২২ আগস্ট ২০২১

মিতা নুর



আমি ভালোবাসা খুঁজি 


আমি ভালোবাসা খুঁজি, 

আতুড়ঘরে বেদনায় ভরা 

স্নেহময়ী মা'য়ের মুখের হাসিতে !! 


আমি ভালোবাসা খুঁজি

সন্তানের প্রথম বাবা ডাক শুনার 

আনন্দ আঁখি'তে !! 


 আমি ভালোবাসা খুঁজি, 

বদমেজাজি ভাইয়ের আদর 

লুকিয়ে রাখা দু'টাকার রাখী'তে !! 


আমি ভালোবাসা খুঁজি, 

ছোট বেলায় দিদির মুখের 

ঘুমপাড়ানির গল্প শুনা সেই রাতি'তে ! 


আমি ভালোবাসা খুঁজি, 

ক্লান্ত দু-চোখ মেলে ভালোবাসা খুঁজি, 

হারিয়ে যাওয়া পুরোনো  সেই" স্মৃতিতে  !! 










 ২১/০৮/২০২১--ইং সময়--রাতঃ-৩ঃ৫৯--

আইরিন মনীষা 


প্রতিক্ষার প্রহর 


খুব করে জানতে চাই
কেমন আছো তুমি, 
সেই এক বিকেলে আসি বলে চলে গেলে 
হয়নি দেখা আর তোমার সাথে কিংবা কথাও হয়নি। 


বকুল ফুলের মালা গুলো শুকিয়ে গেছে 
যেন তোমারই অপেক্ষার প্রহর গুনছে এখনো,
কতদিন দেখিনি তোমার ডাগর কালো চোখের চাহনি 
যেখানে আমি হারিয়ে যেতাম এক অথৈ সমুদ্রে।


কতদিন ......
হাঁটা হয়নি নদীর তীরে 
হাত ধরাধিরি করে দেখা হয়নি শরতের বিকেলের কাঁশফুলের সৌন্দর্য, 
কতদিন....... 
যাইনি সমুদ্রের প্রশস্ত বালুকা রাশিতে 
দেখিনি ভিজিয়ে নগ্ন পদ যুগল সাগরের নোনা জলে। 


বড় সাধ জাগে আবার ও সেই বৈশাখী মেলা দেখতে 
বিরহী প্রহরে আজ মনটা বড়ই উতলা হয়ে আছে, 
সময় যে আর কাটে না একাকী আমার 
কবে পাবো তোমার দেখা আবার। 

মনে পড়ে খুব সেদিনের কথা 
যখন, তুমি আমার দীঘল কালো চুলে সাঁতার কাটতে, 
আমার খুব করে পেতে চাই সেই মধুময় ক্ষণ 
যখন তুমি আমার পাশে বসে হারানো দিনের গান গাইতে। 


আমার বিরহী প্রহরে 
তুমিই একমাত্র সঙ্গী 
যার সাথে বেলা অবেলায় কেটে যায় আমার ক্ষণ, 
মিলনের দিগন্তে ভাসবো বলে প্রতীক্ষার প্রহর গুনছি 
শুনছ কি তুমি ! আমার অব্যক্ত কথা গুলো ? 

এসো না আবার দুজন হারিয়ে যাই 
সেদিনের কাছে যখন শুধু আমি আর তুমি 
একান্ত সান্নিধ্যে না বলা কথার ফুলঝুড়িতে 
খুঁজে পেতাম স্বর্গের আছে যত সুখ। 


এখনো বাতাসে কান পেতে থাকি 
তোমার আসার মাহেন্দ্রক্ষণ এর প্রতীক্ষায়, 
রাত জেগে বিচরণ করি আমার স্বপ্নিল ভুবনে 
যেখানে তুমিই আরাধ্য আমার স্বপ্নের সেই রাজকুমার। 


আমার করি ডোরে থাকা কাকাতুয়াও আছে তোমার পথ পানে চেয়ে, 
তোমার নাম ধরে সে বেশ ডাকে 
আর আমাকে শুধায় তোমার গুনগান। 


আমার বাগানের ফুল গুলো ও প্রহর গুনছে 
এই বুঝি তুনি এসে কাননে পদ ধুলি দিলে, 
কাননের কুসুম কলি ও যেন নতুন ভোরের প্রতীক্ষায় 
তোমার আগমনি বার্তা পেয়ে ফুটবে বলে। 


 কাটে না সময় লাগে না ভালো 
তোমার বিহনে কি করে সময় কাটে আমার বলো ? 
আর কত কাল অপেক্ষার প্রহর গুনলে 
তুমি আমার মন কাননে প্রস্ফুটিত হবে একান্তে ?

