মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
০২ অক্টোবর ২০২১
০১ অক্টোবর ২০২১
শকুন্তলা সান্যাল
শ্লথ দিবস
একটা গোটা দিন কেমন কেন্নোর গতিতে হেঁটে গেলো
একটা সিলিং ফ্যান সারাদিন ঘুরে চললো
কেন্নোর পায়ের জলছাপ শুকিয়ে গেলো
গলার ভেতর তেষ্টা তেমন করে জলও পেল না ।
এমন সময় একটা পাথরেরও আকার পেয়ে যাওয়ার কথা।
এমন সময়ে মহাভারতের একটা পর্বও শেষ হওয়ার কথা।
এমন সময়ে জল
সাবান কাচায়
বাসন মাজায়
ঘর মোছায়
শরীর বৃত্তে ,কতো কতো চক্কর কাটে।
এতো বৃষ্টি হয়েছে আজ
গঙ্গাও তেমন করে বইতে পারেনি জল।
অথচ টিভি র খবরে জানা গেলো
একটি পরিবারের মাথার ওপর বাড়ি ভেঙে পড়েছে।
আর তাতে একটি বৃদ্ধা একটি শিশু মারা গেছে ,
এবং একটি শিশু জন্মেছে..
জাফর রেজা'র ছোট গল্প "ক্ষণিক বসন্ত "৭
ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হলো লেখক জাফর রেজার ছোট গল্প "ক্ষণিক বসন্ত "
মতামত দিন আপনাদের একটি কমেন্ট লেখকের ১০০ লেখার সমান মূল্যবান।
ক্ষণিক বসন্ত
( শেষ পর্ব )
নীরবতা ভাঙল বুলা।
__ বাবা, মা ফোন করেছিল, আমাকে দেশে চলে যেতে হবে, আমার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
আমি বুলা বলতে গিয়েও থেমে গেলাম, মনে হলো সব কিছু যেন থেমে গেছে, চারপাশের হাজারো মানুষের এমন কি বুলার অস্তিত্বও অনুভব করছিলাম না।
বুলাই বলল__ এখানে আমার এক মাসীর কথা বলেছিলাম না, সেই মাসী বাড়িতে জানিয়েছেন, এখানে আমি এক মুসলিম ছেলের সাথে প্রেম করছি, সবসময় এখানে সেখানে দেখা যায়। আমি বাবা,মাকে যা বলার বলেছি, কিন্তু ওনাদের দৃষ্টিতে আমি পাপ করে বেড়াচ্ছি।
আমি কিছু বলতে পারছিলাম না তবুও অনেক কষ্টে জিজ্ঞেস করলাম __ যেতে কি হবেই ?
__ হ্যা আমি যাব, আমার পরিবারকে আত্বীয় স্বজন পাড়া প্রতিবেশীর কাছে ছোট করবোনা, তাছাড়া আমিতো কোন অন্যায় করিনি, এই কথাটাও ওদের বোঝার প্রয়োজন আছে, বুলা বেশ কঠিন ভাবেই কথাগুলো বলল।
বললাম__ বুলা আমার কি কোন ভুল হয়েছে ?
বুলা ম্লান হেসে বলল__না আমার দেখা সবচেয়ে ভাল মানুষ আপনি। দেশে ও এখানে খুব কম মানুষের সাথে আমার পরিচয়, এই গুটি কয়েক মানুষের মধ্যেও খারাপ মানুষ যেমন পেয়েছি, আবার অনেক ভাল মানুষও পেয়েছি।
এই প্রথম বুলা আমার নাম ধরে ডাকল_ অনিক- আপনি আমার দেখা একজন অসাধারন ভাল মানুষ, কিন্তু ভাগ্যটা আমার ঘোলা জলের মত, যার অস্তিত্ব আমার সমস্ত মনে প্রানে, তাকেই আমি দূরে ঠেলে দিচ্ছি, বলুন এবার বলুন, ভাগ্যটা আমার ঘোলা জলের মত কিনা ? আমি জানি আপনি ভাল থাকবেন না, তবুও চেষ্টা করবেন ভাল থাকতে।
ডাকলাম_ বুলা। উত্তর নেই। আবার ডাকলাম_ বুলা।
এবার সারা মিলল,__বলুন।
__ বুলা আপনি ভাল থাকবেনতো?
_ সোজাসুজি উত্তর _না।
__ কবে যাচ্ছেন ?
__আগামী রোববার।
__ মানে আর মাত্র পাচদিন পর। বুলা আপনার জন্য বাশী এনেছি, ভেবেছিলাম আপনার জন্মদিনে দেব, কিন্তু সেটা আর হলনা।
যাবার দিন সকাকে আমি বুলার বাসায় গেলাম, ওর লাগেজ গুছিয়ে দিলাম। বাশীটি ওর হা তে দিলাম। ও অনেকক্ষণ বাশীটির দিকে চেয়ে রইল।
এয়ারপোর্টে বোডিং পাশ নিয়ে আমার কাছে এল, হেসে বলল__গুড বাই, আপনাদের লন্ডন।
আমি ক্লান্ত ভাবে বললাম__আমাদের কি আর দেখা হবেনা ?
বুলা কিছু না বলে আমার হাতে লম্বা একটি প্যাকেট দিল। জিজ্ঞেস করলাম এটা কি?
