০৯ এপ্রিল ২০২২

কবি সুবর্ণ রায় এর কবিতা "বসন্তমাস"




বসন্তমাস



গাছগাছালিতে আগুন লাগা। 
ভালোবাসায় রক্তাক্ত মন।
চুড়ান্ত শিল্পটির নাম বসন্তমাস।

কবি সেলিম সেখ এর কবিতা "হাসি"




হাসি
সেলিম সেখ

তোমার ওই হাসি মুখটি
দেখতাম আমি যখন,
কোথায় যেন হারিয়ে যেতাম
থাকতো না হুঁস তখন।

মুক্তমনের মুক্ত হাসি
জুড়াতো মোর প্রাণ,
তোমার হাসিতে চাঁদের হাসি
হত যে তখন ম্লান।

যখন দেখি তোমার মুখে
থাকতো না কোনো হাসি,
মন চাইতো তোমার কাছে
যেনো ছুটে ছুটে আসি।

মিষ্টি-মধুর কথার ছলে
কেড়েছিলে মোর মন,
সময়ের ক্রমে নিয়েছো জায়গা
আমার হৃদয় কোণ।

মোর হৃদয়ে তোমার নাম
রয়েছে খোদাই করা, 
থাকবে সেথা চিরকাল
আসুক যতই খরা।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮৪




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮৪)
শামীমা আহমেদ 



গাড়ি থেকে নেমে শায়লার চলার গতি ধীর হয়ে যায়। কেমন যেন পায়ে বাধা নিয়ে চলছে। বুবলী ঠিক বুঝতে পারছে না শায়লা আপু কেন এতটা ম্রিয়মান হয়ে আছে।আজ এতদিন পর তার হাজবেন্ড আসছে তারতো অনেক হাসিখুশি থাকবার কথা। গাড়িতে না হয় রাহাত ভাইয়া আর  ড্রাইভার ছিল কিন্তু এখনতো আপুর মধ্যে একটু আগ্রহ আসা উচিত।বুবলী যেন শায়লার অনিচ্ছাতে পার্লারে এনেছে। ও ঠিক বুঝে উঠতে পারছে না কেন আপু এতটা নীরব ! বুবলী শায়লার হাত ধরে লিফটের দিকে এগিয়ে নিলো।কিন্তু শায়লা বারবার যেন পিছনে ফিরে কাউকে দেখবার চেষ্টা করছিল। লিফটে উঠে ওরা আটতলায় পার্লারে নামলো।  পার্লারে ঢুকতেই হেল্পিং মেয়েগুলো এগিয়ে এলো। তারা কি করতে চাইছে জানতে চাইল। বিয়ের সাজ না কোন পার্টি প্রোগ্রাম,না ম্যারিজ এনিভারসারি ? নাকি হলুদ না  পরিবারের কারো বিয়ে ? নাকি আজ বৌভাত, এটা কি নতুন বউ নাকি বাড়িতে  কোন আকদের আয়োজন ? তাদের মধ্যে কে বিয়ের কনে ইত্যাদি ইত্যাদি নানান প্রশ্নবাণে ওরা ওদের ক্লায়েন্টকে কাজে উৎসাহী করে তুলতে চাইছে। তারা দুজন কে কি করতে চায়।পার্লারে নানান রকম প্যাকেজ অফার শোনাতে লাগলো। বুবলী একা সিদ্ধান্ত নিতে পারছিল না। সে চাইছিল শায়লার ইচ্ছে মতই সব কিছু হউক। কিন্তু  বুবলী লক্ষ্য করছে আপুকে কেমন যেন অন্যমনস্ক লাগছে । বুবলী জানে মেয়েরা বিয়ের দিন একটু আপসেট থাকে।জন্ম থেকে চেনা বাবার বাড়ির পরিবেশ থেকে অচেনা একটা মানুষকে তার পরিবারকে আপন করতে হয় এতে মেয়েরা একটু আবেগপ্রবণ হয়ে উঠে। কিন্তু শায়লা আপুর মুখটায় ঠিক সে রকমের কোন উৎকন্ঠা না তবে অন্য কেমন যেন মনটা ভার হয়ে আছে। 
তবুও যার বিয়ে তার ইচ্ছের তো মূল্য দিতে হবে। বুবলী শায়লাকে এক ঝাকুনি দিয়ে বললো, আপু তোমার কি হয়েছে ? ওরা এত রকম অফার দিচ্ছে তুমি কিছুই বলছো না ?  
কোনটা কি করাবো বুঝতে পারছিনা তো। 
পরক্ষনেই শায়লা কথা বলে উঠলো। বুবলী তুমি যেটা ভালো মনে করো সেটাই করো। এবার বুবলীর পক্ষে সিদ্ধান্ত  নিতে সহজ হলো। সে তার অনেক বান্ধবীর সাথে এভাবে বিয়ের আগে পার্লারে গেছে। তার অভিজ্ঞতা থেকে তাই বুবলী জানিয়ে দিলো,আজ আপুর হাজবেন্ড এক বছর পর কানাডা থেকে দেশে ফিরছেন। আপু একটু ফ্রেশ হতে চাইছেন। পার্লারের মেয়েরা এবার বুঝে নিলো কি করতে হবে। ওরা জানিয়ে দিল মাথার চুল থেকে পায়ের নখ পর্যন্ত যা যা করনীয় ওরা তা করে দিবে। বুবলী এবার একটু সুস্থির হলো । ওদের ওপর সব কিছু ছেড়ে দিলো। শুধু জানতে চাইলো  টোটাল কত খরচ পড়বে ? উত্তর শুনে  বুবলী কাজ শুরু করে দিতে বললেন। রাহাত আগেই বুবলীকে বেশ মোটা অংকের টাকা দিয়ে রেখেছিল গাড়িতে আসার সময়। বুবলী মোবাইলে রাহাতকে জানিয়ে দিলো যে কতটাকা লাগছে আর কতটা সময় লাগবে।রাহাত দুটোতেই সম্মতি জানিয়ে কাজে এগিয়ে যেতে বললো। যদিও নোমান সাহেব প্রতি মাসে নিয়মিতই শায়লার একাউন্টে বেশ মোটা অংকের টাকা পাঠাতো
স্ত্রীর  প্রতি খুবই মহান একটা দায়িত্ব  সে পালন করেছে । তবে শায়লা কখনো সেই একাউন্টের টাকা ধরেও দেখেনি। এই দেড় বছরে বেশ অনেক পরিমাণ টাকাই জমেছে। শায়লার কখনো সে টাকা ছুঁয়েও দেখেনি।আসলে শায়লা কখনোই মন থেকে নোমান সাহেবকে আপন করে নিতে পারেনি। আর তা সম্ভবও নয়। যেখানে শিহাব তার পুরোটা  মন জুড়ে দখল করে আছে।  কাজের শুরুতে প্যাকেজের আওতায় যা যা করতে হবে ওরা কয়েকজন মিলে তা শুরু করে দিলো।বুবলী দেখছে শায়লা আপু খুবই চিন্তামগ্ন। ওর সাথেও খুব একটা কথা বলছে না। বুবলী নিজের জন্য টুকটাক কিছু কাজ সিলেক্ট করে সেও বসে গেলো।  হঠাৎই দেখলো শায়লার একটা মেসেজ এলো। মোবাইলে তাকিয়েই শায়লার সারা মুখে হাসির দীপ্তি ছড়িয়ে গেলো ! বুবলী ভাবলো নিশ্চয়ই দুলাভাইয়ের মেসেজ। তাইতো আপু এত খুশি হলো। হয়তো এজন্যই আপু মন খারাপ করে ছিল এতক্ষন। কিন্তু বুবলী বুঝতে পারছে না কিভাবে মেসেজ এলো ?  দুলাভাইতো এখন ফ্লাইটে । সে কিভাবে মেসেজ পাঠাবে ? বুবলী মনের ভেতর প্রশ্নটা নিয়ে আয়নায় তাকালো।
কেমন যেন ঘটকা লাগছে তার কাছে। মনে হলো আপুকে একটু জোর করেই যেন পার্লারে আনা হলো। বুবলীর সব কেমন যেন এলোমেলো লাগছে। সে নিজের দিকে মনযোগ আনলো। হ্যাঁ চুলটা একটু স্ট্যাইল করে কাটতে হবে। নয়তো ভাল লাগবে না।
যদিও এখন সবকিছুই শায়লার ইচ্ছার বাইরে করতে হচ্ছে কিন্তু এইমাত্র শিহাবের মেসেজ পেয়েই শায়লা যেন উজ্জীবিত হয়ে উঠলো !
শিহাবের চমৎকার মেসেজ ! 
তোমার যতক্ষন ইচ্ছে সময় নাও।আমি নিচে তোমার জন্য অপেক্ষায় আছি । তুমি নেমে আমার বাইকে চলে আসবে।আমরা আজ ঢাকার বাইরে চলে যাবো। 
শায়লার চোখ আনন্দে হেসে উঠলো ! সে শুধু লাভ রিয়াক্ট দিয়ে  সম্মতি জানিয়ে মোবাইল  ব্যাগে তুলে রাখলো। মেয়েগুলো  একেকজন শায়লার  হাত পা চুল নিয়ে টানাটানি শুরু করে দিলো। তারা শায়লার ম্যানিকিওর পেডিকিওর হেয়ার অয়েল ট্রিটমেন্ট করছে। হেয়ার মাসাজ হবে এরপর। তাছাড়া এখনোতো ফেসিয়াল ভ্রু প্লাক আরোমা স্পা বডি মাসাজ  আর হেয়ার সেটিং বাকী। সব মিলিয়ে দু'ঘন্টা লেগে যাবে। নিশ্চয়ই  শিহাব তার জন্য অপেক্ষা করবে। শিহাব মেরুন রঙা শার্ট পরা ছিল আজ।শায়লা একঝলক দেখেছে।আর সেটাই যেন চোখে লেগে আছে। শায়লা সামনের বড় আয়নায় তার দৃষ্টি নিবদ্ধ করলো। ভেবে নিল, আজকের এই সাজটা যদি শিহাবের জন্য হতো তবে যেন শায়লা হতো পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানবী। কিন্তু সেকি পারবে রাহাতকে এড়িয়ে শিহাবের কাছে যেতে ? এ কথা ভাবতেই তার চোখ জলে ভরে গেলো।

