১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

কবি রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ এর কবিতা "প্রেম"












প্রেম
রাজেশ চন্দ্র দেবনাথ 


আমার জীবনের গল্পে
মৃত্যুর শিয়রে রাত জেগে
হাত বুলিয়ে যায় 
বিগত স্বপ্নের প্রেম

কবি আমিনা তাবাসসুম এর কবিতা "ভ্যালেন্টাইনে তুমি ও আমি"















ভ্যালেন্টাইনে তুমি ও আমি
আমিনা তাবাসসুম

জ্যোৎস্নার ভেতর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছি তুমি ও আমি

যখন পৃথিবী নেই
কেবল একটা গোলকের মধ্যে
                         জন্ম রহস্য

যেভাবে নদীর বুকে লেগে থাকে চিবুকের দাগ
যেভাবে ফুলের রং সবুজ-সোনালী 
আর বইয়ের পাতা গোলাপ হয়ে যায়

কোনো শিলিং তবু দুঃখ ছুঁতে পারেনি

আমরা জোৎস্না খেয়ে বেড়ে ওঠি রোজ
ভালবাসা বড় হয়,
একটা ভ্যালেন্টাইন শুধু কেঁপে কেঁপে
বাতাস হয়ে যায়

কবি সানি সরকার এর কবিতা "সৃষ্টিকাল"














সৃষ্টিকাল 
সানি সরকার 


এখন অনেক কিছু সৃষ্টির সময় 

কিছু তো হচ্ছে ভেতরে
যেভাবে ছটফট করছে পায়রাগুলি 
যেভাবে ডানার আঁচড় কাটছে শালিখ দু’টি
যেভাবে অশ্বক্ষুর মাটি এফোঁড়ওফোঁড় করছে 
এই স্তব্ধতা, দ্যাখো, দ্যাখো… 

একটি গোলকের নিচে বসে 
পুড়তে পুড়তে, জ্বলতে জ্বলতে 
গলে নেমে যেতে যেতে 
আস্ত একটি গাছ থেকে ঝরাপাতা 
বালির ওপর শুয়ে আছি 

একে কী বলবে— নিঃশ্বাস গিলতে গিলতে  
মানুষটি চলমান গণিতের বাইরে ছিটকে গিয়েছে 
এবং রিবন উড়ছে চারপাশে… 

এখন দেহ থেকে বেরিয়ে গিয়ে 
পরম আত্মার সঙ্গে পরশ নেওয়ার দিন
পুড়ে যাচ্ছে দুঃখ, কষ্ট, দ্রোহ, আগুনলিপি… 

এই যে আমরা যেভাবে সোনালী আলোর নিচে 
পরস্পর আলিঙ্গনবদ্ধ বসে আছি 
কান পাতো— বুকের ভেতর দ্যাখো 
কিছু একটি বাজছে

কবি মমতা রায় চৌধুরী এর কবিতা " যদি একবার বল ভালবাসি"




যদি একবার বল ভালবাসি
মমতা রায় চৌধুরী 


যদি একবার বলো ভালবাসি 
নিমিষেই এক নীল আকাশ হয়ে 
বৃষ্টির ধারা বুকে নিয়ে ঝরে পড়বো তোমার  ঊষর ভূমিতে
হতে পারি মেঘলা দিনের এক মুঠো 
বৃষ্টির শব্দের সঙ্গে সারাদিনের মৌনতা
তবে ঝড় তুলতে পারি উদ্দাম যৌবনাবেগে
নতুন কিছু সৃষ্টিও করতে পারি। 

যদি একবার বলো ভালবাসি, ভালবাসি 
নদীর ধারার যত ফেনিল আছে 
তার উচ্ছ্বাস তোমার বুকের মাঝে দু'কান পেতে
শুনতে পেতে 
হয়তোবা বেদুইনের মত ছুটে বেড়াতাম শুধু তোমাকে পাবার জন্য 
এক মুঠো রোদ্দুর কৃষকের মুখের হাসি 
শত গোলাপের গন্ধ আমার জীবন পদ্মে পেতাম ছন্দ। 