__আপনার সব প্রশ্নের উত্তর।
বুলা চলে গেল, ওর চোখে জল, একবারও ফিরে তাকাল না। যতক্ষন ওকে দেখা যাচ্ছিল আমি তাকিয়ে রইলাম, এক সময় দৃষ্টির আড়ালে চলে গেল।
বুলার প্যাকেট আমার হাতে, বলেছিলো আমার সব প্রশ্নের উত্তর আছে। প্যাকেট খুলে দেখি, ওকে দেয়া আমার বাঁশি আর একটি খাম।
অনিক, বাঁশিটি নিতে পারলাম না, বা বলতে পারেন আপনার কাছেই রেখে গেলাম, কারন এই বাঁশিটি আমার চোখের সামনে থাকবে, আর আমি এই বাঁশির মাঝে আমি আপনাকে খুজবো- না তা হবেনা, কারণ আপনিতো মিশে আছেন আমার সমস্ত সত্বার সাথে, আপনাকে খুজব আমি বর্ষার রাতে, হয়তবা শীতের সন্ধায়। একটি অনুরোধ, আর কখনো কাউকে লিফট দেবেন না, ওটা আমার জন্য রেখে দেবেন, ও হ্যাঁ আমি কিন্তু বিয়ে করবনা; মানে কোনদিনই না, আমার মনের মন্দিরে আর কাউকে বসাতে পারবনা। আমার ঠিকানা দিলাম না, কারন আপনার ঠিকানাতো আমি জানি। অনিক, পৃথিবীতে ভাল মানুষদেরই কষ্ট বেশী। আমার জন্য হলেও ভাল থাকবেন।
আকাশে মেঘ নেই
মাথার উপড় নক্ষত্রেরা মিটমিট করে জলছে।
গাড়ি চালিয়ে দিলাম।
গন্তব্য জানা নেই।
সমাপ্ত
জারা সোমা
ব্যথা
সকালে আকাশের মুখভার হলে
উদাসীনতা বন্ধক রাখে ছুৎমার্গ
ব্যথার সঙ্গে সমুদ্র ভ্রমণে যায় আরেক ব্যথা
মেঘ ছুঁয়ে যায় আকাশের বুক
আরও জমাট হয় গোপন দাগ
বাউন্ডুলে জীবনের অভ্যাসী সংলাপ
অন্তর্লীনে দেয় জ্যামিতিক মোচড়
ঢেউয়ের কথায় উঠে আসে ভাসান-বিগতশোক।
নোনাজলে ডুবতে থাকা নিঃসঙ্গতা
কখনো বোঝেনি সুদূর-বসতের ছায়াসঙ্গীর ব্যথা।।
মোঃহাবিবুর রহমান এর লেখা "সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা"১২তম পর্ব (ধারাবাহিক মুক্তগদ্য)
সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তা
(১২তম ,শেষ পর্ব)
প্রত্যক স্ত্রীই তার স্বামীর কাছ থেকে ভালোবাসা আশা করে। স্বামীর উচিৎ হবে, স্ত্রীকে ভালোবাসা ও তার প্রতি সহানুভূতি প্রদর্শন করা। সকল স্ত্রীরাই স্বামীদের কাছ থেকে ভালোবাসার বহির্প্রকাশ দেখে আনন্দ পায়, দারুন খুশি হয়। কাজেই স্বামীদেরকে এ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া খুবই জরুরী। স্বামীর উচিৎ হবে স্ত্রীর প্রতিটি কাজে প্রশংসা করা ও উৎসাহ প্রদান করা। স্ত্রীকে কথায় ও কাজের মাধ্যমে ভালোবাসা প্রকাশ করতে হবে আর বিষয়টি যেন স্ত্রী এভাবে বুঝে যে, তার স্বামী তাকে প্রতিটি ক্ষেত্রে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে। সাংসারিক কাজকর্ম ও উন্নয়ন বিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ে স্বামীকে স্ত্রীর সাথে শেয়ার করাটা খুবই জরুরী।
স্বামীকে কাজে-কর্মে, ব্যবহার ও আচরণে বুঝাতে হবে যে, সে তাকে শুধুমাত্র রাঁধুনী কিংবা দৈহিক আনন্দের উপকরণ ভাবছে না বরং স্ত্রীকে সে তার জীবনসঙ্গী হিসেবে তার প্রধান সহযোগী, তার সন্তানের মা, বিপদে আপদে সে ঘনিষ্ঠ বন্ধু এবং অতি আপনজন ভাবছে। এসব করা বা প্রদর্শনের মাধ্যমে একজন স্ত্রী তার স্বামীর প্রতি অগাধ ভালবাসা ও বিশ্বাস জন্মাবে এবং স্বামী বেচারাকে স্ত্রী মনপ্রাণ উজাড় করে বিশ্বাস করবে, অন্তর দিয়ে ভালবাসবে আর সংসারটি হবে সুখের আধার। সংসারে আসবে পরম শান্তি আর দুটি দেহ আলাদা হলেও দুটি প্রাণ যেন একাত্ম হয়ে সংসারে আনতে সক্ষম হবে একান্ত সু্খ ও সমৃদ্ধির ফল্গুধারা।
ইসলাম নিশ্চিত করেছে স্ত্রীর নিরাপত্তা ও সম্মানজনক জীবনের। ইসলাম নারী জাতিকে অধিকার ও মর্যাদা দিয়েছে। স্বামীকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে তারা যেন সব সময় তাদের স্ত্রীর সাথে ভালো আচরণ করে। আল কুরআনে বলা হয়েছে, "আর তোমরা স্ত্রীদের সাথে বসবাস করো সদাচারের সাথে"।
বিয়ের মাধ্যমে শুধু জৈবিক চাহিদা পূরণ হয়। তবে এটা শুধুমাত্র জৈবিক ও বৈষয়িক ব্যাপারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বিয়ের প্রধান উদ্দেশ্য হলো- স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসাপূর্ণ একটা আবেঘন পারিবারিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা। কুরআনে কারিমের একাধিক আয়াতের মাধ্যমেও এ বিষয়টি বুঝে আসে। যেমন সূরা রুমের ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে- ‘আর আরেক নিদর্শন এই যে, তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে তোমাদের সঙ্গী সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমরা তাদের কাছে শান্তিতে থাকতে পারো এবং তিনি তোমাদের মাঝে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও দয়া সৃষ্টি করেছেন। নিশ্চয় এতে চিন্তাশীল লোকদের জন্য নিদর্শনাবলী রয়েছে।’ (সূরা রূম : ২১)
