মোবাইলে টাইম পাশ, সম্বৃদ্ধ উল্লাস সাহিত্য হাসি ঠাট্টা খুনসুটি বিন্দাস পড়তে হবে নইলে মিস করতেই হবে। মোবাইল +91 9531601335 (হোয়াটসঅ্যাপ) email : d.sarkar.wt@gmail.com
০৯ জুন ২০২২
কবি দোদুল পার্থ "নিজেকে পাইনি কোথাও"
নিজেকে পাইনি কোথাও
দোদুল পার্থ
নিজেকে পাবো বলে আমি বহুপথ হেঁটেছি --
হেঁটেছি আমি সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত।
কাঁটানটের বন পেরিয়ে মাধবীলতার কাছে থমকে দাঁড়িয়েছি মৌনতায়,
দাঁড়িয়ে থেকেছি আকন্দফুলের বাকল ছুঁয়ে
শুধুই নিজেকে পাবো বলে ।
নিজেকে পাবো বলে পানকৌড়ির ঠোঁটে বসন্ত জমা রেখেছি,
কলঙ্কিত যমুনার চোখে এঁকেছি মেঘবতীর প্রণয়,
একমুঠো ধূসরতায় আমি খুঁজেছি পৃথিবীর তাবদ উষ্ণতা ,
তবুও নিজেকে পাইনি কোথাও !
আমার আমিটাকে বাঁধবো বলে হরিণ শাবকের কাছে শিখেছি গতিময়তা,
চন্দ্রের কিরণ থেকে একমুঠো সাদা আলোয় ভরেছি চায়ের পেয়ালা,
কদমের খসে পড়া রেণুর থেকে কুড়িয়ে নিয়েছি জীবনের প্রগাঢ় আহবান ,
তবুও নিজেকে বাঁধতে পারিনি !
নিজেকে পাইনি আমি স্কুল শেষে ঘরে ফেরা মেঠোপথে চৌধুরীদের আমের বনে।
পাইনি আমি শাহবাগ মোড়ে দাবি আদায়ের মিছিলে,
একতারা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা কৌমুদী বাউলের সুরের মাঝে পাইনি নিজেকে।
অথচ নিজেকে খুঁজে চলেছি দুর্নিবার ।
মাতৃগর্ভ থেকে সদ্য ভূমিষ্ঠ হয়ে মা মা চিৎকারে গগন কাঁপিয়ে নিজেকে হারাবার পর,
আর নিজেকে আজও কোথাও খুঁজে পাইনি !
কবি শারমিন সুলতানা রীনা এর কবিতা "ব্যার্থ মানচিত্র"
ব্যার্থ মানচিত্র
শারমিন সুলতানা রীনা
আকাশ ছোঁয়ার স্বপ্নে ব্যাকুল হয়ে
বামন হলাম
বাতাসের শরীর বেয়ে ভেসে আসা
ডানা ভাঙা পাখীর আর্তনাদ স্তব্ধ করে
বেদনায় লীন হয় বিষন্ন গোলাপ
মহাকালের বুকে
সবুজ ফসলের বিরান মাঠ ফিরে কি পাবে হারানো সৌন্দর্য
পোড় খাওয়া প্রান্তর কাঁদে বিরহ শোকে
বুকে আগুন নিয়ে তবু কেউ সেচ হয়
জীবন জুড়ে শুধু আলো আঁধারের খেলা
ধূসর মরু বুক জলের প্রত্যাশায় বৃষ্টির জন্য অনন্ত অপেক্ষা
পলেস্তারা খসা প্রাচীন দেয়াল
লাগেনা শিল্পিত তুলির ছোঁয়া
কত চাওয়া পাওয়া গুমড়ে গুমড়ে কাঁদে
দিনের বদল হয় ঘোরে কালের চাকা
জীবন সেকি পথ ভোলা অন্ধ গলি
নাকি বিষন্নতার বৈরাগ,
জোয়ারে মত্ত নদী ভাঙনের উন্মাদনায় কেঁপে ওঠা পাড়
সে কি পাহাড়ি ঝর্ণা চোরাবালি পথ
পেঁজা তুলো মেঘ রংধনুর সাতনরি হার
অবিচল পর্বত নাকি কেবলি সে এক ব্যার্থ মানচিত্র...