যদি একবার বলতে ভালবাসি, ভালবাসি 
শতবার জন্ম নিতাম তোমার মুখের 
দু’ চোখের ভাষা পড়ে নিতে 
আমি আর কিছুই চাইতাম না 
চাইতাম না আমার একটা ঘর চাই
আমার ব্যালকনির মত বারান্দা চাই
তবে পড়ন্ত বিকেলে বসন্তের আনাগোনা 
কৃষ্ণচূড়ার রক্তিমা তোমাকে মনে করাতো 
আর গোপন মনের ভালোবাসা ধরে রাখতাম আমার অলিন্দে।
যদি একবার বলতে ভালবাসি ভালবাসি 
জীবনানন্দ দাশের’ নাটোরের বনলতার’ মত ফিরে আসতাম হাজার বছর পরেও ।

কবি মহাবীর চৌধুরী এর কবিতা "আমার তুমি"




আমার তুমি 
মহাবীর চৌধুরী

চেয়েছি যাকে আমি, 
দেখিনি তার রূপ,
দেখিনি তার রং,
দেখিনি তার গুণ,

দেখেছি খালি তার, 
উন্মুক্ত ভালোবাসা। 
যে, ভালোবাসা 
প্রকাশ করে না ভাষা,
বয়ে যায় স্রোতের সমান,
দিয়ে যায় অনেক প্রমাণ।
চলার পথে দিয়ে যায়,
হার না মানা বিশ্বাস
এই ভালোবাসা কোনদিনই
শেষ হবার নয়
যতক্ষণ থাকবে নিঃশ্বাস।
 
তুমি শুধুই আমার,
কেবলই আমার তুমি।

২৬ আগস্ট ২০২৪

কবি দেবব্রত সরকার এর লেখা কবিতা 'নারীচোখ '




নারীচোখ
দেবব্রত সরকার

আগুন জ্বলছে 
দোষ দিকে দিকে ছেয়ে
চারদিক জুড়ে 
ঐ ছুটে আসছে রণক্ষেত্রে
নারী চোখের উপর অত্যাচার 
সহ্য করছে বর্ষার শব্দ
পায়ের গর্জনে 
নড়ে উঠল হৃদপিন্ড
এবার সরে যাবার সময় এসেছে 
নিজের হাতের লেখা চিঠি
এগিয়ে দিলেই
সম্মানের সঙ্গে
আগামীর আনন্দ সংবাদ 
হবে রাজ্য।

১৪ আগস্ট ২০২৪

কবি দেবব্রত সরকারের কবিতা "রাত দখল কর,নারী"




রাত দখল করো, নারী
দেবব্রত সরকার

কে আছো কোথায়, কে আছো কোথায়, ছুটে ছুটে চলে এসো
আজ প্রতিবাদ, রাত এগারোটাই, হবে হুঙ্কার
সকলেই মিলে, চোখে জল নয়, বুকে তরবারি নিয়ে এসো !
নারীদের হাতে ফুল থেমে গেছে, একরাত, আজ হোক রণ ঝংকার !

পথে পথে প্রতিবাদ, শুধু প্রতিবাদ, কে আছো কোথায়! 
আজ চলে এসো পায়ে পায়ে, নারীদের মর্যদার লড়াই
রাজপথ ধরে মশালের আলো, মোমবাতি ছুঁয়ে যায়
মুখ কালো হোক রাজা-রাণী তারা না করুক বড়াই

কে আছো কোথায়,কে আছো কোথায়,ছুটে ছুটে চলে এসো
সময় কারোকে করবেনা ক্ষমা, জেনে রাখা দরকার,
স্বাধীনতার রাতেই নারী স্বাধীনতা চাই দেখো,এসো !
এইটুকু চাই ,অভয়া'র কলঙ্কের দাগ তুলেনিক সরকার ।

২২ জুলাই ২০২৪

কবি দেবব্রত সরকারের কবিতা "মিস্টেক"




