০৬ মে ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৭০




উপন্যাস

 টানাপোড়েন ১৭০

নববর্ষের নবদ্যুতি

মমতা রায়চৌধুরী


"আহা কি আনন্দ আকাশে বাতাসে,
শাখে শাখে পাখি ডাকে
কত শোভা চারি পাশে..…।'
রেখা আজকে মন খুলে গান গাইছে ভোর চারটায় উঠে। ফ্রেশ হয়ে আগে গোপালকে ভোগ নিবেদন করলো। তারপর চা, জলখাবার বানিয়ে ফেলল। মিলি আর ওর বাচ্চাদের ও খাবার বানিয়ে ফেলল তার পরে  আজকের নিজেদের খাবার বানানোর সময় হবে না ।গতকাল তো কথা হয়েই গেছিল মনোজের সঙ্গে।মনোজ বলেছিল ' নববর্ষে আমরা' বাইরের খাবার খাব।'
এক হিসেবে ভালোই হয়েছে ভোর ছয়টা থেকে প্রোগ্রাম শুরু' নারীশক্তি বাহিনীর' ।প্রতি বছর বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো 
হয় । রেখা প্রতিবারই ডিনাই করেছে কিন্তু এবছর একদম নাছোড়বান্দা দুর্গা ।যেতেই হবে। আর সত্যিই তো আর কতবার প্রত্যাখ্যান করা যায় এবার যে করেই হোক যেতেই হবে। তাই কোমর বেঁধে কাজকর্ম সেরে নিয়েছে ।তারপর মাসি এসে যা পারে করবে ।
মনোজকে ডাকতেই বলল 'আমি এখন ঘুমাবো আমাকে ডেকো না ।'
রেখা বলল 'বাহ বেশ তোমাকে আমি নববর্ষের উস করে  বেরিয়ে যাচ্ছি ।ঠিক আছে ।"
রেখা কাছে গিয়ে মনোজের কপালে চুম্বন করল মিষ্টি উষ্ণতায় ভরিয়ে দিয়ে বলল' শুভ নববর্ষ 
আমার কুম্ভকর্ণ।সবকিছু শুভ হোক। ভালো হোক আর আমাদের মধ্যে বিশ্বাস , ভালোবাসার সম্পর্কটা চির অটুট থাকুক।'
মনোজ ঘুমোলে আর কোন ওর হুঁশ থাকে না
 এর মধ্যেই ফোনের কলতান রেখা
তাড়াতাড়ি ফোনটা রিসিভ করতেই, দুর্গা বলে উঠলো 'কি এবারও নিরাশ করবে নাকি?"
 রেখা বলল "একদমই নয় ।"
"কখন বের হচ্ছ ?"
"এই তো শাড়ি পরে তার পরেই তোমার কাছে চলে যাচ্ছি । '
দুর্গা বলল "আমারও হয়ে গেছে ।ঠিক আছে রাখছি ।আমার এদিকে অনেক কাজ করতে হবে তো ।আমিও বের হচ্ছি ।তাহলে দেখা হচ্ছে আমাদের গঙ্গার ঘাটে কেমন ।'
রেখা বলল '।
ফোন রাখতে গিয়ে দুর্গা বলল
" ভালো থেকো , নববর্ষে তোমাকে এটুকুই উইস করছি ।বাকিটুকু আমাদের এখানে এসে হবে কেমন। '
রেখাও বললো 'তুমিও ভালো থেকো।'
ফোনটা কাটতেই রেখা তড়িঘড়ি করে ওয়ারড্রব এর  কাছে দিয়ে শাড়ি চুজ করছে ,কোনটা 
পড়বে ?তার আগে দুর্গাকে জিজ্ঞেস করেছিল যে কোন ড্রেসকোড আছে কিনা?
 দুর্গা বলেছিল 'না ,না ,কোনো ড্রেস কোড  
নেই ।আমরা দোলের সময়  ড্রেসকোড করে
 থাকি ।যা খুশি পরে এসো ,তবে শাড়ি পরে
এসো । রেখার মনে হলো নীল সবুজ কমিশনের পিওর সিল্ক টাই বেটার ।যতই হোক আজকের দিনটা সবুজের মধ্যেই রাখতে চাইছে। 
মনোজকে আর একবার তাড়া দিল কিন্তু মনোজ কোন কথার সাড়া দিল না বলে রেখা বললো ', শোনো, চা  ফ্লাক্সে রেখে দিলাম ।খেয়ে নিও। আর পাম্প চালিয়ে জলটা তুলে নিও ।আমি বেরোচ্ছি ।রেখা গেট খুলতেই মিলি আর ওর বাচ্চারা ধরল ঘিরে। কিছুক্ষণ আদর করলো তারপর   কিছু বিস্কিট দিয়ে যেই টোটোতে উঠতে গেছে, অমনি ওরা বিস্কুট ফেলে দিয়ে টোটোর কাছে এসে হাজির। কিছুতেই টোটো ছাড়তে দেবে না। টোটোওয়ালা যাইহোক করে যেই স্টার্ট দিয়ে কিছু দূর এগিয়েছে ওরাও পেছনে পেছনে ছুটতে শুরু করেছে। রেখার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল ও পিছন ফিরে তাকিয়ে দেখছে কিভাবে অসহায়ের মতো ওরা ছুটছে। টোটোতে এক ভদ্রমহিলা ছিলেন ,উনি বললেন 'কিছুদূর গেলেই আর ওরা আসবে না ।ওদের তো আবার এরিয়া ভাগ করা থাকে। তবে বছরের শুরুতেই ওদের মনে কষ্ট দিতে চায় নি রেখা । মনে মনে শুধু ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করল "ঈশ্বর ওদের ভালো রেখো, সুস্থ রেখো।'
মন খারাপ নিয়ে লেখা গঙ্গার ঘাটে পৌঁছালো।
গঙ্গার ঘাটে পৌঁছাতেই দুর্গা উষ্ণতায় স্বাগত জানালো আর আপ্লুত হয়ে বলল"ভীষন খুশী হয়েছি।"
রেখা বললো" সব অ্যারেঞ্জ হয়ে গেছে?'
দুর্গা রাস্তার দিকে তাকিয়ে বলল 'এমনি সব রেডি হয়ে গেছে ,শুধু গানের মেয়েগুলো রাস্তায় আছে ওরা আসলেই  শুরু করে দেবো।'
বলতে বলতেই গানের মেয়েরা এসে হাজির।
প্রথমে দুর্গা বলল আজকের অনুষ্ঠান শুরু করার আগে নারীশক্তি বাহিনী সম্পর্কে কিছু আলোকপাত করার কথা আজকের অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি শিক্ষিকা শ্রীমতি রেখা চৌধুরীকে অনুরোধ করছি কিছু বলার জন্য।
রেখা বলল 'আজকের অনুষ্ঠানের যারা উপস্থিত আছেন তাদের প্রত্যেককেই শুভ নববর্ষের হার্দিক শুভেচ্ছা, শুভকামনা, ভালোবাসা জানাই আগামী দিনগুলো সকলের ভালো কাটুক ।নববর্ষের নব দ্যুতি ছড়িয়ে পড়ুক সকলের ভেতরে। জাতি-ধর্ম ভেদাভেদ ভুলে সম্প্রীতির মানবতার বিকাশ ঘটুক সকলের ভেতরে। আর নারীশক্তি যেহেতু সকল অনাদৃত ,অবহেলিত মানুষের জন্য কাজ করে থাকে ।তাই সেই সমস্ত মানুষগুলোও  পাক নববর্ষের নব আলোকের সঞ্জীবনী সুধা। তাই নারীশক্তি বাহিনীর প্রতি ও থাকলেও হার্দিক শুভকামনা এগিয়ে চলুক এইভাবে সকলের জন্য কাজ করুক তাদের বার্তা হোক"... প্রত্যেকে আমরা পরের তরে।'
দুর্গা বললহ্যাঁ সে তো ঠিকই আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে তাই ,আমরা যেন সত্যিই সে সমস্ত মানুষের জন্য কাজ করতে পারি ।তো আজকে অনুষ্ঠান শুরু হচ্ছে উদ্বোধনী সংগীত এর মধ্যে দিয়ে আজকে সারাটা দিন চলবে এই গঙ্গাবক্ষে উন্মুক্ত পরিবেশে আমাদের এই বর্ষবরণের অনুষ্ঠান ।তবে রেখা তোমাকে ছাড়ছি না ,এরপরে তোমার লেখা কবিতা আবৃত্তি আমরা শুনব।'
প্রথমেই উদ্বোধনী সঙ্গীত শুরু হলো 'এসো হে বৈশাখ। এসো, এসো,
তাপস নিঃশ্বাস বায়ে
মুমূর্ষুরে দাও উড়ায়ে
দূর হয়ে যাক আবর্জনা
যাক যাক যাক…..।"

