১৮ মার্চ ২০২২

কবি সফিক ইসলাম এর কবিতা




আয়নায় অন্যমুখ
সফিক ইসলাম



প্রতিদিন আকাশ থেকে খসে পড়া ঝরা পালক কুড়াই, আর জমিয়ে রাখি
একদিন পাখি হয়ে উড়ে যাবো।
একদিন  বাতাসের কানে কানে বলে যাবো
এ পৃথিবী আমার জন্যে নয়। 

প্রতিদিন অজস্র শিশিরের কণাগুলো চোখের কোণায় জমিয়ে রাখি....
একদিন রাতভর কাঁদবো বলে।
এভাবে নিয়তই ভেঙে ভেঙে টুকরো করি নিজেকে আয়নার কাচের মতো
অথচ প্রতিটি টুকরোতেই আমি  আমাকেই দেখি। 

নিভৃতে যত্ন করে যারা দুঃখ পোষে
অনিয়ম দেখে দেখে যারা বড় হয়
নিয়ম ভাঙার মিছিলে এই চোখ খুঁজে ফিরে
তাদেরই মুষ্টিবদ্ধ হাত। 

আগামীর ভোর কবে হবে বলতে পারো কেউ ?
যে ভোরে ভাঙা আয়নার পারা মুছে স্বচ্ছ কাচ হবে!
প্রতিস্মরিত আলোতে নিজেকে না দেখে 
দেখবো অগনতি মানুষের মুখ।

কবি জাহানারা বুলা'র কবিতা





স্মৃতির হরিণ 
জাহানারা বুলা

আমাদের প্রয়োজন অতিক্রান্ত সেই কবেই
যোগাযোগ অর্থহীন এখন
আমরা ভালো আছি, ভালোই থাকা উচিৎ। 

মৃত্তিকা রুক্ষ হয় না কেবল আষাঢ়ের বৃষ্টি বিহীন
পদ্মা-মেঘনা ফুঁসে ওঠে নির্ধারিত সময়ে ওদের
শরৎ জানান দেয় যদিও আকাশের নীলে
কাশবন থাকে না সবার চৌহদ্দিতে। 

পথের ধারে ঘুমিয়ে রাত কাটে যার
তার কাছে পেলব বিছানা অর্থহীন, অচেনা
আমাদের আকাঙ্ক্ষাও আজ স্মৃতির হরিণ।

কবি বকুল  আশরাফ এর কবিতা





যদি ভালোবাসো 
বকুল  আশরাফ

অপেক্ষায় থাকো বলেই তো ফোনটা ধরো,
আমি তো অপেক্ষায় জড়োসড়ো জুবুথুবু
কাঁথার ভেতর লুকাতে গিয়ে ভিন্নতরো
যেমন লুসাই পাহাড় লুকায় কিছু ঝর্না জল
যে জল বাধাহীন অকুতোভয় ছুটে চলে
মিশে যায় আরো কঠিন কোমল জলে
যেখানে সাগর আর নুনের ঢেউহীন লড়াই,
এ কেমন প্রেমের বড়াই বারবার ধেয়ে আসে
আর মিশে থাকে দুজনার চারপাশে।
ওরা কি সত্যি ভালোবাসে নিমের ডাল!
আয়ুর্বেদ জঞ্জাল যতো আবেগহীন করুণা
আমরা সুনীল-বরুনা যে তিন যুগ অভিমানে
তিনটি বরষ একসাথে কত আয়োজনে
এখন অধিক ভুল করি ! আসলে কি গড়ি !
নাকি নিজেকে ভাঙ্গি আর পোড়াই
শুধু জানি পোড়ালেই ধাতব আর মাটি
শর্তহীনভাবে শংকর নয় হয়ে উঠে খাঁটি
তাইতো ভালবাসার পথ ধরে এখনো পথ হাঁটি।

কবি রাজ রিডার এর কবিতা





চিঠি
রাজ রিডার

চিঠি! চিঠি! চিঠি!
এই অবেলায় ডাক পিয়ন—তাও এই যুগে। আশ্চর্য! 
ভুলে এসেছে নাকি? পিয়নটাও নতুন কেউ মনে হয়। 
আগেরটা কি বেঁচে আছে—তাও জানি না। 
আছে হয়তো। অবসরে গেছে। 
আর সে চিঠি, চিঠি বলে হাঁক দিতো না। 
খুব নরম সুরে বলতো—প্রিয়জনের বার্তা এসেছে
বাহ কি সুন্দর অভিব্যক্তি—প্রিয়জনের বার্তা।
চিঠি! চিঠি! চিঠি!
নিচে মনে হয় কেউ নেই। তাই দরজাটা খুলে দিচ্ছে না। 
নামতেই হবে হয়তো। চশমাটা কই রাখলাম? 
“এত ভুলো মনের না তুমি। তোমাকে দিয়ে কিচ্ছু হবে না।“
তুমি দেখো একদিন কিছু না কিছু করবোই। 
“যদি কিছু করতে পারো একটা চিঠি অবশ্যই লিখবো তোমাকে।“
আরেহ মাথাতেই তো আছে। চোখের সাথে সাথে 
মাথাটাও গেল মনে হয়। যেতেই পারে। একই সাথে দুজনের জন্ম। 
মচ! মচ! মচ!
হাড়ের মতো চটি জোড়াও শব্দ করছে। 
“এই নাও নতুন চটি। অন্য কোন স্যান্ডেল নিবো ভাবছিলাম।
কিন্তু তোমার ইমেজের সাথে এই জোড়াই মানায়।“
এসবের কি দরকার ছিলো। এটাই তো বেশ রয়েছে।
“বলেছে তোমাকে। আর এই নাও ডায়েরি। আমাকে নিয়ে
কবিতা লিখো।“
তোমাকে নিয়েই তো লিখি। তুমিই তো আমার মিউজ।
তোমাকে চেতনা দিয়ে নিজেই অচেতন। 
“থাক। অনেক হয়েছে। আর বলতে হবে না।“
এসো কবিতা লিখি। 
“কবিতা! এখন? আমি থাকলে তোমার কবিতা হবে?”
 হবে। দীর্ঘ শ্বাসের সবচেয়ে বড় মহাকাব্য—পয়ারে পয়ারে। 
“কবে লিখেবে?”
আষাঢ়স্য প্রথমে দিবসে। 
“তবে আমিও চিঠি লিখবো পহেলা আষাঢ়ে।“
ছাতাটা যে কই আছে? বৃষ্টি হচ্ছে গত দুই দিন ধরে। 
সুবোল যে সব কোথায় রাখে? আর আজ বাজারে যেয়ে
হতচ্ছাড়া মরে গেছে মনে হয়। 
এই তো! পেয়েছি। 
“তা তো পাবেই। যখনই চেয়েছো তখনই পেয়েছো।
কবে আবার বাধা দিয়েছি আমি।“
অভিমানে ঠাঁসা—এমনকি শরীরের প্রতিটা বাঁধনও।
চৈতন্যের আলোক যাত্রায় বাধা দেয়। 
আজ যেন সিঁড়িটা শেষ হতেই চায় না। 
যেন সসীম থেকে অসীমে যাত্রা করছি। 
—বাবু, আপনার চিঠি এসেছে। 
দাও।
—এখানে একটি সই দেন। 
আচ্ছা, শোন ভাই এখন যাস না। অনেক বৃষ্টি হচ্ছে। 
আর সময় থাকলে একটু চাও খেয়ে যাস। নিচের ঘরে একটু বোস। 
—জি আচ্ছা, দাদা। 
-দাদা, আজ যা বৃষ্টি হচ্ছে না! 
একটু পর পর কী বাজ পড়ছে রে বাবা। 
মরেই যাবো মনে হচ্ছিল। 
আজ কী কিনলি রে? পেলি কিছু ভাল। না ঝড় বৃষ্টি দেখে পালিয়ে এলি। 
-না দাদা। চিংড়ি কিনেছি। আর কিছু তরি তরকারিও।
বেশ। আর ওকে একটু চা খেতে দিস। কর্তব্যপরায়ণ ছেলে।
বড় ভাল লাগলো ওকে দেখে। 
পরিচয়কে ছাপিয়ে যেয়ে যে পরিচয় হয়
তেমনই পরিচিত এই হাতের লেখা। 
“হাতের লেখা তো নই, যেন টাইপ।“
বাবার হাতে শিখেছি জানো। আমার মায়ের
হাতের লেখাও অনেক সুন্দর ছিলো। তবে তোমারটার এই অবস্থা কেন?
“কত মার খেয়েছি, জানো। শুধু হাতের লেখা খারাপ বলে পরীক্ষায়
নম্বরও কম পেতাম।“
আমার সাথে আগে দেখা হলে ঠিক শিখিয়ে দিতাম।
“হুম বলেছে। শিখাতে; তবে অন্য কিছু।“ 
সুবোল, একটু উপরে আয়। 
-দাদা।
ছেলেটা আছে, না চলে গেছে রে? 
-চা-বিস্কুট খাচ্ছে, দাদা। 
এই ঠিকানায় এই ডায়েরিটা পার্সেল করে দিতে বলিস ওকে।
আর কত কি লাগবে দিয়ে দিস। 