মুহাম্মাদ সালাহউদ্দীন 

 



চিঠি দিও 



 চিঠি দিও, 
ছোট্ট একটি শব্দ লিখে খামে পুরে দিও 
মানুষের বুকে আজীবন লালিত একটি শব্দ- 
যার থেকে উত্থান এ সভ্যতা- 
হৃদয়োচ্ছাস দিয়ে শুধু সে শব্দটিই লিখো 
বৈশাখী ছাতকের মত তৃষ্ণা কাতর আমি অসম্ভব এক বেদনায় কাতরাচ্ছি। 


চারিদিকে সমুদ্র-জলাশয়-দীঘি 
ইচ্ছে করলে ডুব সাঁতার দিয়ে 
আকন্ঠ পান করতে পরি
অনেকের মত- 


সেদিক মাড়াইনা মোটেই- 
চেয়ে আছি ঐ উদার আকাশটার দিকে 
এক ফোটা জল পেলে 
চির ঋণী হয়ে যাবো।

কাজল সেনগুপ্ত 




 চাঁদের সাথে চলি 

 

আমিও চলি আমার সাথে সাথে চাঁদও চলে 

তারা রাও সঙ্গী হয় চলার 

মাঠ , ঘাট , প্রান্তর , পেরিয়ে যাই জীবনের - 

জীবনও থেমে নেই চলছে ...... 

কখনও উত্থান কখনও পতনের মধ্যে 

কত ইতিহাস কত সংঘাত 

খান খান করছে মানুষের জীবন 

কত চোখের জলের শুকনো সমুদ্র 

 কত হা হা কার 

কত রক্তের স্রোত। 

 মায়ের শরীরে কাঁটা তারের বেড়া 

একই মায়ের সন্তানদের পীঠে ছাপ দিয়ে আলাদা করা 

 চাঁদ তো একটাই , সূর্য ও একটাই 

চাঁদ ও সূর্যের আলোয় ভাসি মায়ের সকল ছেলে মেয়েরাই 

ওদের ভাগ করার সাধ্য নেই মূর্খদের সীমাবদ্ধ ক্ষমতার লড়াই ।

মাছুম খান 

 



