মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৭
সমীরণ ঘোষ
কৃষ্ণগহ্বর
যা কিছু ছড়ানো আলো
ফিরে আসছে আমার ভেতর
ক্রমে ক্রমে সংকুচিত, আমার ভেতর এই আমি,কৃষ্ণপরিধি
মহাশূন্যের কোলে একা
ঘুমিয়ে পড়েছি
যা কিছু ছড়ানো আলো
ফিরে আসছে আমার ভেতর
ক্রমে ক্রমে সংকুচিত, আমার ভেতর এই আমি,কৃষ্ণপরিধি
মহাশূন্যের কোলে একা
ঘুমিয়ে পড়েছি
মতি গাজ্জালী
হাঁটা ভুলে গেছি
আমিও একা নই তুমিও একা নও
তবু আমার সাথে কোনো পা হাঁটে না
বরং তোমার হাঁটাও কেউ হেঁটে দেয়
অথচ আমি নিজেও আজকাল হাঁটা ভুলে গেছি।
কথা ছিলো এই মাটি সবার জন্য বুক পেতে রেখেছে
আমার ভার বইতে মাটির কষ্ট
তোমাকে বুক দেয় স্পষ্ট
সবই কি তবে অদৃষ্ট
না, ভাগ্যবানদের সৃষ্ট?
কথা ছিলো একই কণ্ঠে গাইবো গান
একই সুরের লয় তান
কণ্ঠ আমার মিলছে না আজ
তাই আমায় দিলে বাদ
তবু জানাই সাধুবাদ
সুর হারায়েও নেই কোনো লাজ।
আরও আরও কতো কথা
জন্ম থেকেই বিয়োগ ব্যথা
শুনছি তোমার বিজয় গাঁথা
হারালো আমার ছেঁড়া কাথা
হারতে হারতে ন্যূব্জ আমি
তবু হইনি বদ হারামি।
আমিও একা নই তুমিও একা নও
তবু আমার সাথে কোনো পা হাঁটে না
বরং তোমার হাঁটাও কেউ হেঁটে দেয়
অথচ আমি নিজেও আজকাল হাঁটা ভুলে গেছি।
কথা ছিলো এই মাটি সবার জন্য বুক পেতে রেখেছে
আমার ভার বইতে মাটির কষ্ট
তোমাকে বুক দেয় স্পষ্ট
সবই কি তবে অদৃষ্ট
না, ভাগ্যবানদের সৃষ্ট?
কথা ছিলো একই কণ্ঠে গাইবো গান
একই সুরের লয় তান
কণ্ঠ আমার মিলছে না আজ
তাই আমায় দিলে বাদ
তবু জানাই সাধুবাদ
সুর হারায়েও নেই কোনো লাজ।
আরও আরও কতো কথা
জন্ম থেকেই বিয়োগ ব্যথা
শুনছি তোমার বিজয় গাঁথা
হারালো আমার ছেঁড়া কাথা
হারতে হারতে ন্যূব্জ আমি
তবু হইনি বদ হারামি।
স্নিগ্ধসত্তা সুলেখা সরকার
ওজস্বল
পাখি উড়ে গেলে সে কখনো কখনো একটি পালক ফেলে যায়। সেভাবেই পড়ে থাকে আমার সাদা পৃষ্ঠায় কোন এক "ওজস্বল" নাম। কুড়িয়ে নেই না শুধু অপেক্ষা করি তৃতীয় ক্লীবের জন্য।
অ... ছেড়ে আসা প্রেক্ষাগৃহে নাট্যদল, গভীর নাটকীয়তা...শকুন্তলার ভর্ৎসনা, আমিও দাঁড়িয়ে থাকি রাই হয়ে কোন সে যুগের যমুনার কূলে, সন্ধ্যা ফেলে যায় রাত, কালোরা ঘরে ফেরে, ক্রমে আমিও কালো হই।
কালোকৃষ্ণ, কৃষ্ণরাই..... ধুৎ এসব ও যুগের কথা, আমার প্রেমে ওজস্বী- হাওয়া চেটে দেয় গাল থেকে চিবুক, ছুঁয়ে দেয় নাক, পাহাড়ি পথে বয়ে যেতে যেতে, চিমটি রেখে যায় পা-পাতায়। তোমরাও তো জানো এসব রক্ষণাবেক্ষণ, না না শুনতে শুনতেও নিয়ে নাও অনেককিছু।
অনেককিছুর পর তৃতীয় ক্লীব, ফিরে এসে হিসেব করে সবটা নেয়, জলপথ ওপরে তুলে নদীর বুক দেখে... শুধু আঁচড়ের দাগ, নামিয়ে রেখে জল, স্রোতে বয়ে যায় শেষটুকু নিয়ে, সন্ধ্যা নেমে আসে, পাখি ফিরে যায় ঘরে, সাদা পৃষ্ঠায় সংখ্যা হয়ে থেমে থাকে রাই, মৃত পালক অক্ষর লেখে।
পাখি উড়ে গেলে সে কখনো কখনো একটি পালক ফেলে যায়। সেভাবেই পড়ে থাকে আমার সাদা পৃষ্ঠায় কোন এক "ওজস্বল" নাম। কুড়িয়ে নেই না শুধু অপেক্ষা করি তৃতীয় ক্লীবের জন্য।
অ... ছেড়ে আসা প্রেক্ষাগৃহে নাট্যদল, গভীর নাটকীয়তা...শকুন্তলার ভর্ৎসনা, আমিও দাঁড়িয়ে থাকি রাই হয়ে কোন সে যুগের যমুনার কূলে, সন্ধ্যা ফেলে যায় রাত, কালোরা ঘরে ফেরে, ক্রমে আমিও কালো হই।
কালোকৃষ্ণ, কৃষ্ণরাই..... ধুৎ এসব ও যুগের কথা, আমার প্রেমে ওজস্বী- হাওয়া চেটে দেয় গাল থেকে চিবুক, ছুঁয়ে দেয় নাক, পাহাড়ি পথে বয়ে যেতে যেতে, চিমটি রেখে যায় পা-পাতায়। তোমরাও তো জানো এসব রক্ষণাবেক্ষণ, না না শুনতে শুনতেও নিয়ে নাও অনেককিছু।
অনেককিছুর পর তৃতীয় ক্লীব, ফিরে এসে হিসেব করে সবটা নেয়, জলপথ ওপরে তুলে নদীর বুক দেখে... শুধু আঁচড়ের দাগ, নামিয়ে রেখে জল, স্রোতে বয়ে যায় শেষটুকু নিয়ে, সন্ধ্যা নেমে আসে, পাখি ফিরে যায় ঘরে, সাদা পৃষ্ঠায় সংখ্যা হয়ে থেমে থাকে রাই, মৃত পালক অক্ষর লেখে।
