০৯ নভেম্বর ২০২১

মমতা রায় চৌধুরী







 টানাপোড়েন পর্ব ৩৯

                                                 এক পশলা বৃষ্টির জন্য


মনোজ সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে পড়েছে। রেখা অবাক হয়ে গেল। যা ঘুম কাতুরে। ব্যাপারটা কি?
রেখা বলল  'আজ কোথাও যাবে?'
মনোজ বলল  'হ্যাঁ'। সুমিতা আসে নি?'
রেখা বলল 'না।আডভ্যান্স টাকা নিল । তারপর থেকে ‌বেপাত্তা।'
মনোজ বলল  'ভালোই চালাচ্ছে। তুমি স্কুলে যাবে তো?'
রেখা বলল ' হ্যাঁ ।ভুলে গেলে আজ খাতা জমা দিতে হবে। আমার মিলির জন্য চিন্তা হচ্ছে। ওকে কে খেতে দেবে?'
মনোজ বলল  'কে দেবে গৌরী সেন'। কেন আমাদের সন্টু দা ?ওকে বলে যাব।'
রেখা বলল  ' কি ভাববে?'
মনোজ বলল ' কিছু ই ভাববে না। সন্টুদা তো ভালোবাসে ওদের।'
রেখা বলল   'দু শ্চিন্তা মুক্ত হলাম।'
এরমধ্যে মনোজের ফোন বেজে উঠল।
মনোজ ফোনটা রিসিভ করে বলল  'আমি ঠিক টাইমে পৌঁছে যাব।'
রেখা তখন রেডি হচ্ছিল স্কুলে যাবার জন্য ।কথাটা কানে আসলো কিন্তু কিছুই বললো না।
মনোজ বলল   'মিলিদের কিছু খাবার দিয়েছো?'
রেখা বলল  'দিয়েছি। (মুখে সেফটিপিনটা রেখে , শাড়ির কুচি কুচি করতে করতে )।এখন ওর একটু ঘন ঘন খিদে পায় না, দিতে তো হবেই। বলতে বলতেই তাড়াতাড়ি জুতোটা পরে নিল পায়ে আর বলল' বড্ড দেরী হয়ে যাচ্ছে' ।ট্রেনটা পেলে হয়?'
মনোজ বলল  'চলো তোমাকে আমি পৌঁছে দিচ্ছি ।অটোতে যেতে হবে না।'
রেখা বলল ' তুমি যে কোথায় যাবে ?তোমার দেরি হয়ে যাবে না?'
মনোজ বলল ' আমি ও তো স্টেশনে যাব।ট্রেন ধরবো?'
রেখা বলল  'ঠিক আছে চলো।'
রেখা মনে মনে বাইকে যেতে যেতে ভাবলো আজকে মনোজের মনটা বেশ ফুরফুরে লাগছে ,গত দু'দিন ধরে  যা চলছিল..।
স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন ঢুকলো ।
রেখা  মনোজকে বলল  'আসি'।
মনোজ বলল  'সাবধানে?'
এবার মনোজের যাবার ট্রেন এসে গেল প্লাটফর্মে ।মনোজ ও ট্রেনে উঠে পড়ল। কিন্তু জায়গা পাওয়া যায় নি, যা ভিড়  ট্রেনে,?ভাবতে লাগলো কি হবে তিথির সঙ্গে দেখা করে ,কে জানে?'ভালো ভালো কথা ভাবতে লাগলো ।পুরনো দিনের। প্রথম যখন তিথিকে কলেজে দেখেছিল ।তখন খুব সহজ সরল ছিল আর সুন্দরী তো ছিল ই। প্রথম বর্ষের ছাত্রী। মনোজ ও তাই। অপরিচিত পরিবেশ কিন্তু সুরঞ্জন ছিল মনোজের পরিচিত। মনে আছে সে দিনও খুব বৃষ্টি পড়ছিল ।তিথি লেটে পৌঁছেছিল ক্লাসে। তাই ওই ক্লাসের নোটটা নিতে চেয়েছিল মনোজ এর কাছে। মনোজের প্রথম দেখাতেই তিথিকে ভালো লেগেছিল। তাই তিথি যখন মনোজের কাছে নোটটা চেয়েছিল। মনোজ ও দ্বিধাহীনচিত্তে তাকে দিয়ে দিয়েছিল তার নোটের খাতা। অপলক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল তিথির দিকে। তারপর আস্তে আস্তে মনোজের মনের কথাটা বলেছিল প্রায় ছমাস পর। তিথির ও ভালো লেগে ছিলো। তারপর কলেজ কমপ্লিট করে ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি। ইউনিভার্সিটি পর থেকেই বাকিটা ইতিহাস। কত  খুনসুটি চলেছে।
মনোজ  তিথিকে ভালোই বাসতো। কথা দিয়েছিল মনোজ কিছু একটা করলে ওরা দুজন একটা সুখের স্বপ্নের নীড় গড়বে। কিন্তু ভালো ইঞ্জিনিয়ারিং ছেলে পেয়ে তিথি চলে গেল বিদেশে। সেদিন মনোজের কত কষ্ট হয়েছিল। একবারও ভাবেনি মনোজ এর জন্য। আজ মনোজের জীবনে রেখা এসেছে। আজ সমস্ত হৃদয়াকাশ জুড়ে শুধুই রেখা। এখানে তিথির অস্তিত্ব ফিকে। তিথির জন্য ভেতরে কোনো   আলোড়িত হয় না। বরং যেন তার সুখের পৃথিবীতে তিথি বড়ো বেমানান। তবুও তার ডাকে সাড়া দিয়ে যেতেই হচ্ছে। শুধু বন্ধুত্বের দাবিতে যাচ্ছে ।যদি ওর ভেতরে কোন ক্রাইসিস থাকে সেটাকে মেটানোর জন্য। রেখা খুবই ভালো মেয়ে ওকে কোন দিনের জন্য কষ্ট দিতে পারবে না। দুইদিন খুব খারাপ ব্যবহার করেছে ওর সাথে। সে জন্য  খুব খারাপ লাগছে। বলতে বলতে ট্রেনে শিয়ালদা স্টেশনে থামলো।
ট্রেন থেকে নেমে রেখাকে কল করল। রেখার ফোন রিং হয়ে যাচ্ছে। রেখা তখন স্টাফ রুমে ছিল না।
রিম্পাদি ওর ফোনের রিং শুনতে পেয়ে রেখাকে ডাকতে গেল। রেখা তখন বড়দির ঘরে।
 রিম্পাদি বলল 'এই রেখা তোর ফোন বেজে যাচ্ছে। দু-তিনবার বাজলো।'
রেখা আশ্চর্য হয়ে বলল ' এই সময় আমার ফোন! কে করলো রে বাবা ।বড়দি তাহলে আমি আসছি।'
বড়দি বললেন' হ্যাঁ এসো।'
রেখা বলল 'আর একটা কথা বড়দি, আজকে আমি একটু তাড়াতাড়ি যেতে পারবো?'
বড়দি বললেন 'তোমার নম্বর সাবমিট করা হয়ে গেছে তো ?'
রেখা বলল-'হ্যাঁ বড়দি।'
বড়দি হেসে বললেন' কি করবে আর বসে থেকে।'
রেখা বলল 'এইজন্যেই দিদি আপনাকে সত্যিই এত শ্রদ্ধা করি, আমাদের সুবিধা -অসুবিধাগুলো আপনি বোঝেন বলে ।
থ্যাংক ইউ বড়দি।'
বড়দি বললেন'আমি চাই তোমরা সকলে খুশিমনে কাজ করো। তাহলে ছেলেমেয়েদের অনেকটা দিতে পারবে। শুধু শুধু প্রেশার ক্রিয়েট করে তো লাভ নেই ।তবে অনেকে আছেন/আছে  সুবিধা নিতে ব্যস্ত ।এটা আমাকে কষ্ট দেয়।'
রিম্পাদি বলল 'বড়দি আমার ব্যাপারটা।'
বড়দি হেসে বললেন 'হ্যাঁ তুমিও যাবে। রেখা না থাকলে তুমি কি আর থাকবে ,সেটা আমি জানি না?'
রিম্পাদি জোড়হাত করে মাথা নিচু করল।
রেখা বললো  'চলো রিম্পাদি দেখি কে ফোন করেছে?'
দুজনে মিলে স্টাফ রুমে আসলো ।রেখা ফোনটা ঘেটে দেখল তিন থেকে চারটি মিস কল হয়ে আছে মনোজের।
রেখা ফোনটা নিয়ে মনোজকে ফোন লাগালো কিন্তু নট রিচেবল।
রেখা রিম্পাদিকে  বললো  'চলো ট্রেনের
 টাইম হয়ে যাবে। টোটো ধরতে হবে।'
রিম্পাদি বাথরুমের দিকে যেতে যেতে বললো  'হ্যাঁ ,চল চল ,চল।'
রেখা মনে মনে ভাবল  'মনোজ কেন ফোন করেছিল কে জানে?'
অন্যদিকে মনোজ ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস এর কাছে এসে দেখে তিথি দাঁড়িয়ে আছে।চেনাই যাচ্ছে না। কি যেন একটা হতাশা ওর মন জুড়ে রয়েছে। কি চেহারা হয়েছে ওর?'
 মনোজকে দেখে তিথি উচ্ছ্বসিত হয়ে উঠল ।তারপর বললো  'চলো ন্যাশনাল লাইব্রেরী যাই।'
মনোজ মাথা নেড়ে বললো ' চলো।'
মনোজ মাথা নেড়ে বলল  'ঠিক আছে ।চলো।'
মনোজের একদমই ভালো লাগছে না ।তবুও যেতে হচ্ছে। আগে যে তিথির জন্য আবেগ ছিল, উত্তাপ ছিল। আজকে সেসব কিছুই নেই। আগে একটু ওর ছোঁয়া একটু পরশ পাওয়ার জন্য, এক পলক দেখার জন্য মনে ভেতরে একটা কেমন আনচান তৈরি হতো। 
আজ যেন শুধু কথা দিয়েছে আসবে  তাই।সেই চলায় কিছুই নেই। ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে পৌঁছে যখন দুজনে বসে ।তখন হঠাৎ তিথি মনোজকে জড়িয়ে ধরে । মনোজ কেমন হকচকিয়ে যায় ।ওর যেন কোনো তাপ উত্তাপ বলে কিছু নেই ।লোকে দেখছে ,কি দেখছে না? শেষে ৫ সেকেন্ড পর মনোজ তিথিকে বাহুবন্ধনে থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করল আর বলল 'তিথি এটা তুমি করো না। বড্ড বেমানান ।'
তিথি বললো  'কেন আমি তো শুধু তোমার জন্য এসেছি ।আমি তো তোমাকে ভালবাসি ।'
 মনোজ  বলল  'আজ সেই ভালবাসার কোন মূল্য নেই। আজ তুমি আলাদা । আমি আলাদা। আমার সংসার আছে ।আমার স্ত্রী আছে ।আমি তাকেই সব থেকে বেশি ভালোবাসি ।তোমার কি সমস্যা তুমি আমাকে বল ?সে জন্যই আমি এসেছি।'
মনোজ বুঝতে পারছে যতই ওকে বাহুবন্ধন থেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে, কিছুতেই সেটা করতে পারছে না। তিথির ভেতরে যেন বহুদিনের সঞ্চিত আবেগ হঠাৎ করেই বাঁধ ভেঙেছে। মনোজকে সেই জলোচ্ছ্বাসে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে চাইছে দূর থেকে বহু দূরে কিন্তু মনোজ সেই ডাকে সাড়া দিতে পারছে না।
মনোজ বলল  'তিথি সবাই দেখছে ।একটু জোর করেই নিজেকে ছাড়ালো ।তারপর বলল ' তোমার কিছু বলার না থাকলে ,তাহলে আমি আসছি ।আমার ট্রেনের টাইম হয়ে গেছে।'
তিথি বললো  'আমি আজকে তোমার সঙ্গে সারাটা দিন কাটাতে চাই। আজকে কিছু বলব না আমি তোমায়। তুমি আমাকে সময়টুকু দাও।'
মনোজ বলল 'এ কথা তো ,তুমি আমাকে বল নি আগে ?আমার সময় নেই ।আমাকে যে বাড়ি ফিরতেই হবে।'
তিথি বলল  'সেটা কখনো সম্ভব নয়। তুমি আমাকে ফেলে দিয়ে যেতে পারো না।'
মনোজ অনেক বোঝানোর চেষ্টা করল তার বাড়িতে সমস্যা গুলোর কথা বলল ।
তিথি বলল  ' ঠিক আছে।  বহুদিন পর দেখা ।ভেবেছিলাম যে ,তুমি অন্তত আমার সঙ্গে আমার ডাকে সাড়া দিয়ে কিছুটা সময় কাটাবে ।তাহলে তোমাকে আজকে কথা দিতে হবে, তুমি কবে আমার সঙ্গে আবার দেখা করবে ?'
মনোজ ভেবে দেখল  _আজকের মত মুক্তি পেতে হলে তিথিকে কথা দিতেই হবে ।তারপর পরে ভেবে দেখা যাবে ।
তখন মনোজ বলল  'ঠিক আছে। আমি অন্যদিন তোমার সঙ্গে দেখা করব। তুমি যাও ।ঠিক আছে ।আমিও আসছি।'
মনোজ ট্রেন ধরার উদ্দেশ্যে রওনা দিলো আর তিথি ওখানেই দাঁড়িয়ে যতক্ষণ মনোজকে দেখা যায় দেখতে লাগল ।
মনোজ কিন্তু একবারও তাকিয়ে দেখল না যে চাতক পাখির মতো তিথি কেমন তাকিয়ে আছে ,একপশলা বৃষ্টি কখন  তৃষ্ণার্ত বুকটাকে ভিজিয়ে দেবে।

রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"২৪

চলছে নতুন  ধারাবাহিক  উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়" 
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের  পড়তে সহযোগিতা করুন  লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম  লেখার। 
আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে  লিখতে সহযোগিতা করবে। 






উদাসী মেঘের ডানায় 
                                                   ( ২৪ পর্ব ) 


জীবনটা ভাঙা,গড়ার খেলার মৌন মুখর হয়ে ওঠে
কখন অবিশ্বাসের ঝড়ের দাপটে টুকরো টুকরো
হয়ে উড়ে যায় সব স্বপ্ন আশা,ভরসার আশ্রয় টুকু আপ্রাণ চেষ্টা করলেও ঝড়ে উড়ে যাওয়া ছাউনিটা শক্ত করে ধরে রাখতে চাইলেও আঘাতে কখন অজান্তে ছুটে যায় তখন আর ফিরে দেখা, হয়না।
আবার কেউ ব্যাস্ত নিপুন হাতের ছোঁয়ায় নতুন একটি
ছাদ মাথার উপরে একমাত্র ভালোবাসার ভরসার গড়া ছাদের। পৃথিবীটাই যেনো রঙ্গমন্ঝের এক নাট্যশালা
জীবনের কত অজানা গল্প লুকিয়ে থাকে ইটের প্রাচীরের ভিতর,কতযে আর্তনাদ জমে ওঠ দেয়ালে দেয়ালে কেইবা কার খবর রাখে।
একটা খবরই থাকে বিশ্বজুড়ে সেটা নারীদের কত রকমের দোষ আছে খুটিয়ে বের করা।
কারো,সব থেকে ও একা, কারো সব থেকো ও মর্ম বুঝেনা।সামিয়া একা এক মানুষ নারী আজ একা হয়েও,মুছে যায়নি তার নাড়ির বন্ধনের অপার এক গন্ধ তা কেবলই মাতৃত্বের এখানেই নারীর জয় আর সেই জয়কে আগলে রেখে আজ একাই পথ চলতে,হবে।কতটা পথ হাঁটতে হবে তার শেষইবা কোথায় হয়তোবা জানা নেই,।তার হৃদয়ে যে শক্তির আগুন জ্বলে উঠেছে অন্যায়ের প্রতিবাদি সেই আগুনের সাথে লড়াই করে বাঁচার যা দেখে আরও নারীরা যেনো বাচাঁতে পারে অপমান অপবাদের বিরুদ্ধে।হঠাৎ করে বদলে যাওয়া এক হাসিখুশি সামিয়াকে বদলে দিয়েছে কতটা কঠিন করে  তুলেছে
তাকে এ সমাজ,সংসার, কাজই যেনো তার জীবন
এযেনো এক অন্য সামিয়া ভুলে গেছে হাসতে কোথায় স্বপ্ন আবেগ সব কিছু আজ অতীত তাকে দাঁড়াতে হবে
একা একেবারেই একা। 
সামিয়ার ভাবনার অতলে হারিয়ে যেতে যেতে তৃষ্ণার
ডাকে চমকে উঠলো
তৃষ্ণা- কি ভাবছো সামিয়া, তোমাকে নিষেধ করেছিনা এভাবে মনমরা থেকোনা অসুস্থ হয়ে যাবে।
সামিয়া- নারে বেঁচে থাকার কথাই ভাবছি, এবারের
লড়াইটা একা টিকে থাকার লড়াই, আমারটা দেখে
আগামি প্রজন্ম ও শিখতে পারে সাহস পায়, আমরা নারী নই শুধ বিধাতার সৃষ্টির সেরা প্রকৃতি তাই শুধু নারীই যে সন্তান ধারণ ক্ষমতার আর এক সৃষ্টির
জন্ম দিতে পারে, আমরা সন্তান ধারণ করি বলেই পুরুষরা বাবা হতে পারে, তবে কেন আমরা এতো অবহেলিত হবো সংসার করতে যেয়ে স্বাক্ষরের কাগজের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীন স্বত্বাটুকু ও
ছিনিয়ে নিয়ে ভোগের সামগ্রীরূপে বেঁচে থাকার নামই
কি জীবন ? 
আর আমরা পরিবারের মান সন্মান রক্ষা করার জন্য তিলেতিলে ক্ষয় হবো
আমাদের জাগতে হবে জাগাতে হবে ওদের।
তৃষ্ণা-একদম ঠিক বলেছো, আমাদের কন্ঠ প্রতিবাদি
হবে এভাবে নিরবতায় মাঝে সব সয়ে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা নয় আমাদের স্বপ্ন কে  বাচঁতে হবে বাচঁতে হবে মাথা উচু করে। 
যে দেশে নারী আপমানিত ও ধর্ষিতা হয় সেই দেশ বা রাষ্ট্রের কখনো কল্যান হতে পারেনা। 
 চলো মা ডাইনিং এ অপেক্ষা করছে রাত হয়েছে বেশ
 সামিয়া - চল 
চলবে...

