০৫ আগস্ট ২০২১

শিবনাথ মণ্ডল

 



রক্তের স্বাধীনতা

  

  সূর্যসেন বাঘায‍্যোতিন

শহিদ ক্ষুদিরাম

বজ্রকণ্ঠে বলেছিলেন

বন্দেমাতরম।

বিনয় বাদল দিনেশরা

জীবন দিলেনদান

ব্রিটিশদের তারিয়ে দিয়ে

রাখেন ভারতের সম্মান।

গুলিখেয়ে মাতঙ্গিনী হাজরা

বলে বন্দেমাতরম

রক্ত দিয়ে লেখা থাকবে

স্বাধীনতার নাম।

বড়োলাডকে মারতেগিয়ে

মরল ভারতবাসি

অবিরামের দীপ চালোনা

ক্ষুদিরামের ফাঁসি।

হিংসাছাড়ো আন্দোলন

করেনগান্ধীজী

রক্তদাও স্বাধীনতা দেবো

বলেন নেতাজী।

স্বাধীনতা আনলো দেশে

হিন্দু  মুসলমান

কোটি কোটি বিপ্লবিরা

ভারত সন্তান।

পনেরো ই অগষ্ঠ দেশস্বাধীন হলো

পতাকা উঠলো আকাশে

বিপ্লবিরা জীবন দিলো

ভারতমাতাকে ভালো  বেশে।।

প্রেমাংশু শ্রাবণ

 



পরিভ্রমণ


নদীকে না বলে তার পাড়েই স্থাপন করি 

সম্পর্কের ভিত্তিপ্রস্তর। 

নদী দেখার আগে

দেখি প্রিয়ন্তীকে,প্রিয়ন্তী আমার প্রথম নদী-

অথৈ ইসকুল

হাবুডুবু পাঠে হাতেখড়ি

জীবনে ভোর সকালে।


আগুনের সাথে পরিচয় পাথরের।

সভ্যতার পায়ে লেগে গেল দৌঁড় গতি,

লোহার চাক।চাকা আবিষ্কার 

চক্রাকারে ঘোরা সেই থেকে শুরু,--

পরিভ্রমণ। 

ফুল,মধু ও ঘ্রাণে।

০১ আগস্ট ২০২১

শ্যামল রায়




চোখে ধরা পড়ে


উত্তরের হাওয়ায় জানালার পর্দাটা

সরালে দেখা যায়

নানান ধরনের গাছপালার ফাঁকে

গজিয়ে ওঠা নতুন পাতাদের

জোসনা রাতে ভারি মজা লাগে।

আর চারপাশে একাধিক কয়েক তালার বাড়ি

কাছাকাছি ছাদে হঠাৎ দেখা হয়েছিল

সদ্য বিবাহিত নারীকে

দু চোখে ধরা পড়েছিল তার মুখ।

নতুন । ভিতরে আতঙ্ক কাজ করছিল

অথচ দেখতে পেয়েছিলুম তার ইশারা

আমাকে ভাবিয়েছিলো, ঘুম আসেনি 

একদিকে যমুনা ছিল অন্যদিকে গঙ্গা ভাগিরথী

দুয়ের মাঝে ঢেউ খেলেছিল সারাটি রাত

দু চোখে ধরা পড়েছিল তার মুখ।

হঠাৎ মুখোমুখি

নতুন কিছু করার নতুন কিছু বলার থাকে

এসব উধাও। সময় নেই বিবাহিত স্বামীর

সময় কাটে না, ভিতরে যন্ত্রনা

এ যেনো ঘন একটা অন্ধকারের জালে জড়িয়ে পড়া 

শুধুই আলোর পথ খুজছিলাম

তুমি যদি আলো হও আমি হব দিশা।

আমার বেড়ানো ছাদ হয়ে উঠুক

বৃষ্টিতে ভেজা নীল শাড়ির আঁচল

তুমি থেকো সারাক্ষন চোখে চোখ রেখে

শুধুই আমার জন্য --+।

সাইফুল আলিম




সানা মনির  জন্মবার্ষিকী 



এই করোনার মহা মারিতে

আসলো ছুটে ভবে 

স্মৃতির  পাতায় নাম লিখিয়ে 

রাখলো তাহা সবে।


১৫ই জুলাই দু’হাজার বিশ এ

জন্ম নিলো সানা 

এই সময়ে করোনার বিষে

ভোগছিলো তার নানা।


বিশ্বে যখন আসলো গজব

বান্দর ই সব দায়

সানা মনি চোঁখ খুলিয়া

আজব দুনিয়া চায়।


পাড়া পরশী উঠলো জেগে 

কান্না শুনে তার

এমন সময় মহা বিশ্বে, আবার

জন্ম হলো কার!!


