০৪ আগস্ট ২০১৮

   কাকলী দাস ঘোষ

নিখোঁজ

আমার পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা খুঁজে পাই নি ;  রাস্তা পার হয়ে নদী ছুঁলাম , নদী পার হয়ে সাগর ;  উপত্যকা পার হয়ে পাহাড় ছুঁলাম , পাহাড় পার হয়ে আকাশ ;  পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা তবুও খুঁজে পাই নি তো l গিয়েছিলাম খবরের কাগজের অফিসে , গিয়েছিলাম নামী গোয়েন্দার কাছে ;  না -কেউ খুঁজে দিতে পারে নি আমার পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা ;  আর খুঁজব না -ক্লান্তি আমার বলে দিয়েছে , আমার অক্লান্ত চাওয়াগুলো হারিয়ে ফেলেছে  আমার পরিতৃপ্তির মাপকাঠিটা l     

০২ আগস্ট ২০১৮

পূর্ণিমা ভট্টাচার্য (টুকুন)

তোর সাথে

তোর সাথে আজ ভিজবো আমি
ঘাসে ঢাকা ওই সবুজ মাঠে ,
তোর সাথে আমি ভিজবো শুধু
একলা রাতে নিঝুম পথে ৷
    রাখবে ঢেকে আবডালে তে
    বাদল ধারা জাপটে ধরে ,
    বারি বিন্দু পড়বে মুখে
    ভাসিয়ে নেবে প্লাবন তোরে ৷
ইচ্ছে করে ভিজবো আমি
শেওলা ধরা খোলা ছাদে ,
পিছলে গিয়ে পড়লে পরে
ধরবি যে তুই শক্ত হাতে ৷
   এই শ্রাবণের পাগল ধারায়
   শুধু তোকে ছুঁতে যাই ,
   রিম ঝিম ওই নৃত্য তালে
   ভিজতে ভীষণ চাই ৷৷

৩১ জুলাই ২০১৮

দীপ্তি চক্রবর্তী

ন্তর্লীন

রোদ্দুরের শিরদাঁড়া গড়িয়ে নামছে
ঘন কালো মেঘের দল
নিক্ষেপ যেখানে বহুদূর সেই পলাশ রংয়ের মাদকতা আলগোছে ছিনিয়ে নিয়েছে কামার্ত অসুরেরা
সমতলের চাতুর্য একপাশে রেখে
আমি পিতল ঝরা বিকেলের শোভায় লীন হতে চেয়েছিলাম
অক্টোপাশের পায়ে জড়িয়ে রয়েছি অযুতবর্ষ
গভীর সমুদ্র যেখানে শীতলতা ছড়ায়
আমার এই নশ্বর জীবনের অন্তে
সেখানেই পৌঁছে যাবো
তখন দুই হাতের অঞ্জলি ভরে নেবো
অন্তিমতার ঘ্রাণ

২৮ জুলাই ২০১৮

সাইফুল আলিম

মেঘ - বৃষ্টির অভিমান

ঘন কালো মুখটা তাহার
এই অম্বরে ঢাকে
এদিক ওদিক ছুটছে সেথায়
নীল গগনের ফাঁকে ।

পুরো গগনে কোথাও খুঁজে
পাইনি মিষ্টি হাসি
কাশ বনেতে ফুল ফোটে না
দুঃখ রাশি রাশি।

ভোর আকাশের সূর্য হাসি
গোমরে গোমরে কাঁদে
ভর দুপুরের আলোর প্রদীপ
পড়লো মেঘের ফাঁদে ।

মিহি জোৎস্নার আলোর ছোঁয়া
মেঘ রাখিলো বেঁধে
আর করো না অভিমান তুমি
বৃষ্টি  সুধাও কেঁদে।

রাত্র নীশির তারার খেলা
যায় না দেখা আজ
তোমার ভয়ে আর হাসে না
গোলাপ, গন্ধরাজ।

দিনের পর দিন চলে যায়
রাতের পরে রাত
গোমরা হয়ে থাকলে তুমি
আসবে না প্রভাত।

সাক্ষী গগন ভুগছে মানব
নান্দনিক এই কান্নায়
এই পৃথিবীর আবাস ভূমি
ভাসছে জলে বন্যায় ।

