০১ মে ২০২২

কবি মোঃসেলিম মিয়া  এর কবিতা "ঈদ"





ঈদ
মোঃসেলিম মিয়া 

ঈদ মানে খুশির জোয়ার কেনাকাটা বেশ,
নতুন সাজ পোশাকে তাই ঘুচবে কষ্ট রেশ!
সাধ্যমত কেনা কাটা নেইকো কমতি যার,
গরিব দুঃখী নেই ভেদাভেদ  শত কষ্ট আর।
গোমড়া মুখে হাসি ফোটাতে বাড়িয়ে দিতে হাত,
অর্থ কুড়ি কাপড় দিয়ে  রাঙিয়ে দিবো চাঁদ রাত!
পাড়া পড়শীর খোঁজ নিবো কষ্টের অনুভূতি,
বিবেক দিয়ে অর্থ দিয়ে দেখাবো সহানুভূতি। 
যাকাত ফিতরা পরিমিত মিটিয়ে দিবো তাঁরে,
গরীব দুঃখীর হক মিটাতে যাবো দ্বারে দ্বারে।
পৌঁছে দিবো ঈদ শুভেচ্ছা অনাহারীর ঘরে।
সেমাই সূজি মিষ্টিমুখ বাহারি খাবার যতো,
 সাজ গোজে সব হবো  জমায়েত মাঠে অবিরত।
সুগন্ধি আতর মাখিয়ে গায়ে পায়ে হেঁটে মেঠু পথ,
চোখ গড়িয়ে নোনা জ্বলে  গুনা মাপের নছিয়ত!
আমরা পাপি আমরা তাপি গুনার নাইকো শেষ? 
পানা চাইতে তাইতো সবাই ঈদের মাঠে জমায়েত। 
ঈমাম সাহেব দিবেন খুতবা মুক্তির দিশা পেতে,
ধ্যানে মগ্ন নামাজ শেষে মোনাজাতে  বসে।
সবার হয়ে আল্লাহর কাছে করবো ফরিয়াদ, 
আমরা সবাই গুনাহ্গার বান্দা ফিরাইও না কারো হাত।
গরীব দুঃখী নাই ভেদাভেদ 
একই কাতারে সামিল,
সহমর্মিতার কান্না দিয়ে
ঘুচিয়ে  দিবো গ্লাণি।
ঈদ অনাবিল হাসি খুশি ধর্মীয়  উৎসব মানি!!!

মমতা রায় চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৬৭






উপন্যাস  


টানাপোড়েন  ১৬৭

শুভেচ্ছা ভালোবাসা প্রাপ্তি

মমতা রায় চৌধুরী



মনের ইচ্ছেগুলোকে নীল খামে তে পাঠিয়েছিল কোন এক অজানা উদ্দেশ্যে। কিন্তু সেই অজানা পুরীতে স্বপ্নরা ডানা মেলেছে নীল প্রজাপতির পাখনায়। দুনিয়াতে সব কিছুর দাম বেড়েছে শুধু কমেছে মানুষের সততা আর মূল্যবোধ প্রতি 
ক্ষণে ।তবুও তার মধ্যে থেকে বেঁচেথাকার রসদগুলো খুঁজে নিতে এর মধ্যে থেকেই। এসব ভাবতে ভাবতেই রেখা বাড়ির গেটটা খোলে। আর প্রতিদিনের ক্লান্তি অবসাদ এর অবসান ঘটিয়ে  আনন্দের বন্যায় ভাসিয়ে একটা এক্সট্রা এনার্জি দেয় মিলি আর ওর বাচ্চারা। নইলে তো যান্ত্রিকতার যুগে যেমন মানুষের সবুজ প্রাণ ক্রমশ গ্রাস করে নিয়েছে ধূসরতা। সব সম্পর্ক গুলো কেমন যান্ত্রিক হয়ে যাচ্ছে। এসব ভাবতে ভাবতে রেখা ওদের আদর করে।ওদের আদর পর্ব শেষ হলে তবে রেখার ছাড়।বাড়িতে কলিংবেল বাজানো হল কিন্তু কেউ দরজা খুলল না। তখন রেখা এক্সট্রা চাবি দিয়ে দরজা খুলে ভিতরে ঢুকল। বাড়িতে ঢুকতেই চারিদিকে ফুলের বৃষ্টি দিয়ে অভিনন্দন জানান হলো। রেখা সব কিছু বুঝে ওঠার আগেই এতটা অবাক হয়ে গেলযে ভাষা হারিয়ে গেল। ইতিমধ্যে চৈতির মা ,পার্থ, মনোজ, পার্থর দাদা, সোনাই, সোনাইয়ের মা, কাকিমা,  সেন্টুদা সবাই একসঙ্গে হ্যাপি বার্থডে উইশ করলো মোমবাতি জ্বালিয়ে রেখাকে  । রেখা খুশিতে আত্মহারা রেখার জন্মদিনএই ভাবে পালিত হবে ভাবতেও পারে নি। আর জন্মদিনটা যে স্পেশাল হবে কে জানতো ?আসলে কিছু কিছু প্রত্যাশা এভাবেই বোধ হয় পুরন হয়ে যায় ।
কাকিমা কে প্রণাম করে আশীর্বাদ নেওয়া হলো। কাকিমা বললেন' সুখে থাকো, ভালো থাকো দীর্ঘজীবী হও।"
পার্থ এসে 'একটা কবিতার বই। কবির নাম স্বপ্নীল ভট্টাচার্য।'
রেখা নামটা দেখে আঁতকে উঠল।
'তাহলে এটা কি ঈশ্বরের মহিমা। স্পেশাল দিনের স্পেশাল উপহার।'
রেখা ভাবতে পারছে না। রেখা শুধু বলল"তোমরা এসব করবে আমাকে জানাওনি তো?'
পার্থ আর  মনোজ বললো"তাহলে আর সারপ্রাইজ কি থাকল?
পার্থর মা মানে কাকিমা বললেন 'যাও এবার ফ্রেশ হয়ে নাও।"
রেখা বললো "তাহলে খাবার দাবার অ্যারেঞ্জ  করেছ তো? 
"হ্যাঁ সব করা আছে। তোমার কোন চিন্তার কারন নেই।'
চৈতির মা বলল'সে আর  বলতে দিদি। ওই ব্যাপারে আমরা কোন ভুল করবো না ।সে আপনি নিশ্চিন্ত থাকুন।"
সবাই মিলে হো হো হো করে হেসে উঠলো।
রেখার হৃদয়-মন আজকে শুধু ময়ূরের মতো নেচে উঠল ।সত্যি এত প্রাপ্তি ,এত আনন্দ 40 পেরিয়ে যাওয়া এক নারীর কাছে অভাবনীয়।
কাকিমা বললেন "আজকে কিন্তু তোমার কাছ কবিতা শুনবো।??
পার্থ বলল' না ,না মা । শুধু ও হলে তো হবে
 না ।আরো কিছু চাই..।"
পার্থ অন্যদের দিকে হাত ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে জানতে চাইল 'তারা কি চায় ?বলো আরো কিছু চাই?"
সবাই এক বাক্যে বললো 'আরো কিছু চাই, আরো কিছু…..।"
সোনাই কে জিজ্ঞেস করল বাকিরা "তোমার কি চাই?"
আগের মত সোনাই যদি থাকতো ,বলতো চকলেট চাই ,খেলনা চাই ,আরো কত কিছু?'
সোনাই একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল রেখার দিকে। রেখা বলে "তোমার কি চাই?'
সোনাই ও "বলল" তোমার কি চাই?'
চকলেট নিয়ে ওর হাতে দিল তারপর বলল" আমার সোনাই, সোনাই এর আরো চকলেট চায় ।আরো চকলেট তাই তো?"
সোনাই শুধু ঘাড় নাড়লো।
মধুজার মুখটা পাংশে হয়ে গেল।
রেখা বলল" মধু যার কাছে গিয়ে হাতে হাত রেখে" অত চিন্তা করো না সব ঠিক হয়ে যাবে।'
চৈতির মা বললো" বাকীরা আর কি
চাই ?কি চাই ?কি চাই ? বলে চেঁচালে এবার সেটা কি তা বল?"
আমরা গান শুনতে চাই।
"আজকের বার্থডে গার্ল সুন্দর গান শোনাবে, 'পার্থ বলল।
আসলে মধুজা ওর ছেলে সোনাই কে নিয়ে খুব টেনশনে আছে।
 চৈতির মা কথাটা বলাতে পরিবেশটা বেশ হালকা হলো মনে হলো।
কাকিমা বললেন ' বৌমা যাও তো তুমি ফ্রেশ হয়ে নাও। সেই কখন স্কুল থেকে ফিরেছো।'
পার্থ বলল 'একদম ঠিক বলেছ।'
বউদি যাও এবার ফ্রেশ হয়ে নাও।একপর কেক কাটা আছে।"
রেখা বললো 'এখনো বাকি আছে?'
পার্থ বলল 'পিকচার আভি বাকি হ্যায়
আগে আগে দেখতে রহ হোতা হ্যায় কিয়া'।
কাকিমা বললেন "নে ছার ।আচ্ছা বল তো মনোজ কোথায় গেল ?আচ্ছা ছেলে বাবা একাই সবকিছু করতে গেল নাকি? যা না কোথায় গেল তাকে সাহায্য কর।'
পার্থ বলল 'সত্যিই তো আমি তো বললাম আমি যাব সাথে। একাই চলে গেল নাকি?'