পরপর চলতে থাকল অনুষ্ঠান পরবর্তী সূচি ।
এর মধ্যে তিনজন অন্ধ ভাই ওরাও এসে উপস্থিত হয়েছে নববর্ষের আলো ওরা ওদের গান, বাঁশির সুরের মধ্যে দিয়ে ছড়িয়ে দিতে চাইছে ।ওরা মনেপ্রাণে বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে মেতে উঠেছে।রেখার খুব ভালো লাগলো। পরবর্তীকালে ওদের সঙ্গে আলাপ করে জানতে পারলো যে ওদের পরিবারের ওরা তিন ভাইই অন্ধ কিন্তু ওদের কি প্রতিভা ! রেখা অবাক হয়ে গেল কি অসাধারণ বাঁশি বাজানো !একজন বাঁশিবাদক,একজন বেহালাবাদক ,আরেকজন সঙ্গীত শিল্পী।অসাধারণ আজকের দিনটা খুব ভালো কাটলো রেখার ।পরবর্তীকালে আরো গানের মধ্যে দিয়ে চলল অনুষ্ঠান। এর মধ্যে দিয়ে সুরাইয়া বলে একটি মেয়ে এত সুন্দর ফোক সঙ্গীত করল , যেমনি গান ,তেমনি সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন দারুন লাগলো। কিন্তু রেখা বেশিক্ষণ বসে থাকতে পারছে না ,তিন চারদিন ধরে হাতটা এত যন্ত্রনা। ওখানেই বসে বসে নিজের হাত নিজে মেসেজ করে যাচ্ছে ।দৃষ্টিকটু লাগছিল । উপস্থিত একজন বিখ্যাত শিল্পী দাদা বললেন হাতটাকে বিভিন্নভাবে নাড়াচাড়া করছো কি হয়েছে তোমার হাতে? সবকিছু খুলে বলার পর বললেন ইমিডিয়েট ডক্টরের পরামর্শ নিতে। কথা বলতে বলতেই মেঘ না চাইতে জল এর মত এর মতো 'মিরা দি বলে নারীশক্তি বাহিনীর এক দিদি এসে বলেন 'কী হয়েছে তোমার?'
রেখা  বললো 'আর বলবেন না দিদি, লজ্জা লাগছে কিন্তু আমি যন্ত্রনায় থাকতে পারছি না।'
 দিদি ছিলেন একজন সিনিয়র নার্স ।তিনি বলেন 'দেখি তোমার হাতটা।'
'রেখা হাতটা বাড়িয়ে দিতেই, দিদি, এমনভাবে  আঙ্গুল আর হাতটা ধরে মেসেজ করে দিলেন যেন কোন যাদু বলে সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণা গায়েব। ' 
দিদি বললেন 'চিন্তা করো না ।তুমি, ইমিডিয়েট হসপিটালে যাবে দুই টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ওখানে ভালো ফিজিওথেরাপিস্ট আছে , দেখাবে।'
হসপিটালের কথা শুনে পাশেই এক ভদ্রমহিলা
নাক শিটকালেন আর বললেন ''?
আরো গভীর সুচিন্তিত পরামর্শ দিলেন
"প্রাইভেট হসপিটাল "এর।
মিরাদি কথাটা শুনে শান্ত অথচ দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন,এটা মাথায় রাখবেন হসপিটালেই কিন্তু ভালো ভালো ডাক্তার থাকেন ভালো কলেজ থেকে পাস করে সরকারি হসপিটালে ঢোকেন।'উনারাই প্রাইভেটে যখন প্র্যাকটিস করেন তখন আমরা জানতে চাই কোন সরকারি হসপিটালে জয়েন করেছেন?"
তারপর রেখার দিকে ফিরে বললেন "আমি যা বলছি তুমি শোনো, এখন এখানকার হসপিটালে যা ভাল ভাল ডাক্তার আছে ,আমি যেহেতু  হসপিটাল এর  সঙ্গে যুক্ত তাই আমি ভালো করে জানি।'
রেখা যদিও ভদ্রমহিলার কোথায় সেরকম সায় দিতে পারে নি।রেখান হসপিটাল এর পক্ষেই।
অত নাক উঁচু রেখার নয়।
এসব বলতে বলতেই দুর্গা এসে হাজির আবার এখানে কাজে রেখার স্বরচিত কবিতা আবৃত্তি করার জন্য।
প্রথম দিকটা একটু হকচকিয়ে গেছিল রেখা তারপর বললো ঠিক আছে মোবাইলের ভেতর থেকেই সেভ করা কবিতাটি পাঠ করছে।
কবিতার নাম ছিল 'নববর্ষ'।
অনুষ্ঠানের শেষ লগ্নে পৌঁছে রেখার কবিতা আবৃতি দিয়েই বর্ষবরণ অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করবে বলে দুর্গা ঠিক করেছে।
ইতিমধ্যে মোবাইলে সেভ করা কবিতাটি পেয়ে গেছে এবার কবিতা পাঠ করছে"
বছরের অন্তিম লগ্নে
নববর্ষে উঠি মেতে।
দুঃখ হাসি কান্না ভুলে
ভুবন ভোলা বুলি বলে,
যন্ত্রণাগুলো সরিয়ে ফেলে।
আসুক যতই বাঁধার পাহাড়
নিকষ কালো অন্ধকার।
…….
হিংসা-দ্বেষ দ্বিধাদ্বন্দ্ব
ঝেড়ে ফেলেসব মতো দ্বৈত,
পার প্রাণে উঠুকতান
মানবিকতার জয়গান
ধর্ম জাতি ভেদাভেদ ভুলে
শান্তি বিরাজ পৃথিবীজুড়ে
……
পৃথিবীর সব লোকে
ভালো থাকুক বর্ষ জুড়ে।"
কবিতা শেষে দুর্গা বলল আমরা এই প্রার্থনাই করি রেখার কবিতার মত পৃথিবীজুড়ে শান্তি বিরাজিত হোক যার যার ভেতরে মতদ্বৈততা দ্বন্দ্ব আছে সব ঝেড়ে ফেলে সকলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক নববর্ষের নব কিরনের দ্যুতি।

কবি সানি সরকার এর কবিতা "সত্যি"




সত্যি
সানি সরকার



মেঘ কেটে গেছে
এখন মুগ্ধতা ব্যতীত কোনো গন্ধ নেই
এখন এই সন্ধ্যেবেলা
                  আমার চড়ুই পাখিটির কাছে যাবো

এই জ্যোতির্মণ্ডলের মতন সত্যি চড়ুই

কোল পেতে আছে
               ঠোঁট পেতে আছে

সূর্যের মতন সত্যি তীব্র রশ্মি
চাঁদের মতন সত্যি অনন্ত উচ্ছ্বাস
বায়ুর মতন সত্যি আলিঙ্গন
                      জল ও মাটির ওপর হেঁটে যাওয়া

তিথি, পাতাগুলি কত চিক্কন-সুমধুর
                      রিদম তুলেছে শোনো

কবি আমিনা তাবাসসুম এর কবিতা "আমাদের ইরার কথা" 




আমাদের ইরার কথা 

আমিনা তাবাসসুম 




অনেকটা সময় পেরিয়ে গেলে 
        সতর্কতা আসে পা বাড়ানোর আগে

অথচ কী অবলীলায়
এই উদ্ভিদ তোমার কথা বলে
আকাশ তোমার কথা বলে
এবং যে মেঘ প্রতিদিন বয়ঃজ্যোষ্ঠ হয়
হুমড়ি খায়, এগিয়ে চলে
তার চোখ তোমার কথা বলে