জীবনজুটি 


মন যদি হয় মনের মতন 

মনবাগিচায় মন, 

মনের মাধুরী মিশায়ে মন 

মনেরে বুকে আপন। 


জোছনার চন্দন রূপরসে 

মেতে ওঠে চখা চখী, 

আদরে সোহাগে বিহগ বিহগী 

বিহরত সখা সখী। 


 সত্য সুন্দর সৃষ্টির মাঝে 

মানুষ শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি, 

মানুষের মাঝে নর নারী 

দুইয়ে এক জীবনদৃষ্টি। 


গোটা সৃষ্টির এক স্রষ্টা 

প্রেমময় সুন্দর, 

জীবনবন্ধন জগতসংসার 

নারী নর সহচর। 


নরমনে চায় প্রেমসুন্দর নারী 

নারীমনে প্রেমসুন্দর নর, 

নর নারী পূষ্পসুবাসিত প্রাণ 

এক আত্মা প্রেমসুন্দর। 


 প্রেম ভালোবাসা অন্তর্ঘ্রাণ 

বুকের রত্নধন, 

রতনে রতন যতনে যতন 

মনে মন বিতরণ। 


মনের খেয়ালে হেয়ালে বেহালে 

সবারে দিও না মন, 

মনের যোগ্য বুঝে নিও মন সমমনা নিশ্চয় 

অসম প্রেম ভেঙ্গে দেয় মন ভেঙ্গে দেয় সাজানো জীবন। 


 জীবনজুটি বেছে নিতে হয় 

জীবনদৃষ্টি দিয়ে, 

রক্তের রঙ বুঝে নিয়ে তবে 

প্রেমিক হও প্রেম পিয়ে। 


প্রেমসুন্দর নারী ও নর 

একটি জীবনজুটি, 

প্রেমরঙ্গে রঙ্গিন হয়ে গড়ো 

জীবনচৌকাঠ খুঁটি। 


প্রেমসুন্দর মানবমানবী 

সুখের জীবনসংসার, 

প্রেমান্ধ মন বোঝে না রতন 

জীবন অন্ধকার। 


 আমি সুন্দর জগতমাঝে 

আমিত্বসুন্দর, 

আমিত্বপ্রেম গুলবাগে গুল 

সুশোভিত অন্তর।

 ফিরোজ আহমেদ জুয়েল 



জীর্ণ জীবন(পর্ব-১) 




অতিরিক্ত রাগ,জিদ, অহংকার ও ইগো মানুষকে ধ্বংস করে দেয়। এবং আত্মসম্মান এর চেয়ে বড় আর কিছুই নেই,যেটি হারিয়ে গেলে বেঁচে থাকাটাও দূর্বিষহ হয়ে পড়ে এবং জীবন্ত মানুষও জীবন্ত লাশ হয়ে যায়। এই দুইটি উক্তির সমন্বয়ে রচিত লেখা জীর্ণ জীবন। এই গল্পে তুলে ধরা হয়েছে কিভাবে একটি মানুষ তথা পরিবার হারিয়ে বিবাগী হয়ে যায়,তারই বাস্তবোচিত কাহিনী তুলে ধরা। নির্দোষ হয়েও একজন নিরাপরাধ যুবক আইনের কাছে আসামী এবং ২য় দফায় সাজা ভোগ করে। বিচারাধীন অবস্হায় কতোটা কষ্ট ও ঘৃনা পেলে একজন যুবক চিৎকার করে বিচারককে বলতে পারে মাননীয় জজ সাহেব,আমাকে নির্দোষ প্রমানের জন্য মুক্তি দিন না হয় সাজা দিন তবুও আমার সহধর্মিণীর সাথে যেতে বাধ্য করবেননা প্লিজ প্লিজ প্লিজ.......! চলমান

নীলাচল চট্টরাজ





স্পন্দন



নীল আকাশে মেঘের খেলা
রঙিন হোলো মন
সাগর জলে   নৌকো ভাসে
ঢেউয়ের স্পন্দন
 

শিবনাথ মণ্ডল




বাঁচাও বাঁচাও


গাড়িঘোড়া বাড়ছে 
 বাড়ছে বাড়ি 
কল কারখানা 
আর ধোঁয়ারগাড়ি। 

গাছপালা কাটছে 
পড়ছে চড়া 
পৃথিবীটা একদিন 
হয়েযাবে খড়া। 

তখন বন্ বন্ 
ঘুরবেনা ধরা 
জীব জগৎ তখন 
হয়েযাবে মরা। 

এসো সবাই একসাথে 
শপথ করি 
আমরাই জগৎ সবুজে 
ভরাতে পারি। 

সম্মান রাখবো 
দেশের নারীর 
 মানোবতার বোধ 
যেন রাখতে পারি। 

অপচয় নষ্ট 
করবো না জল 
দ্বায়ীত্ব রাখলে 
পাবো সুফল। 

সকলে গাছ বাঁচাও 
প্রকৃতি বাঁচাও 
পৃথিবীর সন্তান 
জীব বাঁচাও। 

গাছ আমাদের 
বাঁচায় প্রাণ 
গাছ কাটা বন্ধ 
হোক বিধান।

২০ আগস্ট ২০২১

Where can I will publishe my won poetry or writing content .

Where can I will publishe my won poetry or writing content .