এতক্ষণ পর সোনাই বলল'আমি যাব।'
মধুজা সোনা এর কথা শুনে খুব খুশি হলো আর বলল "তুমি যাবে সোনা। তুমি কাকাইয়ের  সাথে যাবে?'
"আমি কাকা ইএর সাথে যাব আমি কাকাই এর সাথে যাব।"
সোনাই আজকাল যে কথা বলছিল না তারপর কাউন্সিলিং করাতে করাতে যে কথাটা এখন বললে সেই কথাটা বারবার রিপিট করে যায়।
মধুজা ওতেই খুশি। খুব উৎসাহিত হয়ে বলল
 'ঠাকুরপো ওকে নিয়ে যাও।'
পার্থ বলল" বাবা তুমি যাবে আমার সাথে।"
সোনাই বলল "আমি কাকাইয়ের সাথে যাব।'
"তা বেশ চলো আমার সাথে।;
এর মধ্যেই রেখা ফ্রেশ হয়ে গোপালকে ভোগ চাপিয়ে নিচে নামল।
কাকিমা বললেন" লক্ষ্মীমন্তবউ দেখিনি বাইরে যায়, সংসার এ কাজ করে আবার দেখো পূজা-অর্চনা ও ঠিকঠাক করে।"
চৈতির মা বলল 'একদম ঠিক বলেছেন কাকিমা আপনাদের বাড়িতে তো দুটো বাড়ির পরে আমরা তো তার পাশেই থাকি ।এই দিদি যেখানেই যাক যত রাত্রেই ফিরুক ঠাকুরকে কিন্তু সেই সময়ে ভোগ চাপাবেন এসে।'
কাকিমা বললেন "কী করবে একা মানুষ ঈশ্বর বুঝবেন যে উপায় নেই তাই যে সময়ে কাজে থেকে আসে সেই সময়ে তাকে ভোগ নিতে হবে।
চৈতির মা বললেন ও বাবা এ বাড়ির কাকিমা তাই নিয়ে কত কথাই না দিদিকে শুনিয়েছেন।'
কাকিমা বলেন"ওই দিদি চিরকালই ঐরকম বলতে নেই কিন্তু বলতেই হয় মাঝে মাঝে ,নিজে কাজটা ঠিকঠাক করেন না কিন্তু অথচ বউ
 খুঁ ত ধরার জন্য পেছনে পড়ে আছেন।'
"তা আর বলতে কাকিমা আজকে যদি ওই কাকিমারা বাড়ি থাকতেন এত ঘটা করে কিছু হতো?"
তারপর তো শুনেছি চৈতির মা উনি নাকি বৌমার ঘরটা এসেই দখল করেছেন।
একদমই ঠিক শুনেছেন।
রেখাটা ও তেমন কি দরকার ছিল ছাড়ার।
চৈতির মা বলল "দিদি ওরকমই।
চিরকাল শুধু নিজেরটা ছেড়ে দেবেন।
এর মধ্যেই রেখা ভোগ চাপিয়ে নিচে এসে দাঁড়ালো।
কাকিমা বললেন "বৌমা এসো ,আমার পাশে বসো তো মা। "
এর মধ্যে মনোজ পার্থ হই হই করতে করতে ফিরল সঙ্গে একটা বড় কেক।
কাকিমা বললেন" বৌমা (মধুজা) টেবিলটা সাজিয়ে ফেলো।
চৈতির মা আর মধুজা বলল" হ্যাঁ ,তাড়াতাড়ি সাজিয়ে ফেলুন এত দেরি হয়ে গেল।'
কাকিমা বললেন"দাদুভাই ,তুমি কোথায় গিয়েছিলে? তোমার হাতে কি ওটা?"
চকলেট চকলেট।
দাদুভাই আমার কোলে এসো।
সোনাই কাকিমার ভুলে গিয়ে বসলো।
বৌমা দেখ ওখানে পায়েস রাখা আছে ওটা দিয়ে ফেলো।
রেখা বললো 'কাকিমা পায়েস করেছেন?'
কাকিমা বললেন আমার এই মেয়েটার জন্য আমি পায়েস করব না ?যখন জানতে পেরেছি।'
জানেন কাকিমা আজকে না আমার মায়ের কথা খুব মনে পড়ছে মাও কিভাবে পায়েস করে দিতেন আজকে যেন আপনাদের মধ্যে দিয়ে ফিরে এসেছেন।
কাকিমা রেখাকে কাছে টেনে বুকে টেনে নিলেন মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে বললেন' হ্যাঁ তো মা আমরা তো মায়ের মতই।'
পার্থ আর মনোজ বলল আর মেয়েকে আদর করতে হবে না আজকে অনেক স্পেশাল এবার ছাড়ো।
তারপর যথারীতি টেবিলে কেক সাজিয়ে পায়েসের বাটি রেখে জন্মদিনের সেলিব্রেশন হল তবে প্রথমে কাকিমা বললেন আগে পায়েস খাওয়ানো হোক। তারপরে কেক কাটা হবে। যতই হোক আমরা বাঙালি তো না কিরে?"
মনোজ আর পার্থ বলল 'একদম ঠিক কথা।"
কাকিমা মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করলেন।
সঙ্গে একটা ভাগবত গীতা উপহার দিলেন।
বাকিরা যেগুলো আমি পছন্দ করি সে রকমই উপহার সাজিয়ে দিলেন আজকের দিনটা উপহার পাওয়ার চেয়েও বিশেষ দিনটি বিশেষ ভাবে পালন করা হলো এটাই যথেষ্ট নইলে তো নিজের জন্মদিনের কথা ভুলেই যেতে বসেছিল। শুধুমাত্র কাকিমা আছেন বলে জন্মদিনের দিন প্রতি বার মনে করিয়ে দেন আশীর্বাদ দেন ।এবার নতুন করে এখানকার কাকিমা, চৈতির মা ,পার্থ আরো যারা আছে ওদেরও মনের কুঠুরীতে আমার জন্মদিনের তারিখটা মনে থাকবে।
রেখার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়তে লাগলো একবার আকাশের দিকে তাকিয়ে মায়ের উদ্দেশে প্রণাম করলো।
এবার পার্থ বলল এবার বৌদি একটা গান।
রেখা বললো 'আবার গান?'
অবাক হবার কিছু নেই পার্থ মনোজ বাকি সবাই বলল। নাও নাও শুরু করে দাও।
দেখা গান ধরল রবীন্দ্র সংগীত প্রাণ ভরিয়ে,তৃষা হরিয়ে, মোরে আরো আরো দাও প্রাণ…।'
কি অসাধারণ গাইলে রেখা ।রেখার গলা তো খুব সুন্দর ।কাকিমা বলেন প্রাণটা জুড়িয়ে গেল রেখা। "এবার বাকিরা বলল এবার একটা কবিতা শুনিয়ে দাও। তোমার কবিতা না অন্য কারোর কবিতা করবে?
রেখা বলল" না, আমার কবিতা আমি বলব না সেটা তোমাদের পড়ে নিতে হবে সকলকে। আমি কবি' দেবব্রত সরকারের 'কবিতা আবৃত্তি করছি"'

