২০ সেপ্টেম্বর ২০২১

মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৬

অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার মতো আকর্ষণীয়  মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" পড়ুন ও অপরকে পড়তে সহযোগিতা করুন  



 

                       উপন্যাস-টানাপোড়েন (পর্ব-)

                                                     দ্বিধা


আজকাল বুম্বা বেশ চুপচাপ হয়ে গেছে।  স্বতঃস্ফূর্তভাব পরবর্তী লক্ষ্য করা যায় না। আগে খাবার টেবিলে বসে অনর্গল দাদু ঠাকুমার সাথে যেত। আমি তোমার সেই রূপকথার গল্পটা বল না রাজকন্যাকে পাতালপুরীতে নিয়ে গেল দৈত্যরা এসে.. তারপর? ঠাম্মি হেসে বলেন"না দাদু ভাই, আর গল্প নয় এখন তোমার পড়ার সময় তাড়াতাড়ি খেয়ে ওঠো। পড়ার পরে তোমাকে গল্প শোনাবো কেমন?

বুম্বা ''ঠিক আছে ঠাম্মি  ।তাহলে কিন্তু দুটো গল্প? বলেই তাড়াতাড়ি খেয়ে উঠে ,পড়তে বসে যায়।

 খাবার টেবিলে বসে ঠাকুরমা দাদু নাতির এই সম্পর্ক বৌমা মানতে পারে না। ভাবে তার ছেলের মাথাটা চিবোচ্ছে এই বুড়ো বুড়ি।কাজেই কি করে এদের হাত থেকে তার ছেলেকে রক্ষা করা যায় তার প্লান আটতে থাকন। ছেলে সুধাময় বাড়ি ফেরার সঙ্গে সঙ্গে ছেলের কান ভারি করা হয়। মাঝেমধ্যেই ছেলে-বৌমার মধ্যে কটা কথা কাটাকাটি হয়। একদিন তো বৌমার কথাতেই স্পষ্ট হলো বুম্বা ,এরপর তো তোমাকে খাবার টেবিলে একা একাই খাবার অভ্যাস করতে হবে তখন কোথায় গল্প পাবে ?

বুম্বা, ঠাকুমা -দাদুর দিকে তাকিয়ে । সুরূপা লক্ষ্য করেই আমল না দিয়ে বলে  'নাও ।অত বায়না করো না।'

প্রভাদেবী বলেন 'কি এমন বায়না করে দাদুভাই ।দু' একটা গল্প শুনতে চায় ।

 বৌমা 'হ্যাঁ আপনারা ওই আস্কারা দিয়ে দিয়েই ওর মাথাটা খাচ্ছেন।'

প্রভাদেবী আর কোন কথা বাড়ান না। 

সদানন্দ বাবু নিজের স্ত্রী প্রভাদেবীকে বলেন  'ছাড়ো না, ওদের সন্তান। ওরা যেভাবে মানুষ করতে চায় করতে দাও। 

মাঝেমধ্যেই নাতি বুম্বা পড়ার ফাঁকে ঠাকুমা- দাদুর ঘরে ঢুকে পড়ে ।এসেই ঠাকুমার গলা জড়িয়ে ধরে ।ছোট ছোট দুই হাত ধরে যখন গলা জড়িয়ে ধরে প্রভাদেবীর ।প্রভাদেবী যেন স্বর্গ সুখ পান। প্রভাদেবী আদরের সুরে সঙ্গে বলেন ' কি দাদুভাই। কি মতলব তোমার'?

বুম্বা -কানের কাছে এসে বলে( আবদার করে) 'ঠাম্মি আমাকে কিন্তু তিলের নাড়ু খাওয়াবে? '

প্রভাদেবী 'এই কথা ।খাওয়াবো দাদুভাই'। 

দরজার কাছে একটু তাকিয়ে থেকে আবার ছুটে এসে ঠাম্মিকে বলে -'মাকে কিন্তু ব'লো না।'

প্রভাদেবী মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। 

তখনি ছুটে চলে যায় পড়ার ঘরে। সেদিন তো হাতেনাতে ধরা পড়ে গেছে বুম্বা ।কি মারটাই না মারলে ওর মা। 

প্রভাদেবী ছুটে এসে বলেন-'বৌমা এত মারছো কেন?'

বৌমা বলেন-'দেখুন আমার ছেলেকে শাসন করার সময় আপনি এখানে আসবেন না। একেতেই আপনাদের আশকারাতে আমার ছেলের মাথাটা যাচ্ছে।'

প্রভাদেবী ঘরে চলে আসেন‌ চোখের জল ফেলেন।

সদানন্দ বাবু প্রভাদেবীর কাছে এসে তাঁকে সান্ত্বনা দেন আর বলেন আজকাল দিন পাল্টে গেছে প্রভা ।আজকাল বয়জ্যেষ্ঠদের মতামতের কোনো প্রয়োজন নেই এদের। ওদের ছেলে যেভাবে মানুষ করতে চায় ওদের করতে দাও। কষ্ট পেওনা। 

সুধাময় বাড়িতে আসলেই শুরু হল তুমুল ঝগড়া। শেষ পর্যন্ত সুধাময়কে স্ত্রীর কাছে হার মানতে হলো। ওদের ফ্ল্যাট কেনাই ছিল। শুধু মাত্র সুধাময়ের মনে একটা দ্বিধা তৈরি হয়েছিল ,বাবা -মাকে রেখে কি করে ফ্ল্যাটে যাবে? কিন্তু ছেলের কথা ভেবে আজকে তাকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতেই হলো। তাই মা -বাবার রুমে এসে জানিয়ে দিয়ে গেল আগামী ৭দিনের মধ্যে তারা কলকাতার ফ্ল্যাটে শিফট করছে। 

প্রভাদেবী বলেন  'হ্যাঁ তোদের সন্তানকে সঠিকভাবে মানুষ করবি ,তোদের তো ফ্ল্যাটে যেতেই হবে। তবে একটা অনুরোধ বাবা । নাতিকে আমাদের কাছে মাঝে মাঝে নিয়ে আসিস। 

সুধাময় বলে "ঠিক আছে মা।"