“বলেছিলাম লিখবো। মনে আছে তোমার? বহু বছর পর তোমাকে দেখলাম। চায়লেই সম্ভব ছিলো। ইচ্ছে করেই তোমার ছবির মুখোমুখি হইনি, জানো? কিন্তু এই কদিন এত পত্রিকায় আর টিভিতে এসেছো—না দেখে উপায় ছিলো না। শেষ পর্যন্ত এত বড় পুরষ্কারটা পেয়েই গেলে তুমি।“
ঠিকই বলেছো। হারিয়ে সব পেয়েছি।

১৬ মার্চ ২০২২

কবি রেজাউদ্দিন স্টালিন এর কবিতা




ফুল না ফুটলে কিসের বসন্ত
রেজাউদ্দিন স্টালিন 

ফুল না ফুটলে কিসের বসন্ত 
ফুল ফুটবে
স্তব্ধতার পাতায় দুলবে  সবুজ হাওয়া
কবির অবাধ্য অক্ষরে দিগ্বিদিকের পাল
কোকিল না ডাকলে কিসের বসন্ত
প্রতীক্ষার প্রাণে সাদা মেঘের গুঞ্জন 
হলুদ রাত্রি ফেটে পড়বে পৃথিবীর মুখের ওপর 
নদী এবং সমুদ্র কথা বলবে কানে কানে
চিরবন্ধ্যা জমির ফাটলে জন্ম হবে চাঁদের 
নগরে বন্দরে স্বপ্ন ফেরি করবে মৌমাছিরা
যুদ্ধরত সন্তানের জন্য মায়ের অপ্রতিহত আশীর্বাদ 
তিতুমীরদের প্রতিরোধ যাত্রা শ্বেত শহরে
বিরহে শেয়ার বাজার আর তার ডলার কন্যারা কাঁদুক
ক্রিকেটের কোলাহল আটকে থাক
মোরগবেলায়

পাঠশালার বেঞ্চে কৃষ্ণচূড়া না ফুটলে
কিসের বসন্ত
শিশুর চোখে আত্মাহুতি দিক
বোমারু বিমান

অমঙ্গলের বিপরীতে  প্রতিটি প্রার্থনা সুন্দর 
হত্যার বিরুদ্ধে সব  আর্তনাদ  কবিতা

আগুনের ফুল না ফুটলে  কিসের বসন্ত

কবি সালাম তাসির এর কবিতা




ভাটফুল ভোরের সৌন্দর্য
সালাম তাসির

একদিন সন্ধ্যায় ভাটফুল সৌন্দর্যের কাছে
তোমাকে বড় অসহায় মনে হলো
অথচ প্রতি রাতে তুমি গোলাপ হয়ে ফোটো।
গোয়ালন্দ ঘাট, রাত গভীর হলে অপেক্ষা দীর্ঘ হয় ;
জলচৌকিতে ঘুমিয়ে থাকা মোহন কুলির স্বজন হারানোর বেদনা তোমাকে সঙ্গ দেয়।
গোয়ালন্দ হাট,ভ্যাজাইলার মিষ্টির দোকান খুব ডাকে
কবি আউয়াল আনোয়ারের সান্নিধ্য  অমৃত হয়ে ওঠে।
হঠাৎ পদ্মার জলে ভেসে ওঠা শতবর্ষী ষ্টিমার, সার্স লাইটের আলোয় তিন নম্বর ঘাট দৃশ্যমান হলে
পাটুরিয়া থেকে উড়ে আসা একটা নীল প্রজাপতি তোমার আঙ্গুল ছুঁয়ে রাতের নীলিমায় 
অদৃশ্য হয়ে যায়। 
অপেক্ষা আরো দীর্ঘ হলে
দূরের মসজিদ থেকে ভেসে আসে ভোরের আযান, টিনপট্টির মন্দিরে বেজে ওঠে কাসর ঘন্টা
পূজারীর কণ্ঠে ধ্বনিত হয়
ওঁম শান্তি, ওঁম শান্তির প্রার্থনা বাণী। 

ট্রেন ছুটে চলে বিরতিহীন, হার্ডিঞ্জব্রীজ নিকটবর্তী হয় ; শব্দের ঘ্রাণে বড় হয় সজনে ফুল
তোমার অপলক দৃষ্টিতে সবুজ হয় ধানক্ষেত
পাখিরা ডানা মেলে রোদ পোড়া বাতাসে।

আজও ট্রেনের সেই হুইসেল বাজে
জেগে ওঠে শহর, ঘুমন্ত ষ্টেশন
বড় বাবুর ইশারায় সেই পুরনো বাঁশির সুর
কানের গলিপথে হাজার মানুষের স্বস্তির নিঃশ্বাস।  
চায়ের কাপে  টুং টাং শব্দ,হকারের হাকডাক;
আমার চেয়ে থাকা দূরের মাঠ,ঘাসফুল সৌন্দর্য; নীলাকাশ নক্ষত্রের দেশ খুব আপন মনে হয়।
অথচ তুমি হাত বাড়ালেই মাধবীলতা ; পা বাড়ালেই পূর্ণশশী ; চোখ মেললেই জোছনা প্রহর।
আমার ঘুমশয্যায় এখনো ভাটফুল ভোর
ফুলদানিতে সাজিয়ে রাখা ইচ্ছেগুলো 
রোজ রাতে গোলাপ হয়ে ফোটে
যেভাবে  ফুটে থাকো তুমি চিরচেনা সৌরভে।