শায়লা আর বুবলী  গাড়ি থেকে নেমে যেতেই রাহাত ড্রাইভার মুনীরকে  আন্ডারগ্রাউন্ডে গাড়ি রাখতে বলে সে গাড়ি থেকে বেরিয়ে এলো। রাহাতের ইচ্ছা শিহাবের সাথে কথা বলার। আর তা ড্রাইভার মুনীর যেন দেখতে না পায়। রাহাত সবসময়ই ড্রাইভার দারোয়ান কাজের লোকদের থেকে সাবধান থাকে। ওরা নানানজনে কথা ছড়ায়। 
রাহাত শিহাবের দিকে এগিয়ে গেলো।রাহাত দেখলো  মেরুন রঙা শার্টে শিহাবকে দারুণ হ্যান্ডসাম লাগছে। রাহাত সালাম দিয়ে দুজনেই হাত বাড়িয়ে হ্যান্ডশেক করে নিলো।
শায়লার কারনে দুজনে একসময় খুব কাছাকাছি এসেছিল। শিহাবের চাওয়াকে বাস্তব রূপ  দেয়ার জন্য রাহাত প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিল। কিন্তু মাঝপথে রাহাত নিযেকে পালটে  ফেলেছে।বলা যায় শায়লা আর শিহাবের সাথে সে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।অবশ্য এতে শিহাবের কিছু আসে যায় না। শায়লাকে আপন করে পেতে সে একাই যথেষ্ট।  
কেমন আছেন শিহাব ভাইয়া ? রাহাত খুবই নমনীয় ভাষায় কথা বললো।
শিহাব রাহাতকে তার মনের দৃঢ়তা প্রকাশ করতে জানালো, আমি এই মূহুর্তে খুব ভালো আছি। আমি শায়লার জন্য অপেক্ষায় আছি।এটাই আমার সবচেয়ে মধুর সময় রাহাত। আর তুমি এটা খুব ভালো করেই জানো তোমার আপু আমার কাছে কতখানি ভালোবাসার। রাহাত নিজেকে যেন সবকিছুর জন্য অপরাধী ভাবছে।তবুও পরিবারের সম্মানের দিক বিবেচনায় তাকে এতটা  কঠোর হতে হয়েছে,জানালো রাহাত।
শিহাব তাতে এতটুকুও বিচলিত না হয়ে বললো, তুমি চিন্তা করোনা রাহাত, তোমার আপু আমাকে ছাড়া আর কাউকে ভালবাসতে পারবে না কোনদিন। সংসার করাতো দূরের কথা।
রাহাত এবার যেন ভেঙে পড়লো।  যদিও শিহাবকে রাহাতের নিজেরও খুবই ভালো লাগে কিন্তু তার কিছুই করার নেই। রাহাত বললো, ভাইয়া,  আপনার আর আপুর সম্পর্কটা যদি আপুর বিয়ের আগের হতো তাহলে আমি নিজেই আপুকে আপনার হাতে তুলে দিতাম। কিন্তু একজন বিবাহিতা নারী অন্যের দাবীদার। সেটাতো আমি ছিনিয়ে নিতে পারি না।
শিহাব যেন শায়লার হয়ে আজ তার বক্তব্য রাখছে। শিহাব আবার বলতে শুরু করলো, 
রাহাত শায়লার বিয়েতে তোমরা নিজেদের স্বার্থটাই দেখেছো। তাইতো শায়লার মত না নিয়ে ওকে তোমরা বিয়ে দিয়েছো। বিয়ের আগে না পরে জানিনা, আমি শায়লাকে ভালোবাসি।আর শায়লাও আমাকে ভালবাসে।সে কানাডা যেতে চায়না। সে দেশে থাকতে চায়, সে  আমাকেই চায়। আমরা এক হবোই। 
এবার রাহাত ভীষণভাবে ভীত হয়ে গেলো।সে হাত জোড় করে শিহাবের কাছে নানান আকুতি রাখছে। আমাদের পরিবারের মান সম্মান নষ্ট হবে শিহাব ভাইয়া, ছোট বোনের শ্বশুর বাড়ির লোকজন বোনকে কথা শুনাবে। আত্মীয় স্বজনের কাছে আমরা ছোট  হয়ে যাবো। সেই দূরদেশ থেকে নোমান  ভাইয়া আসছে তার স্ত্রীর প্রতি তার পূর্ণ অধিকার আছে। সে এবার আপুকে নিয়ে যাবে।
শিহাব রাহাতের কথা খন্ডন করে বললো, সে কি শায়লাকে স্ত্রী হিসেবে নিবে না তার দুই সন্তানকে লালন পালনের জন্য নিবে ? হ্যাঁ, আমারো সন্তান আছে। তবে শায়লাকে আমি আগে ভালোবেসেছি তারপর আরাফের মা করে নিতে চেয়েছি। এখানে আমরা দুজন দুজনকে আগে চেয়েছি শুধু ভালোবেসে।
রাহাত বলেই চলেছে, শিহাব ভাইয়া একটু বুঝতে চেষ্টা করুন। বাসা ভর্তি মেহমান এসেছে, নোমান ভাইয়া আজ আসছেন তাকে অপমান করা কোন ভদ্রজনোচিত কাজ হবে না 
শিহাব ভাইয়া। 
সে আমি জানতে চাইনা।তোমাদের উচিত ছিল তাকে দেশে আসতে নিষেধ করা।  শিহাব রাহাতের প্রতিটি কথা খুব ঠান্ডা মাথায় খন্ডন করে দিচ্ছে। সে রাহাতকে জানালো, দেখো রাহাত,  তোমার আপু আমার সাথে অনেকবার দেখা করেছে। আমিও তাকে দেখতে চেয়ে আসতে বলেছি। আমি চাইলে কিন্তু তখন তাকে আটকে ফেলতে পারতাম।আমি জোর করলে তোমার আপু থেকে  যেতো।আর সেটাই হতো  তোমাদের পরিবারের জন্য  অসম্মানের। আর তুমি যখন বুঝতে পেরেছো  আমি আর শায়লা পরস্পরকে ভালবেসেছি, ভাই হিসেবে তোমার উচিত ছিল নোমান সাহেবকে বুঝিয়ে বিয়ের সম্পর্কটা ওখানেই শেষ করা। কিন্তু তুমি তোমরা বেচারী শায়লাকে সেই দূরদেশে ওর চেয়েও অনেক বয়সের ব্যবধানের এমন একজনের সাথে বিয়ে দিয়েছো। তুমি নিজে ভাল থাকবার জন্য  শায়লার মন মত কোন কিছুর দিকে তাকাচ্ছো না। এটা খুব অন্যায় হচ্ছে।
কিন্তু শিহাব ভাইয়া এগুলো এখন বলে আর কি হবে ? 
কেন ? শায়লা তোমাকে বলেনি নোমান সাহেবকে আসতে নিষেধ করে দাও। তোমরা সেটা শুনোনি। তবে জেনে রাখো, শায়লা আমার এবং সে আমার সাথেই তার বাকী জীবন কাটাবে। সে নামলেই আমি তাকে বাইকে তুলে নিবো। আমার  বাসাতেই নিয়ে যাবো।তোমাকে ঠিকানা জানাবো বোনকে দেখে আসবে।
আমি সবকিছুতেই খুব স্বচ্ছতা পছন্দ করি রাহাত। শিহাবের কথাগুলোতে রাহাত ভীষণ অবাক হয়ে যাচ্ছিল। 
রাহাত বুঝতে পারছে না কিভাবে শিহাব ভাইয়্য এতটা আত্মবিশ্বাস নিয়ে কথা বলছে। তবে কি ভালবাসার শক্তি সবকিছু জয় করার সাহস যোগায়। শায়লা আপুও যেন পরিবার স্বামী সব কিছুকে উপেক্ষা করছে।রাহাত বুঝতে পারছে না সে এখন কি করবে ?  আর কয়েক ঘন্টা পরেই নোমান সাহেব চলে আসছেন। এখন শিহাব ভাইয়াকে কি দিয়ে থামাবে? তবে রাহাত ভাবছে, সে চাইলে এখুনি শায়লাকে শিহাবের হাতে তুলে দিতে পারে।কিন্তু বৃদ্ধ মা, আত্মীয়স্বজন, পারিপার্শ্বিকতা মান সম্মান কিভাবে এগুলোর মোকাবেলা করবে ? অপরাধবোধে রাহাতের মনের ভেতর কুরে করে খাচ্ছে। সে গভীর চিন্তায় ডুবে গেলো !
হঠাৎই  শিহাবের মোবাইল বেজে উঠলো ! ওপারের খবর শুনে ধবধবে উজালা শিহারের মুখখানি নিমেষেই কালো অন্ধকারে ডুবে গেলো।
রাহাত ওপ্রান্তের খবরটা জানতে উদগ্রীব হয়ে রইল।