কামরুন নাহার



কথোপকথন 


এই ছেলেটা

একটু দাড়া

নাম কিরে তোর!


আমার নাম!

সোনার তরী

এই যে নদী... 

তার ওপারেই আমার বাড়ি।


কিন্ত তুমি... 

এই এ বেলা যাচ্ছো কোথায়? 

কে ভাই তুমি?


আমি! 

আমি হলাম মেঘ দুলালী

মেঘের রাজ্যে আমার বাড়ি।


বাঃ!

নামতো তোমার মিষ্টি ভারী।


তুমি কি সেই!

যে গগন কাঁপায় 

বৃষ্টি ঝরায়

হঠাৎ হঠাৎ দমকা হাওয়ায়

বজ্র হয়ে ঝড়ে পড়ে!

আর চারিদিক ভাসিয়ে নেয়!


তুই তো বেশ কথায় পটু!

ঝগড়া করিস পা বাড়িয়ে

এমন করে বলতে আছে!


আমি হলাম 

কৃষক মায়ের মুখের হাসি।

বর্ষা দিনের প্রথম কদম

কিশোরীদের উচ্ছ্বসিত উচ্ছলতা 

বৃষ্টি ভেজা

যা যা তোর ভাষায় ওই তো আমি।

ভীষণ রাগী আর আকাশ কাঁদাই। 


হ্যা, হ্যা যাচ্ছি তো তাই

তুমি ডাকছো!

তাই কি আমায় থামতে হবে?

আমার কত কাজ রয়েছে 

হাঁটছি আমি দেখছো না কো!

দেখছি তোরে

তবে পারছি নাতো তাল মেলাতে।


তুই যে তরুণ 

উদ্দাম এক প্রান ঐশ্বর্য 

আমার বয়স শত বর্ষ

তোর সাথে কি পারি বল!


আচ্ছা তবে বিদায় নিলাম

তুই চলে যা তোরই পথে

এবার আমি বাঁক নেবো যে

তোর পথে আর যাবো না

তুই চলে যা সোনার তরী

ভালো থাকিস

আমার কথা মনে রাখিস

প্রয়োজনে আমায় ডাকিস

মনে থাকবে!


সন্ধ্যা হলো

আসতে পথে

আবার পিছু

ডাকছে কে যে!

এই ছেলেটা 

যাচ্ছো কোথায়?

দাড়াও না ক্ষণ!


আমি হলাম সোনার তরী 

এই যে নদী তার ওপারেই আমার বাড়ি। 


কেনো ডাকছো এমন করে

কে গো তুমি?

এই নিঝুম রাতে অন্ধকারে 

ডাকছো আমায় বারেবারে।


আমি হলাম জোনাক পোকা

রাতের বেলায়ই জেগে থাকা

হঠাৎ করে

তোমায় একা চলতে দেখা

ইচ্ছে হলো সাথী হতে

তোমার পাশে আলো জ্বেলে

তোমার হাতে হাতটি রাখার।


রাগছো কেনো?

রাগবো না! 

সকাল বেলা আসতে পথে

পথ কাটলো মেঘ দুলালী 

চললো আমার সাথে সাথে

গল্প জুড়ে সারাটা পথ

হাটলো আমার পাশে পাশে 

দিন গড়িয়ে রাত্রি এলো

তাও তারে ভুলছি না যে

মন টা যে তাই ভীষণ খারাপ। 


তাই ভেবেছি চলবো একা

করবো না আর গল্প কোন।

দেবো না হাত

একাই হাঁটো! 


আমি হোলাম 

সোনার তরী

যে একাই আসে 

ওপার থেকে 

মিষ্টি হেসে একটু ক্ষণ 

গল্প করে

ফের চলে যায়...

যেই পারেতে নিজের বাড়ি।


ভালো থেকো জোনাক পোকা 

রাতেই জ্বেলো তোমার পাখা

অন্ধকারে পথিক মনে আলো দিও।

ভালো থেকো।

কনিকা মাহমুদ





কল্পনায় ছুঁই তোমাকে


আমি তোমায় কাছে থেকে দেখেছি
কখনো স্পর্শ করার সুখ পাই নি
আমি কল্পনায় তোমাকে বহুবার স্পর্শ করেছি
স্পর্শের সুখটুকু আমায় ছোঁয়নি।

স্পর্শ করেছি তোমার চিবুক, তোমার ঠোঁট 
ঘন চুলে বুলেয়েছি হাত 
এভাবেই কল্পনায় সুখ কিনেছি
বহু দিন বহু রাত।

আমি কল্পনায় বিভোর হয়েছি
তোমার চেনা শরীরের গন্ধে 
বাঁকা চাহনিতে মুগ্ধ হয়েছি
অজানা সুখ অজানা আনন্দে।

কখনো যদি পড়ন্ত বিকেলে সুযোগ হয়
তোমার আঙ্গুলে আঙ্গুল স্পর্শ করার
কিছুক্ষন ধরে থাকতে দিও
তুমিও কিছু স্পর্শের সুখ বিনা দাবিতে নিয়ে নিও।

লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"২১

চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় লেখক শান্তা কামালী'র  নতুন ধারাবাহিক  উপন্যাস "বনফুল" 
 




বনফুল 
         ( ২১ তম পর্ব ) 
 