০৭ জুন ২০২২
মোঃ হাবিবুর রহমান এর প্রবন্ধ মানবিকতায় বোধ"
প্রবন্ধ
মানবিকতায় বোধ
মোঃ হাবিবুর রহমান
নিজে ভুল ক'রেও অনেক সময় অন্যের প্রতি অভিমান জন্মাতে পারে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রে এই অভিমানটি কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় দৃশ্যমান হবার আগেই শূন্যে মিলিয়ে যায়।
যাদের পঞ্চইন্দ্রিয় খুবই তীক্ষ্ণ এবং পাশাপাশি যাদের মন বেশ উদার প্রকৃতির তাদের এই বোধগম্যতা তথা চেতনাবোধটি বেশ আগেভাগেই ভুল করার সাথে সাথেই জন্মে থাকে।
বিবেকটি যাদের সদা জাগ্রত আর অন্যায় বোধটি যাদের তড়িৎ গতির মত ক্রিয়াশীল হয়ে থাকে, সমাজে এই সমস্ত মানুষেরা নিজের ভুল সহজেই বুঝতে পেরে অনুশোচনা ক'রতে থাকে।
আর এই বোধটি থেকে তাদের অকস্মাৎ ও অনাকাঙ্খিত অশান্তি থেকে দ্রুতই মুক্ত হবার অভিপ্রায় জাগে আর পাশাপাশি সদা এই ভুলটির জন্য তারা নিজেই নিজের প্রতি ধিক্কার জানাতে থাকে।
আমি মনে করি সমাজে এহেন উন্নত মন মানসিকতার মানুষেরাই প্রকৃত ভাল ও উত্তম মানুষ।
মানুষ তো ভুল ক'রবেই তবে কত দ্রুততার সাথে সে নিজেকে শুধরানোর চেষ্টা ক'রবে সে বিষয়টি স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা, মহন রাব্বুল আলামীন, আল্লাহতা'য়ালা যেমনটি পছন্দ করেন তেমনি এই জগতের ভাল মনের মানব মানবীরাও বোধ করি একদম এর ব্যতিক্রম নয়।
কবি অনুপ রায় এর কবিতা "মনের বাসনা
মনের বাসনা
অনুপ রায়,
আমি খুজেছি যাহারে !
আমার আপনার চেয়ে
আপন সে জন !
খুজি তারে আমি আপনার মাঝে!
আমার মনের তৃষ্ণিত আকাশে,
চাতক সমো আকুলও পিয়াশে!
আমার মনের পিয়ালও তমালে,
দেখি তারে ভোরের ও আকাশে!
রবির ও বেশে !
আমারই রচিত কাননে বসিয়া !
পরানও প্রিয়া মালিকা গাথিয়া,
পরাবে মোর গলে !
আমি শুনি যেন তার চরনের ধনী,
আমারই পিয়াশী বাসনায় !
আমার মনের গহনে আমি তারে
খুজেছি বারে বার...!
কবি মহিউদ্দিন আহমেদ এর কবিতা "মানিক বন্দোপাধ্যায়"
মানিক বন্দোপাধ্যায়
( চতুর্দশপদী)
মহিউদ্দিন আহমেদ
তোমার প্রতি ডাল পাতা রন্দ্রে মূর্ত মাটির ঘ্রাণ,
ধরিত্রীর বুকে কি অভূতপূর্ব এক বৃক্ষ তুমি !
জীবনের বালুচর ভরিয়ে আনো পদ্মার বাণ,
স্বপ্ন তরীতে আঁকো জীবন-কাব্য ধন্য জন্মভুমি।
কি করে বেঁধে ফেলো ক্ষুধা ক্লিষ্ট দারিদ্র্য চিত্রকথা ?