শামীমা আহমেদর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৬৯




ধারাবাহিক উপন্যাস


শায়লা শিহাব কথন 
অলিখিত শর্ত (পর্ব ৬৯)
শামীমা আহমেদ 

শায়লাকে সাথে নিয়ে শিহাব লিফটের দিকে এগিয়ে গেলো। পেছন থেকে কেয়ারটেকার বেলাল দৌড়ে এলো। সার, সার,বাসার চাবিটা নিয়া যান। শিহাবের একেবারেই মনে ছিল না বেলালের কাছে যে বাসার চাবি দেয়া থাকে। শিহাব হাতে চাবি নিয়ে শায়লাসহ  লিফটে উঠে গেলো। নাম্বার ফোর বাটনে প্রেস করতেই লিফটের দরজা বন্ধ হয়ে গেলো।শায়লার হাতে  বিশাল  একটা ফুলের বুকে আর শিহাবের জন্য আনা উপহারের ব্যাগটি। শায়লার ইচ্ছে বাসায় গিয়ে শিহাবকে তার আনা উপহারটি দিবে। শায়লার দিকে চোখ পড়তেই দুজনেই হেসে উঠলো।দুজনের চোখেমুখে  বিশ্বজয়ের আনন্দের উচ্ছ্বাস! শিহাবের ফ্ল্যাট বাড়িটির টপ ফ্লোরে। লিফট থামতেই দুজন বেরিয়ে এলো। শিহাব লক খুলে দরজা পুরোটা খুলে দিয়ে শায়লাকে আগে ঢুকবার জন্য হাত বাড়িয়ে  দিলো।শায়লা কিছুটা দ্বিধা, কিছুটা শঙ্কা ,কিছুটা আনন্দ আবার কিছুটা কৌতুহল  নিয়ে ঘরে প্রবেশ করলো। ড্রয়িং রুমের সোফায় শায়লাকে বসতে বলে শিহাব দরজা বন্ধ করলো। শায়লা  বড় সোফাটির এক কোণে বসে ফুলের বুকেটি সেন্টার টেবিলে রাখলো।শায়লার ভেতরের আড়ষ্টতা এখনো কাটেনি।সে চারপাশে তাকিয়ে ঘরটি
দেখতে লাগল।বেশ ছিমছাম এক সেট বেতের সোফায় ঘরটি সাজানো। দেয়ালের এপাশ 
ওপাশ জুড়ে জানালায় খুব সুন্দর হালকা নীলাভ রঙের পর্দায় মনে হচ্ছে এক টুকরো আকাশ! সোফার সেটের সাথে মিল রেখে বেতের একটা বেশ লম্বাটে কর্ণার ল্যাম্প।শিহাব বড় সোফার আরেকপাশে বসলো। দুজনেই দুজনের দিকে তাকিয়ে একটি মিষ্টি হাসির বিনিময় হলো।
শিহাব বললো,
 কালো শাড়ি আর খোলা চুলে তোমাকে খুব সুন্দর লাগছে শায়লা। আর কপালের ছোট্ট টিপটায় আছে আহবান!
আহবান ? কিসের আহবান? 
 শিহাব হেসে উঠলো, আর কথা অন্যদিকে নিয়ে বললো,জানো? এখানে খুব একটা বসা হয় না। ড্রইং রুমে অতিথির আলাপচারিতা  বা আড্ডার আয়োজন হলে ভাল হয় কিন্তু আমার এখানে  সেভাবে কোন অতিথি আসেনা  বা আড্ডা দেয়া হয় না। আজ তুমিই আমার প্রথম অতিথি হয়ে এলে।
কারন, তুমিই যে আমার প্রথম সকাল, একাকী বিকেল,ক্লান্ত দুপুর বেলা।
হু,এটা আমার খুব প্রিয় একটা গান।
হ্যাঁ,এই একটা গানেই যেন ভালবাসার সবটুকু অনুভুতি প্রকাশ করে দেয়। 
 শিহাবের কথাবলার ভঙ্গিতে শায়লার কান্না পেলো ভীষণ। সে বুঝলো,একাকীত্ব মানুষের জীবনে একটি ভীষণ ক্ষত।যা থেকে প্রতিনিয়ত কেবলি রক্ত ঝরে।
তখনো শায়লা হাতে সেই ব্যাগটি নিয়ে আছে।খেয়াল হতেই বললো,শিহাব তুমি চায়ের আমন্ত্রণ দিয়েছো তাই আমি দুটো চায়ের মগ নিয়ে এলাম। তোমার জন্য উপহার।শায়লা ব্যাগটি খুলে মগ দুটো বের করলো।চমৎকার দুটো মগ! একই ধরনের দুটি মগ দুই রঙের হলেও  দুটোতেই একই ছবি অংকিত।একজনের হাতের উপর আরেকটি হাত রাখা। শায়লা বললো, আমাদের দুজনের জন্য।শিহাব ভালবাসার এক গভীর দৃষ্টিতে শায়লার দিকে তাকালো। শায়লা চোখের ভাষা বুঝে নিতে শিহাবের কোন বেগ পেতে হলো না। নীরবতা ভেঙে শিহাব বললো, আজ তবে কফি হয়ে যাক! শায়লা চলো ভেতরের  রুমে যাই। শায়লা সোফা থাকে উঠে  দাঁড়ালো। শিহাব এগিয়ে যেতেই শায়লা পিছু পায়ে এগিয়ে গেলো।
শিহাব বেডরুমে ঢুকে শায়লাকে জানালো এটা দুই বেডরুমের বাসা।আমি একা মানুষ একটিতে থাকছি আরেকটি রুম খালি পরে আছে। শিহাব এবার শায়লার হাত ধরে বারান্দায় নিয়ে গেলো। শায়লা দেখলো বেশ চমৎকার একটি ব্যালকনি! টবে নানান জাতের  ফুলের  গাছ। কোন কোনটিতে ফুল ফুটে আছে আবার কিছু গাছে শুধুই রঙিন পাতার বাহার। নীচ থেকে উঠে আসা একটা বিশাল আমগাছের ডালপালায় বারান্দাটায় একটা ছায়া ছায়া পরিবেশ। পড়ন্ত বেলায় পাখিদের ছুটোছুটি। যেন দিনের কর্মক্লান্তি সেরে ঘরে ফেরার তাড়া। দুজনেই নীরব হয়ে দেখছিল আর সময়টিকে গভীরভাবে অনুভবে নিচ্ছিল। শিহাব শায়লার খুব কাছে এসে দাঁড়ালো।  ডান হাত দিয়ে বেড়িয়ে ধরতেই শায়লা তার কাঁধে মাথা রাখলো।শায়লার ভেতরে কোথায় যেন জলপ্রপাতের জলধারার পতন। আর শিহাব যেন সেই জল পতনের শব্দ শুনতে পাচ্ছিল অন্তরের গভীরে। কিছুটাক্ষণ  দুজনের মাঝে দুজনার  আস্থা বিশ্বাস আর ভালবাসার বিনিময়ে সম্পর্কের দৃঢ়তায় আরো ঘনিষ্ঠ হলো। পাশেই শায়লার চোখ পড়লো, বারান্দায় দুইটি চেয়ার পাতা আর সামনের টেবিলে সিগারেটের ফিল্টার বোঝাই এস্ট্রে! 
শিহাবের প্রতি শায়লার জিজ্ঞাসু চোখে প্রশ্ন?