আমাদের নাভির থেকে উঠে আসে প্রেম
ঈশ্বর দৃষ্টি ফেরান না
সবকিছু দেখেন এবং খুব গোপনে গোপনে
রেখে যান আমাদের ইরা'কে

এখন কি আর ফেরার পথ থাকতে পারে

কবি তরুণ কুমার পাল এর কাবিতা "বল কবিতা সই"





বল কবিতা সই
তরুণ কুমার পাল

ওরে আয়রে কবিতা,তুই যে আমার মনের মিতা-
তুই সেই কবিতা, বক্ষে বহাস দুঃখ নদী- খরস্রোতা- 
প্রেয়সী কবিতা, তুই এ প্রানে -মুগ্ধ প্রেমের বিহ্বলতা-
অভিমানী কবিতা, তুই তো আমার বিরহ ব্যথা, ব্যাকুলতা-
ও কবিতা, তুইই প্রথম শুনিয়েছিস, বসন্তে কুহু কথা,
আজ তুই সেই কবিতা,এক একাকী জীবনে নীরবতা।

ওগো সই কবিতা,বক্ষে তোর অনেক ভাষা শব্দে হাঁটা-
তুইতো সেই কবিতা, সুরে তালে এক গান হয়ে যাস-  
গদ্যে,ছন্দে মধুর আভাস, কখনো হৃদে বিষের কাঁটা।
বল কবিতা,বক্ষে তোর এতো কষ্ট কেন- সেই কথাটা!
হঠাৎ করে, সে কেমনে হৃদয় ভাঙে- এবার বল কবিতা!
কেউ না বোঝে, তুই তো বুঝিস- এ ব্যর্থ প্রেমের যন্ত্রণাটা ?

কবি মৃধা আলাউদ্দিন এর কবিতা "লোকটা"




লোকটা
মৃধা আলাউদ্দিন



চুল-দাড়িতে লোকটারে ভাই যায় না মোটে চেনা
লোকটারে কেউ ক্ষুর-কাঁচি আর আয়না এনে দেনা।
দিনের বেলা ঘুমাই লোকটা, রাতে শুধু হাটে
খাইতে বসে ঠিক যখনি সূর্য নামে পাটে।
লোকটা আমার কেউ ছিলো না, মামার মামা, হরিপদোর কাকা
আর কিছু না, লাগতো ভালো লোকটার ভাই দেশের ছবি আঁকা।

০৪ মে ২০২২

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৬৯





উপন্যাস



 টানাপোড়েন  ১৬৯

একটা মিষ্টি গন্ধ

মমতা রায়চৌধুরী



বসন্তের শেষ লগ্নে এসে নীল গাজনের ঢেউ দোলা দিয়ে যায় রেখার মনে। আসলে কিছু কিছু অনুভূতি আছে যেগুলো শব্দের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ করা যায় না আবার কিছু শব্দ আছে যার ভেতর দিয়ে অনুভূতি প্রকাশ করা যায় ।এক বৈচিত্র্য বিরাজ করে মনের চোরা কুঠুরিতে। সকাল সকাল মনোজের ভালোবাসায় আপ্লুত রেখা স্কুলে পৌঁছে স্কুলের হাজারো কাজের মধ্যেও সুন্দর অনুভূতি গুলো বারবার অনুরণিত করে। শুকনো হৃদয় টাকে এক পশলা ভালোবাসার উষ্ণতায় ভিজিয়ে রাখে।
তারপরেও ক্লাসের ফাঁকে অফ পিরিওডে রেখার মন হু হু করতে থাকে কোন এক উদাস ঘুঘুর ডাকে। রেখাকে নিয়ে যায় তার অতীত স্মৃতিচারণায়। গতকালকে পাওয়া কবিতার বই স্বপ্নীল ভট্টাচার্যের লেখা, রেখা বারবার সেই বইটার গন্ধ নিতে থাকে আর ভাবে এর মধ্যেই তার অতৃপ্ত স্বপ্নগুলো তাড়া করে বেড়াচ্ছে। রেখা বইটা সঙ্গে করে নিয়ে গেছিল স্কুলে কিন্তু এই রাইটার বইটা এত টানছে কেন ?শুধুমাত্র নামের সাথে সাযুজ্য আছে বলে নাকি সত্যি সত্যি তার মনের বালিয়াড়িতে চাপা পড়ে যাওয়া নামটি হঠাৎ কোন এক বদলের বৃষ্টিতে সজীব হয়ে উঠেছে।
রেখা প্রথম দুটো ক্লাস নেওয়ার পর থার্ড পিরিওড অফ পাওয়াতে বইটা খুলে বসে।
একমনে বইটা খুলে কবিতা তে মনোনিবেশ করেছে। প্রথম কবিতার নাম" ভালোবাসা।"
কতবার কবিতাটা পড়ল রেখা।
কিছু শব্দ রেখার এত পরিচিত কেন?
যে শব্দগুলো বারবার শুনেছে কারোর কাছ 
থেকে। শব্দগুলোই রেখার মনের ভেতরে তোলপাড় শুরু করেছে।
"এসব কি হচ্ছে রেখার সাথে?"
রেখা যখনই একটি স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার চেষ্টা করে ঠিক তখনই যেন রেখার মন উথাল পাথাল  করে।
কবিতা পড়তে পড়তে একটু অন্যমনস্ক হয়ে যায়।
ঠিক সেই সময় শুভ্রা এ সে বলে' কি করছো গো রেখা দি,?"
রেখা ছিল অন্য জগতে।
রেখা বলল"এই বইগুলো নিয়ে নাড়াচাড়া করছে।,
"কি নাম কবির?'
"স্বপ্নীল ভট্টাচার্য।'
শুভ্রা বললো 'এই নামটা না আজকাল লোকের মুখে মুখে ফিরছে।"
রেখা চুপ করে থাকে।
শুভ্রা আবার বলে 'এই কবিকে জানো কি বলা হয় ভালোবাসার কবি।"
রেখা একটু হেসে বলল 'ও তাই বুঝি?"
হ্যাঁগো অনেকের মনে নাকি এই  কবি  হার্টথ্রব হয়ে গেছে।
রেখা মনে মনে বলল" না ,শুধু হার্ট থ্রব অন্য একজনের…।'
শুভ্রা বললো 'অ্যাই রেখা দি কিছু মনে করবে না বলো?'