শ্রাবণ মাসের জমকালো মেঘ
একটু তুমি হাসো
মান অভিমান ভুলে গিয়ে
আমায় ভালোবাসো।

আর কতো দিন এমনই রবে
গোমরা করে মুখ
বৃষ্টি নামক অশ্রু ঝরুক
পাও যদি আজ সুখ।

মান অভিমান আর কতো কাল
রাখবে বুকে ধরে
মানব জাতির জীবন তরী
ভাঙ্গে কেমন করে।

মেঘ ☁ তুমি রাগ করো না
আমায় ভালবাসো
বৃষ্টির জলে স্নান করাবো
এই না কাছে আসো।

শারমিন সুলতানা রীনা

স্মৃতি

রাত্রির বিষন্ন অন্ধকারের গায়ে ইচ্ছে করে উড়িয়ে দেই কর্পূরের মতো সমস্ত স্মৃতি।

নিদ্রাহীন দীর্ঘতম রাএির রোলিং ধরে চোখের কার্নিস বেয়ে জল হয়ে দাড়ায় যে ছায়া
গাঢ় নিস্তব্ধতা ভাঙে তার মৌখর্যে।

গ্রীস্মের অগ্নিতে পোড়া শরীরে
বিন্দু বিন্দু ঘামের মৌ মৌ গন্ধে
দারুণ মৌতাতে মুহূর্তে শুষে নেই সবটুকু নির্যাস।
রাএি জাগা দুঃস্বপ্নের চাদরে মোড়ানো কোন স্মৃতি তবে ঝেড়ে ফেলতে চাই মাকড়সার জালের মতো?
হাজারো প্রশ্নের মুখোমুখি বিবেকের কাঠগড়ায় দাড়ানো আসামী..
জানি না এর উঃ মৌনতার কাছে হেরে যাই।

অতঃপর স্মিত হাসিতে মুখ খোলে ছায়া..

স্বেচ্ছায় বুকের কপাট খুলে যাকে আটকে রেখেছো তাকে ভুল বলে কেন সরে যেতে চাও
বিরোধী অভিমানে?
আগুন নিয়ে খেলা করার তীব্র বাসনা ছুড়ে দিতে চাও কোন আক্ষেপে?

চেতনার করাঘাতে নতজানু আসামী বেড়িয়ে আসি মৌনতার বৃত্ত থেকে।

একচ্ছত্র সাম্রাজ্যে যখন দৈত টান,সংবিধানের কড়াকড়ি,
কাঁটাতারের বেড়াজাল...
সাধ্যতিত প্রত্যাশা পুড়িয়ে দেয়
স্বাচ্ছন্দের বাড়ি ঘর,
বিবর্ণতায় ঢেকে যায়
সোনালী সকালের সব উপমা?

বেলা অবেলা বলে জানিনা কিছু,

আনার কলি নয়,নয় রাই বিনোদিনি
তোমাকে ভালোবেসে কেবলই হতে চেয়েছি বনলতা সেন।।।

২৭ জুলাই ২০১৮

আপনিও লেখা পাঠান

হ্যাঁ ! সাহিত্য সংস্কৃতি আমাদের সামাজিক অঙ্গনে মিলনত্তর দর্শন I যা সকলেরই সম অধিকার !প্রতিভা সবার আছে নিজ নিজ ভাবনার নিরিখে আত্মগোপন করে ! আসুন আপনাদের আমাদের না হয়ে হয়ে উঠি সকল সকলের হয়ে এক কণ্ঠ উচ্চারিত করি ! গল্প কবিতার মধ্যে তুলে ধরি প্রেম প্রতিবাদ দুঃখ হাসি কান্নার আনন্দ ! লেখা পাঠান 9531601335

২৫ জুলাই ২০১৮

দেবব্রত সরকার

আমি

আমি তোকে ভালবাসি খুব !
আমি ছাড়া কেও নেই তার !
এই আমির অপূর্ব সুখ !
এ আমির জিত নয় হার !