আমি কোথায় আমার নিজের লেখা কবিতা ও অন্য কোন লেখা প্রকাশ করতে পারবো ।

আলোদেব্





প্রতিটি লেখক তার লেখা প্রকাশের জন্য এখন আর আগের মতো তাঁকে অপেক্ষা বা সময় অথবা অর্থ ব্যয় করতে হয় না। আগেকার সময় এমন কি বলা যায় ২০১৫ সালেও লেখকদের লেখা পাঠানোর পদ্ধতি ছিল বাই পোস্ট বা হ্যান্ড টু হ্যান্ড। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে মানুষের দৈনন্দিন জীবন ধারা। তার মূল কারন হলো টেকনলজি । এখন মানুষ প্রিন্ট মিডিয়াতে সেভাবে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁদের প্রভাব অনেক বেশি মাত্রায় পরছে সোশ্যাল মিডিয়ায় । তার কারণ গুলি হলো। প্রিন্ট মিডিয়ায় কত জন পড়ল বা পড়বার পর বহিপ্রকাশ কি তা অনেক ক্ষেত্রেই বোঝা যায়না । কিন্তু সোশ্যাল যেকোনো সাইডেই লেখক তাঁর পাঠকদের কথা বা মন্তব্য পেয়ে থাকেন। এতে খুশি অনেক বেশি। সহজেই সেই সাইডে গিয়ে দেখে নিতে পারেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় লেখকদের লেখার ভিউস অনেক কম তাই বলে এই নয় যে কোন দিন ভিউস বাড়বে না। হতাশ হবার কিছু নেই । দ্বিতীয় , যখন খুশি লেখা পাঠানো যায় । তার সময় বা মাপ কাঠি নেই। তৃতীয় , প্রায় প্রতিদিনই লেখা প্রকাশের সুযোগ, চতুর্থ , একটা সুনির্দিষ্ট পাঠকদের উল্লাস। পঞ্চম , পাঠক ও লেখকের সঙ্গে সারাসরি যোগাযোগ এবং লেখালেখি বিষয় নিয়ে মানবিক বহিপ্রকাশ । ষষ্ট , লেখার অনেক পরিধি । সপ্তম , অতি সহজেই খুঁজে পাওয়া যায় । অষ্টম , লেখকের লেখার প্রতি আগ্রহ অধিক পরিমাণে বেড়ে যাওয়া সম্ভব। নবম, অনেক বেশি লেখক সেই সোশ্যাল নেটওয়ার্কে এক সঙ্গে লেখার সুযোগ থাকে। দশম, নতুনদের লেখা প্রকাশের অনেক বেশি সুযোগ ইত্যাদি । সোশ্যাল মিডিয়াতে লেখা চুরি হবার বিষয় ও অনেক বেশি ক্ষেত্রে দেখা যায় । এছাড়াও এর ভয় ও অনেক গুণ বেশি কারণ কখন তরঙ্গ তার গতি হারাবে কেও জানে না। তাহলেই কোটি কোটি মানুষ এমন কি নির্ভরশীল কোম্পানি গুলো ধুলিস্যাৎ হয়ে যাবে নিমিষে। তবে প্রিন্ট মিডিয়া এদিক থেকে অনেকগুণ সেফটি। এবং যতই সোশ্যাল মিডিয়া আসুক না কেন প্রিন্ট মিডিয়ার কদর কখনোই কমবে না। এ ক্ষেত্রে লেখকরা ভেবে চিনতে লেখা প্রকাশ করবার সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন । কোনটা সোশ্যাল ও কোনটা প্রিন্টে দেব । তবে এখন আপনাদের লেখা প্রকাশের স্থান অনেক বেশি। অনেক অনেক পোটাল ম্যাগাজিন ব্লগজিন রয়েছে যে গুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করে আপনার লেখা আপনি প্রকাশ করতে পারবেন । নিচে তার কয়েকটি লিঙ্ক দেওয়া হলো যেখানে সারাসরি লেখা পাঠিয়ে আপনি লেখা প্রকাশ করতে পারবেন । 

যেমন - 

 https://swopnosiri.blogspot.com/?m=1 http://www.jaladarchi.com/2021/08/views-of-sri-aurobindo-on-education-prasun-kanjilal.html https://m.dailyhunt.in/news/india/english https://vimeo.com/159811915 https://writers.com/best-places-submit-poetry-online https://www.dreamerswriting.com/dreamers-magazine/ https://www.desh.co.in/ https://www.desh.co.in/ http://www.shabdaguchha.com/ http://www.kaurab.com/english/