                          পলাশ মাথা নিচু করে বসে আছে ওনাদের সামনে। পলাশকে খানিকটা লজ্জা পেতে দেখে ওয়াজেদ সাহেব প্রশ্ন করলো রেজাল্টের পর কি করবে, কিছু ভেবেছো? পলাশ উত্তর দিলো জ্বি, না আঙ্কেল এখনো কিছু ভাবিনি,ওটা রেজাল্টের উপর নির্ভর করছে, যদি ভালো হয় ইচ্ছে আছে বাহিরের কোনো ভার্সিটি থেকে এম,বি,এ,করবো। 
জুঁইয়ের মা মনোয়ারা বেগম বুঝতে পারছে ছেলে মেয়েরা একটু গল্পগুজব করবে.....তাই নিজের স্বামীকে বললেন তুমি শাওয়ার করে এসো, 
আমি টেবিলে খাবার পরিবেশন করছি,এই বলে ওদের একটু সুযোগ করে দিলেন। 
বাবা-মা চলে যেতেই জুঁই পলাশ আর সৈকতকে উদ্দেশ্য করে বললো এ হচ্ছে আমার বান্ধবী অহনা, আর অহনাকে বললো জুঁই ও হচ্ছে...
কথা শেষ হবার আগেই অহনা বলে বসলো, বুঝেছি তোর ফাগুনের.... 
 পলাশ একটু লজ্জা পেলো।অহনা পলাশ কে উদ্দেশ্য করে বললো, তা পলাশ বাবু,মৌ জমেছে তো?পলাশ একদম চুপ করে আছে, বেশ মজা পাচ্ছে, কিন্তু মুখে কিছু বলছে না।
জুঁই আবার বললো, আর উনি হচ্ছেন পলাশের বন্ধু সৈকত ভাই। 
এবারে সৈকত মুখ খুললো,মৌ জমেছে বলেই না আজ আমার, আপনার নিমন্ত্রণ। 
অহনাও ওদের ইশারায় সালাম জানালো। তারপর অহনা পলাশকে বললো ভাইয়া আমার দুর্ভাগ্য ভার্সিটিতে চান্স না পাওয়ায় আমাদের আলাদা হতে হলো। পলাশ বললো জুঁই ও তুমি মাঝেমধ্যে একটু সময় বের করে একসাথে হবে সমস্যা কি? অহনা বললো সেতো হবো কিন্তু প্রতিদিন তো আর দেখা হচ্ছে না।
কথার মাঝখানে সৈকত ঢুকে বললো কি আর করা যাবে, বাস্তবতা কে মেনে নিতেই হবে। 
সৈকত কথা বলতেই, এবারে অহনা সৈকত কে ঠেস দিয়ে বাতাসে উড়িয়ে দিয়ে বললো
সৈকত দেখতে পাচ্ছি কিন্তু সামনে ঊর্মিমালা কই?
দেখতে পেলাম না তো! 
সৈকত হেসে উঠলো। 
জুঁই বললো,হাসলেন কেন ভাইয়া? 
সৈকত বললো, ওনার কথা শুনে। 
আমার কথা শুনে?  কেন?
সব কিছু কি চোখে দেখা যায়, মন দিয়েও তো কিছু কিছু জিনিস দেখতে হয়,সৈকত জবাব দেয়।
অহনা,হুম্ম বলে চুপ করে যায়।
সৈকত আবার বলে, আমি তো দেখতে পাচ্ছি, তবে তার পানি লোনা না মিঠা জানিনা। 
এবারে জুঁই জবাব দিলো,পরিক্ষা প্রার্থনীয়।
সবাই হো হো হো করে হেসে ফেললো। 
একটু পরে, সৈকত পলাশ ও জুঁইকে একটু সুযোগ করে দেওয়ার কায়দায় বললো জুঁই আমি কি তোমাদের বাড়ীর ভিতর ঘুরে দেখতে পারি? জুঁই বললো,ওহ্,শিওর ভাইয়া,অহনাকে উদ্দেশ্য করে  জুঁই  বললো, তুই  কি সৈকত ভাইয়া কে নিয়ে বাড়ি টা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবি? অহনা বললো  আপনি কি আমার সাথে যাবেন? সৈকত বললো আপনি  সহযোগিতা করবেন তাতে সমস্যা কোথায়? 
 অহনা বললো জ্বি ভাইয়া চলুন তাহলে, ঘুরে দেখবেন...।  ওরা দুজন চলে যেতেই জুঁই পলাশের পাশে বসলো, পলাশ সুযোগ বুঝে, জুঁই আজ তোমাকে অন্যরকম সুন্দর লাগছে... 
জুঁই প্রশ্ন করলো যেমন? 
ইস এতো কিছু বলা যায়! অন্যদিন থেকে বেশি এগ্রেসিভ  লাগছে........ 
জুঁই বললো, তাই বুঝি!তোমাকেও আজ বেশ বর বর মনে হচ্ছে।
পলাশ বললো, বর বর না-কি বর্বর? 
বলেই হাহাহা হাহাহা হাহাহা হেসে উঠলো । 
জুঁই বললো,হুমম,বুঝেছি রসিক নাগর।
 তুমি কি আমার রুম,আর ছাদ-বাগান দেখবে না ? এই বলে  পলাশের হাত ধরে বললো চলো দেখবে,
 প্রথমে ওর রুমে নিয়ে গেল। পলাশ অবাক হয়ে দেখছে আর ভাবছে জুঁই কতো শানশৌকতে বড় হয়েছে, আমি তা দিতে পারবো তো.... এই ভেবে একটু আনমনা হয়ে যায়, জুঁই পলাশের হাত ধরে বললো কি হলো তোমার! কি ভাবছো? 
জুঁই হাত ধরতেই পলাশ   বাস্তবে ফিরে এলো, জুঁইয়ের শরীরের পারফিউমের একটা আকর্ষণীয় সুবাস  অনুভব করলো.....। 
জুঁই এবারে পলাশের হাতে একটা আলতো চাপ দিতেই
পলাশ স্থবির হয়ে গেলো। জুঁই পলাশের এই অবস্থা টা খুব এনজয় করতে করতে পলাশের বুকে তার মাথা টা রেখে বললো, কি হলো, চুপ করে আছো কেন?কিছু বলো?
পলাশ মন্ত্রমুগ্ধ বালকের মতো জুঁই য়ের দুটো গালে হাত দিয়ে নিজের বুকের সাথে মাথাটা চেপে ধরে বললো, জুঁই, আমি কি....
কথা শেষ না হতেই 
মুহূর্তে জুঁই পলাশ কে জড়িয়ে ধরে বলে, হ্যাঁ তুমি, তুমি আমার, শুধু ই আমার।পলাশ আর নিজেকে ঠিক রাখতে পারলো না,জুঁইয়ের কপালে চুমু খেয়ে  বললো জুঁই আমি তোমাকে এতো সাচ্ছন্দ্য দিতে পারবো তো? 
জুঁই আরো জোরে চেপে জড়িয়ে ধরতেই,পলাশ ভয় পেলো,বললো ছাড়ো,কেউ দেখে ফেলবে। 
জুঁই বললো, আমার ঘরে কেউ আসবে না। তুমি যে আমার অন্তরের সম্পদ,বাইরের এই বৈভব তার কাছে কিচ্ছু না।এইসব ভেবে তোমার মন খারাপ হচ্ছিল! 
পলাশ জুঁইয়ের মাথায়, ঘাড়ে হাত বুলাতে বুলাতে বললো হওয়াটাই স্বাভাবিক নয় কি? জুঁই এবার নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে বললো এসব ভাবনা ছেড়ে এখন চলো বাগান দেখবে......
ছাদে উঠে পলাশ আরো আশ্চর্য হলো কি রুচিশীল জুঁই.... পলাশ নিজের অজান্তেই বলে উঠলো খুব সুন্দর তোমার বাগান, আসলে  তুমি নিজেই যে আরো বেশি সুন্দর। 
এরই মধ্যে ময়না ছাদের দরজায় এসে দাঁড়িয়ে বললো আপা, খালাম্মা বলছেন খাবার টেবিলে আসার জন্য।


                                                                                                                                 চলবে...

০৮ নভেম্বর ২০২১

আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব

"শিক্ষাশ্রী ও দিঘাশ্রী অনন্য সম্মান"নিউ দিঘাতে


নিজস্ব প্রতিবেদন , নিউ দিঘা : সমুদ্র সৈকত শহর নিউ দিঘাতে অনুষ্ঠিত হল "দিঘাশ্রী অনন্য সম্মান" প্রদান অনুষ্ঠান।সামাজিক কাজে বিভিন্ন অবদানের জন্য পুরস্কৃত হলেন লাল পাহাড়ির দেশে যা, রাঙামাটির দেশে যা গানের জনপ্রিয় গীতিকার ও কবি অরুণ কুমার চক্রবর্তী, সমাজসেবী অমৃত মাইতি, কবি আজরা বানু, কবি ও শিল্পী শ্যামল জানা, বনানী পত্রিকার সম্পাদক অধীর কৃষ্ণ মন্ডল ,বাচিক শিল্পী মৌ পাঠক সিংহ,আজিজুল হক, অন্তরা সিংহ রায়, জয়ন্ত রসিক, সবিতা বেগম,নাজমা সুলতানা প্রমুখ।
শিক্ষা আন্দোলনে বিশেষ অবদানের জন্য পুরস্কৃত হলেন কৃষ্ণচন্দ্র পুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি পেলেন গনদেবতা পুরস্কার, কবি অন্নদাশঙ্কর রায় স্মৃতি পুরস্কার পেলেন সাংবাদিক ও প্রকাশক শংকর দত্ত।শিক্ষাশ্রী পুরস্কার পেলেন শিক্ষক সাবির হোসেন হালদার, শিক্ষক অবশেষ দাস এবং বাচিক শিল্পী প্রদীপ ঘোষ স্মৃতি পুরস্কার পান সেলিম দুরানী বিশ্বাস।

   
                    আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব মঞ্চে কবি ও শিল্পী'রা  


আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব মঞ্চে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে কুসুমের ফেরা সাহিত্য পত্রিকা ও ডায়মন্ড হারবার প্রেস ক্লাব।এদিন অগ্নিবীণা পুরস্কার তুলে দেওয়া হয় অধ্যাপক নির্মল বর্মন, দেবাশিস মাঝি, অধ্যাপক আশিস অধিকারী এবং অধ্যাপক গোবিন্দ প্রসাদ করকে। ডায়মন্ড হারবারের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক পান্নালাল হালদার, জননেত্রী মনমোহিনী বিশ্বাস প্রমুখ।


             আন্তর্জাতিক ইলিশ বাঁচাও ও পর্যটন উৎসব মঞ্চে কবি ও শিল্পী'রা  


ছোট ইলিশ বাঁচাতে দিঘায় বঙ্গোপসাগরের মোহনায় এক সচেতনতা মূলক পদযাত্রার আয়োজন করেন উৎসব কমিটির সম্পাদক সাকিল আহমেদ।তিনি বলেন দয়া করে ছোট ছোট ইলিশ ধরবেন না।ওদের বড় হতে দিন।ডিম পাড়ার সময় দিন।না হলে ইলিশ মাছ কে আগামী প্রজন্ম জাদুঘরে দেখবে।