গভীর রাতের কবিতা

"আকাশটা বিদ্রোহী হয়ে আছে আমার দিকে
….
..
তুমি চেয়ে থাকো আশা ও চাওয়ার মাঝে শুধু রাত আর দিন ভাগ করে দিয়েছো কিন্তু গুনতে দাও নি।
তাই বলে আমার বোধের ঘরে যে আঁচড় দিলে
তাকে তুমি মাফ করে দিও সে যে নির্বোধ ছিল।"
অসাধারণ অসাধারণ বৌমা,
তুমি সৃজনশীলতায় রত থেকো।
মধুজা এসে রেখাকে জড়িয়ে ধরল।
চৈতির মা বলল 'সাবাস সাবাস।'
পার্থ বলল" বৌদি আপনার ভেতরে লক্ষ্মী-সরস্বতী দুটোই কাজ করছে।'
মনোজ বলল "আর বোলো না পার্থ, ওর কিন্তু গর্বে এমনিতেই বুক ফুলে গেছে এবার বুক যদি 34 ইঞ্চি হয়ে যায় তাহলেই মুশকিল আমার পক্ষে ।(হেসে হেসে )।
ঠিক আছে এবার খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা কি কি মেনু হয়েছ
ঐতো মটন বিরিয়ানি, চিকেন চাপ।
কাকিমা বললেন আমি কিন্তু আসলে মাছ মাংস খাব না।
পার্থ বলল' সেটা কি আমরা জানি না
 মা ।তুমি  যে বাবা মারা যাবার পর থেকে এসব খাও না।,'
তোমাদের জন্য ফাইড রাইস আর হচ্ছে পনির রেজালা।
বাবা এত কিছু?
পার্থ বলল আরো আছে মিষ্টি আছে আইসক্রিম আছে, পান আছে।'
সব খাওয়া দাওয়া সকলে বাড়ি চলে গেল।
রেখা মনোজকে বলল 'হ্যাঁগো আমাদের বাচ্চাগুলো খেয়েছে?"
"হ্যাঁ ওইতো বাইরে বেরোনোর সময় ওদের কেউ খাবার খাইয়ে দেয়া হয়েছে।'
মনোজ রেখার কাছে এসে বললো' কি তুমি হ্যাপি তো?"
রেখা মনোজের দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে।
রেখাকে কাছে টেনে কপালে একটা মিষ্টি উষ্ণ চুম্বন এঁকে দেয়।
রেখা মনোজের বুকে মাথা রেখে বলল "আজকের দিন টা সত্যিই এত কিছু যে আমার প্রাপ্তি ছিল ,আমি ভাবতে পারি
 নি।
মনে ছিল এখন সেটা বুঝতে পারলে তো?
রেখা বলল 'একদম ।আজকের স্বর্ণালী সন্ধ্যার শুধু ভালোবাসা ,শুভেচ্ছা প্রাপ্তির রেশ রয়ে যাবে দীর্ঘ ক্ষণ। এটা আমার মনকে আরো বেশি এনার্জিটিক করে দিল।
'
মনোজ রেখাকে দুই হাত দিয়ে গাল দুটো ধরে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল'; তাই???

