০৩ জুন ২০২২

কবি নাছিমা মিশু এর কবিতা "আমার নাম দেই ষড়যন্ত"





আমরা নাম দেই ষড়যন্ত
নাছিমা মিশু




কে  তুমি ?
কার তুমি ?
হে ষড়যন্ত দানব !
নিজেকে উজাড় করে
তোমার ই মায়ের  জঠরকে করো কলংকিত!
যে কোনো ঘটনা ঘটার পরেই 
পক্ষ বিপক্ষ তুষ্টের বেড়াজালে দ্বন্দ্ব বিবাদ লাগাই অনিবার্য !

আমাদের চর্মচক্ষু যতটা উজ্জ্বলতায় পারদর্শী,চৌকষ,
আমাদের অন্তর দৃষ্টি ঠিক ততটাই অন্ধ,অথর্ব। 

একবিংশ শতকের আধুনিকতায় উদ্ভাসিত আমরা অত্যন্ত আধুনিক মানসিকতায় সমেত সম !

আমাদের বিদ্যালয় মহিলা বিদ্যালয়,তথায় প্রধান শিক্ষক পুরুষ ।
আমাদের মাদ্রাসা- মহিলা মাদ্রাসা সেখানকার প্রধান পুরুষ।
মহিলা মাদ্রাসার ছাত্রী নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক পুরুষ।
 
আমাদের প্রধান শিক্ষিকাকে একজন ইউপি মেম্বার ইচ্ছে হলে মেরে পিটিয়ে হাত পা ভেঙে দিতে পারে।

আমাদের শিশু কিশোরী যুবতী নারী -কুমারী ,সধবা,বিধবা, বৃদ্ধা,অতীশীপর বার্ধক্য জীর্ণশীর্ণকে যখন তখন ধর্ষণ,নির্যাতন করা যেতে পারে।

আমাদের জন্য ঘর বাহির সমান।
আদিম হিংস্রতা আমাদের একবিংশ আধুনিকতার কাছে কিছুই না।
আমাদের বেগ বিজ্ঞান মনস্ক বেগের থেকে ও বহুগুন দ্রুতগামী।তারই বিচ্ছুরিত লাভা এমন ভাবে ছড়িয়ে পড়ছে যে তাতে অধঃপতিত ধ্বংশে পোড়ছে সমাজ সংসার ,পরিবার।
তবে আমাদের বিবেক মানবিকতা আদর্শ ন্যায় নীতি বিচার আইন কানুন খুব খুবই সচেতন ! 
এদের সমস্যা হলো পক্ষপাত তুষ্টতা।বিবাদ , পক্ষ বিপক্ষ, দোষ দোষী দোষারোপ।
 সর্বশেষ- শীলে পাটায় ঘসাঘসি মরিচের জীবন শেষ।