রেখা একটু হেসে বলে "কি জন্য মনে করব?'
'তাহলে সাহস করে বলেই ফেলি' শুভ্রা বললো।
"হ্যাঁ কি বলবি বল?'
"বলছি "মানে বলছিলাম…।"
রেখা পোলার কিন্তু কিন্তু করিস না তো
কি বলবি সেটাতো বল।"
' শুভ্রা আমতা-আমতা করে মাথা চুলকাতে চুলকাতে বলল"বলছি একদিনের জন্য তোমার এই কবিতার বই টা আমাকে দেবে?"
রেখা জানে বই আর বউ নাকি একবার হাতছাড়া হলে খুব মুশকিল হয়ে যায় ঘরে ফেরানো।
তাই রেখা চুপ করে থাকে।
শুভ্রা বললো আবার" তুমি চুপ করে রইলে যে।'
'কি বলি বলতো?'
সত্যি কথা বলতে কি বইটা হাতছাড়া করতে ইচ্ছে করছে না, আমার বনএখনো পড়া হয়নি।'
শুভ্রার মুখটা নিমেষের মধ্যে যেন বর্ষার মেঘ ঘনিয়ে আসল।।
শুভ্রা বললো 'জানো রেখা দি।'
রেখা কৌতুহল আর উৎসাহ নিয়ে তাকিয়ে থাকে তারপর বলে 'হ্যা কি বলছিস বল?'
'কোথা থেকে যে শুরু করি বুঝতে পারছি না।'
এরমধ্যে পঞ্চমী দি  এসে খবর দিয়ে গেল" রেখাদি বড় দি আপনাকে ডাকছেন।'
রেখা বলল," যাই।'
 পঞ্চমীদি  বলল' তাড়াতাড়ি 
আসুন ।জরুরী তলব।'
রেখা হেসে ফেলে তারপর বলে 'তুমি যাও আমি এক্ষুনি আসছি।'
রেখা বড়দির ঘরের দিকে এগোয়
'মনের ভেতরে কবিতার লাইনগুলো বারবার মোচড় দিতে থাকে।'
রেখা বলল 'ও বড়দি আসব?'
বড়দি বললেন 'আরে এসো এসো তোমার জন্যই ওয়েট করছি।'
রেখা বড়দির  সামনে গিয়ে দাঁড়ায়।
বড়দি বললেন 'আবার ওয়ার্কশপে চিঠি এসেছে।'
রেখা খুব কৌতুহলী হয়ে বলল" ও তাই বুঝি?"
রেখা বলল" lকাউকে পাঠাচ্ছেন?
 বড়দি বললেন 'সেটাই তো ভাবছি?
কাকে পাঠাই বলতো?
রেখা বলল "কি বলি বলুন তো,,?
বরদি একটু চিন্তিত হয়ে বললেন এদিকে তোমার বোর্ডের খাতা এসেছে তোমাকেও বলতে কেমন অস্বস্তি হচ্ছে?"
রেখা বলল আপনি একবার শুভ্রাকে বলে দেখতে পারেন,?
বড়দি নিরুৎসাহ ভাবে বললেন" ভালো জেনারেল নাম করেছ?'
রেখা বলল "তাহলে কাকে পাঠাবেন?'
ওটাই তো এদের তো শুধু "মুখেই মারিতং জগত।' কাজের বেলায় লবডঙ্কা।
"তোমার খাতা দেবার ডেট কবে?'
'এই তো সামনের সপ্তাহেই দিদি।:
"এদিকে সামনের সপ্তাহেই আছে ওয়র্কশপ।"
রেখা বুঝতে পারল বড়দি মনে মনে রেখাকেই  পছন্দ করছেন  ওয়ার্কশপে পাঠানোর জন্য।'
"ঠিক আছে , রেখা তুমি এসো। দেখি কি করা যায়।'
রেখা বলল 'আসছি তাহলে দিদি।'
এরমধ্যে টিফিন আওয়ার্স। ও যে  লাঞ্চ ডেলিভারি দেওয়ার জন্য অর্ডার করেছিল toসেটা এখনো এসে পৌঁছায়নি ভাবছে আর একবার ফোন করবে।
ঠিক এমন সময় পঞ্চমী দি এসে বলল রেখাদি আপনার বোধহয় কোন খাবার অর্ডার দেওয়া ছিল ।ওটা এসেছে।"
রেখা বেশি উৎসাহের সঙ্গে বলেছে আচ্ছা দাঁড়াতে বল ,।আমি যাচ্ছি।'
রেখা তাড়াতাড়ি যায়  ডেলিভারি বয়ের কাছ থেকে লাঞ্চের প্যাকেটটা সংগ্রহ করে আর টাকা মিটিয়ে দেয়।
খেতে যাবে ঠিক সেই সময় মনে হল 'মনোজ ও খাবার খাচ্ছে তো?'
এইভেবে রেখা একটা ফোন করল।
মনোজের রিংটোন বেজে যাচ্ছে'

বাবা লোকটার হলো কি?
আবার রিং করলো এবার অপরপ্রান্ত ফোন ধরল বলল ''হ্যালো"
বলছি তুমি লাঞ্চের অর্ডার দিয়েছো? খাচ্ছ খাবার?'
'হ্যাঁ দিয়েছি এখনো এসে পৌঁছায়নি।'
'তুমি খাচ্ছ?'
এইতো সবে বসেছি ভাবলাম তোমাকে একটা ফোন করে জেনে নি।
"বাবা তুমি আমার কথা মনে করলে?"
রেখা বললো "এমন করে বলো না যেন আমি তোমার কথা মনেই করি না।'
মনোজ বলল-এই রেখা রাগ করোনা আমি এমনি বললাম আসলে ফোনটা করলে আমার ভাল লাগল তাই।
আজকের সকালটা বেশ ভালো কাটলো বলো?
কে বলবে 40 বছর পেরিয়ে গেছ?'
রেখা বলল 'ঠিক আছে বুঝেছি রাখছি এখন।"
মনোজ বলল-এই হচ্ছে তোমার দোষ জানো তো ?কোনো কথা বলতে গেলে তুমি আগে রেখে দাও ফোন।"
'এটা কথা বলার সময় বলো তুমি?
বাড়িতে থাকলে তো তোমার কথা বলার সময় থাকেনা তখন ফোন নিয়ে বসে থাকবো নয় টিভিতে খেলা নিয়ে বসে থাকো"।
মনোজ হো হো হো করে হেসে
 উঠলো ।'ঠিক আছে রাখ।'
রেখা খেতে বসে ভাবলো কবিতার বই টা একটু খুলে পড়বে। কিন্তু কোথাও কবিতার বই টা খুজে পাচ্ছে না। রেখা খাওয়া বাদ দিয়ে তন্ন তন্ন করে খুঁজছে।
হঠাৎ শুভ্রার টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখে শুভ্র একমনে বইটা পড়ছে।
রেখা বলল শুভ্র তুই কি বইটা নিলি?
এতটাই কবিতায় মনোনিবেশ করেছে যে রেখার প্রথম ডাক শুনতে পেল না।
রেখার এমনিতেই মনে মনে রাগ রয়েছে কিন্তু প্রকাশ করছে না তারপর আবার বলল" শুভ্রা তুই কি আমার বইটা নিয়েছিস?"
"কি বলছো রেখা দি?"
'বলছিআমার কবিতার বই টা কি তোর কাছে?'
হ্যাঁ'
কিছু মনে করিস না তুই একবার আমাকে বলেছিস যে আমি বইটা নিয়েছি এটা কিন্তু মোটেই ঠিক নয় আমি খাওয়া বাদ দিয়ে তন্নতন্ন করে বইটা খুঁজে যাচ্ছি।
শুভ্রা বললো 'এই রেখা দি, কিছু মনে করো না ।আসলে তখন তুমি ফোনে কথা বলছিলে তো  বইটা তোমার টেবিলের উপরে ছিলো। আমি বললাম ততক্ষণ আমি একটু যদি পড়ে নি।'
রেখা আর কোন কথা বলল না।
রেখা তখন ভালো করে হাত ধুয়ে এসে খেতে বসলো আর মনে মনে ভাবল কিরকম নির্লজ্জ দেখো বইটা নিল। এখন তো  সেটা ফেরত দেবে, সে সবের কোন বালাই নেই।"
রেখা মনে মনে ভাবল খাওয়া শেষ করে যদি বইটা না পায় আজকে শুভ্রাকে দু-চার কথা শুনিয়ে দেবে।
খাওয়া শেষ করে উঠতে যাবে শুভ্রা এসে বইটা রেখার কাছে দিল।
বলল '
রেখাদি এই নাও তোমার বই।"
রেখা বইটাকে হাতে পেয়ে মনেপ্রাণে সেই বইয়ের গন্ধ নিল। শুধু কি বইটার জন্য নাকি বইয়ের ভেতরে যার লেখাগুলো ফুটে আছে ,সেই প্রতিটা শব্দের সঙ্গে যার ভালোবাসা জড়িয়ে আছে তার জন্য।
এই মিষ্টি গন্ধটা যে তার আবহমানকালের।

Jhhj

LOVE

০৩ মে ২০২২

কবি মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৬৮




উপন্যাস



 টানাপোড়েন  ১৬৮

একরাশ টাটকা বাতাস


মমতা রায়চৌধুরী 




গতরাত্রে রেখা বেশ দেরী করেই ঘুমাতে গেছিল। গত সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত বাড়িটা উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। কালকের এত সুন্দর পরিবেশের সুঘ্রান আজও রয়ে গেছে। সকালে উঠে দূরে থাকুন গুনগুন করে গান গাইছে-
"এতদিন যে বসেছিলেম পথ চেয়ে আর কাল গুনে ,দেখা পেলেম ফাল্গুনে….।*