আরও বলা হয়েছে যে,স্বামী-স্ত্রীর জন্য পোশাক এবং স্ত্রী-স্বামীর জন্য পোশাক স্বরূপ। সৃষ্টিকর্তা, মহান আল্লাহ্ তায়ালা মানুষ সৃষ্টি করেছেন তাদের মাঝে প্রেম, ভালবাসা,মায়া, মমতা, বিবেক, বুদ্ধি এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুণাবলী দিয়ে। নারী এবং পুরুষ এই দুটো জাতিকে তিনি এক অসীম মহিমায় (বিবাহের মাধ্যমে) একত্রিত করেন।
একজন মানুষ তার লজ্জা নিবারণের জন্য পোশাক পরিধান করে থাকে। রোদ, বৃষ্টি, ঠাণ্ডা ইত্যাদি বাহ্যিক উপাদান থেকে রেহাই পেতে পোশাকের প্রয়োজন। ঠিক তেমনই বিবাহ, দুইজন মানুষকে এমনই ভাবে এক করে যে, তারা একে অপরের পোশাক এর ন্যায় হয়। একে অপরের দোষ, অন্যায় গুলোকে ঢেকে রেখে আগলে রাখে আজীবন। পোশাক বাহ্যিক সৌন্দর্য একজন মানুষ তার লজ্জা নিবারণের জন্য পোশাক পরিধান করে থাকে।
রোদ, বৃষ্টি, ঠাণ্ডা ইত্যাদি বাহ্যিক উপাদান থেকে রেহাই পেতে পোশাকের প্রয়োজন। ঠিক তেমনই বিবাহ, দুইজন মানুষকে এমনই ভাবে এক করে যে, তারা একে অপরের পোশাক এর ন্যায় হয়। একে অপরের দোষ, অন্যায় গুলোকে ঢেকে রেখে আগলে রাখে আজীবন। পোশাক বাহ্যিক সৌন্দর্য রক্ষা যা অন্যদের কাছে আমরা প্রদর্শন করি, কিন্তু বিবাহিত দম্পত্তি তারা পরস্পর পরস্পরের পরিধেয় এর ন্যায়।
সনাতনধর্মে স্বামী স্ত্রীর মধ্যকার বন্ধনকে ব্যাপক গুরুত্ব দেয়। এই ধর্ম সর্বদা স্বামী স্ত্রীকে একত্রে থাকার কথা বলে , কারণ স্বামী স্ত্রী আলাদা থাকলে তাদের ধর্মকর্মাদি সব বিফল হয়। এজন্যই বোধহয় স্ত্রীকে সহধর্মিণী বলে । ন বৈ তেষাং স্বদতে পথ্যমুক্তং যোগক্ষেমং কল্পতে নৈব তেষাম।
ভিন্নানাং বৈ মনুজেন্দ্র! পরায়ণং ন বিদ্যতে কিঞ্চিদন্যদ্বিনাশাৎ।
-মহাভারত উদ্যোগ ৩৬/৫৭
অর্থ- নরশ্রেষ্ঠ! স্বামী ও স্ত্রী পৃথক স্থানে থাকলে, তাদের কাছে কোনো খাবারই সুস্বাদু বলে বোধ হয়না এবং শাস্ত্রোক্ত যোগক্ষেম সম্ভব হয়না। সেইরূপ জ্ঞাতিরা পরস্পর বিচ্ছিন্ন থাকলে, তাদের ভিন্ন অন্য কোনো গতি থাকেনা।
এতকিছুর মাঝেও স্বামী-স্ত্রীকে শাসন কিংবা স্ত্রী-স্বামীকে শাসন করতে পারে আর এ শাসন হতে হবে অবশ্যই স্বামী স্ত্রীর মধ্যে হাস্যরসাত্মক কায়দায় যাতে তাদের মধ্যে এই শাসনের মাধ্যমে পরস্পর সম্পর্কটি আরও গাঢ় হয়, বন্ধনটি আরও দৃঢ়তর হয়। এরই নাম ভালোবাসা আর এই ভালোবাসা থেকে জন্ম হয় আজন্ম ভাল লাগা। এভাবেই দুটি সম্পর্ক হয় চিরস্থায়ী, কেটে যায় আমরণ একই ঘরের ছাদের তলায় তাদের জীবন।
সহধর্মিণীর হুঁশিয়ারী বার্তাটা যেন সব সময় হয় স্বামীর কল্যাণের জন্য, সংসারের সার্বিক শান্তি আয়েনের জন্য। বিশ্বের সকল স্বামী স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন সুখের হোক, স্বর্গ এসে তাদের ঘরে যেন সহসাই বাসা বাঁধে।
(পবিত্র কুরআন ও মহাভারতের উদ্ধৃতি ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে)।
রুকসানা রহমান এর ধারাবাহিক উপন্যাস "উদাসী মেঘের ডানায়"২
উদাসী মেঘের ডানায়
(পর্ব দুই)
অপু যথা সময়ে রেষ্ট হাউজে এসে তৃষ্ণা কে নিয়ে এলো,অপু গাড়ি স্টার্ট দিয়ে বললো -সাদা শাড়িতে
খুব নির্মল লাগছে তোমাকে।
তৃষ্ণা হেসে বললো - আর বুঝি কথা খুঁজে পেলেনা
অপু-সত্যি বললে বুঝি দোষ, কতকাল পরে তোমাকে
শাড়ি পড়া দেখলাম, সমুদ্রের জল ছোঁয়া আধো ভেঁজা শাড়িতেও তোমাকে অপূর্ব লাগছিলো তখন।
ঃএখন পছন্দ হচ্ছে নাতো সালোয়ার কামিজে এটা
সরাসরিই বলো।
ঃনা, মানে
ঃথাক খুব হয়েছে
সায়মনে এসে গাড়ি পার্ক করে ওরা রুমে ঢুকলো
তৃষ্ণা বিশাল কাচের জানালার সামনে এসে দাড়িঁয়ে
বললো- বাহ রাতের সমুদ্র কি অপরুপ লাগছে চাঁদের
আলোয় এক মায়াবী খেলায় মেতেছে জল।
ঃ হুম,আমি এলে এখানেই উঠি, একা, একা দেখি আর একজন কে ভাবি।
ঃবউ কে খুব মিস করো না?
ঃ না, একজন কে করি, সে পালিয়ে বেড়ায় আমার
কাছ থেকে।
ঐদিকে গর্জন করে আছরে পড়ছে সমুদ্রের ঢেউ
আর কাচের জানালা ভেদ করে তচনচ হচ্ছে দুটো মন
কেউ কথা বলছেনা কেবলই দেখছে যতদুর দৃষ্টি যায়
পাড়ে আছরে পড়া ঢেউয়ের আকুতি, তৃষ্ণার মনে হলো এতো রাগ কিসের সমুদ্রের, কি চায় সে...?