০২ জুন ২০২২

মমতা রায় চৌধুরী র ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৭৬




উপন্যাস 

টানাপোড়েন   ১৭৬

টেনশন


মমতা রায় চৌধুরী 




মহা সমস্যায় পড়েছে রেখা। একদিকে খাতার চাপ অন্যদিকে লেখা র চাপ আবার মনোজকে নিয়ে একটা মানসিক চাপ সব মিলিয়ে যেন ঘেটে ঘ হয়ে গেছে। ব্রেকফাস্ট টেবিলে বসে বসে এসবই ভাবছে, হঠাৎ মনোজ বাথরুমে যেতে গিয়ে রেখাকে এভাবে বসে থাকতে দেখে বলল 'তুমি ট্রেন ধরবে না?"
রেখা এতটাই ভাবনায় মগ্ন ছিল যে মনোজের আসার ব্যাপারটা টের পায়নি। তখনো ভেবে যাচ্ছে ঝড় কোন দিক থেকে তার জীবনে আসছে কে জানে? এই ঝড়কে সে সামলে উঠতে পারবে কিনা?
মনোজ এবার  চিৎকার করে বললো' কি ব্যাপার তুমি ট্রেন ধরবে না?"
রেখার ধ্যান ভাঙ্গে আর ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে মনোজের দিকে।
মনোজ কাছে গিয়ে হাত নেড়ে বলে *হ্যালো, কি হলো তোমার?'
রেখা বলল' কি?"
মনোজ বলল" সেটাই তো জানতে চাইছি।'
রেখা বলল' কি? কিছুই না।'
 মনোজ বলল' তুমি স্কুলে যাবে না? ট্রেন ধরবে তো? রেডি না হয়ে বসে আছো?,
'না আজকে স্কুলে যাব না।'
মনোজ অবাক হয়ে বলে 'কেন শরীর ঠিক নেই?'
', তা ঠিক নয়। ঝমঝম করে বৃষ্টির আওয়াজ শুনে বলল'বৃষ্টি হচ্ছে?'
এ বাবা বৃষ্টি হচ্ছে খেয়াল কর নি।
'যা গরম টা পড়েছিল বৃষ্টি হওয়াতে ভালই হচ্ছে। কালকে রাত্রেও তো খুব বৃষ্টি হয়েছে।'
ওদিকে তোমার তুলি  কিন্তু ঘর ছেড়ে বেরোচ্ছে না।
রেখা বলল"এখানেও কি আমার দোষ?"
মনোজ বলল না তা ঠিক নয়।
 রেখা মনোজকে দেখছে আর অবাক হচ্ছে'কিভাবে কথা বলছে তাতে তো এখন মনোজকে দেখে বোঝাই যাচ্ছে না, কিছুক্ষণ আগেও মনোজকে কতটা টেন্সড দেখেছে।
সবাই বলে নারী চরিত্র বিচিত্র। ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর ও নাকি বোঝার ক্ষমতা নেই। পুরুষ চরিত্রই বা কম কিসে? শুধু শুধু আজ স্কুলটা কামাই করলো। আবার রেখা মনে মনে ভাবল ছুটিই তো গেছে। মানুষের থেকে ছুটির দাম তো বেশি হতে পারে না। রূপসার হাজবেন্ডের কথা শুনে মনের ভেতরটা কেমন ধড়াস করে উঠল। স্বাভাবিক ছন্দে ছিল সারাটা দিন হাসি ঠাট্টা করেছে ,মনের মত খাবার রান্না করেছে রুপসাকে দিয়ে অথচ সেই মানুষটির ঐরকম একটি কাজ করতে পারে ?এটা কল্পনার অতীত ছিল ।একটা পুরো ফ্যামিলি ভেসে যাবে না থাকলে সেটা কখনো ভাবতেই পারল না। নিজের সন্তানের কথা ও চিন্তা করলো না। দীক্ষিত হয়েও সদ্গুরুর কথাও চিন্তা করলো না। মানুষের মনে হতাশা ,অবসাদ ,অসহায়তা কোথায় টেনে নিয়ে যেতে পারে ,ভালোবাসার সবকিছুকে ছিন্ন করে চলে যেতে পারে ।এইসব ভাবতেই রেখার গা শিউরে উঠলো। ভেতরে ভেতরে কত বড় ঝড়ের সম্মুখীন হতে হয়েছিল সে কথা একবারও রুপসা কে বলেনি। একবার যদি বলতো, হয়তো কিছু হলেও একটা সমাধান বেরিয়ে আসতো। আপনার জীবনকে মূল্য দিতে হতো না ।রেখাও সেই একই কথা ভাবছে মনোজ কদিন ধরেই ডিস্টার্ব আছে কিন্তু কি হচ্ছে, কি জন্য? সেটা রেখা জানে না।
মনোজ বলল 'তুমি স্কুলে গেলে না কেন?'
"ভালো লাগলো না। তুমি আছো 
বাড়ীতে ।ভাবলাম আমিও থেকে যাই।'
'শুধু এই কারণে থেকে গেলে?'
রেখা বলল' হ্যাঁ।'
মনোজ যেন খুশি হতে পারল না।
রেখা সেটা বুঝতে পেরেই বলল 'আরেকটা কারণ অবশ্যই ছিল?'
মনোজ বলল' কি?'
রেখা বলল''খাতা '
মনোজ বলো 'তাই বলো?'
"তোমার রথ দেখাও হলো কলা বেঁচাও হল।'
'এভাবে কেন বলছো আমি কি তোমার জন্য ছুটি নিতে পারি না, নাকি কখনো নিই  নি?'
মনোজ কি একটা বলতে গেল কিন্তু না বলে আবার ভাবনায় মগ্ন হল ।দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়েই ফোন ঘেটে যেতে লাগলো।
রেখা মনে মনে ভাবছে "মনোজের মনের ভেতরে কি হচ্ছে কে জানে ?মনটা যদি এই মুহূর্তে পড়তে পারতো তাহলে মনে হয় সব থেকে ভালো
 হতো ।তবে যাই হোক স্কুলে না গিয়ে ভালোই করেছে। ওর মন একদম ভালো নেই ।কি কারনে? কাকেই বা বলবে?'
এমন সময় বাইরে মিলির আর ওর বাচ্চাদের চিৎকার শোনা গেল।
রেখা বললো 'দেখ তো কি হলো,?'
কিন্তু মনোজের কোনো হেলদোল নেই। অন্য সময় হলে রেখা রেগে যেত ।এখনো রাগ হচ্ছে কিন্তু মানুষটাকে ঘাটাতে চাইছে না।
রেখা নিজেই দরজা খুললো ,খুলে দেখল দুজন অচেনা যুবক এসে আশ্রয় নিয়েছে সানসেট এর নিচে। রেখা বলল' তোমরা চেঁচাচ্ছ কেনো?'
ওরা সবাই লেজ নেড়ে কিউ কিউ কিউ  আওয়াজ করলো।
রেখা ওদের গায়ে হাত বুলাতে লাগল।