Bbgh

LOVE

৩০ এপ্রিল ২০২২

Hhjk

LOVE

Bvjk

LOVE

মমতা রায় চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৬৬






উপন্যাস 

টানাপোড়েন  ১৬৬

মন কেমন করা বিশেষ দিন

মমতা রায় চৌধুরী



আজ তো সেই বিশেষ দিন। রেখার কাছে বিশেষ দিনটির বিশেষ করে তোলার মতো কেউ নেই। আসলে বরাবরই সে তাকে কখনো হাইলাইট করার চেষ্টা করে নি। মা থাকলে একটু পায়েস রান্না করে খাইয়ে দিত। মা ,কাকিমা ,জেঠিমা জ্যাঠা, বাবা ,কাকা সবাই মিলে বাড়িতে সেদিন একটু অন্যরকম খাওয়া-দাওয়া হত  বড়দের আশীর্বাদ নেয়া হতো ,প্রণাম করা হতো, এই চলত। গিফট হিসেবে কি পাওনা হত । অনেক কিছু। সবথেকে বড় প্রাপ্তি।মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ ,কখনো বা কোন গল্পের বই ,কবিতার বই ,আসলে এই বিশেষ দিনগুলোতে সেই গল্পের বই গুলো, কবিতার বই, উপন্যাস। মনে হতো যেকোনো নতুন  রাইটারের বই এনে দিলেই খুশি । আজ সবই নস্টালজিক ।পাশের বাড়ির নীলদাও ওই দিনটার কথা জানতো না  কিন্তু একদিন হঠাৎ করে বাড়িতে এসে দেখছে বড়রা সবাই আশীর্বাদ করছে। পায়েশ খাওয়াচ্ছে ।তখন এসে পড়াতেnঅবাক হয়ে গেছিল জিজ্ঞাসা করেছিল 'কাকিমা আজকে কি ননীর জন্মদিন?'
 কাকিমা বলেছিল'মেয়েদের আবার জন্মদিন।' আমরা ওকেওই দিন আশীর্বাদ করি, সুস্থ থাকুক ভালো থাকুক। আর প্রকৃত মানুষের মত মানুষ হয়ে উঠুক ।এই টুকুই বাবা আমাদের
 কাছে ।জন্মদিন অন্যভাবে সেলিব্রেট করা হয় না কখনো।'
আজ দিন বদলেছে মা নেই, বাবা নেই ,কাকিমা প্রতিবার সেই দিনটা আসলেই আগে বলতেন 'ননী মা,তুমি আমার আশীর্বাদ নিও।'
" এবার ও কাকিমা দিনটার কথা মনে করিয়ে দেয় '।নইলে তো দিনটা কেমন একটা পানসেপারা , আবছা, অস্পষ্ট তার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তবুও আজকের এই ঝাপসা হয়ে যাওয়া তপ্ত মনে স্নেহের উত্তাপ বড্ড কাছে টানে।রেখা ভাবে ওই দিনটা আসা মানেই তো একটা করে বসন্ত পার হওয়া ,জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে এক একটা রঙিন দিন। এইসব ভাবতে ভাবতে  স্কুলে গেছে ।হঠাৎ করে প্রথম  ক্লাস করে আসার পর, যখন ফোন বাজে ফোনটা রিসিভ করতেই পার্থ বলে ' শুভ জন্মদিন
 বৌদি । তুমি অনেক অনেক ভালো থেকো, সুস্থ থেকো । নীরোগ থেকো।'
পার্থর ফোনটা পেয়ে একটু অবাক হয়ে 
গেছে । বেশ কিছুক্ষণ চুপ থাকলে।
পার্থ বলে 'আপনি এতদিন এসব কথা বলেন নি কেন?'
রেখা বলে 'এত বছর হয়ে গেছে কখনো তো এভাবে সেলিব্রেশন হয়নি। এ জন্য জানানো হয়নি।ম এই দিনটিকে ঘিরে একটা মজার  ব্যাপার আছে। আসলে এই জন্মদিন আর সার্টিফিকেট এর জন্মদিন আলাদা। তাই হয়তো সেই ভাবে হাইলাইট হয়নি ।এ বছরটা যেন একটা অন্যরকম মাত্রা পেল  এ বছরটা খুবই ভালো লাগছে ।প্রতিবছর আরও দুজন ছাত্রী উইশ 
করে lওরা জানতে পেরেছিল কথায় কথায় দিনটাকে মনে রেখেছে। এদের জন্য বুকের ভিতর মনের চোরা কুঠুরিতে কোথায় যেন একটা ভালোবাসার জায়গা তৈরী হয়ে গেছে আর এই বিশেষ দিনে ওদের সেই শুভেচ্ছা বার্তা পেয়ে রেখার ভীষণ ভালো লাগে। তাই একটু কথা বলতে দেরি হয় তারপর বলে "ও থ্যাঙ্ক ইউ।
এতগুলো বছর বৌদি তুমি আমাদের ফাঁকি দিয়েছে এবার কিন্তু জন্মদিনে আমাদের খাওয়াতে হবে।
রেখা বলে আমার জন্মদিন তো সেভাবে আমরা পালন করি না ,পার্থ, জানবে কি করে বলো,?
এবার তো আমরা জানতে পেরেছি ।এবার কিন্তু খাওয়াতে হবে বৌদি ।'
রেখা বলে" ঠিক আছে খাবে ।খাওয়ার জন্য তোমাকে জন্মদিনেই খেতে হবে ,এমনকি কেউ দিব্যি দিয়েছে?
কারণ আছে বল তোমাকে তো কতবার বলেছি তুমি কি না এক কাপ চা খাওয়ার তোমার সময় থাকে না। ঠিক আছে তাই হবে।
"থ্যাংক ইউ বৌদি।'
"ইউ মোস্ট ওয়েলকাম।'
ফোনটা রাখতে না রাখতেই আবার ফোন
এবার রেখা দেখছে রিম্পা দি ফোন করেছে।
'হ্যালো।'
শুভ জন্মদিন রেখা খুব খুব ভালো থাকিস তুই সারাটা জীবন এভাবে আনন্দে কাটাস সুস্থ থাকিস।
রেখা অবাক হয়ে গেল বলল' কি বলছো তুমি?'
"কি বলবো অবাক হচ্ছিস?'
'তুমি কি করে জানলে?'
"এতদিন একসঙ্গে কাটিয়ে আসলাম। কখনো তোর জন্মদিনের কথা বলিস নি।"
হ্যাঁ আমি কখনো চাইনি আমার জন্মদিন হাইলাইট "হোক।'
'এখন তো সেটা হাইলাইট হয়ে গেল।'
'তুমি কি করে জানলে?'
'আরে ফেসবুক দেখিস নি?"
"না তো সময় পাইনি।"
"কেন কে দিয়েছে?"
" পার্থ ছেড়েছে তার সাথে মনোজ আরো কাকে কাকে যেন ট্যাগ করেছে।"
"কি বলছ?"
'আমি কি করে জানব বল? তুইতো কখনও আমাকে আপন ভাবিস নি ,বলিস নি।'
"তুমি জানো যে তুমি আমার কাছে কতটা ।তুমি আমার সারাটা আকাশ জুড়ে।'
শেষ পর্যন্ত রিম্পা দি বলে "আমাকে ফেসবুকে দিয়ে দিল।"
"তো কি হয়েছে ভালোই তো হয়েছে?
দেখ কত কমেন্টস করেছে।
তোর  বাড়তি পাওনা লেখিকা হিসেবে।
শোন তোর গিফট পাওনা থাকল  এখন আমি রাখছি কেমন?"
"তোমার ক্লাস আছে?'
"হ্যাঁ রে। নইলে এত তাড়াতাড়ি ফোন ছাড়তাম?"
"ঠিক আছে। পরে কথা হবে।"
এরমধ্যে বড়দি ডেকে পাঠালেন।
পঞ্চমী দি এসে বলল 'রেখাদি বড়দি আপনাকে ডাকছেন।'
"হ্যাঁ যাচ্ছি।'
বড়দি আ সব?'
মিষ্টি হাসি হেসে বললেন 'আরে রেখা এসো, এসো, এসো।''
"শুভ জন্মদিন রেখা, খুব খুব ভালো 
থেকো ,সবসময় হাসিখুশিতে থেকো, সুস্থ থেকো।:
রেখা বলল থ্যাংক ইউ বড়দি।"
তারপরে রেখা গিয়ে বড়দিকে প্রণাম করলো।
বড়দি বলেন" এসো তুমি আমার বুকে এসো।'
বড়দি একটা সুন্দর গোলাপের বুফে আর একটা কবিতার বই উপহার দিলেন।"
রেখার চোখ দিয়ে টপটপ করে জল পড়ছে । বড়দি বললেন রেখা তুমি কাঁদছো আজকের দিনে।"
"আমার পুরনো দিনের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে বড়দি। আমার মায়ের কথা ,বাবার কথা, আমার যৌথ পরিবারের সকলের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে আর এই কবিতার বই এটা আমার খুব পছন্দের ছোটবেলায় খুব ভয় পেতাম বড়দি।"
সেই ছোটবেলার দিনটা ফেরত পেলাম।
আজকের এই কান্না আমার আনন্দের কান্না।
বড়দি বললেন' এতদিন তো আমরা জানতাম না তোমার সার্টিফিকেটের যেটা সেটাই জানতাম কিন্তু কখনো তো তুমি সেলিব্রেট করো নি তাই ভাবলাম হয়তো জন্মদিনকে ঘিরে গেছে ।তোমাদের বাড়িতে আছে অনেকে তো মেয়েদের জন্মদিন সেলিব্রেট করে না ,এরকম কিছু আছে তাই ভেবেছি।'একদম ঠিক ভেবেছেন বড়দি আমাদের বাড়িতে মেয়েদের জন্মদিন সেলিব্রেট হয় না শুধু পায়েস রান্না করে মা দিতেন।
বড়দি বলেন 'কিন্তু দেখো, কি অদ্ভুত আমাদের বাড়িতে কখনও মেয়েদের জন্মদিন সেলিব্রেট করা হতো না শুধু মা পায়েস রান্না করে কোনরকমে দিতেন।
বড়দি বললেন অথচ দেখো এত বছর পর আবার সেই দিনটা সকলের সামনে প্রকাশ্যে আসলো।