চলবে....

কবি ফারজানা  আফরোজ এর কবিতা " সেলফি"




সেলফি
ফারজানা  আফরোজ 

সেলফি তুলছি নদী,সাগর,পাহাড়ে
সেলফি তুলছি ঘরে কভু বাহিরে
সেলফি তুলছি হাটে-ঘাটে,বাজারে
সেলফি তুলছি পার্কে,উদ্যানে
সেলফি তুলছি গাড়িতে ঘুরতে।
সেলফি তুলছি গ্রামে আর শহরে
সেলফি তুলছি খেতে খেতে টেবিলে
সেলফি তুলছি একা বা দল বেধে
সেলফি তুলছি আলোচনা,পোগ্রামে
সেলফি তুলছি কবরে বা শশ্বানে।
সেলফির সাথে দিই কত রকম ক্যাপশন
সেলফি তুলতে কভু ঘটে  অঘটন।
সেলফি তুলতে সবাই যে অস্থির,
সেলফির মত যেন নিজ নিয়েই ব্যস্ত।
সেলফির এই যুগে রাখে কে কার খবর,
সেলফির মত একা কভু লাগে এখন।
সেলফিতে ভেসে ওঠে কত শত প্রিয় মুখ,
সেলফিতে রয়ে যায় চলে যাওয়া বহু ক্ষণ।