অনুপ কুমার মুখার্জী
ঘুম, ঘুম আসছে না
ঘুম
ঘুম যে হারিয়ে গেলো
এই ক্লান্ত রাত্রির আঁধারে
সে বলল
ঘুমের গুলি খা
আমি গুলি চালিয়ে দিলাম
একজন বলল
ইতিহাস এর দুঃখ করিস না
আমি নিজেকে ইতিহাস থেকে বার করে নিলাম
এক এসে বলল
এক ঢোঁক খেয়ে দেখ
আমি নিজেকে ডুবিয়ে দিলাম গেলাসে
বয়স্ক একজন বলল
হরি নাম জাপ কর
আমি করে দেখে নিলাম
আমি ঘুম খুঁজতে থাকলাম
খোলা চোখের পাতা থেকে
মৃগ আর মৃগতৃষ্ণার খেলা
অন্তহীন চলতে থাকলো
আমি স্বপ্নও দেখতে থাকলাম
খোলা চোখের তারা দিয়েই
ঘুম আরো দূরে যেতে থাকলো
চোখ বন্ধ হবার অপেক্ষা তে
ঘুম
আসবে নিশ্চয়
আসবে সে এক দিন
আর না হোক
এক সন্ধ্যা তে আসছে সে
জীবনের এক সন্ধ্যা তে
আসবে সে চির বন্ধু
বন্ধ করবে চোখের পলক
শুষে নেবে সব যন্ত্রনা
সব ক্লান্তি সব দ্বিধা
নেমে আসবে নিদ্রার ঠান্ডা স্পর্শ
ঘুম আসবে নিদ্রার কোলে
ঘুম, ঘুম, ঘুম
ঘুম
ঘুম যে হারিয়ে গেলো
এই ক্লান্ত রাত্রির আঁধারে
সে বলল
ঘুমের গুলি খা
আমি গুলি চালিয়ে দিলাম
একজন বলল
ইতিহাস এর দুঃখ করিস না
আমি নিজেকে ইতিহাস থেকে বার করে নিলাম
এক এসে বলল
এক ঢোঁক খেয়ে দেখ
আমি নিজেকে ডুবিয়ে দিলাম গেলাসে
বয়স্ক একজন বলল
হরি নাম জাপ কর
আমি করে দেখে নিলাম
আমি ঘুম খুঁজতে থাকলাম
খোলা চোখের পাতা থেকে
মৃগ আর মৃগতৃষ্ণার খেলা
অন্তহীন চলতে থাকলো
আমি স্বপ্নও দেখতে থাকলাম
খোলা চোখের তারা দিয়েই
ঘুম আরো দূরে যেতে থাকলো
চোখ বন্ধ হবার অপেক্ষা তে
ঘুম
আসবে নিশ্চয়
আসবে সে এক দিন
আর না হোক
এক সন্ধ্যা তে আসছে সে
জীবনের এক সন্ধ্যা তে
আসবে সে চির বন্ধু
বন্ধ করবে চোখের পলক
শুষে নেবে সব যন্ত্রনা
সব ক্লান্তি সব দ্বিধা
নেমে আসবে নিদ্রার ঠান্ডা স্পর্শ
ঘুম আসবে নিদ্রার কোলে
ঘুম, ঘুম, ঘুম
আফজল আলি
সুখ তীরবর্তী
আমার কবিতাগুলো ওরকম ছিল না যেরকম তোমরা বলছো
নদীচরে জেগে ওঠে ফাল্গুন মাস
২০১৭ সালেই আমি উন্মুক্ত হলাম
যখন মেঘ ডাকছিল খুব আর পিপাসা ছিল অতিরিক্ত
আমি নামলাম কয়েকটি স্বরবর্ণ উদ্ধারে
অন্যমনস্ক নিয়ে চলে দূরে কোথায়
ঢেউ তো ওখানেই আছে যেখানে ঘুম নিগ্রহ হয়
মনের কথা আর কাকেই খুলে বলি
মন তো মনের সাথেই লড়াই করছে ঘরে
বেদনার প্রলেপ মাখতে চিনির সরবৎ খেয়েছি
তবু শব্দযান এগিয়ে আসে
বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ ওই সুখ- তীরবর্তী
চায়ের কাপ অন্তর্বতী হল , কাঁপছিল , যারা কাঁপছিল
তারা সকলে ভাগ করে নিল
পাকা বেদনার কী দাম
বুক স্থবির , আমাকে নিরুপায়ের ঊর্ধ্বে রাখে
যদি কোনোদিন দেখা হয় , আমিও ভাগ করে নিতাম - ওহে দুঃখ কারে কয়
আমার কবিতাগুলো ওরকম ছিল না যেরকম তোমরা বলছো
নদীচরে জেগে ওঠে ফাল্গুন মাস
২০১৭ সালেই আমি উন্মুক্ত হলাম
যখন মেঘ ডাকছিল খুব আর পিপাসা ছিল অতিরিক্ত
আমি নামলাম কয়েকটি স্বরবর্ণ উদ্ধারে
অন্যমনস্ক নিয়ে চলে দূরে কোথায়
ঢেউ তো ওখানেই আছে যেখানে ঘুম নিগ্রহ হয়
মনের কথা আর কাকেই খুলে বলি
মন তো মনের সাথেই লড়াই করছে ঘরে
বেদনার প্রলেপ মাখতে চিনির সরবৎ খেয়েছি
তবু শব্দযান এগিয়ে আসে
বাড়তি গুরুত্ব দিতে নারাজ ওই সুখ- তীরবর্তী
চায়ের কাপ অন্তর্বতী হল , কাঁপছিল , যারা কাঁপছিল
তারা সকলে ভাগ করে নিল
পাকা বেদনার কী দাম
বুক স্থবির , আমাকে নিরুপায়ের ঊর্ধ্বে রাখে
যদি কোনোদিন দেখা হয় , আমিও ভাগ করে নিতাম - ওহে দুঃখ কারে কয়
অভিজিৎ রায়
আপেল বিষয়ক উত্তরপত্র