এত তাড়াতাড়ি মা বা-বা মেনে নেবেন ,সুধাময়এর ও কল্পনার অতীত ছিল। সুধাময় এর আর কোন বাঁধা রইলো না। শেষ পর্যন্ত সুরূপার জয় হলো। 

কিন্তুএখানে এসেই সেই সমস্যাটা আরো বেশি করে দেখা দিল। ছেলে বুম্বা দিনকে দিন মনমরা হয়ে যাচ্ছে। লেখা পড়ায়  মন নেই। সুধাময় একদিন ছুটির দিন দেখে বাবা-মায়ের কাছে ছেলেকে নিয়ে আসলো। কিন্তু সুরূপা আসলো না। আগে থেকে বলেই রেখেছিল সুধাময় মাকে ফোন করে। তাই ছেলে নাতির পছন্দমত সব খাবার বানিয়েছিলেন প্রভাদেবী। বুম্বা ঠাকুমা দাদুর কাছে এসে আগের মত সতেজ হয়ে উঠলো। এরমধ্যে সুধাময়ের মনের  মেয়ে মোমবাতি এসেছে বলে দু'জনে উঠোনে খেলতে নেমে গেল। আর ঠাম্মির কাছ থেকে তিলের নাড়ু নিয়ে খুশিতে ডগোমগো হলো। বুম্বার আনন্দ যেন দ্বিগুন বেড়ে গেল।সুধাময় ভাবতে লাগলো এ বাড়িতে এসে বুম্বাকে আগের মত দেখতে পেয়ে সুধাময় খুব খুশি  হল। কিন্তু মা -বাবাকে মুখ ফুটে বলতে পারল না। ফিরে যাবার সময় বুম্বার সে কি কান্না। শুধু বাবাকে বলতে লাগলো ' বাপি ঠাম্মি দাদুকে নিয়ে চল না কলকাতার ফ্ল্যাটে? সুধাময় ছেলেকে সান্তনা দেবার জন্য বলল পরের বার এসে নিয়ে যাবো ।আসলে সুধাময় এর ভেতরে দ্বিধা তৈরি হয়েছে ।সেটা যে তৈরি করেছে তার স্ত্রী সুরূপা। যদি কলকাতার ফ্ল্যাটে তার বাবা-মাকে নিয়ে আসে তাহলে সুরূপা সঙ্গে সুধাময়ের তুমুল ঝগড়া হবে। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকতে চায় না। সুধাময় সে কথাটা তার বাবা-মাকে খুলে বলতে পারে নি ।তাই ঠিক করেছে এবার থেকে একটু কম আসবে মা-বাবার কাছে। যাবার সময় যতদূর দেখা যায় বুম্বা দূর থেকে তাকিয়ে থাকে তার ঠাকুমা দাদুর দিকে। দাদু ঠাকুমা হাত নেড়ে নেড়ে বলতে থাকে দাদুভাই পরের রবিবার এসো। আমি তোমার জন্য তিলের নাড়ু আর নতুন একটা গল্প বলবো। বুম্বা খুশি হয়ে চলে যায়। এবার বাড়িতে গিয়ে ভালো করে পড়াশোনা করতে থাকে আর দিন গুনতে থাকে রবিবারের। শনিবার দিন রাত থেকে ওর ভেতরে উত্তেজনা দাদু -ঠাকুমার কাছে যাবে বলে। কিন্তু পরের দিন রবিবার যাবার সময় হলেও যখন তার বাবা তাকে নিয়ে যায় না ।এমনকি ও ঠাকু মা ফোন করলেও যখন ফোন ধরতে দেয়া হয় না ।তখন সে অঝোরে কাঁদতে থাকে। সুরূপা এসে ছেলেকে ভালো করে ধমকায় আর বলে এবার থেকে আর তোমার ওখানে যাওয়া হবেনা। তোমায় শুধু পড়াশোনা করতে হবে ভালো করে এই কথাটা মাথায় নিয়ে নাও। ভালো স্কুলে ভর্তি হয়েছ। বুম্বা জানে এটা কিসের ভালো স্কুল যেখানে দাদু ঠাকুমা কে নিয়ে কোন কথাই কেউ বলে না। ও যদি কারো কাছে সে গল্প করতে চাই তারাও সেটা শুনতে চায় না। তারা মোবাইলের নানা গেমস গুলোর কথা নিয়ে আলোচনা করতে থাকে। এরমধ্যে বুম্বা জানে তাদের ফেলে আসা গ্রামের ঠাকুমার গায়ের গন্ধ ঠাকুমার হাতের তৈরি নাড়ুর অসাধারণ স্বাদ ।ঠাকুমা -দাদুর বলা গল্প সমস্ত যেন নগন্য বলে মনে হয় শহরের পড়ুয়াদের কাছে। শহরের দামি দামি রেস্তোরাঁর খাবার এর কাছে বুম্বার ঠাকুমার নগণ্য তিলের নাড়ুর মূল্য কিসের?বুম্বার ভেতরে যে ওলট পালট হচ্ছে। তার ভেতরে যে কতটা কষ্ট হচ্ছে সে খবর রাখার প্রয়োজন করে নি কেউ ।এমন কি ওর বাবা-মা ও। আজকে বুম্বা নিজের ভেতরে গুমড়ে গুমড়ে ওঠা কষ্টটাকে চাপা দেওয়ার জন্য। সে ভেবে পায়না শহরের মানুষগুলো এত নিষ্ঠুর কেন। এই শহর যেমন সবুজহীন, এমনি মানুষগুলো নিষ্ঠুর। সে ফিরে পেতে চায় তারা গ্রামবাংলার সবুজ গাছপালার স্পর্শ বেড়ে ওঠা গ্রামের  জয় -নিতাইদের সহজ-সরল সান্নিধ্য, ফিরে পেতে চায় ঠাকুমা দাদুর স্নেহ ভরা দুটি শীতল হাতের স্পর্শ। তাই একদিন স্কুল ছুটির শেষে সে নিজেই বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেয় ফেরার সময় পার্কের কাছে একটি পুকুরে ধারে এসে চুপ করে দাঁড়িয়ে পড়ে অনেকক্ষণ ধরে চিন্তা করতে থাকে তারপর হাতে একটা নুড়ি তুলে নিয়ে ছুড়ে মারে জলে। সে ভাবতে থাকে সে যে চুপিচুপি মশারি সরিয়ে তার ঠাকুমার কাছে গিয়ে শুয়ে পড়তো তারপর তার ঠাকুমা তাকে কাছে টেনে ফিসফিস করে বলতো দাদুভাই আজকে কি মতলবে বোম্বা তাকে জড়িয়ে ধরে কত কথাই না বলতো আজকে তার ঠাকুমার গায়ের আশ্চর্য সুন্দর গন্ধ তার কল্পনায় একবুক নিঃশ্বাসে টেনে নিল তার ভেতরের যে কষ্ট সেই কষ্টটা সে কাউকে বাড়িতে গিয়ে শেয়ার করতে পারে না। মা তো শুনতেই চায় না কোনো কথা। সে ভেবে পায়না তার ঠাকুমা দাদু কলকাতার ফ্ল্যাটে আসলে তাদের কি এমন অসুবিধা হতে পারে সে ভেবে ভেবে অস্থির হয়ে যায় এখানে তার না আছে সঙ্গী সাথী, সে কিছুতেই এই পরিবেশে খাপ খাওয়াতে পারছে না।