Nj jsu

LOVE

০৮ এপ্রিল ২০২২

মমতা রায় চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৪৭




উপন্যাস 

টানাপড়েন ১৪৭
সোনাইয়ের হার
মমতা রায় চৌধুরী



ক্লান্ত অবসন্ন দেহে রেখা বাড়ি ফিরে একটা কথাও বলতে পারে নি মনোজের সাথে। আজ যেভাবে বস্তির হাহাকার দেখেছে সেটা ভুলবার নয়।
দু 'চোখ তখন চলে ভেজা। কলিং বেল বাজানোর সঙ্গে সঙ্গে মনোজ দরজাটা খুলে দিয়ে বলে"কি ব্যাপার এত রাত হল কেন?"
রেখা কোন কথা না বলে ব্যাগটা নামিয়ে রেখে সোজা চলে যায় ওয়াশরুমে।মনোজ ও 
কেমন ঘাবড়ে যায়।রেখার চোখ মুখ দেখে চমকে ওঠে। বড় রকমের কিছু একটা ঘটনা ঘটে গেছে। কালবৈশাখী ঝড় আসার আগের মুহূর্তে যেমন নিস্তব্ধ একটা রুদ্ধশ্বাস মুহূর্ত থাকে, চলে যাবার পর বিধ্বস্ত করে দিয়ে যায়। রেখাকে দেখে ঠিক সে রকম মনে হলো মনোজের।
ওয়াশরুম থেকে বেরোনোর আগে মনোজ  বেশ সুন্দর করে  ব্ল্যাক কফি বানিয়ে ফেলে। রেখা বেরোনোর সঙ্গে সঙ্গে কফির কাপটা এগিয়ে দেয় 
রেখা ম্লান হেসে বলে 'এটাতে একটু এনার্জি পাব।'থ্যাঙ্ক ইউ।
মনোজ বলে  'মোস্ট ওয়েলকামi
রেখা ড্রয়িং রুমের সোফাটায় গা টা এলিয়ে দিয়ে বসে কফিতে চুমুক লাগায়।
মনোজ বলে,' স্কুলের এতো দায়িত্ব তুমি নিতে যাও কেন ?শরীর যখন পারমিট করে না।'
রেখা এখনো জোর করে হাসে। সবাই যদি বলি দায়িত্ব নেব না ,তাহলে কি করে  চলবে বলো?'
"হ্যাঁ হ্যাঁ পৃথিবীর সব দায়িত্ব যেন তোমাকেই নিতে হবে।"
"আমি কি পৃথিবীর সব দায়িত্ব নিতে 
পারি ?আমার কি সেই ক্ষমতা ঈশ্বর দিয়েছেন বলো? যেটুকু দিয়েছেন সেটুকুই করার চেষ্টা করি।'
"আরে তোমার শরীর তো পারমিট করছে না সেজন্যই বলা।'
"Ok
তোমার যেটা ভালো লাগে তুমি সেটাই কর। আমি কিছু বলতে যাব না।"
"তোমাকে একবার ফোন করেছিলাম ফোনটা ধরলে না?"
"আরে ধরবো কি এদিকে তো একটা বিশাল কান্ড হয়ে গেছে। আমরা তো সব ওই নিয়েই ব্যস্ত ছিলাম।"
রেখা তো অবাক হয়ে জিজ্ঞাসা করে" কি হয়েছিল?"
"আর বোলো না ।সোনাই,সোনাইএর গলার হার চুরি হয়ে গেছিল।"
"সোনাই বলতে আমাদের পার্থর দাদার
 ছেলে? মানে পার্থর ভাইপো?"
"হ্যাঁ গো হ্যাঁ।"
" কি করে,?"
'কি করে আবার। ও তো ছোট কিন্তু কি পাকা পাকা  কথা বলে শুনেছো তো?
স্কুলে যেরকম রোজ দিয়ে আসা হয় ঠিক সেভাবেই দিয়ে আসা হয়েছে।
সোনাই যথারীতি স্কুলে গেছে , খেলেছে, স্বাভাবিক নিয়মে যা যা করা উচিত সবকিছু করেছে। বাড়িতে ফিরে আসার পর সোনাইয়ের মা মানে মধুজা। সোনার হারটা গলায় দেখতে পাচ্ছে না স্কুল ড্রেসটা ছাড়াতে গেছে তখনই। একেবারে হূলস্থূল  কান্ড বাঁধিয়ে  ফেলেছে।এবার মধুজা যতবার জিজ্ঞেস করছে সোনাইকে "বাবা তোমার গলার হার টা কি হলো?"
ততবার উল্টোপাল্টা জবাব দিচ্ছে। কখনো বলছে রান্নার পিসি দিদা নিয়েছে।'
মধুজা যখন বলছে ঠিক করে মনে করার চেষ্টা করো সোনাই। তখন মাথা চুলকে বলেছে
"না ,না ছোট দিদা।'
মধুজা তখন ধমক দিয়ে বলেছে কি বলছ
 সব ।ঠিক করে মনে করো।
ওদিকে মধুজার তখন ভেতরে ভেতরে পাল পিটিশন শুরু হয়ে গেছে।
সোনাই বলছে' আমি জানিনা ।আমি কিছু জানি না।
মধুজা  দেখল এভাবে তো হবেনা ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেল কারণ মধুজার মা ওই সোনার হার নাতিকে অন্নপ্রাশনে দিয়েছিল। তার সাথে অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। ভালোবাসা, আশীর্বাদ আছে।
মধু যার মা যখন ব্যাপারটা শুনতে পেরেছে তখন থেকেই ফোনের ফোনের পর ফোন করে যাচ্ছে মধুজাকে আর কান্না করছে ভ্যা ভ্যা করে।
বিরক্ত হয়ে মধুজা এক সময় বলেও দিয়েছে
ওর মাকে"তুমি কি কান্না করার জন্য ফোনটা করেছ মা?"
"আমি কত শখ করে নাতি টাকে দিলাম বল?"
ওদিক থেকে মধুজার বাবা বলেছে তুমি ফোনটা আমাকে দাও তো সারাক্ষণ ফোনে কেটে যাচ্ছে মেয়েটার মনের অবস্থাটা বুঝতে পারছ?
আরে মা যা গেছে তা গেছে ওই নিয়ে মন খারাপ করিস না ধরে নে ওটা তোদের ভাগ্যে নেই।?
মধুজা বলেছে" হ্যাঁ বাবা তাছাড়া আবার কি কিন্তু ভেতরে ভেতরে তো কষ্ট পাচ্ছি সেটা প্রকাশ
না।'
তুমি একটু মাকে সামলাও।"
এদিক থেকে মধুজার ঠাকুরমা শাশুড়ি কান্না করে ভাসাচ্ছে। তোমরাই তো আমাকে দোষ দেবে বলো, নাত বৌ'।
"কেন আপনাকে দোষ দেবো কেন আপনি আবার কান্নার পড়তে বসে গেলেন কেন?'
"না আজকে তো সোনাইকে আমি নিয়ে গিয়েছিলাম।"
"আরে বাবা, ওটা তো আমি নিয়ে গেলেও হতে পারতো?"
মধুজা এভাবে সান্ত্বনা দিয়ে যাচ্ছে।
ওদিকে পার্থর ঠাকুমা যা সাত-সেপান্ত শুরু করে দিয়েছে তা বলার অপেক্ষা নেই।।
"আমাদের  নাতির ছেলেটার সোনার হার চুরি করেছিস? তোদের তেরাত্রি পোহাবে না বলে দিলাম।"
জানো রেখা, বাড়িতে আমরা গিয়ে তো মানে বিচিত্র সব পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছি।
তারপর মধুজা একটা বুদ্ধি খাটিয়েছে
 সোনাইকে ভালবেসে কাছে টেনে কোলে বসিয়ে আদর করতে করতে জিজ্ঞেস করেছে তোমার স্কুলে কেউ তোমার এই হারটা দেখছিল?
তখন সোনাই বলছে" হ্যাঁ মাম মাম'। ওই যে টিকুর মা , জেম মা আমার গলা থেকে টান দিয়ে নিয়ে গেল। কথাটা শুনে তো মধুজার মাথা ভো ,ভো করে ঘুরতে লাগলো। তখনো সোনাই দুই হাত তুলে জামার ভেতর থেকে কিভাবে টান মেরে নিয়েছে সেসব দেখাতে লাগল মাকে।
কিন্তু টিকুর মা ও রকম কাজ করবে এটা কল্পনাতে ও আসে নি।
মধুজা সঙ্গে সঙ্গে বাড়ির সবাইকে কথাটা জানায়। আর জানানোর সঙ্গে সঙ্গেই মধুজার স্বামী দেওর অর্থাৎ পার্থ এবং আমরা সকলেই টিকুদের বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে টিকুর মাকে জিজ্ঞাসা করে স্কুলে এমন কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা?
টিকুর মা তাতে যে উত্তর দিয়েছিল তাতে অনেক অসংলগ্নতা ধরা পড়েছিল।
টিকুর মা বলেছিল সোনাইয়ের গলায় তো কোন হার ছিল না।'
কথায় বলে না চুরি করলে চোর কিছু না কিছু  ক্লু রেখে যায় ।এ যেন সেরকমই ঘটনার পুনরাবৃত্তি।
কিন্তু টিপুদের বাড়িতে লোকজন আসতে দেখে টি কোন মায়ের ভেতরেও একটা পালপিটেশন শুরু হয়ে গেছিল বুকের ভেতরটা ধরাস করে উঠেছিল।
তবুও সে মনের জোরে বলে গেছে "সে এসবের কিছুই জানে না।"
তার অবস্থাটা হয়েছিল এরকমই ভাঙবে তবু মচকাবে না।
তারপর পার্থরা যখন সকলে থানা পুলিশের ভয় দেখায় তাতেও কোন কার্যকরী হয় না।
তারপর আমরা সকলে বাড়ি ফিরে আসি ইতিমধ্যে খবর হয় যে টিকুর মাকে নাকি ঐদিন
স্কুল থেকে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে কাঁচরাপারা গেছে।'
স্পাই তো লাগানোই ছিল। তারাও তোকে ছিল কোথায় যায় দেখবে বলে।