"মিস্টেক"
দেবব্রত সরকার

কিছুটা এইরকম কেও চাই
হাত পেতে 
তারপর হারিয়ে ফ্যালে 
অথবা
থেকেও ইংরেজি শব্দ "মিস্টেক"
আমি এখনো আছি 
হাতের মুঠোই 
অথবা 
"মিস্টেকে"

০৫ জুলাই ২০২৪

কবি দেবব্রত সরকারের লেখা কবিতা "ময়দান"



ময়দান
দেবব্রত সরকার

আমি লড়াই করবো এমন ভাবিনি
কিন্তু যেদিন আমি আমার মায়ের গর্ভে প্রথম এলাম 
সেদিন আমি প্রথম লড়াই শুরু করেছিলাম জিতেই
কারণ কোটি কোটি আমার মতো শুক্রাণু যুদ্ধ করে ছিনিয়ে নিতে চেয়েছিল আমার মায়ের কোল
জিত তারই হয় যে লড়াইয়ের ময়দানে থাকতে শিখেছে।

সমস্ত ক্ষেত্রেই লড়াই 
সে জন্ম হোক বা মৃত্যু 
আর এই চক্রের মধ্যেই সমস্ত জীবনের লড়াই 
সে রাজনৈতিক হোক বা সামাজিক
প্রেম হোক বা শত্রু, সব্বাই বড় হতে চাই মানে জিততে চাই
ভালো কিংবা মন্দ । 
তবে যে সমস্ত ধর্মগ্রন্থ অথবা সাহিত্য পড়েছি তাতে জয় সত্যের দেখেছি ।
আজও জীবনে বেঁচে থাকার লড়াই চলছে আগামীতেও চলবে ।

আমি ময়দান ছেড়ে যাবোনা
যাবোনা কারণ
হারতে হলে ঐ ময়দানেই হারতে হয়
আর জিততে হলে ঐ ময়দানেই জিততে হবে।

২৩ জুন ২০২৪

কবি দেবব্রত সরকারের কবিতা "কেউ নেই একা"




কেউ নেই একা
দেবব্রত সরকার


কেউ নেই কেউ নেই একা
এ আমার পৃথিবীতে দেখা
মন শুধু ভেবে যায় আমি
আমি ছাড়া কেউ নই দামি

পৃৃথিবীর মায়া যাকে ঘিরে
দুঃখগুলো খাই ছিঁড়ে ছিঁড়ে
এই সব নিয়ে বেঁচে থাকা
ভাবে মনে আছি আমি একা

ভুলে যাও ব্যথা ভরা রোদ
ভুলে যাও নেব প্রতিশোধ
ভুলে যাও তুমি আমি একা
বেছে নাও প্রেম ভালোবাসা।



কপিরাইট কবি দেবব্রত সরকার এর কবিতা

৩০ মে ২০২৪

কবি সানি সরকারের কবিতা "দগ্ধ - মৃত - গাছ"

সানি



দগ্ধ-মৃত গাছ 
সানি সরকার 



দগ্ধ গাছ মৃত গাছ শব্দ করে না 
দগ্ধ গাছে মৃত গাছে কোনও পাতার 
পোশাকও থাকে না 

সময়ে অসময়ে পাখিরা উড়ে এসে বসে 
প্রাণ ও রক্তহীন ডালপালায় 
গাল-গপ্পো করে, সিগারেট পোড়ায়… 

দগ্ধ ও মৃত গাছের সৎকার হয় না 
মাটিতে কিংবা আগুনে, কেবল
পাশ্ববর্তী পড়শিরা ধিক্কার 
ও তাচ্ছিল্য ছুঁড়ে দেয় 
আর তাতেই শান্তি 
আর তাতেই মুক্তির দিকে যাওয়া 

দগ্ধ-মৃত গাছ শব্দ করে না 
রক্ত ও প্রাণ শূন্য গাছের
ধ্বনি থাকে না, বাক ও বাক্য থাকে 

মৃত্যুর পরে চোখ দু'টো 
ঠুকরে নেয় তৃষিত শকুন ও মাটিবাসী জীব…
নাভিটি নিয়ে যায় 
বরফের মতন শান্ত কেউ 
তারপর বয়ামে পুরে নেয় 