নিকষ আঁধারে পথ দেখিয়ে আদিম রত্ন ধন,
বুকের গভীরে অনিন্দ্য কাব্যিক আপামর-ব্যথা,
অবাক নয়নে পাপড়ি মেলে জনতা জনার্দন।
স্বপ্নের বীজ বুনে চলো খুঁজে নিয়ে নির্জন দ্বীপ,
ধূলিমাখা জীবনে গেঁথে অবিনাশী পদ্যের ঘ্রাণ,
কূয়াশা-পর্দা ঠেলে প্রকৃতি ভালে দিয়ে লাল টিপ,
পথহারা নদীতে জেগে উঠে দুর্বার কলতান ।
মশালে তোমার দেখে পথ বিভ্রান্ত সব পথিক,
দুর্দান্ত বাতিঘর তুমি আঁধার জগৎ-মানিক ।
০৫ জুন ২০২২
সাবেরা সুলতানা দিনা জুঁই এর কবিতা "শবনম তুমি ভোরের প্রেম"
শবনম তুমি ভোরের প্রেম
সাবেরা সুলতানা দিনা জুঁই
শবনম তুমি প্রভাত ভোরের অলংকার,
তোমার রূপে সারা বিশ্ব সাজে শবনম,
শত দুঃখের মাঝেও এক ধরনের সুখ
প্রভাতে চোখ মেলেই যখন পাই তোমর দর্শন,
এর খানিকক্ষন পরেই সূর্য্যের উদয়ের লালা,
ঘুম এক ধরনের মিষ্টান্ন রোদের ভান্ডারের মতো,
প্রতি রাতে স্বপ্নের মতোই চুম্বনের সংগ্রহে যায়,
ঝাঁক ঝাঁক স্বপ্নের পিপীলিকা শবনমের ফোটার মতো।
কবি গোলাম মোস্তফা এর কবিতা "তুমি চুপ কর"
তুমি চুপ কর
গোলাম মোস্তফা
তোমার কথা শুনি প্রতিদিন
বাজখাঁই উচ্চারণে বলা - চুপ করো
তখন বুকের মধ্যে হঠাৎ ভয়
জমা হয়।
কখনো কখনো বাড়ির আঙিনায়
সংগীসাথীদের সাথে জমে উঠি আড্ডায়
তুমি তখন তিরিক্ষি মেজাজে বলে উঠো
---এত হা হা হি হি আসে কোত্থেকে?
আমার আমতা আমতা করে বলা শব্দগুলো
তোমাকে আরো ক্ষিপ্ত করে তোলে।
যতই দুহাতের তালু এক করে কচলাতে থাকি
ততই তোমার চিৎকার বাড়ে।
মনে হয় তোমার কন্ঠস্বর টাকে শাণিত করতে কতই না অনুশীলন করেছ!