তারপর অচেনা ছেলে দুটিকে জিজ্ঞেস করল 'তোমাদের বাড়ি কোথায়?'
যুবক দুজন বলল 'রেল গেটের কাছে।'
তোমরা এদিকে কি করতে এসেছো?
"আমরা সাইকেল নিয়ে যাচ্ছিলাম বৌদি ।এখন আরো বেশি জোরে বৃষ্টিআসাতে আপনাদের এই জায়গাটাতে একটু আশ্রয় নিয়েছি।"
আশ্রয় নিয়েছ সে জন্য কোন ব্যাপার নাই, কিন্তু যখন দেখছ ওরা চেঁচাচ্ছে তাহলে তোমাদের নো অন্য কোন জায়গায় যাওয়া উচিত ছিল।
আরও তো অনেক বাড়ি আছে?'
ছেলেদুটো কোন কথার জবাব দিল না। রেখার কেমন সন্দেহ হতে লাগলো। কিছুদিন আগে 'এ 'ব্লগে চুরি  হয়েছে।
দিনকাল ভাল নয়। আবার মনে মনে ভাবল অকারনে সন্দেহ যেন ক্রমশ মানুষের মনে বাসা বাঁধছে । ভালোও তো   হতে পারে ।হয়তো সত্যি সত্যিই বৃষ্টির হাত থেকে রক্ষা পাবার জন্য আশ্রয় নিয়েছে। রেখার এরকম করে বলাটা ঠিক হলো না বোধহয়। তারপর বলল' ঠিক আছে, না 
দাঁড়াও ।তবে বেরোনোর আগেতোমাদের ব্যবস্থা নিয়ে আসা উচিত ছিল রেনকোট বা ছাতা।
তাছাড়া বৃষ্টিটা তো কাল রাত থেকেই হচ্ছিল সকালের দিকে একটু কমেছিল তারপর আবার বৃষ্টি শুরু হয়েছে।
ছেলেগুলোকে বলার কোনো স্কোপই  দিল না।
আমি তো এদের চিৎকার শুনে বাইরে এসে দেখি তোমরা।
ছেলেগুলো বলল "এগুলো আপনার পোষা?'
এদের কেও এক অসহায় অবস্থায় 
পেয়েছিলাম ।পোষা নয়, তবে এদের আমি খাবার দিই,সেই করোনাকালীন পরিস্থিতি থেকে। তারপর এর বাচ্চাকাচ্চা হল। এরাও দেখতে দেখতে বড় হয়ে গেল। এখন এরা এখানেই থাকে।'
ছেলেগুলো বলল "বাহ আপনার মত কজন করেন? দেখে খুব ভালো লাগলো।"
রেখা বলল 'ভগবান করাচ্ছেন তাই করছি।'
ছেলেগুলো ওদের গায়ে হাত বুলাতে লাগলো। মিলিরাও কেমন শান্ত হয়ে বসে রইল।
এরইমধ্যে হন্তদন্ত হয়ে ছাতা মাথায় দিয়ে পার্থ যাচ্ছিল রাস্তা দিয়ে। রেখা দেখতে পেয়ে চিৎকার করে ডাকলো পার্থ ,পার্থ।
পার্থকে আসতে দেখেই ছেলে দুটো তাড়াতাড়ি করে সাইকেল নিয়ে বেরিয়ে গেল।
পার্থ এসে বলল'কি হয়েছে বৌদি?'
'তুমি কোথায় যাচ্ছিলে?'
আরে মায়ের হঠাৎ করে পেটে খুব যন্ত্রণা হচ্ছে আমি বললাম দেখো তোমার গ্যাস ফর্ম করেছে জল বেশি করে খাও আর বললাম অ্যান্টাসিড খেয়ে নিতে। এন্টাসিড নেই ফুরিয়ে গেছে সেটা আগে বলেও নি।
'ও তাই তুমি বৃষ্টি মাথায় নিয়ে দোকানে যাচ্ছ ।তাই তো ?সঞ্জীবনীতে।'
হ্যাঁ একদমই তাই?
'তুমি আজকে স্কুলে যাওনি বৃষ্টি বলে?'
হ্যাঁ খানিকটা তা বলতে পারো?
পার্থ বলল কেন অন্য কিছু কারণ আছে নাকি?
আরে তোমার দাদা যখন যায়নি তারপর আমার খাতাও রয়েছে দেখলাম খাতাগুলো দেখে ফেলতে হবে থেকে গেলাম।
মাসিমাকে ওষুধ কিনে দিয়ে এসো না বাড়িতে দাদার সাথে একটু গল্প করবে?
সে ঠিক আছে দেখছি আমি।
রেখা চাইছে মনোজ সবার সাথে এনগেজড থাকুক। একাকীত্ব না আসুক। একা থাকলেই হাজারো চিন্তা মাথায় ঘুরবে।
"তুমি বাইরে দাঁড়িয়ে আছো কেন?'
আর বোলো না হঠাৎ করে দেখছি মিলি আর বাচ্চারা এত চিৎকার করছে তোমার দাদাকে বললাম দেখো কেন চিৎকার করছে ওর তো কোনো হেলদোল নেই, তো ,আমি দরজা খুলে দেখি দুটো অচেনা ছেলে দাঁড়িয়ে।
পার্থ বলল "বাহ দারুন ব্যাপার তো?"
"কেমন দেখতে ছেলে দুটো?"
"ধুর ,আমি কি অত ভালো করে দেখেছি নাকি?
তবে শ্যাম বর্ণ, দো হারা।"
এইযা বৌদি যা বর্ণনা দিচ্ছ এই ছেলেদুটো তো মোটেই ভালো নয়।
রেখার বুকটা কেমন কেঁপে উঠল। অবাক হয়ে পার্থ মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।
'ওরা গেল কখন?"
হ্যাঁ আমি হয়তো খেয়াল করিনি তবে তুমি ঢুকছো দেখে ওরা বেরিয়ে যাচ্ছে। আমিও আর ডাকিনি ভাবলাম হয়তো তাড়া আছে এই জন্য বেরিয়ে যাচ্ছে।
আসলে আমাকে দেখে নিয়েছে ওই জন্য ওরা বেরিয়ে আছে ওদের মতলব মোটেই ভালো নয়। এখন পুলিশ ওদেরকে খোঁজ করছে। চুরি হয়েছে না এ ব্লকে।
'কিন্তু ওদের কথাবার্তাতে তো সেরকম মনে হল না।'
'নইলে এতক্ষণ দাঁড়িয়ে ছিল আমাকে দেখেই ওরা চলে গেল কেন?'
'সেটা অবশ্য ঠিক।'
"আমার না ভীষণ ভয় লাগছে জানো?,একেতো আমরা দুজনাই বেরিয়ে যাই।'
অত টেনশন নিও না তো আমরা আছি তো পাশাপাশি তাছাড়া তোমার ব্যাটেলিয়ান তুমি দেখে যাও অত সহজ ব্যাপার নয়।
চুরি ব্যাপারটা হয়েছে এখন সবাই সতর্ক আর আমি তো সারাদিন বাড়িতেই  থাকি ।যদি কাজ না পড়ে যায় ।মিলি তুলিদেরচিৎকারে আমরা নিশ্চয়ই চলে আসব।'
"ঠিক আছে, বৌদি, আসছি ।আমি পরে আসার চেষ্টা করছি।'
রেখার যেনো আরও একটা চাপ বেড়ে গেল। এযে ঘরে বাইরে সর্বত্র টেনশন আর টানাপোড়েন।