হঠাৎ তন্ময়তা ভেঙ্গে কথা বলে উঠলো অপু
ঃকি ভাবছো, কথা বলছোনা একেবারেই
ঃ কিছুই ভাবছিনা কেবল ঢেউগুলো মিছেই খেলায় মেতেছে তাই দেখছি।
অপু কথার মোড় ঘুড়িয়ে দিয়ে বললো-
ঃ ডিনার ১০টায় দিতে বলেছি, এসো গল্প করি কতকাল পর দেখা
ঃআজ তোমার জীবনের গল্প শুনবো অপু, শোনাবে?
ঃশুনতে ভালো লাগবেনা তোমার
ঃসেটা আমার উপর ছেড়ে দাও।
কিছুটা সময় চুপ করে থেকে তৃষ্ণার দিকে তাকিয়ে
বললো- মনে আছে তোমার তুমি জানতেনা আমি বিবাহিত ছিলাম ছয় মাস হয়েছে। কাউকে বলতামনা
জিগ্যাসা না করলে, ইচ্ছে হতোনা বলতে।
ঃকেন?
এটা কি বিবাহিত জীবন না অন্য রকম এক জীবন
আমি আমার জীবন নিয়ে ওর জীবন নিয়ে মানসিক
চাপে থাকতাম, কেবল অফিসে এলে ঐদূর্বিসহ জীবনটা ভুলে যেতাম যখনই তোমার সাথে আড্ডা
দুষ্টমিতে মেতে থাকতাম।
সেই তুমি আমাকে যেদিন জিগ্যাসা করলে আমি বিবাহিত কিনা জানার পর আস্তে আস্তে দুরে সরে যেতে থাকলে কাজের ব্যস্তটা দেখাতে, তারপর হঠাৎ
চাকরীটা ও ছেড়ে দিলে।
আমার আর কোন বন্ধুুু বা ভালোবাসার ও কেউ রইলোনা।
ঃ কি এমন হয়েছিলো অপু নতুন বিবাহিত জীবনের
শুরুতেই অশান্তি, আমার জন্য কি?
না তোমার জন্য নয়,বরং ওর ব্যাবহারে আমি একটু
ভালোবাসা পাবার আসায়,তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছিলামা।
ও কখনো আমাকে ভালোবাসা তো দুরের কথা পছন্দই করতোনা,প্রথম, প্রথম খুব রাগ হতো পরে
ওর জীবনের গল্প শুনে আমি হতভম্ভ হয়ে গিয়েছিলাম
ওকে ভালোবাসতে পারিনি কিন্ত কেন জানি অসহায়
লাগতো ওর দিকে তাকালে ভাবতাম মা-বাবা ও এমন
নিষ্ঠুর হয় আমার জানা ছিলোনা।
একটু থেমে পানি খেলো।
তৃষ্ণাঃ কষ্ট হলে বলোনা অপু
ঃনা তোমাকে শুনতে হবে একটু থেমে বলতে শুরু করলো-
ঃনীরা যখন এস,এসসিতে পড়ে ওর একটা ছেলের সাথে প্রেম হয়,ছেলেটা ভার্সিটিতে সেকেন্ড ইয়ারে পড়ে এভাবে বছর তিনেক পর নীরার বাবা জানতে পারে,মেয়ের কাছে শোনে,ওর বাবা কৃষক ভালো স্টুডেন্ট এখনানেই যত বাধা কোথায় তাদের ফ্যামিলি
স্টাটাস আর মেয়ে কিনা কৃষকের ছেলেকে ভালোবাসে।অনেক বুঝালো মেয়েকে মেয়ে শুনলোনা
হঠাৎ একদিন নীরাক ওর বাবা বললো সৈকত, কে বাসায় ডাকতে কথা বলবে।
নীরা খুবই খুশি,আসতে বললো সৈকত কে, কিন্ত
হতভাগীনি জানতোনা তাদের জীবনে এতোবড়ো বিপদ ঘনিয়ে আসবে।
যথা সময়ে সৈকত এলো নীরার আনন্দে আজ আর কথা বের হচ্ছেনা, বাবা রাজি এটাই ছিলো শেষ আনন্দ বুঝেনি।
হঠাৎ নীরাার বাবা সৈকতের সামনে যেয়ে দাঁড়িয়ে
চুলের মুঠোধরে বললো- বামন হয়ে চাদেঁ হাত বাড়িয়েছিস বলে এলোপাথাড়ি মারতে লাগলো নীরা
ছুটে এসে বললো- বাবা,কি করছো তুমি, ওকেে ডেকে
এনে।
এবার মেয়েকে একটা চড় মেরে বললো- খুব দরদ
এই বলে দারোয়ান চাচাকে দিয়ে এলোপাথাড়ি মেরে
গাড়িতে তুলে কোথায় ফেলে এসছে নীরা জানতোনা
দুদিন পর পত্রিকায় নিউজ পড়ে সৈকত আত্মহত্যা
করেছে।সেই থেকে ওকে অপরাধী ভাবতে ভাবতে
মানসিক ভাবে অসুষ্হ। আর প্রতিজ্ঞা করেছে কোনদিন সৈকত ছাড়া কাউকে ভালোবাসবেনা,সেই
তার জীবনের সব।
তৃষ্ণার মনটা ভারী হয়ে উঠেছে,খেয়াল করলো অপুর
কম্পিত কন্ঠস্বর থামতেই শোনা যাচ্ছে সমুদ্রের গর্জন
দরজায় ডোর বেলটা বেজে উঠতেই তাড়াতাড়ি উঠে
দরজা খুললো।
বেয়ারা রাতের ডিনার নিয়ে হাজির, অপু ঘড়ি দেখলো
রাত দশটা সময় মতন নিয়ে এসছে, ইশারায় রাখতে বললো বেয়ারা চলে গেলেো।
এভাবে আরো কিছুটা সময় পার হতেই মৌনতা ভাঙ্গলো অপু-- ঠাণ্ডা হয়ে যাচ্ছে সব খাবেনা?