প্রথম কান্নায় দাদি নানিরা

উঠলো মেতে হেসে 

আদর করে বুকে টেনে

চুমায় ভালোবেসে।


চাচারা সবাই দেখতে ছুটে 

চাঁদের ন্যায় ঐ মুখ 

ফুফু  খালা সব খুশির সংবাদে

ভরে গেছে তাদের বুক।


দাদু ডেকে কয়,দেখো না চেয়ে

খেলছে কেমন করে

এ বুঝি এলো ভাগ্যবতী

বিশ্ব মানবের তরে। 


বাবা যে সদা, করে বকা যকা

দুর্ভিক্ষে কেনো এলো

রাস্তা, ঘাটে গড়াগড়ি করে

কতো যে প্রান গেলো।


দোয়া মাঙ্গে বাবা, ওগো দয়াময় 

করোনা ই এখন শিষ্যে

সানা মনিকে বাচিয়ে রেখো

এই যে মহা বিশ্বে। 


দিনের পরে মাস চলে যায় 

আসলো বছর ফিরে 

স্বপ্ন সবার হবে যে বড়

জ্ঞানী গুনীদের ভীরে।


নিপা কেঁদে কয় ওগো  দয়াময় 

নিওনা করোনায় প্রান

সানা যে আমার পরশ মনি

রাখিও সদা মান।


জন্ম দিনে এই মিনতি 

করি বারংবার 

গোলাপ,বেলী,বকুলের ন্যায়

প্রভু করো চমৎকার।

মোহাম্মাদ আবুহোসেন সেখ

 



সৃষ্টি কর্তা


আকাশ পানে চাঁদ সূর্য নক্ষএ কত গ্রহ তারা

জমীন পানে জীব প্রজাতি গাছ প্রকৃতি নদী-নালা

নীচ থেকে উপর মাঝে,ইট সাজিয়ে ছাদের মতোন

দিয়েছো যে পৃথিবীকে আকাশ নামের ছাদটাকে!

তারীর মাঝে নাইকো আজ,আমরা সুরক্ষিত।

খোদা তোমার রং বে রংয়ের খেলায় যে আজ

পৃথিবী নামক গ্রহের মানুষ,করছে হা হা কার।

অন্য গ্রহে যেন,দিওনা এই মরণ ব‍্যাথী করুন দোসা।

খোদা তুমি করলে ঘোষণা,পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ জীব আমরা।

কোন ভুলে দিচ্ছো মোদের এত কষ্ট যন্ত্রণা।

হে খোদা তুমিতো দোয়ার সাগর দাওনা মোদের ভিক্ষা।

দুহাত তুলে দোয়া করি পৃথিবীকে শান্ত করো আবার।

পৃথিবীকে শান্ত করো আবার।



৮নং তিতকুমার,বাসন্তী,২৪পরগনা।

স্বপন কুমার ধর




প্রেরণাদাত্রী



হেরে গেছি আমি সময়ের কাছে,

দুঃখ নেই তাতে।

যুগিয়েছো তুমি নবোদ্যমে আশা,

ভগ্ন হৃদয়কে তুমি করে তুলেছো তাজা,

পাশে থেকে সদা, বলে গেছো তুমি,

" তুমিই জয়ী হবে "।


উদাসী মন নিয়ে যখন, বসি গিয়ে তীরে,

দেখি নৌকাটি চলে যায় দূরে।

আনমনে ভাবি আর কতদূরে,

দেবে সে সুদূরে পাড়ি।

পাশে এসে বসে, তুমিই বলেছো,

" তুমিই জয়ী হবে "।


শিক্ষা, খেলা কিংবা বিনোদন,

জীবিকার খোঁজে ব‌্যর্থ যখন মন।

ক্লান্তি ও গ্লানি ঘিরে ধরেছিল মোরে,

একবারের জন্যেও তুমি, কিন্তু যাওনি সরে।

স্পর্শকাতর কথায় প্রেরণা যুগিয়েছো, বলেছো -

" তুমিই জয়ী হবে "।


আজ যত ভাবি নিজেরই অজান্তে,

পৌঁছে গেছো তুমি কোন্ দূর-দূরান্তে!