কবি কপিল কুমার ভট্টাচার্য্য এর "ভালোবাসার তীক্ষ্ম ছোঁয়া "





ভালোবাসার তীক্ষ্ম ছোঁয়া 

        কপিল কুমার ভট্টাচার্য্য
  


  যখন এক টুকরো তিক্ত কষ্টের  
                       স্মৃতি 
 জ্বেলে দেয় হৃদয় ভরা গণগণে 
                     আগুন,                                                  
তখন তার ভালোবাসার এক বিন্দু                                    
                    ফোঁটা   
 নিভিয়ে দেয় হৃদয় ভরা সেই 
               আগুনের তেজ, 
  জীবন ভরে ওঠে স্নিগ্ধ  
                প্রাণরসে।।

কবি সুবর্ণ রায় এর কবিতা "বসন্তমাস"





বসন্তমাস

সুবর্ণ রায়



গাছগাছালিতে আগুন লাগা। 
ভালোবাসায় রক্তাক্ত মন।
চুড়ান্ত শিল্পটির নাম বসন্তমাস।

কবি সামরিন শিরিন এর কবিতা "কৃষ্ণচূড়া"






কৃষ্ণচূড়া 

সামরিন শিরিন 




ঝুমঝুম করে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে আবার আজ! 
আগুন রূপসী বৃক্ষগুলো!
তুমি আমাকে কৃষ্ণচূড়া ডাকতে... 
আমি নাকি অমন আগুন মেজাজ!

মোটেই না। 
আমি তো মাটির কায়া 
জলের ছায়া... 
তোমার মতো অর্বাচীন তস্করকে
ডাকি আত্মাপুরুষ!
যদিও কৃষ্ণচূড়া ভীষণ প্রিয় আমার 
খুব ভালো লাগে তার দেমাগি রূপের আঁচ।

মৌসুম জুড়ে কৃষ্ণচূড়া ফুটেছে আবার আজ...
কতদিন দেখিনা তোমায়! 
কতবার জ্বলে নিভে আগুনের সাজ! 
কতদিন ঢেকে রাখি ঘনঘোর মেঘলা মেজাজ!

০১ জুন ২০২২

কবি গোলাম মোস্তফা এর কবিতা "যাব"




যাব
গোলাম মোস্তফা 


যাব মানে যাবই 
সামনের পথ যতই হোক বন্ধুর
যাব মানে যাবই
হোক বর্ষামুখর রাত কিম্বা প্রখর রোদ্দুর।

যাব,  আটকানোর কেউ নেই
আত্মীয় পরিজন বন্ধু সুজন
যেতে নাহি দিব যতই হোক উচ্চারণ
যেতেই হবে এটা অমোঘ চিরন্তন।

যাব মানে ছেড়ে যাব 
নেই কোন পথ ফেরার আসলেই
যেমন কৈশোর ফিরতে পারে না শৈশবে
বার্ধক্য পারে না ফিরতে যৌবনে কোন কৌশলেই।

সামনে যাবার অমোঘ নীতি সবার জন্যই
পৃথিবীর সব কিছুই ধ্বংস হবে 
সময় ই বিলীন হবে সবার আগে
প্রতিদিন ই আজ,  কাল অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত রবে।

যাব মানে যাবই
প্রতিরোধ প্রতিশোধে নেই কোন চুড়ান্ত লাভালাভ
অন্তরে বিষের আধার বাইরে সুফি  সজ্জন 
কেবলই করি কৃতঘ্নতা বাইরে সদ্ভাব।

যাব মানে যেতেই হবে
নিশ্চিত হোক যাবার সহজতা
অঢেল সম্পদ না হোক,
 না হোক অবিমৃষ্যকারীতা।

 শুন্যের মাঝে হোক নিজের নিদান
পিছনে থাকুক কান্নার রোল আর অবিমিশ্র অকৃত্রিম দোয়া
কল্যান  আর পরহিতৈষী আমল যেন হয় সাথী 
সম্পদের কানা কড়ি নাই হোক যাত্রা পথের বাধা অনসূয়া। 

পুরাতনী কেউ নেই আর অবশেষ
নতুনের জয়গান চলে বিশ্বময়
শুন্যস্থান কখনো থাকে না শুন্য 
মঙ্গলময়ের অভয় যেন সঙ্গে সঙ্গে রয়।

৩১ মে ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৭৫





উপন্যাস 


টানাপোড়েন   ১৭৫
হঠাৎ মেঘ

মমতা রায়চৌধুরী



এক টুকরো হাসি মেঘ সরাতে পারে, এক টুকরো খুশিই মনের অলিন্দে চাঁদ উঠাতে পারে। আজকের ব্যস্ত দিনে সেই এক টুকরো হাসি যেন মেঘলা বাতাসে উড়িয়ে নিয়ে যায় দূর বহুদূর। মাসি কাজ করে চলে যাবার পর নচিকেতার গানটা শুনছে"যার কথা ভাসে ,মেঘলা বাতাসে তবুও সে দূরে তা মানি না ।
জানি না ।
জানি না ।
কেন তা জানি না
দূরে দূরে মেঘ যাচ্ছে পুড়ে মন মিললো স্মৃতি দু'ডানায়….,।,,"
রেখার মনও এই মেঘলা দিনে জীবন পারের ওপারেতে যে ধুলো জমে আছে ,এক পশলা বৃষ্টির পরে সে যেন হারিয়ে যাওয়া স্মৃতিগুলো সঞ্চয় করতে থাকে। স্মৃতিরা যখন ভিড় করে আসে ধীর পায়, শুকনো পাতার ওপর যেন কারও নুপুরের আওয়াজ শুনতে পায় ।যখন ভাবছে যার উষ্ণ আঁচে এখনো সেই ভালোবাসা বেঁচে আছে অথচ সেই মানুষটাই ধরাছোঁয়ার বাইরে। এমন সময় মনোজ ডেকে উঠলো "রেখা, রেখা রেখা রেখা আ. আ. আ'।'
হঠাৎ চিৎকারে রেখার স্মৃতিগুলো যেন কোথায় হারিয়ে যায়। সম্বিৎ ফিরে পায়। রেখার ড্রয়িং রুম থেকেই সাড়া দেয় 'কি হয়েছে?'
"দেখো এসে কি হয়েছে?"
রেখা তাড়াতাড়ি মনোজের  ঘরে ঢোকে। মনোজের দিকে তাকিয়ে '," কি?"
মনোজ রেখা কে ইশারায় দেখায়?
রেখা বলে কি হয়েছে?
মনোজ রেখাকে দেখায়..।
রেখা দেখছে তুলি একটু বমি করেছে?
মনোজ বলে এআবার কখন ঢুকেছে?
গতকাল রাত থেকেই তো আছে।
সেকি?
মনোজ আশ্চর্য হয়ে গেল। 
আসলে কালকে ওদের গেটটা বন্ধ ছিল।
মুষলধারে বৃষ্টিতে ভিজে ওরা  একসা হয়েছিল।
তুমি জান না মা আসলে কি গন্ডগোল টা বাধবে?
রেখা  চুপ করে আছে।।
রেখা বলল' আমি কি করি বলো তো?
মানে কালকের ওই রকম পরিস্থিতি দেখার পর ও যদি আমার রুমে চলে আসে তাহলে  আমি কি
 পারি তাড়িয়ে দিতে? আমি তা পারি না।
কি অসহায় ভাবে কুঁইকুঁই আওয়াজ করছিল।