মনোজের ও ঘুম ভেঙে যায়। কিন্তু ঘুম থেকে ওঠে না । রেখা বুঝতেও  পারে নি  মনোজের ঘুম ভেঙ্গে গেছে। রেখা গান শেষ করে মনোজের পাশে এসে বসে তারপর আলতো হাতে চুলগুলো নেড়ে দিতেt লাগলো। একসময় কপালে আলতো চুম্বন করে, আর ঠিক তখনই মনোজ রেখাএতকে বুকের কাছে টেনে নেয়।
"এ কি কী করছ?'
"কি করছি?'
'নিজের বউকে একটু আদর করছি।'"
সকালেই যেন পারদের উষ্ণতা আস্তে আস্তে চড়ছে।দুজনের বুকে তখন ঝড়। কোথা থেকে কালবৈশাখীর ঝড়ো হাওয়া দুজনকে এলোমেলো করে ফেলবে। ঝড়  থামল অনেকক্ষণ পর। কালবৈশাখী চলে যাবার পর চারিদিকটা যেমন শান্ত সমাহিত, একটা স্নিগ্ধতায় ভরে যায় পরিপূর্ণতায়। মনোজ রেখাকে ঠিক সেরকম মনে হল।
মনোজ আস্তে আস্তে রেখা কে ডাকলো আজকে 'স্কুলে যাবে তো?
'হ্যাঁ যাবো তো দেখো কেমন দেরি করে দিলে ভালো লাগে না ছাই।'
 দেরি হয়ে যায় নি জীবনে এই সময়টুকু অনেক দরকার আছে বুঝেছ গালটা ধরে একটু আদর করে দিয়ে বলল।
"এখন আমি উঠছি।"
"আর একটু থাকো না?'
"এ কি স্কুলে যাব না নাকি?"
"ঠিক আছে তাই হোক।'
রেখা তাড়াতাড়ি ওয়াশরুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে নিল তারপর নিত্যনৈমিত্তিক কাজ গুলো করে চায়ের জল বসালো কিন্তু তখনও মাসি আসেনি।
মনোজ ও উঠে পড়েছে। চায়ের নেশা এবার ।
পেপার টা পড়তে পড়তে মনোজ বলল' চা টা দিলে?"
_"হ্যাঁ দিয়েছি তো?'
"কোথায় রেখেছো?"
"এ বাবা ঘরে রেখে এসেছি."
"ও সরি খেয়াল করিনি।'
"কি বলতো আজকে কি মাসি আসবে না? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে রেখা বলল" না আর বসে থাকলে হবে না ।নাহলে স্কুলে যেতে পারবো না। কাজ গোছাতে  হবে।'
"ঠিক আছে আমি আজকে তোমাকে স্টেশনে ড্রপ করে দেবো।"
'আচ্ছা শোনো না তোমার অত চাপ নিতে হবে না আজকে ব্রেকফাস্টে বানিয়ে ফেলো আর মিলি আরো বাচ্চাদের খাবার টা তৈরি করে 
ফেলো ।বাকি আজকে লাঞ্চ আমিও করে নেব অফিসে আর তোমাদের ওখানে ডেলিভারি দেয় বলেছ খাবার ।খাবার অর্ডার করে নিয়ে নিও।"
"একদম ঠিক বলেছ আজকে আর ভালো লাগছে না।"
মনোজ  রেখার দিকে তাকিয়ে বলল" "আমি জানি তো?"
"হ্যাঁ তুমি তো সবই জানো। মাঝে মাঝে তোমার কি হয় বল ত তখন যেন আমাকে তুমি সহ্য করতে পারো না জানো তখন আমার কত কষ্ট হয়।
মনোজ মনে মনে ভাবল একথাটাও অনেকবার ভেবেছি কেন যে রকম হয় সেটা মনে জানে না মন শুধু বলল তার জন্য আমি দুঃখিত।
আজকে ব্রেকফাস্টে কি বানাচ্ছ?
কি খাবে বলো?
কি খাই বলতো ফ্রিজে পনির আছে?
রেখা চায়ে চুমুক দিয়ে বলল হ্যাঁ আছে কেন?
পনির রেজালা করে দাও।
Ok ডিয়ার।
এরমধ্যে কলিংবেল বেজে উঠলো। রেখা রান্নাঘর থেকে বলল দেখতো কে আসলো মাসি আসলো কিনা?
হ্যাঁ যাই।
মনের দরজা খুলতেই মিলল বাচ্চারা এসে ওদের ভাষায় কিছু বলতে লাগলো মনোজ বলল একটু ওয়েট কর ,দেব , বিস্কুট দেব।
আপনি কে?
আমি মাসি মানে আপনাদের বাড়িতে যে কাজ করে পাশের বাড়ির আমাকে খবর দিতে বলা হয়েছিল তাই এসেছি।
হ্যাঁ বলুন
আজকে মাসী কাজে আসতে পারবে না?
মনোজ বললো' কেন কিছু হয়েছে কি?'
"হ্যাঁ?'
'মাসির বৌমার খুব শরীর খারাপ।'
'ও আচ্ছা ,আচ্ছা, ঠিক আছে।"
এর মধ্যে সাইকেল নিয়ে পার্থ যাচ্ছিল মনোজকে দরজার কাছে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বলল 'কি দাদা এখানে দাঁড়িয়ে?"
"আরে ওই কাজের মাসি কাজে আসবে না, তাই একজন খবর দিতে এসেছিল।"
রেখা রান্নাঘর থেকে চিৎকার করে ডাকলো কিগো কে এসেছে?"
"পার্থ।'
"ও আমি ভাবলাম মাসি এসেছে।'
"মাসি আজকে কাজে আসবে না খবর দিতে এসেছিল।"
পার্থ চলে গেল?
না। কেন?
আরে ওকে তো সেই ইলিশ মাছের দাম আর বার্সাকে দামটা দেয়া হয়নি দিয়ে দাও।
পার্থ কথাটা শুনতে পেয়ে বললো আচ্ছা ঠিক আছে থাক না।
রেখা বললো ',না তা হয় না।'
পার্থ বলল আচ্ছা আমি কি এদেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি কোথাও?
রেখা বলল" না তা আর হচ্ছে না।"
তোমাকে ধরা যায়না কবে ভুলে যাব তখন সেই চেম্যানের মত অবস্থা হবে।
বৌদি তাহলে কি তুমি আমাকে সেই সুদখোর মহাজন ভাবছ? পার্থ হাসতে হাসতে বলল,.
রেখা বলল না সেই সুর মহজন তুমি নও কিন্তু দেখো এতদিন ধরে যদি টাকাটা ফেলে রাখ তাহলে কি আমার দিক থেকে তো ঋণের বোঝা বাড়ছে।
বাবা বৌদি সত্যি তোমার সঙ্গে পারা যাবেনা কথায়।
ঠিক আছে দাও 
সেদিন ইলিশ মাছটা কত দাম নিয়েছিল?
 তেরোশো টাকা।
আর পাট শাক এর দাম?
ক আঁটি দিয়েছিলাম।
দুআটি বোধহয়।
দিওনা পনেরো কুড়ি টাকা দিও।
মনোজ বল পার্থ দাঁড়াও টাকাটা নিয়ে যাও ভাই ঋণ মুক্ত করো।
আরে ভেতরে এসো না পার্থ চা খেয়ে যাও।
ঠিক আছে দাও তোমার হাতের লিকার চা টা কিন্তু দারুন হয় বৌদি?
ঘর থেকে টাকা নিয়ে এসে পার্থক্যে দিল আর বলল দারুন হয় না বল?
আমি তো ফিদা হয়ে গেছি।
মনোজ হাসতে হাসতে বললো তুমিও ফিদা হয়ে গেছো
একদম দাদা।
রেখা বলল পার্থ কালকের জন্য আর একবার তোমাকে স্পেশাল থ্যাংকস জানাচ্ছি।
ও আচ্ছা আচ্ছা।
পরের বারের জন্য রেডি থেকো বৌদি।
এবার তো হঠাৎ করে জানতে পারলাম।
পরেরবার অন্যরকমভাবে করব।
এই নাও চা নাও।
বিস্কিট তুলে নাও বৌদি খাব না বিস্কিট খাব না।
আরে বাবা এটা ভালো বিস্কিট খাও না ব্রিটানিয়া নিউ টি চয়েস  ডাইজেস্টিভ।
ঠিক আছে তাহলে একটা দাও।
কাকিমা কি করছে পার্থ?
ওই যে  হাঁটুর ব্যথা।
সত্যি আসলে কাকিমার অনেকটা কষ্ট হয়েছে কালকে।
আরে না বৌদি মায়ের এমনিতেই ব্যথা আছে।
এমনি সময়ে পার্থর ফোন বেজে উঠলো।
পার্থ চায়ে চুমুক দিয়ে বলল হ্যালো
আরে আমাদের গাড়িটা এখন এসে পৌঁছায়নি দাদা।
কে বলছেন অবিনাশবাবু?
হ্যাঁ আমাদের এয়ারপোর্টে যেতে হবে তো?
কিন্তু ও তো অনেক আগে বেরিয়ে গেছে ঠিক আছে আমি ফোন করে দেখছি।
মনোজ বলল কি হল পার্থ?
নতুন ড্রাইভারটা কে নিয়ে খুব অশান্তি হচ্ছে সঠিক টাইমে পৌঁছাবে না কাস্টমারের বাড়ি।
একবার তো ফোন করে ড্রাইভারকে বললো আরে কোথায় আছো তারাতারি যাও অবিনাশবাবু ফোন করেছিলেন,?
হ্যাঁ আমিতো দাঁড়িয়ে আছি।
তাহলে কি তুমি ঠিকানা ভুল করলে?
তুমি কোন ব্লকে গেলে?
আমি এ ব্লকে আছি।
তোমাকে কখন বললাম যে এ ব্লকে বাড়ি তার তো বি ব্লকেই বাড়ি।
ও আচ্ছা আচ্ছা যাচ্ছি এক্ষুনি যাচ্ছি।
পার্থ ফোনটা ছেড়ে দিয়ে বিরক্তিভরে বলে দেখলে দাদা কাদের নিয়ে কাজ করি কানে কি কম শোনে কিনা কে জানে,,?
ঠিক আছে দাদা আসছি ।
বৌদি আসছি।
মনোজ বললো:" মিলিদের খাবার রেডি হয়ে গেছে?"রেখা ঝটপট বেসিনে কয়েকটা বাসন মেজে নিতে নিতে বলল "হ্যা হয়ে গেছে।'
মনোজ বলল আমি বাথরুমে ঢুকলাম স্নান করতে।