নিতান্তই নিজের সাথে লুকোচুরি খেলছি। আর, তারই মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ছি ক্লান্তিতে। প্রতিটি শব্দ খুঁজে খুঁজে এনে সাজাচ্ছি অবসর। তারপর নিজেকেই ঘাড় ধরে বলছি, 'ওঠ,' বলছি 'বোস'। নিজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছি নিউটনের আপেল মাটিতে পড়ে পড়ুক আমারটা যেন গাছে উঠতে পারে মাটি থেকে। আমার আপেল যেন কামড়ের অপেক্ষায় থাকে চিরকাল কিন্তু আমি শুধু চিরকাল বই ঘেঁটে ঘেঁটে নিউটনের আপেলেই কামড় মারবো। আমার আপেল আমার মস্তিষ্কের মতো অক্ষত থাক দেহে, মনে। মানসিক বা শারীরিক যন্ত্রণা দিতে পারে যে সব দাঁত বা যে সব পিঁপড়ে তারা সেইসব উঁচু ডাল ছুঁতে পারবে না, যেখানে ঝুলিয়ে রেখেছি আমার নিজস্ব আপেল। যদিও একদিন প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে সে আপেল পচে যাবে, যেমন গিয়েছিল নিউটনের। একদিন কাঠ-মাফিয়া কবিতার বেওসাতি করার লোভে সে আপেল গাছ কাটতে আসবে। নিউটন কিছু কবিতা লিখে ঝুলিয়ে রাখবে আপেলের গাছে আর আমি লুকোচুরি খেলব নিজের সঙ্গে, শব্দের সঙ্গে, আপেলের সঙ্গে, গাছের সঙ্গে, সবার সঙ্গে। লুকানোর জায়গা পাবো না। ধরা পড়ে যাব সবার চোখে। আপেলের চোখে, নিউটনের চোখে, আপেলের কোষ আর মস্তিষ্কের কোষের চোখেও।
নিতান্তই নিজের সাথে লুকোচুরি খেলছি। আর, তারই মধ্যে ঘুমিয়ে পড়ছি ক্লান্তিতে। প্রতিটি শব্দ খুঁজে খুঁজে এনে সাজাচ্ছি অবসর। তারপর নিজেকেই ঘাড় ধরে বলছি, 'ওঠ,' বলছি 'বোস'। নিজে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ভাবছি নিউটনের আপেল মাটিতে পড়ে পড়ুক আমারটা যেন গাছে উঠতে পারে মাটি থেকে। আমার আপেল যেন কামড়ের অপেক্ষায় থাকে চিরকাল কিন্তু আমি শুধু চিরকাল বই ঘেঁটে ঘেঁটে নিউটনের আপেলেই কামড় মারবো। আমার আপেল আমার মস্তিষ্কের মতো অক্ষত থাক দেহে, মনে। মানসিক বা শারীরিক যন্ত্রণা দিতে পারে যে সব দাঁত বা যে সব পিঁপড়ে তারা সেইসব উঁচু ডাল ছুঁতে পারবে না, যেখানে ঝুলিয়ে রেখেছি আমার নিজস্ব আপেল। যদিও একদিন প্রকৃতির নিজস্ব নিয়মে সে আপেল পচে যাবে, যেমন গিয়েছিল নিউটনের। একদিন কাঠ-মাফিয়া কবিতার বেওসাতি করার লোভে সে আপেল গাছ কাটতে আসবে। নিউটন কিছু কবিতা লিখে ঝুলিয়ে রাখবে আপেলের গাছে আর আমি লুকোচুরি খেলব নিজের সঙ্গে, শব্দের সঙ্গে, আপেলের সঙ্গে, গাছের সঙ্গে, সবার সঙ্গে। লুকানোর জায়গা পাবো না। ধরা পড়ে যাব সবার চোখে। আপেলের চোখে, নিউটনের চোখে, আপেলের কোষ আর মস্তিষ্কের কোষের চোখেও।
সমরেন্দ্র রায়
পাখি ও মানুষ
পাখিদের আবাস আছে, দেশ কাল থাকেনা। উড়ে উড়ে দেখে নেয় নয়াচর, নয়তো পূর্বপুরুষের আস্তানা। কিছুদিনের জটলা, মিলেমিশে একাকার। আদান-প্রদান, আঁকাবাঁকা ছুটোছুটি। যাওয়া-আসা সেরে নিরালায় রাতঘুম। এরা বোঝেনা এপার-ওপার, সমুখে চলে আদিগন্ত। ভোরের উড়ান এসে খুলে দেয় সীমানার দরজা।
আমি শুনি ঘুঙুরের শব্দ ব্যাথাতুর প্রতিধ্বনি।
মন খারাপ হয়। নিজেকে চিনতে চিনতে দেখি হানাহানি।
মেপে রাখি নিরেট হৃদয়ের টানাপোড়েন। অনেকদিন হল
হারিয়েছি বটতলার পাঠশালা। এখন দেখি কলরবে মুখরিত ছালচটা পুরোনো দেয়াল। খসে খসে পড়ে যাবতীয় অন্ধকার। ভেবে দেখি যা কিছু অবয়ব সবটাই খোলস। দু-হাত দূরের বাসিন্দারাও ক্রুদ্ধ চাহনিতে দেখে নেয় এপারের বসতি কঙ্কাল। কেননা---
আজ অবধি আমাদের চোখ যাযাবর পাখি দেখিনি।
পাখিদের আবাস আছে, দেশ কাল থাকেনা। উড়ে উড়ে দেখে নেয় নয়াচর, নয়তো পূর্বপুরুষের আস্তানা। কিছুদিনের জটলা, মিলেমিশে একাকার। আদান-প্রদান, আঁকাবাঁকা ছুটোছুটি। যাওয়া-আসা সেরে নিরালায় রাতঘুম। এরা বোঝেনা এপার-ওপার, সমুখে চলে আদিগন্ত। ভোরের উড়ান এসে খুলে দেয় সীমানার দরজা।
আমি শুনি ঘুঙুরের শব্দ ব্যাথাতুর প্রতিধ্বনি।
মন খারাপ হয়। নিজেকে চিনতে চিনতে দেখি হানাহানি।
মেপে রাখি নিরেট হৃদয়ের টানাপোড়েন। অনেকদিন হল