স্কুটি করে এদিক ওদিক ঘুরতে দেখা গেছে।
এমনকি ওই দিন স্টেট ব্যাঙ্কেও গেছে ।
 প্রসঙ্গক্রমে ব্যাংকে উপস্থিত ছিল মধুজাদের রাধুনী পিসি।
রাধুনী পিসির বক্তব্য অনুযায়ী ব্যাংকে গিয়ে খুব তাড়াহুড়ো করছিল এবং লাইনে দাঁড়ানো দুই একজনকে অনুরোধ করেছে ,তাকে ছেড়ে দেবার জন্য। যথারীতি ছেড়েও দেয়া হয়েছে ।ছেড়ে দেওয়ার পর সে তখন ব্যাংকের আধিকারিকদের বলেছে "তার একটু কাজ আছে তো, এই জন্য একটু তাড়াতাড়ি করছে ,সেখানে যেতেই হবে।"
ব্যাংকের আধিকারিক দের মধ্যে একজন বলছেন "আপনার তো কমাস একাউন্টে টাকাই ফেলা হয়নি ।৪০ টাকা ব্যালেন্স পড়ে রয়েছে।"
তখন টিকুর মা হেসে বলেছে "এইতো এখন একসঙ্গে অনেকগুলো টাকা জমা করব।
কুড়ি থেকে বাইশ হাজার টাকা সে জমা করেছে।
এবার সকলের সন্দেহ আরো দানা বাঁধতে শুরু করেছে।
রেখা অবাক হয়ে বলে' টিকুর মা ওদের কিসের অভাব?"
রেখা যেন গাছ থেকে পড়ল ,হাত পা ভেঙ্গেচুরে গেল। "জাস্ট আমি নিতে পারছি না।"
মানুষগুলোকে যেন তাদের চরিত্রের সঙ্গেমেলাতে পারছি না ।সব কেমন অচেনা মনে হচ্ছে।কুয়াশার চাদর জড়িয়ে রেখেছে যেন একটা মুখোশ পরে আছে।"
মনোজ বলে "সেটাই তো?
শোনো তারপরে কি হয়েছে?"
অবাক চোখে বলে" এর পরেও আরও কিছু ঘটেছে?"
মনোজ বলে 'কাহিনী আভি বাকি হ্যায়?'
রেখা উৎসব দৃষ্টি নিয়ে বলে "বলো, বলো।"
এদিকে তো মোটামুটি আমরা সবাই ঘটনাটা জেনে গেছি ।তখন পার্থর দাদা সঞ্জীব ওতো পঞ্চায়েত অফিসে কাজ করেছে । এই সূত্রে মোটামুটি পুলিশ আধিকারিক থেকে শুরু করে আশেপাশের দোকানগুলোর সকলের সঙ্গে পরিচিত আছে।
আমরা তো সবাই তককে তককে ছিলাম যে "সোনার দোকানগুলোতে খোঁজ নিতে হবে।
আর চোর কিছু ভুল স্টেপ নেবেই "এবং দেখা গেছে স্টেট ব্যাঙ্কে আসার আগে ও সোনার দোকানে গেছে। যখন সোনার দোকানে গিয়ে ভেরিফাই করেছে সঞ্জীব। তাতে দেখা গেছে হুবহু মিলে গেছে।
প্রথমদিকে তো সোনার দোকানদার স্বীকার করতে চায়নি ।পরে যখন পুলিশের ভয় দেখিয়েছে যে একটা ইনভেস্টিগেশনে আসবে তখন দোকানদার বলেছে হ্যাঁ একজন ভদ্রমহিলা দোকানে একটা হার  দিয়ে গেছে।
সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জীব উৎসব দৃষ্টি নিয়ে বলেছে" আচ্ছা দেখান তাহলে হারটা কিরকম দেখি।"
দোকানদার ভেতরের কর্মচারীকে যখন হারটা নিয়ে আসতে বলেছে, সেই হার দেখে তো সঞ্জীবের। চরক গাছ ।সঞ্জীব সঙ্গে সঙ্গে পার্থ আর আমাকে ফোন করেছে। আমরা ও সেখানে চলে যাই।
তখন দোকানদার বলেছে "তার কোন দোষ 
নেই। "তাদের তো কাজই কেনা বেচা। পেয়েছে কিনে নিয়েছে। কি করে জানব বলুন এটা চোরাই মাল।"আপনার তাকে!কোন অসুবিধা 
নেই ।আপনি চিনতে পারবেন সেই মহিলাকে ,যিনি বিক্রি করেছেন ?
বলছে "হ্যাঁ কেন পারব না।"
ইতিমধ্যেই পার্থ আর আমি চলে যাই দোকানে এবং আমরা গিয়ে সেই মহিলার বর্ণনা শুনি
বর্ণনা অনুযায়ী যা বলেছে তাতে হুবহু টিকুর মা।
বেশ ছিপ  ছিপে লম্বা শ্যামলা বরণ এক ফিট চুল নাকটা তো টিকালো, চোখগুলো ছোট।
সঞ্জীব তো আনন্দ উল্লাসে চিৎকার করে বলেছে একদম ঠিক ঠিক বলেছেন আপনি।"
তখন পার্থ বলেছে, আপনি এই হার কাউকে বিক্রি করবেন না আমরা টাকা দিয়ে আপনার কাছ থেকেই হার নিয়ে নেব।
সঙ্গে সঙ্গে সঞ্জীব পার্থ আর আমাকে বলল'টিকুদের বাড়ি যেতে এবং সেখানে গিয়ে পুলিশ নিয়ে গিয়ে ভয় দেখানোর কথা বলতে।
সঞ্জীব টাকা মিটিয়ে হারটা নেবে বলে আশ্বাস দিয়ে আসে দোকানদারকে।।
রেখা বলছে বলছো কি? এত কিছু কান্ড?"
মনোজ বলছে তাহলে আর বলছি কি?
রেখা বললো 'তারপর ।তারপর',।
তারপর পার্থ আর আমি যখন টিপুদের বাড়ি যাই টিপুর মাকে গিয়ে ভালোভাবে বলাতেও সে কিন্তু স্বীকার করতে চাইলো না। তখন যখন পার্থ বলল ঠিক আছে আমরা পুলিশে গিয়ে রিপোর্ট করি। পুলিশ এসে তদন্ত করুক আর আমরাও সোনার দোকানগুলোতে খোঁজ লাগাচ্ছি।
পুলিশের কথা শুনতেই যে কোন মা বলে হ্যাঁ সে নিয়েছে আসলে তার একটু টাকার দরকার হয়ে পড়েছিল।
গ**** বাড়ির লোকজন কথাটা শুনে তো একেবারে থ।
চিকুর বাবা তো পারলে এই মারে তো সেই মারে।
শাশুড়িরা বলতে শুরু করে এই বউ সংসারের মান সম্মান সব ডুবিয়ে দিল, চোখে কালি লাগিয়ে দিল।।"
তখন পার্থ বলল 'ঠিক আছে আমরা পুলিশে রিপোর্ট করব না আমাদের টাকা দিন।
মা বলে ঠিক আছে একটু ওয়েট করুন ব্যাংক থেকে টাকা তুলে আপনাদের দিয়ে দিচ্ছি।
পার্থ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে চেষ্টা করল।
বললাম ঠিক আছে।
পার্থ তখন বলল ঠিক আছে আপনি টাকার ব্যবস্থা করুন।।
কি করে মা বলল আমাকে আধঘন্টা সময় দিন।
আমি তখন ঘাড় নাম পার্থর দিকে পার্থ ইশারায় বুঝতে পেরে বলে ঠিক আছে আপনি যান টাকা তুলে নিয়ে আসুন।।
যথারীতি ব্যাংকে গিয়ে আবার টাকা তুলে পার্থর হাতে দিলো।
পার্থ আর আমি সঙ্গে সঙ্গে টাকা নিয়ে সেই সোনার দোকানে পৌঁছে যাই,।
সঞ্জীবের হাতে টাকাগুলো দেয়া হলো ।সঞ্জীব সোনার দোকানে টাকাটা পেইড করল।
তারপর হার নিয়ে সোজা বাড়ি।
এসব করতে করতেই তো পাঁচটা বেজে গেল।
সোনার দোকানদার বলল "আমাদের যেন পুলিশে ধরিয়ে দেবেন না প্লিজ।"
সঞ্জীব বলল "ক্ষেপেছেন নাকি?'
দোকানদার বলল জানেন আরও কি ঘটেছ?"
 এই আপনারা আসার আধঘন্টা আগে।
পার্থ বলল কি.।
দোকানদার বলল ওই মহিলা এসে বলল তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন আসতে পারে তাদেরকে না জানিয়েআংটিটি বিক্রি করেছে।"
মনোজ বলল "বাড়ির লোকে এসবের বিন্দু বিসর্গ জানে না।"
 তারপরে এসব কাজ-টাজ মিটে  যাওয়ার পর? বাড়িতে এসে হারটা 
মধুজার হাতে দেয়।
মধুজা হার পেয়ে ভীষণ খুশি এবং আনন্দে তার কানের লোমগুলো পর্যন্ত দাঁড়িয়ে গেছে।।
সোনাই হারটা দেখতে পেয়ে ছুটে এসে বলেছে' এইতো এটা আমার হার।"
রেখা বলে "বলো কি? টিকুদের কি অভাব আছে বল? 
স্বভাব দোষে এইসব কাজ করা। ওই পরিবারের মান সম্মান বলে আর কিছু থাকলো না।
মানুষ গুলো কেমন বিচিত্র হয়ে যাচ্ছে কারো নিত্য অভাব ,জ্বলছে পেটে আগুন কারোর স্বভাবে জ্বলছে আগুন।
রেখা বলল "তবে এরপর কিন্তু স্কুলটার বদনাম হবে, স্কুল এর  হেড মিস্ট্রেস যদি সঠিক পদক্ষেপ না নেন ,তাহলে ছাত্রীর সংখ্যা কমতে শুরু করবে। কেননা চোরাই স্কুলে জিনিসের সঙ্গে সঙ্গে বাচ্চাদের প্রাণের রিক্সটা নিতে পারবে না। "
"হ্যাঁ, স্কুল থেকেও বলে দিয়েছে।এক রকম ওয়ার্নিং দিয়েছে ভবিষ্যতে এরকম যেন না হয়।
এবং গার্জেন মিটিংও করবে এরকমও জানিয়ে দিয়েছে। সেখানেই হয়তো ডিসিশান নেবে।"
তবে হারটা পেয়ে সোনাই খুব খুশি হয়েছে।