দেখা বলে এখন তুমি বাথরুমে ঢুকছো আমি কখন তাহলে বাথরুমে যাবো বলো?
আমার বেশি সময় লাগবে না।
তোমাকে কি বলবো বল কাজের সময় বাথরুম ব্লক করে বসে থাকবে।
মনোজ তাড়াতাড়ি গিয়ে বাথরুমের দরজা লাগাল।
রেখাও এদিকে ব্রেকফাস্ট রেডি করে টেবিলে সাজিয়ে রাখল। যেটুকু কাজ এগোনো যায়।
রেখা এবার বাথরুমের দরজায় কে কড়া নাড়লো হয়েছে তোমার?
মনোজ বাথরুম থেকে বলল দাঁড়াও বেরোচ্ছি।
আরে বেরোচ্ছি বেরোচ্ছি করলে হবেনা বেরোতে হবে।
এরপর মনোজ বাথরুম থেকে বেরোলে রেখা বাথরুমের দিকে গেল স্নান করতে।
তারা দিল রেখাকে তাড়াতাড়ি করো ট্রেনের টাইম হয়ে যাবে কিন্তু রেখাও হন্তদন্ত হয়ে নিজেকে রেডি করে ফেলল।
রেখা খেয়াল করল মনোজ একাই ব্রেকফাস্ট নিয়ে নিচ্ছে।
রেখা নিজের ব্রেকফাস্টটা টিফিন বক্সে নিয়ে নিল খাবার টাইম নেই।
মনোজ তাড়াতাড়ি খাওয়া শেষ করে বাইকটা বের করল।
রেখাও তাড়াতাড়ি ব্যাগ পত্র নিয়ে বেরিয়ে পরলো।
তারপর স্টেশন উদ্দেশ্যে রওনা দিল।
একরাশ টাটকা ভালোবাসা যেন উপহার পেল।

Hhnn

LOVE

০২ মে ২০২২

কবি সানি সরকার এর কবিতা "জলের মতন সহজ" 





জলের মতন সহজ 
সানি সরকার 


এই একটি সময় কাঠের মতন অসাড় 

এবং এইখানে কিছু বিদ্যুৎচমক 

এখন শুধু দেখার
নিজের ভেতরের পরতগুলিকে খুলে খুলে 

মৃদঙ্গ বাজছে শুনতে পাচ্ছি 

মরুভূমির নিস্তব্ধের ভেতর চকমোকি 
আলোর মধ্যিখানে সনাতন আনন্দ 

এই ছাদের ওপর থেকে একজন রাত পাহারা দিচ্ছে

কবি আমিনা তাবাসসুম এর কবিতা "আজ নয় কাল"




আজ নয় কাল
আমিনা তাবাসসুম



আজ নয় কাল
এইভাবেই এগিয়ে আসে এক একটি তারিখ

আমরা অপেক্ষায় অধীর হই

যার থেকে খুশি চলে গেছে
যার নেই দু মুঠো সকাল
চোখের নিচে যার ঢেউ ওঠে রোজ
এবং যে অন্ধকারের মধ্যে চলে গেছে 
                               বাতাসের ভোর

সবাই নিমেষের থেকে সময় চুরি করি
ভুলে যায়
নিঃস্ব হই
বুকে শুধু লেগে থাকে চকমকি শোর
আজ নয় কাল
         ঈদ উল ফিতর

০১ মে ২০২২

কবি মোঃসেলিম মিয়া  এর কবিতা "ঈদ"





ঈদ
মোঃসেলিম মিয়া 

ঈদ মানে খুশির জোয়ার কেনাকাটা বেশ,
নতুন সাজ পোশাকে তাই ঘুচবে কষ্ট রেশ!
সাধ্যমত কেনা কাটা নেইকো কমতি যার,
গরিব দুঃখী নেই ভেদাভেদ  শত কষ্ট আর।
গোমড়া মুখে হাসি ফোটাতে বাড়িয়ে দিতে হাত,
অর্থ কুড়ি কাপড় দিয়ে  রাঙিয়ে দিবো চাঁদ রাত!
পাড়া পড়শীর খোঁজ নিবো কষ্টের অনুভূতি,
বিবেক দিয়ে অর্থ দিয়ে দেখাবো সহানুভূতি। 
যাকাত ফিতরা পরিমিত মিটিয়ে দিবো তাঁরে,
গরীব দুঃখীর হক মিটাতে যাবো দ্বারে দ্বারে।
পৌঁছে দিবো ঈদ শুভেচ্ছা অনাহারীর ঘরে।
সেমাই সূজি মিষ্টিমুখ বাহারি খাবার যতো,
 সাজ গোজে সব হবো  জমায়েত মাঠে অবিরত।
সুগন্ধি আতর মাখিয়ে গায়ে পায়ে হেঁটে মেঠু পথ,
চোখ গড়িয়ে নোনা জ্বলে  গুনা মাপের নছিয়ত!
আমরা পাপি আমরা তাপি গুনার নাইকো শেষ? 
পানা চাইতে তাইতো সবাই ঈদের মাঠে জমায়েত। 
ঈমাম সাহেব দিবেন খুতবা মুক্তির দিশা পেতে,
ধ্যানে মগ্ন নামাজ শেষে মোনাজাতে  বসে।
সবার হয়ে আল্লাহর কাছে করবো ফরিয়াদ, 
আমরা সবাই গুনাহ্গার বান্দা ফিরাইও না কারো হাত।
গরীব দুঃখী নাই ভেদাভেদ 
একই কাতারে সামিল,
সহমর্মিতার কান্না দিয়ে
ঘুচিয়ে  দিবো গ্লাণি।
ঈদ অনাবিল হাসি খুশি ধর্মীয়  উৎসব মানি!!!

