবাসলে 
  মানুষের হৃদয় হয়ে যায় 
  নিঃসীম আকাশের মতো উদার!  
  ভালবাসা পাবার জন্য মানুষ 
  অবিরাম বয়ে চলা নদীর মতো
  ভালবাসা নামের মরিচীকার পিছনে  
  ঘুরতে থাকে অবিরত! 
  অথচ মানুষের কাছে এখন
  হৃদয় নামের বস্তুটাই হারিয়ে গেছে, 
  ওটা এখন শুধুই পড়ে থাকা 
  একখণ্ড মাংসপিণ্ড যেনো!

কবি




Bgvgvggh