মাঝে মাঝেই তার মা ঠাকুমা দাদু সম্পর্কে নানারকম মিথ্যে কথা বলে তার মনটাকে বিষিয়ে দেবার চেষ্টা করেছে তার মনে দ্বিধা তৈরি করতে বাধ্য করছে তার শিশুমন সেটা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছে না।



ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন"৬ ক্রমশ

ঈমাম উদ্দিন



কি মায়ায় বান্দিলে 


না দেখিলে হিয়ার ভিতর করে আনচান   

আমার, কি মায়ায় বান্দিলে 

সোনা চান আমারে,কি মায়ায় বান্দিলে 

সোনার চান।


সকাল সন্ধ্যা না দেখিলে তোরে হয়ে 

যাই দিওয়ানা,হৃদ গগনে তুমি আমার 

চান্দেরও জোছনা মন যারে চায় সেই 

তুমি আমার জানের জান, কি মায়ায় 

বান্দিলে সোনার চান,না দেখি হিয়ার 

ভিতর করে আনচান আমার

কি মায়ায় বান্দিলে সোনার চান আমারে 

কি মায়ায় বান্দিলে সোনার চান।


এক পলক দেখিয়া তোরে জুড়ায় 

নারে মন,দেখে দেখে সাধ মিটাবো 

অনন্ত জনম,শীতল হয় দেখিলে  তোমায়   

উতলা পরান,কি মায়ায় বান্দিলে

সোনার চান, না দেখিলে হিয়ার ভিতর 

করে আনচান আমার,কি মায়ায় বান্দিলে 

সোনার চান আমারে।


তুমি আমার হৃদপিঞ্জরে পরান পাখি 

ময়না মাতাল ঈমাম কয় তোমার প্রেমে  

জগত করলাম বায়না 

হাসি মুখে সইবো আমি শত অপমান 

কি মায়ায় বান্দিলে সোনার চান 

না দেখিলে হিয়ার ভিতর করে আনচান 

কি মায়ায় বান্দিলে সোনার চান আমারে 

কি মায়ায় বান্দিলে সোনার চান।

মতিউর রহমান আরব


 প্রজাপতি


প্রজাপতি, তুমি এলেই যখন তবে চুপ করে চলে গেলে কেন?

তোমার গায়ের গন্ধ ছড়িয়ে আছে এখনো আমার  বসার চেয়ারটাই। 

নিশ্চয় তুমি লম্বা পায়াওয়ালা কোঁকড়ানো হাতোলের চেয়ারটাই খানিক ক্ষণ বসেছিলে।

নিশ্চয় তুমি আমার শুবার বিছানটাই একটু গা এলিয়েছিলে।


তোমার এলোচুলের মেহেদী গন্ধের তীব্রতা বালিশে

হাতের নৈপূন্যতা লেগে আছে চাদরে, আলনাতে, জুতার বাক্সে।

কি চমৎকার সাজিয়েছো ঘরটা!


সত্যি তুমি পারো প্রজাপতি! 

আমি অনন্তকাল তোমার আশায় বুদ হয়ে থাকি

উদোম দুপুর চেয়ে থাকি

তুমি আসবে বলে।

অথচ তুমি এলে নির্জনে, আমি নেই

আমার অনুপস্থিতি তোমার কি ভীষণ প্রিয় 

নাকি লজ্জা নাকি অন্য কিছু? 


আমি সংসার, ধর্ম, সমাজ, প্রেম-পিরিতি বুঝিনা

আমি এক উড়নচণ্ডী ভবঘুরে, উদ্ভট বটে।

যেটুকু মানি সে শুধু তোমার জন্য।


ফিরে এসেছি জট বাঁধা আওলা চুলের বাউলা থেকে 

সে তো তোমারই টানে, তোমারই ছোঁয়াতে।


তুমি আমাকে শুদ্ধ করেছো, ধন্য করেছো

দিয়েছো ভালোবাসা 

তুমি হীনা নিঃস্ব আমি 

তুমিই ভরসা।

অনির্বাণ বসাক সোমনাথ এর গল্প


 


                           অপূর্ব ভালোবাসা 


                                           চিঠিটা পার্থ ঠিকিইপায়।কিন্তু পড়ে না কারন সে খুব ব‍্যাস্ত থাকে এখন।মানুষের চিঠি পড়ে সময় নষ্ট করার কোন মানে হয় না,তাই সেই খাম বন্দী করেই বইয়ের পাতার ভাজে রেখে দেয়।

একদিন রাতে হঠাৎ পার্থের মন কেমন কেমন করতে লাগল,অচেনা এক অস্থিরতায় ভূগতে থাকে। হঠাৎ মনে পড়ে ফিওনার দেয়া সেই চিঠিটার কথা।মেয়েটা এমন পাগল কেন?ফোনে সব যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছি তাই এখন চিঠি দিয়ে জ্বালাচ্ছে উফফ! এতো অপমান এর পরও কোন লজ্জা নেই।কবে যে এর থেকে পুরোপুরি মুক্তি পাবো।ভাবতে ভাবতে চিঠিটা খোলে পার্থ।