০৭ নভেম্বর ২০২১

কবি সুবর্ণ রায় এর কবিতা




পেরিয়ে এসো 
  

ভেঙে যাক সব রেখার বাধা,এসো পেরিয়ে 
ছড়িয়ে পড়ুক আকাশজুড়ে মুগ্ধ কাতরতা
সর্বনাশের মাঝে ফের দাঁড়িয়ে দু'জনে
ছুঁয়ে দিই আজ একে অপরের ঠোঁটের নীরবতা

সাবানা পারভিন





আগ্নেয়গিরি


একশ ওয়াটের বাল্বটি 

নিজেকে সূর্যের পরিচয় দিয়ে চুপ করিয়ে দিয়েছিল

মাটির সমস্ত প্রতিবাদের ভাষা ।

তারপর সমস্ত শক্তি হারিয়ে মৃত্তিকা

তলিয়ে যায় গভীর ঘুমের দেশে।

তারপর ক্ষমতার দম্ভে 

একশ ওয়াটের বাল্ব 

ভূ-বক্ষে পদাঘাত করতে করতে

একে একে হাসিল করছিল

মত্ত পৃথিবীর যাবতীয় উল্লাস।



কিন্তু এত সহজেও সব শেষ হয় না।

একটু একটু করে মৃত মৃত্তিকার

বুকের ভিতর পলি জমতে থাকে আগুনের।

জমতে-জমতে, জমতে-জমতে

ভিতরে ভিতরে ফুটতে থাকা লাভাদের বিদ্রোহ নিয়ে

একদিন সে জীবন্ত আগ্নেয়গিরি হয়ে ওঠে।





তানভীর আজীমি ( এথেন্স, গ্রিস )




একটি ফুল ও আমি 


আমি একদিন ফুলকে জিজ্ঞাসা করলাম
বলতো তুমি এতো সুন্দর কেন ??
ফুল হেসে বললো সবাই আমাকে পছন্দ করে তাই
আমি কারো প্রথম প্রেমের সাক্ষী 
কারো মন মন্দিরে মালা বদলের অকুলতা 
মধ্যবয়সী প্রণয়ের আলিঙ্গনের সাগরে ভেসে যাওয়া অনুভূতি
আমি কারো বাসর শয্যার মনোরোম সুগন্ধ
কেউ পড়ে গলায়,কেউ সাজায় কবরে,
কেউ আবার অভিমানে পিষে দেয় নির্মম আঘাতে।
আমি হয়তো বিচিত্র সুন্দর  
তাই আমাকে বিচিত্র ভাবে ব্যাবহার করো। 

ফুল আমাকে কানে কানে জিজ্ঞাসা করে !! 
আচ্ছা তুমি কি আমাকে পছন্দ করো 
আমি নির্দ্বিধায় উত্তর দিলাম হেসে 
তোমাকে পছন্দ করি বলেইতো ছুঁয়েদেই আমার নরম ঠোঁটে 
তোমাকে পছন্দ করি বলেইতো সাজাই প্রেয়সীর খোঁপায় পরম আনন্দে 
তোমাকে পছন্দ করি বলেইতো বেঁধেদেই আঁচলের অলিন্দে 
তোমাকে পছন্দ করি বলেইতো তোমায় পেতে চাই বাসরে 
প্রিয় মানুষটি যখন এসে কাছে আলিঙ্গন করে নিবিড়ে 
তোমার সুভাসে মুখরিত হয় মনের বাগান
এক অনাবিল সুখের সাগরে আমি ভেসে যায় স্বর্গীয় অনুভূতি নিয়ে।

ফুল অভিমান করে কাছে এসে বলে !!
তুমি কবি,
তুমি আমায় নিয়ে সাজাও কবিতার বাসর
জগতে অজস্র রুপে তুমি অনুভব করো আমায়
দিলরুবা পৃথিবীর প্রীতিটি উৎসবে আমায় সাজাও ভক্তি করে
মন্দিরে, মসজিদে, মাজারে, প্রতিমার গলায়, শহীদমিনারে,
আমার রুপ ও সুগন্ধে মুখরিত হয় চারিপাশ
প্রণয় শেষে আমি পড়ে রই অবহেলায় ত্তঁচলাকুড়ে  
এই কি তোমাদের ভালোবাসা, ভক্তি, তোমাদের সম্মান। 
আমি শুধুই তোমাদের প্রয়োজন, প্রিয় নই।

অবশেষ !! মুখ মলিন করে  
শেষ ফুলটিও ঝরে পড়ে ছুপটি করে নীরবে 
অফুরন্ত গ্লানি নিয়ে বুকের গভীরে 
আমি নির্বাক হয়ে ফিরে আসি দুফোঁটা অশ্রু চোখে
নির্দয় মানুষের ভুবনে, গোধূলির গোপন ধূসরে
নির্মম বাস্তবতার এই পান্থশালায়।

সজল কুমার মাইতি




মানসী



পূজোয় তারে দেখেছিলেম নানা রঙের সাজে
কোথাও সে বাদ্যি বাজায় কোথাও ব্যস্ত কাজে।
কখনো সে অঞ্জলি দেয় কখনো সাজে সিধে
রাতের বেলায় ধুনুচি নাচে ঘামে নেয়ে ভিজে।
সকাল বেলায় আগমনীর সুরে সবায় করে মাতাল 
পংক্তি ভোজের দুপুরেতে সবার খেতে খেতে বিকাল।
সিঁদুর মাখা মুখে তোমায় লাগে যে দেবী
বিসর্জনের পরও থাকবে তোমার স্মৃতির ছবি।
সুখ দুঃখ থাকে সবার থাকবে তাও জানি
তারই মাঝে আনন্দরে করি কেবল টানাটানি

কবি বিকাশ সরকার আলোউৎসবে এবং আমরা দুইজন

ভালোবাসা থেকে প্রেম 

দেবব্রত সরকার 

(আজ দ্বিতীয় কিস্তি) 

                                               আলোউৎসবে সকলে যখন বাজি ফাটাচ্ছে তখন কবির কাছে আমরা দুইজন মানে সঙ্গে কবি বন্ধু তথা সাংবাদিক সানি সরকারকে নিয়ে কবিতা গল্প সাহিত্যে আলোর ঝলক দিয়ে গেলেন কবি।  কবি বিকাশ সরকার একজন প্রাণের মানুষ পাঠকের কাছে।  সবুজ মন নিয়ে হৃদয়ে নাড়া দেয়। তাঁর নিজস্ব অনুভূতিকে লেখার মধ্যে এমন ভাবে প্রয়োগ করেন যে , যে কোন পাঠকই ভেবে নিতে পারেন তার জীবনের কথা উল্লেখ করছেন।  কবিতার বই পড়তে পড়তে কালী পুজোর পরদিন সানি আমার ঘরে হাও হাও করে কেঁদে উঠল।  আমি তাকে কোন ভাবেই থামাতে পারিনা।  সানি বলল তোতন বলতো কি করে লেখেন বিকাশ দা ? আমি নির্বাক হয়ে চেয়ে থাকলাম।  সানি চোখের জল মুছতে মুছতে বাইরে ঘরে গিয়ে বসল আমার সঙ্গে তারপর বিকাশদাকে নিয়ে চলল আলোচনা কেটে গেল সারারাত।  কবির গল্প উপন্যাস ও কবিতা নিয়ে কি ভাবে যে রাত কেটে গেল জানতে পারিনি। সকালের পাখি ডাকতেই ব্যাগ কাঁধে কবির বই হাতে ট্যাক্সিতে গিয়ে বসলাম দুইজনে।  রওনা দিলাম শিয়ালদহ রেলস্টেশন এর দিকে। 

                                     
                            কবি বিকাশ সরকার কাব্যমায়ায় বুনে ঘর, কেউ নেই তার পরপর 
  

এটাই সত্য যে তিনি এই সময়ের অন্যতম এই বাংলা সাহিত্যের স্বনামধন্য কবি। কবি বিকাশ সরকারের কবিতায় মাটির ঘ্রাণ লক্ষ্য করা যায়।  কবি বিকাশ সরকারকে নিয়ে কবি কুমার অজিত দত্ত একটি নামি  সোশ্যাল মিডিয়ায় উল্লেখ করেছেন  যে, "ঈশ্বররেরা বিকাশ সরকারের কবিতা শোনে আর মুগ্ধ হয় পড়তে পড়তে , আমরাও সজনে -সবুজ হয়ে যায় , ধানক্ষেতে শুয়ে থাকি , আমরা আজ প্রকৃতি দারিদ্র হলাম ..." গৌহাটির কবি মুন চক্রবতী সেখানেই লিখেছিলেন-"লেখনীতে অনুভূতি জাগ্রত "কবি কৃষ্ণ প্রিয় ভট্টাচার্য ওখানেই উল্লেখ করেছেন -"বিকাশের কবিতা ক্রমশ বিকাশের মতোই বিকশিত "। কবি অনুপ আচার্য উল্লেখ করেছেন যে, মন ভরিয়ে দেওয়া মাটির গন্ধমাখা কবিতা।  
  