"তোমার আজকে তুই টিফিনের পড়ে ক্লাস নেই তুমি আজকে তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে যেও।
রেখা বলল "থ্যাংক ইউ বড়দি।"
তাহলে বড়দি আমি বেরিয়ে যাচ্ছি।
 ঠিক আছে এসো সাবধানে।
রেখা তাড়াতাড়ি স্টাফ রুমে এসে খাতা ব্যাগে ঢুকিয়ে অন্যদের কে বলল আসছি।
বাকিরা সবাই বলল এত তাড়াতাড়ি চলে যাচ্ছ। রেখা বলল" আমার একটু দরকার আছে তাই।'

বেড়াতে যাবে ঠিক তখনই অনিন্দিতা ঢুকলো ঢুকেই প্রথমে রেখার কাছে গিয়ে বলল শুভ জন্মদিন রেখাদি। খুব খুব ভালো থেকো।"
অনিন্দিতার গেছে পরে কথা বলল রেখার আকাশে অনেক তারা গিরে যে অন্ধকার ছিল আজকে যেন অনেকটাই কেটে গেল।
তোদের ডাক্তার দেখানো হয়েছে?
না গো এখনো কয়েকদিন বাকি আছে?
এখন কি বুঝ ?
এখন কেমন বুঝছিস?
আগের থেকে অনেক ভালো।
যা"ক বাবা যে যেভাবে পারে ভালো থাকুক
তোকে একটা কথা বলি তুই এখন তোর বাচ্চার দিকে ধ্যান দে।
হ্যাঁ একদম ঠিক বলেছিস।
অনিন্দিতা বলে আমার সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে তো ?
রেখা বলে "কেন ঠিক হবে না।"
'আমি তোমার সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহার করেছি রেখা দি। আজ তার ফল ভোগ করছি।"
রেখা বলে "না ,না এভাবে কেন বলছিস।
প্রত্যেকের জীবনেই কিছু খারাপ সময় আসে আবার ভালো সময় আসে।
খারাপ সময়ে আমরা একটু ভেঙে পড়ি।
এই অন্ধকার চিরদিন থাকবে না রে।"
অনিন্দিতা বলে "তোমরা সবাই আশীর্বাদ করো আমি যেন আমার ছেলেটাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারি।'

"সব ঠিক হয়ে যাবে। চিন্তা করিস না।আমি এখন আসি রে।'
"তুমি এখন চলে যাচ্ছ?"
"হ্যাঁ রে'
অনিন্দিতা হেসে বলল" দাদা কোথায় স্পেশাল কিছু সেলিব্রেশন করার জন্য ভাবছে। রেখা এক গাল হেসে বেরিয়ে গেল।
রেখা মনে মনে ভাবতে লাগল মন কেমন করা এই বিশেষ দিন। এটা যেন বিশেষ হয়েই থাকে। আজ রেখার ইচ্ছেগুলোকে নীল খামে ভাসিয়ে দিল।

Nhgvb

LOVE

কবি সেলিম সেখ এর কবিতা "খুশির ঈদ"





খুশির ঈদ
সেলিম সেখ 


ঈদ মানে বছর ঘুরে
আসে যে খুশির দিন,
তাই তো দেখি অবুঝ শিশু
করছে তা ধিন ধিন।

ঈদের খুশি সকল কোণে
ছড়িয়ে পড়ুক আজ,
সকলে সেজেছে নতুন রঙে
পেয়ে নতুন সাজ।

ঈদের দিনের খাবারের গন্ধে 
মন মেতেছে আবার, 
বছর ঘুরে খুশির দিন
হয় না দেখা সবার। 

আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সকলে
চলেছে ঈদগাহের দিকে, 
আল্লাহর ইবাদতে মশগুল হয়ে
চলে সে ধিকে ধিকে।