হারিয়েছি বটতলার পাঠশালা। এখন দেখি কলরবে মুখরিত ছালচটা পুরোনো দেয়াল। খসে খসে পড়ে যাবতীয় অন্ধকার। ভেবে দেখি যা কিছু অবয়ব সবটাই খোলস। দু-হাত দূরের বাসিন্দারাও ক্রুদ্ধ চাহনিতে দেখে নেয় এপারের বসতি কঙ্কাল। কেননা---
আজ অবধি আমাদের চোখ যাযাবর পাখি দেখিনি।
মোহম্মদ শাহবুদ্দিন ফিরোজ
আব্বুলিস
ওই মেয়েটা তোকেই দেখে, প্রথম দিলাম আব্বুলিস
পাড়ার মোড়ে গান গেয়ে যাই, বেওয়ারিশ সুরের শিস
ঘরের ভিতর উঠোন থাকে উঠোন জুড়ে ছায়ার গাছ
সঙ্গে থাকে মাদলে তাল আকাশ জোড়া মেঘের নাচ।
জোয়ার নদী নৌকো দোলে দখিন হাওয়ার পাল তোলা
ওই মেয়েটা সন্ধে হলো এখনোও তোর চুল খোলা!
আলপথের ওই ঘাসগুলো সব শুকিয়ে গেছে রোদপুড়ে
চারখান সেই লিখছি চিঠি, দু'একটা রাস্তা জুড়ে।
পাড়ার মোড়ের ভাজার ঠেলায় মিটিং সিটিং ঝাড়ের বাঁশ
রাত বিরেতেই মস্তানি আর মন্দ লোকের সর্বনাশ।
অপেক্ষাতো অনেক হলো, পারলে তুই জানিয়ে দিস
আমরা নতুন ঘর করেছি তাই তোকে দিই আব্বুলিস
ওই মেয়েটা তোকেই দেখে, প্রথম দিলাম আব্বুলিস
পাড়ার মোড়ে গান গেয়ে যাই, বেওয়ারিশ সুরের শিস
ঘরের ভিতর উঠোন থাকে উঠোন জুড়ে ছায়ার গাছ
সঙ্গে থাকে মাদলে তাল আকাশ জোড়া মেঘের নাচ।
জোয়ার নদী নৌকো দোলে দখিন হাওয়ার পাল তোলা
ওই মেয়েটা সন্ধে হলো এখনোও তোর চুল খোলা!
আলপথের ওই ঘাসগুলো সব শুকিয়ে গেছে রোদপুড়ে
চারখান সেই লিখছি চিঠি, দু'একটা রাস্তা জুড়ে।
পাড়ার মোড়ের ভাজার ঠেলায় মিটিং সিটিং ঝাড়ের বাঁশ
রাত বিরেতেই মস্তানি আর মন্দ লোকের সর্বনাশ।
অপেক্ষাতো অনেক হলো, পারলে তুই জানিয়ে দিস
আমরা নতুন ঘর করেছি তাই তোকে দিই আব্বুলিস
গল্প - কবিরুল ইসলাম কঙ্ক
স্যান্ডেল
স্কুলে ঢুকে যারপরনাই অবাক হলাম। পাকা একবছর পর দিলীপবাবু এসেছেন। অবাক হওয়ার কারণ তার তার দীর্ঘ অনুপস্থিতি নয়। দিলীপবাবুর পায়ে নতুন একজোড়া স্যান্ডেল। উনিশ বছর চাকরিজীবনে তার পায়ে স্যান্ডেল দেখিনি। সিনিয়র শিক্ষকদের কাছে শুনেছি চাকরিতে ঢুকেছিলেন খালি পায়ে। অবসরও নিয়েছেন খালি পায়ে। এমনকি বিয়ে করতেও গিয়েছিলেন খালি পায়ে। কেউই নাকি তাকে কোনোদিন জুতো পরতে দেখেননি।
----- 'কেমন আছেন? অনেকদিন পরে এলেন। ভেতরে আসুন।' দিলীপবাবুকে বললাম। দুবছর হল অবসর নিয়েছেন। দুবছরেই মনে হচ্ছে বয়স অনেক বেড়ে গেছে। কিন্তু হাসিটি তেমনই আছে।
----- 'ভালো আছি স্যার। পেনসনের কী একটা কাগজ এসেছে। বুঝতে পারছি না। অবশ্য বোঝার কথাও না।' বলে একমুখ হাসলেন।
----- 'বসুন।'
----- 'তাই আপনার কাছে একবার এলুম।' বলে দিলীপবাবু দাঁড়িয়েই থাকলেন। বসার কোনো লক্ষণ দেখালেন না। প্রসঙ্গত বলি দিলীপবাবু ছিলেন স্কুলের চতুর্থশ্রেণির কর্মচারী। নিজেও চতুর্থশ্রেণি পাশ। স্কুলের সব ঘর খোলা এবং বন্ধ করা, শিক্ষক-শিক্ষিকাদের ফাইফরমাশ শোনা ছিল তার কাজ। হাতে থাকত প্রচুর চাবির একটি গোছা। ধুতি ও পাঞ্জাবিসহ নগ্ন পদযুগল। এখন আমি ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক। দিলীপবাবুর পেনসনের কাগজটা হাতে নিলাম। তেমনকিছু নয়। লাইফ সার্টিফিকেটের সাথে আধার কার্ড এবং আরও কিছু কাগজপত্র জমা দিতে বলা হয়েছে। দিলীপবাবুর পায়ের দিকে তাকালাম। স্যান্ডেল জোড়া ঘরের বাইরে খুলে রেখে এসেছেন। বললাম, 'জুতো তাহলে পরলেন?' দিলীপবাবু বললেন, 'কী করব স্যার, মারা যাওয়ার আগে বউটা জুতো পরার প্রতিজ্ঞা করিয়ে নিল।'
হা করে তাকিয়ে থাকলাম। যতদূর জানি জুতো না পরা নিয়ে বউয়ের সাথে তার বিস্তর ঝামেলা হত। দুপক্ষই ছিলেন সমান জেদি এবং একগুঁয়ে।
দিলীপবাবুর পায়ের পাশ দিয়ে চৌকাঠের কাছে একজোড়া স্যান্ডেল দেখা যাচ্ছে। দেখা যাচ্ছে একজোড়া ভালোবাসা।
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭
গল্প - নির্মলেন্দু কুণ্ডু
সম্পর্ক
—"কী রোজ রোজ ঐ পাগলটার কাছে যাও,ভালো লাগে না এসব!কতবার বারণ করেছি না!"