মনের কথা গুলো উচ্চারণ করতে পারিনে,
ভয়ে কন্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসে।
শৈশবে আমার মা কখনো কন্ঠস্বরকে উচ্চ করতে দেন নি।
তিনি বলতেন - মিষ্টি করে কথা বলা অভ্যেস কর,
কন্ঠস্বর নীচু রাখার অনুশীলন কর,
হাসিটা মুচকি হাসিতে সীমাবদ্ধ রাখ
হা হা হি হি করে সবাই কে জানান দেওয়ার হাসি হাসতে নেই।
২৫ টা বছর এই অনুশীলনে প্রাণ পাত করেছি।
সংসারে সং সাজতে এসে দেখছি,
এখন তার বিপরীত।
আমার ছোট ছোট করে বলা,
মাথা নিচু করে মাটি সমান্তরালে চলা
কারো ঝঞ্জাট গায়ে না তুলেও
মিমাংসার হাত উচু করে তোলা
সবি গাত্রদাহের উপকরণ।
ছোট ছোট ত্রুটি
যাযাবরের মত জীবন যাপন তোমার চরম অপছন্দের।
টাকা আনা পাইএ জীবন সীমাবদ্ধ নেই।
পানের থেকে চুন খসলেই তুলকালাম,
সব শেষে - চুপ কর।"
উচ্চারণ থামাও,
উপভোগ কর সীমাহীন মুক্তির আনন্দ।
০৩ জুন ২০২২
মমতা রায় চৌধুরী র ধারাবাহিক উপন্যাস পর্ব ১৭৭
উপন্যাস
টানাপোড়েন ১৭৭
চোর
মমতা রায় চৌধুরী
সারাটা বেলা কেটেছে দুশ্চিন্তা আর অস্থিরতার মধ্যে দিয়ে। এখন বৃষ্টি নেই কিন্তু আকাশ মেঘে ঢাকা যেটুকু আলো এই শহর পেয়েছে মেঘ থেকে স্মিমিত আলো তাতে এই শহরতলী কে যেন আরও জীর্ণ করে রেখেছে। কিছুক্ষণ রেখা জানলার কাছে দাঁড়িয়ে মানুষের আনাগোনা দেখতে লাগল আসলে সারা দিন বৃষ্টির পরে এখন বৃষ্টি টা একটু কম হওয়াতে মানুষ বেরিয়েছে। কত মানুষের কত প্রয়োজন কেউ অর্থের জন্য ছুটে কেউ যশের জন্য কেউবা আনন্দ উপভোগের জন্য আবার কেউ বা হতাশা বিষাদ দুঃখ কান্না নিজের মনের ভেতরে সঞ্চয় করে শহরেই বাসা বাঁধে। একমাত্র এই শহরে তো কোনকিছুর খবর রাখে না কার কি হলো কি গেল কি কি করলো? শহর একেবারে দরাজ এসব ব্যাপারে। কিন্তু মাটির যে স্নেহ যে টান যারা মাটির কাছাকাছি থেকেছে শুধুমাত্র তারাই অনুভব করতে পারে। মর্মে মর্মে অনুভব করছে শহরে থাকার জীবন। এখানে পথের ধুলো আকাশে ধোয়া বাতাসেও যেন বিষ মেশানো ভালো করে নিঃশ্বাস নেবার উপায় নেই তাইতো শহরের মানুষ দূরে যায় প্রাণ ভরে শ্বাস নেবার জন্য প্রকৃতির স্নিগ্ধ কোলে।
আজ এত বছর বিবাহিত জীবনের এই শহরটাকে আপন করতে পারলো না রেখা। এই শহরে সব সময় মানুষকে একপেশে করে রাখে। অনুভূতি গুলো শেয়ার করার জায়গা থাকে না। মানুষগুলো কেমন অচেনা মনে হয় আত্মিক বন্ধনই যেন তৈরি হয় না। না হলে স্বামী-স্ত্রীর পবিত্র সম্পর্কের মধ্যেও আজকে মনোজের ভেতরে যে টানাপোড়েন চলছে, তার কাছে কেন মুখ ফুটে বলতে পারছেনা কি জন্য? শহরের মানুষগুলো তোমার জটিল সব সময় যেন একটা প্যাঁচখুঁজে বেড়ায়। একটা স্নেহ শীতল হৃদয় খুঁজে পাওয়া মুশকিল? রেখা অবাক হয়ে যায় স্ত্রী স্বামীর কাছাকাছি থাকা সত্বেও মনের কাছে যেতে পারেনি। তবে শহরের সব মানুষই যে খারাপ সে কথা বলা যায় না তাই যদি হতো পাশাপাশি থাকা পার্থ ,চৈতালির মা, কাকিমা(পার্থর মা) এরাতো কত খোঁজ খবর নেয়। কিন্তু তাহলেও একটা দূরত্ব থেকেই যায় সব কথা তো বলা যায় না।না হলে সকালে পার্থ এসেছিল মনোজের কথাটাকে রেখাই বা খুলে বলতে পারল না কেন?