ঈদের দিনের নামাজ শেষে
করি শুরু সবে খাওয়া, 
শান্ত বিকেলে অধীর মনে
 হয় শুরু দূরে যাওয়া। 

 মুক্ত আকাশে মুক্ত বাতাসে
ওড়ে সকলের মন, 
চায়না সে কভু থামতে
চলতে চায় সারাক্ষণ। 

পবিত্র এই খুশির ঈদ
কাটুক সবার ভালো, 
সকলের মনে জ্বলে উঠুক
ভাতৃত্ববোধের আলো।

২৯ এপ্রিল ২০২২

কবি মনোয়ারুল ইসলাম "কালের অমানিশা"




কালের অমানিশা
মনোয়ারুল ইসলাম




দৃষ্টি দূর বিবর্ণ কুয়াশাচ্ছন্ন
ভেজা ভেজা জলের স্পর্শ 
অনূভুতির বিস্তীর্ণ দিগন্তে ....

শেষ বিকেলে মায়াবী আলোয়
ফেলে আসা ছেলে বেলা
গায়ের মেঠোপথ, ভরা নদী, কিশোরী ভালোবাসা, আলেয়া ....

এখন কংক্রিট লোহালক্কর যান্ত্রিক জীবন
ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায় 
বিকল যান ....

প্রিয় মাটি মিশে যাই, কালের অমানিশা ....

কবি শেখ রাসেল এর কবিতা "সুযোগ খুঁজি "




সুযোগ খুঁজি 
শেখ রাসেল 



সুযোগ খুঁজি আমরা সবে
একটু পেলে ছুতো,
ওমনি ধরে দেই-যে মেরে
দস্যি ষাঁড়ের গুঁতো।

আজব দেখি ঘটলে কিছু হোকনা কোন দেশে,
গুজব নিয়ে তাল পাকাবে
চোর সাধুরি বেশে।

কাজের বেলা নয়-তো কাজি
চোরের সুতা টানি,
লাগাম ছেড়ে বলছো মুখে
মিথ্যা হাজার বাণী।

আমরা কি-ভাই হালের গরু
দিচ্ছো পিঠে কষে,
পকেট খানি করছো ভারী
দিন মজুরী চুষে।

আকাশ সমান উর্ধ্ব গতি
বাড়ছে সবি দাম,
গরীব খেটে মরছে দেখো
রক্ত পানির ঘাম।

শাসন নামের শোষণ নিয়ে
যাচ্ছি করে বাস,
সোনার দেশে করছি কি তাই
বর্গী নামের চাষ?

কবি জাহাঙ্গীর আলম জীবন এর কবিতা "বিবর্ণ স্বপ্ন"





বিবর্ণ স্বপ্ন
জাহাঙ্গীর আলম জীবন 



আমরা  বেশীর ভাগ মানুষই
জীবনের টানাপোড়নে আবদ্ধ 
কখনও এটা আবার কখনও ওঠা 
সমস্যাত লেগেই আছে ; থাকবে। 

সংসার, বিয়ে, অসুস্থতা আর ব্যস্ততার চিন্তা করতে গিয়ে নিজের 
কথাই ভুলতে হয়। তার পরেও অনেকের মন ভরে না! 

কখনও মনে হয় ;সাংসারিক দায়িত্ব আর জীবনের অশুভ অধ্যায়গুলো যদি না থাকতো 
তাহলে দিব্যি একটানা পড়ে যেতাম..

একটি জীবনে কত চাওয়া 
স্বপ্ন হাজার। সময়ের স্রোতে 
স্বপ্ন ভেঙ্গে বিবর্ণ হয়ে যায়
তবুও স্বপ্ন; স্বপ্নই দেখে যায়।

মমতা রায়চৌধুরী এর ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৬৫





উপন্যাস 


টানাপোড়েন ১৬৫
কুসংস্কারের বেড়াজালে
মমতা রায়চৌধুরী 




রাত্রে শুয়ে শুয়ে চৈতির মার কথাগুলো ভেবে যাচ্ছিল রেখা।' সত্যিই যদি এরকম কিছু 
হয় ,সত্যিই যদি চৈতির শ্বশুর বাড়িটা ভোলা ঠাকুরের জন্য ঠিক হয়ে থাকে। তাহলে কি একবার রেখা চেষ্টা করবে? আবার মনে মনে ভাবছে এসব কুসংস্কার ।একজন শিক্ষিতা মেয়ে এসব বিশ্বাস করে কি করে? "আসলে মনের ভেতরে ভয় থেকে সৃষ্টি হয় এসব। কিংবা দীর্ঘদিন পরিশ্রম প্রচেষ্টার ফলে যখন কিছু না মেলে তখন বোধহয় ভাগ্যের উপর ছেড়ে দিতে হয় এবং যে যা বলে সেটাকেই তখন বিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে। এসব ভাবছে  রেখা।মনোজ  ওঘরে খেলা দেখছে আজকে  টিভির কাছ ওকে  থেকে নড়ানো যাবে না। কে কে আর  খেলা।
হঠাৎই কতগুলো মেসেজ ঢোকার আওয়াজ হলো ।মনের ভাবনায় ছন্দ পতন ঘটল। ফোনটা টেবিলের উপর ছিল রেখা তাড়াতাড়ি উঠে ফোনটা চেক করলো। 
"ওমা একি একটা মেসেজ ফরওয়ার্ড করা হয়েছে। তাতে লেখা হয়েছে তারাপীঠ মন্দিরের পূজারী ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে স্বপ্নাদেশ পেয়েছেন। তিনি বলেছেন সকলকে গীতা পাঠ আর প্রার্থনা করতে এবং এই মেসেজ যে 30 জনকে পাঠাবে তার মনের আশা পূরণ হবে, আর যে অবহেলা করবে তার পাঁচ বছর খারাপ সময় যাবে।
রেখার ব্যাপারটাতে বেশ ইন্টারেস্টিং লাগলো ।আজকে হচ্ছেটা কি ?ঠাকুরের কথা ,সেটাও একটা মনের ভেতরে করবে কি করবে না। একেবারে করবে না বলে ঝেড়ে মুছে ফেলতে পারছে না আবার করবে বলেও মনে থেকে সঠিক সায় পাচ্ছে না।
ম্যাসেজটা পড়ার পর রেখার মনের ভেতরে একটা টানাপোড়েন মেসেজটা পাঠাবে কি ,পাঠাবে না ।বেশ কয়েকবার নিজের মনকে প্রশ্ন করল তারপর ভাবল 30 জনকে না পাঠানোর ই  বা কি
 আছে ?পাঠালে তো ক্ষতি হচ্ছে না। যদি ভালো কিছু হয়। আশায় এই প্রত্যাশায় আমরা সকলে বাঁচি। কতক্ষণ সময় লাগবে 30 জনকে মেসেজটা ফরোয়ার্ড করতে  ,করেই ফেলি।'
রেখা ওর পরিচিত সার্কেল এর মধ্যে মেসেজটা ফরওয়ার্ড করেছে। একজন কমবয়সী ভাই ছিল সে সঙ্গে সঙ্গে মেসেজ করেছে 'দিদি,' এটা ছেলেমানুষি ছাড়া আর কিছু নয়'  
প্রথমদিকে মেসেজটা ওই ভাইটার কাছ থেকে পাওয়ার পর রেখে একটু লজ্জিত হয়ে 
গেছিল ।সত্যিই তো ,একজন শিক্ষিত মেয়ে কি করে মেসেজগুলো ফরওয়ার্ড করে। তারপর মনের ভেতরে একটা আত্মবিশ্বাস তৈরি হল ।
বলল" কেন এত কিছুর পরেও তো একটা অদৃশ্য শক্তি আছে ,সেই শক্তি হচ্ছে ঐশ্বরিক শক্তি।
 তাই রেখা লিখল 'ভাই আমরা প্রত্যেকেই ধর্মভীরু আমরা প্রত্যেকেই নিজের নিজের মঙ্গল চাই নিজের মরে যাওয়া স্বপ্ন আশাগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে চাই।'
পরক্ষণেই ভাইটি মেসেজ করল
"তাহলেও দিদিভাই…।"
রেখা লিখল" কিছু ইচ্ছেগুলোকে না হয় খাম বন্দি করে রাখি আর কিছু ইচ্ছেগুলোকে না হয় নীল খামে মুক্তি দিই। ধরে নাও সেরকমই কিছু।""
এবার সেই ভাই হাসির চিহ্ন দিয়ে পাঠাল।
রেখাও হাসির আর ভালবাসার চিহ্ন পাঠালো।