—"ও-ও যে আমায় মা বলে ডাকে বাবা,মা হয়ে সন্তানের ডাকে সাড়া না দিই কি করে!"কোনরকমে কান্না গিলে কথাগুলো বলেন নীলিমা দেবী৷
আর পাঁচটা মেয়ের মতো নীলিমা দেবীর যখন বিয়ের কথাবার্তা চলছে,তখন থেকেই সবাই সাবধান করে দিচ্ছিল সাংসারিক নানা ব্যাপারে৷শাশুড়ীর কথা শুনে চলা,স্বামীকে দেবতাজ্ঞান করা,বাড়ির কাজকর্ম মুখ বুজে করে যাওয়া এরকম হরেক উপদেশ আর পরামর্শে বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়ি সম্বন্ধে একটা অজানা ভীতি কাজ করছিল নীলিমার মনে৷কিন্তু বিয়ের পর নিজেই অবাক হয়ে গেল নীলিমা৷কোথায় শাশুড়ীর দজ্জালপনা!তিনি যে মায়ের থেকেও আপন৷কথায় কথায় বলতেনও,নীলিমাকে এনে উনি ওঁর মেয়ের শখ পূর্ণ করেছেন৷স্বামীটিও দিলদরিয়া মানুষ৷রাশভারী অধ্যাপকের বর্ম পরে থাকলেও স্ত্রীর সাথে রঙ্গ-রসিকতায় কম যেতেন না৷নীলিমাও বুঝতেন,স্বামী তাঁকে প্রচন্ড ভালোবাসেন৷তাঁদের সেই ভালোবাসারই ফসল অনিন্দ্য,ওঁদের ছেলে৷অনিন্দ্য হওয়ার পর আনন্দটা যেন আরও
বেড়ে গিয়েছিল নীলিমার সংসারে৷কিন্তু এত সুখ বোধহয় বিধাতার সহ্য হলনা৷শাশুড়ির মৃত্যুর পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম মিটতে না মিটতেই এক গাড়ী দুর্ঘটনায় স্বামী প্রমথেশবাবুও প্রাণ হারালেন৷সেই থেকে তাঁর পেনশনের কিছু টাকা আর কয়েকটা টিউশনি—এভাবেই বড় করে তুলেছেন নীলিমা দেবী তাঁর ছেলেকে৷কোনদিনও অভাব বুঝতে দেননি৷সাধ্যের বাইরে গিয়েও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করিয়েছেন৷ছেলে যখন নামী সংস্থায় চাকরী পেল,গোটা পাড়ায় মিষ্টি বিলিয়েছেন৷
সেই একই পাড়ায় এক বটতলায় হঠাৎই এসে উপস্থিত হয় এক জটাওয়ালা যুবক৷গালের দাড়ি,উস্কোখুস্কো চুল,নোংরা পোশাক দেখে সবাই এক মুহূর্তেই বুঝতে পারে লোকটা রামপাগল৷দুয়েকবার তাড়াবার চেষ্টাও করে,কিন্তু পাগলটা রে-রে করে তেড়ে আসায় সেই চেষ্টায় ক্ষান্ত হয় পাড়ার লোকে৷কয়েকজন অতি-উৎসাহী তখন হাতের কাছে পড়ে থাকা ইঁট ছুঁড়তে থাকে পাগলটাকে লক্ষ্য করে৷মন্দির থেকে ফেরার পথে দৃশ্যটা দেখেই রুখে দাঁড়ান নীলিমা দেবী৷
—"এই কি করছো কি তোমরা?থামো,থামো বলছি!"
—"সরে যান জেঠিমা৷ও একটা পাগল৷এক্ষুনি কিছু একটা ক্ষতি করে দেবে আপনার৷"
—"কে পাগল নয়,বাবা!এই দুনিয়ায় প্রত্যেকেই তার নিজের নিয়মে পাগল৷আর ক্ষতি,রাখে হরি মারে কে!"
নীলিমা দেবীকে পাড়ার ছেলেপুলেরা একটু মান্য করে৷তাই ইঁট ছোঁড়া ছেড়ে আস্তে আস্তে চলে যায় জায়গাটা ছেড়ে৷নীলিমা দেবী এবার পাগলটার দিকে ঘুরে তাকান৷লোকটা এতক্ষণ ভয়ে কুঁকড়ে ছিল৷তিনি এগিয়ে গিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন—"তুমি কে বাবা?"