                                চায়ের দোকানে সেল্ফি 
                               চুপচাপ কবিকে দেখেছি 


 কবিকে নিয়ে কবি তুষার ভট্টাচার্য বলেছেন -"কবি বিকাশ সরকারের কবিতায় রয়েছে মাটির ঘ্রাণ।  জীবনানন্দর উত্তরসূরী প্রতিভাবান এই খানিকটা অনালোচিতই রয়ে গেলেন এটা ভীষণ আক্ষেপের। " 

                                               
                                           কবি বিকাশ সরকারের সঙ্গে আমি

 

                                     কবি বিকাশ সরকারের সঙ্গে কবি সানি সরকার 



জীবন কুড়ানো কথার যাদুতে ভরা কবিতার কবি , জীবন সংগ্রামের এক ফুটন্ত ভাতশিকারের কবি, কবি  বিকাশ সরকার তাঁকে শ্রদ্ধা ও প্রণাম। 
তাঁর ছন্দ হৃদয়ে দোলা দেয় আমার আমার করে কান । তাঁর দর্শন প্রতিটি শব্দে রহস্য মাখানো বোধ। 
উঠে আসে প্রতিটি নিয়তি মায়া । কবিতায় চুঁইয়ে পড়ে গ্রাম্য ভ্রাম্য প্রকৃতি । তাঁর  লেখার পিরামিড প্রেমে আমি হয়ে উঠি "বিষাদ বালক"। কবি আপনাকে অসংখ্যবার জানাই হার্দিক শ্রদ্ধা। আরো লিখুন আরো কবিতা চাই আমার এই বাংলা ভাষা। দু হাত খুলে আমাদের উজাড় করুন আপনার অনন্ত প্রেম। অপেক্ষায় আমরা আরো নতুন শব্দ বোধের আশায় ... 


                                                                                                                                    

মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৩৮

একান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক।  তার নিত্যদিনের  আসা  যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "।






'টানাপোড়েন' (৩৮)