রেখাও কি তাহলে আস্তে আস্তে শহরের বিষে আচ্ছন্ন হয়ে যাচ্ছে?
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সমস্ত কিছুই বদলে যেতে থাকে।
এমন সময় পাশের বাড়ির চৈতালির মার চিৎকারের আওয়াজ পাওয়া গেল।
রেখা কানটা খাড়া শোনার চেষ্টা করলো ওদিকে মিলি আর ওর বাচ্চারাও খুব চিৎকার করছে।
কী হলো কে জানে?
রেখা এবার ড্রইং রুমের জানালাটা এসে খুলল।
চৈতালির মার আওয়াজ 'চোর ,চোর , চোর বলে চিৎকার করছে?'
রেখা মনে মনে ভাবল পার্থ যে সকালবেলায় কথাটা বলেছিল তাহলে তো এখন ভয়ের ব্যাপার হয়ে যাচ্ছে।
রেখা হাঁপাতে হাঁপাতে এসে মনোজকে বলল' কি গো শুনছো?'
মনোজ মুখ তুলে তাকিয়ে রইল কৌতুহলে।
চৈতি দের বাড়িতে মনে চোর এসেছে?
মনোজিত অবাক হয়ে বললো চোর এসেছে সন্ধ্যেবেলায় চোর আসে বাপের জন্মে বাবা শুনিনি।
আরে বাবা কারেন্টটা তো অনেকক্ষণ আগে গেছে সেটা ভাবো তারপর হচ্ছে মেঘলা ওয়েদার শুনশান পরিবেশ না হবার তো কিছু নেই।
মানুষ কি একটা ভাবল তারপর বলল হ্যাঁ তা অবশ্য ঠিক।
এইতো কদিন আগেই এ ব্লকেও চুরি হয়েছে।
রেখা বলল সেই জন্যই তো বলছি।
সকালবেলায় পার্থ এই কথাটা বলেছিল। যাওনা পাশাপাশি থাকি।
মনোজ ফোনটা রেখে বলল হ্যাঁ ঠিকই বলেছে যাওয়া উচিত।
মনোজ দরজা খুলে বেরোতে গেল। তখন রেখা বললো সাবধানে। আবার তুমি সামনে গিয়ে দাঁড়ানোর কোনো দরকার নেই।
মনোজ বেরিয়ে গেলো।
রেখা মনে মনে ভাবল ছিঃ এটা কি বলল মনোজ কে। সত্যি সত্যি শহুরে মানসিকতা ধরে গেছে মনে হচ্ছে রেখাকে। শহরের এই ক্যান্সার থেকে মুক্তি নেই। রেখা ড্রইং রুমের জানালার কাছে দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণের জন্য যেন সেই চিৎকারটা ও থেমে গেল।
ভাসা-ভাসা কথা শোনা যাচ্ছে। কাউকে ধরে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে তোমরা এখানে কেন এসেছিলে রেখা কান টাকার একটু খাড়া করলো
ভালো বোঝা যাচ্ছে না।
তবে মনে হয় চোর ধরা পড়েছে। রাম ধোলাই খাবে এখন। পাবলিকের মার খাইনি তো বাছাধনেরা এবার বুঝিয়ে দেবে অন্নপ্রাশনের ভাত হজম করিয়ে দেবে।
রেখা এবার রান্নাঘরের দিকে এগোলো বাচ্চাগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে নটা বাজতে চলল।
খাবার গরম করতে করতেই ওদিকে দরজায় নক করার আওয়াজ শুনতে পেল।রেখা মনে মনে ভাবল যে এসেছে তার জানা উচিত। কলিংবেল লাগানো আছে। কলিং বেলটা তো আর এমনি এমনি লাগানো হয়নি।
আবার দরজায় নক। রেখা বিরক্তি ভাবে গিয়ে দরজাটা খুলল। দরজা খুলতেই গটগট করে ভেতরে চলে আসলো তারপর মনোজদের ঘরে চলে গেল।
রেখা বলল 'কিরে তুই যে স্মার্টলি ভেতরে চলে আসলি?''