শিহাব জানালো,সেদিন সারাটা বিকেল, সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে বসে বসে তোমাকে নিয়ে কতইনা স্বপ্নের কথা ভেবে ভেবে এস্ট্রে ফুল করেছি।আর সেদিন রাতেই তোমার কানাডার খবরটি শুনে আমি স্থির থাকতে পারিনি।তাইতো সকাল হতেই চলে গিয়েছিলাম তোমাকে দেখতে। 
হঠাৎই শিহাবের খেয়াল হলো, আচ্ছা আমি তোমাকে অতিথি করে এনে এমন করে শুধু কথাই বলে যাচ্ছি। শায়লা চলো আমার কিচেনে।তোমাকে দেখাই আমার গৃহিণীবিহীন  কিচেন যেখানে আমিই শেফ আবার  আমিই কনজিউমার।বলেই শিহাব হা হা করে হেসে উঠলো।
শিহাব শায়লাকে তার কিচেনে নিয়ে গেলো।বেশ চকচকে ঝকঝকে কিচেন। দেশি বিদেশি কুকিং ম্যাটেরিয়ালে রান্নাঘর সাজানো। চারদিকে কিচেন ক্যাবিনেটগুলো 
খুব সুন্দর রঙের কাঠের তৈরি। বিদেশি বার্নার উপরে কিচেন হুড তারো উপরে একজস্ট ফ্যান।বলা যায় আধুনিক ঘরনার কিচেন।শায়লা দেখলো মেরুন রঙের কোটিং এ একটা মাঝারি মাপের ফ্রিজ! বাহ! বেশতো!
শায়লার মনটা কেমন যেন করে উঠলো। সে বুঝতে পারছে না মানুষকি কখনো তার ভবিষ্যৎ  দেখতে পায়? নাকি যা কখনো হবার নয় তা ঘটিয়ে মায়া বাড়িয়ে যায়!
শিহাবের সবকিছুকেই শায়লার খুব আপন মনে হচ্ছে।সে বুঝতে পারে না এমনই যদি হবে সবকিছু, তবে কেন ভাগ্য তার অন্যভাবে লেখা হলো? কেন নিয়তির এই বিপরীতমুখী অবস্থান? শায়লা তার মনের এই প্রশ্নগুলো খুঁজতে রান্নাঘরের জানালা দিয়ে বাইরে বিকেলের লালচে আকাশটায় তাকিয়ে রইল।
শায়লার মনের ভাবনা তার মুখে বিষন্নতার ছাপ এনে দিলো। শিহাব সেদিকটায় একেবারেই খেয়াল করেনি ।সে  একা একাই বলে চলছে,শায়লা আজ চা নয়, তোমার আগমনে আজ স্পেশাল কিছু হবে, আজ এক্সপ্রেসো কফি হবে! শিহাব কফি মেকার অন করেছে পানি গরম হতে, সাথে কফি পাউডার আর কফি মেট থেকে ক্রীম মিল্ক পাউডার আর সামান্য চিনি দিয়ে সুইচ অন করতেই মিক্সিং শুরু হলো।শিহাব একপার্ট প্রফেশনালের মত কাজগুলো গুছিয়ে করলো।
খুব সহজভাবেই শায়লাকে বললো,শায়লা তোমার মগগুলো কিন্তু খুব সুন্দর হয়েছে! দারুন হলো।আজই নতুন মগ উদ্বোধন হয়ে যাক। এই ট্রেতে করে মগ দুটি আর  আমার আনা নাস্তাগুলো নিয়ে  বারান্দায় চলে যাও, আমি কফি জগ নিয়ে আসছি।শায়লা সব গুছিয়ে বারান্দায় গিয়ে বসলো।
শিহাব কফি জগ নিয়ে বারান্দায় এলো।জগ থেকে একেবারে ফেনা তোলা ঘন কফি মগে ঢেলে দিলো। শায়লা একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস নিয়ে বললো,আহ! ঘ্রাণে তো পাগল হয়ে যাচ্ছি।তুমি এত সুন্দর কফি বানাতে পারো?
শিহাবের যেন সেটা নিশ্চিত হতেই বললো, আগে খেয়েই দেখো তারপর বলো।শায়লা বললো, আমি দেখেই বুঝে নিয়েছি খেতে দারুন হবে! শায়লার কথায় শিহাবের মনে দুষ্টুমি খেলে গেলো! সে শায়লাকে বললো,
তাই,তবে কি আমাকে দেখেই  ঠিক এমনি বুঝে গিয়েছিলে? 
শায়লা খুব বুঝতে পারছে, শিহাব কি বলতে চাচ্ছে। শায়লা খুব দ্রুতই তার  উত্তর দিলো,শিহাব তোমায় দেখে ভালো লেগেছে এটা সত্যি কিন্তু তার সাথে যখন দেখেছে একজন নারীর প্রতি তোমার সম্মান আর শ্রদ্ধাবোধ, দেখেছি পরিমিত আচরণ আর নির্লোভ সম্পর্কের এগিয়ে যাওয়া সেটাতেই তোমাকে আমি খুব বেশি করে চিনেছি।
শায়লার কথায় শিহাবের হাতের কাজ থেমে গেলো,সে বুঝে উঠতে পারেনি শায়লা কথাটি 
এত সিরিয়াসলি নিবে।শায়লাকে সহজ কর‍তে শিহাব ওর পাশে বসে  শায়লার হাতটি
ধরে বললো,আমি এভাবে বলিনি শায়লা।তুমি,আর আমার প্রতি তোমার ভালবাসার গভীরতা আমার মনকে ভীষণভাবে ছুয়ে গেছে।এনেছে আস্থা আর ভরসা।
শিহাব দেখলো শায়লা বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে যাচ্ছে।সে এখন দোটানায় আছে,একদিকে শিহাব আরেকদিকে  নোমান সাহেবের সাথে আইনের সম্পর্কে বন্দী।শায়লার ভেতরে কি চলছে শিহাব সেটা ভালো করেই বুঝে।
পরিবেশ ভারী হয়ে উঠলো। তাইতো শায়লাকে শিহাব বললো,কই,আমার কফি মগটা এগিয়ে দাও! আমার কতদিনের ইচ্ছে তুমি আমাকে কফি মগ এগিয়ে দিবে।
শায়লা শিহাবকে কফি মগ এগিয়ে দিতেই শিহাব শায়লাকেও  তার মগটি এগিয়ে দিলো।শিহাব নাস্তার প্লেট এগিয়ে দিলো।দুজনেই কফিতে চুমুক বসালো।
শিহাব জানতে চাইলো, কেমন?
শায়লা বললো চমৎকার! 
হঠাৎ শিহাব হেসে উঠলো!  
কি হলো?
শায়লা তোমার ঠোঁটের চারপাশে কফির ফোমগুলো লেগে আছে। খুব সুন্দর লাগছে দেখতে! যেন সাগর পাড়ের ফেনিল জলরাশি ঘিরে আছে।
শিহাবের কথায় শায়লা একেবারে অপ্রস্তুত হয়ে গেলো। শায়লাকে আর কিছু ভাবতে না দিয়েই শিহাব  শায়লার ঠোঁটে  ঠোঁট বসিয়ে এক  গাঢ় চুম্বনে শায়লার ঠোঁটে লেগে থাকা ফোমগুলো মুছে নিলো। শায়লা  চোখ বন্ধ করে শিহাবের শার্ট খামচে ধরলো। সামনের আমগাছটিতে ক্রমশই পাখির কিচিরমিচির
 কমে আসছিল।বিকেলের আলোর ফিকে হয়ে যাওয়া সন্ধ্যায় দুজনের প্রশ্বাসের পতন খুব ঘন হয়ে আসছিল।


