২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১

ড,সৈয়দ আজিজ।




মানুষ



সেদিন রমনা পার্কে এক অপরাহ্নে 

ঘুরছিলাম উদ্দেশ্যেবিহীন,আনমনে 

সবুজের ছায়াঘের মায়াঘেরা পথে 

হঠাৎ পড়ল চোখে কোথা হতে 

এক লীলাসঙ্গিনী কিংশুক বৃক্ষতলে 

যৌবন রসের বহ্নিশিখায় লীলাচ্ছলে 

বসে খাচ্ছিল গান বেসুরে দোলে দোলে,

এক শীর্ণ শুভ্র সদ্যযাত শিশু কোলে 

অনুসন্ধানী চোখে ভীড়লাম কাছে সন্তর্পণে

কী জানি কী ভাবে,যদি দেখে পরিচিত জনে?

পসারিনী শিশুকে চামচে দুগ্ধ করাচ্ছিল পান

পরম তৃপ্তিতে,যতনে আগ্রহে সঁপে প্রান 

মনে ভাবি জারজ শিশু তবুও তো জন্মদাত্রী মাতা

তাই বুঝি দারিদ্র্য  পরিচর্যায় নেই কোনো কার্পণ্যতা 

প্রশ্ন করি অবহেলা ভরে, নিয়ে অভিঘ্য ভাব 

চামচে কেন? তোমার বুকের দুধের কি অভাব?

 শুধালো সে এ শিশু আমার নয় বটে 

বান্ধবীর, এর জন্মলগ্নেই মাতৃমৃত্যু ঘটে 

এখন ফেলি কোথা?তুলেছি আপনার কোলে 

মাতৃ হীন শিশুসন্তান তাই বেঁধেছি যে অঞ্চলে 

জিজ্ঞাসি মায়া ভরে,অসুবিধা হবে না তাতে?

শুধালো সে কে নেবে দায়িত্ব এই অনাথে?

দেশ,সমাজ,সরকার, আপনি না কোনো দলে?

তাই অনাথেরে নিয়াছি নিজ কোলে, তরুতলে 

 আপনাদের মতো আমাদের নেই সামাজিক সন্মান

আমরা, অচ্ছুত, অমানুষ, সাহেব এবার আপনি যান।

মোহাঃ হাসানুজ্জামান




দহন বেলা


আমার স্বপ্নটা অনাকাঙ্খিত

যেন চোরাবালির জালে আবদ্ধ,

তবুও শিহরিত নয় আমার হৃদয়

জানি সব স্বপ্নয় বড় মায়াময়।


মনের মাঝে বৃস্টিস্নাত সুশীল গগন

নিদ্রাবিহীন নিশীথে যদি হয় তার আগমন,

অবসাদ গ্রস্থ আমি আছি প্রতীক্ষায়

আঁধারে ডুবেছি সদা মন নিয়ে ঠাঁই।


আমার আনুভূতিতে উষ্ণ আয়োজন

তাত্বিক প্রেমে যেন ভাতৃত্বের উদয়ন,

আকাঙ্খা করে যেন আত্মচিৎকার

নিঃস্ব স্বপ্ন আমার করে হা হা কার।


হৃদয়ের গহীনের আকাঙ্খা হবে কি ধুলিস্মাৎ ?

নাকি হবো আমি সগৌরবে অগ্রসর,

প্রতীক্ষায় স্বপ্নের মালা বুনছি আজো

আকাঙ্খিত সব আশা কি থাকবে অধরাই ?


পরিবর্তিত হবে কি আমার ভগ্ন হৃদয়

পারব কি আমি এ সংগ্রাম করতে জয় ?

আছে মনে যদিও দৃঢ় বিশ্বাস

হবে নিশ্চিত নতুন সূর্য উদয়।


স্বপন কুমার ধর




হাঁটা


সময়ের মত নিয়ম মেনে,

সেকেন্ড, মিনিট, ঘন্টা ধরে,

জীবনকে নিয়ে পারিনি এগোতে,

চলেই চলেছি নিজের গতিতে।


পথে জল,মাটি,কাদা,

এসবের মধ্যেই তো হাঁটা।

হয়তো বা ঠিক,কিংবা বেঠিক,

জীবনটাই যে সাদামাটা।


পূর্ণিমার জ্যোৎস্না রাতে,

হেঁটে হয়েছি আত্মহারা।

অমাবস্যার ঘন নিশিতে,

কেবলই যে পথহারা।


ধরার মৃদুমন্দ বাতাস,

ছড়িয়ে দিয়ে নিজের সুবাস,

এগিয়ে যেতে সাহায্য করে,

সুদূর পথ হাঁটার তরে।


জন্মলগ্ন থেকে সবাই আমরা,

কেবলই হেঁটে চলেছি,

জীবনের সীমানা পেরোলেই জানব,

হাঁটা শেষ করেছি।

২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২১

নার্গিস জামান





পাগল নই



একটিবার শিকলটা খুলে দাও।

বিশ্বাস করো, পাগল নই।

আকাশ দেখলেই, তাকে পাগল বলা যায় না।


ও মা' একটিবার চোখের বাঁধনটা খুলে দাও,

ম্রিয়মাণ ধুসর চাঁদের গল্পটা শুনবো।

আকাশকে দেখবো, সারারাত...


সূর্যাস্ত হতে সূর্যোদয় পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত

আকাশে বিলীন হব, শিকলটা খুলে দাও।

ধুসর চাঁদের না বলা কষ্টটুকু জানতে চাই।


চোখের পর্দাটা সরিয়ে দাও, ওরা ডাকছে দেখ!

খোলা ময়দানে দূর্বাঘাসে  শেফালির মত শুয়ে

সারারাত নক্ষত্র দেখব, প্রতিটি নক্ষত্রে

চন্দ্রমুখীর প্রতিচ্ছবি ! 


প্রতিচ্ছবিগুলি কেমন মুখরা দেখ!

একেকটি মুখচ্ছবি আলাদা আলাদাভাবে বলছে, আমার অপরাধগুলি! 


এবার আামায় শুধরাতে হবে মা!

ছেড়ে দাও আমায়, বিশ্বাস কর পাগল নই

আকাশ দেখলেই, তাকে পাগল বলা যায় না!

দেলোয়ার হোসেন সজীব




নারীতে পুরুষ ধন্য



নারীর ছোঁয়ায় পুরুষ ধন্য

পুরুষ জন্ম নারীর জন্য,

মা রুপে নারীর মমতা

লিপিবদ্ধ লক্ষ কবিতা।


নারী হলেন শ্রদ্ধার প্রাত্র

খুলে দেখো ধর্মীয় শাস্র ?

শ্রদ্ধায় মুক্তি শ্রদ্ধায় শক্তি

শ্রদ্ধায় দিয়ে যাও ভক্তি।


নারী বোন রুপে স্নেহময়ী

কাছে থেকে দেখো পাবে,

ভাই আদরে নেই কমতি

দাও গিয়ে বোনের ইজ্জতি।


কত শত রুপে নারী শ্রেষ্ঠ

স্ত্রী রুপে নিলে পাবে পূর্ণতা,

শ্রদ্ধা বিশ্বাস নারীতে রেখো

নারীতে সৃষ্টির উল্লাস  দেখো।