কবি কামরুন নাহার এর কবিতা "নীল আকাশ"





নীল আকাশ 
কামরুন নাহার 

কেউ জানে না
কার আকাশের কালো মেঘের 
কাব্যগুলো কতটা নীল!

কার আকাশের স্বপ্নগুলো
ঝলসে আগুন!
কার পৃথিবী বুনো হাওয়ায়
মাতাল প্রায়! 

কার জীবনের অজানা ভুল 
ঝরা পাতা আর ভীষণ ধূসর। 
কার আকাশের তারাগুলো
অস্তগামী সন্ধ্যাপ্রায়।

জীবন নদী কতটা দীর্ঘ 
কেউ জানে না!
জলের তৃষ্ণা কার কতটা
কেউ জানে কি? 
কার সমুদ্র কতটা বিশাল
কেউ জানে কি?
কার আগুনে কতটা তেজ 
কেই বা জানে!

তবু আঙ্গুল তুলি
কথায় ভুলি
ভুলের রাজ্যে জীবন গড়ি।  
ভুলের এই পৃথিবীতে
মন যুদ্ধ করে চলি।

হতেম যদি
নির্ভীক কোন ছন্নছাড়া  
যে ভূবন কাঁপায়
তারার মেলায় 
আর গোধূলি আলোয় 
নিজকে দেখে স্বপ্ন ভেলায়।

আর শহরজুড়ে তানপুরাদের
রাগ শুনে যায়
কাকের ভাষায়।

তবুও কোকিল হয়ে  
কালের স্রোতে মিষ্টি ডাকে
নির্ঘুম কোন নিঃশব্দ 
জোছনা রাতে।

আর ব্যাঙের কথায়
ব্যঙ্গ করে হালকা হাসে
পথিক হয়ে গহীন রাতে 
ঘুড়ে বেড়ায় খুব নীরবে
যেন মহুয়া বনের 
মাতাল কোন একলা পরী।

কবি সুবর্ণ রায় এর কবিতা "বিবর্তন"




বিবর্তন
সুবর্ণ রায়

ঋতুর পরিবর্তন হয়।এভলিউশন হয় মগজে।
প্রেমের ইনডেক্সে তাঁর ক্রমান্বয়ে ক্রান্তি।
প্রতিজ্ঞাভঙ্গতা এক শিল্পত্ব পায়।

Jjg

LOVE

Hhhh

LOVE

Jhy

LOVE

০৪ এপ্রিল ২০২২

কবি খোরশেদ আলম বিপ্লব এর কবিতা "শুধু একা"





শুধু একা 
খোরশেদ আলম বিপ্লব

আমি একা, তুমিও একা আমরা সবাই একা।
প্রচন্ড রকমের একা। কী অদ্ভূত! তাইনা?
এক‌ই বিছানায় নগ্ন শরীরের উপরও একা! 
সঙ্গম শেষেও একা।
রূপালি চাঁদ একা তেজোদীপ্ত সূর্য দিনশেষে একা। পৃথিবীর মতো একা আর কে হতে পারে!
ঈশ্বর সেদিন আমায় বললো, 'ভয় কি চেয়ে দেখ- আমার মতো একা আর কে আছে?
জায়গা বড্ড প্রয়োজন হয়!