          অলঙ্করণ : সোমাশ্রী সাহা


প্রিয়,

অনেকদিন পর তোমায় লিখতে বসেছি।বসেছি বললে ভুল হবে।হেলান দিয়ে আছি।বসতে এখন খুব কষ্ট হয়।তোমাকে কিছু বলার ছিল,আমি আর কিছু দিন পর তারা হয়ে যাব। কিন্তু আমি তো আরও কিছুদিন আকাশের নিচে থাকতে চাই।তুমি কিছু করো না Plz আমি বাচঁতে চাই প্রিয় তোমাকে নিয়ে কত স্বপ্ন দেখি জানো?আমি প্রায়ই কল্পনা করতাম আমাদের প্রথম দেখায় কি হবে,তোমার বাইকের পিছনে বসে কাধে হাত রাখবো রাখবো করে আর রাখা হল না,তুমি হঠাৎ ব্রেক করবে।তারপর আমি শক্ত করে তোমার কাধে আমার হাত দিয়ে চেপে ধরবো।আর ছাড়বোনা।তারপর যখন পড়ন্ত বিকেল এ পাশাপাশি হাটবো,বাতাসে আমার চুল গুলো বাধ ভেঙে উড়তে থাকবে।

তুমি এক দৃষ্টিতে আমার চোখের দিকে তাকিয়ে রবে। আমার যেই চুলগুলো দেখে বলতে কাকের বাসা,সেই চুলের প্রেমে পড়বে তুমি।চোখ সড়াতে পারবে না,আমি তখন লজ্জায় লাল হয়ে নিচের দিকে তাকিয়ে থাকব।তুমি আমার চুলের দিকে তাকিয়ে হাটতে থাকবে হঠাৎ সামনে একটা গাছের সাথে ধাক্কা খাবে। তখন আমি হেসে কুটি কুটি হবো।তুমি আমার হাসির রহস্য খুজতে খুজতে হাড়িয়ে যাবে আমার মাঝে। হঠাৎ হাসি থামিয়ে তোমার চোখের মাঝে হাড়িয়ে যাব আমিও।

আহ্ তোমার সেই দৃষ্টি! যেই দৃষ্টি তে পরেআমাকে ভালোবাসতে বাধ‍্য করেছ।এর পর গোধুলিতে কি করব জানো? সমুদ্রের তীরে গিয়ে সূর্যাস্ত দেখবো,লাল টুকটুকে রৌদ্রটাকে তুমি আমার হাতে ধরিয়ে দিবে।পেছন থেকে আমার হাতের নিচে তোমার হাত রাখবে আমি লজ্জায় লাল হবো,তুমি আর আমি মিলে একসাথে রৌদ্রটাকে হাতে নেব।

কিন্তু বড্ডো  নিষ্ঠুর সময়। আমার স্বপ্ন গুলো এরা পূরণ হতে দিতে চায় না । Plz তুমি যেখানেই থাকো ফিরে এসো। আসার সময় একটা খাঁচা নিয়ে আসবে,সেই খাঁচায় সময়টাকে বন্দী করে রাখব হুম।। জানো আমার এই ব‍্যাধীর কথা পরিচিত,অর্ধ পরিচিত যে কেউ শুনলেই ছুটে চলে আসে আমাকে একবার দেখতে।এসে দেখে আমি বাচ্চা ছেলের মত বাচ্চাদের সাথে খেলছি।মিছে স্বপ্ন গুলোর মতো মিছে মিছে রাধঁতেছি। আচ্ছা চিঠিটা পাওয়ার পর কি ছুটে এসে বলবে প্রিয় বলে?আসবে কি?

কি দেখবে জানো!আমি সত‍্যি রাধঁতেছি,তোমার জন‍্য খিচুড়ি। মনে পড়ে তোমার?একবার জিঙ্গেস করেছিলে তুমি কি খিচুড়ি রাধঁতে পাড়ো! আমি বলেছিলাম নাতো!কেনো?

তুমি বলেছিলে খেতে ইচ্ছে করছে খুব।তুমি কি জানো,তার কিছু দিনের মধ‍্যেই আমি খিচুড়ি রান্না শিখে নিয়েছিলাম। আমার না খুব অসহায় লাগছে।

তুমি আমার সাহস ছিলে!শুনছো তুমি? আমার সাহস ছিলে তুমি।আমার বড় বড় পরীক্ষা দিতে যাওয়ার আগে তোমার কাছে সাহস নিতাম।

মনে পড়ে তোমার,তুমি তখন বারবার আমায় ছেড়ে চলে যেতে চাইতে।আমি যেতে দিতাম না। পরীক্ষার বাহানায় তোমাকে আটকে রাখতাম। কারণ তুমি আমার জীবনে থাকা মানেই সাহস থাকা। কিন্তু আজতো তুমি নেই plz plz ফিরে এসো না!

আমার সাহস হয়ে আবার ফিরে এসো। আমার জন‍্য আসার সময় মনে করে খাঁচাটা নিয়ে আসবে।

সময়টাকে বন্দী করে রাখা খাঁচা নইলে আমি খুব রাগ করব কিন্তু।তোমায় আসতেই হবে,আচ্ছা!

তোমার কি মনে আছে? আমি তোমাকে একটা নামে রাগাতাম,পোকা ডাকতাম তোমায়।তুমি সেই পোকার মত ভাব নিয়ে একটা ছবি তুলেছিলে। আমাকে দেওয়ার পর দেখে খুব হেসে ছিলাম।কবে থেকে যে ওভাবে আর হাসি না! তুমি ফিরলে ঠিক হাসবো।

ও হ‍্যাঁ বলতেই ভুলে গেছি, আমার মাথায় এখন একটা পোকা ঢুকেছে।এই পোকাটা আমায় আর হাসতে দেয় না।এই পোকাটা কষ্ট দেয়।তোমার স্মৃতি গুলো এলোমেলো করে দেয়,পোকাটা ভীষণ দুষ্টু মাথার মধ‍্যে দৌড়ায় শুধু,আমি ধরার আগেই পালায়।

তুমি এসে এটাকে ধরে দিও plz হুম।এটাকেও খাঁচায় বন্দী করে দেবে। তুমি আমার মিষ্টি পোকাটা হয়ে ফিরে এসো plz.........!