চলবে....

১৫ মার্চ ২০২২

মমতা রায়চৌধুরীর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব১৩৩




উপন্যাস 

টানাপোড়েন ১৩৩
পরতে পরতে ভালোবাসা
মমতা রায়চৌধুরী

কল্যাণের কথা ভাবতে ভাবতেই শিখার অনেক রাত হয়ে গেল । বেড সুইচ টিপে এক ঝলক হলুদ আলোর মধ্যে চোখমুখ কুঁচকে উঠে বসলো শিখা। বিকেলবেলা কল্যাণের  সঙ্গে ঘুরে ফিরে আসার পর ওই যে শুয়েছে, মাধুর অনুরোধে খেতেও গেল না। সারা শরীর মন জুড়ে যেন সেই উষ্ণতার স্পর্শ রয়ে গেছে ।না কোনকিছুই আজকে আর ভালো লাগছে না আর কোন কিছু নিয়ে ভাবতে ভালো লাগছে না।
কল্যাণকে যে একটা ফোন দেবে সেটাও সাহসে কুলাচ্ছে না  আসলে কল্যান কাজের ব্যাপারে খুব সিরিয়াস ।হয়তো যে বিষয়টা নিয়ে লিখছে সেই বিষয়টা কমপ্লিট না হলে কল্যান রেগে ও যেতে 
পারে।  মাঝখানে ফোনটা করলে সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। ঘুম আসছেনা অপরিসীম একটা ক্লান্তি লাগছে বিশ্রাম নিতে ইচ্ছে করছে অথচ কোন চোখে ঘুম নেই। শিখা এক সময় উঠে টেবিলের কাছে গেল কাগজপত্র বইপত্রের একটা অসামঞ্জস্য ভাবে পড়ে আছে যেন দেয়াল চাপা পড়ে গেছে । তারপর একসময় ড্রয়ার খুলে লম্বা একটা খাম বের করলো এরকম আমি ব্যক্তিগত চিঠি পত্র লেখে না। অ্যাপ্লিকেশন লিখে পাঠায়। নীল কালিতে লেখা পরিষ্কার করে একটা কোনায় তারিখ। আরো অনেকখানি শূন্যতা উপরে নিচে বাঁ দিকে চাপ বেঁধে আছে। উল্টেপাল্টে দেখল খামটা। তারপর দেখতে পেল এক একটা কাগজে আঁকা একটা তারিখ দেওয়া।
শিখার বুঝতে অসুবিধা হয় না চিঠিটা কার?
দিব্যেন্দুর কথায় আর লেখায় অনেক আসমান জমিন তফাৎ থাকতো।
তবু একটা চিঠি রেখে দিয়েছে শিখা। কেন যে অতীত স্মৃতি আঁকড়ে বসে আছে সেটা বুঝতে পারে না। আজ কল্যাণের থেকে যে ভালোবাসা যে সম্মান পেয়েছে সেখানে তো সবকিছু ভুলে যাবার কথা। তার পরেও সেই স্মৃতি আঁকড়ে চিঠি থাকে কেন কাছে রেখেছে। মনেরি অজান্তে বারবার চিঠির অক্ষরগুলি চোখের সামনে ভেসে ওঠে।
একটা চিঠি ছিল এরকম
১২/২
আর যেন মন কেমন করছে। তোমার জন্য মনটা ছটফটিয়ে রয়ে গেছে। আচ্ছা বলতো কেন এমন হচ্ছে? বসন্ত তো দোরগোড়ায় এসে গেছে। বাসন্তী রং তুমি সেজেছো কি অপরূপ লাগছে। কৃষ্ণচূড়া পলাশের রঙে আজ তুমি সেজেছো। তোমাকে কাছে পেতে ইচ্ছে করছে। তোমার সুমিষ্ট কুহুতান প্রানো মনে ভরে নিতে ইচ্ছে করছে। আগামীকাল তুমি আমার সঙ্গে দেখা করবে ।শুনতে পাচ্ছ?'

কোথায় গেল সেই টান কোথায় গেল সেই ভালোবাসা নাকি সেটা পুরোটাই ছিল একটা 
মোহ , সাময়িক ক্রাশ। নইলে কি করে পারে শিখাকে ছেড়ে অন্য একটি মেয়ের সঙ্গে জড়িয়ে যেতে।
চিঠিটা পড়ে যেটুকু ভালোলাগা মনের ভেতরে ছিল আবার এক রাশ বিরক্তি তিক্ততায় মনটা ভরে উঠলো।
চিঠিটা হাতে নিয়ে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলতে ইচ্ছে করছে শিখার।
হঠাৎ মনে হলেও একবার কি করলেন কে ফোন করবে গলাটা কেমন আছে কে জানে নাকি এখনো ল্যাপটপে বসে তার লেকচার রেডী করছে।
ওটাকে ঘুরিয়ে নেবার জন্য কল্যাণের দিকে মনোনিবেশ করল আর ভাবলো একবার করেই দেখি না কি হয়।
শিখা ফোন করলো। কল্যাণের ফোনের রিংটোন বেজে উঠল' মনের হদিস কে বা জানে….,.।'
ফোন বেজে গেল। শিখা ভাবলো না থাক বিরক্ত করে লাভ নেই কাজের ব্যাপারে কল্যান ভীষণ সিরিয়াস।
এবার শিখার ফোন বেজে উঠলো'শিখা রিংটোন বাজতে শুরু করলো'আমার পরান যাহা চায় ,তুমি তাই….,.,.।'
শিখা ভাবল কি হলো রে বাবা তাড়াতাড়ি এসে ফোনটা রিসিভ করল বলল' হ্যালো'।
"হ্যাঁ ,কল্যান বলছি।'
হ্যাঁ আমি ফোন করলাম তোমায়।
আসলেই এই মাত্র লেখাটা কমপ্লিট করলাম তো তাই ফোনটা তখন ধরতে পারিনি
বাবা এতক্ষণ ধরে লিখলে?
হ্যাঁগো কোথাও গিয়ে লেকচার দিতে হলে একটু ভেবেচিন্তেই লিখতে হয় ।
তাহলে তোমার তো আমি ডিস্টার্ব করলাম।
না না আর ডিস্টার্ব করতে আমার লেখা তো কমপ্লিট।
থ্যাংকস গড। 
নাহলে নিজেকে অপরাধী মনে হতো।
শোনো না কিছু খেলে?
না বৌদি ডেকেছিল খাইনি কিছু।।তুমি  কি খাবে এখন?
মাসি ডিম টোস্ট করে রেখে গেছে।
এত রাত্রে খাবে ডিম টোস্ট?
তাছাড়া  উপায় কী বলো?j
আর একটা জিনিস অবশ্য আছে খেলে হয়।
কি বলতো?
ওটস.।
তা বেশ যেটা ভালো লাগে খাও।