তথাপি ক্ষণে ক্ষণে অপেক্ষা তাঁর-
বরফের দেওয়াল কাটতে কাটতে 
কখন আসবে নেকড়েটি  
যে খিদে সহ্য করতে না পেরে 
শিকড়ের নিচ থেকে, হঠাৎ  
কোনও এক চন্দ্রপক্ষে শিকারে গিয়েছে 


🪔২৯ মে ২০২৪। রাত ২:২৩। বুধবার

২৯ এপ্রিল ২০২৪

কবি মোঃ সেলিম মিয়া'র কবিতা "প্রাপ্তি"



প্রাপ্তি
মোঃ সেলিম মিয়া 


নিশ্বাসে বিশ্বাস নাই 
দম ফোরালেই শেষ? 
দমের পিছেই ছুটছি সবে
 রঙমেলায় বেশ।
কেউবা ছুটছি টাকার পিছে
 কেউবা খ্যাতি জস,
কেউবা আবার ভোগ বিলাসে
 মদের নেশায় ধস।
কেউবা আবার ঘুমের ঘুরে
 কাটিয়ে দিচ্ছে দিন, 
রঙিন চোখে স্বপ্ন বাসর প্রদীপ
 আলো ক্ষীণ। 
কেউবা আবার পেশি শক্তি
 দাপিয়ে বেড়ায় মাঠ,
কথায় কথায় হিংস্র থাবা
 আশা ধুলিস্যাত।
আশায় আশায় ছুটছি সবে
 দম ফুরিয়ে শেষ, 
সাদা কাফনে শূন্য হাতে
 ফিরছি না ফেরার দেশ।
সাড়ে তিনহাত জুটে মাটি
 নাইযে সেথায় আলো?
সারাজীবন কামিয়ে পাপ
 প্রদীপ নিভে গেলো।
প্রাপ্তি সুখের উল্লাসে তাই 
জম দুত কালো!

২৫ এপ্রিল ২০২৪

কবি মোঃ সেলিম মিয়া'র কবিতা "সময়ের ঘড়ি "





সময়ের ঘড়ি

 মোঃ সেলিম মিয়া


দিবস পেড়িয়ে আঁধার ঘণ
আঁধার পেড়িয়ে দিন,
সময়ের গতিতে সময় পেড়িয়ে  
 যাবার প্রস্তুুতি নিন।

শুরু হলো জীবন সেদিন 
নেংটা কালের খেলা,
কেটে গেছে কতো সময়
মেঘে মেঘে দিন বেলা!

কালো চুল হয়েছে ধূসর 
চামড়ায় ধরেছে ভাঁজ, 
সময়ের ঘড়ি সঠিক সময়েই 
হিসেব রেখেছে আজ।

চোখের পলকে কেটে গেছে সময় 
বিদায়ের হাতছানি, 
যৌবন পেড়িয়ে পৌর এখন  
সরষের ফুলদানি! 

জীবন গড়ার হিসেব কষেই 
জীবন হয়েছে পার,
সময়ের ঘড়ি ভাগ্যের চাকা 
থেমে গেছে কাজ কারবার! 

চোখের সামনে ভাসছে সাগর
 তপ্ত মরুভূমি, 
সারাটি জীবন কামিয়ে পাপ 
কেমনে পেরোবো আমি?

পাপের পাল্লা হয়েছে ভারি 
পূন্যের কিছু নাই, 
পড়ন্ত বিকেলে শেষ প্রহরে 
ফিরে এলো হুস তাই ? 

আমি নিঃশ্ব আমি রিক্ত 
বিধাতার চরণে ঠাঁই,
পাপের পাল্লা পাহাড় সমান
ক্ষমা কেমনে পাই?

বয়সের ফেরে সেই শিশু আমি
মাজুর এক পিতা?
দয়ার সাগর দয়াল তুমি 
ছিটকে ফেলোনা একা!
হাসরের মাঠে শেষ বিচারে 
পাই যেন তোমার দেখা!