যা ভালো বোঝো করো। মনোজ রেগেই বলল।
ঠিক আছে আমি বমি পরিস্কার করে দিচ্ছি।
রেখা ওই জায়গাটিতে ভালো করে ধুয়ে দিল।
তারপর রেখা মনেজের ।
তুলি একবার তাকিয়ে দেখে নিল।
তারপর মাথাটা আবার নামিয়ে চোখ 
বুঝ ল ।

মনোজ বলল "একে আর তোমার  নাওটা ক'রো না। এ কিন্তু আর যাবে না রুম থেকে।"
রেখা বলল " তাহলে কি করব?"
"ওদেরকে ভয় দেখাও যাতে ঘরে না ঢুকে।'
'তুমি বলছো একথা? তুমি? 'রেখা অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল।
মনোজ কেমন করুন দৃষ্টিতে রেখার দিকে তাকিয়ে রইলো ।
রেখা বুঝতে পেরেছে মনোজের অবস্থাটা ।
রেখা কথা না বাড়িয়ে মনোজকে চা এনে দিল তারপর তুলিকে ডাকলো 'তুলি ,তুলি, তুলি' চলো বাবা ,বাইরে চলো।
কি সুন্দর ডাকের সঙ্গে সঙ্গে তাকালো ।তাকিয়ে রেখার কথামত গেটের বাইরে চলে আসলো।
রেখা মনে মনে ভাবছে এরপর যদি সত্যি সত্যি তুলি রুমে এসে থাকে আর রেখা কি করবে?'
রেখা আর কোন কিছু ভাবতে পারছে না। সে সবকিছুই ভগবানের উপর ছেড়ে দিয়েছে যখন হবে ,তখন দেখা যাবে।
তাছাড়া রেখা তো ওদের কে মেরে বার করবে 
না ।কখনোই না। তাতে যতই ঝড় আসুক না কেন?
ভাবতে ভাবতেই রেখা মনোজকে বলল
"তুমি অফিসে যাবে তো?"
"আর কখন যাব লেট হয়ে গেল?'
'তুমি কি আজকাল অফিসে এভাবেই যাও ,যখন মনে হল তখন গেলে ।মনে হলো না গেলে না।
আদপে অফিসে যাও তো? বলতে চাইছি অফিসে কোন গন্ডগোল হচ্ছে না তো?"
কথাটা শোনার পর মনোজ কেমন যেন একটু অন্য মনস্ক হয়ে গেল।
রেখা মনে মনে ভাবল "কথাটা বলে কি ঠিক করল?
আর কোন কথা না দীর্ঘায়িত না করে স্নান করতে গেল। কারণ রেখাকে তো স্কুলে যেতে 
হবে ।পরীক্ষা শুরু হয়েছে। সেকেন্ড হাফ বলে এতটা টেনশন ছিল না। এখন যদি সব কাজ গুছিয়ে নিজেকে তৈরি না করতে পারে তাহলে ট্রেন পাবে না।
রেখা বাথরুমে ঢুকে সাওয়ারের কলটা জোরে করে দিয়ে, জলের শব্দ আর  নিজের ভেতরের নৈঃশব্দ্য শব্দগুলোকে জাগিয়ে তোলার চেষ্টা করছে। জীবনের যে পাতায় ধুলো পড়ে গেছে ধীরে ধীরে, বাতাসেরাও যেখানে আজ অসহায়। তবুও রেখার মনে হয় শুকনো পাতার নূপুর কেউ যেন তাকে ডেকে যায়।
বাথরুম থেকে বেরিয়ে মনে মনে ভাবছে কি কি কারণে মনোজ এসব বলছে, শাশুড়ি মা বাড়ীতে পা দিলেই ,সেদিনই কুরুক্ষেত্র বাঁধাবেন । কুরুক্ষেত্রের এই যুদ্ধে কৃষ্ণ অর্জুনের মত তো মনোজের সারথি নেই ।কে সামলাবে?"
কে বা শিখন্ডী হয়ে দাঁড়াবে?"
গোপালের ভোগ চাপিয়ে রেখা ব্রেকফাস্ট টেবিলে এসে বসলো। আর লাঞ্চ প্যাক করে নিল। ব্রেকফাস্ট টেবিলে ব্রেকফাস্ট সাজাতে সাজাতে রেখা ডাকলো' কিগো শুনছো?"
মনোজ কোন আওয়াজ দিচ্ছে না।
আবার ডাকল কি গো শুনছো?
রেখা তখন বাধ্য হয়ে মনোজের ঘরে গেল।
গিয়ে দেখে বিছানায় বসে বসে সিগারেট খেয়ে যাচ্ছে। সারাঘর ধোঁয়ায় পরিপূর্ণ।
রেখা বুঝল শুধুমাত্র তুলির কারণে মুড অফ নেই অন্য কিছু একটা বড় সরো ব্যাপার ঘটেছে মনোজের মনের ভেতরে ,যে কথাগুলো শেয়ার করতে পারছে না।
একা একাই মনের ভেতরে গুমড়ে গুমড়ে মরছে।
রেখা পরিবেশটাকে হালকা করার জন্য বলল"ঠিক আছে তোমার কথাই থাকবে ।মা  আসার আগে তুলিকে  রুমের বাইরে রাখা হবে।
এবার খুশি তো?'
মনোজ কোন উত্তর না দেয়াতে রেখা আবার বলল"কিগো শুনতে পাচ্ছ না?"
মনোজ একটু ম্লান হাসলো।
রেখা বলল "জল খাবার খাবে চলো অনেক বেলা হয়ে গেছে।"
"হ্যাঁ, চলো।'
মনোজ ব্রাশ করে একটু ফ্রেশ হয়ে আসলো। তারপর খেতে খেতে বারবার অন্যমনস্ক হয়ে যেতে লাগল আর ফোন ঘেটে যেতে লাগলো।
রেখা বুঝতে পারছে বড়োসড়ো একটা ঝড় আসতে চলেছে আবার ।কিন্তু ঝড় টা কোন দিক দিয়ে আসবে সেটা আঁচ করতে পারছে না।
আসন্ন বিপদের কথা ভেবে রেখার গা শিউরে উঠলো।
তবুও মনে সাহস নিয়ে বললো তোমার কিছু সমস্যা হচ্ছে আমাকে বল না?
কথা বললে সমস্যা গুলো থেকে বেরিয়ে আসার  অনেক সময় সমাধানের রাস্তা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে।
মনোজ বলল'কই কিছু হয়নি তো?
তুমি জোর দিয়ে বল আমি বুঝতে পারছি তোমার ভেতরে কিছু একটা হচ্ছে বলো না কি হয়েছে?
আমি তো তোমার অর্ধাঙ্গিনী ।তোমার সুখেতে যেমন আমার অধিকার আছে ,তোমার দুঃখেতে কষ্টতে আমার অধিকার আছে ,সে গুলোকে ভাগ করে নেবার।
মনোজ রেখার গাল দুটোকে ধরে একটু হাসলো তারপর বলল 'তুমি স্কুলে যাবে তো?'
"হ্যাঁ যাবো তো?"
"ঠিক আছে তোমাকে আমি স্টেশনে ছেড়ে দেবো।"
"তুমি বাড়িতে এভাবে একা একা মন খারাপ করে বসে থাকব আমার তো স্কুলে যেতেও  ভালো লাগছে না।"
মনোজ কোন কথার উত্তর দিল না।
রেখার একটু চাপ বেড়ে গেল আদপে স্কুলে যাওয়া ঠিক হবে কিনা ওকে একা রেখে,।
রেখা একবার বড়দিকে ফোন করবে কিনা মনে মনে ভাবতে লাগল।
তারপর ভাবলো ফোনটা করেই দেখি। বড়দির ফোন নম্বরটা ডায়াল করল। রিং হতে লাগলো। সম্ভবত বড়দি ফোনটা ধরেছেন বেশ গম্ভীর স্বরে বললেন"হ্যালো।
"আমি রেখা বলছি বড়দি।,"
হ্যাঁ বল?'
বলছি আজকে স্কুলে না গেলে কি খুব অসুবিধা হবে?'
'কেন বলোতো কিছু হয়েছে নাকি?."
'না মানে বড়দি আজকে একটু বাড়িতে থাকলে পরে খুব উপকার হত।'
ঠিক আছে অসুবিধা নেই ।তোমার যখন একান্তই দরকার বাড়িতে আজ ছুটি নিয়ে নাও ।তাছাড়া এখন তো হোম সেন্টার হয়েছে।
তাছাড়া সেকেন্ড হবে একাদশ শ্রেণির পরীক্ষা আছে।'
"অত চাপ নেই।'
রেখা বলল
"ঠিক আছে বড়দি ।'
তারপরই ভাবতে লাগলো নীল আকাশে হঠাৎ করে মেঘ ঘনিয়ে আসলে যেমন বেমানান লাগে ঠিক তেমনি জীবনাকাশেও হঠাৎ করে মেঘ ঘনিয়ে আসলে সবকিছু ওলট পালট হয়ে যায়।