জলদি ফিরে এসো। নইলে ভীতু বলে ডাকবো কিন্তু!

এসো একবার,আমার হতে হবে না,শুধু তোমার হাতটা আমার হাতে রাখলেই হবে।

না ফিরলে সত‍্যি তারা হয়ে যাব!!

ইতি

তোমার বউ মণি


চোখ ঝাপসা হয়ে যায় পার্থের!হাত পা থরথর করে কাঁপতে থাকে,এতো কেনো ভালোবাসে মেয়েটা ঊফফ!

কি করব? অনেক খোঁজার পর মিলল ফিওনার নাম্বার ও এটা তো ওর মায়ের নাম্বার,ফিওনার নাম্বারটা মনে নেই।অনেকদিন আগের কথা তো ভুলে গেছি।

ফিওনার মাকে ফোন দিতেই বলে ফিওনা নেই।তোমায় দেখার জন‍্য ছটফট করছিল,আজ সে আকাশের চাঁদ। দুচোখ বয়ে অশ্রু জল ছাড়া আর কিছুই দিলাম না মেয়েটাকে আজ বড়ই অপরাধী আমি।

রাকিব সরকার



 স্বাধীনতা 


স্বাধীনতা  তুমি নাকি, 

            একটি মিষ্টি মধুর  ফুল,

তোমার সুভাষ পেয়ে নাকি

                          সবাই মশগুল?


স্বাধীনতা তুমি নাকি, 

                         সবার মুখের  হাসি 

তোমাকে পেয়ে নাকি,

                        আনন্দিত  বিশ্ব ভারতবাসি?

 

 স্বাধীনতা তুমি নাকি,

                          মিষ্টি জ্যোৎস্না রাত 

  তুমি নাকি অপেক্ষারত 

                     প্রেমিকের দুঃখ উড়ানোর খাত?


স্বাধীনতা তুমি নাকি,

                 সোনালী সকাল বেলা,

 তুমি নাকি  বাদল দিনের 

                    ছেলেবেলার  খেলা?


 স্বাধীনতা তুমি  নাকি, 

                  কবিতার  বিদ্রোহীন ভাষা,

তুমি নাকি সাহিত্য  মহলের 

                      জেগে ওঠার  আশা?


স্বাধীনতা তুমি  নাকি ,

                     অন্ধকারের  আলোর  পথ, 

তুমি নাকি সমস্ত ভারতবাসির 

                     দেশ গড়ার ঐক্যমত।

ghgbg

 vcbcfb

vgggb

 gfbvbb

sdscc

 addsd

১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

কবি বিকাশ সরকারের কবিতা


হিম আজ এক্কার বউ 


চায়ের চিকন পাতা ছিঁড়ি ফ্ৰান্সিস এক্কার সাথে; তখন সকাল

হিম এসে লেগে যায় হাতে, অতএব চুপচাপ খাব গরম নুন চা

তারপর ছায়াগাছে সূৰ্য উঠবে জেগে আড়মোড়া ভেঙে, হাই তুলে


দাঁতনকাঠি নিয়ে বিগুলঝোরার দিকে চলে যাবে এক্কার বউ

দাঁত মেজে, কুলকুচো করে, তুলে আনবে আঁচল ভরে জলগুগলি

ঠিক দশটায় গুগলির ঝোল দিয়ে আমরা সকলে খাব মারুয়ার রুটি


 ডবলির হাটে আমিও গজা কিনি সকলের সাথে; তখন বিকেল

ভাতের পচাই খাব নিঝঝুম রাতে, এখন চলবে শুধু তার পচনের খেলা

জোনাকি আসবে উড়ে একটাদুটো এক্কার বউটির সোমত্থ স্তনে

গোসাপের মাংস কি তার চেয়ে সুস্বাদু হয়? জোনাকিরা জানে

মাদল বাজাব ঘণ্টাখানেক, ততক্ষণে জেগে যাবে যত ছিল কাম

তারপর বিশাল জরায়ু হয়ে জেগে উঠছে হিন্দুপাড়ার সুনশান মাঠ

তারপর দূরে এক গণিকাবাড়িতে জ্বলে উঠছে আলতো লন্ঠন

তারপর একটি আস্ত ডবলির হাট ঘিলুতে পুরে আমি একা একা হাঁটি

আমি হাঁটি অন্ধকার মঙরির সাথে; তখন খুব অতর্কিতে রাত হয়ে যায়

হিম এসে লেগে যায় ফ্রান্সিসের হাতে, বুঝেছি এখন, হিম হল এক্কার বউ


মমতা রায়চৌধুরী'র উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৫

অন্তর দিয়ে উপলব্ধি করবার মতো আকর্ষণীয়  মমতা রায়চৌধুরী'র ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" পড়ুন ও অপরকে পড়তে সহযোগিতা করুন  



                                                           টানাপোড়েন   (পর্ব-)