তোমার মন ঠিক হয়েছে?
শিখা বললো' ওই আছে '।
কেন ?কেন?
মনটা খারাপ?
কি জন্য আমায় বলো।
শিখার যেন মনে হলো তার মনের ভেতরে একটা আকাশ অখণ্ডতার বৃষ্টিতে কি বিপুলতা কি অবকাশ। হঠাৎ মনে হল যেন কল্যাণের কথায় একটা ঠান্ডা বাতাস বয়ে গেলো যদিও ঝরঝর দুর্গন্ধ আছে বাতাসে বিশাল সাদা আকাশে এমন ফ্যাটফেটে জ্যোৎস্নায় গদগদ চাঁদপাড়া মুখ। পূর্ণিমা যেন তাকে ভাসিয়ে রেখে  রেখেছে 
হঠাৎ কল্যাণ বললো কি ব্যাপার চুপ করে গেলে যে।
হ্যাঁ বলো।
আসলে তুমি চুপ করে গেলে তো তাই?
তোমার গলাটা এখন কেমন?
নাগো তেমন সুবিধার মনে করছি না।
দেখো কালকে আবার তোমার লেকচার আছে কি যে হবে। গারগিল করে নাও।
হ্যাঁ,করব।
ঠিক আছে ঘুমিয়ে পড়ো।
শুভরাত্রি।
শুভরাত্রি শিখা বলল।
শিখা চেয়েছিল আর একটু কথা বলতে। কিন্তু কি কথা বলবে কল্যাণের সঙ্গে যখন কথা বলে তখন আর থৈ পায় না কি কথা বলবে বুঝে উঠতে পারেনা।
আসলে সংলাপ এমন একটা প্রবাহ সে তার ছন্দ নিয়ে এগিয়ে চলে হঠাৎ ছন্দপতন হলে কথাগুলো সব থেমে যায় আবার নতুন করে শুরু করতে 
হয় । আবার কাঠ খড় পোড়াতে হয়।
এবার শিখা বিছানায় গা এলিয়ে দিল। ভাবতে লাগলো সে আছে সব সময় তার ভালোবাসার আঙ্গিনায় এ কথাটা যেন সে মনে রাখে। ভালোবাসার স্বপ্নচূড়ায় সেই ভাবনা গুলোকে শিখা জমিয়ে রেখেছে। যেদিন তাদের এই ভালোবাসার পরিণতি লাভ করবে সেদিন সে তার জমানো যত টুকরো টুকরো ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জিনিস সবগুলোকে সে সঙ্গে উপহার দেবে। শুধু এটুকু জেনে রাখ যেন।
আজ শিখার মনে লেগেছে বসন্ত স্পর্শ। তাই কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতার লাইনগুলো মনে পড়ে
': এই না হলে বসন্ত কিসের
দোলা চাই অভ্যন্তরে,
মনের ভিতর জুড়ে
আরো এক মনের মর্মর।'
সত্যিই তাই আজ শিখার মনের মর্মরে লেগেছে দোলা কল্যান  বসন্তে।"
আজ গানের সুরে তাই বলতে ইচ্ছে করছে 'তুমি পাহাড় হলে/ ,আমি 
সবুজ ।তুমি অরণ্য হলে, /আমি
 পাখি ।আকাশ হলে/আমি শঙ্খচিল। তুমি শ্রাবণ হলে/আমি শ্রাবণ ঢল।
 তুমি বন্যা হলে /আমি সুনীল…'
আজকের দুমুঠো বিকেল এর ভালোবাসার স্পর্শ পরতে পরতে জড়িয়ে শিখা চলে যায় ঘুমের দেশে।
ও কল্যাণের হাতির সঙ্গে শিকার হাত যখন স্পর্শ করেছিল সেখানে নিজের মধ্যে ছিল না যেন বুকের রক্ত ছলকে উঠেছিল। উষ্ণতার পারদ চরছিল দ্রুত হারে।
কল্যাণ এক হাত দিয়ে শিখাকে কাছে টেনে নেয় একেবারে বুকের কাছে। এই প্রথম কোনো পুরুষের বুকে মাথা রেখে ছিল শিখা। হয় হয় পরিণতিটা শেষ পর্যন্ত যেন পায় ভালোবাসার স্পর্শ পরতে পরতে নিয়ে সে বাকি জীবনটা কাটিয়ে যেতে চায়। আর দিব্যেন্দুর বেখেয়ালি ভাবনাগুলোকে সে পানিতে ভাসিয়ে দিতে চাই নদীর দুরন্ত স্রোতে।

কবি মমতা রায়চৌধুরীর এই সময়ের কবিতা





ভালোবাসার মন্ত্র

(সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে কবিতা)
 
মমতা রায়চৌধুরী


তুমি ঘুমোচ্ছ।
তাই
আমি তোমার চোখের ওপর 
আলতো চুমু এঁকে দিলাম।
ভালোবাসার শেষ চুমু।
কেমন অবাক হচ্ছো না?
কি জানি আবার তোমাকে এই ভালবাসায় ,আদরে ভরিয়ে দিতে পারব কিনা?
হয়তো বা পারব ,
হয়তো বা না।
তবুও বুকের ভেতরে জাগে আশা।
কিন্তু আঁতকে দেখি
আমার ডান পাশে
বারুদে ভরা বিষাক্ত বাতাস,
রক্তাক্ত শরীর,
আমার বাঁ পাশে
ছিন্নভিন্ন লাশ,
ছড়িয়ে-ছিটিয়ে এদিক-ওদিক
এ যেন এক মৃত্যু উপত্যকা।
তার মাঝে তোমার ভালোবাসা বুকে 
তুমি জাগার আগেই বেরিয়েছি।
তুমি ঘুমাও।
তুমি ঘুমাও প্রিয়তমা।
আমার মাতৃভূমি ওপর
সাম্রাজ্যবাদী লোভী নেকড়ে
ফেলেছে হিংস্র দৃষ্টি ।
আমাকে যেতে হবে।
আমাকে যেতে হবে 
আমার মায়ের জন্য,
তোমার জন্য ,সবার জন্য।
চারিদিকে ছড়ানো-ছিটানো 
কাঠ কয়লা,দোমড়ানো-মোচড়ানো।

 আর রক্তাক্ত দাগে দেখছি
  তোমার মুখে চাঁদের আলো।
বিষন্নতা ,অন্ধকার আর
নেকড়ের থাবার অনেক দূরে।
তবুও কেন বোঝে না এরা?
অস্ত্রের ঝনঝনানি ,বারুদের 
 উল্লাসে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে
চলে ফন্দিবাজ যুদ্ধবাজী।
অথচ
ছোট্ট শিশু চায় না যুদ্ধ।
 তার আদুড় গা শৈশব আঁকড়ে
  হাতছানি দেয় দুচোখ ভরে,
সুন্দর পৃথিবীর গন্ধ নিতে।
আমি বীভৎস অবস্থাতেও
তোমার ঘুমন্ত মুখের
নিষ্পাপ শিশুর সৌন্দর্য
অনুরণিত করি রন্ধ্রে রন্ধ্রে।

কবি মহুয়া চক্রবর্তীর কবিতা





ফেরারী মন
মহুয়া চক্রবর্তী


হয়তো কাল প্রভাতের আলোয় 
আমি আর থাকবো না 
পৃথিবীর কোথাও কোন ক্ষণে
রয়ে যাবে আকাশের চাঁদ সূর্য ধ্রুবতারা
আর হবেনা কোনদিন আমার 
তোমাদের মাঝে ফেরা।

যদি হঠাৎ কখনো কোনদিন মনে পরে আমায়
পাবে আমায় সেই তারাদের ভিড়ে
প্রভাতের প্রথম আলো হয়ে ছুঁয়ে যাবো তোমায়
আবার কখনো চাঁদনী রাতে জোছনা হয়ে
 আসবো তোমারই নীড়ে।

 গ্রীস্মের সেই তপ্ত দুপুরে 
 তুমি যখন ক্লান্ত হয়ে বসবে গাছের ছায়ায়
আমি তখন শীতল বাতাস হয়ে তোমায় জড়াবো ফেলে আসা স্মৃতির মায়ায়।

তুমি কি মনে রাখবে আমায় 
হয়তো একটু একটু করে মুছে যাবে সব সময়ের তাড়ায়।
জীবনের সব স্বপ্ন সব আসা তোমার বাড়ির আঙিনায় গেলাম ফেলে 
তুলসী তলার প্রদীপ হয়ে জলবো আমি 
যদি কখনো তোমার দেখা
মেলে।

শামীমা আহমেদ এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ৬৮




ধারাবাহিক গল্প


শায়লা শিহাব কথন 

অলিখিত শর্ত (পর্ব ৬৮)