ঃএসো খাই দুজনেই খেতে বসলো ঠিকই কোন
রকম খেতে হয় তাই খাওয়া।
তবুও তৃষ্ণা বললো- অপু তুমি কিছুই খাচ্ছোনা
ঃতুমিও,
ঃআসলে খিদে নেই
ঃআমরও
এই বলে দুজনেই উঠে পড়লো।
তৃষ্ণা এসে এবাব রাান্দায় বসলো।
অপু ঃঠান্ডা লাগবে তৃষা সরাসরি বাতাসে
ঃলাগুকু তবুও কাচের জানালায় কি সমুদ্র দেখে
ভালো লাগে।
অপুও পাশে এসে বসলো।
ঃবারোটায় আমাকে দিয়ে আসবে অপু
ঃথাকোনা,কথা তো শেষ হয়নি শুনবেনা
ঃশুনবো কালকে।
( চলবে)
মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"১৭
একান্ত মনেই লিখে চলেছেন লেখক। তার নিত্যদিনের আসা যাওয়া ঘটনার কিছু স্মৃতি কিছু কল্পনার মোচড়ে লিখছেন ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন "।
টানাপোড়েন (পর্ব-১৭)
স্বপ্নচারিনী
সৌরভের কথাটা তৃপ্তির মনে দাগ কেটে যাচ্ছে। সত্যি একটাই তো জীবন। এই জীবনে যা যা কিছু পাওয়ার আছে, কেন পাবে না সে? যদি স্কোপ থেকে থাকে ,কেন পড়ে থাকবে শেখরের সঙ্গে? না কিছুতেই না। মনে মনে এসব ই ভাবছে গোধূলি লগ্নে সূর্যের আলোটা যেন কামরাঙ্গা রং এর মতো নতুন রূপ ধারণ করেছে। সূর্যের কামরাঙা রং যেন চোখে মুখে মেখে নিতে চাইছে তৃপ্তি।।জানলার কাছে দাঁড়িয়ে পিংক কালারের সার্টিন এর পর্দাটাকে ধরে ,ফিরে গেল সেই কলেজ লাইফে ।সৌরভের সেই হলুদ খামের চিঠি পেয়ে তৃপ্তি খুব অবাক হয়ে গেছিল । চিঠিতে লেখা ছিল 'একটু ভাবো ,শুধু তোমার জন্য।' আজকে সেই কথাটাই বারবার মনে পড়ছে ।তারপর কি হল ?সৌরভের কিছু ডেপোমি ভালো লাগে নি তৃপ্তির।তখন তার সামনে যেন শেখরের সেই ভাব-গাম্ভীর্য পূর্ণ ব্যক্তিত্ব ই বেশি আকর্ষণ করেছিল। কিন্তু আজ আর সেই আকর্ষণ আকৃষ্ট করতে পারে না ।একই ছাদের তলায়, একই বিছানায় দুজনে পাশাপাশি তবুও নিরুত্তাপ । কেউ কারোর স্পর্শে যেন আর সেই কাঁপন অনুভব করে না, কান গরম হয়ে ওঠা কিছুই অনুভূত হয় না। এ যেন স্রোতহীন নদীতে শৈবালদামে পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। কেন এরকম হচ্ছে ?আজকাল সৌরভের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে নিত্যনৈমত্তিক দিনে সেরকম কোনো অভাব এত দ্রুত অনুভব করে নি। আজ কেন? আজ যেন সৌরভের কথা বেশি করে তাকে মনে করায়। মনে হচ্ছে যেন গ্রীষ্মের দাবদাহে চারিদিক যেমন রুক্ষ, শুষ্ক হয়ে পড়ে, দরকার হয় তখন শুধু স্নিগ্ধ হতে বর্ষার বৃষ্টি। সৌরভ যেন তার জীবনে সেই বর্ষার এক পশলা বৃষ্টি।
পাশের বাড়িতে শাখের আওয়াজে সম্বিত ফেরে তৃপ্তির। না যাই সন্ধ্যেটা দিই। শেখরের ফেরার টাইম হয়ে যাবে ।কিন্তু একদমই ভালো লাগে না। আজকাল তৃপ্তির একা থাকতে বেশী ভালো লাগে। একান্ত মনে ,নির্জনতায় । আর মনটা ছটফট করতে থাকে শুধুমাত্র একটা ফোনের জন্য।
এর মধ্যে সৌরভ ফোন করলো 'হ্যালো"। কি ব্যাপার সাড়া নেই ।ফোনের অপেক্ষায় আছি ।একটা ফোন কেন করলে না?
তৃপ্তি বলল ' হ্যাঁ ,কেউ তার মনের এতটা জায়গা জুড়ে থাকবে, সারাক্ষণ তাকে ভাবাবে, তাহলে সে ফোনটা কি করে করবে?'
সৌরভ বলল. ' ওহ লাভলি, সোনা। মন প্রাণ জুড়িয়ে গেল। কিছু ভাবলে?'
তৃপ্তি বললো 'ডিসিশন নিতে পারছি না।'
সৌরভ বলল 'এখনো? তুই কি সমাজ-সংসার নিয়ে ভাবছিস?'
তৃপ্তি চুপ করে থাকে।
সৌরভ বলে 'সমাজ সংসার তোকে খুশি করতে পারবে? তুই যেটা চাস ,সেটা করতে দেবে। নাকি তুই মনের কথা শুনবি? আমি তোকে বিদেশ নিয়ে যাব। তবে কিসের সমাজ সংসার? চলে যাব বিদেশে? কিসের লোকলজ্জা?'
তৃপ্তি তখনও চুপ করে থাকে।
আসলে মধ্যবিত্ত রক্ষনশীলতার মনোভাব থেকে বেরিয়ে আসতে পারছে না। বাড়িতে দাদা বৌদি আছে কি ভাববে? কে জানে?