                                                                                 সংশয়


                             বাইরে কি বৃষ্টি? বৃষ্টি ই। ঝড়ের মতো বাতাস বইছে। ওল্ড বালিগঞ্জের নির্জন রাস্তায় যে বাড়ীটার নিচে কোন রকমে দাঁড়িয়েছে শিখা। বারবার হাত ঘড়ি দেখছে। এখনো দিব্যেন্দুর দেখা নেই। আর কতক্ষন ওয়েট করবে। এবার তাকে বাড়ি ফিরতেই হবে। আজ কাল প্রায়শই এরকম হচ্ছে। হঠাৎই নজরে এলো একটি ট্যাক্সি ড্রাইভার সিগন্যাল পেরিয়ে সামনে ঘাড় ঘুরিয়ে বলল -কোথায় যাবেন? শিখা এদিক-ওদিক তাকিয়ে দেখল, না তাকে দেখেই তো জিজ্ঞেস করছে? একটু যেন সংশয় হল মনে যাবে, না ওয়েট করবে। ওদিকে এত বৃষ্টি দাঁড়িয়ে থাকা যাচ্ছে না। চিন্তাভাবনা না করে উঠে পরল ট্যাক্সিতে। ট্যাক্সিতে যেতে যেতে কেমন অসহ্য লাগছিল ট্যাক্সিওয়ালার চাহনিটা। তারপর নির্দিষ্ট জায়গায় সে নেমে পড়ল। বাড়িতে এসেএকটা ফোন করল দিব্যেন্দুকে। দিব্যেন্দুর ফোন কেন লাগছে না? এদিকে দাদা বৌদির মধ্যে একটা ঝামেলা চলছে কি নিয়ে সেটা সে জানে না। আজকেও বাড়িতে ঢুকে দুজনের ভেতরে কথা কাটাকাটি স্পষ্ট কানে এলো। বৌদি শুধু বলছে -'নিউমার্কেটে তুমি যাওনি?'

রীতাকে আমি চিনি না? রীতার সাথে অত তোমার কিসের মাখো মাখো...

সুরঞ্জন চেঁচিয়ে বলছে-'মুখ সামলে কথা বলো মাধু, ও আমার বোনের বয়সী। '

এবার মাধুরী উত্তেজিত হয়ে বলল-'সে তো তার জানা আছে। কিন্তু সুরঞ্জনের সেটা মাথায় আছে কিনা ,সেটা তো জানে না ।প্রশ্নটা তো সেখানেই?

কান খাড়া করে শোনে শিখা। রীতা আমার ক্লাসমেট কি হয়েছে ওর? আর বৌদি ই বা এভাবে রিঅ্যাক্ট করছে কেন? কি দেখেছে বৌদি? ওর কান যেন গরম হয়ে গেল। ইদানিং রীতা সম্পর্কে অনেক কিছু শুনতে পাচ্ছিল। ও নাকি ক্লাস করার নাম করে আজকাল ডেটিং করে ।এভাবেই টাকা রোজগারে মনোনিবেশ করেছে। কাকা, কাকি মা মারা যাবার পর একটু বেপরোয়া হয়ে গেছে। ওর সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করে না। এজন্য এখন আর বাড়িতে ডাকাও হয় না। ভালই করেছি বাড়িতে না ডেকে। এইসব ভাবতে ভাবতে বাথরুমে চলে যায় ।বাথরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে যখন বেরোয় তখন দেখে দাদা বৌদির আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না। হঠাৎই কেমন বাড়িতে একটা নিস্তব্ধ পরিবেশ। কি হলো একটু ভাবার চেষ্টা করছে। একটু পরে শোনে  -'দাদা ,বৌদিকে ডাকছে-''মাধু বিশ্বাস করো, এই তোমার মাথায় হাত রেখে বলছি। বৃষ্টির মাথায় হাত রেখে বলছি। 

বৌদির তখন কথা শুনে বোঝা গেল, খুবই ঠান্ডা মেজাজে বলছে-"থাক আমার মেয়ের মাথায় হাত রেখে তোমাকে কিছু বলতে হবে না।'তুমি আমার বিশ্বাসের মর্যাদা রেখো তাহলেই হবে। যেন কখনো আমি ওর সঙ্গে কোন কথা বা কখনো তার সাথে যেন না দেখি।'দাদা বলছে-'এই আমি কান ধরছি।'বৌদি এবার হেসে বললে-'থাক আর আদিখ্যেতা করতে হবে না। খাবে চলো। 

শিখাকে ডাকো।'শিখা যেন একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলল। 

আসলে বাবা-মা মারা যাবার পর থেকে বৌদির কাছেই সে শাসন ,ভালোবাসা পেয়েছে। তাই হঠাৎ করে বৌদির ভেতরের কষ্টটা শিখা মেনে নিতে পারে না ।তা তার নিজের দাদাই হোক না কেন? ওদিকে সুরঞ্জন হাক দেয়-"শিখা, নিচে আয় ,খাবি।,

শিখা উত্তর দেয়-যাচ্ছি। বলেই খাবার টেবিলে এসে বসে। হঠাৎই বৌদি বলে দিব্যেন্দুর খবর কী রে শিখা? আজকাল আর বাড়িতে তার আসা হয় না কেন? তোদের মধ্যে কি ঝগড়া হয়েছে নাকি? দু বছর তো হলো চাকরি পেয়েছে। তোর এবার ফাইনাল ইয়ার। পরীক্ষা শেষে কিন্তু তোদের চার হাত এক হবে। ওর বাবা-মাকে আমাদের বাড়িতে আসতে বলবি?"

শিখা কোন উত্তর দেয় না। শুধু মাথা নেড়ে সম্মতি জানায়।  কিন্তু শিখা খেতে খেতে সত্যি ভেবে পাচ্ছিল না দিব্যেন্দু আজকাল তার সাথে কেন এরকম করছে? একটা দুশ্চিন্তা সংশয় নিয়ে খাবার খেয়ে এসে উপরে চলে যায়। স্টাডি লিভ দিয়ে দিয়েছে ইউনিভার্সিটি থেকে। কয়েক দিন পরেই পরীক্ষা ।এজন্য আজকে সে বেরিয়েছিল দিব্যেন্দু সঙ্গে দেখা করে সব ব্যাপারটা পরিস্কার করবে। কিন্তু দেখা তো দূরের কথা একটা ফোন পর্যন্ত সে করে নি। এবার সে ভাবল দিব্যেন্দুর কথা এত ভাবলে তার পরীক্ষাটাই মাটি হবে।

হয়তো অফিসের কাজে ব্যস্ত সময় দিতে পারছে না। থাক এখন কদিন  ওর অফিস নিয়ে। ওকে এখন পড়া-শোনা টা ঠিক করে করতে হবে। হঠাৎই সুমনার ফোন -

 'হ্যালো, শিখা। সুমনা বলছিl

 হ্যাঁ বল। 

বলব না ।তোকে একটা স্ক্রিনশট করে ছবি পাঠালাম হোয়াটসঅ্যাপে দেখ। রাখছি।'

 কার ছবি? কিসের ছবি? বলতে বলতেই ফোন কেটে গেল। 

হোয়াটসঅ্যাপ খুলল শিখা। কিসের ছবি ।ছবিটা জুম করে বড় করে দেখলো ।দিব্যেন্দুর ছবি ।কাকে পাজা করে ট্যাক্সিতে তুলছে। আরেকটু ভালো করে দেখল ,(অবাক হয়ে)  এ তো রীতার ছবি? 