পাগলটা বোবা অর্থহীন দৃষ্টিতে নীলিমা দেবীর দিকে তাকায়৷বোধহয় বোঝার চেষ্টা করে ইনি ওর বন্ধু,না শত্রু৷
—"ভয় পেয়ো না,বাবা!আমি তোমায় মারবো না!তোমার খুব খিদে পেয়েছে,না?এই নাও,এই মিষ্টিগুলো খাও৷এখন আমি আসি,কেমন!তুমি কিন্তু কোথাও যেও না!কারো কোন অনিষ্টও করো না৷"
উনি উঠে একটু এগিয়েছেন,হঠাৎ—"মা!"
চমকে ঘুরে তাকালেন নীলিমা দেবী৷আঃ,কতদিন তিনি এ' ডাক শোনেননি৷যে ছেলেকে এত কষ্ট করে মানুষ করলেন,সেও যেন কেমন পাল্টে যাচ্ছে৷আগে অফিস থেকে ফিরে নানা কথা বলতো৷ধীরে ধীরে সেটুকুও বন্ধ হয়ে গেল৷এখন কথা বলতে 'খেতে দাও','দরজা বন্ধ করে দাও' ইত্যাদিতেই সীমাবদ্ধ৷মা ডাকটাও তাই অনেকদিন শোনেননি নীলিমা দেবী৷তাই আজ হঠাৎ এই অপরিচিত পাগলটার মুখে 'মা' ডাক শুনে সেই ফল্গুধারার মতো বয়ে চলা মাতৃত্বস্নেহধারা যেন নতুন গতিমুখ পেল৷সেই থেকে পাগলটাকে রোজ খাবার,অনিন্দ্যর পুরনো জামাকাপড় দিতে লাগলেন৷পাগলটাও কেমন যেন মা-নেওটা হয়ে উঠল ধীরে ধীরে৷পাড়ার অন্য কাউকে কিছু বলে না৷কেউ মারতে বা খোঁচাতে এলে খেঁকিয়ে ওঠে ঠিকই,কিন্তু কখনোই কাউকে মারতে যায়না৷ও অবশ্য মায়ের এই ভালোবাসাটুকু সেই গাছতলায় বসেই উপভোগ করতো৷কখনো নীলিমা দেবীর বাড়ি যায়নি৷নীলিমা দেবীও তা মেনে নিয়েছিলেন৷কারন অনিন্দ্য যখন থেকে পাগলটার কথা জানতে পেরেছিল,তখন থেকে মায়ের সাথে দূরত্বটা যেন আরও বড় হয়ে উঠেছিল৷মায়ের কাজে অসন্তোষও প্রকাশ করতো প্রায়ই,এমনকি গলাবাজিও হত মাঝে মাঝে৷পাড়ার লোকেরাও ওর এরকম ব্যবহারে অবাক হত,কিন্তু নাক গলাতো না৷
হঠাৎ একদিন সকালবেলায় দেখা গেল পাগলটা নীলিমাদেবীর বাড়িতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা মারছে৷পাড়ার লোকেরা সেই শব্দে বেরিয়ে এসছে৷অনিন্দ্য তখন অফিসের কাজে বাইরে গেছে৷পাড়ার লোকেরা পাগলটার এরকম আচরণে অবাকই হল,কারন এত দিনে এই প্রথম পাগলটা এরকম করছে৷তাছাড়া নীলিমা দেবীই বা কোথায়!উনিই পাড়ায় সবার আগে ওঠেন৷অথচ এত আওয়াজেও ঘুম ভাঙছে না!পাগলটা প্রতিবেশীদের দেখতে পেয়ে ছুটে গেল ওদের কাছে৷মুখ দিয়ে বিচিত্র আওয়াজ করতে লাগলো,আর বারবার আঙুল দিয়ে নীলিমা দেবীর বাড়ির দিকে দেখাতে লাগলো৷দুয়েকজন কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেল সেই বাড়ির দিকে৷নিজেরাও ধাক্কা দিল দরজায়৷কিন্তু শব্দ না পেয়ে অজানা আশঙ্কায় দরজা ভেঙে ঢুকে দেখলো খাটে পড়ে আছে নীলিমা দেবীর নিথর দেহ৷
ছেলেকে খবর পাঠানো হল৷ছেলে বিকেলেই ফিরে এল৷এসেই জিজ্ঞেস করলো—"বডিটা কখন দাহ হবে?আমাকে আবার ফিরতে হবে৷একটা ইমপর্ট্যান্ট মিটিং সারতে হবে!"ছেলের এই মনোভাবে প্রতিবেশীরা যারপরনাই বিস্মিত হল৷পাগলটা কিন্তু তখনও বাইরে বসে অঝোর ধারায় কেঁদেই চলেছে৷
পরের দিন সকালে দেখা গেল সেই বটতলায় পাগলটা মরে পড়ে আছে!
—"কী রোজ রোজ ঐ পাগলটার কাছে যাও,ভালো লাগে না এসব!কতবার বারণ করেছি না!"