এর পরবর্তীতে আর একটি ম্যাসেজ ঢুকলো একজন লিখেছে আমার কোনো আশা নেই।'
রেখা লিখল আশা নেই এ কথা কেন বলছো আশার জন্যই তো আমরা প্রত্যেকে প্রত্যেকের খোঁজখবর নিই। কেমন আছো ?স্বপ্ন দেখাই ।তোমাকে আমি ভাল করে চিনি। তুমি নিজে একটি স্কুলে শিক্ষকতার সঙ্গে যুক্ত আছ। তাহলে তোমার আশা যদি না থাকবে তাহলে তুমি শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত থেকে এতগুলো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করার প্রচেষ্টা করতে না?'
'সেও তখন হাসি চিহ্ন দিয়ে পাঠালো।'
আর একজন পাঠালো সত্যিই কি আমরা এগুলোতে বিশ্বাস করি? এটা কুসংস্কার ছাড়া কিছু নয়।'
রেখা বলল' হ্যাঁ ,তার মনেও সেটাই আছে কুসংস্কার তবু আমরা সবকিছুর ঊর্ধ্বে গিয়ে ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করতে পারিনা ।ধরে নাও আমি আমার সেই ইশ্বরের প্রতি বিশ্বাস নিয়ে এই মেসেজটা ফরোয়ার্ড করেছি ।তোমাদের ইচ্ছে হলে তোমরা কাউকে মেসেজ ফরোয়ার্ড করতে পারো, না পারবে সেটা তোমাদের ব্যাপার আমি কিন্তু আমার ঐশ্বরিক শক্তি কে স্বাগত জানিয়েছি এবং আমি এই পৃথিবীর রূপ রস গন্ধে আরও কিছু দিন কাটিয়ে যেতে চাই ।আমার মনের সুপ্ত বাসনাগুলো আছে,যে স্বপ্ন গুলো আছে সেই স্বপ্নগুলো কে পুনরুজ্জীবিত দেখতে চাই । যদি হয় এ,ই প্রত্যাশায় ভালো থাকা।
সে তখন টেক্সট করে ভালোবাসার হাসির চিহ্ন দিয়ে পাঠায়।
আসলে রেখা যার কাছ থেকে মেসেজটি পেয়েছে তিনি একজন স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব।তবে তিনি স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব বলেই যে তার কথা বিশ্বাস করতে হবে ,সেই বিশ্বাস থেকেকিন্তু রেখা করেনি রেখার মনে হয়েছে মনের ভেতরে কোথাও না কোথাও একটা জায়গা আমাদের দুর্বল আছে ।সেই দুর্বল জায়গা থেকেই তৈরি হয় আমাদের খিদে আর সেই খিদের নিবৃত্ত করার জন্য আমরা অনেক কিছু অবলম্বন করে থাকি।
আরেকজন মেসেজ লিখেছেন ম্যাডাম আমরা কম্পিউটার ইন্টারনেটের যুগে দাঁড়িয়ে আছি সেখানে দাঁড়িয়ে আপনার কাছ থেকে এই রকম একটা মেসেজ প্রত্যাশা করি নি।
এসএমএস পাঠায় জানি। আপনার মনে প্রশ্ন উদয় হাওয়াই স্বাভাবিক কিন্তু একটা কথা বলি কুসংস্কারে মানুষের আস্থা প্রদর্শনের নানা কারণ রয়েছে কিন্তু?
ভদ্রলোক মেসেজ করেছেন যেমন।
যেমন ধরুন না বিজ্ঞানের কিছু কিছু ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা রয়েছে এটা আপনি মানেন তো?'
'সেটা তো রয়েছেই।'
রেখা বলল তাহলে আমি কিছু উদাহরণ দিই যেমন ধরুন চাষী,বিজ্ঞানের কাছ থেকে আগাম কিছু জানতে পারেনা ,কোন বছর ফসল কেমন হবে?
ভদ্রলোক বললেন একদম সঠিক।
 যেমন ধরুন খেলা হচ্ছে সেই খেলায় বিজ্ঞান কখনো বলে দিতে পারে না যে কোন দল জয়ী হবে?"
"এটাও সঠিক।"
তাছাড়া দেখুন বিজ্ঞান কখনো ভাগ্যকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না ,এটা মানেন তো?'
'হ্যাঁ,সেটাও ঠিক।'
রেখা বললতাহলে দেখুন এই অনিশ্চয়তার ক্ষেত্রে কিন্তু বিজ্ঞানের আপাতত পরাজয়। এখান থেকেই সূত্রপাত হয় দৈব বিশ্বাস তথা দৈব নির্ভরতা।এটা মানেন তো?হ্যাঁ সেটাও ঠিক।
আমরা প্রত্যেকেই জানি যে মানব সভ্যতার সূচনা লগ্ন থেকে  কুসংস্কারের ধারা বয়ে চলেছে কুসংস্কার কিন্তু এগিয়ে চলেছে বিজ্ঞানের সঙ্গে সমান্তরালে পথ ধরে।
'হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক।'
আর এই কারনেই এই কুসংস্কার কিন্তু কখনই দেখা যায় যে বিজ্ঞানের হাত ধরে সমাজের বুকে প্রগতি এসেছে কিন্তু সেই প্রগতির পথে কিন্তু কখনোই কুসংস্কার প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে না এই কুসংস্কার বলতে পারেন ব্যক্তির কাছে একটা  প্রশান্তি স্বরূপ।
এই ধরুন না আপনার বাড়িতে বা আমার বাড়িতে যদি কেউ কঠিন রোগে আক্রান্ত হয় আমরা ডাক্তারের পরামর্শ নেই ঠিকই কিন্তু তার সঙ্গে সঙ্গে আমরা কি করি?
লোক বললেন আমরা ঠাকুরের কাছে প্রার্থনা করি মাথা ঠুকে রোগমুক্তির জন্য।
রেখা বললো দেখুন আপনি কিন্তু তাহলে এদিক থেকে আবার কুসংস্কারে আবদ্ধ হয়ে গেলেন।
আসলে কুসংস্কার কিন্তু কখনোই বিজ্ঞানের পথচলাকে থামিয়ে দেয় না।
তবে কিন্তু দাদা আমি কখনোই বলছি না যে আপনি  কুসংস্কারকে প্রাধান্য দিন। আসলে আমাদের মনের ভেতরে একটা দুর্বল জায়গা রয়ে গেছে এই দুর্বল জায়গাটা কেই আমাদের সরাতে হবে। সেটা একমাত্র পূর্ণ বিজ্ঞানচেতনা আর এই বিজ্ঞান চেতনার যত প্রসার ঘটানো যাবে কুসংস্কারের দুষ্টু শনির থেকে আমরা মুক্তি পাব।
ভদ্রলোক বললেন 'আমি তো সেটাই বলছি।"
আমিও সেটাই বলছি মানুষের অজ্ঞতা ও শিক্ষাকে কুসংস্কার হাতিয়ার করে।
ম্যাডাম আপনিতো শিক্ষিতা আপনাকে কি করে গ্রাস করল।
রেখা বললো আমরা প্রত্যেকেই না আসলে এই দুষ্টু ক্ষতের জালে আটকে আছি এতটাই ভেতরে ঘা করে দিয়েছে ,সেই ঘা শুকাতে আমাদের সময় লাগবে ।তবে আমি কখনো এটা বলব না যে কুসংস্কার সমাজের বুকে অক্ষত 
থাকুক ।আমাদের এই কুসংস্কারকে সমাজ থেকে নিজের মন থেকে দূর করতে হবে। তাহলেই এক সুস্থ প্রগতিশীল সমাজের জন্ম হবে।
স্বামী বিবেকানন্দের মতে "প্রকৃত শিক্ষাইপারে মানুষের অন্তর্নিহিত সত্তার বিকাশ সাধন করতে আর এই প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে জীবন পথে চলতে সাহস আর আত্মবিশ্বাস জোগাবে।"
তাহলে আপনি কি বলছেন আপনার ভেতরে আত্মবিশ্বাসের অভাব?
দাদা আগেই বললাম ভেতরে অনেকটা ক্ষত তৈরি হয়ে গেছে সেটা হারাতে বেশ কিছুদিন সময় লাগবে আমার যে ব্যথা যন্ত্রণা  এই কথাটা বিজ্ঞান যদি পূরণ করে দিতে পারতো তাহলে বোধহয় খুব তাড়াতাড়ি এই কুসংস্কারের বেড়াজাল থেকে মুক্তি পেতাম।
একটা কথা বিশ্বাস করি আমি কিন্তু ঈশ্বরকে বিশ্বাস করি ।ঈশ্বরকে দেখা যায় না ছোঁয়া যায় না উপলব্ধি করতে হয়। আমি সেই জায়গা থেকেই এটাকে সাপোর্ট করেছি কিন্তু আমি কাউকে জোর করে বলব না ,কেউ সেটাকে সাপোর্ট 
করুক ।সেটা নিজের নিজের মনের ব্যাপার।
তাই আমি কথাটা বারবারই কিন্তু বলছি "superstition is the religion of feeble mind'
বিভিন্ন প্রকার ভয় থেকেই এই কুসংস্কারের সৃষ্টি। আর এই ভয়টা কেই আমাদের জয় করতে হবে।
নইলে কুসংস্কারের বেড়াজালে  আমরা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে যাব।