মোহাম্মদ সোহেল রানা




বাকরুদ্ধ 


 আমি কি লিখবো কলম দিয়ে শব্দরাই যে হয়ে যাচ্ছে বাকরুদ্ধ, স্বাধীন সোনার বাংলাদেশে আজ বাঁচার জন্য করতে হয় কেনো যুদ্ধ? চলন্ত বাসে স্বামীকে বাকরুদ্ধ করে স্ত্রীকে কীভাবে করা হয় গণধর্ষণ, নিরাপরাধ মানুষ প্রতিবাদী হলে কেনো হয় তার উপর গুলি বর্ষণ। ভাইয়ের সম্মুখে আদরের ছোট্ট বোনটিকে বখাটে করে লাঞ্ছিত, স্বাধীনতা বলো তুমি এদেশে কেন মানুষ কতোকাল রবে পরাজিত? ধর্ষিতা হয়ে মা বোন পায়নি রক্ষা নির্যাতন করে তাকে করেছে খুন, বিচারের আশায় আমরা সবাই ঘুরি হাইকোর্ট বেঞ্চে এখন ধরেছে ঘুণ। লাঞ্ছিতার লাশ তদন্তের নামে কেন উঠানো হবে বারবার কবর থেকে? এই প্রশ্নের জবাব দিতে পারবে না কেউ প্রকৃত অর্থে দোষী ছিল কে? সত্যি কথা বলতে গিয়ে সাংবাদিক রাতের আঁধারে হয় খুন না হয় গুম, প্রকৃত দোষী বুক ফুলিয়ে চলে অহর্নিশ এই সমাজে তারাই প্রচলিত ডোম। অন্যায় অবিচার দেখে প্রতিরোধ নয় স্বাধীনতা কি তাহলে এখন বাকরুদ্ধ? প্রশ্নের জবাব কে দিবে স্বাধীন দেশে? এভাবে সবাই কতদিন থাকব অবরুদ্ধ। প্রতিবাদ করতে গিয়ে মরণকে বরণ করতে হয় হয়তো মন্দ নিয়তি জন্মেছি এ দেশে বুঝেও এখন অবুঝের মতো সব সইতে হয়, বাঁচতে হয় প্রতিনিয়ত মানুষকে বোবার বেশে।

কাইউম খান ( ইংল্যান্ড )




আমি স্বাধীন 


 আমি স্বাধীন। বাবার স্বপ্নের ফসল আমার এই স্বাধীনতা। আমি পিতা আমি হতাশ, আমি দিতে পারিনি আমার প্রজন্মকে স্বপ্নের স্বাধীনতার স্বাদ। স্বপ্ন দেখিয়েছিলাম সাত কোটি মানুষকে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক মুক্তি বৈষম্যবহিন সমাজের, কিন্তু আমি তা দিতে পারিনি, তবুওআমি হতাশ নই। আমি বিব্রত, আমি লজ্জিত আমি একজন মুক্তি যোদ্ধা। স্বপ্নকে সফল করতে নিজের বর্তমানকে বিসর্জন দিয়েছি, প্রজন্ম কি পারবে সপ্ন কে সফল করতে? তাই আমি বিব্রত, আমি শংকিত আমি সদ্য প্রজন্মের পিতা, তবুও আমি আশাবাদী আমি স্বপ্ন দেখি, আমি বিসর্জন দিতে পারি, তাই আমি স্বপ্নকে সফল করতে পারবো আমি যে প্রজন্মের পিতা ।

আলমগীর হোসাইন 

 


স্বার্থের দ্বন্দ্ব 

 