—"ও-ও যে আমায় মা বলে ডাকে বাবা,মা হয়ে সন্তানের ডাকে সাড়া না দিই কি করে!"কোনরকমে কান্না গিলে কথাগুলো বলেন নীলিমা দেবী৷
আর পাঁচটা মেয়ের মতো নীলিমা দেবীর যখন বিয়ের কথাবার্তা চলছে,তখন থেকেই সবাই সাবধান করে দিচ্ছিল সাংসারিক নানা ব্যাপারে৷শাশুড়ীর কথা শুনে চলা,স্বামীকে দেবতাজ্ঞান করা,বাড়ির কাজকর্ম মুখ বুজে করে যাওয়া এরকম হরেক উপদেশ আর পরামর্শে বিয়ের আগে থেকেই শ্বশুরবাড়ি সম্বন্ধে একটা অজানা ভীতি কাজ করছিল নীলিমার মনে৷কিন্তু বিয়ের পর নিজেই অবাক হয়ে গেল নীলিমা৷কোথায় শাশুড়ীর দজ্জালপনা!তিনি যে মায়ের থেকেও আপন৷কথায় কথায় বলতেনও,নীলিমাকে এনে উনি ওঁর মেয়ের শখ পূর্ণ করেছেন৷স্বামীটিও দিলদরিয়া মানুষ৷রাশভারী অধ্যাপকের বর্ম পরে থাকলেও স্ত্রীর সাথে রঙ্গ-রসিকতায় কম যেতেন না৷নীলিমাও বুঝতেন,স্বামী তাঁকে প্রচন্ড ভালোবাসেন৷তাঁদের সেই ভালোবাসারই ফসল অনিন্দ্য,ওঁদের ছেলে৷অনিন্দ্য হওয়ার পর আনন্দটা যেন আরও
বেড়ে গিয়েছিল নীলিমার সংসারে৷কিন্তু এত সুখ বোধহয় বিধাতার সহ্য হলনা৷শাশুড়ির মৃত্যুর পারলৌকিক ক্রিয়াকর্ম মিটতে না মিটতেই এক গাড়ী দুর্ঘটনায় স্বামী প্রমথেশবাবুও প্রাণ হারালেন৷সেই থেকে তাঁর পেনশনের কিছু টাকা আর কয়েকটা টিউশনি—এভাবেই বড় করে তুলেছেন নীলিমা দেবী তাঁর ছেলেকে৷কোনদিনও অভাব বুঝতে দেননি৷সাধ্যের বাইরে গিয়েও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং করিয়েছেন৷ছেলে যখন নামী সংস্থায় চাকরী পেল,গোটা পাড়ায় মিষ্টি বিলিয়েছেন৷
সেই একই পাড়ায় এক বটতলায় হঠাৎই এসে উপস্থিত হয় এক জটাওয়ালা যুবক৷গালের দাড়ি,উস্কোখুস্কো চুল,নোংরা পোশাক দেখে সবাই এক মুহূর্তেই বুঝতে পারে লোকটা রামপাগল৷দুয়েকবার তাড়াবার চেষ্টাও করে,কিন্তু পাগলটা রে-রে করে তেড়ে আসায় সেই চেষ্টায় ক্ষান্ত হয় পাড়ার লোকে৷কয়েকজন অতি-উৎসাহী তখন হাতের কাছে পড়ে থাকা ইঁট ছুঁড়তে থাকে পাগলটাকে লক্ষ্য করে৷মন্দির থেকে ফেরার পথে দৃশ্যটা দেখেই রুখে দাঁড়ান নীলিমা দেবী৷
—"এই কি করছো কি তোমরা?থামো,থামো বলছি!"
—"সরে যান জেঠিমা৷ও একটা পাগল৷এক্ষুনি কিছু একটা ক্ষতি করে দেবে আপনার৷"
—"কে পাগল নয়,বাবা!এই দুনিয়ায় প্রত্যেকেই তার নিজের নিয়মে পাগল৷আর ক্ষতি,রাখে হরি মারে কে!"
নীলিমা দেবীকে পাড়ার ছেলেপুলেরা একটু মান্য করে৷তাই ইঁট ছোঁড়া ছেড়ে আস্তে আস্তে চলে যায় জায়গাটা ছেড়ে৷নীলিমা দেবী এবার পাগলটার দিকে ঘুরে তাকান৷লোকটা এতক্ষণ ভয়ে কুঁকড়ে ছিল৷তিনি এগিয়ে গিয়ে ওর মাথায় হাত বুলিয়ে বলেন—"তুমি কে বাবা?"
পাগলটা বোবা অর্থহীন দৃষ্টিতে নীলিমা দেবীর দিকে তাকায়৷বোধহয় বোঝার চেষ্টা করে ইনি ওর বন্ধু,না শত্রু৷
—"ভয় পেয়ো না,বাবা!আমি তোমায় মারবো না!তোমার খুব খিদে পেয়েছে,না?এই নাও,এই মিষ্টিগুলো খাও৷এখন আমি আসি,কেমন!তুমি কিন্তু কোথাও যেও না!কারো কোন অনিষ্টও করো না৷"
উনি উঠে একটু এগিয়েছেন,হঠাৎ—"মা!"
চমকে ঘুরে তাকালেন নীলিমা দেবী৷আঃ,কতদিন তিনি এ' ডাক শোনেননি৷যে ছেলেকে এত কষ্ট করে মানুষ করলেন,সেও যেন কেমন পাল্টে যাচ্ছে৷আগে অফিস থেকে ফিরে নানা কথা বলতো৷ধীরে ধীরে সেটুকুও বন্ধ হয়ে গেল৷এখন কথা বলতে 'খেতে দাও','দরজা বন্ধ করে দাও' ইত্যাদিতেই সীমাবদ্ধ৷মা ডাকটাও তাই অনেকদিন শোনেননি নীলিমা দেবী৷তাই আজ হঠাৎ এই অপরিচিত পাগলটার মুখে 'মা' ডাক শুনে সেই ফল্গুধারার মতো বয়ে চলা মাতৃত্বস্নেহধারা যেন নতুন গতিমুখ পেল৷সেই থেকে পাগলটাকে রোজ খাবার,অনিন্দ্যর পুরনো জামাকাপড় দিতে লাগলেন৷পাগলটাও কেমন যেন মা-নেওটা হয়ে উঠল ধীরে ধীরে৷পাড়ার অন্য কাউকে কিছু বলে না৷কেউ মারতে বা খোঁচাতে এলে খেঁকিয়ে ওঠে ঠিকই,কিন্তু কখনোই কাউকে মারতে যায়না৷ও অবশ্য মায়ের এই ভালোবাসাটুকু সেই গাছতলায় বসেই উপভোগ করতো৷কখনো নীলিমা দেবীর বাড়ি যায়নি৷নীলিমা দেবীও তা মেনে নিয়েছিলেন৷কারন অনিন্দ্য যখন থেকে পাগলটার কথা জানতে পেরেছিল,তখন থেকে মায়ের সাথে দূরত্বটা যেন আরও বড় হয়ে উঠেছিল৷মায়ের কাজে অসন্তোষও প্রকাশ করতো প্রায়ই,এমনকি গলাবাজিও হত মাঝে মাঝে৷পাড়ার লোকেরাও ওর এরকম ব্যবহারে অবাক হত,কিন্তু নাক গলাতো না৷