সৌরভের গতদিনের ক্ষণিক স্পর্শে যে মাদকতা এসেছিল ।তার দেহ মনে ছড়িয়ে দিয়েছিল নেশা।সে যেন পাগল হয়ে যাবে ।তখন তার মনে হয়েছিল সৌরভের স্রোতে সত্যি এবার সে পাল তুলে চলে যাবে দূর বহুদূরে। কোন নোঙ্গর দিয়ে বেঁধে রাখা যাবে না ।মনের ভেতরে হাজারো রং মশাল যেন জ্বলে উঠলো রামধনুর ছটায় যেন সে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করতে চাইছে। সে তো আর টিনেজ গার্ল নয় ।তাহলে তার কেন আজকে মনে হচ্ছে জীবনে নতুন করে তার বসন্ত এসেছে ।বসন্তের রং মেখে নিতে চাইছে। মনের ভিতরে একটা দ্বন্দ্ব চলছে ।কিন্তু সেই ভালোবাসার
স্পর্শ পেতে চাইছে ।সারা সন্ধ্যা কেটে গেল ।একটা যেন ঘোরের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে তৃপ্তি ।কখন যে শেখর পাশের ঘরে এসেছে বুঝতেই পারে নি। টিভিতে নিউজ যখন বলছে 'পরকীয়া প্রেমের বলি স্বামী ।'তখনই তৃপ্তি ফিরে তাকিয়ে শেখরেরএর জন্য চা নাস্তা 'নিয়ে আসে।
তৃপ্তি বলল ' তোমার চা নাস্তা রইল।'
শেখর কোন উত্তর দিল না।
তপ্তিও আর কোন কথা বলল না, বেরিয়ে গেল।
আজকাল এভাবেই চলছে যেন শুধু অভিনয় ভালোবাসার ছিটেফোঁটাটুকু যেন নেই। তৃপ্তি দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে উঠে চলে যায় তিনতলার ছাদে। আজকাল তাকে যেন অবলম্বনহীন শূন্যতা দুই হাত বাড়িয়ে হাতছানি দেয়। দু'চোখ জলে ভরে ওঠে। আজকাল কারণে-অকারণেই চোখে জল আসে। পরক্ষনেই ভাবে কেন অবলম্বনহীনা হবে, সৌরভ আছে তো ?এরই মধ্যে আবার ফোন বেজে ওঠে। ঠিক সৌরভের ফোন।
'হ্যালো 'কি করছো?
তৃপ্তি বলল 'ভাবছি'।
এবার সৌরভ আবেগভরে বলল 'আর কত সময় ধরে ভাববি?'আমার হাতে সময় নেই।'আর আমি চলে গেলে আর আসবো না এখানে।'কিন্তু আমি শূন্য হাতে ফিরে যেতে আসি নি।
তৃপ্তি বলল 'কি যে করব? জানি ,না।
সৌরভ বলল 'তুই আমাকে ভালবাসিস কিনা বল?'
তৃপ্তি চুপ করে থাকে।
সৌরভ বলে চুপ করে থাকলে তো চলবে না। তাহলে কি আমি মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ ধরবো।
তুই কি এখনো শেখর এর কথা ভাবছিস? এতদিনের সম্পর্ক তাই ,একটু বিবেকে ধাক্কা লাগছে না রে?
যখন সৌরভ মুডে থাকে তখন তুই তুকারি করে।
কিন্তু তৃপ্তি এটাও মেনে নিতে পারছে না যে সৌরভ চিরকালের মতো চলে যাবে ।কোথায় যেন তার বুকের ভেতরে একটা ধড়ফড়ানি শুরু হয় ।তাহলে তো তার ইচ্ছেগুলো অপূর্ণ থেকে যাবে।
এরই মধ্যে তৃপ্তি নিচের দিকে তাকিয়ে দেখে লাল রংয়ের স্করপিও গাড়ি টা ।ঠিক ট্যাক্সি স্ট্যান্ড ওপারে দাঁড়িয়ে। গাড়িটা বড্ড চেনা লাগছে। পেট্রোল পাম্পের কাছে ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে একটি ট্যাক্সি। তৃপ্তি খুব ভালো করে লক্ষ্য করলো। গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো একজন ভদ্রলোক । গান ধরেছে 'যে ছিল আমার স্বপনচারিণী, তারে বুঝিতে পারি নি।...। চেনা গান চেনা কন্ঠ।তৃপ্তি খুব ভালো করে দেখার চেষ্টা করল হ্যাঁ সৌরভ ই তো? কি করছে ওখানে?
তারপর ফোনেতে সৌরভ বলছে ' দেখো আমি তোমার কত কাছে স্বপ্নচারিনী।:শুধু যদি তুমি আমার কাছে একবার হাতটা বাড়িয়ে দাও ।আমি তোমাকে ছুঁতে পারি ।আমি তোমাকে অনুরাগে ভরিয়ে দিতে পারি । একটি আকাশ উপহার দিতে পারি।একবার শুধু বলো কবে এক চাদরে হবো প্লিজ প্লিজ।"
তৃপ্তি আর নিতে পারছে না সত্যিই ওর হাত পা যেন অবশ হতে শুরু করলো ।এটাই চেয়েছিল একটুখানি দেখা আর..??
তৃপ্তি বলল 'তুমি এখানে কি করছ?'
সৌরভ বলল 'এক পলক দেখা।'
তৃপ্তি বলল জানি,।
সৌরভ বলল 'জানো যদি তাহলে সাড়া দিচ্ছ না কেন?'
তৃপ্তি একটু শ্বাস ফেলে চোখ বুজে বলল একটা বিশ্রী কান্ড হয়ে গেছে।
সৌরভ বলল কি?
তৃপ্তি বলল ' শেখর আজকাল বোধহয় কিছু একটা আঁচ করতে পেরেছে?'