মমতা রায় চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৬৭






উপন্যাস  


টানাপোড়েন  ১৬৭

শুভেচ্ছা ভালোবাসা প্রাপ্তি

মমতা রায় চৌধুরী



মনের ইচ্ছেগুলোকে নীল খামে তে পাঠিয়েছিল কোন এক অজানা উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই অজানা পুরীতে স্বপ্নরা ডানা মেলেছে নীল প্রজাপতির পাখনায়। দুনিয়াতে সব কিছুর দাম বেড়েছে শুধু কমেছে মানুষের সততা আর মূল্যবোধ প্রতি 
ক্ষণে ।তবুও তার মধ্যে থেকে বেঁচেথাকার রসদগুলো খুঁজে নিতে এর মধ্যে থেকেই। এসব ভাবতে ভাবতেই রেখা বাড়ির গেটটা খোলে। আর প্রতিদিনের ক্লান্তি অবসাদ এর অবসান ঘটিয়ে  আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে একটা এক্সট্রা এনার্জি দেয় মিলি আর ওর বাচ্চারা। নইলে তো যান্ত্রিকতার যুগে যেমন মানুষের সবুজ প্রাণ ক্রমশ গ্রাস করে নিয়েছে ধূসরতা। সব সম্পর্ক গুলো কেমন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে রেখা ওদের আদর করে।ওদের আদর পর্ব শেষ হলে তবে রেখার ছাড়।বাড়িতে কলিংবেল বাজানো হল কিন্তু কেউ দরজা খুলল না। তখন রেখা এক্সট্রা চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকল। বাড়িতে ঢুকতেই চারিদিকে ফুলের বৃষ্টি দিয়ে অভিনন্দন জানান হলো। রেখা সব কিছু বুঝে ওঠার আগেই এতটা অবাক হয়ে গেলযে ভাষা হারিয়ে গেল। ইতিমধ্যে চৈতির মা ,পার্থ, মনোজ, পার্থর দাদা, সোনাই, সোনাইয়ের মা, কাকিমা,  সেন্টুদা সবাই একসঙ্গে হ্যাপি বার্থডে উইশ করলো মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখাকে  । রেখা খুশিতে আত্মহারা রেখার জন্মদিনএই ভাবে পালিত হবে ভাবতেও পারে নি। আর জন্মদিনটা যে স্পেশাল হবে কে জানতো ?আসলে কিছু কিছু প্রত্যাশা এভাবেই বোধ হয় পুরন হয়ে যায় ।
কাকিমা কে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়া হলো। কাকিমা বললেন' সুখে থাকো, ভালো থাকো দীর্ঘজীবী হও।"
পার্থ এসে 'একটা কবিতার বই। কবির নাম স্বপ্নীল ভট্টাচার্য।'
রেখা নামটা দেখে আঁতকে উঠল।
'তাহলে এটা কি ঈশ্বরের মহিমা। স্পেশাল দিনের স্পেশাল উপহার।'
রেখা ভাবতে পারছে না। রেখা শুধু বলল"তোমরা এসব করবে আমাকে জানাওনি তো?'
পার্থ আর  মনোজ বললো"তাহলে আর সারপ্রাইজ কি থাকল?
পার্থর মা মানে কাকিমা বললেন 'যাও এবার ফ্রেশ হয়ে নাও।"
রেখা বললো "তাহলে খাবার দাবার অ্যারেঞ্জ  করেছ তো? 
"হ্যাঁ সব করা আছে। তোমার কোন চিন্তার কারন নেই।'
চৈতির মা বলল'সে আর  বলতে দিদি। ওই ব্যাপারে আমরা কোন ভুল করবো না ।সে আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।"
সবাই মিলে হো হো হো করে হেসে উঠলো।
রেখার হৃদয়-মন আজকে শুধু ময়ূরের মতো নেচে উঠল ।সত্যি এত প্রাপ্তি ,এত আনন্দ 40 পেরিয়ে যাওয়া এক নারীর কাছে অভাবনীয়।
কাকিমা বললেন "আজকে কিন্তু তোমার কাছ কবিতা শুনবো।??
পার্থ বলল' না ,না মা । শুধু ও হলে তো হবে
 না ।আরো কিছু চাই..।"
পার্থ অন্যদের দিকে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জানতে চাইল 'তারা কি চায় ?বলো আরো কিছু চাই?"
সবাই এক বাক্যে বললো 'আরো কিছু চাই, আরো কিছু…..।"
সোনাই কে জিজ্ঞেস করল বাকিরা "তোমার কি চাই?"
আগের মত সোনাই যদি থাকতো ,বলতো চকলেট চাই ,খেলনা চাই ,আরো কত কিছু?'
সোনাই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল রেখার দিকে। রেখা বলে "তোমার কি চাই?'
সোনাই ও "বলল" তোমার কি চাই?'
চকলেট নিয়ে ওর হাতে দিল তারপর বলল" আমার সোনাই, সোনাই এর আরো চকলেট চায় ।আরো চকলেট তাই তো?"
সোনাই শুধু ঘাড় নাড়লো।
মধুজার মুখটা পাংশে হয়ে গেল।
রেখা বলল" মধু যার কাছে গিয়ে হাতে হাত রেখে" অত চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে।'
চৈতির মা বললো" বাকীরা আর কি
চাই ?কি চাই ?কি চাই ? বলে চেঁচালে এবার সেটা কি তা বল?"
আমরা গান শুনতে চাই।
"আজকের বার্থডে গার্ল সুন্দর গান শোনাবে, 'পার্থ বলল।
আসলে মধুজা ওর ছেলে সোনাই কে নিয়ে খুব টেনশনে আছে।
 চৈতির মা কথাটা বলাতে পরিবেশটা বেশ হালকা হলো মনে হলো।
কাকিমা বললেন ' বৌমা যাও তো তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। সেই কখন স্কুল থেকে ফিরেছো।'
পার্থ বলল 'একদম ঠিক বলেছ।'
বউদি যাও এবার ফ্রেশ হয়ে নাও।একপর কেক কাটা আছে।"
রেখা বললো 'এখনো বাকি আছে?'
পার্থ বলল 'পিকচার আভি বাকি হ্যায়
আগে আগে দেখতে রহ হোতা হ্যায় কিয়া'।
কাকিমা বললেন "নে ছার ।আচ্ছা বল তো মনোজ কোথায় গেল ?আচ্ছা ছেলে বাবা একাই সবকিছু করতে গেল নাকি? যা না কোথায় গেল তাকে সাহায্য কর।'
পার্থ বলল 'সত্যিই তো আমি তো বললাম আমি যাব সাথে। একাই চলে গেল নাকি?'