০৩ এপ্রিল ২০২২

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৮৩




ধারাবাহিক উপন্যাস 


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৮৩)
শামীমা আহমেদ 

কিছুক্ষণ যাবৎ একটানা কলিং বেল বেজেই চলেছে।শায়লা মায়ের ঘরে মায়ের পাশে চুপচাপ বসে আছে। কলিং বেল শুনছে কিন্তু দরজা ভেতর থেকে লক করা রয়েছে। তাই সে এ ব্যাপারে কোন উৎসাহ দেখাচ্ছে না। সে  একমনে শিহাবকেই ভেবে চলেছে। গতকাল সারাদিন শিহাবের সাথে কাটানো সময়গুলো ভীষণভাবে মনে পড়ছে। শিহাবের প্রতিটি কথা  প্রতিটি আশ্বাস শায়লাকে বেঁচে থাকবার প্রেরণা যোগায়।  তার খুব করে মনে পড়ছে পরিচয়ের পর থেকে কিভাবে একটু একটু করে দুজনার ভাললাগা আর তা প্রকাশের ছোট্ট ছোট্ট ক্ষণগুলো। এখন তো অন্য এক শিহাব তার সামনে দাঁড়িয়ে। যে কিনা তার জীবনের  পিছনের সব কিছু ঝেড়ে ফেলে শুধু শায়লাকেই  আপন করে নিয়েছে। শায়লাও তার মনের চাওয়ার বিরুদ্ধে কিছুই করবে না। 
কিন্তু আজ দুপুরের ফ্লাইটে নোমান সাহেব দেশে আসবেন। তাকে এয়ারপোর্ট থেকে বাসায় আনার সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গতকাল বাসায় শায়লার দীর্ঘক্ষণ অনুপস্থিতি আর মায়ের অসুস্থতায় আয়োজনে কিছুটা ভাটা পড়লেও বুঝা যাচ্ছে আজ তারা সবাই আবার পূর্ণ উদ্যমে নামবে। সবই শায়লার মনে বিরুদ্ধে। অবশ্য কেউই আর তার ইচ্ছা অনিচ্ছার মূল্য নিয়ে চিন্তিত নয়। দুপুরের মধ্যেই বাসায় আত্মীয় স্বজনেরা চলে আসবে। 
কলিং বেল শুনে রাহাত ঘুম থেকে জাগলো।সে দরজা খুললো। বুয়া ঘরে ঢুকলো।রাহাত তাকে মায়ের জন্য দ্রুত নাস্তা বানাতে বললো। শায়লা মায়ের ঘর থেকে সবই শুনলো। বুঝা গেলো, রাহাত সংসারের দায়িত্ব বেশ ভালোভাবেই নিয়েছে। আজ আর কিছুতে শায়লার পরামর্শ বা মতামতের প্রয়োজন মনে করছে না। কেনই বা করবে ? আর ক'দিন পর তো শায়লা আর এ বাড়িতে থাকছে না। তখনতো রাহাতকেই সবকিছু  সামলাতে হবে। 
মায়ের ঘুম ভাঙলো।শায়লা মাকে খুব যত্ন করে ওয়াশরুমে নিয়ে গেলো। যাবতীয় কাজে সহযোগিতা করে মায়ের শাড়িটা বদলে দিলো। মা একেবারেই নীরব হয়ে আছেন। তবে চোখে মুখে তার স্বস্তির প্রকাশ। শায়লা বাসায় ফিরে এসেছে। শায়লা তার প্রথম সন্তান।প্রথম সন্তানের প্রতি বাবা মায়ের  অন্যরকম ভালবাসা জমানো থাকে আর সাথে থাকে নির্ভরতা। আর শায়লাতো মায়ের পুরোটাই খেয়াল রাখে।
নাস্তা তৈরি হলে শায়লা মাকে ডাইনিং এ নিয়ে এলো। রাহাত তার ঘর থেকে বেরিয়ে এসে মায়ের শরীরের খোঁজ খবর নিলো।
ভাই বোন মা এক টেবিলে নাস্তা পর্ব চললেও ভাই বোনের আর সেই আগের মত কথা বলে গল্প করে নাস্তা করার চিত্রটি আজ ভীষণভাবে অনুপস্থিত। খুব নীরবেই নাস্তা করা হলো।বুয়া তিন কাপ চা করে আনলো।এবার রাহাত শায়লার দিকে বেশ রিল্যাক্স ভঙ্গিতে কথা বলে উঠলো। গতকালের কোন ঘটনাকেই রাহাত আর আলোচনায় আনলো না। আজ সকাল থেকে আবার সবকিছু যেন সুন্দর করে এগিয়ে চলে।তাছাড়া আজ নোমান সাহেব আসবেন।যে করেই হউক আপুকে শান্ত রাখতে হবে।
আপু, আমরা সবাই দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে নোমান ভাইয়াকে  এয়ারপোর্টে রিসিভ করতে যাবো। তুমি তৈরি থেকো। তুমি যেন অবশ্যই এয়ারপোর্টে যাও নোমান ভাইয়া বারবার বলেছে।
রাহাতের কথায় শায়লা বেশ অবাকই হলো! আজকাল নোমান সাহেবের সাথে  তাকে নিয়ে রাহাতের এত কথা হয়! যদিও নোমান সাহেব তাকেও লাল শাড়ি পরে এয়ারপোর্টে যেতে বলেছে। শায়লার এইসব কিছুতে ভীষণ বিরক্তি লাগছে। মন থেকে সে কোন রকম আগ্রহবোধ করছে না।রাহাত শায়লার কোন উত্তরের অপেক্ষা না করে ডাইনিং থেকে নিজের ঘরের ভেতরে গেলো। মুহুর্মুহু আত্মীয়স্বজনের কল আসছে।কে কখন আসবে তা জানাচ্ছে।ছোট কাজিন ভাইবোনেরা আজ সন্ধ্যায় ছাদে গায়ে হলুদের আয়োজন করেছে। শায়লা এবং নোমান সাহেবের একসাথে হলুদ ছোঁয়াবে। 
শায়লার ঘরটিকে ফুল দিয়ে বাসর ঘর সাজানো হবে। বাসায় ঝামেলা এড়াতে প্রচুর খাবারের অর্ডার করা হয়েছে।  বিয়ে বাড়ি রীতিমতো  সরগরম হয়ে উঠছে।গতকাল শায়লার পার্লারে যাওয়ার কথা থাকলেও সে শিহাবের সাথেই পুরো সময়টা কাটিয়েছে।তাই রাহাত আজ পার্লারে যাওয়ার অন্য ব্যবস্থা করেছে। 
শায়লার বড় মামার মেয়ে বুবলী ইউনিভার্সিটি পড়ুয়া। ধরতে গেলে সিরিয়ালে শায়লার পর তার বিয়ের আয়োজন হওয়ার কথা। পাত্র পক্ষ আংটি দিয়ে রেখে গেছে।মাস্টার্স ফাইনাল হলেই বিয়ে।এছাড়া সিরিয়ালে আরো কয়েকজন কাজিন বিয়ের জন্য উপযুক্ত হয়ে উঠছে।সে ক্ষেত্রে শায়লার বিয়ের পর্ব,শায়লাকে জামাই বাড়িতে নিজের সংসারে পাঠানো খুবই জরুরী হয়ে গেছে। মুরুব্বিরা যার যার মেয়ে নিয়ে চিন্তিত। কিন্তু শায়লা কিভাবে বুঝাবে মনের ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই আয়োজন তার কাছে অর্থহীন। তার সম্পূর্ণ মন প্রাণ জুড়ে আছে শিহাবের স্পর্শ, শিহাবের ভালোবাসা।
শায়লার ফোনে বুবলীর কল। ইচ্ছে না করলেও কলটা ধরতে হবে। ওদেরতো আর শায়লার এতকিছু জানা নেই।শায়লা কল রিসিভ করতেই বুবলী উচ্ছাসে ফেটে পড়লো!
আপু, তুমি অপেক্ষা করো।এইতো কিছুক্ষনের মধ্যেই আমি চলে আসছি। তোমাকে নিয়ে পার্লারে যাবো। তোমাকে একটু ফ্রেশ হতে হবে।  বাসার কাছে কোন পার্লার আছে আমাকে জানিও। শায়লা আচ্ছা বলে কল রেখে দিলো। সে বুঝতে পারলো কেন বুবলী এত উচ্ছ্বসিত! কারণ শায়লার পরপরই তার আয়োজন এগিয়ে আসছে। চট করে শায়লার মনে একটা বুদ্ধি খেলে গেলো। তাহলে পার্লারের কথা বলে এয়ারপোর্টে যাওয়াটা এড়িয়ে যাওয়া যাবে।
শায়লা তার মোবাইল নিয়ে বারান্দায় চলে এলো।শিহাবকে মেসেজে জানালো, সেক্টর ছয় এ আগোরার উপরে আটতলায় পারসোনা পার্লারে  এক ঘন্টার মধ্যেই  সে যাচ্ছে। শিহাব যেন তার জন্য সেখানে অপেক্ষা করে। শিহাব মেসেজ দেখে নিলো।মনে মনে জায়গাটা ভেবে নিলো। সে দ্রুতই নাস্তা সেরে গতকালের কাপড় পালটে শায়লার কলের অপেক্ষাতেই ছিল। শায়লার সাড়া পেয়ে তার মন আনন্দে নেচে উঠলো! মনে মনে ভেবে নিলো, 