তুলি একবার কি কারণে রেখার দিকে তাকিয়ে সোজা মনোজদের ঘরে ঢুকে গেল।
রেখা বলল 'তুতু (তুলি) আজকাল এই নামেই ডাকে। তুমি যে এসে শুয়ে পড়লে খাবার খাবে না চলো চলো খাবার খাবে।
ওমা সত্যি সত্যি কি সুন্দর কথা বোঝে একেবারে রেখার পেছনে পেছনে গিয়ে হাজির হল খাবারের জায়গায়। সবাইকে পেপার পেতে পেতে দিল তার ওপর খাবার দিল। খাবারের থালা টা হাতে নিয়েই একবার উঁকি মেরে বোঝার চেষ্টা করলো কি ব্যাপারটা ঘটলো যে চৈতিদের বাড়িতে।
এবাবা ধারে-কাছে না মনোজ না পার্থ কাউকে দেখতে পাচ্ছে না।"
তবে কোন এক জায়গায় যে জট লা হচ্ছে সেটা বোঝা যাচ্ছে।
রেখা আর বেশি সময় নষ্ট করলো না এঁটো থালা নিয়ে । রাত্রে আবার রুটি করা আছে।
ও বাবা তুলিও পেছনে পেছনে আসা শুরু করেছে। রেখা বলল" হ্যাঁরে তুতু এখন তো রাত হয়েছে। বাইরে পাহাড়ে টা কে দেবে তুমি ঘরে বসে থাকলে?'পর রেখা মনে মনে ভাবল থাক যতক্ষণ না পেয়েছে ততক্ষণ ঘরে থাক পরে বের করে দেয়া যাবে।
এবার ঝপ ঝপ রুটি করে নিল। ফ্রিজ থেকে তোর কাঁটা বের করে গরম করে রাখল। পেঁয়াজ কেটে রাখল কাঁচালঙ্কা ও কয়েকটা ধুয়ে রেখে দিল।
সবেমাত্র হাতটা দিয়ে আঁচলে মুছছে ঠিক তখনই ফোন বেজে উঠল। ফোনের কলতান রেখাকে তাড়াতাড়ি ফোন এর কাছে কাছে যেতে বাধ্য করলো।
ফোনটা রিসিভ করেই বললো' হ্যালো'
"হ্যাঁ ম্যাডাম কেমন আছেন?"
"ও আপনি ,ভালো আছি ।আপনারা ভালো আছেন?
"এই চলছে।"
বলছি নেক্সট পর্ব লেখা কমপ্লিট?
না পুরোটা এখনো লেখা হয়নি।
সম্পাদক চিন্তিতভাবে বলল সে কি ?কেন,?
'নানা কাজে ছিলাম'।
আশাকরি রাত্রের মধ্যে লিখে পাঠাতে পারবো।
আপনি জানেন ম্যাডাম আপনার লেখা পড়ার জন্য পাঠকেরাই তো আগে জিজ্ঞেস করেন পরের পর্ব ঠিক পাবো তো,?
আমি সম্পাদক হিসেবে তাদেরকে সান্তনা দিয়ে বলি নিশ্চয়ই পাবেন।'
তাই বলছি পাঠকের ক্রেজটাকে নষ্ট করে দেবেন না।
'না না একি বলছেন?'
'ঠিক আছে, রাখছি তাহলে। ভাল থাকবেন।'
'হ্যাঁ আপনিও।'
এমন সময় মনোজ ঢুকলো। মনোজ দরজা লাগাতে যাচ্ছে তখন রেখে চিৎকার করে বলে লাগিও না তুতু আছে ভেতরে ওকে বের করতে হবে।
তারপরেই বলল হ্যাঁ গো কি হয়েছিল চইদি দের বাড়ি?