কবি মধুমিতা বসু এর কবিতা "আমার কোনও ঘর নেই l"





আমার কোনও ঘর নেই 
মধুমিতা বসু সরকার



থিতু হওয়া হোল না এখনো,
যাকে আমি ঘর বলে জানি,
সে ত আমার একার নয়,
এসেছিলে তুমি,, বলেছিলে
এটাকেই বসত বাটী ভাবো,
যতদুর যেতে চাও, আমিও তোমার সাথে যাব।
এরপর জীবন বীক্ষন শেষে,
বয়োবৃদ্ধ হৃদয়,
যতটুকু দৃষ্টিপাত করি,
কোথাও দেখিনা তোমায়,
পাশে আছ, হয়ত বা দীর্ঘশ্বাস হয়ে,
গভীর রাতে স্পর্শ করো ভালো, মন্দ বোধ,
কিছু খুচরো অভিমান,
ক্ষতের  প্রশমন,
আমার থিতু হওয়া হোলনা তেমন।

কবি মহিউদ্দিন আহমেদ এর কবিতা"মধুসূধন"






মধুসূধন
(চতুর্দশপদী)
মহিউদ্দিন আহমেদ 
               

পুণ্য ভূমি সাগর দাঁড়ি কপোতাক্ষ স্নেহের নীড়,
উদিত হলো নতুন সূর্য নতুন রাগের আভা,
বৈকুণ্ঠের মাঠ বুনে চলে অদ্ভুত ছন্দের ভীড়,
অভিনব আগামীর পথে দুর্দান্ত প্রণয় লাভা ।
শতাব্দীর প্রাচীর ভেঙ্গে গড়লে নতুন পয়ার,
অমৃতাক্ষর সুধায় ভরে গাঁথলে নতুন ধারা,
প্রজাপতি পাখায় এঁকে নতুন রঙের জোয়ার,
বুনন মাঠে ছড়িয়ে দিলে দ্বীপ্ত আগামীর তারা ।

পুরোনো পশরা ঠেলে মেখে নিলে বিশ্ব কাব্য ধারা,
হাজার মাইল দূরে থেকে জননী মাটির ঘ্রাণ,
মহা-কাব্য গগনে দিলে ঢেলে মাতৃভাষার তারা,
মাতৃভূমি মাতৃভাষার অঞ্জলি বিকশিত প্রাণ ।
প্রতি বর্ণে ছন্দে বিকিরণ দেয় দৃপ্ত গুপ্তধন,
অমিয় ধারা বুকে তোমার অক্ষয় মধুসূধন ।

কবি মিলন ইমদাদুল এর কবিতা "বিশ্বাস"





বিশ্বাস
মিলন ইমদাদুল

তোমার প্রতি আমার বিশ্বাস ততোটাই আছে–
যতোটা আছে ঐ ভোরের পাখিদের কাছে…
তুমি পাড় ভেঙে চলে যাও দূরে,বহুদূরে
পাখিরা দূর আকাশে উড়ে যায় পাখা মেলে!

এরপর দিনের ক্লান্তি শেষে সন্ধ্যায়– 
ফিরে আসে পাখিরা আপন নীড়ে,
জীবনের খেরোপাতায় লেখা থাকে অমর স্মৃতি!
তুমি শুধু আসো না ফিরে আমার হৃদমন্দিরে

প্রতীক্ষায় বেলা বয়ে যায় সময়ে অসময়ে...