শামীমা আহমেদ 



বিকেলে শিহাবের চায়ের দাওয়াত পেয়ে শায়লার মনে অন্যরকম একটা ভালো লাগার অনুভুতি হলো।  যেন এক পশলা বাতাস ছুঁয়ে গেলো ! শিহাবের সাথে কথা হওয়ার পর থেকে শায়লার দু'চোখের পাতা আর এক হয়নি। বাকী সময়টা সে জেগে জেগেই ঘুমালো।আর  বারবার  দেয়ালে বড় ঘড়িটার দিকে তার চোখ পড়ছিল।সেকেন্ডের কাঁটার একটা একটা করে ঘরের চলন আর তার ভেতরে শিহাবকে দেখার আনন্দে একটু একটু করে এগিয়ে চলা। হঠাৎ করে এমন প্রাপ্তি ভেতরটায় কেমন যেন আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে উঠলো! শায়লা ভেবে নিলো,সে আজ  চিকন জরি পাড়ের সেই কালো কোটা শাড়িটি পরবে।শাড়িটার বুনন খুবই হালকা।পরলে মনে হয় পাখির পালকের মত অনুভুতি। আর শাড়িটায় শায়লাকে বেশ উজ্জ্বলও দেখায়।যদিও শিহাবের পাশে তাকে একটু অনুজ্জ্বলই লাগে। অবশ্য এ কথা শুনলে শিহাব ভীষণ রেগে যায়। যদিও শায়লা নিজেকে বুঝে কিন্তু তবুও শায়লা লক্ষ্য করেছে শাড়ি পরলেই তার দিকে শিহাবের যেন  সপ্রতিভ একটা দৃষ্টি ! 

চারটার দিকে শায়লা বিছানা ছাড়লো। একটু ফ্রেশ হয়ে নিয়ে চুল আঁচড়ে নিলো। মন চাইছে চুলটা খোলাই রাখবে আজ। শাড়িটা বের করতেই মনে পড়ে গেলো রাহাত চাকরীর প্রথম বেতন পেয়ে শায়লার জন্য শাড়িটা কিনে এনেছিল ! সেদিন শায়লার আনন্দে চোখ জলে ভরে গিয়েছিল। সে ভাবলো,রাহাত এখন যেমন আচরণই করুক না কেন তার জন্য রাহাতের ভেতরে এক গভীর ভালোবাসা লুকিয়ে আছে। সেটা ভাইবোনের অজানা নয়।শায়লা ভাবনা থেকে বেরিয়ে এসে  চট করে শাড়িটা পরে নিলো। কপালে ছোট্ট একটা কালো টিপ বসিয়ে আয়নায় নিজেকে ভালো করে দেখে নিলো।আসলে সে নিজেকে না, শিহাবের চোখে যেন নিজেকে দেখছিল।আজ তাকে দেখে শিহাবের ভালো লাগবে তো? শায়লাকে দেখে সে কি চমকে উঠবে! শিহাব কি আজো বলবে, শায়লা তোমাকে আমি একদমই চিনতে পারিনি আজ! কালো শাড়িতে তোমার এমন মুগ্ধ করা সাজ, আমার চোখ ফেরানো দায়! এখন তোমায় একগোছা দোলনচাঁপা উপহার দিতে
মন চাইছে বলেই শিহাব তার বাইক থামিয়ে ফুল খুঁজতে থাকবে। 
শায়লা ভাবনার অন্তরাল থেকে বেরিয়ে এলো। সবকিছু ঠিকঠাক মত গুছিয়ে নিলো। মায়ের প্রেসক্রিপশন আর টাকা। সাথে ঘরের কিছু টুকটাক কেনাকাটাও আছে। ওষুধ কিনে একটা সুপার শপে ঢুকতে হবে। শায়লা ঘরের চাবি  হাতে নিয়ে নিলো।শিহাবকে মেসেযে জানিয়ে দিলো।আমি বেরুচ্ছি।তবে কাজ শেষ করে কল দেবো।

শায়লা দরজায় তালা লাগিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নামতেই রুহি খালা তার ঘরের দরজায় দাঁড়ানো।যেই ওৎ পেতেই ছিল।শায়লাকে একেবারে খপ করে ধরবে! শায়লা নামতে গিয়ে একটু ইতস্তত করছিল।এখুনিতো প্রশ্নের জেরার মুখে পড়তে হবে। পরক্ষণেই শায়লা নিজেকে শক্ত করে সিঁড়ি দিয়ে নেমে এলো। 

কোথায় যাও শায়লা ? 
এইতো খালা কালতো মা আসবে রাহাত বললো মায়ের ওষুধগুলো এনে রাখতে তাই বেরুচ্ছিলাম।
খালা  একেবারে দারুন অভিভাবক হয়ে বললেন, নাকি সন্দেহের বশেই বললেন, ওষুধ আনতে তোমার যাইতে হইবো ক্যান? তোমার খালু এখন আছরের নামাজ পড়তে মসজিদে যাইবো।তারে ট্যাকা আর প্রেসক্রিপশনটা দিয়া দাও ওষুধ আইনা দিবো। শায়লা ভাবলো এতো আসলে সাহায্য না,শায়লাকে গৃহবন্দী রাখার পাঁয়তারা। শায়লাও তার বুদ্ধি খাটিয়ে বললো অবশ্যই খালা এই নেন মায়ের প্রেসক্রিপশন আর এইযে টাকা।শায়লা ব্যাগ থেকে এসব বের করে দিলো।শুধু বললো খালুজি যেন ওষুধের মেয়াদের তারিখ ভালো করে দেখে আনেন। শায়লাকে ফেরাতে পেরে রুহি খালা এক তৃপ্তির হাসি দিতেই শায়লা বললো, তবে খালা আমার নিজের কিছু টুকিটাকি কেনাকাটা আছে।আমাকে যেতেই হবে।বলেই শায়লা গটগট করে বেরিয়ে এলো।রুহি খালা শায়লার কর্মকান্ডে রীতিমতো ভ্যাবাচেকা খেয়ে গেলো!রুহি খালা ভাবলেন,শায়লার আজকাল অনেক পরিবর্তন। সে আর সেই আগের মত বোকাসোকা মেয়েটি নেই।খুবই চালাক হয়ে গেছে নয়তো কেমন করে সে তাকে বোকা বানালো !

শায়লা মেইনগেটের বাইরে এসে একটা রিকশা ডাকলো আর ভেবে নিলো সময় যখন পাওয়া গেলো আজ শিহাবের জন্য একটা উপহার কিনবে।শায়লা ভাবলো যেহেতু  সে আজ শিহাবের বাসার অতিথি তাই সে কিছুতেই খালি হাতে যাবে না।সে ট্রাস্ট ফ্যামিলি নীডস'এর দিকে রিকশাওয়ালাকে এগিয়ে যেতে বললো।

শিহাব খুব দ্রুতই হাতের কাজগুলো সেরে নিলো। অফিস এসিস্ট্যান্ট ছেলেটা, কবিরকে 
সব বুঝিয়ে দিয়ে বেরুনোর জন্য নিজেকে তৈরি করে নিলো। শায়লাকে নিয়ে আজ খুব সুন্দর একটা বিকেল কাটতে যাচ্ছে ! শিহাবের মন আনন্দে নেচে উঠলো!সে শায়লার ফোন কলের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতে লাগলো।বারবার মোবাইল স্ক্রিনে চোখ যাচ্ছিল। এইটুকু সময়ের ব্যবধান তবুও খুবি দীর্ঘ লাগছে। ওয়াশরুমের আয়নায় একবার নিজেকে দেখে নিলো।আয়নায় চোখ পড়তেই নিজের দিকে যেন নিজেই প্রশ্ন রাখল।শিহাব তুমি যা করছো তা কি ঠিক হচ্ছে ? কেন নিজের মনকে  শায়লার দিকে এতটা নিয়ে যাচ্ছো ? শিহাব এর কোন উত্তর দিতে পারছিল না।হঠাৎই শায়লার মুখচ্ছবি মনের পর্দায় ভেসে উঠলো। শিহাব তার কাছেই প্রশ্নটা রাখলো। 