          ফিকে স্মৃতি



                                                         রেখা ভেবেছিল আজকের সন্ধ্যাটা বেশ ভালোই কাটবে । মনোজ বেশ  ভাল ই ছিল ,মাঝখান থেকে ফোনটা এসে যাওয়াতে কেমন যেন চুপচাপ হয়ে গেল। ফ্রেশ হয়ে বেরিয়ে রেখা টেবিলে বসলো একগাল হাসি নিয়ে, হাসিটা রেখা জোর করেই হাসছে মনোজের মুডটাকে ঠিক করার জন্য।
 রেখা বলল  ' কফিটা খুব টেস্ট হয়েছে। না ।তুমি ন্যাচারালি কফি ভালো বানাও। কি গো খাও? এত কি ভাবছো বল তো?'
মনোজের হঠাৎ যেন রেখার কথায় চমক ভাঙলো তারপর বলল  'হ্যাঁ, কি বলছো,?'
রেখা কফির দিকে তাকিয়ে ইশারায় কফিটা খেতে বলল।
মনোজ বলল 'তুমি স্টেশনে গেছিলে কেন?'
রেখা বলল  'আর ব'লো না। কালকে খাতা জমা দিতে হবে এ,ই জন্যই তো।'
মনোজ  বলল  'একদিনের মধ্যে খাতা জমা?'জিজ্ঞাসু নেত্রে তাকিয়ে রইল রেখার দিকে'।
রেখা বলল  'আরে পর্ষদ নির্দেশিত ডেট দেওয়া হয়েছে। তো ,বড়দিরও কিছু করার নেই। ভাগ্যিস রিম্পাদি খাতাগুলো নিয়ে এসেছে। না হলে কি করতাম বল আমি?'
মনোজ বলল  'ঠিক কথা রিম্পাদির মতো একজন কলিগ তুমি পেয়েছো। তুমি ভাগ্যবতী।'
রেখা বলল  'আমি তো ১00 বার স্বীকার করি সে কথা রিম্পাদিও তো চলে যাবে ।এই তো কবে দেখো হুট করে ...।'
মনোজ বলল ' রিম্পাদি চলে গেলে ওরকম হিতাকাঙ্খী তুমি পাবে না তোমার স্কুলে।'
রেখা বলল 'আমি ও  ট্রানস্ফার নেব জানো তো?আশেপাশের স্কুলগুলো দেখি ভ্যাকান্সি আছে কিনা? কি বল তুমি?'
মনোজ বলল ' হ্যাঁ, সে তো দেখতেই হবে।'
মনোজ কফি খেতে খেতে মাঝে মাঝে অন্যমনস্ক হয়ে যাচ্ছে। ফোনটা আপন মনে ঘেটে যাচ্ছে।
রেখা বলল ' কি গো কি ভাবছো এত? এত ভেবো না ।দেখবে সব ঠিক হয়ে যাবে।'
মনোজ বলল  'বলছো?'
রেখা বলল  'হ্যাঁ, গো ।যদি মনের দিক থেকে সৎ থাকো ,তোমার কেউ কিছু করতে পারবে না। ঝামেলা হয় তো তোমাকে একটু  পোয়াতে হবে।'
এরমধ্যেই মনোজের ফোনটা বেজে উঠল  'ক্রিং ক্রিং ক্রিং'
মনোজ বিরক্তিভরে বলল ' আবার সেই ফোন।'
একটু রেগে আর বিরক্তিভরে বলল ' হ্যালো'।
অপরপক্ষ বললো ' কি ব্যাপার ।আজকে অনেকক্ষণ ফোনটা সুইচড অফ করে রেখেছিলে কেন?'
মনোজ বলল  'তা আমি প্রয়োজন মনে করলে আমার ফোনের সুইচড অফ করতেই পারি ।তাতে কারো পারমিশন নিতে হবে নাকি?'
অপরপক্ষ বলল  'তা নিতে হবে বৈকি? তুমি যখন তখন তোমার ফোনের সুইচড অফ করে রাখবে । আর আমি যোগাযোগ করতে পারব না ।তা তো হবে না।'
মনোজ বলল  'কে তুমি ?আমার জীবনে এতটা দখলদারি করতে এসেছ?'
অপরপক্ষ বলল  'সেটা তুমি ভালো করেই জানো।'
মনোজ বলল  'জানি বলেই তো বলছি।'
রেখা বলল ' কে ফোন করেছে গো তোমায়।'
অপরপক্ষ বললো  'ও পাশে বউ বুঝি? এইজন্য তোমার এতটা গলাবাজি তাই না?'
মনোজ বলল  'সে তো ঠিকই। সে তো আমার বউ ।আমার জীবনের সমস্ত কিছুতে তার অধিকার। এটা আবার বলার অপেক্ষা রাখে না কি?'
অপরপক্ষ বলল  'এই দ্যাখো, আমি অত কিছু জানতে চাই না ।কি ভাবলে সেটা তুমি আগে আমাকে জানাও।
মনোজ বললো ' দ্যাখো তিথি ,তুমি আমাকে ব্ল্যাকমেইল করতে পারো না।'
তিথি বলল  'একশোবার পারি। তুমি আমার সাথে যে অন্যায়টা করেছ তার জন্য পারি।'
মনোজ বলল  'অন্যায়! আমি তোমার সাথে কি অন্যায় করেছি?'
তিথি বললো  'তুমি জানো না? তুমি কি অন্যায় করেছো?'
মনোজ বলল 'একথা অনেকবার হয়ে গেছে। আমি তোমার সাথে কোন অন্যায় করি নি ।বরং তুমি আমার সাথে অন্যায় করেছো ।আর এত বছর পর ফিরে এসে তুমি আমার জীবন টাকে বিপর্যস্ত করতে চাইছ?'
তিথি বলল  'সে তো ঠিকই ।আমি নিজে বিপর্যস্ত হবো আর তুমি সুখে সংসার করবে ।সেটা তো হবে না।'
রেখা কথাগুলো শুনছে।
তারপর রেখা বলল  'কে ভদ্রমহিলা এত গলাবাজি করছে তোমার সাথে? আমার কখনো এরকম গলাবাজি করার সাহস হয় নি।'
মনোজ বলল ' রেখা তুমি ভেতরে যাও। তোমার খাতা চেক করার ব্যাপার আছে। আমি ব্যাপারটা বুঝে নিচ্ছি। তোমাকে এই নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হবে না।'
রেখা বলল 'কিন্তু তুমি এত উত্তেজিত হয়ে যেও না।  শান্তভাবে কথা বলে মেটাও।'বলেই ভেতরে চলে গেল রেখা।
মনোজ বলল 'কেন তুমি আমার জীবনে এসে আমার সমস্ত কিছু ওলট-পালট করতে চাইছে তিথি?'
তুমি তো বিয়ে করে চলে গেলে। আজ কেন হঠাৎ তুমি আবার ফিরে আসলে ?'
তিথি বলল 'কি ব্যাপার এত মোলায়েমভাবে এখন কথা বলছ ।তোমার বউ বুঝি নেই পাশে।'
মনোজ বলল 'না নেই। ও স্কুল টিচার। ওর খাতা চেক করার আছে ।ওকে আমি ভেতরে যেতে বললাম।'
তিথি বলল 'ও তোমার বউ স্কুল টিচার? সেই জন্যই বুঝি তুমি আমাকে এত নেগলেট করছো?'
মনোজ বলল 'আমি তোমাকে নেগলেক্ট করছি না তোমার জন্য আমার সহানুভূতি হয়। কিন্তু তোমার জীবনে কি কোন ক্রাইসিসএসেছে যার জন্য তুমি..?
রেখা বলল-আমার ক্রাইসিস তুমি। তুমি আসলেই আমার সব সমস্যার সমাধান।
মনোজ  বলল  'তোমার স্বামীর কি খবর?'
তিথি বলল  'কোন স্বামী ?কিসের স্বামী?'
মনোজ বলল  'তুমি তো বিদেশে চলে গেছিলে বিয়ে করে।'
তিথি বলল' ' আমি কোন বিয়ে টিয়ে করি নি। আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে চাই।'
মনোজ কথাটা শুনে মনে মনে একটু ভাবলো ।তারপর ভাবলো যদি ওকে কাছে পেয়ে বোঝানো যায়। তাহলে হয়তো সমস্যার সমাধান হতে পারে ।দেখা করলে কি আর ক্ষতি?
তিথি বলল  'দেখা করবে তুমি আমার সাথে?'
মনোজ বলল ' ঠিক আছে ।কোথায় বলো ?'
 তিথি বললো  'ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাস?বা ন্যাশনাল লাইব্রেরী?'
মনোজ বলল  'ন্যাশনাল লাইব্রেরী?'
তিথি বললো  'ওকে ।তাহলে আগামীকাল সাড়ে ১০ টায়।'
মনোজ ফোনটা রেখে ভাবছে কথা তো দিলাম।চলে যাওয়াটা কি ঠিক? যেতে তো হবেই ।না হলে যেভাবে ফোনে আমাকে জ্বালাচ্ছে । দেখা করে এর থেকে  আর...?   ভাবতে ভাবতেই রেখার ঘরে ঢুকে ঢুকল।
মনোজ দেখছে রেখা খাতা দেখতে দেখতে পেতে শুয়ে পড়েছে। আলতো করে পেনটা হাত থেকে নিয়ে রেখে দিল টেবিলে। তারপর রেখার মাথায় হাত বুলাতে লাগল।
রেখা হঠাৎ ঘুম ভেঙ্গে মনোজকে দেখে হকচকিয়ে যায়। উঠে বসতে যায় তখন মনোজ বলে'তুমি খুব ক্লান্ত না? আর একটু ঘুমাবে?'
রেখা বলল  'না, ঘুমালে চলবে না। খাতাগুলো শেষ করতে হবে। আর বলল  মিলিদের খাবারের দেরী হয়ে গেলো ।খেয়েছো গো?'
মনোজ বলল  'তাই তো? আমারো তো খেয়াল হয় নি ।চিৎকার করে নি তো?'
রেখা বলল'না না না আমি যাই দেখি কি হলো?' বলেই তাড়াতাড়ি ছুটলো মিলির দিকে।
মনোজ বলল  'আমিও তোমার সঙ্গে যাচ্ছি। চলো।'
দুজনেই ছুটলো। রেখা মিলি মিলি করে ডাকলো কিন্তু মিলির কোন সাড়া নেই। কাছে গিয়ে দেখে মিলে শুয়ে আছে ।রেখা গায়ে হাত দিয়ে দেখে প্রচন্ড জ্বর। সঙ্গে সঙ্গে মনোজকে বললো  'দেখো দেখো মিলির গা কত গরম? '
মনোজ ও  মিলির গায়ে হাত দিয়ে দেখল ঠিকই। প্রচন্ড গরম। বাচ্চারা পাশে শুয়ে দুধ খাচ্ছে।
মনোজ পশু ডাক্তারকে ফোন করল' হ্যালো'।
অপরপক্ষ বলল ' হ্যাঁ ,বলুন।'
মনোজ বলল  'আপনি তো জানেন আমাদের  স্ট্রীট ডগ আছে ,ওর নাম হচ্ছে মিলি । ওর প্রচন্ড জ্বর কি ওষুধ দেয়া যায় বলুন তো? ও কিন্তু  মা হয়েছে।'
ডাক্তারবাবু   বললেন 'ওকে প্যারাসিটামল খাইয়ে দিন আর তার সাথে ডাইজিন খাইয়ে দিন।'
মনোজ বলল  'ওকে।'
ডাক্তারবাবু বললেন  'কালকে কেমন থাকে আমাকে একটু জানাবেন কেমন?'
মনোজ বলল ' নিশ্চয়ই নিশ্চয়ই। অনেক ধন্যবাদ।'
রেখা বলল  ,.'আমার মিলি ঠিক হয়ে যাবে গো?  বলেই কাঁদতে শুরু করল।
মনোজ বলল ' হ্যাঁ, ঠিক হয়ে যাবে। দেখো না আমি এক্ষুনি পিন্টুদের দোকান থেকে ওষুধ নিয়ে আসছি।
তুমি খাবারের সঙ্গে গুঁড়ো করে ওটা খাইয়ে দেবে।'
রেখা বলল ' ঠিক আছে। তুমি যাও আমি ওয়েট করছি।'
মনোজ বলল ' আমি এক্ষুনি আসছি।'
রেখা বাচ্চাগুলোকে আদর করতে লাগল সঙ্গে মিলিকেউ। ও যেন কেমন অসহায় ভাবে রেখার দিকে তাকিয়ে আছে, আর মাঝে মাঝে মাঝে কাঁদছে।
এরমধ্যে মনোজ ওষুধ নিয়ে আসলো। রেখা খাবারের সঙ্গে গুঁড়ো করে খেতে দিল কিন্তু খাবার খেল না ।তখন রেখা বলল ' যাও মিষ্টি নিয়ে আসো ।ও মিষ্টি খেতে খুব ভালোবাসে ।মিষ্টির সঙ্গে ওষুধ খাওয়াতে হবে। '
মনোজ সঙ্গে সঙ্গে ছুটে গেল মিষ্টির দোকানে । মিষ্টি কিনে এনে রেখার হাতে দিল। রেখা মিষ্টির সঙ্গে গুড়িয়ে খাওয়ালো ।
তারপর রেখা নিজের রুমে চলে এসে চটপট  যে কটা খাতা বাকি ছিল, দেখতে শুরু করলো।
মনেজ ও  চলে গেল পাশের ড্রইংরুমে আর ভাবতে লাগলো সেই কলেজ লাইফের কথা। সবাই মিলে এক্সকারশনে গেছিল। কাশ্মীরের আপেল গার্ডেন , ডাললেক(শিকারা) ,আরুভ্যালি,চন্দনওয়ারী.... অসাধারণ আর  অসাধারণ পাহাড়, বরফ ,প্রকৃতি যেটা ভূস্বর্গ বলে খ্যাত সেখানে তিথির সঙ্গে একাত্ম হয়েছিল। 
কাব্য করে মনোজ কথা বলেছিল ' কোথায় ভাসিয়ে নিয়ে যাবে বিদেশিনী ,চলে যাব তোমা সাথে ,বাঁধবো ঘর খানি। '
এলোমেলো ভাবনা চলেছিল তখন ।যদিও মনোজ সেই ভাবনাটাকে স্থিতিশীল করতে চেয়েছিল কিন্তু তিথি...?
আজ তিথি ফিরে আসলেও....।
আজ তার বিস্তর ফারাক। সেই স্মৃতি তাকে মনে করালেও স্মৃতিকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়  বাস্তব বড় কঠিন।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক গল্প "অলিখিত শর্ত"১০



শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত 
                                              (পর্ব ১০)
   শামীমা আহমেদ 