একটু পরেই আবার সুমনার ফোন-'কিরে দেখা হল ছবিটা? তুই কদিন আগে আমাকে বলেছিলি না দিব্যেন্দু সঙ্গে তোর দেখা হচ্ছে না, কথা হচ্ছে না। কথাটা আমার মাথায় ছিল। হঠাৎ করে সেন্টাল এভিনিউ এর দিকে একটা নার্সিংহোম এর পাস দিয়ে আমি যাচ্ছিলাম ।তখনই দেখলাম, ছবিটা তুললাম।'ব্যাপারটা কি বল তো? রীতাটা তো আজকাল বাজে মেয়ে হয়ে গেছে ,আমরা প্রত্যেকেই জানি। কিন্তু দিব্যেন্দুদা মাই গড ভাবতে পারছি না ।আরো কত কথা বলে যেতে লাগলো ।কোন ও  কথা আর শিখার কানের ভেতরে ঢুকলো না ।ফোনটা রেখে দিল। 

অথচ আজ ই  ওর বৌদি বলছিল দিব্যেন্দুর বাবা-মাকে ,শিখার দাদা বৌদির সঙ্গে কথা বলতে। এখন কি কথা বলবে দাদা বৌদিকে?' 

পড়াশোনাতে মন লাগছে না। আলোটা নিভিয়ে চুপচাপ জানলার কাছে দাঁড়িয়ে আছে। মনের ভেতরে হাজারো সংশয় । কি করবে এখন শিখা। রীতাকে নিয়ে দিব্যেন্দু নার্সিংহোমে  কেন ?এই চিন্তাটা মাথায় সারাক্ষণ ঘুরপাক খাচ্ছে। আজকাল দিব্যেন্দুর ভালোবাসার স্পর্শ একটু অন্য মাত্রায় যাচ্ছিল ।এটা শিখাও বুঝতে পেরেছিল কিন্তু শিখা এগোতে দেয়নি বেশি দূর। 

এই তো ৩ মাস আগের কথা ওরা দুজন ট্যাক্সিতে উঠে ছিল চৌরঙ্গী মার্কেট যাবে। ট্যাক্সি গড়ের মাঠ ছেড়ে চৌরঙ্গীতে পড়তেই রাস্তার আলো যখন খুব ম্রিয়মাণ ।তখন ট্যাক্সির মধ্যেই দিব্যেন্দুর হাত শিখার করতল ছেড়ে উঠে এসেছিল কোমরে ।নরম আঙ্গুল দিয়ে শিখার শরীরের মাংসে যেন  আঙ্গুল ঢুকে যাচ্ছিল। সঙ্গে সঙ্গে শিখা হাত দুটো চেপে ধরে তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিল-' এত তাড়া কিসের?'সে তো আর পালিয়ে যাচ্ছে না। বিয়ের পর সব হবে।

'সেদিন রেস্তোরাঁয় খেতে ঢুকে দিব্যেন্দু শিখার সাথে তেমন কোনো কথা বলে নি। শুধু একটা কথাই বলেছিল' ভালোবাসায় শরীরটাও প্রয়োজন আছে?'

শিখাও সেদিন কথা বাড়ায় নি। শুধু বলেছিল-'সেটা সে অস্বীকার করে না। তবে সেটা বিয়ের পরের জন্য তোলা থাক।'

এরই মধ্যে কি রীতা ওর জীবনে এন্ট্রি নিয়ে নিয়েছে। রীতা তো ওকে কখনো ভালোবাসবে না? রীতা শুধু টাকা চায়, টাকা? সে ভাবতে থাকে বৌদিকে কথাটা কি সে জানাবে? সেদিন দাদা বৌদির সঙ্গেও রীতাকে নিয়ে তর্ক হচ্ছিল? তবে কি রীতা ওর দাদাকেও ফাঁসাতে চেয়েছিল? কিছুই ভেবে পাচ্ছে না। 

সে ভাবলো আজকে আর একবার দিব্যেন্দুকে ফোন করবে-বলেই

রিং করল। ওপার থেকে গলার স্বর ভেসে এলো '। হ্যালো। এপার থেকে কিছুক্ষণ চুপচাপ থাকার পর শিখা বলল -'নম্বরটা চিনতে পারছ না?'

দিব্যেন্দু বলল-"হ্যাঁ বল।

শিখা বলল- 'কালকে তুমি কোথায় ছিলে? তুমি তো আমাকে মেসেজ পাঠিয়েছিলে। আমি ওয়েট করছিলাম ।তুমি এলে না?

ওদিক থেকে দিব্যেন্দু বলে- 'আরে , কাজে ফেঁসে গিয়েছিলাম। তোমাকে ফোন করে জানিয়ে দেয়া উচিত ছিল। সরি ,সেটাও পারি নি গো।'

শিখা বললো  -অফিসের এত কাজ কাজের চাপ বেড়েছে।

দিব্যেন্দু- হ্যাঁ ।জান তো নতুন চাকরি।


আজকে তো একবার ফোনটা করতে পারতে 'শিখা বলল।

দিব্যেন্দু হেসে বলল-'এই তো তুমি করলে? তাই আমি আর করে উঠতে পারলাম না।'

শিখা ভেতরে ভেতরে এতটাই রেগে যাচ্ছিল কিন্তু দাঁতে দাঁত চেপে শান্ত স্বরে বলল তুমি সেন্টাল এভিনিউ এর দিকে কি করছিলে নার্সিংহোম এর কাছে?