কবি মোঃসেলিম মিয়া "ঈদ বোনাস"






ঈদ বোনাস 
মোঃসেলিম মিয়া 




মুসলিম দের ধর্মীয় উৎসব বড় দুটি ঈদ,
ঈদুল ফিতর ঈদুল আজহা ত্যাগের মহিমায় গায় গীত! 
গরীব দুঃখীর কষ্ট অনুধাবণে সিয়াম সাধনে রত---
পূর্ণ দিবস অভূক্ত থেকে ক্ষুধা তৃষ্ণায় কত!
ধনী গরিব নেই ভেদাভেদ এটাই মর্ম বাণী ---
ইসলামের শশীতলে আসল ঠাঁই মানি।
সত্যিকারের ইসলাম ভাই  সাম্যের কথা বলে,
যাকাত ফিতর উৎসব বোনাসে
সঠিক নিয়ম কি মানে?
গরীবের হক বিলিয়ে দিতে 
বিধিনিষেধ  জারি, 
যুগে যুগে নবীর আদেশ শ্রষ্ঠার দেওয়া বাণী! 
মানব কুল  চলছে মেনে নিস্তার পেতে সকল ভুল,
ঈদ ভাতা উৎসব বোনাস সম্প্রীতিতে সামাজিক রুল।
প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে ঈদ বোনাসে বৈষম্য কতো রীতি, 
ঈদের সময় ঘনিয়ে এলে মাথায় খেলে ভীতি! 
শিল্পপতি আছেন যারা ভীষণ মনে কষ্ট, 
ব্যবসায় শুধু লস আর লস কিসের বোনাস প্রাপ্য?
অজুহাতের তিনহাত খোঁজে 
পাশ কেটে তাই  চলে,
গরীবের সিঁদ কেটে ভাই রাজ প্রাসাদটি গড়ে!
ইসলাম কি এটাই বলে বোনাস ছলাকলা? 
 ঈদ আনন্দে ভাগ বসাতে বোনাসে কেণ ধাওয়া!!!