হঠাৎ একদিন সকালবেলায় দেখা গেল পাগলটা নীলিমাদেবীর বাড়িতে গিয়ে দরজায় ধাক্কা মারছে৷পাড়ার লোকেরা সেই শব্দে বেরিয়ে এসছে৷অনিন্দ্য তখন অফিসের কাজে বাইরে গেছে৷পাড়ার লোকেরা পাগলটার এরকম আচরণে অবাকই হল,কারন এত দিনে এই প্রথম পাগলটা এরকম করছে৷তাছাড়া নীলিমা দেবীই বা কোথায়!উনিই পাড়ায় সবার আগে ওঠেন৷অথচ এত আওয়াজেও ঘুম ভাঙছে না!পাগলটা প্রতিবেশীদের দেখতে পেয়ে ছুটে গেল ওদের কাছে৷মুখ দিয়ে বিচিত্র আওয়াজ করতে লাগলো,আর বারবার আঙুল দিয়ে নীলিমা দেবীর বাড়ির দিকে দেখাতে লাগলো৷দুয়েকজন কৌতূহলী হয়ে এগিয়ে গেল সেই বাড়ির দিকে৷নিজেরাও ধাক্কা দিল দরজায়৷কিন্তু শব্দ না পেয়ে অজানা আশঙ্কায় দরজা ভেঙে ঢুকে দেখলো খাটে পড়ে আছে নীলিমা দেবীর নিথর দেহ৷
ছেলেকে খবর পাঠানো হল৷ছেলে বিকেলেই ফিরে এল৷এসেই জিজ্ঞেস করলো—"বডিটা কখন দাহ হবে?আমাকে আবার ফিরতে হবে৷একটা ইমপর্ট্যান্ট মিটিং সারতে হবে!"ছেলের এই মনোভাবে প্রতিবেশীরা যারপরনাই বিস্মিত হল৷পাগলটা কিন্তু তখনও বাইরে বসে অঝোর ধারায় কেঁদেই চলেছে৷
পরের দিন সকালে দেখা গেল সেই বটতলায় পাগলটা মরে পড়ে আছে!
সুব্রত হাজরা
ব্যথার সম্পর্ক
তোমার সাথে আমার একটিই সম্পর্ক
তা হলো ব্যথার।
যেখানে যেখানে ব্যথারা ঘুরপাক খায়
সেখানে সেখানে তোমায় খুঁজে পাই।
তোমার কথার মধ্যেই আমি আছি।
বিশ্বাস না হলে পরখ করো
বুকের ওপর হাত দিয়ে দেখো
সকল ধুকপুকানিতে সেই 'তরুণ'-
এলোমেলো চুল,ঘোলাটে স্বপ্নিল চোখ
অবহেলার পোশাকে বড়ই পাগলাটে
যাকে তুমি আদর করে বলতে - কেয়ারলেস বিউটি।
আজ ২৬ শে সেপ্টেম্বর মহাষষ্ঠীর দিন
দেবব্রতর কথাতে কলম ধরা।
কিন্তু বারবার তোমার ছবি কেন ভেসে আসছে
তুমি কি আমায় মনে করছ?
ব্যথারা এখন কথা হয়ে কোথায় উড়ে যায়
পিপাসু ঠোট , তোমার লিপগ্লসের গন্ধে
বড়ই উচাটন করে।
তুমি কি আমায় ভাবছ?
তুমি কি কাঁদছ?
এ ব্যথার বিন্দু বিন্দু রেণু আমায় ভিজিয়ে চলেছে
আমি ভিজছি।
আমি কাঁদছি।
না পেয়েও হারানো ব্যথারা আমায় ঋদ্ধ করে চলেছ
মামমাম, তুমি কত দূরে অথচ কত কাছে?
দেবযানী বসু
সলিলা হও গো
সাগরমমতা ছিল দিঘি তোর. মহাঘোষ অন্তরে. দিঘি-দিদিদিদিদি.... খুন্তি হাতা দিয়ে নেড়ে দি ৫.৫ মিলিয়ন বছর বয়সে তোর. হারিয়ে যাওয়া বর্ষাবর্ষ গুনতে গুনতে. মা হারা মেছো নৌকোরা শুখো কোল জাপ্টে. মা মরা মা মড়া. বীরপুরুষ জাহাজেরা পড়ে পড়ে ঘুমোয় আর বালি খায়. চোরাবালি চুরি করে খায়. এখন পেয়েছে তোকে লবণবাতিকে. বুকে পাতা রেললাইনে খেলা করে মাছ. আমি মহাসচিব আসি তোর কাছে. পালাতে পারি নি. পারি নি. আমারও আশ্রয় উল্টোনো জাহাজ পাঁচ মিলিয়ন বছরের.
সাগরমমতা ছিল দিঘি তোর. মহাঘোষ অন্তরে. দিঘি-দিদিদিদিদি.... খুন্তি হাতা দিয়ে নেড়ে দি ৫.৫ মিলিয়ন বছর বয়সে তোর. হারিয়ে যাওয়া বর্ষাবর্ষ গুনতে গুনতে. মা হারা মেছো নৌকোরা শুখো কোল জাপ্টে. মা মরা মা মড়া. বীরপুরুষ জাহাজেরা পড়ে পড়ে ঘুমোয় আর বালি খায়. চোরাবালি চুরি করে খায়. এখন পেয়েছে তোকে লবণবাতিকে. বুকে পাতা রেললাইনে খেলা করে মাছ. আমি মহাসচিব আসি তোর কাছে. পালাতে পারি নি. পারি নি. আমারও আশ্রয় উল্টোনো জাহাজ পাঁচ মিলিয়ন বছরের.
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)