এবার আর সে শায়লাকে হারাতে চায়না। দেখামাত্রই বাইকে তুলে নিবে। যদি উত্তরাতে থাকতে ওরা ঝামেলা করে তবে আজই ঢাকার বাইরে কোথাও চলে যাবে।  
বাসায় রুহি খালা এসেছে।ডাইনিং এ বসে মায়ের সাথে কথা বলছে। শেষ মূহুর্তের সকল প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা চলছে।যদিও তার চোখ সারাক্ষণ শায়লাকেই খুঁজছে।তাকে কাছে পেলে হয়তো কিছু জ্ঞান ঝাড়তেন।কিভাবে  স্বামী সংসার নিয়ে সুখে শান্তিতে থাকতে হয় তার একশ একটি তরিকা বাৎলে দিবেন।
রুহি খালার চোখে মুখে আনন্দ ঠিকরে পড়ছে।অবশেষে সে শায়লাকে কানাডা পাঠানোর সব ব্যবস্থা করতে পেরেছে। তিনি নিজে নিজেই আত্মতৃপ্তিতে ঢেকুর তুলছেন!  
শায়লা দূর থেকেই সবকিছু দেখছে।সে আর কাছে গিয়ে আলোচনার টেবিলে যোগ দেয়নি। রাহাতের ফোন সারাক্ষণই ব্যস্ত থাকছে। কল আসছে,কল যাচ্ছে।কিন্তু শায়লাকে সময় দেয়ার,শায়লার কথা শোনার এতটুকুও আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বাসার ভেতরের সামগ্রিক পরিস্থিতি জানিয়ে শায়লা শিহাবকে মেসেজ করেই যাচ্ছে।শিহাব সবকিছুতেই শায়লাকে শান্ত থাকতে বলছে। 
শিহাব শায়লার জন্য একেবারে প্রস্তুত হয়ে আছে।সে একবার তার ঘরের চারিদিকে তাকালো। শিহাব এই ভেবে পুলকিত হলো যে, আর কিছুক্ষন পরেই শায়লা আমার এই ঘরে চলে আসবে। আমার শূন্য ঘরটা শায়লার চলাচলে প্রাণ ফিরে পাবে। আমি আর কোনদিন শায়লাকে হারিয়ে যেতে দিবো না। শিহাব চোখ বন্ধ করে শায়লাকে এক নিঃশ্বাসে ছুঁয়ে নিলো ! 
ঘন্টাখানেকের মধ্যেই বুবলী চলে এলো। একটা সবুজ চুন্দ্রী প্রিন্টের শাড়িতে বুবলীকে খুব সুন্দর লাগছে। যেন বুবলীরই বিয়ের ফুল ফুটেছে ! অবশ্য একসময় রাহাতের প্রতি বুবলী কিছুটা দূর্বল ছিল। ছোটবেলায় স্কুল কলেজে পড়ার সময় যখন আসতো তখন শুধু রাহাতের পিছনে ঘুরঘুর করতো। বুবলীর মায়ের কড়া নির্দেশ আর ভীষণ আপত্তিতে বুবলী এ সম্পর্ক  খুব বেশিদূর এগিয়ে নিতে পারেনি।
অবশ্য বর্তমানে রাহাতের অবস্থানে বড়মামীর ভীষণ আফসোস চোখে মুখে একেবারে স্পষ্ট! তবে বুবলী ভেতরে সেই ভালো লাগাটা আজো পুষে রেখেছে। ঘরে ঢুকেই সে আড় চোখে রাহাতকে একটু দেখে নিলো। রাহাত বুবলীকে কিছু বুঝতে না দিয়ে  তার গুরুগম্ভীর দৃষ্টিতে বুবলীর দিকে তাকালো। যদি এই তাকানোতা বুবলী ঠিকই এক নজর দেখে নিলো। তারও কিছু ভালোলাগা ছিল।তবে আজ আর এসব ভেবে লাভ নেই।বুবলীর  এনগেজমেন্ট হয়ে গেছে। 
কেমন আছো রাহাত ভাইয়া ? বুবলীর সেই স্বভাবসুলভ চটপটে বাচনভঙ্গি! 
আমি ভাল আছি।তা তোমরা কখন বেরুবে ? 
এইতো এখুনি ভাইয়া।
ঠিক আছে দ্রুত চলে যাও।নীচে একটা সিলভার কালারের প্রাইভেট কার আছে। আমার বন্ধুর।আজ  সারাদিনের জন্য দিয়েছে।আমাদের সাথে থাকবে।তোমরা গাড়িটা নিয়ে পার্লারে যেও।
শায়লা সবই বুঝতে পারলো।রাহাতের কেন এত কর্ম তৎপরতা! কেন এত নিরাপত্তা ? প্রহরী দিয়ে দেহের নজরদারি রাখা যায় কিন্তু মনকে তো আর কেউ ফেরাতে পারেনা। মনতো পুরোপুরি  শিহাবের দখলে। শায়লা আজীবনই শিহাবকে ভালোবাসবে।শিহাবের সাথেই বাকী জীবন কাটাবে।
রাহাত বুবলীকে উদ্দেশ্য করে বললো,
তোমরা তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে। আমরা সবাই মিলে এয়ারপোর্টে যাবো। 
জ্বি আচ্ছা ভাইয়া। যদিও বুবলী রাহাতের সাথে কথা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু রাহাতের প্রতি সলজ্জ চাহনী আজো যে তার মনে রাহাতকে ভালো লাগার রেশ রয়ে গেছে তা স্পষ্ট! 
শায়লা মাকে সালাম করে ঘর থেকে বেরুলো। মনে মনে সে মায়ের কাছ থেকে শিহাবকে পাওয়ার দোয়া চেয়ে নিলো।যদিও মায়ের তা বুঝা হলো না। মায়ের চোখে পানি টলমল করছে। তিনি শায়লার মাথায় হাত বুলিয়ে আশীর্বাদ করে দিলেন। আজ তার মেয়ের স্বামী  কানাডা থেকে আসছেন। মেয়েটা দশদিন পর কানাডা চলে যাবে।কোন দূরদেশে থাকবে। ভাবতেই মায়ের বুকের ভেতরটা হু হু করে উঠলো। তাদের পাঁচজনের সুখী সংসারটা থেকে একেএকে তিনজন চলে যাচ্ছে। ঘর খালি হয়ে যাচ্ছে। শায়লার চলে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে এসেছে।কাজের বুয়া শায়লার মাকে সান্ত্বনা দিতে এগিয়ে এলো।
কি আর করবেন খালাম্মা। মাইয়াগো এইটাইতো জীবন। বাপ মা লাইলা পাইলা অন্যের বাড়িত পাঠাইয়া দেয়। আপনি আমিও বাপের ঘর ছাইড়া আইসা পরের ঘর করতাছি। চিন্তা কইরেন না, আমগো রাহাত ভাইজানরে বিয়া করাইলে আবার আপনার গড় নাতিপুতিতে ভইরা যাইবো।
মায়ের এত উৎকন্ঠায় শায়লা তাইতো মনে মনে  ভাবছে,শিহাবের কাছে থাকলে তো মা তুমি আমায় প্রতিদিনই দেখতে পাবে।আমি তো প্রতিদিনই তোমার কাছে আসতে পারবো। এমনি করে ভাবলেও শায়লার মনের কথাটি মনের ভেতরেই রয়ে গেলো।
চলো আপু দেরী হয়ে যাচ্ছে।বুবলী তাড়া দিতেই রাহাত বলে উঠলো চলো আমি তোমাদের পার্লারে নামিয়ে দিয়ে আসি। গাড়িটা অযথা ওখানে বসিয়ে না রেখে আমি একটু বেরুবো। তোমাদের হয়ে গেলে আমাকে জানাবে।আমি গাড়ি নিয়ে চলে আসবো।
রাহাতের এমন কথায় শায়লা ঠিকই বুঝে নিলো কেন রাহাত তাদের সঙ্গী হতে চাইছে।
ভালোই হবে।শিহাব ওখানে থাকবে। রাহাতকে জানিয়েই সে শিহাবের সাথে চলে যেতে পারবে। 
গাড়ি পারসোনা পার্লারের নিচে থামতেই শায়লার উৎসুক চোখ  গাড়ির ভেতর থেকে শিহাবকে দেখতে পেলো। মেরুন রঙা শার্টে সেই সানগ্লাস সেটে দেয়া কাঙ্খিত মুখখানি বাইকের সামনে দাঁড়িয়ে শায়লাকেই খুঁজছে যেন! রাহাতও শিহাবকে দেখতে পেলো।
গাড়ির ভেতর রাহাত আর শায়লার দৃষ্টি বিনিময় হলো।রাহাত শিহাবকে দেখে ভীষণ চমকে গেলো ! বুবলী গাড়ি থেকে নেমেই  শায়লাকে বের হওয়ার জন্য তাড়া দিতে লাগলো। শায়লা বেরিয়ে এলেও তার মন বারবার শিহাবের দিকেই ফিরছিল যেন!


চলবে....