দিব্যেন্দু গলার স্বরটা যেন কেঁপে গেল বলল 'সে আবার ওখানে কি করবে?'তোমাকে। কে এসব ভুলভাল তথ্য দেয় বল তো শিখা? 

আমাকে সঠিক তথ্য দেয় দিব্যেন্দু। আজকাল তুমি সব সময় মিথ্যা কথা বলো।

দিব্যেন্দু বলে' আমি মিথ্যে কথা বলি।

শিখা বলে -'চোরের মায়ের বড় গলা জানো তো?'

তোমার হোয়াটসঅ্যাপটা চেক করে দেখো একটা ছবি পাঠিয়েছি। অস্বীকার করতে পারবে ওটা তোমার ছবি নয়?

দেখলে ছবিটা?

দিব্যেন্দু বলে-হ্যাঁ এটা আমার ই ছবি।

শিখা কিছু ভাবতে পারছে না। এ কী কথা শোনাচ্ছে  দিব্যেন্দু। ভেতরে যে ঝড় উঠেছে সে ঝড় বোধহয় সবকিছু ভেঙেচুরে একাকার করে দিয়ে যাবে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। 

ওদিকে দিব্যেন্দু বলে যাচ্ছে ওর মাসি ওই নার্সিংহোমে ভর্তি ‌আ‌ছে।তাই সে মাসিকে দেখতে গেছিল। তখন দেখে রীতা নার্সিংহোম থেকে বেরোচ্ছে ।হঠাৎই ওর মাথা ঘুরে পড়ে যাবার উপক্রম। তখন ওকে ধরে তোলার চেষ্টা করছিল। কিন্তু শিখার ভেতরে যে সংশয় তৈরি হয়েছে সে আর কোন কথা নিতে পারছিল না ফোনটা কেটে দেয়।

ওদিকে দিব্যেন্দু ফোনে  'হ্যালো হ্যালো করেই যাচ্ছে।'

শিখা চেয়েছিল দিব্যেন্দুর কাছ থেকে বুক ভরে টেনে বাতাস নেবে । আর নতুন ফোটা ফুলের গন্ধ যেমন হয় ঠিক সে রকম গন্ধ সেও দিতে চেয়েছিল। হঠাৎই শিখার বৌদি ঘরে ঢোকে ।শিখা, বৌদিকে জড়িয়ে ধরে হাউমাউ করে কেঁদে ওঠে বলে-' তার সব শেষ হয়ে গেছে বৌদি। সব শেষ হয়ে গেছে।'

বৌদি বলে  'সে তাদের  ফোনের কথা শুনেছে। রীতা মেয়েটা মোটেই সুবিধার নয়। সে যেন ভেঙ্গে না পড়ে।তবে সংশয় নিয়ে কোনো সম্পর্ক টেকে না। তারা শিখার আরো ভালো জায়গায় বিয়ে দেবে। লেখাপড়াটা ঠিক করে করতে বলে।

এভাবে দিন যায়  ।মাঝে মাঝে খুব মেঘ করে আসে, বৃষ্টি হয় রোদ ওঠে প্রকৃতির নিয়মে। শুধু শিখার জীবনে দিব্যেন্দুর আর রোদ হয়ে ওঠা হয় না।


ধারাবাহিক উপন্যাস "টানাপোড়েন" ৫ ক্রমশ

SELMA KOPIC


Your bride


I wanted to tell you yes,

to approach you in a white dress

with the footsteps of a frightened deer,

to throw a bouquet in the air

and call myself yours

for the rest of our lives.

Only your hand could lead me

happily to heaven.

But the white dress for me

was never tailored

nor did your ring

adorn my hand.

All of this is really

just in my girlhood dream.

The waves of life

took us to different sides.

Still, I am happy

when I see happy brides.

For me, their happiness is a sign

that happiness exists,

but not to shed a tear,

I find it hard to resist.


বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়


যোগচিহ্ন


 বিয়োগ বলে কিছু নেই

সবই যুক্ত আমাদের দিন আনা দিন খাওয়া

                          নুন তেল মশলার জীবনে

যাকে তুমি বিয়োগ বলছো 

তা আসলে ঋনাত্মক যোগ 


(a-b) 

এ শুধু দেখার ভুল, অন্যভাবে লেখা

বিভ্রম মেশানো কিছু আধখেঁচড়া অলীক প্রলাপ 

আসলে এটাই সত্য  a+(-b) 


যে প্রেম ভেঙে গেছে 

যে বন্ধু চলে গেছে দূরে 

যে মানুষের ছায়া পৃথিবীতে আর বেচে নেই

এ কেন বিয়োগ হবে ?


এ সকলই অভিজ্ঞতা যুক্ত হওয়া নতুন অধ্যায়।


আবদুস সালাম


নিষিদ্ধ প্রহরের ব্যাকরণ


    পড়ন্ত রোদে মনে পড়ে "এলাডিং বেলাডিং সই "---

 কাদার ঘর বানিয়ে গেরস্ত গেরস্ত সাজা 

 লম্ফুর আলোয় খুঁজে ফিরি ছায়ামাখা জনপদ 


গল্পের ভিতর নীল হয়ে আসছে ঘুম অবচেতন মনে খুঁজে চলেছি অদৃশ্য পথ

 মানবিক যন্ত্রণায় ঘুমেরা নেমে আসছে পৃথিবীর গলিতে



আশ্রয় খুঁজে চলেছি প্রতিদিন 

অদৃশ্য পথ আগলে বসে আছে ঈশ্বর স্বয়ংক্রিয় ভগবান প্রতিবেশীর সাথে যুদ্ধ দেখতে ভালোবাসে


 অসত্যের বৃষ্টিতে ভিজে যায় রহস্যময় উঠোন 

অবচেতনে ভাঙ্গা আয়নায় দেখি ভাঙাচোরা সংবিধান

 টানাপোড়েন চলে আত্মজাগরণের মাঠে


 উপলব্ধির বাগানে চুমু খায় ভবিষ্যৎ মানবতার ব্যাকরণ খুঁজি    নিষিদ্ধ  প্রহরে 

মায়াব্যাঞ্জনায় ধুয়ে যায় সম্মোহন