তারা হয়ে হয়তো দেখছো আমায়,

এ জীবনে আর, পাশে পাবোনা তোমায়।

হেরে গেছি আমি, তোমারই ভবে,

বলবে না কেউ " তুমি জয়ী হবে "।

অলোক দাস




মেঘে বজ্রপাত 


বিমানে একটি ছট্ট শিশু, খেলনা নিয়ে ব্যাস্ত I হটাৎ বাজ পড়লো বিমানে - বিমানটা হারালো ভারসাম্য I প্রাণের ভয়ে শিশু থেকে বৃদ্ধ ভয়ে অস্থির I শিশুটি আপন মোনে খেলে যাচ্ছিল I এক ব্যাক্তি খেয়াল কোরে শিশুটিকে I তোমার কোনো ভয় নেই কেন? ছোট্ট মেয়েটি বললো, এই বিমানের পাইলট আমার বাবা I বিমানটি অবত্রন করলো নিরাপদে I তাই বাবারা বেঁচে থাকুক, সব শিশুদের হৃদয়ের মাঝে ভালোবাসায় I

রাকিবুল হাসান উন্নিদ্র




সুন্দর তুমি


তুমি সুন্দর

প্রত্যুষে বিকশিত 

নির্ঝঞ্ঝাটে গোলাপের লালাভার চেয়েও তুমি সুন্দর

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর 

ওই সিঁথিতে দোলন্ত লাল সিঁথি পাটি।


তুমি সুন্দর

রক্তাভ নবোদিত সূর্যের চেয়েও তুমি সুন্দর 

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর

মৃদুগামী অধর হাসি।


তুমি সুন্দর

পূর্ণিমা তিথির পুষ্করিণীর চেয়েও তুমি সুন্দর

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর

ঔজ্বল্য দু'টি কাজল আঁখি।


তুমি সুন্দর

দ্যুতিময় ধৌতশিশির বিন্দুর চেয়েও তুমি সুন্দর

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর 

আকর্ষক ওই নাসিকায় উদ্বেলিত নথ।


তুমি সুন্দর

আরও সুন্দর তোমার দুরন্ত অলক

ফের হারালাম পলক

প্রাণবন্তক লাবণ্য ওই মুখশ্রীর স্পর্শ পেতে

আমি এক তৃষিত চাতক।





হাসি যেন তার মায়াময় জোছনা

সৌভিক দুটি আঁখি

ঠোঁট দুটি তার বর্ণোজ্জ্বল

যেন নব্য ফোটা গোলাপ পাপড়ি।


চাঁদ বাকা ভ্রু ওই

রংধনুর টান

সে যেন অতন্দ্রি কবিতার

এক সতেজ প্রাণ।


বেশ মানিয়েছে ঠিক

ওই কপালের কালো টিপ

আর চমকানো কর্ণের দুল

সে যে বিশ্ববিধাতার গড়া উত্তমা ফুল।


মুখ যেন তার

ফাল্গুনী আকাশের ঔজ্জ্বল্য চাঁদের গড়ন

মাথা ভরা মেঘ কালো কেশে

সে যে গন্ধ বিলায় সারাক্ষণ।

৩০ জুলাই ২০২১

কবি মহুয়া চক্রবর্তি কবি ফারজানা আফরোজ কবি সীমা সোম বিশ্বাস

 দেখুন স্বরচিত কবিতা পাঠ 



https://youtu.be/1F8FjWyvIGI 

এখানে ক্লিক করুন সাবস্ক্রাইব করুন ও বেল বোতামে টাচ করে রাখুন সমস্ত আপডেট পেতে

আজকের কবিরা 

কবি মহুয়া চক্রবর্তি 

কবি ফারজানা আফরোজ

কবি সীমা সোম বিশ্বাস


https://youtu.be/1F8FjWyvIGI

কবি মহুয়া চক্রবর্তি 









কবি ফারজানা আফরোজ







কবি সীমা সোম বিশ্বাস



২৬ জুলাই ২০২১

মধুমিতা রায়



মন পথের গল্প...


যে সমস্ত কিছু আমার বলে জমিয়েছিলাম

আজ শমন এল সেসব কিছু আমার নয়।


অথচ কী গভীর বিশ্বাস ছিল!

বিশ্বাস ছিল সেই প্রিয় নামের বর্ণগুলো 

অন্তত আমার আছে।


অন্ধকার ভোরে উঠোনে নেমে দেখি

সমস্ত বর্ণগুলো টুকরো হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে

চারিদিক।


প্রয়োজন ফুরালে ব্যস্ততার শহর জাগে

আলো গুলো ছিঁড়ে খুঁড়ে ঝমঝম শব্দে

ব্রীজ কাঁপিয়ে পিষে দেয় পথের গল্প।


পথের ধুলো মেখে গাছ ভাবে

কেউ তো ফিরুক

কেউ তো কাছে বসুক দুদন্ড

বলুক... ছিলাম তো। তুমিই বুঝতে পার নি।



শ্যামল রায়


 জুঁইফুল কি বলবে?