সৌরভ বলল 'ভালোই তো।'
তৃপ্তি বলল জানো তো আজকাল শেখর বেশি কথা বলে না। সারা দুপুর নিঃসঙ্গতা গ্রাস করে। সেই সময় মাঝে মাঝে কাকাতুয়াটা শেখানো বুলিতে ডাকে ' তৃপ্তি তৃপ্তি তৃপ্তি।' তাই সে মনে মনে ভাবে যদি এই বাড়িতে কথা বলার কেউ থাকে। তাহলে একমাত্র কাকাতুয়া ই । এছাড়া আর কে আছে? তৃপ্তিকে ভালোবাসার ,কাছে টানার ,কথা বলার মত। পরক্ষণেই ভাবে সৌরভ আছে। কিন্তু সৌরভ যদি তৃপ্তির থেকে কোন পজিটিভ কথা না শোনে, তাহলে তো চলে যাবে। তৃপ্তির বেঁচে থাকাই নিরর্থক। সে ভাবল সে কথাটা শেখরকে জানাবে।
কথাটা শুনে সৌরভ বলল ' যাক ,তাহলে মাথাটা ঠিক আছে। সেই আশাতেই বুক বেঁধে রইল ।
ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"১৭ ক্রমশ
দেবাশিস সাহা
চুলদানি
অমরত্বের লোভ দেখিয়ে এ কোন চুলদানিতে নিয়ে এসে রাখলে দয়াল? কামিনী কাঞ্চনের ম ম নাচ,চোখ ফেরালেই অজস্র হাত।যাদের ভাতা আছে ভাতার নেই।ভিক্ষাশ্রী নিয়ে দাঁড়িয়ে আমার দেশ।মল আছে ত্যাগ নেই।গাছ কাটা কসাই পরিবেশবান্ধব। বায়বীয় সম্পর্ক শুধুই কাগজের ফুল।গন্ধ বললেই ভেসে ওঠে সারি সারি পোড়া লাশ।টাকার ঢিবি করার নেশায় সময় রঙের মানুষ শুধুই ছুটছে। ছুটতে ছুটতে নিজের গন্তব্য পেরিয়ে চলে যাচ্ছে অন্য এক চুলের দেশে।সেখানে কোনো ফেরা নেই।এক ভাদুরে দম্পতি রাস্তা আটকিয়ে প্রেম শেখায়।কেউ কিছু শেখেনা।ভুলে যাওয়ার ভান করতে করতে ভুলে যায় সেও একদিন মানুষ ছিলো।
মোহাম্মাদ আবুহোসেন সেখ
অপরূপা
পৃথিবী এক সুন্দরী নারী।
তোমারে জানাই শ্রদ্ধাঞ্জলি।
এই রুপময় জগতে
শত শত মনুষ্য থাকে।
তোমারীই রুপের প্রেমপূজারি আমি।
চাহিলানারে তাহার দিকে
বাসিলানারে ভালো তারে
কেন!রে অপরূপা সুন্দরী।
এই রুপময় মায়ার সংসারে
মোরে ছিন্ন করছো কেনো গো তুমি!
পৃথিবী এক সুন্দরী নারী।।
তোমারীই রুপ দেখিয়া পাগলের বেশে ঘুরি আমি।
চাহিলানারে তাহার দিকে
বাসিলানারে ভালো তাকে
কেন!রে অপরূপা সুন্দরী
রাবেয়া পারভীন এর ধারাবাহিক ছোট গল্প "কালো ক্যনভাস"৫
নতুন ধারাবাহিক "কালো ক্যনভাস "
লেখাটি পড়ুন এবং অন্যদের পড়তে সহযোগিতা করুন লেখককের মনের অন্দরমহলে জমে থাকা শব্দগুচ্ছ একত্রিত হয়েই জন্ম এই লেখার আপনাদের মূল্যবান কমেন্টে লেখককে লিখতে সহযোগিতা করবে।
কালো ক্যনভাস
(৫ম পর্ব)
লজ্জায় লাল হয়ে পর মুহূর্তেই ভয়ে শিউরে উঠেছিল নীলা। কেউ দেখে ফেললে কি হতো ? তের বছরের কিশোরী হলেও এটা সে ভালই বুঝেছিলো যে এটা খুব খারাপ কাজ। এর পর থেকে ইশতিয়াক স্যার প্রায়শই সুযোগ পেলেই নীলার সাথে অশোভন আচরণ করতে লাগলো। একসময় স্যারের প্রতি একটু প্রেম তৈরী হয়েছিলো কিন্তু ক্রমে তা বিরক্তিতে রূপ নিল।
নীলার সপ্তম শ্রেনীর ফাইনাল পরীক্ষা চলছিল এমন সময় নীলার নানা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। নীলার মা হাসপাতালে গেছেন নয়নকে নিয়ে। নীলা বাসায় একা। ইশতিয়াক পড়াতে এলেন। যথারীতি বই খাতা নিয়ে পড়তে বসল নীলা। ইশতিয়াক। নীলার হাত মুঠোয় নিয়ে বলল
- আজকে পড়া থাক নীলা, চলো আজকে আমরা মজা করবো।
জড়োসড়ো হয়ে নীলা বলল
- আমার তো কালকে পরীক্ষা।
- ঠিক আছে রাতে পড়ে নিলেই হবে। পরে আন্টি চলে এলে আর সুযোগ পাবো না
ছোট হলেও ইশতিয়াকের ইশারা বুঝে গিয়েছিলো নীলা সে সজোরে মাথা নাড়তে লাগলো
- না না না ইশতিয়াক ততক্ষনে নীলাকে জরিয়ে ধরে চুমু খেতে শুরু করেছে। নীলাকে সে পিষে ফেলতে চাইছিল তার দুই হাত নীলার সারা শরীর হাতরে বেড়াতে লাগল। একসময় ইশতিয়াক কে ভয়ংকর দানব মনে হলো নীলার কাছে। নীলাকে বিবস্ত্র করে তার উপর চেপে বসল ইশতিয়াক। নীলা শুধু অনুভব করল তার তলপেট প্রচন্ড ব্যাথায় ফেটে যাচ্ছিল সে প্রানপনে একবার শুধু বলল,
- আমাকে ছেড়ে দিন স্যার।
ভয়ে উত্তেজনায় জ্ঞান হারাল নীলা। যখন জ্ঞান ফিরল নিজেকে আবিস্কার করল হাসপাতালের কেবিনে। মা আর বাবা দুজনে বসে আছে তাঁর দু পাশে উৎকন্ঠিত চেহারা নিয়ে। অস্ফুটে একবার শুধু বলল, স্যার প্লিজ স্যার ছেড়ে দিন।
পানিভর্তি চোখ নিয়ে নীলার মুখের উপড় ঝুকে পড়ে মা বললেন
- নীলা মা আমার এইযে আমি , ভয় নেই মা।
শরীরের নীচের অংশের ব্যথায় বিকৃত হয়ে গেল নীলার মুুখমন্ডল।
চলবে ,, ,,,,, ,,,, ,,,
লেখক শান্তা কামালী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"
চোখ রাখুন স্বপ্নসিঁড়ি সাহিত্য পত্রিকার পাতায় আজ থেকে শুরু হলো লেখক শান্তা কামালী'র নতুন ধারাবাহিক উপন্যাস "বনফুল"
বনফুল
১ম পর্ব
জুঁইয়ের আজ ভার্সিটির প্রথম দিন,
বেশ পরিপাটি হয়ে মাকে বললো, মা আমি যাচ্ছি ।মা বললো এসো। সাবধানে যেও।জুঁই গাড়িতে উঠে বসতেই ড্রাইভার গাড়ি স্টার্ট করলো। জুঁই মনেমনে অনেক খুশি, কতদিন এই দিনটির জন্য অপক্ষা করছে। জল্পনা কল্পনা করতে করতে কখন ভার্সিটির গেইটে গাড়ি এস থামলো, জুঁই গাড়ি
থেকে নেমে হাটতে হাটতে দু চারটে মেয়ে একসঙ্গে যেতে দেখে জিজ্ঞেস করলো ফার্স্ট ইয়ার ক্লাস কোন দিকে?