২৯ মে ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস ১৭৪





উপন্যাস 

টানাপোড়েন  ১৭৪

ওদের ভালোবেসে

মমতা রায় চৌধুরী



উফ্ বাপরে বাপ অবশেষে কুড়িটা খাতা দেখা হলো। ও বাবা শিরদাঁড়াটা যেনো সোজা হচ্ছে না। মাথাটা এদিক ওদিক করে একটু এক্সারসাইজ করে নিল ।রেখা হাতের এক্সারসাইজটাও করে নিল। যন্ত্রণাটা যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এ যেন করোনাকেও হার মানাবে । আজকে মরণপণ প্রতিজ্ঞা করেছিল রেখা যে করেই হোক কুড়ি টাকা খাতা দেখতেই হবে। ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রেখা রাত সাড়ে বারোটা বাজে ।  এ বাবা এ যে বৃষ্টি শুরু হয়েছে ,বেশ মুষলধারে বৃষ্টি।
রেখার মনে হল' কি ব্যাপার কুই কুই আওয়াজ হচ্ছে? ওরা কি (তুলি, মিলি ,পাইলট) বৃষ্টিতে ভিজছে,?
শব্দের উৎস সন্ধান এর জন্য রেখা দরজাটা  খুলে দেখে' হ্যাঁ ,যা ভেবেছিল তাই । ব্যাটারা বৃষ্টিতে ভিজে একসার হয়েছে।
কিন্তু আজকে ওরা বাইরেই বা কেন?
কিছুক্ষণ চিন্তা করার পর ভাবল আজকাল তো ওরা ভেতরে থাকতে চায় না হয়তো ওই জন্যই মনোজ গেটের বাইরে রেখেছে। সারা রাত পাহারা দেয় ।নেহাতই বৃষ্টিটা এসে পড়াতে বেচারাদের শেল্টার ছিল না ,তাই এরকম আওয়াজ করছে।
রেখা তাড়াতাড়ি গ্যারেজ ঘরটা খুলে দিল।
আর একটা গামছা দিয়ে ওদের গা মুছে দিল।
তারমধ্যে রেখা ভালো করে বস্তা বিছিয়ে দিয়ে শোয়ার ব্যবস্থা করে যেই গেট বন্ধ করতে যাচ্ছে ঠিক তখনই তুলি এসে কুঁইকুঁই কুঁইকুঁই আওয়াজ করছে।
রেখা বলল' কি হয়েছে?'
তুলি তো লেজ নাড়তেই থাকে আর কুঁই কুঁই  আওয়াজ করতেই থাকে।
রেখা কতগুলো বিস্কিট নিয়ে এসে দিল। ওরা সবাই খেলো দুটো একটা । আবার দরজা বন্ধ করে ভেতরে আসতে যাচ্ছে ঠিক তখনই আবার তুলি কুই কুই আওয়াজ করতে থাকে।
রেখা  কূলকিনারা খুঁজে পাচ্ছে না ও কি বলতে চাইছে?
তারপর  রেখা বলল' তুই কি ভেতরে
 ঢুকবি? ''বলেই রেখা ভেতরে ঢুকলো তার পেছু পেছু তুলিও  ঢুকলো।
ও বাবা রেখার রুমেই এসে ঢুকলো।
রেখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে রাত  দুটো বাজে।
রেখা আর তুলিকে বাইরে বের করার জন্য জোরজবস্তি করলো না।কারণ মনোজ  কিছুই বলবে না ও  ওদেরকে খুব ভালোবাসে আর এখন তো বাড়িতে শাশুড়ি মা নেই সেটা অসুবিধে হবে না। তাই ভেবে চিন্তে দেখল ঘরেই থাক । ওদের ভালোবাসায় রেখা অন্ধ।তাই এই নিয়ে ভাবার অবকাশ ছিল 
না ।এমনিতেই অনেক রাত হয়ে গেছে এবার ঘুমোতে হবে ।বাইরে তখনও বৃষ্টি  হয়ে
  যাচ্ছে ।মাঝে মাঝে দমকা হাওয়া ।ভুলে গেছে দেখেছো ওদিকে জানালাটা খোলাই ছিল কতটা জল চলে এসেছে রুমে  কি করবে জল জমে  থাকবে ।জানালার কাছে গিয়ে জানলাটা বন্ধ করলো । জানালাবন্ধ করতে করতে রেখার চোখেমুখে কিছুটা জলের ঝাপটা এসে লাগলো। রেখা ঘর মোছার নেতা টা এনে জলটা মুছে নিল। মুছতেই হত, না হলে তুলির গায়ে এসে পৌঁছাত।রেখার শরীর আর  চলছে না।
এবার বিছানায় পড়লেই দু'চোখ ঘুমে  অন্ধকার হয়ে আসবে।
ঠিক ঘুমোতে যাবে তখনই তুলির দিকে নজর পড়লো । রেখা দেখছে তুলিটা থর থর করে তখনও কাঁপছে ।রেখা তখন একটা বস্তা এনে ওকে চাপা দিলো ।
এবারে ঘুমাতে গেল কিন্তু মাথায় রয়ে গেল সারা রাজ্যের চিন্তা। আগামীকাল স্কুলে যেতে পারবে কিনা কে জানে?
বিছানায় শরীরটাকে এলিয়ে দিতে এই গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হয়ে গেল রেখা। ঘুম ভাঙলো কলিং বেলের আওয়াজে।
কলিং বেলের আওয়াজ হচ্ছে" ওম জয় লক্ষ্মী  মাতা….।
রেখা ঘুমের জড়তা কাটিয়ে দুচোখ দুহাত দিয়ে ডলতে ডলতে দরজা খুলল।
দরজা খুলে দেখতে পেল মাসি দাঁড়িয়ে।
মাসি বলল 'তোমার আজকে ঘুম হয়নি?"
রেখা বলল' কেন বলতো মাসি?"
'তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে খুব ক্লান্ত।'
"একদম ঠিক ধরেছ মাসি?"
'খাতা দেখেছি অনেক রাত পর্যন্ত।
তারপর তুলি মিলিদের নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম।"
মাসি ঘর ঝাড় দিতে দিতে বলল 'কেন ওরা আবার কী করল?'
'ওরা কিছু করে নি ।তবে  বৃষ্টি ওদের করিয়েছে ।
এত বৃষ্টিতে ভিজেছে ওদের আওয়াজে আমাকে বাইরে বেরোতে হয়েছে।"
'হ্যাঁ যা রা ত থেকে বৃষ্টি টা হল, সকালে যদি না কমতো, কি করে কাজে আসতাম কে জানে?"
রেখা চা  করতে গেল এবং চা নিয়ে এসে মাসিকে দিল নিজে এক কাপ নিয়ে বসল।
আজ স্কুলে যেতে ভালো লাগছে না। শরীরটা ম্যাচ ম্যাচ করছে ।
মাসী বললো" আজকে রেস্ট নাও।"
রেষ্ট নোবো কিন্তু পরীক্ষা থাকলে তো যেতে হবে দেখিতো হোয়াটসঅ্যাপটা খুলে। আবার ভাবছে বড়দিকে ফোনটা করবে?"
কিন্তুএত সকালে ডিস্টার্ব করাটা কি ঠিক হবে?
থাক  একটু পরে করতে হবে।'

একবার শুভ্রাকে মেসেজ পাঠাল পরীক্ষার ডিউটি লিস্ট টা তোর কাছে থাকলে একবার আমার হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাস।'
শুভ্রা লিখলো ,"ঠিক আছে আমি সেন্ড করছি।"
 মেসেজ ঢোকার আওয়াজ পেল 
রেখা সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপটা চেক করলো।
রেখা দেখলে সত্যি সত্যি ডিউটি লিস্ট টা পাঠিয়েছ।
রেখা তারিখ মিলিয়ে দুজনের চেক করে দেখলো হ্যাঁ ডিউটি লিস্টের ছবি।। সঙ্গে সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপ টা চেক করে নিজের ডিউটি দেখতে পেলে সেকেন্ড হাপে আছে।
তাহলে কিছুটা সময় পাবে রেখা।
সেই আনন্দে যেন অর্ধেক ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। রেখা হাতের কাজগুলো  তাড়াতাড়ি সেরে নিয়ে চায়ের কাপটা নিয়ে  মনোজকে ডাকতে গেল গিয়ে দেখছে তুলি আরামসে ঘুম দিছে।
রেখা চা নিয়ে গিয়ে মনোজকে ডাকলো কিগো আজ উঠবে না উঠবে না?"
রেখার ডাকেতে তুলি চোখ মেলে তাকিয়ে দেখল তারপর আবার ঘুমিয়ে পরল।
মনোজ সাড়া দিল" কি হয়েছে?"
"বলছি উঠতে হবে তো নাকি?'
মনোজ বলল ঠিক টাইমে উঠবো।'
রেখা বললো" ঠিক আছে তোমার যখন সময় হবে তুমি উঠ .,পরে আবার আমাকে বোলো না যেন ডেকে দিই নি কেন,?"
এরইমধ্যে মাসি কাজ সেরে যাবার পথে বলল "বৌমা আসছি গো?
দরজাটা বন্ধ করবে তো?"
রেখা বলল'হ্যাঁ মাসি তুমি এসো। আমি যাচ্ছি।"
রেখা দেখল মনোজের এখানে সময় নষ্ট করে লাভ নেই ।ওর যখন সময় হবে ,তখন ঠিকই উঠবে। আর খাবারটা নিয়ে তুলি কে ডাকল।তুলি কথা শুনে বাইরে বেরিয়ে আসলো। তারপর রেখা সকলকে খাবার দিল।
 রেখা স্নান করতে যাবে ঠিক তখনই আবার ফোন।"
*"কে ফোন করলো কে জানে?"
থাকাটা বেসিনে  রাখতে রাখতে আবার ফোনের আর্তনাদ 'কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায় ,কে যেন ডাকে ….।,"
ফোনটা রিসিভ করে বলে ,"হ্যালো"
"ম্যাম আমি সুনীপা বলছি?"
"কে সুনীপা?"
'ম্যাম আমি এবার 11 ক্লাস পরীক্ষা দিচ্ছি।"
'হ্যাঁ কি হয়েছে?'
"বলছি ম্যাম আমি তো প্রজেক্ট দিইনি…কথাটা সম্পূর্ণ না করতে দিয়েই রেখার মাথাটা ভীষণ গরম হয়ে গেল বলল আমি কবে তোমাদের প্রজেক্ট দিয়েছি এখন অব্দি প্রজেক্ট দাওনি তোমরা জানো প্রজেক্ট না দিলে পরীক্ষায় তোমরা ফেল করে যাবে?'
সুনীপা বলল" হ্যাঁ ম্যাম।'
সব জেনে বুঝে তোমরা এরকম কাজ করো বলো?'
"আসলেই ম্যাম আমি জানতাম না কি প্রজেক্ট দেয়া হয়েছে?'
"মানে ,মানে টা কি! জানো না মানে?"
"তখন স্কুলের গ্রুপে দিয়ে দেয়া হয়েছিল।"
"আসলে ম্যাম  আমার ফোনটা খারাপ ছিল তাই?,"
"তা বেশ এখন কি করবে ভাবছো?"
"আমি জমা দেবো?"
"জমা দেবে তাড়াতাড়ি দিয়ে দাও?'
'আসলেই ম্যাম কার কাছে জমা দেব আপনি তো স্কুলে নেই।"
রেখা ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে হ্যাঁ 11টা  বাজে।
ও আচ্ছা আচ্ছা তুমি এক কাজ করো অন্য কারো  জিজ্ঞেস করো 'আমি কোথায় বসি। তাছাড়া তোমরা চেন তো আমি কোথায় বসি । অয় টেবিলে এর উপর রেখে যাও।x
"ওকে ম্যাম"
"ঠিক আছে।"
রেখা ফোনটা রাখতে যাচ্ছে তখন আবার বলল ম্যাম ?
রেখা বলল 'আবার কি হলো?
" বলছি ম্যাম আমি কেটু ফ্রম ফিলাপ করবো কার কাছ থেকে নেবো।'
*তোমরা কন্যাশ্রী নো ডাল  টিচারের কাছ থেকে নেবে।"
"থ্যাঙ্ক ইউ ম্যাম।'
'ইটস ওকে।'
এবার রেখা মনে মনে বলল' স্কুলে না গিয়েও শান্তি নেই। ঠিক বাড়ি পর্যন্ত ধাওয়া করবে।'
রেখা ভাবতে ভাবতেই ওয়াশ রুমের দিকে গেল।