শূন্যের ভেতর ঘুরপাক খেতে খেতে

নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছি যেন সব সময়

জুঁইফুল তুমি কি বলবে?

শখ করে রোল খেতে গিয়ে

কান্নার রোল শুনে আয়ু কমছে

তবুও শূন্যতার ভেতর

খুঁজে পেতে চাইছি মৃত্যুর আগে পর্যন্ত

বর্ণমালার ভেতর ভালোবাসার শব্দগুলো।

জুঁইফুল তুমি কি বলবে?

যতসব শর্তগুলো ছুড়ে ফেলে দাও

বিবর্ণ অসুখের ভেতর, মায়া আছে

একটু খুঁজে নিলে দীর্ঘপথ হবে তুমি

যেখানে স্বপ্ন আছে,আছে বেঁচে থাকার শব্দগুলো

ওত পেতে আছে সবুজতার দিকে দুচোখ

জুঁইফুল তুমি কি বলবে?

রাধার শরীরটা জড়িয়ে দাও

বন্দর গড়ব, শুধুই ভালোবাসার বন্দর হবে

তোমার ভেতর জুড়ে ফুল ফুটবে

আমার তোমার জন্য ছায়া দেবে রোজ।

শুধুই দীর্ঘ পথে হবে ভালোবাসার জন্য 

জুঁইফুল তুমি কি বলবে?

রাকিবুল হাসান উন্নিদ্র


সুন্দর তুমি


তুমি সুন্দর

প্রত্যুষে বিকশিত 

নির্ঝঞ্ঝাটে গোলাপের লালাভার চেয়েও তুমি সুন্দর

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর 

ওই সিঁথিতে দোলন্ত লাল সিঁথি পাটি।


তুমি সুন্দর

রক্তাভ নবোদিত সূর্যের চেয়েও তুমি সুন্দর 

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর

মৃদুগামী অধর হাসি।


তুমি সুন্দর

পূর্ণিমা তিথির পুষ্করিণীর চেয়েও তুমি সুন্দর

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর

ঔজ্বল্য দু'টি কাজল আঁখি।


তুমি সুন্দর

দ্যুতিময় ধৌতশিশির বিন্দুর চেয়েও তুমি সুন্দর

তুমি সুন্দর আরও সুন্দর 

আকর্ষক ওই নাসিকায় উদ্বেলিত নথ।


তুমি সুন্দর

আরও সুন্দর তোমার দুরন্ত অলক

ফের হারালাম পলক

প্রাণবন্তক লাবণ্য ওই মুখশ্রীর স্পর্শ পেতে

আমি এক তৃষিত চাতক।




হাসি যেন তার মায়াময় জোছনা

সৌভিক দুটি আঁখি

ঠোঁট দুটি তার বর্ণোজ্জ্বল

যেন নব্য ফোটা গোলাপ পাপড়ি।


চাঁদ বাকা ভ্রু ওই

রংধনুর টান

সে যেন অতন্দ্রি কবিতার

এক সতেজ প্রাণ।


বেশ মানিয়েছে ঠিক

ওই কপালের কালো টিপ

আর চমকানো কর্ণের দুল

সে যে বিশ্ববিধাতার গড়া উত্তমা ফুল।


মুখ যেন তার

ফাল্গুনী আকাশের ঔজ্জ্বল্য চাঁদের গড়ন

মাথা ভরা মেঘ কালো কেশে

সে যে গন্ধ বিলায় সারাক্ষণ।

হুমায়ুন করির সিকদার




স্বর্ণালী ক্ষণ


বর্তমানকে নিয়ে ভেবেছি অনেক, 

অনেক করেছি গল্প

তবুও তাতে পাইনি খুঁজে 

অতীতের বিকল্প ।


ডিজিটালের মেশিনে উঠে 

দেখেছি ওজন মেপে

বেড়ে গেছি অনেক বেশি -

ভুগছি স্নায়ু চাপে।


গাড়িতে - বাড়িতে পথে-প্রান্তরে 

কোথাও নেই সুখ

কখন কোথায় কী ঘটে তাই নিয়ে 

 জনতার উৎসুক।


স্বর্ণালী ক্ষণ আজ হারিয়ে গেছে

অন্তরে তবু তারই হাহাকার --

জনতার ভাষা কার আছে মন 

থেকে বুঝবার?


তাইতো আকুল হয়ে সহসাই

গেয়ে ওঠে মন 

খুঁজে ফেরে হারানো স্বর্ণালী ক্ষণ।