আমি মানে বড় এলেবেলে !
আমি মানে সব ক্ষেত্রে গাধা !
আমি মানে মেয়ে নয় ছেলে !
এই আমিটা বড্ডো বোকা !

এখন সে আমি মানে সব !
আমিতেই গেল রাজ্য দেশ !
আমিতেই হোক কলরব !
অমিতেই বেঁচে আছি বেশ !

আমিরও আমিত্ব আছে !
আমি পারি আমি গড়ি সব !
আমি ওরা শব্দতে গেছে I
আমি মানে সব পর পর !

২২ এপ্রিল ২০১৮

অন্ধকার জীবন থেকে

দেবব্রত সরকার

দূরের পাহাড় থেকে নিয়ে আসা আলো সমতল সাজিয়েছে নদীর সাগরে
মানব জীবন হতে রাস্তা ডিঙাতে গিয়ে মায়ার বাঁধন কেটে কেটে পড়ে !
সেদিন চৈত্র মাস তোমরাতো ছিলে বুকে হৃদয়ে মাখিয়ে ভালবেসে আশা
এ জীবন্ত কায়ার উপর স্বরঋপু এঁকে মায়া ভেঙে চোখ ভাসা ভাসা
দুরাশার ভিড়ে গাঁথা অবুজ পাখির মতো খাঁচা ভেঙে মেলে দিলে ডানা
ছকে গাঁথা প্রতিটি জীবনের মতো সবুজদ্বীপের ছাদে মেঘ ভাঙা ভাঙা
চেয়ে দেখ আমি আছি প্রকৃতির ঘর ছেয়ে একাকীত্বর সাথে হেসে খেলে
ভেঙেছি ভেঙেছি অনেক ভেঙেছি নিজেকে সমুদ্রের মতো ঢেউ খেলে খেলে
নির্জন অন্ধকার ঘেঁটে জলরঙ ক্যানভাসে তোমাদের হারিয়েছি তারাদের মাঝে
রূপালী স্বপ্নের ভেতর তারা ছিল এই আছে কলিজা দাপানো নরম হৃদয়ের খাঁজে !

২৩ জানুয়ারি ২০১৮

কল্যাণ মন্ডল

বন্দনা


প্রেমিক নীলকন্ঠ প্রেমের গরল ,
করছি অামি পান ৷
ঝরে যাওয়া হলুদ পাতায় ,
লিখেছি তোমার নাম ৷
নীল অাকাশের হাজার তারা ,
শোনাবে তোমায় গান ৷
শিশিরভেজা সিক্ত সকাল ,
অানবে নতুন প্রান ৷

অশোক রায়চৌধুরী

কবিতা শূন্য বাংলাদেশ 


কবিতা কোথায় কবিতা কোথায় কবিতা নেই এ দেশে
যা কিছু ভস্ম ছেপে বেরুচ্ছে সেসব অট্ট হেসে
ছুড়ে ফেলে দেবে মহাকাল দাদা নিষ্ঠুর বিচারক
রবিঠাকুরের দেশটা এখন কবিতা হনতারক
কবিতায় আজ কবিতাটি ছারা আর সবকটি আছে
কবিরাও আজ ছাইপাঁশ ছেপে তুড়িআনন্দে নাচে
প্রচার যন্ত্র প্রচার তন্ত্র গোয়েবুলশ এর তত্ত্ব একই নামগুলো বার বার ছেপে কত না গর্বে মত্ত
খোলা ময়দানে আসুন দেখিকে সব চেয়ে বড়ো কবি
কাগজের বাগ দেখে কোনদিনও ভুলবে না জেন ভোগী
ছন্দ ভাঙছে ছন্দ গড়ছে কোথায় নতুন ছন্দ
মান্ধাতার সে কালের লেখা তাতেই তো সব অন্ধ
ঘোরালে কতকা ফেরালো লাঠি একটু আদল বদল
এই মূলধন নিয়েই নাকি সবাই করেন নাকি কোদল
একশো বছর আগেও যেখানে শাস্ত্র দাঁড়িয়ে ছিল
তার থেকে একটি চুলও সরেনি ছন্দ মিলও
কর গুণে গুণে ছন্দ...