এতক্ষণ পর সোনাই বলল'আমি যাব।'
মধুজা সোনা এর কথা শুনে খুব খুশি হলো আর বলল "তুমি যাবে সোনা। তুমি কাকাইয়ের  সাথে যাবে?'
"আমি কাকা ইএর সাথে যাব আমি কাকাই এর সাথে যাব।"
সোনাই আজকাল যে কথা বলছিল না তারপর কাউন্সিলিং করাতে করাতে যে কথাটা এখন বললে সেই কথাটা বারবার রিপিট করে যায়।
মধুজা ওতেই খুশি। খুব উৎসাহিত হয়ে বলল
 'ঠাকুরপো ওকে নিয়ে যাও।'
পার্থ বলল" বাবা তুমি যাবে আমার সাথে।"
সোনাই বলল "আমি কাকাইয়ের সাথে যাব।'
"তা বেশ চলো আমার সাথে।;
এর মধ্যেই রেখা ফ্রেশ হয়ে গোপালকে ভোগ চাপিয়ে নিচে নামল।
কাকিমা বললেন" লক্ষ্মীমন্তবউ দেখিনি বাইরে যায়, সংসার এ কাজ করে আবার দেখো পূজা-অর্চনা ও ঠিকঠাক করে।"
চৈতির মা বলল 'একদম ঠিক বলেছেন কাকিমা আপনাদের বাড়িতে তো দুটো বাড়ির পরে আমরা তো তার পাশেই থাকি ।এই দিদি যেখানেই যাক যত রাত্রেই ফিরুক ঠাকুরকে কিন্তু সেই সময়ে ভোগ চাপাবেন এসে।'
কাকিমা বললেন "কী করবে একা মানুষ ঈশ্বর বুঝবেন যে উপায় নেই তাই যে সময়ে কাজে থেকে আসে সেই সময়ে তাকে ভোগ নিতে হবে।
চৈতির মা বললেন ও বাবা এ বাড়ির কাকিমা তাই নিয়ে কত কথাই না দিদিকে শুনিয়েছেন।'
কাকিমা বলেন"ওই দিদি চিরকালই ঐরকম বলতে নেই কিন্তু বলতেই হয় মাঝে মাঝে ,নিজে কাজটা ঠিকঠাক করেন না কিন্তু অথচ বউ
 খুঁ ত ধরার জন্য পেছনে পড়ে আছেন।'
"তা আর বলতে কাকিমা আজকে যদি ওই কাকিমারা বাড়ি থাকতেন এত ঘটা করে কিছু হতো?"
তারপর তো শুনেছি চৈতির মা উনি নাকি বৌমার ঘরটা এসেই দখল করেছেন।
একদমই ঠিক শুনেছেন।
রেখাটা ও তেমন কি দরকার ছিল ছাড়ার।
চৈতির মা বলল "দিদি ওরকমই।
চিরকাল শুধু নিজেরটা ছেড়ে দেবেন।
এর মধ্যেই রেখা ভোগ চাপিয়ে নিচে এসে দাঁড়ালো।
কাকিমা বললেন "বৌমা এসো ,আমার পাশে বসো তো মা। "
এর মধ্যে মনোজ পার্থ হই হই করতে করতে ফিরল সঙ্গে একটা বড় কেক।
কাকিমা বললেন" বৌমা (মধুজা) টেবিলটা সাজিয়ে ফেলো।
চৈতির মা আর মধুজা বলল" হ্যাঁ ,তাড়াতাড়ি সাজিয়ে ফেলুন এত দেরি হয়ে গেল।'
কাকিমা বললেন"দাদুভাই ,তুমি কোথায় গিয়েছিলে? তোমার হাতে কি ওটা?"
চকলেট চকলেট।
দাদুভাই আমার কোলে এসো।
সোনাই কাকিমার ভুলে গিয়ে বসলো।
বৌমা দেখ ওখানে পায়েস রাখা আছে ওটা দিয়ে ফেলো।
রেখা বললো 'কাকিমা পায়েস করেছেন?'
কাকিমা বললেন আমার এই মেয়েটার জন্য আমি পায়েস করব না ?যখন জানতে পেরেছি।'
জানেন কাকিমা আজকে না আমার মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে মাও কিভাবে পায়েস করে দিতেন আজকে যেন আপনাদের মধ্যে দিয়ে ফিরে এসেছেন।
কাকিমা রেখাকে কাছে টেনে বুকে টেনে নিলেন মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বললেন' হ্যাঁ তো মা আমরা তো মায়ের মতই।'
পার্থ আর মনোজ বলল আর মেয়েকে আদর করতে হবে না আজকে অনেক স্পেশাল এবার ছাড়ো।
তারপর যথারীতি টেবিলে কেক সাজিয়ে পায়েসের বাটি রেখে জন্মদিনের সেলিব্রেশন হল তবে প্রথমে কাকিমা বললেন আগে পায়েস খাওয়ানো হোক। তারপরে কেক কাটা হবে। যতই হোক আমরা বাঙালি তো না কিরে?"
মনোজ আর পার্থ বলল 'একদম ঠিক কথা।"
কাকিমা মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন।
সঙ্গে একটা ভাগবত গীতা উপহার দিলেন।
বাকিরা যেগুলো আমি পছন্দ করি সে রকমই উপহার সাজিয়ে দিলেন আজকের দিনটা উপহার পাওয়ার চেয়েও বিশেষ দিনটি বিশেষ ভাবে পালন করা হলো এটাই যথেষ্ট নইলে তো নিজের জন্মদিনের কথা ভুলেই যেতে বসেছিল। শুধুমাত্র কাকিমা আছেন বলে জন্মদিনের দিন প্রতি বার মনে করিয়ে দেন আশীর্বাদ দেন ।এবার নতুন করে এখানকার কাকিমা, চৈতির মা ,পার্থ আরো যারা আছে ওদেরও মনের কুঠুরীতে আমার জন্মদিনের তারিখটা মনে থাকবে।
রেখার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগলো একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে মায়ের উদ্দেশে প্রণাম করলো।
এবার পার্থ বলল এবার বৌদি একটা গান।
রেখা বললো 'আবার গান?'
অবাক হবার কিছু নেই পার্থ মনোজ বাকি সবাই বলল। নাও নাও শুরু করে দাও।
দেখা গান ধরল রবীন্দ্র সংগীত প্রাণ ভরিয়ে,তৃষা হরিয়ে, মোরে আরো আরো দাও প্রাণ…।'
কি অসাধারণ গাইলে রেখা ।রেখার গলা তো খুব সুন্দর ।কাকিমা বলেন প্রাণটা জুড়িয়ে গেল রেখা। "এবার বাকিরা বলল এবার একটা কবিতা শুনিয়ে দাও। তোমার কবিতা না অন্য কারোর কবিতা করবে?
রেখা বলল" না, আমার কবিতা আমি বলব না সেটা তোমাদের পড়ে নিতে হবে সকলকে। আমি কবি' দেবব্রত সরকারের 'কবিতা আবৃত্তি করছি"'

গভীর রাতের কবিতা

"আকাশটা বিদ্রোহী হয়ে আছে আমার দিকে
….
..
তুমি চেয়ে থাকো আশা ও চাওয়ার মাঝে শুধু রাত আর দিন ভাগ করে দিয়েছো কিন্তু গুনতে দাও নি।
তাই বলে আমার বোধের ঘরে যে আঁচড় দিলে
তাকে তুমি মাফ করে দিও সে যে নির্বোধ ছিল।"
অসাধারণ অসাধারণ বৌমা,
তুমি সৃজনশীলতায় রত থেকো।
মধুজা এসে রেখাকে জড়িয়ে ধরল।
চৈতির মা বলল 'সাবাস সাবাস।'
পার্থ বলল" বৌদি আপনার ভেতরে লক্ষ্মী-সরস্বতী দুটোই কাজ করছে।'
মনোজ বলল "আর বোলো না পার্থ, ওর কিন্তু গর্বে এমনিতেই বুক ফুলে গেছে এবার বুক যদি 34 ইঞ্চি হয়ে যায় তাহলেই মুশকিল আমার পক্ষে ।(হেসে হেসে )।
ঠিক আছে এবার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কি কি মেনু হয়েছ
ঐতো মটন বিরিয়ানি, চিকেন চাপ।
কাকিমা বললেন আমি কিন্তু আসলে মাছ মাংস খাব না।
পার্থ বলল' সেটা কি আমরা জানি না
 মা ।তুমি  যে বাবা মারা যাবার পর থেকে এসব খাও না।,'
তোমাদের জন্য ফাইড রাইস আর হচ্ছে পনির রেজালা।
বাবা এত কিছু?
পার্থ বলল আরো আছে মিষ্টি আছে আইসক্রিম আছে, পান আছে।'
সব খাওয়া দাওয়া সকলে বাড়ি চলে গেল।
রেখা মনোজকে বলল 'হ্যাঁগো আমাদের বাচ্চাগুলো খেয়েছে?"
"হ্যাঁ ওইতো বাইরে বেরোনোর সময় ওদের কেউ খাবার খাইয়ে দেয়া হয়েছে।'
মনোজ রেখার কাছে এসে বললো' কি তুমি হ্যাপি তো?"
রেখা মনোজের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
রেখাকে কাছে টেনে কপালে একটা মিষ্টি উষ্ণ চুম্বন এঁকে দেয়।
রেখা মনোজের বুকে মাথা রেখে বলল "আজকের দিন টা সত্যিই এত কিছু যে আমার প্রাপ্তি ছিল ,আমি ভাবতে পারি
 নি।
মনে ছিল এখন সেটা বুঝতে পারলে তো?
রেখা বলল 'একদম ।আজকের স্বর্ণালী সন্ধ্যার শুধু ভালোবাসা ,শুভেচ্ছা প্রাপ্তির রেশ রয়ে যাবে দীর্ঘ ক্ষণ। এটা আমার মনকে আরো বেশি এনার্জিটিক করে দিল।
'
মনোজ রেখাকে দুই হাত দিয়ে গাল দুটো ধরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল'; তাই???