 স্বার্থের দ্বন্দ্ব আপন হয় শত্রু ভাবাপন্ন জ্ঞান গর্বে বেচে নেয় হীন কুট কৌশল অনৈতিক পন্থা অবলম্বন মিথ্যার আশ্রয় ঘৃণার নিন্দিত নরকে সিক্ত জীবন ক্ষয়। জীবন ক্ষনস্থায়ী মৃত্যু নিশ্চিত জেনেও চাকচিক্য লোভের মোহে গোমরাহিতে নিয়ম ভাঙ্গার পথে নিত্য আসা যাওয়া ভুল করেও ভাবেনা মিথ্যা ক্ষণিকের। সত্য সততা পর্যদুস্ত হয়ে গেছে মিথ্যায় দুনিয়ার চাকচিক্য অবৈধ সম্ভোগে মত্ত মৃত্যু দূত ওঁৎ পেতেছে মানব বসতিতে তবুও নির্ভয় পরশ্রীকাতরতায় উদ্যত। প্রতিহিংসার অনলে পুড়ে জীবন ক্ষয় গোপন অভিসারে ক্ষনিক চিত্ত সুখে অহংকারী মনোভাব পোষণে নগ্ন ধৃষ্টতা স্বৈরাচারী পন্থায় নিত্য বিজয় উল্লাসরত। বিবেকের আদালতে সমর্পণ হয় না মন দুনিয়ার আদালতে মনুষ্যত্ব মানবতা নেই জীবন বোধের নীতি বাক্য রূপকথার গল্প কালের বিবর্তনে বিলুপ্ত ডাইনোসরের মতো। মানুষের দুস্কর্মের ফল মহামারীর আবির্ভাব প্রকৃতির নির্মম প্রতিশোধ অস্বাভাবিক মৃত্যু থেমে নেই মিথ্যাচার ছদ্মবেশে কালক্ষেপণ অহংকার দম্ভোক্তি কঠিনতর করোনাকাল। ঘূর্ণিঝড়ের পূর্বাভাস পেয়ে মানুষ সর্তক হয় করোনার পূর্বাভাস বুঝে উঠতে পারেনি কেউ অভিশপ্ত সেই জীবন ন্যায় প্রতিষ্ঠায় ব্যর্থ যে কবর হাশর পুলসেরাতে প্রায়শ্চিত্ত নিশ্চিত। সাময়িক শান্তির সুবাতাস ক্ষণসময়ে স্থির রংধনুর রঙের মতোই মিশে যাবে নিশ্চিত বিবেক বুদ্ধি জ্ঞান গর্বের কুকীর্তি জৌলুস প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান রবে নিশ্চিত। হোক সমঝোতায় বিনয়ী হয়ে ঐক্যবদ্ধ রই পণ করি সহাবস্থানে স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখি রোজ ক্রোধ ঘৃণা জিঘাংসায় ঐতিহ্য হারাবে স্বরূপ নিঃস্বার্থ মায়ের উদর সমুজ্জ্বল থাকুক আমৃত্যু।

১৭ আগস্ট ২০২১

জাফর রেজা


এক আশাবরীর গল্প 

 ( সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা একটি সত্য ঘটনা। আশাবরী নামটি কাল্পনিক)


 পৌষের শেষ রাতে কয়েক জোড়া পা খাটিয়া কাধে 

এগিয়ে যাচ্ছে, মুখে, ' বলো হরি বল '

 খাটিয়ায় শুয়ে থাকা মেয়ে মানুষটির নাম আশাবরী। 

অন্য দশটি মেয়ের মতই আশাবরী'র চোখে ছিল স্বপ্নছিল 

কল্পনার মানুষটি'র সাথে ঘর বাধার, 

পৃতৃহীন আশাবরী'র ভাগ্যে এসব কিছুই জোটেনি, পনের টাকার জন্য বিয়েটি আর হয়নি। 

একদিন মাও চলে গেল শ্মশান ঘাটে, শুন্য ঘরে পার করে দিলো সে জীবনের বাকি দিনগুলো। 

 যৌবনে উপকারী পুরুষেরা হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল, 

কিন্তু একটি হাতও ছিলনা দায়ীত্ব নেবার । 
 সব কামনা বাসনাকে নির্বাসনে পাঠিয়ে পার করে দিয়েছিল যৌবনের রঙিন দিনগুলো, বৃদ্ধা আশাবরী'র পাশে আর দেখা যায়নি উপকারী পুরুষের আনাগোনা। 
আজ আশাবরী অনন্তের পথ যাত্রী। 
 পৌষের শেষ রাতে 'বলো হরি বল ' আরও জোড়ালো হতে থাকে।