                                          ছুটির দিনের সকাল। রাস্তা বেশ ফাঁকাই ছিল।শিহাব এক ঘন্টায় ঝিগাতলায় তাদের নিজেদের বাড়িতে পৌছে গেলো।মাঝে পেট্রোল পাম্প থেকে বাইকে তেল নেয়া। পথে আর কোথাও থামল না। মা অপেক্ষায় আছে তাই আর দেরি করতে মন চাইছে না।সারা সপ্তাহ ফোনে কথা হয়, ভিডিও কলে কথা হয়, দেখা হয়।তবুও মাকে ছুঁয়ে না দেখলে সত্যিকারভাবে মায়ের কাছে যাওয়া হয় না। যতই ভিডিও কলে দেখা হউক।অবশ্য শিহাবের বাবা এ ব্যাপারটায় এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠেনি। শুধু পাশে বসে সবকিছু শোনে।শিহাবের বাবামায়ের কাছে অর্থাৎ দাদাদাদীর কাছে বড় হচ্ছে শিহাবের একমাত্র সন্তান  তিন বছর বয়সী  ছেলে আরাফ। সেও তার বাবার জন্য নাস্তা নিয়ে অপেক্ষায় থাকে। শিহাবের বাইকের আওয়াজ শুনলেই দৌড়ে বারান্দায় চলে আসে।
শিহাবদের ঝিগাতলার এই চারতলা বাড়িটি  ওদের নিজেদের । তিন আর  চারতলায় এক ইউনিট করে হলেও বাকীগুলি দুই ইউনিটে করা।আর সবই ভাড়া দিয়ে রাখা।তা প্রায় পনের বছর হয়ে এলো বাড়িটার। শিহাবের বাবা আমেরিকায় থাকতেই বাড়ির কাজে  হাত দেয়া। শিহাবের বড় ভাই শাহেদ তখন কলেজে পড়ছে আর শিহাব ক্লাস নাইনে।  একটা ছোট্ট দুইরুমের টিনের ঘর তোলা ছিল। নিজের এই জায়গাটায় ফ্যামিলি রেখে আমেরিকায় গিয়েছিলেন আজহার সাহেব,মানে শিহাবের বাবা। তারপর একেবারে বাড়ির কাজ শেষ হওয়া অব্দি বাইরে থেকে টাকা পাঠিয়েছেন। শিহাবের বড় মামা দেখভাল করে বাড়িটি করে দিয়েছেন।বাঙালি সমাজে বড়ভাইদের বোধ হয়  বোনদের জন্য এমন দায়িত্ব পালন করা অবশ্য কর্তব্য হয়ে যায়।  যদি ভায়েরা বিষয়টি সেভাবে দেখে।শিহাবের বাবা এরপরেও বহু বছর  বিদেশে কাটিয়ে বাড়ির লোন চুকিয়ে দেশে ফিরেন।এখন অবসর জীবন যাপন করছেন। খুবই গোছানো মানুষ তিনি। চোখে মুখে দেহে প্রকৃত বয়সের ছাপ পড়েনি মোটেও।নিজের দিকে ভীষণ খেয়াল।বিদেশ জীবন একা কাটিয়েছেন তাই নিজেকে স্বাবলম্বী করে তুলেছেন। স্ত্রীকে বেশি যন্ত্রণা করেন না। দীর্ঘদিন বিদেশে থাকা পুরুষরা স্ত্রীদের বেশ সম্মানের চোখেই দেখে।তারা বুঝতে পারে, কত কঠিন ছিল তার একার জীবনে দুই সন্তানকে মানুষ করা।
এখন শিহাবের ছেলে আরাফকে নিয়ে তাদের সময় কাটে। বড় ছেলে শাহেদের পরিবার, তাদের এক ছেলে আর এক মেয়ে নিয়ে তিনতলায় থাকছে। 
ওরা নিয়মিত যোগাযোগে আছে। শিহাবের ভাবী সুমাইয়া বেশ চমৎকার একটি মেয়ে।
উচ্চশিক্ষা নিয়েও ঘরকন্যা আর সন্তান লালনপালনে  সাংসারিক জীবনটাকে এনজয় করছে। এ ব্যাপারে কোন অভিযোগ নেই।শ্বশুর শাশুড়ী আরাফের  যত্নআত্তিতেও সবসময় হাসিমুখ। শিহাবের বড় ভাই শাহেদ যেমন গম্ভীর, তেমনি মৃদুভাষী। যিনি একটানা বিভিন্ন প্রাইভেট ব্যাংকে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে এখন একটি বিদেশি ব্যাংকের এমডির পদে আছেন।
শিহাব বাইক বাড়িতে ঢুকিয়ে রুহুল আমিন চাচার সাথে কুশলাদি বিনিময় করলেন। রুহুল আমিন আজ প্রায় পনের বছর যাবৎ এই বাড়ির কেয়ারটেকার সাথে দারোয়ানের দায়িত্বও পালন করছে। বাড়ির গ্যারেজের পিছনে তাকে সপরিবারে থাকতে দেয়া হয়েছে। শিহাব চারতলায় উঠে গেলো।দরজা খোলাই ছিল।অবশ্য এই ফ্ল্যাটের দরজা খোলাই থাকে। সারাদিন শাহেদের দুই ছেলেমেয়ে সুনায়রা ও আরুশের দাদার বাড়িতে যাতায়াত। এই তিন নাতিনাত্নি নিয়ে শিহাবের বাবামায়ের বেশ সুন্দর সময় কাটে।তবে  শিহাব আর আরাফের চিন্তা তাদের মাঝে মাঝে অস্থির করে তোলে। শিহাব সেটা বেশ ভালো করেই জানে। তাইতো ছুটির দিনে আর দেরি করেনা একেবারে। আরাফ দৌড়ে এসে বাবার কোলে উঠল! বাবার গলা জড়িয়ে ধরলো। শিহাব  আরাফকে শক্ত করে বুকের সাথে মিশিয়ে নিল। আদরে আদরে দুটো গাল ভরিয়ে ফেললো। বাবা ছেলের এমন মধুর মিলনে, মায়ের উপস্থিতি হলো না কোনদিন, কী দূর্ভাগ্য নিয়ে জন্মেছে!
শিহাবের মায়ের  একদিকে যেমন ছেলেকে কাছে পাওয়ার আনন্দ, অন্যদিকে মায়ের আদর বঞ্চিত ছোট্ট ছেলে আরাফের জন্য বুকটা হু হু করে উঠে। চোখ জলে ভরে যায়। শিহাবের বাবা আজহার সাহেব এইসব আবেগী ব্যাপারস্যাপার বেশ শক্তভাবেই সামাল দিতে পারে।ঠিক তার বড় ছেলেটিও এমনি আবেগহীন, মৃদুভাষী  আর গুছানো, প্ল্যানড লাইফে দিন কাটান।শিহাব আরাফকে নিয়ে মায়ের পাশে বসলো।মা ছেলের কান্নার দৃশ্যে আরাফ অবাক হয়ে দেখছিল। মিনিট দশেক পরিবেশটা বেশ ভারী হয়ে উঠল।আরাফের জন্য আনা খেলনাগুলো শিহাব মায়ের হাতে দিলেন। তিনতলা থেকে ভাবী চলে এলেন। শিহাবকে বললেন, নাসতা খাবে এসো।মা বাবা আরাফকে নিয়ে টেবিলে বসো। ভাবি তিনতলায় থাকলেও এই ঘরের সব প্রয়োজনই বুঝে। বড় ছেলে শাহেদকে নিয়ে মা বাবার কখনোই কিছু ভাবতে হয়নি।
বউওটাও আল্লাহ তেমনি মিলিয়ে দিয়েছেন।পরিবেশের সাথে নিজেকে খুব সহজেই মিলিয়ে নিতে পারে। কিন্তু শাহেদ ভীষন প্র‍্যাক্টিক্যাল মানুষ। ঠিক বাবা আজহারুল ইসলামের মতনই।
শিহাব তার ভাবীর কাছে জানতে চাইল সুনায়রা, আরুশ ওরা কোথায়? ওদের পাঠিয়ে দাও একসাথে নাস্তা করি। তুমিও বসো।অনেকদিন গল্প করি না। সুমাইয়া তার  হাতের মোবাইলে শাহেদকে কল দিতেই শাহেদ বাচ্চাদের পাঠিয়ে দিল। চাচ্চুকে পেয়ে তারা দারুণ খুশি!তারপর তারা আরাফের এই গল্প সেই গল্পে সারাদিন মেতে রইল। ওদের কাছে আরাফ একটা জ্যান্ত পুতুল! সেই জন্মের একমাস পর থেকেই ওরা বড়ভাইবোনের মত অভিভাবক। আরাফের মা কেন নেই সে প্রশ্ন ওরা করে না। এইটুকু জীবনে ওদের চাচার সবকিছুই ওরা প্রায় বুঝেছে। যদিও একজন ক্লাস এইটে আরেকজন ক্লাস ফাইভে পড়ছে। কিন্তু ওরা বুঝে আরাফের মা কাছে নেই আর কোনদিন আসবেও না।  
সুমাইয়া এখানেই সব খাবার পাঠিয়ে দিলো।সুমাইয়া খুব করেই জানে সুনায়রা আর আরুশ আজ আর তারা বাসায় যাচ্ছে না।নাস্তা শেষে ওরা আরাফের খেলনা নিয়ে খেলার  আনন্দে মেতে উঠল!
আজ এই চারতলার ফ্ল্যাটে রিশতিনাকে নিয়ে শিহাবের দিনগুলি অন্যরকম হতে পারতো!আর সেসব ভাবলেই শিহাব  বেশ নস্টালজিক হয়ে পড়ে,,,



                                                                                                           চলবে....