আর বোলো না এক কেলেঙ্কারি।
আরে ওদের গাছের নারকেল পারতে গেছিল দুটো ছেলে।
রেখা অবাক হয়ে বলল সে কি?
আর বৌদি ওটাই চোর চোর বলে চেঁচাচ্ছিল।
ছেলেদুটো ধরা পড়েছে।
হ্যাঁ সেই জন্যই তো আরো খারাপ লাগছে?
'এটা খারাপ লাগার কি আছে?'
আরে ছেলেদুটো তো চেনা ছেলে ঘোষ দের বাড়ির ছেলে।
আরে ছেলেদুটো সত্যি কথাই বলেছে' আসলে ওদের বন্ধুদের মধ্যে নাকি বাজি ধরা হয়েছে নারকেল পেড়ে আনার উপরন্তু তাদের প্রাপ্তির ভান্ডার পূর্ণ হল চোর বদনাম দিয়ে।
কবি শিবনাথ মন্ডল এর কবিতা "সুখী পরিবার"
সুখী পরিবার
শিবনাথ মণ্ডল
ছোটো পরিবার সুখী পরিবার
কথাটা মধুর
পিতামাতাকে কেউকেউ
করে দূরদূর।
বড় পরিবারে থাকতে বলে
লাগে বোকাবোকা
নিজ পরিবার নিয়ে
থাকতে চাই একাএকা।
বিয়ের আগে বাবা মা
হয় কত ভালো
বিয়ের পরে ছেলেদের
মুখ হয় কালো।
যারা মানুষ করলো তাদের
ভাত দিতে কষ্ট
বাবা মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠাবে
বোলে দেয় পষ্ট।
ছোটো পরিবার সুখী পরিবার
কথাটি সোজা
বৌ বাচ্চা সবাই আপন
বাবা মা বোঝা।।
কবি শেখ রাসেল এর কবিতা "সত্য আলোয় সাজি"
সত্য আলোয় সাজি
শেখ রাসেল
আমায় নিয়ে নিন্দা করে,পাড়ার কতোই লোক।
তবুও মা'গো আগলে রেখো,কষ্ট যতোই হোক।
কেউবা বলে লাফাঙ্গা আর,দেখতে কতোই পাঁজি।
হাতড়ে দেখো ভেতরটা ঐ,সত্য আলোয় সাজি।
দেয়না সমাজ সত্যি কথার,একটু খানিক দাম।
কটুক্তি আর নিন্দা পাড়ায়,দুঃখ ঝরায় ঘাম।
বিবেক যাদের মিথ্যা মোহ,তার থাকে কি হুঁশ।
পেটটা খেয়েই করছে বড়,দূর্নীতি আর ঘুষ।
যুগের এমন দস্যি ধারায়,দ্বন্দ্ব হাজার নীতি।
বুক ফুলিয়ে গাইবে তারা,সাম্য ন্যায়ের গীতি।
উচিত কথায় মুখটি কালো,সভ্য সমাজ পতি।
মনুষ্য জাত বিভেদ গড়ে,মূল্য নাই এক রতি।
আমরা নবীন সত্য করে,বললে সোজা কথা।
তোমরা প্রবীণ বুদ্ধিজীবি,পাও কি মনে ব্যাথা?
তেল মাখা ঐ মিথ্যে বুলি,গাইলে খুবই ভালো।
নইলে বেজায় তিক্ত হবে,মুখটা পুড়েই কালো।
আঁধার ঘরে গুমরে কাঁদে,সত্য উচিত বাণী।
বর্গী আমার সোনার দেশে,রসুন বুনায় জানি।
কলম যদি যায় গো থেমে,লিখতে কথা খাঁটি,
বিবেক তবে মরছে যেনো?সইবেনা মা মাটি।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)