দোতলায় বাম পাশের দিকটায়, হন হন করে সিঁড়ি বেয়ে দু তলায় উঠার সময় দেখতে পেলো পলাশকে, পলাশের ও চোখ পড়লো জুঁইয়ের দিকে।
পলাশ সিঁড়িতে কয়েক সেকেন্ড দাঁড়িয়ে ভাবলো এই মেয়েটাকে এর আগে কোনো দিন ভার্সিটিতে দেখিনি তো !
ফার্স্ট ইয়ারে ভর্তি হয়েছে, হবে হয়তো, যাকগে এসব নিয়ে আমার ভাবার দরকার নেই।
জুঁইও ভাবতে লাগলো ছেলেটা বেশ সুন্দর, হ্যান্ডসাম খানিকটা স্মার্টও।
যথেষ্ট স্মার্ট হওয়ার জন্যে যে পরিমাণ অর্থের দরকার তা পলাশের নেই। কারন পলাশের বাবা একজন স্কুল টিচার, তিন ভাই বোনের মধ্যে পলাশ বড় বোন তিথি ছোট ভাই শিমুল।
তিথি ইন্টারে পড়ে, শিমুল ক্লাস টেনে।
পাঁচ জনের সংসার চালাতে হায়দার সাহেবের হিমশিম খেতে হয়,মা শাহানা খাতুন খুব হিসেব করে সংসার চালায়
পলাশ টিউশনি করে নিজের ভার্সিটির খরচ চালায়।
প্রথম দিনের ক্লাস, টিচার ক্লাস মিটদের সাথে আলাপ পরিচয়ে কেটে গেল, দুএকজন ম্যাডাম টিচার এসে লেকচার দিলেন।
ক্লাস শেষ করে জুঁই গেইটে আসার আগেই, গাড়ি দাড়ানো ছিলো।
গাড়িতে উঠতেই ড্রাইবার গাড়ি স্টার্ট দিলো। জুঁই গাড়িতে বসে মোবাইলে টেনে ঢুকে গেল।
জুঁই বাসায় ফিরতেই বাবা মা দুজনেই জিজ্ঞেস করলেন মামনি ভার্সিটির প্রথম দিন কেমন কাটলো?
ভালো, বলেই নিজের রুমে চলে গেল জুঁই! বিছানায় শুয়ে জুঁই ভাবতে লাগালো ঐ ছেলেটার কথা, খুবই নম্র ভদ্র শান্ত প্রকৃতির বলেই মনে হলো।
যদিও কথা হয়নি,ইংরেজিতে একটা কথা আছে মর্নিং সোজ দা ডে....
আকাশ পাতাল ভাবতে ভাবতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছে,
জুঁইয়ের মা, মনোয়ারা বেগম। মেয়েকে খেতে ডাকতে এসে দেখলেন জুঁই ঘুমিয়ে পড়েছে,
মা ভাবলেন আজ ভার্সিটির প্রথম দিনের ক্লাস করে মনে হয় ক্লান্ত হয়ে পরেছে, থাক ডাকব না,
ঘুমিয়ে যখন পড়েছেই কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিক,দরজা চাপিয়ে নিচে নেমে এলেন, জুঁইয়ের বাবা বললেন জুঁই মা খেতে এলোনা?
জুঁই ঘুমিয়ে পড়েছে, তাই ডাকিনি...
ঘুম ভাঙলে এসে খাবে।
চলো আমরা খেয়ে নিই, তোমাকে তো খানিকক্ষণ রেস্ট নিয়ে আবার বেরোতে হবে....
ওয়াজেদ সাহেবের বিশাল বিজনেস।
জুঁইয়ের ঘুম ভাঙল, ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলো ৪ টা বাজে, ক্ষিদাও অনুভব করলো...
ওয়াশ রুমে ঢুকে হাত মুখ দুয়ে ফ্রেস হয়ে নিচে নেমে ডাইনিং এসে বললো, ময়না আমাকে কিছু খেতে দাও।
জুঁই খেয়ে যথারীতি উপরে উঠে গেলো, রাতে খুব ভালো ঘুম হলোনা।
পরদিন সকাল একেবারে রেডি হয়ে নিচে নেমে এলো দশটায় ভার্সিটিতে যাবে বলে। নাস্তা খাওয়া শেষ করে ময়নাকে বললো ড্রাইভাকে গাড়ি বের করতে বলো, জুঁই মাকে জিজ্ঞেস করলো বাবা কোথায়? মা বললেন তোমার বাবা অনেকক্ষণ তোমার জন্য অপেক্ষা করে আধা ঘণ্টা আগে বেরুলো। মাক আসি বলে জুঁই বের হয়ে গাড়িতে উঠে বসলো।জ্যাম না থাকায় যথা সময়ে চলে গেল, গেটে নামছিল, তখন দেখতে পেলো সেই ছেলেটি হেঁটে ভার্সিটির দিকেই আসছে।
জুঁই যেন স্লো হাটতে শুরু করলো, বরাবর হতেই জুঁই সালাম দিয়ে জানতে চাইলো আপনিও কি?
অমনি পলাশ জবাবে বললো হ্যাঁ আমি ফোর্থইয়ার, আমার নাম জুঁই, ভালোই হলো আপনার কাছ থেকে সহযোগিতা পাবো,
ও সিওর, আমার নাম পলাশ।
জুঁই বললো আমি ফার্স্টইয়ার, পলাশ উত্তরে বললো বুঝতে পেরেছি তোমাকে কালই প্রথম দেখলাম, মজার ব্যপার হচ্ছে দুজনের সাবজেক্টই ইংলিশ।
পলাশ বলল হে, কোনো সহযোগিতা দরকার হলে বলো, এই বলতে বলতে সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় উঠে গেল পলাশ ।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)