কবি শিবনাথ মণ্ডল এর কবিতা "বিদ্রোহী"





বিদ্রোহী

শিবনাথ মণ্ডল


বাংলা মায়ের  বিদ্রোহী সন্তান 
দেশের স্বার্থে লড়ে
কলমে তার আগুন ঝরে 
শাসকের অত‍্যাচারে।
দুঃখী মায়ের ' দুখু মিঞা
বিদ্রোহের বার্তা ছড়ায় 
গান গল্প কবিতা  শুনিয়ে
বিপ্লবীদের জাগায় ।
শৃঙ্খল মুক্ত করতে মায়ের
গায় মুক্তিরগান
সেই গানেতে বিপ্লবীরা
পায় যে শক্তি প্রাণ।
শাসকেরা তোমায় বন্দি করে
রাখে কারাগারে
বিদ্রোহী বার্তা পৌঁছে দিলে
দেশের ঘরে ঘরে।
ভারতবাসীর অন্তর মাঝে
ফুটেআছো সুগন্ধি ফুল
লাখো লাখো সেলাম প্রণাম
লহ প্রাণের নজরুল।।

২৭ মে ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৭৩





উপন্যাস 

টানাপোড়েন   ১৭৩

মাতলা নদীর ঢেউ

মমতা রায় চৌধুরী




ছোট মামা শ্বশুরের জন্য রেখার খুব কষ্ট হয়। এতটা বছর শুধু এক নদীর জল আগুন করে রেখে দিয়েছেন মনের ভেতরে। ডাকনাম বুড়ো ওরফে বনমালী। এই বনমালী মামা যৌবনে নাকি এক মেয়ে মানুষের মনে ধরে যান। মামাদের অবস্থা তখন ভাল ছিলনা। ছোটখাটো ব্যবসা করতেন। আর এখন সেই মামা মস্ত বড় আড়তদার হয়ে গেছেন। কয়েক বছর আগেও এই মামাকে রাত ভোরে ক্যানিং বাজারের আড় তে লাইন দিয়ে মাল কিনতে হত। এখন নিজেই একজন মস্ত আড়তদার। এখন মামার আড়তেই কত ছেলে কাজ করে। ইচ্ছে করলেই মামা ভালো মেয়ের সঙ্গে বিয়ে করে সংসারী হয়ে যেতে পারেন  কিন্তু না যার উষ্ণতা ভাগ করে নিয়েছলেন ,তার বুকের  সুমিষ্ট গোলাপের সুবাস নেবার জন্য। সেই গন্ধ আজও হৃদয়ের প্রতিটি তন্ত্রীতে। ভুলতে কিছুতেই পারেন  না। ভাবেন ভুলে যাবেন কিন্তু মনের ভেতর আছো যে আঁচড় কেটে চলে।
যে বিশ্বাসঘাতকতা মেয়ে মানুষটি করেছিল তার উপযুক্ত জবাব না দেয়া পর্যন্ত বনমালী মামার শান্তি নেই।
মামার এই ইতিহাস জানতে হলে আমাদের পিছিয়ে যেতে হয় কয়েক বছর আগে।।
মামার পুরুষ্ট দেহে তখন যৌবন টগবগ করে ফুটছে।
ওই দেখো মেয়ে মানুষটার নামের সাথে পরিচয় করানো হলো না। মেয়েটির নাম ছিল অভিষিক্তা।
এমন ভাবে  অভিষেক করেছে বনমালী মামার হৃদয় প্রাণ জুড়ে যে অন্য কারোর অভিষেক আজ পর্যন্ত আর হলো না। অথচ বনমালী মামার মনে কিন্তু ঘৃণা আছে ,তবুও পারলেন না মনের হৃদয়ের সিংহাসনে অন্য আর একজনকে বসাতে।
শোনা যায় মামার চেয়ে রোজগেরে ভালপাত্র সঙ্গে তাই খুব সহজেই বিয়ে করে নিতে পেরেছে।
সেদিন বিয়ের খবরটি শুনতে পেয়ে মামা নাকি ছুটে গেছিলেন অভিষিক্তাদের বাড়ি ।
কিন্তু অভিষিক্তা মুখের উপর না করে দিয়েছিল উল্টে আরও বলেছিল "আমার যার সাথে বিয়ে হচ্ছে তার প্রচুর টাকা আছে? তোমার কাছে কি আছে? সারা জীবন তোমার অভাবের সংসারে আমার জীবন কাটাব ভাবলে কি করে?'তাছাড়া অভাবের সংসারে ভালোবাসা তখন জানালা দিয়ে পালাবে' পূর্ণিমার চাঁদকে ঝলসানো রুটি 'মনে হবে।'
সেদিন বনমালী মামা খুব অবাক হয়ে গেছিলেন যার মুখে এত ভালোবাসার কথা শুনেছেন আজ তার মুখে কি শুনছেন? তবু বিশ্বাস করতেই চান নি ।প্রথমে বিশ্বাস করতেই পারেন নি। পরে ভেবেছেন যে বাড়ির চাপ এই জন্য হয়তো অভিষিক্তা মামার সাথে এরূপ ব্যবহার করছে।
বনমালী মামা বলেছিলেন' তুই আমার সাথে মশকরা করছিস ।আমি জানি তুই আমার সঙ্গে ঠাট্টা করছিস। আমার পরীক্ষা নিচ্ছিস ধৈর্যের,?"
অভিষিক্তা বলেছিল'কোন ঠাট্টা আমি করছি না বাস্তবে দেখো তাকিয়ে কাল আমার বিয়ে। বাড়িতে আলোর রোশনাই দেখে বুঝতে পারছ না?
 বনমালী মামা কিছুক্ষণের জন্য কিংকর্তব্যবিমূঢ় আর হতবাক হয়ে পড়েছিলেন।
পরে মামার এক বন্ধু মামাকে বুঝিয়ে সুঝিয়ে সেখান থেকে নিয়ে আসেন।
সেদিন নাকি মামা বাড়িতে এসে ভীষন কান্নাকাটি করেছিলেন ।আসলে মন থেকে ভালোবেসে ছিলেন, কখনো ভাবতেই পারেননি অভিষিক্তা মামার জীবনটা নিয়ে এরকম ছিনিমিনি খেলবে এইজন্য আজকাল মামার নাকি সব মেয়ে মানুষকে ওই একই মনে হয় ,স্বার্থপর মনে হয় আসলে অভিষিক্তা তখন কিছু কিছু চাহিদা পূরণের জন্যই নাকি মামাকে ইউজ করেছিল। তাই মামা আজও কোন মেয়ে মানুষকে মনের কোণে জায়গা দিতে পারলেন না।
শুধু রোজগার করে টাকার পাহাড় গড়তে চাইছেন আর অভিষিক্তাকে দেখাতে চাইছেন টাকাতে মানুষ কত সুখী হয়।
মনের ভেতরে সেই নদীর জলটাকে আগুনের স্রোত করে রেখে দিয়েছেন।
মামা নাকি পণ করেছেন কোন একদিন অভিষিক্তা নিশ্চয়ই তার কাছে ফিরে আসবে সেই দিনটার অপেক্ষায় আছেন।
তবে সেই দিনটায় ফিরে আসলে আদপেও মামা তাকে গ্রহণ করবেন কিনা সেটা নিয়ে হাজারো প্রশ্ন রয়েছে।
আজই রেখা, মামা চলে যাবার পর সেই সব কথাই ভেবে যাচ্ছে আর খাতা দেখছে। যদিও খাতা সেরকমভাবে দেখা হয়ে ওঠেনি ,অত স্পিডই ওঠে নি।
স্পিড আসবে কোথা থেকে একে তো মনে ছিল বিরক্তি তারপর বনমালী মামাকে দেখে মনের ভিতর উথাল পাথাল করছে মামার সেই করুণ অবস্থা ভেবে। রেখা ভাবছে বনমালী মামা আর অভিষিক্তা যে খেলায় মেতে ছিলেন মাতলা নদীর গভীরতার মত। এ যেন একে অপরের পরিপূরক কেউ কাউকে ছেড়ে যেতেই পারেন না।
তাদের মনের ভিতর যে আগুন ছিল তা ছড়িয়ে গিয়েছিল অনেকটা দূর শরীর-মন ঘিরে।, স্বপ্ন দেখেছিল দুটি হৃদয়, একসঙ্গে হবে একাকার। অথচ সেই হৃদয় ভেঙে দিয়ে, হৃদয়ের তার ছিঁড়ে ফেলে শুধু আগুন জ্বেলে রেখে দিয়ে চলে গেছে।
রেখা মনে মনে ভাবছে কেন যে রকম হয়।
সব ভালোবাসাগুলো কেন পরিপূর্ণতা পায় না।
কেন সারাটা জীবন সে অতৃপ্ত ভালোবাসাগুলো ডুকরে ডুকরে কেঁদে মরে।
এমন সময় ফোন বেজে ওঠে 'কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে যেন আমায় কি ডাকে আয় চলে
 আয় .. "।
রেখা ফোনটা প্রথমে ধরে না ,ফোনটা একটু দূরেই 
ছিল। ভাবছে মামার কথা ভেবে ভেবে তো খাতা দেখছে ,খাতাগুলো  আর একবার চেক করতে হবে । কোথাও ভুল ভ্রান্তি হলো কিনা। খাতাটা হাতে আছে সে কটা শেষ না করে ফোন তুলবে না।
রেখা দ্রুত খাতা কাউন্টিং করছে ঠিক সেই সময় আবার ফোন বেজে উঠলো  "কোন সে আলোর স্বপ্ন নিয়ে…।"
রেখার খাতাটা প্রায় চেক করা হয়েই এসেছে খাতা চেক করতে করতে বলল" দাঁড়া বাবা ধরছি।"
এই মাত্র 50 পেল।
রেখা উঠে খাতাটা রাখল। তারপর ফোনের দিকে এগোলো কল লিস্ট চেক করলো।
এ তো ছোট মামারই ফোন।
রেখা ঘুরিয়ে ফোন করলো।।
ফোন বেজে গেল কেউ তুললেন না।
আবার ফোন করে।, এবার গুরুগম্ভীর স্বরে বললেন 'হ্যালো।'
রেখা বলল "মামা আমি রেখা বলছি আপনারা ঠিক টাইমে পৌঁছে গিয়েছিলেন তো? পথে কোন বিপদ-আপদ হয়নি তো?'
ছোট মামা বললেন 'না না কোন বিপদের ঝুঁকি ছিলনা আর আমরা নির্বিঘ্নে পৌঁছে গেছি '।
রেখা হেসে বলল যাক খুব ভালো কথা।"
মামা হেসে আবার বললেন 'রেখা ,পরেরবার তোমার হাতে ইলিশ ভাপা খাব।'
রেখা বলল" একদম মামা।'
মামা বললেন "থাকতে পারলে ভালো হতো।'
"আপনাদের থেকে যেতে বললাম চলে গেলেন।"
আসলে কি বল তো উপায় ছিল না। আমরা তো কোনো প্রস্তুতি নিয়ে যায়নি।'
রেখা বলল' ঠিক আছে ।পরের বার প্রস্তুতি নিয়ে আসবেন।'
'একদম।'
"ঠিক আছে মামা রাখছি। প্রণাম নেবেন ভালো থাকবেন।"
কথা বলতে বলতে ওদিকে কলিংবেলের আওয়াজ "ওম জয় লক্সমি মাতা।"।
রেখা ফোনটা রেখে দ্রুত ছোটে ।
দরজা খুলতেই মনোজ বলল কখন থেকে কলিং বেল বাজাচ্ছি।
'কি করবো বলো?'
"কি করবো মানে?"
আসলে এত টাই নস্টালজিক হয়ে গেছে যে ,সুখের কিছু মুহূর্ত রোমন্থন করছে।
রেখা বলল "কিছু স্মৃতি আছে যেগুলো ভোলা যায় না ।শুধু তাড়িয়ে নিয়ে বেড়ায়।'
মনোজ বলল 'কে ফোন করেছিল?'
'বনমালী মামা।'
'কেন?'
'কি ভাবে পৌঁছেছেন তার কথাই বলছিলেন।'
আবার অন্য একদিন আসবেন,.।'
মনোজ বলল 'আসলে বনমালী মামার জন্য কষ্ট হয় ,ওপরটা এরকম হাসিখুশি নিয়ে থাকেন অথচ ভেতরটা না জানি কতটা যন্ত্রনা।'
রেখা বলল "আমরা জানি বলেই হয়তো ,মামার ভেতর দিয়ে….।'
এ যেন গানের কথা তুমি বলতে ইচ্ছে করে'মনে করো আমি নেই, বসন্ত এসে গেছে। কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে।'
"দারুন বললে তো 'মনোজ বলল।
রেখা বলল' এরকমই হয় জান তো বিরহী মন সব সময় রয়ে যায় ,মনের দুয়ারে দাঁড়িয়ে না থেকে ঘরের দুয়ারে এসে জায়গা নিতে। এ এক অন্তবিহীন যাত্রা।
আজ বনমালী মামার ভেতরে যে টানাপোড়েন চলছে তা মাতলা নদীর ঢেউয়ের থেকে কম নয়।'