শায়লা বলতে পারো আসলেই আমাদের গন্তব্য কোথায় ? শায়লা যেন কথা বলে উঠলো, তোমার আমার গন্তব্য এক। দুজনেরই এক ঠিকানার দিকে যাত্রা।আর সেটা ভালোবাসার ছোট্ট নীড়ের দরজায় প্রবেশের অপেক্ষায়। শিহাব যেন একটু আশ্বস্ত হলো।অফিস ওয়াশরুমে রাখা 'পয়জন'স্প্রে সারা গায়ে স্প্রে করে নিলো।এটা তার খুবই প্রিয় সুগন্ধি। অপূর্ব সুবাসের মোহময়তায় মনে হলো যেন শায়লার হাতের ছোঁয়া পেলো!শিহাব মনে মনে ভাবলো শায়লা আজ তার বাসায় প্রথমবারের মত আসছে। শায়লার জন্য একটা উপহার কিনে নিতে হবে। বলেই শিহাব ঘড়ি দেখলো। শিহাব ওয়াশরুম থেকে বেরুতেই শায়লার মেসেজ এলো।শায়লা বেরুচ্ছে। শিহাব নিজেও মানসিকভাবে তৈরি হয়ে নিলো। মোবাইলে একটা উপহারের অর্ডার প্লেস করলো। বাসার এডড্রেস জানিয়ে দিলো। বিকাশ পেমেন্ট করে বাইকের চাবি আর সানগ্লাস নিয়ে বেরুনোর জন্য উদ্যত হলো। কবির সালাম দিতেই তাকে একশত টাকাত একটা নোট এগিয়ে দিয়ে বললোতুমি বিকেলে নাস্তা করে নিও। আর ভালো মত সবকিছু গুছিয়ে লকআপ করে রাখবে। কাল সকালে চলে আসবে। 

মোবাইলে শায়লার মেসেজ এলো,আমি কোথায় দাঁড়াবো ? 
শিহাবেরভেখন মেসেজ লেখার ইচ্ছে নেই।সে শায়লাকে কল দিলো,তুমি কোথায় আছো ?
এইতো বাসার কাছেই।
শিহাব হিসেব করে নিলো,তবে কাবাব ফ্যাক্টরির অপজিটে ফুলের দোকানগুলোর কাছে দাঁড়ালে শিহাব সহজেই তাকে বাইকে তুলে নিতে পারবে।
শায়লা শিহাবের কথামত ফ্যামিলি নীডস থেকে বেরিয়ে ফুলের দোকানগুলোর কাছে রিকশা থামালো। আহ! চত্ত্বরটা যেন ফুলের গন্ধে মৌ মৌ করছে! শায়লা শিহাবের অপেক্ষায় রইল।হাতে উপহারের ব্যাগটিকে পরম ভালবাসার আগলে রইল।

দুমিনিটের মধ্যেই শিহাবের বাইক শায়লার কাছে এসে থামল।যদিও হেলমেট থাকায় বুঝা যাচ্ছিল না আসলে  বাইকের চালকটি কে? সানগ্লাস চোখে একটা লাল সাদা  প্রিন্টেড শার্টে শিহাবকে খুব সুন্দর লাগছিল।হেলমেট খুলতেই  শায়লার চোখ আনন্দে নেচে উঠলো! বাইক স্টার্ট রেখেই শিহাব বললো চলে আসো শায়লা।আজ আর শায়লার মনে কোন বাধাই কাজ করলো না।সে দ্রুতই উঠে শিহাবের পিছনে বেসে নিলো।শিহাব হেলমেট ঠিক করে একটু দূর এগিয়ে গিয়ে বাইক থামালো। "টেইস্টি ট্রিট" ফাস্ট ফুডের শপে বাইক থামিয়ে শায়লা রেখে শিহাব নিজেই শপে ঢুকলো। কিছুক্ষণের মধ্যেই হাতে কিছু খাবার নিয়ে বেরিয়ে এলো।সরি শায়লা তোমাকে অপেক্ষায় রাখলাম।
কিছু হবে না,আমি ঠিক আছি।
চায়ের সাথে একটু টা নিয়ে এলাম।বলেই শিহাব দারুণ মিষ্টি করে একটা হাসি দিলো
শায়লা অবাক হয়ে সেই হাসির মাঝে হারিয়ে গেলো!

শিহাব বাইক স্টার্ট দিলো।সেক্টর তের নম্বর এর ব্রীজ পেরিয়ে  সোজা এগিয়ে বাইক যেন হাওয়ায় ভেসে চললো।শায়লার বহু চেনা পথ 
আজ শিহাবের সংস্পর্শে অন্যরকম ভালোলাগায় আবেশিত করলো।

বাইক লুবানা হাসপাতালের পিছনের রোডে ঢুকে  একটু এগিতেই শিহাবের বাইক থামলো। দারোয়ান গেইট খুলতেই বাইক গ্যারাজে ঢুকল।দুজনে নামতেই সেখানে আগে থেকেই দাঁড়িয়ে একটা লোক এগিয়ে
এলো।হাতে বিশাল এক ফ্লাওয়ার বু'কে!
শিহাব সেট এগিয়ে নিয়ে শায়লার হাতে দিলো।শায়লা ভীষণভাবে চমকে গেলো!

শিহাব বললো,শায়লা তোমাকে আমি ভালবাসি।আমাদের গৃহে তোমার আগমনে স্বাগতম জানাই।শায়লা ফুলের বু'কেটি হাতে নিয়ে একদৃষ্টে শিহাবের দিকে তাকিয়ে রইল।চোখে মুখে বিস্ময় মিশ্রিত প্রশ্ন খেলে গেলো।
শিহাব তা ভালোভাবেই বুঝে নিলো। শায়লাকে আশ্বস্ত করে বললো,হ্যা, ঠিকই শুনেছো। শিহাব শায়লাকে নিয়ে লিফটের কাছে এগিয়ে গেলো।


চলবে....

কবি রুকসানা রহমান এর কবিতা




লজ্জা
রুকসানা রহমান 

সাগর  টেনে নিলো আচমকা এসে, 
ছুঁয়ে দিলো নোনা  
জল ওষ্ঠে।
টেনে নিলো অতল গভীরে।
স্বপ্নরা পাহাড়ের পাদদেশে অস্হির,
লজ্জা ঢাকলো মেঘ
তার ছায়ায়
বিনম্র শ্রদ্বায় !

Poet Suparna Chatterjee 's poem




Festival of Colour

Mrs.Suparna Chatterjee


Significance of colour means
A beautiful loving heart.
Which is very rare
And the most precious.
Significance of colour means
Welcoming Spring 
At the end of Winter.
Significance of colour means
A couple of lovers’ 
Madness of love.
Significance of colour means
Falling of dry leaves,
And coming out with green leaves instead of it.
Significance of colour means
Constant pain of a broken heart.
Significance of colour means
Endless waiting for a distant love.
Significance of the “Festival of Colour” means,
To enjoy the day 
In a different way.
By forgetting every wounds 
 Learn to love all the people of the beloved Earth.